Delhi Pollution:পাঞ্জাব-হরিয়ানা থেকে দৈত্যের মতো এগিয়ে আসছে ধোঁয়ার কুণ্ডলী

Delhi Pollution

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি:  দিল্লির ভয়াবহ দূষণ (pollution) কমাতে গত কয়েকদিন ধরেই নানা কথাবার্তা চলছে। বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শীর্ষ আদালতে দিল্লি (Delhi) ও কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছিল মাত্রাতিরিক্ত দূষণের মূল কারণ ফসলের গোড়া পোড়ানো বা নাড়া পোড়ানো।

যদিও সুপ্রিম কোর্টের (supreme court) বেঞ্চ সহকারের ওই বক্তব্য খারিজ করে দেয়। কিন্তু শুক্রবার নাসার (NASA) উপগ্রহ চিত্রে যে ছবি দেখা গিয়েছে তা দিল্লি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্যকেই মান্যতা দিচ্ছে।

নাসার উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, পাঞ্জাব (Punjab) ও হরিয়ানা (Haryana) থেকে নাড়া পোড়ানো বা ফসলের অবশিষ্টাংশ পোড়ানোর কালো ধোঁয়া নদীর স্রোতের মতো দিল্লির দিকে এগিয়ে আসছে। চলতি মাসের ১১ তারিখে এই ছবি ধরা পড়েছে নাসার ক্যামেরায়।

NASA satellite data shows

উপগ্রহ চিত্রে দেখা গিয়েছে, রাজধানী ও তার সংলগ্ন এলাকাগুলি ধোঁয়ায় ঢেকে রয়েছে। ওই ছবিতে যে সমস্ত জায়গায় বড় মাপের আগুন জ্বলছে সেই জায়গাগুলিকে লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানেই দেখা গিয়েছে, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, এমনকী, পাকিস্তানের বেশ কিছু জায়গায় মাইলের পর মাইল জমিতে চাষিরা ফসলের গোড়া পোড়াচ্ছেন। ফসলের গোড়া পোড়ানোর কালো ধোঁয়া আগ্নেয়গিরির লাভা মতো এগিয়ে আসছে দিল্লির দিকে।

নাসার এক বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, ফসলের গোড়া পোড়ানোর কারণে যে ভয়ঙ্কর দূষণের সৃষ্টি হয়েছে তাতে ওই একদিনই দু’কোটির বেশি মানুষ কমবেশি শারীরিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ওই বিজ্ঞানীর দাবি, উপগ্রহ চিত্রে যেভাবে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলীকে দিল্লির দিকে এগিয়ে আসতে দেখা গিয়েছে তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। অবিলম্বে ফসলের গোড়া পোড়ানো বন্ধ করা না গেলে দিল্লির দূষণ রোধ করা যাবে না।

উল্লেখ্য, প্রতি বছরই দেওয়ালির পর দিল্লির দূষণ মাত্রা ছাড়ায়। বাজি ফাটানোর সঙ্গে সঙ্গে নভেম্বরের শুরু থেকেই কৃষকরা ফসলের গোড়া পোড়াতে থাকেন। এই দুইয়ের যোগফলেই দিল্লির বাতাস শ্বাস নেওয়ার অযোগ্য হয়ে পড়ে। এই মুহূর্তে দিল্লির বাতাস ‘অতি খারাপ’ পর্যায়ে রয়েছে।

ভয়াবহ দূষণের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে। সমস্ত সরকারি-বেসরকারি অফিসে চালু করা হয়েছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম। বন্ধ রাখা হয়েছে সব ধরনের নির্মাণকাজ ও তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য এটা মেনে নিয়েছে যে, এই দূষণের অন্যতম কারণ ফসলের গোড়া পোড়ানো হলেও সেটাই একমাত্র কারণ নয়। তাছাড়া কৃষকরা যাতে এই কাজ না করেন তার জন্য সরকারকেই উদ্যোগী হতে হবে। কৃষকদের বিকল্প পথের সন্ধান দিতে হবে সরকারকেই। কিন্তু সরকার সেটা করছে না।

Punjab: কলেজ হোস্টেলে কাশ্মীরি পড়ুয়াদের মারধর চলছে, মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চাইলেন ওমর

omar abdullah

নিউজ ডেস্ক: টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে পরাজিত ভারত। এর পরই রবিবার রাত থেকে পাঞ্জাবে ছড়িয়েছে কাশ্মীরি পড়ুয়াদের উপর হামলা। অন্তত ১০ জন জখম। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানাচ্ছে এ খবর। আক্রান্ত পড়ুয়া সহ বাকি কাশ্মীরি ছাত্র ছাত্রীদের নিরাপত্তা চেয়ে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী চরণজিত সিং চান্নির কাছে বার্তা পাঠালেন ওমর আবদুল্লা।

জম্নু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবুদুল্লা এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করেন অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হোক।

রবিবার আইসিসি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবথেকে উত্তেজনার ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে পরাজিত ভারত। খেলা শেষ হতেই পাঞ্জাবের বিভিন্ন কলেজে পড়তে আসা কাশ্মীরি পড়ুয়ারা আক্রান্ত হতে থাকেন। অভিযোগ, ওই পড়ুয়াদের সরাসরি পাকিস্তানি বলে মারধর শুরু হয়েছে রাত থেকে।

সোমবার সকালেও বিক্ষিপ্ত হামলা চলছে বিভিন্ন কলেজে। কাশ্মীরের পড়ুয়ারা মূল লক্ষ্য। উত্তেজিত ‘ক্রিকেটপ্রেমীরা’ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে পরাজয় মানতে পারছেন না। বিশ্বকাপে প্রথমবার পাকিস্তান হারিয়েছে ভারতকে।

সামনেই পাঞ্জাব বিধানসভা ভোট। তার আগেই এমন ঘটনায় এই রাজ্যে সরকারে থাকা কংগ্রেস অস্বস্তিতে। অভিযোগ উঠছে, হামলাকারীরা হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ ও বিহারের বিজেপি এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত। পাঞ্জাবের পরিস্থিতি ক্রমে বড় আকার নিতে পারে এমনই আশঙ্কা।

হামলাকারীরা সোশ্যাল সাইটে হামলার লাইভ দেখিয়ে কাশ্মীরি পড়ুয়াদের মারধর শুরু করে। কাশ্মীরি ছাত্রদের বক্তব্য, হামলার সময় স্থানীয় পাঞ্জাবিরা রক্ষা করতে আসেন। তাদের প্রতিরোধে কিছুটা রক্ষা পেয়েছেন কয়েকজন। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ছড়ায় রাতে। পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলেছে।

Punjab: ভারত হারতেই ‘তুম লোগ পাকিস্তানি’ বলেই কাশ্মীরি পড়ুয়াদের মারধর শুরু

kashmir Student

নিউজ ডেস্ক: আইসিসি টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সবথেকে উত্তেজনার ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে পরাজিত ভারত। খেলা শেষ হতেই পাঞ্জাবের বিভিন্ন কলেজে পড়তে আসা কাশ্মীরি পড়ুয়ারা আক্রান্ত। অভিযোগ, ওই পড়ুয়াদের সরাসরি পাকিস্তানি বলে মারধর শুরু হয়েছে রাত থেকে।

সোমবার সকালেও বিক্ষিপ্ত হামলা চলছে বিভিন্ন কলেজে। কাশ্মীরের পড়ুয়ারা মূল লক্ষ্য। উত্তেজিত ‘ক্রিকেটপ্রেমীরা’ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের কাছে পরাজয় মানতে পারছেন না। বিশ্বকাপে প্রথমবার পাকিস্তান হারিয়েছে ভারতকে।

পাঞ্জাবের পরিস্থিতি ক্রমে বড় আকার নিতে পারে এমনই আশঙ্কা। হামলাকারীরা সোশ্যাল সাইটে হামলার লাইভ দেখিয়ে কাশ্মীরি পড়ুয়াদের মারধর শুরু করে। হামলাকারীদের বেশিরভাগই উত্তর প্রদেশ ও বিহার থেকে আসা ছাত্র বলেই জানা গিয়েছে।

আক্রান্ত কাশ্মীরি ছাত্রদের বক্তব্য, হামলার সময় স্থানীয় পাঞ্জাবিরা রক্ষা করতে আসেন। তাদের প্রতিরোধে কিছুটা রক্ষা পেয়েছেন কয়েকজন।

কাপুরথালা, আম্বালা, গুরদাসপুর, চন্ডীগড়, সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ছড়ায় রাতে। পাঞ্জাব পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলেছে।

Punjab: পঞ্জাবের উন্নয়নের জন্য কংগ্রেসের সামনে এটাই শেষ সুযোগ, দাবি সিধুর

Navjot Singh Sidhu

নিউজ ডেস্ক: পঞ্জাবে কংগ্রেসের ঝামেলা কমার এখনও কোনও লক্ষ্মণই দেখা যাচ্ছে না। পঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করে আবার নাটকীয় উপায়ে পদত্যাগ ফিরিয়ে নিয়ে নভজোত সিং সিধু (Navjot Singh Sidhu) কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চাইলেন। এ জন্য সিধু সোনিয়াকে একটি চিঠিও লিখেছেন। ওই চিঠিতে তিনি মন্ত্রিসভায় নতুন কয়েকজনকে অন্তর্ভুক্ত করা-সহ ১৩ দফা দাবি পেশ করেছেন।

সিধু ইতিমধ্যেই কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গেও দেখা করেছেন। রাহুলের সঙ্গে দেখা করার পর সিধু বলেছিলেন, সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে।

পঞ্জাবের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নির কিছু সিদ্ধান্তে অসন্তুোষ প্রকাশ করে সিধু পঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতির পদ ছেড়ে দিয়েছিলেন। যাই হোক, চান্নি এবং অন্যান্য নেতাদের আবেদনে তিনি সভাপতি পদে থাকতে রাজি হন। পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং এর সঙ্গে সিধুর মতবিরোধ সুপরিচিত। সিধুর অনুগামী বিধায়কদের চাপেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরতে হয়েছিল অমরিন্দরকে।

এদিকে সিধুর উপদেষ্টা এবং প্রাক্তন আইপিএস মহম্মদ মোস্তফার স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা বলেছেন, ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং তাঁকে প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছেন। রাজিয়া সুলতানা চান্নি সরকারের একজন মন্ত্রী।

সোনিয়া গান্ধীকে লেখা চিঠিতে সিধু বলেছেন, কংগ্রেস দল ২০১৭ সালের পঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। কংগ্রেস সে সময় জনগণের অর্থনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারকে শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। সিধুর দাবি, তিনি যে ৫৫ টি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচার করেছিলেন, তার মধ্যে কংগ্রেস ৫৩ টিতে জয়লাভ করেছিল।

সিধু উল্লেখ করেছেন, তিনি বিধায়ক, পঞ্জাব মন্ত্রিসভার মন্ত্রী এবং পঞ্জাব কংগ্রেস সভাপতি থাকাকালীন রাজ্যের উন্নয়নকেই অগ্রাধিকার দিয়েছেন। সিধু তাঁর চিঠিতে আরও লিখেছেন, ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক সেবা করার পর তিনি জনসাধারণের অনুভূতিগুলি সহজেই বুঝতে পারেন। তাই তিনি অনুভব করছেন যে পঞ্জাবের পুনরুজ্জীবনের জন্য কংগ্রেসের সামনে এটাই শেষ সুযোগ।

চান্নির বিরুদ্ধে তোপ সিধুর: ‍‍‘‘এই লোকটাই কংগ্রেসকে ডোবাবে’’

Navjot Sidhu

নিউজ ডেস্ক: লখিমপুরের ঘটনার প্রতিবাদে পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেস একটি মিছিলের আয়োজন করে। ওই মিছিলে যোগ দেওয়ার কথা ছিল মুখ্যমন্ত্রী চরণজিৎ সিং চান্নির। ওই মিছিলে যোগ দিতে বেশ কিছুটা আগেই চলে এসেছিলেন নভজ্যোৎ সিং সিধু। কিন্তু চান্নির আসতে দেরি হওয়াতেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন সিধু।

দেশের প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজনীতিবিদ সিধু বলেন, এই লোকটাই কংগ্রেসকে ডুবিয়ে ছাড়বে। ২০২২-এর নির্বাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির জন্য দায়ী থাকবে এই ব্যক্তি। ভগবন্ত সিং সিধুর ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হলে সাফল্য কাকে বলে দেখিয়ে দিতাম। কিভাবে পাঞ্জাবের উন্নতি করতে হয় তা শিখিয়ে দিতাম গোটা দেশকে। উল্লেখ্য ভগবন্ত সিং হলেন সিধুর বাবা। সিধুর ওই মন্তব্যের ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মুখ্যমন্ত্রী হতে না পারার জন্যই সিধু চান্নির ওপর বেজায় চটেছেন। যথারীতি এই ঘটনা নিয়ে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি শিরোমণি অকালি দল। স্যাডের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসলে সিধু একজন তপসিলি জাতির মানুষের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসাকে কিছুতেই মানতে পারছেন না। তাঁর নিজেরই মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসার ইচ্ছা ষোলোআনা। সে কারণেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন।

Punjab: কংগ্রেসের ইনিংস ‘শেষ’ করতে চলেছেন ক্যাপ্টেন

punjab ex cm captain amarinder singh likely to join bjp

নিউজ ডেস্ক: দশকের পর দশক ধরে কংগ্রেস করা লোক। বিচ্ছেদ আগেও হয়েছে। ফিরেও এসেছেন। এমনই খুঁটি নড়বড়ে হতে শুরু করল। ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং (Amarinder Singh) দিল্লিতে আসা ইস্তক গুঞ্জন, তিনি কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন। যদিও মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত ‘ক্যাপ্টেন সাহাব’ তেমন পদক্ষেপ নেননি। রাজধানীর আলোচনা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পুরো বিষয়টি দেখছেন। 

পাঞ্জাবে (Punjab) ক্যাপ্টেনের কংগ্রেস ইনিংস শেষ বলেই ধরে নিয়েছে ম্যাডাম সোনিয়া গান্ধী। রাজীব জমানার কংগ্রেস নেতাকে বাঁয়ার খাতায় রাখছে কংগ্রেস। আবার ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংকে টেনে আনতে মরিয়া শিরোমনি আকালি দল। যে দলের পূর্বতন সদস্য সদ্য প্রাক্তন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী।

অমৃতসর স্বর্ণমন্দিরে খালিস্তানি জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে সেনা অভিযান ‘অপারেশন ব্লু স্টার’ নির্দেশ দেওয়ার পর কংগ্রেসের অভ্যন্তরে ধ্বস নেমেছিল। শিখ ধর্মাবলম্বী অমরিন্দর সিং কংগ্রেস ত্যাগ করেন। শিরোমণি আকালি দলে যোগ দেন। পরে আকালি দলেই নিজের গোষ্ঠী হয়। রাজনৈতিক সমীকরণে ফের কংগ্রেসে ফিরে আসেন। নব্বই দশক থেকে টানা পাঞ্জাব প্রদেশ কংগ্রেসের মুখ তিনি।

গত বিধানসভা ভোটে পাঞ্জাবে আকালি দলের পতন হয়। কংগ্রেস সরকার গড়ে। তারপর টানা স্থানীয় নির্বাচনগুলিতে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির লড়াই বড় হয়েছে। আকালি দল রয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রের কৃষি আইনের ধাক্কায় আকালি দল এনডিএ ত্যাগ করে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপির বিরাট ধাক্কা লেগেছে পাঞ্জাবে।
বিধানসভা ভোটের আগে পাঞ্জাবে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ জটিলতার দুই মেরুতে চলে যান নভজ্যোত সিং সিধু ও ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং। পাঞ্জাবে কংগ্রেস ভেঙে যাওয়ার পরিস্থিতি। সিধু নাকি পুরনো ক্যাপ্টেন কাকে কাছে টানবে কংগ্রেস তাই আলোচনার কেন্দ্রে। পরিস্থিতি এমন যে শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা।

এমন পরিস্থিতিতে সিধু অনবরত চাপ তৈরি করেছেন দলেরই হাইকমান্ডের উপরে। কোনঠাসা হতে হতে পুরনো বহু নেতার মতো ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং মুখ ঘোরালেন রাজধানীর দিকে। পাঞ্জাবে ক্যাপ্টেনের কংগ্রেস পিচের ইনিংস শেষের পথে, আশায় বুক বাঁধছেন এই রাজ্যে ধুঁকতে থাকা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতারা।

ত্রিপুরা-পাঞ্জাবে টলমল BJP, পরীক্ষায় মোদী-শাহ

narendta modi and amit shah

বিশেষ প্রতিবেদন: কৃষি আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের জেরে শংকিত বিজেপি পাঞ্জাব বিধানসভা ভোটের আগেই বিরাট ভাঙনের মুখে। ঠিক যেমন করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার হিড়িক লেগেছিল। পাঞ্জাবে বিজেপি শিবিরের পুরনো সহযোগী শিরোমনি আকালি দলে ভিড়ছেন ‘জয় শ্রীরাম’ বলা নেতা কর্মীরা।

একইভাবে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ত্রিপুরায় শাসক বিজেপিতে চরম সঙ্কটে। তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ার জন্য অনেকেই সরাসরি কলকাতায় ফোনাফুনি শুরু করেছেন। শাসক দলের ভিতর চওড়া হচ্ছে ভাঙন।
মোদী-শাহ, মমতা, কেজরি, রাহুল, CPIM সবার পরীক্ষা

(১) আগামী বছর ২০২২ সালে পাঞ্জাবে ভোট। ২০২৩ সালে ত্রিপুরায় ভোট। দেশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের নির্বাচনে মোদী-শাহের অগ্নিপরীক্ষা। দুজনেই পশ্চিমবঙ্গ দখলে ব্যর্থ হয়েছেন।

(২) পরীক্ষায় বসবে সিপিআইএম। দলটি ত্রিপুরায় টানা ২৫ বছর সরকারে ছিল। গত বিধানসভায় সেই বাম সরকারের পতন হয়। ত্রিপুরায় এখন তারা প্রধান বিরোধী দল। পশ্চিমবঙ্গে শূন্য হলেও কেরলে পরপর দুবার সরকার তারা গড়েছে। ত্রিপুরায় ফিরে আসতে মরিয়া মানিক সরকার।

(৩) পরীক্ষা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতারও। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়েছেন তিনি। দেশের অপর বাংলাভাষী প্রধান রাজ্যে তিনি রাজত্ব সম্প্রসারণে মরিয়া।

(৪) পরীক্ষা দেবেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। টানা তিনবার দিল্লির সরকারে আম আদমি পার্টি। পাঞ্জাবে তারা অন্যতম শক্তি। কেজরির লক্ষ্য অন্তত পাঞ্জাবে বিরোধী আসন।

(৫) কেরল দখলে ব্যর্থ হয়ে পাঞ্জাবের মতো দুর্গ ধরে রাখার পরীক্ষায় নামছে কংগ্রেস। সেনিয়া-রাহুল গান্ধীর পাখির চোখ পাঞ্জাব।

পরীক্ষার্থীদের দিকে চোখ রাখলে স্পষ্ট হয় দেশের তাবড় তাবড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অগ্নিপরীক্ষা শুরু হতে চলেছে। পাঞ্জাব ও ত্রিপুরার ভোট লড়াইয়ে যারা যারা কুর্সিতে যাবে তাদের কাছে আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে স্বস্তিকর।

ইতিমধ্যে পাঞ্জাবে বিজেপির অবস্থা সঙ্গীন। কৃষি আইন বিরোধিতার পক্ষে গিয়ে এনডিএ জোটের অতি বিশ্বস্ত শিরোমনি আকালি দল একলা হয়ে গিয়েছে। গতবার তাদের বদান্যতায় পাঞ্জাবে কিছু আসন ছিল বিজেপির দখলে। সদ্য কয়েকটি পুরসভা ও স্থানীয় ভোটে বিজেপি একা লড়ে করুণ অবস্থায়। লেগেছে দলত্যাগ হিড়িক। বরং উঠে এসেছে আম আদমি পার্টি।

ত্রিপুরায় রাতারাতি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে গিয়ে পাঁচবছর আগে মোদী ঝড়ের ফায়দায় বাম রাজ্যটি ‘রাম রাজ্য’ হয়েছিল। সেই ত্রিপুরায় এখন বিজেপির বিধায়করা মমতা শিবিরে ঢুকতে হত্যে দিতে শুরু করেছেন। দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার গিয়েও পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না। দলকে চাঙ্গা করতে বিজেপি বিধায়কের গলায় হাড় গুঁড়ো করার হুঁশিয়ারি তো তালিবানি রীতিতে মারধরের হুমকি শোনা যাচ্ছে। এতে বিব্রত বিজেপি। তার সঙ্গে জুটেছে ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি না পূরণের ক্ষোভ।
সবমিলে রাজনৈতিক লড়াইয়ে দুই রাজ্যে চাপে বিজেপি। ফায়দা লুঠবে কে?