অস্ত্র চেয়ে আহমেদ মাসুদের লবি শুরু, আশঙ্কিত ISI-তালিবান জঙ্গিরা

anti taliban leader Massoud

নিউজ ডেস্ক: যে কোনও মুহূর্তে খুন হয়ে যেতে পারেন আফগানিস্তানের অন্যতম তালিবান (Taliban) বিরোধী নায়ক আহমেদ মাসুদ। পঞ্জশিরের শাসন তাঁর হাতে নেই। রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে হিন্দুকুশ পর্বতমালার গোপন স্থান থেকে জঙ্গি বিরোধী যুদ্ধ চালাচ্ছেন মাসুদ। তবে তাঁর পরিস্থিতি বিপজ্জনক। এই অবস্থায় গোপনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অস্ত্র চাইলেন তিনি।

সূত্রের খবর, তালিবান অবরুদ্ধ পঞ্জশির থেকে বহু কাঠখড় পুড়িয়ে ওয়াশিংটন একজন লবিস্ট নিয়োগ করেছে আহমেদ মাসুদ। তাঁর নেতৃত্বাধীন পঞ্জশিরের জাতীয় প্রতিরোধ বাহিনী (এনআরএফ) তালিবানদের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছে। তবে পার্বত্য এলাকা বাদ দিলে বাকি পঞ্জশির তালিবান দখলেই।

Robert Streak

গোপন দূত কে ?
মাসুদকে অস্ত্র এনে দিতে রাজি এক লবিস্ট। যিনি হোয়াইট হাউসের অন্দরমহলে লবি করতে পারেন। কে এই গোপন দূত? লন্ডনের সংবাদপত্র ‘Daily Mail’ জানাচ্ছে, মাসুদের পাঠানো দূত সম্ভবত রবার্ট স্ট্রিক। তিনি একজন পেশাদার লবিস্ট।

আহমেদ মাসুদের মুখপাত্র আলি নাজারি জানান, পঞ্জশিরের হাজার হাজার মানুষকে বাঁচাতে, মানবতাকে সমর্থন করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, রাষ্ট্রসংঘের মতো শক্তির সমর্থন প্রয়োজন। তালিবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আমাদের অস্ত্র ও অর্থ প্রয়োজন।

রবার্ট স্ট্রিকের লবি মারাত্মক শক্তিশালী। তিনি কাজ শুরু করেছেন বলে অনুমান করা হচ্ছে। এই খবরে আতঙ্কিত পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। আর আফগানিস্তানের বর্তমান শাসক তালিবান এই খবরে ভীত। তারাও ওয়াশিংটনে লবি নিয়োগ করতে চলেছে বলে খবর।

বাঘের ঘরে ঘোগ! মার্শাল দোস্তামের ঘরে বৈঠকি আড্ডায় তালিবান

afghan marshal dostum captured by taliban militant

নিউজ ডেস্ক, কাবুল: এ যেন বাঘের ঘরে ঘোগ ঢুকল! আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এএফপি একটি ছবি প্রকাশ করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে, সোভিয়েত জমানার আফগান সেনানায়ক মার্শাল আবদুল রশিদ দোস্তামের ঘরে বৈঠকি আড্ডায় মশগুল তালিবান জঙ্গিরা। মার্শাল দোস্তাম এখনও নিখোঁজ। ধারণা করা হচ্ছে তিনি ফের তালিবান বিরোধী গেরিলা অভিযান শুরু করবেন।

এএফপি জানাচ্ছে, তালিবানের চিরশত্রু আব্দুল রশিদ দোস্তামের বিলাসবহুল অট্টালিকা এখন বেদখল। কাবুলের নিকটে শেরপুরে এই প্রাসাদে মাঝে মধ্যেই আড্ডা মারছে তালিবান নেতারা।  আব্দুল রশিদ দোস্তাম প্রবল তালিবান বিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিত। আফগানিস্তানের প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট তিনি। তাঁকে যুদ্ধবাজ নেতা (ওয়ারলর্ড) হিসেবেও আখ্যায়িত করা হয়।

marshal dostum

আল জাজিরার খবর, ২০০১ সালে দোস্তামের বিরুদ্ধে কয়েক হাজার তালিবান জঙ্গিকে খুনের অভিযোগ আনা হয়। তবে সেই অভিযোগ প্রমাণ হয়নি। ২০১৯ সালে তালিবানের হামলা থেকে অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান তিনি। আবদুল রশিদ দোস্তাম আফগানিস্তানের অন্যতম সেনানায়ক। সর্বশেষ তিনি মাজার ই শরিফের প্রশাসক হিসেবে তালিবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়ছিলেন। তবে গত ১৫ আগস্ট জঙ্গিরা দ্বিতীয়বার কাবুলের দখল নেয়। বৃদ্ধ সেনানায়ক দোস্তাম কৌশলে আফগানিস্তানের সীমান্ত পেরিয়ে অজানা গন্তব্যে চলে যান।

afghan marshal dostum captured by taliban militant

দোস্তাম হলেন তালিবানের গলার দুটি কাঁটার একটি। অপর জন ছিলেন তাঁর বন্ধু পঞ্জশিরের নায়ক আহমেদ শাহ মাসুদ। গত তালিবান জমানায় দোস্তাম ও মাসুদ বারবার হামলা করে তালিবানকে ব্যাতিব্যস্ত করেছিলেন। পরে আমেরিকান সেনা ২০০১ সালে তালিবান সরকারকে উৎখাত করে কাবুল দখল করে। তার আগেই নাশকতায় মারা যান পঞ্জশিরের সিংহ আহমেদ শাহ মাসুদ। এই মাসুদের পুত্র জুনিয়র মাসুদ এখন তালিবান বিরোধী লড়াই চালাচ্ছেন।
গত কুড়ি বছর দোস্তামের নিয়ন্ত্রণে ছিল আফগানিস্তানের অন্যতম এলাকা মাজার ই শরিফ। আর সেনা নায়ক দোস্তাম মাঝে মধ্যে থাকতেন কাবুলের কাছে শেরপুরের অট্টালিকায়। সম্প্রতি তিনি আফগানিস্তান ছেড়ে প্রতিবেশি তাজিকিস্তান বা উজবেকিস্তানে চলে গিয়েছেন বলে গুঞ্জন।

পেনসিলভেনিয়ার বিলবোর্ডে তালিবানযোদ্ধা ‘বাইডেন’, আফগান-সমস্যার সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট

নিউজ ডেস্ক: একমাস আগেই আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবানরা (Taliban)। তাজিকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছিলেন দেশের প্রেসিডেন্ট ঘানি। তারপরেই বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনর পদত্যাগ দাবি করেছিলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কার্যত দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প সোজাসুজি জানিয়ে দেন, “আফগানিস্তানে যে লজ্জাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য প্রেসি়ডেন্ট জো বাইডেনের উচিত পদত্যাগ করা।”

এবার আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে বাইডেনের সমালোচনায় দেশবাসীর একাংশ। পেনসিলভেনিয়ার বিলবোর্ডে প্রকাশ পেল সেই বাইডেন বিরোধী অভিব্যাক্তিই। বাইডেনকে তালিবান জঙ্গি সাজিয়ে ওই বিলবোর্ডে লেখা হয়েছে ‘তালিবানদের আবার শ্রেষ্ঠ আসন দাও (Making Taliban Great Again)’। গোটা পেনসিলভেনিয়াই ছেঁয়ে গিয়েছে এরকম বিলবোর্ডে। যদিও এর পেছনে ট্রাম্প নন, মাস্টারমাইন্ড একজন প্রাক্তন পেনসিলভানিয়া রাজ্য সিনেটর, স্কট ওয়াগনার। যিনি একজন রিপাবলিকান এবং ২০১৪ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত ইয়র্ক কাউন্টির অন্তর্ভুক্ত একটি জেলার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ৯/১১ হামলার পরই তাদের ন্যাটো বাহিনী দখল নেয় আফগানিস্তানের। প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় আফগান সেনাদের, জেলবন্দি করা হয় তালিবানদের। বিশ্বজুড়ে আল কায়েদার যে দাপট ছিল, তাও নিয়ন্ত্রণে আনে মার্কিন সেনা। লক্ষ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্ত্রাসমুক্ত করা। কিন্তু ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তালিবানদের সঙ্গে দোহায় চুক্তি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই চুক্তিতে বলা হয়, আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে মার্কিন সেনা, কিন্তু আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বন্ধ রাখবে তারা। অন্য সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে আমেরিকায় হামলা করা থেকে বিরত রাখারও চেষ্টা করবে তালিবানরা।

এই চুক্তির পরেই নির্বাচনে হেরে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে ক্ষমতায় বসেন জো বাইডেন। কিন্তু, ক্ষমতায় এসেও তিনি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকেই পূনর্বহাল রাখেন। উল্টে জানান, এই বছরের সেপ্টেম্বরের আগেই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। অনেক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞই ভেবেছিলেন, তালিবানদের বাড়বাড়ন্ত দেখে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখবেন বাইডেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত না বদলে বাইডেন জানান, “আফগান নেতাদের একজোট হতেই হবে। আফগানিস্তানের সেনার সংখ্যা তালিবানদের তুলনায় অনেক বেশি। তাদের দেশের জন্য লড়াই চালাতেই হবে।”

সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে এক ইমেলে ওয়াগনার জানিয়েছেন, “প্রেসিডেন্ট বাইডেন তাড়াহুড়ো করেছে। তার সিদ্ধান্ত আমাদের বিশ্বের কাছে হাসির খোরাক করে তুলেছে। তালিবানরা খোলাখুলিভাবে বলছে যে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আফগানিস্তান থেকে বের করে দিয়েছে।” তিনি কাউকে ভয় পান না এবং সত্যিটা সবার সামনে আনতে চান বলে ওয়াগনার জানিয়েছেন যে বিলবোর্ডগুলি এখনই নামানো হবে না। কমপক্ষে আরও দু’মাসের জন্য গোটা পেনসিলভেনিয়ার মানুষ ওগুলো দেখতে পাবেন।

Explained: আবদুল গণি বরাদার এবং তালিবান সরকারের অংশীদার হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরোধ

Taliban, Afghanistan

নিউজ ডেস্ক: আফগান (Afghanistan) মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া বা যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করা নিয়ে তালিবান (Taliban) জঙ্গিদের মধ্যে বিস্তর ঝগড়া শুরু হয়েছে। সবাই বলছে আমিও মন্ত্রী হব। কবে শপথ অজানা। তালিবান নেতাদের একাংশের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, সরকারের অন্দরে ঝগড়া প্রবল। আবদুল ঘানি বরাদার (Abdul Ghani Baradar) এবং নতুন সরকারের সবথেকে আগ্রাসী জঙ্গি গোষ্ঠী হাক্কানি নেটওয়ার্কের (Haqqani Network) মধ্যে সম্পর্কা আদায় কাঁচকলায়। হাক্কানি নেটওয়ার্ক পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই মদতে চলে। তাদের ভাগে গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। 

আরও পড়ুন তালিবান-রাজ: বোরখা পরেই দেশ ছেড়েছেন আফগানিস্তানের মহিলা মেয়র

ISI backed afghan mikitant group Haqqani network

জঙ্গি দলটির তরফে শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রী ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের অন্যতম নেতা খলিল উর রহমান হাক্কানির দাবি আরও ভালো পদ চাই। এই ঝামেলার পরই বরাদার কাবুল ছেড়ে কান্দাহার চলে গিয়েছিলেন বলে তালিবানদের এক সূত্র জানিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে উপ প্রধানমন্ত্রী মোল্লা বারাদারকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বজোড়া আলোড়ন এই তালিবান শীর্ষ নেতা এক গোষ্ঠি সংঘর্ষে মৃত। তবে তালিবান এই খবর অস্বীকার করে। তারা জানায় মোল্লা বারাদার সুস্থ। তালিবানদের উপ-প্রধানমন্ত্রী বরাদার অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভার গঠন কাঠামো নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন বলে এই বাকবিতণ্ডার শুরু হয়।

আবদুল গণি বরাদার এবং হাক্কানি নেটওয়ার্ক:

কয়েক দশক পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা পেয়েছে তালিবানরা। ১৫ আগস্ট কাবুলে আসরাফ ঘানি সরকারকে হারিয়ে ক্ষমতা কায়েম করেছে। আফগানিস্তানের নাম বদলে নাম রেখেছে ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান। এই সমস্ত ঘটনার পেছনে অন্যতম নাম আবদুল গণি বরাদার।

Abdul Ghani Baradar
আফগানিস্তানের ক্ষমতা পেয়েছে তালিবানরা (Taliban)। দেশের নাম বদলে নাম রেখেছে ‘ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান’। এই সমস্ত ঘটনার পেছনে অন্যতম নাম আবদুল গণি বরাদার (Abdul Ghani Baradar)।

প্রথম তালিবান নেতা হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হয়েছে বরাদারের। ২০২০ সালে তখনকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার টেলিফোনে কথা হয়। তার আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার চুক্তিতে তালিবানের পক্ষে তিনি স্বাক্ষর করেন।

দ্বিতীয় তালিবান সরকার গঠনের পেছনে তালিবানদের এই সাফল্য তাঁর মতো কূটনীতিকদের জন্যই এসেছে বলে দাবি করেছেন বরাদার। অন্যদিকে হাক্কানির ধারণা যুদ্ধের মাধ্যমেই কাবুল জয় সম্ভব হয়েছে। ফলে দ্বিতীয় তালিবান সরকারের অর্থমন্ত্রকের দায়িত্ব চেয়েছে হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গি সংগঠন। এই সংগঠন পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই মদতপুষ্ট।

একদিকে, ২০১০ সালে পাকিস্তানের করাচি থেকে বরাদরকেই গ্রেফতার করে পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, আইএসআই। ২০২০ সালে দোহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আফগানদের মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে বরাদারকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন জালম্যে খালিজাদ। পাকিস্তান তার অনুরোধ মেনে নিলে দু’বছর পর দোহায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালিবানদের হয়ে চুক্তি করেন তিনি। অন্যদিকে, তালিবানদের সঙ্গে মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষর করলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হাক্কানি নেটওয়ার্ক সংগঠনকে জঙ্গি গোষ্ঠী তালিকাভুক্ত করেছে।

আরও পড়ুন আবদুল গণি বরাদার: তালিবান নেতা থেকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি

এছাড়াও আফগানিস্তান দখল করার কয়েকদিন পরেই তালিবানরা কাশ্মীরের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়। সরকারীভাবে জানিয়ে দেয়, এটি একটি “দ্বিপক্ষীয়; এবং ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়”। শুধু কাশ্মীরই নয়, প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সর্বতোভাবে সুসম্পর্ক রাখার কথাও বলেছে তারা। অন্যদিকে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, যেহেতু হাক্কানি নেটওয়ার্ক দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন জঙ্গি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে সংযোগ রাখে ফলে তাদের ততপরতা বাড়বে উত্তরবঙ্গে। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে নেপালে থাকা হাক্কানি এজেন্টরা ফের সক্রিয়। তারা পশ্চিমবঙ্গের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনকে উস্কানি দিতে তৈরি। একইভাবে উত্তর পূর্ব ভারতের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনের সঙ্গে হাক্কানি নেটওয়ার্কের যোগাযোগ আছে। নেপালের সংলগ্ন উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জেলা। দার্জিলিং সংলগ্ন কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার জেলার স্থানীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক ততপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেই গোয়েন্দা বিভাগের অনুমান।

ফলে একই বিষয়ে ভিন্নমত তৈরি হওয়া এবং সম্পূর্ন উলটো অবস্থান নিয়েই বারবার বিরোধ বাড়ছে তালিবান এবং হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতাদের। এই কারণেই বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে আফগানিস্তানে দ্বিতীয় তালিবান সরকারের শপথগ্রহন অনুষ্ঠান।

তালিবান-রাজ: বোরখা পরেই দেশ ছেড়েছেন আফগানিস্তানের মহিলা মেয়র

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান আমাদের ছিল, আমাদেরই থাকবে। এই ডাক দিয়েই দেশ ছেড়েছিলেন আফগানিস্তানের প্রথম মহিলা মেয়র জারিফা ঘাফারি। এই মুহূর্তে জার্মানিতে রয়েছেন তিনি। একইভাবে দেশ ছেড়েছেন আফগানিস্তানের চারকিন্ত জেলার গভর্নর ছিলেন সালিমা মাজারিও। আসাওরাফ ঘানি সরকারের তিন মহিলা মেয়রের মধ্যে অন্যতম জারিফা এবং সালিমা দু’জনেই জানিয়েছেন, ‘সাধারণ মানুষ কখনও তালিবানের বিরুদ্ধে মুখ খোলেনি। এর জন্য দেশের নেতাদের পাশাপাশি দায়ী বিশ্বের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও।’

আরও পড়ুন আবদুল গণি বরাদার: তালিবান নেতা থেকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি

যদিও পঞ্জশিরের মতোই তালিবানরা যথেষ্ট বেগ পেয়েছেন বলখ প্রদেশ দখল করতে গিয়েও। তার অনেকটা কৃতিত্ব সালিমা মাজারির। আফগানিস্তানের একের পর এক প্রদেশ যখন তালিবানদের দখলে চলে যাচ্ছিল, তখন বলখ প্রদেশের রক্ষায় সালিমা হাতে তুলে নিয়েছিলেন অস্ত্র। অস্ত্র হাতে তার ছবিও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছিল।

Salima Mazari
বলখ প্রদেশ রক্ষায় যুদ্ধরত সালিমা মাজারি।

যদিও শেষপর্যন্ত বলখ প্রদেশ দখল করে নেয় তালিবানরা। একই সঙ্গে সালিমার চারকিন্ত জেলাও দখল করে নেয় তালিবানি যোদ্ধারা। অন্যদিকে বলখের প্রদেশের পতনের পর থেকে সালিমার খোঁজ মিলছিল না। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম দাবি করেছিল, সালিমা তালিবানের হাতে ধরা পড়েছেন। আবার কারও দাবি ছিল, তিনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।

আরও পড়ুন উধাও বরাদর-আখুন্দজাদা: দুই তালিবান শীর্ষনেতার মৃত্যু সংবাদ ঘিরে জল্পনা

যদিও এবার জানা গিয়েছে, বলখ প্রদেশের পতনের পর নিরাপদেই দেশ ছেড়েছেন সালিমা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম টাইমের দুই সাংবাদিকের সহায়তায় স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সালিমা রওনা দেন আফগানিস্তান-উজবেকিস্তান সীমান্তের হয়রতনের দিকে। উজবেকিস্তান সালিমাকে আশ্রয় দিতে আপত্তি করে। পরে তিনি পরিবার নিয়ে কাবুল চলে আসেন। তালিবানিদের মাঝে বোরকা পরে লুকিয়ে থাকেন বেশ কিছুদিন। এরপর ২৫ আগস্ট সালিমার এবং তাঁর পরিবারকে নিয়ে আকাশে ওড়ে আমেরিকার উদ্ধারকারী বিমান। হাজারা সম্প্রদায়ের সালিমা ও তাঁর পরিবারকে প্রথমে কাতার এবং তার পর আমেরিকার একটি অজানা জায়গায় রাখা হয়েছে। 

আবদুল গণি বরাদার: তালিবান নেতা থেকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি

Abdul Ghani Baradar

অনুভব খাসনবীশ: কয়েক দশক পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা পেয়েছে তালিবানরা (Taliban)। ১৫ আগস্ট কাবুলে আসরাফ ঘানি সরকারকে হারিয়ে ক্ষমতা কায়েম করেছে। আফগানিস্তানের নাম বদলে নাম রেখেছে ‘ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান’। এই সমস্ত ঘটনার পেছনে অন্যতম নাম আবদুল গণি বরাদার (Abdul Ghani Baradar)।

টাইমস গোষ্ঠী (Time Magazine) বুধবার ‘বিশ্বের মোট ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যক্তি’ (‘most influential people of 2021’) এর বার্ষিক তালিকা প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় স্থান পেয়েছেন তালিবানের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা আবদুল গনি বরাদার। 

Time Magazine-এর ওয়েবসাইটে বরাদারের প্রোফাইল লিখেছেন বিখ্যাত পাকিস্তানি সাংবাদিক আহমেদ রশিদ। তিনি লিখেচেন, “বরাদার তালিবানদের একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, একজন সামরিক নেতা এবং একজন ধার্মিক ব্যক্তি। বর্তমানে তিনি আফগানিস্তানের ভবিষ্যতের ভিত্তি হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন। অন্তর্বর্তীকালীন তালিবান সরকারে, তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়েছে।”

Abdul Ghani Baradar
আফগানিস্তানের ক্ষমতা পেয়েছে তালিবানরা (Taliban)। দেশের নাম বদলে নাম রেখেছে ‘ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান’। এই সমস্ত ঘটনার পেছনে অন্যতম নাম আবদুল গণি বরাদার (Abdul Ghani Baradar)।

কে এই আবদুল গণি বরাদার ?
কয়েক দশক পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা পেয়েছে তালিবানরা। ১৫ আগস্ট কাবুলে আসরাফ ঘানি সরকারকে হারিয়ে ক্ষমতা কায়েম করেছে। আফগানিস্তানের নাম বদলে নাম রেখেছে ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান। এই সমস্ত ঘটনার পেছনে অন্যতম নাম আবদুল গণি বরাদার।

১৯৬৮ সালে দক্ষিণ আফগানিস্তানের এক পুস্তুন (আফগান উপজাতি) পরিবারে জন্ম। মুজাহিদদের হয়ে সোভিয়েত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন। তারপর মহম্মদ ওমারের সঙ্গে প্রতিষ্টা করেন তালিবান গোষ্ঠী।

১৯৯৬ সাল নাগাদ দ্রুত উঠতে থাকে তালিবানিরা। দখল করতে থাকে একের পর এক রাজ্য। সে সময়েই উল্কা গতিতে উত্থান হয় বরাদারেরও। পরবর্তী ২০ বছর তালিবানদের হয়ে যুদ্ধবাহিনী পরিচালনা এবং কুটনৈতিক দিক পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০১০ সালে পাকিস্তানের করাচি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, আইএসআই।

দোহা চুক্তি এবং বরাদার

গ্রেফতারের আট বছর পর দোহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আফগানদের মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে বরাদারকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন জালম্যে খালিজাদ। পাকিস্তান তার অনুরোধ মেনে নিলে দু’বছর পর দোহায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালিবানদের হয়ে চুক্তি করেন তিনি।

Abdul Ghani Baradar

মাসুদ আজহারের মুক্তি এবং বরাদার
কয়েক দিন আগে মাসুদ আজহার “মার্কিন সমর্থিত আফগান সরকারকে” হটিয়ে ক্ষমতা দখল করায় তালিবানদের প্রশংসা করেছিলেন। জইশ-ই-মহম্মদ নেতা “মঞ্জিল কি তারফ” (গন্তব্যের দিকে) শিরোনামের একটি নিবন্ধে আফগানিস্তানে “মুজাহিদিনের সাফল্যের” প্রশংসা করেছেন। পাকিস্তানের বাহওয়ালপুর মারকাজে জইশ-ই-মহম্মদ কর্মীদেরও তালিবানদের বিজয়ের আনন্দে অভিনন্দন বিনিময় করতে দেখা গিয়েছে।

১৯৯৯ সালে মাসুদ আজহারের মুক্তির পর থেকেই জইশ-ই-মহম্মদ জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে শুরু করে। কাঠমান্ডু থেকে লখনউ যাওয়ার পথে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক করে পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীরা। এরপর ফ্লাইটটি আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে যাওয়া হয়, সেসময় আফগানিস্তান শাসন করছিল তালিবানরা। ফলে চাপে পড়ে মাসুদ আজহারকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল ভারত সরকার। অনেক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, গোটা প্ল্যানের পেছনে ছিল বরাদারের মস্তিষ্ক।

কাশ্মীর ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিষয়: তালিবান
আফগানিস্তান দখল করার কয়েকদিন পরেই তালিবানরা কাশ্মীরের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়। সরকারীভাবে জানিয়ে দেয়, এটি একটি “দ্বিপক্ষীয়; এবং ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়”।

ইন্ডিয়ান ইনটেলিজেন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী তালিবানদের কাবুল দখলের পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাস এবং দেশের গুরুত্বপূর্ন অঞ্চলে নাশকতার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে। মাসুদ আজহারের গলাতেও কাশ্মীর দখলের সুর শোনা গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর জনপ্রিয় নেত্রী নীলম ইরশাদ শেখও বলেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।” আফগানিস্তান্মে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। নীলমও জানান যে তালিবানের পাশে পাকিস্তান যেভাবে দাঁড়িয়েছে তাতে আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্ব খুব খুশি। তার প্রতিদানেই কাশ্মীর দখলে পাকিস্তানকে সাহায্য করবে তারা।

প্রথমে কাশ্মীরকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে নিজেদের সরকারীভাবে সুরক্ষিত করা এবং কাশ্মীর সমস্যাতে পেছন থেকে অনুঘটক হিসেবে কাজ করা, সমস্ত ঘটনার পেছনেই রয়েছে আফগানিস্তানের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির মস্তিষ্ক।

টাইম ম্যাগাজিনের এই তালিকায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস, প্রাক্তন মার্কিণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটও রয়েছেন। এছাড়াও Times-এর প্রকাশ করা এই নতুন তালিকায় রয়েছেন জাপানের টেনিস খেলোয়াড় নাওমি ওসাকা, রাশিয়ান বিরোধী কর্মী আলেক্সি নাভালনি, সঙ্গীত আইকন ব্রিটনি স্পিয়ার্স, এশিয়ান প্যাসিফিক পলিসি অ্যান্ড প্ল্যানিং কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক মঞ্জুশা পি কুলকার্নি, অ্যাপলের সিইও টিম কুক, অভিনেতা কেট উইন্সলেট এবং ‘প্রথম আফ্রিকান এবং প্রথম মহিলা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার প্রধান’ Ngozi Okonjo-Iweala।

ভারতীয়-আফগানি ব্যবসাদারকে বন্দুক দেখিয়ে অপহরণ করল তালিবান জঙ্গিরা

Bansari Lal, who's in the business of pharmaceutical products

কাবুল: মাথার কাছে বন্দুক। চোখে ইশারা নেমে আয় জলদি। মৃত্যু সামনে বুঝতে পারেন কাবুলের ওষুধ ব্যবসাদার বাঁশরি লাল আন্দে। তিনি নেমে আসেন গাড়ি থেকে। আর কোনও খোঁজ নেই তাঁর। জঙ্গি তালিবান সরকারের রক্ষীরা এই ভারতীয় বংশজাত আফগান নাগরিককে অপহরণ করেছে।

কাবুলে ওষুধ দোকানদার বাঁশরি লাল। অভিযোগ, দোকানে যাওয়ার পথেই তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তালিবানরা। আফগানিস্তানের বাসিন্দা হলেও বাঁশরি লাল আন্দে একজন ভারতীয় বংশজাত। দিল্লিতে পরিবার আছে।

রোজকারমত গাড়িতে চেপে দোকানে যাচ্ছিলেন বাঁশরি লাল। গাড়িতে তাঁর দেকানের কিছু কর্মী ছিলেন। সেই গাড়ি ঘিরে নেয় সরকারে আসা তালিবান জঙ্গিরা। বাঁশরি লালকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পর তার কয়েকজন সঙ্গী কোনোরকমে পালিয়ে বেঁচেছেন। কাবুলের ১১ তম পুলিশ জেলায় এই ঘটনা ঘটেছে।

অপহরণের খবর জানানো হয়েছে ভারতের বিদেশমন্ত্রককে। ভারত সরকারের তরফ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানানো হয়। তবে তালিবান সরকার নিরুত্তর।

উধাও বরাদর-আখুন্দজাদা: দুই তালিবান শীর্ষনেতার মৃত্যু সংবাদ ঘিরে জল্পনা

Baradar and Akhundzada

নিউজ ডেস্ক: ১৫ অগস্ট তালিবান কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে৷ হপ্তাখানের আগে নতুন সরকারও ঘোষণা করা হয়েছে৷ তবে এখনও পর্যন্ত মন্ত্রিসভার সদস্যরা আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেনি৷ কবে এবং কীভাবে শপথ হবে, তা নিয়েই আফগান পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ব৷ এই পরিস্থিতির মধ্য এখন সব থেকে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, সরকার ঘোষণার পর থেকেই কেন তালিবানের প্রথমসারির নেতার কোথাও উধাও হয়ে গেলেন৷ কেন তারা বিশ্ববাসীর সামনে আসছে না?

হিবতুল্লাহ আখুন্দজাদাকে সুপ্রিম লিডার এবং মোল্লা আবদুল গনি বরাদারকে উপ -প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ঘোষণার পর থেকেই এই দুই শীর্ষনেতাকে আর কোথাও দেখা যায়নি৷ তবে, দুদিন আগে বরাদার ৩৯ সেকেন্ডের একটি অডিও টেপের মাধ্যমে নিজেকে সুস্থ থাকার কথা জানিয়েছেন৷ এখন এই অডিও টেপকে কেন্দ্র করেই বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিয়েছে৷

তালিবানদের উত্থান নিয়ে সিএনএন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাধারণত যে কোন দেশে সরকার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে নেতারা বিশ্বের সামনে আসেন। মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলে৷ কিন্তু, আফগানিস্তানে এটা হচ্ছে না। মানুষ জানতে চায় তালিবান নেতারা কোথায়? তাদের ঠিকানা কি এবং কেন তারা বিশ্বের কাছে তারা নজরে পড়ছেন না৷ তালিবান মুখপাত্ররাও এই সমস্ত প্রশ্ন এড়ানোর চেষ্টা করছেন এবং উত্তর দিলেও তাতে কোন জোর নেই৷

এদিকে তালিবানের দ্বিতীয় শীর্ষনেতা মোল্লা বরাদরের মৃত্যু সংবাদ নিয়ে বেশ জল্পনা শুরু হয়েছে৷ মাত্র দুই দিন আগে তালিবান মুখপাত্র সুহেল শাহীন মোল্লা বরাদারের একটি অডিও টেপ প্রকাশ করেন। সেই টেপে বরাদর বলেছেন- তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ ও নিরাপদ। এখন এই টেপের মান এবং পটভূমি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তালিবান শাসনের একটি অংশ হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংঘর্ষে মোল্লা বরাদার নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জল্পনা রয়েছে। গত সপ্তাহে সরকার ঘোষণার ঠিক আগে তালিবান এবং হাক্কানি নেটওয়ার্কের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে বলে দাবি করা হয়। মোল্লার সহকারও বিবৃতি জারি করেছিলেন। অডিও টেপটি ছিল মাত্র ৩৯ সেকেন্ড দীর্ঘ।

অন্যদিকে, তালিবান শীর্ষনেতা হিবতুল্লাহ আখুন্দজাদা সম্পর্কে বলা হয়েছিল, আখুন্দজাদা শীঘ্রই বিশ্বের সামনে হাজির হবেন। ১৫দিন আগে দেওয়া বিবৃতি সত্ত্বেও, তিনি এখনও বেপাত্তা৷ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আখুন্দজাদা হয় নিহত হয়েছেন অথবা গুরুতর অসুস্থ। যদি তা না হয়, তবে এখন পর্যন্ত কেন তিনি সামনে এলেন না৷ কাতারের রাজধানী দোহাতেও তার হদিস নেই৷

আখুন্দজাদা ২০১৬ সালে তালিবানের নেতা হন। ৫ বছরে তার কোন বক্তব্য বের হয়নি। গত বছর জানা গিয়েছিল, আখুন্দজাদা খুব অসুস্থ ছিলেন এবং পেশোয়ারে মারা যান।

কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তালিবানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। মোল্লা বরাদর তালিবান প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। এটা মনে করা হয়েছিল তিনি প্রধানমন্ত্রী হবেন৷ কিন্তু তা হয়নি। তাকে উপেক্ষা করে হাসান আখুন্দকে প্রধানমন্ত্রী করা হয়।

এটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এই মুহূর্তে তালিবানের ওপর সবচেয়ে বড় প্রভাব কাতারের৷ কাতারের বিদেশমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল রহমান আল থানি রবিবার কাবুলে পৌঁছেছেন। তালিবানদের দাবি, তারা কান্দাহারে হিবতুল্লাহ আখুন্দজাদার সঙ্গে দেখা করেছিলেন৷ কিন্তু, তার কোনও ছবি প্রকাশ হয়নি। সবকিছু দিলে তালিবান মুখপাত্র এই বৈঠকটি নিশ্চিত করেননি৷ যখন কাতার সফর সম্পর্কে সরকারী তথ্য দেওয়া হয়েছে৷

পাকিস্তানি সাংবাদিক আজাদ সাইদ৷ যিনি তালিবানকে ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করেন, তিনি বলেন, অধিকাংশ তালিবান নেতা এবং বিশেষ করে হাক্কানি নেটওয়ার্কের লোকরা ওয়ান্টেড। তারা মনে করে যে, শত্রু (আমেরিকা) যে কোন সময় তাদের টার্গেট করতে পারে। এজন্যই তারা প্রকাশ্যে আসে না৷ ।

তবে, তালিবানরা এসব কিছু গোপন করতে বেশ পারদর্শী। তাদের শীর্ষনেতা ও প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরকে ২০১৩ সালের প্রথম দিকে মার্কিনরা হত্যা করে। তালিবানরা বছরের শেষের দিকে এই তথ্য প্রকাশ করে৷ প্রকৃতপক্ষে তালিবান নেতৃত্ব মনে করে, নেতাদের মৃত্যুর খবর সংগঠনটি ভেঙে দিতে পারে এবং তাদের সন্ত্রাসীরা অন্য গ্রুপে যোগ দিতে পারে। হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতাদের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে আমেরিকা। সব মিলিয়ে আফগানিস্তানের দখল নিলেও তালিবানরা বেশ চাপে রয়েছে, তা তাদের গতিবিধিতেই স্পষ্ট হচ্ছে৷

কাবুল প্যালেসে প্রবল ঝগড়া তালিবান ও হাক্কানি জঙ্গি নেতাদের, কবে শপথ অজানা

Afghanistan Taliban Haqqani Network Kabul

নিউজ ডেস্ক: পদ কম প্রার্থী বেশি। যেন চাকরির ইন্টারভিউ! আফগান (Afghanistan) মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়া বা যে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করা নিয়ে তালিবান (Taliban) জঙ্গিদের মধ্যে বিস্তর ঝগড়া শুরু হয়েছে। সবাই বলছে আমিও মন্ত্রী হব। কবে শপথ অজানা।

বিবিসি সংবাদে তালিবান নেতাদের একাংশের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়, সরকারের অন্দরে ঝগড়া প্রবল। বিবিসি জানাচ্ছে মোল্লা বারাদার এবং নতুন সরকারের সবথেকে আগ্রাসী জঙ্গি গোষ্ঠী হাক্কানি নেটওয়ার্কের (Haqqani Network) মধ্যে সম্পর্কা আদায় কাঁচকলায়। হাক্কানি নেটওয়ার্ক পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই মদতে চলে। তাদের ভাগে গিয়েছে গুরুত্বপূর্ণ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তবে জঙ্গি দলটির তরফে শরণার্থী বিষয়ক মন্ত্রী ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের অন্যতম নেতা খলিল উর রহমান হাক্কানির দাবি আরও ভালো পদ চাই। এ নিয়ে ঝগড়া বেড়েছে।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে উপ প্রধানমন্ত্রী মোল্লা বারাদারকে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না। বিশ্বজোড়া আলোড়ন এই তালিবান শীর্ষ নেতা এক গোষ্ঠি সংঘর্ষে মৃত। তবে তালিবান এই খবর অস্বীকার করে। তারা জানায় মোল্লা বারাদার সুস্থ।

গত ১৫ আগস্ট আমেরিকান সেনা নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতেই আফগান রাজধানী কাবুল দ্বিতীয়বার দখলের পর দ্বিতীয় তালিবান অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভার ঘোষণা হয়। সেই সরকার গত ৯/১১ আমেরিকায় টুইন টাওয়ার হামলার কুড়ি বছর পূর্তির দিনে শপথ নেবে এমনই জানিয়েছিল। দিনটিতে শপথ না নিতে তালিবান বন্ধু দেশ কাতার ও পাকিস্তানের উপর কূটনৈতিক চাপ দিয়েছিল আমেরিকা। রাশিয়ার তরফে আপত্তি আসে। দিনটিতে শপথ নেয়নি তালিবান জঙ্গিদের সরকার।

বিবিসি জানাচ্ছে, শপথ না নেওয়ার পিছনে রয়েছে তীব্র ঝগড়া। তালিবান নেতারা পরস্পর কোন্দলে জড়িয়েছে। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে তালিবানের সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং বর্তমান সরকারের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল ঘানি বারাদারের সঙ্গে এক মন্ত্রীর তর্কবিতর্ক হয়েছে। পদ পছন্দ হয়নি ওই মন্ত্রীর।

বাংলাদেশে সিরিজ হারল আফগান যুবদল, দেশে ফিরলে তালিবানি শাস্তি?

Afghanistan Cricket team

নিউজ ডেস্ক: আফগান যুব দলে এখন চিন্তা দেশে ফিরলে কী হবে? পরাজয় মেনে নেবে বর্তমান তালিবান সরকার? পরপর তিন ম্যাচে বাংলাদেশের কাছে পরাজয়ের পর সিরিজ হাতছাড়া।

গত ১৫ অক্টোবর দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালিবান জঙ্গিরা। মার্কিন সেনা এর পর আফগানভূমি ত্যাগ করেছে। কাবুলের তখতে বসেই তালিবান নেতৃত্ব জানায়, আফগান পুরুষ ক্রিকেট দল আসন্ন সবকটি টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। সেই সূত্রে পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আফগান অনুর্ধ্ব ১৯ জাতীয় দল আসে বাংলাদেশে সিরিজ খেলতে। আফগানিস্তানে দ্বিতীয় তালিবান সরকার হওয়ার পরে এটাই জঙ্গি সংগঠনটির হুকুমে দেশীয় ক্রিকেট দলের প্রথম আন্তর্জাতিক সফর।

কূটনৈতিক মহল মনে করছে, ক্রিকেট কূটনীতির মাধ্যমে নিজেদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল দেখাতে মরিয়া তালিবান জঙ্গিরা। কারণ, তাদেরই প্রথম দফার ১৯৯৬-২০০১ সালের সরকার ক্রিকেট সহ সব খেলা নিষিদ্ধ করেছিল।

তালিবান সরকার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজ খেলার জন্য দল পাঠানোর পর থেকে সিলেটের স্টেডিয়ামে নজর দুনিয়ার। এই স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক জয় পেল বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব ১৯ দল। পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে প্রথম তিন খেলায় জয়ী বাংলাদেশ।

সিরিজ হেরে দেশে ফিরলে কী হবে ? এই প্রশ্ন এখন আফগান যুব দলের সবার, এমনকি কূটনৈতিক মহলেও। চরম কোনও শাস্তি রয়েছে জাতীয় যুব দলের ক্রিকেটারদের জন্য ? উঠছে এই প্রশ্ন। কারণ, সরকারে এখন তালিবান জঙ্গিরা। তাদের নৃশংসতার নজির দেখছে দুনিয়া।

শিহরিত দুনিয়া: পুরনো রীতিতে তালিবান শুরু করল মাথা কাটা

Afghanistan

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের (Afghanistan) এক সেনা সদস্য ধরা পড়েছে। তার মাথা নির্বিচারে কেটে নিল সরকার গড়া তালিবান (Taliban) জঙ্গিরা। তাদের উল্লাসভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিটেনের সংবাদপত্র ‘Daily Mail’ এই ভিডিও প্রকাশ করতেই বিশ্ব জুড়ে শোরগোল।

৩০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে তালিবানদের চিৎকার ও মাটিতে পড়ে থাকা মাথাবিহীন দেহের চারপাশে লাফাতে দেখা যাচ্ছে। মৃতদেহটি তালিবানরা ঘিরে রেখেছে। তাদের হাতে রয়েছে রাইফেল ও রক্তমাখা ছুরি।

গত ১৫ আগস্ট দ্বিতীয়বার কাবুল দখল করে তালিবান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত আফগান সরকারের পতন হয়। এর পরে কাবুলে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সম্মেলনে তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানায়, এই তালিবান অনেক নরম। প্রথম তালিবান সরকার (১৯৯৬-২০০১) আমলের মতো হবে না বলেই জানানো হয়।

এর পরে অবশ্য বারবার গণহত্যা ও নারী নির্যাতনের খবর এসেছে তালিবান শাসিত আফগানিস্তান থেকে। এখন তাদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলছে।

Daily Mail এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গাঢ় সবুজ রঙের ইউনিফর্ম পরা যে ব্যক্তির দেহ মাটিতে পড়ে ছিল, তিনি আফগান সেনা। কারণ আফগান সামরিক বাহিনীর এমন ধরনের ইউনিফর্ম রয়েছে।

তার মাথা কেটে নিয়েছে তালিবান সরকারের জঙ্গি সদস্যরা। রক্তমাখা ছুরি আকাশে ছুড়ে আনন্দ জাহির করেছে। চিৎকার করে তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিববাতুল্লাহ আখুন্দজাদার প্রশংসা করে।

কী হচ্ছে ইসলামাবাদে? রাশিয়া, চিনসহ পাঁচ দেশের গোয়েন্দা প্রধান হাজির

ISI Chief Chairs High Level Meeting Of Intelligence Chiefs Of China, Russia, Iran, Kazakhstan, Tajikistan, Uzbekistan And Turkmenistan In Islamabad To Discuss The Situation In Afghanistan

#Afghanistan
নিউজ ডেস্ক: তালিবান সরকার শপথ নেয়নি। কাবুলে চলছে আইএসআই চক্র। পুরো তালিবান সরকার এখন পাকিস্তানের নির্দেশে কাঠপুতুল! কাবুলে যদি এই পরিস্থিতি হয় তাহলে পাক রাজধানী ইসলামাবাদে হইহই রব। আফগান ইস্যুতে চিন, রাশিয়া সহ মধ্য এশিয়ার পাঁচটি দেশের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের বৈঠক করেছেন আইএসআই প্রধান জেনারেল ফায়েজ হামিদ 

শুক্রবারই কাবুল থেকে ফিরে এসেছেন পাক গোয়েন্দা প্রধান। এর পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা বৈঠক। আনুষ্ঠানিকভাবে পাকিস্তান সরকার গোয়েন্দা প্রধানদের এই বৈঠকের কথা স্বীকার করেছি। তবে পাকিস্তানের জাতীয় দৈনিকপত্র বলে বিশ্বে সুপরিচিত ‘ডন’ জানিয়েছে, ৫টি দেশের গোয়েন্দা প্রধানদের বৈঠকে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। 

চিন, রাশিয়া, ইরান, কাজাখস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা যোগ দেন বৈঠকে। এই বৈঠকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান নিরাপত্তা, তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক কেমন হবে, তা নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে।

এর আগে পাকিস্তানের নেতৃত্বে আফগানিস্তানের প্রতিবেশী দেশগুলোর বিদেশমন্ত্রীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে চিন, পাকিস্তান, ইরান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান, ও তুর্কেমিস্তান অংশ নিলেও রাশিয়া অংশগ্রহণ করেনি।

পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অংশ নেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী হোসাই আমির আবদুল্লাহিয়ান, তাজিক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন মোহরিদ্দিন, উজবেকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল আজিজ কামিলভ এবং তুর্কেমিস্তানের ডেপুটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভেপা খাদজীয়েব ইনদিটেম।
পরিস্থিতি স্পষ্ট। আমেরিকা সরে যেতেই তাদের ও চিন উভয়ের ঘনিষ্ঠ পাকিস্তান সরকার এখন আফগান তালিবান সরকারের হর্তাকর্তার বিধাতা।

স্বচ্ছ আফগানিস্তান! তালিবান জঙ্গি মেয়র ঝাঁট দিচ্ছে!

new taliban mayor

নিউজ ডেস্ক: আমরা সেই তালিবান নই! নতুনভাবে আমাদের দেখবে বিশ্ব। গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করার পরেই সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই বার্তা দিয়েছে তালিবান মুখ্যপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। তার বর্নিত তালিবান নতুন অবশ্য এরই মধ্যে প্রথম তালিবান সরকারের (১৯৯৬-২০০১) মতো গণহত্যার তালিকা তৈরি করেছে বলেই দাবি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের।

তাহলে নতুন তালিবান কী রকম? টুইটারে পোস্ট হওয়া একটি ছবিতে শোরগোল বিশ্বজুড়ে। তাতে লেখা আছে কান্দাহার প্রদেশের নতুন তলিবান শাসক রাস্তায় ঝাঁট দিচ্ছে।

এই ছবি দেখে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন তালিবান কি কাউকে নকল করছে? কারণ একইরকম ছবি বারবার ভারতে দেখা গিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর স্বচ্ছ ভারত অভিযানের মতো তালিবান জঙ্গিদের সরকার স্বচ্ছ আফগানিস্তান কর্মসূচি চালু করার পিছনে রয়েছে কূটনৈতিক বার্তা। এমনই আলোচনা বিশ্বজুড়ে।

এদিকে নেট দুনিয়ায় ভাইরাল ঝাঁটা হাতে তালিবান জঙ্গিদের ছবিতে। ছড়িয়েছে ভাইরাল মন্তব্য কটাক্ষ, দয়া করে কারোর সঙ্গে তুলনা করবেন না !

9/11: ফের পাল্টাল তালিবান সরকারের শপথ, কাবুল সরগরম

Taliban cancel Afghan government

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানে (Afghanistan) তালিবানের (Taliban) অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।  কাবুল দখলের ২২ দিন পর তালিবান অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা করে ১১ সেপ্টেম্বর শপথ নেওয়া হবে। শপথ অনুষ্ঠানে রাশিয়া, চিন ও ইরানসহ ছয় দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। 

১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ৯/১১-এর ২০তম বর্ষপূর্তি। এইদিন তালিবান সরকারের আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের দিন ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলের চাপে এই তারিখে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রুশ সংবাদমাধ্যম তাশ জানিয়েছে এই খবর।

তালিবান জঙ্গি সরকারের তথ্যপ্রযুক্তি কমিশনের সদস্য ইনামুল্লা সামানগনি টুইট -নতুন আফগান সরকারের সূচনা অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। মানুষ যাতে বিভ্রান্ত না হন, সে জন্য ইসলামিক আমিরশাহীর মন্ত্রিসভার একাংশ কাজ শুরু করেছে।

তালিবান সরকারের । ৯/১১- এ শপথ অনুষ্ঠান ঘোষণার পর অস্বস্তিতে পড়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ন্যাটো এবং আমেরিকার জোট তালিবান ঘনিষ্ঠ কাতার সরকারকে চাপ দেয় দিনটি পরিবর্তনের। কাতার সরকারের সঙ্গে আলোচনার পরেই ফের শপথ নেওয়ার দিন বদল করেছে তালিবান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

আফগানিস্তানে ফের তালিবান জঙ্গি সরকার। তাদের বন্ধু আল কায়েদা। এই সংগঠনটির প্রধান তথা ৯/১১ নিউইয়র্কে হামলার মূল নির্দেশদাতা ওসামা বিন লাদেন ঘটনার সময় আফগানিস্তানেই ছিল। তাকে চেয়ে তালিবান সরকারের কাছে বার্তা দেয় ওয়াশিংটন। রাজি হয়নি তালিবান। এর পরেই মার্কিন সেনা অভিযান ও কাবুল হয়েছিল জঙ্গি মুক্ত।

9/11: কাবুলে তালিবান জয়োল্লাস, শপথের জন্য প্রস্তুতি

9/11attack

নিউজ ডেস্ক: কুড়ি বছর আগে আমেরিকায় টুইন টাওয়ারে আল কায়েদা জঙ্গি সংগঠনের ভয়াবহ বিমান হামলা দিয়েই আফগান অভিযান শুরু করেছিল মার্কিন সেনা। কয়েকদিনের মধ্যেই কাবুল থেকে উৎখাত হয়েছিল প্রথম তালিবান সরকার। কুড়ি বছর পর সেই কাবুলের কুর্সিতে ফের তালিবান জয়োল্লাস। শনিবারেই তাদের ছায়া মন্ত্রীপরিষদ শপথ নেবে।

গত কুড়ি বছরে মার্কিন সেনা তাদের ইতিহাসে বৃহত্তম সেনা অভিযান আফগানিস্তানেই চালিয়েছে। দু’দশক পরে মার্কিন সরকার ও তালিবান আলোচনার সূত্রে সম্পূর্ণরূপে দেশে ফিরেছে মার্কিন সেনা। আফগানিস্তানে ফের তালিবান জঙ্গি সরকা। তাদের বন্ধু আল কায়েদা। এই সংগঠনটির প্রধান তথা ৯/১১ হামলার মূল নির্দেশদাতা ওসামা বিন লাদেন ঘটনার সময় আফগানিস্তানেই ছিল। তাকে চেয়ে তালিবান সরকারের কাছে বার্তা দেয় ওয়াশিংটন। রাজি হয়নি তালিবান। এর পরেই মার্কিন সেনা অভিযান ও কাবুল হয়েছিল জঙ্গি মুক্ত।

দু দশক পরে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তালিবান দখলে আফগানিস্তানের ক্ষমতা। বিশেষ দিনটিকে তারা বেছে নিয়েছে শপথ গ্রহণের জন্য। তবে দ্বিতীয় তালিবান সরকারের ঘোষণা, তাদের ভিন্ন রূপ দেখবে দুনিয়া। তালিবান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শপথ নেওয়ার পরেই আফগানিস্তানকে ঘিরে নতুন করে দুর্দশার মেঘ জমাট নেবে। ইতিমধ্যেই আফগান তালিবান সরকারের নিয়ন্ত্রক হয়েছে পাকিস্তান। চিন্তিত রাষ্ট্রসংঘ।

গেরিলা কায়দায় পঞ্জশিরকে তালিবান মুক্ত করতে মাসুদ বাহিনীর লড়াই

Saleh Rigistani, the commander, said they will continue fighting the Taliban forces

নিউজ ডেস্ক: পরস্পর বিরোধী বার্তা আসছে ক্ষণে ক্ষণে। তালিবান (Taliban) দাবি করছে পঞ্জশির (Panjshir valley) তাদের দখলে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আফগান (Afghanistan) সংবাদ মাধ্যমেরও একই খবর। পঞ্জশিরের মূল সদর শহর সহ বিভিন্ন নগর, জেলা থেকে হটে গিয়েছে জুনিয়র মাসুদের আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্স।

আবার সংবাদ মাধ্যমেই আসছে মাসুদ বাহিনীর ভিডিও বার্তা-লড়াই এখনও শেষ হয়নি। তালিকা জঙ্গি বিরোধী আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের দাবি, পার্বত্যাঞ্চলে তাদের শক্তি অটুট।

Ahmad Massoud, son of the slain hero of the anti-Soviet resistance Ahmad Shah Massoud
আহমদ মাসুদ, সোভিয়েত বিরোধী প্রতিরোধ আহমদ শাহ মাসুদ এর নিহত বীরের পুত্র

তালিবান বনাম পঞ্জশিরের অপসারিত শাসক আহমেদ মাসুদের বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ চলছে। এখানেই আছেন অপসারিত আফগান সরকারের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ। শুক্রবারই জানা যায় তাঁর ভাইকে কুপিয়ে খুন করেছে তালিবান।

পঞ্জশিরের পরিস্থিতি তীব্র সংঘাতময়। এখানেই একমাত্র তালিবান বিরোধী শক্তি সংগঠিত। তবে ক্রমাগত হামলায় তারা পিছু হটে। পঞ্জশিরের সিংহ প্রয়াত আহমেদ শাহ মাসুদের বাড়ি দখল করে তালিবান। তাঁর পুত্র আহমেদ মাসুদ সরে গিয়েছেন পার্বত্য এলাকায়। পঞ্জশির দখল করতে বহু ক্ষতি হয়েছে তালিবান তাও স্বীকার করে নেয়।

শনিবার কাবুলে দ্বিতীয় তালিবান অন্তর্বতীকালীন সরকার। এই জঙ্গি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে জানায় আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্স। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর, মানুষের বাহিনী কাবুলের তালিবান সরকারকে কোনওভাবেই মেনে নেবে না বলেই জানিয়েছে।

কুপিয়ে-চোখ উপড়ে আফগানের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্টের ভাইকে হত্যা করল তালিবানরা

Taliban kills Rohullah Saleh

নিউজ ডেস্ক: রাস্তার ধারে পড়ে দেহ। কুপিয়ে কুপিয়ে খুন করে চোখ উপড়ে নিয়েছে তালিবান (Taliban) জঙ্গিরা। মৃত ব্যক্তির নাম রুহুল্লাহ সালেহ। তিনি অপসারিত আফগান (Afghanistan) সরকারের স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট আমারুল্লাহর (Amrullah Saleh) ভাই। নৃশংস এই খুন মনে করিয়েছে প্রথম তালিবান সরকারের আমলে কাবুলে খুন করা ততকালীন প্রেসিডেন্ট ডক্টর নাজিবুল্লাহের ক্ষতবিক্ষত দেহ।

আমারুল্লাহ সালেহর জীবন বিপন্ন। কারণ তালিবান দখল করেছে পঞ্জশির। এখানকার জঙ্গি বিরোধী শাসক আহমেদ মাসুদের বাহিনি এখন মূল এলাকা ছেড়ে গেরিলা যুদ্ধ করছে। আমারুল্লাহ সালেহ ও আহমেদ মাসুদের বাহিনি লড়াই চালালেও পঞ্জশির তালিবান দখলেই।

পঞ্জশিরে যেখানে আমরুল্লাহ সালেহর ভবন রয়েছে।সেই ভবনে হামলা চালিয়েছে তালিবান। সেখানেই আমরুল্লাহ সালেহর বড় ভাই রুহুল্লাহ সালেহকে খুন করা হয়েছে।

গত ১৫ আগস্ট আমেরিকান সেনা আফগানিস্তান ত্যাগ করে। সেই দিনই কাবুল দখল করে তালিবান। দেশত্যাগ করেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। তিনি দেশ ছাড়তেই ভাইস প্রেসিডেন্ট আমারুল্লাহ সালেহ পঞ্জশিরে আশ্রয় নেন নিজেকে আফগান সরকারের প্রেসিডেন্ট দাবি করে তালিবান বিরোধী আহমেদ মাসুদের সঙ্গে জোট করে লড়াই করছেন।

শপথের আগেই ব্যাংক একাউন্টে হানা তালিবান সরকারের

Taliban closes bank accounts

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান (Afghanistan) ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া অপসারিত সরকারের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার কোটি কোটি টাকা এখন তালিবান (Taliban) কব্জায়। পলাতক পদত্যাগী প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সরকারের এই কর্মকর্তাদের সব ব্যাংক (Afghan bank) অ্যাকাইন্ট বন্ধ করে দিয়েছে তালিবান জঙ্গি সরকার।  শনিবার দ্বিতীয় দফার তালিবান সরকার শপথ নেবে।

তালিবান সাংস্কৃতিক কমিশনের সদস্য আনামুল্লাহ সামানগানি জানিয়েছে, আশরাফ ঘানির সরকারের হয়ে কাজ করা কয়েকজন কর্মকর্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। কাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

kabul bank

মনে করা হচ্ছে, আফগানিস্তান সেন্ট্রাল ব্যাংকের কর্মকর্তারা, কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, গভর্নর, ডেপুটি গভর্নর, পার্লামেন্টের সদস্য, প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য, মেয়র এবং ভিআইপিদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।

গত ১৫ আগস্ট আমেরিকান সেনা পুরোপুরি আফগানিস্তান ত্যাগ করে। এর পরেই কাবুল দখল করে তালিবান। তারা আসার আগেই দেশত্যাগ করেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। এর আগে বহু সরকারি কর্মী, কর্মকর্তা আফগানিস্তান ছেড়ে পালায়।

ভয়াবহ 9/11 দিনে লাদেন-বন্ধু তালিবান জঙ্গিরা নেবে সরকারি শপথ

20th anniversary of 9/11 attacks

নিউজ ডেস্ক: সেই দিন-সেই দিনেই সরকারি শপথ নেবে তালিবান।
শনিবার সেই দিন-ভয়াবহ ৯/১১ তারিখ (9/11 attack)। আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলকরা তালিবান জঙ্গিদের বন্ধু আলকায়েদা কে সম্মান দিয়ে মারাত্মক টুইনটাওয়ার হামলার দিনেই শপথ নিতে চলেছে জঙ্গিদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কাবুল জুড়ে হই হই।

কুড়ি বছর আগের সেই ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় মার্কিন আস্ফালন নিভে গিয়েছিল। তার পরেই আফগানিস্তানে আমেরিকান সেনার অভিযান, প্রথম তালিবান সরকারের পতন এবং গত দু দশক একটানা থাকার পর অবশেষে প্রত্যাবর্তন সেই সেনাবাহিনির। ফের তালিবান দখলে আফগানিস্তান।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের বিশ্ববাণিজ্য কেন্দ্রের টুইন টাওয়ারে যাত্রীবাহী বিমান নিয়ে হামলা চালায় আলকায়েদা জঙ্গিরা। কয়েক হাজার নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার জঙ্গি গোষ্ঠী আল কায়েদাকে দায়ী করে। আফগানিস্তানে তখন তালিবান সরকার চলছিল। ওয়াশিংটন থেকে বার্তা আসে তালিবান বন্ধু ওসামা বিন লাদেন আফগানিস্তানেই আছে। তাকে আমেরিকার হাতে তুলে দেওয়ার জন্য বার্তা পাঠানো হয়। রাজি হয়নি তালিবান।

তবে প্রথম তালিবান সরকার স্বীকার করে তারা লাদেনকে আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু কিছুতেই তাকে আমেরিকার হাতে তাকে তুলে দেওয়া হবে না। জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার এরপর ২০০১ সালের ৭ অক্টোবর আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে। অভিযান শুরুর কয়েক দিনের মধ্যে তালিবান সরকারের পতন হয়।

তালিবান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানায়, শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে রাশিয়া, চিন, কাতার, তুরস্ক, পাকিস্তান ও ইরান সরকারকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

BRICS: জিনপিংয়ের উপস্থিতিতেই আফগানিস্তান নিয়ে উদ্বেগপ্রকাশ মোদী-পুতিনের

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানে তালিবান (Taliban) সঙ্কটের মধ্যে অনুষ্ঠিত ১৩তম ব্রিকস সম্মেলন (BRICS)। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) এই সম্মেলনে নেতৃত্ব দেন। ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন ব্রিকস গোষ্ঠীর রাষ্ট্র রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চিনের শি জিংপিং, ব্রাজিলের জায়ার বোলসোনারো এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সাইরিল রামাফোস।

আরও পড়ুন বাইডেন সাক্ষাতে শীঘ্রই মার্কিন মুলুকে যাবেন মোদী

‘ব্রিকস’-এর এই ভার্চুয়াল শীর্ষবৈঠকে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস মোবাবিলায় যৌথ উদ্যোগের প্রস্তাব সর্বসম্মত ভাবে গৃহীত হয়। কাবুলে তালিবান দখলদারির পর ‘ব্রিকস’-এর এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন মোদী। হিংসাত্মক পথ এড়িয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের উপর জোর দিয়েছেন মোদী, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনরা। সেইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই এবং মহিলা ও সংখ্যালঘু-সহ মানবাধিকার রক্ষার উপর বাড়তি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন বিপুল চিনা সাহায্য, তালিবান সরকারের চোখে আনন্দাশ্রু!

ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজক দেশ হিসেবে সভাপতির ভূমিকা পালন করেন মোদী। গোয়ার সন্মেলনের পর এবার দ্বিতীয়বার ব্রিকসের নেতৃত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সন্মেলন শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গত দেড় দশকে ব্রিকস অনেক সাফল্য পেয়েছে। এখন আমরা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সবচেয়ে প্রভাবিত একটি গোষ্ঠীর অংশ। গত দেড় বছরে অতিমারীর সময় আমরা অনেক বৈঠক করেছি। আমাদের এই সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে।’

চিনের প্রধানমন্ত্রী জিনপিং উপস্থিত থাকলেও এই বৈঠকে স্বাভাবিক ভাবেই আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পুতিনই শুরুতে আফগানিস্তানের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি জানা, ব্রিকসের অন্তর্ভুক্ত কোনও দেশই চায় না যে প্রতিবেশীদের জন্য আফগানিস্তান সন্ত্রাসবাদ বিস্তার করুক বা মাদক পাচারের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠুক। মোদী বলেন, ‘‘আফগানিস্তানের পক্ষে তার প্রতিবেশীদের কাছে সন্ত্রাসের উৎস হয়ে ওঠা কাম্য হবে না।’’  উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে মাদক ব্যবসার এবং ভারত-সহ অন্যান্য দেশে তা সরবরাহ করার বিষয়েও।

মোদী টুইটারে লেখেন, ‘ব্রিকস-এর পঞ্চদশ বৈঠকের আয়োজক হিসেবে আমি খুশি। ভারতের সভাপতিত্বে ব্রিকস কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে।’