তালিবানরাজ কায়েম হতেই দেশ ছাড়লেন আফগান প্রেসিডেন্ট

Afghanistan president Ashraf Ghani

নিউজ ডেস্ক: তালিবানদের হাতে দেশবাসীকে তুলে দিয়ে আফগানিস্তান ছাড়লেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি৷ আফগান কর্মকর্তারা এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন৷ তারা জানাচ্ছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহও দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন৷

তালিবান যোদ্ধারা ঝটিকা অভিযানে আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকার দখল নেওয়ার পর রবিবার তারা কাবুল শহর ঘিরে ফেলে। এরপর থেকেই পদত্যাগ করার জন্য আশরাফ গনির ওপর চাপ বাড়ছিল। আশরাফ গনি একটি বিমানে করে তাজিকিস্তান চলে গিয়েছেন বলে রয়টার্স সহ কিছু বার্তা সংস্থা রিপোর্ট করেছে। আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এককর্মকর্তাও একথা বলেছেন।

তবে আফগান প্রেসিডেন্টের অফিস বলেছে, নিরাপত্তার কারণে তারা আশরাফ গনির গতিবিধি সম্পর্কে কিছু বলতে পারছে না। রয়টার্স এই কথা তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে৷

এদিকে, তালিবানরা আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর থেকেই কাবুলে গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে৷ রাজধানী শহর কাবুলের বিভিন্ন এলাকা থেকে গুলি চলার খবর জানাচ্ছে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই খবর জানাচ্ছে সংবাদ সংস্থাটি৷

অন্যদিকে তালিবানের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা মহিলাদের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবেন। মুখপাত্রটি বলেন, মহিলাদেরকে একা বাড়ির বাইরে যেতে দেওয়া হবে৷ তাদের শিক্ষা ও কাজের সুযোগও বহাল থাকবে। মনে করা হচ্ছে, তালিবানকে নিয়ে সারা বিশ্বে যে উদ্বেগ রয়েছে তা অবসানের জন্যই এ বিবৃতি।

তবে ইতিমধ্যে তালিবানে দখলে চলে যাওয়া কান্দাহার থেকে খবর পাওয়া গিয়েছে, সেখানে ব্যাংকে কর্মরত মহিলাদের বলা হয়েছে, এখন থেকে তাদের জায়গায় কাজ করবে পুরুষ আত্মীয়রা। আফগানিস্তানের অন্য জায়গা থেকেও মেয়েদের বাইরে যেতে না দেওয়ার এবং বোরকা পরতে বাধ্য করার খবর এসেছে।
রবিবার টোলো নিউজ নামে আফগান বার্তা সংস্থার প্রধান লোৎফুল্লাহ নাজাফিজাদা একটি ছবি টুইট করেছেন – যাতে দেখা যাচ্ছে যে কাবুলের একটি দেওয়ালে থাকা মেয়েদের ছবি সাদা রঙ দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন একজন লোক। তালিবান মুখপাত্র আরও বলেছেন, সংবাদ মাধ্যমকে অবাধে সমালোচনা করতে দেওয়া হবে৷ তবে তারা ‘চরিত্র হননে’ লিপ্ত হতে পারবে না।

দেশের শাসন ক্ষমতা হাতে নিয়েই আফগানিস্তানে তালিবানরাজ শুরু হয়েছে৷ কাবুলের পুল-ই-চরখি কারাগার থেকে তালিবান বন্দীদের মুক্তি দেয়ার ছবির ফুটেজ অনলাইনে পোস্ট করেছে তালিবান সমর্থক একটি সংবাদ সংস্থা। এটি আফগানিস্তানের সর্ববৃহৎ কারাগার। রবিবার আরও আগের দিকে তালিবান সৈন্যরা বাগরামে আমেরিকান সমারিক ঘাঁটির সেনা কারাগারের দখল নেয়। বাগরাম কারাগারে পাঁচ হাজার বন্দী ছিল৷ তাদের মধ্যে ছিল তালিবান সদস্য, উগ্রপন্থী যোদ্ধা এবং ইসলামিক স্টেটের সদস্য। তাদেরও মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে৷

তালিবানরা দখল নেওয়ার পরেই জোরালো ভুমিকম্পে কেঁপে উঠল কাবুল

নিউজ ডেস্ক: খানিকক্ষণ আগেই আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের দখল নিয়েছে তালিবানরা। তারপরেই জোরালো ভুমিকম্পে কেঁপে উঠলো শহর। ৫.৫ মাত্রার ভুমিকম্প অনুভূত হয়েছে কাবুল এবং তার আসেপাশের এলাকায়। যদিও ভুমিকম্পের উৎস তাজিকিস্তান। গতকালই ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভুমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল ক্যারিবিয়ান রাষ্ট্র হাইতির পশ্চিমাঞ্চল। প্রায় গোটা ক্যারিবীয় দ্বীপপূঞ্জজুড়েই অনুভূত হয়েছিল ভুমিকম্প।

https://twitter.com/ChaudharyParvez/status/1426868222922420227?s=20

United States Geological Survey (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, তাজ্জিকিস্তানের চুবেক থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে এই ভূমিকম্পটি তৈরি হয়েছে। ভূপৃষ্ঠে এর গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। প্রায় গোটা তাজিকিস্তান এবং আফগানিস্তানের কিছু অংশ জুড়ে কম্পন অনুভূত হয়েছে।

ইতিমধ্যেই গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আগ্রাসন দেশজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী। আমেরিকার সামরিক কার্যালয় পেন্টাগনের তরফ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, তিনমাসের মধ্যেই কাবুল দখল করে ফেলবে তালিবানরা। তারপরেই পিছু হঠতে শুরু করেছে আসরাফ ঘানির সরকার। আফগান সরকারের তরফে তালিবানকে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দেওয়া হয়। তারমধ্যেই আজ দুপুর থেকে কাবুলে ঢুকে রাজধানী শহর দখল করতে শুরু করে তালিবানরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, আর কয়েকদিনের মধ্যেই গোটা আফগানিস্তানের দখল নেবে তালিবানরা।

Taliban

ভুমিকম্পের ফলে কতজন মারা গেছেন এবং কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত জানা যায়নি। এর আগে ২০১৫ সালে হিন্দু কুশে সৃষ্ট ভুমিকম্পে কেঁপেছিল আফগানিস্তান। মারা গিয়েছিলেন প্রচুর মানুষ। যদিও ইতিমধ্যেই অনেক বিশেষজ্ঞ দাবি করেছেন ভুমিকম্পটি প্রাকৃতিক নয়, কৃত্রিম। ‘হার্প’ প্রযুক্তির সাহায্যে এই ভুমিকম্প ঘটিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। HAARP অর্থাৎ ‘High Frequency Active Auroral Research Project’. এটি আমেরিকার সামরিক বাহিনী পরিচালিত প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের একটি গোপন পরীক্ষা।

https://twitter.com/theragex/status/1426870855687081987?s=20

আমেরিকার পাশাপাশি রাশিয়াও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম ভাবে ভুমিকম্প, সুনামী ঘটানো সম্ভব। টেসলার বিখ্যাত ‘ফ্রী এনার্জি’ থিওরি থেকেই মূলত এই হার্প টেকনোলোজি এসেছে। ২০১৫ সালের ভুমিকম্পকেও কৃত্রিম বলে দাবি করেছিলেন অনেক গবেষক।

ব্যাকফুটে আফগান সরকার, ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দেওয়া হল তালিবানদের

Taliban

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান, ভারতের উত্তর-পশ্চিমের একটি দেশ। অন্যান্য দেশের মতো শুধুমাত্র অর্থনীতি বা বৈদেশিক সম্পর্ক নয়, তাদের প্রতিনিয়ত লড়তে হচ্ছে অভ্যন্তরীণ শক্তির সঙ্গেও। যার নাম তালিবান। গত কয়েকদিনে সন্ত্রাসের শিকার আফগানিস্তানের নানান প্রান্ত। কোথাও গুলিবর্ষণ তো কোথাও বোমাবাজি। ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আগ্রাসন দেশজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী।

আরও পড়ুন Afghanistan Situations: কম বয়সী মেয়েদের তুলে নিয়ে যৌনদাসী বানাচ্ছে তালিবান জঙ্গিরা

ইতিমধ্যেই তালিবানদের দখলে চলে গিয়েছে আফগানিস্তানের গজনি প্রদেশ। রাজধানী কাবুল থেকে মাত্র ১৩০ কিলোমিটার দূরেই এখন তালিবানের ঘাঁটি। এই নিয়ে মোট ১০ টি প্রদেশে চলে গেল তালিবানি দখলে। এরপরই আফগান সরকারের তরফে তালিবানকে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা সত্ত্বেও তালিবানদের কাছে আফগান বাহিনীর পরাস্ত হওয়া পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের প্রায় ৪০০-র মধ্যে ২০০টি জেলায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে ফেলেছে তালিবানরা।

আমেরিকার সামরিক কার্যালয় পেন্টাগনের তরফ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, তিনমাসের মধ্যেই কাবুল দখল করে ফেলবে তালিবানরা। তারপরেই পিছু হঠতে শুরু করেছে আসরাফ ঘানির সরকার। কাতারের মাধ্যমে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তালিবানকে। গজনি দখল হওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আফগানিস্তান সরকার। কারণ, রাজধানী কাবুল থেকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর কান্দাহারে যাওয়ার পথে যে হাইওয়ে রয়েছে তার কাছেই অবস্থিত এই গজনি। সেখানকার সমস্ত সরকারি দফতরের হেডকোয়ার্টারে দখলদারি নিয়েছে সন্ত্রাসবাদীরা।

আরও পড়ুন আফগানিস্তানে ক্রমশ প্রকট হচ্ছে তালিবানরাজ

উত্তরের শেবার্গান এবং কুন্দুজ, দক্ষিণে কান্দাহার এবং লস্করগাহ এবং পশ্চিমে হেরাত প্রভৃতি শহরে ক্রমশই নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছে তারা। যার ফলে হাজার হাজার সাধারণ নিরীহ মানুষ আটকে পড়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার প্রক্রিয়াও প্রায় ৯৫% সম্পূর্ণ। ফলে আরও চিন্তায় দেশের সাধারণ মানুষ। শেবারগানের এক বাসিন্দা বলেন, শহরের পরিস্থিতি খুবই ভীতিকর। আসলে যে কী হতে চলেছে সেই বিষয়ে আতঙ্কে সকলেই। তালিবান যোদ্ধারা দেশের বেশিরভাগ স্থানেই ছড়িয়ে পড়েছে। সেই কারণে রাজধানী-সহ আশেপাশের অনেক জায়গা এখন সন্ত্রাসে ত্রস্ত। বিগত কয়েকদিনে আফগানিস্তানের ৩৪টির প্রদেশের মধ্যে ন’টি প্রদেশের রাজধানী দখল করে ফেলেছে তালিবান।

অন্যদিকে আফগানিস্তানে তালিবানি শাসন জারি হলে এক টাকাও আর্থিক সাহায্য করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে জার্মানি। প্রত্যেক বছর চার কোটি ৩০ লক্ষ ইউরো আর্থিক সাহায্য আফগানিস্থানে পাঠায় জার্মানি। জার্মানির বিদেশমন্ত্রী হাইকো মাস জানিয়েছেন, যদি আফগানিস্তানের দখল নেয় তালিবান তাহলে সাহায্য বন্ধ করবে জার্মানি।

Afghanistan Situations: কম বয়সী মেয়েদের তুলে নিয়ে যৌনদাসী বানাচ্ছে তালিবান জঙ্গিরা

Taliban militants are taking underage girls as sex slaves

নিউজ ডেস্ক: আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার করতেই আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপ হচ্ছে৷ সুযোগ বুঝে তালিবান জঙ্গিরা নতুন নতুন এলাকা ক্রমাগত দখল নিতে শুরু করেছে৷ অন্যদিকে, তালিবানরাজ কায়েম হতেই আফগান মহিলাদের নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে৷ নতুন নতুন এলাকার দখল নেওয়ার পাশাপাশি দখলকৃত এলাকার ১২ বছরের বেশি মেয়েদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে তালিবান জঙ্গিরা৷ দ্য সান সংবাদপত্রের রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, তালিবান জঙ্গিরা জোর করে ঘরে ঘরে ঢুকে মেয়েদের তুলে নিয়ে তাদের যোদ্ধাদের ‘যৌনদাসী’ বানাচ্ছে৷

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের স্থানীয় নেতাদের গত মাসে ১২ থেকে 4৫ বছর বয়সী মেয়ে ও মহিলাদের একটি তালিকা দিতে বলা হয়েছিল। তারপর থেকেই সেই তালিকা ধরে তালিবানরা মহিলাদের অপহরণ করে এবং জোরপূর্বক তাদের বিয়ে করছেন।

Taliban militants are taking underage girls as sex slaves

সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের মতে, এই ঘটনার পর আফগানিস্তানে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে৷ মহিলারা পুরুষদের সঙ্গে ছাডা় ঘর থেকে বের হতে পারছে না। পাশাপাশি তাদের বাধ্যতামূলকভাবে হিজাব পরতে বলা হয়েছে।

বেশিরভাগ স্কুল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়েছে৷ একজন মহিলা শিক্ষক থাকলেই মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে৷ তালিবানরা হুমকি দিয়েছে, যদি কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করে, তাদের সঙ্গে খুব বিপজ্জনক আচরণ করা হবে। ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে ভীত নারীরা এখন পালানোর চেষ্টা করছে। সেখানে পরিস্থিতি এমন হয়ে গেছে যে, মেয়েদের অভিভাবকরা রীতিমতো আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে৷ তাদের শঙ্কা, তার মেয়েকে জোর করে তালিবান তুলে দিয়ে যৌনদাসী বানাবে৷

প্রসঙ্গত, ২০ বছরের যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে আমেরিকার বাইডেন সরকার৷ তারপর থেকেই তালিবান সেখানে ক্রমাগত নতুন নতুন এলাকা দখল করছে। আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহারের মধ্যেই তালিবানরা ৭০ শতাংশেরও বেশি এলাকা দখল নিয়ে ফেলেছে৷ একই সঙ্গে অনেক প্রদেশের রাজধানীও তার নিয়ন্ত্রণে৷ এখন তালিবানরা পশ্চিমে প্রাদেশিক রাজধানী হেরাত এবং দক্ষিণে লস্করসহ সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

লালফৌজ না থাকলেও আফগান সীমান্তে তালিবান নিধনে রুশ স্নাইপার ও মিসাইল প্রস্তুত

Russian missile Afghan border

বিশেষ প্রতিবেদন: সোভিয়েত বিলুপ্ত। নেই সেই দুরন্ত লালফৌজ যাদের ভয়ে হিটলার গোপন বাঙ্কারে আত্মহত্যা করেছিল। যাদের আক্রমণে আফগানিস্তানে উগ্র ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলি গুটিয়ে গেছিল। তবে রাশিয়া আছে। সাবেক সোভিয়েত যুদ্ধনীতির পদ্ধতি রয়েছে। সেটাই আফগানিস্তানের মাটিতে ফের একবার প্রয়োগ করতে চান সোভিয়েত জমানার গুপ্তচর তথা কেজিবি এজেন্ট বর্তমান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

বিবিসি ও রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, সাবেক সোভিয়েত আফগান সীমান্ত যেটি এখন তাজিকিস্তানের অধীনে পড়ে সেখানেই বিপুল পরিমান রুশ সেনা, সাঁজোয়া গাড়ি, ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন শুরু করেছে রাশিয়া সরকার। তাদের সঙ্গে রয়েছে তাজিক সেনা ও আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসা সেনাকর্মীরা।

নব্বই দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন অবলুপ্ত হয়। তখনই তাজিকিস্তান স্বাধীন দেশ হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করে। এর পরেও তাজিকিস্তানে রুশ সেনার সবথেকে বড় সেনা ঘাঁটি রয়েছে। ক্রেমলিন কোনওদিনই আফগান সীমান্তকে অবহেলা করেনি।

Russian missile Afghan border

বিবিসি জানাচ্ছে, আফগানিস্তানের একটার পর একটা প্রদেশ তালিবান দখলে চলে যাচ্ছে। সবকটি আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা তালিবান দখলে। তাজিকিস্তান সীমান্তের সত্তর শতাংশ জঙ্গি সংগঠনটির কব্জায়। আফগান সেনা, জনগণ বিভিন্ন এলাকায় লড়াই করলেও তালিবান হামলায় তারা টিকতে পারছেনা। রাজধানী শহর কাবুল ঘিরে এগিয়ে আসছে তালিবান।

আশির দশকে আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধের সুযোগে সে দেশে ঢুকেছিল ততকালীন সোভিয়েত লাল ফৌজ। তাদের সঙ্গে আফগান ধর্মীয় সংগঠনগুলির সংঘর্ষ হয়। তবে আফগানিস্তানের নিমন্ত্রণ নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন।নব্বই দশকে সোভিয়েত পতনের পর আফগানিস্তান থেকে সরে যায় লাল ফৌজ। দেশটির দখল নিতে ধর্মীয় গেরিলা সংগঠনগুলি থেকে জন্ম নেয় তালিবান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদতে আফগানিস্তানে তাদের জয় হয়, এটি প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

তালিবান জঙ্গি সরকার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসা, আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধংস, আল কায়েদা সংগঠনের প্রধান লাদেনের আফগানিস্তানে আত্মগোপন সবমিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেনা পাঠায় এ দেশে। সম্প্রতি সেই সেনা সরতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে তালিবান ফের হামলা চালাচ্ছে। প্রায় অরক্ষিত আফগানিস্তানে এবার কি তালিবান নিধনে রুশ সেনা ঢুকবে?

আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, রাশিয়া আরও অপেক্ষা করতে পারে। কারণ কাবুল এখনও জঙ্গি কব্জান যায়নি। যদি তালিবান ফের আফগানিস্তানের সরকার কায়েম করে, তাহলেই ক্রেমলিন থেকে আসবে হামলার সংকেত। আপাতত আফগান সীমান্তে রুশ সেনার মহড়া চলছে। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র সম্ভার সীমান্তের ওপারের থেকে দেখছে তালিবান জঙ্গিরা।

আফগানিস্তানে ক্রমশ প্রকট হচ্ছে তালিবানরাজ

Taliban

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান, ভারতের উত্তর-পশ্চিমের একটি দেশ। অন্যান্য দেশের মতো শুধুমাত্র অর্থনীতি বা বৈদেশিক সম্পর্ক নয়, তাদের প্রতিনিয়ত লড়তে হচ্ছে অভ্যন্তরীণ শক্তির সঙ্গেও। যার নাম তালিবান। গত কয়েকদিনে সন্ত্রাসের শিকার আফগানিস্তানের নানান প্রান্ত। কোথাও গুলিবর্ষণ তো কোথাও বোমাবাজি। ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আগ্রাসন দেশজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী। এরকম চলতে থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আফগানিস্তানের আরও বেশ কিছু এলাকা তালিবানদের দখলে আসবে বলেই আশঙ্কা।

আরও পড়ুন চলেন আফগান যাই বাংলাদেশে অনলাইন তালিবান আমন্ত্রণে চাঞ্চল্য

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা সত্ত্বেও তালিবানদের কাছে আফগান বাহিনীর পরাস্ত হওয়া পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে। ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের প্রায় ৪০০-র মধ্যে ২০০টি জেলায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে ফেলেছে তালিবানরা। উত্তরের শেবার্গান এবং কুন্দুজ, দক্ষিণে কান্দাহার এবং লস্করগাহ এবং পশ্চিমে হেরাত প্রভৃতি শহরে ক্রমশই নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করছে তারা। যার ফলে হাজার হাজার সাধারণ নিরীহ মানুষ আটকে পড়েছে।

আরও পড়ুন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে কলকাতার ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন কলেজের ইতিহাস

অন্যদিকে মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রত্যাহার প্রক্রিয়াও প্রায় ৯৫% সম্পূর্ণ। ফলে আরও চিন্তায় দেশের সাধারণ মানুষ। শেবারগানের এক বাসিন্দা বলেন, শহরের পরিস্থিতি খুবই ভীতিকর। আসলে যে কী হতে চলেছে সেই বিষয়ে আতঙ্কে সকলেই। তালিবান যোদ্ধারা দেশের বেশিরভাগ স্থানেই ছড়িয়ে পড়েছে। সেই কারণে রাজধানী-সহ আশেপাশের অনেক জায়গা এখন সন্ত্রাসে ত্রস্ত।

আরও পড়ুন ভারতের সবচেয়ে বড় পতিতালয়ের সঙ্গেও জড়িয়ে রয়েছে ঠাকুরবাড়ির নাম

আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র ফাওয়াদ আমান টুইট করে জানান, আফগান এয়ার ফোর্সের তরফ থেকে তালিবানদের ঘাঁটি লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ করা হয়। তাতে ২০০ জন নিহত হয়েছেন। তারপরেও তালিবানদের হুমকিতে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলের মানুষের মনে আতঙ্ক বাড়ছে। আদৌ এর শেষ কোথায় সেই নিয়ে দুশ্চিন্তায় সকলেই।

‘চলেন আফগান যাই’- বাংলাদেশে অনলাইন তালিবান আমন্ত্রণে চাঞ্চল্য

Taliban invitation in Bangladesh

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে হু হু করে ছড়াচ্ছে তালিবান জঙ্গি বার্তা। করোনাভাইরাসের গতিতে ছড়িয়ে পড়া এই বার্তায় সরাসরি আফগানিস্তানে যাওয়ার আহ্বান বিশ্লেষণ করে চমকে যাচ্ছেন বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদ দমন বিভাগের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ কাউন্টার টেরেরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের সাইবার বিভাগ খতিয়ে দেখছে তালিবানি বার্তা। আফগানিস্তানে তালিবানদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে বাংলাদেশ ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলি সিক্রেট গ্রুপ থেকে ছড়িয়ে যাচ্ছে ‘মুজাহিদ ভাই, চলেন আফগান যাই’ বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জার গ্রুপে এই বার্তা ছড়ানোর ফলে চিন্তিত বাংলাদেশ সরকার।

এই ধরণের আহ্বানে এক শ্রেণীর উগ্র ধর্মান্ধ যুবক যুবতী আকৃষ্ট হবেই। তাদের মাধ্যমে জঙ্গি জাল ছড়ানোর চেষ্টা করবে উগ্র সংগঠনগুলি। এমনই আশঙ্কা করছে বাংলাদেশ পুলিশের জঙ্গি দমন বিভাগ।

বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আফগানিস্তানে ফের তালিবান উত্থানে খুশি হয়ে অনেকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছে। জঙ্গি সংগঠন ও জঙ্গিদের অনলাইন ও অফলাইনে সাংগঠনিক গ্রুপগুলো এখন আফগান প্রসঙ্গই বেশি করে।

ঢাকার গুলশনে হোলি আর্টিজান ক্যাফে হামলায় জড়িত ছিল ইসলামিক স্টেট বা আইএস জঙ্গি সংগঠনের সহযোগী নব্য জেএমবি। ভয়াবহ সেই ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশ সরকারের একটার পর একটা জঙ্গি ডেরা ধংস অভিযান চলে। সম্প্রতি তিনটি জঙ্গি ডেরা ধংস করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, অনলাইনে বোমা হামলা ও বানানোর বিষয়ে জোর দিয়েছে জেএমবি ও নব্য জেএমবি।

আফগানিস্তানে কি ফের তালিবান শাসন কায়েম হবে? আফগান সেনা ও তালিবানদের মধ্যে সংঘর্ষ জারি আছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা পুরোপুরি আফগানিস্তান ত্যাগ করলে সরকার পতন হওয়ার প্রবল আশঙ্কায় বহু আফগানি দেশত্যাগ করছেন।

আফগানিস্তানের এই পরিস্থিতি ও ফের তালিবান তৎপরতার কারণে উল্লসিত বিভিন্ন দেশের জঙ্গিরা। আর বাংলাদেশের জঙ্গি সংগঠনগুলি সাম্প্রতিক আনলাইন প্রচারে অংশ নিচ্ছে বেশি।

গোয়েন্দা তদন্তে উঠে এসেছে, বাংলাদেশের জঙ্গিদের বেশ কয়েকজন আফগানিস্তান যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আফগানিস্তানে যাওয়ার আমন্ত্রণ ভেসে আসছে। আবার কেউ কেউ আফগানিস্তানে তালিবান এলাকার ভিডিও ও ছবি প্রকাশ করে প্রশংসায় পঞ্চমু়খ।

তালিবানদের বামিয়ান উপত্যকার বৌদ্ধ মূর্তি ধ্বংসের ২০ বছর

Afghanistan’s Bamiyan Buddhas to be reconstructed using laser scanning, 3D printing

নিউজ ডেস্ক: কাবুল থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বামিয়ান উপত্যকার৷ এক সময় এটি ঐতিহাসিক সিল্করুটের অংশ ছিল৷ ষষ্ঠ শতাব্দীতে বৌদ্ধদের অন্যতম কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয় বামিয়ান৷ কয়েক হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষুর বসবাস ছিল তখন এই উপত্যকায়৷

ভিক্ষুদের হাত ধরে পার্বত্য অঞ্চলটিতে তাদের শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে৷ লাল বেলেপাথরের পাহাড়ের গায়ে গুহা তৈরি করে তারা বসবাস করতেন৷ এই পাথর দিয়েই গড়েন বুদ্ধের প্রকাণ্ড মূর্তি৷ চিনের বৌধ ভিক্ষু ও পরিব্রাজক সুয়েনজাং সপ্তম শতাব্দীতে এখানে এসেছিলেন৷ বামিয়ান উপত্যকার কথা তিনি লিখেছেন এভাবে, ‘‘কয়েক ডজন মন্দির আর হাজারো ভিক্ষুর বসবাস সেখানে৷ বুদ্ধের দণ্ডায়মান মূর্তি ৫০ মিটার উঁচু, যার থেকে সোনালী আভা ছড়িয়ে পড়ে৷’’ সুয়েনজাং পরিচিত হিউয়েন সাঙ নামেও৷

সবচেয়ে উঁচু মূর্তিটি ছিল ৫৩ মিটার উঁচু দীপঙ্কর বুদ্ধের প্রতিভূ৷ ইতিহাসবিদদের মতে, এর নির্মাণশৈলীতে গ্রিকদের হেলেনিস্টিক বৈশিষ্টের সঙ্গে বৌদ্ধ শিল্পকলার মেলবন্ধন ঘটে৷ প্রায় এক হাজার খ্রিষ্টাব্দে বামিয়ান উপত্যকা মুসলিম শাসনের অধীনে আসে৷ তখনও বহাল তবিয়েতে ছিল মূর্তিগুলো৷ বিশ শতকেও জায়গাটি অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে টিঁকে ছিল৷ তবে ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত আগ্রাসনের পর বদলে যায় চিত্র৷ কৌশলগত গুরুত্বের কারণে সোভিয়েতদের বিরুদ্ধে আমেরিকার মদতপুষ্ট মুজাহিদিনদের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় বামিয়ান উপত্যকা৷

বিভিন্ন শাসনকালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য হিসেবে হাজার বছর টিঁকে থাকলেও ২০০১ সালের মার্চে তালিবানরা বামিয়ানের বৌদ্ধ মূর্তি ধ্বংস করে৷ কাবুলের জাতীয় জাদুঘরও তছনছ করে তারা৷ ধ্বংসের পরে ইউনেস্কো বামিয়ানকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে৷ সেখানে আবারও বৌদ্ধ মূর্তি গড়ে তোলার বেশ কয়েকটি প্রস্তাব উঠলেও, এখন পর্যন্ত তার কোনটি বাস্তবায়ন হয়নি৷

গত ২৪ ঘণ্টায় আফগান সেনা অভিযানে খতম ২৬৯ তালিবান জঙ্গি

269 Taliban militants killed in Afghanistan

নিউড ডেস্ক: আফগানিস্তানের ১৩টি প্রদেশে সেনাবাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে ২৬৯ তালিবান জঙ্গি নিহত হয়েছে৷ এই খবর দিয়েছে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আফগানিস্তানের লাগমান, নানগারহার, নুরিস্তান, কুনার, গজনি, পাকতিয়া, কান্দাহার, হেরাত, বাল্‌খ, জুযজান, হেলমান্দ, কুন্দুজ ও কাপিসা প্রদেশে এসব অভিযান চালান হয়।

এই অভিযানে ১৭৬ তালিবানি আহত হয়েছে। এ সময় সেনাবাহিনী তালিবানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। তবে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই পরিসংখ্যান প্রত্যাখ্যান করেছে তালিবান।

এদিকে আফগানিস্তানের শতকরা ৯০ ভাগ সীমান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার যে দাবি তালিবান করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ওই মন্ত্রকের মুখপাত্র ফুয়াদ আমান বলেছেন, আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং হাতছাড়া হয়ে যাওয়া জেলাগুলো তালিবানের কাছ থেকে একের পর এক পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে।

আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশ থেকে পাওয়া অন্য এক খবরে জানা গিয়েছে, সেখানকার কারাখ জেলায় তালিবানের একটি বড় ধরনে অভিযান প্রতিহত করেছে সেনাবাহিনী। শুক্রবার জেলাটি তালিবানের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করেছে আফগানিস্তানের সরকারি সৈন্যরা।

২০ বছরের যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তানে পরাজিত আমেরিকা

20 years in Afghanistan: Was it worth it?

নিউজ ডেস্ক: বছর কুড়ি আগে আমেরিকার ট্যুইন টাওয়ার ধ্বংস করে আফগানিস্তানের তালিবানরা৷ তারই প্রতিশোধ নিতে রাতারাতি আফগানিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের তালিবান জঙ্গিদের নিকেষ অভিযান শুরু করে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ৷ দুই দশক পরে আফগানিস্তানে তালিবানদের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করে পাতাতাড়ি গুটিয়ে দেশে ফিরছে মার্কিন সেনাবাহিনী৷

৯/১১ হামলার পরে আফগানিস্তানে প্রথম সেনা পাঠান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ। তিনি জানিয়েছিলেন, এ হল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই। তালিবানদের সঙ্গে যুদ্ধ করেও আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বার করতেই বহু বছর সময় লেগে গিয়েছে মার্কিন সেনার। শেষপর্যন্ত পাকিস্তানে তাকে হত্যা করা হয়। আফগানিস্তানে বহু তালিবান নেতার মৃত্যু হয়েছে মার্কিন সেনার হাতে।

The US war in Afghanistan is over
লড়াই শেষ.. এবার ঘরে ফেলার পালা

গত প্রায় বিশ বছরে শুধু আফগানিস্তানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ন্যাটো বাহিনীর মৃত্যু হয়েছে। যার অধিকাংশই মার্কিন। ৪৭ হাজার আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। ৬৬ হাজার আফগান সেনা মারা গিয়েছেন। লক্ষাধিক আফগান নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকা। যুদ্ধের চিহ্ন সর্বত্র। আর্থ-সামাজিক দিক থেকেও দেশটির অবস্থা ভয়াবহ।

এতদিন যুদ্ধের পর বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন, আর যুদ্ধ নয়৷ অগাস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সমস্ত সেনা ফেরত আনা হবে। আফগানিস্তানের দায়িত্ব আমেরিকা আর নিতে পারবে না।
মার্কিন সেনা ফিরতে শুরু করার পরেই ফের আফগানিস্তানের দখল নিতে শুরু করেছে তালিবান। আফগানিস্তান কার্যত গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি।

Taliban gains drive Afghanistan gov’t to arm local volunteers
আমেরিকার যুদ্ধ শেষের ঘোষণার পরেই রাজপথে তালিবানরা

আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করা মার্কিন সেনাদের একাংশ বলছেন, এটা আসলে আমেরিকার হার। ২০ বছরেও যুদ্ধ জয় করতে পারেনি আমেরিকা। কেউ কেউ এই হারকে ভিয়েতনামের সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের দাবি, ভিয়েতনাম থেকেও শেষ পর্যন্ত মার্কিন সেনাকে ফিরে আসতে হয়েছিল। আফগানিস্তানেও তাই হল।

তাদের দাবি, ভিয়েতনামের মতোই আফগানিস্তানে আমেরিকার কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না। কিছু নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সার্বিক পরিবর্তন ঘটানো যায়নি। নতুন করে আবার তালিবানরা আফগানিস্তানে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার করতে শুরু করেছে৷