ATK Mohun Bagan: ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা সমর্থকদের উদ্দেশ্যে ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্গানের

ভারতীয় ফুটবল দলের ডিফেন্ডার সন্দেশ ঝিঙ্গান আবার ATK মোহনবাগানে (ATK Mohun Bagan) যোগ দিয়েছেন। ২৮ বছর বয়সী ডিফেন্ডার পারস্পরিকভাবে ক্রোয়েশিয়ান শীর্ষ-স্তরের লিগ ক্লাব HNK সিবেনিকের সাথে তার চুক্তি বাতিল করার পরে বৃহস্পতিবার সবুজ মেরুন বিগ্রেডে যোগদানের বিষয়টি ঘোষণা করেছেন।

ATK মোহনবাগান দলে পুনরায় যোগদান প্রসঙ্গে ফুটবলার সন্দেশ ঝিঙ্গান টুইটারে নিজের প্রতিক্রিয়ায় পোস্ট করেন, “ATK মোহনবাগান এফসিতে ফিরে আসতে পেরে আমি খুব খুশি৷ তারা আমার কাছে একটি পরিবারের মতো এবং আমাকে সমর্থন করেছে বিশেষ করে গত কয়েক মাস ধরে যখন আমি এবং আমার পরিবার উভয়ই আমার চোটের কারণে এবং ফিল্ডের ব্যর্থতার কারণে অনেক সংগ্রাম করেছি৷এটা আপনাকে মনে করিয়ে দেয় যে আপনার কাজ যতই কঠিন হোক না কেন,আপনার পরিকল্পনাগুলি যত বড়ই হোক না কেন, আপনি কখনই নিশ্চিত নন যে এটি আপনার পথে যাবে বা না হবে তবে এটি আপনাকে প্রতিদিন প্রচেষ্টা করা এবং আপনার স্বপ্ন থেকে শিক্ষা দিতে বাধা দেবে না।
আমি নিজে এবং নিজের পরিবার নিয়ে গর্বিত আমরা ওই পথে এগোতে পেরেছি।এটারর জন্য অনেক সাহস লাগে এবং এটাকে কখনও শট না দিয়ে চেষ্টা করা সর্বদা ভাল”৷

ঝিঙ্গান ওই টুইট বার্তায় লেখেন,”আমিও ধন্যবাদ দিতে চাই HNK সিবেনিকে দলকে আমায় সুযোগ দেওয়ার জন্য এবং বাকি মরসুমের জন্য আমার সমস্ত সতীর্থদের শুভ কামনা করি”।

টুইটের ওই পোস্টে সদ্য সবুজ মেরুন শিবিরে যোগ দেওয়া ডিফেন্ডার বলেন,”অবশেষে, আমি আমার পরিবারে ফিরে এসেছি এবং বড় একটা মরসুমের জন্য তেতে রয়েছি এবং শুরুটা করতে চাই জয় দিয়ে প্রিয় সমর্থকদের উদ্দ্যেশ্যে।
শুভ নববর্ষ এবং নিজের মনের মানুষের খেয়াল রেখো।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার হায়দরাবাদ এফসি’র বিরুদ্ধে ম্যাচে ATK মোহনবাগান ২-২ গোলে ড্র করেছে। ATK মোহনবাগান হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে ড্র করাতে সবুজ মেরুন শিবিরের টাইটেলশিপের প্লে অফে যাওয়ার রাস্তায় বাধা পড়েছে। জানুয়ারি ৮ তারিখ হুয়ান ফেরান্দোর ছেলেদের ওডিশা এফসির বিরুদ্ধে খেলতে হবে এবং জিততেই হবে।

আর এমন টাইটেলশিপ সিচুয়েশন হল ATK মোহনবাগানের কাছে ম্যাচের শেষ মুহুর্তে গোল হজম করায়। শেষ মুহুর্তে গোল না খেলে সবুজ মেরুন বিগ্রেড শুধু পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যেত তাইই নয়, প্লে অফের টিকিটও পকেটে পুড়ে ফেলতো। কিন্তু হল উলটপূরাণ। শেষ মুহুর্তে হুয়ান ফেরান্দোর ছেলেরা হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করে নিজেদের কাজটা নিজেরাই কঠিন করে তুললো।

ATKMB: হায়দরাবাদ এফসি’র বিরুদ্ধে ড্র করলো হুয়ান ফেরান্দোর ছেলেরা

ফিজিয়ান ‘গোল্ডেন বয়’ রয় কৃষ্ণকে প্রথম একাদশের বাইরে রেখে টিম নামায় হেডকোচ হুয়ান ফেরান্দো। সোজা কথায় ‘চমক’ বলা যেতে পারে।কিন্তু এটা নিজস্ব ফুটবল বোধ, ‘ডু অর ডাই’ টাইটেলশিপ সিচুয়েশনে বুধবার হায়দরাবাদ এফসি’র বিরুদ্ধে ম্যাচে ATK মোহনবাগানের স্প্যানিয়ার্ড হেডকোচের এটা আসলে ট্যাকটিক্যাল মুভ।

প্রথমার্ধে মোট দুই গোল। ATK মোহনবাগান ম্যাচের এক মিনিটের মধ্যে ডেভিড উইলিয়ামসের করা দুর্দান্ত
গোল করে অভিযান শুরু করে, ১-০ গোলের লিড সবুজ মেরুন শিবিরের। হায়দরাবাদ এফসি যদিও তখন ভালো খেলতে শুরু করে এবং ১৮ মিনিটে বার্থোলোমিউ ওগবেচে গোলকিপার অমরিন্দর সিং’র ভুলে সমতাসূচক গোলটি খুঁজে পায়, খেলা ১-১ গোলের সমতায় ফিরে আসে। হায়দরাবাদ তখন আরও একটি গোল করার সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি।

ATKMB’র নিজস্ব কয়েকটা আক্রমণ ছিল, কিন্তু খুব একটা পরিষ্কার আক্রমণ ছিল না। প্রথমার্ধে ১-১ গোলের সমতা ধরে রেখে ড্রেসিংরুমে ফিরে আসে দুই দল।

ম্যাচের প্রথমার্ধে ফতোদরা স্টেডিয়ামে দুই দলের খেলোয়াড় চোট পেলে খেলায় সাময়িক চ্ছেদ ঘটে। হায়দরাবাদের বার্থোলোমিউ ওগবেচে চোট পেয়ে মাঠে ফিরে আসে। আবার ATKMB’র কার্ল ম্যাকহুগের চোট অস্বস্তি বাড়িয়ে দেয় হুয়ান ফেরান্দোকে। প্রথমার্ধে চোটের জন্য মাঠ ছাড়তে হয় ম্যাকহুগেকে। পরিবর্তে মাঠে নামে জনি কাউকো।

ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে উইলি মাঠে ফিরে আসে, এই নামেই সবুজ মেরুন ফুটবলারদের সঙ্গে ডেভিড উইলিয়ামসের টিম কম্বিনেশন গড়ে উঠেছে।

৬৪ মিনিটে ATK মোহনবাগানের জনি কাউকো সামনে থাকা হায়দরাবাদের এক ডিফেন্ডারকে টপকে বক্সের ভিতরে একটি লুজ বলের হেডারে বল জালে জড়াতেই ২-১ গোলে এগিয়ে যায় হুয়ান ফেরান্দোর বিগ্রেড।

ম্যাচের ৭২ মিনিটে উইলির পরিবর্তে মাঠে নামে রয় কৃষ্ণ এবং ৮৯ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর বদলে মাঠে আসে শুভাশিস বোস।

৮৯ মিনিট পর্যন্ত ২-১ গোলের লিড নেওয়া ATK মোহনবাগান পরের মিনিটেই গোল খেয়ে বসে।

আশিস মিশ্র একটা সুন্দর লুপি ক্রস বল বক্সের ভিতরে বাড়িয়ে দেয়। ATKMB ডিফেন্ডারদের হারিয়ে হ্যাভিয়ের সিভেরিও হেডারে ইকুইলাইজার আনতে বল সবুজ মেরুন বিগ্রেডের জালে জড়িয়ে দেয়। ম্যাচের অন্তিমলগ্নে এসে দুরন্তভাবে হায়দরাবাদ এফসি ২-২ গোলের সমতায় ফিরে আসে, ATK মোহনবাগানের বিরুদ্ধে।

বুধবার এই ম্যাচ ড্র হওয়াতে হায়দরাবাদ এফসি আইএসএলের লিগ টেবিলে ৯ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে (১১) শীর্ষ স্থানে উঠে আসলো। আর ATK মোহনবাগান লিগ টেবিলে চার থেকে তিনে উঠে আসলো ৯ ম্যাচে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে গোল পার্থক্যে (২)।

আসলে মুম্বই সিটি এফসি বনাম ওডিশা এফসি ম্যাচের ফলাফল আইএসএলের লিগ টেবিলের সাপ লুডোর খেলাকে জমিয়ে দিয়েছে। ওই ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল হয় ওডিশা এফসি ৪-২ মুম্বই সিটি এফসি।

বুধবার, ATK মোহনবাগান ২-২ গোলে হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে ড্র করাতে সবুজ মেরুন শিবিরের টাইটেলশিপের প্লে অফে যাওয়ার রাস্তায় বাধা পড়লো। জানুয়ারি ৮ তারিখ হুয়ান ফেরান্দোর ছেলেদের ওডিশা এফসির বিরুদ্ধে খেলতে হবে এবং জিততেই হবে। আর এমন টাইটেলশিপ সিচুয়েশন হল ATK মোহনবাগানের কাছে ম্যাচের শেষ মুহুর্তে গোল হজম করায়। শেষ মুহুর্তে গোল না খেলে সবুজ মেরুন বিগ্রেড শুধু পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে যেত তাইই নয়, প্লে অফের টিকিটও পকেটে পুড়ে ফেলতো। কিন্তু হল উলটপূরাণ। শেষ মুহুর্তে হুয়ান ফেরান্দোর ছেলেরা হায়দরাবাদ এফসির বিরুদ্ধে ২-২ গোলে ড্র করে নিজেদের কাজটা নিজেরাই কঠিন করে তুললো।

Only Mohun Bagan: সবুজ-মেরুন সমর্থকদের দাবি পূরণ হতে চলেছে

Mohun Bagan

#remove ATK এই দাবিতে সোচ্চার হয়েছিল সবুজ মেরুন সমর্থকরা। এটি ছিল প্রথম দাবি। মোহনবাগান (Mohun Bagan) সমর্থকদের প্রথম দাবি শেষ পর্যন্ত পূরণ হতে চলেছে। অসমর্থিত সূত্রের খবর, মোহনবাগানের নাম থেকে ATK’র নাম বাদ দেওয়া হবে। আগামী বছর থেকে আরপিএসজি (RPSG) মোহনবাগান নামে আইএসএলে খেলতে দেখা যাবে মেরিনার্সদের। প্রথম দাবি #remove ATK আন্দোলন সফলতার মুখ দেখার পথে। কিন্তু দ্বিতীয় #Break the merger দাবি ঝুলেই রয়েছে।

প্রসঙ্গত, সঞ্জীব গোয়েঙ্কার RPSG Sports Private Limited’র সঙ্গে গাঁটছড়া বেধে ATK এবং মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের সংযুক্তিকরন (MERGER) হয়। সবুজ মেরুন সমর্থকদের দাবি ছিল, মোহনবাগান ক্লাবের নামের আগে কোনও শব্দ থাকবে না। তাই#Break the merger দাবিতে পথে নেমে সোচ্চার হয়ে উঠেছে সবুজ মেরুন সমর্থকরা। অসমর্থিত সূত্রে দাবি,
আসন্ন মরশুম থেকে দল RPSG মোহনবাগান নামে মাঠে নামবে।

সোশাল মিডিয়ায় রয় কৃষ্ণ’র বার্তা সবুজ-মেরুন সমর্থকদের উদ্দেশ্যে

roy krishna

Sports desk: চলতি আইএসএলের (ISL) ১১ তম রাউন্ডে আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের হঠাৎ ইস্তফা, নতুন কোচ হুয়ান ফেরান্দোর কোচিং’এ গত মঙ্গলবার ATK মোহনবাগান ৩-২ গোলে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে জয় পেয়েছে, নিজেদের সপ্তম ম্যাচে। কিন্তু সবুজ মেরুন গোলমেশিন ফিজিয়ান স্ট্রাইকার রয় কৃষ্ণ অফ ফর্মে। যা নিয়ে মন খারাপ ‘কৃষ্ণ’ ভক্তদের।

শনিবার, ‘X Mas’ উপলক্ষ্যে সকল সবুজ মেরুন সমর্থকদের উদ্দ্যেশ্যে ফিজিয়ান ‘গোল্ডেন বয়’ সস্ত্রীক রয় কৃষ্ণ নিজের নবজাত সন্তানকে কোলে নিয়ে ছবি ইনস্ট্রাগ্রাম সোশাল মিডিয়াতে পোস্ট করেছে। ওই পোস্টে রয় কৃষ্ণ লিখেছে,””আমার পরিবারের তরফ থেকে সমর্থকদের জানাই মেরি ক্রিসমাস! উৎসবের মুহুর্তে আপনাদের জীবন ভালবাসা আর উল্লাসে ভরে উঠুক,সুখ এবং শান্তিময় হোক”।

প্রসঙ্গত, নিজের পড়তি ফর্ম নিয়ে রয় কৃষ্ণ নিজেও বিব্রত। ATK মোহনবাগানের প্রাক্তন হেডকোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস এই অফ ফর্ম নিয়ে বলেছিলেন, ‘স্ট্রাইকারদের এইরকম সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়,তবে রয় কৃষ্ণ ফর্মে ফিরবে’। যদিও হাবাস যুগের মধুচন্দ্রিমা এখন অতীত, হাবাসের স্বদেশীয় স্প্যানিশ হেডকোচ হুয়ান ফেরান্দো এখন নতুন হেডস্যার রয় কৃষ্ণদের।

নর্থ-ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে গত ম্যাচে জয় পেলেও, প্লে অফে খেলা নিয়ে এখনও ATK মোহনবাগান নিশ্চিত নয়। কারণ চলতি আইএসএলের লিগ টেবিলে চোখ রাখলে দেখা যাবে সাপ লুডো খেলার মত লিগ টেবিলে দলগুলোরও পজিশন ওঠানামা করছে।

তাই টুর্নামেন্টের প্লে অফের টিকিট নিশ্চিত করতে ATK মোহনবাগানকে পরের খেলা ২৯ ডিসেম্বর, এফসি গোয়ার বিরুদ্ধে জিততেই হবে, টুর্নামেন্টে ‘ডু অর ডাই’ সিচুয়েশনে হুয়ান ফেরান্দোর ছেলেরা। এরপর জানুয়ারি ৫ হায়দরাবাদ এফসি এবং ১১ তম রাউন্ডে সবুজ মেরুন দলের শেষ ম্যাচ ৮ জানুয়ারি ওডিশা এফসির বিরুদ্ধে। তিন ম্যাচ জিততেই হবে চলতি আইএসেলের প্লে অফের যোগ্যতা অর্জনের জন্য।

ISL: “বাগানে” কুঁড়ি এলেও ফুল ফুটল না

Mohun Bagan Bangalore match report in ISL

Sports desk: বৃ্হস্পতিবার এটিকে মোহনবাগান চলতি আইএসএলের (ISL) ৬ নম্বর খেলায় জেতা ম্যাচ ড্র করলো বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে, ৩-৩ গোলে।

নিজের ৫০ তম আইএসএল ম্যাচে অফ ফর্ম থেকে ছন্দে ফিরে এসে পেনাল্টি থেকে গোল ফিজিয়ান স্ট্রাইকার রয় কৃষ্ণ’র। সবুজ মেরুন সমর্থকরা “জয় শ্রী কৃষ্ণা🙏🙏🙏☝️💪” ধ্বনিতে আবেগের বাঁধনছাড়া উচ্ছ্বাসে গা ভাসিয়ে দিলেও রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই মুখ পানসে হয়ে গেল প্রিয় দলের হার দেখে মেরিনার্সদের। আসলে ৭২ মিনিটে এটিকে মোহনবাগানের ফুলের বাগানের ফুল মাঠে মাড়িয়ে দিয়ে গোল বেঙ্গালুরু এফসির কঙ্গোনিজ ফুটবলার প্রিন্স ইবারার। ১৩ মিনিটে শুভাশিস বোস,৩৮ মিনিটে হুগো বৌমাস এবং ৫৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে রয় কৃষ্ণ’র গোল “বাগানে” ফুল ফুটিয়ে তুলেছিল, কিন্তু ডিফেন্সিভ ল্যাপস ৭২ মিনিটে ইবারার গোল “বাগানে” ফুল ফুটেও! ফুটলো না।

হতাশ সবুজ মেরুন সমর্থকরা বুঝে গিয়েছে চলতি আইএসএল মরসুম তাদের জন্য না। এদিন প্রিয় দলের ডিফেন্সিভ ল্যাপস দেখে সমর্থকরা কপাল চাপড়াচ্ছে আর মেনে নিয়েছে “ভাগ্য এবার প্রচুর খারাপ আছে”।

বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে ছিলেন না সুসাইরাজ,লেনি রদ্রিগেজ, ডেভিড উইলিয়ামস, যা নিয়ে এটিকে মোহনবাগান হেডস্যার আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের ফুটবল বোধ নিয়ে সবুজ মেরুন সমর্থকরা অসন্তুষ্ট। মিডিও নিনগোম্বা সিং’কে প্রথম একাদশ কেন,রির্জাভ বেঞ্চেও বসতে দেওয়ার জায়গা দেয় নি হাবাস। চলতি আইএসএলে জামশেদপুর এফসি’র বিরুদ্ধে ম্যাচ থেকেই দলের টিম নির্বাচন নিয়ে হাবাস নিজেই বিভ্রান্তির শিকার,এমনটাই মত সমর্থকদের একাংশের।

আইএসএলে শেষ জয়ের মুখ দেখেছিল এটিকে মোহনবাগান চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এসসি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে, ম্যাচের ২৩ মিনিটেই হাইভোল্টেজ ডার্বি ম্যাচের রঙ সবুজ মেরুন, ৩-০ গোলে জিতে। টানা তিন ডার্বি ম্যাচে জয়ের ধারাবাহিতা ধরে রেখে। নিজেদের প্রথম এনকাউন্টারে কেরালা ব্লাসার্সের বিরুদ্ধেও দাপুটে জয়,৪-২ গোলের। ব্যস ওই পর্যন্তই।

এরপর মুম্বই সিটি এফসি’র কাছে মুখ থুবড়ে পড়ে ৫-১ গোল হজম সবুজ-মেরুন শিবিরের, হাইভোল্টেজ ডার্বি ম্যাচ জয়ের আফটার এফেক্ট। জামশেদপুর এফসি ২-১ গোলে হারিয়ে দেয় আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের টিমকে।এই হার আইএসএলের লিগ টেবিলে সবুজ মেরুন শিবিরের কাছে বড় ধাক্কা, লিগ টেবিলে ৪ নম্বর পজিশন হারায়। নিজেদের পঞ্চম ম্যাচে দু’বারের আইএসএল চ্যাম্পিয়ন চেন্নাইন এফসি-র বিরুদ্ধে ১-১ ড্র করে এটিকে মোহনবাগান।

৬ ম্যাচে প্রথম দুই ম্যাচে জয় চলতি আইএসএলে এটিকে মোহনবাগানের, দুই ড্র ম্যাচ, হারের মুখ ২ ম্যাচে,লিগ টেবিলে ছ’নম্বরে। হতাশ সবুজ মেরুন সমর্থকরা।

চলতি আইএসএলের ১১ তম রাউন্ডে এটিকে মোহনবাগানের হাতে পড়ে রয়েছে চার ম্যাচ। এই চার ম্যাচ ২১ ডিসেম্বর নর্থইস্ট ইউনাইটেড, ২৯ ডিসেম্বর এফসি গোয়া, হায়দরাবাদ এফসি ৫ জানুয়ারি, ৮ জানুয়ারি ওডিশা এফসি।এই চার ম্যাচ থেকে জয় পেলেই এটিকে মোহনবাগান আবার আইএসএলের লিগ টেবিলের চার নম্বরে উঠে আসবে।আর এই উঠে আসার বেনিফিট তোলার দরজা খুলতে পারলে চলতি আইএসএলের ফাইনালে যাওয়ার একটা সুক্ষ রেখাপথ তৈরি হতে পারে।

কেননা আন্তোনিও লোপেজ হাবাস ইতিমধ্যেই বেঙ্গালুরু এফসি ম্যাচের আগের দিন নিজের দলের পড়তি গ্রাফরেখা প্রসঙ্গে ২০১৯ আইএসেএলে চেন্নাইন এফসি’র পিছিয়ে থেকে ফাইনালে গিয়ে সেকেন্ড পজিশন উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছিলেন। তাই ATKMB হেডকোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসকে নিয়ে সবুজ মেরুন সমর্থকদের অন্য অংশ এখনও আশাবাদী প্রিয় দল জয় পাবে এবং লিগ টেবিলে ৪ নম্বরে উঠে পাল্টা লড়াই ছুঁড়ে দেবে টুর্নামেন্টে অন্য টিমগুলোকে।

Mohun Bagan Academy: দুর্গাপুরে মোহনবাগান আকাদেমি বন্ধ হয়ে গেল

Joe Paul Ancheri

Sports desk: দুর্গাপুরে মোহনবাগান আকাদেমি (Mohun Bagan Academy) বন্ধ হয়ে গেল। আর এই খবরে সবুজ মেরুন সমর্থকরা যতটা “হতাশ”, এর থেকে আরও বেশি “স্তম্ভিত” আকাদেমির দায়িত্বতে থাকা প্রাক্তন জাতীয় তথা মোহনবাগানের হয়ে খেলা ফুটবলার জো পল আনচেরি।

Kolkata24X7.in -কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে দুর্গাপুরে মোহনবাগান আকাদেমি বন্ধের খবর শুনে “স্তম্ভিত” হয়ে পড়েন প্রাক্তন ফুটবলার জো পল আনচেরি। নিজের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়াতে আনচেরি বলেছেন,”অনূর্ধ্ব -১৭ এবং ১৮ দায়িত্ব দিয়েছিলেন স্বপন সাধন বসু(টুটু বসু),সৃঞ্জয় বসু(টুম্পাই দা) এবং অঞ্জন মিত্র একযোগে সিদ্ধান্ত নিয়ে।আমি চার বছর কাজ করেছি দুর্গাপুরে মোহনবাগান আকাদেমিতে”। সঙ্গে তিনি এও বলেন,”আকাদেমি বন্ধের কারণ আমার জানা নেই, কোভিড-১৯ এবং নতুন করে ‘ওমিক্রন’ ভাইরাসের বাড়বাড়ন্তের জেরে কেরালাতে পরিবারের সঙ্গে দিন কাটছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও ফুটবলের সঙ্গে যোগাযোগ নেই।তবে অতিমারির পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই আবার ফুটবলের চেনা জগৎ’এ -সবুজ গালিচায় পা রাখবো”।

দুর্গাপুরে মোহনবাগান আকাদেমি গড়ার মূল লক্ষ্য ছিল, দলের সাপ্লাই লাইনের শক্তি বাড়িয়ে তোলা। আকাদেমির এই মূল টার্গেট সফল হয়ে উঠেছিল। মোহনবাগানের দুর্গাপুরে ফুটবল আকাদেমির সাফল্য নিয়ে বলতে গিয়ে জো পল আনচেরি বলেন,”শুভ ঘোষ, প্রণয় হালদার সহ অনেক ফুটবলার উঠে এসেছে এবং এখনও তারা ভারতের বিভিন্ন ফুটবল ক্লাবে খেলে চলেছে”।

২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে মোহনবাগানের দুর্গাপুর আকাদেমির সঙ্গে জড়িত ছিলেন আনচেরি। এরপর সাময়িক বিরতি আকাদেমি থেকে, ফের জো পল আনচেরির মোহনবাগানের দুর্গাপুর আকাদেমির দায়িত্ব নেওয়া, ২০১৫ সাল পর্যন্ত।

স্টিল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (SAIL) এবং মোহনবাগানের ক্লাবের যৌথ উদ্যোগে দুর্গাপুরে এই আকাদেমি গড়ে ওঠে।২০০২ সালের ২০ জুলাই আবাসিক শিবির হিসেবে দুর্গাপুরে মোহনবাগান আকাদেমির পথ চলা শুরু। ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে,আরও বেশি করে দেশের প্রতিভাবান ফুটবলারদের তুলে আনার লক্ষ্য নিয়েই এই আকাদেমির পথ চলা শুরু।

দুর্গাপুরে মোহনবাগান ফুটবল আকাদেমির সাফল্য তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলার তুলে আনা, এরাই আকাদেমির “ফসল”। এই নিয়ে আকাদেমির দায়িত্বতে থাকা প্রাক্তন ফুটবলার জো পল আনচেরির প্রতিক্রিয়া, “গত কয়েক বছরে মোহনবাগান সেল ফুটবল একাডেমি মনীশ ভার্গব (মোহনবাগান এসি), রাম মালিক (মোহনবাগান এসি), দীপেন্দু দোওয়ারি (ভবানীপুর স্পোর্টিং ক্লাব), সৌভিক চক্রবর্তী (মোহনবাগান এসি, ইউনাইটেড স্পোর্টস ক্লাব, দিল্লি ডায়নামোস,) এর মতো খেলোয়াড় তৈরি করেছে। জামশেদপুর এফসি), শঙ্কর ওরাওঁ (মোহনবাগান এসি), সাফার সরদার (ইস্ট বেঙ্গল), ভাশুম (ইস্ট বেঙ্গল, টিআরএইউ এফসি), প্রণয় হালদার (ডেম্পো এসসি, মোহনবাগান এসি, ইন্ডিয়া জাতীয় দল), তীর্থঙ্কর সরকার (মোহনবাগান এসি) , সঞ্জয় বোরো (আসাম ইলেকট্রিসিটি বোর্ড), অর্ঘা চক্রবর্তী (মোহনবাগান এসি), সৌরভ চক্রবর্তী (ভবানীপুর এসসি), টি. লালনুন পুইয়া (রাংদাজিয়াদ এফসি), অমিত সাহা (রাংদাজিয়াদ এফসি), আদর্শ লামা তামাং (মোহনবাগান এসি), সুদীপ্তা ব্যানার্জী (ভবানীপুর স্পোর্টিং ক্লাব) এবং আরও অনেকে যারা এখন ভারতীয় ফুটবলে আধিপত্য বিস্তার করছেন”।

মোহনবাগান সেল ফুটবল একাডেমি তার ক্যাডেটদের জন্য গর্বিত এই কারণে যে আকাদেমি থেকে উঠে আসা তরুণ ফুটবলারেরা ভারতীয় ফুটবলের এখন “ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার”।

বর্ণবিদ্বেষের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে প্রথম ডার্বি ম্যাচ জয়ের “সোনালি কুড়ির দশক” মোহনবাগানের

Mohun Bagan against East Bengal

Sports desk: ব্রিটিশ শাসিত ভারতে মোহনবাগান ক্লাব ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সেনাদল ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জিতেছিল,এই রেকর্ড সকলেরই জানা। কিন্তু পালতোলা নৌকোর বিজয় রথ কিন্তু এরপরেও থেমে থাকে নি, পালেতে হাওয়া লেগে তরতর করে বয়ে গিয়েছে,যা এখনও অব্যাহত।

সেরকমই ১৯২০ দশক মোহনবাগান ক্লাবের গৌরবময় ইতিহাসের আর এক মাইলস্টোন। কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতায় কলকাতা এফসি ১৯২০ সালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এই ফুটবল দল আইএফএ শিল্ড টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালেও উঠেছিল, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কুমারটুলি ক্লাবের কাছে ১-২গোলে হেরে গিয়েছিল।

সালটা ১৯২১ ব্রিটিশ ভারতে মুক্তির দাবিতে ধোঁয়া উঠেছে। উত্তাল এই সময়ে মোহনবাগান ক্লাব ডালহৌসি ক্লাব থেকে মাত্র দুই পয়েন্ট পিছিয়ে কলকাতা লিগে রানার্স আপ হয়। এরপরেই চলে আসে মাহেন্দ্রক্ষণ, যখন কলকাতার দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগান এবং ইস্টবেঙ্গলের মধ্যে প্রথম ডার্বি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল, ১৯২১’র ৮ আগস্ট কোচবিহার কাপের সেমিফাইনালে। ওই ম্যাচ গোলশূন্যতে ড্র হয়। ১০ আগস্ট রিপ্লে ম্যাচে মোহনবাগান ইস্টবেঙ্গলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ভারতীয় ফুটবলে এক নতুন অধ্যায় অভিযানের সূচনা করে।

১৯২২ সালে মোহনবাগান দক্ষিণ আফ্রিকার ভারতীয় ফুটবলারদের একটি দলকে কয়েকটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে আমন্ত্রণ জানায়। আমন্ত্রণী ওই প্রীতি ম্যাচের একটি জিতেছিল এবং অন্যটি হেরেছিল সবুজ মেরুন শিবির। ওই বছর ইস্টবেঙ্গলকে ২-০ গোলে হারিয়ে কোচবিহার কাপ চ্যাম্পিয়ন মোহনবাগান ক্লাব।

১৯২৩ সালে, মোহনবাগান আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে পৌঁছেছিল, কিন্তু বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া কাদা মাঠে কলকাতা ফুটবল ক্লাবের কাছে ০-৩ গোলের হারের জন্য মোহনবাগান ক্লাব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হাতাছাড়া করে বসে। ওই বছরেই অর্থাৎ ১৯২৩ সালে মোহনবাগান রোভার্স কাপে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছিল। রোভার্সে মোহনবাগান দুরন্ত ফুটবল খেলে ফাইনালে ওঠে। অথচ দুর্ভাগ্যবশত রোভার্স কাপের ফাইনালে ডারহামের লাইট ইনফ্যান্ট্রির কাছে ৪-১ গোলে হেরে গিয়েছিল, কিন্তু এই টুর্নামেন্টে মোহনবাগান ক্লাবের পারফরম্যান্স ব্যাপক সমর্থন আর প্রশংসার ঝুলিতে ভরে উঠেছিল।

১৯২৪ সাল মোহনবাগান ক্লাবের ইতিহাসে প্রশাসনিক স্তরে এক বড় দুঃসময় নেমে আসে। ক্লাব তার একজন বড় শুভাকাঙ্ক্ষী প্রথম ক্লাব সভাপতি ভূপেন্দ্র নাথ বসুকে হারায়। প্রথম ক্লাব সভাপতির প্রয়াণের পর স্যার রাজেন্দ্র নাথ মুখোপাধ্যায় মোহনবাগান ক্লাবের নতুন সভাপতি হন। দ্বিজেন্দ্র নাথ বসু এবং ডিএন গুইনকে ক্লাবের অনারারি জয়েন্ট সেক্রেটারি নির্বাচিত করা হয়।

১৯২৫ ডুরান্ড কাপে খেলার জন্য প্রথম ভারতীয় ফুটবল ক্লাব দল হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়ে মোহনবাগান ক্লাব আরও একটি ইতিহাস তৈরি করেছিল। ব্রিটিশ শাসিত ভারতে, শুধুমাত্র ব্রিটিশ সামরিক দলগুলোরই ডুরান্ড কাপে অংশগ্রহণের একমাত্র অধিকার ছিল। মোহনবাগান ক্লাব প্রথম রাউন্ডে রয়্যাল বার্কশায়ার রেজিমেন্টকে, দ্বিতীয় রাউন্ডে ইয়র্ক ল্যাঙ্কাস্টার রেজিমেন্টকে এবং তৃতীয় রাউন্ডে এসেক্স রেজিমেন্টকে পরাজিত করে সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল। ডুরান্ডের সেমি-ফাইনালে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইতে

সেরউড ফরেস্টের কাছে হেরে যায়, মোহনবাগান। ওই বছরেই ক্লাব কলকাতা লিগে কলকাতা এফসি থেকে মাত্র এক পয়েন্ট পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে। দ্বিজেন্দ্র নাথ বোস ক্লাবের সাম্মানিক সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন ১৯২৫’এ।

১৯২৬ সালে আইএফএ শিল্ডের তৃতীয় রাউন্ডে পৌঁছেছিল মোহনবাগান ক্লাব। কিন্তু শিল্ডে ফের শক্ত গাট সেরউড ফরেস্টের কাছে হেরে যায় এবং ডারহামের লাইট ইনফ্যান্ট্রির কাছে ডুরান্ড কাপও হেরে যায়।

শুধুমাত্র ক্রীড়াক্ষেত্রেই নয়, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় বিপর্যয় সময়েও মোহনবাগান ক্লাব প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতাকে এড়িয়ে যায় নি, উল্টে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল দুর্গত মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়ে প্রতিকূল রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থার সঙ্গে ঝুঁঝে।

১৯২৭ সালে গুজরাত এক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিল এবং গুজরাটের জনগণকে সহায়তা করার জন্য একটি বন্যা ত্রাণ তহবিল তৈরি করেছিল ওই সময়ে মোহনবাগান ক্লাব পরাধীন ভারতে। এই বিপর্যয়ে তহবিল সংগ্রহের জন্য মোহনবাগান ক্লাব তৎকালীন বোম্বেতে বর্তমানে মুম্বই’তে কয়েকটি প্রদর্শনী ম্যাচ খেলে। ওই বছরে ক্লাব হাজারীবাগের গভর্নর কাপ জিতেছিল। কিন্তু সিমলায় আয়োজিত হওয়া ডুরান্ড কাপে

সামাদ, বলাইদাস চ্যাটার্জির মতো কিছু দুর্দান্ত খেলোয়াড়ের উপস্থিতিতেও আশানুরূপ পারফরম্যান্সের ছাপ ফেলতে পারেনি গঙ্গা পাড়ের ক্লাব। ওই বছর, মোহনবাগান আইএফএ শিল্ড টুর্নামেন্টে উইল্টশায়ার রেজিমেন্টের কাছে ২-১ গোলে হেরে গিয়েছিল।

১৯২৮ সালে, মোহনবাগান প্রথমবারের মতো পাওয়ার লীগ, চতুর্থবার কোচবিহার কাপ এবং তৃতীয়বারের মতো লক্ষ্মীবিলাস কাপ জিতেছিল। সবুজ মেরুন শিবির কলকাতা ফুটবল লিগে তৃতীয় স্থান অধিকার করে। লিগের প্রথম দিকে সবকটি ম্যাচ জিতে শুধুমাত্র ডালহৌসি এসি’র কাছে হেরে যায়, ১৯২৮ লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ডালহৌসি এসি। ওই একই বছরে আইএফএ শিল্ডেও ডালহৌসি এসি’র বাধা টপকাতে পারেনি মোহনবাগান।শিল্ডেও একই ক্লাবের কাছে হেরে গিয়েছিল মোহনবাগান ক্লাব।

ব্রিটিশ ভারতে, ১৯২৯ সালে ডালহৌসি ক্লাব এবং মোহনবাগান ক্লাবের মধ্যে কলকাতা লীগের ম্যাচে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, বর্ণ বিদ্বেষের বিরুদ্ধে প্রায় সমস্ত ভারতীয় ক্লাব দল আইএফএ এবং কলকাতা লীগ থেকে নাম প্রত্যাহার করে নেয়৷

কিন্তু ওই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি থেকে তৈরি হওয়া বিবাদের জল বেশি দূর গড়ায়নি। একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সমঝোতার মধ্যে দিয়ে সমস্ত ক্লাব দল সম্মতিতে হ্যাপি এন্ডেডিং ঘটেছিল ঘুমোট আবহাওয়ার। ভারতীয় ক্লাব দলগুলো আইএফএ কাউন্সিলে ইউরোপীয় ক্লাবগুলির সাথে সমান প্রতিনিধিত্ব অর্জন করেছিল। কেননা ব্রিটিশ ভারতে আইএফএ’র গর্ভনিং বডির সদস্যদের সংখ্যাগোরিষ্ঠতা ছিল গোরাদের (ব্রিটিশদের)।

ভারতীয় ক্লাবগুলি তাদের নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নিয়ে পরবর্তী আইএফএ শিল্ড এবং কলকাতা লীগে অংশগ্রহণ করে।

লীগ প্রতিযোগিতায় মোহনবাগান দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে, ডালহৌসি এসি চ্যাম্পিয়ন হয়। মোহনবাগান ক্লাব আইএফএ শিল্ডের চতুর্থ রাউন্ডে ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী দল রয়্যাল আইরিশ ফুসিলিয়ার্সের কাছে হেরে গিয়েছিল। মোহনবাগান ডুরান্ড কাপে অংশ নিলেও স্যান্ডেমানিয়ানদের কাছে হেরে যায়।

ATK Mohun Bagan: সবুজ মেরুন সমর্থকদের “রাগ” দলের ডিফেন্ডারদের “বোকামি” দেখে

ATK Mohun Bagan

Sports desk: চলতি আইএসএলে পঞ্চম ম্যাচে সবুজ মেরুন সমর্থকরা প্রিয় দলের ড্র দেখে টিমের ডিফেন্স লাইন নিয়ে “রাগে”ফেটে পড়েছে। ম্যাচের ফলাফল ATK মোহনবাগান (ATK Mohun Bagan) ১-১ চেন্নাইন এফসি।

সবুজ মেরুন সমর্থকদের সাফ কথা হেডকোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের ডিফেন্স লাইন AFC পর্বের ম্যাচেও নাফাসের বিরুদ্ধে জঘন্য ডিফেন্স প্রদর্শন করেছিল।এবার চলতি আইএসএলের পঞ্চম ম্যাচে চেন্নাইন এফসির সঙ্গে ড্র করতেই প্রিয় দলের পুরনো রোগ ডিফেন্স নিয়ে রাগ ঝড়ে পড়ছে সমর্থকদের মধ্যে।

সবুজ মেরুন সমর্থকদের পরিষ্কার বক্তব্য ATKMB’র ডিফেন্স লাইন নিয়ে,”তিরি এই ম্যাচে ছিল তাই রক্ষে, না হলে গোলের ব্যবধানে আমাদের বিপক্ষে বেড়ে যেতেই পারতো।”

সবুজ মেরুন সমর্থকদের রাগের বহিঃপ্রকাশের প্রতিক্রিয়ায়,” হুগো বৌমাস,মনভীর সিং,জনি কাউকো এদের মধ্যে খেলার এনার্জি ছিল না,এদের পা থেকে বল নিয়ে চলে যাচ্ছে, এরাই কিছুই করতে পারছে না,ভুল পাসিং শুধু করে যাচ্ছে।” চলতি আইএসএলে এটিকে মোহনবাগানের ছয় নম্বর ম্যাচ ১৬ ডিসেম্বর বেঙ্গালুরু এফসি’র বিরুদ্ধে।

এদিন দলের ডিফেন্সের সঙ্গে মাঝমাঠ নিয়েও হাবাসের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়তে বাধ্য।কেননা সেকেন্ড হাফে চেন্নাইন দলের অধিনায়ক অনিরুদ্ধ থাপাকে নিয়ে হিমশিম খেতে দেখা গিয়েছে ATKMB’কে, ম্যাচে অনেক বেশি আগ্রাসী ফুটবল থাপার গেমপ্ল্যানে ধরা পড়েছে।

ম্যাচের ২৯ মিনিটে CFC অধিনায়ক অনিরুদ্ধ থাপার দুরন্ত বাঁ পায়ের স্ট্রাইক শট অল্প কয়েক ইঞ্চির ব্যবধানে বেরিয়ে গেলেও বাগান ডিফেন্স লাইন যেভাবে থাপাকে বক্সের ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে অর্থাৎ Allow করেছে, তা ATKMB’র ডিফেন্ডারদের “বোকামি” ছাড়া কিছুই নয়।

Mohun Bagan A C: রয় কৃষ্ণকে নিয়ে সবুজ মেরুন সমর্থকদের কাছে দুঃসংবাদ

Roy Krishna

Sports desk: সবুজ মেরুন (Mohun Bagan A C) সমর্থকদের কাছে খারাপ খবর। ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ ওসেনিয়া বাছাইপর্বের জন্য রয় কৃষ্ণর ডাক পড়েছে ফিজির জাতীয় দলে। জাতীয় দলের সতীর্থদের সাথে যোগ দিতে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (ISL) প্রথম পর্বের পরে রয় কৃষ্ণ ফিজিতে উড়ে যেতে পারেন, এমন একটা জোরালো সম্ভাবনার খবর সামনে এসেছে।

ফিজির কোচ ফ্লেমিং সেরিটস্টলেভ জানিয়েছেন, “আগামী সপ্তাহ থেকে জাতীয় শিবির শুরু করবেন এবং এটিকে মোহনবাগানের খেলোয়াড় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বাকি খেলোয়াড়দের সাথে যোগ দেবেন।”

রয় কৃষ্ণকে নিয়ে ফিজির কোচ সেরিসটলেভ আরও বলেছেন, “আমরা পরের সোমবার ক্যাম্পে প্রবেশ করছি। এই মুহূর্তে রয় জাতীয় দলের একমাত্র নিশ্চিত বিদেশী-ভিত্তিক খেলোয়াড়। বিদেশী ভিত্তিক খেলোয়াড়দের ১০ জানুয়ারী, ২০২২ শুক্রবারের মধ্যে দেশে থাকতে হবে যাতে সোমবারের মধ্যে তাদেরর যোগদানের বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে। আমাদের এই বিষয় নিয়ে বিবেচনার জায়গা নেই যে, কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ সহ অন্য বিদেশী ভিত্তিক খেলোয়াড় থাকা সম্ভব নয়।”

এটিকে মোহনবাগানের জন্য এর অর্থ হল রয় কৃষ্ণ সবুজ মেরুন ব্রিগেডের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং চলতি আইএসএলের ম্যাচ শুরু করেছে। ৮ জানুয়ারি ওড়িশার বিপক্ষে প্রথম পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে তারা। সুতরাং এটা নিশ্চিত যে ফিজিয়ান গোল্ডেন বয় স্ট্রাইকার রয় কৃষ্ণ ততক্ষণ পর্যন্ত এটিকে মোহনবাগানের সমস্ত ম্যাচের জন্য পাওয়া যাবে।

তবে, ফিজিয়ান স্ট্রাইকার রয় কৃষ্ণ যদি জানুয়ারিতে তার জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিতে যান তবে এটিকে মোহনবাগান মরসুমের শেষ দিকে তার সার্ভিস মিস করবে। এটি একটি বড় ধাক্কা হতে পারে, কারণ কৃষ্ণ সবুজ মেরুন শিবিরের কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী গোল স্কোরার।

অসমর্থিত সূত্রে খবর, এটিকে মোহনবাগান ম্যানেজমেন্ট ফিজি ফেডারেশনের সাথে একটি সমাধান সূত্র খুঁজে পাওয়ার লক্ষ্যে কথাবার্তা চালাতে পারে। কারণ ওসেনিয়া কোয়ালিফায়ারগুলি শুধুমাত্র ১৪ মার্চ শুরু হবে৷ ততক্ষণে আইএসএল ফাইনাল শেষ হয়ে যেতে পারে, এবং কৃষ্ণ তখন তার জাতীয় দলের দায়িত্বগুলিতে মনোনিবেশ করতে পারে৷ নিউজিল্যান্ড, নিউ ক্যালেডোনিয়া এবং পাপুয়া নিউ গিনির সাথে বাছাইপর্বের গ্রুপ বি-তে ফিজিকে রাখা হয়েছে।

ISL: জামশেদপুরের কাছে হেরে #BLINDREFREE ইস্যুতে সামাজিক মাধ্যমে সোচ্চার মেরিনার্সরা

BLIND REFREE

Sports desk: আইএসএলে (ISL)  জামশেদপুর এফসি’র কাছে ২-১ গোলে ATK মোহনবাগান নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে হেরেছে। এরপরেই সবুজ মেরুন সমর্থকরা #BLINDREFREE #REFREEPLAYINGWITHOURFEELINGS #WORSTREFREE #REMOVEREFREE নিয়ে সোচ্চার সামাজিক মাধ্যমে।

টানা দুই ম্যাচে হারের ধাক্কায় ATK মোহনবাগান আইএসএলের লিগ টেবিলে প্রথম চারের বাইরে চলে গিয়েছে। এদিনের ম্যাচের রেফারি এ.রাওয়ান সবুজ মেরুন সমর্থকদের কাছে শোলে হিন্দি চলচ্চিত্রের “গব্বর”, প্রয়াত অভিনেতা আমজাদ খাঁন এই চরিত্রে অভিনয়ের জোরে মুম্বই’র বলি পাড়ায় নিজের আলাদা ছাপ রেখে গিয়েছেন ভারতীয় প্যানোরমায়।

সোমবার জামশেদপুরের বিরুদ্ধে হারের জন্য সবুজ মেরুন সমর্থকেরা চলতি আইএসএলে ভারতীয় রেফারিদের মান নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। শুধু তাইই নয়, আইএসএলে ভারতীয় রেফারি দিয়ে ম্যাচ পরিচালনার বদলে বিদেশী রেফারি দিয়ে ম্যাচ পরিচালনার ধোঁয়া উঠতে শুরু করেছে।

৬৫ মিনিটে হুগো বৌমাসের কর্নার কিক সোজা বক্সের মধ্যে থাকা জামশেদপুর এফসি অধিনায়ক এলি সাবিয়ার হাতে লাগলেও তা রেফারির নজর এড়িয়ে যায়। রেফারি সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে হয়তো পেনাল্টি পেয়ে যেত সবুজ-মেরুন শিবির।

ম্যাচের শেষের দিকে গ্রেগ স্টিউয়ার্টও তাঁদের বক্সের মধ্যে হ্যান্ডবল করে, কিন্তু রেফারির ভুলে ATK মোহনবাগান সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে।

আগামী শনিবার ATK মোহনবাগানের ম্যাচ রয়েছে চেন্নাইন এফসি-র বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে চলতি আইএসএলে রেফারিং’র মান ঘিরে কলকাতা ময়দানে অসন্তোষের আগুন ক্রমেই ছড়াতে শুরু করে দিয়েছে।

Mohun Bagan: রেফারিং’র মান ঘিরে ক্ষোভের মাঝেও “সুখবর” সবুজ মেরুন সমর্থকদের কাছে

JoyMohunBagan

Sports desk: আইএসএলে ATK মোহনবাগানের (Mohun Bagan) ম্যাচ রয়েছে ৬ ডিসেম্বর, সোমবার জামশেদপুর এফসির বিরুদ্ধে। ওই ম্যাচের আগে সুখবর সবুজ মেরুন সমর্থকদের কাছে। দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার তিরি’র খেলার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

গত বুধবার আইএসেলের নিজেদের তিন নম্বর ম্যাচে ১-৫ গোলের লজ্জার হার, সঙ্গে বিক্রম প্রতান সিং’র দ্বিতীয় গোল কনসিডার করার জন্য ATK মোহনবাগান টিম ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে সমর্থকরা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। রেফারিং’র মান নিয়ে অভিযোগ জানাতে চলেছে টিম ম্যানেজমেন্ট এমন খবরও জানা গিয়েছে। হেডকোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস এই ইস্যুতে ‘নীরব প্রতিবাদের’ পথ বেছে নিয়েছে।

কিন্তু যতই ক্ষোভ-অসন্তোষ থাকুক না কেন এমন গুরুগম্ভীর আবহে হোসে লুইস এস্পিনোসা অ্যারোয়ো যিনি তিরি নামেই সুপরিচিত নিজের টুইটার হ্যাণ্ডেলে দুদিন আগে পোস্ট করে সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বার্তা,”মাঠে ফিরে যেতে পেরে খুশি!👨🏼‍ 🙏🏼 ধাপে ধাপে 👣🚶🏼‍♂️”। এরপর বৃ্হস্পতিবার অর্থাৎ আজ তিরি টুইটে বার্তায় আশ্বস্ত করে পোস্ট করেছে,”একটি নতুন দিন, একটি নতুন শুরু!👊🏻#চলুন #না থামুন#জয়মোহনবাগান।”

তিরির আজকের এই টুইট ভাইরাল হতেই সবুজ মেরুন সমর্থকেরা যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছেন। রিটুইটে ভরে গিয়েছে তিরির টুইটার স্ট্যাটাস আপডেট।
Aman Maurya রিটুইট,”তুমি সুখে থাকো বা দুঃখে থাকো আমরা সবসময় তোমার সাথে আছি…..
💪💪💪💪💪💪
প্রত্যাবর্তন আরও শক্তিশালী। “
বিদ্যুত I Bidyut রিটুইটে পোস্ট “আপনার ক্লাবের আপনাকে মরিয়াভাবে দরকার…..আপনার ক্লাবকে সাহায্য করুন… এই দলের 1-5 হারের জন্য খুবই করুণ।”

চলতি আইএসএলে হাঁটুর চোট শুরু থেকেই ভোগাচ্ছিল তিরি সহ গোটা টিম ম্যানেজমেন্টকে। কিন্তু ধীরে ধীরে রিকভারির স্টেজের মধ্যে দিয়ে Atk মোহনবাগানের ডিফেন্ডার তিরি সবুজ মেরুন সমর্থকদের উদ্দেশ্যে “হাল ছেড়ো না বন্ধু ” এমনই ইঙ্গিতবহ বার্তা দিয়েছেন সামাজিক মাধ্যমে।

হেডকোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস আইএসএল শুরুর সময় থেকেই তিরি’র ইনজুরি ইস্যুতে মোটেও স্বস্তি ছিলেন না। আইএসএলে ‘ব্যাক টু ব্যাক’ তিন ম্যাচ, এর মধ্যে হাইভোল্টেজ ডার্বি ম্যাচেও তিরি দলের হয়ে সার্ভিস দিতে পারেনি। এখন গোটা শিবির সহ সবুজ মেরুন সমর্থকরা তিরি’র দ্রুত রিকভারির পথ চেয়ে রয়েছে।

চলতি আইএসএলে ATK মোহনবাগান ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে চতুর্থ স্থানে, দুই ম্যাচে জয়,১ ম্যাচে হার, গোল পার্থক্যতে একে। লিগের শীর্ষে মুম্বই সিটি এফসি,দুই ওডিশা এফসি,তিনে চেন্নাইয়ন এফসি।এসসি ইস্টবেঙ্গল আইএসএলের লিগ টেবিলে ১০ নম্বরে, তিন ম্যাচ-১ ম্যাচ ড্র-২ ম্যাচে হার। গোল পার্থক্যে মাইনাস ৫, পয়েন্ট ১। টানা তিন ডার্বি ম্যাচের রঙ সবুজ মেরুন। শতযোজন দূরে এসসি ইস্টবেঙ্গল।

Srinjoy Bose: মোহনবাগানের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা সৃঞ্জয় বসুর

Srinjoy Bose

Sports desk: “ব্যক্তিগত কারণে”র উল্লেখ করে আচমকা ইস্তফা মোহনবাগান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদে সৃঞ্জয় বসু (Srinjoy Bose)।মঙ্গলবার ক্লাব সভাপতি স্বপন সাধন বসুকে(টুটু) লিখিত চিঠি পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন সৃঞ্জয় বসু।

মঙ্গলবার সন্ধ্যেতে আচমকা এই চিঠিতে সবুজ মেরুন ক্লাব প্রশাসন থেকে সৃঞ্জয় বসুর ইস্তফা কলকাতা ময়দানে হইচই ফেলে দিয়েছে। ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করা হয়েছে ইস্তফাপত্রে।

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দিলেও ক্লাবের একনিষ্ক সমর্থক এবং সদস্য হয়েই থাকতে চান সৃঞ্জয়বাবু চিঠিতে এও উল্লেখ রয়েছে। মোহনবাগান ক্লাবের সঙ্গে তার আত্মার সর্ম্পক ইস্তফাপত্রে জানাতে ভোলেননি কলকাতা ময়দান তথা ভারতীয় ফুটবলের উঠোনে সুপরিচিত সৃঞ্জয় বসু (টুম্পাই)।

Mohun Bagan A.C: চিমা-ব্যারেটোর স্কিল নির্ভর ফুটবলে ৯০’র দশক মোহনবাগানের

Chima-Barreto

Sports desk: 1990 সালে মোহনবাগানের (Mohun Bagan) একমাত্র সাফল্য ছিল প্রথম বিভাগ কলকাতা লিগ জয়। ওই বছর মোহনবাগানের খেলোয়াড়রা ক্যামেরুনের বিখ্যাত বিশ্ব কাপার রজার মিলার বিরুদ্ধে তাদের প্রতিভা প্রদর্শন করার সুযোগ পেয়েছিলেন, যখন মিল্লা নিজের ক্লাব দলের হয়ে (ডায়মন্ড ক্লাব) ক্লাবের শতবর্ষ উদযাপনের অংশ হিসাবে একটি প্রীতি ম্যাচে অংশ নিতে এসেছিলেন। মোহনবাগান ম্যাচটি 1-3 ব্যবধানে হেরেছিল এবং ওই ম্যাচে রজার মিল্লা একটি গোল করেছিলেন। মিল্লার ক্লাবের বিরুদ্ধে সুব্রত ভট্টাচার্য এবং প্রশান্ত বন্দ্যোপাধ্যায় দুরন্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন।

1991 সালে মোহনবাগান মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে 1-0 ব্যবধানে হারিয়ে রোভার্স কাপ জিতেছিল। ক্লাব সিকিম গভর্নরের গোল্ড কাপ এবং অল এয়ারলাইনস গোল্ড কাপও দখল করেছিল৷ ওই বছর ক্লাব তার 100 বছরের ইতিহাসে প্রথম কোনো বিদেশী খেলোয়াড়কে দলে অন্তর্ভুক্ত করে৷ চিমা ওকেরি “ব্ল্যাক প্যান্থার”দের বিরুদ্ধে কলকাতা ফুটবল লিগে সবুজ মেরুন জার্সিতে খেলেছিলেন। আইএম বিজয়নও ওই বছরেই মোহনবাগান ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন। ততদিনে ক্লাব প্রশাসনে পরিবর্তন এসেছে। ক্লাবের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন স্বপন সাধন বসু, কলকাতা সহ ভারতীয় ফুটবলে মহলে তিনি টুটু বসু নামে সুপরিচিত।

1992 ফুটবলের সেশন মোহনবাগানের জন্য একটি ভাল বছর ছিল। কারণ ক্লাব ফেডারেশন কাপ 2-0 ব্যবধানে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্ট বেঙ্গলকে পরাজিত করে, রোভার্স কাপে জেসিটি মিলসকে 2-0 ব্যবধানে পরাজিত করার পাশাপাশি প্রথম বিভাগ কলকাতা লীগ এবং সিকিম গভর্নরস গোল্ড কাপের মতো কিছু জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্টের ট্রফি ক্লাব তাঁবুতে
তুলতে সক্ষম হয়েছিল।

1993 সালে সত্যানের করা একক গোলে মোহনবাগান মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রাকে পরাজিত করে ফেডারেশন কাপ জিতেছিল এবং তৃতীয় বার অল এয়ারলাইন্স গোল্ড জিতেছিল।

1994 সালে মোহনবাগান ক্লাব (1980-1982) সালগাওকার এসসিকে পরাজিত করে ফেডারেশন কাপ জয়ের হ্যাটট্রিক নথিভুক্ত করে। ভারতীয় ফুটবলের আঙিনায় এটি একটি রেকর্ড যখন কোনও ভারতীয় ফুটবল ক্লাব পরপর তিন বছর দুবার ফেডারেশন কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। এছাড়াও সবুজ মেরুন শিবির কলকাতা ফুটবল লীগ, ডুরান্ড কাপে আর্চ রাইভাল ইস্টবেঙ্গলকে 1-0 ব্যবধানে হারিয়ে এবং সিকিম গভর্নরস গোল্ড কাপও জিতেছিল।

1995 সালে মোহনবাগান ক্লাবে ট্রফির খরার জেরে কোনও জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্ট দখল করতে পারেনি। কেবলমাত্র পিএনবি শতবর্ষী ট্রফি জয় এবং কলকাতা লিগের ফাস্ট ডিভিশনে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল। ওই বছর মোহনবাগান ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হন অঞ্জন মিত্র এবং ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব নেন টুটু বসু।

1996 সালে মোহনবাগান ম্যাকডওয়েলস কাপ এবং ররদৌলই ট্রফি জিতেছিল এবং কলকাতা লিগের প্রথম ডিভিশনে রানার্স আপ হয়েছিল।

1997 সালে ক্লাব ডিসিএম ট্রফি এবং কলকাতা ফুটবল লীগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। সবুজ মেরুন শিবির ডুরান্ড কাপের ফাইনালেও পৌঁছেছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এফসি কোচিনের কাছে ম্যাচ হেরে যায়। ওই মরসুমে মোহনবাগান 18 ম্যাচে 34 পয়েন্ট নিয়ে প্রথমবারের মতো জাতীয় ফুটবল লিগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ফাইনাল খেলায় সবুজ মেরুন সমর্থকদের বিশাল উপস্থিতিতে সল্টলেকের যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রাকে 3-0 ব্যবধানে পরাজিত করেছিল।

1998 সালে মোহনবাগান ক্লাব ফেডারেশন কাপ এবং আইএফএ শিল্ড উভয় ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গলকে 2-1 গোলে পরাজিত করে। এএফসি ওই বছরের জানুয়ারিতে মোহনবাগান ক্লাব AFC এশিয়ার দিয়াডোরা দল হিসাবে স্বীকৃতি অর্জন করে, যা মোহনবাগান ক্লবের গৌরবের মুকুটে একটি নতুন পালক যুক্ত হয়েছিল।

1999 সালে মোহনবাগান, টালিগঞ্জ আগ্রাগামীকে 1-0 গোলের ব্যবধানে হারিয়ে এবং কলকাতায় সংহতি ক্লাবকে হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জিতেছিল৷ এই বছর ভারতের সর্বকালের সেরা বিদেশী ফুটবলার, ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার, ‘গ্রিন প্যারট’ হোসে রামিরেজ ব্যারেটো মোহনবাগান দল এবং ফুটবলপ্রেমীদের সাথে যোগ দিয়েছিলেন। ভারত ব্যারেটোর দুর্দান্ত ফুটবল দক্ষতা এবং বল নিয়ন্ত্রণে মুগ্ধ হয়েছিল।

ATK Mohunbagan: হাইভোল্টেজ ডার্বি ম্যাচ জিতল এটিকে মোহনবাগান

Mohunbagan

Sports desk: মাণ্ডবীর তীরে তিলক ময়দানে হাইভোল্টেজ শনিবাসরীয় ডার্বি ম্যাচ ফাঁকা স্টেডিয়ামে খেলতে হল কলকাতার দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী দল এটিকে মোহনবাগান (Mohunbagan) বনাম এসসি ইস্টবেঙ্গলকে।রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই আই এস এলের হাইভোল্টেজ ডার্বি ম্যাচে এসসি ইস্টবেঙ্গল ০-৩ এটিকে মোহনবাগান জিতে যায়।

দর্শক প্রবেশের অনুমতি নেই। মারণ ভাইরাস কোভিডের জেরে আয়োজক এফএসডিএল কোভিড প্রটোকল মেনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর।

ম্যাচের ১২ মিনিট রয় কৃষ্ণা, ১৪ মিনিটে মনভীর সিং,২৩ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর গোলে ৩-০ এগিয়ে যায় এটিকে মোহনবাগান, চির প্রতিদ্বন্দ্বী এসসি ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে। ভিনরাজ্যে আইএসএলের প্রথম ডার্বিতে সবুজ মেরুন শিবিরে তিরির অনুপস্থিত চোটের কারণে।

মেরিনার্সের হয়ে খাতা খুললেন রয় কৃষ্ণা। ডানদিক থেকে মনভীর সিং বল পায়ে এগিয়ে আসে এবং অধিনায়ক প্রীতম কোটালকে লক্ষ্য করে মাপা পাস বাড়িয়ে দেয়। অধিনায়ক কোটাল বক্সের কাছে থাকা গোলমেশিন রয় কৃষ্ণাকে দেখে বল এগিয়ে দেয়, দুরন্ত ভলি এসসি ইস্টবেঙ্গলের জালে জড়াতেই এটিকে মোহনবাগান ১-০ গোলে এগিয়ে যায়।

১৪ মিনিটে মনভীর সিং’র গোলে সবুজ মেরুন শিবির ২-০ গোলের লিড নেয়।মাঝমাঠে দুরন্ত ফুটবল হাবাসের ছেলেদের।জনি কাউকো একটি ম্যাজিক্যাল থ্রু পাস বাড়িয়ে দেয় মনভীরকে টার্গেট করে,ওই বাড়ানো বল ধরে মনভীর লাল হলুদের বক্সে চলে আসে। গোলপোস্ট লক্ষ্য করে মনভীর সিং শট নেয় গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্য ওই শট আটকানোর চেষ্টায় ব্যর্থ হয়, মনভীর সিং’র শট জালে জড়িয়ে যায় এসসির ইস্টবেঙ্গলের। ২-০ লিড এটিকে মোহনবাগানের।

১৮ মিনিটে এটিকেএমবি পেনাল্টি আবেদন করলেও রেফারি তা নাকচ করে দেয়।২৩ মিনিটে লিস্টন কোলাসোর গোল। দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে হাবাসের ছেলেরা ম্যাচে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবলে মেতে ওঠে। লাল হলুদ গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্য তিন কাঠির নীচে ভুল করে বসে। বাঁ দিকে বক্সের প্রান্তে বল সংগ্রহ করতে অরিন্দম লাইন থেকে ছুটে আসলেও সিদ্ধান্ত পরিষ্কার ছিল না এবং লিস্টন কোলাসো এগিয়ে যাওয়ার জন্য একটি ফ্রি রান পায় এবং বল হোম স্লট করে। এসসি ইস্টবেঙ্গলের গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্যের বিরাট ভুল সিদ্ধান্তের সুযোগ বুঝে লিস্টন কোলাসোর গোলে ৩-০ গোলের লিড নিয়ে ফেলে এটিকে মোহনবাগান।

হাফ টাইমে ডার্বির স্কোরলাইন এসসি ইস্টবেঙ্গল ০-৩ এটিকে মোহনবাগান। এসসি ইস্টবেঙ্গল অধিনায়ক তথা গোলকিপার অরিন্দম ভট্টাচার্য আহত হয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হলেন।। অরিন্দম মাঠ ছাড়ার সময়ে তার প্রতি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের সম্মান প্রদর্শন দেখা যায়। অরিন্দম ভট্টাচার্য’র বদলে লাল হলুদের তিনকাঠির নীচে দাঁড়ানোর জন্য শুভম সেন মাঠে নামেন,৩২ মিনিটে। দুটো হলুদ কার্ড দেখায় লালরিনলিয়ানা হানামতেকে চলে যেতে হয় মাঠ ছেড়ে।

বিরতির পর খেলা শুরু হলে বিকাশ জাইরু শট নিলেও সবুজ মেরুন গোলকিপার অমরিন্দর সিং তা ধরে ফেলে উড়ন্ত অবস্থায় গিয়ে।

৫৬ মিনিটে এটিকে মোহনবাগানের জনি কাউকো হ্যান্ডবলের দাবি তোলে। রেফারি রাহুল কুমার গুপ্তা ওই আবেদন ফের খারিজ করে দেয়।

৬৬ মিনিটে লাল হলুদ ফ্রিকিক পেলেও কাজে লাগাতে পারেনি। ৬৮ মিনিটে মহম্মদ রফিকের শট অফ দ্য টার্গেট হয়। লাল হলুদ গোলকিপার শুভম সেন ৭৮ মিনিটে কর্ণার থেকে বা দিকের আসা বল পাঞ্চ করে বল বক্সের বাইরে ফেলে দেয়।

এরই মধ্যে রেফারি শেষ বাশি বাজাতেই এটিকে মোহনবাগান ৩-০ গোলে চির প্রতিদ্বন্দ্বী এসসি ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট ঘরে তুলে ফেলে।

মোহনবাগানকে জেতাতে লাল হলুদের মাঠে বসে খেলা দেখতেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়

Subrata Mukherjee

Special Correspondent, Kolkata: ইস্টবেঙ্গলের পয়েন্ট কাটাতে লাল হলুদ তাঁবুতে গিয়ে ইস্ট-মোহন ম্যাচ দেখতেন কট্টর মোহনবাগান সমর্থক তথা সদ্য প্রয়াত রাজ্যের মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

লাল হলুদের এই পয়েন্ট কাটানোর কথা জানিয়েছেন দেবব্রত সরকার ওরফে লাল হলুদের নিতু দা। তিনি বলেন, “এই গল্প জআমি খুব ছেলেবেলা থেকে ময়দানে আসতাম। এসে দেখতাম পল্টুদার সাথে সুব্রতদার একটা মধুর সম্পর্ক। এটাও শুনতাম সুব্রতদা নাকি আপাদমস্তক মোহনবাগানের সমর্থক, কিন্তু ভালো লাগতো ওনাকে দেখে যে তিনি আমাদের ম্যাচ গুলোর সময় ঠিক পল্টুদার পাশে বসে ম্যাচ উপভোগ করতেন।

আসলে একজন কট্টর মোহনবাগানী আরেকজন কট্টর ইস্টবেঙ্গলি দুই বন্ধু, ম্যাচ দেখার নাম করে একে অন্যের টিমের খেলা থাকলেই তাদের মাঠে চলে যেতেন, এটা আসলে একটা তুক-তাক, অন্যের টিমের পয়েন্ট কাটার লক্ষ্যে। সুব্রতদা যেমন আমাদের খেলা থাকলে আমাদের মাঠে আসতেন তেমনি আবার পল্টুদা রাও মোহনবাগানের খেলা থাকলে চলে যেতেন তাদের মাঠে, পয়েন্ট কাটবার জন্য। এ ছিল এক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। সুব্রতদা আমাদের মাঠে আসলে ওনার পাশে থাকতেন পল্টুদা, জীবনদা, প্রদীপ ঘোষ – এই প্রদীপ ঘোষ ওনার রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন আর ছিলেন আদ্যোপান্ত ইস্টবেঙ্গল সমর্থক। মাঠে একটা সুন্দর সমাবেশ থাকতো।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “সবসময় ওনাকে দেখেছি, যে, কোনো মানুষ কোনো কাজের জন্য তার কাছে গেছে, তিনি পরিষ্কার কথাটা পরিষ্কার করে বলেছেন। আমি কোনো রাজনৈতিক ক্ষেত্র থেকে বলছি না, আমাদের ময়দান কেন্দ্রিক কোনো কিছু নিয়ে তার কাছে কেউ গেলে তিনি পরিষ্কার কথাটা পরিষ্কার ভাবে তাকে বুঝিয়ে বলতেন। পল্টুদা ওনার থেকে বয়েসে বড় হলেও তার সাথে সুব্রতদার অদ্ভুত একটা সুসম্পর্ক ছিল এই স্পোর্টসকে কেন্দ্র করে। কখনো আই.এফ.এ.’র রাজনীতি, কখনো সি.এ.বি.’র রাজনীতি বা অন্যান্য আসোসিয়েশনের যেকোনো সমস্যায় তিনি পল্টুদার সাথে আলোচনা করতেন।

আবার পল্টুদা যেমন মাঝে মাঝে সুব্রতদার বাড়িতে যেতেন সেরকমই পল্টুদা বাড়িতে থাকলে তিনি চলে আসতেন পল্টুদার বাড়িতে। পল্টুদা চলে যাওয়ার পর আমাকে আর স্বপনদাকে উনি খুব স্নেহ করতেন। মাঝে মাঝে আমরাও যেতাম ওনার কাছে। সুব্রতদা যখন মেয়র হলেন, আমি আর স্বপনদা ওনার কাছে গিয়ে বললাম, “বড় ক্লাবগুলোতে তো কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই, তুমি যদি একটু করে দাও, ভালো হয়”। সুব্রতদা বললো, “দেখ আমি তো পুরো করতে পারবো না, বেশ খানিকটা করে দিচ্ছি, বাকিটা তোদের দেখতে হবে”। আমি বললাম, “ঠিক আছে”। সাথে সাথে স্বপনদা বললো, “মোহনবাগান তো চায় নি, তা তুমি দেবে তো?” তার উত্তরে খুব সুন্দর ভাবে তিনি বলেছিলেন, “মোহনবাগান তো আমার কাছে চায় নি, তোরা চেয়েছিস, তোদের দিচ্ছি”।

একজন আদ্যোপান্ত মোহনবাগানী হয়েও স্পোর্টস এর উন্নতিতে সবসময়ই এগিয়ে আসার মানসিকতা সুব্রত দার মধ্যে দেখতে পেয়েছিলাম। এরকম একজন ময়দান প্রিয় মানুষ চলে গেলো, আমরা খুবই শোকাহত। তিনি যেমন মোহনবাগানের সদস্য ছিলেন, তেমনি আমাদের সদস্য ছিলেন। প্রত্যেক বছরের বার্ষিক চাঁদা দিয়ে উনি কার্ড নবীকরণ করাতেন। ওনার সহকর্মী দেবুদার সাথে কথা বলে আমিই সেটা পাঠিয়ে দিতাম সুব্রতদার কাছে। আর হয়তো কার্ড রিনিউ করে পাঠাতে হবেনা, সুব্রতদার চলে যাওয়া ময়দানে এক অনন্ত শূন্যতার সৃষ্টি হলো। একজন ফুটবল প্রেমী ব্যক্তিত্বকে হারালাম আমরা। ওনার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। ওনার শোকসন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানাই।
সুব্রতদা এক বর্ণময় চরিত্র, রাজনীতির আঙিনার মতো ময়দানেও তিনি অমর হয়ে থাকবেন।”

সবুজ মেরুন শিবিরে যোগ দিয়েই কোয়ারেন্টাইনে দীপক-সুমিত

dipak-sumit

Sports Desk: ATK মোহনবাগানের দুই ডিফেন্ডার দীপক টাংড়ি এবং সুমিত রাঠি এটিকে মোহনবাগান ক্লাবের সঙ্গে যোগ দিলেন। তবে দলের সঙ্গে যোগ দিলেও এখনই অনুশীলনে নামতে পারবেন না দুই ফুটবলার। কোভিড-১৯ প্রটোকল মেনে কোয়ারেন্টাইনে (নিভৃতবাসে) থাকতে হবে তাদের।

ভারতের অনূর্ধ্ব -২৩ AFC এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন ম্যাচের জন্য এতদিন দুই ফুটবলার দীপক টাংড়ি এবং সুমিত রাঠিকে সবুজ মেরুন শিবির পায় নি। জাতীয় অনূর্ধ্ব -২৩ দলের বিদেশ সফরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে ভারতীয় স্কোয়াডে ছিলেন।

দীপক এবং সুমিতের দলে যোগ দিতেই করোনা বিধিনিষেধ মেনে কোয়ারেন্টাইন থাকার ছবি সোশাল মিডিয়াতে পোস্ট করেছে ATK মোহনবাগান। আইএসএলে সবুজ মেরুন শিবির নিজেদের অভিযান শুরু করছে ১৯ নভেম্বর ফতোদরা স্টেডিয়ামে, প্রতিপক্ষ কেরালা ব্লাস্টার্স।

ATK Mohun Bagan: মনভীরের পায়ের যাদুতে ভরসা সবুজ মেরুন সমর্থকদের

Manvir

Sports Desk, Kolkata24x7: স্ট্রাইকার মনভীর সিং! শুরুতেই হোঁচট। কে এই মনভীর? প্রশ্ন শুনলেই জ্বালা দিয়ে উঠতো শরীরের ভিতরে। কিন্তু গোলের খিদে গত মরসুমের ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে(আইএসএল) তাঁর নজরকাড়া পারফরম্যান্স, ATK মোহনবাগান ফুটবল ক্লাব এবং ভারতীয় ফুটবল দলে একজন অ্যাটাকিং স্ট্রাইকার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

ভারতীয় ফুটবল আঙিনায় মনভীর সিং’র উত্থান চমকে দেওয়ার মতো। মনবীর এফসি গোয়ার জার্সিতে আইএসএলে নিজের কেরিয়ার শুরু করেছিলেন এবং ওই সময়ে একজন তরুণ প্রতিভাবান ফুটবলারদের মধ্যে একজন ছিলেন। ২০১৭-১৮ আইএসএল সেশনে মনভীর ৯ টি খেলায় মাত্র ২৬৫ মিনিট ম্যাচে ছিলেন, কিন্তু এটি তার জন্য একটি দুর্দান্ত শেখার প্ল্যাটফর্ম হিসাবে কাজ করেছিল এবং এফসি গোয়া সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল ফরোয়ার্ড মনভীর সিং’র অ্যাটাকিং অ্যাপ্রোচের জন্য।

২০১৮-১৯ মরসুমে সিং এফসি গোয়ার হয়ে ১৯ ম্যাচে আরও বেশি করে নিজের জাত চিনিয়ে দেয়৷ তার ফুটবল কেরিয়ারের পথে যাই যাই হোক না কেন, মনভীর তার প্রথম আইএসএলে গোল করে এবং একটি গোলে অ্যাসিস্ট করে একজন স্ট্রাইকার হিসেবে নিজের অসীম সম্ভাবনাকে তুলে ধরে৷

মনভীরের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায়। মনভীর আগের সেশনের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি মিনিট ম্যাচে খেলতে থাকে। ইতিমধ্যে একজন নির্ভরযোগ্য সুপার-সাব হিসাবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন পাঞ্জাব তনয়। গোয়ার জন্য দুবার গোল করে এফসি গোয়াকে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন।

২০২০-২১ আইএসএল সেশনে মনভীর সিং ক্লাব বদল করে ATK মোহনবাগান জার্সি গায়ে চাপান। সবুজ মেরুন জার্সি গায়ে চাপিয়ে মনভীর আরও বেশি করে আইএসএলে খেলার সুযোগ পেতেই সাফল্য তার কপালে চুমু খেতে শুরু করে। সবুজ মেরুন জার্সি গায়ে মনভীর সিং নিজের আইএসএল কেরিয়ারে সবথেকে বেশি সফল স্ট্রাইকার হিসেবে ৬ গোল করে পাশাপাশি দলের হয়ে ৩ টি গোলের জন্য অ্যাসিস্ট করে, মেরিনার্সরা ফাইনালে যায়।

মনভীর এমন একজন ফুটবলার যার মধ্যে বৈচিত্র্য আছে, সে সেশনের পর সেশন মাঠে করে দেখিয়েছে সে কত বড় সম্পদ। এখন তাঁকে ভারতের জাতীয় ফুটবল দল এবং ক্লাবের প্রথম একাদশে নিয়মিত খেলতে দেখা যায়, তরুণ ফুটবলারদের মনভীর সিং’র থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।

Sourav Ganguly: এটিকে মোহনবাগানের ডিরেক্টর পদ থেকে সরলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়

Sourav Ganguly

Sports desk: ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (BCCI) প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly) এটিকে মোহনবাগানের পরিচালকের পদে ছিলেন। ‘স্বার্থের সংঘাত’ লোধা কমিটির সুপারিশ, কড়া নিয়মের গেঁড়োয় পড়ে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি এটিকে মোহনবাগানের ডিরেক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

কলকাতা ভিত্তিক কর্পোরেট জায়ান্ট সঞ্জীব গোয়েঙ্কার আরপি গ্রুপ লখনউ আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজির জন্য ৭,০৯০ কোটির রেকর্ড পরিমাণে বিড জিতে যাওয়ার কয়েকদিন পরেই লোধা কমিটির খাঁড়া নিয়ে চর্চ্চা শুরু হয়। একটি বেসরকারি নিউজ চ্যানেলে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা বলেন, “আচ্ছা, আমি মনে করি তিনি মোহনবাগান থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছেন। আমি আজ মনে করি। এটা সৌরভের জন্য ঘোষণা করা। মানে, দুঃখিত। “

ইতিমধ্যেই প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক ATKMB থেকে তার ডিরেক্টর পদে পদত্যাগ করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, কলকাতার এই হেভিওয়েট দলে যেখানে তারও একটি অংশ রয়েছে।

লোধা কমিটির স্বার্থের সংঘাত নিয়মে বলে দেওয়া আছে, “যখন বিসিসিআই, একজন সদস্য, আইপিএল বা ফ্র্যাঞ্চাইজি এমন সত্ত্বার সাথে চুক্তিবদ্ধ ব্যবস্থায় প্রবেশ করে, যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা তার আত্মীয়, অংশীদার বা ঘনিষ্ঠ সহযোগীর আগ্রহ থাকে।”

কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে,”এই সুপারিশ এমন ঘটনাগুলোর অন্তর্ভুক্ত হতে পারে যেখানে পরিবারের সদস্য, অংশীদার বা ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা এমন পজিশনে রয়েছে যা একক ব্যক্তির অংশগ্রহণ, কাজের পরিধি এবং ভূমিকা পালন হিসাবে আপোষ করতে পারে বা দেখা যেতে পারে।”

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় অতীতেও লোধা কমিটির ‘স্বার্থের সংঘাত’ নিয়মে ৩ বছরের ডেডলাইনের জাঁতাকলে জড়িয়ে পড়েছিলেন।২০১৯ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সভাপতি এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের উপদেষ্টা হওয়ার সময় স্বার্থের দ্বন্দ্বের সুপারিশ মেনে পদ থেকে সরিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন।

ডুরান্ড ফাইনালেও সবুজ-মেরুন ছোঁয়া, গ্যালারি থেকেই মার্জার ভাঙার দাবি সমর্থকদের

স্পোর্টস ডেস্ক: দিনকয়েক আগেই ‘এটিকে মোহনবাগান ফুটবল ক্লাব’-এর পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এটিকে মোহনবাগান ‘মোহনবাগান’ এবং ‘এটিকে’র ইউনাইটেড ক্লাব নয়। ১৮৮৯ সালেই প্রতিষ্টা হয়েছিল ক্লাবের। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক ক্লাব মোহনবাগানের ঐতিহ্যই বহন করছে এটিকে মোহনবাগান। যদিও তাতে যে মোহনবাগান জনতা ভেজেনি, তার প্রমাণ পাওয়া গেল রবিবাসরীয় বিকেলে।

রবিবার বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ছিল ১৩০ তম ডুরান্ড কাপের ফাইনাল। মুখোমুখি হয়েছিল মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব এবং এফসি গোয়া। আর তাতেই শহরের তৃতীয় প্রধানের হয়ে গলা ফাটালেন মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের সমর্থকরা। সেখানেই গ্যালারি থেকে বিক্ষোভ দেখালেন মোহনবাগান সমর্থকরা। ‘এটিকে হটাও’, ‘ব্রেক দ্য মার্জার’ এর দাবিতে ফেটে পড়লেন তারা। পিছিয়ে ছিলেন না ইস্টবেঙ্গল সমর্থকরাও, গ্যালারিতে দেখা গেল ‘নিতু আউট’ লেখা পোস্টারও।

দিনকয়েক আগেই মোহনবাগান জনতার বিক্ষোভের ছবি নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন বিখ্যাত ফুটবল প্রেজেন্টার জো মরিসন। TEN SportsTEN Action+SONY SIX সহ বিভিন্ন চ্যানেলে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর জনপ্রিয় শো  C2K (কাউন্টডাউন টু কিকঅফ) বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দেয় তাঁকে। তিনিই সবুজ-মেরুন জনতার বিক্ষোভের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘What a photo.’ এরপরেই সমর্থকরা জানিয়েছিলেন, ‘যতদিন না এটিকের নাম মায়ের নামের সামনে থেকে সরবে, ততদিন আমরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবো।  

বিক্ষোভের সূত্রপাত্র গতবছর মোহনবাগান এবং এটিকে মার্জ করায়। যদিও সেই বিক্ষোভ খানিক কমলেও কয়েকদিন আগে থেকেই আবার পথে নেমেছেন মোহনবাগান জনতা। বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এটিকের বোর্ড মেম্বার উৎসব পারেখের একটি মন্তব্যে। চলতি বছরে এটিকে-মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বেও পৌঁছেছিল। যদিও ইন্টারজোনাল সেমিফাইনালে ‘এফসি নাসাফ উজবেকিস্তান’এর কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে গঙ্গাপাড়ের ক্লাবের। কিন্তু এএফসি কাপে খেলা সম্ভব হয়েছে গত বছর কিবু ভিকুনার কোচিংয়ে ‘মোহনবাগান’ আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায়।

একটি সাক্ষাৎকারে পারেখ হঠাৎই বলে বসেন, ‘মোহনবাগানের নিজেদের ক্ষমতায় এএফসি কাপে খেলার যোগ্যতা নেই। ওদের কখনও পরিকল্পনাতেও ছিল না যে মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলতে পারবে। মোহনাবাগন তো নিজস্ব গায়ের জোরে আজ পর্যন্ত খেলল না।  এতদিন সেই কারণেই এএফসি কাপে খেলেনি তারা। এটিকে আসাতেই সেই সুযোগ পেয়েছে তারা। ফলে মোহনবাগান সমর্থকদের এটিকে মোহনবাগানকেই সমর্থন করা উচিত। মোহনবাগান এখন অতীত।’

ATK Mohun Bagan
এটিকের নামও এভাবেই মিলিয়ে যাক, এমনটাই চাইছেন মোহনবাগান জনতা।

পারেখ-কান্ডের পরেই মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের পক্ষ থেকে এটিকে-মোহনবাগানের অন্যতম ডিরেক্টর দেবাশীষ দত্ত এবং সৃঞ্জয় বসু জানিয়ে দেন, সমর্থকদের আবেগকে গুরুত্ব দিতেই হবে। উৎসব পারেখের বক্তব্য অপমান করেছে মোহনবাগানের শতাব্দীপ্রাচীন আবেগকে। তারপরেই এটিকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া হয় মোহনবাগান ক্লাবে সভ্য-সমর্থকদের কাছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, উৎসব পারেখের বক্তব্যকে সমর্থন করেন না তাঁরা। যদিও তাতেও কমছে না সবুজ-মেরুন সমর্থকদের রাগ।

প্রসঙ্গত, গত বছরও এটিকে-মোহনবাগানের নতুন জার্সিতে তিনটি স্টার থাকা এবং ক্রমাগত তাদের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বলে উল্লেখ করায় ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকেরা। তাদের ক্রমাগত আন্দোলনের পরে তিন স্টার সরিয়ে নিয়েছে ক্লাব অফিসিয়ালরা। ঝামেলা বেড়েছিল আইএসএলের একটি প্রোমোশনাল ভিডিওকে ঘিরেও। ওই ভিডিওতে দেখা যায় এটিকের অন্যতম কর্ণধার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। সবুজ-মেরুন জনতার বিক্ষোভে সেই ভিডিওটিও সরিয়ে নিয়েছিল আইএসএল কর্তৃপক্ষ।

১৮৮৯ সালেই প্রতিষ্ঠিত, সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখল ATK Mohun Bagan Football Club

স্পোর্টস ডেস্ক: এটিকে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে (ATK Mohun Bagan) সবুজ-মেরুন সমর্থকদের বিক্ষোভে #RemoveATK এবং #BreakTheMerger হ্যাসট্যাগ দুটি আবার ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতেই নয়। মাঠের বাইরেও বিক্ষোভ দেখাচ্ছে সবুজ-মেরুন জনতা। দিনকয়েক আগেই প্রেস ক্লাবের সামনেও বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন সমর্থকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে। 

আরও পড়ুন পুজোয় আসছে গোলন্দাজ, তার আগেই নগেন্দ্রপ্রসাদের নামে লিগ চালুর দাবি তুললেন মোহনবাগান কর্তা

এবার ‘এটিকে মোহনবাগান ফুটবল ক্লাব’-এর পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হল, এটিকে মোহনবাগান ‘মোহনবাগান’ এবং ‘এটিকে’র ইউনাইটেড ক্লাব নয়। ১৮৮৯ সালেই প্রতিষ্টা হয়েছিল ক্লাবের। শুধু তাই নয়, পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক ক্লাব মোহনবাগানের ঐতিহ্যই বহন করছে এটিকে মোহনবাগান।  

দিনকয়েক আগেই মোহনবাগান জনতার বিক্ষোভের ছবি নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছেন বিখ্যাত ফুটবল প্রেজেন্টার জো মরিসন। TEN SportsTEN Action+SONY SIX সহ বিভিন্ন চ্যানেলে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর জনপ্রিয় শো  C2K (কাউন্টডাউন টু কিকঅফ) বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দেয় তাঁকে। তিনিই সবুজ-মেরুন জনতার বিক্ষোভের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘What a photo.’ তারপরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই বিক্ষোভেরই সুফল পেলেন সমর্থকরা। এরপরেই নতুন উদ্যমে সমর্থকরা জানিয়েছেন, ‘যতদিন না এটিকের নাম মায়ের নামের সামনে থেকে সরবে, ততদিন আমরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবো। 

বিক্ষোভের সূত্রপাত্র গতবছর মোহনবাগান এবং এটিকে মার্জ করায়। যদিও সেই বিক্ষোভ খানিক কমলেও কয়েকদিন আগে থেকেই আবার পথে নেমেছেন মোহনবাগান জনতা। বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এটিকের বোর্ড মেম্বার উৎসব পারেখের একটি মন্তব্যে। চলতি বছরে এটিকে-মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বেও পৌঁছেছিল। যদিও ইন্টারজোনাল সেমিফাইনালে ‘এফসি নাসাফ উজবেকিস্তান’এর কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে গঙ্গাপাড়ের ক্লাবের। কিন্তু এএফসি কাপে খেলা সম্ভব হয়েছে গত বছর কিবু ভিকুনার কোচিংয়ে ‘মোহনবাগান’ আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায়।

একটি সাক্ষাৎকারে পারেখ হঠাৎই বলে বসেন, ‘মোহনবাগানের নিজেদের ক্ষমতায় এএফসি কাপে খেলার যোগ্যতা নেই। ওদের কখনও পরিকল্পনাতেও ছিল না যে মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলতে পারবে। মোহনাবাগন তো নিজস্ব গায়ের জোরে আজ পর্যন্ত খেলল না।  এতদিন সেই কারণেই এএফসি কাপে খেলেনি তারা। এটিকে আসাতেই সেই সুযোগ পেয়েছে তারা। ফলে মোহনবাগান সমর্থকদের এটিকে মোহনবাগানকেই সমর্থন করা উচিত। মোহনবাগান এখন অতীত।’

ATK Mohun Bagan
এটিকের নামও এভাবেই মিলিয়ে যাক, এমনটাই চাইছেন মোহনবাগান জনতা।

পারেখ-কান্ডের পরেই মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের পক্ষ থেকে এটিকে-মোহনবাগানের অন্যতম ডিরেক্টর দেবাশীষ দত্ত এবং সৃঞ্জয় বসু জানিয়ে দেন, সমর্থকদের আবেগকে গুরুত্ব দিতেই হবে। উৎসব পারেখের বক্তব্য অপমান করেছে মোহনবাগানের শতাব্দীপ্রাচীন আবেগকে। তারপরেই এটিকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া হয় মোহনবাগান ক্লাবে সভ্য-সমর্থকদের কাছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, উৎসব পারেখের বক্তব্যকে সমর্থন করেন না তাঁরা। যদিও তাতেও কমছে না সবুজ-মেরুন সমর্থকদের রাগ।

প্রসঙ্গত, গত বছরও এটিকে-মোহনবাগানের নতুন জার্সিতে তিনটি স্টার থাকা এবং ক্রমাগত তাদের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বলে উল্লেখ করায় ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকেরা। তাদের ক্রমাগত আন্দোলনের পরে তিন স্টার সরিয়ে নিয়েছে ক্লাব অফিসিয়ালরা। ঝামেলা বেড়েছিল আইএসএলের একটি প্রোমোশনাল ভিডিওকে ঘিরেও। ওই ভিডিওতে দেখা যায় এটিকের অন্যতম কর্ণধার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। সবুজ-মেরুন জনতার বিক্ষোভে সেই ভিডিওটিও সরিয়ে নিয়েছিল আইএসএল কর্তৃপক্ষ।