Sourav Ganguly: দক্ষিণ আফ্রিকার পরিস্থিতির ওপর নজর চলছে: সৌরভ

Sourav Ganguly

Sports desk: নিউজিল্যান্ড এখন ভারত সফরে। দুই টেস্ট ম্যাচের প্রথমটি কানপুরে ড্র হয়েছে,দ্বিতীয় টেস্ট মুম্বইতে ডিসেম্বরের ৩ তারিখ থেকে শুরু হচ্ছে। এরপরেই নব নিযুক্ত টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়ের ভারত দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে পাড়ি জমাবে।

প্রোটিয়ার্সদের বিরুদ্ধে চার টেস্ট,দুটি ওডিআই এবং চারটি টি টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচ রয়েছে। টিম ইন্ডিয়া সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচ খেলবে ১৭ ডিসেম্বর জোহানসবার্গে।

এই প্রসঙ্গে বিসিসিআই প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের (Sourav Ganguly) বয়ান সামনে এসেছে। সৌরভ বলেছেন,আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আছে, দক্ষিণ আফ্রিকা সফর এখন থেকেই চলছে।

মঙ্গলবার বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন যে ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর সূচীতে রয়েছে এবং তারা কোভিড-১৯’র নয়া প্রজাতির বাড়বাড়ন্ত নিয়ে পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে। ইতিমধ্যেই ভারতীয় ‘এ’ দল দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে খেলছে। কোভিডের নতুন প্রজাতির সন্ধান মেলায় ভারতীয় ‘এ’ টিমকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিও ইতিমধ্যেই উঠেছে ভারতের ক্রিকেট মহলে।

বোর্ড প্রেসিডেন্টের বয়ান,”এখন পর্যন্ত সফর নির্দিষ্ট সময় হিসাবে চলছে। আমাদের এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আছে। প্রথম টেস্ট ১৭ ডিসেম্বর থেকে নির্ধারিত রয়েছে। আমরা এটি নিয়ে চিন্তাভাবনা করব।”

ভারত মুম্বইতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ টেস্ট খেলবে এবং সেখান থেকে ৮ বা ৯ ডিসেম্বর বিমানে জোহানেসবার্গের উদ্দেশ্যে রওনা হবে।

সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় পরিষ্কার জানিয়েছেন,”খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্য সবসময়ই বিসিসিআইয়ের প্রথম অগ্রাধিকার, আমরা এর জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করব। আমরা দেখব সামনের দিনগুলিতে কী হয়।”

রবি শাস্ত্রীর জমানার পর এখন টিম ইন্ডিয়ার কম্যান্ড হেডকোচ রাহুল দ্রাবিড়ের হাতে। দলের নতুন স্পিরিট, নতুন লক্ষ্য সবকিছুই আলাদা। কিউইদের বিরুদ্ধে হোম সিরিজের পর রাহুল দ্রাবিড় হেড কোচ হিসেবে প্রথম বিদেশ সফর, দক্ষিণ আফ্রিকায়। বলা চলে রাহুলের দ্রাবিড়ের কাছে এটা acid টেস্ট। কিন্তু রাহুল দ্রাবিড়ের ক্রিকেট দর্শন হল, “কোন বিষয়কে সমস্যা হিসেবে না দেখে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নেওয়া।” টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড় প্রোটিয়ার্সদের বিরুদ্ধে ড্রেসিংরুমে বসে কিভাবে নতুন এই চ্যালেঞ্জেকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে ক্লিনশিট করে তা দেখার অধীর অপেক্ষায় ক্রিকেট ভক্তরা।

Omicron আতঙ্ক: দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা ৫০০ জন নাগরিকের কোন খোঁজ নেই

mumbai

নিউজ ডেস্ক, মুম্বই: ওমিক্রনের (Omicron) আবহে আতঙ্ক আরব সাগর তীরে৷ গত ১৫ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকা (south africa) থেকে মুম্বইয়ে বেড়াতে এসেছেন এক হাজারের মত পর্যটক। কিন্তু বৃহনমুম্বই কর্পোরেশন (grater municipal corporation) মাত্র ৪৬৬ জন দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিকের খোঁজ পেয়েছে।

বাকিদের কোনও খোঁজ নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা ওই ৪৬৬ জনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ১০০ জনের সোয়াব (soab test) পরীক্ষা হয়েছে। বাকি ৫০০-রও বেশি দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিককে খুঁজে বের করতে বৃহনমুম্বই কর্পোরেশন আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনার নতুন স্ট্রেন ওমিক্রনের (omicron)৷ সন্ধান মিলেছে। উদ্বেগজনক ভাইরাস ওমিক্রন ঠেকাতেই পুরসভার এই বাড়তি উদ্যোগ।

মঙ্গলবার বৃহনমুম্বই মিউনিসিপাল কর্পোরেশনের অতিরিক্ত কমিশনার সুরেশ কাকানি বলেছেন, মুম্বই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানিয়েছেন গত ১৫ দিনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় ১০০০ পর্যটক মুম্বই এসেছেন। যাদের মধ্যে ৪৬৬ জন পর্যটকের নাম ঠিকানা-সহ বিস্তারিত বিবরণ পুরসভাকে জানানো হয়েছে। কিন্তু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে বাকিদের কোনও তথ্যই নেই। কাকানি আরও বলেছেন, ৪৬৬ জনের মধ্যে ১০০ জনের সোয়াব পরীক্ষা করা হয়েছে।

বুধবার সেই পরীক্ষার ফলাফল জানা যাবে। ওই ফলাফল আসলেই বোঝা যাবে আর ওই পর্যটকদের মধ্যে কেউ করোনা পজিটিভ আছেন কিনা। পরীক্ষায় যদি কোনও করোনা পজিটিভ পর্যটকের খোঁজ মেলে তবে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার নিখোঁজ নাগরিকদের মধ্যে যদি কেউ করেনা পজিটিভ বিশেষ করে ওমিক্রন ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে সেটা মুম্বই তথা দেশের পক্ষে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। স্বাভাবিকভাবেই মুম্বই পুরসভার উদ্বেগ বাড়িয়েছে নিখোঁজ থাকার ৫০০-রও বেশি দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিক। কারণ তাঁদের মধ্যে যদি কেউ ওমিক্রন আক্রান্ত হয়ে থাকেন তবে সহজেই সেটা এ দেশেও ছড়িয়ে পড়বে।

কাকানি আরও বলেছেন, আফ্রিকা থেকে আসা ওই সমস্ত পর্যটকের যদি কেউ করোনা পজিটিভ হয় তবে তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য ইতিমধ্যেই সেভেন হিল হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওই হাসপাতালের কোরেন্টাইন সেন্টারের পরিকাঠামো নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যেই সেখানে অক্সিজেন প্ল্যান্ট বসানো হবে। আক্রান্তদের চিকিৎসা ও ২৪ ঘণ্টার নজরদারির জন্য থাকবেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। আপাতত সেভেন হিল হাসপাতালে দুটি ওয়ার্ড চালু করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ওয়ার্ড সংখ্যা আরও বাড়ান হবে।

Covid 19: আতঙ্কের নতুন নাম omicron কেমন ‘খতরনাক’, জেনে নিন

omicron is dangerous

News Desk: বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের কারণ,করোনাভাইরাসের নতুন ভ্যারিয়েন্ট – ওমিক্রন (omicron)। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে সতর্কতা নিতেই হবে।

করোনার সর্বশেষ ‌এই ভ্যারিয়েন্ট কোভিড জীবাণুর সবচেয়ে বেশি মিউটেট হওয়া সংস্করণ। এর মিউেটশনের তালিকা এত দীর্ঘ যে কিছু বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী একে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। বিবিসি জানাচ্ছে এই খবর। ওমিক্রন তার যাত্রা শুরু করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে।ধারণা করা হচ্ছে এটি অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়বে।

Experts,  suggestions,  central government, Omicron

বিশ্বজুড়ে মূলত তিনটি প্রশ্ন,
(১)ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্ট কত দ্রুত ছড়াতে পারবে?
(২)ভ্যাকসিনের সুরক্ষাকে ভেদ করতে পারবে?
(৩)এর বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে?

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) নতুন এই করোনা ভ্যারিয়েন্টের নাম দিয়েছে ওমিক্রন। বিবিসি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ভ্যারিয়েন্টটি তার রূপ পরিবর্তন করেছে অনেকভাবে।

দক্ষিণ আফ্রিকার সেন্টার ফর এপিডেমিক রেসপন্স অ্যান্ড ইনোভেশনের পরিচালক অধ্যাপক টুলিও ডি অলিভিয়েরা বলছেন, এই ভ্যারিয়েন্টটি অনেক অস্বাভাবিকভাবে মিউটেট করেছে এবং এখন পর্যন্ত অন্য যেসব ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়েছে তার চেয়ে এটি অনেকখানিই আলাদা। তিনি বলেছেন, বিবর্তনের জন্য এটা বড় বড় ধাপ পার হয়েছে। কোভিড জীবাণুতে আমরা সাধারণত যে ধরণের মিউটেশন দেখি এর মধ্যে সেটা অনেক বেশি।

বিবিসি জানাচ্ছে, কোভিডের অনেক ভ্যারিয়েন্ট গবেষণাগারে বিপজ্জনক বলে মনে হলেও পরে তা ভুল প্রমাণিত হয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে বেটা ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে সবাই দুর্ভাবনায় ছিলেন। কারণ মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেদ করতে এর কোনও জুড়ি ছিল না। কিন্তু পরে দেখা গেছে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এর চেয়েও দ্রুত গতিতে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেটা ভ্যারিয়েন্ট শুধু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ভেদ করতে পারতো। আর কিছু না। ডেল্টার সংক্রমণ ক্ষমতা ছিল বেশি। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, ওমিক্রন দুই দিক থেকেই সমান পারদর্শী।

Omicron: দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা যাত্রীদের কোয়ারেন্টাইনে থাকা বাধ্যতামূলক

Omicron: Passengers from South Africa must stay in quarantine

New Desk, New Delhi: দক্ষিণ আফ্রিকায় (south africa) করোনার নতুন প্রজাতি ওমিক্রনের (Omicron) খোঁজ মিলেছে সবেমাত্র। কিন্তু এই ভাইরাস এতটাই সংক্রামক ও মারাত্মক যে ওমিক্রনকে (omicron) প্রতিরোধ করতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়ে উঠেছে গোটা বিশ্ব।

করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল মহারাষ্ট্র (maharastra)। তাই এই রাজ্যে ওমিক্রনকে ঠেকাতে তৎপরতাও সবচেয়ে বেশি। মুম্বইয়ের মেয়র কিশোরী পেডনেকর (kishore pednekar) জানিয়েছেন করোনার নতুন ভাইরাসের খবরে মুম্বইয়ের বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তাই এই ভাইরাসকে ঠেকাতে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আগত যাত্রীদের কোয়ারান্টাইনে যাওয়া বাধ্যতামূলক করা হল।

শুধু তাই নয়, মুম্বই বিমানবন্দরে নামার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আগত যাত্রীদের জেনোম পরীক্ষা করা হবে। একই সঙ্গে বিমানবন্দর ব্যবহারকারীদের সকলকে মাস্ক পরা, দূরত্ব বৃদ্ধি মেনে চলার মত সাধারণ করোনা সতর্কতা বিধিগুলি মেনে চলতে পরামর্শ দিয়েছেন মেয়র।

তবে শুধু মুম্বই নয়, নতুন ভেরিয়েন্টকে রুখতে একই রকমভাবে সক্রিয় হয়েছে গুজরাত সরকারও। গুজরাত সরকার জানিয়েছে, ব্রিটেন, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, ইউরোপ, বাংলাদেশ, চিন নিউজিল্যান্ড এবং জিম্বাবোয়ে থেকে যে সমস্ত যাত্রীরা ফিরবেন তাঁদের বিমানবন্দরে আরটি-পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক। কারণ তাঁরা কোন ঝুঁকি নিতে চান না। করোনার নতুন প্রজাতি যাতে কোনওভাবেই রাজ্যে ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্যই এই সিদ্ধান্ত।

গুজরাত, মুম্বই, পাঞ্জাবের বহু ছাত্রছাত্রী এবং কর্মসূত্রে অনেকেই দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে থাকেন। বড়দিন বা ক্রিসমাসের ছুটিতে ওই সমস্ত পড়ুয়া এবং কর্মরতরা অনেকেই দেশে ফিরতে শুরু করেছেন। ডিসেম্বর মাস পড়লে দেশে ফেরার এই সংখ্যাটা আরও বাড়বে। ওই সমস্ত মানুষের মাধ্যমেই ওমিক্রন এদেশে ঢুকে যাওয়ার একটা সম্ভাবনা রয়েছে। সে কারণেই ওমিক্রনের হাত থেকে বাঁচতে এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে মুম্বই ও গুজরাত সরকার। করোনা ভাইরাস সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছিল মুম্বইয়ে। বাদ যায়নি গুজরাতও।

সে কারণেই এই দুই রাজ্য ওমিক্রনকে রুখতে প্রথমেই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মুম্বইয়ের মেয়র কিশোরী পেডনেকর জানিয়েছেন, তাঁরা কোনওভাবেই ঝুঁকি নিতে রাজি নন। তাই তাঁরা আগে থাকতেই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এই নতুন প্রযুক্তির ভাইরাসকে রুখতে ইতিমধ্যেই জরুরি বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই পথে হেঁটে জরুরি বৈঠক ডেকেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও।

Covid 19: করোনার নতুন মুখোশ ওমিক্রন ভয়ে স্থগিত WTO সম্মেলন

Covid 19

News Desk: করোনাভাইরাসের (Covid 19) নতুন ধরণ ধরা পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। এর নাম ওমিক্রন। এই ধরণটি ইন্ডিয়ান ভ্যারিয়েন্ট বা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের চেয়ে বিপজ্জনক। ফলে বাতিল হয়ে গেল বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক।

আগামী সপ্তাহে হতে চলা সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন শেষ মুহূর্তে স্থগিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর এই সম্মেলন শুরুর কথা ছিল।

ডব্লিউটিএর মহাপরিচালক নোজি ওকোনজো ইওয়েল বলেন, দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া খুব সহজ বিষয় ছিল না। কিন্তু সংস্থার মহাপরিচালক হিসেবে সব অংশগ্রহণকারী, মন্ত্রী, প্রতিনিধিদের স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তাই আমার কাছে প্রধান অগ্রাধিকার।

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’কে ইতোমধ্যে ‘উদ্বেগজনক’ বলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)। ‘ওমিক্রন’কে এখন পর্যন্ত পাওয়া করোনার ভয়াবহ ধরনগুলোর মধ্যে একটি হিসেবে ধরা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে করোনার এই ধরণটির নাম রাখা হয়েছিল বি.১.১.৫২৯।

দক্ষিণ আফ্রিকা ছাড়াও বতসোয়ানা, ইজরায়েল ও হংকং, বেলজিয়ামে ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলের কয়েকটি দেশের ওপর ফ্লাইট চলাচলে জরুরিভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলি। নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ব্রিটেন।

করোনা ভাইরাস: ভারত, ব্রাজিল, ইউকে-দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্যারিয়েন্ট আসলে কী?

ডিজিটাল ডেস্ক: সারা বিশ্বের নজর এখন করোনাভাইরাসের নানা মিউটেশনের দিকে৷ কোভিডের নতুন নতুন ধরন দ্রুত ছড়াচ্ছে৷ একই সঙ্গে বেশি সংখ্যায় লোক এখন সংক্রমিত হচ্ছে৷ ভ্যাকসিনকে ঠেকিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও এসব ভ্যারিয়েন্টের বেশি।

মিউটেশন কেন ঘটে?
বেঁচে থাকা এবং বংশবৃদ্ধির জন্য সব ভাইরাসের দেহেই পরিবর্তন ঘটে। বেশিরভাগ সময়েই এসব পরিবর্তন খুবই সূক্ষ্ম। কোন কোন সময়ে এতে ভাইরাসেরই ক্ষতি হয়। তবে অন্যগুলোতে যখন বড় ধরনের মিউটেশন ঘটে তখন রোগটা আরও বেশি সংক্রামক রূপ নেয় এবং রোগীর ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়৷ সংক্রমণ কিংবা ভ্যাকসিনের মাধ্যমে যখন মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যায়৷ ভাইরাস তখন মিউটেশনের মাধ্যমে নিজেকে পরিবর্তন করে সেই প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে ফেলে। কোন ভাইরাস কতখানি বিপজ্জনক, তা জানতে বিজ্ঞানীরা ভাইরাসের জেনেটিক কোড, পরীক্ষাগারে তার আচরণ এবং মানুষের মধ্যে সংক্রমণের দিকটি লক্ষ্য করেন।

নানান ভ্যারিয়েন্ট সম্পর্কে কী জানি?
সমগ্র বিশ্বে করোনাভাইরাসের হাজার হাজার ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু ইউকে, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ব্রাজিল ভ্যারিয়েন্টকে ”উদ্বেগজনক ভ্যারিয়েন্ট” বলে মনে করা হয়। ইউকে বা কেন্ট ভ্যারিয়েন্ট (যার আরেক নাম B.1.1.7) প্রথম দেখা গিয়েছে ব্রিটেনে। পরে ৫০টিরও বেশি দেশে এই ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েছে। এটি এখনও মিউটেট করছে। ব্রাজিল ভ্যারিয়েন্ট (P.1) ছড়িয়ে পড়েছে শতাধিক দেশে। এর মধ্যে ব্রিটেনও রয়েছে৷ এছাড়াও ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ব্রিটেনে ইন্ডিয়া ভ্যারিয়েন্টের (B.1.617 ) দুই শতাধিক কেস ধরা পড়েছে। তবে ভারতে কোভিড-১৯ মহামারির বর্তমান ঢেউয়ের সঙ্গে এর কোন সম্পর্ক নেই বলেই বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

নতুন ভ্যারিয়েন্ট কি সত্যিই বেশি বিপজ্জনক?
যারা এসব ভ্যারিয়েন্টে সংক্রমিত হয়েছেন, তাদের বেশিরভাগের অসুস্থতার মাত্রা অনেক বেশি এমন কোন প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। করোনার মূল রূপের ক্ষেত্রে যেমনটা দেখা গিয়েছে, বয়স্ক এবং শারীরিক সমস্যা যাদের প্রকট এসব ভ্যারিয়েন্টেও তারাই বেশি ঝুঁকির মুখে। কিন্তু ভ্যাকসিন নেওয়া হয়নি এমন জনগোষ্ঠীর জন্য বেশি সংক্রামক কোন ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটলে রোগী মৃত্যুর ঘটনাও ঘটবে বেশি। কিছু গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, ইউকে ভ্যারিয়েন্টে ব্যক্তি-বিশেষের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি ৩০% বেশি। তবে এর পক্ষে প্রমাণ খুব একটা জোরাল নয়। কিন্তু করোনার সব ধরনের স্ট্রেইনের ক্ষেত্রেই ডাক্তারদের উপদেশ একই- ভাল করে হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, ফেস মাস্ক ব্যবহার করা এবং ঘরের মধ্যে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করা।

ইউকে, দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল কিংবা ইন্ডিয়ান – সবগুলো ভ্যারিয়েন্টই নিজের দেহের স্পাইক প্রোটিনে পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এটি ভাইরাসের একটি অংশ যেটি দিয়ে সে মানুষের দেহকোষের ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে। । N501Y নামে পরিচিত একটি মিউটেশনে দেখা গিয়েছে, দেহকোষে সংক্রমণ এবং বিস্তারের ক্ষেত্রে এটি ভাইরাসকে বিশেষ সুবিধে করে দেয়। কোন কোন বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ইউকে/কেন্ট ভ্যারিয়েন্টটি ৭০% বেশি সংক্রামক৷ যদিও পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ড বলছে, এটি ৩০%-৫০% সংক্রামক। দক্ষিণ আফ্রিকা ও ব্রাজিল ভ্যারিয়েন্টেও E484K নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিউটেশন ঘটেছে। এর ফলে ভাইরাস অ্যান্টিবডির হাত থেকে পালাতে পারে। অ্যান্টিবডি দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইউকে ভ্যারিয়েন্টের মধ্যে সম্প্রতি এধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা বলছেন। ইন্ডিয়া ভ্যারিয়েন্টেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিউটেশন ঘটেছে৷ যার ফলে এটা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেদ করতে পারে। সেজন্যই বিজ্ঞানীরা এখন এটি নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে গবেষণা চালাচ্ছেন।

নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে ভ্যাকসিন কি কাজ করতে পারবে?
এখন যেসব ভ্যাকসিন চালু রয়েছে, সেগুলো তৈরি করা হয়েছিল করোনার মূল ধরনটির চিকিৎসার জন্য। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধেও এগুলো কাজ করবে, তবে তার কার্যকারিতা হবে কম। একটি গবেষণা থেকে জানা যাচ্ছে, আগে যাদের কোভিড হয়েছে এবং কিছুটা ইমিউনিটি রয়েছে, ব্রাজিলিয়ান ভ্যারিয়েন্ট সম্ভবত তাদের দেহের অ্যান্টিবডিকে ঠেকিয়ে দিতে পারে। ফাইজারের ভ্যাকসিনের ওপর গবেষণাগারের প্রাথমিক তথ্য এবং রোগীদের তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে, এটি নতুন ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কাজ করে, তবে কার্যকারিতা কম। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ডেটা থেকে জানা যাচ্ছে, এটি ইউকে/কেন্ট ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধেও একইভাবে কার্যকর। তবে দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে এটি কম সুরক্ষা দেয়। কিছু প্রাথমিক ফলাফল থেকে জানা যাচ্ছে, মডার্না ভ্যাকসিন দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে কার্যকর। তবে এর ইমিউন রেসপন্স দুর্বল এবং স্বল্পস্থায়ী।

নতুন ভ্যারিয়েন্টের জন্য কি বুস্টার টিকা লাগবে?
ভবিষ্যতের করোনা ভ্যারিয়েন্টগুলোর জন্য টিকা তৈরি করতে ব্রিটিশ সরকার কিওরভ্যাক নামে একটি ওষুধ কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করেছে। পাঁচ কোটি ডোজ টিকার আগাম অর্ডারও দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে ভ্যারিয়েন্টগুলোতে কী ধরনের পরিবর্তন ঘটবে তার ওপর নির্ভর করবে বয়োবৃদ্ধ এবং প্রকট শারীরিক সমস্যার শিকার ব্যক্তিদের চলতি বছরের শেষ নাগাদ এধরনের বুস্টার টিকার প্রয়োজন হবে কিনা।
সবার নজর এখন করোনাভাইরাসের মিউটেশনের দিকে – কোভিড-১৯য়ের নতুন নতুন ধরন যেমন দ্রুত ছড়ায়, তেমনি বেশি সংখ্যায় লোক এখন এগুলোতে সংক্রমিত হচ্ছে, এবং ভ্যাকসিনকে ঠেকিয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও এসব ভ্যারিয়েন্টের বেশি।