‘রেট্রো কিট’ পরে মোহনবাগানে হোসে র‍্যামিরেজ ব্যারেটো

Jose Ramirez Barreto

স্পোর্টস ডেস্ক: ‘শীত গ্রীষ্ম, বর্ষা ব্যারেটোই ভরসা।’ এভাবেই হোসে র‍্যামিরেজ ব্যারেটো মোহনবাগান ক্লাবের ঘরের ছেলে হয়ে উঠেছিলেন। বৃ্হস্পতিবার ব্যারেটো মোহনবাগান ক্লাবে আসেন। আধুনিকীকরণ করা হয়েছে মোহনবাগান ক্লাব তাঁবুর,ঘুরে দেখলেন। সঙ্গে ছিলেন সৃঞ্জয় বসু এবং দেবাশিস দত্ত সহ প্রমুখেরা।

শুধু তাই নয়, ১৯১১ সালের। ঐতিহাসিক আইএফএ শিল্ড খেলার সময়ে বাগান ফুটবলারেরা যে জার্সি পরে বিপ্লবের বিগুল তুলেছিল, সেই ঐতিহাসিক ‘রেট্রো কিট’ শরীরে পড়ে নিলেন।ব্রাজিলিয়ন হলেও,আদ্যোপান্ত মোহনবাগানী একথা এখন নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

১৯৯৯ থেকে ২০০৪ প্রথম পর্যায়ে ব্যারেটো ১৮০ ম্যাচে মোহনবাগান জার্সি গায়ে ১২৬ টি গোল করেন। দ্বিতীয়বার ২০০৬ সালে ফের ফিরে আসেন গঙ্গা পাঁড়ের ক্লাবে।ওই সময় থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত সবুজ মেরুন জার্সি পড়ে দাপিয়ে খেলেছেন ‘সবুজ তোতা’,মোহনবাগান সমর্থকদের আদরের দেওয়া নাম। এই সময়ে ব্যারেটো ১৯১ ম্যাচে ১০২ টি গোল করেন। ২০০৬ সালে মাহিন্দ্রা ইউনাইটেডের জার্সি সরিয়ে রেখে সবুজ মেরুন জার্সি গায়ে চাপান রেকর্ড পরিমাণ অঙ্কে,প্রায় ৬০ লাখ টাকা। ব্যারেটো মোহনবাগান জার্সি গায়ে শেষবারের জন্য মাঠে নামেন আই লিগে ২০২১ সালের ৬ মে এফসি পুনের বিরুদ্ধে।

জাতীয় লিগ তথা আই লিগে ব্যারেটো বাগানের হয়ে ৯৪ টি ম্যাচে ১০১ টি গোল করে পঞ্চম গোলদাতা হিসেবে এখনও তালিকায় বর্তমান। ফেডারেশন কাপের ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যাবে এখানেও হোসে র‍্যামিরেজ ব্যারেটো ২৭ গোল শীর্ষে রয়েছেন। এদিন ব্যারেটো মোহনবাগান ক্লাবে এলেন,দেখলেন আর জয় করলেন অসংখ্য,অগণিত সবুজ মেরুন সমর্থকদের হৃদয়।

ATK-নাম মোছার দাবিতে সবুজ-মেরুন জনতার বিক্ষোভের ছবি শেয়ার করলেন জো মরিসন

অনুভব খাসনবীশ: আবার বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে ময়দানে, সৌজন্যে এটিকে-মোহনবাগান (ATK Mohun Bagan)। #RemoveATK এবং #BreakTheMerger হ্যাসট্যাগ দুটি আবার ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। শুধু সোশ্যাল মিডিয়াতেই নয়। মাঠের বাইরেও বিক্ষোভ দেখাচ্ছে সবুজ-মেরুন জনতা। দিনকয়েক আগেই প্রেস ক্লাবের সামনেও বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন সমর্থকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে। 

আরও পড়ুন পুজোয় আসছে গোলন্দাজ, তার আগেই নগেন্দ্রপ্রসাদের নামে লিগ চালুর দাবি তুললেন মোহনবাগান কর্তা

সেই বিক্ষোভের ছবিই এবার নিজের টুইটার হ্যান্ডেলে পোস্ট করলেন বিখ্যাত ফুটবল প্রেজেন্টার জো মরিসন। TEN SportsTEN Action+, SONY SIX সহ বিভিন্ন চ্যানেলে কাজ করেছেন তিনি। তাঁর জনপ্রিয় শো  C2K (কাউন্টডাউন টু কিকঅফ) বিপুল জনপ্রিয়তা এনে দেয় তাঁকে। তিনিই এবার সবুজ-মেরুন জনতার বিক্ষোভের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘What a photo.’ 

বিক্ষোভের সূত্রপাত্র গতবছর মোহনবাগান এবং এটিকে মার্জ করায়। যদিও সেই বিক্ষোভ খানিক কমলেও কয়েকদিন আগে থেকেই আবার পথে নেমেছেন মোহনবাগান জনতা। বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এটিকের বোর্ড মেম্বার উৎসব পারেখের একটি মন্তব্যে। চলতি বছরে এটিকে-মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বেও পৌঁছেছিল। যদিও ইন্টারজোনাল সেমিফাইনালে ‘এফসি নাসাফ উজবেকিস্তান’এর কাছে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে গঙ্গাপাড়ের ক্লাবের। কিন্তু এএফসি কাপে খেলা সম্ভব হয়েছে গত বছর কিবু ভিকুনার কোচিংয়ে ‘মোহনবাগান’ আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায়।

একটি সাক্ষাৎকারে পারেখ হঠাৎই বলে বসেন, ‘মোহনবাগানের নিজেদের ক্ষমতায় এএফসি কাপে খেলার যোগ্যতা নেই। ওদের কখনও পরিকল্পনাতেও ছিল না যে মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলতে পারবে। মোহনাবাগন তো নিজস্ব গায়ের জোরে আজ পর্যন্ত খেলল না।  এতদিন সেই কারণেই এএফসি কাপে খেলেনি তারা। এটিকে আসাতেই সেই সুযোগ পেয়েছে তারা। ফলে মোহনবাগান সমর্থকদের এটিকে মোহনবাগানকেই সমর্থন করা উচিত। মোহনবাগান এখন অতীত।’

ATK Mohun Bagan
এটিকের নামও এভাবেই মিলিয়ে যাক, এমনটাই চাইছেন মোহনবাগান জনতা।

পারেখ-কান্ডের পরেই মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের পক্ষ থেকে এটিকে-মোহনবাগানের অন্যতম ডিরেক্টর দেবাশীষ দত্ত এবং সৃঞ্জয় বসু জানিয়ে দেন, সমর্থকদের আবেগকে গুরুত্ব দিতেই হবে। উৎসব পারেখের বক্তব্য অপমান করেছে মোহনবাগানের শতাব্দীপ্রাচীন আবেগকে। তারপরেই এটিকের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়া হয় মোহনবাগান ক্লাবে সভ্য-সমর্থকদের কাছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, উৎসব পারেখের বক্তব্যকে সমর্থন করেন না তাঁরা। যদিও তাতেও কমছে না সবুজ-মেরুন সমর্থকদের রাগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সমর্থক জানিয়েছেন, ‘যতদিন না এটিকের নাম মায়ের নামের সামনে থেকে সরবে, ততদিন আমরা বিক্ষোভ চালিয়ে যাবো। জো মরিসন আমাদের বিক্ষোভের ছবি টুইট করেছেন, এবার কয়েকদিনের মধ্যেই এটিকের সরে যাওয়ার খবরও তিনি টুইট করবেন।’

প্রসঙ্গত, গত বছরও এটিকে-মোহনবাগানের নতুন জার্সিতে তিনটি স্টার থাকা এবং ক্রমাগত তাদের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বলে উল্লেখ করায় ক্ষিপ্ত হয়েছিলেন সবুজ-মেরুন সমর্থকেরা। তাদের ক্রমাগত আন্দোলনের পরে তিন স্টার সরিয়ে নিয়েছে ক্লাব অফিসিয়ালরা। ঝামেলা বেড়েছিল আইএসএলের একটি প্রোমোশনাল ভিডিওকে ঘিরেও। ওই ভিডিওতে দেখা যায় এটিকের অন্যতম কর্ণধার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। সবুজ-মেরুন জনতার বিক্ষোভে সেই ভিডিওটিও সরিয়ে নিয়েছিল আইএসএল কর্তৃপক্ষ।

 

 

পুজোয় আসছে ‘গোলন্দাজ’, তার আগেই নগেন্দ্রপ্রসাদের নামে লিগ চালুর দাবি তুললেন মোহনবাগান কর্তা

স্পোর্টস ডেস্ক: মাত্র ১০ বছর বয়সে ময়দানে গোরা সৈন্যদের ফুটবল খেলা দেখে আকৃষ্ট হয়েছিলেন এক বাঙালি। সেই নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর অদম্য জেদের কাহিনি পর্দায় ফুটিয়ে তুলছেন দেব। পুজোয় মুক্তি পেতে চলেছে তাঁর ছবি ‘গোলন্দাজ’। সদ্য সেই ছবির অ্যান্থেম লঞ্চ করেছেন অভিনেতা দেব ও পরিচালক ধ্রুব বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পরেই নগেন্দ্রপ্রসাদের নামে ফুটবল লিগ চালু করার দাবি তুললেন মোহনবাগান কর্তা।

মোহনবাগান অর্থসচিব দেবাশিস দত্ত জানান, ‘‘যিনি ভারতীয় হিসেবে প্রথম ফুটবলে পা দিয়েছিলেন, তাঁর নামে ফেডারেশনের উচিত আই লিগ বা আইএসএল শুরু করা।’’ ছবির অ্যান্থেম লঞ্চ অনুষ্ঠানে সিনেমার কলাকুশলীরা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহামেডান কর্তারাও। সেখানেই এই দাবি করেন মোহনবাগানের অর্থসচিব। ইস্টবেঙ্গল কর্তা সদানন্দ মুখোপাধ্যায়ও বলেন, ‘‘নগেন্দ্রপ্রসাদ দল গড়ার সময় কোনওদিন জাতপাতের বিচার করেননি। এরকম একজন মানুষের জীবনী আমরা গোলন্দাজে দেখতে পারব।’’

সিনেমায় নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর ভূমিকায় রয়েছেন দেব। ছবিতে শোভাবাজারের রানি এবং নগেন্দ্রপ্রসাদের স্ত্রী কমলিনীর ভূমিকায় ঈশা সাহা। এছাড়াও চমক রয়েছে সিনেমার কাস্টিংয়েও। রাজবাড়ির রাজা আনন্দকৃষ্ণের ভূমিকায় চিত্রনাট্যকার পদ্মনাভ দাশগুপ্ত। সূর্য কুমার সর্বাধিকারী ওরফে দেবের বাবার ভূমিকায় শ্রীকান্ত আচার্য। প্রসন্ন কুমার সর্বাধিকারীর চরিত্রে থাকছেন পরিচালক-অভিনেতা জয়দীপ মুখোপাধ্যায়।

নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারীর ভূমিকায় রয়েছেন দেব। ভারতীয় ফুটবলের জনক নগেন্দ্রপ্রসাদ সর্বাধিকারী।

আরও পড়ুন এবারে শীতে বড় পর্দায় আসতে চলেছে দেব-রুক্মিণীর ‘কিশমিশ’, প্রকাশ্যে ছবির অ্যানিমেটেড টিজার

‘গোলন্দাজ’ মুক্তি পাওয়ার কথা ছিল ২০২০-র স্বাধীনতা দিবসে। অতিমারীর কারণে তা আটকে যায়। এই বছর পুজোয় আগামী ১০ অক্টোবর মুক্তি পাবে এই ছবি। 

এএফসি’র টিকিটে শুধুই Mohun Bagan, ATK উধাও হওয়ায় উচ্ছ্বসিত সবুজ-মেরুন সমর্থকরা

Mohun Bagan

স্পোর্টস ডেস্ক: এএফসি কাপের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আজ ইন্টারজোনাল সেমিফাইনাল খেলতে নামবে মোহনবাগান (Mohun Bagan)। ‘এফসি নাসাফ উজবেকিস্তান’কে হারাতে পারলে ভারতীয় ক্লাব হিসেবে ইতিহাস গড়বে সবুজ-মেরুন। সেই লক্ষ্যেই আজ দল তাসখন্দের মাঠে নামবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন মোহনবাগান অফিসিয়ালরা। কিন্তু মোহনবাগান মাঠে নামার আগেই উচ্ছ্বসিত সবুজ-মেরুন সমর্থকেরা। 

আরও পড়ুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে আজ মাঠে নামছে Mohun Bagan

কোভিড বিধি মেনেই দর্শক প্রবেশে অনুমতি দেওয়া হয়েছে তাসখন্দের নাসাফ স্টেডিয়ামে। এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের সেই টিকিটে লেখা হয়েছে ‘এফসি নাসাফ বনাম মোহনবাগান’, উধাও এটিকে। কিছু দিন আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এটিকের বোর্ড মেম্বার উৎসব পারেকের একটি মন্তব্যে। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি হঠাৎই বলে বসেন, ‘মোহনবাগানের নিজেদের ক্ষমতায় এএফসি কাপে খেলার যোগ্যতা নেই। ওদের কখনও পরিকল্পনাতেও ছিল না যে মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলতে পারবে। মোহনবাগান সমর্থকদের এটিকে মোহনবাগানকেই সমর্থন করা উচিত। মোহনবাগান এখন অতীত।’

এটিকের নামও এভাবেই মিলিয়ে যাক, এমনটাই চাইছেন মোহনবাগান জনতা।

তাঁর এই মন্তব্যের পরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিল বাগান সমর্থকরা। বিক্ষোভের পরে #RemoveATK এবং #BreakTheMerger হ্যাসট্যাগ দুটি আবার ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ATK-এর সঙ্গে মাতৃসম ক্লাব মোহনবাগানের (Mohun Bagan) মার্জার ভাঙার দাবিতে ক্রমাগত বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন আপামর সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। এবার এএফসির টিকিটে ATK-এর নাম না থাকায় উচ্ছ্বসিত সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। যদিও এর আগে এএফসি কাপেরই গ্রুপ পর্বের ম্যাচে স্কোরবোর্ডে শুধু মোহনবাগানের নাম থাকলেও পরে ফিরে এসেছিল এটিকের নাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিওতে মোহনবাগানের বর্তমান জার্সি এবং পালতোলা নৌকার ছবি দেওয়া মাস্ক পরে এটিকে’কে একহাত নিয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। 

মোহনবাগানকে আসন্ন ম্যাচের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রসুন। ‘রয় কৃষ্ণা টিমের হিরো’, ‘কোটাল-প্রবীর দুর্দান্ত খেলছে’, ‘হাবাসকে ধন্যবাদ’ শোনা গেলেও গোটা ভিডিওতে একবারও তাঁর মুখে আসেনি এটিকের নাম। বারবার ‘মোহনবাগান’ সম্বোধন করেই তিনি জানান, “মোহনবাগান মোহনবাগানের নামেই এগিয়ে চলেছে। বাকি সব গৌণ। মোহনবাগান মা, ২২ তারিখ সবাই সব ভুলে টিভির সামনে বসে গলা ফাঁটাবে মোহনবাগানের জয়ের জন্য। ইতিহাস তৈরি করবে মোহনবাগান।”

যদিও এই সমস্ত কিছুতে মোহনবাগান খেলোয়াড়দের মনোবলে সমস্যা না হয় সেদিকেও নজর রাখছেন কর্তারা। দু’দিন আগেই মোহনবাগান দলকে ভার্চুয়াল শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ভারী বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এবং কলকাতার জমা জল ঠেলেই ময়দানে জমা হয়েছিলেন সবুজ মেরুন সমর্থকরা। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ম্যাচের আগেই ক্লাবের তরফে যাবতীয় শুভেচ্ছাবার্তা মোহনবাগান শিবিরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সুদূর তাসখন্দে বসেও যাতে সমর্থকদের ভালবাসা এবং সমর্থন পায় রয় কৃষ্ণা-ডেভিড উইলিয়ামস-প্রীতম কোটাল-প্রবীর দাসরা। 

Mohun Bagan

জয়ের ব্যপারে আশাবাদী কোচ অ্যান্তোনীয় লোপেজ হাবাসও। হাবাস বলেছেন, “বিশ্বে কোনও কোচই জয়ের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তবে দুবাইয়ে আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভাল হয়েছে। নাসাফ যে যথেষ্ট শক্তিশালী, তা আমাদের মাথায় আছে। ওদের হারানোর মতো ক্ষমতা আমাদের আছে।” 

১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এফসি এফসি নাসাফ উজবেকিস্তান সুপার লিগে কারশি শহরের প্রতিনিধিত্ব করে। উজবেকিস্তানের অন্যতম সফল ক্লাব তাদের সমর্থকদের কাছে “ড্রাগন” নামে বেশি জনপ্রিয়। গত মরশুমে উজবেক লিগে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে তারা। এর আগে দু’বার এএফসি কাপে অংশগ্রহন করেছে তারা। ২০১১ সালে এএফসি কাপ চ্যাম্পিয়নও হয়েছে।

ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যে আজ মাঠে নামছে Mohun Bagan

Mohun Bagan

স্পোর্টস ডেস্ক: এএফসি কাপের গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে আজ ইন্টারজোনাল সেমিফাইনাল খেলতে নামবে মোহনবাগান (Mohun Bagan)। ‘এফসি নাসাফ উজবেকিস্তান’কে হারাতে পারলে ভারতীয় ক্লাব হিসেবে ইতিহাস গড়বে সবুজ-মেরুন। সেই লক্ষ্যেই আজ দল তাসখন্দের মাঠে নামবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন মোহনবাগান অফিসিয়ালরা।

আরও পড়ুন ‘মোহন’-এর নামেই ‘বাগান’ এগিয়ে চলেছে;, এটিকেকে ঠুকলেন প্রসুন?‘

জয়ের ব্যপারে আশাবাদী কোচ অ্যান্তোনীয় লোপেজ হাবাসও। হাবাস বলেছেন, “বিশ্বে কোনও কোচই জয়ের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তবে দুবাইয়ে আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভাল হয়েছে। নাসাফ যে যথেষ্ট শক্তিশালী, তা আমাদের মাথায় আছে। ওদের হারানোর মতো ক্ষমতা আমাদের আছে।” 

১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এফসি এফসি নাসাফ উজবেকিস্তান সুপার লিগে কারশি শহরের প্রতিনিধিত্ব করে। উজবেকিস্তানের অন্যতম সফল ক্লাব তাদের সমর্থকদের কাছে “ড্রাগন” নামে বেশি জনপ্রিয়। গত মরশুমে উজবেক লিগে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে তারা। এর আগে দু’বার এএফসি কাপে অংশগ্রহন করেছে তারা। ২০১১ সালে এএফসি কাপ চ্যাম্পিয়নও হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এটিকের বোর্ড মেম্বার উৎসব পারেকের একটি মন্তব্যে। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি হঠাৎই বলে বসেন, ‘মোহনবাগানের নিজেদের ক্ষমতায় এএফসি কাপে খেলার যোগ্যতা নেই। ওদের কখনও পরিকল্পনাতেও ছিল না যে মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলতে পারবে। মোহনবাগান সমর্থকদের এটিকে মোহনবাগানকেই সমর্থন করা উচিত। মোহনবাগান এখন অতীত।’

তাঁর এই মন্তব্যের পরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিল বাগান সমর্থকরা। #RemoveATK এবং #BreakTheMerger হ্যাসট্যাগ দুটি আবার ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এখনও ATK-এর সঙ্গে মাতৃসম ক্লাব মোহনবাগানের (Mohun Bagan) মার্জার ভাঙার দাবিতে ক্রমাগত বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন আপামর সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিওতে মোহনবাগানের বর্তমান জার্সি এবং পালতোলা নৌকার ছবি দেওয়া মাস্ক পরে এটিকে’কে একহাত নিয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। 

মোহনবাগানকে আসন্ন ম্যাচের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রসুন। ‘রয় কৃষ্ণা টিমের হিরো’, ‘কোটাল-প্রবীর দুর্দান্ত খেলছে’, ‘হাবাসকে ধন্যবাদ’ শোনা গেলেও গোটা ভিডিওতে একবারও তাঁর মুখে আসেনি এটিকের নাম। বারবার ‘মোহনবাগান’ সম্বোধন করেই তিনি জানান, “মোহনবাগান মোহনবাগানের নামেই এগিয়ে চলেছে। বাকি সব গৌণ। মোহনবাগান মা, ২২ তারিখ সবাই সব ভুলে টিভির সামনে বসে গলা ফাঁটাবে মোহনবাগানের জয়ের জন্য। ইতিহাস তৈরি করবে মোহনবাগান।”

যদিও এই সমস্ত কিছুতে মোহনবাগান খেলোয়াড়দের মনোবলে সমস্যা না হয় সেদিকেও নজর রাখছেন কর্তারা। দু’দিন আগেই মোহনবাগান দলকে ভার্চুয়াল শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ভারী বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এবং কলকাতার জমা জল ঠেলেই ময়দানে জমা হয়েছিলেন সবুজ মেরুন সমর্থকরা। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ম্যাচের আগেই ক্লাবের তরফে যাবতীয় শুভেচ্ছাবার্তা মোহনবাগান শিবিরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সুদূর তাসখন্দে বসেও যাতে সমর্থকদের ভালবাসা এবং সমর্থন পায় রয় কৃষ্ণা-ডেভিড উইলিয়ামস-প্রীতম কোটাল-প্রবীর দাসরা। 

তাসখন্দের মাঠে নাসাফ’কে হারিয়ে ইতিহাস গড়তে মরিয়া Mohun Bagan

স্পোর্টস ডেস্ক: এটিকে-মোহনবাগান (Mohun Bagan) এএফসি কাপে খেলছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বেও পৌঁছেছে। আর দেড়দিন পরেই ২২ সেপ্টেম্বর ইন্টারজোনাল সেমিফাইনাল খেলতে নামবে ‘এফসি নাসাফ উজবেকিস্তান’ এর বিরুদ্ধে।  তাদের হারাতে পারলে ভারতীয় ক্লাব হিসেবে ইতিহাস গড়বে মোহনবাগান।

আরও পড়ুন ‘মোহন’-এর নামেই ‘বাগান’ এগিয়ে চলেছে, এটিকে’কে ঠুকলেন প্রসুন?‘

অন্যদিকে এএফসি কাপের আন্তঃজোনাল পর্বের সেমিফাইনাল খেলতে ইতিমধ্যেই তাসখন্দে পৌঁছে গিয়েছে মোহনবাগান। সোমবার বিকেলে তাসখন্দের কারশি স্টেডিয়ামের মাঠে অনুশীলন করে এটিকে মোহনবাগান। উজবেকিস্তানের দলের বিরুদ্ধে প্রথম একাদশে কারা খেলবেন তা এখনও ঠিক করেননি সবুজ-মেরুন কোচ আন্তোনিয়ো হাবাস।

১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এফসি এফসি নাসাফ উজবেকিস্তান সুপার লিগে কারশি শহরের প্রতিনিধিত্ব করে। উজবেকিস্তানের অন্যতম সফল ক্লাব তাদের সমর্থকদের কাছে “ড্রাগন” নামে বেশি জনপ্রিয়। গত মরশুমে উজবেক লিগে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে তারা। এর আগে দু’বার এএফসি কাপে অংশগ্রহন করেছে তারা। ২০১১ সালে এএফসি কাপ চ্যাম্পিয়নও হয়েছে।

প্রসঙ্গত, কিছু দিন আগেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এটিকের বোর্ড মেম্বার উৎসব পারেকের একটি মন্তব্যে। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি হঠাৎই বলে বসেন, ‘মোহনবাগানের নিজেদের ক্ষমতায় এএফসি কাপে খেলার যোগ্যতা নেই। ওদের কখনও পরিকল্পনাতেও ছিল না যে মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলতে পারবে। মোহনবাগান সমর্থকদের এটিকে মোহনবাগানকেই সমর্থন করা উচিত। মোহনবাগান এখন অতীত।’

তাঁর এই মন্তব্যের পরেই বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছিল বাগান সমর্থকরা। #RemoveATK এবং #BreakTheMerger হ্যাসট্যাগ দুটি আবার ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। এখনও ATK-এর সঙ্গে মাতৃসম ক্লাব মোহনবাগানের (Mohun Bagan) মার্জার ভাঙার দাবিতে ক্রমাগত বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন আপামর সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিওতে মোহনবাগানের বর্তমান জার্সি এবং পালতোলা নৌকার ছবি দেওয়া মাস্ক পরে এটিকে’কে একহাত নিয়েছেন প্রাক্তন ফুটবলার প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়ও। 

মোহনবাগানকে আসন্ন ম্যাচের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রসুন। ‘রয় কৃষ্ণা টিমের হিরো’, ‘কোটাল-প্রবীর দুর্দান্ত খেলছে’, ‘হাবাসকে ধন্যবাদ’ শোনা গেলেও গোটা ভিডিওতে একবারও তাঁর মুখে আসেনি এটিকের নাম। বারবার ‘মোহনবাগান’ সম্বোধন করেই তিনি জানান, “মোহনবাগান মোহনবাগানের নামেই এগিয়ে চলেছে। বাকি সব গৌণ। মোহনবাগান মা, ২২ তারিখ সবাই সব ভুলে টিভির সামনে বসে গলা ফাঁটাবে মোহনবাগানের জয়ের জন্য। ইতিহাস তৈরি করবে মোহনবাগান।”

যদিও এই সমস্ত কিছুতে মোহনবাগান খেলোয়াড়দের মনোবলে সমস্যা না হয় সেদিকেও নজর রাখছেন কর্তারা। আজই মোহনবাগান দলকে ভার্চুয়াল শুভেচ্ছা জানানোর জন্য ভারী বৃষ্টি মাথায় নিয়ে এবং কলকাতার জমা জল ঠেলেই ময়দানে জমা হয়েছিলেন সবুজ মেরুন সমর্থকরা। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ম্যাচের আগেই ক্লাবের তরফে যাবতীয় শুভেচ্ছাবার্তা মোহনবাগান শিবিরে পৌঁছে দেওয়া হবে। সুদূর তাসখন্দে বসেও যাতে সমর্থকদের ভালবাসা এবং সমর্থন পায় রয় কৃষ্ণা-ডেভিড উইলিয়ামস-প্রীতম কোটাল-প্রবীর দাসরা। 

‘মোহন’-এর নামেই ‘বাগান’ এগিয়ে চলেছে’, এটিকে’কে ঠুকলেন প্রসুন?‘

স্পোর্টস ডেস্ক: আবার বিক্ষোভ দানা বেঁধেছে ময়দানে। #RemoveATK এবং #BreakTheMerger হ্যাসট্যাগ দুটি আবার ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। ATK-এর সঙ্গে মাতৃসম ক্লাব মোহনবাগানের (Mohun Bagan) মার্জার ভাঙার দাবিতে ক্রমাগত বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন আপামর সবুজ-মেরুন সমর্থকরা। তাদেরকেই যেন সমর্থন করলেন মোহনবাগানের ঘরের ছেলে প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন বার্সেলোনার নতুন ভরসা আনসু ১০ ফাতি

প্রসুণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রাক্তন আন্তর্জাতিক ফুটবলার এবং অর্জুন পুরস্কারে (১৯৭৯) সম্মানিত। সেন্ট্রাল ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হিসাবে মোহনবাগান ক্লাবের সর্বকালের সেরা একদশ দলে বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মোহনবাগানের হয়ে টানা পাঁচ বছর (১৯৭৪-১৯৭৮) অধিনায়কত্ব করেছেন। ক্লাব জীবনে পাঁচটি আইএফএ শিল্ড-সহ মোট ২৮টি ট্রফি তুলেছেন গঙ্গাপাড়ের ক্লাব তাবুতে। মোহনবাগানের বর্তমান জার্সি এবং পালতোলা নৌকার ছবি দেওয়া মাস্ক পরে এবার সবুজ-মেরুনকে আসন্ন এএফসি কাপের ইন্টার জোনাল সেমিফাইনালের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর পোস্ট করা সেই ভিডিও দেখেই অনুরাগীরা বলছেন, ‘এটিকে’কে ঠুকেছেন মোহনাবাগানের ঘরের ছেলে প্রসুন’।

Mohun Bagan
কর্পোরেট ‘এটিকে মোহনবাগান’ নয়, শতাব্দীপ্রাচীন ‘মোহনবাগান’ এর ঐতিহ্যের কথাই বারবার বুঝিয়েছেন প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়।

এটিকে-মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলছে। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে পরের পর্বেও পৌঁছেছে। ২২ সেপ্টেম্বর ইন্টারজোনাল সেমিফাইনাল খেলতে নামবে ‘এফসি নাসাফ উজবেকিস্তান’ এর বিরুদ্ধে। এই সবই সম্ভব হয়েছে গত বছর কিবু ভিকুনার কোচিংয়ে ‘মোহনবাগান’ আই লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ায়। কিন্তু তারমাঝেই বিতর্ক তৈরি করে এটিকের বোর্ড মেম্বার উৎসব পারেখ একটি সাক্ষাৎকারে হঠাৎই বলে বসেন, ‘মোহনবাগানের নিজেদের ক্ষমতায় এএফসি কাপে খেলার যোগ্যতা নেই। ওদের কখনও পরিকল্পনাতেও ছিল না যে মোহনবাগান এএফসি কাপে খেলতে পারবে। মোহনবাগান সমর্থকদের এটিকে মোহনবাগানকেই সমর্থন করা উচিত। মোহনবাগান এখন অতীত।’

মোহনবাগানকে আসন্ন ম্যাচের জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রসুন। ‘রয় কৃষ্ণা টিমের হিরো’, ‘কোটাল-প্রবীর দুর্দান্ত খেলছে’, ‘হাবাসকে ধন্যবাদ’ শোনা গেলেও গোটা ভিডিওতে একবারও তাঁর মুখে আসেনি এটিকের নাম। বারবার ‘মোহনবাগান’ সম্বোধন করেই তিনি জানান, “মোহনবাগান মোহনবাগানের নামেই এগিয়ে চলেছে। বাকি সব গৌণ। মোহনবাগান মা, ২২ তারিখ সবাই সব ভুলে টিভির সামনে বসে গলা ফাঁটাবে মোহনবাগানের জয়ের জন্য। ইতিহাস তৈরি করবে মোহনবাগান।”

আরও পড়ুন ATK-নাম মোছার দাবিতে এবার বিক্ষোভের পথে সবুজ-মেরুন জনতা

১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এফসি এফসি নাসাফ উজবেকিস্তান সুপার লিগে কারশি শহরের প্রতিনিধিত্ব করে। উজবেকিস্তানের অন্যতম সফল ক্লাব তাদের সমর্থকদের কাছে “ড্রাগন” নামে বেশি জনপ্রিয়। গত মরশুমে উজবেক লিগে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করে তারা। এর আগে দু’বার এএফসি কাপে অংশগ্রহন করেছে তারা। ২০১১ সালে এএফসি কাপ চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। তাদের হারাতে পারলে ভারতীয় ক্লাব হিসেবে ইতিহাস গড়বে মোহনবাগান। এটিকে’কে ভুলে সবুজ-মেরুন সমর্থকদের সেই পালতোলা নৌকোর সেই ইতিহাসের কথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন ‘মোহনবাগান রত্ন’ (২০১৯) প্রসুন বন্দ্যোপাধ্যায়।

মোহনবাগানের শিল্ড জেতা ছাড়াও ১৯১১ সালে আরও দু’টি ঘটনা ঘটেছিল

Mohun Bagan and the fight for Indian independence

বিশেষ প্রতিবেদন: ১৯১১ সাল বললেই বাঙালির মনে পড়ে যায় মোহনাবাগানের ব্রিটিশদের হারিয়ে আইএফএ শিল্ড জেতার কথা৷ বাঙালিদের কাছে তো বটেই গোটা দেশের কাছে সেদিনের মোহনবাগানের জয়টা স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতীক হয়ে গিয়েছে৷ সেই জয়ের মাধ্যমে যেন পরাধীনতার গ্লানি থেকে আলাদা মুক্তির স্বাদ পেয়েছিল কলকাতার মানুষ৷

এদিকে ওই বছরটায় বাঙালির জীবনে আরও দু’টি ঘটনা ঘটে গিয়েছিল৷ একটা হল স্বদেশি আন্দোলনের জেরে ব্রিটিশ সরকার পিছু হটে বঙ্গভঙ্গ রদ করেছিল৷ অন্যদিকে পাশাপাশি ঘোষণা করা হয়, ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানান্তরিত করা হবে৷

গত শতাব্দীর শুরুতে জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্ব ছিল বাঙালির নিয়ন্ত্রণে৷ আর তখন বাঙালিই বলতে গেলে গোটা দেশকে পথ দেখাচ্ছে ৷ ভারতের রাজধানী কলকাতায় বাঙালির প্রগতিশীল জাতীয়তাবাদী মনোভাব দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন লর্ড কার্জন৷ রাজনৈতিক চেতনা সম্পন্ন বাঙালিকে দুর্বল করতে ১৯০৫ সালে বাংলা ভাগকেই একমাত্র উপায় বলে মনে হয়েছিল বড়লাটের ৷ বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ চেয়েছিল, একটি মুসলমান প্রধান রাজ্য গঠন করতে ৷ এর আসল উদ্দেশ্য ছিল বাংলায় হিন্দু-মুসলমানদের মধ্য বিভেদ সৃষ্টি করা ৷ কার্জনের পরিকল্পনা বানচাল করতে নড়ে চড়ে উঠল বাঙালি৷

ওই সময় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিপ্লবীরা যখন লড়ছে তখনই আবার ফুটবল মাঠে গোরাদের বিরুদ্ধে লড়ে গেল মোহনবাগান৷ ১৯১১সালে ২৯জুলাই ব্রিটিশদের দল ইস্ট ইয়র্কশায়ারকে হারিয়ে মোহনবাগান ক্লাব আই এফ এ শিল্ড জিতল৷ বুট পরা গোরাদের সঙ্গে সেদিন খালি পায়ে খেলে ২-১ গোলে জিতেছিল মোহনবাগান ৷ যা বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলেনর যুগে অন্যমাত্রা পেয়েছিল৷

কিন্তু এই ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই অবশ্য ১৯১১ সালের ১২ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী কলকাতা থেকে দিল্লিতে স্থানাস্থরিত করার কথা ঘোষণা করেছিলেন সম্রাট পঞ্চম জর্জ। আর সেদিনই অবশ্য ঘোষণা করা হয়েছিল বঙ্গভঙ্গ রদের কথা।

দ্বিতীয় ঘোষণা ঘিরে বাঙালির বিজয়োল্লাসের শেষ ছিল না৷ অনেকেই সেদিন গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন-Settle Fact -কে Unsettle Fact করা গিয়েছে৷ কিন্তু বঙ্গভঙ্গ রদের অন্তরালে এই রাজধানী স্থানান্তরের মাধ্যমে ধীরে ধীরে আর্থ-সামাজিক-রাজনৈতিক দিক থেকে চরম আঘাত আনা হয়েছিল কলকাতার উপর। সেদিনের capital shift এর অর্থ শুধুমাত্র রাজধানী স্থানান্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তা যে আদতে কলকাতা থেকে মূলধনের স্থানান্তরও ঘটিয়েছিল ৷

বক্তৃতা- গান- বোমার মাধ্যমে যারা বঙ্গভঙ্গ রদ করতে চেয়েছিলেন তাদের যেন উচিত শিক্ষা দিয়ে গেলেন ব্রিটিশ সম্রাট ৷ তাঁর কূটনৈতিক চাল তখন বুঝতে পারেনি আপামর বাঙালি৷ তখন থেকেই আসলে শুরু হল কলকাতার পতন ৷ আর তার আগে দুই শতাব্দী ধরে নানা আক্রমণে জর্জরিত দিল্লি যেন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর রসদ পেল৷ কলকাতার এসপ্লানেড- ডালহাউসি অঞ্চল থেকে সরকারি দফতর সরল দিল্লিতে৷ আবার ক্লাইভ স্ট্রিট অথবা চৌরঙ্গিতে থাকা ম্যানেজিং এজেন্সিগুলি কেমন যেন প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে লাগল প্রতিদ্বন্দ্বী বম্বের সঙ্গে৷

বঙ্গভঙ্গ রদ হলেও তার আগে অনেক রক্ত ক্ষয়,জেল দ্বীপান্তর ঘটেছিল ৷ অন্যদিকে অর্থনৈতিক ক্ষতির সীমা পরিসীমা থাকল না৷ রাজনৈতিক প্রতিবাদের ফলে ১৯১১ সালে বঙ্গ আবার একত্রিত হল ঠিকই কিন্তু ভাষাতাত্ত্বিক এক নতুন মাধ্যমে বিহার, ওডিশা, অসমের অঞ্চলগুলো বঙ্গ হতে বিচ্ছিন্ন করে আলাদা প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় আনা হয়।

পাট ও অন্যান্য কৃষি পণ্যে সম্বৃদ্ধ সুর্মা ভ্যালি বেরিয়ে গেল৷ বাদ পড়ল খনিজ সম্পদে সম্বৃদ্ধ মানভূম সিংভূম জেলা৷ একদিকে পাটের মতো কৃষি পণ্য অন্যদিকে লোহা কয়লা ম্যাঙ্গানিজ অভ্র সহ কত রকমের খনিজ পণ্য সম্বৃদ্ধ অঞ্চলকে বাংলা হারাল৷ বাংলার অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়ে বাঙালির উপর ভালই প্রতিশোধ নিল ব্রিটিশ৷ পাশাপাশি রাজনৈতিক-সামাজিক পরিস্থিতি এমনই অস্থির করে তোলা হল যার জেরে সাড়ে তিন-চার দশক পরে বঙ্গভঙ্গকেই মেনে নিল বাঙালি৷