নজরে নীলছবি, ‘আফগান পর্নস্টার’ খুঁজে পেলেই মাথা কাটবে তালিবানরা

নিউজ ডেস্ক: কাবুল দখল নেওয়ার পর থেকেই নারী স্বাধীনতায় ঘোষিত অবস্থানের উল্টো পথেই হাঁটছে তালিবান। আফগান মহিলাদের ঘরেই থাকতে হবে। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে পড়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা, এখন মহিলাদের কর্মস্থলে না যাওয়ার ফরমান-এরপর কী মাথা কাটার ফতোয়া? আফগানিস্তানের মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিস্তর। কারণ এর আগে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবান সরকারের ভয়ঙ্কর রূপ দেখেছেন আফগানবাসী।

আরও পড়ুন পথের কাঁটা পঞ্জশির দখলের পরেই তালিবান সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

এবার এক প্রতিবেদনে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। হন্যে হয়ে পর্ন সাইট খুঁজছে তালিবানরা। যদিও তাদের উদ্দেশ্য পর্ন ভিডিও দেখা নয়, উদ্দেশ্য সেই ভিডিও থেকে ‘আফগান পর্নস্টার’ খুঁজছে জেহাদিরা। বিশেষত নীলছবির সঙ্গে যুক্ত মহিলাদের খুন করার পরিকল্পনা করেছে তারা।

আরও পড়ুন শরিয়তি আইনে চলা আফগানিস্তান থেকে উইঘুর মুসলিমদের চিনে পাঠাবে তালিবান

সরকার গঠনের পরই যৌনকর্মীদের মৃত্যুদন্ড ঘোষণা করা হতে পারে। সমস্ত পর্ন সাইটগুলিও খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে তালিবানিরা। শরিয়তি আইন অনুযায়ী কোনও ভিনদেশী পুরুষের সঙ্গে যৌন কার্যকলাপে জড়িত হয়েছিলেন, এমন কোনও আফগান মহিলাকে পেলেই তাঁকে খুন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আফগানিস্তানে মহিলাদের মুখে এভাবেই কালি মাখাচ্ছে জেহাদিরা।

তালিবান স্পষ্ট জানিয়েছে আফগানিস্তানে শরিয়া আইন জারি চলবে। কড়া ধর্মীয় এই নিয়মকানুনে মহিলাদের জন্য ভয়ঙ্কর সব নিদান রয়েছে। এর একটু ভুল হলেই প্রকাশ্যে নিদারুণ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পেতে হয়। আর সময বিশেষে সেই শাস্তি হয় মাথা কেটে নেওয়া। ২০০১ সালের আগে তালিবান যখন আফগানিস্তান শাসন করত, তখনও তারা কঠোর শরিয়া আইন জারি করেছিল। শিক্ষা থেকে সম্পূর্ণ রূপে বঞ্চিত করে দেওয়া হয়েছিল মহিলাদের, ছিল না কাজ করার অধিকারও। উঁচু স্বরে কথা বলা, পুরুষ সঙ্গী ছাড়া একা বাড়ি থেকে বেরনোর মতো অপরাধেও জনসমক্ষে পাথর ছুঁড়ে হত্যা করা হত তাদের। এবারও সেই একই ছবি দেখা যাচ্ছে আফগানিস্তানে।

পথের কাঁটা পঞ্জশির দখলের পরেই তালিবান সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

Taliban and the Resistance Front in Panjshir Valley

নিউজ ডেস্ক: কী হবে পঞ্জশিরে? তালিবান কব্জা নাকি জঙ্গি বিরোধী আফগানি শক্তির নেতা মাসুদের জয় প্রায় পুরো আফগানিস্তানের দখল নিলেও তালিবান এখনও কব্জা করতে পারেনি। শনিবার ভোর থেকে প্রবল সংঘর্ষ চলছে এই এলাকায়। পঞ্জশির ঘিরে মূল সংঘর্ষ তালিবান ও আফগান রেজিস্টেন্সের।  আল জাজিরা জানাচ্ছে, পঞ্জশিরের কিছু এলাকায় তালিবান জঙ্গি বাহিনি ঢুকেছে। পঞ্জশির চেক পোস্ট সংলগ্ন একটি জেলার বাসিন্দারা দূরবর্তী এলাকায় চলে যাচ্ছেন। এলাকাটি দখলের দাবি করেছে তালিবান।

শুক্রবার তালিবান সরকার গঠনের বার্তা ছিল। কিন্তু সরকার ঘোষণা হয়নি। আফগানিস্তানের সংবাদ মাধ্যমের খবর, আপাতত সরকার ঘোষণা পিছিয়ে দিয়েছে তালিবান। তবে সরকারের প্রধান হিসেবে তালিবান জঙ্গি সংগঠনের সহ প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল বারাদারের নাম চূডান্ত হয়েছে। আর সরকারের সর্বশীর্ষে থাকছে বর্তমান তালিবান প্রধান হিবাতুল্লাহ আখুন্দাজাদা। মনে করা হচ্ছে, পঞ্জশির দখল করেই তালিবান সরকার গঠন সম্পূর্ণ করবে।

Taliban and the Resistance Front in Panjshir Valley

পঞ্জশির ঘিরে লড়াই কেমন? আলজাজিরা জানাচ্ছে পরিস্থিতি প্রবল সংঘর্ষপূর্ণ। তালিবান বেগ পাচ্ছে। আফগান সংবাদ মাধ্যম টোলো নিউজের খবর, পঞ্জশিরে উভয়পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে।  রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, তালিবানের বিরাট ক্ষতি হচ্ছে। তবে পঞ্জশিরের কিছু অংশে তালিবান প্রথম দিকে ঢুকে পড়েছিল। তাদের হটিয়েছে আহমেদ মাসুদের বাহিনি।

তবে পঞ্জশিরে থাকা অপসারিত আফগান সরকারের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট আমারুল্লাহ সালেহ বিবিসি কে জানান লড়াই জোরদার চলছে। কঠিন পরিস্থিতি। গত ১৫ আগস্ট তালিবান দ্বিতীয়বারের জন্য কাবুল দখল করার পরেই তিনি পঞ্জশিরে আশ্রয় নেন। তখন তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট। তবে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশত্যাগ করতেই সামারুল্লাহ নিজেকে সংবিধান মাফিক প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করেন।

কাবুল থেকে দলের পর দল তালিবান যাচ্ছে মার্কিন সেনার ফেলে যাওয়া অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে। পঞ্জশির উপত্যকার শাসক আহমেদ মাসুদ তাঁর বাহিনি নিয়ে প্রবল প্রতিরোধ গড়েছেন। দু পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি বিস্তর। পঞ্জশির উপত্যকা একমাত্র আফগান এলাকা যেখানে তালিবান বিরোধী নিয়ম চলে।  পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদের পিতা আহমেদ শাহ মাসুদ ছিলেন তালিবান বিরোধী নেতা ও আফগানিস্তানের জাতীয় বীর। তিনি প্রথম তালিবান সরকার (১৯৯৬-২০০১) সময়ে পঞ্জশিরকে বিচ্ছিন্ন রাখতে সমর্থ হন। পরে নাশকতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

তালিবানদের ‘বিপ্লবী’ আখ্যা দিয়ে বিপাকে কংগ্রেস বিধায়ক আনসারি

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই কায়েম হচ্ছে শরিয়তি আইন। ইসলামের আদেশ অনুসারেই চলছে দেশ। গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে কট্টরপন্থীরা। তালিবানদের আফগানিস্তান দখল এবং আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করার জন্য ‘আল্লাকে ধন্যবাদ জানাতে’ ২৭ আগস্ট একটি অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে।

আরও পড়ুন পঞ্জশির রক্তাক্ত: যে ছবি প্রমাণ দিচ্ছে মাসুদ বাহিনিকে কেন ভয় তালিবানের

প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর নীলম ইরশাদ শেখ নামের এক নেত্রী সোজাসুজি বলেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।” এবার তালিবানদের প্রকাশ্যে সমর্থন করে বিতর্ক উসকে দিলেন কংগ্রেস বিধায়ক ইরফান আনসারি। আফগানিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীকে ‘বিপ্লবী’ তকমা দিয়ে বিপাকে ঝাড়খণ্ডের ওই রাজনীতিবিদ।

 

এক সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন কংগ্রেস প্রধান আনসারি বলেন, “আফগানিস্তানে এতদিন ধরেই অত্যাচার চালাচ্ছিল মার্কিন সেনাবাহিনী। মায়েদের, বোনেদের ও শিশুদের উপর অত্যাচার করত তারা। এবার তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করায় আফগানিস্তানের মানুষ খুশি।” তালিবানকে শুধু প্রশংসাই নয়, আমেরিকাকেও তোপ দেগেছেন তিনি। জানিয়েছেন, “আমেরিকার সেনা যেখানেই যায় সেখানেই সবার উপর অত্যাচার চালায় তারা। এবার আফগানিস্তানে শান্তি ফিরবে।” তাঁর এই কথাতেই বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

আরও পড়ুন শরিয়তি আইনে চলা আফগানিস্তান থেকে উইঘুর মুসলিমদের চিনে পাঠাবে তালিবান

ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে সমালোচনায় ভরিয়ে দেওয়া হয়েছে আনসারিকে। পদ্মশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “জামতাড়ার কংগ্রেস বিধায়ক একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে সমর্থন করছেন। যারা আফগানিস্তানের মহিলা ও সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের জন্য কুখ্যাত। তালিবানের ভয়ে সে দেশের নাগরিকরা আফগানিস্তান ছেড়ে পালাচ্ছে। ইরফান আনসারি কি চাইছেন যে ভারতেও এমনটা হোক।” প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের আগে তালিবান যখন আফগানিস্তান শাসন করত, তখনও তারা কঠোর শরিয়া আইন জারি করেছিল। এবারেও আগের ছবিই দেখা যাচ্ছে গোটা দেশ জুড়ে।  

তালিবান সম্পর্কে ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করুক: ওয়াইসি

asaduddin owaisi

নিউজ ডেস্ক: তালিবান জঙ্গি সংগঠন কী না সেই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। বৃহস্পতিবার এই দাবি তুললেন মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি৷ এদিন তিনি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই দাবি তুলেছেন৷

আফগানিস্তানে আটকা পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সহ বিভিন্ন ইস্যুতে গত মঙ্গলবার কাতারে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তাল তালিবান নেতা শের মুহম্মদ আব্বাস স্তানিকজ়াইয়ের সঙ্গে কাতারের রাজধানী দোহায় সাক্ষাৎ করেন। এই প্রথম কোনও তালিবান নেতার সঙ্গে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

ভারতের বিভিন্ন বিরোধী দল ওই বৈঠককে কেন্দ্র করে মোদী-সরকারকে টার্গেট করেছে। ‘মিম’ প্রধান আইনজীবী আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বলে অভিহিত করেন৷ তিনি বলেন, ভারতের উচিত তালিবানের ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করা, তারা এদেরকে জঙ্গি সংগঠন মনে করে কী না?’

তালিবান নেতার সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার দেবাশিস দাস একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, রাষ্ট্রদূত যে তালিবানের সঙ্গে কথা বলেছেন, সেটা একটা ভালো ব্যাপার। যোগাযোগ বন্ধ করা একেবারেই উচিত নয়। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে যোগাযোগ খুবই জরুরি। আমরা যোগাযোগ বন্ধ করলে সবচেয়ে লাভবান হবে পাকিস্তান। ভারতীয়দের ফেরত আনা এখন প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগেই বলেছেন, ‘ভালো তালিবান, খারাপ তালিবান বলে কিছু হয় না। হয় তুমি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, নয় সন্ত্রাসবাদের পক্ষে। এর মাঝামাঝি কিছু নেই।’ এই বার তালিবানের সঙ্গে বৈঠকের পর বিরোধীদের প্রশ্ন, মোদি সরকার কী তাহলে আর তালিবানকে জঙ্গি সংগঠন বলে মনে করছে না? জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘তালিবান হয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, নচেৎ নয়। সরকার স্পষ্ট করুক, আমরা তালিবানকে কী চোখে দেখছি।’

কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘যদি ওরা জঙ্গিবাদী সংগঠন হয়, তাহলে কেন ওদের সঙ্গে কথা বলছেন? যদি জঙ্গি সংগঠন না হয়, তা হলে আপনারা কী রাষ্ট্রসংঘে ওদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দিতে বলবেন? এ বিষয়ে মনস্থির করতে হবে।’

গত সোমবার ভারতের সভাপতিত্বেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে তালিবানকেই আহ্বান জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসবাদে যেন মদত না দেওয়া হয়। যা তালিবানকে কার্যত স্বীকৃতি দেওয়াই বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। ভারত বলেছে, সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে জায়গা পেয়েছে।

ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরম বলেন, ‘সরকার নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব নিয়ে নিজেই নিজেকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। কিন্তু এই প্রস্তাবের দু’টি অর্থ হতে পারে। এক, গোটা বিষয়টির সমাধান হয়ে গিয়েছে এবং তাতে ভারত সন্তুষ্ট। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদে তা হয়নি। দুই, আমরা নিজেদের ইচ্ছে প্রকাশ করেছি এই প্রস্তাবে। অন্যরা তাতে সই করেছে। নিরাপত্তা পরিষদে শুধু সেটাই হয়েছে। এখনই নিজের পিঠ চাপড়ানোর সময় আসেনি।’ চিন- পাকিস্তান ও তালিবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের সম্ভাব্য অক্ষ ভারতের কাছে চিন্তার বিষয় বলেও কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম মন্তব্য করেন৷

পঞ্জশির রক্তাক্ত: যে ছবি প্রমাণ দিচ্ছে মাসুদ বাহিনিকে কেন ভয় তালিবানের

#Panjshir valley
নিউজ ডেস্ক: তালিবান ঘিরছে, প্রত্যাঘাতের হামলায় মাসুদ বাহিনি। আফগানিস্তানের যে অংশটি কোনোদিন কারোর সামনে নত হয়নি সেই পঞ্জশির উপত্যকা এখনও প্রতিরোধের লড়াইয়ে সামিল। কাবুল থেকে দলে দলে জঙ্গি তালিবান যাচ্ছে পঞ্জশিরের দখল নিতে। তাদের মুখোমুখি হচ্ছে আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্স। আফগান সংবাদ মাধ্যমের খবর, তালিবান ও পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মানুষের মিলিশিয়া সংঘর্ষে লিপ্ত।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে তালিবান জঙ্গিরা পঞ্জশিরের ভিতর কিছুটা অংশে ঢুকেছে। বেশকিছু তালিবান জঙ্গিরা মৃত্যু হয়েছে। পঞ্জশির উপত্যকার শাসক আহমেদ মাসুদ তাঁর পিতার আহমেদ শাহ মাসুদের মতো তীব্র তালিবান বিরোধী। তিনি লড়াই চালাচ্ছেন। নিচে থাকল সংঘর্ষের সময়কার কিছু ছবি। কোথাও তালিবান বিরোধী মাসুদের মিলিশিয়া, কোথাও তালিবান জঙ্গিদের অবস্থান।  এক নজরে দেখুন বিখ্যাত পঞ্জশির এখন কেমন।

পঞ্জশির দখল নিতে এগোচ্ছে তালিবান বাহিনি

ক্রিকেট কূটনীতিতে তালিবান 2.0! পরপর টার্গেট ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ

taliban sendin cricket diplomacy

#Afghanistan
নিউজ ডেস্ক: কাবুল জুড়ে এখন ব্যাস্ততা তুঙ্গে। সরকার গড়ার কাজ চলছে। এই সরকার তালিবান জঙ্গিদের। দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানের কুর্সিতে জঙ্গিরা বসতে চলেছে। প্রথম তালিবান সরকার (১৯৯৬-২০০১) পর্যন্ত যেমন খেলা বিনোদন সবকিছুই অ-ইসলামিক বলে নিষিদ্ধ করেছিল তালিবান জঙ্গিরা, এবার তারা স্পষ্ট জানিয়েছে অনেকাংশে নরম মনোভাব থাকবে। সেই সূত্রে আফগানিস্তানের পুরুষ ক্রিকেট দলকে আগামী কয়েকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বলেছে তালিবান নেতৃত্ব।

এখানেই শুরু তালিবান ক্রিকেট কূটনীতির পর্ব। যে তালিবান কড়া শরিয়তি আইনে মাথা কাটার ফরমান দেয় তারা নিজেদের নরম দেখাতে বাইশ গজের খেলাকে প্রাধান্য দিতে শুরু করেছে।

তালিবান জানিয়েছে, ২০২২ সালে প্রথমদিকে ভারতের সঙ্গে একটি টেস্ট সিরিজ খেলা অনুষ্ঠিত করতে চায়। সরকার গড়ার পর আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে এই টেস্ট ক্রিকেট খেলায় তীব্র ইচ্ছে তালিবানের। এমন বার্তায় লাগল চমক। তবে বিসিসিআইয়ের পক্ষ এখনও এই বিষয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তরফে এসেছে ইঙ্গিত। তালিবান যেভাবে ভারতের প্রতি একটার পর একটা কূটনৈতিক বার্তা দিচ্ছে তাতে স্পষ্ট তারা নয়াদিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে মরিয়া। তবে এই কূটনৈতিক বার্তার পিছনে তালিবান নেতা তথা আশির দশকে দেরাদুন মিলিটারি একাডেমির প্রাক্তনী শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাইয়ের (শেরু) ভূমিকা আছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। সম্প্রতি তার সঙ্গেই কাতারের রাজধানী দোহা শহরে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল কূটনৈতিক আলোচনা করেন।

দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট কূটনীতির নতুন সদস্য তালিবান!
দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি প্রতিবেশি দেশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরকার সময় বিশেষে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গতি আনতে ক্রিকেট কূটনীতির প্রয়োগ করে। নয়াদিল্লি-ইসলামাবাদ, বা নয়াদিল্লি-ঢাকা কিংবা ইসলামাবাদ-ঢাকা এই ক্রিকেট কূটনীতির বহুল প্রয়োগকারী। সেই তালিকায় তালিবান অধিকৃত কাবুল এসে জুড়ে যাচ্ছে এবার।

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল বানাতে মরিয়া তালিবান। তাদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গণহত্যা, গণধর্ষণ সহ বহু নারকীয় ঘটনা। যেহেতু কাবুল দখল করার পরেই তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছিল, এই তালিবান আগের মতো নয়। সেই বার্তার পরেই নিজেদের নতুন করে তুলে ধরতে মরিয়া জঙ্গি সংগঠনটি।

কূটনৈতিক মহলের আরও ধারণা, তালিকার ঘোষিত বন্ধু দেশ পাকিস্তান তো রয়েইছে, ভারতের সঙ্গে একটি খেলা হলেই তাদের পোয়াবারো। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ক্রিকেট কূটনীতির বার্তা দিতে চলেছে তালিবান।

আফগান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হামিদ শিনওয়ারি বলেছেন, তালিবান সরকার ক্রিকেটকে সমর্থন করছে এবং আমাদের সমস্ত ক্রিকেট নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। ২০২২ সালের শুরুতেই ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ করা যেতে পারে৷

তিনি আরও জানান, আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে আফগানিস্তান। তবে আফগানিস্তানে মহিলা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে৷

শরিয়তি আইনে চলা আফগানিস্তান থেকে উইঘুর মুসলিমদের চিনে পাঠাবে তালিবান

নিউজ ডেস্ক: উইঘুর মুসলিম অধ্যুষিৎ অঞ্চলের আগের নাম ‘পূর্ব তুর্কিস্তান’। বর্তমান এই অঞ্চল চিনের জিনজিয়াং প্রদেশে। ৯০ লাখ মুসলিম অধ্যুষিত এ অঞ্চলের প্রায় ১০ লাখ উইঘুর নারী-পুরুষ বন্দি রয়েছে বন্দি শিবিরে। চিন সরকার এ বন্দি শিবিরকে ‘চরিত্র সংশোধনাগার’ নাম দিয়েছে। চরিত্র সংশোধনাগারের নামে চিন সরকার এ সব মুসলিমদের প্রতি চরম অত্যাচার ও নির্যাতন করছে।

আরও পড়ুন আফগানিস্তানে তালিবানি পতাকা কেনার হিড়িক, জঙ্গি বিরোধী পঞ্জশির বলছে না

অন্যদিকে তালিবানি শাসন কায়েম হয়েছে আফগানিস্তানে। ক্ষমতায় এসেই তালিবান জানিয়েছে, ইসলামের শরিয়তি আইন অনুসারেই এবার থেকে দেশ চলবে। আফগানিস্তানের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘ইসলামিক ইমিরেটস অব আফগানিস্তান”। একদিকে আফগানিস্তানের জনগন যেমন মুসলিম নীতির আতঙ্কে রয়েছেন, অন্যদিকে আতঙ্কে ভুগছেন উইঘুর মুসলিমরাও। আফগানিস্তানে উইঘুর সম্প্রদায়ের প্রায় হাজার দুয়েক পরিবারের বাস। যাদের চিনে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্বের একাধিক মানবাধিকার সংগঠন।

প্ল্যাকার্ড হাতে জিনপিং সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন এক মুসলিম।

কিন্তু একদিকে ইসলামিয় নীতি মেনে চলছে তালিবানরা। অন্যদিকে চিন বহুদিন ধরেই মুসলিমদের ওপর অকথ্য অত্যাচার করছে। তাও সেখানেই কেন উইঘুর মুসলিমদের পাঠাবে তালিবান?

সংবাদ সংস্থা এএনআইকে মানবাধিকার সংগঠন উমর উইঘুর ট্রাস্টের সভাপতি মহম্মদ উইঘুর জানিয়েছেন, “এখন তালিবানের হাতেই আফগানিস্তানের সমস্ত ক্ষমতা রয়েছে। আর তালিবানদের ক্ষমতায় আসার পেছনে চিনের মদত রয়েছে।” কয়েকদিন আগেই একটি রিপোর্ট তৈরি করেছিল উইঘুর হিউম্যান রাইটস প্রজেক্ট এবং অক্সাস সোসাইটি ফর সেন্ট্রাল এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স। সেই রিপোর্টে লেখা হয়, “চিনের তরফে তালিবানরা উইঘুরদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে। চিনে বহু উইঘুরদের হত্যা করা হয়েছে। বন্দী শিবিরেও পাঠানো হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় তাদের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। একই কাজ করা হচ্ছে আফগানিস্তানেও।”

আরও পড়ুন আফগানিস্তানে জঙ্গি সরকারকে সমর্থনে বিশ্ব দোদুল্যমান

উইঘুদের ওপর অত্যাচার, মুসলিম ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধ্বংসে কি কি করছে চিন ?

  •  জিনজিয়াং প্রদেশের কোনো পুরনো মসজিদ সংস্কার করতে না দেয়া। তাছাড়াও নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন না দেয়া।
  •  প্রকাশ্যে ধর্মীয় শিক্ষা নিষিদ্ধ করা।
  •  পবিত্র হজযাত্রার অনুমতি না দেওয়া।
  •  নামাজ পড়ার সময় এক হাজার মুসলিমের জন্য একশ পুলিশ মসজিদ ঘিরে রাখে।
  • প্রাচীন মসজিদগুলিতে মুসলিমদের নামাজ পড়তে না দেওয়া।
  • মুসলিম মেয়েদের অবৈধভাবে গর্ভপাত করানো হচ্ছে। 
  • ১৯৯৬ সাল থেকে জিনজিয়াং প্রদেশের ৪০টি শহর ও গ্রামে অবস্থিত মাদ্রাসার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে শিক্ষার অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে মুসলিমদের।
  • জিনজিয়াংয়ে মুসলমানদের তুর্কি ভাষা ও আরবি বর্ণমালা ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে ক্রিকেট সিরিজ খেলতে চায় তালিবান সরকার

Taliban wants to play a cricket series with India

নিউজ ডেস্ক: তালিবানরা কাবুল দখলের পরেই সবার মনে একটা প্রশ্ন ছিল, আফগানিস্তান আবার ক্রিকেট খেলতে পারবে৷ তালিবান সরকার কি সেই অনুমতি দেবে৷ তবে সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তালিবানরা ক্রিকেটে আগ্রহ দেখানোয় কিছুটা আশা জাগিয়েছে ক্রিকেট মহলে৷ তবে, মহিলা ক্রিকেটের ভবিষ্যত এখানও অন্ধকারে৷ আফগানিস্তানের দলকে তালিবানের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে খেলতে দেখা যেতে পারে। চলতি বছরের শেষের দিকে আফগানিস্তানের অস্ট্রেলিয়া সফরে সবুজ সংকেত দিয়েছে তালিবান। এছাড়াও ভারতের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট সিরিজ খেলতে চাওয়ার কথাও বলেছে তালিবান।

অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সিরিজের পর তালিবান ২০২২ সালের প্রথমদিকেই ভারতের সঙ্গে একটি টেস্ট সিরিজ চাইছে৷ তবে বিসিসিআইয়ের পক্ষ এখনও এই বিষয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (এসিবি) একজন শীর্ষ কর্মকর্তা আসন্ন সফরের বিবরণ প্রকাশ করেছেন। এসিবি প্রধান নির্বাহী হামিদ শিনওয়ারি ভারত সফর সম্পর্কেও তাঁর মতামত দিয়েছেন৷ তিনি বলেন, “তালিবান সরকার ক্রিকেটকে সমর্থন করছে এবং আমাদের সমস্ত ক্রিকেট নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। তালিবান সাংস্কৃতিক কমিশনের একজন মুখপাত্র আমাদের বলেছেন, তালিবানরা অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে একটি টেস্ট ম্যাচ সমর্থন করবে৷ তার পর ২০২২ সালের শুরুতেই ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ করা হতে পারে৷

তালিবানরা ক্রিকেটকে সমর্থন করছে৷ আফগানরা অক্টোবর-নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে। তিনি বলেন, “তালিবান ক্রিকেটকে সমর্থন করছে এবং আমরা তাদের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছি। এটা যুব সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা, তারা খেলাধুলাকে সমর্থন করবে। এটিই ভালো লক্ষণ।” তবে আফগানিস্তানে মহিলা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চিত রয়েছে৷ তিনি বলেন, “আমরা এই মুহূর্তে জানি না সরকার এ বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেবে।”

মাল্টি নেশন টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আফগানরা সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় সিরিজের পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, “আমরা একটি টি-টোয়েন্টি ত্রিদেশীয় সিরিজ নিয়ে কাজ করছি৷ যার মধ্যে থাকবে আফগানিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং শ্রীলঙ্কা। এটি সম্ভবত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হবে। সম্ভবত ত্রিদেশীয় সিরিজের আগে আমাদের জাতীয় দলের জন্য কাতারে একটি ক্যাম্প হবে।

আফগানিস্তানে তালিবানি পতাকা কেনার হিড়িক, জঙ্গি বিরোধী পঞ্জশির বলছে ‘না’

Afghanistan Taliban National flag,

#Afghanistan
নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে একটি ছবি। এতে দেখা যাচ্ছে, কাবুলের রাজপথে এক কিশোরকে সদ্য অধিগ্রহন করা তালিবান পতাকা হাতে যেতে। আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা এখন এটি। গত ১৫ আগস্ট তালিবান (Taliban) যখন কাবুল দ্বিতীয়বার দখল করে, কিছু পরেই আফগান জাতীয় পতাকা নামিয়ে দেয়।
তালিবান জঙ্গি অধিকৃত আফগানিস্তানের নতুন নামরণ করা হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তান নাম আর নেই। এর বদলে তালিবান দিয়েছে ইসলামিক আমিরশাহী আফগানিস্তান নাম। প্রচলিত অর্থে দেশটিতে পুরনো আমিরতন্ত্র ফিরিয়েছে তালিবান জঙ্গি সংগঠন।

১৫ আগস্ট তালিবান দখলে কাবুল চলে যাওয়ার পরেই আফগানিস্তানের পূর্বতন জাতীয় পতাকা নিয়ে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছিল। বিক্ষোভরত আফগানিদের দাবি কোনওভাবেই জাতীয় পতাকা পরিবর্তন করা যাবে না। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তালিবান রক্ষীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। তবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নতুন তালিবানি পতাকা নিতে দেখা গিয়েছে অনেক আফগানিকেই। অতীত স্মৃতি হচ্ছে সদ্য অপসারিত নির্বাচিত সরকারের আমলের পতাকা।

বিভিন্ন সময়ে কাবুলের তখতে যারা ক্ষমতা এসেছে তখনই বদলেছে আফগান জাতীয় পতাকা। গত একশ বছরে এই পরিবর্তন হয়েছে অন্তত ১৯ বার। আফগান জাতীয় পতাকার এই পরিবর্তন দেশটির প্রতিটি জমানার একেকটি ইঙ্গিতবাহী দিক মনে করেন গবেষকরা।

কাবুলের সংবাদমাধ্যমেও নতুন তালিবান পতাকা দিয়ে খবর সম্প্রচার শুরু হয় ১৫ আগস্ট দুপুরের পর থেকেই। সেইদিনই সকাল পর্যন্ত যতক্ষণ কাবুলে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ছিলেন ততক্ষণ আফগান জাতীয় পতাকা উড়েছিল কাবুল প্যালেস ও আইনসভার উপর। তিনি পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। তালিবান জঙ্গিরা দখল করে নেয় কাবুল। আফগান রাজধানীতে নিজেদের সংগঠনের পতাকা হাতে জঙ্গি তালিবান টহল শুরু হয়। সেই পতাকা এখন সব সরকারি ভবন, আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট ভবনে উড়ছে।

কাবুলের সংবাদ মাধ্যমের খবর, ৩১ সেপ্টেম্বরে মার্কিন সেনা পুরোপুরি আফগানভূমি ত্যাগ করার পরই হুড়মুড়িয়ে বেড়েছে তালিবানের কায়দার পোশাক, বোরখা কেনার পালা। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। পাল্লা দিয়ে বিকোচ্ছে নতুন তালিবানি পতাকা। সাধারণ আফগানির মনে রয়েছে সদ্য পুরনো হওয়া পতাকাটি। তবে তারা নিজেদের নিরাপদে রাখতে নতুন পতাকায় মুড়ে নিচ্ছেন।

ব্যতিক্রম আছে। আফগানিস্তানের একমাত্র তালিবান বিরোধী এলাকা পঞ্জশির। সেখানে কোনও তালিবানি শাসন নেই। পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদ জানিয়েছেন, পিতার মতো তিনিও আফগানিস্তানের কৌলীন্য বজায় রাখতে তালিবান বিরোধী যুদ্ধ চালাবেন। পঞ্জশিরের সিংহ বলে সুপরিচিত আহমেদ শাহ মাসুদ গত তালিবান সরকারের আমলে প্রবল যুদ্ধ করে নিজের এলাকা তালিবান মুক্ত রেখেছিলেন। পরে নাশকতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পিতার মতোই পঞ্জশিরকে তালিবান মুক্ত রাখতে নিজস্ব সেনাবাহিনির প্রস্তুতি শুরু করেছেন জুনিয়র মাসুদ। এখানেই রয়েছেন অপসারিত আফগান সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট সামারুল্লাহ। তিনি নিজেকে প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করেছেন। একমাত্র পঞ্জশিরেই এখনও উড়ছে তালিবানি আমলে সদ্য উপড়ে ফেলা আফগান জাতীয় পতাকা।

আফগানি কূটনীতির তাস খেলায় দিল্লির টেক্কা তালিবান স্তানেকজাই

sher mohammad abbas stanikzai

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: আফগানিস্তানে তালিবান সরকার গড়ার প্রক্রিয়া চলছে। যে জঙ্গিরা ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত সরকার চালিয়েছিল তারা দু’দশক বাদ ফের কাবুলের ‘তখত- এ- তউস’ (সিংহাসন) দখল করেছে। দু-দফার এই তালিবান শাসনের মাঝে নয়াদিল্লির আফগান নীতি কী হবে? এই প্রশ্ন তাড়া করছে কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, প্রথম দফায় যখন আফগানিস্তানের সরকার তালিবান কব্জায় ছিল তখনও ভারতে এনডিএ সরকার। বিখ্যাত ‘কান্দাহার বিমান অপহরণ’ বা ‘IC 814 Hijack’ ঘটে ১৯৯৯ সালে। পাকিস্তানের জঙ্গি নেতা মাসুদ আজাহারের মুক্তির বিনিময়ে বিমানে বন্দি ভারতীয়দের ছাড়িয়ে আনেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী।

আফগানিস্তানের সেই প্রথম তালিবান সরকারের উপ প্রধানমন্ত্রী শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই। একদা দেরাদুন মিলিটারি একাডেমির প্রশিক্ষিত আফগান সেনা অফিসার স্তানেকজাই (শেরু) আই সি ৮১৪ বিমান অপহরণের ঘটনায় অপহরণকারী পাকিস্তানি জঙ্গিদের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। এমনকি, তালিবান সরকার অপহরণকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল বিমানটির ক্ষতি করা চলবে না। সে কথা মেনে নেয় পাকিস্তানি জঙ্গি অপহরণকারীরা।

সেই স্তানেকজাই আবারও তালিবান শাসনে চলে যাও আফগানিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে আসছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর, তালিবান নেতা শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী হতে পারে।

এখানেই লুকিয়ে আছে ভারতের আফগান নীতির তুরুপের টেক্কা। কারণ স্তানেকজাই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। গত ১৫ আগস্ট তালিবান যখন ফের কাবুল দখল করে, স্তানেকজাই নয়াদিল্লিকে সম্পর্কের বার্তা দেয়। ৩১ আগস্ট আমেরিকান সেনার সর্বশেষ বিমান উড়ে যাওয়ার পরেই স্তানেকজাইয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা করেছেন কাতারে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল।

কাতারে রাজধানী দোহা শহরেই আছে তালিবান জঙ্গি সংগঠনের আন্তর্জাতিক কর্পোরেট কার্যালয়। সেখানেই থাকে শেরু অর্থাৎ শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই। আল জাজিরা জানিয়েছে, দোহার ভারতীয় দূতাবাসে আমন্ত্রণ জানানো হয় স্তানেকজাইকে। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, স্তানেকজাইয়ের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয় ছিল, ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরানোর বিষয়। আলোচনা হয়েছে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে। এছাড়াও বেশ কিছু আফগান নাগরিক যারা ইতিমধ্যে ভারতে যাওয়ার আবেদন করেছে, সেই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

কেন স্তানেকজাই ‘টেক্কা’?
শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই এমন এক তালিবান জঙ্গি নেতা যে প্রথম জীবন ছিল আফগান সেনা অফিসার। আশির দশকে আফগানিস্তানের সরকার তাকে দেরাদুনে ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠায়। দেশে ফিরে সোভিয়েত বিরোধী মুজাহিদিন গোষ্ঠীর হয়ে যুদ্ধে নামে। পরে স্তানেকজাই তালিবান সংগঠনের শীর্ষে ওঠে। আফগানিস্তানের প্রথম তালিবান সরকারের আমলে উপ প্রধানমন্ত্রীর পদ ছিল স্তানেকজাইয়ের।

২০০১ সালে মার্কিন সেনা অভিযানে তালিবান সরকারের পতন হয়। তখন স্তানেকজাই আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে কাতারে আশ্রয় নেয়। স্তানেকজাই ভারত সম্পর্কে নরম মনোভাব রাখে। কারণ তার দেরাদুন স্মৃতি ও ভারতীয় ‘বন্ধু’। দুটি কারণে স্তানেকজাই ওরফে শেরুকে সামনে রেখেই ভারত পরবর্তী আফগান নীতি নিচ্ছে। জানা যাচ্ছে, অতি দ্রুত স্তানেকজাইকে নয়াদিল্লি কূটনৈতিক বার্তা দেবে।

আফগান তালিবান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক (সম্ভবত বিদেশমন্ত্রক) পেতে চলা স্তানেকজাই কাতার থেকে কবুলে এসে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই নয়াদিল্লি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। ইতিমধ্যেই স্তানেকজাইয়ের তৈরি বয়ান আন্তর্জাতিকস্তরে ছড়িয়েছে তালিবান। কাবুল থেকে মার্কিন সেনার শেষ বিমান উড়ে যেতেই তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বিমানবন্দরের রানওয়েতেই বার্তা দেয় আফগানিস্তানকে মুক্ত ও সার্বভৌম দেশ। সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই।

‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’, তালিবানদের প্রশংসা করায় আফ্রিদিকে একহাত নিলেন নেটিজেনরা

স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রিকেট হোক কিংবা রাজনৈতিক কোনো বক্তব্য- শহীদ আফ্রিদি প্রায়ই পাকিস্তানে আলোচনার কেন্দ্রে থাকেন। তবে গত কয়েকদিন আফ্রিদি পাকিস্তানের চেয়ে ভারতেই বেশি আলোচনায় ছিলেন। আফ্রিদি বলেন, “এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নেই তালিবানরা এবারে অনেক ইতিবাচক। যা আগে কখনো দেখা যায়নি। আল্লাহ যদি চান, যদি সব ঠিক থাকে তবে তালিবানরা এবারে নারীদের চাকরি, লেখাপড়া, রাজনীতি সবই করতে দেবে।”

আরও পড়ুন একে একে কমিছে বিধায়ক, বঙ্গে ক্রমশ ব্যাকফুটে বিজেপি

শুধু আফগানিস্তান এবং তালিবান নিয়ে নয়, আফ্রিদি মন্তব্য করেছিলেন আফগানিস্তানের ক্রিকেটের ভবিষ্যত নিয়েও। তিনি জানান, “”তালেবানরা অন্য সবকিছুর মতো ক্রিকেটেরও নিয়ন্ত্রণ নেবে এতে করে আফগানিস্তানের ক্রিকেটে ভারতের আধিপত্য কমে যাবে।” আফ্রিদি দাবি করেন, তার সাথে আফগানিস্তানের অনেক ক্রিকেটার যোগাযোগ করেছেন এবং তারা সবাই একমত আফগানিস্তানে ক্রিকেট আগের মতোই চলবে, তালিবানরা ক্রিকেটের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবেন না।”

এবার সেই ঘটনাতেই আফ্রিদিকে রীতিমতো ধুইয়ে দিলেন নেটিজেনরা। টুইটারে এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, ‘এবার তালিবান প্রিমিয়ার লিগের দায়িত্বে থাকবে আফ্রিদি।’ আরেকজন লিখেছেন, “ক্রিকেট নিয়ে বললেই, নারী অধিকার নিয়ে কথা বলার ‘অধিকার’ আফ্রিদিকে কে দিয়েছে?”

কাবুল দখল নেওয়ার পর নিজেদের ঘোষিত অবস্থানের উল্টো পথেই হাঁটছে তালিবান। আফগান মহিলাদের ঘরেই থাকতে হবে। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রথমে ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে পড়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা, এখন মহিলাদের কর্মস্থলে না যাওয়ার ফরমান-এরপর কী মাথা কাটার ফতোয়া? আফগানিস্তানের মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিস্তর। কারণ এর আগে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবান সরকারের ভয়ঙ্কর রূপ দেখেছেন আফগানবাসী।

আরও পড়ুন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত-তালিবান আলোচনা শুরু, বড়সড় কূটনৈতিক ইঙ্গিত

তালিবান স্পষ্ট জানিয়েছে আফগানিস্তানে শরিয়া আইন জারি চলবে। কড়া ধর্মীয় এই নিয়মকানুনে মহিলাদের জন্য ভয়ঙ্কর সব নিদান রয়েছে। এর একটু ভুল হলেই প্রকাশ্যে নিদারুণ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পেতে হয়। সেই বিষয়েই আফ্রিদির ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ মন্তব্যে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন নেটিজেনরা।

ভারতীয় রাষ্ট্রদূত-তালিবান আলোচনা শুরু, বড়সড় কূটনৈতিক ইঙ্গিত

India’s envoy in Qatar meets Taliban leader

#Afghanistan
নিউজ ডেস্ক: কাবুল (Kabul) থেকে মার্কিন সেনার বিমান সর্বশেষ উড়ানের পরেই আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রক তালিবান জঙ্গিরা বিশ্বজোড়া কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক! এই বার্তার পরেই চরম কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করল ভারত। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানাচ্ছে, কাতারের রাজধানী দোহা শহরে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তলের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা হয় তালিবান নেতা স্তানেকজাইয়ের।

কাতারে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল ভারতীয় দূতাবাসে তালিবান নেতা স্তানেকজাইকে আহ্বান জানান। সেখানে জঙ্গি সংগঠনটির অন্যতম নেতার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন।

বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, স্তানেকজাইয়ের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয় ছিল, ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরানোর বিষয়। আলোচনা হয়েছে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে। এছাড়াও বেশ কিছু আফগান নাগরিক যারা ইতিমধ্যে ভারতে যাওয়ার আবেদন করেছে, সেই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

আশির দশকে দেরাদুনে ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষিত স্তানেকজাই পূর্বতন তালিবান সরকারের মন্ত্রী। আফগান সেনা হিসেবে ভারতে এসে দেরাদুন মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেয় স্তানেকজাই। দেশে ফিরে সোভিয়েত বিরোধী মুজাহিদিন গোষ্ঠীর হয়ে যুদ্ধে নামে। পরে স্তানেকজাই তালিবান সংগঠনের শীর্ষে ওঠে। আফগানিস্তানের প্রথম তালিবান সরকারের আমলে উপ প্রধানমন্ত্রীর পদ ছিল স্তানেকজাইয়ের।  ২০০১ সালে মার্কিন সেনা অভিযানে তালিবান সরকারের পতন হয়। তখন স্তানেকজাই আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে কাতারে আশ্রয় নেয় স্তানেকজাই৷

দেরাদুন মিলিটারি একাডেমির সেই শেরু অর্থাৎ শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই সম্প্রতি ভারতের কাছে বার্তায় কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা বলেছিল। ভারতে সেনা প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুবাদে এই দায়িত্ব দেয় তার সংগঠন।

কাতারে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ও তালিবানের মধ্যে হয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠক। কারণ, মঙ্গলবার সর্বশেষ মার্কিন সেনা কাবুল থেকে চলে গিয়েছে। আফগানিস্তানকে মুক্ত ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে তালিবান। তারা বিশ্বজোড়া কূটনৈতিক বার্তা দিয়ে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা বলেছে।

তালিবান জঙ্গিদের বার্তা: ভারত-আমেরিকাসহ সবার সঙ্গে কূটনৈতিক সুসম্পর্ক চাই

Taliban army in kabul airport

নিউজ ডেস্ক: বিবৃতির চমক। প্রথমে আফগানিস্তানকে (Afghanistan) সার্বভৌম দাবি করা। কিছু পরে সব দেশের সঙ্গে কূটনীতি সুসম্পর্কের বার্তা। মার্কিন সেনার কাবুল ত্যাগের পর তালিবান যে বার্তা দিচ্ছে তাতে আন্তর্জাতিক মহল চমকে যাচ্ছে।

তবে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রবল উদ্বেগে ভারত সরকার। গোয়েন্দা সতর্কতা যে কোনও সময়ে জম্মু-কাশ্মীরে তালিবান ঘনিষ্ঠ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নাশকতা ঘটাবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই নাশকতার পরিক্লপনা করছে জঙ্গি নেতা পাকিস্তানে থাকা মাসুদ আজাহার।

এদিকে দীর্ঘ ২০ বছর পর মঙ্গলবার ৩১ আগস্ট সকালেই মার্তিন যুক্তরাষ্ট্রের শেষ বিমানটিতে সেনাকর্মীরা আফগানিস্তান ছেড়ে যান। এরপরেই আফগানিস্তানের ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ ঘোষণা করেছে তালিবান। মার্কিন বাহিনি প্রত্যাহারের মুহূর্তকে ঐতিহাসিক আখ্যায়িত করে আফগানবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছে জঙ্গি সংগঠনটি। বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে তালিবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলে, আফগানিস্তানকে অভিনন্দন। এই বিজয় আমাদের সবার। আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাই। সবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী।

মার্কিন বাহিনির শেষ বিমানটি কাবুল ত্যাগ করার পর কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালিবান। বিমানবন্দরে ঢুকেই ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে উদযাপন শুরু করে তারা।

মার্কিন বাহিনীর জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন, ছয় হাজার মার্কিন নাগরিক সহ ৭৯ হাজার মানুষকে কাবুল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ১৫ আগস্ট তালিবান কাবুল দখল করার পর অল্প সময়ের মধ্যে সব মিলিয়ে কাবুল থেকে এক লাখ ২৩ হাজার সাধারণ আফগানি ও বিদেশি বিভিন্ন দেশে পালিয়েছেন।

গত এপ্রিলেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার সেনা প্রত্যাহার শেষ করল ওয়াশিংটন।

তালিবান কারা? আফগানিস্তানের জঙ্গি শাসকদের কথা

নিউজ ডেস্ক: তালিবান আসলে কারা? কীভাবে এই গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে আফগানিস্তানে? এক নজরে জেনে নিন।
পশতু ভাষায় তালিবান মানে ছাত্র।আফগানিস্তানে ১৯৮০-৯০ দশকে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ।সোভিয়েত হটাতে আমেরিকার মদতে মুজাহিদিন বাহিনি যুদ্ধ শুরু করে। শুরু হয় বিখ্যাত আফগান গৃহযুদ্ধ।
১৯৯০ দশক। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়। সেই সময় উত্তর পাকিস্তানে তালিবান সশস্ত্র সংগঠনের জন্ম।

সোভিয়েত বিরোধী কট্টর সুন্নী মতাদর্শের ইসলামই প্রচার করত তালিবান।
সোভিয়েত পতনের পর আফগানভূমি থেকে সরে যায় লাল ফৌজ।
পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান খুব দ্রুত প্রভাবশালী হয় তালিবান।

শুরু হয় তালিবানের কাবুল দখল অভিযান। সোভিয়েত মদতের আফগান সরকারের পতন হয়।
১৯৯৬ সালে তালিবান দখল করে কাবুল। প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাজিবুল্লাহকে খুন করে ঝুলিয়ে দেয়।
১৯৯৬-২০০১ তালিবান সরকার চলে আফগানিস্তানে।

প্রকাশ্যে মহিলাদের মাথা কাটা, গণহত্যার ও গণধর্ষণ শুরু করে তালিবান।
বিবিসি জানাচ্ছে,তালিবান দুর্নীতি দমনে সাফল্যে দেখিয়েছিল। ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ করে দিয়েছিল। তবে তালিবানের নৃশংসতা সবকিছু ছাপিয়ে যায়।

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আল কায়েদা হামলা করে।
আল কায়েদা জঙ্গি সংগঠনটির নেতা লাদেনের সঙ্গে সখ্যতা তালিবানের।
আল কায়েদা ও তালিবান সম্পর্কের কারণে আমেরিকা সরাসরি আফগানিস্তানে সেনা পাঠায়।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট সেনার হামলায় ২০০১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তালিবান সরকারের পতন ঘটে।
২০০১-২০২১ টানা কুড়ি বছর আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রক আমেরিকা।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকাএবং তালিবানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয় কাতারে।
চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকান সেনা সরতে শুরু করে। গত ১৫ আগস্ট তালিবান দখল করে কাবুল।
৩১ আগস্ট সম্পূর্ণ চলে গেলে আমেরিকান সেনা। আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বার তালিবান সরকার গড়ছে।

গুডবাই কাবুল, ভেরি ব্যাড মর্নিং!

Jet fighters circle the skies of Kabul as the U.S

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: নিচে কাবুল (Kabul) নগরী। মোগল সম্রাট, কাবুলের শাসক বাবরের তৈরি চমকদার বাগান ‘বাগ এ বাবর’ এর উপর দিয়ে পুরো আফগান (Afghanistan) রাজধানীর উপর শেষ চক্কর কাটল আমেরিকান যুদ্ধ বিমান। সেনারা (US army) বিমানের গোল গোল জানালা দিয়ে দেখলেন অধিকৃত জমিন ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্ত। কেউ হয়ত বলেছে গুড বাই কাবুল! ভেরি ব্যাড মর্নিং।

কথা রেখেছে আমেরিকা। কাতারের রাজধানী দোহা শহরে তালিবান (Taliban) জঙ্গি ও আমেরিকা সরকারের কূটনৈতিক শান্তি বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে ৩১ আগস্ট ২০২১ টানা কুড়ি বছর সর্বাধিক খরচের সামরিক অভিযান শেষ করে কাবুলকে মাথা কেটে নেওয়ৈর মারাত্মক তালিবান শাসনের হাতে তুলে দিয়ে চলে আসার মুহূর্ত এমন॥
১৯৭৫ সালে এমনই এক সকালে সরাসরি যুদ্ধে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির কাছে পরাজিত হয়ে ভিয়েতকং গেরিলা যোদ্ধাদের সামনে দিয়ে আমেরিকার সেনা সায়গন শহর ত্যাগ করেছিল। সেই সায়গন ত্যাগের কালো ছায়া বরাবর লম্বা হয়ে পড়ে বিশ্ববিখ্যাত সাদা বাড়ি-হোয়াইট হাউসের উপরে এখনো।

Jet fighters circle the skies of Kabul as the U.S

সায়গন ছেড়ে পালানোর পর কাবুল ছেড়ে চলে যাওয়ার মাঝে পার্থক্য- ‘৭৫ সালের সায়গন ছিল কুড়ি বছর ভিয়েতনামে মার্কিনি আধিপত্যের শেষ। ভিয়েতনামি জনগণের জয়। আর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে কুড়ি বছরের সামরিক অভিযান শেষ করে আমেরিকান সেনার চলে যাওয়া কূটনৈতিক উপায়ে নিজেদের তৈরি তালিবান জঙ্গিদের জন্য খোলা মাঠ তৈরি, তাদের বিশ্বজনীন স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা।

ast flight of us troops has take off from Afghanistan capital

আজ মঙ্গলবার। আজ তালিবানি শাসনে দ্বিতীয়বার চলে যাওয়া আফগানি জনতার একলা হওয়ার দিন। আজ মঙ্গলবার আজ থেকে নির্বিচারে মাথা কাটার দিন। কুড়ি বছরের সর্বব্যাপী সামরিক অভিযান শেষ। আফগানিস্তান থেকে চূড়ান্তভাবে সরে গেল আমেরিকা। মঙ্গলবার খুব ভোরে কাবুল বিমান বন্দর থেকে উড়ে গিয়েছে মার্কিন সেনার বিমান। কাবুল সহ পুরো আফগানিস্তানে এখন তালিবান শাসন শুরু হবে। মঙ্গসবারের পর থেকে তালিবান জঙ্গিদের দ্বিতীয় সরকার ঘোষণার দিকে বিশ্ব।

আফগানিস্তান এখন জঙ্গি দখলে। আমেরিকান সেনা নিয়ে শেষ বিমান উড়ে যাওয়ার পরেই কাবুল জুড়ে শুরু হয়েছে তালিবানদের বিজয় পালন। চিরাচরিত আফগান রীতিতে আকাশের দিকে বন্দুক তাক করে গুলি ছুঁড়ে উল্লাসে মত্ত জঙ্গিরা।আফগানবাসী ঘরবন্দি। তালিবান শরিয়া আইন চালু হচ্ছে। যে কোনও সময় মাথা কাটা যাবে।

প্রথম তালিবান সরকার তৈরি হয় আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের লাল ফৌজ সরে যাওয়ার পর নির্বাচিত সরকারের প্রেসিডেন্ট ড নাজিবুল্লাহকে খুন করে। সম্পূর্ণ আমেরিকান মদতে তালিবান দখল করেছিল আফগানিস্তানের কুর্সি। তারপরেই তাদের বন্ধু জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার বাড়বাড়ন্ত। ২০০১ সালে আল কায়েদার হামলায় আমেরিকা সর্বাধিক নাশকতার কবলে পড়ে। ভয়াবহ ৯/১১ হামলার পরেই আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছিল আমেরিকান সেনা।

২০০১-২০২১ এই কুড়ি বছরে আমেরিকা তাদের সর্ববৃহৎ সামরিক অভিযান সংঘটিত করেছে আফগানিস্তানে। এই অভিযান শেষের চূড়ান্ত মুহূর্ত কাতারের রাজধানী দোহা শহরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তালিবান উপপ্রধা মোল্লা আবদুল বারাদারের মধ্যে শান্তি আলোচনায় তৈরি হয়। আফগানিস্তানের পুতুল সরকারের পক্ষে কিছুই করার ছিলনা। একপ্রকার পতন বুঝেই যায় আফগান সরকার।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতো আমেরিকা সেনা সরাতে শুরু করে। বিভিন্ন প্রদেশের দখল নেয় তালিবান। ন্যুনতম প্রতিরোধ করে আফগান সেনা পালাতে থাকে। অবশেষে গত ১৫ আগস্ট কাবুলে আফগান সরকারের পতন হয়। প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশত্যাগ করেন।

অ-মঙ্গল: গান্ধার দেশে মঙ্গলেই তালিবান আস্ফালন শুরু

Biden to Withdraw Combat Troops From Afghanistan

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: কুড়ি বছরের মারাত্মক অভিযান শেষ হয়ে যাচ্ছে। আজ ৩১ আগস্ট, ২০২১ আমেরিকার (US) সেনা পুরোপুরি সরে যাবে আফগানিস্তান (Afghanistan) থেকে।

আমেরিকা সরকার তালিবানের (Taliban) সঙ্গে যে শান্তি বৈঠক করেছিল তার ফল হিসেবে জঙ্গিরা এখন দ্বিতীয়বারের জন্য আফগানভূমির ক্ষমতায়। আজই আমেরিকান সেনা তাদের সর্ববৃহৎ বিদেশে সামরিক কর্মসূচি তুলে নিচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার, আজ মাথা কাটার তালিবানি আস্ফালনের দিন
ঠিক পনের দিন আগে, গত ১৫ আগস্ট ভারতের ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসের দিন দ্বিতীয়বার তালিবান জঙ্গি কব্জায় ঢুকেছিল আফগান রাজধানী কাবুল। সেইদিনই বিশ্ববিখ্যাত সাংবাদিক সম্মেলনে তালিবান জঙ্গিদের ঝাঁ চকচকে কর্পোরেট আদল দেখাতে মরিয়া চেষ্টা করে সংগঠনটির মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। আন্তর্জাতিক সংবাদদাতাদের সামনে তার দাবি ছিল, এই তালিবান তাদের পূর্বসূরিদের তুলনায় নরম মনোভাব দেখাবে।

আরও পড়ুন: ২০ বছরের যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তানে পরাজিত আমেরিকা

তালিবান তার চরিত্র বদলাবে না এটা আফগানবাসীর পালানো দেখেই স্পষ্ট। ঘরপোড়া গোরু যেমন সিঁদূরে মেঘ দেখলে ডরায় তেমনই ভুক্তভোগী আফগানিরা ভীত। তাঁরা প্লেনের চাকা ধরে পালাতে গিয়ে মরেছেন। কিন্তু পালাতে চাইছেন দেশ থেকে। কারণ সরকার গড়বে তালিবান। যে তালিবানের ভয়ঙ্কর মাথা কাটার রূপ গত ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে দেখা গিয়েছিল।

প্রথম তালিবান সরকার তৈরি হয় আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের লাল ফৌজ সরে যাওয়ার পর নির্বাচিত সরকারের প্রেসিডেন্ট ড নাজিবুল্লাহকে খুন করে। সম্পূর্ণ আমেরিকান মদতে তালিবান দখল করেছিল আফগানিস্তানের কুর্সি। তারপরেই তাদের বন্ধু জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার বাড়বাড়ন্ত। ২০০১ সালে আল কায়েদার হামলায় আমেরিকা সর্বাধিক নাশকতার কবলে পড়ে। ভয়াবহ ৯/১১ হামলার পরেই আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছিল আমেরিকান সেনা।

আরও পড়ুন : মার্কিন-আফগানিস্তান যুদ্ধে মৃত্যু এবং খরচ হল কত?

২০০১-২০২১ এই কুড়ি বছরে আমেরিকা তাদের সর্ববৃহৎ সামরিক অভিযান সংঘটিত করেছে আফগানিস্তানে। এই অভিযান শেষের চূড়ান্ত মুহূর্ত কাতারের রাজধানী দোহা শহরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তালিবান উপপ্রধা মোল্লা আবদুল বারাদারের মধ্যে শান্তি আলোচনায় তৈরি হয়। আফগানিস্তানের পুতুল সরকারের পক্ষে কিছুই করার ছিলনা। একপ্রকার পতন বুঝেই যায় আফগান সরকার।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতো আমেরিকা সেনা সরাতে শুরু করে। বিভিন্ন প্রদেশের দখল নেয় তালিবান। ন্যুনতম প্রতিরোধ করে আফগান সেনা পালাতে থাকে। অবশেষে গত ১৫ আগস্ট কাবুলে আফগান সরকারের পতন হয়। প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশত্যাগ করেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে তালিবান এখনও আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেয়নি। ৩১ আগস্ট আমেরিকার সেনা পুরো সরে গেলে কী হবে তা তালিবান ও আফগান জনতা জানে।

ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে ফিরেছে আল কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের দেহরক্ষী আমিন উল হক। লাদেন মৃত। আফগান সীমান্তের কাছে রুশ সামরিক মহড়া চলছে।রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক হয়েছে।

সবই ৩১ আগস্টের পরের পরিস্থিতি বিচার করে পদক্ষেপ নেওয়ার পালা। আজকেই তালিবান আফগানভূমিতে ফের মুক্ত। তাদের আস্ফালন শুনছে বিশ্ব। ঘর ফেরত আমেরিকান সেনারা জানেন তারা কী পরিস্থিতি পিছনে ফেলে যাচ্ছেন। অসহায় আফগানিরা মাথা কাটার ভয়ে দিন শুরু করবেন আজ থেকে।

তালিবানযোগে গোয়েন্দাদের নজরে বাংলার তিন যুবক

old look of taliban militant

নিউজ ডেস্ক: কয়েকদিন আগেই রাজ্যের বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের তালিবানদের সঙ্গে ছবি ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। যার জেরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল রাজ্যের বিভিন্ন মহলে। এবার তালিবানযোগে আবার নাম জড়াল বাংলার। এই রাজ্য থেকে আফগানিস্তান গিয়েছে বলে খবর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের কাছে।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর, বাংলাদেশ থেকে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে ঢুকে আফগানিস্তান গিয়েছে বেশ কয়েকজন। শুধু বাংলাদেশি যুবকরা নয়, অসমের চার যুবকও রয়েছে ওই তালিকায়। এছাড়াও এই রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনার আরও তিন যুবকের গতিবিধিও বেশ সন্দেহজনক।

১৫ আগস্ট তালিবানরা কাবুল দখল করে। তার কয়েকদিন আগে থেকেই শুরু হয়েছিল তালিবানি আগ্রাসন। সে সময়েই ওই যুবকরা আফগানিস্তানে গিয়েছে বলে খবর। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, ওই যুবকদের মধ্যে অনেকেই জঙ্গি কার্যকলাপে রীতিমতো প্রশিক্ষিত। এই পুরো ঘটনার পিছনে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই’এর হাত রয়েছে।

পাকিস্তানের জইশ-ই-মহম্মদ নেতা মৌলানা মাসুদ আজহার (Masood Azhar) জম্মু-কাশ্মীরে দখলের জন্য তালিবানদের সহযোগিতা চাইলেন। সূত্র উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে গোপন বৈঠক সারতে কান্দাহারও গিয়েছিলেন তিনি। আফগানিস্তান দখল করার কয়েকদিন পরেই তালিবানরা কাশ্মীরের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়। সরকারীভাবে জানিয়ে দেয়, এটি একটি “দ্বিপক্ষীয়; এবং ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়”।

ইন্ডিয়ান ইনটেলিজেন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী তালিবানদের কাবুল দখলের পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাস এবং দেশের গুরুত্বপূর্ন অঞ্চলে নাশকতার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে। মাসুদ আজহারের গলাতেও কাশ্মীর দখলের সুর শোনা গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর জনপ্রিয় নেত্রী নীলম ইরশাদ শেখও বলেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।”

আফগানিস্তান্মে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। নীলমও জানান যে তালিবানের পাশে পাকিস্তান যেভাবে দাঁড়িয়েছে তাতে আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্ব খুব খুশি। তার প্রতিদানেই কাশ্মীর দখলে পাকিস্তানকে সাহায্য করবে তারা। সেই নাশকতার কাজেই এই যুবকদের ব্যবহার করা হতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

লাল তারিখ ৩১ আগস্ট: তারপর মাথা কাটা? হিন্দুকুশের নিচে পঞ্জশির তৈরি তালিবান খতম অভিযানে

The Panjshir Valley, the only area not taken by the Taliban or any invading force

নিউজ ডেস্ক: সর্বশেষ সংবাদ এসেছে কোনও যোগাযোগ নেই। পঞ্জশির বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। বিবিসি জানিয়েছে, আফগানিস্তানের তালিবান কব্জার বাইরে পঞ্জশির এখনও অটুট। তবে সেখানকার শাসক আহমেদ মাসুদের (জুনিয়র মাসুদ) সঙ্গে তালিবান কর্তৃপক্ষের সন্ধি হয়েছে। বৈঠকে স্থির হয় পঞ্জশির থাকবে মাসুদের হাতেই।
রবিবার রাত থেকেই পঞ্জশিরের সঙ্গে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন। স্বাভাবিকভাবেই পঞ্জশিরে ক্ষমতাসীন নর্দান অ্যালায়েন্সের আশঙ্কা তালিবান হামলার পূর্ব প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তারা কোনওভাবেই সন্ধি মানবে না।

লাল তারিখ ৩১ আগস্ট। কী হবে ?
এই দিনই মার্কিন সেনা পুরোপুরি আফগানিস্তান মিশন শেষ করবে। টানা কুড়ি বছরের এই মিশন শেষ হলেই আফগানিস্তানের শাসন ক্ষমতায় পাকাপাকিভাবে বসবে তালিবান জঙ্গিরা-দ্বিতীয়বারের মতো। গত ১৫ আগস্ট তারা কাবুল দখল করে। পঞ্জশির আর একটি ক্ষুদ্র অংশ বাদে পুরো আফগানিস্তানই তালিবান দখলে।
পঞ্জশিরে যা যা ঘটার সম্ভাবনা

Whatever is likely to happen in Panjshir১. পঞ্জশির দখলের জন্য তালিবান অভিযান শুরু হবে ৩১ আগস্টের পরেই।
২. পঞ্জশির উপত্যকাবাসী প্রবল লড়াই করবেন। গত তালিবান সরকারের আমলেও এই এলাকা ছিল জঙ্গি মুক্ত এলাকা।
৩. পঞ্জশিরের পতন হতে পারে। শাসক আহমেদ মাসুদ হয় পলাতক অথবা মারা যেতে পারেন। আহমেদ মাসুদের পিতা আহমেদ শাহ মাসুদ পঞ্জশিরের সিংহ বলে পরিচিত। সুপরিচিত তালিবান বিরোধী নেতা ছিলেন।
আড়াই হাজার বছর ধরে অজেয় পঞ্জশির

পঞ্জশির উপত্যকা হাজার হাজার বছর ধরে অজেয়। মহাবীর আলেকজান্ডার, গজনীর সুলতান মামুদ, পাঞ্জাব কেশরী শিখ সম্রাট রণজিৎ সিং, ব্রিটিশ, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশাল সেনা কেউ এই আফগান উপত্যকা দখল করতে পারেনি। এমনকি প্রথম তালিবান সরকারের আমলেও এই এলাকা ছিল জঙ্গি মুক্ত। দ্বিতীয় তালিবান সরকারের আমলেও চরিত্র ধরে রাখল পঞ্জশির ২৫০০ বছর ধরে অজেয় চরিত্র। এও এক নজির।

এই পঞ্জশির নিয়ে তালিবানের মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়। ৩১ তারিখের পর তালিবান সরকার ঘোষণা করেই পঞ্জশির অভিযান করতে মরিয়া। বিবিসি জানাচ্ছে, পঞ্জশিরের শাসক মাসুদ সব দিক খতিয়ে দেখেছেন। তাঁর বাহিনি প্রস্তুতি শেষ করেছে। অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়েছে মাসুদের নর্দান অ্যালায়েন্স রক্ষীরা। যারা তালিবানদের মাথা কাটার জন্য সুপরিচিত।

তালিবান জঙ্গিরা দুবার তারা আফগান ক্ষমতার কেন্দ্রে। কাবুলের নিকটস্থ হিন্দুকুশ পর্বতমালা দিয়ে ঘেরা বিখ্যাত পঞ্জশির এলাকা দখল করতে পারেনি তারা। পঞ্জশির দখলে শত শত জঙ্গি পাঠালেও, এখানকার তাজিক বংশজাত যোদ্ধারা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। শেষ পর্যন্ত আলোচনার কৌশল নেয় জঙ্গিরা। আফগান সংবাদ মাধ্যমের খবর পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ সন্ধির প্রস্তাব দেয় তালিবান জঙ্গিরা। বৈঠকে স্থির হয় পঞ্জশিরে কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না তালিবান জঙ্গিদের। এই এলাকায় তালিবানি শরিয়তি আইন চলবে না, এমনই কড়া শর্ত দেন জুনিয়র মাসুদ। তবে আলোচনার আগে রাশিয়া সরকারে প্রতি বার্তা দিয়েছিলেন পঞ্জশিরের শাসক মাসুদ। তিনি বলেন, মস্কো যেন তালিবানকে বোঝায়। এবার পঞ্জশিরে ইন্টারনেট বন্ধের ইঙ্গিত সন্ধি ভাঙতে চলেছে।

বৈঠকের আগে তালিবান হুমকি দিয়েছিল, আলোচনায় ব্যর্থ হলে বলপ্রয়োগ করে পঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গে আহমেদ মাসুদ জানিয়েছিলেন, উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ তালিবানের হাতে কোনওভাবেই ছেড়ে দেবেন না।

অপরাজেয় পঞ্জশির: ২৫০০ বছরের অজেয় তকমা ধরে রাখল, তালিবান পাঠিয়েছে সন্ধি প্রস্তাব

Panjshir valley

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবান জঙ্গিরা। এই নিয়ে দুবার তারা আফগান ক্ষমতার কেন্দ্রে। কিন্তু কোনওভাবেই কাবুলের নিকটস্থ হিন্দুকুশ পর্বতমালা দিয়ে ঘেরা বিখ্যাত পঞ্জশির এলাকা দখল করতে পারল না। অবশেষে অপরাজেয় পঞ্জশির উপত্যকা নিয়ে সমঝোতার পথেই হাঁটল তালিবান।

পঞ্জশির দখলে শত শত জঙ্গি পাঠালেও, এখানকার তাজিক বংশজাত যোদ্ধারা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। শেষ পর্যন্ত পঞ্জশির দখলে ব্যর্থ হলো তালিবান। এরপরেই আলোচনার কৌশল নেয় জঙ্গিরা। আফগান সংবাদ মাধ্যমের খবর পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদের সঙ্গে তালিবান প্রতিনিধিরা বৈঠক করে। সেই বৈঠকে সন্ধির প্রস্তাব দেয় তালিবান জঙ্গিরা।

Ex-Afghan VP Amrullah Saleh

বর্তমান পঞ্জশির শাসক আহমেদ মাসুদের পিতা ছিলেন কিংবদন্তি তালিবান বিরোধী নেতা আহমেদ শাহ মাসুদ। তিনি পঞ্জশিরের সিংহ বলেও সুপরিচিত। বিগত ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত যখন প্রথমবার আফগানিস্তানে তালিবান জঙ্গি সরকার ছিল তখন সিনিয়র মাসুদ প্রবল লড়াই চালিয়ে তাঁর এলাকা জঙ্গি মুক্ত করে রাখেন। পরে ১৯৯৭ সালে বিস্ফোরণে আহমেদ শাহ মাসুদের মৃত্যু হয়।

আফগান সংবাদ মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, জুনিয়র মাসুদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য কাবুল থেকে তালিবান জঙ্গিদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উত্তরাঞ্চলীয় পারওয়ান প্রদেশের রাজধানী চারিকারে গিয়েছিল। সেখানেই হয়েছে আলোচনা। এই প্রথম আহমেদ মাসুদের সঙ্গে কোনও তালিবান প্রতিনিধিদলের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে স্থির হয়েছে পঞ্জশিরে কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না তালিবান জঙ্গিদের। এই এলাকায় তালিবানি শরিয়তি আইন চলবে না, এমনই কড়া শর্ত দিয়েছেন জুনিয়র মাসুদ। পঞ্জশিরের সব ক্ষমতা তাঁর হাতেই থাকছে। সব মেনে নিয়েছে জঙ্গি সরকারের প্রতিনিধিরা। তবে আলোচনার আগে রাশিয়া সরকারে প্রতি বার্তা দিয়েছিলেন পঞ্জশিরের শাসক মাসুদ। তিনি বলেন, মস্কো যেন তালিবানকে বোঝায়।

বৈঠকের আগে তালিবান হুমকি দিয়েছিল, আলোচনায় ব্যর্থ হলে বলপ্রয়োগ করে পঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গে আহমেদ মাসুদ জানিয়েছিলেন, উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ তালিবানের হাতে কোনওভাবেই ছেড়ে দেবেন না। এর পরেই পঞ্জশিরে নিজের মিলিশিয়া বাহিনির বিভিন্ন ফুটেজ প্রকাশ করেন তিনি। তাতে দেখা যায় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিতে শুরু করেছে নর্দান অ্যালায়েন্স রক্ষীরা। যারা তালিবানদের মাথা কাটার জন্য সুপরিচিত।

পঞ্জশির উপত্যকা হাজার হাজার বছর ধরে অজেয়। মহাবীর আলেকজান্ডার, গজনীর সুলতান মামুদ, পাঞ্জাব কেশরী শিখ সম্রাট রণজিৎ সিং, ব্রিটিশ, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশাল সেনা কেউ এই আফগান উপত্যকা দখল করতে পারেনি। এমনকি প্রথম তালিবান সরকারের আমলেও এই এলাকা ছিল জঙ্গি মুক্ত। দ্বিতীয় তালিবান সরকারের আমলেও চরিত্র ধরে রাখল পঞ্জশির ২৫০০ বছর ধরে অজেয় চরিত্র। এও এক নজির।

তালিবান জঙ্গি সরকারের গঠন কেমন হতে পারে, কারা থাকছে

Taliban government

নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত যে নিয়ম রয়েছে তালিবান সংগঠনের সেটার ভিত্তিতেই সরকার গড়তে চলেছে তালিবান। আফগানিস্তানের তাদের এই দ্বিতীয় দফার সরকারে পুরনো প্রেসিডেন্ট ভিত্তিক দেশ থাকতে নাও পারে। এখানেই প্রশ্ন, তালিবান সরকার কি তাদের আমীরতন্ত্র চালু করবে আফগানিস্তানে ?

গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তানের নাম পাল্টে দেয় তালিবান। নতুন নাম হয়েছে ইসলামি আমীরশাহি আফগানিস্তান। পাল্টে দেওয়া হয়েছে জাতীয় পতাকা। এই নিয়ে দেশটির জাতীয় পতাকা ১৯ বার পাল্টেছে। এখন তালিবান সংগঠনের পতাকা উড়ছে কাবুল প্যালেসে।

ফরেন পলিসি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়ক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের ওয়েব ম্যাগাজিনে লেখা হয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এমন কিছু গঠনতন্ত্র আনতে চলেছে যাতে প্রেসিডেন্ট পদ থাকতেও না পারে। সেক্ষেত্রে আমীর পদ ফের চালু করবে তালিবান জঙ্গিরা।

আফগান সংবাদ মাধ্যম আরিয়ানা নিউজ জানাচ্ছে, দেশ শাসনের জন্য ১২ সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠন করতে যাচ্ছে তালিবান। এই কাউন্সিলে থাকতে পারেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। আফগান পুনর্গঠন কাউন্সিলের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এবং ইসলামিক পার্টির নেতা গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার। তিনজনেই আফগান রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। হেকমতিয়ার প্রাক্তন মুজাহিদিন, যিনি সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে অংশ নেন। আফগান গৃহযুদ্ধের সময় হেকমতিয়ারের ভূমিকা বিতর্কিত বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

তালিবান জনসংযোগ বিভাগ জানাচ্ছে, গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে এই তিন নেতাকে নিয়েছে একটি সমন্বয় কাউন্সিল গঠন করা হয়। তারা ধারাবাহিকভাবে তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ফরেন পলিসি জানাচ্ছে, আফগানিস্তান শাসন করতে ১২ সদস্যের কাউন্সিল গঠন করবে তালিবান। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য প্রশাসন গঠনে মরিয়া থাকাতে চায় এই মারাত্মক জঙ্গি সংগঠনটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত অপসারিত আশরাফ ঘানির সরকারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে এই কাউন্সিলে যুক্ত করতে পারে তালিবান।

কাউন্সিলের সর্বচ্চো তিন প্রধান হবে তালিবানের সহ প্রতিষ্ঠাতা আবদুল ঘানি বারাদার, তালিবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা মহম্মদ ইয়াকুব এবং তালিবান সহযোগী জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্ক ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব।
ইতিমধ্যে হাক্কানি নেটওয়ার্ক প্রধান জঙ্গি নেতা আনাস হাক্কানির সঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের বৈঠকের ছবি প্রকাশ হয়েছে। আফগান বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কারজাইকে বিশেষ পদ দেওয়া হবে। কারণ তিনিই ছিলেন তালিবান ও পূর্বতন আফগান সরকারের মধ্যে শান্তি বৈঠকের অন্যতম নেতা।
তালিবান কী রকম সরকার গড়বে, কেউ জানে না। তবে এই সরকারকে সমর্থন দিতে চাইছে একের পর এক দেশ। রাশিয়া, চিন, ইরান, ইংল্যান্ড এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সমর্থন দেবে বলেই ইঙ্গিত।

কাবুলে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার প্রধানের সঙ্গে তালিবান বৈঠকের পর প্রচুর প্রশ্ন উঠে আসছে। যে তালিবান গত জঙ্গি জমানায় প্রকাশ্যে মাথা কাটার সরকার গড়েছিল তাদের চরিত্র কি বদলেছে ?

কাবুল দখল করার পর গত ১৫ আগস্ট তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানায়, এই তালিবান সেই আগের তালিবান নয়। তবে আফগানিস্তান থেকে ইতিমধ্যেই একের পর গণহত্যার খবর আসছে। লাল তারিখ ৩১ আগস্ট। মার্কিন সেনা পুরোপুরি ছাড়বে আফগানিস্তান। তারপর কী হবে, প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলের।