Mental Health: পরিস্থিতির চাপে ক্রমেই হতাশা গিলে খাচ্ছে, রইল সমাধানের সহজ উপায়

how to reduce depression

Online Desk: কেউ যখন কোন কিছু পেতে ব্যর্থ হয় তখন একজন হতাশাগ্রস্ত (Mental Health) ব্যক্তি বিশ্বাস করতে শুরু করেন যে তার পক্ষে আর কখনোই সেটি পাওয়া সম্ভব নয়। অনেকের মাঝেই এই প্রবণতা আছে। যা অনেক ক্ষেত্রে রাগ এবং ক্ষোভের  জন্ম দেয়।

হতাশা একজন মানুষের কষ্টকে দ্বিগুণ করে দেয়। একজন হতাশাগ্রস্ত মানুষ সহজ বিষয়কেও জটিল করে তোলে। কিছু সহজ কৌশল অবলম্বন করলে হতাশা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

১) সব মানুষের জীবনেই দুঃখ কষ্ট আছে। হতাশার শিকার হয়নি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। তাই কখনোই ভাবনা না যে বিপদ শুধু আপনার একার এসেছে, আপনিই শুধু কষ্টে আছেন। এরকম চিন্তাভাবনা ত্যাগ করতে হবে।

২) পৃথিবীতে কোন কিছুই চিরস্থায়ী নয়। দুঃখ যেমন আসে, তেমনি সুখও আসবে। অনেকেই আছেন যারা নিজেদের হতাশাগ্রস্ত দাবী করে সহজেই দায় এড়িয়ে যান, সমাধান খুঁজতে অসমর্থ হয়ে বসে থাকেন। কিন্তু এতে আপনারই ক্ষতি। এমন অভ্যাস ত্যাগ করুন এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন।

 

৩) বিপদে কখনোই ধৈর্য হারা হবেন না। হতাশা যতই আপনাকে ঘিরে ধরুক, সেটি কাটিয়ে নিজের উপর পুনরায় বিশ্বাস এবং ধৈর্যের সাথে বিপদ মোকাবেলা করুন।

৪) আপনার সমস্যার কথা আপনার বন্ধু বা কাছের কারও সাথে ভাগ করে নিতে পারেন। এতে মনের ভার অনেকটাই হালকা হবে। বিশ্বাস করতে পারেন এমন কাউকে বা ঠিক একই সমস্যার মধ্য দিয়ে গেছেন এমন কারও সাথে সমস্যাটি নিয়ে কথা বলুন। এতে সমস্যা সমাধানের দিক নির্দেশনা পাবেন।

৫) নিজের উপর আস্থা রাখুনঃ সব সময় বিশ্বাস করবেন আপনার বিপদের সব থেকে বড় বন্ধু আপনি নিজে। নিজের উপর আস্থা রেখে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করুন।

সব সময় মনে রাখবেন, আপনি অবশ্যই যে কোন বিপদ মোকাবেলা করতে সক্ষম। নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে মনের জোর বাড়ান, আশা করি হতাশার দিন খুব দ্রুত শেষ হয়ে যাবে।

খানিক অবসরে মিউজিক থেরাপি, মুহূর্তে সারিয়ে দিতে পারে মনের রোগ

music

গান শুনতে ভালোবাসেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। এর পাশাপাশি মিউজিক শুনতেও পছন্দ করেন অনেকেই। সকালে উঠে অফিসে যাওয়ার তার, আবার বাড়ি ফিরে নানা কাজের চাপ। এই একঘে জীবনে একটুখানি শান্তি খুঁজে পেতে আমরা মিউজিকে বেছেনি। আসলে মিউজিক শোনার সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে থাকে। জীবনের প্রতিতা মুহূর্তের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা মিউজিক শুনতে ভালোবাসি।

যেমন দুঃখ, কষ্টের সময় আমরা একটু সফট মিউজিক শুনতে পছন্দ করি। আবার আনন্দ কিনবা উল্লাসের সময় আমরা লাউড মিউজিক শুনি। প্রকৃত অর্থে সঠিক সময়ে সঠিক মিউজিক আমাদের শারীরিক ও মানসিক শান্তি দেয়। তাই বর্তমানে মিউজিক থেরাপির প্রচলন বেড়েছে। এখন অনেক হসপিটালেও রোগীদের মানসিকভাবে সুস্থ করতে মিউজিক থেরাপি দেওয়া হছে। চলুন একনজরে দেখে নেওয়া যাক মিউজিক থেরাপির কিছু গুন।

এখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগবে মিউজিক থেরাপি কি? মূলত কোন রোগীকে যখন সংগীত ও সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে তাঁর অসুখ বা রোগের তীব্রতা কমানোর চেষ্টা করা হয়, তখন তাকে মিউজিক থেরাপি বলে।

১) যারা মারাত্মক মানসিক চাপ বা টেনশনে খুব কষ্ট পান, তারা যদি সঠিক মিউজিকে নিজেদের মগ্ন করতে পারেন, তবেই কেল্লা ফতে। এতে মনের ভিতর তৈরি হয় সাময়িক ভাললাগা। এটি এন্ডোরফিন নামক হরমোন নিঃসরণ করে ও পেশীকে শিথিল করে রক্ত চাপকে নিয়ন্ত্রণে আনে।

২) মেজর ডিপ্রেশনেও মিউজিক থেরাপি দারুন কাজ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট জাতীয় ওষুধ খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যদি মিউজিক থেরাপি করানো যায় তবে, আশাতীত ফল পাওয়া যায়।

৩) বিভিন্ন গবেষণা থেকে জানা যায় যে ডিমেনশিয়ার ক্ষেত্রে রোগীর হার্ট বা সেরিব্রাল স্ট্রোকের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। মিউজিক থেরাপি এই হৃদয় রোগ বা সেরিব্রাল অ্যাটাক নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৪) বিজ্ঞানীদের মতে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজের পূর্বে সঠিক মিউজিক শুনলে, ওই কাজের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি পায়। এর পাশাপাশি গবেষকদের দাবি, গান শোনার পর ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে পড়ার আগ্রহের সঙ্গে মনোযোগ ও দক্ষতাও বাড়ে।

৫) চিকিৎসকদের মতে গর্ভাবস্থায় মিউজিক থেরাপি নেওয়া উচিৎ। এতে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ সুন্দর হয়। এছাড়াও এতে শিশুর মনের উপর ভালো প্রভাব পড়ে।