हिंडन एयरबेस पर उतरा शेख हसीना का विमान, डोभाल ने मिली हसीना 

ढाका: बांग्लादेश में आरक्षण विरोधी प्रदर्शन और हिंसक झड़पों के बीच सोमवार को तख्तापलट हो गया। प्रधानमंत्री शेख हसीना ने इस्तीफा दे दिया और राजधानी ढाका छोड़ दिया है।

राष्ट्र के नाम एक टेलीविजन संबोधन में, सेना प्रमुख वकर-उज़-ज़मान ने कहा कि सेना अंतरिम सरकार बनाएगी। कई रिपोर्टों के अनुसार, हसीना अपनी बहन शेख रेहाना के साथ देश छोड़कर चली गई हैं।

रिपोर्ट के अनुसार, बांग्लादेश की सड़कों पर रविवार को भीषण झड़पें हुईं, जिसमें मरने वालों की संख्या कम से कम 300 हो गई। हालांकि, इस संबंध में कोई आधिकारिक बयान जारी नहीं किया गया।

 

मोदी, हसीना संयुक्त रूप से सीमा पार रेल प्रोजेक्ट का करेंगे उद्घाटन

अधिकारियों ने कहा कि प्रधानमंत्री नरेंद्र मोदी और उनके बांग्लादेश समकक्ष शेख हसीना बुधवार को संयुक्त रूप से एक प्रमुख सीमा पार रेलवे परियोजना का उद्घाटन करेंगे। उन्होंने कहा कि दोनों पड़ोसी देशों के प्रधान मंत्री बुधवार को सुबह 11 बजे एक आभासी समारोह में अगरतला-अखौरा क्रॉस बॉर्डर रेल लिंक परियोजना का शुभारंभ करेंगे। अधिकारियों ने कहा कि 15 किलोमीटर लंबा रेल लिंक (भारत में 5 किलोमीटर और बांग्लादेश में 10 किलोमीटर) सीमा पार व्यापार को बढ़ावा देगा और ढाका के रास्ते अगरतला और कोलकाता के बीच यात्रा के समय को काफी कम कर देगा।प्रोजेक्ट का ट्रायल सोमवार दोपहर 12 बजे हुआ।

Bangladesh: পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক সংক্রমণে চিন্তিত শেখ হাসিনা সরকার, লকডাউন?

প্রতিবেশি ভারতে করোনার অঘোষিত তৃতীয় ঢেউ চলছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ওমিক্রন সংক্রমণ। আর পশ্চিমবঙ্গের করোনা সংক্রমণ রীতিমতো উদ্বেগজনক। সীমান্তের ওপারে পরিস্থিতি দেখে বাংলাদেশ সরকার একগুচ্ছ বিধিনিষেধ ফের আরোপ করল।

বাংলাদেশেও ফের করোনা সংক্রমণের গতি বেড়েছে। রাজধানী ঢাকাতেই সংক্রমণ সর্বাধিক। পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন খুলনা, রাজশাহি, রংপুর বিভাগগুলির পরিস্থিতির উপর বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে। এই বিভাগগুলিতেই বিভিন্ন সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতকারী বেশি।

মঙ্গলবার ঢাকায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, যদি কারোর টিকা না নেওয়া থাকে সেই ব্যক্তি কোনও রেস্তোরাঁয় ঢুকতে পারবেন না। মাস্ক ব্যবহার না করলে জরিমানা ধার্য হবে।

পশ্চিমবঙ্গে করোনা সংক্রমণের জেরে ফের আরোপিত হয়েছে বিধিনিষেধ। বাংলাদেশেও পরিস্থিতি বিচার করে আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ লকডাউন করার কথা চিন্তা করছে শেখ হাসিনার সরকার। জানা গিয়েছে, এই বিষয়ে আরও পর্যালোচনা করা হবে।

বাড়তে থাকা সংক্রমণের কারণে পশ্চিমবঙ্গের মতো বাংলাদেশেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হতে পারে। 

বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছেন, আমরা সারাক্ষণই করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। যদি আমাদের মনে হয়, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য ক্লাস কমাতে হবে, কমিয়ে দেব। করোনা পরিস্থিতির অবনতি হলে প্রয়োজনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাস বন্ধ করে দেওয়া হবে।

দীপু মনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে মার্চ মাসে এদেশে সংক্রমণ বাড়তে দেখা গেছে। তাই মার্চ মাস না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে সেটা বোঝা যাবে না। স্বাস্থ্যবিধি মানলে আমরা সংক্রমণ কম রাখতে পারব। এরইমধ্যে কয়েকজনের দেহে ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। তাই আমাদের খুবই সতর্ক থাকতে হবে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। 

মার্চ-এপ্রিলে আবার করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মহম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা পর্যায়ে হাসপাতালের পুরো প্রস্তুতি জানুয়ারিতে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য অধিদফতর জানাচ্ছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সোমবার পর্যন্ত মোট ২৮ হাজার ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৮৭ হাজার ১৪০ জন। 

Bangladesh: বাতিল বই উৎসব, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক পাচ্ছে বাংলাদেশি পড়ুয়ারা

News Desk: ইংরাজি নতুন বছরের প্রথম দিনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পড়ুয়াদের মধ্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করল বাংলাদেশ সরকার। করোনা সংক্রমণের কারণে গত বছরের মতো এবারও হচ্ছে না বই উৎসব।

বাংলাদেশ শিক্ষা মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার ৪ কোটি ১৭ লক্ষ ২৬ হাজার ৮৫৬ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ ২২ হাজার ১৩০টি বই বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। আগামীয় ১২ দিনের মধ্যে এই কার্যক্রম শেষ করতে হবে। বই পাবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণির পড়ুয়ারা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাঠ্যবই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে পড়ুয়াদের হাতে নতুন বই তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন।

বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) জানিয়েছে, প্রাথমিকের শতভাগ বই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পৌঁছানো হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত মাধ্যমিকের ৯৫ শতাংশ বই পৌঁছানোর কথা।পাঠদান শুরু হবে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে। এর ২০ দিন আগেই মাধ্যমিকের সব বই পৌঁছে যাবে।

Bangladesh: অরণ্য সুন্দরী সাতছড়ি যেন জঙ্গিদের অস্ত্র খনি, পা ফেললেই ভারত সীমান্ত

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: বারবার আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার। প্রতিবারই বিপুল পরিমান। অস্ত্র ভাণ্ডার দেখলেই স্পষ্ট হয় সরাসরি সেনাবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের জন্য এসব ব্যবহার করা হতো।বাংলাদেশের সাতছড়ি জাতীয় অরণ্য যেমন প্রকৃতির বিপুল বিস্ময় তেমনই এই এলাকা যেন অস্ত্র খনি!

সোমবার এই অরণ্য থেকে ১৫টি মর্টার শেল, ২৫টি বুস্টার ও ৫১০ রাউন্ড অটো মেশিনগানের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। ২০১৪ সাল থেকে বারে বারে এমন আগ্নেয়াস্ত্র ভাণ্ডার উদ্ধার হচ্ছে। প্রতিবারই অস্ত্র সম্ভার দেখে চমকে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার।

সাতছড়ি অরণ্যের অন্দরে
গভীর এই সাতছড়ি সীমান্ত জঙ্গলের এমনও অনেক এলাকা আছে যেখানে আন্তর্জাতিক সীমারেখা অদৃশ্য। কোনদিকে ভারত কোনদিকে বাংলাদেশ তা নির্নয় করা কঠিন। ভারতের দিকে ত্রিপুরা আর বাংলাদেশের দিকে পড়েছে সিলেট। সাতছড়ি অরণ্যের মূলনিবাসী উপজাতি জনগোষ্ঠী ত্রিপুরা জাতির অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় ত্রিপুরা পল্লীর নামকরণ থেকেই স্পষ্ট।

বিরলতম প্রাণী ও উদ্ভিদ গবেষকদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্র সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটের সাতছড়ি অরণ্যাঞ্চল। পর্যটকরা আসেন অনবরত। তবে নির্দিষ্ট কিছু এলাকার বাইরে বৃহত্তর বনাঞ্চলে যাতায়াতে দুর্গমতার কারণে এখানেই সীমান্ত পারাপার হয় অতি সহজে। টিলা-জঙ্গল, নদী ঘেরা অদ্ভুত নীরবতা আর আলো আঁধারিময় সাতছড়িতে ছড়িয়ে আছে ভারত বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের তৈরি করা বহু বাংকার। মাটির তলায় পোঁতা আছে আগ্নেয়াস্ত্র।

চুপ যা টাইগার আসতাসে, বাঘের থাবা খাবা!

টাইগার?

এই নামটি পরিচিত সমগ্র পার্বত্য ত্রিপুরা ও বাংলাদেশের সাতছড়ি অরণ্যাঞ্চলে। বেশি কিছু কেউ বলবে না এখনও। ‘বাঘের থাবা’ খেতে কেউ চায় না।

সেই টাইগার কে?

অল ত্রিপুরা টাইগার ফোর্স (ATTF) একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। মূলত ত্রিপুরার হিন্দু আদিবাসী উপজাতি জনগোষ্ঠীর মধ্যে তাদের সংগঠন ছড়িয়ে ছিল। দলনেতা রণজিত দেববর্মা পরে আত্মসমর্পণ করে। ত্রিপুরায় বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে তৎকালীন মু়খ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের শাসনে টাইগার হয়ে যায় ঘুমন্ত বাঘ। তবে আতঙ্কটা রয়ে গিয়েছে- চুপ যা টাইগার আসতাসে, বাঘের থাবা খাবা!

টাইগারের প্রতিদ্বন্দ্বী ন্যাশনাল লিবারেশন!

পার্বত্য ত্রিপুরার উপজাতি খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে প্রভাবশালী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা (NLFT)। সংগঠনটি ফের সক্রিয়। সম্প্রতি তাদের সাংগঠনিক কাঠামোর বড়সড় রদবদল করা হয়। একশ শতাংশ খ্রিষ্টানধর্মাবলম্বী নিয়ে পরিচালিত এনএলএফটি বাংলাদেশের জমিতে ফের ঘাঁটিগুলি পরিচালিত করছে। পুরনো নেতা বিশ্বমোহন দেববর্মার নীতি থেকে সরেছে এই সংগঠন।

তাৎপর্যপূর্ণ, সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ আবার পারস্পরিক সংঘর্ষ এই নিয়েই ত্রিপুরার পার্বত্য এলাকা ও বাংলাদেশ সংলগ্ন অঞ্চলে এলাকা ভিত্তিক সমান্তরাল সরকার কায়েম করেছিল দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। এটিটিএফ ও এনএলএফটি এই দুই সংগঠনের নিরাপদ ঘাঁটি বাংলাদেশের জমিতে।

প্রতিবেশি দেশে জামাত ইসলামি ও বিএনপি জোট সরকারের আমলে ভারত বিরোধী তৎপরতা বেড়েছিল। খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন বাংলাদেশ থেকে বৃহত্তর বেআইনি অস্ত্র চালান ষড়যন্ত্র (দশ ট্রাক অস্ত্র মামলা) বানচাল হয়। অসমের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আলফা (এখন আলফা-স্বাধীনতা) প্রধান পরেশ বড়ুয়ার জন্য যাচ্ছিল সেই আগ্নেয়াস্ত্র। চাঞ্চল্যকর সেই ঘটনার পর থেকে সতর্কতা অবলম্বন করে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো।

বস্তুতপক্ষে ৮০-৯০ দশক থেকে ২০০০ সাল শুরুর কিছু পর পর্যন্ত ত্রিপুরা ছিল উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বিচরণভূমি। ঠিক সেই সময়েই সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে ছিল নিরাপদ ঘাঁটি। ত্রিপুরায় সন্ত্রাসবাদ বা উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদ ঘুমিয়ে পড়েছিল গত বিগত বামফ্রন্ট সরকারের আমলে। কড়া বাস্তব, বাম সরকার পতনের পর বিজেপি জোট সরকারের আমলে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয়।

বাংলাদেশের মাটিতে যে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয় তার দাবি করেছিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। তিনি এখন বিরোধী নেতা। সম্প্রতি তিনি এনএলএফটির হামলায় দুই বিএসএফ জওয়ানের মৃতুর পর একই দাবি করেন। ত্রিপুরার বিজেপি সরকারও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানায়।

ত্রিপুরায় আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে সক্রিয় হতে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কি ফের পুরনো অবস্থান ফিরছে? এই প্রশ্ন বারবার উঠছে। রাজ্যটির তিনদিকে একেবারে গা ঘেঁষে থাকা বাংলাদেশ। সিলেটের সাতছড়ি অরণ্যে বারবার অস্ত্র উদ্ধার প্রমাণ করছে মানিকবাবুর দাবি কতটা গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর এমন দাবিতে ঢাকা ও নয়াদিল্লি নড়ে চড়ে বসেছিল।

<

p style=”text-align: justify;”>বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবস্থান সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। সেই নীতি নিয়েই সাতছড়ির মতো সীমান্তবর্তী গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বারবার অভিযান চলছে।

Bangladesh: মমতা দি জিত্যা গেল…খবরে নজর বাংলাদেশিদের

mamata-hasina

News Desk: ওপার বাংলার রাজধানী কলকাতার ভোট ফলাফলে নজর রেখেছেন বাংলাদেশবাসী। ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহি, রংপুর সর্বত্র খবরের ব্রেকিং কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের (কলকাতা পুরসভা) প্রায় সবটাই শাসক অনুকূলে। খবরে নজর রাখা বাংলাদেশি বিশেষত পশ্চিমবঙ্গ সীমান্তবর্তী জেলা উপজেলাগুলিতে আলোচনা মমতা দি জিত্যা গেল…।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে জয়ের দিনও একইভাবে বাংলাদেশের নজরে ছিলেন। রাজধানী ঢাকা সহ সব বিভাগের সংবাদপত্রের ওয়েব সংস্করণ, টিভি চ্যানেল ও ওয়েব পোর্টালের শিরোনামটিও দখল করেছিলেন মমতা।

বাংলাদেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপরিচিত। তবে সমালোচিতও। কারণ, তাঁর অনড় অবস্থানে ‘তিস্তা পানি বন্টন’ (জল বন্টন) হয়নি। যদিও ভারত সরকার আগ্রহী এই চুক্তিতে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি দৌত্য ব্যর্থ হয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘না’ মনোভাবে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর যুক্তি, শুখা মরশুমে তিস্তার জল এমনিতেই কম থাকে, তখন কোনওভাবেই প্রতিবেশি দেশে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে ঢাকার যুক্তি, তিস্তা আন্তর্জাতিক নদী হওয়ায় আন্তর্জাতিক নিয়মে এই জলের অংশীদার বাংলাদেশ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস জমানার আগে বামফ্রন্ট জমানায় তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর উদ্যোগে ও কূটনৈতিক অবস্থানে ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তি হয়। সেই কারণে প্রয়াত জ্যোতি বসুর বিশেষ কদর এখনও ঢাকার রাজনৈতিক মহলে। তবে পশ্চিমবঙ্গে বামেদের এখন ভোটের ভাঁড়ে মা ভবানী। বিধানসভা নির্বাচনে শূন্য হয়ে গিয়েছে বামেরা।

ঢাকায় আলোচনা, যেহেতু ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদী তিস্তা চুক্তিতে আগ্রহী ছিলেন, পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন হলে সেই চুক্তির সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে গত বিধানসভা ভোটে বিপুল জয়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা তিনবার সরকার ধরে রেখেছেন। তাঁর অবস্থান বদলাবে না। ফলে তিস্তা চুক্তি এখন দুরাশা।

এত সবের পরেও মমতার খবরেই নজর বাংলাদেশের। পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তে থাকা রংপুর, রাজশাহি, খুলনার মফস্বলে চলছে চর্চা।

Bangladesh 50: অতীশ দীপঙ্করের বাংলায় বঙ্গবন্ধুর খুনি বিশ্বাসঘাতকরা সক্রিয়, সতর্ক থাকুন বেগম হাসিনা

Pranab bhatttacharya
প্রণব ভট্টাচার্য
(ইতিহাস গবেষক, পশ্চিমবঙ্গ)

প্রণব ভট্টাচার্য (ইতিহাস গবেষক, পশ্চিমবঙ্গ): প্রথমত আমি বাংলাদেশকে (Bangladesh) আলাদা দেশ বলে ভাবতে পারিনা। আমার বাঙালি সত্তা কোথাও যেন আপত্তি জানায়। আমি ভারতীয় বাঙালি না বাঙালি ভারতীয় আজও বুঝে উঠতে পারিনি। আমাকে ভারতীয় মহা জাতি সত্তার মধ্যে বিলীন হয়ে যেতে হবে। আমার আলাদা আইডেন্টিটি থাকবে না!

বাঙালি হিসাবে গর্ব অনুভব করি যাঁদের জন্য তাঁরা তো প্রায় সবাই ওপারের-ই। কত নাম আর বলব। অতীশ শ্রীজ্ঞান দীপঙ্কর থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় পর্যন্ত। বিজ্ঞানীকুলের সব আচার্য্যরা। রত্ন প্রসবিনী আমার সেই ‘বৃহৎ অবিভক্ত বঙ্গ’।
‘ হে বঙ্গ ভাণ্ডারে তব বিবিধ রতন।’ ‘ বঙ্গ আমার ; জননী আমার ; ধাত্রী আমার ; আমার দেশ।’
কলঙ্ক কাঁটাতারের বেড়া। বাঙালির পরাজয়। বাঙালি সত্তার পরাজয়। ধূর্ত ইংরেজ বাঙালিকে হীনবল করার চক্রান্ত করেছে ধীরস্থির ভাবে। দীর্ঘদিন যাবৎ। সহায়তা করেছে এদেশের নানা শক্তি।

একবার মাত্র গেছি বাংলাদেশে। বেনাপোল সীমান্তের ওপারে পা দিয়েই এক আলাদা অনুভূতি। প্রণাম যশোর। কপোতাক্ষ তীরে যে আমার মধুকবি। “জলঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার করুন ডাঙায়” হেঁটে চলেছেন আমার জীবনানন্দ।

বিপুলা পদ্মা পার হয়ে ভায়া ঢাকা কুমিল্লা পর্যন্ত। আমার সৌভাগ্য আমি রাত্রে গিয়েও দাঁড়িয়েছি ” আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ” ভাষা শহীদ স্তম্ভের সামনে। নুয়ে আসে মাথা। একটা জাত জেগে উঠেছিল ভাষা কে কেন্দ্র করে। ভাষা আন্দোলন পরিণতি পেয়েছে স্বাধীন বাংলাদেশে। এই প্রাপ্তির জন্য একটা জাতকে মুখোমুখি হতে হয়েছে নারকীয় গণহত্যার। অসম লড়াইয়ে হারাতে হয়েছে লক্ষ তাজা প্রাণ। লুঠ হয়েছে হাজারো মা বোনের ইজ্জত। ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে ভারতীয় সেনার সাথে লড়াইয়ে হার মানতে বাধ্য হয়েছে বর্বর পাক বাহিনী। সমর্থন করেছি প্রাণমন দিয়ে সেই উজ্জ্বল ভূমিকাকে। ইন্দিরাজীর সাহসী নেতৃত্বকে।

আমি ক্ষমা করতে পারিনা চিন বা আমেরিকার সেদিনের ভূমিকা। আবার ভুলতে পারিনা ভারতের স্বাভাবিক মিত্র সোভিয়েতের বাঙালির মুক্তিযুদ্ধের সহযোগিতার কথা।

আজ বাংলাদেশের ৫০ বর্ষ পূর্তিতে স্মরণ করি সেদেশের জাতির নেতা মুজিবুর রহমানকে। আবার মাথায় রাখতে হয় তাঁকেও প্রাণ দিতে হয়েছে বিশ্বাসঘাতক বাঙালির হাতেই।

আজও সক্রিয় অত্যন্ত বিপজ্জনক সেই মৌলবাদী শক্তি। যারা সেদিন ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছে। আজও করছে। তবুও বাংলাদেশ বেগম হাসিনার নেতৃত্বে অনেক এগিয়েছে। আরও উন্নতির পথে বাংলাদেশ।

ঢাকার আন্তর্জাতিক বাস টার্মিনাসের সেই স্মৃতি- এখানে এসে ইলিশ খাওয়া হয়নি শুনে এক বয়স্ক ভদ্রলোক দাওয়াত দিলেন। ” আবার আসেন ভাই। আমার বাসায় ওঠেন ঢাকায়। পদ্মার ইলিশ খাওয়াব “। কি আন্তরিকতা! আহা। এইই বাঙালি।

ঢাকার আলোঝলমলে রাস্তায় বাংলায় সাইনবোর্ড দেখে বা ওষুধের স্ট্রিপে বাংলায় ওষুধের নাম দেখে আমার হৃদয় যে উদ্বেলিত হয়। “আ মরি বাংলা ভাষা ; মোদের গরব ; মোদের আশা”। এই ভাষাই তাকে বেঁধে রাখবে অচ্ছেদ্য বন্ধনে। কাঁটাতারের বেড়া আটকাতে পারবেনা তার ব্যাকুল হৃদয়।

বাঙালি এক আলাদা জাতিসত্তা। সে স্বতন্ত্র। তার জাতীয়তা উদার। সে বিশ্বপথিক। আন্তর্জাতিকতা তার রক্তে।

Bangladesh 50: আশা রাখব সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় বঙ্গবন্ধু কন্যা আরও দৃঢ় হবেন

New bangladesh must maintain security of minorities

শবনম হোসেন (শিক্ষিকা, পশ্চিমবঙ্গ): ডিসেম্বর , বাংলা অঘ্রান মাস আসলে বিশ্ব ইতিহাসে মাথা উঁচু করা এক জাতি বাঙালির বিজয় মাস। বাংলাদেশ পালন করছে তাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর অর্থাৎ বিজয়ের সুবর্ণ জয়ন্তী।
সেই দিনটা ছিল ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর। পদ্মার ওপারের খুশির ঢেউ স্বাভাবিক ভাবেই এপারেও আছড়ে পড়েছিল। বাঙালি হৃদয়ে লেগেছিল আনন্দ দোলা।

বয়স তখন আমার সবে পাঁচ বছর। বাবা কাকাদের আবেগ, উত্তেজনা, চোখে মুখে খুশির রেশ। যুদ্ধ কী বোঝার বয়স হয়নি তবে আনন্দটুকু উপলব্ধি করেছিলাম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের তথা বিশ্বের অন্যতম রাষ্ট্রনায়ক হলেন।

মনে পড়ে, এক দুপুরে বিদ্যালয়ে শিক্ষিকাদের মধ্যে চাঞ্চল্য। ঘোষণা করা হল, প্রিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশের জাতীয় কবি আর নেই। শোকের ছায়া নেমে আসে সর্বত্র। তাঁর ই সৃষ্ট কবিতা- গানে কবির প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করা হয়। তখন আমি পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী।

কবির জন্মস্থান বর্ধমান (এখন পশ্চিম বর্ধমান) জেলার চুরুলিয়া গ্রামে ও সারা পশ্চিমবঙ্গে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। পরে জেনে ছিলাম ১৯৭২ সালের ১৩ই জানুয়ারি বাংলাদেশে মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভায় কাজী নজরুল ইসলামকে ‘জাতীয় কবি’ ঘোষণা করা হয়। এছাড়া কবির ‘ চল্ চল্ চল্ ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল’ গানটি রণসঙ্গীত হিসাবে গ্রহণ করা হয়। এই গান আমাদের বিদ্যালয়ে নেতাজির জন্মদিন, স্বাধীনতা দিবসে নিয়মিত গাওয়া হতো এবং এখনও প্রতিটি বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীরা গেয়ে থাকে। মানুষে মানুষে ধর্ম বৈষম্য হানাহানি থেকে মুক্ত করতে তিনি সাম্যের গান শুনিয়েছেন। সমাজকে ধর্মের নামে বজ্জাতি থেকে কলুষমুক্ত করতে চেয়েছেন। তিনি ধর্মীয় সঙ্কীর্ণতা, ধর্মের নামে কুসংস্কার শোষণ ইত্যাদির বিরোধিতা করে লিখেছেন ‘ জাতের নামে বজ্জাতি ..’

অথচ আঁধার রাতে আজও আমরা হানাহানি করি। এবার দুর্গাপূজার সময় বাংলাদেশে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। বেশ কিছু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নজরুলের দেশে, এ বড়ো লজ্জার, এ বড়ো কষ্টের, বড়ো দুঃখের। আজ ও আমরা বাঙালি জাতি হিসেবে পরস্পরের প্রতি নাড়ির টান অনুভব করি। পরস্পর ক্ষমা চাইতে যেন লজ্জাবোধ না করি।

কবি বলে গেছেন ‘ মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান। মুসলিম তার নয়ন মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ।’
যে জাতি নিজের মাতৃভাষাকে বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দিয়েছে রক্তের বিনিময়ে সেই দেশে মানব সভ্যতাকে পিছিয়ে দেওয়ার এই দুরভিসন্ধিমূলক অপচেষ্টা আমাদের রুখতেই হবে।
হাজার বছরের সাহিত্যের ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ অসাম্প্রদায়িক কবি কাজী নজরুল ইসলাম বলেছেন ‘গাহি সাম্যের গান ..’। ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে ‘মানবতা’-কে স্থান দিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বিজয় উৎসবের ৫০ বছর পালনের পাশাপাশি আমরা আশা করব বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি শেখ হাসিনার সরকার তথা প্রশাসন সদা জাগ্রত থাকবেন , ভবিষ্যতে যাতে যাতে কোন দূর্বৃত্ত এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটাতে পারে।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা এবং নিজ ধর্ম পালন তাদের মৌলিক অধিকার এবং তা সুনিশ্চিত করা শুধুমাত্র সরকার নয় প্রত্যেক সুনাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

এই শুভ দিনের প্রাক্কালে আমরা সবাই সাম্য ও মৈত্রীর বন্ধন সুদৃঢ় করার শপথ নিই। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকলে মিলে ভারতের বিজয় দিবস ও বাংলাদেশ তৈরির সুবর্ণজয়ন্তী পালন করি।
শুভেচ্ছা প্রত্যেক বাঙালিকে।

Bangladesh: নাগাল্যান্ড ইস্যু টেনে মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রশ্নে কূটনৈতিক চাপ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে

RAB_bangladesh

News Desk: বাংলাদেশে (Bangladesh) মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুতে এবার এসে পড়ল ভারতে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া নাগাল্যান্ডে গুলিতে মৃত খনি শ্রমিকদের ঘটনা। জঙ্গি সন্দেহে অসম রাইফেলসের গুলিতে ১৫ জনের মৃত্যু হয়।

নাগাল্যান্ডের প্রসঙ্গ টেনে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিষেধাজ্ঞা জারি করার আগে ভারতের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পারে। প্রতিবেশি দেশের নাগাল্যান্ড রাজ্যে কী ঘটেছে ও কেন ঘটেছে তার সদুত্তর সে দেশ থেকে চাক মার্কিন বিদেশ দফতর।

শুরু হয়ে গিয়েছে শেখ হাসিনা ও জো বাইডেন সরকারের মধ্যে ঠান্ডা লড়াই। ঢাকা-ওয়াশিংটন কূটনৈতিক সংঘাতে গরম আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ইস্যু।

সম্প্রতি মার্কিন বিদেশ ও রাজস্ব দফতরের তরফে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘিত করেছেন দেশটির অন্যতম নিরাপত্তা বাহিনী ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (RAB) একাধিক প্রাক্তন কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ করে বাতিল করা হয়েছে বর্তমান পুলিশ প্রধান সহ ব়্যাব বাহিনীর মোট ৭ শীর্ষ প্রাক্তন কর্তার ভিসা। তারা এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কোনওভাবেই প্রবেশ করতে পারবেন না বলেই জানানো হয়।

বাংলাদেশে তদন্তের নামে গুমখুন, অপহরণ করার ইস্যু নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে মানবাধিকার সংগঠনগুলি শেখ হাসিনার সরকারকে অভিযুক্ত করে আসছে। তবে সরকারের দাবি দেশে মানবাধিকার রক্ষা করা হয়।

মানবাধিকার লঙ্ঘন ইস্যুতে এবার মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এসেছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানের আগেই। আগামী ১৬ ডিসেম্বর হবে এই অনুষ্ঠান। আসছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি, ভুটানের রাষ্ট্রপ্রধান। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা আসছেন। এর মাঝে মার্কিনি নিষেধাজ্ঞার ধাক্কায় বিড়ম্বিত শেখ হাসিনার সরকার।

তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ঢাকা। বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড.এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, র‌্যাব এবং এর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দুঃখজনক। যে কোনো অভিযোগ তথ্যভিত্তিক হওয়া উচিত। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেও প্রতিবছর ৬ লাখ লোক নিখোঁজ হন।

শুধু প্রতিক্রিয়া নয়, বাংলাদেশ সরকারের তরফে ডেকে পাঠানো হয়েছে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারকে। তার কাছে বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ঢাকার প্রতিক্রিয়া ওয়াশিংটনে পাঠানো হবে বলেই জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।

ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব) বাহিনীর ভূমিকা বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে আলোচিত। অপরাধ ও জঙ্গি দমনের পাশাপাশি নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয় এই সশস্ত্র বাহিনীকে। বিশেষ ক্ষেত্রে তদন্তে অংশ নেয় এই বাহিনী। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, যাঁদের নামে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, আমি তো মনে করি তাঁদের নামে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াটা বস্তুনিষ্ঠ নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার বোধ হয় অতিরঞ্জিত কোনো খবর পেয়ে, সেটার ওপর ভিত্তি করে এটা করেছে।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় যাদের নাম:
১. র‍্যাবের প্রাক্তন মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।
২. ব়্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন
৩. ব়্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) খান মহম্মদ আজাদ
৪. ব়্যাবের প্রাক্তনঅতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার
৫. ব়্যাবের প্রাক্তন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মহ. জাহাঙ্গীর আলম
৬. ব়্যাবের প্রাক্রন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মহ. আনোয়ার লতিফ খান।

Bangladesh: ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’, পুলিশ প্রধান সহ বাহিনী কর্তাদের মার্কিনি নিষেধাজ্ঞা, বিব্রত হাসিনা

RAB Bangladesh Police

News Desk: মার্কিনি চাপে বিড়ন্বিত শেখ হাসিনা। স্বাধীনতা অর্জনের সুবর্ণ জয়ন্তী অনুষ্ঠানের আগেই বাংলাদেশে (Bangladesh) মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে চাঞ্চল্য। পুলিশ প্রধান ও জঙ্গি দমনে বারবার আলোচিত ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের ৬ শীর্ষ বর্তমান ও প্রাক্তন কর্মকর্তার ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার। অভিযোগ, এরা সবাই মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত।

নিষেধাজ্ঞায় নাম রয়েছে যাদের তারা কোনওভাবেই ভিসা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে পারবেন না বলে জানানো হয়। এর জেরে বাংলাদেশ প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য। শুক্রবার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে পৃথকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মার্কিন রাজস্ব এবং বিদেশ বিভাগ।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় যাদের নাম:
১. র‍্যাবের প্রাক্তন মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ। তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।
২. ব়্যাবের বর্তমান মহাপরিচালক (ডিজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন
৩. ব়্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) খান মহম্মদ আজাদ
৪. ব়্যাবের প্রাক্তনঅতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) তোফায়েল মোস্তাফা সরোয়ার
৫. ব়্যাবের প্রাক্তন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মহ. জাহাঙ্গীর আলম
৬. ব়্যাবের প্রাক্রন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) মহ. আনোয়ার লতিফ খান।

ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (ব়্যাব) বাহিনীর ভূমিকা বাংলাদেশ সহ বিভিন্ন দেশে আলোচিত। অপরাধ ও জঙ্গি দমনের পাশাপাশি নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয় এই সশস্ত্র বাহিনীকে। বিশেষ ক্ষেত্রে তদন্তে অংশ নেয় এই বাহিনী। তবে এই বাহিনী বারবার অভিযুক্ত হয়েছে মানবাধিকার লঙ্ঘনে।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠন বারবার বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে তদন্তের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। প্রতিবারই শেখ হাসিনার সরকার জবাবে জানিয়েছে বাংলাদেশে মানবাধিকার রক্ষা করা হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অবস্থানের প্রেক্ষিতেও একই অবস্থান শেখ হাসিনার সরকারের।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, যাঁদের নামে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, আমি তো মনে করি তাঁদের নামে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াটা বস্তুনিষ্ঠ নয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার বোধ হয় অতিরঞ্জিত কোনো খবর পেয়ে, সেটার ওপর ভিত্তি করে এটা করেছে।

ব়্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক খান মহম্মদ বলেন, আমরা কখনো মানবাধিকার লঙ্ঘন করি না। সব সময় মানবাধিকার রক্ষা করি।  তিনি বলেন, যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, খুন করে ধর্ষণ করে মাদক ব্যবসা চালায়, দেশ এবং জনগণের স্বার্থেই আমরা তাদের আইনের আওতায় আনি। অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা যদি মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়ে থাকে, তাহলে দেশের স্বার্থে এই মানবাধিকার লঙ্ঘন করতে আমাদের আপত্তি নেই।

Bangladesh: ফের রক্তক্ষরণ খালেদা জিয়ার, আন্তর্জাতিক মহলের চাপে হাসিনা

Bangladesh Khaleda Zia

News Desk: চিকিৎসকরা আরও একবার জানিয়েছেন, ফের রক্তক্ষরণ হয়েছে বর্ষীয়ান প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার। আর বিএনপি দলের দাবি, মরনাপন্ন দলনেত্রী। সরকার দ্রুত তাঁকে বিদেশে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার অনুমতি দিক। বাংলাদেশ (Bangladesh) সরকার রাজি নয়। আ সরকারের তরফে বলা হয়েছে আইনি প্রক্রিয়ায় আর্থিক দুর্নীতির মমলায় জেল থেকে ছাড়া পেলেও খালেদা জিয়ার দেশত্যাগে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি আছে।

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নিয়ে সরকার ও বিএনপির মধ্যে টানাপোড়েনের মাঝে আন্তর্জাতিক চাপ আসতে শুরু করল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দিন। এই মর্মে আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ড. আইভান স্টেফানেক। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলস থেকে স্থানীয় সময় বুধবার এই চিঠি পাঠান তিনি। চিঠিতে ড. আইভান স্টেফানেক বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিএনপির দাবি, তাদের দলনেত্রীকে মুক্তি দিতে বারবার আবেদন জানানো হয়েছে। এমনকি খালেদা জিয়ার পরিবারের তরফেও আবেদন করা হয়েছে। সরকারে থাকা দল আওয়ামী লীগের দাবি, খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে রাজনীতি করছে বিএনপি।

বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের দায়ের করা জিয়া এতিমখানা ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের আর্থিক দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত খালেদা জিয়ার মোট ১৭ বছরের জেলের সাজা হয়। তিনি জেলে ছিলেন । তবে করোনা সংক্রমণ ও বয়স জনিত অসুস্থতার কারণে জেল থেকে বাড়িতে রাখার নির্দেশ দেয় আদালত। দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়।

ঢাকার বাড়িতে থাকা অবস্থায় করোনা আক্রান্ত হন খালেদা জিয়া। এরপর বেশ কয়েকবার তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ১৩ নভেম্বর খালেদা জিয়া ফের অসুস্থ হন। তাঁকে ঢাকার বেসরকারি এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন তিনি। 

গত বুধবার রাত থেকে খালেদা জিয়ার অন্ত্রে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসকরা ইনজেকশন দিয়ে তা বন্ধ করতে সক্ষম হন। বৃহস্পতিবার সকালে আবারও রক্তক্ষরণ হলে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। তবে ওইদিন দুপুরের আগে তার সেই অবস্থার কিছুটা উন্নতি ঘটে বলে মেডিকেল বোর্ডের একজন চিকিৎসক জানান।

Bangladesh: নায়িকাকে তুলে আনিয়ে ধর্ষণের হুমকিদাতা মন্ত্রী, বিব্রত হাসিনা সরকার

Mahiya Mahi-Murad Hasan

News Desk: ফোনে বাংলাদেশি (Bangladesh)নায়িকা মাহিয়া মাহিকে হোটেলে তুলে এনে ধর্ষণের হুমকিতে অভিযুক্ত দেশটির তথ্য প্রতিমন্ত্রী মুরাদ হাসান। এই ফোনকল অডিও ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে। এতে চরম বিব্রত শেখ হাসিনার সরকার। চাপের মুখে প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমে বাড়ছে।

বিভিন্ন সময় বিতর্কিত মন্তব্য করায় অভিযুক্ত বাংলাদেশের তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী অসৌজন্যমূলক কথা বলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুব্ধ। তাঁর নির্দেশে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হচ্ছে মুরাদ হাসানকে।

বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানের বিরুদ্ধে বারবার অশালীন কথা বলার অভিযোগ উঠেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবারের এক মহিলা সদস্যকে নিয়েও অশ্লীল মন্তব্য করেন মুরাদ হাসান। এর জেরে বিএনপি সমর্থকরা সরাসরি মন্ত্রীকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এবার তথ্য প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ঢালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিয়া মাহিকে (মাহিয়া শারমিন আকতার নিপা) ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে তুলে আনার হুমকি। আরও অভিযোগ, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ফোনেই নায়িকাকে ধর্ষণের হুমকি দেন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে একটি অডিও ক্লিপ। যেখানে কথা বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। অপর প্রান্তে ঢালিউড নায়ক ইমন ও নায়িকা মাহিয়া মাহি। অভিযুক্ত মন্ত্রী বারবার নায়িকাকে চলে আসার জন্য বলছেন।

জানা গিয়েছে ফোনটি এসেছিল ঢালিউড নায়ক ইমনের কাছে। তাকে ফোন করেছিলেন মন্ত্রী। তিনি নায়িকা মাহির সঙ্গে কথা বলতে চান। ইমন ফোন ধরিয়ে দেয়। ইমনের সাফাই, এই ফোনে মাহির সঙ্গে কী কথা হয়েছে জানি না। আর এটি বছর দেড়েক আগের কল।

নায়িকা মাহিয়া মাহি জানিয়েছেন, তিনি সৌদি আরবে আছেন। ফোন আসার পর তাঁর উপর প্রবল মানসিক চাপ তৈরি হয়েছিল।

Bangladesh: হাসিনার আহ্বানে বন্দুক নামালেন জ্যোতিরিন্দ্র, সেই রক্তাক্ত পর্বের বীজ জীবিত

Chittagong_Hill_Tracts_Peace_Accord

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: পশ্চিমবঙ্গের সবাই কম বেশি একটি শব্দে পরিচিত- ‘পাহাড়’। এর মানে দার্জিলিং ও বর্তমান কালিম্পং জেলার পার্বত্য এলাকা। ১৯৮০ দশকে রক্তাক্ত গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের সময় পার করে এখনকার সময়েও তুমুল আলোচিত। পশ্চিমবঙ্গে বামফ্রন্ট আমলের সেই ভয়াবহ পর্ব বর্তমান তৃণমূল কংগ্রেসের সময়েও বারবার উগ্র রূপ দেখিয়েছে।

কিন্তু যে সময় গোর্খাল্যান্ড বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছিল, তখন আরও একটি পাহাড়ি এলাকা হয়েছিল রক্তাক্ত। সেটা বাংলাদেশের অপূর্ব সুন্দর পার্বত্য চট্টগ্রামের বিস্তির্ণ অংশ। একদিকে ভারত, মায়ানমার অন্যদিকে বাংলাদেশ।

চট্টগ্রামের পার্বত্য এলাকায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী চাকমাদের বিরাট সশস্ত্র বাহিনী বারবার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে গুলির লড়াই চালিয়েছে। এই সংগঠনটির নাম ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি’।

পৃথক স্বশাসনের দাবিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে জনসংহতি সনিতির মধ্যে যুদ্ধে রক্তাক্ত হয়েছিল সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের বিস্তির্ণ অঞ্চল। ১৯৭১ সালে পাকিস্তান কেটে বাংলাদেশ তৈরির পর এই সংঘর্ষ ছিল গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতি।বিষয়টি তেমন আলোচিত নয় পশ্চিমবঙ্গে। তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম লাগোয়া ভারতের দিকে ত্রিপুরা ও মিজোরামবাসী জানেন কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

দু’দশকের টানা রক্তাক্ত পরিস্থিতি,তুমুল সংঘর্ষ, মৃত্যুর পথ ধরে একদিকে মায়ানমার অন্য দিকে ভারতের সীমান্তের মাঝে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি, বান্দারবানের মতো অপরূপ এলাকা হয়ে যায় বিভীষিকাময় স্থান।
ভয়ঙ্কর সেই পর্ব সমাপ্ত ১৯৯৭ সালে। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিদ্রোহী জনসংহতি সমিতির শান্তি চুক্তি অনুষ্ঠতিত হয়েছিল ২ ডিসেন্বর। তৎকালীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (পরে বিরোধী নেত্রী হয়ে এখন ফের প্রধানমন্ত্রী) কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেন বিদ্রোহী পাহাড়ি নেতা জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ( সন্তু লারমা)।

দু দশক আগে খাতায় কলমে থেমেছিল পার্বত্য চট্টগ্রামেরের রক্তাক্ত অধ্যায়। এর পরে মূল জনসংহতি সমিতি ভেঙে একাধিক সংগঠন হয়েছে। তাদের পারস্পরিক সংঘর্ষে বারে বারে রক্তাক্ত হয়েছে বাংলাদেশের পাহাড়। সেই সুযোগ নিচ্ছে বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনগুলি।

সন্তু লারমার অভিযোগ, সরকার শান্তি চুক্তি করলেও বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকার জন্য যে উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা পূরণ হয়নি। এর ফল বিপদ ডেকে আনবে।

বাংলাদেশের এই পার্বত্যাঞ্চল গত কয়েকবছর ধরে বারবার রক্তাক্ত হয়েছে। সন্তু লারমার হুঁশিয়ারির আড়ালে রয়েছে পার্বত্য রাজনীতির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও চোরাচালান।

Bangladesh: দুর্গাপূজায় ‘পরিকল্পিত’ হামলায় দ্রুত অ্যাকশনের নির্দেশ শেখ হাসিনার

sheikh hasina

নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপূজায় বাংলাদেশে পরপর পরিকল্পিত হামলায় সংখ্যালঘু হিন্দুরা বিপর্যস্ত। বিভিন্ন স্থানে হামলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের অবশ্যই ধরতে হবে এমন উল্লেখ করে যত দ্রুত সম্ভব অ্যাকশনের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে নির্দেশ দিয়েছেন মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে। এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সভাপতিত্ব করেন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু নির্দেশ দিয়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে বলেছেন তিনি। ধর্ম নিয়ে কেউ যাতে বাড়াবাড়ি না করেন এমনই বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোশ্যাল সাইটে ধর্ম নিয়ে কিছু লিখলেই সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানানো থেকেও বিরত থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

দুর্গাপূজার সময় কুমিল্লার একটি পূজামণ্ডপে কোরান রাখা আছে, এই ছবি থেকে ধর্মীয় উস্কানিমূলক বার্তা ছড়ানো হয়েছিল সোশ্যাল সাইটে। তার জেরে শুরু হয় পরপর দুর্গামণ্ডপ ভাঙচুর।

কুমিল্লা, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রংপুরে পরপর হামলা হয় সংখ্যালঘু হিন্দুদের বাড়ি, মন্দিরে। ঢাকাতেও বায়তুল মোকাররম মসজিদের সামনে উত্তেজিত জনতাকে পুলিশ বেধড়ক পেটায়। চাঁদপুরে পুলিশ গুলি চালায়। কয়েকজন হামলাকারী মৃত্যু হয়। এছাড়া হামলায় মারা যান দুজন সংখ্যালঘু হিন্দু। কয়েকজন জখম।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগেই জানান, এই ঘটনা পরিকল্পিত। প্রশাসনিক কাজে ঢিলেমির অভিযোগে বিভিন্ন জেলার পুলিশ কর্তাদের বদলি করা হয়েছে।

Bangladesh: পূজামণ্ডপে হামলার পর সংখ্যালঘু হিন্দুপল্লীতে আগুন, রংপুরে জ্বলছে গ্রাম

Communal-tension

নিউজ ডেস্ক:  কোরান অমাননার মতো ভুয়ো অভিযোগ ও গুজবকে কেন্দ্র করে দুর্গামণ্ডপে হামলার রেশ ধরে বাংলাদেশে ফের আক্রান্ত সংখ্যালঘু হিন্দুরা। এবার রংপুরে একটি গ্রাম জ্বালিয়ে দিল হামলাকারীরা। অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই হামলা হয়েছে। প্রশাসন প্রায় নির্বিকার।

রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার মাঝি পাড়ায় পরপর বাড়িতে আগুন ধরানো হয়েছে। দুটি গ্রামে ৫০ থেকে ৬০ টি হিন্দু বাড়ি ও মন্দিরে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে।

Communal-tension

রংপুরের জেলা শাসক আসিফ আহসান জানান ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে করিমগঞ্জ গ্রামে উত্তেজনা তৈরি হওয়ার খবর পেয়ে আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে ছুটে যাই এবং পরিস্থিতি শান্ত করি। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে দুর্বৃত্তরা পীরগঞ্জের কয়েকটি গ্রামের কিছু হিন্দু বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লায় কোরান ‘অবমাননা’ করা হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক হামলা চলছে। কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রামে পরপর দুর্গা প্রতিমা, মন্দির ও স্থানীয় সংখ্যালঘুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে মোট মৃত ৬ জন। মৃতদের বেশিরভাগই চাঁদপুরের হামলাকারী বলে বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের জানান,সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের খুঁজে বের করা হচ্ছে।

Bangladesh: ‘জামাতে ইসলামি ক্ষমতায় থাকলেও এত হিন্দু নির্যাতন হত না’, তসলিমার বিতর্কিত পোস্ট

Taslima Nasrin

নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপূজায় পরপর মন্দিরে হামলা, তান্ডব ও মৃত্যুর জেরে বিতর্কের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে ফেসবুক পোস্টের ছত্রে ছত্রে বাংলাদেশ সরকার, সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রবল আক্রমণ করলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের (Taslima Nasrin)। তিনি এখন ভারতে আছেন। এই প্রতিবেদনের কিছু অংশ তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক পোস্ট ভিত্তিতে প্রকাশ করেছে www.ekolkata24.com

তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, “আফগানিস্তান, পাকিস্তান, জিহাদিস্তান । জিহাদিস্তানের অফিসিয়াল নাম এখনও অবশ্য বাংলাদেশ। এই তিন স্তান সমানে সমান পাল্লা দিয়ে চলছে। যুগ যুগ ধরে পরিকল্পিত ভাবে হিন্দু নির্যাতন চলছে জিহাদিস্তানে। গত তিন দিনে এই নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এর সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারের। সম্পূর্ণ দোষ কওমি- কাম-জিহাদি মাতা হাসিনার। তিনিই দেশে জিহাদি পয়দা করেছেন। তিনিই দেশে হিন্দুর নিরাপত্তা নষ্ট করেছেন। বিএনপি এবং জাতীয় পার্টির শাসনামলেও এত হিন্দু নির্যাতন হয়নি, যত হয়েছে হাসিনার আওয়ামি লীগের আমলে। মনে হয় জামাতে ইসলামি ক্ষমতায় থাকলেও এত হিন্দু নির্যাতন হতো না।”

তসলিমা নাসরিনের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে বাংলাদেশে ফের বিতর্ক চরমে। কারণ, এই পোস্টে তিনি সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে পুরো দায়ি করেছেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেও এমন মন্তব্য করেছেন যা বিতর্ক আরও উস্কে দিল।

তসলিমা তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন, “হিন্দুদের দোষ দিয়ে দেশ জুড়ে হিন্দুদের অবাধে নির্যাতন করার উদ্দেশে হিন্দু দেবদেবীর কোলে কোরান রেখে এসেছে মুসলমানেরা, কোরানের ভেতর মাদকদ্রব্য ঢুকিয়ে পাচার করে রোহিঙ্গা মুসলমানেরা। এই কোরান অবমাননাকারী মুসলমানদের বিরুদ্ধে জিহাদিরা কোনও আওয়াজ ওঠায় না। অথচ কোরান অবমাননা করেছে হিন্দুরা, এই মিথ্যে দোষ দিয়ে হিন্দুর ঘর বাড়ি মন্দির ভেংগে ফেলা হয় । এসব কি হাসিনা জানেন না? সব জানেন। জেনেও তিনি হিন্দুদের কোনও নিরাপত্তা দেন না। বিশ্বকে বোকা বানাতে দু’একটা হিন্দুনির্যাতক জিহাদিকে গ্রেফতার করার ব্যবস্থা করবেন হাসিনা, তারপর দুদিন পর তাঁর সবকটা সন্তানকে চুপচাপ মুক্তি দিয়ে দেবেন।
এভাবেই চলছে হাসিনার জিহাদিস্তান।”

Bangladesh: দুর্গাপূজা মণ্ডপে ভাঙচুর, হামলাকারীরা খুন করেছে পূজারীসহ তিনজনকে

Puja pandal attack bangladesh

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে কুমিল্লায় দুর্গাপূজা ঘিরে ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগে পরপর হামলা ভাঙচুর, হামলাকারীদের রুখতে পুলিশের গুলি, মৃত্যু সবই ঘটে চলেছে। এই তালিকায় জুড়ল সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের কয়েকজনের নাম।

এবার অভিযোগ, নোয়াখালীর চৌমুহনীতে পূজা মণ্ডপে হামলার পর এক পূজারীকে পিটিয়ে মারা হয়েছে। নিহতের নাম যতন সাহা। চাঁদপুর জেলায় দুর্গামণ্ডপে হামলার সময় হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মানিক সাহাকে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁর মৃত্যু হয়। খবর এসেছে আরও একজন মৃত। চট্টগ্রাম থেকে বেশ কয়েকটি ধর্ষণ ও হামলার অভিযোগ এসেছে। কয়েকটি পূজামণ্ডপে ভাঙচুর হয়।

দুর্গাপূজায় বাংলাদেশে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বুধবার থেকে। সেদিনই কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে কোরান শরিফ রাখার ছবি দেখে সোশ্যাল সাইটে উত্তেজনা ছড়ানো হয়। এরপরেই হামলাকারীরা পরপর ভাঙতে থাকে মন্ডপ। শুক্রবারও কিছু উগ্র বার্তায় ফের পরিস্থিতি হয় উত্তপ্ত রাজধানী ঢাকায়। হামলাকারীদের রুখতে পুলিশের গুলি চালায় ফের।

বিবিসি জানাচ্ছে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ।নোয়াখালী ও চট্টগ্রামে কয়েকটি পূজামণ্ডপে হামলা হয়েছে। কুমিল্লা, চাঁদপুর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলার ঘটনা ঘটেছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে হামলা রুখতে পুলিশ গুলি চালায়। সংঘর্ষে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। এরা সবাই হামলাকারী।

বিবিসি জানাচ্ছে, নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জের চৌমুহনীতে একাধিক দোকানও বাড়িঘরে হামলা চালানোর খবর পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামে কয়েকটি মণ্ডপ ও মন্দিরে হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা রানা দাশগুপ্ত।

দুর্গাপূজা ঘিরে পরপর হামলার ঘটনার পিছনে রয়েছে ষড়যন্ত্র। দোষীদের গ্রেফতার করে কড়া শাস্তি দেবে। জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশাদুজ্জামান খান কামাল জানান, কোনও অবস্থায় সম্প্রীতির পরিবেশ নষ্ট করতে দেওয়া হবেনা।

SFI: ওপারের দুর্গামণ্ডপে বর্বর হামলার প্রতিবাদে এপার বাংলার বাম ছাত্র সংগঠন

Sfi on bangladesh issue

নিউজ ডেস্ক, কলকাতা:  বাংলাদেশের নানা স্থানে দুর্গাপূজার সময় সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পূজা মন্ডপ, প্রতিমা ভাঙ্গচুর হয়েছে। এই বর্বরোচিত আক্রমণের বিরুদ্ধে সাথে সাথে পথে নেমেছে সেখানকার বামপন্থীরা। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন সহ বাম ছাত্র সংগঠনও এই লড়াইতে সামিল। হাসিনা সরকারও গ্রেপ্তার করছে আক্রমণকারীদের। হামলাকারীরা ‘সরকারি মদত’ পায়নি।

প্রতিবাদ জানাল রাজ্য এসএফআই। এই প্রসঙ্গে এসএফআই সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য বলেন, “এই দাঙ্গাবাজরা হলো সেই শক্তি যারা বাংলাদেশ স্বাধীনতার সময় পাকিস্তানের হয়ে ওপার বাংলার মানুষের ওপর নির্মম অত্যাচার নামিয়েছিল। এরা এখনো বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংস করতে উদ্যত। এই সময় আমাদের ভারতীয় উপমহাদেশে সংখ্যালঘু অধিকার খর্বকারী সব ধরনের সাম্প্রদায়িক শক্তিকে পরাজিত করতেই হবে। দরকার ঐক্যবদ্ধ লড়াই।”

বাংলাদেশে একাধিক দুর্গা মন্ডপে ঢুকে তান্ডব চালায় দুষ্কৃতীরা। পরের পর প্যান্ডেলে চলে দুষ্কৃতী তান্ডব। গোটা ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে সেদেশের হিন্দু কাউন্সিল। নিন্দার ঝড় উঠেছে সব মহলেই।

কুমিল্লার নানুয়া দীঘিতে সবচেয়ে খারাপ ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যায়। সেখানে একটি দূর্গা পুজো প্যান্ডেলে হামলা চালায় উত্তেজিত জনতা। দেবী দুর্গার পাদদেশে পবিত্র কোরান রাখা হয়েছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পরেই হামলা চলে। জানা যায় প্রতিমাটি একটি পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়। কোরান রাখার খবর ছড়ায় হোয়াটসঅ্যাপ। উস্কানিমূলক মন্তব্য ও ছবি শেয়ার হতে থাকে। এরপরেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

পুলিশ গিয়েও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি বলে দাবি স্থানীয়দের। এদিকে পুলিশ আসার আগেই প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। এই গোটা ঘটনার ছবি শেয়ার করে বাংলাদেশ হিন্দু ইউনিটি কাউন্সিল। তারা টুইট করে গোটা ঘটনা জানায়।

ছবি শেয়ার করে হিন্দু কাউন্সিল জানায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক দিন। গত ২৪ ঘণ্টায় যা ঘটেছে তা আমরা টুইটে প্রকাশ করতে পারি না। বাংলাদেশের হিন্দুরা কিছু মানুষের আসল চেহারা দেখেছে। ভবিষ্যতে কী হবে তা আমরা জানি না কিন্তু বাংলাদেশের হিন্দুরা ২০২১ সালের দুর্গাপূজা ভুলবে না।

Bangladesh: RAB-BGB-পুলিশ ঘেরাটোপে বিজয়া দশমী পালন হবে বাংলাদেশে

Invisible intelligence surveillance at Durga Puja

নিউজ ডেস্ক: ধর্মান্ধ গোষ্ঠীগুলিকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানান, যে বা যারা কুমিল্লার দুর্গামণ্ডপ ভাঙচুর করেছে তাদের এমন শাস্তি হবে যা মনে রাখার মতো। তদন্ত চলছে দোষীরা চিহ্নিত হচ্ছে।

বিবিসি জানাচ্ছে, বুধবার কুমিল্লায় একটি দুর্গা মণ্ডপে কোরান শরিফ রাখার অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ধর্মীয় উস্কানি দেওয়া হয়। এর জেরে বেশ কয়েকটি মণ্ডপে হামলা হয়। পুলিশ গুলি চালায়। জখম হন কয়েকজম।একইভাবে চাঁদপুরে হামলা রুখতে গুলি চালায় পুলিশ। ৫ জন মারা যায়।

বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান জানান, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে দেশের ক্ষতি করতে তৈরি কিছু গোষ্ঠী। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত। বাংলাদেশের ২৪টি জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বাহিনীর টহল চলছে। বিভিন্ন এলাকায় হামলা ভাঙচুরের পরিপ্রেক্ষিতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। যে কোনও মূল্যে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন।

গোয়েন্দা প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলাদেশ জুড়ে জারি হয় সতর্কতা। বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানরা ছিলেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ঘটনাটি উদ্দেশ্যমূলক। কোনও স্বার্থান্বেষী মহল, ষড়যন্ত্রকারী বা চক্রান্তকারী এই ঘটনা ঘটিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন কুমিল্লা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ‘ধর্মকে ব্যবহার করে যারা সহিংসতা’ সৃষ্টি করছে, তাদের অবশ্যই খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক সাজা দেওয়া হবে।

শেখ হাসিনা দুর্গাপূজা মণ্ডপে হামলার কড়া নিন্দা করেন। তিনি বলেন, “প্রতিবেশি ভারত আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় সহযোগিতা করেছে। তাদের কথা আমরা সব সময় কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করি।” তিনি আরও বলেন “সেখানেও এমন কিছু যেন না করা হয় যার প্রভাব আমাদের দেশে এসে পড়ে। আর আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর আঘাত আসে,”।

Bangladesh: দুর্গামণ্ডপ ভাঙচুরের ঘটনায় দোষীরা শাস্তি পাবেই জানালেন শেখ হাসিনা

Sheikh Hasina

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে দুর্গামণ্ডপে হামলার ঘটনায় দোষী কেউ ছাড় পাবেনা। কুমিল্লায় দুর্গামণ্ডপে হামলার কড়া নিন্দা করে জানালেন শেখ হাসিনা। করোনা সংক্রমণের কারণে ভিডিও কনফারেন্স ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে দুর্গা দর্শন করেন তিনি।

ভিডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বলেন, কুমিল্লার ঘটনার তদন্ত হচ্ছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ‘যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। যে ধর্মের হোক না কেন বিচার করা হবে।’

বাংলাদেশে ধর্মীয় উস্কানিমূলক বার্তা দিয়ে দুর্গাপূজা মণ্ডপে হামলা, ভাঙচুর ও সাম্প্রদায়িক বৈরি পরিবেশ তৈরিতে জড়িতদের চিহ্নিত করতে ভিডিও ও সোশ্যাল সাইটের ফুটেজের সাহায্য নিচ্ছে পুলিশ। উৎসব পরিবেষকে ষড়যন্ত্র করে নষ্ট করায় অন্তত ৪৬ জন ধৃত। তবে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ২৪টি জেলায় বর্ডার গার্ড টহল চলছে।

Sheikh Hasina

বুধবার দিনভর দুর্গাপূজা ভণ্ডুল করে কুমিল্লা ও চাঁদপুরে হামলা চালানো হয় দুর্গামণ্ডপ ও মন্দিরে। সোশ্যাল সাইটে ছড়ানো হয় কুমিল্লায় দুর্গামণ্ডপে মূর্তির নিচে কোরান শরিফ রাখা আছে। এর জেরে হামলা শুরু হয়। হামলা রুখতে পুলিশ গুলি চালায়। কয়েকজন জখম হয়। আর চাঁদপুরে মন্দিরে হামলা রুখতে পুলিশ আরও কঠোর ভূমিকা নেয়। বিবিসি জানাচ্ছে, চার জন মৃত। তারা গুলিবিদ্ধ। গুলি চালানোর বিষয়ে নীরব পুলিশ।

দুটি জেলায় সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে। জানিয়েছেন বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানান, দোষীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। কেউ ছাড় পাবে না। চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মহম্মদ আনোয়ার হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে বলেন, কুমিল্লার ঘটনাটি অবশ্যই উস্কানিমূলক।
বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা রক্ষার্থে দেশব্যাপী বিভিন্ন জেলায় বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে‌। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুর রহমান জানান, প্রয়োজন হলে রাজধানী ঢাকাতেও বিজিবি মোতায়েন করা হবে।

বুধবার দুর্গাপূজার অষ্টমী অনুষ্ঠানের আগে সোশ্যাল সাইটের গুজব ছড়ানো হয়, কুমিল্লায় একটি পূজামণ্ডপে মূর্তির নিচে পবিত্র কোরান শরিফ গ্রন্থ রেখে মুসলমান সম্প্রদায়ের অবমাননা করা হয়েছে। কিছু ছবি দ্রুত ছড়ায় ফেসবুকে। এর পরেই কয়েকটি দুর্গামণ্ডপে হামলা হয়। হামলাকারীদের থামাতে গুলি চালায় পুলিশ। কয়েকজন জখম হন। রক্তাক্ত সেই ছবি দেখে উত্তেজনা আরও বাড়ে। এর কিছু পরেই সোশ্যাল সাইটে স্থানীয় কয়েকজন মুসলিম যুবক পোস্ট করেন, কীভাবে দুর্গামণ্ডপ কে ধর্মীয় ষড়যন্ত্রের নিশানা করা হয়। তাদের পোস্ট থেকে স্পষ্ট হয় একটি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃত এমন ঘটনা ঘটিয়েছে। তদন্তে নেমে কুমিল্লা জেলা পুলিশ জানতে পারে সবই ছিল ধর্মীয় উস্কানি। কুমিল্লার পরিস্থিতি শান্ত হতে না হতেই চাঁদপুর জেলায় শুরু হয় গুজব পোস্ট ঘিরে দুর্গামণ্ডপ ও মন্দিরে হামলা। হামলাকারীদের রুখতে কড়া ভূমিকা নেয় পুলিশ।

বাংলাদেশ ধর্ম মন্ত্রকের জরুরি ঘোষণায় বলা হয়েছে, “কুমিল্লায় পবিত্র কোরআন অবমাননা সংক্রান্ত খবর আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। খবরটি খতিয়ে দেখার জন্য ইতোমধ্যে আমরা স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ প্রদান করেছি। ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে যে কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকুক তাদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।”