Punjab: কংগ্রেসের ঘরে ‘উড়তা’ ভাজ্জি, সিধুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা

Harbhajan Singh says goodbye to international cricket

News Desk: একজন ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের নিয়মিত ওপেনার। অন্যজন ছিলেন ভারতীয় বোলিং বিভাগের অন্যতম স্তম্ভ। এই দুই বিখ্যাত ব্যক্তি এবার জোট বেঁধে নামতে পারেন রাজনীতির ময়দানে। এই দুইজন হলেন পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নভজ্যোত সিং সিধু এবং অন্যজন হলেন সদ্য ক্রিকেটকে বিদায় জানানো স্পিনার ভজন সিং।

অবসর নিয়ে তিনি কি রাজনীতিতে যোগ দিচ্ছেন? এই প্রশ্নের উত্তরে হরভজন বলেছেন, আমি পাঞ্জাবের মানুষের সেবা করতে চাই। রাজনীতির মাধ্যমে হোক বা অন্য কোনওভাবে, আমি শুধু মানুষের সেবা করতে চাই। আমি এ রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের চিনি। তাই আমি যদি কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দিই তাহলে সেটা জানিয়ে দেব। এখনই রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে আমি কোনও সিদ্ধান্ত নিইনি।
সম্প্রতি হরভজনকে সিধুর সঙ্গে বেশি ঘনিষ্ঠভাবে দেখা গিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁদের একটি ছবিও ভাইরাল হয়েছে। হরভজনের কংগ্রেসে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে সিধু সরাসরি কোনও উত্তর দেননি। তিনি হেসে বলেন, এই ছবিটাই তো সবকিছু বলে দিচ্ছে।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, সিধু চাইছেন পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনের আগে হরভজন যেন কংগ্রেসে যোগ দেন। কারণ হরভজন কংগ্রেসে যোগ দিলে দোয়াবা অঞ্চলে কংগ্রেসের শক্তি নিশ্চিতভাবেই বাড়বে। তাঁর বিজেপিতে যোগদানের খবরকে ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উল্লেখ করেছেন হরভজন।

এর আগে মহম্মদ আজহারউদ্দিন, কীর্তি আজাদের মত প্রাক্তন ক্রিকেটাররা যোগ দিয়েছেন রাজনীতিতে। সিধু প্রথমে বিজেপিতে পরে কংগ্রেসে যোগ দেন। আগামী বছরের শুরুতেই পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু নির্বাচনের আগে রাজ্যের শাসক দল কংগ্রেস অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জর্জরিত।

কৃষি আইনকে কেন্দ্র করে পাঞ্জাবে বিজেপি ব্যাকফুটে চলে গেলেও দলীয় কোন্দলের কারণে কংগ্রেস পাঞ্জাবে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে সিধু কংগ্রেসকে রাজ্যে ক্ষমতায় ফেরতে চাইছেন। সে কারণেই তিনি তড়িঘড়ি হরভজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। কারণ পাঞ্জাবে হরভজনের বিশেষ জনপ্রিয়তা আছে।

কিছুদিন আগে শোনা যাচ্ছিল হরভজন বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। তিনি বলেছেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিছকই কল্পনা এবং গুজব।

সদ্য অবসর নেওয়া হরভজন সিং দীর্ঘ ১৮ বছর ভারতীয় দলের হয়ে ক্রিকেট খেলেছেন। ২০০১ সালে ইডেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর হ্যাটট্রিক ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ২০০৭ সালে প্রথম টি-২০ টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০১১ সালে ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের সদস্য ছিলেন হরভজন। শুক্রবার তিনি সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন।

Navjot Singh Sidhu: কেজরিওয়ালের পাঁচ বছরের শাসনের দিল্লিতে বেকার বেড়েছে পাঁচগুণ

Navjot singh sidhu

News Desk, New Delhi: আগামী বছরের শুরুতেই পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচন (Punjab Assembly Election)। ওই রাজ্যে শাসক দল কংগ্রেসের (Congress) বিরুদ্ধে জোরদার প্রচার চালাচ্ছে কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (Aam Admi Party)। তারই পাল্টা জবাব দিতে এবার দিল্লিতে কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধে দিল্লির অতিথি শিক্ষকদের বিক্ষোভ মিছিলে সামিল হলেন পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নভজ্যোত সিং সিধু (Navjot Singh Sidhu) ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের ছবিতে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাড়ির সামনে আন্দোলনরত শিক্ষকদের পাশে বসে সিধু স্লোগান দিচ্ছেন।

২৪ ঘন্টা আগে অর্থাৎ শনিবার সন্ধ্যায় আম আদমি পার্টির নেতা রাঘব চাড্ডা পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরঞ্জিৎ সিং চান্নির নির্বাচনী কেন্দ্র চামকাউর সাহিবে গিয়ে একাধিক অভিযোগ করেন। রাঘব সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, চান্নি বালি মাফিয়াদের সঙ্গে যুক্ত। কেন তাঁর সঙ্গে বালি মাফিয়াদের এত ঘনিষ্ঠতা তা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে জবাব দিতে হবে। অন্যদিকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল পাঞ্জাবের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কৃষকদের সমস্যার মত বিষয়গুলি নিয়ে চান্নি তথা কংগ্রেসের কড়া সমালোচনা করেন

রবিবার দিল্লিতে আপ সরকারকে তারই পাল্টা জবাব দিয়েছেন সিধু। এদিন বিক্ষোভরত দিল্লির অতিথি শিক্ষকদের ওই সমাবেশে যোগ দিয়ে সিধু কেজরি সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, দিল্লির এডুকেশন মডেল হল ‘কন্টাক্ট মডেল’ অর্থাৎ চুক্তির ভিত্তিতে চলে। দিল্লির বেশিরভাগ স্কুলে শিক্ষা কর্মীদের চুক্তির ভিত্তিতে নিয়োগ করা হয়।

কেজরি সরকারের শাসনে দিল্লিতে গত পাঁচ বছরে বেকারের সংখ্যা পাঁচগুণ বেড়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল ও তাঁর সহযোগীরা পাঞ্জাব এ গিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এগুলো যে ভুয়ো তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ওই সমস্ত প্রতিশ্রুতি যদি সত্য হত তাহলে তো কেজরিওয়াল আগে দিল্লিতেই সেই কাজগুলি করে দেখাতেন। যে সমস্ত প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেজরিওয়াল দিল্লিতে ক্ষমতা দখল করেছেন তার কোনওটাই পূরণ করেননি। তার প্রমাণ এই অতিথি শিক্ষকরা।

কেজরিওয়ালের প্রতিশ্রুতির উপর ভরসা করে তাঁরা সাত বছর অপেক্ষা করেছেন। কিন্তু তাতেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। সে কারণেই প্রবল ঠান্ডার মধ্যেও শিক্ষকরা আন্দোলনে নেমেছেন। কংগ্রেস এই শিক্ষকদের পাশেই থাকবে। কারণ তাঁদের দাবি-দাওয়াগুলি যথার্থ। কেজরি দিল্লিতে যে কাজ করতে পারেন না পাঞ্জাবে তার থেকে অনেক বেশি কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, এটা কি আদৌ বিশ্বাসযোগ্য!

Punjab: পঞ্জাবের উন্নয়নের জন্য কংগ্রেসের সামনে এটাই শেষ সুযোগ, দাবি সিধুর

Navjot Singh Sidhu

নিউজ ডেস্ক: পঞ্জাবে কংগ্রেসের ঝামেলা কমার এখনও কোনও লক্ষ্মণই দেখা যাচ্ছে না। পঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে আবার নাটকীয় উপায়ে পদত্যাগ ফিরিয়ে নিয়ে নভজোত সিং সিধু (Navjot Singh Sidhu) কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাইলেন। এ জন্য সিধু সোনিয়াকে একটি চিঠিও লিখেছেন। ওই চিঠিতে তিনি মন্ত্রিসভায় নতুন কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা-সহ ১৩ দফা দাবি পেশ করেছেন।

সিধু ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও দেখা করেছেন। রাহুলের সঙ্গে দেখা করার পর সিধু বলেছিলেন, সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে।

পঞ্জাবের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নির কিছু সিদ্ধান্তে অসন্তুোষ প্রকাশ করে সিধু পঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতির পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। যাই হোক, চান্নি এবং অন্যান্য নেতাদের আবেদনে তিনি সভাপতি পদে থাকতে রাজি হন। পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং এর সঙ্গে সিধুর মতবিরোধ সুপরিচিত। সিধুর অনুগামী বিধায়কদের চাপেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরতে হয়েছিল অমরিন্দরকে।

এদিকে সিধুর উপদেষ্টা এবং প্রাক্তন আইপিএস মহম্মদ মোস্তফার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা বলেছেন, ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং তাঁকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন। রাজিয়া সুলতানা চান্নি সরকারের একজন মন্ত্রী।

সোনিয়া গান্ধীকে লেখা চিঠিতে সিধু বলেছেন, কংগ্রেস দল ২০১৭ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। কংগ্রেস সে সময় জনগণের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সিধুর দাবি, তিনি যে ৫৫ টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচার করেছিলেন, তার মধ্যে কংগ্রেস ৫৩ টিতে জয়লাভ করেছিল।

সিধু উল্লেখ করেছেন, তিনি বিধায়ক, পঞ্জাব মন্ত্রিসভার মন্ত্রী এবং পঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন রাজ্যের উন্নয়নকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সিধু তাঁর চিঠিতে আরও লিখেছেন, ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক সেবা করার পর তিনি জনসাধারণের অনুভূতিগুলি সহজেই বুঝতে পারেন। তাই তিনি অনুভব করছেন যে পঞ্জাবের পুনরুজ্জীবনের জন্য কংগ্রেসের সামনে এটাই শেষ সুযোগ।

Explained: পঞ্জাব কংগ্রেস থেকে নভজ্যোৎ সিং সিধুর পদত্যাগের কারণ

নিউজ ডেস্ক: পুনর্গঠিত পঞ্জাব কংগ্রেস মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের দু’দিন পরেই পদত্যাগ করলেন নভজ্যোত সিং সিধু। সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি দিয়ে টুইট করে জানান যে তিনি রাজ্য কংগ্রেস প্রধানের পদ থেকে সরে যাচ্ছেন। নভজোৎ সিংহ সিধু জানালেন, ‘প্রদেশ সভাপতির পদ ছাড়লেও কংগ্রেসেই আছি। পাঞ্জাবের উন্নয়নের জন্য কোনও সমঝোতা করতে পারব না।’ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং -এর পদত্যাগের কয়েক দিন পর কী কারণে তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন?

AAP always recognised my vision for Punjab: Navjot Singh Sidhu | India  News,The Indian Express

মন্ত্রিসভা গঠন: নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, দোয়াবা অঞ্চলের ছ’জন মন্ত্রী রানা গুরজিৎ সিংয়ের পদোন্নতির বিরুদ্ধে সিধুকে একটি চিঠি দেন। জানা গিয়েছে, সিধুও কপূরথলার বিধায়ক রানা গুরজিৎকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার বিরুদ্ধে ছিলেন, কিন্তু কংগ্রেস হাইকমান্ড তাঁর কথায় , সিধুর ঘনিষ্ঠ পিপিসিসির (Punjab Pradesh Congress Committee) কার্যকরী সভাপতি কুলজিৎ সিং নাগরাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সুখজিন্দর সমস্যা: সিধু পাঞ্জাবের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুখজিন্দর সিং রন্ধাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ গৃহ পোর্টফোলিও দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। সে বিষয়েও দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি।

নতুন এডমিন: পিপিসিসি প্রধান সিধু পাঞ্জাব পুলিশ প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর পছন্দের কোনো কর্মকর্তা পাননি। তা নিয়েও রাজ্যের কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে সমস্যায় জড়িয়েছিলেন সিধু।

আরও পড়ুন Politics: নেহরু থেকে কানহাইয়া, কংগ্রেসের বাম নেতারা বরাবর সুপারহিট

নতুন মুখ্যমন্ত্রী: অমরিন্দর সিংয়ের ইস্তফার পর পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন চরণজিৎ সিংহ চান্নি।এই প্রথম কোনও দলিত মুখ বসেছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে। যদিও অনেকেই একপ্রকার নিশ্চিত ছিলেন, এবার পঞ্জাবের কুর্সিতে বসছেন সিধু। সেই পদ না পাওয়াতেই ইস্তফা দিয়েছেন তিনি, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এছাড়াও রাজ্যের মন্ত্রীদের নাম চূড়ান্ত করার সময় রাহুল গাঁধী চরণজিৎ সিংহ চান্নির সঙ্গেই আলোচনা করেছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন পদে চান্নি যে নামগুলি ঠিক করছেন, তাতেও সিধুর সঙ্গে আলোচনা হয়নি। 

অন্যদিকে জল্পনা ছড়িয়েছে যে, পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংহ খুব শীঘ্রই দিল্লি যাচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্রে জল্পনা চলছে যে, তিনি দিল্লিতে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন অমরিন্দর সিংহ। তারপর থেকে এটি হতে চলেছে তাঁর দ্বিতীয়বার দিল্লি সফর।