Mamata Banerjee Nepal visit: তৃণমূল নেত্রীর নেপাল সফর বাতিল করল মোদী সরকার

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: নরেন্দ্র মোদী সরকারের ছাড়পত্র না মেলায় একেবারে শেষ মুহূর্তে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নেপাল সফর বাতিল হল। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কিছু জানানো হয়নি। নেপালী কংগ্রেসের (nepali congress) ২৪ তম সম্মেলনে তৃণমূল নেত্রী তথা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

ওই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ১১ ডিসেম্বর শনিবার (Saturday) কাঠমান্ডু (kathmandu) রওনা হওয়ার কথা ছিল মমতার। কিন্তু শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদী সরকার মমতার সফরের কোনও অনুমতি দেয়নি। যদিও বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য কারও পক্ষ থেকেই কিছু জানানো হয়নি। তবে সূত্রের খবর তৃণমূল নেত্রী নেপাল যাচ্ছেন না, এ বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে।

উল্লেখ্য, কয়েক মাস আগেই ইতালি যেতে পারেননি মমতা। সেবার বিশ্ব শান্তি সংস্থার এক অনুষ্ঠানে রোমে আমন্ত্রিত ছিলেন নেত্রী। কিন্তু সেবারও বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে রোম সফরের অনুমতি দেয়নি মোদী সরকার। যদিও সে সময় অবশ্য কেন্দ্রের অনুমতির থেকেও বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিল করোনার টিকা কোভ্যাকসিন। কারণ যে সময় মমতার ইতালি যাওয়ার কথা ছিল সে সময় কোভ্যাকসিনকে অনুমোদন দেয়নি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। মমতা কোভ্যাকসিন নেওয়ায় ইতালি যাওয়ার অনুমতি পাননি। যদিও তার কিছুদিন পরেই কোভ্যাকসিন নিয়ে মোদী আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন। মোদীর ক্ষেত্রে কোভ্যাকসিন কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি যা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছিল।

এখন প্রশ্ন হল, এই মুহূর্তে কেন মমতাকে নেপাল যাওয়ার অনুমতি দিল না কেন্দ্র। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সম্প্রতি ভারত, নেপাল ও চিনের মধ্যে সম্পর্কের এক নতুন রসায়ন তৈরি হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই চিনের সঙ্গে নেপালের ঘনিষ্ঠতা বেড়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে নেপাল ভারত বিরোধী ভূমিকা নিয়েছে। নর্থ ব্লকের ধারণা, নেপালের এই ভারত বিরোধিতার পিছনে আছে বেজিং। জিনপিং সরকারের মদতেই নেপাল ভারত বিরোধী কার্যকলাপ চালাচ্ছে। সে কারণেই শেষ পর্যন্ত তৃণমূল নেত্রীকে নেপাল যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হল না।

অন্য একটি মহল থেকে বলা হচ্ছে, বিদেশমন্ত্রক নেপালী কংগ্রেসের ওই অনুষ্ঠানে মমতাকে আমন্ত্রণ জানানো নিয়ে আগেই প্রশ্ন তুলেছিল। কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রক জানতে চেয়েছিল, কী করে বিদেশের একটি রাজনৈতিক দল ভারতের একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রীকে আমন্ত্রণ জানায়? যদিও কেন্দ্রের ওই প্রশ্নের উত্তরে নবান্নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, মমতাকে তৃণমূল নেত্রী হিসেবে নয়, তাঁকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। নবান্নের উত্তরের পর বিদেশ মন্ত্রক অবশ্য আর কোন কথা বলেনি। কিন্তু শেষ মুহূর্তে কেন্দ্র মমতাকে অনুমতি না দেওয়ায় এবারও মমতার নেপাল সফর বাতিল হচ্ছে।

এ ঘটনায় সরাসরি না বললেও ইতিমধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগ করেছেন। তৃণমূল নেতৃত্ব মনে করছে, যেহেতু গোটা দেশের মধ্যে একমাত্র মমতাই বিজেপিকে রুখতে সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে সে কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে থাকে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে নেপাল যেতে দিল না মোদী সরকার।

Abhishek Banerjee: তৃণমূলের বাড়বাড়ন্তে কংগ্রেসি সমালোচনার জবাবে কড়া বার্তা অভিষেকের

abhishek banerjee

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: সারাদেশে যদি তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) শক্তি বাড়ে তাহলে কংগ্রেসের এত গায়ের জ্বালা কেন? তৃণমূল কংগ্রেস তো তাদের পাকা ধানে মই দেয়নি। প্রতিটি রাজনৈতিক দলেরই (political party) নিজেদের রাজনৈতিক শক্তি বাড়ানো বা সংগঠন মজবুত করার পূর্ণ অধিকার আছে। সেই সূত্র মেনেই তৃণমূল কংগ্রেসও বিভিন্ন রাজ্যে তাদের শক্তি বাড়াচ্ছে। কিন্তু এতে কংগ্রেসের এত ক্ষোভ কেন বুঝতে পারছি না। কংগ্রেসের বিরুদ্ধে সরাসরি এই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

তৃণমূল কংগ্রেসের এই তরুণ নেতা এদিন কংগ্রেসকে (congress) কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। অভিষেক বলেন, মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস রাজ্যে সিপিএম এবং আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর জন্য মরিয়া চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তখন তো আমরা তাদের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলিনি। রাজনীতিতে তো এটা হতেই পারে। সব দলই চাইবে নিজের শক্তি বৃদ্ধি করতে। তাহলে আমাদের শক্তি বাড়লে সেটা কেন দোষের হবে? আমারা তো কাউকে জোর করে আমাদের দলে আনছি না। মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন। কিন্তু তাতে কংগ্রেসের এত গাত্রদাহ হচ্ছে কেন?

সম্প্রতি দেশে একাধিক রাজ্যে কংগ্রেস ছেড়ে অনেকেই তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। এই ঘটনায় প্রবল ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কংগ্রেস। তবে কংগ্রেসের এই ক্ষোভকে তিনি যে আদৌ পাত্তা দিচ্ছেন না সেটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিষেক। এই তরুণ নেতা এদিন স্পষ্ট বলেন, এখন তৃণমূল কংগ্রেস যা যা করে কংগ্রেস সেটারই অনুসরণ করে। তৃণমূল কংগ্রেস যা করে কংগ্রেস সেটা একেবারে টুকলি করে দেয়। একইসঙ্গে অভিষেকের দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস যেখানে যাবে সেখানে তারা তৃতীয় বা চতুর্থ হওয়ার জন্য লড়বে না। তৃণমূলের একটাই লক্ষ্য হল ক্ষমতা দখল করা।

একইসঙ্গে মোদি সরকারকে আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, আফস্পা নিয়ে সরকারের বক্তব্য কী লোকসভায় সেটা স্পষ্ট করে জানানো হোক। আজ আমরা আফস্পা নিয়ে মোদি সরকারের বক্তব্য জানতে চাইছি। আগামীকাল হয়তো দেখব কংগ্রেস আমাদের দেখাদেখি এ ব্যাপারে মোদি সরকারের কাছে জবাব চাইবে।

Jalpaiguri: তৃণমূল নেতার সঙ্গে স্ত্রীর ঘনিষ্ট শর্ট ভিডিও দেখে তালাক দিল স্বামী

Trinamool leader wife

Jalpaiguri Desk: স্ত্রীর সঙ্গে পরপুরুষের শর্ট ভিডিও ভাইরাল। দেখেই চক্ষু চড়কগাছ হয়ে তৎক্ষণাত ২৫ বছরের দাম্পত্য সম্পর্ক চুকিয়ে স্ত্রীকে তিন তালাক দিল স্বামী। যদিও সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী তিন তালাকের আইনি বৈধতা নেই।

জানা গিয়েছে, পরপুরুষ যাকে বলা হচ্ছে,  তিনি ওই মহিলার মেসোশ্বশুর। তার আরেক পরিচয় তিনি এলাকার দাপুটে তৃণমূল নেতা এবং তার স্ত্রী বর্তমানে জলপাইগুড়ি জেলার ধূপগুড়ি ব্লকের গাদং ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভোটপাড়া এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা। ভিডিওয় ভাইরাল তৃণমূল নেতার বিবাহিত জীবনও প্রায় তিন দশকের। ভিডিওতে যে দুজনকে দেখা গেছে তাদের দুজনেরই তিনটে করে সন্তান রয়েছে যারা প্রায় সকলেই প্রাপ্ত বয়স্ক এবং বিবাহযোগ্যও।

জানা গেছে তিন সন্তানের জননী ঐ মহিলার সাথে তৃণমূল নেতার বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক এক দশকের বেশি। মহিলার স্বামী জানান সম্ভবত তার স্ত্রী এবং ঐ তৃণমূল নেতা চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে রেজিষ্ট্রি বিয়েও করে নিয়েছে৷ মহিলার স্বামী জানান, মেসো শ্বশুরের সাথে স্ত্রীর মেলামেশা নিয়ে এর আগেও সামাজিক শালিশি হয়েছিল। সম্প্রতি মোবাইলে তাদের ঘনিষ্ট অবিস্থায় শ্যুট করা ভিডিও দেখে আর মাথা ঠিক ছিল না। তাই এলাকার লোকেদের ডেকে তালাক দিতে বাধ্য হই।

ঐ মহিলাও আর পুরোনো স্বামীর ঘর করতে নারাজ। তিনি জানান, ইসলামিক নিয়মে আমাদের তালাক হয়ে গেছে। নিয়ম অনুযায়ী একশো দিন পর আমি যাকে ইচ্ছে বিয়ে করতেই পারি৷ আমি প্রেমিকে বিয়ে করে তার কাছেই থাকতে চাই।

ঘটনায় নাম জড়ানো তৃণমূল নেতা অবশ্য পুরোটাকেই চক্রান্ত বলেছেন। তিনি বলেন, পুরোটাই আমার বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চক্রান্ত। যারা ভিডিও বিকৃত করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবো। সময় সব মিথ্যের জবাব দেবে।

তবে স্বামীর সাথে পরস্ত্রীর ভিডিও ভাইরাল হওয়া নিয়ে তৃণমূল নেতার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যা স্ত্রীর কোন প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ঐ ব্যক্তি এবং মহিলার সন্তানদের বক্তব্যও মেলেনি বাবা মায়ের এই ভিডিও কান্ড এবং তাকে ঘিরে হওয়া তালাক কান্ড নিয়ে।

তবে ইতিমধ্যেই নেট দুনিয়ায় চুটিয়ে চলছে জনপ্রিয় চটুল গানের সাথে করা ঐ শর্ট ভিডিও গুলি। তৃণমূল নেতার ভিডিও ছড়িয়ে দিতে মাঠে নেমেছে বিরোধি বিজেপি সহ রাজনৈতিক দলগুলো। শাসকদলে ঐ নেতার বিরোধী গোষ্ঠীর লোকেরাও উৎসাহ নিয়েই নেট মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন অন্তরঙ্গ শর্ট ভিডিও।

Varun Gandhi: সম্ভবত তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন বিজেপি নেতা বরুণ গান্ধী

BJP leader Varun Gandhi is joining Trinamool Congress

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: কয়েক মাস আগে বাংলার মাটিতে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। নিজেদের ঘর গোছানোর পর তৃণমূল এবার গোটা দেশের রাজনীতিতে ছাপ ফেলার প্রস্তুতি শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা ও গোয়ায় তৃণমূল দাপিয়ে বেড়াতে শুরু করেছে।

এরই মধ্যে আগামী সপ্তাহে দিল্লি যাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা (Mamata Banerjee) বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতার এই দিল্লি সফরে থাকছে বড় মাপের এক চমক। দিল্লিতে (Delhi) মমতার উপস্থিতিতে তাঁর দলে যোগ দিতে পারেন বিজেপি সাংসদ তথা গান্ধী পরিবারের তরুণ নেতা বরুণ গান্ধী (Varun Gandhi)।

BJP MP Varun Gandhi criticized the Centre's agricultural policy

সম্প্রতি পিলভিটের সাংসদ বরুণ এবং তাঁর মা সুলতানপুরের সাংসদ মানেকার সঙ্গে বিজেপির সম্পর্কের যথেষ্ট অবনতি হয়েছে। যে কারণে সম্প্রতি বিজেপির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি থেকে বরুণ ও মানেকাকে (maneka) সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কৃষি আইনকে কেন্দ্র করে নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপিকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বরুণ। লখিমপুর খেরির ঘটনাতেও তিনি দলের লাইনের বিরুদ্ধে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন এক রাজনৈতিক প্লাটফর্ম খুঁজছেন প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা (Indira) গান্ধীর ছোট ছেলে সঞ্জয় গান্ধীর (sanjay gandhi) একমাত্র ছেলে বরুণ। তবে তাঁর পক্ষে কংগ্রেস শিবিরে যোগ দেওয়া কার্যত অসম্ভব। কাজেই প্রশ্ন উঠছে বরুণের সামনে বিকল্প কোন দল রয়েছে। এই প্রশ্নের উত্তরেই উঠে এসেছে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম।

এই মুহূর্তে বিজেপি বিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় মুখ হয়ে উঠেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিভিন্ন ইস্যুতে মোদি ও বিজেপিকে নিয়মিত আক্রমণ করে থাকেন মমতা। কয়েক মাস আগে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মোদি, অমিত শাহকে গোহারা হারিরেছেন তৃণমূল নেত্রী। মোদি, শাহ-সহ শীর্ষ বিজেপি নেতারা দিল্লি- কলকাতা ডেলি প্যাসেঞ্জারি করলেও তৃণমূলের গড়ে দাঁত ফোটাতে পারেননি।

সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে একাধিক রাজনৈতিক দল ও নেতা ইতিমধ্যেই মমতার নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেছেন। বিরোধী নেতৃত্ব ইতিমধ্যেই মমতাকে ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালাচ্ছেন। সে কারণেই বিজেপি বিরোধী এই মঞ্চে বা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন বরুণ।

যদিও এ বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি। বরুণও তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়ে কোনও শব্দ খরচ করেননি। এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে তৃণমূল নেতৃত্ব শুধু মুচকি হেসেছেন। তাঁদের এই হাসির ইঙ্গিত কী সেটা অবশ্য ধরতে পারেনি রাজনৈতিক মহল। তবে বরুণের তৃণমূলে যোগ দেওয়ার খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই জাতীয় রাজনীতিতে একটা ঢেউ উঠেছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, পদ্ম ছেড়ে আরও এক নেতা কি এবার ঘাসফুল শিবিরে ভিড়ছেন। শেষ পর্যন্ত বরুণ যদি তৃণমূলে যোগ দেন তবে সেটা ভারতীয় রাজনীতিতে এক বড় চমক হতে চলেছে।

ব্যবসায়ী ও ব্রাহ্মণদের আমি পকেটে রাখি, বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি নেতার

BJP leader P Murlidhar Rao

News Desk: ব্যবসায়ী সম্প্রদায় এবং ব্রাহ্মণদের আমি নিজের পকেটে রাখি। বিতর্কিত এই মন্তব্য করলেন মধ্যপ্রদেশ বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক পি মুরলীধর রাও (Muralidhar)। যথারীতি বিজেপি নেতার এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। তাদের দাবি, এই মন্তব্যের জন্য বিজেপি নেতাকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।

অন্যদিকে, মুরলীধর তাঁর এই বক্তব্যের দায় চাপিয়েছেন সংবাদমাধ্যমের ঘাড়ে। মুরলিধরের দাবি, তাঁর বক্তব্যকে বিকৃত করেছে সংবাদমাধ্যম।  সোমবার ভোপালে (Bhopal) দলের সদর দফতরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন মুরলিধর। সেখানেই ওই বিজেপি নেতা বলেন, তাঁরা তপসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের দিকে বিশেষ নজর দিচ্ছেন। তবে তাঁদের ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করতে নয়। তাঁরা চান অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষের উন্নয়ন। ওই মন্তব্যের পর সাংবাদিকরা তাঁকে পাল্টা বলেন, বিজেপি তো ব্যবসায়ী ও ব্রাহ্মণদের দল হিসেবেই পরিচিত। তাহলে আপনারা কি তাদের কথা ভাবছেন না। এই প্রশ্নের উত্তরে মুরলিধর নিজের পাঞ্জাবির পকেটে দেখিয়ে বলেন, ব্যবসায়ী ও ব্রাহ্মণদের আমি আমার পকেটে রাখি। তবে আপনাদের এই মন্তব্য ঠিক নয়। বিজেপি সমাজের প্রতিটি স্তরের, সর্বশ্রেণির মানুষকেই দলের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়।

মুরলিধরের এই মন্তব্যের কড়া নিন্দা করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথ (Kamal Nath)। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কিভাবে একজন নেতা ব্রাহ্মণ ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন। এই মন্তব্যের জন্য মুরলিধরের উচিত সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া।

যদিও নিজের বক্তব্যের পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে মুরলিধর বলেন, বিজেপি কখনওই সমাজের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে না। বরং প্রত্যেক নাগরিককে দেশের উন্নয়নের অংশ হিসেবে যুক্ত করতে চায়। কংগ্রেস বরাবর সকলের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সমাজে বিভাজন তৈরি করেছে। কংগ্রেসের অবিচারের কারণেই তফসিলিরা আজও পিছিয়ে রয়েছে।

৯৯ বছরের লিজে স্বাধীনতা পেয়েছে ভারত, দাবি বিজেপি নেত্রীর

BJP youth wing leader Ruchi Pathak

News Desk, Kolkata: ভারত এখনও স্বাধীন হয়নি। আমরা যে স্বাধীন ভারত দেখছি সেটা ব্রিটিশ শাসকের কাছ থেকে ৯৯ বছরের লিজ পাওয়া। চাঞ্চল্যকর এই মন্তব্য করলেন বিজেপি নেত্রী রুচি পাঠক। বিজেপি যুব মোর্চার মুখপাত্র রুচির এই মন্তব্যে গোটা দেশ জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাশাপাশি উঠেছে সমালোচনা ও নিন্দার ঝড়। কিসের ভিত্তিতে বিজেপি নেত্রী এই মন্তব্য করলেন সেটাই মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে ঝাঁসিতে একটি বিতর্ক সভার আয়োজন করেছিল স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। ওই অনুষ্ঠানে রীতিমতো কংগ্রেসকে তুলোধোনা করেন নেত্রী। সে সময় রুচি বলেন, ভারত এখনও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি। ৯৯ বছরের লিজে কংগ্রেস স্বাধীনতা পেয়েছিল। এ ব্যাপারে একটি লিখিত চুক্তিও হয়। ইতিহাস পড়লেই বোঝা যাবে ব্রিটিশরা আমাদের স্বাধীনতা দিতে রাজি ছিল না। দেশের সংবিধান তৈরি হওয়ার আগেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন নেহেরু। তাই এটাকে কখনওই স্বাধীনতা বলা যায় না। আমরা যে স্বাধীনতা ভোগ করছি সেটা ৯৯ বছরের জন্য।

ওই মন্তব্যের পর এই সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ট্রোলড হয়েছেন রুচি। নেটিজেনরা সকলেই প্রশ্ন তুলেছেন, কিসের ভিত্তিতে বিজেপির যুব মোর্চা নেত্রী এমন কথা বললেন। কেউ কেউ বলেছেন, বিজেপির সমস্ত নেতারা হোয়াটসঅ্যাপ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। রুচি হলেন সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের টপার। কংগ্রেসকে কটাক্ষ করতে গিয়ে এই মুহূর্তে রীতিমতো বিপাকে পড়েছেন নেত্রী। নেটিজেনরা সকলের দাবি, এমন গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য নেত্রী কোন তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে করেছেন সেটা তাঁকে জানাতে হবে। শুধু নেটিজেনদের কাছেই নয়, ওই মন্তব্যের জন্য দলের অন্দরে ও চাপের মুখে পড়েন রুচি।

তাই তড়িঘড়ি রুচি ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন। তিনি নতুন এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমি আবেগের বশে ওই মন্তব্য করেছিলাম। দেশবাসীর ভাবাবেগে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। আমার এই মন্তব্য একান্তই ব্যক্তিগত। এর সঙ্গে দলের কোনো যোগ নেই। আমি কয়েকটি ব্লগের তথ্য পড়ে ওই মন্তব্য করেছি। হতে পারে আমার কাছে ভুল তথ্য ছিল।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি নেত্রীর এই মন্তব্য সাধারণ মানুষের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাল্টা বলা হয়েছে, বিজেপি নেত্রী রীতিমতো জেনে-বুঝে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছেন। আসলে কংগ্রেসের গায়ে কালি ছেটানোই তাদের উদ্দেশ্য। কিন্তু বিজেপির নেতৃত্বের এই উদ্দেশ্য সফল হবে না।

Maharashtra: বিজেপি করলে কোনও তদন্ত হয় না, বললেন গেরুয়া সাংসদ সঞ্জয় পাতিল

Maharashtra leader Sanjay Patil

News Desk: বিরোধীরা হামেশাই অভিযোগ করেন, সিবিআই, ইডির মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে তাদের বিরুদ্ধে কাজে লাগানো হচ্ছে। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার এই সমস্ত কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নিজেদের প্রয়োজনে বা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে কাজে লাগাচ্ছে।

যদিও কেন্দ্র বিরোধীদের সেই অভিযোগ বারেবারে উড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু বিরোধীদের তোলা অভিযোগ যে এতটুকু ভিত্তিহীন নয় সেটাই প্রমাণ করে দেখালেন মহারাষ্ট্রের বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় পাতিল। রবিবার সঞ্জয় বলেন, এখন আমি বিজেপি সাংসদ। তাই সিবিআই বা ইডি কেউ আর আমার পিছনে আসবে না।

দিন কয়েক আগে হর্ষবর্ধন পাতিল নামে এক বিজেপি নেতাও একই কথা বলেছিলেন। হর্ষবর্ধন বলেছিলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি নিশ্চিন্তে ঘুমোচ্ছেন। কারণ এখন আর তাঁকে কোনও ধরনের জিজ্ঞাসাবাদের মধ্যে পড়তে হচ্ছে না। যথারীতি বিজেপি সাংসদ ও এক নেতার এ ধরনের কথায় তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, নরেন্দ্র মোদি সরকার সর্বদাই সিবিআই, ইডি, আয়কর বিভাগের মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে বিরোধীদের পিছনে লাগিয়ে রেখেছে। বিরোধীদের নানাভাবে হেনস্তা করাই যে মোদি সরকারের একমাত্র লক্ষ বারেবারে এমন অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু সেই অভিযোগের সাপেক্ষে তেমন কোনও জোরালো প্রমাণ মেলেনি। এবার সেই প্রমাণ বিরোধীদের হাতে তুলে দিলেন মহারাষ্ট্রের এই বিজেপি সাংসদ সঞ্জয়।

সঞ্জয় পাতিল একমাত্র বিজেপি সাংসদ যিনি প্রথম প্রকাশ্যে এই মন্তব্য করলেন। শুধু সঞ্জয় একা নন, চলতি মাসে হর্ষবর্ধন পাতিল নামে এক বিজেপি নেতাও একই মন্তব্য করেছেন। ২০১৯ সালে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে এসেছেন হর্ষবর্ধন। এই বিজেপি নেতা বলেন, কেউ যদি আমার কাছে জানতে চায় আমি কেন বিজেপিতে যোগ দিয়েছি, তবে আমি বলব নিশ্চিন্তে ঘুমানোর জন্য আমি গেরুয়া দলে যোগ দিয়েছি। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর আমাকে আর এখন কারও কোনও প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে না। যথারীতি হর্ষবর্ধনের এই মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়। হর্ষবর্ধন অবশ্য পাল্টা বলেন, তাঁর মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করেছে সংবাদমাধ্যম। তিনি বলতে চেয়েছিলেন, কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাঁকে প্রার্থী করেনি। সে কারণেই তিনি কংগ্রেস ছেড়েছেন।

২০১৪ সালে কেন্দ্রে ক্ষমতা দখলের পরই বিজেপি বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে বলে একাধিকবার অভিযোগ উঠেছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই বিজেপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলিকে নিজেদের কাজে লাগানোর অভিযোগ তুলেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এজন্যই বিজেপিকে ‘ওয়াশিং মেশিন’ বলেও কটাক্ষ করেছেন। নেত্রীর দাবি, বিরোধীদলে থাকলেই নেতারা দুর্নীতিগ্রস্ত হন। কিন্তু সেই দুর্নীতিগ্রস্ত নেতারাই বিজেপিতে যোগ দিলে সব সাদা হয়ে যান। সে কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে ‘ওয়াশিং মেশিন’ বলেন।

সম্প্রতি মুম্বইয়ের মাদক মামলায় শাহরুখ খানের ছেলে আরিয়ান খান গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে এনসিবিকে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করেছেন, যে যত দুর্নীতিগ্রস্ত হোক না কেন, বিজেপিতে যোগ দিলে তার বিরুদ্ধে চলতে থাকা সব তদন্তই ধামাচাপা পড়ে যায়। বিরোধীরা যে এতটুকু ভুল বলছেন না, সেটা প্রমাণ হয়ে গেল বিজেপি সাংসদ সঞ্জয় পাতিলের মন্তব্যে। শুধু সঞ্জয় নন, হর্ষবর্ধনও একই কথা বলায় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের তোলা অভিযোগ আরো মজবুত হয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Ila Mitra: দুই বাংলার তেভাগা আন্দোলনের অধিনায়িকা এই বাঙালি

Ila mitra

বিশেষ প্রতিবেদন: তেভাগা আন্দোলন-এর সংগ্রামী কৃষক নেত্রী তিনি। বাংলার শোষিত ও বঞ্চিত কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেছেন তিনি। সহ্য করেছেন অমানুষিক নির্যাতন। তিনি ইলা মিত্র (Ila Mitra)।

বাংলার গ্রামীণ সমাজে বৃটিশ শাসনের আগে পর্যন্ত ভূমির মালিক ছিলেন চাষীরা। মোগল আমল পর্যন্ত তারা এক-তৃতীয়াংশ বা কখনো কখনো তার চেয়েও অধিক ফসল খাজনা হিসাবে জমিদার বা স্থানীয় শাসনকর্তার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে প্রদান করতেন। বৃটিশ শাসন আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা প্রচলনের ফলে চাষীদের জমির মালিকানা চলে যায় জমিদারদের হাতে। জমিদাররা জমির পরিমাণ ও উর্বরতা অনুযায়ী বৃটিশদের খাজনা দিত। জমিদারদের সঙ্গে ফসল উৎপাদনের কোনো সম্পর্ক ছিল না। এ সময় জমিদার ও কৃষকদের মাঝখানে জোতদার নামে মধ্যস্বত্বভোগী এক শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে। এরা পত্তনি প্রথার মাধ্যমে জমিদারদের কাছ থেকে জমি পত্তন বা ইজারা নিত।

এই জোতদার শ্রেণী কৃষকের জমি চাষ তদারকি ও খাজনা আদায়ের কাজ করতো। ফসল উৎপাদনের সম্পূর্ণ খরচ কৃষকেরা বহন করলেও যেহেতু তারা জমির মালিক নন সে অপরাধে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তুলে দিতে হতো জোতদারদের হাতে। এ ব্যবস্থাকে বলা হতো ‘আধিয়ারী’। জোতদারি ও জমিদারি প্রথা ক্ষুদ্র কৃষকদের শোষণের সুযোগ করে দেয়। খাজনা আদায়ের জন্য জোতদাররা এদেরকে দাসের মতো ব্যবহার করে। উৎপন্ন ফসলের পরিবর্তে একসময় কৃষককে বাধ্য করা হয় অর্থ দিয়ে খাজনা পরিশোধ করতে। ফলে কৃষকেরা গ্রামীণ মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন। সর্বস্বান্ত হয়ে এক সময়ের সমৃদ্ধ বাংলার কৃষক পরিণত হন আধিয়ার আর ক্ষেত মজুরে। জমিদার-জোতদারদের এই শোষণ কৃষকের মনে বিক্ষোভের জন্ম দেয়। এই বিক্ষোভকে সংগঠিত করে ১৯৩৬ সালে গঠিত হয় ‘সর্ব ভারতীয় কৃষক সমিতি’।

১৯৪০ সালে ফজলুল হক মন্ত্রিসভার উদ্যোগে বাংলার ভূমি ব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাব দেয় ‘ফাউন্ড কমিশন’। এই কমিশনের সুপারিশ ছিল জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ করে চাষীদের সরাসরি সরকারের প্রজা করা এবং তাদের উৎপাদিত ফসলের তিনভাগের দুইভাগের মালিকানা প্রদান করা। এই সুপারিশ বাস্তবায়নের আন্দোলনের জন্য কৃষক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। এছাড়া জনসাধারণের কাছ থেকে হাটের ‘তোলা’ ও ‘লেখাই’ সহ নানা কর আদায় করা হতো। এসব বন্ধের জন্য আন্দোলন জোরদার হয়। চল্লিশের দশকে এসব আন্দোলনে ইলা মিত্র নেতৃত্ব দেন।

১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ বাংলা ১৩৫০ সনে সমগ্র বাংলায় দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ, যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। এ দুর্ভিক্ষের সময় কৃষকের ওপর শোষণের মাত্রা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। এসময়কার অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে মরিয়া হয়ে ওঠে শোষিত কৃষকেরা। তিনভাগের দুইভাগ ফসল কৃষকের এই দাবি নিয়ে বেগবান হয় তেভাগা আন্দোলন। ১৯৪৬-১৯৪৭ সালে দিনাজপুরে কমরেড হাজী দানেশের প্রচেষ্টায় সূচিত হয় এক যুগান্তকারী তেভাগা আন্দোলন।

কমিউনিস্ট পার্টি ও কৃষক সমিতি প্রান্তিক চাষীদের সংগঠিত করে আন্দোলনকে জোরদার করতে থাকে। পার্টি থেকে রমেন্দ্র মিত্রকে গ্রামের কৃষক সমাজের মধ্যে কাজ করার দায়িত্ব দিয়ে কলকাতা থেকে নিজ গ্রাম রামচন্দ্রপুর হাটে পাঠালে স্বামীর সাথে ইলা মিত্র সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কৃষক সংগঠনের সাথে যুক্ত হন। ১৯৪৬ সালে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা শুরু হলে কমিউনিস্ট পার্টি দাঙ্গা বিধ্বস্ত এলাকায় সেবা ও পুনর্বাসনের কাজ করতে এগিয়ে আসে। এসময় ইলা মিত্র নোয়াখালীর দাঙ্গা বিধ্বস্ত গ্রাম হাসনাবাদে পুনর্বাসনের কাজে চলে যান। তখন নোয়াখালীতে মহাত্মা গান্ধী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করছিলেন। ইলা মিত্রের এই সাহসী পদক্ষেপ সে সময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ইলা সেন যখন বেথুন কলেজে বাংলা সাহিত্যে বি.এ সম্মানের ছাত্রী তখন থেকেই রাজনীতির সাথে পরিচয় ঘটে। নারী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশ। সময়টা ছিল ১৯৪৩ সাল, ইলা সেন কলকাতা মহিলা সমিতির সদস্য হলেন। হিন্দু কোড বিলের বিরুদ্ধে ঐ বছরই মহিলা সমিতি আন্দোলন শুরু করে। সমিতির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে তিনি এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। এ সময় তিনি সনাতনপন্থীদের যুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অনেক প্রচার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি নামক সংগঠনের মাধ্যমে নারী আন্দোলনের এই কাজ করতে করতে তিনি মাত্র ১৮ বছর বয়সে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করেন।

১৯৪৫ সালে ইলা সেনের বিয়ে হয় দেশকর্মী রমেন্দ্র মিত্রের সাথে। রমেন্দ্র মিত্র মালদহের নবাবগঞ্জ থানার রামচন্দ্রপুর হাটের জমিদার মহিমচন্দ্র ও বিশ্বমায়া মিত্রের ছোট ছেলে। বিয়ের পর বেথুনের তুখোর ছাত্রী ইলা সেন হলেন জমিদার পুত্রবধু ইলা মিত্র। কলকাতা ছেড়ে চলে এলেন শ্বশুরবাড়ি রামচন্দ্রপুর হাটে। হিন্দু রক্ষণশীল জমিদার পরিবারের নিয়মানুসারে অন্দরমহলেই থাকতেন ইলা মিত্র। তখনও তিনি মা হননি তাই হাতে অফুরন্ত অবসর। এই বন্দী জীবনে মুক্তির স্বাদ নিয়ে এলো গ্রামবাসীর একটি প্রস্তাব। রমেন্দ্র মিত্রের বন্ধু আলতাফ মিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় বাড়ির কাছেই কৃষ্ণগোবিন্দপুর হাটে মেয়েদের জন্য একটি স্কুল খোলা হলো। গ্রামের সবাই দাবি জানালেন তাঁদের নিরক্ষর মেয়েদের লেখাপড়া শেখাবার দায়িত্ব নিতে হবে বধুমাতা ইলা মিত্রকে। বাড়ি থেকে অনুমতিও মিললো কিন্তু বাড়ির চার’শ গজ দুরের স্কুলে যেতে হয় গরুর গাড়ি চরে।

মাত্র তিনজন ছাত্রী নিয়ে স্কুলটি শুরু হলেও ইলা মিত্রের আন্তরিক পরিচালনায় তিনমাসের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০-এ। আর এর মধ্যে তিনি হেঁটে স্কুলে যাওয়ার অনুমতি লাভ করতেও সক্ষম হন। সংগ্রামী নেত্রী এভাবেই অন্দর মহল থেকে বের হয়ে এসে আবার নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন বৃহত্তর সমাজ সেবার কাজে। হয়ে ওঠেন এলাকার রানীমা। এ সময়ে তিনি স্বামী রমেন্দ্র মিত্রের কাছে জমিদার ও জোতদারের হাতে বাংলার চাষীদের নিদারুণ বঞ্চনা শোষণের কাহিনী শোনেন। আরো শোনেন এই শোষণের বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলনের প্রচেষ্টার কথা।

কমিউনিস্ট রামেন্দ্র মিত্র এর আগেই জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য ও মোহ ত্যাগ করে কৃষকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। রমেন্দ্র মিত্র, ইলা মিত্রকে তাঁদের কাজে যোগ দিতে উৎসাহিত করেন। ছাত্রী জীবনেই ইলা মিত্র কমিউনিস্ট আদর্শের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাই স্বামীর আদর্শ ও পথ চলার সাথে সহজেই নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছিলেন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত রাজশাহীর নবাবগঞ্জ অঞ্চলে তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দান করেন ইলা মিত্র।

পঞ্চায়েত ভোটে লড়ে তাক লাগিয়ে দিলেন বিজেপি নেতা ডি কার্তিক

BJP leader D Karthik

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর জেলার কুরুদম্পালয় পঞ্চায়েতের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন ডি কার্তিক। নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর সকলকে চমকে দিয়েছেন কার্তিক। কোয়েম্বাটুর জেলার বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি কার্তিক পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট পেয়েছেন মাত্র একটি। যদিও তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যও এই নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। এই ঘটনায় প্রমাণ হল যে, কার্তিকের পরিবারের সদস্যরা কেউই তাঁকে ভোট দেয়নি।

কার্তিকের এক ভোট পাওয়ার খবর সামনে আসতেই টুইটারে রীতিমত ট্রোল হয়েছেন তিনি। টুইটারে ইতিমধ্যেই একটি হ্যাশট্যাগ ভাইরাল হয়েছে। যেখানে লেখা হয়েছে ‘সিঙ্গল ভোট ফর বিজেপি’। নির্বাচনী ফলাফল সামনে আসতেই নেটদুনিয়ায় রীতিমতো হাসির খোরাক হয়েছেন বিজেপি জেলা যুব মোর্চার এই নেতা। নেটিজেনরা মন্তব্য করেছেন, কার্তিকের এলেম আছে বলতে হবে। তিনি এতটাই জনপ্রিয় যে, নিজের ভোট ছাড়া আর একটি ভোটও পাননি। এমনকি নিজের পরিবারের সদস্যদের ভোটও নয়।

সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন মন্তব্য করেছেন, কার্তিক নিজের নির্বাচনী প্রচারে জন্য যে সমস্ত পোস্টার লাগিয়েছিলেন তাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা-সহ বহু নেতার ছবি ছাপা হয়েছিল। তাতেও তিনি ভোট পেয়েছেন মাত্র একটি। তাঁর এলেম আছে বলতে হবে। এই ফলাফল থেকেই প্রমাণ হচ্ছে, বিজেপি আজ দেশে কতটা জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল।

বিশিষ্ট লেখিকা তথা সমাজকর্মী মীনা কান্দাস্বামী বলেছেন, কুরুদম্পালয় পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি প্রার্থী মাত্র একটি ভোট পেয়েছেন। যদিও তার পরিবারের পাঁচ সদস্য ভোট দিতে এসেছিলেন। অথচ বাড়ির চারজনই কার্তিককে ভোট দেননি। পরিবারের যে চারজন কার্তিককে ভোট দেননি তাঁদের জন্য আমি গর্ববোধ করি। কার্তিক ছাড়া অন্য কোনও প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে আমি অভিনন্দন জানাই।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, তামিলনাড়ুতে এমনিতেই বিজেপির পায়ের তলায় সেভাবে মাটি নেই। তার ওপর সম্প্রতি দেশজুড়ে কৃষক আন্দোলন বিজেপির প্রতি মানুষকে আরও বিমুখ করে তুলেছে। বিশেষ করে কৃষক সম্প্রদায় ও গ্রামীণ এলাকার মানুষ বিজেপির থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল তারই প্রমাণ।

যদিও কার্তিক পাল্টা বলেছেন তিনি বিজেপির প্রার্থী ছিলেন না। তিনি নির্দল প্রার্থী হিসেবে গাড়ি চিহ্নে ভোট লড়াই করেছিলেন। তাই তাঁকে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে চিহ্নিত করাটা একেবারেই ভুল। তিনি যদি বিজেপির প্রার্থী হয়ে লড়াই করতেন তাহলে নির্বাচনী ফলাফল অন্যরকম হত। যদিও মোদি, অমিত শাহ বা নাড্ডার ছবি দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনও উত্তর দেননি।