বিপুল চিনা সাহায্য, তালিবান সরকারের চোখে আনন্দাশ্রু!

Taliban, Afghanistan

নিউজ ডেস্ক: তালিবান জঙ্গি সরকারকে ৩ কোটি মার্কিন ডলারের সাহায্য দেবে চিন। খাদ্য সামগ্রী এবং করোনাভাইরাস টিকা সহ আফগানিস্তানকে চিনা মূদ্রায় ২০ কোটি ইউয়ান যার আন্তর্জাতিক মূল্য ৩ কোটি ১০ লক্ষ মার্কিন ডলার,সেই অর্থ চলে আসছে কাবুলে। আফগানিস্তানের পুনর্গঠনে মরিয়া হয়ে গিয়েছে চিন। বিবিসি জানাচ্ছে এই খবর।

আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বার তালিবান সরকার গঠনের পরেই প্রতিবেশি দেশ চিন যোগাযোগ বজায় রাখতে প্রস্তুত। বেজিং থেকে কাবুলে অর্থ সাহায্যের প্রতিশ্রুতি এসেছে। চিন সরকার বলেছে, আফগানিস্তানে একটি নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর সেখানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে একটি দরকারি পদক্ষেপ হল আর্থিক উন্নয়ন।

বুধবার পাকিস্তান, ইরান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানের সরকারের সাথে বৈঠকের পর চিনের বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই আফগানিস্তানের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণা করেন।

বেজিং জানিয়েছে তারা আফগানিস্তানকে ৩০ লাখ ডোজ টিকা দেবে। গত১৫ অগস্ট আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণের অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভা গঠন করেছে তালিবান। তারা আফগানিস্তানকে ইসলামি আমিরশাহী হিসেবে ঘোষণা করে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, তালেবান সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টি আরও বহু দুরের ব্যাপার।

আসরাফি সাফাই: ‘৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচাতেই কাবুল ছেড়েছিলাম’

afghan president ashraf ghani

নিউজ ডেস্ক: তালিবানরা (Taliban) আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পরেই তালিবানদের হাতে দেশবাসীকে তুলে দিয়ে আফগানিস্তান ছেড়েছিলেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি৷ তারপর থেকেই দেশবাসীকে বিপদের মুখে ফেলে চলে যাওয়ার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট। এবার জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সংঘর্ষ এড়াতে ও কাবুলের মানুষের প্রাণ বাঁচাতেই তিনি দেশ ছেড়েছিলেন।

আরও পড়ুন ঘানি-বাইডেন বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, বিস্ফোরক আফগান সেনাপ্রধান

তালিবান যোদ্ধারা ঝটিকা অভিযানে আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকার দখল নেওয়ার পর থেকেই থেকেই পদত্যাগ করার জন্য আশরাফ ঘানির ওপর চাপ বাড়ছিল। আশরাফ গনি একটি বিমানে করে তাজিকিস্তান চলে গিয়েছেন বলে রয়টার্স সহ অন্যান্য সংবাদ সংস্থা জানিয়েছিল।  বর্তমানে সংযুক্ত আরব অমিরশাহীতে রয়েছেন তিনি।

এক বার্তায় তিনি বলেন, “তালিবানদের শান্ত রাখতে ও কাবুলের ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্যই আমি ১৫ আগস্ট দেশ ছেড়েছিলাম। কাবুল ছাড়া আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। তবে আমার মনে হয়েছিল কাবুলের ৬০ লক্ষ মানুষের প্রাণ বাঁচানোর একমাত্র উপায় এটাই।”

কাবুল ছাড়ার পর ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে তিনি লিখেছিলেন যেঁ তিনি একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন৷ তিনি কি সশস্ত্র তালিবানের মুখোমুখি হবেন? নাকি যে দেশের জন্য ২০টি বছর দিয়েছেন, সেই দেশ ছেড়ে যাবেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘’আমাকে সরিয়ে দিতে তালিবানরা পুরো কাবুল ও বাসিন্দাদের ওপর হামলা করতে এসেছে। রক্তপাত এড়াতে দেশ ছেড়ে যাওয়া ভালো হবে বলে আমি মনে করেছি। তরবারি আর বন্দুকের ওপর নির্ভর করে তারা বিজয়ী হয়েছে। এখন আমাদের দেশবাসীর সম্মান, সম্পদ আর আত্মমর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও তাদের,’’ তবে আশরাফ গনি তাজিকিস্তান নাকি উজবেকিস্তান গিয়েছেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করা ৭২ বছর বয়সী আশরাফ গনি দীর্ঘদিন বিদেশে কাটিয়েছেন। ২০০১ সালে তালিবানের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। ২০১৪ সালে তিনি প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য পুনঃনির্বাচিত হন।

তালিবান সরকার গঠনের মধ্যেই দিল্লিতে অজিত ডোভালের সঙ্গে বৈঠক CIA-প্রধানের

নিউজ ডেস্ক: এর আগে কাবুল (Kabul) থেকে মার্কিন সেনার বিমান সর্বশেষ উড়ানের পরেই আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রক তালিবান (Taliban) জঙ্গিরা বিশ্বজোড়া কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছিল। তাদের বক্তব্য, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক! এই বার্তার পরেই কাতারের রাজধানী দোহা শহরে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তলের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা হয় তালিবান নেতা স্তানেকজাইয়ের।দেরাদুন মিলিটারি একাডেমির সেই শেরু অর্থাৎ শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই সম্প্রতি ভারতের কাছে বার্তায় কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা বলেছিল। ভারতে সেনা প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুবাদে এই দায়িত্ব দিয়েছিল তার সংগঠন।

আরও পড়ুন তালিবান সম্পর্কে ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করুক: ওয়াইসি

বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, স্তানেকজাইয়ের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয় ছিল, ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরানোর বিষয়। আলোচনা হয়েছে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে। এছাড়াও বেশ কিছু আফগান নাগরিক যারা ইতিমধ্যে ভারতে যাওয়ার আবেদন করেছে, সেই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছিল।

আরও পড়ুন শুভক্ষণে ইসলামাবাদের আশীর্বাদ নিয়েই কুর্সিতে বসবে তালিবান সরকার


আরও পড়ুন জাভেদের RSS-তালিবান তুলনায় এবার নিন্দায় শিব সেনাও

এর মধ্যেই তালিবানদের সরকারের ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। কয়েকদিন পরের দু’দশক পর আফগানিস্তানের মাটিতে শপথগ্রহন করবে তালিবান সরকার। তারমধ্যেই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত ডোভাল নয়াদিল্লিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) প্রধান উইলিয়াম বার্নসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আফগানিস্তানে তালিবান সরকারের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে এই বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তালিবান মোল্লা মোহাম্মদ হাসান আখুন্দের নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উচ্চপদস্থ সদস্যরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হাক্কানি, বিশেষ করে কুখ্যাত হাক্কানি নেটওয়ার্ককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন ভারতের উদ্বেগ: আফগানিস্তানকে বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের আনতে চাইছে চিন


আরও পড়ুন High Alert: ভারত-আফগানিস্তান সীমান্তে স্যাটেলাইট বিমানঘাঁটি সক্রিয় করল পাকিস্তান

শুধু CIA-প্রধান উইলিয়াম বার্নসই নয়, অজিত ডোভাল রাশিয়ার নিকোলাই পাত্রুশেভের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিনিধিরাও আফগানিস্তান নিয়ে ভারত-রাশিয়া আন্ত-সরকার বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বের চোখ শ্রীহট্টের বাইশ গজে, বাংলাদেশেই তালিবান সরকারের ক্রিকেট কূটনীতির যুদ্ধ

First Afghan cricket team in Taliban era arrives in Bangladesh

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: আফগানিস্তানে এখন দ্বিতীয় তালিবান সরকার চলছে। বিশ্বকে ক্রমাগত কূটনৈতিক বার্তা দিয়ে চলা জঙ্গি সংগঠনটি কাবুল দখল করেই ক্রিকেট কূটনীতির পথ বেছে নিয়েছে। সেই সূত্রে আফগান অনুর্ধ্ব ১৯ জাতীয় দল এখন বাংলাদেশ সফরে। এমনিতে তেমন কিছু আহামরি ক্রিকেট সফর নয়, তবে তালিবান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আফগানিস্তানের যে কোনও বিষয় এখন প্রবল কৌতূহলের কেন্দ্র। সেই কারণেই বাংলাদেশে খেলতে আসা আফগানিদের উপর দুনিয়ার নজর।

শ্রীহট্ট বা সিলেটের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়ান ডে সিরিজের খেলা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১০, ১২, ১৪, ১৭ ও ১৯শে সেপ্টেম্বর। চার দিনের ম্যাচটি হবে ২২ থেকে ২৫শে সেপ্টেম্বর। এমনই জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) ও আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (ACB)।

তালিবান জঙ্গি সংগঠনটি মঙ্গলবার আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গড়েছে। তৈরি হয়েছে তাদের ছায়া মন্ত্রিপরিষদ। সরকার ঘোষণার আগেই আফগান জাতীয় যুব ক্রিকেট দল ঢাকা পৌঁছে যায়। বাংলাদেশ সরকারের করোনা সংক্রমণের স্বাস্থ্যবিধি মেনে তিনদিন সিলেটের হোম কোয়ারেন্টাইনে থেকে সিরিজ খেলবে আফগান দলটি। তৈরি বাংলাদেশ যুব দল।

Afghan youth cricket team arrived in dhaka

এ শুধু খেলা নয়, খেলার বাইরে আরেক কূটখেলা
তালিবান সরকার ঘোষণার আগেই বিশ্বকে বার্তা দেয় সংগঠনটি মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। বলা হয়, সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চায় নতুন তালিবান সরকার। পূর্বতন তালিবান সরকার (১৯৯৬-২০০১) যে সব কঠোর নিয়ম বলবত করেছিল তার অন্যতম আফগানিস্তানে ক্রিকেট হয়েছিল বন্ধ। দু দশক পরে সেই তালিবান জানায়, ক্রিকেট চলবে। তবে পুরুষদের ক্রিকেট।

দক্ষিণ এশিয়ার তিন ক্রিকেট পাগল দেশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পরস্পর লাগোয়া। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক জটিলতায় ক্রিকেট আসর ভূমিকা নেয় গরম ভাব নরম করতে। নয়াদিল্লি ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে কূটনৈতিক আসরে ক্রিকেট কূটনীতি বিশেষ পরিচিত। এই শৃঙ্খলায় এবার ঢুকছে তালিবান শাসিত আফগানিস্তান। কাবুলের জঙ্গি সরকার তাদের নরম ভাবমূর্তি তুলে ধরতে ক্রিকেটকে হাতিয়ার করেছে। আফগান দলের বাংলাদেশ সফর সেই কারণেই বিশেষ আলোচিত।

ভয়েস অফ আমেরিকা জানাচ্ছে, তালিবান ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম কোনও আফগান ক্রিকেট দল দেশের বাইরে বেরিয়েছে খেলতে। আগামী বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজে যুব বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ চূড়ান্ত করতেই তালিবান সরকার মরিয়া। আফগানিস্তান জাতীয় দল আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে টি-২০ বিশ্বকাপে অংশ নেবে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিদা এবং ওমানে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে।

আপাতত তালিবানি হুকুম পালনে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল এখন বাংলাদেশে। সিলেটের ম্যাচগুলি যতটা না খেলা তার চেয়ে বেশি কূটখেলা।

বিশ্লেষণ: ড্রাগনে চড়ে ISI জাল বিস্তার করল ইসলামাবাদ-কাবুল ভায়া ঢাকা

taliban-chaina

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: আফগানিস্তানের (Afghanistan) দ্বিতীয় দফার তালিবান সরকারকে (Taliban) ঘিরে রেখেছে পাকিস্তানের (Pakistan) সামরিক গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিসেন্স (ISI) অফিসার ও এজেন্টরা। খোদ পাক গুপ্তচর সংস্থার প্রধান ফইজ হামিদের এখান যেন নাওয়া খাওয়ার সময় নেই। পাক সামরিক সদর দফতর রাওয়ালপিন্ডি থেকে তৈরি হওয়া নীল নকশা মাফিক পুরো আফগানিস্তান এখন আইএসআই ‘সেফ জোন’।

Read More: তালিবান সরকারের অংশীদার হাক্কানি নেটওয়ার্ক সক্রিয় নেপাল থেকে উত্তরবঙ্গে

তালিবান জঙ্গিদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছায়া মন্ত্রিপরিষদের ঘোষণার সব থেকে বড় চমকটি হলো আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই দফতরের ভার গিয়েছে আইএসআই নয়নের মণি জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের (Haqqani Network) ঘাড়ে। অর্থাৎ তালিবান জঙ্গি সরকার যাই কিছু করুক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানির কড়া নজর থাকবে। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা এফবিআইয়ের তালিকায় তার মাথার দাম ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার। মোস্ট ওয়ান্টেড। এর থেকেই স্পষ্ট পুরো তালিবান মন্ত্রিসভায় পাকিস্তানের দাপট।

taliban-chaina

ISI চক্রজাল ইসলামাবাদ-ঢাকা-কাবুল একটি বিশ্লেষণ

ISI ঢাকা ইউনিট
কূটনৈতিক মহলের আলোচনা, পাকিস্তান জন্মের পর এই প্রথম কোনও দেশে (আফগানিস্তান) নিরাপদ বিচরণের শক্তিশালী ঘাঁটি তৈরি করেছে আইএসআই। তবে আলোচনায় উঠে আসছে, ১৯৭১ পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপি-জামাত ইসলামি জোট সরকারের আমলে ঢাকায় পাক গুপ্তচর সংস্থার স্বস্তিদায়ক বিচরণের প্রসঙ্গ।

১৯৭৫ সালে সেনা অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে খুনের পর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। অভিযোগ, পাকিস্তানের প্রতি খানিকটা নরম হয়েছিলেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি তথা বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। তিনিও সেনা অভ্যুত্থানে খুন হন। এর পর রাষ্ট্রপতি এরশাদের সামরিক জমানা পেরিয়ে ফের বিএনপি সরকারে আসে। তখন প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। ঢাকায় অত্যন্ত সক্রিয় আইএসআই। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিমাত্রায় সজাগ থাকে ভারত। সেই চাপ নিয়েছিল পাক গুপ্তচর সংস্থাটি। তাদের ষড়যন্ত্রের অন্যতম নাশকতা তৎকালীন বিরোধী নেত্রী আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনার উপর ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। বিশ্ব কেঁপেছিল। পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি যোগ স্পষ্ট হয় তদন্তে। বিএনপির একের পর এক মন্ত্রী, খোদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের নাম এই নাশকতায় জড়িত। তিনি বাংলাদেশ সরকারের খাতায়’পলাতক’। লন্ডনে থাকেন।

ISI কাবুল ইউনিট
বাংলাদেশে আইএসআই জাল নষ্ট হয় আওয়ামী লীগের সরকার পরপর ক্ষমতায় আসার পর। ঢাকা থেকে নেটওয়ার্ক রাখলেও পাক গুপ্তচর সংস্থাটি পরবর্তী সময়ে বারবার প্রতিবেশি আফগানিস্তানে তাদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে থাকে। প্রথম তালিবান সরকারের সময়ে এই সুযোগ এনে দেয় আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় হাক্কানি নেটওয়ার্ক। জঙ্গি সংগঠনটি শীর্ষ নেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানি আইএসআইয়ের ঘনিষ্ঠ। সেই শুরু তাদের মধুচন্দ্রিমা। তবে ২০০১ সালে মার্কিন সেনা প্রবেশের পর কাবুল থেকে সরে যাওয়ায় আইএসআই তার জমি হারান। তারা আফগানিস্তানে সক্রিয় থাকলেও ভারতের ভূমিকা হয় বড়। শুরু হয় ‘র’আনাগোনা। গত দু দশক এমন চলেছে। গত ১৫ আগস্ট তালিবান দখলে গেছে কাবুল। ফের সক্রিয় আইএসআই। তাদেরই পুতুল সরকার এখন কুর্সিতে। আফগানভূমির হর্তাকর্তার বিধাতা এখন পাকিস্তান।

Taliban-চিন আঁতাতে বেজিংকে কটাক্ষ বাইডেনের

নিউজ ডেস্ক: দু’দশক পর আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবানরা (Taliban)। তারপরেই বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনেরর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কার্যত দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। দিনকয়েক আগেই ট্রাম্প জানিয়ে দেন, “আফগানিস্তানে যে লজ্জাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য প্রেসি়ডেন্ট জো বাইডেনের উচিত পদত্যাগ করা।

আরও পড়ুন নতমস্তকে বাইডেন: প্রবীণ কমিউনিস্ট ভিয়েতকং গেরিলারা ফিরলেন সোনালি অতীতে

এবার আফগানিস্তানের সেই অবস্থা নিয়েই চিনকে একহাত নিলেন জো বিডেন। আমেরিকার সিদ্ধান্তে কোনও ভূল নেই আগেই জানিয়েছিলেন, এবার জানিয়ে দিলেন নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্যই হাত মিলিয়েছে তালিবান-বেজিং। ২৪ ঘন্টা আগেই নতুন সরকারের ঘোষণা করেছে তালিবান (Taliban)। নয়া সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে চিন, পাকিস্তান, রাশিয়া, তুরস্ক, ইরান ও কাতারকে আমন্ত্রণও জানিয়েছে। 

চিন, পাকিস্তান, রাশিয়ার মতো দেশগুলি নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধির জন্যই একসাথে হয়েছে। তালিবানদের সঙ্গে শুধু সমঝোতাই নয়, তাদের কাজে লাগানোর চেষ্টাও করবে তারা। ওরা সকলেই কী করা উচিত, তা বোঝার চেষ্টা করছে এক অনুষ্ঠানে প্রশ্ন করা হলে এই মন্তব্যই করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। 

Taliban government

চিনের তরফে এখনও অবধি তালিবানকে আফগানিস্তানের নতুন শাসক হিসাবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার না করা হলেও, গত জুলাই মাসেই বর্তমানের আফগানিস্তানের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী মোল্লা বরাদরের সঙ্গে দেখা করেছিলেন জিনপিং। সেই সময়ও চিনের তরফে জানানো হয়েছিল, তালিবানদের তাদের সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় সাহায্য করা হোক।

আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ৯/১১ হামলার পরই তাদের ন্যাটো বাহিনী দখল নেয় আফগানিস্তানের। প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় আফগান সেনাদের, জেলবন্দি করা হয় তালিবানদের। বিশ্বজুড়ে আল কায়েদার যে দাপট ছিল, তাও নিয়ন্ত্রণে আনে মার্কিন সেনা। লক্ষ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্ত্রাসমুক্ত করা। কিন্তু ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তালিবানদের সঙ্গে দোহায় চুক্তি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই চুক্তিতে বলা হয়, আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে মার্কিন সেনা, কিন্তু আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বন্ধ রাখবে তারা। অন্য সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে আমেরিকায় হামলা করা থেকে বিরত রাখারও চেষ্টা করবে তালিবানরা।

এই চুক্তির পরেই নির্বাচনে হেরে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে ক্ষমতায় বসেন জো বাইডেন। কিন্তু, ক্ষমতায় এসেও তিনি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকেই পূনর্বহাল রাখেন। উল্টে জানান, এই বছরের সেপ্টেম্বরের আগেই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। আমেরিকার ভবিষ্যতবানী ছিল, আগামী তিন মাসের মধ্যে আফগানিস্তান দখল করবে তালিবানরা। যদিও সে হিসেব উল্টে তিনদিনের মধ্যে কাবুল দখল করেছে তালিবানরা।

অনেক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞই ভেবেছিলেন, তালিবানদের বাড়বাড়ন্ত দেখে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখবেন বাইডেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত না বদলে বাইডেন জানান, “আফগান নেতাদের একজোট হতেই হবে। আফগানিস্তানের সেনার সংখ্যা তালিবানদের তুলনায় অনেক বেশি। তাদের দেশের জন্য লড়াই চালাতেই হবে।” এরপরেই বাইডেনকে কটাক্ষ করে আমেরিকানদের উদ্দেশ্য করে টুইট করেন ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “আমায় মিস করছেন কি?” শুধু তাই নয়, আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি, অর্থনীতি সহ নানা বিষয়েও বাইডেনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

Taliban 2.0: ছায়া মন্ত্রিপরিষদ ঘোষিত, নাম নেই দেরাদুন মিলিটারি একাডেমির শেরুর

Mullah Mohammad Hasan Akhund

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: দ্বিতীয় দফার তালিবান ছায়া মন্ত্রিপরিষদ সরকার এখন আফগান তখত এ তাউসে (সিংহাসন) বিরাজমান। প্রত্যাশিত অনেক জঙ্গি নেতার মুখ নেই, তেমনই অপ্রত্যাশিতভাবে বুধবারের আগেই ঘোষিত হয়েছে এই জঙ্গি মন্ত্রিসভা। সবমিলে আফগানিস্তানে এখন Taliban 2.0 সরকারের যুগ।

নেপাল থেকে উত্তরবঙ্গ জুড়ে জঙ্গি জাল ছড়ানো নেতা, FBI তালিকাভুক্ত হাক্কানি নেটওয়ার্ক এখন আফগানিস্তানের সরকারি মুখ। পাক গুপ্তচর সংস্থার মদতপুষ্ট এই জঙ্গি সংগঠনটি।

মঙ্গলবার কাবুলে তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানায়, মোল্লা মহম্মদ হাসান আখুন্দকে প্রধানমন্ত্রী করে আফগানিস্তানে সরকার গঠন করেছে তালিবান। উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করবে মোল্লা আব্দুল গনি বারাদার।

Read More: তালিবান সরকারের অংশীদার হাক্কানি নেটওয়ার্ক সক্রিয় নেপাল থেকে উত্তরবঙ্গে

তাৎপর্যপূর্ণ, তালিবান ২.০ কেয়ার টেকার সরকারে নেই ভারতে সামরিক প্রশিক্ষণ নেওয়া অন্যতম তালিবান জঙ্গি নেতা শের মহম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই। এই জঙ্গি নেতা ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত প্রথম তালিবান সরকারের আমলে উপ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিল।

তালিবান কেয়ার টেকার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা তথা পাকিস্তান মদতপুষ্ট হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রবীণ নেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানি। আর তালিবানের প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের পুত্র মোল্লা মহম্মদ ইয়াকুবের নাম প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০০১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তানে অভিযানে কাবুলে তালিবান সরকারের পতন হয়। তার অন্যতম নেতা মোল্লা আখুন্দ। তবে তালিবান জানিয়েছে, এটা কেয়ার টেকার সরকার। এর অর্থ এই সরকারের মুখ দ্রুত পাল্টাবে। বুধবার আফগানিস্তানে তালিবান ২.০ সরকারের প্রথম কাজের দিন। আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের মুহূর্তে কোন কোন দেশ থাকবে উপস্থিত তাই চর্চিত।

শুভক্ষণে ইসলামাবাদের আশীর্বাদ নিয়েই কুর্সিতে বসবে তালিবান সরকার

taliban government protected by pakistan

নিউজ ডেস্ক: কাবুল সরগরম। মঙ্গলবার রাজপথে আচমকা পাকিস্তান বিরোধী আফগান জনতার মিছিল হয়ে গেল। সেই মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে তালিবান রক্ষীরা গুলি চালাল আকাশে। হুড়োহুড়ি করে পালাতে গিয়ে কয়েকজন জখম হয়েছেন।

বুধবার আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বার সরকার গড়ার আনুষ্ঠানিক কাজ শেষ করতে মরিয়া তালিবান জঙ্গিরা। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনার ভার নিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। পাক গুপ্তচর প্রধান এখন কাবুলেই। তার নির্দেশে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ গঠন চূড়ান্ত। ইসলামাবাদের আশীর্বাদ নিয়েই কাবুলে তালিবান সরকার তার কাজ শুরু করবে।

কী কাজ করবে তালিবান জঙ্গি সরকার ? প্রাথমিকভাবে স্থির হয়েছে সরকার শুরুর প্রথম দিন থেকেই শরিয়া আইনের কঠোর প্রয়োগ হবে আফগানিস্তানের সর্বত্র। ইতিমধ্যেই আফগান যৌনকর্মীদের মেরে ফেলার জন্য তালিকা তৈরি হয়েছে।

তবে বিশ্বকে কূটনৈতিক বার্তা দিয়ে চলেছে তালিবান। এর পিছনে আইএসআই বুদ্ধি রয়েছে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের। সরকার গড়ার অনুষ্ঠানে চিন, রাশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, তুরস্কের মতো দেশগুলির কাছে গিয়েছে আমন্ত্রণপত্র। তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি হবে কিনা তা নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে।

ভারতের সঙ্গে তালিবান সরকারের সম্পর্ক কী হবে?উঠছে এই প্রশ্ন। তালিবান জঙ্গিদের দ্বিতীয় সরকারের অন্যতম এক মন্ত্রী হিসেবে ফের আলোচিত শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই। আশির দশকে দেরাদুন মিলিটারি একাডেমির সেনা প্রশিক্ষণ নেওয়া ‘শেরু’ প্রথম দফার তালিবান সরকারের উপ প্রধানমন্ত্রী ছিল। এবারে তার কপালে বিদেশমন্ত্রক জুটতে পারে বলেই আলোচনা। তাকে সামনে রেখেই নয়াদিল্লিকে কূটনৈতিক বার্তা পাঠাবে তালিবান সরকার।

আফগানিস্তান এখন সম্পূর্ণরূপে তালিবান কব্জায়। এক পথের কাঁটা পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদ এখন কোনঠাসা। পঞ্জশির দখল করে হাঁফ ছেড়েছে তালিবান। গত ১৯৯৬-২০০১ প্রথম তালিবান সরকারের আমলে পঞ্জশির দখল করা সম্ভব হয়নি জঙ্গিদের পক্ষে।

তালিবানের পঞ্জশির উপত্যকা দখলের পর জরুরি বৈঠকে বসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সবার নজর পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই পরিকল্পনার দিকে। তাদেরই অঙ্গুলি হেলনে চলবে তালিবান সরকার। আফগানিস্তান এখন পাকিস্তানের সেফ জোন-বড় খুঁটি।

জাভেদের RSS-তালিবান তুলনায় এবার নিন্দায় শিব সেনাও

নিউজ ডেস্ক: তালিবান ইস্যুতেই মুখ খুলুক ভারতীয় মুসলিমসমাজ, বিরুদ্ধাচারন করুক আফগানিস্তানের অবস্থার। এই উদ্যোগই নিয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)। পড়শি দেশে তালিবানের ক্ষমতা দখল এবং তাতে ভারতের বিপদের সম্ভাবনার নিয়ে সোমবার দেশের মুসলিম সমাজের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে মুম্বইয়ে বৈঠকে বসবেন RSS-প্রধান মোহন ভাগবত।

আরও পড়ুন প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকই হিন্দু, ইসলাম ধর্ম এসেছিল আক্রমণকারীদের সঙ্গে: RSS-প্রধান

যখন তালিবান ইস্যু নিয়ে নড়েচড়ে বসছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, ঠিক তখনই আরএসএস’এর সঙ্গে তালিবানের তুলনা করলেন জাভেদ আখতার। তালিবান এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ একই কয়েনের দুটি পিঠ বলে কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই দেশের প্রবীণ শিল্পীর মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। শুধু নেটিজেনরাই নন, হাত জোড় করে জাভেদকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা রাম কদম।

আরও পড়ুন Afgan Updates: পঞ্জশির দখল পেতে তালিবান হয়ে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর ড্রোন হামলা


আরও পড়ুন আফগানিস্তান: রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক মহাসচিবের সঙ্গে তালিবান প্রতিনিধি দলের বৈঠক

এবার শিব সেনাও তাদের দলীয় মুখপত্র ‘সামনা’য় জানিয়ে দিল, আরএসএস এবং তালিবানের মানসিকতা একই ধরনের বলা একেবারেই ভুল। ‘সামনা’য় লেখা হয়েছে, “আরএসএস হিন্দুত্বের নামে কোনও অন্ধ উন্মাদনাকে সমর্থন করেনি। গোমাংসের কারণে হত্যা করার মতো ইস্যুও তাঁরা সমর্থন করেনি।আপনি কীভাবে বলতে পারেন স্বয়ংসেবক সংঘের এবং তালিবানদের মানসিকতা একই রকম? ভারত হিন্দু প্রধান রাষ্ট্র হলেও ধর্মনিরপেক্ষ। আরএসএসের সঙ্গে তালিবানের তুলনা করা ঠিক নয়। আমরা তা সমর্থন করি না।” 

https://twitter.com/AdvAshutoshDube/status/1434136441571926023?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1434136441571926023%7Ctwgr%5E%7Ctwcon%5Es1_c10&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.ekolkata24.com%2Flatest-news%2Fjaved-akhtar-lands-in-controversy-after-he-likens-rss-vhp-bajrang-dal-to-taliban%2F

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জাভেদ আখতার বলেন, ‘‘তালিবান যেমন ইসলাম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তেমন আর একদল মানুষও হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এরা একই মানসিকতার। তালিবান বর্বর। যাঁরা আরএসএস, বজরং দলকে সমর্থন করেন, তারাও বর্বরই।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনেকে।

আরও পড়ুন মিয়া খলিফা আসবে শুনে ভিড় করেছিলেন কৃষকরা: বিজেপি নেতা

এর আগে মহারাষ্ট্রের বিজেপি বিধায়ক জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তালিবানের তুলনা করে জাভেদ অসংখ্য মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন। স্বয়ংসেবক সংঘের কর্মীদের এবং অনুগামীদের কাছে বলিউডের প্রবীন শিল্পী ক্ষমা না চাইলে ভারতের মাটিতে তাঁর একটি ছবিও মুক্তি পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলে তিনি। এবার শিব সেনার মুখেও একই সুর শোনা যাওয়ায় মহারাষ্ট্রের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েই কার্যত প্রশ্ন উঠে গেল। বিজেপি-শিব সেনার আবার কাছাকাছি আসার ঈঙ্গিতও পাচ্ছেন অনেকে।

আরও পড়ুন তালিবানদের বিরুদ্ধে সরব হোক দেশের মুসলিমরা: RSS

প্রসঙ্গত, তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করার পর সে দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই কায়েম হচ্ছে শরিয়তি আইন। ইসলামের আদেশ অনুসারেই চলছে দেশ। ২০০১ সালের আগে তালিবান যখন আফগানিস্তান শাসন করত, তখনও তারা কঠোর শরিয়া আইন জারি করেছিল। এবারেও আগের ছবিই দেখা যাচ্ছে গোটা দেশ জুড়ে।  

‘প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকই হিন্দু, ইসলাম ধর্ম এসেছিল আক্রমণকারীদের সঙ্গে’: RSS-প্রধান

নিউজ ডেস্ক: তালিবান জঙ্গি সংগঠন কী না সেই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। দিনকয়েক আগেই এই দাবি তুলেছিলেন মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি৷ এবার সেই তালিবান ইস্যুতেই মুখ খুলুক ভারতীয় মুসলিমসমাজ, বিরুদ্ধাচারন করুক আফগানিস্তানের অবস্থার। এই উদ্যোগই নিল রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)।

আরও পড়ুন তালিবানদের পঞ্জশির দখলের নেপথ্যে কি পাক বাহিনী?

পড়শি দেশে তালিবানের ক্ষমতা দখল এবং তাতে ভারতের বিপদের সম্ভাবনার নিয়ে সোমবার দেশের মুসলিম সমাজের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে মুম্বইয়ে বৈঠকে বসেছিলেন RSS-প্রধান মোহন ভাগবত। যদিও শুধু তালিবান এবং ভারত নয়, আলোচনার মূল উদ্দেশ্য ছিল কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে কথা বলা।

আরও পড়ুন ২৫০০ বছরের অজেয় পঞ্জশিরের পতন, উড়ল তালিবান পতাকা


আরও পড়ুন আফগানিস্তান: রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক মহাসচিবের সঙ্গে তালিবান প্রতিনিধি দলের বৈঠক

সেখানেই বিতর্কিত মন্তব্য করলেন সংঘ প্রধান। দেশের হিন্দু-মুসলমানদের পূর্বপুরুষ এক। প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকই হিন্দু। ইসলাম ধর্ম এসেছিল আক্রমণকারীদের সঙ্গে। হিন্দুরা কারও সঙ্গে শত্রুতা করে না। সকলের ভাল চায়। এখানে ভিন্নমতের অনাদর হয় না। এর আগেও এই মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সংঘ প্রধান।

বিজেপির নেতৃত্বাধীন গোয়া, মণিপুর, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড-সহ পাঁচ রাজ্যে ভোট আসন্ন। তা নিয়েও দু’দিনের দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে নাগপুরের সংঘের দফতরে। গত বছরের নভেম্বর থেকে কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দিল্লির সীমানায় আন্দোলনে বসে রয়েছেন কৃষকেরা। মূলত পঞ্জাব এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যের ওই কৃষকদের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচন হয়েছিল সংঘের সদর দফতরে।

আরও পড়ুন ত্রিপুরা: মমতার টার্গেট কংগ্রেস ভোট! সন্তোষমোহন কন্যা সুস্মিতায় আপ্লুত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার

তারপরেই দেশের মুসলিম সমাজের বিশিষ্টজনদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন তিনি। ‘রাষ্ট্র প্রথম-রাষ্ট্র সর্বোপরি’ শীর্ষক ওই আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কেরলের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান, কাশ্মীর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তথা প্রাক্তন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সৈয়দ আটা হুসেনের মতো বিশিষ্ট মানুষেরা।

আফগানিস্তানে তালিবানের ক্ষমতা দখল ভারতে যাতে প্রভাব না ফেলে, সে জন্য শিক্ষিত মুসলিম সমাজকে এগিয়ে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন মোহন ভাগবত। সেখানেই তিনি দাবি করেন, প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকই হিন্দু। দেশের হিন্দু-মুসলমানদের পূর্বপুরুষ এক। যদিও এর মাধ্যমে বিভেদ নয়, দেশের মানুষদের ঐক্যকেই তুলে ধরতে চেয়েছেন সংঘ প্রধান বলেই মনে করছেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।

তালিবানদের পঞ্জশির দখলের নেপথ্যে কি পাক বাহিনী?

The Panjshir Valley, the only area not taken by the Taliban or any invading force

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের (Afghanistan) শেষ জঙ্গি বিরোধী এলাকার পতন হয়েছে। দেশটির নিয়ন্ত্রক তালিবান (Taliban) জঙ্গিরা প্রবল ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করে অবশেষে পঞ্জশির উপত্যকার (Panjshir valley) গভর্নর হাউসে নিজেদের পতাকা উড়িয়ে দিল।

আরও পড়ুন আফগানিস্তান: রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক মহাসচিবের সঙ্গে তালিবান প্রতিনিধি দলের বৈঠক

দীর্ঘদিন ধরে পঞ্জশির তালিবানদের দখলমুক্ত ছিল। অবশেষে তা দখল করেছে আফগানিস্তানি জঙ্গি সংগঠন। তারপরেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর প্রধান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল হামিদ ফায়েজের তদারকিতে কয়েক হাজার পাক সেনা পঞ্জশিরে মুজাহিদিনদের বিরুদ্ধে তালিবানকে এই সাফল্য এনে দিয়েছে।

আরও পড়ুন High Alert: ভারত-আফগানিস্তান সীমান্তে স্যাটেলাইট বিমানঘাঁটি সক্রিয় করল পাকিস্তান


আরও পড়ুন শরিয়তি আইনে চলা আফগানিস্তান থেকে উইঘুর মুসলিমদের চিনে পাঠাবে তালিবান

এর আগে একাধিক নিহত তালিবানি যোদ্ধার কাছ থেকে পাকিস্তানি সেনার পরিচয়পত্র উদ্ধার করেছিল নর্দার্ন অ্যালায়েন্স। পাকিস্তানি সেনার ‘নর্দার্ন লাইট ইনফ্যান্ট্রি’ (এনএলআই) এবং এলিট ‘স্পেশাল সার্ভিস গ্রুপ’ (এসএসজি) কমান্ডোরাই তালিবানিদের হয়ে লড়ছেন বলে জানিয়েছে বহু সংবাদমাধ্যাম। একই অভিযোগ করেছন নর্দার্ন অ্যালায়েন্সের নেতা আহমেদ মাসুদও।

আরও পড়ুন Afgan Updates: পঞ্জশির দখল পেতে তালিবান হয়ে পাকিস্তানি বিমান বাহিনীর ড্রোন হামলা

পঞ্জশির বরাবর তালিবান বিরোধী এলাকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই এলাকার শাসক আহমেদ মাসুদ (Ahmed Masud) এখনও লড়াই চালাচ্ছেন। তাঁর আফগান রেজিস্টেন্স বাহিনি রবিবার রাতে প্রবল প্রত্যাঘাতে তালিবান জঙ্গিদের ছিন্নভিন্ন করে দেয়।কিন্তু সোমবার সকালেই মাসুদ বাহিনীর কমান্ডার ও মুখপাত্রের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত হয়। এর পর আহমেদ মাসুদের তরফে গেরিলা হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পঞ্জশিরের বড় অংশ এখন তালিবান জঙ্গি কবলিত। তবে গেরিলা হামলা চলছেই।

কাবুল থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে পঞ্জশির দখলে তালিবান প্রথম সাফল্য পেল। আশঙ্কা পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদ ও অপসারিত আফগান সরকারের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ যে কোনও মুহূর্তে মারা যেতে পারেন। আফগান রেজিস্টেন্স ফোর্স জানিয়েছে লড়াই চলবে।

২৫০০ বছরের অজেয় পঞ্জশিরের ‘পতন’, উড়ল তালিবান পতাকা

Taliban Flag In Panjshir Valley

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের (Afghanistan) শেষ জঙ্গি বিরোধী এলাকার পতন হয়েছে। দেশটির নিয়ন্ত্রক তালিবান (Taliban) জঙ্গিরা প্রবল ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করে অবশেষে পঞ্জশির উপত্যকার (Panjshir valley) গভর্নর হাউসে নিজেদের পতাকা উড়িয়ে দিল।

পঞ্জশির বরাবর তালিবান বিরোধী এলাকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই এলাকার শাসক আহমেদ মাসুদ (Ahmed Masud) এখনও লড়াই চালাচ্ছেন। তাঁর আফগান রেজিস্টেন্স বাহিনি রবিবার রাতে প্রবল প্রত্যাঘাতে তালিবান জঙ্গিদের ছিন্নভিন্ন করে দেয়।কিন্তু সোমবার সকালেই মাসুদ বাহিনীর কমান্ডার ও মুখপাত্রের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত হয়। এর পর আহমেদ মাসুদের তরফে গেরিলা হামলা চালানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পঞ্জশিরের বড় অংশ এখন তালিবান জঙ্গি কবলিত। তবে গেরিলা হামলা চলছেই।

কাবুল থেকে মাত্র ৪০ কিলোমিটার দূরে পঞ্জশির দখলে তালিবান প্রথম সাফল্য পেল। আশঙ্কা পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদ ও অপসারিত আফগান সরকারের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ যে কোনও মুহূর্তে মারা যেতে পারেন। আফগান রেজিস্টেন্স ফোর্স জানিয়েছে লড়াই চলবে।

https://twitter.com/MilitaryBWF/status/1434789979205476352?s=20

পঞ্জশির দখল করে তালিবান নজির গড়েছে। ইতিহাস বলছে, ১৯৯৬-২০০১ সালে আফগানিস্তানের প্রথম তালিবান সরকারের আমলে পঞ্জশির ছিল জঙ্গি মুক্ত এলাকা। তৎকালীন পঞ্জশির শাসক আহমেদ শাহ মাসুদ জঙ্গিদের ঠেকিয়ে রাখেন। তবে তিনিও নাশকতায় মারা যান। তাঁর পুত্র আহমেদ মাসুদ গত ১৫ আগস্ট থেকে ক্রমাগত তালিবান বিরোধী লড়াই চালাচ্ছেন।

কাবুল পুনরায় তালিবান কব্জায় চলে যাওয়ার পর জঙ্গিদের তরফে পঞ্জশিরকে বাগে আনতে সন্ধি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পরে সেই চুক্তি বাতিল হয়।এর মাঝে পাকিস্তানের সামরিক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই প্রধান কাবুল সফর শুরু করেছেন। মনে করা হচ্ছে, তার সাহায্যেই পঞ্জশির অভিযানে সফল হলো তালিবান জঙ্গিরা।

আফগানিস্তান: রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক মহাসচিবের সঙ্গে তালিবান প্রতিনিধি দলের বৈঠক

Taliban’s Mullah Baradar meets Martin Griffiths in Kabul

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান এখন তালিবান রাজ।  নতুন সরকারে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়ে তালিবান ও অন্যান্য সংগঠনের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। ঠিক এই সময়ে রবিবার কাবুলের বিদেশ মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রসংঘের মানবিক বিষয়ক (UN under-secy-general for humanitarian affairs) মহাসচিব মার্টিন গ্রিফিথসের (Martin Griffiths) সঙ্গে তালিবানের মোল্লা বরাদার সাক্ষাৎ করেন।

তালিবান মুখপাত্র মোহাম্মদ নৈয়মও এই বিষয়ে টুইট করেছেন৷ তাতে লিখেছেন, বৈঠকের পর গ্রিফিথস বলেছেন রাষ্ট্রসংঘ আফগানিস্তানের সঙ্গে সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে

রবিবার কাবুলে এক সমাবেশে বেশ কয়েকজন ধর্মীয় ব্যক্তি তালিবান এবং প্রতিরোধ ফ্রন্টকে বর্তমানে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন৷ এই সংঘাতকে দেশে একটি অবৈধ যুদ্ধ বলে উল্লখে করেছে।

অন্যদিকে তালিবান প্রতিনিধি দল গত কয়েকদিন ধরে দোহায় ব্রিটেন, পাকিস্তান ও জার্মানির কূটনীতিকদের সঙ্গে দেখা করেছে। তালিবানের রাজনৈতিক কার্যালয় দোহায়৷ তার প্রধান শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কানাডা, ভারত ও জার্মানির রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গেও কথা বলেছেন।

তালিবান আর এক মুখপাত্র সুহেল শাহীন শুক্রবার একের পর এক টুইট করে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত আলোচনার তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত সৈয়দ আহসান রাজা শাহের সঙ্গে মানবিক সহযোগিতা, পারস্পরিক স্বার্থের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আফগানিস্তানের পুনর্গঠন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কূটনীতিক সাইমন গাসের সঙ্গে নিরাপত্তা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছিল।

শের মোহম্মদ আব্বাস স্তানিকজাইয়ের নেতৃত্বে তালিবান প্রতিনিধি দল দোহায় পাকিস্তান ও ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

জাভেদের RSS-তালিবান তুলনায় ক্ষুব্ধ দেশবাসী

নিউজ ডেস্ক: তালিবান ইস্যুতেই মুখ খুলুক ভারতীয় মুসলিমসমাজ, বিরুদ্ধাচারন করুক আফগানিস্তানের অবস্থার। এই উদ্যোগই এবার নিচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ। পড়শি দেশে তালিবানের ক্ষমতা দখল এবং তাতে ভারতের বিপদের সম্ভাবনার নিয়ে সোমবার দেশের মুসলিম সমাজের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে মুম্বইয়ে বৈঠকে বসবেন RSS-প্রধান মোহন ভাগবত।

আরও পড়ুন তালিবানদের বিরুদ্ধে সরব হোক দেশের মুসলিমরা: RSS

যখন তালিবান ইস্যু নিয়ে নড়েচড়ে বসছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ, ঠিক তখনই আরএসএস’এর সঙ্গে তালিবানের তুলনা করলেন জাভেদ আখতার। তালিবান এবং রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ একই কয়েনের দুটি পিঠ বলে কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই দেশের প্রবীণ শিল্পীর মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। শুধু নেটিজেনরাই নন, হাত জোড় করে জাভেদকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা রাম কদম।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি


আরও পড়ুন নজরে নীলছবি, আফগান পর্নস্টার খুঁজে পেলেই মাথা কাটবে তালিবানরা

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জাভেদ আখতার বলেন, ‘‘তালিবান যেমন ইসলাম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তেমন আর একদল মানুষও হিন্দু রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। এরা একই মানসিকতার। তালিবান বর্বর। যাঁরা আরএসএস, বজরং দলকে সমর্থন করেন, তারাও বর্বরই।” তাঁর এই মন্তব্যের পরেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন নেটনাগরিকরা।

আরও পড়ুন তালিবানদের বিপ্লবী আখ্যা দিয়ে বিপাকে কংগ্রেস বিধায়ক আনসারি


আরও পড়ুন শরিয়তি আইনে চলা আফগানিস্তান থেকে উইঘুর মুসলিমদের চিনে পাঠাবে তালিবান

https://twitter.com/AdvAshutoshDube/status/1434136441571926023?s=20

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের মতো একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তালিবানের তুলনা করে জাভেদ অসংখ্য মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ওই বিজেপি নেতা। স্বয়ংসেবক সংঘের কর্মীদের এবং অনুগামীদের কাছে বলিউডের প্রবীন শিল্পী ক্ষমা না চাইলে ভারতের মাটিতে তাঁর একটি ছবিও মুক্তি পাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। 

https://twitter.com/Alleged_RW/status/1434199630888116224?s=20

তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করার পর সে দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই কায়েম হচ্ছে শরিয়তি আইন। ইসলামের আদেশ অনুসারেই চলছে দেশ। ২০০১ সালের আগে তালিবান যখন আফগানিস্তান শাসন করত, তখনও তারা কঠোর শরিয়া আইন জারি করেছিল। এবারেও আগের ছবিই দেখা যাচ্ছে গোটা দেশ জুড়ে।  

তালিবানদের বিরুদ্ধে সরব হোক দেশের মুসলিমরা: RSS

নিউজ ডেস্ক: তালিবান জঙ্গি সংগঠন কী না সেই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। দিনকয়েক আগেই এই দাবি তুলেছিলেন মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি৷ এবার সেই তালিবান ইস্যুতেই মুখ খুলুক ভারতীয় মুসলিমসমাজ, বিরুদ্ধাচারন করুক আফগানিস্তানের অবস্থার। এই উদ্যোগই এবার নিচ্ছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ।

আরও পড়ুন পথের কাঁটা পঞ্জশির দখলের পরেই তালিবান সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা

পড়শি দেশে তালিবানের ক্ষমতা দখল এবং তাতে ভারতের বিপদের সম্ভাবনার নিয়ে সোমবার দেশের মুসলিম সমাজের কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে মুম্বইয়ে বৈঠকে বসবেন RSS-প্রধান মোহন ভাগবত। যদিও শুধু তালিবান এবং ভারত নয়, আলোচনার মূল উদ্দেশ্য কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে কথা বলা।

আরও পড়ুন পঞ্জশির রক্তাক্ত: যে ছবি প্রমাণ দিচ্ছে মাসুদ বাহিনিকে কেন ভয় তালিবানের


আরও পড়ুন ‘সাম্প্রদায়িকতা’ ছড়ানোয় সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে দেশের ওয়েব পোর্টালের একাংশ

কারণ, পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর নীলম ইরশাদ শেখ নামের ওই নেত্রী কয়েকদিন আগেই দাবি করেছেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।” আফগানিস্তান্মে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের।

আরও পড়ুন সীমান্ত সংঘর্ষের জেরে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা

অন্যদিকে তালিবানদের আফগানিস্তান দখল এবং আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করার জন্য ‘আল্লাকে ধন্যবাদ জানাতে’ ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে। ফলে তাদের বিরুদ্ধে দেশের মুসলিম সমাজকে এককাট্টা করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে সংঘ।

বিজেপির নেতৃত্বাধীন গোয়া, মণিপুর, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড-সহ পাঁচ রাজ্যে ভোট আসন্ন। তা নিয়েও দু’দিনের দীর্ঘ বৈঠক হয়েছে নাগপুরের সংঘের দফতরে।  গত বছরের নভেম্বর থেকে কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে দিল্লির সীমানায় আন্দোলনে বসে রয়েছেন কৃষকেরা। মূলত পঞ্জাব এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যের ওই কৃষকদের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে তা নিয়েও বিস্তারিত আলোচন হয়েছে সংঘের সদর দফতরে।

ক্রমাগত মর্টার চার্জ, এত শক্তি মাসুদের! তালিবান চিন্তিত

Anti Taliban nrf force attack taliban claimed 1000 militant captured at Panjshir valley

নিউজ ডেস্ক: এত শক্তি কোথা থেকে এসেছে? কাবুল (Kabul) থেকে বারবার প্রশ্ন আসছে পঞ্জশির ঘিরে রাখা তালিবান (Taliban) জঙ্গিদের কাছে। টুইটে ছড়িয়েছে পঞ্জশির (Panjshir valley ) থেকে ক্রমাগত মর্টার চার্জের ছবি। প্রবল প্রত্যাঘাত করছেন পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদ। তাঁর বাহিনী আফগান ন্যাশনাল রেসিস্ট্যান্স ফ্রন্টের দাবি, অন্তত ১০০০ তালিবান জঙ্গি ধরা পড়েছে।

অন্যদিকে তালিবান জঙ্গি নিয়ন্ত্রিত ইসলামি আমিরশাহী আফগানিস্তানের হামলাকারীদের দাবি, ধৃতদের ছবি দিয়ে প্রমাণ দিক পঞ্জশিরের শাসক। তবে আল জাজিরা জানাচ্ছে,পঞ্জশিরের কিছু এলাকায় তালিবান কব্জা আছে। কিছু এলাকা থেকে আহমেদ মাসুদের বাহিনী পার্বত্যাঞ্চলের দিকে সরে গিয়েছে।
রুশ, ইরানের সংবাদ মাধ্যমের খবর, পঞ্জশির দখলে প্রবল শক্তি প্রয়োগ করছে তালিবান। রবিবার বিকেল পর্যন্ত এলাকাটি তালিবান নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পঞ্জশির থেকে সংঘর্ষ বারবার মোড় নিচ্ছে।

বিবিসি জানাচ্ছে, আফগানিস্তানে দ্বিতীয় দফার তালিবান সরকার গঠন সাময়িক পিছিয়েছে তালিবান। এদিকে আফগানিস্তানের সঙ্গে পরবর্তী কূটনৈতিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেছে রাশিয়া, ইরান, চিন ও পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রক।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট,কেন পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থার প্রধান কাবুলে সফর করছেন, তাও তুমুল আলোচিত। ধারণা করা হচ্ছে আইএসআই তার পূর্ব নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুসারে তালিবান সরকারের কর্মসূচি রূপায়ণ করছে। তবে পথের কাঁটা পঞ্জশির।

আফগানিস্তানের একমাত্র পঞ্জশির উপত্যকা বরারবর বিদেশি হামলা ও জঙ্গি বিরোধী অবস্থানে অনড়। সোভিয়েত সেনার বিরুদ্ধেও তারা ছিল কট্টর। আবার তালিবান বিরোধী তাদের অবস্থান। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত গত তালিবান সরকারের আমলেও পঞ্জশির ছিল জঙ্গি মুক্ত। নেতৃত্বে ছিলেন আহমেদ শাহ মাসুদ। তাঁর পুত্র আহমেদ মাসুদ এখন নেতৃত্বে।

পাকিস্তানে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ

suicide-bombing-in-queta-pakista

নিউজ ডেস্ক: তালিবানকে সমর্থন করার ব্যাপারে পাকিস্তান সম্পর্কে যা শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছিল, ঠিক তেমনটাই ঘটল৷ রবিবার এক ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল দক্ষিণ-পশ্চিম পাকিস্তান৷ এই বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে৷ কয়েক ডজন লোক আহত হয়েছে৷ মনে করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। একটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় একটি পুলিশ চৌকির কাছে আত্মঘাতী বোমারু বিস্ফোরণ ঘটায়।

পাকিস্তানের কোয়েটার একজন সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা আজহার আকরাম বলেন, ঘটনাটি ঘটেছে বেলুচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েটা থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার (১৫ মাইল) দক্ষিণে৷ সেখানে কোয়েটা-মুস্তং সড়কে আধা সামরিক বাহিনী একটি পোস্টের দিকে হাঁটছিল। সেই সময় হামলা চালান হয়৷ তিনি বলেন, বোমা বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তা চৌকি থেকে কিছু দূরে হামলাকারীর শরীরের বেশ কিছু অংশ পাওয়া গিয়েছে। আকরাম বলেন, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে।

এদিনে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন সংগঠন বোমা হামলার দায় স্বীকার করেনি। কিন্তু বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর একই ধরনের হামলার দাবি করেছে। নিষিদ্ধ বালুচ লিবারেশন আর্মি এবং বেলুচ লিবারেশন ফ্রন্ট প্রায় দুই দশক ধরে গ্যাস এবং খনিজ সমৃদ্ধ প্রদেশের স্বাধীনতার দাবিতে নিম্ন স্তরের বিদ্রোহে লিপ্ত রয়েছে। এই এলাকায় ইসলামি জঙ্গিদের উপস্থিতিও রয়েছে।

চরম কৌতূহল বাংলাদেশ, এরাই তালিবান প্রেরিত ক্রিকেটার!

Afghan youth cricket team arrived in dhaka

#Afghanistan
নি়উজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর প্রথম ক্রিকেট দল পাঠিয়েছে তালিবান। আফগান অনুর্ধ ১৯ জাতীয় দল শনিবার ঢাকায় পৌঁছায়। তাদের কড়া নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড জানাচ্ছে, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে পাঁচটি একদিনের এবং একটি চারদিনের ম্যাচ খেলবে অতিথিরা। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১০-২৫ সেপ্টেম্বর।

গত ১৫ আগস্ট দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করেছে তালিবান। এর পরেই তারা জানায়, ক্রিকেট নিয়ে বিশেষ চিন্তা রাখা হয়েছে। ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানের প্রথম তালিবান সরকারের আমলে ক্রিকেট ছিল নিষিদ্ধ।

এদিকে তালিবান প্রেরিত আফগান ক্রিকেট দলের প্রথম বিদেশ সফর নিয়ে তীব্র কৌতুহলের কেন্দ্রে বাংলাদেশ। দলটির খেলোয়াড়দের বিষয়ে জানতে তৈরি হয়েছে কৌতুহল। ধারণা করা হচ্ছে, চট্টগ্রামের ম্যাচগুলিতে ত্রিকেটের থেকেও বেশি আলোচিত হবে তালিবান অধিকৃত দেশের খেলোয়াড়দের দেখা। দ্বিতীয় বার তালিবান শাসনের আগে গত কুড়ি বছরে আফগানিস্তানের ক্রিকেট ক্রমে শক্তিশালী হয়েছে। বেশকিছু আন্তর্জাতিক ম্যাচ তারা জয়ী হয়।  বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)জানাচ্ছে, তালিবান নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এটাই আফগান ক্রিকেট দলের প্রথম বিদেশ সফর।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া ম্যানেজার রাবিদ ইমাম জানান, আফগান যুব দলের আটজনের প্রথম গ্রপ শনিবার এসেছে। বাকি খেলোয়াড়রা আসবে দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে। ২০২০ ফেব্রয়ারিতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জেতার পর বাংলাদেশের যুবদের এটাই প্রথম কোনও সিরিজ খেলা। তালিবানরা আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর এই সফর নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। সেটা কেটেছে। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর সিরিজের প্রথম ওয়ানডে।

আফগানি যৌনকর্মীদের মাথা কাটা হবে, তালিবান তালিকা প্রস্তুত

afgan-women

নিউজ ডেস্ক: সরকার গঠনের পরেই যৌনকর্মীদের মাথা কেটে নেবে তালিবান। সেরকম তালিকা তৈরি হচ্ছে। এমনই সংবাদ দিচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান জানাচ্ছে, তালিবানের ডেথ স্কোয়াড। তারা যৌনকর্মে নিযুক্ত আফগান মহিলাদের খোঁজ করছে। যৌন কর্মে নিযুক্তদের চিহ্নিত করতে প্রচার চলছে আফগানিস্তানে।

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবানের প্রথম সরকারের আমলে প্রকাশ্যেই অনেক মহিলার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল।এবার বেছে বেছে বিভিন্ন সাইটে দেওয়া আফগান যৌনকর্মীদের নাম টুকছে তালিবান।

afgan-women

তালিবান নেতৃত্ব এখন হামলে পড়েছে পর্ন সাইটগুলিতে। দিনভর রাশিরাশি ছবি দেখে তৈরি হচ্ছে তালিকা। এমন পরিস্থিতি যে হবেই তার আশঙ্কা ছিলই। মনে করা হচ্ছে তালিবান দ্বিতীয় দফার সরকার গড়ার পরেই শুরু করবে যৌনকর্মী নিধন অভিযান।

ভারতের উদ্বেগ: আফগানিস্তানকে বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের আনতে চাইছে চিন

Buy One Belt One Road Chinese Power Meets the World

নিউজ ডেস্ক: আফিগানিস্তানে তালিবান সরকারে চিন প্রীতির কারণ প্রকাশ্যে এল৷ বেজিংয়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ‘বেল্ট রোড’ বাস্তবায়ন করতে চেয়েছে৷ এতদিন আফগান সরকারের সঙ্গে ভারতের সুস্পর্কের কারণে বেজিং এই প্রকল্পে হাত গুটিয়ে বসেছিল৷ কিন্তু, আফগানের তখত পালটে যেতেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কোমর বেধে নামল বেজিং৷ তারা তালিবান শাসিত আফগানিস্তানের ভিতর দিয়ে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চায় চিন। এই নিয়ে ভারতের উদ্বেগ কিছুটা বাড়ল৷ আফগানিস্তানে যখন তালিবানের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হতে যাচ্ছে, ঠিক সেই মুহূর্তেই এ খবর জানাল বেজিং৷

Buy One Belt One Road Chinese Power Meets the World

গতকাল শুক্রবার চিন বলেছে, তালিবান নেতারা চিনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্প সমর্থন করে। তারা বিশ্বাস করে, এই প্রকল্প যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য লাভজনক হবে। এছাড়াও তালিবান চিনকে তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে ঘোষণা করেছে। তালিবান নেতারা জানিয়েছেন, দেশের পুনর্গঠনে বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত চিন।

One Belt One Road

বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের কাজ প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সময়ে খুব বেশি একটা এগোতে পারেনি চিন৷ কারণ তালিবান ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে আফগানিস্তানের ব্যাপক মতপার্থক্য ছিল। আশরাফ ঘানির ক্ষমতাচ্যুতির মধ্যদিয়ে চিনের স্বপ্নপূরণের পথ খুলে গিয়েছে৷

২০১৩ সালে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ক্ষমতায় আসার পর বেজিং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ প্রকল্প উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পে মূল লক্ষ্য দক্ষিণ এশিয়া, মধ্য এশিয়া, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল, আফ্রিকা এবং ইউরোপকে স্থল ও সমুদ্র পথের মাধ্যমে একটি নেটওয়ার্কের আওতায় আনা। ভারত শুরু থেকেই এই প্রকল্পের বিরুদ্ধে৷ কিন্তু আফগানিস্তানে তালিবান সরকার ক্ষমতায় আসায় স্বাভাবিকভাবেই ভারতের চাপ কিছুটা বাড়ল৷