God bless Goa! গোয়াকে মমতার হাত থেকে বাঁচাতে ভগবানের কাছে আর্জি পি চিদম্বরমের

Senior Congress leader P Chidambaram

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: ২০২২ বিধানসভা নির্বাচনে গোয়াতে (Goa) ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে মরিয়া হয়ে উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেস (Ttrinamul congress)। ক্ষমতা দখলের জন্যই তারা মানুষকে অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। যা করা সম্ভব নয়, সেটাই বলছে। আসলে এই দল মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চাইছে। তারা জানে গোয়ার নির্বাচনে তারা একটি আঁচড়ও কাটতে পারবে না। কিন্তু এরই মধ্যে মানুষকে অবাস্তব কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়ে সর্বতোভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রবিবার এই ভাষাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) দলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ও প্রবীণ কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম (P Chidanbaran)।

উল্লেখ্য, ২৪ ঘণ্টা আগে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তারা যদি গেয়ায় ক্ষমতা দখল করতে পারে তাহলে রাজ্যের প্রত্যেক মহিলাকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেবে। অর্থাৎ একজন পরিবারের গৃহকর্তী বছরে ৬০ হাজার টাকা পাবেন। তৃণমূল এই প্রকল্পের নাম দিয়েছে গৃহলক্ষ্মী প্রকল্প। লক্ষ্মী ভাণ্ডার নামে এ ধরনের একটি প্রকল্প চালু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। তবে সেখানে পরিবারের মহিলাদের মাসে ৫০০ টাকা করে দেওয়া হয়।

চিদম্বরম এদিন টুইট করে তৃণমূলের এই প্রতিশ্রুতির কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, সাড়ে তিন লক্ষ পরিবারকে প্রতিমাসে ৫০০০ টাকা করে দিলে মাসে খরচ হবে ১৭৫ কোটি টাকা। বছরে খরচ হবে ২১০০ কোটি টাকা। ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত গোয়ার মোট দেনার পরিমাণ প্রায় ২৩৫০০ কোটি টাকা। সেই রাজ্যের জন্য নতুন করে কিভাবে বছরে ২১০০ কোটি টাকা খরচ করা হবে। যে দল তাদের মূল জায়গা অর্থাৎ বাংলাতেই মাসে ৫০০ টাকা করে দিচ্ছে সেই দলই গোয়ায় বলছে ৫০০০ টাকা করে দেবে। শোনা যাচ্ছে বাংলায় তো সব মহিলা নিয়মিত সেই টাকাও পাচ্ছেন না। যে সরকার মাসে ৫০০ টাকা করে একজনকে দিতে পারে না, সেই সরকার কীভাবে ৫০০০ হাজার টাকা করে দেবে। এই প্রতিশ্রুতির জন্য কী বলব সেটাই বুঝতে পারছি না। ঈশ্বর মঙ্গল করুন, নাকি গোয়ার মানুষকে বাঁচান ভগবান, কী যে বলি! এই সহজ অংকের জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পাওয়া উচিত।

চিদম্বরমের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও। গোয়ায় দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী মহুয়া মৈত্র উত্তরে জানিয়েছেন, সাড়ে তিন লক্ষ পরিবারকে মাসে ৫০০০ টাকা করে দিলে ২১০০ কোটি টাকা খরচ হবে সেটা ঠিক। যেটা গোয়ার বাজেটের ৬-৮ শতাংশ। কিন্তু একটা বিষয় আপনারা ভুলে যাচ্ছেন, অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে হলে মানুষের হাতে আরও বেশি করে নগদ অর্থ তুলে দিতে হবে।

অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আমাদের নেত্রী। তৃণমূল কংগ্রেস সরকার কখনও বেহিসেবি খরচ করে না। কোথাও কোনও বাহুল্যতা দেখায় না। আমাদের দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্পষ্ট নির্দেশ আছে, সবার আগে মানুষের পাশে থাকতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। সেই লক্ষ্য পূরণ করতেই এই আর্থিক সাহায্যের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করা হয়েছে। গোয়ায় ক্ষমতায় এলে দেখাব আমরা কোনও অবাস্তব কথা বলিনি। যেটা বাস্তব সেটাই বলেছি। পশ্চিমবাংলার মতই গোয়ার মহিলারাও প্রতিমাসে নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা পেয়ে যাবেন।

তাইওয়ানকে রক্ষার প্রতিশ্রুতি আমেরিকার, আগুন নিয়ে খেলা ঠিক নয় বলে হুমকি বেজিংয়ের

America's promise to protect Taiwan

News Desk: তাইওয়ানকে বেজিংয়ের অন্তর্ভুক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে শি জিনপিং সরকার। অন্যদিকে নিজেদের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখতে আমেরিকার সাহায্য চেয়েছেন তাইওয়ান প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন। এই অবস্থার প্রেক্ষিতে আমেরিকা স্পষ্ট জানাল, তারা সর্বশক্তি দিয়ে তাইওয়ানের স্বাধীনতা রক্ষা করবে। স্বাভাবিকভাবেই আমেরিকার ওই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বেজিং।

চিনের বিদেশমন্ত্রক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, আমেরিকার কখনওই আগুন নিয়ে খেলা করা উচিত নয়। আমেরিকা যদি কোন একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলায় তবে তাদের উপযুক্ত ফল ভোগ করতে হবে। বিশ্বের শক্তিশালী দুই দেশের এভাবে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়াকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল।

উল্লেখ্য, গত সপ্তাহেই তাইওয়ান নিয়ে মুখ খুলে ছিলেন জিনপিং। চিনের প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, চিন ও তাইওয়ানের পুনর্মিলন সময়ের অপেক্ষা। তাইওয়ান চিনের অংশ। তাই আগামী দিনে এই দেশ চিনের সঙ্গে মিশে যাবে। জিনপিংয়ের ওই বক্তব্যের পর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট ওয়েন স্পষ্ট বলেছিলেন, চিনের থেকে তাঁদের বিপদ বাড়ছে। কিন্তু দ্বীপরাষ্ট্রের আড়াই কোটি মানুষ নিজেদের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখতে চান। বেজিং যদি কোনওভাবে তাইওয়ানের দখল নেয় তাহলে সেটা গণতন্ত্রের পক্ষে এক কালোদিন হিসেবে চিহ্নিত হবে। গোটা বিশ্বের মানুষ গণতন্ত্রের উপর বিশ্বাস হারাবে।

পাশাপাশি লালফৌজের আগ্রাসন ঠেকাতে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে তাইওয়ান। তারা নিজেদের সেনাবাহিনীকে অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত করে তুলেছে। পাশাপাশি নিজেদের রক্ষা করার জন্য আমেরিকার কাছে আবেদন জানিয়েছে। তার প্রেক্ষিতেই আমেরিকার পক্ষ থেকে ওই মন্তব্য করা হয়।

তাইওয়ানে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সান্দ্রা আউকার্ক বলেন, তাইওয়ানকে রক্ষা করতে আমেরিকা প্রতিশ্রুতি বদ্ধ। আমেরিকা ও তাইওয়ানের সম্পর্ক পাথরের মত শক্ত ও মজবুত। কেউ কোনওভাবেই এই সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারবে না। তাইওয়ানের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখতে আমেরিকা সব ধরনের সাহায্য করবে। সান্দ্রার ওই বক্তব্য জানার পরই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে চিনের বিদেশমন্ত্রক।

বেজিং পাল্টা বলেছে, আমেরিকা আগুন নিয়ে খেলছে। এটা ঠিক নয়। আগুন নিয়ে খেলতে গিয়ে তারা নিজেরাই পুড়ে মরবে। চিন ও আমেরিকার এই বাক্য যুদ্ধের প্রভাব গোটা বিশ্বের রাজনীতিতে পড়বে বলে মনে করছে কূটনৈতিক মহল। পাশাপাশি তাইওয়ান প্রণালীর শান্তিও নষ্ট হতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।