রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে কটাক্ষ করে নিজের নতুন দলের নাম জানালেন ক্যাপ্টেন

Captain Amarinder Singh

News Desk: মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে দলনেত্রী সোনিয়া গান্ধীর কাছে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং (Captain Amarinder Singh)। সকালে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ ছাড়ার পর বিকেলে নিজের নতুন দলের নাম ঘোষণা করলেন ক্যাপ্টেন।

এদিন অমরিন্দর জানিয়েছেন, তাঁর নতুন দলের নাম হবে ‘পাঞ্জাব লোক কংগ্রেস’। এই রাজ্যে আর কয়েক মাস পরেই বিধানসভা নির্বাচন। পাঞ্জাবে ক্ষমতায় রয়েছে কংগ্রেস। আসন্ন নির্বাচনে পাঞ্জাবে কংগ্রেসকে বড় মাপের সমস্যায় ফেলতে পারে ক্যাপ্টেনের নতুন দল, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিতে এদিন ক্যাপ্টেন সাত পাতার একটি চিঠি দেন সোনিয়া গান্ধীকে। ওই চিঠিতে তিনি রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকেও তীব্র কটাক্ষ করেছেন। ক্যাপ্টেন লিখেছেন, সোনিয়াজি আমি আপনার ছেলে-মেয়ের আচরণে গভীর মর্মাহত। আপনার ব্যবহারেও আমি দুঃখ পেয়েছি। একজন অস্থিরমতি লোক, যিনি পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রী রাষ্ট্রকাঠামোর সহযোগী তাকে আপনারা ভরসা করলেন। তার কথা মেনে নিলেন। এরপর আর আপনাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা যায় না। পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রী রাষ্ট্রকাঠামোর সহযোগী বলতে ক্যাপ্টেন যে বর্তমান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি নভজ্যোত সিং সিধুকেই ইঙ্গিত করেছেন তা স্পষ্ট।

অমরিন্দরের কংগ্রেস ছাড়ার পিছনে সিধুর বিশেষ অবদান রয়েছে। কারণ সিধু প্রথম থেকেই অমরিন্দরের ঘোরতর বিরোধী। সম্প্রতি সিধুকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন রাহুল। তারপরেই ক্যাপ্টেনের সঙ্গে সিধুর বিরোধ চরমে ওঠে। সেই বিরোধে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা সিধুর পাশে দাঁড়ান। তার ফলেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াতে হয় অমরিন্দরকে। এদিনের চিঠিতে তিনি সে কথাই উল্লেখ করেছেন।

এদিন নতুন দলের নাম ঘোষণা করার পাশাপাশি অমরিন্দর বলেছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি রাজ্যের ১১৭ টি আসনেই প্রার্থী দেবেন। এখন দেখার এই নির্বাচনে অমরিন্দর কংগ্রেস বা বিজেপির মত কোনও দলের সঙ্গে জোট করে কিনা।

মৃত্যুর আঁচ টের পেয়ে তাঁকে চোখের জল ফেলতে বারণ করেছিলেন ঠাকুরমা, বললেন রাহুল

Rahul Gandhi's memoirs on the death of Indira Gandhi

News Desk, New Delhi: রবিবার ছিল দেশের প্রথম ও শেষ মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর ৩৭ তম প্রয়াণ দিবস। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ দেশের একাধিক নেতা নেত্রী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। শ্রদ্ধা জানিয়েছেন গান্ধী পরিবারের তিন সদস্য। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি রাহুল এদিন এক অজানা গল্প শুনিয়েছেন। রবিবার ইউটিউবে তিনি একটি ভিডিয়ো আপলোড করেছেন।

ওই ভিডিয়োর শিরোনাম হল ‘উইথ লাভ, ইন মেমোরি অফ মাই বিলাভড মাদার, ইন্দিরাজি’। সেখানেই রাহুল বলেছেন, মৃত্যুর কিছুদিন আগেই ঠাকুরমা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন তাঁর দিন ফুরিয়ে এসেছে। তাই ওই হৃদয় বিদারক ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই রাহুলকে বলেছিলেন, আমার কিছু হলে চোখের জল ফেলো না।

ওই ভিডিয়োয় রাহুল বলেছেন, “১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর আমি তখন নিতান্তই ছোট। সেদিন সকালে ঠাকুরমা আমাকে হঠাৎই তাঁর কাছে ডাকেন। তারপর আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বলেন, আমার কিছু হলে ভাই তুমি একদম কাঁদবে না। আমি তখন এতটাই ছোট যে ঠাকুমার ওই কথার মানে বুঝতে পারিনি। কিন্তু এর কয়েক ঘণ্টা পরেই আততায়ীর গুলিতে আমরা চিরকালের জন্য আমাদের ঠাকুমাকে হারাই।”

রাহুলের দাবি, তাঁর ঠাকুরমা বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর মৃত্যু ঘনিয়ে এসেছে। এমনকী, ঠাকুরমা এটাও বুঝতে পেরেছিলেন যে, তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিকভাবে হবে না। তবে তাঁর ঠাকুমার কেন এটা মনে হয়েছিল সেটা তিনি আজও বুঝতে পারেননি।

কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি আরও বলেন, ঠাকুরমা তাঁদের খাওয়ার টেবিলে মাঝেমধ্যেই বলতেন, জীবনের সবথেকে কষ্ট বোধহয় রোগাক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে থাকা। পরমুখাপেক্ষী হয়ে বেঁচে থাকা যে কী জ্বালা সেটা ভুক্তভোগী মানুষ মাত্রই জানেন। কিন্তু আমার ঠাকুমার জীবনে মৃত্যু যে এভাবে নেমে আসবে সেটা আমরা কখনও বুঝিনি। ঠাকুমার এই মৃত্যু মেনে নিতে আমাদের আজও কষ্ট হয়। তবে ঠাকুমার জন্য তিনি গর্বিত। কারণ যতদিন বেঁচেছিলেন ততদিনই প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী হিসেবে তিনি দেশসেবা করে গিয়েছেন। দেশের মহিলা শক্তির প্রকৃত উদাহরণ হলেন ইন্দিরা গান্ধী। তিনি আমার ঠাকুরমা। এধরনের একজন মানুষের নাতি হিসেবে আমি গর্বিত।

Bihar: কানাহাইয়াকে সামনে রেখেই কংগ্রেসের একলা লড়াই শুরু

kanhaiya kumar

নিউজ ডেস্ক: কংগ্রেস একলাই চলবে। উত্তর প্রদেশের মতো বিহারেও রিস্ক নিলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাষ্ট্রীয় জনতা দলের হাত ছাড়ল কংগ্রেস। আগেও বেশ কয়েকবার দুই দল পরস্পর বিরোধী অবস্থানে গিয়েছে। ফের জোট হয়েছে

গত বিধানসভা ভোটের আগে বিহারে আরজেডি, কংগ্রেস ও বামেদের মহাজোট হয়। এই জোট সরকার গড়তে পারেনি। তবে কংগ্রেস জোটের তরফে লড়ে তেমন সফলতা পায়নি। মহাজোটের সিপিআই (এম এল) অভাবনীয় সফলতা পায়। দলনেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্য দাবি করেন, কংগ্রেসকে বড়সড় আসন না ছেড়ে তাঁর দল ও বামেদের বেশি আসন বরাদ্দ করলে মহাজোট সরকার গড়ত। তখন থেকেই কংগ্রেস ও আরজেডির মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকে।

সূত্রের খবর, রাহুল গান্ধীর নির্দেশে শুক্রবারই পাটনায় আসছেন কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমার। সম্প্রতি সিপিআই ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। দল পরিবর্তনের পর এটাই তাঁর নিজ রাজ্যে কংগ্রেস নেতা হিসেবে আসা। বিহার প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে কানহাইয়াকে নিয়ে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মতভেদ। অনেকেই কানহাইয়াকে মানতে পারছেন না। সূত্রের খবর, কানহাইয়ার সঙ্গে আসছেন হার্দিক প্যাটেল।

বিহারে দুটি আসন তারাপুর ও কুশেশ্বরস্থানে উপনির্বাচন। প্রদেশ কংগ্রেস জানিয়েছে, দুটি আসনেই একলা লড়াই করবে দল। বিহার কংগ্রেসের নেতা ভক্তচরণ দাস জানান, মহাজোট থেকে বেরিয়ে এসেছে কংগ্রেস। তিনি আরও জানান, আগামী লোকসভা ভোটেও রাজ্যে ৪০টি আসনে একলা লড়বে কংগ্রেস।

INC: ‘রাহুল না পসন্দ’ সমর্থকদের মেসেজ ঝড় নেত্রী হোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

Priyanka Gandhi

নিউজ ডেস্ক: পূর্ববর্তী লোকসভা ভোটের পর বিজেপি তথা এনডিএ শিবিরের কাছে পরাজয় মেনে নিয়ে কংগ্রেস সর্বভারতীয় সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন রাহুল গান্ধী। ফের কার্যকরী সভাপতির দায়িত্ব তুলে নেন সোনিয়া। এবার কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে সাংগঠনিক মুখের বদল হওয়ার প্রবল ইঙ্গিত আসছে।

নয়া দিল্লিতে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক থেকেই আসন্ন উত্তর প্রদেশ, গোয়া, পাঞ্জাব সহ বাকি বিধানসভা ও আগামী লোকসভা ভোটের রূপরেখা তৈরি হবে। তবে কংগ্রেসের প্রাথমিক নজর উত্তর প্রদেশের ভোট।

সূত্রের খবর, দলের সভাপতি হিসেবে পুনরায় রাহুল গান্ধী নির্বাচিত হতে চলেছেন। তবে নির্বাচনী লড়াইয়ের মুখ হবেন তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi)। ইতিমধ্যে সমর্থক ও সাংগঠনিক সর্বনিম্ন স্তর থেকে লাগাতার মেসেজ ঝড়ে অতিষ্ঠ কেন্দ্রীয় নেতারা। দাবি উঠেছে, প্রিয়াঙ্কার নেতৃত্বে লড়াই করার।

উত্তর প্রদেশ বিধানসভা ভোটের আগে প্রিয়াঙ্কা যেভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নেমেছেন তাতে আশাবাদী কংগ্রেস সমর্থকরা। তবে অতি বড় কংগ্রেস সমর্থকও জানেন, এই রাজ্যে এখনই কংগ্রেসের সরকার গঠনের সম্ভাবনা নেই। তবে প্রিয়াঙ্কার নেতৃত্বে কংগ্রেস লড়লে ফল ‘ভালো হবেই’।

উত্তর প্রদেশ সহ পশ্চিম ভারত জুড়ে কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষক আন্দোলন গোটা দেশেই ছড়িয়েছে। সাম্প্রতিক লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের গাড়ি চাপা দিয়ে মারার ঘটনায় প্রবল বিতর্কে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে ক্রমাগত হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছে কৃষক সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা।

কৃষক আন্দোলনের ধাক্কায় উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানায় বিজেপি ভোট সমর্থনে নেমেছে ধস। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী খোদ প্রধানমন্ত্রীবিদ্ধস্ত নীরবতা নিয়ে বারবার প্রশ্নে বিদ্ধ করেছেন। তাঁর গ্রেফতারিতে চাঙ্গা হয়েছে কংগ্রেস। এর পরেই প্রধানমন্ত্রী মোদীর সংসদীয় এলাকা বারণসীতে প্রিয়াঙ্কার জনসভার ভিড়ে বিজেপি চিম্তিত।
কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির কাছে দুটি প্রশ্ন আসছে, ভোটে লড়াইয়ের নীতি কী হবে? আর প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে পুরোপুরি কখন থেকে নামানো হবে ? সূত্রের খবর, ইন্দিরা নাতনি প্রিয়াঙ্কা হতে চলেছেন কংগ্রেসের পোস্টার গার্ল।

Survey: দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ রাহুল গান্ধীকে পছন্দ করে না

rahul ghandhi

নিউজ ডেস্ক: ২০২০ এর শুরুতেই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। কিন্তু ওই সমস্ত রাজ্যগুলিতে করা এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) কাজকর্মে আদৌ খুশি নন। বিধানসভা ভোটের আগে সমীক্ষার এই ফলাফল কংগ্রেস শীর্ষ নেতৃত্বকে বিপাকে ফেলেছে।

এবিপি-সি করা সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে, রাহুল গান্ধীকে পছন্দ করছেন না ৪০.৫ শতাংশ মানুষ। তাঁরা জানিয়েছেন কিভাবে রাজনৈতিক কাজ করতে হয় সেই ধারণাটুকু রাহুলের নেই। রাহুলের পাশে দাঁড়িয়েছেন মাত্র ১৮.৫ শতাংশ মানুষ। পাশাপাশি ২১ শতাংশ মানুষ রাহুলের আচার-আচরণ ও কাজ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি উত্তরাখান্ড, উত্তরপ্রদেশ, গোয়া, মণিপুর ও পাঞ্জাব এই পাঁচ রাজ্যের ৬৯০টি বিধানসভা কেন্দ্রে এই সমীক্ষা চালিয়েছিল এবিপি-সি ভোটার। প্রায় ১ লাখ মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ৪ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর একমাস ব্যাপী এই সমীক্ষা করা হয়েছে।

পাঞ্জাবে সরকারের রয়েছে কংগ্রেস। কিন্তু ওই রাজ্যের ৫৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, রাহুল গান্ধীর কাজ তাঁরা একেবারেই পছন্দ করেন না। পাঞ্জাবে রাহুলের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন মাত্র ৬.৭ শতাংশ মানুষ। উত্তরাখণ্ডে সর্বোচ্চ ৫৪.১ শতাংশ মানুষ রাহুলকে পছন্দ করেন না।

এরপরে মণিপুরে ২৭.৪ শতাংশ, উত্তরপ্রদেশে ৪৬.২ শতাংশ এবং গোয়ায় ১৬.১ শতাংশ মানুষ রাহুলের কাজে খুশি নন।

Lakhimpur Kheri: রাজনীতির একমঞ্চে এবার রাহুল-বরুণ-প্রিয়াঙ্কা?

priyanka gandhi Rahul gandhi Maneka gandhi Varun gandhi

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: ইন্দিরা গান্ধী জীবিত থাকতে যে পারিবারিক চিড় ধরেছিল, সেই ঘরোয়া আয়না ভেঙেছে। জোড়াতালি দিতে কিছুটা চেষ্টা হয়েছিল প্রিয়াঙ্কার (priyanka gandhi) বিবাহ অনুষ্ঠানে। মিষ্টিমু়খ করেন সবাই। কিন্তু ওইটুকুই। গান্ধী পরিবার কংগ্রেস ও বিজেপিতে ভাগাভাগি হয়ে থেকে গিয়েছে। কংগ্রেস পক্ষ সোনিয়া-রাজীব প্রজন্ম রাহুল  (Rahul gandhi) আর প্রিয়াঙ্কা। আর বিজেপি পক্ষ মানেকা গান্ধী ও পুত্র বরুণ।

স্বামী সঞ্জয় গান্ধীর মৃত্যুর পর থেকেই নীরব মানেকা বরাবর শাশুড়ি ইন্দিরার প্রতিপক্ষ। সেই সুযোগে বিজেপির জাতীয়স্তরের নেত্রী, মন্ত্রী। পুত্র বরুণ একইভাবে মাতৃভক্ত। তিনিও বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য ও সাংসদ।

সদ্য উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরিতে (Lakhimpur Kheri) কৃষকদের গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে ফেলার ঘটনায় দেশ উত্তাল। মোট ৯ জন মৃত। এদের ৪ জন কৃষক। কেন্দ্রের মোদী সরকারের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে জমায়েতে এই ঘটনা ঘটে। কৃষকদের উপর এমন নৃশংস হামলার কড়া প্রতিক্রিয়া দিচ্ছিলেন বিজেপি সাংসদ বরুণ গান্ধী। পরপর টুইট করে বিজেপি নেতা, সরকারের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। বরুণের সঙ্গে সুর মেলান মা মানেকা।

হেভিওয়েট মানেকা-বরুণের টুইটে আরও বিব্রত হয় উত্তর প্রদেশের যোগী সরকার। একইভাবে কেন্দ্রের মোদী সরকারও বিব্রত হচ্ছে। এই অবস্থায় বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির সদস্যপদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মানেকা গান্ধী ও বরুণ গান্ধীকে। তবে সাংসদ ও দলীয় সদস্য পদ এখনও আছে দুজনেরই।

গত কয়েকদিন ঘরেই লখনউ ও নয়াদিল্লির রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত হতে পারেন মানেকা গান্ধী। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নিলে বরুণও দলত্যাগ করবেন। এই গুঞ্জনের রেশ আরও জমাট হয়েছে দুজনকেই বিজেপির জাতীয় কর্মসমিতির পদ থেকে বহিষ্কার করায়।

মনে করা হচ্ছে উত্তর প্রদেশ বিধানসভা ভোটের আগেস কংগ্রেসের মঞ্চে দেখা যেতে পারে রাহুল-বরুণ-প্রিয়াঙ্কাকে। এখন গান্ধী পরিবারের দুই অভিভাবক সোনিয়া ও মানেকা। তাঁরা কী করবেন? কাটবে সেই গুমসুমি ভাব। যার সৃষ্টি রাজীব ও সঞ্জয়কে ঘিরে খোদ ইন্দিরা তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে বিস্তর।

Lakhimpur Kheri: ‘সাময়িক জেল’ থেকে বেরিয়ে রাহুলকে সঙ্গে নিয়ে মৃত কৃষকের বাড়িতে প্রিয়াঙ্কা

Rahul and Priyanka Gandhi arrive at Lakhimpur Kheri

নিউজ ডেস্ক: বন্দিত্ব কাটল। সীতাপুর গেস্ট হাউসের ‘সাময়িক জেল’ থেকে বেরিয়ে এলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi)। তাঁকে সঙ্গে নিয়েই রাহুল গান্ধী (rahul gandhi) পৌঁছে গেলেন লখিমপুর খেরিতে (lakhimpur kheri) গাড়ি চাপা দিয়ে ‘মেরে ফেলা’ কৃষকদের পরিবারের কাছে।

সংবাদ সংস্থা ANI জানাচ্ছে, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী রাতে পৌঁছান মৃত কৃষক লাভপ্রীত সিংয়ের বাড়িতে। মৃতের আত্মীয়রা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। কেন মূল অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পুত্র আশিস মিশ্র পুলিশি হেফাজতের বাইরে সেই প্রশ্ন তুলেছেন মৃতের আত্মীয়রা।

Rahul and Priyanka Gandhi arrive at Lakhimpur Kheri

দিনভর লখনউয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল। তীব্র চাপের মুখে অবশেষে রাহুল গান্ধীকে লখিমপুর খেরি যেতে অনুমতি দেয় উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকার। বিমান বন্দরে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে ছিলেন পাঞ্জাব ও ছত্তিসগড় দুই কংগ্রেস শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। দুই রাজ্য সরকার লখিমপুর খেরিতে মৃতদের পরিবার পিছু ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে।

লখিমপুর খেরিতে কৃষি আইনের বিরোধিতায় কৃষকদের জমায়েতে গাড়ি চালিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পুত্র। অভিযোগ গাড়ি চাপা দিয়ে কৃষকদের খুন করা হয়। এই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আশিস মিশ্রের পিতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্র। অভিযোগ, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার পুরো ঘটনা চাপা দিতে মরিয়া চেষ্টা করছে।

Rahul and Priyanka Gandhi arrive at Lakhimpur Kheri

লখিমপুর খেরিতে মোট মৃতের সংখ্যা ৯ জন। তাদের পরিবার পিছু ৪৫ লক্ষ টাকা ও সরকারি চাকরির ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। তবে সারা ভারত কৃষক সভা ও ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের দাবি, হামলাকারী আশিস মিশ্রকে গ্রেফতার করতে হবে।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হচ্ছে। ANI জানাচ্ছে, উত্তরাখণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রবীণ কংগ্রেস নেতা হরিশ রাওয়াত বিশাল সমর্থক বাহিনী নিয়ে লখিমপুর খেরি আসছেন। দেরাদুন থেকে ১ হাজার ট্রাক ভাড়া করেছে কংগ্রেস। এই বিশাল সংখ্যক কংগ্রেস সমর্থক ঢুকলে এলাকার পরিস্থিতি তীব্র উত্তেজনাপূর্ণ হবে বলে আশঙ্কা।

Lakhimpur kheri: যোগীকে চাপে রাখল কংগ্রেস, মৃত কৃষকদের ৫০ লক্ষ টাকা সাহায্য

Rahul gandhi

নিউজ ডেস্ক: তুমুল রাজনৈতিক গরম হওয়া লখনউ ছাড়িয়ে গোটা দেশে বইছে। লখিমপুর খেরি যেতে অনুমতি পেলেন রাহুল গান্ধী। গাড়ি চাপা দিয়ে ‘কৃষকদের খুন’ যেখানে হয়েছিল সেখানে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকার।

রাহুল গান্ধী লখনউ থেকে লখিমপুর খেরি যাওয়ার আগেই বিজেপিকে রাজনৈতিক চাপে ফেলে দেয় কংগ্রেস। ছত্তিসগড় ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীরা মৃত কৃষকদের পরিবার পিছু ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। দুটি রাজ্যই কংগ্রেসের দখলে। মৃত কৃষকদের পরিবার পিছু ৪৫ লক্ষ টাকা দিচ্ছে যোগীর সরকার। করা হয়েছে সরকারি চাকরির ব্যবস্থা।

ছত্তিসগড়ের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেশ বাঘেল লখনউতে এসে বিমানবন্দরে ধরনা শুরু করেন। এতে আরও বিব্রত হয় উত্তর প্রদেশ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বাঘেলের নিরাপত্তা নিয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ চিন্তিত হয়ে পড়ে। অন্যদিকে পাঞ্জাবে সদ্য মুখ্যমন্ত্রী হওয়া চরণজিত সিং চান্নি একইসঙ্গে কেন্দ্র ও যোগী প্রশাসনকে তীব্র আক্রমণ করেন। পরে রাহুল গান্ধীর অনুরোধে দুই রাজ্য সরকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করে।

লখিমপুর খেরিতে মৃত কৃষকদের পরিবার পিছু উত্তর প্রদেশের বিজেপি সরকার ৪৫ লক্ষ টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করছে। যদিও কংগ্রেস সহ বাকি বিরোধী দলগুলির প্রশ্ল গাড়ি চাপা দিয়ে কৃষদের মেরে ফেলায় অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পুত্র আশিস এখনও কেন অধরা।

অভিযুক্ত আশিস মিশ্রর পিতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্রর দাবি, ঘটনার সময় আশিস ছিল না। তবে আশিস-ই দোষী, তাকে গ্রেফতার করতে হবে। এমনই অভিযোগ করেছেল সারা ভারত কৃষকসভার সাধারণ সম্পাদক হান্নান মোল্লা। কৃষক সংঠনগুলির পক্ষ থেকে প্রশ্ন, মন্ত্রীর পুত্রকে কেন গ্রেফতার করছেনা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকার।

Lakhimpur Kheri: মোদী-‘ঠোঙ্গি’ সবেতেই ‘বকওয়াস’, কৃষক খুনে নীরব, কংগ্রেসি কানহাইয়ার হামলা

Lakhimpur Kheri Modi jogi-kanahya kumar

নিউজ ডেস্ক: সম্প্রতি সিপিআই (CPI) ছেড়েছেন। এর পরেই ঘটেছে উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরিতে (Lakhimpur Kheri) কৃষকদের গাড়ি চাপা দিয়ে ‘খুন’ ইস্যু। বর্তমান কংগ্রেস (INC) নেতা কানহাইয়া কুমারের (Kanhiya Kumar) যুক্তি ও প্রশ্ন হামলার মুখে পড়তে শুরু করলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। একের পর এক টুইট হামলায় মোদীকে জর্জরিত করতে শুরু করেছেন কানহাইয়া।

উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরিতে কৃষকদের উপর গাড়ি চালিয়ে দেওয়া ও মোট ৯ জনের মৃত্যুর জেরে গোটা দেশ উত্তাল। কানহাইয়া কুমার তাঁর বর্তমান দলনেতা রাহুল গান্ধী, দলনেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সমর্থনে প্রশ্লবাণে মোদী, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বিজেপি সরকারকে যুক্তি জালে ঘিরতে শুরু করলেন।

কংগ্রেস নেতা কানহাইয়ার যুক্তি, সব বিষয়ে ‘বকওয়াস’ (অযৌক্তিক কথা) করা প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের মৃত্যুর পর নীরব। তাঁর নীরব থাকার রহস্য হয় তিনি কৃষকদের অন্ন খান না। বা তিনি বেইমানির কমিশন খান।

উত্তর প্রদেশের (UP) মু়খ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে কটাক্ষ করে কানহাইয়ার টুইট, ‘ঠোঙ্গি জী’ যতটা শক্তি দেখিয়ে বিরোধীদের আটকাচ্ছেন, ততটা শক্তি দিয়ে বিজেপির অহঙ্কারি মন্ত্রী ও তার গোল্লায় যাওয়া পুত্রের গাড়ি আটকাতেন তাহলে নির্দোষ কৃষকদের জীবন যেত না। নিজের দেশের কোথাও যেতে পাসপোর্ট লাগবে নাকি ? কানহাইয়া কুমারের টুইট রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কার টুইটের চেয়েও ঝড়ের গতিতে দেশ জুড়ে ছড়াতে শুরু করেছে। পরপর টুইটে আক্রমণ শুরু করেছেন কানহাইয়া।

কৃষক একতা মঞ্চ, সারা ভারত কৃষক সভা (AIKS) ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন (BKU) সহ বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের দাবি, নিহতদের পকিবার পিছু আর্থিক ক্ষতিপূরণ বা সরকারি চাকরি দিয়ে এই ক্ষত মেটানো যাবে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রীর পুত্র আশিস মিশ্রকে গ্রেফতার করতে হবে।

লখিমপুর খেরির ঘটনায় কেন আশিস মিশ্রকে তাকে গ্রেফতার করা হয়নি প্রশ্ন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্র জানান, তাঁর পুত্র ঘটনাস্থলে ছিল না। এদিকে ভাইরাল ভিডিওতে উঠে এসেছে আশিস মিশ্রর গাড়ি কৃষকদের পিছন থেকে পিষে মারছে।

Lakhimpur kheri: যোগীর নিষেধাজ্ঞা, ‘কৃষক গণহত্যা’ কেন্দ্রে যেতে বাধা রাহুল গান্ধীকে

Rahul Gandhi

নিউজ ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিনিধিরা ছাড় পেলেন,তবে কেন বাধা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi)। প্রবল বিতর্ক উত্তর প্রদেশে। আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে প্রধান গান্ধীকে। সংবাদ সংস্থা ANI জানাচ্ছে, উত্তর প্রদেশ সরকার বাতিল করেছে কংগ্রেসের তরফে লখিমপুর খেরি (Lakhimpur kheri) যাওয়ার আবেদন।

রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, লখিমপুর খেরিতে ১৪৪ ধারা লাগু থাকায় নিয়মানুসারে ৫ জন গেলে পুলিশ আটকাতে পারে। আমরা তিনজন যাচ্ছিলাম। কেন আটকানো হয়েছে। বিরোধী দল হিসেবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।

মঙ্গলবার দিনভর লখিমপুর খেরি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে ছিল। প্রথমে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে সেখানে ঢুকে পড়েন সারা ভারত কৃষকসভার নেতৃত্বরা। এতে হতচকিত হয়ে যায় যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসন। কী করে তারা ঢুকলেন তা নিয়ে রাজ্য পুলিশ প্রবল চাপের মুখে পড়ে। বাম কৃষক সংগঠনটির নেতৃত্বে লাগাতার কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরোধিতায় লক্ষাধিক কৃষক আন্দোলন করছেন। আন্দোলন চালাচ্ছে ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন।

লখিমপুর খেরিতে কৃষক জমায়েতের উপর গাড়ি চালিয়ে অভিযুক্ত বিজেপির হেভিওয়েট নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রের পুত্র আশিস। মৃত ৯ জন। এদের ৬ জনই কৃষক। আশিস মিশ্রকে গ্রেফতারির দাবি তুলেছেন কৃষকসভার সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা প্রাক্তন সিপিআইএম সাংসদ হান্নান মোল্লা।

এই দাবির পরেই উত্তর প্রদেশ সরকার পুরো এলাকা পুলিশ দিয়ে ঘিরে রাখে। সেই ঘেরাও পেরিয়ে কৃষক সভার পরে পৌঁছে যান তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিনিধিরা। তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা দেন। বলেন, লখিমপুর খেরিতে সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের মতো আন্দোলন করতে তৃ়ণমূল সাহায্য করবে। পশ্চিমবঙ্গে বাম জমানায় এই দুটি জমি আন্দোলনের কারণে টিএমসি রাজনৈতিক মাইলেজ পেয়ে সরকার গড়েছে। লখিমপুর খেরির রক্তাক্ত ঘটনার পর সেখানে ঢুকতে পারেননি উত্তর প্রদেশের দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব ও মায়াবতী।

Bihar: কানহাইয়াকে নিয়ে ‘ক্রাইসিস’, তীব্র শোরগোল কংগ্রেস ভবনে

kanhiya kumar

নিউজ ডেস্ক: পাটনায় সিপিআই (CPI) বিহার রাজ্য দফতর থেকে যে ছেলে এসি মেশিন খুলে আনতে পারে, সে ‘ডেঞ্জারাস’। তাকে কংগ্রেসের (INC) দায়িত্ব দেওয়া হলে বিদ্রোহ তুঙ্গে উঠবে এমনই বার্তা আসছে রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) কাছে। সবের মূলে সদ্য সিপিআই (CPI) ত্যাগ করে কংগ্রেসে (INC) যোগ দেওয়া কানহাইয়া কুমার (Kanhiya Kumar)। সূত্রের খবর, তাঁকেই বিহার প্রদেশ কংগ্রেসের বড় দায়িত্ব দিতে চলেছেন রাহুল গান্ধী।

কানহাইয়া কুমার বিহার প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি হতে পারেন এমনই গুঞ্জন রটেছে পাটনার রাজনৈতিক মহলে। এর পর থেকেই বিদ্রোহের আগুন ধিকি ধিকি করে জ্বলতে শুরু করেছে। যদিও বিহার ও কেন্দ্রীয় সিপিআই নেতারা মনে করছেন, কংগ্রেসে যোগ দিয়ে রাজ্যসভায় যেতে চান কানহাইয়া। তাঁর পক্ষে কমিউনিস্ট পার্টির হয়ে দীর্ঘ সময় রাজনীতি চালানোর ধৈর্য্য নেই।

লোকসভা ভোটের আগে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া অভিনেতা ও প্রাক্তন সাংসদ শত্রুঘ্ন সিনহা দলকে আক্রমণ করতে শুরু করেছেন। তাঁর দাবি, কী করে কানহাইয়াকে কংগ্রেসে স্থান দিলেন রাহুল গান্ধী। অভিযোগ, কানহাইয়াকে বিহার প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি পদ দেওয়া হলে অনেকেই মানতে পারবেন না।

 kanhiya kumar with Rahul gandhi

এমনিতেই কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ জট বিহারে প্রবল। বিধানসভা ভোটে আরজেডি (RJD) ও বামেদের সঙ্গে মহাজোট করেও তেমন কিছু সুবিধা হয়নি। বরং মহাজোটের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন (CPIML) বিরাট সফল হয়েছে। লিবারেশেনের অভিযোগ, কংগ্রেসকে বেশি আসন দেওয়ার থেকে বামেদের আসন দিলে মহাজোট সরকার গড়তে পারত। নির্বাচনে বিহারে বাম দলগুলি বিশেষ করে সিপিআই (এম-এল) একশ শতাংশের বেশি স্ট্রাইক রেট নিয়ে দেশে নজির গড়ে। বাকি দুই বাম দল সিপিআই (CPI) সিপিআইএম (CPIM) কিছু আসন পায়। মহাজোটের স্টার প্রচারক ছিলেন ততকালীন সিপিআই নেতা কানহাইয়া কুমার।

নির্বাচন পরবর্তী বিহারে মহাজোটের কংগ্রেস ম্রিয়মান। কোনঠাসা কংগ্রেসকে চাঙ্গা করতে সদ্য দলে আসা কানহাইয়া কুমারের মতো জনপ্রিয় মুখ ও বক্তাকে হাতিয়ার করতে চাইছেন রাহুল গান্ধী। মনে করা হচ্ছে তাঁর মূল লক্ষ্য আসন্ন উত্তর প্রদেশ বিধানসভা ভোটে কানহাইয়াকে দিয়ে প্রচার। সূত্রের খবর, এআইসিসি ঠিক করেছে, পাটনার প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে বড় পোর্টফোলিও দেওয়া হবে কানহাইয়া কুমারকে।

কানহাইয়া কংগ্রেসে সামিল হতেই কংগ্রেসের হয়ে জবরদস্ত ভাষণ দেওয়া শত্রুঘ্ন সিনহার হুঙ্কার শুরু হয়েছে। এর জেরে বিহার প্রদেশ কংগ্রেসে এখন পাঞ্জাবের মতো বিদ্রোহ পরিস্থিতি। পাটনা কংগ্রেস কার্যালয়ে বিদ্রোহী নেতাদের দাবি ‘নেহি চলেগা কানহাইয়া’। যাঁকে নিয়ে বিতর্ক সেই তুখোর বক্তা নীরব। তেমনই নীরব রাহুল গান্ধী।

‘রাহুলের উপস্থিতিতে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সদর্থক বৈঠক হয়েছে’: মমতা

Mamata Banerjee meets Sonia Gandhi on Prez race, unity bid

নিউজ ডেস্ক: বিকেল সাড়ে ৪টায় ১০ নম্বর জনপথে গিয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  বৈঠকের রাহুল গান্ধী উপস্থিত ছিলেন বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বৈঠকের পর সোনিয়া গান্ধীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন,‘দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাহুলের উপস্থিতিতে সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে সদর্থক বৈঠক হয়েছে।’

দেশের রাজনীতিতে এখন সরগরম পেগাসাসকাণ্ড। ন সেই বিষয়টি এই বৈঠকে উঠে এসেছিল বলেই জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।তিনি বলেন,”করোনা থেকে পেগাসাস, সব ইস্যুতেই কথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিজেপিকে হারানোর জন্য সবাইকে একসঙ্গে জোট বেঁধে লড়তে হবে। আমি লিডার নই, আমি ক্যাডার। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত সংসদে পেগাসাস নিয়ে জবাব দেওয়া।’’

অন্যদিকে বুধবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন,”আগামিদিনে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গোটা দেশের লড়াই হবে৷” তিনি আরও বলেন,”‘আমরা বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কোভিড সঙ্কট মিটে গেলে আমরা বৈঠক করতে পারি।’

বিরোধীদের জোট প্রসঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একমত, সেই কথা সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানালেন। তিনি বলেন,” সোনিয়া গান্ধীও বিরোধী ঐক্য চাইছেন। এখন অন্য দলগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।’