ফিরল ‘ভয়াবহ রবিবার’, আফগানিস্তানে জঙ্গি সরকারকে সমর্থনে বিশ্ব দোদুল্যমান

One week after taliban occupied Afghanistan

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: এক সপ্তাহ আগের সেই ভয়াবহ রবিবার-১৫ অগাস্ট। ভারত ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছিল। আর ভারতের স্বাধীনতার আগেই স্বাধীন হওয়া (১৯১৯) আফগানভূমি সেই দিনই ঢুকেছিল দ্বিতীয়বার তালিবান কব্জায়। প্রথমবার ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত তালিবান ছিল ক্ষমতায়।

এক সপ্তাহ পার হয়েছে তালিবান জঙ্গিরা এখনও সরকার গড়েনি। তবে আফগানিস্থানের এই জঙ্গিদের সরকারকে মান্যতা দিতে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন দেশ। আগ বাড়িয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, প্রয়োজন হলে ব্রিটেন তালিবানের সঙ্গে কাজ করবে।

কাবুলে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস বন্ধ। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া তাদের দূতাবাস থেকে সব কর্মী সরিয়ে নিল। অন্যদিকে সুন্নি ইসলামিক তালিবানের সঙ্গে নরম সম্পর্ক রাখছে শিয়াপন্থী ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান সরকার। তাদের কাবুল দূতাবাস খোলা।

Taliban gains drive Afghanistan gov’t to arm local volunteers
আমেরিকার যুদ্ধ শেষের ঘোষণার পরেই রাজপথে তালিবানরা

তাৎপর্যপূর্ণ তালিবান জঙ্গিরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করতেই পাকিস্তান সরাসরি সমর্থন করে। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছিলেন, আফগানিরা বিদেশি দাসত্ব থেকে মুক্তি পেলেন। সেই সুন্নি ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান এখন এক কদম পিছিয়ে জানাচ্ছে, অন্যান্য দেশের অবস্থান দেখে নিয়েই তালিবানদের প্রতি বার্তা দেওয়া হবে।

তবে ইসলামাবাদ এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রক। কাবুলে তালিবান সরকার কি বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমন্বয়ে হবে নাকি একলাই সরকার গড়বে জঙ্গিরা সেটি নিয়ে পাক রাজনৈতিক মহল তীব্র উত্তপ্ত। বিভিন্ন আফগান গোষ্ঠীর নেতারা এখন ইসলামাবাদে জরুরি আলোচনা চালাচ্ছেন।

One week after taliban occupied Afghanistan

আরও তাৎপর্যপূর্ণ, পাক সামরিক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই তাদের মদতপুষ্ট হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গি গোষ্ঠীর জন্য হতে চলা তালিবান নিয়ন্ত্রিত সরকারে বড়সড় অংশীদারী চাইছে। কাবুলের সংবাদ মাধ্যম ও রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গি সংগঠনটি আফগান অর্থমন্ত্রক পাবে। ইতিমধ্যেই হাক্কানি প্রধান আনাস হাক্কানি কাবুলে গিয়ে কথা বলেছে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে।

প্রাক্তন আফগান প্রেসিডেন্ট কারজাই তালিবান শান্তি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তিনি কাবুলে নিরাপদেই রয়েছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারিত হয়েই দেশ ছাড়েন আশরাফ ঘানি। আর ভাইস প্রেসিডেন্ট এখন নিজেকে বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করে তালিবান বিরোধী সংঘর্ষ চালাতে মরিয়া।

Taliban militants are taking underage girls as sex slaves

আফগানিস্তানের কিছু অংশে তালিবান বিরোধী বিক্ষোভ হলেও দেশটি এখন পুরোপুরি জঙ্গি কব্জায়। আর তালিবান ছাড়া আফগানিস্তানে এই মুহূর্তে কিছু বিকল্প নেই বলেছেন কাবুলের রুশ রাষ্ট্রদূত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, আফগানিস্তানের ওপর তালিবানের নিয়ন্ত্রণ কায়েম হচ্ছে একটা বাস্তবতা। এটা মেনে নিতে হবে। তালিবান কাবুল দখলের আগে জঙ্গি সংগঠনটির নেতা তথা আগামী প্রেসিডেন্ট হতে চলা মোল্লা আবদুল ঘানি বারাদার চিন সফর করে। তার সঙ্গে চিনা বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকের পর আফগানিস্তানের রাজনৈতিক মোড় ঘুরতে শুরু করে। অতি দ্রুত তালিবান দখল করে নেয় কাবুল। চিন এখন সরাসরি তালিবানের পক্ষে বার্তা দিয়েছে।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া আমেরিকা স্পষ্ট করেছে তাদের অবস্থান। বলেছে সেনা প্রত্যাহার করা ঠিক পদক্ষেপ। তবে আফগানিস্তানে যাবতীয় অর্থ সাহায্য বন্ধ করেছে ওয়াশিংটন। কঠিন পরিস্থিতি ভারতের। বহু ভারতীয় আটকে পড়েছেন। বিদেশে ভারতের বৃহত্তম বিনিয়োগ এই আফগানিস্তানেই। সেসব লোকসানের খাতায় যাওয়া নিশ্চিত বলেই মনে করছেন দিল্লির কূটনৈতিক মহল। তবে তালিবান সরকারকে ভারত মান্যতা দেবে নাকি দেবেনা সেটা বিশ্বজোড়া প্রশ্ন।

তালিবানের হাতে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ যাওয়ার পর থেকে দেশটির ব্যাংক ব্যবস্থা বন্ধ। খাদ্য সংকট চরমে পৌঁছেছে। কাবুল পতনের পর সাত দিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় শুরু হয়েছে ঝকমারি। চারদিকে খাদ্যের হাহাকার বাড়ছে। এমনকি তালিবানের হাত খালি। তারাও হন্যে হয়ে টাকার খোঁজ করছে।

গণহত্যা, ধর্ষণ নিয়মিত। ধর্মের নামে চলছে অত্যাচার। আফগানিস্তানের অবস্থা ফের প্রমাণ করছে, সন্ত্রাসবাদের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম নেই। তার একটাই ধর্ম রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি করা।

তালিবান উৎখাতে আফগান নাগরিকদের ভরসা ‘রিয়েল হিরো’ আমরুল্লাহ সালেহ

নিউজ ডেস্ক: তালিবান ক্ষমতা লাভের সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তানের রাজনীতিতে নতুন মোড়৷ দেশের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ দেশের সংবিধানের উদ্ধৃতি দিয়ে নিজেকে আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন।

আরও পড়ুন নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ

২০ বছর ধরে ক্ষমতা থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তালিবানরা আবারও আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। কিন্তু, আফগানিস্তানে ক্ষমতা পরিবর্তনের এই সংকটের মধ্যে দেশের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ একটি বড় ঘোষণা করেছেন৷ সালেহ নিজেকে আফগানিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, আমি দেশের সব নেতাদের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য যোগাযোগ করছি।

Leaders in Afghanistan holdout look to revive alliance that helped U.S.  oust Taliban in 2001কে এই আমরুল্লাহ সালেহ ?

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী তাজিকদের নেতা হলেন আমরুল্লাহ সালেহ। গত মঙ্গলবার তিনি টুইট করে হুঁশিয়ারি দেন, ঘানির অনুপস্থিতিতে তিনিই দেশের ‘কেয়ারটেকার প্রেসিডেন্ট’। ঘানির ডেপুটি হলেও শরীরে তাজিক রক্ত বইছে তাঁর। ফলে এত সহজে হাল ছাড়তে রাজি নন সালেহ। জনসমক্ষে জানিয়ে দিয়েছেন, ঘানির মতো তিনি পালিয়ে যাবেন না।

আমেরিকার অনেক আগেই পাকিস্তানে লাদেনের ডেরার হদিশ পেয়েছিলেন তিনি। একবার কিংবা দু’বার নয়, মৃত্যুকে হারিয়ে ফিরে এসেছেন বার বার। তাই বাকিরা যখন গা ঢাকা দিয়েছেন, বন্দুকের নলের সামনে এগিয়ে এসেছেন আমরুল্লাহ সালেহ। নিজেই নিজেকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, তালিবানের সামনে মাথা নোয়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। শৈশবেই অনাথ হয়ে যাওয়া থেকে দেশের অন্যতম সাহসী গুপ্তচর, পরবর্তী কালে দুঁদে রাজনীতিক, বছর ৪৮-এর আমরুল্লাহর জীবন হার মানায় রোমাঞ্চকর সিনেমাকেও।

১৯৭২ সালে পঞ্জসিরে তাজিক পরিবারে জন্ম আমরুল্লার। শৈশবেই মা-বাবাকে হারান। তার পর থেকে একমাত্র বোনকে নিয়ে শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই। সোভিয়েত শাসনের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সেই মুজাহিদিনে যোগ দেন। তৎকালীন মুজাহিদিন কম্যান্ডার আহমদ শাহ মাসুদের কাছে পাকিস্তানে অস্ত্র শিক্ষাও নেন। অল্প কয়েকদিনেই মাসুদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন আমরুল্লাহ। আমরুল্লাহকে না পেয়ে ১৯৯৬ সালে তাঁর বোনকে নৃশংস অত্যাচারের পর খুন করে তালিবানরা।

পরবর্তী কালে একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকায় আমরুল্লাহ লেখেন, ওই ঘটনার পর তালিবানদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি একেবারেই পাল্টে যায়। প্রাণ চলে গেলেও কখনও তালিবানদের সঙ্গে এক ছাদের নীচে দাঁড়াবেন না তিনি। মুজাহিদিনে থাকাকালীন মাসুদ এবং ভারতের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। তালিবানদের রুখতে ভারত থেকে আফগানিস্তানে অস্ত্রশস্ত্র যেত তাঁর তদারকিতেই। মাসুদের তালিবান বিরোধী নর্দার্ন অ্যালায়্যান্সের সদস্যও ছিলেন আমরুল্লাহ। ২০০১ সালের মাসুদকে হত্যা করে তালিবানরা। তার দু’দিন পরেই আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলা চালায় আল কায়দা।

আরও পড়ুন আত্মসমর্পণের প্রশ্ন উড়িয়ে আমেরিকার কাছে অস্ত্রসাহায্য চাইলেন নিহত তালিবান-বিরোধী নেতার ছেলে

ঠিক তার পরেই আফগানিস্তানে ন্যাটো পাঠায় আমেরিকা। আমরুল্লাহকে দেশের গুপ্তচর সংস্থা ন্যাশনাল ডিরেক্টরেট অব সিকিয়োরিটির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন তৎকালীন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। ৯/১১ হামলাকারী আল কায়দা এবং তাদের প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিল তালিবানের বিরুদ্ধে। ফলে সেই সময় তালিবান-বিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিত আমরুল্লাহকে লুফে নেয় আমেরিকা। তাঁর তদারকিতেই পাকিস্তান সীমান্তে ঢুকে বহু জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেন আফগান গুপ্তচররা।

২০০৬ সালে তৎকালীন পাকিস্তান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে আমরুল্লা দাবি করেন, পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ সংলগ্ন এলাকায় লুকিয়ে রয়েছেন ওসামা বিন লাদেন। ইসলামাবাদ তাঁকে আশ্রয় দেওয়ায় মাসুল গুনতে হচ্ছে আফগানিস্তানকে। আমরুল্লাহর এই দাবিতে তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুসারফ রেগেমেগে বৈঠক বাতিল করে দেন। পাঁচ বছর পর, ২০১১ সালে সেও অ্যাবোটাবাদেই পাক সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অদূরেই লাদেনের হদিশ মেলে। তার আগেই অবশ্য, ২০১০ সালে কারজাই সরকার থেকে বেরিয়ে যান আমরুল্লাহ। কারজাই তালিবানের প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। কারজাইয়ের সঙ্গ ছেড়ে বসেজ-ই-মিল্লি নামে আলাদা দলও গড়েন তিনি। ২০১৭ সালে নিজের দলের সদস্যদের নিয়ে আশরফ ঘানির সরকারে যোগ দেন। একবছর পর, ২০১৮ সালে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী হন। ২০২০ সালে দেশের উপরাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন।

১৪ আগস্ট তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করায় দেশ ছাড়েন প্রেসিডেন্ট আশরফ ঘানি। শোনা গিয়েছিল, দেশ ছেড়েছেন আমরুল্লাহও। কিন্তু তিনি টুইট করে জানিয়ে দেন, আফগানিস্তানেই রয়েছেন। তালিবানদের সামনে মাথা নোয়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। শুধু তাই নয়, তালিবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শক্তি সঞ্চয় করছেন। তাঁর ‘গুরু’ মাসুদের ছেলে আহমদ মাসুদ এবং গনি সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বিসমিল্লা খান মহম্মদির সঙ্গে মিলে পঞ্জসিরে তালিবানের বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাতে তিনিই নেতৃত্ব দেন।
এখনও পঞ্জশির দখল করতে পারেনি তালিবানরা। উলটে তাঁর মদতেই আহমেদ মাসুদ তালিবানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার জন্য আমেরিকার কাছে অস্ত্রসাহায্য চেয়েছেন বলেও মনে করছেন অনেকে।

তালিবানদের নিয়ে কাশ্মীর দখলের হুমকি হিজবুল মুজাহিদিন প্রধানের

hizbul mujahideens chief syed salahuddin

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। এবার সেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল ভারতেও। সৌজন্যে জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন। তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করার পরেই ভারতকে হুমকি দিয়ে একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন এই জঙ্গিনেতা। জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। এরা মূলত জম্মু ও কাশ্মীরকে পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের পক্ষে।

অডিও বার্তায় তিনি তালেবান জঙ্গিদের জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর জন্য সাহায্যের অনুরোধ জানান। অনলাইনে পোস্ট করা ওই বিবৃতিতে হিজবুল মুজাহিদিন প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যে তিনি আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতকে শক্তিশালী করুন যাতে তারা ভারতের বিরুদ্ধে কাশ্মীরিদের সমর্থন করতে পারে।”

hizbul mujahideens chief syed salahuddin

এদিকে, তালিবানিদের শান্তির আশ্বাস সত্ত্বেও, আফগান এবং বিদেশীরা কাবুল থেকে পালিয়ে চলেছে। মার্কিন জেনারেল বলেছেন, আগস্ট থেকে তালিবানি শাসন শুরুর পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭০০০ জনকে অন্য দেশে সরিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ভারতীয় সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি। মৃত্যুর পর তাঁর দেহকে পাকিস্তানি পতাকায় মুড়ে ঘোরানো হয় উপত্যকায়। সেই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন কাশ্মীরের প্রচুর মানুষ, যারা প্রত্যেকেই সমর্থন করেন সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনকে। সেই বুরহান ওয়ানির বাবা মোজাফফর ওয়ানি সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতীয় তেরঙ্গা উত্তোলন করেছেন।

হিজবুল মুজাহিদিনের ‘পোস্টার বয়’ ছিলেন বুরহান ওয়াদি। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিয়মিত কাশ্মীরি যুবকদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য অস্ত্রের ছবি পোস্ট করতেন এই কমান্ডার। ২০১০ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে হিজবুল মুজাহিদিনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর প্রায় ছ’মাস ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল কাশ্মীরজুড়ে।

গতকালও সেনার গুলিতে নিহত হয় দুই হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার পম্পোরে এনকাউন্টার শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমান অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম। ঠিক তার পরেই মুজাহিদিন কমান্ডারের এই ভিডিও বার্তা চিন্তা বাড়িয়েছে সরকারের।

ফের তালিবান সরকারের হর্তাকর্তা হচ্ছেন দেরাদুন মিলিটারি অ্যাকাডেমির ছাত্র স্তানিকজাই

নিউজ ডেস্ক: শেরু আবার আফগান সরকারের এক হর্তাকর্তা হবে। যে ছিল মজার ছেলে, সেই পরে হয় ভয়ঙ্কর তালিবান জঙ্গি। এমনই অদ্ভুত সব স্মৃতি আছে দেরাদুন মিলিটারি অ্যাকাডেমির ১৯৮২ সালের ব্যাচের পাস আউটদের।

আইএমএ দেরাদুনের নথি বলছে সেখানে সেনা অফিসার হিসেবে প্রশিক্ষিত হয়েছিল আফগানিস্তান থেকে আসা শের মহম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই। এই স্তানিকজাই ছিল প্রথম তালিবান জঙ্গি সরকারের উপপ্রধানমন্ত্রী। এখন দ্বিতীয় তালিবান সরকারের গুরুত্ব পদে বসতে চলেছে।

আরও পড়ুন আত্মসমর্পণের প্রশ্ন উড়িয়ে আমেরিকার কাছে অস্ত্রসাহায্য চাইলেন নিহত তালিবান-বিরোধী নেতার ছেলে

আইএমএ দেরাদুনে ভারত ও আফগান সরকারের মৈত্রী অনুসারে স্তানিকজাই এসেছিল সেনা অফিসারের ট্রেনিং নিতে। বন্ধুদের কাছে শেরু নামে পরিচিত ছিল।

ফের আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করেছে তালিবান জঙ্গি সংগঠন। আফগান প্রেসিডেন্ট হতে চলেছে তালিবানের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তথা বর্তমান উপপ্রধান মোল্লা আবদুল ঘানি বারাদার। দ্বিতীয় দফার এই তালিবান সরকারের অন্যতম আলোচিত নেতা স্তানিকজাই। ১৯৯৬-২০০১ প্রথম তালিবান সরকারের আমলে জঙ্গি নেতা ছিল আফগানিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী।

Sher Mohammad Abbas Stanikzai: Top Taliban leader Stanikzai trained by  Indian Military Academy - The Economic Times

ইন্ডিয়া টুডে, ইকোনোমিক্স টাইমস সহ বেশ কয়েকটি প্রথম সারির সংবাদপত্র স্তানিকজাই সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কোর্স শেষে স্তানিকজাই আফগানিস্তানে ন্যাশনাল আর্মিতে লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগ দেয়। পরে সেনাবাহিনি ছেড়ে জঙ্গি হয়।

তখন আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রক ছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন। সোভিয়েত বিরোধী সংঘর্ষে আমেরিকার মদত চলছিল। স্তানিকজাই মুজাহিদিন গোষ্ঠিতে নাম লেখায়। পরে তালিবান জঙ্গি সংগঠনের অন্যতম নেতা হয়।

আরও পড়ুন পাকিস্তানের পর এবার চিন, তালিবানদের ভূয়সী প্রশংসায় ভরাল বেজিং

নববই দশকে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সেনা প্রত্যাহারের পর ১৯৯৬ সালে দেশটির দখল নেয় তালিবান। কাবুলে প্রকাশ্যে খুন করা হয় সেভিয়েত অনুরাগী প্রেসিডেন্ট ডক্টর মহম্মদ নাজিবুল্লাহকে। তালিবান হামলার সেই ভয়াবহ ছবি দেখেছিল দুনিয়া।

<

p style=”text-align: justify;”>২০০১ সালে মার্কিন সেনা আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করলে তালিবান সরকারের পতন হয়। উপপ্রধানমন্ত্রী শের মহম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই পালায়। তারপর গত প্রায় এক দশক ধরে কাতারের রাজধানী দোহায় বসবাস করছে এই জঙ্গি নেতা। ২০১৫ সালে দোহা শহরে তালিবান তাদের রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেয় স্তানিকজাইকে।

আত্মসমর্পণের প্রশ্ন উড়িয়ে আমেরিকার কাছে অস্ত্রসাহায্য চাইলেন নিহত তালিবান-বিরোধী নেতার ছেলে

নিউজ ডেস্ক: কাবুলসহ আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকা তালিবানদের দখলে৷ দেশে তালিবানিরাজ কায়েম করলেও কিছু এলাকার মানুষ এই ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পতাকা তুলছে। তার মধ্যে অন্যতম হল নর্দান অ্যালায়েন্সের প্রাক্তন কমান্ডার আহমেদ শাহ মাসুদের শক্ত ঘাঁটি পঞ্জশির উপত্যকা। পঞ্জশিরের পর তালিবানের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত জালালাবাদেও শোনা গিয়েছে প্রতিরোধের সুর। এবার বিখ্যাত তালিবান-বিরোধী নেতা আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমেদ মাসুদ অস্ত্র সাহায্য চাইলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। তিনি জানিয়েছেন যেঁ তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তি তাদের আছে, কিন্তু তার জন্য আমেরিকার সাহায্য দরকার।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

আহমেদ মাসুদ বলেন, “আমি পঞ্জশির উপত্যকা থেকে লিখছি, আমার বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করার জন্য আমি প্রস্তুত। মুজাহিদিন যোদ্ধারা আবারও তালিবানদের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।” পঞ্জশিরে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষের বসবাস৷ কাবুলের উত্তর-পূর্ব উপত্যকায় মুজাহিদিনরা তাদের ঘাঁটি থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবানদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। এলাকাটি এতটাই বিপজ্জনক যে, ১৯৮০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তালিবানদের কব্জায় আসেনি এই উপত্যকাটি৷ শুধু তাই নয়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীও এই এলাকায় শুধুমাত্র বিমান হামলা চালিয়েছে৷ তারা কখনও কোনও পদাদিক বাহিনী পাঠানোর সাহস দেখাতে পারেনি৷

আহমদ শাহ মাসুদকে শের-ই-পঞ্জশির বলা হয়৷ তিনি ছিলেন এই অঞ্চলের সর্বশ্রেষ্ঠ সেনাপতি। এলাকার ভৌগোলিক কাঠামো এমন যে, কোন সেনাবাহিনী এই এলাকায় প্রবেশ করার সাহস দেখাতে পারে না। চারদিকে উঁচু পাহাড় দিয়ে ঘেরা এই অঞ্চলের মাঝখানে সমতল ভূমি রয়েছে। সেখানকার গোলকধাঁধা সবার জন্য সহজ হয় না৷

১৯৯০ -এর দশকে তালিবানদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় আহমেদ শাহ মাসুদ দারুণ প্রতিপত্তি অর্জন করেছিলেন। ভারতও তাদের সাহায্য করে আসছে। বলা হয়ে থাকে যে, একবার যখন তালিবানদের হামলায় আহমদ শাহ মাসুদ মারাত্মকভাবে আহত হন, তখন তাঁকে ভারত সরকার এয়ারলিফ্ট করে তাজিকিস্তানের ফারখোর এয়ারবেসে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করায়। এখানই ভারতের প্রথম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে৷ ভারত বিশেষ করে নর্দান অ্যালায়েন্সকে সাহায্য করার জন্য এই সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেছিল। তাঁর ছেলে মাসুদ জানিয়েছেন যে তিনি দেশের বিশেষ বাহিনীর প্রাক্তন সদস্য এবং আফগান সেনাবাহিনীর সৈন্যদের কমান্ডারদের তালিবানদের সামনে আত্মসমর্পণে বিরক্ত।

ফলে তালিবানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি, আর তার জন্য দরকার প্রচুর অস্ত্র, গোলা-বারুদ এবং আমেরিকান সাহায্য। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ার ছবিতে দেখা গেছে তালেবান যোদ্ধারা M4 এবং M18 অ্যাসল্ট রাইফেল, M24 স্নাইপার নিয়ে আইসনিক মার্কিন হামভিসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যার মোকাবিলা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্টের অস্ত্র সাহায্য প্রয়োজন।

পাকিস্তানের পর এবার চিন, তালিবানদের ভূয়সী প্রশংসায় ভরাল বেজিং

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান তালিবানদের দখলে। শুধু রাজত্বই নয়, আফগানিস্তান জুড়ে রীতিমতো রাজ করছে বন্দুকধারীরা। রোজই নৃশংসতার নতুন নতুন নজির সৃষ্টি করছে তারা। যা নিয়ে প্রতিবাদে নেমেছে প্রায় গোটা বিশ্ব। যদিও তাতেও ব্যতিক্রম দুটি দেশ। পাকিস্তান এবং চিন। ইসলামাবাদের তরফ থেকে আগেই সমর্থন করা হয়েছিল তালিবানদের।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

পাকিস্তানের পর এবার তালিবানদের ভূয়সী প্রশংসা করল চিন। বেজিংয়ের তরফ থেকে বলা হয়েছে, ‘তালিবান আর আগের মতো নেই। কট্টরপন্থা কমার পাশাপাশি কূটনৈতিক বুদ্ধি বেড়েছে তালিবান যোদ্ধাদের। যুক্তি দিয়ে বিচার করার প্রবণতাও বেড়েছে’। পাকিস্তান এবং চিন, দুই দেশেরই এই কাজ ভারতকে ব্যাকফুটে ফেলার জন্য বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু সমর্থনই নয়, দুই দেশের সঙ্গেই আফগানিস্তানের তালিবান গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন বাংলা বলায় পাকিস্তানি তকমা, বাজার করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার বৃদ্ধা সহ মহিলারা

আফগানিস্তানে ক্রমশ পিছিয়ে পড়েছিল তালিবানরা। সেখান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্টের সেনা প্রত্যাহার এবং গত কয়েক বছরে তালিবানের উত্থান প্রসঙ্গে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মন্তব্য, ‘কোনও কিছুই তো চিরকালের জন্য নির্দিষ্ট নয়। সবসময় শুধুমাত্র অতীত নিয়ে ভাবলে তো চলবে না। বর্তমানে কী ঘটছে সেটাও দেখতে হবে।’

আরও পড়ুন Jinping Plan: পারমাণবিক পরীক্ষা কেন্দ্রের কাছে নতুন টানেল খুঁড়ছে চিন

বেজিংয়ের আরও সংযোজন, ‘আফগানরা কী চাইছে সেটা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। তবে গতবার ক্ষমতায় থাকাকালীন তালিবান যা ছিল। আজ নেই। নারীদের উন্নয়ন এবং অধিকার পাইয়ে দেওয়ার বিষয়টিও প্রশংসনীয়। রাশিয়ার কয়েকজন রাজনীতিক এবং আন্তর্জাতিক কিছু সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্টে কাবুলে তালিবানের প্রবেশ সম্পর্কে প্রশংসা করা হয়েছে। সত্যিই তালিবানরা যুক্তিসঙ্গত আচরণ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি সমস্ত সমস্যা মিটিয়ে প্রগতিশীল ইসলামিক সরকার তৈরি করা হবে আফগানিস্তানে।’

তালিবান সরকারের অংশীদার হাক্কানি নেটওয়ার্ক সক্রিয় নেপাল থেকে উত্তরবঙ্গে

ISI backed afghan mikitant group Haqqani network

বিশেষ প্রতিবদেন: আফগানিস্তানে দ্বিতীয় তালিবান সরকারের অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব পেতে চলেছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গি সংগঠন। এই সংগঠন পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই মদতপুষ্ট। কাবুলে তালিবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাক্তন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের বৈঠকে হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান আনাস হাক্কানির ছবি দেখা গিয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যেহেতু হাক্কানি নেটওয়ার্ক দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে সংযোগ রাখে ফলে তাদের ততপরতা বাড়বে উত্তরবঙ্গে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে নেপালে থাকা হাক্কানি এজেন্টরা ফের সক্রিয়। তারা পশ্চিমবঙ্গের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনকে উস্কানি দিতে তৈরি। একইভাবে উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে হাক্কানি নেটওয়ার্কের যোগাযোগ আছে।
নেপালের সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জেলা। দার্জিলিং সংলগ্ন কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার জেলার স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক ততপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেই গোয়েন্দা বিভাগের অনুমান।

তাৎপর্যপূর্ন দুটি ঘটনা,
প্রথমত, ফের সক্রিয় হতে দেখা গিয়েছে কামতাপুর লিবারেশন অর্গানাইজেশন (KLO) সংগঠনকে। আত্মগোপনে থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা জীবন সিংহ সরাসরি ভিডিও বার্তায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে হুমকি দিয়েছে। কেএলও এমন সময়ে হুমকি দেয় যখম তালিবান ও আফগান সরকারের মধ্যে সংঘর্ষ চলছিল।

দ্বিতীয়ত, অনেকটা কাকতালীয় হলেও গত রবিবার যখন কাবুল দখল করছিল তালিবান জঙ্গিরা, ঠিক সেই সময় মেঘালয়ের রাজধানী শিলং ছিল বিচ্ছিন্নতাবাদী এইচএনএলসি (HNLC) সংগঠনের হামলায় বিপর্যস্ত। নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ ছিল অসহায়। তবে সংগঠনটির অভিযোগ তাদের নেতা অসুস্থ চেস্টারফিল্ডকে ঠান্ডা মাথায় এনকউন্টার করা হয়েছে। তারই প্রতিবাদ হয়েছে।

গোয়েন্দা কর্মকর্তারা দুটি ঘটনাকে তলিয়ে দেখছেন। তাঁদের অনেকের আশঙ্কা, উত্তরবঙ্গ ও উত্তর পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠিগুলির সঙ্গে হাক্কানি নেটওয়ার্কের একটা সংযোগ আগে থেকেই রয়েছে। আফগানিস্তানের ক্ষমতা তাদের হাতে চলে গিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এই সংগঠন ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলিকে উস্কানি দেবে।

উত্তর পূর্বাঞ্চলের সবকটি রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি গত কয়েকমাসে বিশেষ সক্রিয়। দীর্ঘ দেড় দশক বাদে ত্রিপুরার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা (NLFT) গুলি চালিয়েছে। তাদের গুলিতে দুই বিএসএফ জওয়ানের মৃত্যু হয়। গত কয়েকমাস ধরেই উত্তরপূর্বের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠির ততপরতা বেশি। ত্রিপুরা ও মিজোরা সীমানায় বিরাট আগ্নেয়াস্ত্র চালান ধরা পড়ে। বাংলাদেশের অতি নিকটে এই চোরাচালান চলছিল। হাক্কানি নেট ওয়ার্ক বাংলাদেশে সক্রিয়।

গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিশ্লেষণে উঠে এসেছে যেহেতু উত্তর পূর্বের প্রথম সারির বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতৃত্ব চিন ও মায়ানমারে থাকে, ফলে হাক্কানির পক্ষে তাদের সঙ্গে ‘কনটাক্ট’ করা সহজ। নেপাল সরকারের কাছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক বিষয়ে সতর্কবার্তা রয়েছে। কিন্তু নেপালেও রাজনৈতিক টালমাটাল পরিস্থিতি। এই সুযোগ নেবে আফগানিস্তান সরকারের শরিক হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গি গোষ্ঠী।

সম্প্রতি সরকার বদল হয়েছে নেপালে। নেপালি কমিউনিস্ট পার্টির নির্বাচিত সাংসদদের বড় অংশ সমর্থন হারান ওলি। আস্থাভোটে পরাজিত হন। সরকারে এসেছে নেপালি কংগ্রেস। তবে এই সরকার নড়বড়ে। নেপালের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন কে পি ওলির সঙ্গে চিনের অতিরিক্ত সখ্যতা নিয়ে কাঠমাণ্ডু ও নয়াদিল্লির মধ্যে সম্পর্ক বারে বারে গরম হয়। একইভাবে নেপালের অভ্যন্তরে চিনা কূটনীতিকর বড়সড় প্রভাব পড়ে। চিন এখন আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের প্রতি নরম।

নেপালে বরাবর সক্রিয় পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। তাদের মদত পায় হাক্কানি নেটওয়ার্ক। নেপাল থেকে তারা নাশকতার পরিকল্পনা করবে বলেই আশঙ্কা। আফগানিস্তানে প্রথম তালিবান সরকারের (১৯৯৬-২০০১) আমলে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের IC814 বিমান অপহরণ কাঠমাণ্ডু থেকেই হয়েছিল। কান্দাহারে সেই বিমান নামায় পাক জঙ্গিরা। মাসুদ আজাহারের মুক্তির বিনিময়ে যাত্রীদের ছাড়ায় ভারত সরকার।

শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

অনুভব খাসনবীশ: গোটা আফগানিস্তান তালিবানদের দখলে। দেশে তালিবানিরাজ কায়েম করেছে। তা সত্ত্বেও এখনও এমন অনেক এলাকা আছে, যেখানে মানুষ এই ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পতাকা তুলছে। তার মধ্যে অন্যতম হল নর্দান অ্যালায়েন্সের প্রাক্তন কমান্ডার আহমেদ শাহ মাসুদের শক্ত ঘাঁটি পঞ্জশির উপত্যকা। পঞ্জশিরের পর তালিবানের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত জালালাবাদেও শোনা গিয়েছে প্রতিরোধের সুর। সেই প্রতিরোধের মুখ হয়ে উঠেছেন মহিলারা। শুধু মহিলারাই নন, জালালাবাদে বুধবার সকালেই আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা হাতে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নামে সাধারণ মানুষ।

আরও পড়ুন মধ্যমেধা নাকি গবেষণার অভাব? ওয়েব সিরিজে জেলা পুলিশ কমিশনার পদ সৃষ্টি করলেন অঞ্জন দত্ত

এছাড়াও গত কয়েকদিন ধরেই দেখা গিয়েছে বীরত্বের টুকরো টুকরো ছবিও। তালিবানি ফতোয়া উপেক্ষা করে মহিলা অ্যাঙ্করকে দিয়ে প্রাইম-টাইম শো শুরু করেছে আফগানি নিউজ চ্যানেল। রাজপথে দাড়িয়ে তালিবানি বন্দুকধারীদের প্রশ্ন করেছে মহিলা সাংবাদিকরা। যেখানে গত কয়েকদিন ধরেই মহিলাদের অন্ধকূপে ঠেলে দেওয়ার মতো একাধিক ফতোয়া জারি করেছে তালিবানি সরকার, সেখানে এই কয়েক টুকরো ছবিই হয়ে উঠেছে ‘বেয়নেটের ডগায় ফুলের’ মতো তাৎপর্যপূর্ণ।

শামসিয়া হাসানি, আফগানিস্তানের প্রথম মহিলা গ্রাফিতি শিল্পী।

এবার সেই দলেই যুক্ত হলেন শামসিয়া হাসানি। ২১ বছরের এই তরুণী কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের ছাত্রী। তাঁর আরও একটি পরিচয় রয়েছে, তিনি আফগানিস্তানের প্রথম মহিলা গ্রাফিতি শিল্পী। অবশ্য ‘যুক্ত হলেন’ কথাটা এক্ষেত্রে কতটা খাটবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ বহুদিন ধরেই নিজের গ্রাফিতিতে, ডিজাইনে, ছবিতে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এই তরুণী। তাঁর সৃষ্টিতে ফুঁটে উঠছে আফগানিস্তানের মহিলা সুরক্ষা, তাদের জীবন, তালিবানিরাজ প্রভৃতি বিষয়। তালিবানিরাজ কায়েম হওয়ার পর থেকেই আফগানভূমে বিপন্ন হয়ে পড়েছিল শিল্প-সংস্কৃতি। সেখানে ‘প্রথম মহিলা গ্রাফিতি শিল্পী হয়ে যিনি এই বেড়াজাল ভেঙেছেন, তিনি তালিবানি ফতোয়ার পরোয়া করবেনই বা কেন?

পিয়ানো হাতে দাঁড়িয়ে এক আফগান কিশোরী, পেছনে সশস্ত্র তালিবানদের দল।
বন্দুক হাতে উদ্যত তালিবানের সামনে ফুল হাতে দাঁড়িয়ে এক কিশোরী।
আফগান কিশোরীর হাতের ফুলের টব ফেলে দিয়েছে বন্দুকধারী তালিবান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা শামসিয়ার প্রতিটি ছবি দেখলেই বোঝা যায় তাঁর অর্থ। আপাতদৃষ্টিতে প্রায় প্রত্যেকেরই সেই অর্থ বোধগম্য হলেও তার গভীরতা অতল। তাঁর ছবির কোনওটিতে এক আফগান কিশোরীর হাতের ফুলের টব ফেলে দিয়েছে বন্দুকধারী তালিবান, কোনওটিতে পিয়ানো আঁকড়ে ধরে থাকা কিশোরীকে ঘিরে ধরেছে হিংস্র তালিবানদের দল। প্রত্যেকটি ছবিই যেন বলছেন বন্দুকের সামনে, হিংস্রতার সামনে হেরে যাচ্ছে শিল্প, সংস্কৃতি, স্বাধীনতা। পরক্ষনেই তিনি আঁকছেন হাতে ফুল নিয়ে কামানদাগা গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক তরুণী। যেন তালিবানি বন্দুকবাজদের চোখে চোখ রেখে প্রশ্ন করছেন নির্ভীক তরুণীরা।

আরও পড়ুন পঞ্জশিরের পর জালালাবাদ, বাড়ছে তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সুর

২০১২ সালের ৯ অক্টোবর। দুই বন্ধুর সঙ্গে পরীক্ষা দিয়ে ফেরার পথে মাথায় গুলি করা হয়েছিল মালাল ইউসুফজাইকে। মালালা ছিলেন দেশের মহিলাদের সুরক্ষা, শিক্ষা নিয়ে সোচ্চারে কথা বলা একজন। সেকারণেই বছর পনেরোর মালালাকে সরানোর চেষ্টা চালিয়েছিল তেহরিক-ই-তালিবানের পাকিস্তানি শাখা। বেঁচে ফেরার পর মালালা হয়ে ওঠেন ইয়ুথ আইকন, পান ‘নোবেল পিস প্রাইজ’ও। প্রত্যেকটি ইভেন্টে তাঁর বক্তব্যে শোনা যায় ধর্মান্ধতা, কুসংস্কারতা, হিংস্রতার (পড়ুন ‘তালিবান’দের) কবলে পড়লে মহিলাদের কি অবস্থা হয়। শামসিয়ার ছবি যেন মালালার বক্তব্যগুলিরই শৈল্পিকরুপ।

হাতে ফুল নিয়ে কামানদাগা গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে এক তরুণী।
যুদ্ধ-বিমানের সামনে কাগজের প্লেন ওড়াচ্ছে এক আফগান কিশোরী।

শামসিয়া অন্যান্য কিছু সিরিজের ছবিগুলি ভালো করে লক্ষ্য করলে দেখা মিলবে আরেকটি জিনিসের। হিংস্রতা, ধর্মান্ধতা, যন্ত্রনার বিপরীতে যা অনেক বেশি শক্তিশালী, ‘আশা’। শামসিরার ছবিতে দেখা মিলবে যুদ্ধ বিমানের সামনেও কাগজের প্লেন (স্বাধীনতা, আনন্দ, আবেগের প্রতীক) ওড়াচ্ছে এক কিশোরী। মালালার মতো তিনিই দিনের শেষে দেখেন স্বাধীন, সন্ত্রাসমুক্ত আফগানিস্তানের ছবি। যেই ছবি তালিবানদের কবলে না পড়ে, আফগানিস্তানের বাসিন্দা না হয়ে, রবি ঠাকুরের কাবুলিওয়ালার গল্পে-ছবিতে সে দেশকে চিনে আপনি, আমি প্রত্যেকে দেখছি, দেখার চেষ্টা করছি।

পঞ্জশিরের পর জালালাবাদ, বাড়ছে তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের সুর

নিউজ ডেস্ক: কাবুলসহ আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকা তালিবানদের দখলে৷ দেশে তালিবানিরাজ কায়েম করেছে৷ তাসত্বেও এখনও এমন অনেক এলাকা আছে, যেখানে মানুষ এই ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পতাকা তুলছে। তার মধ্যে অন্যতম হল নর্দান অ্যালায়েন্সের প্রাক্তন কমান্ডার আহমেদ শাহ মাসুদের শক্ত ঘাঁটি পঞ্জশির উপত্যকা।

আরও পড়ুন পঞ্জশির: আফগান এই উপত্যকা এখনও তালিবানরা দখল করতে পারেনি

এবার তালিবানের শক্ত ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত জালালাবাদেও শোনা গেল প্রতিরোধের সুর। আর সেই প্রতিরোধের মুখ হয়ে উঠলেন মহিলারা। একসময় নিজেদের হাতে থাকা জালালাবাদে বুধবার সকালেই প্রতিরোধের মুখে পড়ে তালিবান। আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা হাতে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাস্তায় নামে সাধারণ মানুষ।

At least 3 killed in protest against Taliban in Jalalabad

জুলাই মাসের শুরুতে যখন তালিবান আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে আক্রমণ শুরু করে, তখন তারা প্রতিরোধ ছাড়াই অনেক জায়গা জিতে নেয়। বলা হচ্ছে, আফগান ন্যাশনাল আর্মির সৈন্যদের মধ্যে খবর ছড়িয়েছিল যে, শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা তালিবানদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। যোগাযোগের অভাব এবং অস্ত্রের অভাবও সৈন্যদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল। এই কারণে আফগান সেনাবাহিনীর জওয়ানরা অনেক এলাকায় একটিও গুলি খরচ না করে তালিবানদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। কিন্তু পঞ্জশিরের পর জালালাবাদেও প্রতিরোধের মুখে পড়ল তালিবানরা। যদিও সেনাবাহিনী নয়, প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন সাধারণ মানুষরাই।

তালিবান বিরোধী এই গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন সদ্য-প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আশরফ গনির ‘ডেপুটি’ আমরুল্লা সালেহ। তিনি বুধবারই ঘোষণা করেছেন, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। তিনি টুইট করে বলেন, আমি কোনও অবস্থাতেই তালিবান জঙ্গিদের কাছে মাথা নত করব না। আমি কখনই আমাদের নায়ক কমান্ডার, কিংবদন্তি এবং গাইডের আহমেদ শাহ মাসুদের চেতনা এবং উত্তরাধিকারকে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। আমার কথা শোনার লক্ষ লক্ষ মানুষকে আমি হতাশ করব না। আমি কখনই তালিবানদের সঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকব না। কখনও না।

উত্তর-মধ্য আফগানিস্তানের এই এলাকা দিয়েই কাবুল থেকে মাজার-শরিফের পথ গিয়েছে। বিরোধী জোটের এই প্রত্যাঘাতের ফলে দেশের উত্তরাঞ্চলে তালিবানের অবস্থান কিছুটা নড়বড়ে হয়ে গেল বলেই কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছেন। বিশেষ করে জালালাবাদকে এতদিন তালিবানদের শক্ত ঘাঁটি বলে দাবি করা হচ্ছিল। ক্ষমতা দখলের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই সেখানে বিক্ষোভের মুখে তালিবানরা।

পঞ্জশির: আফগান এই উপত্যকা এখনও তালিবানরা দখল করতে পারেনি

panjshir-province-taliban-free

বিশেষ প্রতিবেদন: কাবুলসহ আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকা তালিবানদের দখলে৷ দেশে তালিবানিরাজ কায়েম করেছে৷ তাসত্বেও এখনও এমন অনেক এলাকা আছে, যেখানে মানুষ এই ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পতাকা তুলছে। তার মধ্যে অন্যতম হল নর্দান অ্যালায়েন্সের প্রাক্তন কমান্ডার আহমেদ শাহ মাসুদের শক্ত ঘাঁটি পঞ্জশির উপত্যকা।

রাজধানী কাবুলের খুব কাছেই এই উপত্যকাটি৷ এখানে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষের বসবাস৷ এলাকাটি এতটাই বিপজ্জনক যে, ১৯৮০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তালিবানদের কব্জায় আসেনি এই উপত্যকাটি৷ শুধু তাই নয়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীও এই এলাকায় শুধুমাত্র বিমান হামলা চালিয়েছে৷ তারা কখনও কোনও পদাদিক বাহিনী পাঠানোর সাহস দেখাতে পারেনি৷

মনে করা হচ্ছে আফগান ভাইস প্রেসিডেন্ট সালেহ এই এলাকায় লুকিয়ে আছেন
আফগানিস্তানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহও এই এলাকার বাসিন্দা। রবিবার তিনি টুইট করে বলেন, আমি কোনও অবস্থাতেই তালিবান জঙ্গিদের কাছে মাথা নত করব না। আমি কখনই আমাদের নায়ক কমান্ডার, কিংবদন্তি এবং গাইডের আহমেদ শাহ মাসুদের চেতনা এবং উত্তরাধিকারকে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। আমার কথা শোনার লক্ষ লক্ষ মানুষকে আমি হতাশ করব না। আমি কখনই তালিবানদের সঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকব না। কখনও না।

তালিবান আজ পর্যন্ত পঞ্জশির দখল করতে পারেনি
জুলাই মাসের শুরুতে যখন তালিবান আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে আক্রমণ শুরু করে, তখন তারা প্রতিরোধ ছাড়াই অনেক জায়গা জিতে নেয়। বলা হচ্ছে, আফগান ন্যাশনাল আর্মির সৈন্যদের মধ্যে খবর ছড়িয়েছিল যে, শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা তালিবানদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। যোগাযোগের অভাব এবং অস্ত্রের অভাবও সৈন্যদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল। এই কারণে আফগান সেনাবাহিনীর জওয়ানরা অনেক এলাকায় একটিও গুলি খরচ না করে তালিবানদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। তবে, পঞ্জশির একমাত্র প্রদেশ যা এখনও তালিবানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে৷

সোভিয়েত সেনাবাহিনীও ঢুকতে পারেনি
উত্তর-মধ্য আফগানিস্তানের এই উপত্যকাটি ১৯৭০ এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন বা ১৯৯০ এর দশকে তালিবানদের দখলে ছিল না। আহমদ শাহ মাসুদ৷ যাকে শের-ই-পঞ্জশির বলা হয়৷ তিনি ছিলেন এই অঞ্চলের সর্বশ্রেষ্ঠ সেনাপতি। এলাকার ভৌগোলিক কাঠামো এমন যে, কোন সেনাবাহিনী এই এলাকায় প্রবেশ করার সাহস দেখাতে পারে না। চারদিকে উঁচু পাহাড় দিয়ে ঘেরা এই অঞ্চলের মাঝখানে সমতল ভূমি রয়েছে। সেখানকার গোলকধাঁধা সবার জন্য সহজ হয় না৷

Ahmad Massoud, son of the slain hero of the anti-Soviet resistance Ahmad Shah Massoud
আহমদ মাসুদ, সোভিয়েত বিরোধী প্রতিরোধ আহমদ শাহ মাসুদ এর নিহত বীর আহমদ শাহ মাসুদের পুত্র

আফগানদের নায়ক ছিলেন আহমেদ শাহ মাসুদ
১৯৯০ -এর দশকে তালিবানদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় আহমেদ শাহ মাসুদ দারুণ প্রতিপত্তি অর্জন করেছিলেন। ভারতও তাদের সাহায্য করে আসছে। বলা হয়ে থাকে যে, একবার যখন তালিবানদের হামলায় আহমদ শাহ মাসুদ মারাত্মকভাবে আহত হন, তখন তাঁকে ভারত সরকার এয়ারলিফ্ট করে তাজিকিস্তানের ফারখোর এয়ারবেসে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করায়। এখানই ভারতের প্রথম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে৷ ভারত বিশেষ করে নর্দান অ্যালায়েন্সকে সাহায্য করার জন্য এই সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেছিল।

আমেরিকানরা ঘরে ফেরেনি, তারা পালিয়েছে: রাশিয়া সংবাদমাধ্যম

U.S. completes 90 percent of Afghanistan withdrawal

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান দখলের লড়াইয়ে তালিবানের বিজয় ঘোষণার দুদিন পর সেখানে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য আমেরিকাকে দায়ী করে তীব্র সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছে রাশিয়ায় আজকের সংবাদপত্রগুলোতে।

সরকারি সংবাদপত্র রসিইসকায়া গেজেটায় বিদেশনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক ফিয়োদোর লুকিয়ানফ আফগানিস্তানের ঘটনাবলীকে একটা ‘চরম বিশৃঙ্খলা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ”আমেরিকার মদতপুষ্ট প্রশাসন তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়েছে৷ আমেরিকানরা ঘরে ফেরেনি, তারা পালিয়েছে।”

বিবিসির মস্কো সংবাদদাতা স্টিভ রোজেনবার্গ টুইটারে সংবাদপত্রগুলোর পর্যালোচনা করেছেন। তিনি বলছেন পত্রিকাগুলোর শিরোনাম হয়েছে মূলত এরকম: “একটা চরম বিশৃঙ্খলা”, ”পশ্চিমা বিশ্ব এবং জো বাইডেনের জন্য পাহাড়-প্রমাণ রাজনৈতিক অপমান”। একটি পত্রিকা এমন প্রশ্নও তুলেছে: “রাশিয়াকে কি এখন আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠাতে হবে?”

https://twitter.com/BBCSteveR/status/1427553647693504522?s=20

অন্যদিকে, মঙ্গলবার তালিবান তাদের যোদ্ধাদের নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা কারও বাড়িতে প্রবেশ না করে৷ রাস্তায় কোন দূতাবাসের গাড়ি চলাচলে বাধা না দেয়৷ বিশেষ করে রাজধানী কাবুলে। এই নির্দেশ জারি করেছেন তালিবানের উপনেতা মোলাভি ইয়াকুব। তালিবান যোদ্ধারা লুটপাটের ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে এরকম খবরের পর ইয়াকুব নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করা এক বার্তা জারি করেছেন।

তালিবান আফগানিস্তানে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা শুরু করেছে। সব সরকারি কর্মচারীদের তারা কাজে ফিরতে বলেছে এবং তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। যারা লুটপাটের সঙ্গে জড়াবে, ধরা পড়লে তাদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালিবান। কাবুলের অনেক জায়গায় এদিন রুটি এবং ওষুধের দোকান খুলেছে৷ রাস্তা ঘাটে আরও বেশি গাড়ি চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।

কাবুলে একটি টিভি অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে একজন মহিলা উপস্থাপক এক তালিবান নেতার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। তালিবান বিশ বছর আগে যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এটা অকল্পনীয় ছিল। প্রথম সারির টিভি চ্যানেল, টোলো নিউজ তাদের এক মহিলা সংবাদদাতার ছবি টুইট করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে রিপোর্টিং করছেন।

তবে কাফেতে, দোকানে বা গাড়িতে এখন আর কোন গান বাজতে শোনা যাচ্ছে না। বড় বড় পোস্টারে বা বিজ্ঞাপনে যেসব মহিলার মুখ আছে, সেগুলো রঙ দিয়ে মুছে দেওয়া হচ্ছে।
মনে করা হচ্ছে, তালিবানের কিছু শীর্ষ নেতা কাবুলে একটি সংবাদ সম্মেলন করছেন। যেখানে নতুন সরকার এবং দেশটির ভবিষ্যত রূপরেখা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা তারা জানাচ্ছেন৷

আফগান পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোদীর জরুরি ক্যাবিনেট বৈঠক

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আগ্রাসন দেশজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী। আমেরিকার সামরিক কার্যালয় পেন্টাগনের তরফ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, তিনমাসের মধ্যেই কাবুল দখল করে ফেলবে তালিবানরা। কিন্তু দু’দিনের মধ্যেই কাবুলে ঢুকে রাজধানী শহর দখল করতে শুরু করে তালিবানরা। বর্তমানে তালিবানদের কব্জায় আফগানিস্তান।

আরও পড়ুন তালিবানি ফতোয়া, পোশাক বদলে হিজাব পরলেন সাংবাদিক ক্লারিসা

তা নিয়েই আজ জরুরি বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থা, তালিবানরাজ, বৈদেশিক সম্পর্ক, ভারতের নিরাপত্তা ইত্যাদি নিয়ে নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন স্রিলা, আফগানিস্তানে ভারতের রাষ্ট্রদূত রুদ্রেন্দ্র ট্যান্ডন। এদিনই আফগানিস্তান থেকে বায়ুসেনার বিমানে ভারতে ফিরে আসেন তিনি।

আরও পড়ুন ই-রুপি: নতুন ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সূচনা করলেন নরেন্দ্র মোদী

আফগানিস্তানের রাশ নিজের হাতে নিয়েছে তালিবানরা। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আসরাফ ঘানি। দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও। তালিবানদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানের আকাশে কোনও অসামরিক বিমান চলাচল করতে পারবে না। যদিও তারমধ্যেও ভারত ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের সদস্য সহ আফগানিস্তানে আটকে থাকা প্রায় ১৩০ জন ভারতীয় নাগরিককে বিশেষ বিমানে দেশে ফিরিয়ে এনেছে।

তালিবানি ফতোয়া, পোশাক বদলে ‘হিজাব’ পরলেন সাংবাদিক ক্লারিসা

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আগ্রাসন দেশজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী। আমেরিকার সামরিক কার্যালয় পেন্টাগনের তরফ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, তিনমাসের মধ্যেই কাবুল দখল করে ফেলবে তালিবানরা। কিন্তু কাল দুপুর থেকেই কাবুলে ঢুকে রাজধানী শহর দখল করতে শুরু করে তালিবানরা।

আরও পড়ুন তালিবানরাজে সুরক্ষিত নন মহিলারা, উদ্বেগ প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী Rhea Chakraborty

তালিবানদের কাবুল দখল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক তারকাই এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশেষ করে আফগানিস্তানে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন অনেকে। কারণ দেশ দখলের পর থেকে মহিলাদের ছবি দেওয়া পোস্টার ঢেকে দিতে শুরু করেছে তালিবানরা। ফলে দেশে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই।

ক্লারিসা ওয়ার্ড। তালিবানদের ক্ষমতা দখলের আগে এবং পরে।

এবার সেই ছবিই যেন উঠে এল টিভির পর্দায়। কাবুলের রাস্তায় রিপোর্টিং করছিলেন সিএনএন নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিক ক্লারিসা ওয়ার্ড। তালিবানরা কাবুল দখল নেওয়ার আগেই তিনি একই শহর থেকে রিপোর্টিং করেছিলেন, সেদিন তাঁর পরনে ছিল সালোয়ার। কিন্তু তালিবানরা শহর দখল নেওয়ার পরই পোশাক পাল্টেছে তাঁর, এদিন দেখা গেল হিজাব পরে রিপোর্টিং করছেন তিনি। সিএনএন রিপোর্টার ক্লারিসা কাবুল থেকে রিপোর্ট করেছেন যে তাকে একজন মহিলা হওয়ার কারণে পাশে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল তালিবানদের পক্ষ থেকে। এই ছোট্ট আদেশই যেন নিশ্চিত করেছে যে দেশের মহিলাদের জীবন আমূল বদলে গেছে। ক্লারিসা বলছিলেন, “ওরা (তালিবান) শুধু ‘আমেরিকা মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিচ্ছে, যদিও ওদের দেখে বন্ধুত্বপূর্ণ বলেই মনে হচ্ছে।” এই দৃশ্যই অবাক করেছে ক্লারিসাকে।

আরও পড়ুন দেশ দখল করেছে তালিবানরা, আইপিএল খেলা নিয়ে সংশয়ে রশিদ-নবিরা

ক্লারিসা একজন আন্তর্জাতিক পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক। তাঁর ছবি দেখে আফগানিস্তানের অবস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। প্রত্যেকেরই প্রশ্ন, একজন আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলের সাংবাদিককে যদি তালিবানদের ফতোয়া মেনে নিয়ে ‘সাধারণ পোশাকের’ বদলে হিজাব পরে সাংবাদিকতা করতে হয় এবং শুধুমাত্র মহিলা হওয়ার কারণে তাকে পাশে সরে দাঁড়াতে বলা হয়, তাহলে দেশের সাধারণ মহিলাদের অবস্থা খুব সহজেই অনুমেয়। ক্লারিসাও জানিয়েছেন, তালিবানরা কাবুল দখল করার পর রাস্তায় মহিলাদের চলাচল প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছে।

কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি ছবি। ১৯৪০ এর দশকে কাবুলের রাস্তায় হাঁটছেন কিছু তরুণী, প্রত্যেকেরই পরনে আধুনিক পোশাক, স্কার্ট। কিন্তু শতকের শেষে তালিবানরা আসার পরেই ছবিটা বদলে যায়। ক্রমশ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয় আফগানিস্তানের মেয়েদের। সেই চিত্রই যেন ধরা পড়ল ক্লারিসা ওয়ার্ডের ভাইরাল ছবিতে।

ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের রাশ নিজের হাতে নিয়েছে তালিবানরা। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও। তালিবানদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানের আকাশে কোনও অসামরিক বিমানও চলাচল করতে পারবে না।

আফগান নাগরিকদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রোলড সিদ্ধার্থ শুক্লা

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আগ্রাসন দেশজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী। আমেরিকার সামরিক কার্যালয় পেন্টাগনের তরফ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, তিনমাসের মধ্যেই কাবুল দখল করে ফেলবে তালিবানরা। কিন্তু কাল দুপুর থেকেই কাবুলে ঢুকে রাজধানী শহর দখল করতে শুরু করে তালিবানরা।

আরও পড়ুন তালিবানরাজে সুরক্ষিত নন মহিলারা, উদ্বেগ প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী Rhea Chakraborty

তালিবানদের কাবুল দখল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক তারকাই এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশেষ করে আফগানিস্তানে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন অনেকে। কারণ দেশ দখলের পর থেকে মহিলাদের ছবি দেওয়া পোস্টার ঢেকে দিতে শুরু করেছে তালিবানরা। ফলে দেশে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই। তাছাড়াও একাধিক ভিডিওতে তালিবান নাগরিকদের অবস্থা দেখে হতাশ গোটা বিশ্ব।

ইনস্টাগ্রামে এই পোস্ট করেই ট্রোলড হন অভিনেতা।

তার জন্যই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লা। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের কপালে হাত দেওয়া একটি সাদা-কালো ছবি পোস্ট করেন অভিনেতা। ক্যাপশনে লেখেন, “আফগানিস্তানের জন্য কষ্ট হচ্ছে। মানবতা এখনও বেঁচে আছে?” তারপরেই ব্যাপক ট্রোলের মধ্যে পড়েন তিনি।

আরও পড়ুন হাতিয়ার আফগান সমস্যা, ব্যর্থ বাইডেনের পদত্যাগ চাইলেন ট্রাম্প

জনৈক নেটনাগরিক লিখেছেন, “যা খুশি করুন। কিন্তু এগুলো করবেন না।” একটি মিম পেজ তার পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে লিখেছে, “ইয়ে কৌনসা তারিকা হ্যে আফসোস জাতানে কা (এটা দুঃখ প্রকাশ করার কেমন কায়দা)।”

আরও পড়ুন এবারে শীতে বড় পর্দায় আসতে চলেছে দেব-রুক্মিণীর ‘কিশমিশ’, প্রকাশ্যে ছবির অ্যানিমেটেড টিজার

ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের রাশ নিজের হাতে নিয়েছে তালিবানরা। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আসরাফ ঘানি। দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও। তালিবানদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানের আকাশে কোনও অসমারকি বিমান চলাচল করতে পারবে না।

দেশ দখল করেছে তালিবানরা, আইপিএল খেলা নিয়ে সংশয়ে রশিদ-নবিরা

স্পোর্টস ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতিতে অর্ধেক হয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। খুব তাড়াতাড়িই বাকি অর্ধেক টুর্নামেন্ট শুরু হবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে। কিন্তু তাতে কি যোগ দিতে পারবেন আফগানিস্তানের দুই ক্রিকেটার রশিদ খান ও মহম্মদ নবি? তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুন হাতিয়ার আফগান সমস্যা, ব্যর্থ বাইডেনের পদত্যাগ চাইলেন ট্রাম্প

অন্যদিকে ইতিমধ্যেই গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আগ্রাসন দেশজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী। আমেরিকার সামরিক কার্যালয় পেন্টাগনের তরফ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, তিনমাসের মধ্যেই কাবুল দখল করে ফেলবে তালিবানরা। কিন্তু কাল দুপুর থেকেই কাবুলে ঢুকে রাজধানী শহর দখল করতে শুরু করে তালিবানরা।

আরও পড়ুন তালিবানরাজ কায়েম হতেই দেশ ছাড়লেন আফগান প্রেসিডেন্ট

ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের রাশ নিজের হাতে নিয়েছে তালিবানরা। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আসরাফ ঘানি। দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও। তালিবানদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানের আকাশে কোনও অসমারকি বিমান চলাচল করতে পারবে না। এদিকে দুই আফগান ক্রিকেটার রশিদ খান ও মহম্মদ নবি এখন ইংল্যান্ডে।

আরও পড়ুন সমর্থকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে আইএসএলে এখনও অনিশ্চিত লাল-হলুদ

দুজনেরই পরিবার আটকে রয়েছে কাবুলে। ঠিক ছিল ইংল্যান্ড থেকে সোজা দুবাইয়ে পৌঁছে যাবে আইপিএলের দ্বিতীয়ার্ধের খেলা খেলতে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তাদের কাবুলে ফেরা জরুরি। তারমধ্যেই সোমবার সকাল থেকেই তো মার্কিন সেনাদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছেনে তালিবানদের। দেশ ছাড়ার চেষ্টায় রয়েছেন আফগান নাগরিকরা।

আরও পড়ুন অভাবের সংসারে হাল ধরতে সবজি বিক্রি করছেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার

এই পরিস্থিতিতে মন দিয়ে আইপিএল খেলাও যে দুষ্কর তা ভালই বুঝতে পারছে দুই ক্রিকেটারের আইপিএল দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

কাবুল বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী

নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য সহযোগী দেশের কূটনৈতিক এবং কর্মীদের সরিয়ে নিতে কাবুল বিমানবন্দরের পুরো নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে আমেরিকান সৈন্যরা। তারা এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে।

তালিবানরা কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হাজারে হাজারে মানুষ রাজধানী থেকে থেকে পালাতে চাইছে৷ তাদের দূরে সরিয়ে রাখতে বিমানবন্দরের রানওয়েতে কাঁটাতারের বেড়াও দিয়েছে মার্কিন সৈন্যরা। বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বেশিরভাগ স্থগিত হয়ে রয়েছে। ফলে হাজার হাজার সাধারণ আফগান এবং বিদেশি নাগরিক বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন।

অন্যদিকে দেশ ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি৷ তালিবানরা কাবুল দখলের বেশ কয়েক ঘণ্টা বাদে রীতিমতো ফেসবুকে পোস্ট করে বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন, তালিবান কাবুল নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই রবিবার আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি৷

রবিবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, তিনি একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন৷ তিনি কি সশস্ত্র তালিবানের মুখোমুখি হবেন? নাকি যে দেশের জন্য ২০টি বছর দিয়েছেন, সেই দেশ ছেড়ে যাবেন। তিনি লিখেছেন, ‘’আমাকে সরিয়ে দিতে তালিবানরা পুরো কাবুল ও বাসিন্দাদের ওপর হামলা করতে এসেছে। রক্তপাত এড়াতে দেশ ছেড়ে যাওয়া ভালো হবে বলে আমি মনে করেছি,’’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘’তরবারি আর বন্দুকের ওপর নির্ভর করে তারা বিজয়ী হয়েছে। এখন আমাদের দেশবাসীর সম্মান, সম্পদ আর আত্মমর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও তাদের,’’ তবে আশরাফ গনি তাজিকিস্তান নাকি উজবেকিস্তান গিয়েছেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

তালিবানের কাবুল দখলের আগেই দেশ ছেড়েছি: ফেসবুকে আশরাফ গনি

Ashraf Ghani on Facebook

নিউজ ডেস্ক: অবশেষে দেশ ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি৷ তালিবানরা কাবুল দখলের বেশ কয়েক ঘণ্টা বাদে রীতিমতো ফেসবুকে পোস্ট করে বিশ্ববাসীকে জানালেন গনি৷ তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তালিবান কাবুল নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই রবিবার আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি৷

রবিবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, তিনি একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন৷ তিনি কি সশস্ত্র তালিবানের মুখোমুখি হবেন? নাকি যে দেশের জন্য ২০টি বছর দিয়েছেন, সেই দেশ ছেড়ে যাবেন। তিনি লিখেছেন, ‘’আমাকে সরিয়ে দিতে তালিবানরা পুরো কাবুল ও বাসিন্দাদের ওপর হামলা করতে এসেছে। রক্তপাত এড়াতে দেশ ছেড়ে যাওয়া ভালো হবে বলে আমি মনে করেছি,’’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘’তরবারি আর বন্দুকের ওপর নির্ভর করে তারা বিজয়ী হয়েছে। এখন আমাদের দেশবাসীর সম্মান, সম্পদ আর আত্মমর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও তাদের,’’ তবে আশরাফ গনি তাজিকিস্তান নাকি উজবেকিস্তান গিয়েছেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করা ৭২ বছর বয়সী আশরাফ গনি দীর্ঘদিন বিদেশে কাটিয়েছেন। ২০০১ সালে তালিবানের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। ২০১৪ সালে তিনি প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য পুনঃনির্বাচিত হন।

এদিকে সোমবার তালিবান নেতারা আফগান বাসিন্দাদের ক্ষতি না করতে মুজাহিদিনদের নির্দেশন দিয়েছে৷ কাবুলের এক বাসিন্দাআয়শা খুররম একটি টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, আজ সকালে তিনি ঘুম থেকে উঠেছেন তাদের বাসার দরজার বাইরে চিৎকার আর গুলির শব্দ শুনে।

তিনি বলছেন, মানুষজন বলাবলি করছিল যে, মুজাহিদিনরা ঘরে ঘরে গিয়ে গাড়ি এবং ধনসম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু যখনি তারা শুনতে পেয়েছে যে, তালিবান কর্মকর্তারা আসছে, তারা দৌড়ে পালিয়েছে।

এর মাত্র এক ঘণ্টা আগেই তালিবান পুনরায় নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছে যে, তারা আফগান বেসামরিক নাগরিকদের কোনরকম ক্ষতি না করার জন্য যোদ্ধাদের নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, কাবুলে প্রবেশের সময় তুলনামূলক উদার মনোভাব প্রদর্শন করেছে তালিবান।

হাতিয়ার আফগান সমস্যা, ‘ব্যর্থ’ বাইডেনের পদত্যাগ চাইলেন ট্রাম্প

আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবানরা। তাজিকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট ঘানি। তারপরেই বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনর পদত্যাগ দাবি করলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কার্যত দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প জানিয়ে দেন, “আফগানিস্তানে যে লজ্জাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য প্রেসি়ডেন্ট জো বাইডেনের উচিত পদত্যাগ করা।”

আরও পড়ুন তালিবানদের হয়ে যুদ্ধ করতে আফগানের পথে বাংলাদেশি জঙ্গিরা: পুলিশ কমিশনার

আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ৯/১১ হামলার পরই তাদের ন্যাটো বাহিনী দখল নেয় আফগানিস্তানের। প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় আফগান সেনাদের, জেলবন্দি করা হয় তালিবানদের। বিশ্বজুড়ে আল কায়েদার যে দাপট ছিল, তাও নিয়ন্ত্রণে আনে মার্কিন সেনা। লক্ষ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্ত্রাসমুক্ত করা। কিন্তু ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তালিবানদের সঙ্গে দোহায় চুক্তি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই চুক্তিতে বলা হয়, আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে মার্কিন সেনা, কিন্তু আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বন্ধ রাখবে তারা। অন্য সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে আমেরিকায় হামলা করা থেকে বিরত রাখারও চেষ্টা করবে তালিবানরা।

এই চুক্তির পরেই নির্বাচনে হেরে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে ক্ষমতায় বসেন জো বাইডেন। কিন্তু, ক্ষমতায় এসেও তিনি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকেই পূনর্বহাল রাখেন। উল্টে জানান, এই বছরের সেপ্টেম্বরের আগেই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। আমেরিকার ভবিষ্যতবানী ছিল, আগামী তিন মাসের মধ্যে আফগানিস্তান দখল করবে তালিবানরা। যদিও সে হিসেব উল্টে তিনদিনের মধ্যে কাবুল দখল করেছে তালিবানরা।

Jamaat-Hefazat leaders determined to create Taliban state in Bangladesh

অনেক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞই ভেবেছিলেন, তালিবানদের বাড়বাড়ন্ত দেখে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখবেন বাইডেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত না বদলে বাইডেন জানান, “আফগান নেতাদের একজোট হতেই হবে। আফগানিস্তানের সেনার সংখ্যা তালিবানদের তুলনায় অনেক বেশি। তাদের দেশের জন্য লড়াই চালাতেই হবে।” এরপরেই বাইডেনকে কটাক্ষ করে আমেরিকানদের উদ্দেশ্য করে টুইট করেন ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “আমায় মিস করছেন কি?” শুধু তাই নয়, আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি, অর্থনীতি সহ নানা বিষয়েও বাইডেনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

Ekolkata24 এখন টেলিগ্রামেও

আফগান সংকটমোচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত মিলছে

russian army kazakhstan

নিউজ ডেস্ক: এক সময় আফগানিস্তান থেকে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ দূর করতেই তালিবান জঙ্গিদের জন্ম দিয়েছিল আমেরিকা৷ সেই তালিবানের সঙ্গে নিয়েই আমেরিকার ট্যুইন টাওয়ার ধ্বংস করেছিল ওসামা বিন লাদেনের আল কায়দা৷ তাই লাদেনের আশ্রয়দাতা আফগানিস্তান থেকে তালিবান উৎখাতে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ৷ ২০ বছরের যুদ্ধ শেষে কার্যত পরাস্ত আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার করেছে আফগানিস্তান থেকে৷ বাইডেনের নির্দেশে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাত্র একমাসের মধ্যে আফগানে ফের তালিবান শাসক কায়েম হল৷

সেই সেই আফগানিস্তানকে বাঁচাতে ত্রাতার ভূমিকা নিতে চলেছে প্রাক্তন কেজিবি প্রধান তথা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন৷ রবিবার তালিবানরা কাবুলের প্রেসিডেন্ট ভবনের দখল নেওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছেন ক্রেমলিনের কর্তারা৷ আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আলোচনার জন্য রাশিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক ডাকার পরিকল্পনা করছে। বিদেশ নীতি বিষয়ে রুশ সংসদের একজন মুখপাত্র বলেছেন, মানবিক বিপর্যয় রোধ করা এখন খুবই জরুরি। মনে করা হচ্ছে, আফগানিস্তানকে তালিবান শাসন মুক্ত করতে ঘুঁটি সাজাচ্ছে ক্রেমলিন৷ ইতিমধ্যে সাবেক সোভিয়েত আফগান সীমান্ত যেটি এখন তাজিকিস্তানের অধীনে পড়ে, সেখানেই বিপুল পরিমান রুশ সেনা, সাঁজোয়া গাড়ি, ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন শুরু করেছে রাশিয়া সরকার। তাদের সঙ্গে রয়েছে তাজিক সেনা ও আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসা সেনাকর্মীরা।

Russian intervention in resolving the Afghan crisis

নব্বই দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন অবলুপ্ত হয়। তখনই তাজিকিস্তান স্বাধীন দেশ হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করে। এর পরেও তাজিকিস্তানে রুশ সেনার সবথেকে বড় সেনা ঘাঁটি রয়েছে। ক্রেমলিন কোনওদিনই আফগান সীমান্তকে অবহেলা করেনি। এবার তা করবে না বলেই মনে করা হচ্ছে৷

ইইউর একজন মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে বলেছেন, আফগানিস্তানে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে কিনা এবং মহিলাদের অধিকার মেনে চলা হচ্ছে কিনা, তার ওপর নির্ভর করবে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে কিনা।
অন্যদিকে ভ্যাটিকানে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই আফগানিস্তানে দীর্ঘমেয়াদে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রিটিশ সংসদে গ্রীষ্মকালীন ছুটির মধ্যে এই সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকেছেন।

আশির দশকে আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধের সুযোগে সে দেশে ঢুকেছিল ততকালীন সোভিয়েত লাল ফৌজ। তাদের সঙ্গে আফগান ধর্মীয় সংগঠনগুলির সংঘর্ষ হয়। তবে আফগানিস্তানের নিমন্ত্রণ নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন।নব্বই দশকে সোভিয়েত পতনের পর আফগানিস্তান থেকে সরে যায় লাল ফৌজ। দেশটির দখল নিতে ধর্মীয় গেরিলা সংগঠনগুলি থেকে জন্ম নেয় তালিবান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদতে আফগানিস্তানে তাদের জয় হয়, এটি প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

তালিবান জঙ্গি সরকার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসা, আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধংস, আল কায়েদা সংগঠনের প্রধান লাদেনের আফগানিস্তানে আত্মগোপন সবমিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেনা পাঠায় এ দেশে। সম্প্রতি সেই সেনা সরতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে তালিবান ফের হামলা চালাচ্ছে। প্রায় অরক্ষিত আফগানিস্তানে এবার কি তালিবান নিধনে রুশ সেনা ঢুকবে?