Defence: ভারতের হাতে ‘টর্পেডো’, চোখের নিমেষে ধ্বংস হবে সবকিছু

সময় যত এগোচ্ছে নিজেদের অস্ত্র ভাণ্ডারকে সুসজ্জিত করার লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। সাম্প্রতিককালে ভারতীয় নৌবাহিনীর শক্তি বেড়েছে। ভারতীয় অস্ত্রাগারে যুক্ত হয়েছে ‘টর্পেডো’ (Torpedo)। এই টর্পেডো একটি জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য জলের নীচে ভ্রমণ করার আগে, এটি প্রথমে বাতাসের মধ্য দিয়ে উড়তে হবে। ভারত তার সামরিক বাহিনীর চলমান আধুনিকীকরণের অংশ হিসাবে সম্প্রতি একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহকরা টর্পেডো সিস্টেম পরীক্ষা করেছে। অস্ত্রটি পরীক্ষা করা হচ্ছে তা হল ভারতের সুপারসনিক মিসাইল অ্যাসিস্টেড রিলিজ অফ টর্পেডো বা স্মার্ট, অস্ত্র এবং আধুনিক নৌ যুদ্ধের জটিলতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের তুরফ থেকে ঘোষণার পর ১৩ ডিসেম্বর এই টর্পেডোর পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষাটি হয় কলকাতা থেকে প্রায় ১৪০ মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে হুইলার দ্বীপে। ক্ষেপণাস্ত্রটি পরিবহন করা হয়েছিল এবং তারপরে একটি বিশেষ ট্রাকের পিছন থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। এই সিস্টেমটি সেট আপ করতে কিছুটা সময় নেয়, তবে এর অর্থ হল লঞ্চ সাইটটি বিপদের প্রত্যাশায় সরানো যেতে পারে। ভারতের হাতে এই বিধ্বংসী ক্ষেপনাস্ত্র চলে আসায় শত্রু দেশগুলির রাতের যে ঘুম উড়ে গিয়েছে তা বলাই বাহুল্য।

মন্ত্রকের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, “এটি একটি টেক্সট বুক লঞ্চ ছিল, যেখানে পুরো গতিপথটি ইলেক্ট্রো অপটিক টেলিমেট্রি সিস্টেম, ডাউন রেঞ্জ ইনস্ট্রুমেন্টেশন এবং ডাউন রেঞ্জ জাহাজ সহ বিভিন্ন রেঞ্জ রাডার দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল। ” আরও বলা হয়েছে, টর্পেডোগুলি স্বচালিত বিস্ফোরক, সাধারণত সমুদ্রের পৃষ্ঠের নীচে বা ঠিক উপরে উৎক্ষেপণ করা হয়। একবার জলে, টর্পেডোগুলি তাদের লক্ষ্যবস্তুতে নেভিগেট করে, এবং তারপরে জলের লাইনের নীচে বিস্ফোরণ ঘটায়। ডিআরডিওর তরফ থেকে জানানো হয়েছে, প্রচলিত মিসাইলের থেকে বেশি দূরে আঘাত হানতে সক্ষম এই টর্পেডো বহনকারী মিসাইলটি। জলপথে সাবমেরিন যুদ্ধের ব্যবহারের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্রটিকে।

বলা হয়েছে, “মিশনের সময় ক্ষেপণাস্ত্রটির পূর্ণ পরিসরের ক্ষমতা সফলভাবে প্রদর্শিত হয়েছিল। এই সিস্টেমটি টর্পেডোর প্রচলিত পরিসরের চেয়ে অনেক বেশি সাবমেরিন-বিরোধী যুদ্ধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি নেক্সট জেনারেশন স্মার্ট টর্পেডো সিস্টেম’ মিসাইলটি মূলত ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্যই তৈরি করা হয়েছে। “

3M-54E Kalibr ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করল INS Satpura

INS Satpura

যতদিন এগোচ্ছে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে ভারতের প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’র লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভারতীয় নৌবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাহাজ হল আইএনএস সাতপুরা (INS Satpura) । শনিবার এই জাহাজ একটি ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। এই ক্রুজ মিসাইলের নাম হল ‘3M-54E Kalibr’। এই মিসাইল রাশিয়া থেকে আমদানি করেছে ভারত। এটিও একটি সুপারসনিক মিসাইল।

3M-54E Kalibr সম্পর্কে কিছু তথ্য
এই রাশিয়ান ক্ষেপণাস্ত্রটি বিভিন্ন মডিউলার সিস্টেম নিয়ে গঠিত। দুটি অ্যান্টি-শিপিং টাইপ, একটি স্থল আক্রমণের জন্য এবং দুটি অ্যান্টি-সাবমেরিন ধরণের। ক্ষেপণাস্ত্রটি পৃষ্ঠ এবং সাবমেরিন-উৎক্ষেপিত ভেরিয়েন্টগুলির মধ্যে সাধারণ অংশগুলি ভাগ করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে তবে প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র বিভিন্ন উপাদান নিয়ে গঠিত, উদাহরণস্বরূপ, বুস্টার। এটিতে থ্রাস্ট ভেক্টরিং ক্ষমতা সহ একটি বুস্টার রয়েছে। সাবমেরিন টর্পেডো টিউব থেকে উৎক্ষেপিত ক্ষেপণাস্ত্রটির এই জাতীয় সংযোজনের কোনও প্রয়োজন নেই তবে পরিবর্তে একটি প্রচলিত বুস্টার রয়েছে। এয়ার লঞ্চ করা সংস্করণটি একটি জায়গায় রাখা হয় যা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সাথে সাথে কন্টেইনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যদিও এই মিসাইল নিয়ে আমেরিকা বেশ কয়েকটি দাবি করেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ অনুমান করে যে এর পরিসীমা ১,৪০০ কিলোমিটার (৮৭০ মাইল) এবং রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগু এর পরিসীমা “প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার (৯৩০ মাইল)” বলে দাবি করেছেন।

জেনে নেওয়া যাক আইএনএস সাতপুরা সম্পর্কে
২০১৯ সালে ভারতোয় নৌবাহিনীর অন্যতম ‘সদস্য’ আইএনএস সাতপুরা (INS Satpura) সেরা জাহাজের ট্রফি অর্জন করেছে। ২০১১ সালে ভারতীয় নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয় সাতপুরা। আইএনএস সতপুরাকে মধ্য ভারতের পর্বতের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এটি একটি মাল্টি-রোল স্টেল্থ ফ্রিগেট এবং এই জাহাজের ক্যাপ্টেন হলেন রাহুল শঙ্কর।

ওড়িশার উপকূলে ‘অগ্নি প্রাইম’ পরমাণু মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণ করল ডিআরডিও

Agni Prime' nuclear missile

নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও একধাপ এগিয়ে গেল ভারত। দেশের সামরিক শক্তি আরও বাড়লো। শনিবার অগ্নি সিরিজের আরও উন্নত ও অত্যাধুনিক মানের মিসাইল ‘অগ্নি প্রাইম’-র সফল উৎক্ষেপণ করল ভারত। এর আগে চলতি বছরের ২৮ জুন অগ্নি মিসাইলের আরও একটি সফল পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত।

দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা ডিআরডিও শনিবার অগ্নি প্রাইম মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে। শনিবার ওড়িশার চাঁদিপুর উপকূলে অগ্নি প্রাইম মিসাইল উৎক্ষেপণ করা হয়। এই নতুন মিসাইলটি পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম। একেবারেই নতুন প্রজন্মের এই ক্ষেপণাস্ত্র ‘অগ্নি প্রাইম’। ডিআরডিও জানিয়েছে, ১ থেকে ২ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্য বস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম অগ্নি প্রাইম। নতুন প্রজন্মের হওয়ার কারণে এই ক্ষেপণাস্ত্রটি অত্যন্ত হালকা ধাতু দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ফলে অগ্নি প্রাইমের ওজন অন্য মিসাইলের তুলনায় ৫০ শতাংশ কম।

ওজন কম হওয়ার কারণে রেল, বা সড়ক পথে বিশেষ সামরিক যান থেকে এই মিসাইল নিক্ষেপ করা যাবে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের নৌবহরের বিরুদ্ধে এই মিসাইলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

উৎক্ষেপণ সফল হওয়ায় ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি যে আর বাড়ল তা না বললেও চলে। অগ্নি প্রাইম মিসাইলকে অনেক নতুন প্রযুক্তি ও বৈশিষ্ট্যের মাধ্যমে অত্যাধুনিক করে গড়ে তোলা হয়েছে। যার ফলে এটি নির্ভুল নিশানায় আঘাত হানতে ১০০ শতাংশ সফল হবে বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালেও পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম অগ্নি মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণ করেছিল ডিআরডিও। ওই মিসাইল ৫ হাজার কিলোমিটার দূরত্বেও নির্ভুল আঘাত হানতে সক্ষম। ফলে ইতিমধ্যেই চিন ও পাকিস্তানের অধিকাংশ এলাকাই ঢুকে গিয়েছে অগ্নির নিশানায়। অগ্নি প্রাইমের উৎক্ষেপণ সফল হওয়ায় এদিন ডিআরডিওর বিজ্ঞানী ও গবেষকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

রাজনাথ এদিন বলেছেন, দেশের বিজ্ঞানীরা আরও একবার বিশ্বের দরবারে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করলেন। মোদি সরকার প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে কোনও রকম দুর্বলতা বা অবহেলা দেখাবে না। দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে টাকার কোনও অভাব হবে না। ডিআরডিও বিজ্ঞানীদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি এদিন আরও উন্নত মানের গবেষণার জন্য তাঁদের পরামর্শ দেন রাজনাথ।

DRDO: সুপারসনিক টর্পেডো স্মার্ট মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণ করল ডিআরডিও

DRDO successfully launches supersonic torpedo smart missile

নিউজ ডেস্ক: চিন ও পাকিস্তানের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে সোমবার সুপারসনিক মিসাইল (Supersonic Missile Assisted Torpedo System) ‘অ্যাসিসটেড টর্পেডো স্মার্টে’র সফল উৎক্ষেপণ করল ভারত (India)। জানা গিয়েছে, নেক্সট জেনারেশন (next generation) প্রযুক্তিতে তৈরি এই অত্যাধুনিক স্মার্ট টর্পেডো মিসাইল সিস্টেমটি সোমবার ওড়িশার হুইলার দ্বীপে (Odisha cost) সফল উৎক্ষেপণ করে ডিআরডিও (DRDO)।

এদিন ডিআরডিওর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটি সর্বোচ্চ পাল্লার সফল উৎক্ষেপণ হয়েছে আজ। প্রচলিত মিসাইলগুলির থেকে এই অত্যাধুনিক স্মার্ট টর্পেডো মিসাইলটি অনেক দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে। জলপথে যুদ্ধের জন্য টর্পেডো বহনকারী মিসাইলটি বিশেষ ভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। নেক্সট জেনারেশন স্মাট টর্পেডো সিস্টেম এই মিসাইলটি ডিআরডিও সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে। খুব শীঘ্রই এই মিসাইলটি সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হবে।

এই অত্যাধুনিক মিসাইল হাতে পেলে দেশের নৌসেনার শক্তি যে এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়বে তা না বললেও চলে। সম্প্রতি দক্ষিণ চিন সাগরে চিনের আগ্রাসন ক্রমশই বাড়ছে। এরই মধ্যে চিনের দোসর হয়েছে পাকিস্তান। চিনের আগ্রাসন রুখতে নৌসেনার হাতে এ ধরনের অত্যাধুনিক মিসাইল থাকা যথেষ্টই তাৎপর্যপূর্ণ বলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এদিন এই মিসাইলের সফল উৎক্ষেপণের পর ডিআরডিওর প্রত্যেক বিজ্ঞানীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে পোখরানে পিনাকা রকেট লঞ্চার সিস্টেমেরও সফল উৎক্ষেপণ করেছে ডিআরডিও। চলতি বছরেই অগ্নি-৫ ব্যালিস্টিক মিসাইলেরও সফল পরীক্ষা করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

অগ্নি-৫ প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম। বলা যায় এই মুহূর্তে চিনের অধিকাংশ এলাকাই চলে এসেছে অগ্নির পাল্লার মধ্যে। সর্বোপরি অগ্নি-৫ পারমাণবিক অস্ত্র বহনেও সক্ষম। অগ্নি-৫ সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি করেছে ডিআরডিও।

North Korea: কিমের ছোঁড়া মিসাইলে সকালেই কেঁপে গেল পূর্ব এশিয়া

north Korea fires another missile

নিউজ ডেস্ক: সময় বলছে তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। তার মধ্যেই হাউই বাজির মতো এক ক্ষেপনাস্ত্র ছুঁড়ে দিল উত্তর কোরিয়া (North Korea) সরকার। স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের চোটে পূর্ব এশিয়া জুড়ে হই হই কাণ্ড।

দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের দাবি, শান্তিপূর্ণ আলোচনার যে ক্ষেত্র ফের তৈরি হচ্ছে তাতে বিঘ্ন ঘটাবে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ। উত্তর কোরিয়া সরকীর তাদের পূর্বাঞ্চলীয় উপকূল বরাবর সমুদ্রে সেই ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের সরকার জানিয়েছে, আত্মরক্ষার খাতিরে পিয়ংইংয়ের অস্ত্র পরীক্ষার অধিকার কেউ অস্বীকার করতে পারে না। চলতি মাসের গোড়ার দিকে পিয়ংইয়ং ব্যালিস্টিক এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করে।

বিবিসি জানাচ্ছে,দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন তাঁর দেশের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলকে নির্দেশ দিয়েছেন, সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্রের বিষয়ে রিপোর্ট তৈরি করতে।

সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার শাসক কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং জানান, সময় এসেছে দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ অবস্থানের। তবে এর আগেও দুই দেশ একাধিকবার পদক্ষেপ নেয়। সীমান্তের শূন্য রেখায় কিমের সঙ্গে বৈঠক করেন দক্ষিণ কেরিয়ার প্রেসিডেন্ট। তার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠক করেন কিম।

উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে প্রবল চিন্তিত জাপান। কারণ সবকটি ক্ষেপনাস্ত্রের পাল্লায় রয়েছে এই দেশ। কিমের পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় পড়ে যাওয়ায় চিন্তিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

ভারতীয় বায়ুসেনা পেল MR-SAM সিস্টেম, চোখের পলকে ধ্বংস হবে শত্রুর বিমান

air defence missile (MRSAM) System was handed to Indian Air Force

নিউজ ডেস্ক: চিন এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের বিরোধ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। তার উপর নতুন সমস্যা আফিগানিস্তানে তালিবানি জঙ্গি সরকার৷ ঠিক এই সময়কালে ভারতীয় স্থল-বিমান-নৌবাহিনী তাদের প্রস্তুতি জোরদার করছে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সেনার শক্তিবৃদ্ধির আরও একটি সুসংবাদ সামনে এল৷ ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য মাঝারি পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে তুলে দেওয়া হল৷ এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে রাজস্থানে ভারতীয় বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করা হল৷ এই কর্মসূচিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংও উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসূচিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এমআর-স্যাম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটি জয়সলমিরে বিমান বাহিনীর ২২০৪ স্কোয়াড্রনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আত্মনির্ভরতার দিকে এটি একটি বড় পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক দৃশ্যপট দ্রুত এবং অপ্রত্যাশিতভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে৷ যার ফলে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সমীকরণ পরিবর্তন হচ্ছে। দক্ষিণ চীন সাগর হোক, ভারত মহাসাগর অঞ্চল হোক, ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগর বা মধ্য এশিয়া হোক, সর্বত্রই অনিশ্চয়তা দেখা যায়। সম্প্রতি আফগানিস্তানে যা ঘটেছে তার সর্বশেষ উদাহরণ।

বায়ুসেনার এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাটির পরিসীমা ৭০ কিলোমিটার। এমন পরিস্থিতিতে এই সিস্টেম এই রেঞ্জের মধ্যে আসা সমস্ত বিমান, হেলিকপ্টার এবং মিসাইলকে চোখের নিমিষে ধ্বংস করতে পারবে৷ রাজস্থানের জয়সলমির জেলা পাকিস্তান সীমান্তে৷ যার কারণে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সেখানে খুবই কার্যকর প্রমাণিত হবে। এটি প্রস্তুত করতে ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (আইএআই) এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থার (ডিআরডিও) মধ্যে এক দশক আগে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

একই সময়ে ভারতীয় বিমানবাহিনী রাজস্থানের বারমেরের কাছে এনএইচ -৯২৫ এ-তে সত্তা-গান্ধব বিভাগে জরুরি অবতরণের জন্য রানওয়ে প্রস্তুত করেছে। এটি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গডকরি এবং রাজনাথ সিং যৌথভাবে উদ্বোধন করেন। IAF- এর C-১৩০ জে সুপার হারকিউলিস পরিবহণ বিমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সময় মহাসড়কে অবতরণ করেছিল। যেখানে রাজনাথ সিং, নীতিন গডকরি এবং এয়ার চিফ মার্শাল আরকেএস ভাদৌরিয়া হাজির ছিলেন৷

লালফৌজ না থাকলেও আফগান সীমান্তে তালিবান নিধনে রুশ স্নাইপার ও মিসাইল প্রস্তুত

Russian missile Afghan border

বিশেষ প্রতিবেদন: সোভিয়েত বিলুপ্ত। নেই সেই দুরন্ত লালফৌজ যাদের ভয়ে হিটলার গোপন বাঙ্কারে আত্মহত্যা করেছিল। যাদের আক্রমণে আফগানিস্তানে উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলি গুটিয়ে গেছিল। তবে রাশিয়া আছে। সাবেক সোভিয়েত যুদ্ধনীতির পদ্ধতি রয়েছে। সেটাই আফগানিস্তানের মাটিতে ফের একবার প্রয়োগ করতে চান সোভিয়েত জমানার গুপ্তচর তথা কেজিবি এজেন্ট বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বিবিসি ও রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, সাবেক সোভিয়েত আফগান সীমান্ত যেটি এখন তাজিকিস্তানের অধীনে পড়ে সেখানেই বিপুল পরিমান রুশ সেনা, সাঁজোয়া গাড়ি, ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন শুরু করেছে রাশিয়া সরকার। তাদের সঙ্গে রয়েছে তাজিক সেনা ও আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসা সেনাকর্মীরা।

নব্বই দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন অবলুপ্ত হয়। তখনই তাজিকিস্তান স্বাধীন দেশ হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করে। এর পরেও তাজিকিস্তানে রুশ সেনার সবথেকে বড় সেনা ঘাঁটি রয়েছে। ক্রেমলিন কোনওদিনই আফগান সীমান্তকে অবহেলা করেনি।

Russian missile Afghan border

বিবিসি জানাচ্ছে, আফগানিস্তানের একটার পর একটা প্রদেশ তালিবান দখলে চলে যাচ্ছে। সবকটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা তালিবান দখলে। তাজিকিস্তান সীমান্তের সত্তর শতাংশ জঙ্গি সংগঠনটির কব্জায়। আফগান সেনা, জনগণ বিভিন্ন এলাকায় লড়াই করলেও তালিবান হামলায় তারা টিকতে পারছেনা। রাজধানী শহর কাবুল ঘিরে এগিয়ে আসছে তালিবান।

আশির দশকে আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধের সুযোগে সে দেশে ঢুকেছিল ততকালীন সোভিয়েত লাল ফৌজ। তাদের সঙ্গে আফগান ধর্মীয় সংগঠনগুলির সংঘর্ষ হয়। তবে আফগানিস্তানের নিমন্ত্রণ নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন।নব্বই দশকে সোভিয়েত পতনের পর আফগানিস্তান থেকে সরে যায় লাল ফৌজ। দেশটির দখল নিতে ধর্মীয় গেরিলা সংগঠনগুলি থেকে জন্ম নেয় তালিবান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদতে আফগানিস্তানে তাদের জয় হয়, এটি প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

তালিবান জঙ্গি সরকার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসা, আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধংস, আল কায়েদা সংগঠনের প্রধান লাদেনের আফগানিস্তানে আত্মগোপন সবমিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেনা পাঠায় এ দেশে। সম্প্রতি সেই সেনা সরতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে তালিবান ফের হামলা চালাচ্ছে। প্রায় অরক্ষিত আফগানিস্তানে এবার কি তালিবান নিধনে রুশ সেনা ঢুকবে?

আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, রাশিয়া আরও অপেক্ষা করতে পারে। কারণ কাবুল এখনও জঙ্গি কব্জান যায়নি। যদি তালিবান ফের আফগানিস্তানের সরকার কায়েম করে, তাহলেই ক্রেমলিন থেকে আসবে হামলার সংকেত। আপাতত আফগান সীমান্তে রুশ সেনার মহড়া চলছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভার সীমান্তের ওপারের থেকে দেখছে তালিবান জঙ্গিরা।