আপনি কি তুষারপ্রেমী ? তুষারপাতের আনন্দ মিলবে এই পাঁচটি স্থানেই

Are you a snow lover? The joy of snowfall will be found in these five places

ঠান্ডা পড়তে না পড়তেই বেশির ভাগ মানুষ লেপ-কাঁথা মুড়ি দিয়ে ঘরে থাকতে পছন্দ করেন । কিন্তু পাশাপাশি এমন অনেকেই রয়েছেন যাঁদের একেবারেই কম ঠান্ডায় মন ভরে না । অথচ অনেকেই মনে করেন যে তুষারপাত উপভোগ করার জন্য দেশের বাইরে ব্যয়সাপেক্ষ ভ্রমণের কথা ভাবা ছাড়া গতি নেই। আগাগোড়াই ভুল এই ধারণা ।

শীতকালে দরজার বাইরে পা দিয়েই যাঁরা হারিয়ে যেতে চান বরফের রাজ্যে, তাঁদের জন্য রইল এই দেশেই কিছু মনোরম গন্তব্যের সন্ধান।

পরাশর হ্রদ
হিমালয় পর্বতমালার কাছে শীতকালে বরফ পড়ার দৃশ্য দেখতে চাইলে পরাশর হ্রদ সংলগ্ন এলাকায় যেতে পারেন। হিমাচল প্রদেশের মান্ডি থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে যথেষ্ট উচ্চতায় অবস্থিত এই হ্রদ এবং এইখান থেকে আশেপাশের পর্বতশ্রেণির সৌন্দর্যও হয় দেখার মতো।

তাওয়াং
ষষ্ঠ দালাই লামার জন্মস্থান অরুণাচল প্রদেশের তাওয়াং একটি বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্রও বটে। এই অঞ্চল ঘুরে দেখার সেরা সময় ডিসেম্বর-জানুয়ারি। বিশেষ করে যদি আপনি তুষারপাত উপভোগ করতে চান।

কিন্নর
সিমলা থেকে ২৩৫ কিলোমিটার দূরে এই অঞ্চলের প্রকৃতিক সৌন্দর্য সারা বছরই পর্যটকদের সারা পৃথিবী থেকে টেনে আনে। শীতকালে তো বটেই, এমনকি গ্রীষ্মকালেও এই এলাকায় পর্বতশৃঙ্গে বরফের দেখা মিলবে।

গুলমার্গ
গুলমার্গ মন্ত্রমুগ্ধ করে দিতে পারে আপনাকে ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে । হিমালয়ের পশ্চিমাংশের পীর পাঞ্জাল পর্বতশ্রেণির কাছে অবস্থিত গুলমার্গে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মাঝেমাঝে থাকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর ডিসেম্বরের পর থেকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা -৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। এই অঞ্চলে বরফের মধ্যে স্কিয়িং করার ভরপুর আনন্দ আপনার অভিজ্ঞতা স্মরণীয় করে রাখতে পারে।

আলমোড়া
উত্তরাখণ্ডের একটি সেনাছাউনিপ্রধান শহর আলমোড়া। অভিজ্ঞ মানুষজন বলেন এই অঞ্চল থেকে নাকি শীতকালে তুষারাবৃত হিমালয়ের অনন্য এক রূপ দেখা যায়। পাইন এবং ওক গাছ দিয়ে ঘেরা এই শহর সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্রের জন্য বিখ্যাত। চিতুই এবং নন্দাদেবীর মতো মন্দিরগুলি আলমোড়ার বিখ্যাত পর্যটনকেন্দ্র।

ধুর মশাই চায়নায় হায়না থাকে না ! ওখানে বাঘ নাচে

News Desk: শীতে কাঁপছে চিন দেশ। তুষারে ঢেকে থাকা চিনের বিস্তির্ণ এলাকা। চিনের শীত কেমন? প্রবল ঠান্ডায় জনজীবন কুঁকড়ে আছে। তাবলে বাঘেরা গা গরম করবে না নাকি! সেরকমই একটি ছবি নিয়ে দুনিয়া জুড়ে হই হই।

চিনা সংবাদমাধ্যম ‘China Daily’ প্রকাশ করেছে পূর্ব চিনের রঙ্গচেঙ্গ বন্যপ্রাণ পার্কের ছবি। সেখানে তুষার ঢাকা সবকিছু। ওয়াইল্ড লাইফ পার্কের চসমা বাঁদর, পান্ডারা যেমন বরফ নিয়ে মত্ত। তেমনই ডোরাকাটা বাঘেরা মেতে রয়েছে।

দুটি চিনা বাঘ বরফের মধ্যে নাচছে। চিনা ওরফে ডোরাকাটা রয়েল বেঙ্গলের এমন নৃত্যশৈলীর ছবি দেখে দুনিয়া জুড়ে চলছে আলোচনা। বাঘ কি নাচে নাকি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন,এটি দুটি বাঘের খেলা। কোনও নাচানাচির ব্যাপার নয়। বরফের মাঝে বাঘ দুটো খেলছে। এদের ভঙ্গীতে নাচের মতো দৃশ্য তৈরি হয়েছে।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর, কিছু এলাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্যভাব। তবে কড়া শাসনের ঘেরাটোপে সেসব এলাকার খবর ঠিক মতো আসছে না। সেই সঙ্গে ছড়িয়েছে করোনা। হু হু করে বাড়তে থাকা সংক্রমণের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ গৃহবন্দি। লকডাউন চলছে বেশ কিছু শহরের।

Bhutan: করোনা নয় প্রবল তুষারপাতে ঘরবন্দি ভুটানি জীবন, Work From Home চালু

News Desk: বাড়ি থেকে কাজ করুন। আসতে হবেনা অফিসে। এমনই নির্দেশ দিয়েছে ভুটান সরকার। বুধবার দেশটির বেশিরভাগ জেলা ও রাজধানী থিম্পু বরফে ঢেকে গেছে। মরশুমের প্রথম তুষারপাতে স্তব্ধ জীবন। পাহাড়ি পথগুলি বিচ্ছিন্ন। পরিস্থিতি বুঝে ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালুর নির্দেশ চালু হয়েছে ড্রাগনভূমিতে ( বজ্র ড্রাগন দেশ)।

করোনার জন্য নয় তুষারপাতের কারণেই এই সিদ্ধান্ত। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দফতর জানাচ্ছে, প্রবল তুষারপাতে পশ্চিম ও মধ্য ভুটানের সর্বত্র যাতায়াত প্রায় বন্ধ। এই অবস্থায় প্রযুক্তি নির্ভরতা বাড়িয়ে ঘরে থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। এই খবর জানাচ্ছে ভুটানের জাতীয় সংবাদ সংস্থা বিবিএস।

তবে জরুরি পরিষেবা যেমন চিকিৎসা, বিপর্যয় মোকাবিলা, প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে যারা নিযুক্ত তাদের বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে পরিষেবা দিতে বাইরে বের হওয়ারও নির্দেশ আছে। হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসকদের সংখ্যা যথেষ্ট থাকার নির্দেশ জারি হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য সরকারি পরিষেবার ক্ষেত্রে চালু হয়েছে ওয়ার্ক ফ্রম হোম।

ভুটানের সংবাদ সংস্থার খবর, গত ২৪ ঘণ্টা ধরে তাপমাত্রা হিমাঙ্কেের নিচে। এর ফলে থিম্পু সহ অন্যান্য এলাকায় ভারি তুষারপাত হতে শুরু করেছে। তুষারপাতের কারণে নেপাল, ভারতের সিকিম , অরুণাচল প্রদেশ, পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার বিভিন্ন অংশ বিচ্ছিন্ন।

এদিকে বিশ্বজুডে আতঙ্কের মেঘ ঘনিয়েছে ফের। আবার আসছে সে আসছে…। ফের বন্ধ হবে বিশ্বজোড়া যাতায়াত? হাজার হাজার বিমানের উড়ান বাতিল হতে শুরু করেছে। ঘাড়ের কাছে লাল চোখ নিয়ে হাজির ওমিক্রন-করোনার নবতম ভ্যারিয়েন্ট। করোনা সংক্রমণের গতি দেখে ফের ঘরবন্দি জীবনের প্রস্তুতি শুরু হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

Darjeeling: বরফে ঢাকা দার্জিলিং ঘুরতে পুলিশের বিশেষ নির্দেশ

Darjeeling: Special instructions from the police to visit the snow-covered Darjeeling

News Desk: শীতের মরশুমে বরফে ঢাকা দার্জিলিং দেখতে অনেক পর্যটকই ঘুরতে চলে যান। এই মুহূর্তেও দার্জিলিঙের ছবিটা সেরকমই। উত্তরবঙ্গের এই জেলার একাধিক এলাকা বরফে ঢেকে রয়েছে। আর এই কারণেই পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে নির্দেশিকা জারি করল দার্জিলিং পুলিশ।

দার্জিলিঙের আবহাওয়া এই সময় প্রতিকূল। বরফের কারণে সেখানকার রাস্তাগুলি পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে। যানবাহনের গতিও শ্লথ হয়ে পড়েছে। নির্দেশিকায় বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া পর্যটকদের বাইরে বেরোতে মানা করা হয়েছে।

বরফে ঢাকা রাস্তায় গাড়ি চালানোর জন্য গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। বাঁকের কাছে ধীর গতিতে যাওয়া, হেডলাইট জ্বালিয়ে রাখা, সামনে ও পিছনের গাড়ির সাথে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। এছাড়া, কোনো রকম সমস্যার মুখোমুখি হলে ০৩৫৪২২৫২০৫৭ নম্বরে ফোন করে কন্ট্রোল রুমের সাথে যোগাযোগ করা যাবে।

টাইগার হিল, সান্দাকফু, বাতাসিয়ালুপ তুষারপাতের কারণে সম্পূর্ণ বরফে ঢাকা। যেসকল পর্যটকরা এইসমস্ত এলাকায় আটকে পড়েছে তাদের ঘরের ভিতরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে তাদের কাছে সাহায্যের বার্তাও পাঠানো হয়েছে।

Sikkim: তুষারবন্দি হাজার পর্যটক উদ্ধার, সাহায্যে সেনা

News Desk: উদ্বেগের অবসান হয়েছে। সিকিমে তুষারপাতে কারণে আটকে পড়া পর্যটকদের অবশেষে নিরাপদ স্থানে সরানোর সংবাদ এসেছে। সিকিম সরকার জানাচ্ছে, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় হাজারেরও বেশি পর্যটক নেমে আসতে পেরেছেন।

শীতের মরশুমে সিকিমে পর্যটনের জোয়ার আসে। বিখ্যাত নাথু লা সীমাম্ত দেখতে পশ্চিমবঙ্গ সহ বিভিন্ন রাজ্যের পর্যটকরা এই রাজ্যে আসেন। এবারও তেমনই হয়েছে।

শনিবার থেকে ভারি তুষারপাত হয় সিকিমে। তুষারপাতের কারণে রাজধানী গ্যাংটকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলির সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

চিন সীমান্তের কাছে ছাঙ্গু হ্রদ দেখতে গিয়ে তুষারপাতের জেরে আটকে পড়েন বহু পর্যটক। এই পরিস্থিতিতে সিকিম সরকার শুরু করে জরুরিকালীন উদ্ধার কাজ। রবিবার বিকেলের মধ্যে পর্যটকদের নিরাপদ এমনই জানানো হয়।

সিকিম রাজ্য প্রশাসন সূত্রের খবর, শুক্রবার থেকেই আবহাওয়া খারাপ থাকার কারণে নাথু লা যাওয়ার অনুমতি দেয়নি সিকিম প্রশাসন। এর জেরে ছাঙ্গু হ্রদ দেখতে বাড়তি ভিড় হয়েছিল পর্যটকদের।  হঠাৎই আবহাওয়া ক্রমাগত খারাপ হতে থাকে। তুষারপাতে ছাঙ্গুতেই আটকে পড়েন পর্যটকেরা। পরে তাঁদের উদ্ধার করে নিজেদের ছাউনিতে নিয়ে যায় সেনাবাহিনী।

সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার পর্যটকদের সবরকম সাহায্য করবে। তাদের নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই।

Meghalaya: তুষারে ঢাকল শিলং, আসছে স্যান্টা বুড়ো

News Desk: দার্জিলিংয়ে এখনও বরফ পড়েনি। তবে সিকিমে পড়েছে। এবার পাল্লা দিল মেঘালয়। রাজধানী শহর শিলং জুড়ে বরফের চাদর। আসন্ন বড়দিনের আগে এমন পরিস্থিতিতে খুশি উত্তর পূর্বের এই রাজ্যবাসী।

বুধবার বৃষ্টির সঙ্গে গুঁড়িগুঁড়ি তুষারপাত হয় শিলং শহরে। জমজমাট পুলিশ বাজারের সর্বত্র বরফের প্রলেপ পড়েছে। এছাড়া শহরের সর্বত্র তুষারে ঢেকেছে রাস্তা,বাড়ির উঠোন।

আসছে স্যান্টা বুড়ো। বড়দিনের আগেই তার আগমণ উপলক্ষে জমজমাট উত্তর পূর্বের মেঘালয়। রাজ্যটিতে সংখ্যাগুরু খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীরা। ফলে এখানে বড়দিনের উৎসবের আলাদা আমেজ আসে।

পর্যটন নগরী শিলং। কোভিড বিধি মেনেই মেঘালয়ে ঢুকতে পারছেন পর্যটকরা। আছে ওমিক্রন আতঙ্ক। তবে সবকিছু দূরে রেখে আপাতত তুষারপাতের আনন্দে মাতোয়ারা শিলংবাসী।

রাজ্যের পূর্ব ও পশ্চিম খাসি হিলসের বিভিন্ন জায়গায় হয়েছে তুষারপাত।