Pollution: দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি আমলাদের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ আদালতের

Pollution

News Desk: দূষণ (Pollution) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি আমলাদের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রামান্নার (nv ramanna) নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে দূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছে।

বুধবার মামলার শুনানিতে বেঞ্চ বলে, দিল্লির বাতাসের গুণমান কিছুটা ভাল হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা ঠিক নয়। দিল্লির (delhi) বাতাসে বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয়েছে বলে আদৌ মনে হচ্ছে না। বরং আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দিনে দিল্লির বাতাসের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তাই দূষণ (pollution) নিয়ন্ত্রণে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। দূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সকলেই চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু সরকারি আমলারা কী করছে সেটা জানা দরকার।

দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদেরও তো কিছু করা উচিত। ওনারা শুধু কৃষকদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলবেন এটা চলতে পারে না। কৃষকরা কেন ফসলের গোড়া পোড়াচ্ছেন সেটা তাঁদের কাছে গিয়ে দেখতে হবে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

nv ramana

এরই মধ্যে জানা গিয়েছে দিল্লির বাতাসের পরিস্থিতি গত কয়েক দিনের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে। যে কারণে দিল্লির বাতাসের গুণমান অতিখারাপ পর্যায়ে থেকে খারাপে নেমে এসেছে। কিন্তু আদালত এদিন স্পষ্ট জানায়, এতে আত্মসন্তুষ্টির কোনও জায়গা নেই। দিল্লির বাতাসকে আমাদের যথাসাধ্য বিশুদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এদিন আদালতে বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র।

ইতিমধ্যে একাধিক দীর্ঘকালীন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, কয়েকদিনের মধ্যেই বাতাসের গুণমানের উন্নতি হবে। সরকার পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। সাত দিন দিন বাদে বাতাসের গুণমানের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। সলিসিটর জেনারেলের ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ পাল্টা জানতে চায়, সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি খারাপ হলে কি হবে? দিল্লির দূষণ কমাতে প্রয়োজনে আরও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করতে হতেই পারে।

একইসঙ্গে বেঞ্চ এদিন কেন্দ্র-দিল্লি সরকারের কাছে জানতে চায়, দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে। প্রধান বিচারপতি রামান্না বলেন, দূষণ কিছুটা কমলেও এই মামলাটি বন্ধ হবে না। বরং এক থেকে দু’দিন অন্তর এই মামলার নিয়মিত শুনানি চলবে। একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে ছোটখাটো কিছু পদক্ষেপ করে কোনও কাজ হবে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি স্থায়ী বন্দোবস্ত করা দরকার। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদী কোনও পরিকল্পনা নিয়ে ৭ দিনে দিল্লির বায়ুর উপর তার কী প্রভাব পড়ছে সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। দিল্লি ও কেন্দ্র দুই সরকারই দূষণের জন্য কৃষকদের দায়ী করেছে।

এ বিষয়ে শীর্ষ আদালত এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করে। শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, কৃষকরা কেন ফসলের গোড়া পোড়াচ্ছে সে ব্যাপারে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সরকারি আমলাদের যেতে হবে কৃষকদের কাছে। এই সমস্যা যাতে দূর করা যায় সে ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে। শুধু কৃষকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে নিস্তার মিলবে না। সরকারি আমলাদের উচিত ঘরে বসে না থেকে কৃষকদের কাছে মাঠে চলে যাওয়া। ফসলের গোড়া না পুড়িয়ে কৃষকরা কিভাবে সেগুলি নষ্ট করবেন সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া।

MLA Mukul: দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে স্পিকারকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

mukul-roy

নিউজ ডেস্ক: মুকুল রায় আদৌ বিধায়ক পদে থাকতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়কে নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। উল্লেখ্য, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মুকুল রায় বিজেপির টিকিটে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন।

কিন্তু বিজেপি বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। তবে বিজেপি ছাড়লেও তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেননি। বরং তৃণমূল সরকার তাঁকে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে। মুকুল রায়ের এই নিয়োগের বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করেছিল বিজেপি।

সুপ্রিম কোর্টে এদিন এই সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, মুকুল রায়ের বিধায়ক পদের বৈধতা নিয়ে যত শীঘ্র সম্ভব রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আগামী বছরের ২২ জানুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানির ঘোষণা করেছে আদালত।

উল্লেখ্য, বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই তৃণমূল ভবনে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়। তৃণমূলে যোগ দিলেও মুকুলকে বিজেপি সদস্য হিসাবে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান করার সিদ্ধান্ত নেয় মমতা সরকার। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানায় বিজেপি। কারণ পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির পদটি বিরোধীদের প্রাপ্য। গেরুয়া দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিজেপি বিধায়ক হিসেবে মুকুল রায়কে পাবলিক অ্যাকাউন্টস কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করাটা ঠিক নয়।

কারণ তিনি বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাই পিএসসির চেয়ারম্যান পদে তাঁর নিয়োগ অবৈধ বলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি অভিযোগ দায়ের করেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর সঙ্গেই কল্যাণীর বিজেপি বিধায়ক অম্বিকা রায় রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানান। সেই মামলার প্রেক্ষিতে মুকুলের বিষয়ে রাজ্য বিধানসভার স্পিকারকে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছিল হাইকোর্ট। কিন্তু বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যান। তিনি বলেন, বিধানসভার কোনও বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারে না। সেই মামলায় এদিন নতুন এই নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের আদেশের পর বলা যায়, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ আদালতের কাছে বড় ধাক্কা খেলেন।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আগেই বলেছেন, মুকুল রায়ের বিষয়টি নিয়ে যতক্ষণ না চূড়ান্ত ফয়সালা হচ্ছে ততক্ষণ তাঁরা পিছু হঠবেন না। প্রয়োজনে তাঁরা আইনের সাহায্য নেবেন। কারণ এর আগে দিপালী বিশ্বাস যখন দলত্যাগ করেছিলেন সে সময়ে দলবিরোধী আইন কার্যকর করার দাবি করেছিল বাম পরিষদীয় দল। কিন্তু ২৩ টি শুনানির পরেও দলবিরোধী আইন কার্যকর করেনি তৃণমূল সরকার। এরই মধ্যে নতুন নির্বাচন চলে আসে। কিন্তু এক্ষেত্রে তাঁরা বামেদের মতো হাতগুটিয়ে বসে থাকবেন না। তাঁরা আদালতের দ্বারস্থ হবেন। এর আগেও শুভেন্দু মমতাকে হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, তৃণমূল সরকার নিজেদের স্বার্থে দলত্যাগ বিরোধী আইন বাংলায় কার্যকর করেনি। বিরোধী নেতা হিসেবে বলছি, দলবিরোধী আইন কিভাবে কার্যকর করতে হয় সেটা করে দেখাবো।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ জানার পর স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, আদালতের নির্দেশ মেনে তিনি যাবতীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি করার ব্যাপারে তাঁর কোন অনীহা নেই। বরং তিনি চান, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিষয়টির সমাধান করতে।

CBI-ED ডিরেক্টরের মেয়াদ বৃদ্ধির অর্ডিন্যান্সকে চ্যালেঞ্জ

mahua moitra

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: সিবিআই এবং ইডির মেয়াদ বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র (mahua moitra)। নিজের টুইটার হ্যান্ডলে মহুয়া সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানানোর কথা জানিয়েছেন।

তিনি লিখেছেন, সিবিআই (cbi) এবং ইডির (ed) ডিরেক্টরের মেয়াদ বৃদ্ধি করতে নরেন্দ্র মোদি সরকার যে অর্ডিন্যান্স জারি করেছে সেই অর্ডিন্যান্সকে চ্যালেঞ্জ করে আমি সুপ্রিম কোর্টে একটি আবেদন করেছি। কারণ মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পরিপন্থী।

চলতি সপ্তাহের শুরুতেই সিবিআই এবং ইডির ডিরেক্টরের কার্যকালের মেয়াদ দুই বছর থেকে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করেছে মোদি সরকার।

দিল্লি স্পেশাল পুলিশ এস্টাবলিশমেন্ট অ্যাক্ট এবং সেন্ট্রাল ভিজিলান্স কমিশন অ্যাক্ট অনুযায়ী সিবিআই ও ইডির আধিকারিকদের কার্যকালের মেয়াদ ছিল দু’বছর। তাই ওই আইন সংশোধন করতেই মোদি সরকার অধ্যাদেশ জারি করে। কিন্তু সেই অধ্যাদেশকে সুপ্রিম কোর্টে (supreme court) চ্যালেঞ্জ জানালেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া। এ ব্যাপারে তিনি শীর্ষ আদালতের পূর্ববর্তী একটি রায়কে হাতিয়ার করেছেন।

D Director Sanjay Kumar Mishra

মহুয়া বলেন, ২০১৯ সালে ইডির ডিরেক্টর সঞ্জয় কুমার (sanjay kumar mishra) মিশ্রের দু’বছরের কার্যকালের মেয়াদ শেষ হয়েছিল। ওই মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সঞ্জয়ের কার্যকালের মেয়াদ আরও একবছর বাড়ানো হয়েছিল। সে সময় কেন্দ্রের ওই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া এক মামলায় শীর্ষ আদালত রায় দিয়েছিল, নতুন করে আর সঞ্জয় কুমারের মেয়াদ বাড়ানো যাবে না। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের সেই নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নতুন করে ফের সিবিআই ও ইডি আধিকারিকর মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবস্থা করেছে মোদি সরকার।

যা কার্যত আদালত অবমাননার সামিল। অর্থাৎ মোদি সরকার সুপ্রিম কোর্টকেও গ্রাহ্য করছে না। সে কারণেই মহুয়া কেন্দ্রের ওই অর্ডিন্যান্সকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন। মহুয়া তথা তৃণমূল শিবিরের অভিযোগ, মোদি সরকার নিজেদের রাজনৈতিক আখের গোছাতেই সিবিআই, ইডি-সহ অন্য কেন্দ্রীয় সংস্থার ডিরেক্টরদের কার্যকালের মেয়াদ বাড়িয়েছে। যদিও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এড়াতে সিবিআই, ইডির মত কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলির প্রধানদের কার্যকালের মেয়াদ দু’বছর করা হয়েছিল। কিন্তু মোদি সরকার তা মানতে রাজি নয়। উল্লেখ্য, শুধু সিবিআই ডিরেক্টর নয় গোয়েন্দা বিভাগ বা আইবির প্রধান, র এর প্রধানের কার্যকালের মেয়াদও বাড়ানো হয়েছে। মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব ও প্রতিরক্ষা সচিবেরও।

<

p style=”text-align: justify;”>এরই মধ্যে অর্ডিন্যান্স জারির তিনদিনের মধ্যেই বিতর্কিত আধিকারিক সঞ্জয় কুমারের চাকরির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়ে দিল মোদি সরকার। বৃহস্পতিবারই ইডির ডিরেক্টর পদে সঞ্জয় কুমার মিশ্রের চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। গত বছরও একইভাবে তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল।

Delhi: শীর্ষ আদালতের পরামর্শ মেনে লকডাউনে সায় কেজরি সরকারের

poliution Delhi

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: দিল্লির বাতাস ভয়ঙ্করভাবে দূষিত। গোটা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর দিল্লি। দুদিন আগে রাজধানীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র ও দিল্লি (delhi) সরকারকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।

সেই পরামর্শের প্রেক্ষিতে সোমবার কেজরিওয়াল সরকার সুপ্রিম কোর্টে (supreme court) জানাল, দূষণ নিয়ন্ত্রণে তারা লকডাউনের মতো কঠোরতম সিদ্ধান্ত নিতেও প্রস্তুত। কেজরি সরকার এক হলফনামায় জানিয়েছে, শুধুমাত্র দিল্লিতে লকডাউন করলে দূষণ (pollution) সেভাবে নিয়ন্ত্রণে আসবে না। তাই আশপাশের বা এনসিআর অঞ্চলেও লকডাউন জারি করার প্রয়োজন রয়েছে।

শনিবার দূষণ সংক্রান্ত এই মামলায় দিল্লি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল শীর্ষ আদালত। ওইদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজধানীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে লকডাউন জারির পরামর্শ দিয়েছিল দিল্লি সরকারকে। রাজধানীর দূষণ রুখতে কী করা যেতে পারে এদিন সে বিষয়ে কেজরিওয়াল সরকার শীর্ষ আদালতে একটি হলফনামা জমা দেয়। সেই হলফনামাতেই স্পষ্ট বলা হয়েছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ লকডাউন করতে প্রস্তুত।

poliution Delhi

তবে শুধু দিল্লিতে লকডাউন (lockdown) করলেই হবে না, আশপাশ বা এনসিআর ভুক্ত এলাকাগুলিতেও লকডাউন জারি করা দরকার। তবেই দিল্লির বাতাসের গুণমান নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। দিল্লি সংলগ্ন এনসিআর ভুক্ত অঞ্চলগুলিতে লকডাউন করতে কেন্দ্র এবং শীর্ষ আদালতের অনুমতি দরকার বলেও কেজরি সরকার জানায়।

এদিনের শুনানিতে কেজরিওয়াল সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। শীর্ষ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ জানায়, দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার কিছু বোকা বোকা অজুহাত দিচ্ছে। রাজ্য সরকার যদি এই ধরনের ভূমিকা পালন করে তবে সুপ্রিম কোর্টকেই রাজ্য সরকারের রাজস্ব আদায় ও সেই টাকা দিয়ে কিভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা ভেবে দেখতে হবে। দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রামান্না (nv ramanna) বলেন, আমরা চাই অবিলম্বে দূষণের মাত্রা কমুক। কিন্তু সরকারকে প্রতিটা পদক্ষেপে পরামর্শ দেওয়ার মতো সময় শীর্ষ আদালতের নেই। কিভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে সেটা তো সরকারকেই ঠিক করতে হবে। দিল্লি সরকারের হলফনামা হাতে পাওয়ার পর প্রধান বিচারপতি বলেন হলফনামার কথা ভুলে যান। এখন আদালতকে স্পষ্ট করে বলুন দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে। ওই প্রশ্নের উত্তরে দিল্লি সরকারের আইনজীবী বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে পুরসভাগুলিকেও উদ্যোগী হতে হবে।

এই জবাবে প্রধান বিচারপতি আরও ক্ষুব্ধ হন। তিনি কেজরি সরকারের আইনজীবীর যার কাছে জানতে চান, তাহলে দূষণের দায়ে কি আপনারা পুরসভাগুলির ঘাড়ে ঠেলতে চাইছেন? বেঞ্চের অপর বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, আপনারা যদি এই ধরনের কথা বলেন তবে আমরা সরকারের রাজস্ব অডিটের নির্দেশ দেব। আসলে আপনারা শুধু সরকারে প্রচারের জন্যই টাকা খরচ করছেন।

এখানেই শেষ নয় শীর্ষ আদালত এদিন স্পষ্ট জানিয়েছে, কিভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে তা নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঞ্জাব, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ সরকারকে বৈঠকে বসতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্র ও যে সংস্থা বায়ুর গুণমান পরীক্ষার তাদের মঙ্গলবার বৈঠকে বসার নির্দেশ দিয়েছে। এই বৈঠকে পাঞ্জাব, দিল্লি, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিবদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। দূষণের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে শীর্ষ আদালতে এদিন কেন্দ্র ও কেজরি সরকারকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ নীতি অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিন শীর্ষ আদালত কেজরি সরকারকে আরও এক নির্দেশে জানিয়েছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কোন কোন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা সম্ভব, কী ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা যেতে পারে এবং কোন কোন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্লান্টগুলি বন্ধ করা যায় সে সম্পর্কে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে।

<

p style=”text-align: justify;”>মঙ্গলবারের মধ্যেই এই হলফনামা দিতে বলা হয়েছে। শনিবারের শুনানিতে দূষণ কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা জানতে চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন সেই জবাব দিয়েছে কেজরি সরকার। কিন্তু শীর্ষ আদালত জানায়, এই পরিকল্পনা হল দীর্ঘমেয়াদি। কিন্তু দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অবিলম্বে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের গুঁতোয় পরিবেশ দূষণ রোধ করতে একাধিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা কেজরি সরকারের

delhi pollution

News Desk: সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর দিল্লি। শনিবার সুপ্রিম কোর্টে (Supreme court ) দিল্লি দূষণ (pollution )সংক্রান্ত বিষয়ে একটি মামলার শুনানি ছিল। এদিনের শুনানিতে দিল্লি ও কেন্দ্রীয় সরকার একসঙ্গে রাজধানীর দূষণের জন্য কৃষকদের (farmer) ন্যাড়া পোড়ানোকেই দায়ী করেন।

শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি (chief justice) এনভি রামান্নার নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হচ্ছিল। দুই সরকারের পক্ষ থেকে দূষণের জন্য কৃষকদের দায়ী করার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হন প্রধান বিচারপতি। বিচারপতি এনভি রামান্না বলেন, কৃষকদের ঘাড়ে সব বিষয়ই দোষ চাপিয়ে দেওয়া একটা ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। দায় এড়াতে বলা হচ্ছে, শুধু ফসলের গোড়া পোড়ানোর কারণেই দূষণ হচ্ছে।

কিন্তু দিল্লির রাস্তায় যানবাহনের ধোঁয়া, কারখানা থেকে নির্গত দূষিত ধোঁয়া, বাজির ধোঁয়া এসবের জন্য কোনও দূষণ হচ্ছে না। বাজি পোড়ানোর উপর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দীপাবলির সময় পুলিশের সামনেই ইচ্ছামত বাজি পুড়িয়েছেন রাজধানীর মানুষ। পুলিশ ও প্রশাসন কেউ দেখেও দেখেনি। তাহলে এই দূষণের দায় তো পুলিশ ও প্রশাসনের ঘাড়েও বর্তায়।

একইসঙ্গে এদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে দিল্লি সরকারকে লকডাউন ঘোষণা করার পরামর্শ দেয়। সুপ্রিম কোর্টে তীব্র সমালোচিত হওয়ার পরই এদিন দূষণ নিয়ন্ত্রণে তড়িঘড়ি এক জরুরি বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল (arvind kejriwal)।

সেই বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন, আপাতত লকডাউন হবে না। তবে দিল্লির সমস্ত স্কুল আগামী সাত দিন বন্ধ রাখা হবে। সরকারি দফতরের সমস্ত কাজকর্ম হবে অনলাইনে। নির্মাণকাজ-সহ যে সমস্ত কাজে বেশি ধূলোকণা তৈরি হয় সেই সমস্ত কাজ ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ রাখা হবে। এদিনের বৈঠকে যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে জোড়-বিজোড় সংক্রান্ত নীতি নিয়ে চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে অনেকেই মনে করছেন, খুব শীঘ্রই রাজধানীতে আগের মতোই যান চলাচলের ক্ষেত্রে ফিরতে চলেছে জোড়-বিজোড় (odd-even) নীতি ।

অযোধ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় ঠিক ছিল না, চাঞ্চল্যকর দাবি চিদম্বরমের

P Chidambaram

News Desk, New Delhi: ২০১৯ সালে অযোধ্যা মামলা নিয়ে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা পি চিদম্বরমের (p chidambaram) দাবি, সুপ্রিম কোর্টের (supreme Court) ওই রায় ঠিক ছিল না। তবে, উভয় পক্ষই ওই রায় মেনে নেওয়ায় বিষয়টি মিটে গিয়েছে। উভয় পক্ষই সুপ্রিম নির্দেশ মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় মনে হচ্ছে, ওই রায় যথাযথ। কিন্তু আদৌ তা নয়।

অযোধ্যা মামলার রায় নিয়ে দেশের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী (finance minister) আরও বলেন, শীর্ষ আদালতের নির্দেশের পর আমাদের এটাই বলতে হবে যে, বাবরি মসজিদ (babri mosque) কেউ ভেঙে দেয়নি। সে কারণেই এই মামলায় অভিযুক্তরা সকলেই সুপ্রিম কোর্টের রায়ের এক বছরের মধ্যেই মুক্তি পেয়েছিলেন। ১৯৯২ সালে শুরু হওয়া এই মামলা ২০১৯ সালে সম্পুর্ণ অপ্রত্যাশিতভাবে শেষ হয়েছিল। উভয় পক্ষই সুপ্রিম নির্দেশ মেনে নেওয়ায় বিষয়টি হয়তো প্রাসঙ্গিক হয়েছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট অযোধ্যা মামলা নিয়ে যে রায় দিয়েছে তা ঠিক নয়।

অযোধ্যা মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায় সম্পর্কে কোনও মন্তব্য না করলেও কংগ্রেস নেতা দ্বিগবিজয় সিং (digvijay sing) এদিন কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন প্রবীণ বিজেপি নেতা এল কে আদবানিকে (lk advani)। দ্বিগবিজয় এদিন বলেন, আদবানি সমাজকে একত্রিত করার জন্য রথযাত্রা করেননি। বরং রথযাত্রা করে আদবানি সমাজকে বিভক্ত করেছিলেন। আদবানি দেশের যে সমস্ত অঞ্চলে গিয়েছিলেন সেখানেই ঘৃণা ছড়িয়েছিলেন। দেশে সাম্প্রদায়িকতার পরিবেশ সৃষ্টি করেছিলেন। আদবানি যতই নিজেকে একজন নিরপেক্ষ ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করুন না কেন তিনি আসলে একজন উগ্র হিন্দুত্ববাদী।

পরিবেশ ও দেশের সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য রেখেই রাস্তা চওড়া করতে হবে, জানাল সুপ্রিম কোর্ট

Chardhan Highway

News Desk, New Delhi: পর্যটকরা যাতে সহজেই বিভিন্ন দর্শনীয় এলাকায় পৌঁছতে পারেন সে কারণে উত্তরাখণ্ডের (Uttarakhand) দুর্গম পাহাড়ি রাস্তা চওড়া করে চারধাম প্রকল্পের উন্নয়ন করছে নরেন্দ্র মোদি (Nagendra modi) সরকার। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (supreme Court ) একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। ওই মামলার শুনানিতে শীর্ষ আদালত জানাল, পরিবেশ এবং দেশের সুরক্ষা দু’টোই সমান রকম জরুরি।

উত্তরাখণ্ডে চারধাম যাওয়ার রাস্তা ১০ মিটার চওড়া করার জন্য শীর্ষ আদালতের কাছে অনুমতি চায় কেন্দ্র। কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে যান পরিবেশবিদরা। তাঁরা বলেন, চারধাম প্রকল্পের রাস্তা করতে গিয়ে বহু গাছ কাটা পড়বে। ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হবে। এমনকী, পাহাড়ে ধসের পরিমাণও বাড়বে। এভাবে অরণ্য সম্পদ ধ্বংস করে চারধাম প্রকল্প করা যায় না।

পরিবেশবিদদের ওই আপত্তির প্রেক্ষিতে কেন্দ্র শীর্ষ আদালতে জানায়, উত্তরাখণ্ডের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় দ্রুত পৌঁছানোটা খুবই জরুরি। কারণ ওই সমস্ত এলাকায় চিন নজর রাখছে। শুধু নজর রাখাই নয়, লালফৌজ (pla) মাঝে মাঝে আগ্রাসন চালানোরও চেষ্টা করে। বিদেশি শত্রুদের মোকাবিলা করার জন্যই সেনা জওয়ানদের (army) সেখানে দ্রুত পৌঁছানো প্রয়োজন। জওয়ানদের যাতায়াতের সুবিধার জন্যই প্রয়োজন রাস্তা চওড়া করা। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল (kk venugopal) আদালতে বলেন, অরুণাচল (arunachal) সীমান্তে পাহাড়ের অপর প্রান্তে হেলিপ্যাড তৈরি করছে চিন। গড়ে তুলেছে একাধিক স্থায়ী কাঠামো। তাই ভবিষ্যতে ওই রাস্তা দিয়ে যুদ্ধ সামগ্রী, রকেট লঞ্চার এবং ট্যাঙ্ক নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। সে কারণেই রাস্তা চওড়া করার সিদ্ধান্ত।

কেন্দ্রের ওই বক্তব্য মেনে নিয়েও পরিবেশবিদরা আদালতে বলেন, সকলেই দেখেছেন চলতি বছরের উত্তরাখণ্ডে কিভাবে একাধিক ভূমিধস (land slide) ঘটেছে। আমরা এটা বলছি না যে, দেশের সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু আমরা বলতে চাই যে, মোদি সরকার চওড়া রাস্তার কথা বলছে। কিন্তু সেনাবাহিনী এখনও পর্যন্ত রাস্তা বাড়ানোর কোনও দাবি জানায়নি। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট নিজেদের মতামত ব্যক্ত করতে গিয়ে জানায়, গত কয়েক মাস ধরে সীমান্তের পরিস্থিতি যথেষ্টই উত্তেজনাপূর্ণ। সেখানে আগের তুলনায় গোলমাল অনেক বেড়েছে। তাই দেশের সুরক্ষাকে নিশ্চিতভাবেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। তবে তার মানে এই নয় যে, আমরা পরিবেশ রক্ষার কথা ভাববো না। পাশাপাশি পরিবেশকেও গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থাৎ দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে আমাদের এগোতে হবে।

উল্লেখ্য, মোদি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গঙ্গোত্রী, যমুনোত্রী, কেদারনাথ (kedarnath), বদ্রীনাথকে (badrinath) সংযুক্ত করা হবে। এর জন্য তৈরি করা হবে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার রাস্তা। উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনের কাছ থেকেই রাস্তা চওড়া করতে চায় কেন্দ্র। তবে কেন্দ্র রাস্তা ১০ মিটার চওড়া করার দাবি জানালেও সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই রাস্তা ৫ মিটারের বেশি চওড়া করা যাবে না।

ধর্ষণ, খুনের মতো অপরাধ করলেও কম বয়সীদের মৃত্যুদণ্ড নয়, জানাল সুপ্রিম কোর্ট

Supreme Court

News Desk, New Delhi: খুন ধর্ষণের মতো মারাত্মক অপরাধ করলেও কম বয়সিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যাবে না। অল্পবয়সীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। অপরাধ যতই গুরুতর হোক না কেন, শাস্তি দেওয়ার সময় অপরাধীদের বয়সের কথাটা মাথায় রাখতে হবে। একটি মামলার প্রেক্ষিতে নিজেদের এই মতামত ব্যক্ত করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

কর্নাটকের বাসিন্দা ইরাপ্পা সিদাপ্পা (Irapp Sidappa) মরগাুন্নাভার নামে এক ব্যক্তি পাঁচ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে খুন করেছিল। ইরাপ্পা যখন ওই অপরাধ করে তখন তার বয়স ছিল ২৩। দোষী সাব্যস্ত ইরাপ্পাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল কর্নাটক হাইকোর্ট। হাইকোর্টের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন ইরাপ্পা। সেই আবেদনের শুনানিতে নিজেদের এই মতামত প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত।

বিচারপতি সঞ্জীব খান্না (Sanjib Khanna), বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও (L Nageswar Rao) এবং বিচারপতি আর গাভাইয়ের (R Gavai) বেঞ্চ এই মামলার শুনানিতে বলেন, অপরাধীদের শাস্তি বিধানের আগে তাদের বয়সের কথাটা মাথায় রাখা দরকার। কর্নাটকের (Karnatak) বাসিন্দা ইরাপ্পা যা করেছে তা অত্যন্ত জঘন্য অপরাধ। কিন্তু এক্ষেত্রে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডই তার উপযুক্ত শাস্তি। কারণ এতে কৃতকর্মের জন্য ওই যুবক অনুতপ্ত হওয়ার সুযোগ পাবে। সুযোগ পাবে নিজেকে শুধরে নেওয়ার। আমাদের মনে রাখতে হবে, রায়দানের সময় সব কিছুই মাথায় রাখা দরকার। আমরা জানতে পেরেছি অত্যন্ত গরীব ঘরের সন্তান ইরাপ্পা। তাই তার মধ্যে শিক্ষাদীক্ষার অভাব ছিল।

তিন বিচারপতির বেঞ্চ আরও বলে, গত ৪০ বছরে সুপ্রিম কোর্ট এ ধরনের ৬৭ টি মামলার রায় দিয়েছে। এই মামলাগুলির রায় ঘোষণা করতে গিয়ে অপরাধীর বয়সকেও মাথায় রাখা হয়েছিল। অন্তত পরিসংখ্যান থেকে সেটাই বলা যেতে পারে। কারণ এই ৬৭টি মামলায় দোষী সাব্যস্তরা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ করেছিল। সেক্ষেত্রে এই ৬৭ টি মামলাতেই অপরাধীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু তা হয়নি। এই ৬৭ টি মামলার মধ্যে ৫১টিতে অপরাধীদের বয়স ছিল ১২ বছরের কম। ৫১ টি মামলার মধ্যে মাত্র ১২ টি মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী ক্ষেত্রে এই ১২ টির মধ্যে তিনটি মামলার রায় বদল হয়েছিল। মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাই অপরাধীদের সাজা ঘোষণার ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের বয়সের কথাটা মাথায় রাখতে হবে।

হাইকোর্টের রায় খারিজ সুপ্রিম কোর্টে, গ্রিন বাজি পোড়াতে বাধা নেই

Fireworks

News Desk, New Delhi: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে জানিয়েছিল আসন্ন কালীপুজো ও দীপাবলিতে কোনও ধরনের বাজি (Fireworks ) পোড়ানো যাবে না। সোমবার হাইকোর্টের নির্দেশ খারিজ করে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে পরিবেশবান্ধব বাজি বিক্রি করতে কোনও অসুবিধা নেই। সব বাজি নিষিদ্ধ করতে হবে এটা হতে পারে না তবে পরিবেশবান্ধব বাজি বিক্রি হচ্ছে কিনা সে বিষয়টি দেখতে হবে প্রশাসনকে।

শীর্ষ আদালত অবশ্য আগেই জানিয়েছিল, পরিবেশ পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন বাজি পোড়ানোর ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা নেই। সুপ্রিম কোর্ট শুধুমাত্র বেরিয়াম লবণসমৃদ্ধ বাজি পোড়ানোর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ নিয়ে তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। তবে সোমবার শীর্ষ আদালতের নির্দেশ সেই বিতর্কের অবসান ঘটেছে। সুপ্রিম কোর্ট এদিন জানিয়ে দিয়েছে, তাদের এই নির্দেশ সব রাজ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমবঙ্গেও এই নির্দেশ কার্যকর হবে।

বাজি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের রায়ে দৃশ্যতই অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। বেঞ্চে এদিন বলেছে, রাজ্য সরকার যদি সুপ্রিম কোর্টের আদেশ না মানে সে ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিবেশবান্ধব বাজি পোড়ানো যেতেই পারে। তবে যেখানে বাতাসে দূষণের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত বেশি সেখানে পরিবেশবান্ধব বাজি ফাটানো যাবে না। তবে এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে পুলিশ ও প্রশাসনকে। পরিবেশবান্ধব বাজি বলে যেগুলি বিক্রি হচ্ছে সেগুলি পরিবেশবান্ধব কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে। দীপাবলি বা কালীপূজায় বাজি একেবারেই নিষিদ্ধ এটা মেনে নেওয়া যায় না। সুপ্রিম কোর্টের আদেশ বাজি প্রেমীদের জন্যও নিশ্চিতভাবেই সুখবর। অর্থাৎ আসন্ন কালীপুজো ও দীপাবলিতে তাঁরা বাজি পোড়াতে পারবেন।

সুপ্রিমকোর্টে এদিনের শুনানিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজ্যে পরিবেশবান্ধব বাজি তৈরির কারখানা নেই। সেক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন বাজি আমদানি করতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে আমদানি করার মত সময় নেই। রাজ্য সরকারের ওই বক্তব্য খন্ডন করে বাজি প্রস্তুতকারীরা জানান, ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে গ্রিন বাজি এসে গিয়েছে। ওই সমস্ত বাজির কিউ আর কোডও মিলিয়ে দেখা হয়েছে। ফলে এ ধরণের পরিবেশবান্ধব বাজি বিক্রি করলে কোনও সমস্যা হবে না।

সুপ্রিম কোর্টের এদিনের নির্দেশে বাজি ব্যবসায়ী মহলেও খুশির ছোঁয়া। বাজি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, কলকাতা হাইকোর্ট বাজি নিয়ে একটি ভুল রায় দিয়েছিল। সেই রাজ রায় খারিজ করে দেওয়ার জন্য সুপ্রিমকোর্টের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ শুধু ৩১ কোটি বাজি ব্যবসায়ীর জয় নয়, এটা বাংলার মানুষেরও জয়। কারণ বাংলার মানুষও কালীপুজো ও দীপাবলিতে আনন্দ করতে চায়। সেই আনন্দের অন্যতম অঙ্গ বাজি। পাশাপাশি বাজি ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা মানুষকে আদালতের বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাজি ফাটানোর অনুরোধ জানিয়েছেন।

Pegasus: জাতীয় নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পেগাসাস কাণ্ডে তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

Pegasus case

Political Desk, New Delhi: শেষ পর্যন্ত নরেন্দ্র মোদি সরকারকে বিপাকে ফেলে পেগাসাস (Pegasus case) কাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। শুধু তদন্তের নির্দেশ দেওয়াই নয়, তদন্ত করার জন্য তিন সদস্যের একটি কমিটিও তৈরি করেছে শীর্ষ আদালত। দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রামান্নার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে বুধবার সকালে পেগাসাস মামলার শুনানি শুরু হলে এই নির্দেশ জারি হয়।

শুনানি শুরু হওয়ার পরই প্রধান বিচারপতি বলেন, সবার আগে দেশের নিরাপত্তা। তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা করা অবশ্যই দরকার। এটা কেন্দ্রের দায়িত্ব। কেন্দ্র কোনওভাবেই তার দায় এড়াতে পারে না। সেই কাজ ঠিক পথে এগোচ্ছে কিনা তা জানতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করার কথা বলে বেঞ্চ।

সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ এদিন জানিয়েছে, তিন সদস্যের এই কমিটিতে থাকছেন শীর্ষ আদালতের প্রাক্তন বিচারপতি আর ভি রবীচন্দ্রন ও দুই সাইবার বিশেষজ্ঞ অলোক জোশি এবং সন্দ্বীপ ওবেরয় । কমিটির নেতৃত্ব দেবেন প্রাক্তন বিচারপতি রবীচন্দ্রন।

এদিন এই নির্দেশ জারি করার আগে মোদি সরকারকে কড়া ভাষায় তিরস্কার করেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, পেগাসাস নিয়ে সবকিছু জানানোর জন্য কেন্দ্রকে যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পেগাসাস কাণ্ড নিয়ে এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র কোন তথ্য প্রমাণ পেশ করেনি। ব্যক্তি গোপনীয়তার অধিকার রক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ কোন ব্যক্তির নয়, দেশের প্রতিটি নাগরিকের গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আদালত এ বিষয়ে চুপ করে বসে থাকতে পারে না। পেগাসাস নিয়ে যারা আবেদন করেছেন তারা অনেকেই আড়ি কাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে প্রধান বিচারপতি জানান। এরপর রামান্না মন্তব্য করেন, এ ব্যাপারে উপযুক্ত তদন্ত হওয়া উচিত।  এই নির্দেশ জারির পাশাপাশি শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ জানিয়েছে, ৮ সপ্তাহ পর পেগাসাস মামলার শুনানি হবে।

পেগাসাস কাণ্ডকে চ্যালেঞ্জ করে যারা সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটন এবং আইনজীবী মনোহরলাল শর্মা। আবেদনকারীদের মধ্যে আছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক এন রাম ও শশী কুমার। পাশাপাশি পেগাসাস মামলার তদন্তের দাবি জানিয়েছে এডিটর গিল্ডস অফ ইন্ডিয়া। অনেকেই মনে করছেন, এদিনের সুপ্রিম নির্দেশে নরেন্দ্র মোদি সরকারকে অবশ্যই বেকায়দায় পড়তে হবে। কারণ মোদি সরকার কিছুতেই পেগাসাস নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেনি। কিন্তু তদন্ত কমিটির সামনে এবার সেই বিষয়টি প্রকাশ হবে।

রাস্তা আটকে চিরকাল আন্দোলন করা যায় না, কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলল সুপ্রিম কোর্ট

farmers

নিউজ ডেস্ক: কৃষকদের (farmers) প্রতিবাদ করার অধিকার নিশ্চয়ই আছে। তবে অনির্দিষ্টকালের জন্য কখনওই তাঁরা রাস্তা আটকে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে পারেন না। কারণ এভাবে রাস্তা আটকে রাখলে আরও বহু মানুষের সমস্যা হয়। নরেন্দ্র মোদি সরকারের আনা তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে কৃষকদের যে আন্দোলন চলছে তা নিয়েই বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে প্রায় এক বছর ধরে দিল্লির সিঙ্ঘু সীমানায় কৃষকদের অবস্থান বিক্ষোভ চলছে। কৃষকদের এই অবস্থান বিক্ষোভের কারণে সিঙ্ঘু, টিকরি-সহ একাধিক বর্ডার আটকে রয়েছে। এভাবে প্রায় একবছর রাস্তা আটকে আন্দোলন চলায় এলাকার বাসিন্দারা চরম সমস্যায় পড়েছেন বলে অভিযোগ। যে কারণে সম্প্রতি নয়ডার এক বাসিন্দা কৃষকদের এই আন্দোলনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ দাবি করে একটি মামলা করেন। সেই মামলার শুনানিতে বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করল সর্বোচ্চ আদালতের বেঞ্চ।

এর আগে অগাস্ট মাসের একটি মামলার শুনানিতে একই কথা বলেছিল দেশের শীর্ষ আদালত। সে সময়ে আদালত জানিয়েছিল, রাস্তা আটকে কখনওই কোন আন্দোলন করা যাবে না। কারণ রাস্তা আটকে আন্দোলন করলে মানুষকে বিপাকে পড়তে হয়।

এদিন শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ কৃষকদের পরিষ্কার জানিয়েছে, আমজনতাকে বিপাকে ফেলে ককনওই দিনের পর দিন রাস্তা আটকে রাখা যায় না। নিজেদের আন্দোলন সম্পর্কে কৃষকদের অবস্থান জানানোর জন্য তিন সপ্তাহ সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এদিন শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেছে, এখন থেকেই সমস্যা সমাধানের কোনও উপায় বের করতে হবে।শুধু কৃষক নয়, যে কোনও মানুষেরই আন্দোলন করার অধিকার আছে। কিন্তু আন্দোলন করার মানে এই নয়, অন্য মানুষের অসুবিধে তৈরি করা। রাস্তা বন্ধ করে এভাবে দিনের পর দিন আন্দোলন করা যাবে না।

বেঞ্চের এক বিচারপতি বলেন, সমস্যা সমাধান আইনি পথে হতে পারে। আন্দোলন বা সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমেও সমস্যার সমাধান হয়। কিন্তু দিনের পর দিন জাতীয় সড়ক বন্ধ করে রেখে এটা কী ধরনের আন্দোলন হচ্ছে? বেঞ্চের এদিনের মন্তব্যে গোটা দেশেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Lakhimpur Kheri: গাড়ি চাপা দিয়ে কৃষকদের মৃত্যুতে কতজন গ্রেফতার? সুপ্রিম প্রশ্নে বিপাকে যোগী

supreme-court-hearing-lakhimpur-kheri

নিউজ ডেস্ক: এতবড় ঘটনায় কতজন গ্রেফতার হয়েছে? প্রশাসনিক রিপোর্ট জলদি জমা দিতে হবে। লখিমপুর খেরিতে (Lakhimpur Kheri) গাড়ি চাপা দিয়ে কৃষকদের মারার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের এই প্রশ্নে চরম ধাক্কা খেল উত্তর প্রদেশ সরকার।

সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের সামনে কার্যত অসহায় উত্তর প্রদেশ সরকার। শীর্ষ আদালত জানতে চায়, যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে তদন্তের স্বার্থে তাদের আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে কি? এই প্রশ্নে আদালতকে কোনও সদুত্তর দিতে পারেনি যোগী সরকার।

ফলে বিতর্ক আরও জড়িয়ে ধরল উত্তর প্রদেশে বিজেপি সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের প্রশাসনকে। আগেই সারা ভারত কৃষকসভা, ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন কৃষক সংগঠন অভিযোগ করেছে, কৃষকদের গাড়ি চাপা দিয়ে মেরেছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পুত্র আশিস মিশ্র। সে এখনও অধরা।

লখিমপুর খেরির ঘটনায় এক সদস্যের কমিটি গঠন করেছে উত্তর প্রদেশ সরকার। এলাহাবাদ হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি প্রদীপকুমার শ্রীবাস্তব সবদিক খতিয়ে দেখবেন। তিনি রিপোর্ট দেবেন দু মাস পরে।

এদিক মৃত কৃষকদের আত্মীয়দের অভিযোগ, হামলাকারী আশিস মিশ্রকে গ্রেফতার করছে না রাজ্য সরকার। সারাভারত কৃষকসভা, ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের আরও অভিযোগ, যোগী আদিত্যনাথ সবকিছু চাপা দিতে চাইছেন। যদিও তিনি জানান, লখিমপুর খেরির ঘটনায় কড়া তদন্ত হবে।

অভিযুক্ত হামলাকারী আশিস মিশ্রের পিতা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্র। তিনি লখিমপুর খেরির বিজেপি সাংসদ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সহকারী মন্ত্রীর পদে রয়েছেন। তাঁর দাবি, ঘটনাস্থলে ছিল না আশিস। তবে যে গাড়ির ধাক্কায় মারা গিয়েছেন কৃষকরা সেটি তাঁর পুত্রের। চাপে পড়ে স্বীকার করেছেন মন্ত্রী।

গত ৩ অক্টোবর নেপাল সীমান্ত লাগোয়া লখিমপুর খেরিতে কেন্দ্রের মোদী সরকার যে কৃষি আইন এনেছে তার প্রতিবাদ চলছিল। জমায়েতের মধ্যে একটি গাড়ি প্রবল গতিতে ঢুকে পড়ে। ভাইরাল ভিডিওতে স্পষ্ট, ওই গাড়ির ধাক্কায় কয়েকজন ছিটকে পড়ছেন। এই ঘটনায় মৃত মোট ৯ জন। জানা গিয়েছে, মৃতদের মধ্যে ৪ জন কৃষক। এক সাংবাদিক। হামলাকারী গাড়ির তিনজন। আর একজন সাধারণ ব্যক্তি।

লখিমপুর খেরির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নীরব। কংগ্রেস নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর অভিযোগ, আইনের শাসন নেই উত্তর প্রদেশে। রাহুল গান্ধীকে সাথে নিয়ে তিনি দেখা করেন মৃত কৃষকদের পরিবারের সঙ্গে।

‘সাম্প্রদায়িকতা’ ছড়ানোয় সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে দেশের ওয়েব পোর্টালের একাংশ

web-portal-is-under-reprima

নিউজ ডেস্ক: অনলাইন নিউজ পোর্টাল কিংবা ওটিটি প্ল্যাটফর্ম নিয়ন্ত্রণে কোনো আইন বা সেন্সরসিপের ব্যবস্থা ছিল না। গত নভেম্বরেই এই সমস্ত সংস্থাকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের আওতায় আনার আদেশ জারি করেছে ভারত সরকার। তারপরেই ওটিটি প্ল্যাটফর্ম কিংবা অনলাইন নিউজ পোর্টালের কনটেন্ট নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আরও পড়ুন মধ্যমেধা নাকি গবেষণার অভাব? ওয়েব সিরিজে জেলা পুলিশ কমিশনার পদ সৃষ্টি করলেন অঞ্জন দত্ত

এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক একটি মামলায় শীর্ষ আদালতকে বলেছিল যে ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ করার প্রয়োজন রয়েছে। আদালত প্রথমে একটি কমিটি নিয়োগ করতে পারে যেহেতু ঘৃণামূলক বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে গাইডলাইন দেওয়ার প্রয়োজন দেখা গিয়েছে। এবার তা নিয়েই মুখ খুলল দেশের সর্বোচ্চ আদালতও। একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, ‘কোনওরকম দায়-দায়িত্ব ছাড়াই কিছু সংবাদমাধ্যম ও ওয়েব পোর্টাল ‘সাম্প্রদায়িক সুরে’ খবর পরিবেশন করে। যার কোনও গ্রহণযোগ্যতাই নেই। বিচারপতি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও তারা যা খুশি লিখে দেয়। এর ফলে শেষপর্যন্ত দেশেরই নাম খারাপ হয়।’

শুধু অনলাইন নিউজ পোর্টালই নয়, সুপ্রিম কোর্ট বিরক্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার চালানো নিয়েও। গতবছর দিল্লির নিজামুদ্দিনে তবলিঘি জামাতের জমায়েতের ফলেই করোনা সংক্রমণের হার বেড়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং ওয়েব পোর্টালে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। রীতিমতো সাম্প্রদায়িক সুরে ওই খবরগুলি পরিবেশন করা হয়েছিল, এই অভিযোগে ওই সংবাদমাধ্যমগুলির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল জমিয়তে উলেমা হিন্দ। সেই মামলার শুনানিতেই সংবাদমাধ্যম গুলিকে তীব্র ভর্ৎসনা করলেন প্রধান বিচারপতি এনভি রামনার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ।

প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, “সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওয়েব পোর্টালগুলির উপর কারও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তারা শুধু ‘শক্তিধর ব্যক্তি’দের কণ্ঠস্বরই শুনতে পায়। সোশ্যাল মিডিয়াগুলিও আমাদের প্রশ্নের উত্তর দেয় না। এ ব্যাপারে ন্যাশনাল ব্রডকাস্টিং স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটির পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।” এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মতামতও জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। যদিও গত বছর তৎকালীন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী প্রকাশ জাভাদেকার বলেছিলেন যে সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রোধ করতে পারে এমন কোন পদক্ষেপ সরকার নেবে না।

কয়েকদিন আগেই কিছু বিষয়কে কেন্দ্র করে জোরাল দাবি ওঠে, সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রচারিত হওয়া বিষয়বস্তুর উপর নিয়ন্ত্রণ জারি করার৷ লালকেল্লায় হামলায় পর টুইটারের সঙ্গে কেন্দ্রের বিরোধ তুঙ্গে ওঠার পরও সোশ্যাল মিডিয়াগুলি নিয়ন্ত্রণে সরকারি কর্তারা আরও তৎপর হয়ে ওঠেন৷ ক্যাপিটল হিলে হামলার প্রসঙ্গ টেনে এনে রবিশঙ্কর প্রসাদও জানিয়েছিলেন, ‘‘সরকার চায় এদেশে সোশ্যাল মিডিয়াগুলি তাদের ইউজারদের কথা ভেবে আরও ভালো মেকানিজম নিয়ে আসুক৷ সব সোশ্যাল মিডিয়াকে ভারতে স্বাগত৷ কিন্তু এখানে তাদের কোনও দ্বিচারিতা চলবে না৷ ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়া পুলিশের পদক্ষেপকে সমর্থন করেছিল৷ অথচ লালকেল্লায় হামলার ঘটনায় ওই একই সোশ্যাল মিডিয়া দ্বিচারিতার পথ বেছে নেয়৷ এটা চলবে না৷”

ইতিহাস গড়ে প্রথম মহিলা CJI হতে পারেন বিভি নাগরথনা

নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের সর্বোচ্চ বিচারালয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব সামলেছেন মোট ৪৮ জন। সম্প্রতি ৪৮ তম প্রধান বিচারপতি, সুপ্রিম কোর্টের (Chief Justice of India, Supreme Court) দায়িত্ব নিয়েছেন অন্ধ্রপ্রদেশ হাই কোর্টের নুথালপাটি ভেঙ্কট রামন। মোট ৪৮ জন প্রধান বিচারপতির প্রত্যেকেই ছিলেন পুরুষ। কিন্তু আর মাত্র ছ’বছর পর তৈরি হতে পারে ইতিহাস, দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয়ের সর্বোচ্চ পদে বসতে পারেন এক মহিলা।

আরও পড়ুন সংসদের বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের ‘হাঙ্গমায়’ ক্ষতি ১৩০ কোটি টাকা

বিভি নাগরথনা। বর্তমানে কর্ণাটক হাইকোর্টের অন্যতম বিচারপতি। আইনজীবি হিসেবে বেঙ্গালুরুতে নিজের কর্মজীবন শুরু করেছিলেন তিনি। প্র্যাকটিসের ক্ষেত্র ছিল সাংবিধানিক আইন, বাণিজ্যিক আইন, বীমা আইন, পরিষেবা আইন, প্রশাসনিক ও পাবলিক আইন, জমি সংক্রান্ত আইন, পারিবারিক আইন, পরিবহন সম্পর্কিত আইন প্রভৃতি। ২০০৮ সালে নিযুক্ত হন অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে। দু’বছর পর, ২০১০ সালে উন্নীত হন কর্ণাটক হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি পদে।

ইলেকট্রনিক মিডিয়া নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেওয়া তার দেওয়া যুগান্তকারী রায়গুলির মধ্যে একটি। ২০১২ সালে একটি মামলার রায়ে তিনি লিখেছিলেন, “যদিও তথ্যের সত্যিকারের প্রচার কোনও ব্রডকাস্টিং চ্যানেলের অপরিহার্য প্রয়োজনীয়তা, ‘ব্রেকিং নিউজ’, ‘ফ্ল্যাশ নিউজ’ বা অন্য কোনও আকারে অহেতুক উত্তেজনা সৃষ্টি করা অবশ্যই বন্ধ করা উচিত।” তিনি গণমাধ্যমগুলিকে নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি স্বায়ত্তশাসিত এবং সংবিধিবদ্ধ ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্যও কেন্দ্রীয় সরকারকে অনুরোধ করেন।

২০১৯ সালের একটি রায়ে, নাগরথনা আরেকটি য্যগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি রায় দেন যে মন্দির কোনও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নয় এবং মন্দিরের কর্মচারীরা পেমেন্ট অফ গ্র্যাচুইটি আইনের অধীনে গ্র্যাচুইটি পাওয়ার অধিকারী নয়। কিন্তু কর্ণাটক হিন্দু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং দাতব্য এনডাউমেন্ট আইনের অধীনে তাঁরা এই সুবিধা পেতে পারে।

আরও পড়ুন বাংলার ইতিহাস বলছে তাঁরা চিরকাল বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে, মমতার সঙ্গে সাক্ষাতের পর বললেন জাভেদ আখতার

সম্প্রতি তিন মহিলা সহ ন’জন নতুন বিচারক সুপ্রিম কোর্টে নিযুক্ত হয়েছেন। ফলে বিভি নাগরথনার ২০২৭ সালে ভারতের প্রথম মহিলা প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও নাগরথনা পরিবারে তিনিই প্রথম সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির পদে বসবেন না। ১৯৮৯ সালে তাঁর বাবা, জাস্টিস এঙ্গালাগুপ্পে সিতারামাইয়া ভেঙ্কটারামিয়াও ছ’মাসের জন্য এই দায়িত্ব সামলেছিলেন।

নাগরথনা ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টে নিযুক্ত অন্য দুই মহিলা বিচারক হলেন তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিমা কোহলি, গুজরাট হাইকোর্টের বিচারপতি বেলা ত্রিবেদী। এছাড়াও সুপ্রিম কোর্টে যে অন্য বিচারপতিদের নিয়োগ করা হয়েছে তাঁরা হলেন কেরালা হাইকোর্টের বিচারপতি সিটি রভিকুমার, মাদ্রাজ হাইকোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ, বিচারপতি অভয় শ্রীনিবাস ওকা (কর্ণাটক হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি), বিচারপতি বিক্রম নাথ (গুজরাট হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি), বিচারপতি জিতেন্দ্র কুমার মহেশ্বরী (সিকিম হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি) এবং সিনিয়র অ্যাডভোকেট এবং প্রাক্তন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল পি এস নরসিংহ।

মোট ৩৪ জন বিচারক রয়েছেন ভারতের শীর্ষ আদালতে। মোট শূন্যপদ ছিল ১০টি। ন’জন বিচারক নিয়োগ হওয়ায় আর মাত্র একটি শূন্যপদ পড়ে রইল সুপ্রিম কোর্টে।