BIG UPDATES: কাশ্মীর দখলে তালিবানদের সাহায্য চাইল মুম্বই হামলার মূলচক্রী মৌলানা মাসুদ আজহার

jaish chief masood azhar

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। তারপরেই পাকিস্তানের জইশ-ই-মহম্মদ নেতা মৌলানা মাসুদ আজহার (Masood Azhar) জম্মু-কাশ্মীরে দখলের জন্য তালিবানদের সহযোগিতা চাইলেন। সূত্র উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে গোপন বৈঠক সারতে কান্দাহারও গিয়েছিলেন তিনি।

২৬/১১ মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী মাসুদ আজহারের সঙ্গে বৈঠক করে তালিবান নেতা মোল্লা আবদুল গণি বরাদার। আফগানিস্তানে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। দেশে শরিয়তি আইন কায়েম হওয়াতে গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে দেখা গিয়েছে কট্টরপন্থীদের। তালিবানদের আফগানিস্তান দখল এবং আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করার জন্য ‘আল্লাকে ধন্যবাদ জানাতে’ ২৭ আগস্ট একটি অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে। এবার মাসুদ আজহারের কাশ্মীর দখলের স্বপ্নে তালিবানদের সামিল করায় জল্পনা আরও বাড়ল।

কয়েক দিন আগে মাসুদ আজহার “মার্কিন সমর্থিত আফগান সরকারকে” হটিয়ে ক্ষমতা দখল করায় তালিবানদের প্রশংসা করেছিলেন। জইশ-ই-মহম্মদ নেতা “মঞ্জিল কি তারফ” (গন্তব্যের দিকে) শিরোনামের একটি নিবন্ধে আফগানিস্তানে “মুজাহিদিনের সাফল্যের” প্রশংসা করেছেন। পাকিস্তানের বাহওয়ালপুর মারকাজে জইশ-ই-মহম্মদ কর্মীদেরও তালিবানদের বিজয়ের আনন্দে অভিনন্দন বিনিময় করতে দেখা গিয়েছে।

১৯৯৯ সালে মাসুদ আজহারের মুক্তির পর থেকেই জইশ-ই-মহম্মদ জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে শুরু করে। কাঠমান্ডু থেকে লখনউ যাওয়ার পথে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক করে পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীরা। এরপর ফ্লাইটটি আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে যাওয়া হয়, সেসময় আফগানিস্তান শাসন করছিল তালিবানরা। ফলে চাপে পড়ে মাসুদ আজহারকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল ভারত সরকার।

চলতি মাসে ক্ষমতা দখলের পর এক বিবৃতিতে তালিবানরা জানিয়েছে, আফগান ভূখণ্ড কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের জন্য ব্যবহার করা হবে না। যদিও ইন্ডিয়ান ইনটেলিজেন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী তালিবানদের কাবুল দখলের পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাস এবং দেশের গুরুত্বপূর্ন অঞ্চলে নাশকতার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে।

কাশ্মীর ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিষয়: তালিবান
আফগানিস্তান দখল করার কয়েকদিন পরেই তালিবানরা কাশ্মীরের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়। সরকারীভাবে জানিয়ে দেয়, এটি একটি “দ্বিপক্ষীয়; এবং ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়”। সংবাদ সংস্থা এএনআই (Asian News International) জানিয়েছে, পাকিস্তানের ঘটনা তালিবানদের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একেবারেই মেলে না।

মাসুদের সুর শোনা গিয়েছে ইমরান খানের দলের নেত্রী মুখেও:
তালিবানের সাহায্যেই ভারতের হাত থেকে কাশ্মীরকে স্বাধীন করবে পাকিস্তান! প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর এক নেত্রী এই দাবিই করেছেন টিভি চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠানে। নীলম ইরশাদ শেখ নামের ওই নেত্রী সোজাসুজি বলেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।” আফগানিস্তান্মে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। এবার কার্যত তাতেই শীলমোহর দিল তহেরিক-ই-ইনসাফ নেত্রী। শোয়ের শেষদিকে তিনি আবার তিনি জানান, তালিবানের পাশে পাকিস্তান যেভাবে দাঁড়িয়েছে তাতে আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্ব খুব খুশি। তার প্রতিদানেই কাশ্মীর দখলে পাকিস্তানকে সাহায্য করবে তারা।

এর কয়েকদিন আগেও ইসলামাবাদের প্রভাবশালী সংগঠন জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ-উল-হক হাক্কানি তালিবানের কাবুল জয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। তালিবান ও লস্করের জঙ্গিদের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতেও দেখা গিয়েছিল সেদেশের বিভিন্ন সংগঠনগুলিকে।

জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ সাংবাদিক সন্মেলনে জানিয়েছিলেনন, ‘বিশ্বের উচিত আফগানিস্তানে এক্ষুনি তালিবান সরকারকে মান্যতা দেওয়া।’ শুধু তাই নয়, আমেরিকা এবং ভারতের মদতেই এতদিন আফগানিস্তানে অশান্তি লেগে ছিল। এবার ইমরান খানের দলের নেত্রীর মুখেও একই সুর শোনায় আবার নতুন করে ভারতে জঙ্গিহামলার আশঙ্কা বেড়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতমস্তকে বাইডেন: প্রবীণ কমিউনিস্ট ভিয়েতকং গেরিলারা ফিরলেন সোনালি অতীতে

Photo of Biden from Afghanistan news conference goes viral

নিউজ ডেস্ক: শতাব্দী পেরিয়েছে, গত শতকের সত্তরের দশকে ভিয়েতনামে (Vietnam war) চরম পরাজয়ের ছায়া এখনও হোয়াইট হাউসে (White House) লম্বা হয়ে পড়ে। এ যেন রীতিমতো এক ‘অভিশাপ’-যেটা আরও কত শতাব্দী বইবে মার্কিন সরকার তা অজানা। ভিয়েতনাম যুদ্ধে পরাজয়ের পর মার্কিন  (USA) প্রেসিডেন্ট নিক্সন মাথা নামিয়েছিলেন। সেই ঘটনা ফিরে এসেছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden) আফগানিস্তান ইস্যুতে হতাশার চরমে পৌঁছে গেছেন। তিনিও মাথা নামালেন।

Photo of Biden from Afghanistan news conference goes viral
বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden) আফগানিস্তান ইস্যুতে হতাশার চরমে পৌঁছে গেছেন। তিনিও মাথা নামালেন

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধম্য, সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মাথা নামানোর ছবি। বৃহস্পতিবার আফগান রাজধানী তথা তালিবান (Taliban) অধিকৃত কাবুলের বিমান বন্দরের ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। সেই রক্তাক্ত ঘটনার পর সাংবাদিক সম্মেলনে বাইডেন ছিলেন হতাশ। তবে তিনি শেষ দেখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিস্ফোরণে শতাধিক মৃত। মৃত তালিকায় আছে মার্কিন সেনা।

হোয়াইট হাউসে বাইডেনের মাথা নামানোর ছবি দেখে ১৯৬০-৭০ দশকের প্রবীন ভিয়েতকং গেরিলা কমান্ডার ও যোদ্ধারা ফিরে গিয়েছেন তাঁদের সোনালি জয়ের মুহূর্তে। প্রবল শক্তিশালী মার্কিন সেনা, তাদের অন্যতম সহযোগী ফরাসি সেনাকে পরাজিত করে ভিয়েতনাম স্বাধীনতার যুদ্ধে জয়ী হয়, নেতৃত্বে ছিলেন কিংবদন্তি কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক হো চি মিন।

Richard Nixon
ভিয়েতনাম যুদ্ধে পরাজয়ের পর মার্কিন  (USA) প্রেসিডেন্ট নিক্সন মাথা নামিয়েছিলেন

ভিয়েতনাম যুদ্ধ অতীত। তবে যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে তৎকালীন মার্কিন সেনার দখলে থাকা দক্ষিণ ভিয়েতনামের সায়গনের পতন আলোচিত হয়। যেমনটা হয়েছে গত ১৫ আগস্ট কাবুল থেকে মার্কিন সেনা নিয়ে বিমান উড়ে যাওয়ার ছবি বের হওয়ার পর। সেই দিনই দ্বিতীয়বারের জন্য আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবান জঙ্গিরা।

বিবিসি জানায়, কাবুল তালিবান দখলে যেতেই আমেরিকান দূতাবাস থেকে হেলিকপ্টারে লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। এ যেন সেই ১৯৭৫ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানী সায়গন থেকে মার্কিন সেনা ও দূতাবাসকর্মীদের চলে যাওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ‘৭৫ সালের ৩০শে এপ্রিল সায়গনের দখল নেয় ভিয়েতনামের গেরিলা বাহিনি। ফটোগ্রাফার হিউবার্ট ফন এস এমন একটি ছবি তুলেছিলেন যা ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। ছবিতে ধরা পড়ে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ দিনগুলিতে সায়গন শহরের মানুষ হুড়োহুড়ি করে একটি হেলিকপ্টারে উঠে পালিয়ে যাচ্ছে।

Vietnam war
‘৭৫ সালের ৩০শে এপ্রিল সায়গনের দখল নেয় ভিয়েতনামের গেরিলা বাহিনি। ফটোগ্রাফার হিউবার্ট ফন এস এমন একটি ছবি তুলেছিলেন যা ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল

সায়গন দখল করেছিল ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি। ভিয়েতকং গেরিলা যোদ্ধাদের ভয়ে ভীত মার্কিন সেনা তখন পালাতে ব্যাস্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের ততকালীন সংবাদাতারা এখন অতি বৃদ্ধ। তাঁরা সেই ঘটনার স্মৃতিতে রেখে দিয়েছেন। ঠিক তেমনই প্রবীণ ভিয়েতকং যোদ্ধারা মনে রেখেছেন তাঁদের সায়গন দখলের কথা।

‘ভিয়েতনামের যুদ্ধ’ বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম রাজনৈতিক বাঁক। সেই যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি চরম ধিকৃত হয় বিশ্বে। খোদ মার্কিন মুলুকেই বিক্ষোভ প্রবল আকার নিয়েছিল। আর ভিয়েতনামে চলছিল ভয়ঙ্কর লড়াই।
বিবিসি জানাচ্ছে, যুদ্ধের দুই পক্ষ, উত্তর ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট সরকার বনাম দক্ষিণ ভিয়েতনামের সরকার ও তাদের সমর্থক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। যুদ্ধ চলেছিল প্রায় ২০ বছর ধরে। ব্যয়বহুল যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকা ছিল আলোড়িত।

ভিয়েতনাম যুদ্ধে উত্তর ভিয়েতনামকে সমর্থন করছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তার কমিউনিস্ট মিত্র দেশগুলি। আর দক্ষিণ ভিয়েতনামকে সমর্থন করছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা। যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর লক্ষ লক্ষ সেনা ভিয়েতনামে মোতায়েন করা হয়েছিল।

গত কুড়ি বছর ধরে আফগানিস্তানেও মার্কিন সেনা ছিল। বিশাল খরচ বহন করছিল ওয়াশিংটন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন আফগান নীতির পরিবর্তন আনেন। সরানো শুরু হয় সেনা। এই গত দু দশকে জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত মার্কিন সেনা তাদের গায়ে শেষ বড় ক্ষত নিয়ে দেশে ফিরছে।

তালিবান জঙ্গি সরকারের গঠন কেমন হতে পারে, কারা থাকছে

নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত যে নিয়ম রয়েছে তালিবান সংগঠনের সেটার ভিত্তিতেই সরকার গড়তে চলেছে তালিবান। আফগানিস্তানের তাদের এই দ্বিতীয় দফার সরকারে পুরনো প্রেসিডেন্ট ভিত্তিক দেশ থাকতে নাও পারে। এখানেই প্রশ্ন, তালিবান সরকার কি তাদের আমীরতন্ত্র চালু করবে আফগানিস্তানে ?

আরও পড়ুন শতাধিক মৃতদেহে রক্তাক্ত কাবুল, CIA-তালিবান বৈঠকের পরেই কেন বিস্ফোরণ ?

গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তানের নাম পাল্টে দেয় তালিবান। নতুন নাম হয়েছে ইসলামি আমীরশাহি আফগানিস্তান। পাল্টে দেওয়া হয়েছে জাতীয় পতাকা। এই নিয়ে দেশটির জাতীয় পতাকা ১৯ বার পাল্টেছে। এখন তালিবান সংগঠনের পতাকা উড়ছে কাবুল প্যালেসে।

ফরেন পলিসি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়ক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের ওয়েব ম্যাগাজিনে লেখা হয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এমন কিছু গঠনতন্ত্র আনতে চলেছে যাতে প্রেসিডেন্ট পদ থাকতেও না পারে। সেক্ষেত্রে আমীর পদ ফের চালু করবে তালিবান জঙ্গিরা।

আফগান সম্প্রচার মাধ্যম আরিয়ানা নিউজ জানাচ্ছে, দেশ শাসনের জন্য ১২ সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠন করতে যাচ্ছে তালিবান। এই কাউন্সিলে থাকতে পারেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। আফগান পুনর্গঠন কাউন্সিলের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এবং ইসলামিক পার্টির নেতা গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার। তিনজনেই আফগান রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। হেকমতিয়ার প্রাক্তন মুজাহিদিন, যিনি সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে অংশ নেন। আফগান গৃহযুদ্ধের সময় তাঁর ভূমিকা বিতর্কিত বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

তালিবান জনসংযোগ বিভাগ জানাচ্ছে, গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে এই তিন নেতাকে নিয়েছে একটি সমন্বয় কাউন্সিল গঠন করা হয়। তারা ধারাবাহিকভাবে তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ফরেন পলিসি জানাচ্ছে, আফগানিস্তান শাসন করতে ১২ সদস্যের কাউন্সিল গঠন করবে তালিবান। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য প্রশাসন গঠনে মরিয়া থাকাতে চায় এই মারাত্মক জঙ্গি সংগঠনটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত অপসারিত আশরাফ ঘানির সরকারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে এই কাউন্সিলে যুক্ত করতে পারে তালিবান।

কাউন্সিলের তিন প্রধান হবে তালিবানের সহ প্রতিষ্ঠাতা আবদুল ঘানি বারাদার, তালিবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা মহম্মদ ইয়াকুব এবং তালিবান সহযোগী জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্ক ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে হাক্কানি নেটওয়ার্ক প্রধান জঙ্গি নেতা আনাস হাক্কানির সঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের বৈঠকের ছবি প্রকাশ হয়েছে। আফগান বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কারজাইকে বিশেষ পদ দেওয়া হবে। কারণ তিনিই ছিলেন তালিবান ও পূর্বতন আফগান সরকারের মধ্যে শান্তি বৈঠকের অন্যতম নেতা।

তালিবান কী রকম সরকার গড়বে, কেউ জানে না। তবে এই সরকারকে সমর্থন দিতে চাইছে একের পর এক দেশ। রাশিয়া, চিন, ইরান, ইংল্যান্ড এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সমর্থন দেবে বলেই ইঙ্গিত। কাবুলে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার প্রধানের সঙ্গে তালিবান বৈঠকের পর প্রচুর প্রশ্ন উঠে আসছে।

যে তালিবান গত জঙ্গি জমানায় প্রকাশ্যে মাথা কাটার সরকার গড়েছিল তাদের চরিত্র কি বদলেছে ? কাবুল দখল করার পর গত ১৫ আগস্ট তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানায়, এই তালিবান সেই আগের তালিবান নয়। তবে আফগানিস্তান থেকে ইতিমধ্যেই একের পর গণহত্যার খবর আসছে। লাল তারিখ ৩১ আগস্ট। মার্কিন সেনা পুরোপুরি ছাড়বে আফগানিস্তান। তারপর কী হবে, প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলের।

শতাধিক মৃতদেহে রক্তাক্ত কাবুল, CIA-তালিবান বৈঠকের পরেই কেন বিস্ফোরণ ?

নিউজ ডেস্ক: বিশ্ববিখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, যাদের কাজ বিভিন্ন দেশে অস্থিরতা তৈরি করে সরকার ফেলে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখা-তাদের প্রধানের সঙ্গে তালিবান জঙ্গিদের বৈঠকের পরেই বিস্ফোরণের আগাম বার্তা ও সেই বিস্ফোরণে রক্তাক্ত চেহারা দেখছে বিশ্ব। আর শতাধিক মানুষের মৃতদেহ নিয়ে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এখন ভয়াবহ ছবি।

তবে আফগান সংবাদ মাধ্যমের খবর, বিমান বন্দর থেকে সব দেহ সরানো হয়েছে, রাতভর লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে মৃতের সংখ্যা। শুক্রবার সকালে শতাধিক মৃত্যু হয়েছে। আরও মৃত্যুর আশঙ্কা।

বৃহস্পতিবার কাবুল বিমান বন্দরে বিস্ফোরণের পরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ও আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া তালিবান জঙ্গিদের বক্তব্যে সবটাই মিল। দুই তরফের দাবি হামলা করেছে ইসলামিক স্টেট খোরাসান। অই সংগঠনটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত শাখা।

খোরাসান একটি পুরনো ঐতিহাসিক শব্দ। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের কিছু অংশ নিয়ে খোরাসান ছিল। সেখানেই সক্রিয় তালিবান বিরোধী ইসলামিক স্টেট। সেই ইসলামিক স্টেট (আইএস) এরই মধ্যে বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে। এমন জানাচ্ছে রয়টার্স। তবে এর মধ্যেই প্রশ্ন, তালিবান চোখ এড়িয়ে কাবুলে আইএস হামলা যদি সত্যি হয় তাহলে এই তালিবান অন্দরে দূর্বল।

এও প্রশ্ন, সম্প্রতি তালিবান জানিয়েছে কোনও আফগান নাগরিককে বিদেশে যেতে দেওয়া হবে না। তবুও কাবুল এয়ারপোর্টে হাজার হাজার আফগানি হাজির। ন্যুনতম বিদেশের যোগসূত্র নিয়ে ছাড়পত্র পেতে মরিয়া। আগামী ৩১ আগস্ট মার্কিন সেনা পুরো সরে গেলে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে ভেবেই যে যার নিকটস্থ সীমান্ত পেরিয়ে বিদেশে যেতে মরিয়া।

তালিবানের দাবি, কাবুল বিস্ফোরণে তাদের কয়েকজন মৃত। আমেরিকার দাবি, বিস্ফোরণে তাদের কয়েকজন সেনা মৃত। কাবুল বিমান বন্দরের ভিতরে আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশের সেনা আছে। বাইরের গেটে তালিবান পাহারায়। কোন অবস্থায় ইসলামিক স্টেট বিস্ফোরক বোঝাই করে পাঠাল সেটা নিয়েই প্রশ্ন করছেন বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

আমি বেঁচে আছি, টুইট করে জানালেন টলো নিউজের ‘মৃত’ সাংবাদিক

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান তালিবানদের দখলে। রোজই শোনা যাচ্ছে তাদের অকথ্য অত্যাচারের গল্প। শরিয়তি আইনের পালন এবং নিজেদের নৃশংস মানসিকত্যার নতুন নতুন নজির তাঁরা সৃষ্টি করছে রোজ। হঠাৎ করে আফগানিস্তান থেকে উধাও হয়েছে গণতন্ত্র। চতুর্থ স্তম্ভ গণমাধ্যমকেও ছাড়ছে না তালিবানি জঙ্গিরা। কয়েকদিন আগে খবর পাওয়া গিয়েছিল কাবুলে রিপোর্ট করার সময় তালিবানরা টলো নিউজের আফগান রিপোর্টার, জিয়র ইয়াদ এবং তাঁর সহকারী চিত্র সাংবাদিককে মারধর করে। বিভিন্ন মিডিয়ার করা খবর অনুযায়ী, তালিবানদের অত্যাচারে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। যদিও সহকারী ক্যামেরাপার্সনের বিষয়ে বিশদে কিছু জানা যায়নি।

https://twitter.com/ziaryaad/status/1430771529101479943?s=20

এবার বিশ্বের নানা প্রান্তের মিডিয়ায় মেরে দেওয়া সাংবাদিক নিজে টুইট করে জানালেন, তিনি বেঁচে আছেন। টোলো নিউজের রিপোর্টার জিয়ার ইয়াদ টুইট করে জানিয়েছেন, “কাবুলের নিউ সিটিতে আমাকে তালিবানরা আমাকে মারধর করেছিল। ক্যামেরা, প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং আমার মোবাইল ফোনও ছিনতাই করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু মানুষ আমার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে দিয়েছে যা মিথ্যা। তালেবানরা একটি সাঁজোয়া ল্যান্ড ক্রুজার থেকে বের হয়ে আমাকে বন্দুকের আঘাত করে। আহত হলেও আমার মৃত্যুর খবর ভুয়ো।”

আরও পড়ুন কথা রাখল তালিবান, কাবুল এয়ারপোর্টে বিস্ফোরণে রক্তাক্ত, ভারতীয়দের খবর নেই

আরেকটি টুইটে তিনি লিখেছেন, “আমি এখনও জানি না কেন তালিবানরা হঠাৎ আমাকে আক্রমণ করেছিল। বিষয়টি তালিবান নেতাদের জানানো হয়েছে; তবে, অপরাধীদের এখনও গ্রেপ্তার করা হয়নি। গণমাধ্যমের ওপর হামলা মত প্রকাশের স্বাধীনতার জন্য মারাত্মক হুমকি।” 

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

যদিও তালিবানরা আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর থেকেই কাবুলে গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে৷ রাজধানী শহর কাবুলের বিভিন্ন এলাকা থেকে গুলি চলার খবর জানাচ্ছে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই খবর জানাচ্ছে সংবাদ সংস্থাটি৷ সংবাদমাধ্যম সহ অন্যান্যদের ওপরেও হামলার ঘটনা ঘটছে গোটা আফগানিস্তান জুড়েই। 

কথা রাখল তালিবান, কাবুল এয়ারপোর্টে বিস্ফোরণে রক্তাক্ত, ভারতীয়দের খবর নেই

blast at kabul airport

নিউজ ডেস্ক: কোনও সাধারণ আফগানিকে আর আফগানিস্তান থেকে বের হতে দেব না। হুঁশিয়ারি দিয়েছিল তালিবান জঙ্গিরা। ফলে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল ফটকের ভিতর আফগান যাত্রীদের অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ভিতরে ঢুকতে হচ্ছিল।

পরিস্থিতি যখন এমন, তখন কথা রাখল তালিবান। বৃহস্পতিবার বিমান বন্দরের মাঝেই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে রানওয়ে তে নামার জন্য চক্কর কাটছিল জার্মান বিমান বাহিনির একটি বিমান। তখনই হয় নাশকতা।

blast at kabul airport

মনে করা হচ্ছে, কাবুল বিমান বন্দরের ভিতরের পাহারায় থাকা আমেরিকান সেনার চোখ এড়িয়ে আত্মঘাতী হামলা ঘটিয়েছে তালিবান জঙ্গিরা। যারা দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানের ক্ষমতা গত ১৫ আগস্ট দখল করেছে।

তবে তালিবান এই হামলার কথা স্বীকার করেনি। বিবিসি জানাচ্ছে, কাবুল বিমান বন্দরের রানওয়ে জুড়ে বহু দেহ পড়ে। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। আল জাজিরা, রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, বেশ কয়েকজন আমেরিকান সেনা গুরুতর জখম। কয়েকজন মৃত। তবে মৃতদের বেশিরভাগই সাধারণ আফগানি। যারা দেশ ছেড়ে পালাতে চাইছেন বিদেশে।

সেখানে আটকে বহু মানুষ যাদের মধ্যে রয়েছেন বেশকিছু ভারতীয়। গত কয়েকদিন ধরেই অন্যান্য দেশের নাগরিকদের মতো ভারতীয়দের উদ্ধার করছে বায়ুসেনা। এর মাঝে হলো বিস্ফোরণ। ধোঁয়ায় ঢেকে থাকা কাবুল বিমান বন্দরে এখন মৃতদেহ ছড়িয়ে।

পতনের মুখে পঞ্জশির? তালিবান থমকে, রুশ সাহায্য চান মাসুদ

Biden keeps to August 31 deadline for Kabul airlift

নিউজ ডেস্ক: ‘পঞ্জশিরের সিংহ’ বাবা আহমেদ শাহ মাসুদের মারাত্মক তালিবান বিরোধিতার পথেই এবারও গর্জন করছেন পুত্র মাসুদ। কিন্তু পঞ্জশির বাদে পুরো আফগানিস্তানের কব্জা এখন তালিবান দখলে। বিশ্বশক্তি ইতিবাচক বার্তা দিতে শুরু করেছে। আর তালিবানি শরিয়া আইন বিরোধী গোষ্ঠী নর্দান অ্যালায়েন্স লড়াই চালাচ্ছে।

আফগান সংবাদ মাধ্যমের খবর, পঞ্জশির দখলে মরিয়া তালিবান। তাদের নেতা হাইবাখান্দা আখুন্দাজাদা কোনওভাবেই আফগান মাটিতে বিরোধী শক্তির অবস্থান চায় না। তালিবান মিলিটারি কাউন্সিল তথা জঙ্গি সংগঠনটির সর্বচ্চো এই নেতার নির্দেশ যে করেই হোক পঞ্জশির দখল করতে হবে।

এদিকে পঞ্জশির থেকে প্রত্যাঘাত শুরু হয়েছে তালিবান বিরোধী আফগান শক্তির। পঞ্জশিরের বর্তমান শাসক আহমেদ মাসুদ জানিয়েছেন কোনও অবস্থায় তালিবানকে মেনে নেওয়া হবে না।

অপর একটি তালিবান বিরোধী শক্তি আফগান মার্শাল আবদুল রশিদ দোস্তাম গেরিলা কায়দায় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেই খবর। তিনি মাজার ই শরিফের শাসক ছিলেন। গত ১৫ আগস্ট তালিবান জঙ্গিরা দ্বিতীয়বার কাবু্ল দখল করার কিছু আগে তিনি দেশত্যাগ করে সীমান্তবর্তী উজবেকিস্তানের গোপন আস্তানায় চলে যান।

সোভিয়েত জমানার আফগান মার্শাল দোস্তাম ও সোভিয়েত বিরোধী পঞ্জশিরের সিংহ আহমেদ শাহ মাসুদের দোস্তি ছিল তীব্র আলোচিত। তাঁর প্রয়াণের পর দোস্তামের সঙ্গে জুনিয়র মাসুদের সম্পর্ক অটুট। দোস্তাম বার্তা পাঠিয়ে লড়াই জারি রাখতে বলেছেন।

কিন্তু কাবুল থেকে বেশি দূরে নয় পঞ্জশির। ফলে তালিবান তার পুরো শক্তি ব্যবহার করছে এই এলাকা দখলের। পঞ্জশির থেকে তারই জবাব দিয়ে চলেছেন জুনিয়র মাসুদ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর, পঞ্জশিরের দোরগোড়ায় থমকে গিয়েছে তালিবান। তবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন আহমদ মাসুদ। এই অবস্থায় তালিবানের সঙ্গে আলোচনার পথ নিতে চলেছেন তিনি। এই বিষয়ে রাশিয়া সরকারের সাহায্য চেয়েছেন।

রুশ সংবাদমাধ্যমের খবর,তালিবান বিরোধী গোষ্ঠীর আহমদ মাসুদ বলেন, আমি আশা করছি রাশিয়া একমাত্র আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যারা আফগানিস্তান ত্যাগ করতে পারছে না, তাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, রাশিয়াসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলো তালিবানকে চাপ দিতে পারে।

মাসুদ বলেন, আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি শান্তি আলোচনাই একমাত্র সমাধান। কিন্তু পঞ্জশির উপত্যকায় কিছু সামরিক কূটচাল এবং প্রস্তুতি আছে, আমরাও আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

তালিবান ইস্যু: লক্ষ্য ভারতীয়দের উদ্ধার, ধীরে চলো নীতি মোদীর

all-party meet jaisahnkar

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের (Afghanistan) সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। সর্বদলীয় বৈঠকের পর কেন্দ্র সরকারের অবস্থান ব্যাখা করতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর আরও জানালেন, সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য আফগানিস্তানে আটকে থাকা ভারতীয়দের দ্রুত ফেরত আনা।

তবে বিদেশমন্ত্রকের সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে, আফগানিস্তানে তালিবান (Taliban) নিয়ন্ত্রণের পর নয়াদিল্লি খুবই ধীরে চলো নীতি নিয়েছে। যদিও ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশ বার্তা দিতে শুরু করেছে তালিবানকে। তাদের বার্তায় এসেছে সমর্থন ইঙ্গিত।

দিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বিরোধী দলের নেতৃত্বের দীর্ঘ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী আফগান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। ব্যাখ্যা করেন পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে। বিরোধী নেতা কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ অন্যান্য দলগুলির নেতৃত্ব ছিলেন।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালিবানদের একপ্রকার মান্যতা দিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছেন এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রক একমাত্র তালিবান। আর বিকল্প নেই। পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ টেলিফোনিক আলোচনার পরেই সর্বদলীয় বৈঠক স্থির হয়।

তালিবান সরকার: রাজনৈতিক জীবনে কঠিনতর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন মোদী

Narendra Modi wore an army uniform

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক হতে চলেছে। বৈঠকে আফগানিস্তানে আটকে থাকা ভারতীয়দের দেশে ফেরানো, তালিবান (Taliban) ক্ষমতা দখলের মধ্যে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি বিচার করা হবে।
সূত্রের খবর, তালিবান জঙ্গিরা দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানে সরকার গঠনের পর ভারত সরকারের কী পদক্ষেপ হবে সেটা অন্যতম আলোচিত বিষয়।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালিবানদের একপ্রকার মান্যতা দিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছেন এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রক একমাত্র তালিবান। আর বিকল্প নেই।

পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ টেলিফোনিক আলোচনার পরেই সর্বদলীয় বৈঠক স্থির হয়েছে। বৈঠকে বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট জানতে চাইবে বিরোধী দলগুলি।

গোটা বিশ্ব মুখিয়ে আফগান ইস্যুতে ভারতের ভূমিকার দিকে। রাজনৈতিক জীবনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে আফগান তালিবান ইস্যুর উপর সিদ্ধান্ত খুব গুরুত্বপূর্ণ।

তা-লি-বা-ন জঙ্গি ! What a look

New look of taliban militant

নিউজ ডেস্ক: কাবুল দখলের কিছু সময় আগে আফগানিস্তান থেকে করা কিছু টুইটে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। টুইট লেখকরা দাবি করেছিলেন নিউ লুক তালিবান এসেছে। তবে যে তালিবান জঙ্গিদের দেখে অভ্যস্ত বিশ্ব তাদের মতো আলখাল্লা পরা হামলাকারীদের সঙ্গে এই নিউ লুক বেমানান। ফলে কেউই মানতে চাননি।

তবে তালিবান তার লুক পাল্টেছে! যে কোনও ইউরোপীয় দেশের সেনা সদস্যরা যেমন পোশাকে থাকে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া তালিবান সেরকমই বেশভুষা নিতে চলেছে। আর পুরনো রীতির জঙ্গিরাও আছে।

পরনে ইউনিফর্ম, বুট, হেলমেট দিয়ে পুরোপুরি সামরিক সাজে তালিবান সদস্যদের এই রূপ দেখে চমকে যাচ্ছে দুনিয়া। নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ বাহিনির এমন ছবি প্রকাশ করেছে তালিবান। সেই আফগান পোশাক পরিচিক তালিবান জঙ্গিরা সাথে এই তালিবানের কোনো মিলই খুঁজে পাওয়া যাবে না।

old look of taliban militant
পুরোনো তালিবান বাহিনী৷ সেই আলখাল্লা পরা৷

তালিবান তাদের এই বিশেষ বাহিনির নাম রেখেছে বদরি ওয়ান থ্রি ওয়ান। অতীতের চেয়ে বর্তমানের তালিবান কতটা সুসজ্জিত সেটা বোঝাতেই বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে জঙ্গি সংগঠনটি।

রাশিয়ার তৈরি কালাশনিকভ রাইফেলের বদলে তালিবানের বিশেষ বাহিনির কাঁধে দেখা গেছে এম ফোরের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি রাইফেল। চোখে দেখা গেছে নাইট ভিশন গগলস।

এ কী তালিবানের নতুন রূপ। যে তালিবান আফগান গুহায় থাকে তাদের এমন রূপ ! দ্বিতীয়বার কাবুল দখল করার পর তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছিল, নতুন তালিবান দেখা যাবে। সেই লুক দেখা যাচ্ছে।

তালিবানদের এত দ্রুত আফগানিস্তান দখলে আমরা অবাক, মন্তব্য বিপিন রাওয়াতের

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই কায়েম হচ্ছে শরিয়তি আইন। ইসলামের আদেশ অনুসারেই চলছে দেশ। তাতে গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে কট্টরপন্থীরা। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর নীলম ইরশাদ শেখ নামের এক নেত্রী দাবী করেছেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।”

আরও পড়ুন এক এক পয়সার জন্য ভিক্ষে করবে তালিবানরা! ব্যবস্থা করল আমেরিকা-বিশ্বব্যাংক

এর পরেই আফগানিস্তান সম্পর্কে প্রথম মন্তব্য করলেন ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত। তালিবানদের আফগানিস্তান দখলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তালিবানদের আফগানিস্তান দখল প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু এত দ্রুত তারা আফগানিস্তান দখল করেছে, গোটা বিষয়টাই আমাদের অবাক করেছে”। পেন্টাগনও জানিয়েছিল, আগামী তিনমাসের মধ্যে কাবুল দখল করবে তালিবানরা। সেই রিপোর্টও ভুল প্রমাণ করে কয়েকদিনেই কাবুলে ঢুকেছিল তারা।

আরও পড়ুন তালিবানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে হুশিয়ারি দিলেন ‘লায়ন অফ পঞ্জশির’

একটি অনুষ্ঠানে জেনারেল রাওয়াত জানান, “গত কয়েকদিন ধরে যা কিছু ঘটেছে তা প্রত্যাশিতই ছিল। শুধুমাত্র সময়সীমা পরিবর্তিত হয়েছে। এত তাড়াতাড়ি আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালিবানদের হাতে যাবে আমরা ভাবি নি।” অন্যদিকে পাকিস্তানি বিভিন্ন সংগঠনের মন্তব্যে ভারতে নাশকতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জানিয়েছেন, “আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম কিভাবে আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ভারতে ঢুকতে পারে। এর জন্য আমাদের কন্টিনজেন্সি প্ল্যানিং চলছিল। এখন আমরা এর জন্য প্রস্তুত।”

আরও পড়ুন তালিবান সরকার ইস্যু: পুতিন-মোদী আলোচনার পর প্রশ্ন সমর্থন ইঙ্গিত

ভারত আফগানিস্তান থেকে বেশ কিছু নাগরিককে ইতিমধ্যেই সরিয়ে নিয়েছে। আফগানদের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু শিখ এবং হিন্দুদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে ভারত সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেলে বাকি আটকে থাকা ভারতীয়দের আনার প্রাণপণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এক এক পয়সার জন্য ভিক্ষে করবে তালিবানরা! ব্যবস্থা করল আমেরিকা-বিশ্বব্যাংক

strike against taliban

নিউজ ডেস্ক: তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করতে পেরেছে, কিন্তু সরকার পরিচালনা করা তাদের জন্য সহজ হবে না। কারণ, আমেরিকাসহ অনেক দেশ তালিবান-সরকারকে আর্থিকভাবে ভিখারি করতে চায়। এদিকে এখন বিশ্বব্যাংকও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশ্বব্যাংক আফগানিস্তানকে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি, বিশেষ করে মহিলাদের অধিকারের পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুখপাত্রটি বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাংক সব ধরনের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে এবং ক্রমাগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রসঙ্গত, আফগানিস্তান দখল করার পর তালিবান সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এক পয়সাও দেবে না
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছে, আমেরিকায় গচ্ছিত আফগানিস্তানের স্বর্ণ ও মুদ্রার মজুদ তালিবানদের দখলে রাখতে দেবে না। তথ্য অনুযায়ী, শুধু আমেরিকায় আফগানিস্তানের সম্পদ রয়েছে ৭০৬ বিলিয়ন রুপি। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ তালিবানদের জন্য বড় ধাক্কা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) আফগানিস্তানকে আর্থিক সাহায্যও বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে আইএমএফ আফগানিস্তানে তালিবানদের সম্পদ ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

One week after taliban occupied Afghanistan

আইএমএফ প্রবেশাধিকারও বন্ধ করে দিয়েছে
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আফগানিস্তানের ৪৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪৬ মিলিয়ন ডলার জরুরি রিজার্ভে আফগানিস্তানের প্রবেশ বন্ধ করার ঘোষণা করেছে৷ কারণ, তালিবানের নিয়ন্ত্রণ আফগানিস্তানের ভবিষ্যতের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। লক্ষণীয়, বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের অধীনে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে দুই ডজনেরও বেশি প্রকল্প চলছে। ব্যাংকের ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক আফগানিস্তানকে ৫.৩ বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

আবদুলের আকাশ: তালিবানি ফতোয়া কেটে পলাতক আফগান মহাকাশচারী

Abdul Ahad Momand first Afghan citizen to journey to outer space

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: তখন আফগানিস্তানের শাসনে সে দেশের কমিউনিস্ট দল পিডিপি। দলটির ‘খালাক’ গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা। প্রতিবেশী সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যক্ষ মদতে আফগানিস্তান ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ। ইসলামি শাসনতন্ত্র কায়েম করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদতে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলিকে (মুজাহিদিন) সরাসরি সংঘর্ষে নেমেছিল।

আফগান সরকারে থাকা পিডিপি দলের মধ্যে চলছিল টানাপোড়েন। এই টানাপোড়েনের মাঝেই কমিউনিস্ট খালাক গোষ্ঠীকে সরিয়ে কুর্সি দখল করে অপর গোষ্ঠী পরচম। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ১৯৮০ দশকে আফগানিস্তান জুড়ে শুরু হয়েছিল মহাকাশ বিজ্ঞানের চর্চা !!

মহাকাশ বিজ্ঞান-স্পেস সায়েন্স এসব নাম আফগানিস্তানের সঙ্গে যায়-ই না !! কারণ এই দেশ তো আমাদের চোখে সুদখোর, কিসমিস বেচা কাবুলিওয়ালাদের দেশ। তবে তলিয়ে দেখলে জানা যায়, আফগানিস্তান ভারতের আগে স্বাধীনতা পাওয়া দেশ। সেই দেশ বরাবর ভারতের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র পথকে সমর্থন জানিয়েছে।

Abdul Ahad Momand

পড়ুনঃ লেনিনের সমর্থনে আফগানিস্তানেই হয় ভারতের প্রথম ‘বিপ্লবী সরকার’

এমনই আফগানিস্তান তখন সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত। আফগান জনজীবনে লেগেছে ইউরোপিয়ান স্পর্শ। কাবুল, জালালাবাদ সহ দেশটির সর্বত্র রাস্তায় রাস্তায় বোরখা প্রায় ভুলে গেছেন মহিলারা। এসেছে ইউরোপীয় পোশাক। এমনই সময়ে আফগান সরকার উদ্যোগ নেয় মহাকাশ বিজ্ঞান চর্চার। মস্কো রাজি হয়। শুরু হলো আকাশের ঠিকানায় আফগানি কিসমিসের কাহিনি লেখার পালা।

আফগানিস্তান তখন পরিচিত গণপ্রজাতন্ত্রী দেশ। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও পরে আমীরতন্ত্র থেকে বহুদূরে আফগানিস্তান ছিল। ‘৮০ দশক। প্রতিবেশি সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যক্ষ মদতে আফগানিস্তানে চলছিল কমিউনিস্ট সরকার। আমেরিকার মদতে ধর্মীয় মুজাহিদিন বিভিন্ন গোষ্ঠী তখন সোভিয়েত বিরোধী লড়াই করছে। তাদের পক্ষ নিয়ে কলকাতা, শিলিগুড়ি সহ বিভিন্ন জেলায় বুদ্ধিজীবীরা বলছিলেন, “সোভিয়েত সরকার আফগানিস্তানকে গোল্লায় পাঠাচ্ছে”। ঠিক তখনই আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট সরকার সোভিয়েত সাহায্যে তাদের দেশের প্রথম মহাকাশ অভিযান চালায়।

Abdul Ahad Momand

বিশ্ববিখ্যাত সোভিয়েত মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ‘মির’ (নাসার চক্ষুশূল) থেকে ব্রহ্মাণ্ড পরিভ্রমণ করেছিলেন আফগান মহাকাশচারী আবদুল আহদ মোহামন্দ। ১৯৮৮ সালের ২৯ আগস্ট দিনটা আফগানিস্তান তো বটেই, বিশ্বের মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। যে দেশ শুধু এক গোলি এক দুশমন রীতিতে বিশ্বাসী, তাদের প্রতিনিধি হয়েছে আবদুল আহদ মহাকাশে বিচরণ করছিলেন। আফগানিস্তান শুরু করেছিল মহাকাশ বিজ্ঞানের কাহিনি লিখতে।

তখন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মহম্মদ নাজিবুল্লাহ। তিনি সোভিয়েত অনুরাগী। তাঁর অনুরোধেই আফগান বিমান সৈনিক আবদুল আহদকে সোভিয়েত বলশেভিক সরকার সুযোগ দিয়েছিল মহাকাশ পরিভ্রমণের। মহাকাশ থেকে বিশেষ টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট ডক্টর নাজিবুল্লাহের সঙ্গে কথা বলেন আফগান মহাকাশযাত্রী, বৈজ্ঞানিক, বিমান সৈনিক আবদুল আহদ। গোটা আফগান জাতি তো বটেই বিশ্ব সেলাম করেছিল।

সোভিয়েত মহাকাশ বিজ্ঞান কেন্দ্র ইউরি গ্যাগারিন রিসার্চ সেন্টারে দীর্ঘ সময় তালিম নেন আফগান মহাকাশচারী আবদুল আহদ। তাঁকে মহাকাশে পাঠানোর বিষয়ে সোভিয়েত সরকার নিয়েছিল যাবতীয় উদ্যোগ। সুযোগ্য ছাত্র হিসেবে আবদুল সবকিছু শিখে দুই রুশ মহাকাশচারীর সঙ্গে পৃথিবী ছেড়েছিলেন। তারপর মহাকাশে তাঁদের পরিভ্রমণ পালা।

১৯৮৮ সালের পর আফগানিস্তানের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকে। প্রতিবেশি সোভিয়েতে অভ্যন্তরে শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। সেই ধাক্কা লাগতে শুরু করে আফগানিস্তানে। নব্বই দশকে টুকরো হয়ে যায় সোভিয়েত। স্বাভাবিকভাবেই আফগানিস্তানে এর প্রভাব পড়েছিল।

সোভিয়েতকে ভাঙার অভিযুক্ত তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিখাইল গরবাচেভ। কাবুল জুড়ে রাজনৈতিক গালিচার রঙ পাল্টে যাচ্ছিল। গরবাচেভ সফল হলেন। সোভিয়েত ভাঙল। সোভিয়েত পতন বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম অধ্যায়।
নব্বই দশকে কমিউনিস্ট বলশেভিক সরকারের সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙতেই কাবুলের কমিউনিস্ট সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী হয়। প্রেসিডেন্ট ডক্টর নাজিবুল্লাহর সরকারের পতন হল। এরপর কখনো গুলাবুদ্দিন হেকমতিয়ার, তো কখনো বুরহাউদ্দিন রব্বানির মিলিশিয়া হামলা। অরক্ষিত কাবুলের রাষ্ট্রসংঘ কার্যালয়ে থাকা নাজিবুল্লাহ বুঝছিলেন বাঁচা অসম্ভব। এসবই গত শতাব্দীর ‘৯০ দশকের ঘটনা।

নাজিবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সোভিয়েত অনুরাগী মার্শাল আবদুল রশিদ দোস্তাম আর সোভিয়েত বিরোধী ‘পঞ্জশিরের সিংহ’ আহমেদ শাহ মাসুদের বন্ধুত্ব তৈরি করল ধোঁয়াশা। পথ আলাদা তবে দুজনেরই শত্রু তালিবান। এই জোট চেয়েছিল নাজিবুল্লাহকে রক্ষা করতে। নাজিবুল্লাহ বুঝতে পারেননি। হয়তবা দোস্তাম-মাসুদের সহাবস্থান মানতে পারেননি। একলা হয়ে গেলেন।

রাতের পর রাত, কাবুলের রাজপথ ধরে সোভিয়েত লাল তারা মার্কা ট্যাংকগুলো ঘড়ঘড় করে চলছিল পশ্চিম দিকে -উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তানের দিকে। সোভিয়েত সেনা সরতে সময় নিয়েছিল। বিরাট সামরিক বহর যেদিন পুরোপুরি আফগানিস্তান ত্যাগ করল তখনই কাবুলে ঢুকল তালিবান। কাবুল দখল করে রাষ্ট্রসংঘ কার্যালয় ঘিরে নিল তালিবান জঙ্গিরা।

নাজিবুল্লাহ একটি কাজ করতে পেরেছিলেন। স্ত্রী সন্তানদের নয়াদিল্লি পাঠাতে পেরেছিলেন। মার্কিন চাপে রাষ্ট্রসংঘের কাবুল কার্যালয়ের দরজা খুলে দিল স্টেনগানধারী রক্ষীরা। তাদের সামনে দিয়েই তালিবান জঙ্গিরা টেনে আনল মহম্মদ নাজিবুল্লাহকে। মেরে ঝুলিয়ে দিল লাইট পোস্টে। ১৯৯৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কাবুলে তৈরি হল প্রথম তালিবান সরকার।

নাজিবুল্লাহকে খুনের কয়েকদিন আগেই আফগানিস্তান ছাড়েন মহাকাশচারী আবদুল আহদ। কাবুল থেকে মস্কো যান। সেখানে আর ঠাঁই হয়নি সোভিয়েত জমানার বিশ্বশ্রেষ্ঠ মির মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের একমাত্র আফগানি মহাকাশ বিজ্ঞানীর। ‘লাল তারা’ পদক লুকিয়ে মস্কো থেকে জার্মানিতে চলে যান আবদুল আহদ।

গত তিরিশ বছর সেখানেই রয়েছেন আবদুল আহদ। মহাকাশের সঙ্গে তেমন যোগ নেই। ইউরি গ্যাগারিন মহাকাশ চর্চা কেন্দ্রের আফগানি গবেষক এখন প্রৌঢ় জার্মান নাগরিক। টিভিতে কাবুলের পতন দেখলেন আবার। হয়ত একটু দীর্ঘশ্বাস পড়েছে।

মাথা কাটার তালিবানি ফরমান জারির শঙ্কায় আফগানিরা

Kabul violation against women

নিউজ ডেস্ক: কাবুল দখল নেওয়ার দশ দিনের মাথায় ঘোষিত অবস্থানের উল্টো পথেই হাঁটছে তালিবান। আফগান মহিলাদের ঘরেই থাকতে হবে। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও গত ১৫ আগস্ট কাবুলে বিখ্যাত সাাংবাদিক সম্মেলনে পরিশীলিত ভাবমূর্তির যে ছবি তুলে ধরার কথা বলেছিল তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ, তাতে মহিলাদের কর্মস্থলে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়।

প্রথমে ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে পড়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা, এখন মহিলাদের কর্মস্থলে না যাওয়ার ফরমান-এরপর কী মাথা কাটার ফতোয়া? আফগানিস্তানের মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিস্তর। কারণ এর আগে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবান সরকারের ভয়ঙ্কর রূপ দেখেছেন আফগানবাসী।

Kabul violation against women

বিবিসি জানাচ্ছে, তালিবান মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেছেন, আফগানিস্তানে কর্মরত নারীদের তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকতে হবে। মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, এটি খুবই স্বল্প সময়ের জন্য একটি প্রক্রিয়া। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই নির্দেশের পরেই আসতে চলেছে কড়া শরিয়া আইনের অন্তর্গত মাথা কাটার ফরমান।

তালিবান স্পষ্ট জানিয়েছে আফগানিস্তানে শরিয়া আইন জারি চলবে। কড়া ধর্মীয় এই নিয়মকানুনে মহিলাদের জন্য ভয়ঙ্কর সব নিদান রয়েছে। এর একটু ভুল হলেই প্রকাশ্যে নিদারুণ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পেতে হয়। আর সময বিশেষে সেই শাস্তি হয় মাথা কেটে নেওয়া।

২০০১ সালের আগে তালিবান যখন আফগানিস্তান শাসন করত, তখন তারা কঠোর শরিয়া আইন জারি করেছিল। বিবিসি জানাচ্ছেন আফগানবাসীরা মেনেই নিতে পারছেন না আফগানিস্তানের পূর্ণ ক্ষমতা নেওয়ার পরেই তালিবান যে নরম মনোভাবের ছবি তুলে ধরার কথা বলছে তা কতটা পূরণ হবে।

জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছে, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকেরই প্রশিক্ষণ নেই যে কীভাবে নারীদের সাথে আচরণ করতে হয় বা তাদের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয়। পূর্ণ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা নারীদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিচ্ছি।

তবে বিভিন্ন রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশলেটের আশঙ্কা, তিনি খবর পেয়েছেন তালিবানরা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া শুরু করেছে।

আগামী ৩১ আগস্ট লাল তারিখ। তার মধ্যেই সম্পূর্ণ মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ত্যাগ করবে। যদিও এই সেনা এখন কাবুল বিমান বন্দরে অবস্থান করছে। তারাই কাবুল থেকে উদ্ধারকারী বিমানগুলির তদারকিতে। আর কাবুল বিমান বন্দরের বাইরের ফটকে তালিবান পাহারা।

ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং জার্মানির তরফে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান ত্যাগের জন্য বেঁধে দেয়া ৩১শে আগস্টের সময়সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। তবে তালিবান কোনওভাবেই এই আবেদন মানবে না বলে জানায়।

বিবিসি জানাচ্ছে, মার্কিন সেনারা কাবুল বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ করছে। যেখান থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৮ হাজার ৭০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তালিবানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে হুশিয়ারি দিলেন ‘লায়ন অফ পঞ্জশির’

Lion of Panjshir Ahmed Masood

নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত! তালিবানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে প্রতিরোধ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নর্দান অ্যালায়েন্স৷ মঙ্গলবার একথা স্পষ্ট করে দিলেন ‘লায়ন অফ পঞ্জশির’ আহমদ মাসুদ৷ আফগানিস্তানের জাতীয় বীর আহমদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমদ মাসুদ বলেছেন, পঞ্জশির এলাকা তালিবানের কাছে কোনভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না৷

তালিবান পঞ্জশির অঞ্চল ঘিরে ফেলার দাবি করার পর এই মন্তব্য করে আহমদ মাসুদ। তিনি ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট অব আফগানিস্তান বা এনআরএফ’র প্রতিষ্ঠাতা প্রধান। তালিবান দাবি করেছে, তারা পঞ্জশির এলাকাটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তালিবানের এই দাবিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন আহমদ মাসুদ৷

প্রতিরোধ সংগ্রামের ক্ষেত্রে পঞ্জশিরের বীরত্বপূর্ণ ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত চলা সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে এবং ১৯৯০–এর দশকে তালিবানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য বিখ্যাত পাঞ্জশির এলাকা। তালিবান রাজধানী কাবুলের দখল নিলেও এখনও পাঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। এর আগেও আফগানিস্তানজুড়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হলেও, পঞ্জশির দখলে নিতে ব্যর্থ হয়েছিল তালিবান।

এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করছে আহমদ মাসুদের এনআরএফ। আহমদ মাসুদের বাবা আফগানিস্তানে জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৯০–এর দশকে তালিবানের প্রতিরোধে আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেন তিনি। তালিবানদের ক্ষমতা দখলের পর তিনি বিরোধী পক্ষের প্রধান কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তাঁকে হত্যা করা হয়। এখন তারই ছেলে আহমদ মাসুদ তালিবান বিরোধী প্রতিরোধ বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন

তালিবান-সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স আঁতাত, সরগরম বিশ্ব রাজনীতি

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবানরা। তাজিকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট ঘানি। তারপরেই বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনর পদত্যাগ দাবি করলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কার্যত দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি থাকাকালীনই দোহায় শান্তিচুক্তির নামে একপ্রকার ‘শর্তসাপেক্ষে’ তালিবানদের আফগানিস্তান দখলে শীলমোহর দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তারপর থেকেই আফগানিস্তানের অবস্থার জন্য পরোক্ষে আমেরিকাকেই দায়ী করেছে বিশ্বের অনেক দেশ। ঠিক সেই সময়েই কাবুলে তালিবান নেতাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র প্রধান। এবার সে খবরেই তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি।

আরও পড়ুন তালিবান উৎখাতে আফগান নাগরিকদের ভরসা ‘রিয়েল হিরো’ আমরুল্লাহ সালেহ

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’কে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সম্প্রতি আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে তালিবানের অন্যতম শীর্ষনেতা আবদুল ঘানি বরাদরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন সিআইএ (Central Intelligence Agency) প্রধান উইলিয়াম বার্নস। কাবুল বিমানবন্দর এখনও আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। আর সেখান দিয়েই মার্কিন ও বিদেশি নাগরিকদের উদ্ধার করার কাজ চলছে।

আরও পড়ুন G-7 Summit: তালিবানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে বিশ্বের সুপার পাওয়ার’ দেশ

সমস্ত লোককে উদ্ধার না করা গেলে ৩১ আগস্টের পরও আফগানিস্তানে সেনা রাখতে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অন্যদিকে আমেরিকা সেনা না সরালে লড়াইয়ের ঈঙ্গিত দিয়েছে তালিবানরাও। এই অবস্থায় সিআইএ প্রধানের সঙ্গে তালিবানের বৈঠক যথেষ্ট ঈঙ্গিতপূর্ন বলে মনে করছেন অনেকে।

আরও পড়ুন তালিবানদের জয়ে আনন্দে আত্মহারা পাকিস্তান, হুমকির মুখে ভারত-আমেরিকা

যদিও সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির তরফে জানানো হয়েছে, এজেন্সির চিফের বিষয়ে বিশদে কিছু জানানো যায় না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়েই বৈঠক করেছেন ওই দুই শীর্ষ নেতা। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেষ ২৪ ঘণ্টায়ও প্রায় ২১৬০০ জনকে কাবুল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

তালিবান সরকার ইস্যু: পুতিন-মোদী আলোচনার পর প্রশ্ন ‘সমর্থন ইঙ্গিত’

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানে তালিবান নিয়ন্ত্রণ হলেও এখনও জঙ্গিরা সরকার গড়েনি। দ্রুত সরকার গড়ার কাজ শেষ হবে জানিয়েছে তালিবান। কাবুল এখন বিশ্ব রাজনৈতিক ঘনঘটার কেন্দ্র। আফগানিস্তানে এই জঙ্গি তালিবান সরকারের প্রতি আগেই প্রচ্ছন্ন সমর্থন ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, আফগানিস্তানে এখন তালিবানই নিয়ন্ত্রক, এই বাস্তবতা মানছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। তবে ক্রেমলিন চায় আফগানিস্তানে যেন দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হোক।

এদিকে পুতিনের ইঙ্গিতপূর্ণ সমর্থন আসতেই কাবুলে তালিবান জঙ্গি নেতৃত্বের মধ্যে উল্লাস ছড়ায়। রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের অন্যতম চিন ও রাশিয়া ক্রমে নিকট হচ্ছে তালিবানের।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আফগান ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুজনের মধ্যে দীর্ঘ টেলিফোনিক আলোচনা তৈরি করেছে বিশ্বজোড়া কৌতূহল। আন্তর্জাতিক মহলের প্রশ্ন ভারত কি আফগানিস্তানে সরকার গড়তে চলা তালিবানকে সমর্থন দেবে ?

Modi with putin

প্রধানমন্ত্রী মোদী আফগানিস্তান ইস্যুতে ২৬ অগাস্ট বৃহস্পতিবার সকালে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর জানিয়েছেন, বৈঠকে লোকসভা ও রাজ্যসভার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

আফগানিস্তানের টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের উপর আর্থিক চাপ বিরাট। কারণ বিদেশে ভারতের সর্বাধিক বিনিয়োগের খাতায় আফগানিস্তান অন্যতম। বিদেশমন্ত্রক জানাচ্ছে, আফগানিস্তানে পরিকাঠামো নির্মাণে ভারত ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। আসন্ন তালিবান সরকারের আমলে আফগানিস্তানে সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও সর্বদলীয় বৈঠকে আলোচনা হবে।

সরকারে বিজেপি। তালিবান যখন ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত প্রথমবার আফগানিস্তানে জঙ্গি নাশকতার সরকার কায়েম করেছিল সেই সময় ঘটেছিল কান্দাহার বিমান অপহরণের মতো মারাত্মক ঘটনা। ১৯৯৯ সালের সেই ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। চাপের মুখে জঙ্গি নেতা মাসুদ আজহারের মুক্তির বিনিময়ে ভারতীয় যাত্রীদের জীবন বাঁচানো হয়।

ভারতে এখন এনডিএ সরকার। ক্ষমতার কেন্দ্রে বিজেপি। আফগানিস্তানে ফের তালিবান নিয়ন্ত্রণ শুরু। ফলে বাজপেয়ী জমানার সঙ্গে মোদী জমানার কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও চলছে আলোচনা।

মোদীর আহ্বানে সর্বদলীয় বৈঠকে সরকারপক্ষ বিজেপি ছাড়া বিরোধীদের মধ্যে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, সিপিআইএম, সিপিআই সহ বিভিন্ন দল থাকবে। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা থাকছে। তিনি কী বার্তা দেবেন মোদীকে সেটি বিশেষ আলোচিত। তেমনই জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে। কারণ তালিবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলি তৎপরতা বেড়েছে।

তবে এই ধরণের আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সিপিআইএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির বার্তা বিশেষ গুরুত্ব দেয় কেন্দ্র। ইউপিএ বা এনডিএ যে কোনও সরকারের আমলেই বিদেশ সংক্রান্ত নীতির উপর বারবার সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সূক্ষ্ম সমালোচনা করেন ইয়েচুরি।

কংগ্রেস কী বার্তা দেয় তাও লক্ষ্যনীয়। ইউপিএ আমলেই আফগানিস্তানে বড়সড় বিনিয়োগের সূত্রপাত হয়। ফলে রাহুল গান্ধীর অবস্থান নিয়েও চলছে আলোচনা।

এদিকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এখনও অনেক ভারতীয় আটকে রয়েছেন। তাদের ফিরিয়ে আনতে দিল্লি থেকে কাবুল পর্যন্ত বিশেষ বিমান পরিষেবা চালু করেছে সরকার।

তালিবানদের ‘জয়ে’ আনন্দে আত্মহারা পাকিস্তান, হুমকির মুখে ভারত-আমেরিকা

One week after taliban occupied Afghanistan

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই কায়েম হচ্ছে শরিয়তি আইন। ইসলামের আদেশ অনুসারেই চলছে দেশ। আর তাতেই উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানের ইসলামীয় ধর্ম সংগঠনগুলি। গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে কট্টরপন্থীরা।

আরও পড়ুন G-7 Summit: তালিবানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে বিশ্বের সুপার পাওয়ার’ দেশ

সংবাদসংস্থা আইএএনএস (Indo-Asian News Service) সূত্রে খবর, তালিবানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাকিস্তানের ইসলামীয় সংগঠনগুলি। বহুদিন ধরেই পাকিস্তানের বিভিন্ন সংগঠন মদত দিয়ে আসছে। এবার সরকারীভাবে ইসলামাবাদের প্রভাবশালী সংগঠন জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ-উল-হক হাক্কানি তালিবানের কাবুল জয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও তালিবানদের আফগানিস্তান দখল এবং আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করার জন্য ‘আল্লাকে ধন্যবাদ জানাতে’ ২৭ আগস্ট একটি অনুষ্ঠান পালন করা হবে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে।

Pakistan and Taliban: Back to where it all began - The Week

পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় সেই অনুষ্ঠান এবং তালিবান ও লস্করের জঙ্গিদের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতে দেখা গিয়েছে সেদেশের বিভিন্ন সংগঠনগুলিকে। তালিবানের জন্ম হয় পাকিস্তানেই। পাকিস্তানেই মহিলাদের বিভিন্নভাবে কোনঠাসা করা শুরু হয়েছিল, গুলি করা হয়েছিল মালালা ইউসুফজাইকেও।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

এরপর আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্য ফিরে যাওয়ার পর মুজাহিদিনরা রীতিমতো ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে। আইএসআইয়ের হাত থেকে তাদের রাশ বেরিয়ে যায়। গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার, আহমেদ শাহ মাসুদের মতো মুজাহিদ কমান্ডাররা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করে তোলে। মুজাহিদিনদের শায়েস্তা করতেই নয়ের দশকে তালিবান প্রতিষ্ঠা করে পাকিস্তান।

আরও পড়ুন রাজনীতিতে পা রেখেই পুর-প্রার্থী হচ্ছেন ‘করোনা-হিরো’ সোনু সুদ

জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ সাংবাদিক সন্মেলনে জানিয়েছেন, ‘বিশ্বের উচিত আফগানিস্তানে এক্ষুনি তালিবান সরকারকে মান্যতা দেওয়া।’ শুধু তাই নয়, আমেরিকা এবং ভারতের মদতেই এতদিন আফগানিস্তানে অশান্তি লেগে ছিল। ফলে তাঁর কথায় আবার নতুন করে ভারতে জঙ্গিহামলার আশঙ্কা বেড়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

G-7 Summit: তালিবানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে বিশ্বের ‘সুপার পাওয়ার’ দেশ

G-7 Summit

বিশেষ প্রতিবেদন: আফগানিস্তান দখলের পর তালিবানের ভবিষ্যৎ কী হবে? তাদের উপর অনেক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে? নাকি বিশ্বের পরাশক্তি দেশগুলো এই তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেবে? সবটাই নির্ভর করবে আজ, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া G-7 বৈঠকের অবস্থানের উপর। আমেরিকা এবং তার মিত্ররা এই বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তালিবানরা যেভাবে আফগানিস্তান দখল করেছে, তাতে অনেক দেশ ক্ষুব্ধ। জি-7 বৈঠকে হয়তো বিশ্ব থেকে তালিবানকে বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সূত্রের মতে, জো বাইডেন আফগানিস্তানে ৩১ আগস্টের পরেও কিছু সময়ের জন্য আমেরিকান এবং ন্যাটো দেশের বাহিনী ফেরত আনার বন্ধ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আন্তর্জাতিক নিয়ম মানার ক্ষেত্রে সকলে সহমত হতে পারে
জি-7 দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা এবং জাপান। এটা মনে করা হচ্ছে, সমস্ত দেশ একত্রে বেশ কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তালিবানকে স্বীকৃতি দেওয়ার মনোভাব গ্রহণ করবে। এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলছেন, জি-7 দেশগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার এবং মহিলাদের তাদের অধিকার দেওয়ার শর্ত তালিবানকে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কারেন পিয়ার্স বলেছেন, বরিস জনসন বৈঠকে কিছু সমাধান নিয়ে আসতে পারেন। রাষ্ট্রসংঘে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং রাষ্ট্রসংঘে মহাসচিব জেন স্টলটেনবার্গও বৈঠকে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া G-7 ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডে৷ জি-7 এর এই সভা আহ্বানের দাবি ব্রিটেনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন ​​সাকি তার বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জি-7 দেশের নেতাদের সঙ্গে ২৪ অগস্ট ভার্চুয়াল বৈঠক করতে পারেন। এই নেতারা আফগানিস্তানের ব্যাপারে সমন্বয় বাড়াতে এবং পশ্চিমের দেশগুলিকে সমর্থনকারী আফগানদের তাড়িয়ে দিতে আলোচনা করবেন। সাকি বলেন, জি-7 নেতারা আফগান শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করবেন।

বরিস জনসনের বক্তব্য
এর আগে টুইটারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছিলেন, ‘আফগান জনগণকে নিরাপত্তা দিতে, মানবিক সংকট রোধ করতে এবং গত ২০ বছরের কঠোর পরিশ্রমকে সুরক্ষিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আফগান জনগণকে সমর্থন করার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ এই বছর জি-7 দেশগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে ব্রিটেন। এই গ্রুপে রয়েছে ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র।

আফগান নীতি সম্পর্কে অভিন্ন পদ্ধতির প্রয়োজন
হোয়াইট হাউসের মতে, জো বাইডেন এবং বরিস জনসন জি-7 এর ভার্চুয়াল বৈঠকের কথাও বলেছিলেন৷ দুই নেতা আফগানিস্তানের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন পদ্ধতির বিষয়ে আলোচনা করেন। আফগানিস্তানের নীতি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার ওপরও জোর দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান বাহিনী প্রত্যাহারের জন্য বাইডেন প্রশাসন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে৷

আফগানিস্তানে পোস্টিং চাই, মহিলা ITBP কনস্টেবলের মামলায় হতবাক বিচারপতি

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ। ক্রমশ আতঙ্ক বাড়ছে আফগান নাগরিকদের মধ্যে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের জওয়ানরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে উদ্ধারকাজে। কালই এক মার্কিন মহিলা উদ্ধার করেছেন আফগান মহিলা রোবোটিক্স টিমকে।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

তালিবানদের কাবুল দখল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক তারকাই এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশেষ করে আফগানিস্তানে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন অনেকে। কাবুলের দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না ভারতীয় সৈন্যরাও। কাবুলে আটক ভারতীয় সদস্যদের ইতিমধ্যেই উদ্ধার করে এনেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। এবার আফগানিস্তানে বদলি চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলেন ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের দুই মহিলা কনস্টেবল।

আরও পড়ুন ফিরল ‘ভয়াবহ রবিবার’, আফগানিস্তানে জঙ্গি সরকারকে সমর্থনে বিশ্ব দোদুল্যমান

প্রথমদিনেই মামলা খারিজ করে দেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি রাজীব সহায় এবং অমিত বনসল। যদিও যুদ্ধবিদ্ধস্ত কাবুলে যেতে চান, এই ঘটনাটিতেই অবাক হয়ে গিয়েছেন বিচারপতিরা। যদিও এই মামলার আবেদন এবং খারিজ দুটোই তালিবানদের কাবুল দখলের আগে হয়েছিল।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিকে মামলা খারিজ করে দিল্লি হাইকোর্ট বলে, ‘সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ান হিসেবে আইটিবিপির (Indo-Tibetan Border Police) জওয়ানদের যেকোনও জায়গায় মোতায়েন করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী এই নিয়োগ করা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট ভাবে আফগানিস্তানে নিযোগ চাওয়ার কোনও এক্তিয়ার জওয়ানদের নেই। ফলে মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হল। তবে পড়শি দেশের এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে তাদের নিজে থেকে আফগানিস্তানে মোতায়েন চেয়ে আবেদন করায় আমরা হতবাক।’

ওই দুই আইটিবিপি কনস্টেবলদের দাবি, ২০২০ সালের আগস্টে তাঁদের কাবুলের দূতাবাসে নিয়োগ করা হয়েছিল দুই বছরের জন্য। ফলে কাবুলে দুই বছর থাকা তাঁদের অধিকারের মধ্যে পড়ে। তালিবানদের কাবুল দখলের পর থেকে আফগানিস্তান থেকে ৯৯ জন আইটিবিপি জওয়ানকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।