Lifestyle: কীভাবে সাউন্ড বাথ আপনাকে স্বস্তি দিতে সাহায্য করে?

Sound Bath Therapy Mental Health Benefits

অনলাইন ডেস্ক: প্রথমেই হয়তো আপনি ভাবছেন সাউন্ড বাথ কি? এটি একটি মানসিক স্নান৷ যা চাপ উপশম করতে, স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করতে এবং আপনার শরীরের সাথে মনের সংযোগ স্থাপন করে। আপনার মন থেকে সমস্ত চিন্তাভাবনা এবং ধারণাগুলি নিষ্ক্রিয় করতে সাউন্ড বাথ ব্যবহৃত হয়।

সাউন্ড স্নানের অংশগ্রহণকারীরা শব্দ তরঙ্গে ‘স্নান’ করে, যা একটি আরামদায়ক অভিজ্ঞতা প্রদান করে। গং, গানের কলি, পারকিউশন ইন্সট্রুমেন্ট, চিমেস এবং র্যাটল, এমনকি মানুষের কণ্ঠ সহ বিভিন্ন যন্ত্র এই তরঙ্গ উৎপন্ন করে।

সাউন্ড স্নানের স্বাস্থ্য উপকারিতা: স্পা-এর মতো পরিবেশ যার মধ্যে সাউন্ড বাথ রয়েছে তা আমাদেরকে দীর্ঘ দিনের কাজের পরে বিশ্রাম নিতে দেয়। একটি ভাল স্নান একটি আরামদায়ক এবং পুনরুজ্জীবিত অভিজ্ঞতা হতে পারে।

১। চাপ এবং উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করে : শব্দ দ্বারা উৎপন্ন কম্পনগুলি চাপ এবং উদ্বেগ দূর করতে সাহায্য করতে পারে। তা ছাড়া, তারা আপনাকে গভীর ধ্যানের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থায় পৌঁছাতে সহায়তা করে, যা মানসিক ক্লান্তি নিরাময় করে। প্রকৃতপক্ষে, গবেষণায় দেখা গেছে যে মেডিটেশন থেরাপি উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করতে পারে, সেইসাথে প্রশান্তিমূলক সঙ্গীত টেনশন এবং স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করতে পারে।

২। রক্তচাপ কমায় এবং স্নায়ুতন্ত্রের ভারসাম্য পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে : শব্দ স্নান দ্বারা উত্পাদিত শব্দ কম্পন ব্যবহারকারীর জন্য শারীরিক এবং মানসিক স্বস্তি প্রদান করে। যখন আপনি মনোযোগী ধ্যানের অবস্থায় পৌঁছান, আপনার রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দন কমে যেতে পারে। মননশীল ধ্যান অনুশীলন করলে হৃদস্পন্দন, সিস্টোলিক রক্তচাপ এবং কর্টিসলের মাত্রার মতো শারীরবৃত্তীয় চিহ্নগুলি হ্রাস পেতে পারে।

৩। গভীর ধ্যানের অবস্থা অর্জনের জন্য আপনার একাগ্রতা এবং ক্ষমতা উন্নত করে : মেডিটেশনের অসংখ্য থেরাপিউটিক সুবিধা রয়েছে, কিন্তু পরিষ্কার মন নিয়ে সম্পূর্ণ ধ্যানমগ্ন অবস্থায় পৌঁছানো চ্যালেঞ্জিং। সাউন্ড স্নানের সময় উৎপন্ন কম্পন আপনাকে জোরালো আওয়াজে ফোকাস করতে বাধ্য করে, যা আপনাকে আপনার মনকে ধারনা এবং বিভ্রান্তি থেকে মুক্ত রাখতে সাহায্য করে। ফলস্বরূপ, একটি শব্দ স্নান হচ্ছে একটি সম্পূর্ণ ধ্যানমূলক অবস্থা অর্জনের একটি সহজ উপায়।

৪। চক্র ভারসাম্যে সহায়তা করে: সাউন্ড স্নান আপনার চক্রগুলির ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং আপনাকে বিশ্রামের জন্য একটি সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং মনোরম পরিবেশ প্রদান করে । এটি আপনার মনকে খারাপ চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে।

৫। আপনাকে অভ্যন্তরীণ শান্তি অর্জনে সহায়তা করে: আপনাকে অভ্যন্তরীণ শান্তি অর্জনে সহায়তা করে সাউন্ড বাথ। এটি আপনার মনকে সম্পূর্ণরূপে পুনর্নবীকরণ করতে পারে এবং আপনাকে আপনার সাথে পুনরায় সংযুক্ত করতে পারে। থেরাপিউটিক কম্পনগুলি কেবল অভ্যন্তরীণ শান্তিই দেয় না বরং আপনার চেতনাকেও প্রশস্ত করে।

শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর ৭ উপায়, মেনে দেখুন ম্যাজিক

mental health

শিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের মূল অভিযোগ– তারা পড়ালেখায় অমনোযোগী। কোনো কোনো মা-বাবার আক্ষেপ– সন্তান পড়া মনে রাখতে পারে না।

সব শিশুর স্মৃতিশক্তি সমান না। যাদের স্মৃতিশক্তি দুর্বল, তাদের সেটি প্রখর করারও কিছু কৌশল আছে। আসুন জেনে নিই শিশুদের স্মৃতিশক্তি বাড়ানোর করণীয় সম্পর্কে।

১)শিশুকে প্রশ্ন করতে শেখান। যেন আপনার শিশুর মধ্যে কোনো কিছু জানার আগ্রহ তৈরি হয়। যত প্রশ্ন করবে, ততই বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করবে সে। ফলে শিশুর স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

২.) শিশু যা শিখছে, সেগুলো দিয়ে তাকে ছড়া, গান তৈরি করতে শেখান। মানুষের মস্তিষ্ক মিউজিক ও প্যাটার্ন মনে রাখতে পারে দ্রুত। তাই মিউজিক বা ছড়া শিশুকে কিছু শেখালে সে তাড়াতাড়ি সব কিছু মনে করতে পারবে।

৩)শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়াতে লাইব্রেরি ও মিউজিয়ামে নিয়ে যান। তাকে এক জায়গায় বসিয়ে পড়াবেন না, বরং ঘুরতে ঘুরতে শেখান। লাইব্রেরিতে নিয়ে গিয়ে বই দেখাতে পারেন। মিউজিয়াম বা আর্ট গ্যালারিতেও নিয়ে যান।

৪)বিভিন্ন বিষয়ে শিশুর সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। তারা কি ভাবছে জানতে চান। এভাবে তাদের চিন্তাধারার যেমন উন্নতি হবে, তেমন স্মৃতিশক্তিও বাড়বে।

৫) শিশুকে কিছু শেখানোর সময় ছবির ব্যবহার করুন। তা হলে শিশুর মনে রাখতে সুবিধা হবে।

৬) বাবা-মা, বন্ধুবান্ধব ও ভাইবোনের কাছ থেকে শিশু অনেক কিছু শেখে, সে যা শিখছে সেগুলো সম্পর্কে জানতে চান। আপনাকে বোঝানোর মাধ্যমে শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়বে।

৭) শরীরচর্চা শরীর ও মন দুই-ই ভালো রাখে। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়তা করে। রোজ শরীরচর্চা করুন।

Mental Health: পরিস্থিতির চাপে ক্রমেই হতাশা গিলে খাচ্ছে, রইল সমাধানের সহজ উপায়

how to reduce depression

Online Desk: কেউ যখন কোন কিছু পেতে ব্যর্থ হয় তখন একজন হতাশাগ্রস্ত (Mental Health) ব্যক্তি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে তার পক্ষে আর কখনোই সেটি পাওয়া সম্ভব নয়। অনেকের মাঝেই এই প্রবণতা আছে। যা অনেক ক্ষেত্রে রাগ এবং ক্ষোভের  জন্ম দেয়।

হতাশা একজন মানুষের কষ্টকে দ্বিগুণ করে দেয়। একজন হতাশাগ্রস্ত মানুষ সহজ বিষয়কেও জটিল করে তোলে। কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করলে হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১) সব মানুষের জীবনেই দুঃখ কষ্ট আছে। হতাশার শিকার হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। তাই কখনোই ভাবনা না যে বিপদ শুধু আপনার একার এসেছে, আপনিই শুধু কষ্টে আছেন। এরকম চিন্তাভাবনা ত্যাগ করতে হবে।

২) পৃথিবীতে কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়। দুঃখ যেমন আসে, তেমনি সুখও আসবে। অনেকেই আছেন যারা নিজেদের হতাশাগ্রস্ত দাবী করে সহজেই দায় এড়িয়ে যান, সমাধান খুঁজতে অসমর্থ হয়ে বসে থাকেন। কিন্তু এতে আপনারই ক্ষতি। এমন অভ্যাস ত্যাগ করুন এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন।

 

৩) বিপদে কখনোই ধৈর্য হারা হবেন না। হতাশা যতই আপনাকে ঘিরে ধরুক, সেটি কাটিয়ে নিজের উপর পুনরায় বিশ্বাস এবং ধৈর্যের সাথে বিপদ মোকাবেলা করুন।

৪) আপনার সমস্যার কথা আপনার বন্ধু বা কাছের কারও সাথে ভাগ করে নিতে পারেন। এতে মনের ভার অনেকটাই হালকা হবে। বিশ্বাস করতে পারেন এমন কাউকে বা ঠিক একই সমস্যার মধ্য দিয়ে গেছেন এমন কারও সাথে সমস্যাটি নিয়ে কথা বলুন। এতে সমস্যা সমাধানের দিক নির্দেশনা পাবেন।

৫) নিজের উপর আস্থা রাখুনঃ সব সময় বিশ্বাস করবেন আপনার বিপদের সব থেকে বড় বন্ধু আপনি নিজে। নিজের উপর আস্থা রেখে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন।

সব সময় মনে রাখবেন, আপনি অবশ্যই যে কোন বিপদ মোকাবেলা করতে সক্ষম। নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে মনের জোর বাড়ান, আশা করি হতাশার দিন খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।

Travel: মন কিংবা শরীর, ঘুরতে গেলেই যেন পলকে চাঙ্গা

trip india girl

Online Desk: ব্যস্ততা থেকে একটু অবসর নিয়ে ঘুরে (Travel) এলে কমবে মানসিক অবসাদ। এমনকী নিয়মিত ভ্রমণ হৃদরোগসহ অন্য শারীরিক ও মানসিক রোগের ঝুঁকি কমায়। মন কিংবা শরীর, ঘুরতে গেলেই যেন পলকে চাঙ্গা এছাড়া, নতুন কোনো জায়গা ঘুরে এলে পাবেন ওই এলাকার নিজস্ব ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, জীবনযাপন ও খাবারের স্বাদ।

নতুন কোনো জায়গায় ভ্রমণে গেলে নাগরিক সব ঝুট-ঝামেলা থেকে দূরে থাকা যায় সব নেগেটিভিটি দূর হয়ে জীবনে আসে পজিটিভিটি। পাশাপাশি নতুন অনেক কিছু শেখার সুযোগ হয়। তাই ব্যস্ত জীবনে হাঁপিয়ে উঠলে একটু সময় বের করে কোথাও ঘুরে এসে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে শুরু করতে পারেন কর্মজীবন।

অনেকের কাছে ভ্রমণ শুধু একটা শখ। অনেকের এটাই পেশা। সত্যি বলতে, মানুষের জন্মই হয়েছে সারাবিশ্ব ঘুরে নতুন কিছু জানার জন্য যারা ভ্রমণ করেন তাদের মন অনেক উদার হয়। ফলে, জীবনের অনেক জটিল সমস্যা তারা সহজ করে দেখতে পারেন। কেউ যদি এক জায়গায় ‘কুয়ার ব্যাঙ’ হয়ে জীবন কাটায়, এই বিশাল পৃথিবীর অনেক কিছুই তার অজানা থেকে যায়।

trip india girl

অন্যদিকে, কাজের চাপ ও নাগরিক জীবনের ব্যস্ততার সব নেগেটিভিটি তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। এতে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক রোগের সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রতিটি মানুষের জন্যই ভ্রমণ গুরুত্বপূর্ণ। শত ব্যস্ততার মধ্যেও সবারই নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করতে হয় সব ভিড় থেকে দূরে মুক্ত জীবনের স্বাদ নিতে ও জীবনের মানে খুঁজতে বের হতে হয় ভ্রমণে।

যদি আপনি নতুন কোনো জাতির জীবনযাপন, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, ইতিহাস, এসবে আগ্রহী হন, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন নতুন কোনো দেশে। যদি প্রকৃতির কাছাকাছি যেতে চান অ্যাডভেঞ্চারে, তাহলে ঘুরে আসতে পারেন হিমালয় পর্বত, উপভোগ করতে পারেন হিমালয়ের সৌন্দর্য।

আপনি কী ধরনের ভ্রমণে আগ্রহী তার ওপর নির্ভর করে আপনার কোথায় ঘুরতে যাওয়া উচিত। তবে গন্তব্য যেটাই হোক না কেনো, ভ্রমণ জরুরি। তাই শারীরিক ও মানসিক অবসাদ ঝেড়ে সতেজ শরীর ও মন নিয়ে কাজে যোগ দিতে আপনার মনমতো কোথাও ঘুরে আসুন।

দেখবেন জীবনটাকে আপনি নতুনভাবে দেখছেন। পাশাপাশি সারাজীবন মনে রাখার মতো স্মৃতি জমা হবে আপনার ঝুলিতে। এমন কী ঘুরতে গিয়ে অচেনা বা ভিনদেশি কারো সঙ্গে বন্ধুত্বও তৈরি হতে পারে।

সমাজের দ্বিচারিতা ব্যাপারে মুখ খুললেন কোয়েল

Koel Mallick

বায়োস্কোপ ডেস্ক, কলকাতা: ভালো আছি,ভালো থেকো/আকাশের ঠিকানায় চিঠি লিখো”
সবাই জিজ্ঞাসা করত, “কেমন আছো?” উত্তরে যদি বলি, ভালো নেই৷ তবে কেমন যেন অতি সহজ অংকের সমাধান এর মতন বলে দেয়, আমি কী কী উপায়ে ভালো থাকতে পারি?
অথচ ধৈর্য ধরে শুনেছে ক’জন? আর যে কজন শুনেছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই তুলনা টেনে দিয়ে বলেছে ‘ ওরা এরকম করতে পারলে তুই পারবি না?’ অথচ আমার মনের মঞ্চে চেনা মানুষের অচেনা হয়ে যাওয়া, অভিনয় এর খেলায় আমি জর্জরিত বিপর্যস্ত তা গভীরভাবে বুঝতে চেয়েছে ক’জন? এতদিন যখন ভালো ছিলাম না,ততদিন কেন যাকেই মন খারাপের কথা বলতে গিয়েছি,সে বলে দিয়েছে,’একটু ঘুরে আয় সব ঠিক হয়ে যাবে’।কিংবা কেউ তো হাস্যকরভাবে বলেছে, একটু ওয়েব সিরিজ দেখ।আড্ডা মার।পার্টি কর।থিংস উইল বি অল রাইট।’
আচ্ছা!এতটাই সহজ।আমার মন ম্যানেজমেন্ট এতটাই যখন সহজ ছিল সবার কাছে,আমার কাছে আমি কেন কঠিন হল পুরোটা?
আসলে আমি বুঝতে পারিনি না? নাকি আমি বোঝাতে পারিনি?
ইতি,
নিজের কথা কাউকে বোঝাতে না পারা কেউ

এমন অনেক প্রশ্ন থেকে যায়, অনেক এমন প্রাণ যারা হয়তো আজ আর আমাদের মধ্যে নেই তাদের না লেখা চিঠিতে। তারা চলে যাবার পরে তখন হঠাৎ করে সবাই বলতে শুরু করে,’ আহা রে! এত কষ্ট ছিল বুঝতেই পারিনি। একবার যদি বুঝতাম!’

আত্মহত্যার পর এর যে সামাজিক দ্বিচারিতা আমরা সর্বত্র লক্ষ্য করি ঠিক সেটাকেই অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক তুলে ধরলেন নিজের ভাবনায়। সাইকোলজির ছাত্রী হওয়ার জন্য মনোবিজ্ঞান নিয়ে তার অগাধ জ্ঞান।

চলতি মাসটি ‘সুইসাইড প্রিভেনসান মান্হ’। সামাজিক এই বিচারকের কোথায় কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick) উল্লেখ করলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। লিখলেন, যখন কেউ আত্মহননের পথ বেছে নেয়, তারপরে সবাই দুঃখ প্রকাশ করে। বলে একবারের জন্য যদি তারা বুঝতে পারত তবে হয়তো এ ঘটনা ঘটত না। কিন্তু বেঁচে থাকাকালীন যখন সে মানসিক কোন সমস্যার ভেতর দিয়ে যায় তখন কেউ তার কথা শোনে না, কেউ বিশ্বাস করে না উপরন্তু বলে দেওয়া হয়, তারা নাকি অ্যাটেনশন সিকার। এই সমাজের আরও অনেক কিছু করার আছে।”

অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক বাংলা চলচ্চিত্র জগৎ থেকে শুরু করে দর্শকদের মধ্যে পরিচিত একজন দক্ষ অভিনেত্রী এবং বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে। তার সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই বোঝা যায় তিনি সর্বদা পজিটিভিটির মন্ত্র ছড়িয়ে দিতে চায়। মনের যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে তার এই বক্তব্য নিঃসন্দেহে এই সমাজের কাছে আশার আলো দেখাবে।

খানিক অবসরে মিউজিক থেরাপি, মুহূর্তে সারিয়ে দিতে পারে মনের রোগ

music

গান শুনতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। এর পাশাপাশি মিউজিক শুনতেও পছন্দ করেন অনেকেই। সকালে উঠে অফিসে যাওয়ার তার, আবার বাড়ি ফিরে নানা কাজের চাপ। এই একঘে জীবনে একটুখানি শান্তি খুঁজে পেতে আমরা মিউজিকে বেছেনি। আসলে মিউজিক শোনার সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। জীবনের প্রতিতা মুহূর্তের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা মিউজিক শুনতে ভালোবাসি।

যেমন দুঃখ, কষ্টের সময় আমরা একটু সফট মিউজিক শুনতে পছন্দ করি। আবার আনন্দ কিনবা উল্লাসের সময় আমরা লাউড মিউজিক শুনি। প্রকৃত অর্থে সঠিক সময়ে সঠিক মিউজিক আমাদের শারীরিক ও মানসিক শান্তি দেয়। তাই বর্তমানে মিউজিক থেরাপির প্রচলন বেড়েছে। এখন অনেক হসপিটালেও রোগীদের মানসিকভাবে সুস্থ করতে মিউজিক থেরাপি দেওয়া হছে। চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক মিউজিক থেরাপির কিছু গুন।

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগবে মিউজিক থেরাপি কি? মূলত কোন রোগীকে যখন সংগীত ও সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তাঁর অসুখ বা রোগের তীব্রতা কমানোর চেষ্টা করা হয়, তখন তাকে মিউজিক থেরাপি বলে।

১) যারা মারাত্মক মানসিক চাপ বা টেনশনে খুব কষ্ট পান, তারা যদি সঠিক মিউজিকে নিজেদের মগ্ন করতে পারেন, তবেই কেল্লা ফতে। এতে মনের ভিতর তৈরি হয় সাময়িক ভাললাগা। এটি এন্ডোরফিন নামক হরমোন নিঃসরণ করে ও পেশীকে শিথিল করে রক্ত চাপকে নিয়ন্ত্রণে আনে।

২) মেজর ডিপ্রেশনেও মিউজিক থেরাপি দারুন কাজ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট জাতীয় ওষুধ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি মিউজিক থেরাপি করানো যায় তবে, আশাতীত ফল পাওয়া যায়।

৩) বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায় যে ডিমেনশিয়ার ক্ষেত্রে রোগীর হার্ট বা সেরিব্রাল স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মিউজিক থেরাপি এই হৃদয় রোগ বা সেরিব্রাল অ্যাটাক নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৪) বিজ্ঞানীদের মতে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের পূর্বে সঠিক মিউজিক শুনলে, ওই কাজের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি গবেষকদের দাবি, গান শোনার পর ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পড়ার আগ্রহের সঙ্গে মনোযোগ ও দক্ষতাও বাড়ে।

৫) চিকিৎসকদের মতে গর্ভাবস্থায় মিউজিক থেরাপি নেওয়া উচিৎ। এতে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ সুন্দর হয়। এছাড়াও এতে শিশুর মনের উপর ভালো প্রভাব পড়ে।

আপনার সন্তানের কী স্মৃতি নষ্ট হতে বসেছে, তবে অবশ্যই ডায়েট পাল্টে ফেলুন

mental health

স্মৃতিশক্তি আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজন তা বলার অবকাশ থাকে না। ভুলে যাওয়া খুবই সাধারণ প্রক্রিয়া। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিশ্বজুড়ে ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশ বৃদ্ধি সম্পর্কে এক ভয়ংঙ্কর তথ্য প্রদান করেছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বিশ্বে স্মৃতি শক্তি সমস্যাজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৪ কোটি ৭৫ লক্ষ। প্রতিবছর এই দলে যুক্ত হচ্ছে আরও ৭০ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষ। মস্তিষ্কে থাকা বিভিন্ন উপাদানের কর্ম ক্ষমতা ধরে রাখতে কিছু বিশেষ খাদ্য আছে, তা যদি আমাদের রোজদিনের খাদ্যতালিকায় থাকে তাহলে স্মৃতিভ্রংশ হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

সেই খাদ্যগুলি সম্পর্কে জানব-

মাছ

তৈলাক্ত মাছ স্মৃতি শক্তি বাড়াতে উপকারী, যেমন- স্যামন, সার্ডিন, টুনা, ম্যাকারেল ইত্যাদি মাছ নিয়মিত খাওয়া উচিত। মাছের চর্বি মাছের চর্বিতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড আছে, যা মস্তিষ্কের গঠন ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধিতে খুবই সহায়তা করে। অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্যের এবং মস্তিষ্কের গঠনের জন্য সপ্তাহে দু তিন দিন মাছ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

টমেটো

টমেটো স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। টমেটোতে রয়েছে লাইকোপেন। যা খুবই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। নিয়মিত স্যালাডের সাথে টমেটো খেলে তা মস্তিষ্কের জন্য বিশেষ উপকারী।

ভিটামিন ‘বিসমৃদ্ধ খাবার

ভিটামিন বি, বি-৬, বি-১২ সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খাওয়া প্রয়োজন। মাছ, মাংস, ডিম এবং শাক-সব্জিতে এগুলি প্রচুর মাত্রায় থাকে।

শষ্য জাতীয় খাবার

শষ্য জাতীয় খাবার যেমন- কাঠবাদাম, ব্রকোলি, কুমড়োর দানা মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য বিশেষ উপকারী। তাই রোজ একটু করে খাওয়া ভালো।

মধু ও দারুচিনি

মধু ও দারুচিনি স্নায়ুকে শিথিল করে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ায়। গবেষণায় দেখা গেছে কিছু পরিমাণ দারুচিনি নাকে নিয়ে শুকলেও স্মৃতিশক্তি বাড়ে এবং রাতে ঘুমানোর আগে শুঁকলে মানসিক চাপ কমে, ঘুম ভালো হয়।

সূর্যমূখীর বীজ

এই বীজে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-ই থাকে যা মস্তিষ্কের কার্যাবলীকে মসৃণ গতিতে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বেরি

স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরি, ব্লুবেরিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে যা মস্তিষ্কে সংকেত পাঠানোর পথকে শক্তিশালী করে।

বিটমূল

এর মধ্যে নাইট্রেটের পরিমাণ বেশি থাকায় এটি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ করতে সাহায্য করে। ডিমেনশিয়া আক্রান্তদের মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহ স্বাভাবিক করে।

কালো চকলেট

এর মধ্যে প্রাকৃতিক উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী উপাদান এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। এছাড়াও এর মধ্যে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্ক এবং মেজাজ ঠিক রাখে। এই খাবারগুলি অবশ্যই রোজদিনের খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত, শুধু মস্তিষ্কের সুস্থতার জন্যই নয়, সুস্বাস্থ্যের জন্যও। আর এর সাথে বিভিন্ন ধরণের ব্যায়াম এবং প্রাতঃভ্রমণ মস্তিষ্কের জন্য ভালো। আর যারা ঘরে থাকেন তারা যেকোনো ধারাবাহিক সিরিয়াল কম দেখুন।