भातार में सीपीआईएम ने 14 एकड़ खास जमीन पर किया कब्जा

CPI(M) Leads Tribal Families to Seize 14 Acres in Purba Bardhaman Kashipur Amid Controversy

पूर्वी बर्दवान (Purba Bardhaman) जिले के भातार थाना क्षेत्र के काशीपुर गांव में एक महत्वपूर्ण घटना घटी है। सीपीआईएम ने आदिवासी समुदाय के साथ मिलकर 14 एकड़ खास जमीन पर कब्जा कर लिया है। रविवार को इस जमीन पर लाल झंडा गाड़कर सीपीआईएम ने अपनी ताकत का प्रदर्शन किया। एक समय बर्दवान वामपंथियों का मजबूत गढ़ हुआ करता था। लंबे समय बाद इस घटना को सीपीआईएम के लिए एक बड़े कदम के रूप में देखा जा रहा है।

Read Bengali: ভাতারে ১৪ একর খাস জমির দখল নিল সিপিআইএম

सीपीआईएम की अखिल भारतीय किसान सभा के नेतृत्व में स्थानीय कुछ भूमिहीन परिवारों के सदस्यों ने जुलूस निकालकर इस जमीन पर कब्जा किया। सीपीआईएम का दावा है कि वामपंथी शासनकाल में इस 14 एकड़ जमीन को सैकड़ों भूमिहीन परिवारों के बीच पट्टा के रूप में बांटा गया था। लेकिन पिछले तीन वर्षों से कुछ स्थानीय लोग, सत्तारूढ़ तृणमूल कांग्रेस के नेताओं के समर्थन से, इस जमीन पर अवैध रूप से कब्जा कर चुके हैं। इतना ही नहीं, उन्होंने गलत तरीके से जमीन का रिकॉर्ड भी बदल लिया। यहां तक कि इस जमीन का कुछ हिस्सा विभिन्न संगठनों को बेच भी दिया गया।

लंबी कानूनी लड़ाई के बाद अदालत के निर्देश पर यह जमीन फिर से सरकार के खातों में दर्ज हो चुकी है। सीपीआईएम का कहना है कि यह जमीन मूल रूप से भूमिहीन आदिवासी परिवारों के लिए आवंटित की गई थी। इसलिए, उन्होंने आदिवासियों के साथ मिलकर इस जमीन पर फिर से कब्जा किया। सीपीआईएम के स्थानीय नेता अमित मंडल ने कहा, “यह जमीन भूमिहीनों का अधिकार है। हमने केवल उनका हक वापस दिलाया है। सत्तारूढ़ दल के समर्थन से जमीन हड़पने की इस प्रवृत्ति को हम और बर्दाश्त नहीं करेंगे।” उन्होंने आगे कहा कि यह केवल शुरुआत है। भूमिहीनों के अधिकारों की रक्षा के लिए वे और आंदोलन चलाएंगे।

स्थानीय आदिवासी परिवार इस घटना से उत्साहित हैं। काशीपुर के निवासी रामू मुर्मू ने कहा, “यह जमीन हमारे पूर्वजों के समय से हमारी थी। लेकिन कुछ लोगों ने जबरन इसे हड़प लिया था। आज हमें हमारा हक वापस मिला है।” उन्होंने सीपीआईएम के प्रति आभार व्यक्त किया और कहा कि वे इस जमीन पर फिर से खेती शुरू करना चाहते हैं।

दूसरी ओर, तृणमूल कांग्रेस ने इस घटना की कड़ी निंदा की है। उनका दावा है कि यह सरकारी जमीन है और अभी भी सरकार के अधीन है। तृणमूल के स्थानीय नेता सुजीत घोष ने कहा, “सरकार नियमित रूप से भूमिहीनों को पट्टा बांट रही है। सीपीआईएम का इस मामले में क्या स्वार्थ है, यह समझ से परे है। दरअसल, चुनाव से पहले वे जमीन पर पकड़ बनाने की कोशिश कर रहे हैं।” उन्होंने आगे आरोप लगाया कि सीपीआईएम इस तरह की घटनाओं के जरिए क्षेत्र में अशांति फैलाना चाहता है।

इस घटना से क्षेत्र में तनाव फैल गया है। स्थानीय प्रशासन ने कहा है कि वे स्थिति को नियंत्रण में रखने के लिए तत्पर हैं। भातार थाने के ओसी अजय सेन ने कहा, “हम स्थिति पर नजर रख रहे हैं। किसी भी अप्रिय घटना को रोकने के लिए हम सतर्क हैं।” उन्होंने आगे बताया कि जमीन के मालिकाना हक को लेकर विवाद को अदालत के निर्देशों के अनुसार सुलझाया जाएगा।

यह घटना पूर्वी बर्दवान में राजनीतिक टकराव को नया आयाम दे रही है। एक ओर सीपीआईएम अपने पुराने गढ़ को पुनः स्थापित करने के लिए आंदोलन तेज कर रहा है, वहीं तृणमूल इसे राजनीतिक बदले की कार्रवाई के रूप में देख रहा है। स्थानीय निवासी अब इस विवाद के परिणाम का इंतजार कर रहे हैं।

Panchayat Counting: তৃণমূল ও পুলিশকে বাঁশপেটা বাম সমর্থকদের, বর্ধমান গ্রামাঞ্চলে সংঘর্ষ ছড়াচ্ছে

সকাল থেকে যে প্রবল সংঘর্ষ পরিবেশে পঞ্চায়েত ভোটের গণনা চলছে তাতে পঞ্চায়েত স্তরে বাম ও কংগ্রেসের জোট গ্রাম বাংলার বিরোধী পক্ষ হিসেবে দ্রুত পাকা জমি তৈরি করে নিচ্ছে। বেলা ১২ পর্যন্ত জোটের মিলিত শক্তি বিধানসভায় বিরোধী দলের তুলনায় বেশি। এককভাবে সিপিআইএম ও বিজেপির মধ্যে চলছে কড়া টক্কর। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাম শিবিরই মূল বিরোধী তার কারণ, জয়ী বিজেপির অধিকাংশ দল পাল্টে তৃণমূল শিবিরে যাবে। প্রত্যাশিতভাবে শাসকদল তৃ়ণমূল বিপুল জয়ী।

জেলায় জেলায় চলছে সংঘর্ষ। পূর্ব বর্ধমানের গ্রামাঞ্চলে বাম বনাম তৃ়ণমূলের সংঘর্ষ চরমে। জেলার সগড়াইতে সিপিআইএম সমর্থকরা বাঁশপেটা করল তৃ়ণমূল ও পুলিশকে। বাম সমর্থকদের হাতে মার খেয়ে পালাচ্ছে পুলিশ ও টিএমসি এমন দৃশ্য রাজ্যে গত একযুগে প্রায় বিরল। তবে পঞ্চায়েত গণনার দিন তেমনই ছবি দেখা গেল। সগড়াইতে প্রবল সংঘর্ষ চলছে।

মন্তেশ্বর, কেতুগ্রাম, মঙ্গোলকোট, আউসগ্রাম, রায়না, খণ্ডোঘোষ, কাটোয়া, কালনায় বাম বনাম তৃ়নমূল সংঘর্ষে একাধিক জখম। পঞ্চায়েত ভোট পর্বে এই জেলায় তিনজন নিহত। দুজন সিপিআইএম সমর্থক ও একজন তৃ়নমূল সমর্থক। এদিন গণনায় জখম একাধিক। দুই শিবিরের কয়েকজন গুরুতর। জখম।

কড়া নিরাপত্তা বলয়ে রাজ্যের ২২টি জেলার ৩৩৯টি কেন্দ্রে চলছে ভোট গণনা৷ প্রতিটি গণনা কেন্দ্রে রয়েছে এক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। জেলায় জেলায় গণনাকেন্দ্র যেন যুদ্ধক্ষেত্র৷ বাঙ্কার বানিয়ে পাহারা দিতে দেখা গেল কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। তবে বেশিরভাগ গণনা কেন্দ্র ঘিরে চলছে সংঘর্ষ।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে চলবে গণনা। জেলায় জেলায় রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। ফলাফল ঘোষণার আগেই বিজয় উৎসবের বার্তা দিয়ে রেখেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নজর রেখেছেন, বিরোধীদের ভোট প্রাপ্তির দিকে। নজরে থাকছে বিধানসভায় বিরোধী দল বিজেপি নাকি বর্তমান বিধানসভায় না থাকা পূর্বতন দুই শাসক দল কংগ্রেস ও সিপিআইএম জোট-কোন পক্ষ গ্রামাঞ্চলে নিজেদের শক্তি দেখাল।

শীতের পিচে কালিম্পংকে তাড়া পুরুলিয়ার, পিছনেই বর্ধমান

bengal-winter

News Desk: উত্তুরে কনকনি শীত নাকি দক্ষিণের হু হু ঠাণ্ডা কোনটা বেশি কাঁপায়? যার শীত যেমন সেই বোঝে তেমন। তবে হাওয়া অফিসের হিসেবে উঠে এসেছে মধ্য ডিসেম্বরের শীত হিসেব। এতে শৈলশহর কালিম্পংকে তাড়া করছে জঙ্গলমহল ঘেরা পুরুলিয়া।

সোমবারের তাপমাত্রা পরিসংখ্যানে দেখা গেছে কালিম্পং ও পুরুলিয়ায় তাপমাত্রা ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ যেন শীতের পিচে একে অপরের রান তাড়া করার দৌড়। ঠিক এক রান পিছনে পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান। এখানে তাপমাত্রা ৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর গায়ে গায়ে দৌড়চ্ছে দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি। তবে শীত রান রেটে সেরা দার্জিলিং শহর। এখানে তাপমাত্রা নেমেছে ৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, সোমবার কলকাতায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাঁকুড়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মালদায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। নদিয়ার কৃষ্ণনগরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা দেখা গিয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পূর্ব মেদিনীপুরের দীঘায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পশ্চিম নবর্ধমানের আসানসোলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। হুগলির তাপমাত্রা ১০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

তাপমাত্রার নিম্নগামী স্রোতে হিমালয় সংলগ্ন দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ারে কনকনিয়ে শীত পড়েছে। দক্ষিণের ছোটনাগপুর মালভূমির অন্তর্গত পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে হু হু করে তাপমাত্রা নামছে।

রাজ্যে শীত পড়ছে জাঁকিয়ে। বড় দিনের আগেই জবুথবু হবে বাঙালি জনজীবন।

Katwa: প্রেমিককে চুম্বন করে গুলি চালাল প্রেমিকা

shoot-lover

নিউজ ডেস্ক : বিয়ে করতে অস্বীকার করায় প্রেমিককে লক্ষ করে গুলি চালাল প্রেমিকা। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যায় প্রেমিক লাল চাঁদ শেখ। বুধবার সন্ধ্যায় প্রেমিকা মনীষা খাতুন ফোন করে প্রেমিক লাল চাঁদ শেখকে ডাকে দেখা করার জন্য।  কাটোয়া (Katwa) শহরের সার্কাস ময়দান অঞ্চলে দেখা করার কথা ছিল তাঁদের। সেখানে দেখা হওয়ার পরে প্রথমে লাল চাঁদকে চুম্বন করে মনীষা। এরপরই ওয়ান শাটার বন্দুক প্রেমিকের বুকে ঠেকিয়ে গুলি করার চেষ্টা করে সে। বুঝতে পেরে মনীষাকে ধাক্কা মেরে পালানোর চেষ্টা করলে পিছন থেকে গুলি চালায় প্রেমিকা। গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে প্রেমিকের জ্যাকেট ফুটো করে পেট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। অল্পের জন্য রক্ষা পায় লাল চাঁদ। 

স্থানীয় সূত্রের খবর, কাটোয়ার কেশিয়া মাঠপাড়ার যুবক লাল চাঁদ শেখের সঙ্গে বাগানে পাড়ার মনীষা খাতুনের প্রায় ৩ বছরের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু প্রেমিক লালচাঁদ বিয়ে করতে রাজি হয়নি। এরপরেই কাটোয়া ছেড়ে চলে যায় প্রেমিকা মনীষা। মঙ্গলবার ঝাড়খন্ড থেকে কাটোয়ায় ফিরে আসার পরেই লাল চাঁদকে ফোন করে সে।

লালচাঁদের অভিযোগ, বুধবার রাত সাড়ে আটটার সময় মনীষা তাঁকে সার্কাস ময়দানের কাছে একটি গলিতে দেখা করতে বলে। সেখানেই তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। 

এদিকে মনীষার বাড়ির লোক জানিয়েছে, কর্মসূত্রে ঝাড়খণ্ড চলে যাওয়ার পরে বাড়ির লোকের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল না তার। কিছু বছর বাদে ফিরে এসে এই ঘটনা ঘটায় সে। মনীষাকে ফোনের টাওয়ার লোকেশন দেখে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কাটোয়া থানায় নিয়ে এসে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হয়েছে।

মনীষা ওই ওয়ান শাটারটি কোথা থেকে পেয়েছেন সে বিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে পুলিশ। যদিও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, প্রেমে প্রত্যাখ্যাত হয়েই লাল চাঁদকে মারার পরিকল্পনা করেছিল মনীষা।

Bangladeh 50: পাকিস্তানের আতঙ্ক কিংবদন্তি গেরিলা বাঘা সিদ্দিকী দিলেন সরস্বতী পুজোর চাঁদা

Bagha-Siddique

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: নাম তাঁর ‘টাইগার’। দুনিয়া জুড়ে যত গেরিলা যুদ্ধের কাহিনী আছে তার অন্যতম এক তারকা। এহেন অকুতোভয় টাইগার ওরফে বাঘা সিদ্দিকী তাঁর বাহিনী পাকিস্তানি সেনার কাছে আতঙ্কের কারণ ছিলেন। পাক সেনা হোক বা কমান্ডাররা মনে প্রাণে চাইত যদি আত্মসমর্পণ করতেই হয় তাহলে টাইগারের কাছে নয়, এর চেয়ে ভারতীয় সেনা অনেক ভালো। অন্তত তারা যুদ্ধবন্দি আইনে মেরে ফেলবে না। মুক্তিযোদ্ধা বাঘা সিদ্দিকীর হাতে পড়লে যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু হবে। তাঁর এই ভয়াবহ রূপ বিশ্বজুড়ে আলোচিত। যেভাবে তিনি পাক সেনাদের মারতেন সেই ছবি আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে তীব্র আলোড়ন ফেলেছিল।

গেরিলা কমান্ডার বাঘা সিদ্দিকীর আসল নাম আবদুল কাদের সিদ্দিকী। বাঘের মতো হিংস্র হামলায় পটু তাই নাম হয় ‘বাঘা’। মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর উপলক্ষে এই প্রতিবেদনে বাঘা সিদ্দিকীর একটি বিরল মুহূর্ত তুলে ধরা হলো।

Tiger-siddique
বাঁ-দিকে মুক্তিযুদ্ধে ভয়ঙ্কর রূপ, ডানদিকে বর্ধমানের শ্রীপল্লীর বাড়িতে টাইগার

ফিরে যাওয়া যাক মুক্তিযুদ্ধের সময়ে:
৫০ বছর আগের কথা। তখন পূর্ব পাকিস্তানে চলছিল পাক শাসন থেকে মুক্তির সংগ্রাম-মুক্তিযুদ্ধ। সেই যুদ্ধে বাংলাদেশি মুক্তিবাহিনীর একটি সমান্তরাল গেরিলা দল ‘কাদেরিয়া বাহিনী’। ১৯৭১ সালের এই মুক্তিযুদ্ধে বাঘা সিদ্দিকীর বাহিনী পাকিস্তানি সেনার বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে প্রত্যাঘাত শুরু করে। টাঙ্গাইল থেকে শুরু হয়েছিল সেই হামলা। মুক্তিযুদ্ধ শেষে বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকায় প্রথম ভারতীয় সেনার তৎকালীন মেজর জেনারেল গন্ধর্ব সিং নাগরার পাশাপাশি বাঘা সিদ্দিকী তাঁর বাহিনী নিয়ে ঢুকেছিলেন। বাংলাদেশ তৈরির পর তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেন। উপাধি পান ‘বঙ্গবীর’।

এই বাড়িতে থাকতেন বাঘা সিদ্দিকী। ছবি: আব্দুস সবুর।

এহেন বাঘা সিদ্দিকীকে বাংলাদেশ ছাড়তে হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। সেনা অভ্যুত্থানে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে খুনের পর প্রত্যাঘাতের সুযোগে ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নিয়েছিলেন বাঘা সিদ্দিকী। ১৯৭৫-১৯৮৯ সাল পর্যন্ত এই প্রবাস পর্বের দীর্ঘ সময় কেটেছিল বর্ধমান শহরে। বর্তমানে পূর্ব বর্ধমান জেলার সদর শহর বর্ধমান।

এক বিরল মুহূর্তের বাঘা সিদ্দিকী:
বর্ধমানের অতি পরিচিত সাংবাদিক আব্দুস সবুর। তিনি শহরের ‘নতুন চিঠি’ সাপ্তাহিক সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত। আব্দুস সবুর তখন তরুন। তিনি বলেছেন, একদিন ক্লাবের সবাই মিলে সরস্বতী পুজোর চাঁদা তুলতে বেরিয়েছি। সদরঘাট রোডের পৌরসভা কসাইখানার কাছে যে বাড়িতে বাঘা সিদ্দিকী থাকতেন সেখানে গেলাম। উনি আমাদের দেখে বেরিয়ে এলেন। আমি বললাম ক্লাবের সরস্বতী পুজো কিছু চাঁদা দিন। উনি বললেন, কেন দেব না। বলেই দু টাকা দিলেন। তখনকার দিনে দু টাকা মানে বিরাট।

abdur-sabur
সাংবাদিক আব্দুস সবুর

সাংবাদিক আব্দুস সবুরের স্মৃতিতে আজও ভাসে কিংবদন্তি গেরিলা যোদ্ধা বাঘা সিদ্দিকীর সেই চেহারা। তিনি বলেছেন, ছয় ফুট লম্বা, ধবধবে ফর্সা হাসি হাসি মুখ। উনি হাসতে হাসতে সরস্বতী পুজোর চাঁদা দিলেন। আমি বললাম রশিদে কী লিখব? বাঘা সিদ্দিকী বললেন, মা’য়ের পুজো তাই মা’কে দিলাম লিখে দাও।

মুক্তিযোদ্ধা বাঘা সিদ্দিকীর বর্ধমানে থাকার স্মৃতি এই শহরের বহুজনের কাছে উজ্জ্বল। তবে তাঁর এই বিরলতম মুহূর্তের গুটিকয়েক সাক্ষীর একজন সেদিনের তরুণ আজকের প্রৌঢ় আব্দুস সবুর।

মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণ জয়ন্তীর উপলক্ষে প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক মৈত্রী সম্পর্কেরও ৫০ বছর পালিত হচ্ছে। সাংবাদিক আব্দুস সবুর চান সুসম্পর্ক আরও গাঢ় হোক।

Purba Bardhaman: CBI জালে বর্ধমানের পৌরপ্রশাসক, TMC মহলে কানাকানি এবার কে?

Pranab Chatterjee

News Desk: শীত পড়েনি। হাল্কা হাল্কা গরম ভাব। তবে রাজনৈতিক হাওয়া যেন বৈশাখী লু। প্রবল উত্তপ্ত পূর্ব বর্ধমান জেলা রাজনৈতিক মহল। সেই উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজ্য জুড়ে। শুক্রবার চিটফান্ড মামলায় সিবিআই অভিযানে গ্রেফতার হয়েছেন বর্ধমানের (Bardhaman) পুর প্রশাসক প্রণব চ্যাটার্জী। তাঁর গ্রেফতারির পর জেলা তৃণমূল কংগ্রেস মহলে কানাকানি এবার কার পালা ?

কলকাতা পুর নিগম ভোটের আগেই শাসকদলের কাছে চরম বিড়ম্বনা। জেলা হোক বা রাজ্য তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা মুখ লুকোচ্ছেন। বিরোধী বিজেপি শিবিরে মুচকি হাসি। আর বামপক্ষের প্রশ্ন দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের জমানায় এমন কি বামেদের ঘরে সিবিআই ঢুকেছে ? সবমিলে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য।

অভিযোগ চিটফান্ড সংস্থা ‘সন্মার্গ’-এ টাকা রেখে ২০১০-২০১৩ সালের মধ্যে বহুজন সর্বশ্রান্ত হয়েছেন। এই অর্থলগ্নি সংস্থা বর্ধমান শহরের তেলমারুই পাড়া এলাকার আইনজীবী বর্তমান বর্ধমান পুরস্কার বর্তমান চেয়ারপার্সন প্রণব চ্যাটার্জীর বাড়িতে অফিস ভাড়া নিয়েছিল। CBI প্রতিনিধি দল প্রণব বাবুর বাড়িতে আসে। প্রণব চ্যাটার্জীর স্ত্রী রেখা চ্যাটার্জী জানান,CBI টিম এসে বাড়িটি ঘুরে দেখে এবং কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করে চলে যায়।

পরিস্থিতি মোড় নেয় প্রনববাবুকে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলে নিয়ে যাওয়ায়। সিবিআই আদালত তাঁকে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। এর পরেই রাজ্য জুড়ে শোরগোল।

পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অভিযোগ, জনসমর্থন হারিয়ে বিজেপি সিবিআই গেম খেলছে। তবে বিজেপির তরফে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।

কাশীশ্বরী স্কুলের ‘আগুনপাখি’ হাসান আজিজুল হক জীবনভর ‘বর্ধমানিয়া’

legendary bangladeshi writer Hasan Azizul Huq diad

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: দেশভাগ হয়ে গিয়েছিল। তবে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যাতায়াত বেশ চলছিল। বিশেষত পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্গে। দেশ দ্বিখন্ডিত হওয়ার সুবাদে পশ্চিমবঙ্গের বহু পরিবার পাড়ি জমায় পূর্ববাংলায়। ‘৪৭ সালের অনেক পরেও আরও অনেকে গিয়েছেন। তেমনই ওপার থেকে এসেছেন বহু। প্রয়াত সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক তেমনই এক ‘বর্ধমানিয়া’।

সোমবার রাতে (১৫.১১.২০২১) বাংলাদেশের নন্দিত সাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক প্রয়াত হলেন তাঁর বাসভবন রাজশাহীর ‘উজান’ ভবনে। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বাংলাদেশের সাহিত্য সংস্কৃতি মহল। পশ্চিমবঙ্গের সাহিত্য মহলেও শোক ছড়িয়েছে। প্রয়াণকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন তিনি।

legendary bangladeshi writer Hasan Azizul Huq diad

হাসান আজিজুল হকের জন্ম ১৯৩৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। তৎকালীন বর্ধমান জেলার (এখন পূর্ব বর্ধমান) মঙ্গোলকোটের যবগ্রামে। সেই সুবাদে তিনি জীবনভর ‘বর্ধমানিয়া’। জীবদ্দশায় ভিটের টানে নাড়ির টানে বারবার এসেছেন পৈত্রিক ভিটে যবগ্রামে। কিংবদন্তি সাহিত্যিক ছিলেন এই জেলার অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মহারানী কাশীশ্বরী বিদ্যালয়ের ছাত্র। জেলার কাটোয়া, মঙ্গোলকোটের সঙ্গে তাঁর নিবিড় যোগাযোগ ছিল।

১৯৫৪ সালে কাশীশ্বরী বিদ্যালয় থেকেই হাসান আজিজুল হক ম্যাট্রিক পাশ করেন। এর পরেই তাঁর পরিবারের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন পূর্ব পাকিস্তানে। সেখানেই খুলনা ও রাজশাহী থেকে পরবর্তী শিক্ষাজীবন। তারপর রাজশাহীতেই থিতু হন তিনি।

বাংলাদেশ যখন তার স্বাধীনতার লড়াই শুরু করে। সেই ঝঞ্ঝাময় রাজনৈতিক পরিবেশে হাসান আজিজুল হকের কলম পাকিস্তানের সামরিক আইন ও দমননীতির বিরুদ্ধে সচল হতে থাকে। বাঙালি মনন চিন্তনের উপর যে আঘাত তৎকালীন পাকিস্তান সরকার নামিয়েছিল তার বিরুদ্ধেই সরব ছিলেন হাসান আজিজুল হক। তবে যে উপন্যাসের কারণে তিনি স্মরণীয় সেই আগুনপাখি প্রকাশিত হয় ২০০৬ সালে।

আগুনপাখি লেখকের সঙ্গে বর্ধমানের কৃষিভিত্তিক গ্রামীণ জীবনের সংযোগ ছিল নিবিড়। সেই টানেই পুরনো জীবন খুঁজতে বারবার এসেছেন বাংলাদেশের এই নন্দিত লেখক।

<

p style=”text-align: justify;”>১৯৭০ সালে ততকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাংলা একাডেমি পুরষ্কার পান। ১৯৯৯ সালে তিনি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বচ্চো অসমারিক পুরষ্কার একুশে পদক পান। তাঁর প্রয়াণে শেষ হলো বাংলা সাহিত্য মহলের একটি পর্ব। এই তালিকায় কাজী নজরুল ইসলামের পর বর্ধমানিয়া হিসেবে তিনিই সম্ভবত শেষ ব্যক্তিত্ব।

Purba Bardhaman : রাত নামতেই ভয়, ধান জমিতে দাঁতালের দল, প্রশাসন সতর্ক

purba-bardhman-dalma-range-elephant

News desk: সকাল গড়িয়ে রাত নামল। এর পরেই আরও আতঙ্কিত পূর্ব বর্ধমান জেলার গলসি, আউসগ্রাম, ভাতার এলাকাবাসী। যদি ফের ২০১৬ সালের মতো হামলা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় হাতি নিয়ে গুজব না ছড়াতে অনেকেই বলছেন। জেলা প্রশাসন সতর্কতা বার্তায় বলেছে, কেউ যেন অযথা ঝুঁকি না নেন। সকাল হলে হাতিদের গতিবিধি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

purba-bardhman-dalma-range-elephant

ছোটনাগপুরের দলমা রেঞ্জের দাঁতাল হাতি আগেও এসেছে। দামোদর পার হয়ে বহুবার পানাগড়, গলসি, আউসগ্রামের জঙ্গলে ঢুকেছে। কিন্তু একসঙ্গে এতো হাতি গ্রামবাসীরা দেখেননি বলে জানান। অন্তত ৪৬টি দাঁতাল হাতি ও ছানা আছে এই দলে।

বৃহস্পতিবার সকালে বাঁকুড়ার শালতোড়া বনাঞ্চল থেকে পাল পাল হাতি পশ্চিম বর্ধমান হয়ে দামোদর পার করে পূর্ব বর্ধমানের দিকে ঢুকে পড়ে। সকাল থেকেই জেলার গলসি, পারাজ, আউসগ্রাম, ভাতার এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।গলসির একের পর এক ধানজমি মাড়িয়ে, ধান খেয়ে পালপাল হাতি দাপাতে থাকে। এলাকায় ছড়ায় আতঙ্ক।

purba-bardhman-dalma-range-elephant

প্রায় ৪৬টি হাতির বিরাট এই দলের দাপাদাপিতে গলসির শিড়রাই গ্রামের জমিতে প্রচুর ধান নষ্ট হয়েছে। সিংপুর, গলিগ্রাম, উচ্চগ্রাম, কুদরুকি হয়ে হাতির দল খড়ি নদী পার হয়ে আউসগ্রামের জঙ্গল অভিমুখে চলে যায়। রাত্র পর্যন্ত হাতির দল রয়েছে আউসগ্রাম ১ নম্বর ব্লকের নয়দা গ্রামে।

purba-bardhman-dalma-range-elephant

পূর্ব বর্ধমান জেলা প্রশাসন জানায়, বিরক্ত না করলে গ্রামের দিকে ঢুকবে না হাতিরা। মাইকিং করে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়। জেলা বন দফতর সূত্রে খবর, দামোদর পার করে গলসি ১ নম্বর ব্লকের শিল্ল্যা ঘাট এলাকায় ঢুকেছে হাতির দল।

<

p style=”text-align: justify;”>এত বড় হাতির দলকে নিরাপদে জঙ্গলে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করছে জেলা প্রশাসন। হুলা পার্টি ও কুনকি হাতির সাহায্য নেওয়া হতে পারে বলে বর্ধমান বনদফতর সূত্রে খবর।

Durgapur: রাতে বাড়ল DVC জল ছাড়ার পরিমাণ, সকালে জলমগ্ন পরিস্থিতি

DVC Durgapur

নিউজ ডেস্ক: বন্যা বন্দি হওয়ার আশঙ্কা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায়। বিশেষত বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, হুগলি, হাওড়া। নিম্নচাপের অতি বৃষ্টিতে দুর্গা পুজোর আগেই বন্যার আশঙ্কা। তবে আশার কথা নিম্নচাপ কাটছে। কিন্তু ঝাড়খন্ডে বৃষ্টির কারণে দামোদর-অজয় উপত্যকা এলাকার সব নদ নদী এখন ফুলতে শুরু করেছে।

বৃহস্পতিবারেই অজয়ের ভয়ঙ্কর রূপ দেখা গিয়েছে বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমানের বিস্তির্ন এলাকায়। অন্যদিকে বাঁকুড়ায় নজিরবিহীন বৃষ্টির জেরে গন্ধেশ্বরী, কংসাবতী, দারকেশ্বর দু কুল ছাপিয়ে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি করেছে। পশ্চিম বর্ধমানে বরাকর, দামোদর নদের জলস্তর বেড়েছে।

Flood situation in south bengal

এদিকে ধারণ ক্ষমতার বেশি পরিমাণ জল জমা হওয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে ডিভিসির (DVC) দুর্গাপুর (Durgapur) ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত জল ছাড়া হয় ২,২১,১৮৬ কিউসেক। রাত দশটার পর তা বাড়িয়ে করা হয় ২,৩১,২৪৮ কিউসেক। ডিভিসি জল ছাড়া বাড়িয়ে দিতেই দক্ষিণবঙ্গের দামোদর সংলগ্ন জেলাগুলিতে জলমগ্ন পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কা থাকছে।

Flood situation in south bengal

ডিভিসির অতিরিক্ত জল শুক্রবার দামোদর হয়ে পূর্ব বর্ধমান থেকে হাওড়া জেলার উদয়নারায়ণপুর পৌঁছাবে। এই জলেই প্লাবিত হতে পারে উদয়নারায়ণপুর ও আমতা-২ ব্লকের শতাধিক গ্রাম। আর তাই আগে থেকেই প্রশাসন সতর্ক।বৃহস্পতিবার দুপুর থেকেই শুরু হয়েছে প্রশাসনিক তৎপরতা।

দামোদর তীরবর্তী এলাকাগুলি যেমন প্নাবিত হওয়ার আশঙ্কা, তেমনই অজয়-ময়ুরাক্ষী তীরের বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানের বিভিম্ন এলাকায় আতঙ্ক। হুগলির বহু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে বলেই প্রশাসনের চিন্তা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলকে প্রস্তুত করা হয়েছে।