সাহসী পদক্ষেপ: বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের মহিষাসুরমর্দিনী চণ্ডীপাঠ ইংরেজিতে

Mahalaya mahisasuramardini in English

বিশেষ প্রতিবেদন: রাত কাটলেই মহালয়া (Mahalaya)। ভোরের মহিষাসুরমর্দিনী (mahisasuramardini) অনুষ্ঠান নিয়ে বাঙালির প্রচুর আবেগ। সেই আবেগ ঠেলে ফেলে দিয়েছিল উত্তম কুমারকেও, যিনি বাঙালির মহানায়ক। তাকেও গ্রহণ করেনি বাঙালি। এবার সেই মহালয়ায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের ( Birendra Krishna Bhadra) বিখ্যাত চণ্ডীপাঠকেই ইংরেজিতে অনুবাদ করে পাঠ করবেন এক বাঙালি। তিনি সুপ্রিয় সেনগুপ্ত।

তিনি স্পষ্ট বলছেন , তিনি ভয় পান না। চেষ্টাটা করতে চান। জানেন একটা আবেগ কাজ করে এই মহালয়াকে কেন্দ্র করে। তবুও তিনি এই মহালয় বানিয়েছেন ইংরাজিতে। এটা তাঁর সুপ্রিয়বাবুর স্বপ্ন ছিল, যা এখন বাস্তব। প্রতিবছর তিনি এই চণ্ডীপাঠকে নানা রূপে সাজান এবং আরও সুন্দর করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই কাজটা প্রথম পরিবেশন করতে তাঁকে প্রচুর গঞ্জনা সহ্য করতে হয়েছে। চেষ্টাটা ছাড়েননি।

Mahalaya mahisasuramardini in English

তাঁর এক বন্ধু অরিন্দম মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন , “আমরা এই মহালয়াটার প্রতি একটু বেশি দুর্বল কেন তার একটা গৌড়চন্দ্রিকা করা প্রয়োজন। আমরা যখন ছোট ছিলাম এই সবে স্নাতকের ছাত্র সেই সময় আমাদের পাড়ার পুজো মণ্ডপে সুপ্রিয় দা প্রথমবার চণ্ডী পাঠ করল। মাইকে সবাই শুনলো। এমনকি বাড়ির অন্দর পর্যন্ত সেই কণ্ঠস্বর পৌছলো মাইকের দৌলতে। ফলে সারা পাড়ায় ওই পাঠ একটা সারা ফেলেছিল।

জেঠিমা, মানে সুপ্রিয়দার মা ছেলের এমন সাফল্যে আরও অনেক বড় স্বপ্ন চোখে বুনে তুলতেন। জেঠিমা বলতেন, দেখো মহালয়া সকলের জন্য। যে সব ছেলে-মেয়েরা বিদেশে চলে গিয়েছে সেখানে সংসার পেতেছে তাঁরা তাঁদের ছেলেমেয়েদের মহালয়া শোনাতে চান বা সম্পর্কে তাঁদের জানাতে চান অথচ তাঁদের ছেলেমেয়েরা বাংলা বোঝেন না জানেন না, তাই মহালয়া হোক ইংরাজিতে কারণ ইংরাজি প্রথম আন্তর্জাতিক ভাষা। জেঠিমা মনে করতেন যে ইংরাজিতে মহালয়া হলে বিশ্বের প্রচুর মানুষের কাছে পৌছবে মহালয়া। জেঠিমা বেঁচে থাকাকালীন সুপ্রিয় দা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা শুরু করল সেই কাজ।”

একইসঙ্গে তিনি বলেন, ” কিন্তু দেশটা ভারত তাই ভালো কিছুর উৎসাহ তো পাওয়া দূরস্থান বরঞ্চ কি ভাবে বিষয়টা জনসমক্ষে না এসে পড়ে তার চেষ্টা হল প্রায় তিনগুন উৎসাহে। মানে সে কপিরাইট থেকে আরম্ভ করে বিভিন্ন বিষয়ে। কে বাঁধা দেননি। ওই যে বললাম আজ এই বয়েসে আর ভয় পাইনা। তা যাইহোক এই মঙ্গলময়ের মঙ্গল যাত্রায় আর অমঙ্গলের ফেনা নাই তুললাম, কাজ যখন সম্পূর্ণ রূপে শেষ হল সুপ্রিয় দা ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা মানে যখন এই ইংরাজি মহালয়া জনসমক্ষে পরিবেশন করার অনুমতি পেল তখন জেঠিমা অর্থাৎ সুপ্রিয়-দার মা আর এই পৃথিবীতে নেই।

তা আমরা বিশ্বাস করি যে জেঠিমা যেখানেই থাকুন তিনি এই ইংরাজি মহালয়া দেখছেন, শুনছেন ও উপভোগ করছেন।” ইংরেজি এই মহালয়া প্রকাশ পাবে ইউটিউবে ‘Karigori Kobiyal’ চ্যানেলটিতে

সুন্দরী গরান রোপণের বদলে গ্রামবাসীদের পুজোর জামা উপহার ‘ম্যানগ্রোভ ম্যানে’র

Mangrove man Umashankar mandal

বিশেষ প্রতিবেদন: তিনি বাংলার ম্যানগ্রোভ ম্যান (Mangrove man)। পরিবেশবিদরা বলছেন পরিবেশ বাঁচাতে ম্যানগ্রোভ রোপন করতে। একার চেষ্টায় তা করে যাচ্ছেন বছর বিয়াল্লিশের গোসাবার বাসিন্দা উমাশঙ্কর মন্ডল ওরফে ম্যানগ্রোভ ম্যান। এবার তিনি পুজোয় এক দারুণ উদ্যোগ নিয়েছেন। যে গ্রামবাসীরা ম্যানগ্রোভ বাঁচাতে লড়াই করছেন তাঁদের পুজোর স্পেশ্যাল গিফট দেবেন তিনি।

অনেকটা ‘তোমরা আমাকে রক্ত দাও আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব ‘, এমন শোনাল কী? উমাচরণ বাঁচার স্বাধীনতা দেবেন। তাঁর কথায়, ‘যারা সারাবছর সুন্দরবন বাঁচানোর লড়াই করেন, আপনার আমার অক্সিজেনের যোগান দেওয়ার কাজ করে থাকে, পূজোয় কিছু উপহার দেওয়ার চিন্তাভাবনা তাদের জন্য।’ ম্যানগ্রোভ ম্যান’ উমাশঙ্কর মণ্ডল মনে করেন, সুন্দরবনের স্বার্থে আরও বেশি করে ম্যানগ্রোভ চারা লাগাতে হবে। আর পরিচর্যাও করতে হবে। ম্যানগ্রোভ চারা লাগানো আর পরিচর্যার উৎসাহ দিতেই পুজোর আগে গ্রামবাসীদের নতুন পোশাক বিতরণের ভাবনা। ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে এই কাজের আর্থিক তহবিল গড়ার কাজ করছেন তিনি।

Mangrove man Umashankar mandal

তিনি বলেছেন, “বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা স্বত্বেও আমরা মেতে উঠব উৎসবের আনন্দে, সমস্ত ভয় ভীতি আতঙ্ক জয় করে। জীবনের, বেঁচে থাকার, ধনী দরিদ্র নির্বিশেষে মানুষের সাথে নিজেকে এক করে জীবন উপভোগ করার নামই হলো উৎসব। সামনেই বাঙালির অন্যতম বড় উৎসব দুর্গাপূজা।

প্রান্তিক মানুষের কাছে উৎসব এখন বাড়তি বোঝা। তাই আমরা ঠিক করেছি সুন্দরবনের একেবারেই প্রান্তিক এলাকার ২ থেকে ১০ বছরের বাচ্চাদের হাতে নতুন জামা উপহার। যাতে তাঁরাও উৎসবের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়।পাশাপাশি বাঘের দ্বারা আক্রান্ত পরিবার ও একেবারেই আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া ৩৫০ জন মায়েদের একটি ছাপা শাড়ী দিয়ে সাহায্য করা। বিভিন্নভাবে বির্পযস্ত হয়ে যাওয়া মানসিক স্বাস্থ্যর কিছু উন্নতি ঘটানো। “

Mangrove man Umashankar mandal

একইসঙ্গে তিনি বলেন, “আপনার নিজের পরিবারের পাশাপাশি বৃহৎ পরিবারের কথা ভেবে সাধ্যমত সামান্য সাহায্যের আবেদন নিয়ে হাত পেতে দাঁড়ালাম। উৎসবের দিনগুলিতে সুন্দরবনের সেই বাচ্চাটার গায়ের নতুন জামায় আপনার ভালবাসায় ছোঁয়া থাকুক, সেই প্রত্যন্ত গ্রামের শিশুটির সারা গায়ে ভালবাসা হয়ে জড়িয়ে থাকুন উৎসবের কটা দিন। একটু চোখ বন্ধ করে ভাবুন উৎসবের দিনে একঝাঁক ফুলের মত শিশুর আনন্দ উচ্ছ্বাসে জড়িয়ে আছেন আপনি; নিজের হৃদয় নিজের সবটুকু ভালবাসা দিয়ে।”

Mangrove man Umashankar mandal

প্রাথমিক ভাবে ৪০০ শিশুর মুখে হাসি ফোটানর লক্ষ্যমাত্রা তাঁর। ৫০টি মেয়েদের কুর্তি ও ৩৫০ মায়ের হৃদয়ের টুকরোর উৎসবে মেতে ওঠার আনন্দ।বর্তমান সময়ে সকলের অর্থনৈতিক সঙ্কট। তবু সাহস করে এই কাজে নেমেছেন তিনি। তাঁরমূল লক্ষ্য, ১) দশ হাজার ম্যানগ্রোভ রোপন (২) চারশ শিশুকে জামা দেওয়া। (৩) তিনশ পঞ্চাশ জন মায়েদের ছাপা সূতির শাড়ী। (৪) কুড়ি জন মেয়েকে কুর্তি। (৫) পচিঁশ জন ছেলেদের গেঞ্জি দেওয়া।(৬) দুশজন বাচ্চা ও মায়ের দুপুরের খাওয়ার ব্যাবস্হা। এরা সকলে ম্যানগ্রোভ রোপন ও পরিচর্যার সাথে ওতোপ্রতোভাবে জড়িত।

কালের গহ্বরে হারিয়ে গিয়েছে নেতাজীর স্মৃতিধন্য পরিবারের দুর্গোৎসব

the lost history of netaji subhas bose's aunts house

বিশেষ প্রতিবেদন: কাশির ঠাটারিবাজারের কাছেই চৌখাম্বার বসু পরিবার। সেই বাড়িতেই একসময় মহাধুমধাম করে দুর্গোৎসব হতো। এই বাড়ির উঠোনে আজ থেকে প্রায় ১০০ বছর আগে এক সুদৃঢ় বালকের পা পড়তো। তখন কে জানত যে সেই বালক হবেন আগামীর দেশনায়ক। কালের গহ্বরে আজ সবই গিয়েছে হারিয়ে।

উত্তর কলকাতা দত্ত বাড়ির ছয় মেয়ে। প্রভাবতী, গুনবতী, রূপবতী ,সত্যবতী, ঊষাবতী এবং নিশাবতী। প্রভাবতীর বিয়ে হয় কটকের জানকীনাথ বসুর সঙ্গে। রূপবতীর বিয়ে হয় উপেন্দ্রনাথ বসুর সঙ্গে। নিয়তির খেলায় মারা যান রূপবতী। রেখে যান সন্তানদের। তাদের সামলাবে কে? সেই সময়ের রীতি মেনে দিদির সংসার রক্ষায় এগিয়ে আসেন ঊষাবতী। দুই মাসির বিয়ে একই বাড়িতে। সেই সূত্রেই গাঁথা হয়ে গিয়েছিল সুভাষের সঙ্গে এই বসু পরিবারের যোগ। সেই বাড়িতেই একসময় মহাধুমধামে হতো দুর্গোৎসব।

বিশাল বড় ঠাকুরদালান থেকে শুরু করে সিংহাসনে দেবী মূর্তি সঙ্গে ঢাক ঢোল বাদ্যির বিশাল আয়োজন ছিল। প্রকাণ্ড এক রুপোর পাত বসানো কাঠের সিংহাসন। এর মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকতেন মহিষাসুরমর্দিনী, তার বামদিকে দেবী সরস্বতী ,কুমার কার্তিক, হনুমান ও শ্রীরামচন্দ্র এবং নারায়ন শিলা। ডানদিকে দেবী লক্ষী, সিদ্ধিদাতা গণেশ, মহাদেবের মূর্তি এবং আরেকটি ছোট ধাতুর ছোট সিংহাসন। মায়ের গায়ের রং সোনালী, গা ভরতি সোনার গয়না, অশ্বরূপী সিংহ এবং সিংহাসন এর সামনে ২ টি লম্ফ।সব মিলিয়ে এক বিশাল আয়োজন হত।

the lost history of netaji subhas bose's aunts house

সেই বাড়ির এক জ্ঞাতি রণবিজয় বসু জানিয়েছেন , “আমি ওই বাড়ির পুজো দেখতে গিয়েছিলাম ১৯৯৯ সালে। আসলে আমার মায়ের দাদুর মা ছিলেন ঊষাবতী দেবী, যিনি নেতাজির মাসি। সেই সূত্রেই ওই বাড়ির পুজোয় গিয়েছিলাম। সেই স্মৃতি এখনও উজ্জ্বল।”

তিনি বলেন, “সন্ধ্যা আরতির দৃশ্য আজও স্পষ্ট। প্রত্যেক ভগবানকে উৎসর্গ করে সারিবদ্ধ ভাবে সাজানো এক একটি আসন। প্রতিটি লাল কাপড়ে মোড়া। আসনের পিছনে একটি করে রুপোর গারু ও বাটি আসনের সামনে রুপোর থালা। তাতে সাজানো ছিল ফল, বরফি, নানাবিধ খাদ্যসামগ্রী। ধূপ , ধুনোর গন্ধে ভরে উঠত সারা চত্বর।”

দশমীর দৃশ্য ছিল দেখার মতো। সবকটি মূর্তিকে সিংহাসন থেকে বার করে আনা হত। প্রমাণ আকারের দুইটি রুপোর পেট মোড়া বল্লম ঠাকুরদালানে থামে হেলান দিয়ে দাঁড় করানো থাকত। সেগুলো বিসর্জনের সময় বহন করতেন বাড়ির সদস্যরাই। আসলে বাড়ির মেয়েকে বাড়ি পাঠানোর জন্য সুরক্ষা বলয় তৈরি করা। বসত নহবত। পরে আসত ব্যান্ড পার্টি, ট্রাম্পেট, বিউগেল, ড্রাম, ঝুনঝুনি, সঙ্গে সানাই। সামনাসামনি না দেখলে ভাষায় বোঝানো মুশকিল সেই দৃশ্য। এরপর লাল কাপড়ে মোড়া সাজানো পালকি এসে হাজির হতো উঠোনে। এক এক করে মূর্তিগুলি পালকিতে ঢুকিয়ে এমনভাবে বসানো হত যেন মা ও তাঁর সন্তানরা পালকির ভিতরে আরাম করে হেলান দিয়ে বসলেন। এরপর শুরু হত বিসর্জন যাত্রা। প্রথমে বল্লমধারিরা, তারপর ব্যান্ড পার্টি, তারপর পালকিবাহক এবং সব শেষে অগুনতি মানুষের ঢল। ঠাকুর এসে থামত দশাশ্বমেধ ঘাটে। তখনও ওড়ানো হল একজোড়া নীলকন্ঠ পাখি। সাত পাক করে ঘুরিয়ে বিসর্জন। সবাই চেঁচিয়ে বলতেন শুভ বিজয়া।কথিত রয়েছে এই বাড়িতে সুভাষ বোস কিছুদিন ব্রিটিশদের চোখে ধুলো দিয়ে থেকেওছিলেন।

২০০০ সালের পরেও বেশ কিছু বছর এভাবেই চলেছে পুজো। তারপর আর কিছুই রক্ষা করা যায়নি। বাড়ি ক্রম অবনতি হওয়ার ফলে ভেঙে পড়ছিল। বাড়িই রাখা দায়, তো পুজো। সে সবকিছুই এখন হারিয়ে গিয়েছে। সুভাষ স্মৃতির সঙ্গে হারিয়েছে শিউলির সুবাস…

রবীন্দ্রনাথসহ সমগ্র বাঙালির ইংরেজি শিক্ষার হাতেখড়ি এই বাঙালির হাত ধরেই

বিশেষ প্রতিবেদন: ইংরেজি শিক্ষা, ইংরেজিতে কথা বলা, ইংলিশ মিডিয়ামে সন্তানকে পরানো নিয়ে আজ বাঙালির মাথাব্যথা। ইংরেজি না শিখলে সন্তানের ভবিষ্যত নষ্ট, এটা প্রায় ধরেই নেন এখনকার মা বাবারা। কিন্তু বাঙালি কী জানে বাঙালির এই ইংরেজ কেতাদুরস্ত হয়ে ওঠা শুরু হয়েছিল এক বাঙালির হাত ধরেই। বাংলায় যদি বিদ্যাসাগর বর্নপরিচয় ঘটান, তাহলে ইংরেজিতে
প্যারিচরণ সরকার।

তাঁর ‘ফার্স্ট বুক’, বই পড়েই রবি ঠাকুরেরও ইংরেজিতে হাতেখড়ি হয়েছিল। নারী শিক্ষার অগ্রদূত, সমাজ সংস্কারক এবং উনিশ শতকের বাঙলার পাঠ্যপুস্তক রচয়িতা ছিলেন তিনি । যিনি প্রথম বৃটিশ শাসিত বাংলার মানুষদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চেয়েছিলেন। প্যারিচরণ সরকারের পাঠ্যবই বাঙালির সমগ্র প্রজন্মকে ইংরেজি ভাষার সঙ্গে পরিচিত করে। তাঁর পাঠ্যবইসমূহ লক্ষ কপি বিক্রি হয়েছে এবং অধিকাংশ ভারতীয় ভাষায় অনূদিত হয়েছে।

বাংলায় নারী শিক্ষার অগ্রদূত ছিলেন তিনি এবং এজন্য তাঁকে ‘প্রাচ্যের আর্নল্ড’ বলা হতো। তিনি তাঁর সময়কালে সুরাপান নিবারকরূপে সকলের দৃষ্টি ও শ্রদ্ধা আকর্ষণ করেছিলেন।

বাঙালির ইংরেজি শিখবার তৎকালীন প্রবণতায় তাঁর রচিত ‘ফার্স্ট বুক’ বইটি বাঙলার সামাজিক ইতিহাসে অক্ষর-মূর্তি হয়ে আছে। সেই প্যারিচরণ সরকারের জন্ম ১৮২৩ সালেল ২৩ জানুয়ারি উত্তর কলকাতার চোরবাগানে। বাবার নাম বৈরব চন্দ্র সরকার।

প্যারীচরণ সরকার ডেভিড হেয়ারের পটলডাঙ্গার পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা সমাপ্ত করেন। ১৮৩৮ সালে হেয়ার সাহেবের স্কুল থেকে জুনিয়র স্কলারশিপ পরীক্ষায় মাসিক আট টাকা বৃত্তি লাভ করেন।অতপর হিন্দু কলেজে ভর্তি হন। সেখানে সিনিয়র স্কলারশিপ পরীক্ষায় মাসিক চল্লিশ টাকা বৃত্তি লাভ করেন।

১৮৪৩-এ হিন্দু কলেজের শিক্ষা শেষ করেন। হিন্দু কলেজের শিক্ষা শেষ করে কিছুকাল হুগলী ব্যাংকে চাকরি করার পর হুগলী স্কুলে শিক্ষকতার কাজে যোগ দেন।

পরে তিনি বারাসতের গভর্নমেন্ট স্কুলের প্রধাণ শিক্ষকের দায়িত্ব পান। ১৮৪৬-১৮৫৪ পর্যন্ত তিনি এই স্কুলে কর্মরত ছিলেন। সেখানে কৃষি বিদ্যালয় স্থাপনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এরপর কলুটোলা ব্রাঞ্চ স্কুলের প্রধান শিক্ষকরূপে আট বছর দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর চেষ্টায় স্কুলটির নাম পরিবর্তিত হয়ে হেয়ার স্কুল হয়।

পরবর্তীতে ১৮৬৩ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজের অস্থায়ী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন প্যারীচরণ সরকার।
প্যারীচরণ সরকার তার শিক্ষকতা জীবনে ছাত্রদের পড়াতে গিয়ে দেখেন, এদেশীয় ছাত্রদের জন্য পূর্ণাঙ্গ ইংরেজি শেখার বই নেই।

তখন তিনি নিজেই লিখে ফেললেন ‘ফার্স্ট বুক অফ রিডিং ফর নেটিব চিলড্রেন’। পরে তিনি এর দ্বিতীয় ভাগও লিখেছিলেন। প্যারীচরণ সরকারের ফার্স্ট বুক হয়ত আজকাল আর কোন স্কুলে পড়ানো হয়না । কিন্তু বাঙালির তাঁর ইংরেজি মাসের দিন সংখ্যা জানতে শেখাও তাঁর হাত ধরেই। কোনটা জানেন? ‘Thirty days have September, April, June and November,/February has Twenty -Eight alone,
And the rest have thirty-one.’

প্যারীচরণ সরকার শুধু লেখেন নি, নিজে সেই বই ছাপাতেনও। উত্তর কলকাতায় এখনো রয়েছে তাঁর সেই বাড়ি এবং ছাপাখানা, যদিও জরাজীর্ণ অবস্থায়। 

মিশর রহস্য: মরণের ওপারে যাওয়া যেত এই নৌকায় চড়েই

4,600-year-old pharaonic boat

বিশেষ প্রতিবেদন: ৪৬০০ বছরের সৌরনৌকা আজও অক্ষত। মিশরীয়রা বিশ্বাস করতো যে, এসব নৌকায় চড়ে তারা মৃত্যুর পরের জীবনে পাড়ি জমাবে। মিশরের ফারাও খুফুর বিখ্যাত পিরামিডের ভেতর কবর দেওয়ার কামরাগুলোর পাশেই একটি গর্তে মাটিচাপা ছিল এমনই একটি বিশাল নৌকা। চার হাজার ৬০০ বছরের পুরানো সেই নৌকা এখনও অক্ষত রয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌরনৌকার তকমা পেয়েছে এটি। ফেরাউন সম্রাটের সবচেয়ে প্রিয় ছিল এই সৌরনৌকাটি। সৌরনৌকাটি ফারাও কুফুর ব্যবহৃত ছিল বলে ধারণা করা হয়। প্রথম নৌকাটি ১৯৫৪ সালে আবিষ্কৃত হয়। গ্রেট পিরামিডের দক্ষিণ কোণে এটিকে পাওয়া যায়। এতগুলো বছর পেরিয়ে এসে অবশেষে এই নৌকার জায়গা হবে গ্র‍্যান্ড ইজিপশিয়ান মিউজিয়ামে। যাতে দর্শনার্থীরা হাজারও বছরের পুরনো নৌকাটি দেখতে পারে। জানান যায়, গ্র‍্যান্ড জাদুঘর পর্যন্ত নৌকাটি টেনে নেয়ার জন্য একটি বিশেষ রিমোট-কন্ট্রোল গাড়ি বেলজিয়াম থেকে আমদানি করেছে মিশর।

মিশরীয়রা মৃত্যুর পর মৃতদেহ কিংবা মমির সঙ্গে তার ব্যবহৃত ও প্রিয় বিভিন্ন জিনিস সমাধি দিত। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতকের সম্রাট ছিলেন খুফু। তার এই সৌরনৌকাটি লম্বায় ৪২ মিটার (১৩৮ ফুট) এবং এর ওজন ২০ টন। এই নৌকাটিকে ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ও প্রাচীনতম কাঠের তৈরি নিদর্শন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন প্রত্নতত্ত্ববিদরা। ফারাও সম্রাট খুফুকে খ্রিস্টপূর্ব ২৫৬৬ সালে এখানে সমাহিত করা হয়।

4,600-year-old pharaonic boat

খুফু ছিলেন প্রাচীন মিশরের পুরাতন রাজত্বের সময়কালীন এক ফারাও। তিনি ২৫৮৯-২৫৬৬ খ্রিস্টপূর্ব পর্যন্ত রাজত্ব করেন। চতুর্থ রাজবংশের তিনি ছিলেন দ্বিতীয় ফারাও। সাধারণভাবে তাকে গিজার মহা পিরামিডের নির্মাতা হিসেবে মনে করা হয়ে থাকে। এই বিশাল পিরামিডটিকে প্রাচীন বিশ্বের সপ্তাশ্চর্যের একটি বলে ধরা হয়ে থাকে। গিজার তিনটি পিরামিডের মধ্যে সবচেয়ে পুরনো আর বড় এটি। মিশরের এল গিজা নামক স্থানের কাছে অবস্থিত গিজার মহা পিরামিড বা খুফুর পিরামিড।।১৪০ মিটার (৪৬০ ফুট) উঁচু পিরামিডে তিনটি প্রধান প্রকোষ্ঠ আছে। এর গ্র্যান্ড গ্যালারির দৈর্ঘ্য ৪৭ মিটার এবং উচ্চতায় ৮ মিটার। বিজ্ঞানীরা পিরামিডটির ভেতরে একটি ‘বড় শূন্যস্থানের’ সন্ধান পেয়েছেন।

ইতিহাসের তথ্য অনুসারে, এই পিরামিডটি তৈরি হয়েছিল খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০০ বছর আগে। এর উচ্চতা প্রায় ৪৮১ ফুট। এটি ৭৫৫ বর্গফুট জমির উপর স্থাপিত। এটি তৈরি করতে সময় লেগেছিল প্রায় ২০ বছর। এটি নির্মাণ করতে প্রায় লাখখানেক শ্রমিক খেটেছিল।

বিশ্বে বন্দিত: দেশে বিস্মৃত ভারতের প্রথম কম্পিউটার এই বাঙালি

samarendra-K-maitra

বিশেষ প্রতিবেদন: কম্পিউটার ছাড়া এখন দিন অচল। ‘টেক-স্যাভি’ জেনারেশনের কাছে চার্লস ব্যাবেজ, স্টিভ জোবস্ বা বিল গেটস্‌-এঁরাই ভগবানতুল্য। ভাগ্যিস এই আবিস্কার হয়েছিল, না হলে কে জানে কি হত! কিন্তু কতজন জানেন, ভারতের প্রথম কম্পিউটার নির্মাতা এক বাঙালি। তিনি বৈজ্ঞানিক সমরেন্দ্র কুমার মিত্রকে।

সমরেন্দ্র মিত্র কলকাতার ‘কম্পিউটিং মেশিন ও ইলেক্ট্রনিক্স’ বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রথম বিভাগীয় প্রধান ছিলেন। ১৯৫৪ সালে ভারতের প্রথম দেশীয় ইলেক্ট্রনিক অ্যানালগ কম্পিউটারটির নক্সা তৈরি ও নির্মাণের কাজ করেছিলেন। তাঁর তৈরি সেই কম্পিউটার ১০টি চলরাশিযুক্ত সরল সমীকরণ ও তৎসংক্রান্ত গণনার কাজ অনায়াসেই করতে পারত এবং এতে ‘গাউস-সেইডেল পুনরাবৃত্তি প্রক্রিয়া’র একটি পরিবর্তিত সংস্করণের প্রয়োগ করা হয়েছিল। বউবাজার হাইস্কুল ও প্রেসিডেন্সি কলেজের এই প্রাক্তনীর নেতৃত্বে ১৯৬৩ সালে আইএসআই ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় ভারতের প্রথম দ্বিতীয়-জেনারেশন দেশীয় ডিজিটাল কম্পিউটার তৈরির কাজ শুরু হয়। এই যন্ত্রের নক্সা ও নির্মাণের কাজ করেছিলেন সমরেন্দ্রবাবু নিজে। ট্রানজিস্টর-মাধ্যমে তৈরি এই কম্পিউটারটির নাম রাখা হয়েছিল ‘আইএসআইজেউ-১’ এবং এই কম্পিউটারটি কার্যকরী হয় ১৯৬৪ সালে।

samarendra-K-maitra

সমরেন্দ্র কুমার মিত্র ছিলেন একজন স্বশিক্ষিত স্কলার। তাঁর আগ্রহের পরিধি ব্যাপৃত ছিল গণিত, ফিজিক্স, রসায়ন, প্রাণীবিদ্যা, পোল্ট্রি-বিজ্ঞান, সংস্কৃত, দর্শন, ধর্ম, সাহিত্য ইত্যাদি নানা বিষয়ে। ১৯৩৫ সালে রসায়নের জন্য তাঁকে কানিংহ্যাম পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৩৭-এ রসায়নে ও ১৯৪০-এ ফলিত গণিত বিষয়ে তিনি এম.এসসি ডিগ্রি লাভ করেন। কিছু বছর পর মেঘনাদ সাহার তত্ত্বাবধানে ফিজিক্সে পিএইচডি করতে শুরু করলেও ১৯৫৬-এ মেঘনাদ সাহার প্রয়াণের পর সেই কাজ থেকে তিনি সরে আসেন।

সমরেন্দ্রবাবু ১৯৪৪ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত সিএসআইআর-এর তত্ত্বাবধানে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালিত ফিজিক্স ল্যাবরেটরিতে রিসার্চ ফিজিসিস্ট-রূপে ‘এয়ার-ড্রিভেন আল্ট্রাসেন্ট্রিফিউজ’-এর নক্সা ও গঠন নিয়ে কাজ করেছিলেন। আমেরিকা ও ইংল্যান্ডের উচ্চগতির কম্পিউটিং মেশিন বিষয়ে শিক্ষালাভের জন্য তাঁকে ইউনেস্কো কর্তৃক স্পেশাল ফেলোশিপ প্রদান করা হয় ১৯৪৯-৫০ সালে এবং তিনি সেইসময় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, প্রিন্সটনের ইন্সটিটিউট অফ অ্যাডভান্স স্টাডিজ ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাথামেটিক্যাল ল্যাবরেটরিতে কাজ করেছেন। প্রিন্সটনে কর্মরত থাকাকালীন তাঁর সঙ্গে আইনস্টাইন, উলফগ্যাং পাউলি, জন ভন নিউম্যান প্রমুখ ফিজিসিস্ট ও গণিতজ্ঞদের পরিচয় হয়। পাশাপাশি বিজ্ঞানী নীলস্‌ বোর ও রবার্ট ওপেনহাইমারের প্রচুর বক্তৃতায় তিনি আমন্ত্রিত ছিলেন।

samarendra-K-maitra

১৯৫০ থেকে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত তিনি আইএসআই-তে বিভিন্ন পদে কাজ করেছেন – কখনও অধ্যাপক, কখনও ডিরেক্টর হিসেবে। তিনি ইউনাইটেড নেশন্স টেকনিক্যাল অ্যাসিস্টেন্স অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এর অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেছেন এবং ১৯৫৫ সালে তাঁর নেতৃত্বেই তৎকালীন সোভিয়েত রাশিয়া থেকে ১ কোটি টাকার এক বিরাট ‘টেকনিক্যাল-এইড’ ভারতে এসেছিল।

সারাজীবনে সমরেন্দ্র মিত্র অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন, সেগুলির মধ্যে ১৯৫৯ সালে ‘ব্যালেস্টিক ট্রাজেক্ট্রি’ বিষয়ে ভারত সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের উপদেষ্টার পদ, ১৯৬২-৬৪ সালে ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল কমিটি ফর স্পেস রিসার্চ’-এর সদস্যপদ এবং ১৯৬৯-৭৬ সালে ভারত সরকারের ‘ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন’-এর টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজারের পদ অন্যতম। তিনি ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স’ ও আমেরিকার ‘অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্পিউটিং মেশিনারি’ প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের সদস্য ছিলেন। ‘এন.আর সেন্টার ফর পেডাগজিক্যাল ম্যাথামেটিক্স’-এ প্রফেসর এবং ‘ক্যালকাটা ম্যাথামেটিক্যাল সোসাইটি’র চেয়ারম্যান এবং এমেরিটাস প্রফেসরও ছিলেন সমরেন্দ্র কুমার মিত্র। গণিত, থিওরেটিক্যাল ফিজিক্স ও কম্পিউটার বিজ্ঞান বিষয়ে তাঁর প্রচুর গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছিল।

সমরেন্দ্রবাবু ভারত সরকারের নানাবিধ রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৬৫ সালে ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইন্সটিটিউটে আয়োজিত ‘কম্পিউটার সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া’র প্রথম বার্ষিক সম্মেলনের বাস্তবায়নের পিছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।

আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার মাউন্টেন ভিউ-এ যেখানে গুগল, মাইক্রোসফটের মত আজকের বিশ্বের তাবড় তাবড় টেক-জায়ান্ট সংস্থার মুখ্য কার্যালয়, সেখানেই ‘কম্পিউটার হিস্ট্রি মিউজিয়াম’-এ রয়েছে সমরেন্দ্র মিত্রের নামে স্মৃতিফলক। দুনিয়া যাঁকে স্বীকৃতি দিয়েছে, বাঙালি তাঁকে ভুলে গিয়েছে।

স্বামীজীর বাণী বদলে দিয়েছিল মাতঙ্গিনীর জীবন

matangini hazra

বিশেষ প্রতিবেদন: তিনি গান্ধী বুড়ি। ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন স্বাধীনতা আন্দোলনে। সেই তাঁকেই স্বামীজীর বাণী ব্যাপকভাবে স্পর্শ করেছিল। তাই তো ইংরেজদের করা তিনটে গুলির শেষটি চোখ, খুলি ফাটিয়ে বেরিয়ে গেলেও তাঁর হাত থেকে পড়েনি জাতীয় পতাকা। তিনি যে দেশ মায়ের একনিষ্ঠ সেবিকা হয়ে গিয়েছিলেন।

স্বামীজি বলেছিলেন, “এখন থেকে আগামী পঞ্চাশ বছর তোমাদের একমাত্র উপাস্য দেবতা হবেন – জননী-জন্মভূমি। তার পূজো করো সকলে”। ভারতবাসীদের উদ্দেশ্যে বলা স্বামী বিবেকানন্দর একটি বাণী ওই সময়ে মাতঙ্গিনীকে বিশেষভাবে স্পর্শ করেছিল। তারপরে যা হয়েছে তা ইতিহাস।

তাঁর জন্ম ১৮৭০ সালের ১৯ অক্টোবর। পশ্চিমবঙ্গের তমলুকের হোগলায়। সাধারণ এক কৃষক ঠাকুরদাস মাইতির ঘরে। অল্প বয়সেই তার বিয়ে হয় আলিনান গ্রামের ত্রিলোচন হাজরার সঙ্গে। ১৮ বছর বয়সেই স্বামীকে হারান মাতঙ্গিনী হাজরা। তিনি ছিলেন নিঃসন্তান। আদতে তিনি ছিলেন স্বশিক্ষিতা। প্রাতিষ্ঠানিক কোন শিক্ষাদীক্ষা তেমন ছিল না। ছিলেন মহাত্মা গান্ধীর একনিষ্ঠ অনুসারী। সেইজন্য তাঁর আরেক পরিচয় গড়ে উঠেছিল ‘গান্ধীবুড়ি’ নামে। গান্ধীর আদর্শমতে, তিনি নিজের হাতে চরকা কেটে খাদি কাপড়ও বানিয়েছেন।

১৯০৫ সালে ভারতের স্বাধীনতার যুদ্ধে বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯২২ সালের অসহযোগ আন্দোলনেও তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহন করেন। তার বিপ্লবী জীবন ছিল ক্ষুরধার। ব্রিটিশের লবণনীতির প্রতিবাদে তার লড়াই ছিল দুরন্ত। তিনি ভারতের জাতীয় কংগ্রেসেরও সদস্য ছিলেন। ডান্ডি অভিযান, অসহযোগ আন্দোলন ও ভারত ছাড়ো আন্দোলনে মাতঙ্গিনী হাজরা ছিলেন কিংবদন্তীতুল্য।

ত্রিশের দশক। মেদিনীপুরের নাম শুনলেই সেই সময় বিদেশী শাসককুল আতঙ্কিত ও দিশেহারা হয়ে পড়ত। আইন অমান্য আন্দোলনে মাতঙ্গিনী ঝাঁপিয়ে পড়লেন। ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়ে উঠল। খবর পেয়েই পুলিশ এল। মাতঙ্গিনী গ্রেফতার হলেন। সঙ্গে রইলেন অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবকরাও। তাঁরাও গ্রেফতার হলেন।

matangini hazra

পরবর্তী ঘটনা ঘটে ১৯৩৪-৩৫ সালের। অবিভক্ত বাংলার লাটসাহেব মি. অ্যান্ডারসন তমলুকে দরবার করবেন। কিন্তু মেদিনীপুরবাসীরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ লাটসাহেবকে এই দরবার তারা কিছুতেই করতে দেবে না। এদিকে ইংরেজ সরকারও তাঁদের সংকল্পে অটল। ফল, সংঘাত।

লাটসাহেবের দরবার বসার প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। এমন সময় হাজার কণ্ঠে ধ্বনি উঠল ‘লাটসাহেব তুমি ফিরে যাও- ফিরে যাও।’ বন্দে মাতরম ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠল আকাশ বাতাস।

শোভাযাত্রা এগিয়ে চলল দরবারের দিকে। শত শত পুলিশও হাজির। হাতে তাঁদের লাঠি ও বন্দুক। শোভাযাত্রীদের পথ আটকাল ওই পুলিশবাহিনী। পুরোভাগেই ছিলেন মাতঙ্গিনী। পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করল। এবার কিন্তু তাঁকে আর এমনিতে ছেড়ে দেওয়া হল না। রীতিমতো বিচার হল। মাতঙ্গিনী দুমাস সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলেন। বিচারের রায় ঘোষণার পর হাসিমুখে বললেন, “দেশের জন্য, দেশকে ভালোবাসার জন্য দণ্ডভোগ করার চেয়ে বড় গৌরব আর কী আছে?”

মাতঙ্গিনীকে অমর করে রেখেছে ১৯৪২ সালের আগস্ট বিপ্লব। ঘটনা ২৯ সেপ্টেম্বর আজকের দিনের, কিন্তু ৭৯ বছর আগের। আগস্ট বিপ্লবের জোয়ার তখন মেদিনীপুরে আছড়ে পড়েছে। ঠিক হয়েছে এক সঙ্গে তমলুক, মহিষাদল, সুতাহাটা ও নন্দীগ্রাম থানা আক্রমণ করে দখল করে নেওয়া হবে।

মাতঙ্গিনী স্বেচ্ছাসেবকদের বোঝালেন গাছ কেটে ফেলে রাস্তা-ঘাট সব বন্ধ করে দিতে হবে। টেলিফোন ও টেলিগ্রাফের তার কেটে দিতে হবে। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিতে হবে। পাঁচদিক থেকে পাঁচটি শোভাযাত্রা নিয়ে গিয়ে তমলুক থানা এবং একই সঙ্গে সমস্ত সরকারি অফিস দখল করে নিতে হবে।

যেমন কথা তেমনি কাজ। ২৯ সেপ্টেম্বর পাঁচটি দিক থেকে পাঁচটি শোভাযাত্রা এগিয়ে চলল তমলুক অধিকার করতে। হাজার হাজার মেদিনীপুরবাসী শামিল হয়েছিলেন ওই শোভাযাত্রায়। হাতে তাঁদের জাতীয় পতাকা। মুখে গর্জন ধ্বনি, ‘ইংরেজ ভারত ছাড়ো- করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে – বন্দে মাতরম্’।

পশ্চিমদিক থেকে এগিয়ে এল আট-দশ হাজার মানুষের এক বিরাট শোভাযাত্রা। গুর্খা ও ব্রিটিশ গোরা সৈন্যরা তৈরি হল অবস্থার মোকাবিলার জন্য। হাঁটু মুড়ে বসে গেল তাঁরা। তারপরই তাঁদের বন্দুকগুলো গর্জে উঠল। মারা গেলেন পাঁচজন। আহত হলেন আরও বেশ কয়েকজন।

উত্তর দিক থেকে আসছিল মাতঙ্গিনীর দলটি। তাঁরা থানার কাছাকাছি আসতেই পুলিশ ও মিলিটারি অবিরাম গুলিবর্ষণ শুরু করে দিল। বিদ্রোহীদের মধ্যে থেকে বেশ কয়েকজন কিছুটা পিছু হঠে গিয়েছিল। তাঁদের সতর্ক করে দিয়ে মাতঙ্গিনী বললেন, ‘থানা কোন দিকে? সামনে, না পেছনে? এগিয়ে চলো। হয় থানা দখল করো, নয়ত মরো। বলো, ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে’ – ‘বন্দে মাতরম’।

বিপ্লবীদের সম্বিত ফিরে এল। তাঁদের কণ্ঠেও ধ্বনিত হতে থাকল, ‘এগিয়ে চলো। ইংরেজ তুমি ভারত ছাড়ো। ‘করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে, বন্দে মাতরম।’ আবার এগিয়ে যেতে লাগল তাঁরা উদ্দাম বেগে। ওদিকে গুলি বর্ষণ শুরু হয়ে গেল বৃষ্টির মতো।

মাতঙ্গিনী দলটির পুরোভাগে। ছুটে চলেছেন উল্কার বেগে। বাঁ-হাতে বিজয় শঙ্খ যেন পাঞ্চজন্য, ডান হাতে জাতীয় পতাকা। আর মুখে ধ্বনি- ‘ইংরেজ ভারত ছাড়ো-করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে – বন্দে মাতরম’।

একটি বুলেট পায়ে লাগতেই হাতের শাঁখটি মাটিতে পড়ে গেল। দ্বিতীয় বুলেটের আঘাতে বাঁ-হাতটা নুয়ে পড়ল। কিন্তু ওই অবস্থাতেও ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ভারতীয় সৈনিকদের উদ্দেশ্য করে বলে চলেছেন, ‘ব্রিটিশের গোলামি ছেড়ে গুলি ছোঁড়া বন্ধ করো – তোমরা সব আমাদের মতো স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে হাত মেলাও।’ প্রত্যুত্তরে উপহার পেয়েছিলেন কপালবিদ্ধ করা তৃতীয় বুলেটটি। প্রাণহীন দেহ মাটিতে লুটিয়ে পড়ল। কিন্তু জাতীয় পতাকাটি তখনও তাঁর হাতের মুঠোয় ধরা। সেটি কিন্তু মাটি স্পর্শ করেনি কারণ মরতে মরতেও তিনি চিৎ হয়ে পড়লেন আর পতাকা রইল তাঁর বুকের উপর। কপালের লাগা গুলির ক্ষতস্থান দিয়ে বেরোনো রক্তে তখন সারা শরীর ভেসে গেছে। নিথর দেহে অপলক দৃষ্টিতে যেন চেয়ে আছেন ভবিষ্যৎ স্বাধীন ভারতের প্রত্যাশায়!

যেখানে তিনি লুটিয়ে পড়েছিলেন, সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে পুরনো দিনের মানুষ আজও বীরাঙ্গনাকে স্মরণ করেন।
প্রতি বছর ১৫ আগষ্ট এলে তমলুকের বানপুকুরের পাড়ে এসে দাঁড়ান তাঁরা। স্বাধীনতা যুদ্ধের এমন তীর্থক্ষেত্রে এসে সকলেই দাঁড়ান মৃত্যঞ্জয়ী বীরাঙ্গনার জন্যই। আসলে মাতঙ্গিনী হাজরা এমনই এক চরিত্র, যিনি তাঁর সমগ্র সত্তা ও হৃদয় দিয়ে অনুভব করেছেন উদ্দীপ্ত দেশপ্রেমের অনন্যতন্ত্রতা, অন্তঃরস্থ মনুষত্বের স্বাধীনতা।

১৯৪৭ সালে যখন ভারত স্বাধীনতা অর্জন করলো তখন অসংখ্য স্কুল, পাড়া ও রাস্তার নাম মাতঙ্গিনী হাজরার নামে উৎসর্গ করা হয়। স্বাধীন ভারতে কলকাতা শহরে প্রথম যে নারীমূর্তিটি স্থাপন করা হয়েছিল, সেটি ছিল মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তি। ১৯৭৭ সালে কলকাতার ময়দানে এই মূর্তিটি স্থাপিত হয়। কলকাতার ময়দান অঞ্চলে মহান বিপ্লবী মাতঙ্গিনী হাজরার মূর্তি এখনো তার শ্রেষ্ঠত্বের নিদর্শন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

জার্মানির মুকুটহীন সম্রাটকে বারবার ফিরতে হয়েছে বিশ্বজয়ের দোরগোড়া থেকে

Michael ballack

বিশেষ প্রতিবেদন: ১৯৯০ পরবর্তী সময়ে হারিয়ে যাচ্ছিল জার্মান ফুটবলের সেই শক্তি। ওই সময়ে নতুন স্বপ্নের দেখাতে শুরু করেন এক তরুণ। তিনি মাইকেল বালাক ‘দ্য কমান্ডার’। বালাককে বিশেষজ্ঞরা বলেন ‘ওয়ান অব দ্য মোস্ট কমপ্লিট এবং ভার্সেটাইল মিডফিল্ডার অব হিজ জেনারেশন।’ একজন মিডফিল্ডার যতগুলি পজিশনে খেলতে পারে সবকটিতেই খেলতে পারতেন তিনি। তবু মুকুটহীন সম্রাট তিনি।

বলা হত, ছোট কাইজার কিন্তু একটা বিশ্বকাপ জয় হয়তো তাঁর প্রাপ্য ছিল। ভাগ্যে না থাকলে যা হয়। ২০০২ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল এবং সেমি ফাইনালে ব্যাক টু ব্যাক গোল করে দলকে যখন ফাইনালে তুললেন, ঠিক তখনই সেমিতে একটা ট্যাকলে জার্মানদের হৃদয় ভেঙে যায়। পর পর দুই ম্যাচ হলুদ কার্ড দেখে তিনি আর ফাইনাল খেলতে পারেননি।ফাইনালে জার্মান দলে বালাকের শূন্যতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ফাইনাল জার্মানরা জেতেওনি। ব্রাজিলের সামনে অসহায় হার শিকার করেছিলেন অলিভার কান, নেভেলরা।

ক্লাব ফুটবলেও একই রেকর্ড। ইউরোপিয়ান লিগগুলিতে এক মরসুমে প্রধান টুর্নামেন্ট হয় মূলত তিনটি- ঘরোয়া লিগ, ঘরোয়া কাপ আর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। কোনও দল যদি একই সিজনে তিনটি শিরোপাই জিততে পারে, তাহলে তাদেরকে ট্রেবল জয়ী বলা হয়। কাজটি নিঃসন্দেহে কঠিন। কঠিন বলেই ইউরোপের এতদিনের ইতিহাসে এটি ঘটেছে মাত্র ৮ বার, এর মাঝে একমাত্র ক্লাব হিসেবে বার্সেলোনা দু’বার এই রেকর্ড করায় ট্রেবল জয়ী ক্লাব হলো মোটে ৭টি।

ট্রেবল জয়ী দলের আনন্দের বিপরীতে দুঃখ লুকিয়ে থাকে ফাইনালে হেরে যাওয়া দলগুলোর। কেউই ব্যর্থদের সেভাবে মনে রাখে না। তার উপর কোনও দল যদি পরপর তিনটি মেজর টুর্নামেন্টের ফাইনালে হেরে যায়, তাহলে তাদের অনুভূতি কেমন হবে? ক্লাব হিসেবে এমনই এক অভিজ্ঞতা হয়েছে বেয়ার লেভারকুসেনের ২০০১-০২ মরসুমে।

সেই মরসুমে ঘরোয়া লিগে শেষ তিন ম্যাচের আগে পর্যন্ত ৫ পয়েন্ট এগিয়ে থেকেও তারা লিগ শেষ করে বুরুশিয়া ডর্টমুন্ডের চেয়ে ১ পয়েন্ট পিছনে থেকে। এরপর ঘরোয়া কাপে শালকের কাছে তারা হেরে যায় ৪-২ গোলে, পরবর্তীতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে ২-১ গোলে হারে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে। সেই বেয়ার লেভারকুসেনের সদস্য ছিলেন মাইকেল বালাক।

কখনও ছোট পাস, কখনো দুর্দান্ত লং পাস কিংবা কখনও বালাক নিজেই নিয়ে নিতেন আচমকা দূর পাল্লার জোরালো শট। কিন্তু কখন কি করবেন, এটা ছিল প্রতিপক্ষের কাছে ধাঁধার মতো। মূলত পজিশন সেন্ট্রাল মিডে হলেও অ্যাটাকিং মিড কিংবা ডিফেন্সিভ মিড পজিশনেও তিনি ছিলেন অনন্য। দলের প্রয়োজনে যে কোনও পজিশনে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারতেন।

মিডফিল্ডার হিসেবো অসংখ্য উয়েফা এবং ফিফা বর্ষসেরা দলীয় অ্যাওয়ার্ডের পাশাপাশি যৌথভাবে তিন তিনবার জার্মান প্লেয়ার অব দ্যা ইয়ারে মনোনীত হয়েছেন। তাঁর আগে রয়েছেন চারবারের বর্ষসেরা বড় কাইজার ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার। তবু তিনি মুকুটহীন…..

সংবিধান সঙ্গে নিয়ে এলব্রুস শৃঙ্গে ভারতীয় বালক

This eight year old indian boy climbs the top of mount Elbrus

বিশেষ প্রতিবেদন: রাশিয়ার মাউন্ট এলব্রুস-এ আরোহণ করল ভারতের ৮ বছরের বালক গন্ধাম ভুবন জাই। অন্ধ্রপ্রদেশের কুরনুল জেলার বাসিন্দা গন্ধম। তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র ভুবন ৫৬৪২ মিটার উচ্চতায় বরফাবৃত এলব্রুস-এ পা রাখে গত ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৮ টায়। সেই খবর সম্প্রতি এসে পৌঁছেছে সংবাদমাধ্যমের কাছে। এই দুর্গম পর্বত শৃঙ্গ আরোহণকারী হিসেবে ভুবনই কনিষ্ঠতম।

আরও পড়ুন: Kolkata: ভীম নাগের অনুরোধে লন্ডন থেকে এলো বাংলায় ডায়াল লেখা ঘড়ি

গন্ধামের সঙ্গে ছিলেন ভাইজাগের আনমিস বর্মা এবং অনন্তপুরের কে শঙ্করাইয়া। শুধু চূড়োয় ওঠা শুধু নয়, দেশের জাতীয় পতাকাও ওড়ায় গান্ধাম। যার একদিকে ছিল দেশের সংবিধানের প্রস্তাবনা এবং অন্যদিকে ছিল বি আর আম্বেদকরের ছবি।

This eight year old indian boy climbs the top of mount Elbrus

বাবা, গান্ধাম চান্দ্রুদু আইএএস অফিসার। খেলা এবং বিশেষ করে পর্বতারোহণে বিশেষ উৎসাহ থাকায় তার বাবা তাকে অনন্তপুরমে শাঙ্কারাইয়ার কাছে ট্রেনিংয়ে পাঠায়। যিনি আবার এর আগে মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো জয় করেছিলেন। তাঁর কাছে থেকেই ভুবন পর্বতারোহণের প্রশিক্ষণ নেয়। আর তারপরই তাঁর এই শৃঙ্গ জয়।

আরও পড়ুন: কুখ্যাত দেবদাসী প্রথাকে হারিয়ে ভারত রত্ন হয়ে উঠেছিল এই মেয়ে

এলব্রুস পর্বত রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশের দক্ষিণাংশে, জর্জিয়ার সাথে রাশিয়ার সীমান্তের ঠিক উত্তরে অবস্থিত একটি পর্বত। পর্বতটি ককেশাস পর্বতমালার সর্বোচ্চ এবং গোটা ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। আজ থেকে ২০ লক্ষ বছর আগে আগ্নেয় বিস্ফোরণের ফলে পর্বতটির জন্ম হয়। আগ্নেয়গিরিটি বর্তমানে বিলুপ্ত, তবে বৃহত্তর ককেশাস অঞ্চলের ভৌগোলিক অস্থিতিশীলতার কারণে এ অঞ্চলে কিছুদিন পর পরই বড় আকারের ভূমিকম্প হয়ে থাকে।

This eight year old indian boy climbs the top of mount Elbrus

এলব্রুস পর্বতের দুইটি জ্বালামুখ আছে। একটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫,৬৪২ মিটার এবং অপরটি ৫,৫৯৫ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। পর্বতের উপরে বেশকিছু বিশালাকার হিমবাহ আছে যেগুলি থেকে পানি গলে কুবান ও অন্যান্য নদীতে পড়েছে। পর্যটক ও পর্বতারোহীদের জন্য পর্বতটি ককেশাস অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।

আরও পড়ুন: The Traveler: সাইকেল নিয়ে লাদাখের পথে বাংলার কৃষক ঠাকুরদাস

রামকৃষ্ণের সান্নিধ্য বদলে দিয়েছিল প্রীতিলতার জীবন

Pritilata waddeadar

বিশেষ প্রতিবেদন: একটি নামের সান্নিধ্যে, বদলে দিয়েছিল কত মানুষের জীবন। সেই একই নামের সান্নিধ্যে বদলে গিয়েছিল প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জীবনও। তিনি রামকৃষ্ণ। তবে পরমহংস নন। ইনি বিপ্লবী রামকৃষ্ণ বিশ্বাস। যাকে ফাঁসির আগের প্রতিটি দিন খুব কাছে থেকে দেখেছিলেন বিপ্লবী প্রীতিলতা। আর সেই সাক্ষাৎ বদলে দিয়েছিল তাঁর জীবন। ব্রতী করেছিল দেশের জন্য আত্মত্যাগে। প্রীতিলতার শবদেহের সঙ্গে একটি নিজের হাতের লেখা চিঠি পাওয়া গিয়েছিল। তা থেকেই সেই তথ্য মেলে।।

‘ভূপেন্দ্রকিশোর রক্ষিত রায়ের’ ‘ভারতে সশস্ত্র বিপ্লব’ বই থেকে মেলে সেই চিঠি। নিজের সম্বন্ধে লিখেছিলেন প্রীতিলতা। সেই কথা লিখতে গিয়েই চলে আসে রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের কথাও। প্রীতিলতা লিখেছিলেন, ‘১৯৩০ সালে পড়বার উদ্দেশ্যে কলকাতা চলে এসেছিলাম। আমার কোনও এক বিপ্লবী ভাইয়ের নির্দেশে আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দী রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করার জন্য তৈরি হলাম। মৃত্যুপথযাত্রী রামকৃষ্ণ। দেশকে ভালবাসার অপরাধে ব্রিটিশ কানুনের শৃঙ্খলে বন্দী রামকৃষ্ণ ফাঁসির আগ্রহে অপেক্ষমান।

Pritilata waddeadar ramkrishna biswas

আমি ‘কাজিন সিস্টার’ সেজে কোন ক্রমে রামকৃষ্ণের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার অনুমতি আদায় করলাম। প্রত্যেকদিন যেতাম হাসি-খুশি সপ্রতিভ ঐ বীরকে দেখার জন্যে। তাঁর ফাঁসি মঞ্চে আরোহণের পূর্বে আমি অন্ততঃ চল্লিশটি ইন্টারভিউ নিয়েছিলাম। তাঁর সমাহিত রূপ, অপকট আলাপ-আলোচনা, মৃত্যুর তপস্যায় প্রশান্ত আত্মসমর্পণ, দ্বন্দহীন ভগবৎ ভক্তি, শিশু সুলভ সারল্য, প্রেমস্নিগ্ধ হৃদয়াবেগ, গভীর জ্ঞান, নিবিড় আত্মানুভূতি আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছিল; দুঃসাহসিকতার পথে চলবার সামর্থ্য আমার দশগুণ বাড়িয়ে দিয়েছিল। রামকৃষ্ণদার ফাঁসির পরে সক্রিয়ভাবে বৈপ্লবিক কোন এ্যাকশনে যাবার আগ্রহ আমার প্রচণ্ড হয়ে ওঠে।’

কে এই রামকৃষ্ণ বিশ্বাস। কেন তাঁর ফাঁসি হয়েছিল? ঘটনা অনেকটা ক্ষুদিরাম বসুর মতো। এক অত্যাচারী ইংরেজ পুলিশকে হত্যা করতে গিয়ে অন্য একজনকে হত্যা করে ফেলেন। ১৯৩০ সাল। বাংলার ইন্সপেক্টর জেনারেল অফ পুলিশ টিজে ক্রেগ। তিনি চট্টগ্রাম সফরে এসেছিলেন। অত্যাচারী ইংরেজ পুলিশকে হত্যা করার জন্য মাষ্টার’দা সূর্য দেন দায়িত্ব দিয়েছিলেন রামকৃষ্ণ বিশ্বাস এবং কালীপদ চক্রবর্তীর উপর। ২র ডিসেম্বর চাঁদপুর রেলস্টেশনে ক্রেগকে লক্ষ্য করে গুলি চালালেও তা লাগে এসডিও তারিণী মুখার্জির শরীরে এবং মারা যান তিনি। বোমা, রিভলবারসহ গ্রেফতার।হন রামকৃষ্ণ বিশ্বাস এবং কালীপদ চক্রবর্তী।

রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের মৃত্যুদন্ড হয়। কালীপদ চক্রবর্তীকে নির্বাসনে পাঠানো হয়। চট্টগ্রাম থেকে আলিপুর। বহু দূর। খরচ বেশি। রামকৃষ্ণের সঙ্গে কেউ দেখা করতে আসত না। বিল্লবী মনোরঞ্জন রায় প্রীতিলতাকে চিঠি লিখে সেই কথা জানিয়ে বিপ্লবীর সঙ্গে দেখা করতে বলেন।

রামকৃষ্ণের কাজিন পরিচয় দিয়ে আলিপুর জেলের কাছে দরখাস্ত করেন প্রীতিলতা। অমিত দাস ছদ্মনামে তিনি এই দরখাস্ত করেছিলেন। জেল কর্তৃপক্ষের অনুমতি দিয়েছিল। চল্লিশবার রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে দেখা করেন প্রীতিলতা।১৯৩১, ৪ আগস্ট, রামকৃষ্ণ বিশ্বাসের ফাঁসী হয়ে যায়। বদলে যায় প্রীতিলতার জীবন।

তথ্যসূত্র : ‘ভারতে সশস্ত্র বিপ্লব’, ভূপেন্দ্রকিশোর রক্ষিত রায়।

Kolkata: বৃষ্টির জলে ভেসে কলকাতার কাছে কুমির

crocodile

বিশেষ প্রতিবেদন: কলকাতার অদূরেই জলাশয় থেকে উদ্ধার হল পূর্ণবয়স্ক মিষ্টি জলের কুমির। শেষ কবে এমন কলকাতার কাছে কোনও জলাশয়ে কুমির দেখা গিয়েছিল তার রেকর্ড নেই। বিগত কয়েক বছরে এই প্রথম, বললে ভুল হবে না। ‘স্পেশ্যাল ইকনোমিক্যাল এরিয়ার’-এর মধ্যে এই কুমিরটিকে দেখতে পান কর্মীরা। আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়।

ভগবতপুর কুমির প্রকল্প থেকে রেঞ্জার তন্ময় চট্টোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বনকর্মীরা এসে বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় কুমিরটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যান। আপাতত পাথরপ্রতিমার ভগবতপুর কুমির প্রকল্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে সেটিকে।

Mugger seen in hooghly river

জানা গিয়েছে, জলাশয় লাগোয়া ছোট নালার মাধ্যমে কুমিরটি হুগলি নদী থেকে ঢুকে পড়েছিল। পরিবেশবিদদের দাবী, বৃষ্টির জেরে হুগলি নদীতে জলস্ফীতির হয়। আর এতেই মগরটি ওই জলাশয়ে ঢুকে পড়ে।
জানা গিয়েছে,ব্রিটিশ আমলে গঙ্গা, পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-সহ পূর্ব ভারতের নানা মিষ্টি জলের নদী এবং জলাশয়ে মগরের সন্ধান পাওয়া যেত। কিন্তু বহু বছর আগেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে এই প্রজাতির কুমির লুপ্ত হয়ে গিয়েছে। ২০১৬-য় নদিয়ার করিমপুরে জলঙ্গি নদী থেকে একটি মগর উদ্ধার হয়। ২০১৮ সালে মালদহের পঞ্চানন্দপুরের কাছে গঙ্গা থেকে একটি মিষ্টি জলের কুমির উদ্ধার করা হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, মিষ্টি জলের কুমির ভারত , শ্রীলঙ্কা , মায়নামার ও মালয়ের দ্বীপ ও উপদ্বীপীয় অঞ্চলে দেখতে যায়। এরা নদী ও জলা জায়গায় থাকে। এরা নিশাচর হয়। জলে থাকায় সাঁতারে পারদর্শী। এরা মাংসাশী প্রকৃতির। ৩০ – ৪০ টি ডিম পড়ে। ৬০ – ৯০ বাদে ডিম ফুটে বাঁচা জন্মায়।

ব্যক্তিগত সম্পত্তি হওয়ার পথে রবীন্দ্রনাথ ও ‘গীতাঞ্জলি’ সমৃদ্ধ লন্ডন হাউস

Tagore's london house

বিশেষ প্রতিবেদন: বিক্রি হতে চলেছে লন্ডনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ি। এই বাড়িতে বসেই শুরু হয়েছিল তাঁর নোবেল পাওয়ার যাত্রা। সেই বাড়িই এবার যেতে চলেছে ব্যক্তিগত হাতে।

১৯১২ সালে ইংল্যান্ড গিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।থেকেছিলেন হ্যাম্পস্টেড হেলথের ৩ নম্বর ভিলায়। ওই বাড়ির অবস্থান উত্তর লন্ডনে। সেখানে বেশ কয়েক মাস কাটিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ওই বাড়ির খুব কাছেই থাকতেন ব্রিটিশ শিল্পী এবং লেখক স্যার উইলিয়াম রটেনস্টাইন। তিনি ওই ভিলায় প্রায়ই কবির সঙ্গে গল্প করতে আসতেন। আড্ডাতেই উঠে এসেছিল ‘গীতাঞ্জলি’-র কথা।

কবিতা শুনে মুগ্ধ হয়ে যান রটেনস্টাইন। এরপর ওই বাড়িতেই গীতাঞ্জলীর ১০৩ টি কাব্যের ইংরেজি অনুবাদ করে তা পাঠানো হয়েছিল নোবেল কমিটির কাছে। ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ নোবেল পুরস্কার পান। এরপর ১৯৩১ সাল পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথ বেশ কয়েকবার কাটিয়েছেন তাঁর প্রিয় লন্ডন হাউসে। সেই হিসেবে এই বাড়িটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপরিসীম। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ বাড়িই যেতে চলেছে ব্যক্তিগত হাতে। 

জানা গিয়েছে, গোল্ডস্মিথ অ্যান্ড হাওল্যান্ডের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়ে গিয়েছে ঐতিহাসিক বাড়ি বিক্রির কাজ। বাড়ির মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ২৭ লক্ষ পাউন্ড, ভারতীয় মুদ্রায়, ২৭.৩ কোটি টাকা। ঘটনা হল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ২০১৫ সালে এই বাড়িটি রাজ্য সরকারের হয়ে কিনতে চেয়েছিলেন। সেই বাড়িটিকে রবীন্দ্র স্মারক সংগ্রহশালায় রূপান্তরিত করতে চান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ওই সফরেই ব্রিটেনে ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করে এই ইচ্ছা প্রকাশ করেন। অনুমতি দেয়নি ইংরেজ সরকার, কারণ সেটি হেরিটেজ।

Tagore's london house

ব্রিটিশরা হেরিটেজেকে কদর করে। তার প্রমাণ রেখেছিল তারা। ফলক বসিয়ে ইতিহাসের ধরে রাখা হয়েছিল। ওই হেরিটেজ ট্রাস্টের রক্ষণাবেক্ষণের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে। তা তারা আর আর বাড়ায়ওনি। ফলত রবি বাড়ি
এগিয়ে গিয়েছে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হওয়ার পথে।

এমনটা হলে ঐতিহাসিক যে সব নিদর্শন ছিল ওই বাড়িতে তা যে কখনোই অক্ষুণ্ণ থাকবে না তা বলাই যায়। রবীন্দ্রপ্রেমীর আশা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা বলছেন, তিনি যদি আবারও চান বাঁচাতে পারেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত মহামূল্যবান বাড়িটি।

শান্তিনিকেতনের অঙ্কের শিক্ষককে সমীহ করে চলতেন বিশ্বকবি

Jagadananda roy the teacher who wrote first science book in bengali

বিশেষ প্রতিবেদন: ১৯০৮ সালে শান্তিনিকেতনে নাটক মঞ্চস্থ হবে। নাম “শারদোৎসব”। লেখক রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং। ছাত্র, শিক্ষক সবাই নাটকে অভিনয় করছেন। কবিগুরু নিজেও আছেন। তিনি রাজসন্ন্যাসী, ছদ্মবেশী সম্রাট বিজয়াদিত্য। মহড়া চলছে। একজন এসব থেকে বহুদূরে। তিনি ব্যস্ত এক ছাত্রকে অঙ্ক কষাতে। অঙ্ক না শিখে সে যাবে না ওসব নাটক করতে। তিনি জগদানন্দ রায়।

আসলে সেদিন যে ছাত্র অনুপস্থিত ছিল তাকে মহড়ায় যোগ দিতে ডেকে পাঠিয়েছিলেন বিশ্বকবি। নাকচ করে দিয়েছিলেন শিক্ষক জগদানন্দ। তাঁকে আর ঘাঁটাতেও যাননি রবীন্দ্রনাথ। তবে তিনি তো রবীন্দ্রনাথ। অঙ্কের প্যাঁচে তাঁকে ফেলতে না পারলেও অন্য প্যাঁচে এনেছিলেন নাটক মঞ্চে।

রবীন্দ্রনাথের ভৃত্য সাধুচরণ সেদিন ক্লাসে গিয়ে জগদানন্দবাবুকে জানিয়েছিলেন গুরুদেব ওই ছাত্রকে মহড়ার জন্য ডাকছেন। জগদানন্দবাবু ছাত্রকে অঙ্কে ভালো করেই ছাড়বেন।

বিরক্ত হয়ে সাধুচরণকে বলে দিলেন ‘আমার ক্লাসের সময় ছেলেরা নাচানাচি করতে যাবে না। যাও, গুরুদেবকে গিয়ে বল, এখন ছেলেটাকে ক্লাস ছেড়ে যেতে দেওয়া হবে না।’ সাধুচরণ কাঁচুমাচু মুখে ফিরে এসে দিনেন্দ্রনাথকে সব কথা জানান। তিনি গুরুদেবকে কথা জানাতে ইতস্তত বোধ করলেও সে কথা গিয়েছিল তাঁর কানে।

তিনি রেগে না গিয়ে উপভোগ করলেন। তারপর বললেন, ‘দিনু, আর এদিকে ঘেঁষে দরকার নেই, ব্রাহ্মণ চটে গেছে। ব্রাহ্মণের রাগ আগুনের মতো, সব ভস্ম করে দেবে!’ তবু দিনেন্দ্রনাথের অস্বস্তি যায় না। জিজ্ঞাসা করলেন ‘তাহলে মহড়ার কি হবে?’ রবীন্দ্রনাথ সঙ্গে সঙ্গে এক কৌশল বাতলে দিলেন। বললেন, ‘স্বয়ং জগদানন্দবাবুকেও শারদোৎসবের অভিনয়ে যোগ দেবার জন্য অনুরোধ কর। তাহলে তাঁর সাথে ঐ ছেলেটাও মহড়া দিতে আসবে।’

সেবার শারদোৎসব নাটকে জগদানন্দ রায় কৃপণ লক্ষেশ্বরের ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয়ে রীতিমতো পাল্লা দিয়েছিলেন ছাত্রদের সঙ্গে। আজ ১৮ সেপ্টেম্বর শান্তিনিকেতনের গণিত শিক্ষকের জন্মদিন , যাকে সমীহ করে চলতেন স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

রান্না পূজা: মহিলাদের হাত ধরেই শুরু হয় বাঙালির এই খাদ্যেৎসব

Ranna Puja

বিশেষ প্রতিবেদন: বাঙালির সব পার্বন বা উৎসবের প্রথা পুরোহিত বা সমাজের কর্তা সদৃশ পুরুষদের দ্বারা প্রবর্তিত হলেও একটি পার্বন শুরু হয়েছিল মহিলাদের হাত ধরে এবং তাদের বিধান মেনেই – সেটি হচ্ছে রান্না পূজা।

প্রামাণ্য তথ্য না থাকলেও পরম্পরা থেকে ধারণা স্পষ্ট হয়। নদীমাতৃক গ্রাম বাংলার এ এক নিজস্ব উৎসব। কোথাও বলে ইচ্ছা রান্না, কোথাও বা ধরাটে রান্না বা আটাশে রান্না, আবার কোথাও বলে বুড়ো রান্না। আসলে এ সবই পার্বনপ্রিয় বাঙালির দেওয়া ডাকনাম। মূল প্রতিপাদ্য জমিয়ে হরেক রকম রান্না , না রেঁধে খাওয়া। বিশ্বকর্মা পুজোর পাশাপাশি আজ বাঙালির হেঁশেল বনধ। অরন্ধন’-এর আভিধানিক অর্থ হল অ রন্ধন অর্থাৎ যে দিন রান্না করা হয় না বা রান্না নিষেধ। আর সেই দিনটি তো আজকেই।

ভাদ্র সংক্রান্তি বা বিশ্বকর্মা পুজোর আগের দিন পরিবারের কল্যাণার্থে গৃহিণীরা শিবের মানসপুত্রী দেবী মনসার উদ্দেশে নানা বিধ পদ রান্না করে নিবেদন করেন। রান্নাপুজোর দিন সাধারণত উনুনের পুজো হয়। সারা বছর আমরা যে উনুনে রান্না করি তার উপাসনা করা হয় এই পুজোয়। অন্য দিকে উনুনের গর্ত হল মা মনসার প্রতীক। তাই দেবী মনসার উদ্দেশে পুজো বোঝাতেই এই উনুন পুজো করা হয়।

Ranna Puja

কিন্তু এর কারণ কী? দেবী মনসা বাংলার লৌকিক দেবদেবীর মধ্যে অন্যতম। ভরা বর্ষা কাটিয়ে যখন সূর্যের আলো ঝলমলে রোদ ভূমি স্পর্শ করে, শীতকালে শীত-ঘুমে যাওয়ার আগে গ্রামাঞ্চলে সাপের আনাগোনা শুরু হয়। চাষ করতে গিয়ে অনেক মানুষের জীবনহানিও ঘটে। তাই দেবী মনসাকে সন্তুষ্ট রাখতে, সংসারজীবনে দেবীর কৃপালাভের আশায় আগের দিনের রান্না করা পান্তা ভাত, সজনে শাক, ভাজাভুজি, ওলের বড়া, মাছের বিভিন্ন ধরনের পদ সাজিয়ে দেবীকে নিবেদন করা হয়। ওই দিন বাড়িতে টাটকা রান্নার নিয়ম নেই।

দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে এই উৎসব রান্নাপুজো বলে পালিত হয়। স্বাভাবিক ভাবেই এই পুজোর জন্য দৈনন্দিন ব্যবহারের উনুন গোবর জল দিয়ে পরিষ্কার করে আলপনা দিয়ে মনসা পাতা দিয়ে সাজিয়ে ঘট প্রতিষ্ঠা করে পুজো হয়।

আরন্ধনের উপকরণ কী? পান্তা ভাত, মুগের ডাল, কচু শাক, লতি চচ্চড়ি, পাঁচ রকম ভাজা, আলু – কুমড়ো নারকেল দিয়ে ছাচি, ইলিশের পাতলা ঝোল, ভাপা ইলিশ আর শেষ পাতে চালতার টক। রসনার তৃপ্তির কথা ভেবে বেশ রসালো ভাবেই শুরু হয়েছিল এই পার্বণের। এখনো গ্রাম বাংলায় অরন্ধনের আগের দিন বাড়ির সকল সদস্য, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে সারা রাত ধরে রান্নার উপচার তৈরি, রান্নাবান্না, কুটনো-বাটনা চলে।

ভাদ্র সংক্রান্তির দিন মা মনসাকে উৎসর্গ করে তবে খাওয়া হয়। গোত্র বা অঞ্চল ভেদে কেউ মনসার মূর্তি বানিয়ে, বা ঘট পেতে বা ফনিমনসার ডাল পুঁতে – মনসার প্রতীক হিসেবে ভেবে পূজা হয়। আগে তিথি অনুযায়ী, সংক্রান্তির দিন ভাদ্র শেষ হয়ে আশ্বিন পড়লে তবে সে খাবার মুখে তুলতেন গৃহস্থ। তাই এই উৎসবকে অনেকে বলেন ভাদ্রতে রান্না করে আশ্বিনে খাওয়া। এই উৎসবের প্রচলন ঘটি এলাকাতেই বেশি। নিজে বাঙাল হলেও কর্মসূত্রে আছি ঘটি প্রধান এলাকায়।

১৭ সেপ্টেম্বর নির্দিষ্ট দিনেই কেন পুজো নেন বিশ্বকর্মা, কারণ জানেন?

Bishwakarma take pujo on the specified day

বিশেষ প্রতিবেদন: দেবশিল্পী বিশ্বকর্মা। সকাল থেকেই কল কারখানায় শুরু হয়ে গিয়েছে তাঁর পূজো। হাতির পিঠে চড়ে চারবাহু নিয়ে তিনি দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁকে পূজো করতে ব্যস্ত ভারী শিল্পের শিল্পীরা এবং এর সঙ্গে যুক্ত মানুষজন। কেউ কী লক্ষ্য করেছেন যে সব পূজোর দিনক্ষণ পরিবর্তন হয় কিন্তু বিশ্বকর্মা পুজোর তারিখ পরিবর্তন হয় না বললেই চলে। পুজো হয় ১৭ সেপ্টেম্বর।

কিন্তু কেন এমনটা হয়? হিন্দু ধর্মে সমস্ত দেব দেবীর পুজোর তিথি স্থির হয় চাঁদের গতিবিধির ভিত্তিতে। কিন্তু বিশ্বকর্মার সবার থেকে আলাদা।তাঁর পুজো হয় সূর্যের গতিবিধি মেনে। সূর্য সিংহ রাশি থেকে কন্যায় গমন করলে উত্তরায়ণের সূচনা হয়। এই যাত্রাকে কন্যা সংক্রান্তি বলা হয়। প্রচলিত ধারণা , এই কন্যা সংক্রান্তির দিনেই জন্ম হয়েছিল বিশ্বকর্মা দেবের। আর তা ওই ১৭ তারিখেই পড়ে। তাই এই পূজো হয় ১৭ তারিখে।

পাশাপাশি ভাদ্র মাসের শেষ তারিখে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন নির্ধারিত হয়। ভাদ্র সংক্রান্তির আগে বাংলা পঞ্জিকায় পাঁচটি মাসের উল্লেখ মেলে। এই পাঁচটি মাসের মোট দিন সংখ্যা ১৫৬। এই নিয়মে বাংলা পঞ্জিকায় বিশ্বকর্মা পুজোর যে তারিখ পাওয়া যায়, তা ইংরেজি ক্যালেন্ডারের ১৭ সেপ্টেম্বরে হয়। খুব কম বছর দেখা গিয়েছে এই তারিখ পরিবর্তন হয়। কারণ ভাদ্র পূর্ববর্তী পাঁচ মাসের মধ্যে কোনটি ২৯ বা ৩২ দিনের হলে বিশ্বকর্মা পুজোর তারিখ পিছিয়ে যায়। তা ১৮ সেপ্টেম্বর হয়। এগিয়ে আসে না বললেই চলে। পুজো হয় ১৭ তারিখেই।

ঋগ্বেদ অনুযায়ী, বিশ্বকর্মা পরম সত্যের প্রতিরূপ এবং সৃষ্টিশক্তির দেবতা। তাঁকে সময়ের সূত্রপাতের প্রাক্‌-অবস্থা থেকে অস্তিত্বমান স্থপতি তথা ব্রহ্মাণ্ডের দিব্য স্রষ্টা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আজ তাঁরই আরাধনার দিন।।এই বছর কন্যা সংক্রান্তির সূচনা হয়েছে রাত ১টা ২৯ মিনিটে। 6শুক্ল পক্ষ একাদশী পড়েছে সকাল ৮টা ৩৪ মিনিট ২৫ সেকেন্ড। সিদ্ধি যোগ শুরু , সকাল ৬টা ৭ মিনিট থেকে। পুজোর মাহেন্দ্র যোগ শুরু,রাত ১০টা ২০ মিনিট ১৫ সেকেন্ড থেকে।শেষ ১১টা ৭ মিনিট ৩২ সেকেন্ডে।

সাবধান: কাশবনের মৃত্যুদূত

আকাশে মেঘের খেলা, দুলছে কাশ। প্রকৃতির এই অনবদ্য হাতছানি মন টানবেই। আপনি যদি কাশফুলের ঝোপে সেলফি তুলতে যান৷ কাশের হাতছানিতে লুকিয়ে আছে মৃত্যুদূত। কেউটে গোখরো সহ সাপের প্রিয় জায়গা কাশঝোপ।

কাশের ঝাড় পতিত জমিতে বা নদীর তীরে হয়। এখানে ইঁদুরের আনাগোনা বেশি। ইঁদুর খেতে সাপ আসে কাশের ঝোপ, শুকনো ঘাসজমিতে। তন্ময় হয়ে কাশ ঝোপের ছবি, সেলফি তুলছেন ? আপনার পায়ের কাছেই হয়ত রয়েছে কাল কেউটে। ছবি তুলতে গিয়ে এক ছোবলেই ছবি হয়ে যাবেন। আসলে সাপ আপনাকে ভয় পেয়েই কামড়াবে। হয়ত মনে করবে তার খাদ্য ইঁদুর বা পাখি এসেছে। সাপের দৃষ্টি খুব ক্ষীণ, তবে অনুভূতি প্রবল। কাশবনের ছবি তুলুন তবে দূর থেকে।

Viral Picture: ১২ ঘণ্টা সমুদ্রধারে টিলার চূড়ায় আটকে থাকল নৌকা

Boat gets stuck 10 feet on top of a rock

নিউজ ডেস্ক: সমুদ্রধারে টিলায় আটকে থাকা একটি নৌকার ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল (Viral Picture) হয়েছে৷ এই ছবি দেখার পর সবাই অবাক হয়ে যায়৷ তারা ভাবতে থাকেন এটা কীভাবে ঘটল। ঘটনাটি ঘটেছে চ্যানেল আইল্যান্ডে। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, নৌকাটি প্রায় ১২ ঘন্টা এই অবস্থায় ছিল। পরে কোস্টগার্ডের সহায়তায় তা বের করা হয়।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোয়ারের কারণে নৌকা চ্যানেল আইল্যান্ডে আটকে যায়। জোয়ারের কারণে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পায়৷ যার কারণে নৌকাটি টিলার চূড়ায় পৌঁছে যায়। কিন্তু জল বেরিয়ে আসার পর নৌকাটি সেখানে ১২ ঘন্টা আটকে থাকে৷ যার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, যখন ক্রু সদস্যরা আটকা পড়া নৌকাটি উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়, তখন আরএনএলআই এবং কোস্টগার্ডের সাহায্য নেওয়া হয়। তারপরে নৌকাটিকে নামিয়ে আনা হয়৷ নৌকার সমস্ত ক্রু সদস্যরা নিরাপদে আছেন।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নৌকাটি জলস্তর থেকে প্রায় ১০ ফুট উপরে বাতাসে আটকে ছিল। পাথরে আটকে থাকা নৌকার ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হওয়ার পর, তাতে সবাই তাদের প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেছে। বেশিরভাগ ব্যবহারকারী ছবি দেখে অবাক।