Afghanistan: গণহত্যা শুরু করল তালিবান সরকার, মৃতদেহের স্তূপে কিশোরী

Afghanistan

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানে (Afghanistan) প্রত্যাশিতভাবেই গণহত্যা শুরু করল তালিবান জঙ্গি সরকার। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের দাবি, আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর দায়কুন্দি প্রদেশে হাজারা সম্প্রদায়ের ১৩ সদস্যকে খুন করেছে তালিবান। নিহতদের মধ্যে মাসুমা নামে ১৭ বছরের এক মেয়ে রয়েছে।

আলজাজিরা জানাচ্ছে, গত ৩০ আগস্ট ৩০০ জন তালিবান জঙ্গি দায়কুন্দি প্রদেশের খিদির জেলায় প্রবেশ করে। সেখানে তারা আফগান ন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এএনএসএফ) ১১ কর্মীকে গুলি করে মেরে দেয়। এরা সবাই প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির আমলে রক্ষী ছিলেন। স্থানীয় একটি নদীর ধারে এই গণহত্যা চালায় তালিবান। মারা হয়েছে দুজন সাধারণ আফগানিকে।

যেসব এএনএসএফ সদস্যকে মারা হয়েছে তাদের বয়স ২৬ থেকে ৪৬ বছরের মধ্যে। নিহত সবাই হাজারা সম্প্রদায়ের। এই সম্প্রদায় তালিবানের ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সরকারের সময় নির্যাতিত হয়েছিলেন।

অ্যামেনেস্টির নথিভুক্ত হাজারা সম্প্রদায়ের সদস্যদের ওপর চালানো দ্বিতীয় হত্যাকাণ্ড। এর আগে ১৯ আগস্ট প্রকাশিত অ্যামেনেস্টির প্রতিবেদনে বলা হয়, গজনি প্রদেশে হাজারা সম্প্রদায়ের অন্তত ৯ জনকে খুন করে তালিবান।

আফগানিস্তানের প্রাক্তন সংসদ সদস্য রাইহানা আজাদের অভিভাবক, ৩০ আগস্টের ঘটনা একটি গণহত্যা। অ্যামেনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড জানান, এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করেছে যে, তালিবান পূর্বের মতো ভয়াবহ কাণ্ড ঘটাচ্ছে।

প্রথম তালিবান সরকারের আমলে বালখ ও বামিয়ান প্রদেশে হাজারা সম্প্রদায়ের শতাধিক মানুষ খুন করে তালিবান। আমেরিকার সেনা সরে যাওয়ার পদক্ষেপ নিতেন গত ১৪ আগস্ট দায়কুন্দি প্রদেশ দখল করে তালিবান। বহু বাসিন্দা পলাতক। ১৫ আগস্ট কাবুল দখন করে তালিবান।

Afghanistan: তালিবান-আইএস জঙ্গিদের গুলির লড়াই, মরেছে দুপক্ষের বেশ কয়েকজন

taliban and Isis militant clash near afghan capital kabul

নিউজ ডেস্ক: দু’পক্ষই বন্দুক নিয়ে মুখোমুখি গুলি চালিয়ে দিল। তালিবান ও ইসলামিক স্টেট(ISIS) এই দুই জঙ্গি সংগঠনের সংঘর্ষে মৃত কয়েকজন। আফগান রাজধানী কাবুলের কাছেই হয়েছে এই রক্তারক্তি কান্ড। কাবুলের (Kabul) এক মসজিদের সামনে বিস্ফোরণের জেরে আফগানিস্তানের শাসক তালিবান জঙ্গিরা দায়ি করে প্রতিপক্ষ ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের। বিস্ফোরণে দুজন মারা যান।

রয়টার্স জানাচ্ছে, রবিবার কাবুলের ঈদগাহ মসজিদের প্রবেশপথের কাছে বিস্ফোরণ ঘটানো হয় তালিবান (Taliban) সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদের মায়ের স্মরণসভায়। মসজিদে বিস্ফোরণের পরেই তালিবান জঙ্গিরা হামলা চালায় ইসলামিক স্টেটের (ISIS) একটি ডেরায়। সেই ডেরা ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি তালিবান সরকারের।

taliban and Isis militant clash near afghan capital kabul

তালিবান জঙ্গি সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছে,রবিবার কাবুলের উত্তরাঞ্চলে আইএসের বিরুদ্ধে সফল অভিযান চালানো হয়। অভিযানে আইএস জঙ্গিদের ঘাঁটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে থাকা সব জঙ্গিকে মেরে দেওয়া হয়েছে।

তাৎপর্যপূর্ণ আফগানিস্তানে (Afghanistan) সক্রিয় ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদের স্থানীয় শাখা আইএসআইএস (খোরসান) গোষ্ঠী জানিয়েছে, হামলার কথা।

তালিবানও ইসলামিক স্টেট এই দুই জঙ্গি সংগঠন পরস্পর বিরোধী। আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বার তালিবান সরকার হওয়ার পর থেকেই দুই জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষের আশঙ্কা ছিল। সেটাই শুরু হয়েছে এবার। এর জেরে আফগানিস্তানে গৃহযুদ্ধ শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তালিবান মুখপাত্রের অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করলো ‘টুইটার’

Taliban, Afghanistan

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রে পরিণত করেছে তালিবানরা (Taliban)। এবার তাতেই বাধ সাধল টুইটার কর্তৃপক্ষ, সাময়িকভাবে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করা হল তালিবান মুখপাত্রের টুইটার অ্যাকাউন্ট। তালিবানের মুখপাত্র জাবিদুল্লাহ মুজাহিদের টুইটার অ্যাকাউন্ট আপাতভাবে নিষিদ্ধ বলে দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন Afghanistan: তালিবান শাসনে ভীষণ বিপদে ৪০০০ মহিলা পুলিশ, বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা


আরও পড়ুন Bangladesh: তালিবানি ফতোয়া; দেওয়া শিক্ষিকা বরখাস্ত, বন্ধ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়

টুইটারের সঙ্গে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সম্পর্কের কথা অনেকেরই জানা। বেশ কয়েকবার টুইটার কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের অ্যাকাউন্ট। তাঁর টুইটে বাধা দেওয়া হয়েছিল অথচ তালিবানকে টুইট করতে দেওয়া হচ্ছে। এই মর্মে অভিযোগ জানিয়ে ফ্লোরিডার একটি আদালতে ইতিমধ্যেই মামলা করেছেন তিনি। 

অন্যদিকে ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পর থেকেই জাবিদুল্লাহর টুইটার অ্যাকাউন্টে ক্লিক করলেই দেখা যাচ্ছে ‘অ্যাকাউন্টটি আপাতভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।’ যদিও সেই সতর্কবার্তার পরও তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্টটি খোলা যাচ্ছে। রবিবারই কাবুলের একটি মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ হয়। জাবিদুল্লাহ টুইট করে জানান, কাবুলের ইদগাহ মসজিদের প্রবেশ পথের কাছেই বিস্ফোরণটি হয়। গত সপ্তাহে তাঁর মা মারা যাওয়ায়, তাঁর স্মৃতিতেই মসজিদে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। এটিই ছিল তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে করা শেষ টুইট।

Taliban

আফগানিস্তানে প্রথম মেয়াদে এসে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিল তালিবানেরা, তাদেরই ডিজিটাল প্রযুক্তি গ্রহণের পদক্ষেপ অবশ্য বহুদিনের। ২০০৫-০৬ সালের দিকে সংগঠনটি ‘আল এমারাহ’ নামের ওয়েবসাইট চালু করে। এখন সেই ওয়েবসাইটে ইংরেজি, আরবি, পাশতু, দারি এবং উর্দু- এই পাঁচটি ভাষায় তাদের খবরাখবর প্রকাশ করা হয়। ২০১৬ সালে পশতু ভাষায় একই নামের অ্যাপ ছাড়ে গুগল প্লে স্টোরে।

https://twitter.com/PathanBhaiii/status/1444637423598702594?s=20

Afghanistan: তালিবান শাসনে ভীষণ বিপদে ৪০০০ মহিলা পুলিশ, বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা

Afghanistan Female police

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানে (Afghanistan) কর্মরত প্রায় ৪ হাজার মহিলা পুলিশ (Female police) কর্মীর জীবন সংশয়। তাঁরা গণধর্ষণের পর খুনও হতে পারেন। কারণ তালিবান জঙ্গি সরকার কোনওভাবেই নারী নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত নয়। যদিও তারা জানিয়েছে, নরম মনোভাব দেখাবে।

বিশ্বাস নেই তালিবাদের। তাই আফগানিস্তানে কর্মরত হাজার হাজার মহিলা পুলিশের জীবন বাঁচাতে ততপর নেদারল্যান্ডসের পুলিশ বিভাগ। তাদের তরফে নিজ দেশের সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে ভীষণ বিপদের মুখে পড়ে যাওয়া আফগানি মহিলা পুলিশকর্মীদের উদ্ধারে ভূমিকা নিতে।

আফগানিস্তানে আশরাফ ঘানির সরকারের সময়ে দেশটির পুলিশ বিভাগের মহিলা কর্মীদের প্রশিক্ষণের কাজে যুক্ত ছিল নেদারল্যান্ডসের পুলিশ বিভাগ। তদন্ত ও পুলিশ বিভাগের কাজ শেখানোর জন্য ডাচ পুলিশ নিয়োজিত ছিল।

Afghanistan  Female police

নেদারল্যান্ডস সংসদের কাছে পাঠানো চিঠিতে দেশটির পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, পরিস্থিতি চরম প্রতিকূল। প্রাথমিকভাবে অন্তত ৭০০ আফগান মহিলা পুলিশকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হোক। একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

রুশ সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক জানাচ্ছে, আফগানিস্তানে দ্বিতীয় দফায় তালিবান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেদেশে মহিলারা বিপদের মুখে। ইতিমধ্যেই এক মহিলা পুলিশকর্মীকে গুলি করে মেরেছে তালিবান জঙ্গিরা।

তালিবান সরকারের নির্দেশে দেশে মহিলারা এখনও কাজে ও শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে অংশ নিতে পারছেন না। তবে তালিবান সরকার জানিয়েছে, দ্রুত মহিলাদের বিষয়ে কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করার পর তালিবান ঘোষণা করেছিল মহিলাদের প্রকাশ্যে বের হওয়া নিষিদ্ধ। তার পরেও একাধিকবার সরকারের নিয়ম নীতির বিরোধী ভূমিকায় আফগান মহিলারা প্রকাশ্যে জমায়েত করেছেন।

Airstrike: মার্কিন এয়ারস্ট্রাইকে খতম আল-কায়েদা শীর্ষ নেতা

Airstrike kills a top al-Qaeda

নিউজ ডেস্ক: তালিবান (Taliban) জঙ্গিদের হাতে আফগানিস্তানের (Afghanistan) ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পর বড়সড় অভিযানে মার্কিন সেনা। রুশ সংবাদমাধ্যম স্পুটনিক জানাচ্ছে, সিরিয়ার ইদলিবে মার্কিন বোমারু বিমান (US air strike) হামলায় শীর্ষ আলকায়েদা (Al Qaeda) জঙ্গি নেতা খতম হয়েছে। নিহত জঙ্গি নেতার নাম সালিম আবু আহমাদ।  

নিহত আলকায়েদা নেতা সালিম সিরিয়া ও ইরাক সংলগ্ন এলাকায় জঙ্গি অভিযান, তহবিল সংগ্রহের দায়িত্বে ছিল। গত ২০ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিমান হামলায় তার মৃত্যু হয়। দশদিন পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই আলকায়েদা জঙ্গি নেতার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করেছে।

ফক্স নিউজ জানাচ্ছে, সিরিয়ার (Syria) ইদলিবে জঙ্গিদের সক্রিয়তা রয়েছে। সিরিয়া-ইরাক সীমান্তে আলকায়েদা ও ইসলামিক স্টেট জঙ্গি সংগঠন এখনও সক্রিয়। তবে ইরাকের বিস্তির্ণ এলাকায় আইএস যে জঙ্গি রাজত্ব কায়েম করেছিল তা আগেই ধ্বংস করা হয়েছে।

সম্প্রতি আফগানিস্তানে সেনা অভিযান বন্ধ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এর পরে গত ১৫ আগস্ট দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করেছে তালিবান জঙ্গিরা। তারা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেছে। আফগানিস্তান থেকে সরে আসার পর সিরিয়ায় বড়সড় জঙ্গি দমন অভিযানে অংশ নিয়েছে মার্কিন সেনা।

Afganistan: বাবা পঞ্জশিরের রেসিসট্যান্স বাহিনীর সদস্য, শিশুকে খুন করল Taliban

old look of taliban militant

নিউজ ডেস্ক: পঞ্জশিরের মূল সদর শহর সহ বিভিন্ন নগর, জেলা থেকে হটে গিয়েছে জুনিয়র মাসুদের আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্স। ৩৪তম প্রদেশ হিসেবে পাঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালিবানরা (Taliban)। ঘোষণা করে দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারেরও। কিন্তু তারপরেও যেন নর্দান অ্যালায়েন্সের চিন্তা যাচ্ছে না তালিবানদের মাথা থেকে।

আরও পড়ুন ফরমান জারি: দাড়ি কাটলেই ভয়ঙ্কর শাস্তি দেবে তালিবান

এবার নর্দান অ্যালায়েন্সের ভয়েই নৃশংসভাবে এক শিশুকে খুন করল তালিবানরা। কারণ তাদের সন্দেহ, ওই শিশুর বাবা পঞ্জশিরে রেসিসট্যান্স ফোর্সের সদস্য। খবরটি টুইটারে প্রকাশ করেছে ‘‌পঞ্জশির অবজার্ভার’‌ নামে একটি সংবাদ মাধ্যম। কয়েকদিন আগেই এই জঙ্গি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে জানিয়েছিল আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্স।

https://twitter.com/PanjshirObserv/status/1441976951145525249?s=20

আফগানিস্তানে পঞ্জশির অন্যতম একটি এলাকা, যেখানে মানুষ এই ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পতাকা তুলেছিল। নর্দান অ্যালায়েন্সের প্রাক্তন কমান্ডার আহমেদ শাহ মাসুদের শক্ত ঘাঁটি পঞ্জশির, রাজধানী কাবুলের খুব কাছেই এই উপত্যকাটি৷ এখানে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষের বসবাস৷ এলাকাটি এতটাই বিপজ্জনক যে, ১৯৮০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তালিবানদের কব্জায় আসেনি এই উপত্যকাটি৷ শুধু তাই নয়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীও এই এলাকায় শুধুমাত্র বিমান হামলা চালিয়েছে৷ তারা কখনও কোনও পদাদিক বাহিনী পাঠানোর সাহস দেখাতে পারেনি৷

জুলাই মাসের শুরুতে যখন তালিবান আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে আক্রমণ শুরু করে, তখন তারা প্রতিরোধ ছাড়াই অনেক জায়গা জিতে নেয়। বলা হচ্ছে, আফগান ন্যাশনাল আর্মির সৈন্যদের মধ্যে খবর ছড়িয়েছিল যে, শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা তালিবানদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। যোগাযোগের অভাব এবং অস্ত্রের অভাবও সৈন্যদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল। এই কারণে আফগান সেনাবাহিনীর জওয়ানরা অনেক এলাকায় একটিও গুলি খরচ না করে তালিবানদের কাছে আত্মসমর্পণ করে।

প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় আসার পরেই তালিবান ঘোষণা করেছিল, নয়ের দশকের মতো কট্টর পথে হাঁটবে না তারা। কিন্তু তারপর থেকেই ক্রমশ উলটো ছবিটা পরিস্কার হয়েছে। মহিলাদের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে, এবার প্রকাশ্যে হত্যা করা হল শিশুকেও। 

 

ফরমান জারি: দাড়ি কাটলেই ভয়ঙ্কর শাস্তি দেবে তালিবান

taliban banned barbers

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের হেলমন্দ প্রদেশের সব সেলুনে এসেছে তালিবানি ফরমান। এতে বলা হয়েছে, দাড়ি কামানো অথবা ছাঁটা চলবে না। যে সেলুনে এমন হবে সেই ব্যক্তি কড়া শাস্তি পাবে। তালিবানের নির্দেশে বলা হয়েছে, দাড়ি কামানো অথবা ছোট করে রাখা ইসলামি আইন লঙ্ঘন করার সামিল। বিবিসি জানাচ্ছে, শুধু হেলমন্দ প্রদেশে এই আইন জারি করার পর আফগানিস্তানের সর্বত্র সেলুনে অলিখিতভাবে নিয়মটি জারি হয়েছে।

তালিবান নির্দেশে বলা হয়েছে চুল ও দাড়ির ক্ষেত্রে ইসলামি আইন অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। ফরমানে বলা হয়েছে,এই ব্যাপারে কোন ধরনের অভিযোগ করার অধিকার কারোর নেই। নিষেধাজ্ঞা না মানলে কঠোর সাজা হবে। হেলমন্দের মতো কাবুলেও বহু সেলুনে এসেছে নির্দেশ। কেউ আর দাড়ি কাটতে চাইছেন না।কাবুলের সেলুন মালিকরা জানিয়েছেন, তালিবান জঙ্গিরা প্রতিনিয়ত শাসিয়ে যাচ্ছে। বলা হচ্ছে যারা আদেশ অমান্য করছে তাদের ধরার জন্য পুলিশ পাঠানো হবে।

বিবিসি জানাচ্ছে, এমন আদেশ তালিবানের অতীত শাসনকে মনে পড়াচ্ছে। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ পর্যন্ত সময়কালে তালিবান জঙ্গিের প্রথম সরকারের আমলে পুরুষদের দাড়ি রাখার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে দ্বিতীয়বার তারা সরকার গঠন করার পর জানায় আগের মতো অত কঠোর নিয়মকানুন রাখবে না।

কিন্তু দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখল করার পর তালিবান জঙ্গিরা প্রথমে মহিলাদের উপর একগুচ্ছ নিয়ম আরোপ করে। এর পর শুরু হয় প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড। এবার এসেছে পুরুষদের দাড়ি রাখার বিষয়ে কঠোর ফরমান।

কোথায় কাবুলের ‘দাওয়াওয়ালা’ বাঁশরি লাল? অপহরণের এক সপ্তাহ পরেও নীরব তালিবান

Bansari Lal, who's in the business of pharmaceutical products

নিউজ ডেস্ক: প্রকাশ্যে গাড়ি থামিয়ে বুকের সামনে বন্দুক রেখে নীরবে চলে আসার ইঙ্গিত দিয়েছিল সরকারি তালিবান জঙ্গিরা। সেই থেকে নিরুদ্দেশ কাবুলের ওষুধ ব্যবসায়ী ‘দাওয়াওয়ালা’ বাঁশরি লাল। তালিবান সরকার নীরব। যদিও অপহৃত বাঁশরির বিষয়ে ভারত সরকার খোঁজ চালিয়েছে বিদেশমন্ত্রকের মাধ্যমে। কিন্তু খবর নেই।

অপহরণের এক সপ্তাহ পরেও কোনও খোঁজ নেই দাওয়াওয়ালা বাঁশরি লালের। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ওষুধের ব্যবসা করেন। কাবুলে তাঁর দোকান আছে। গত ১৫ আগস্ট তালিবান জঙ্গিরা দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানের সরকার দখল করেছে। এর পরেই বেশ কয়েকটি অপহরণ, সাংবাদিকদের মারধর, প্রকাশ্যে খুন সবই হয়েছে। তবে ভারতীয় বংশজাত আফগানিকে অপহরণের ঘটনা ব্যাতিক্রম।

বাঁশরি লাল আফগানি। তিনি ভারতীয় বংশজাত। তাঁর আত্নীয়রা দিল্লি ও উত্তর ভারতের বিভিন্ন স্থানে থাকেন। বাঁশরি লালের ওষুধের দোকান কাবুলে বেশ পরিচিত। মনে করা হচ্ছে প্রচুর অর্থ মুক্তিপণ দাবি করেছে তালিবান। তবে এ বিষয়ে বাঁশরির আত্মীয়রা মুখ বন্ধ রেখেছেন। যে কোনও সময়ে বাঁশরি লালের মৃত্যু সংবাদ আসার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে তালিবান শাসিত আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল চিন্তিত। যদিও তালিবান সরকার জানায়, কোনও অবস্থায় পূর্বতন তালিবান সরকারের (১৯৯৬-২০০১) মতো হবে না বর্তমান সরকার। নরম মনোভাব নেবে।

তবে তালিবানি নিয়মে অঙ্গ কেটে নেওয়ার নিয়ম ফের চালু হবে এমনই জানিয়েছে,তালিবান নেতা, বর্তমান কারামন্ত্রী মোল্লা নূরুদ্দিন তুরাবি। বৃহস্পতিবার হুঁশিয়ারি দিয়ে এই তালিবান নেতা বলে, আফগানিস্তানে মৃত্যুদণ্ড এবং অঙ্গহানির মতো কঠোর শাস্তি আবার শুরু হবে। এসব শাস্তি নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করে এই জঙ্গি নেতা। পূর্বতন তালিবান সরকারের ধর্মীয় পুলিশের প্রধান নুরুদ্দিন নৃশংসতার জন্য কুখ্যাত।

রাষ্ট্রসংঘে তালিবান সরকারের স্বীকৃতি চাইলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান

Imran Khan

নিউজ ডেস্ক: আনন্দে আত্মহারা আফগান শাসক তালিবান জঙ্গি নেতারা। কে নেই এই আনন্দযজ্ঞে। একের পর এক মোস্ট ওয়ান্টেড তালিবানি ও হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতারা উল্লসিত। যেন আনন্দাশ্রু আর থামতে চাইছে না এমন অবস্থা।

কারণ, রাষ্ট্রসংঘ অধিবেশনে গিয়ে খোদ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান চাইলেন আফগানিস্তানের তালিবান শাসকদের প্রতি সমর্থন। বিশ্বে প্রথম কোনও সরকারের তরফে রাষ্ট্রসংঘ অধিবেশন কক্ষে তালিবানের পক্ষে আওয়াজ তোলা হয়েছে। যদিও পাক সরকার এখনও তালিবান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেয়নি।

ইমরান খান বলেন,আফগানিস্তানের জনগণের স্বার্থে তালিবানকে স্বীকৃতি দিক আন্তর্জাতিক মহল। তিনি বলেন, আফগানিস্তানের জনগণের স্বার্থে আন্তর্জাতিক দুনিয়াকে পদক্ষেপ নিতে হবে। আমাদের সামনে এখন একটাই পথ আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারকে স্থিতিশীল এবং শক্তিশালী করা।

আফগানিস্তানের সঙ্কটের কথা তুলে ধরে ইমরান খান বলেন, আমরা যদি আফগানিস্তানকে অবহেলা করি, তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আফগানিস্তানের অর্ধেক মানুষ এখন সঙ্কটে আছেন। পরিস্থিতি এমনই চলতে থাকলে আগামী এক বছরের মধ্যে ওই দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে চলে যাবেন।

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট য আশরাফ ঘানির সরকারকে হটিয়ে দিয়ে দ্বিতীয়বার সরকার গড়েছে তালিবান জঙ্গিরা। মার্কিন সেনা নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতেই জঙ্গি সংগঠনটি কাবুল দখল করে নেয়। তাদের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে নারীর অধিকার খর্ব করার অভিযোগে বিশ্বের অধিকাংশ তালেবানকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। ফলে বন্ধ রয়েছে আন্তর্জাতিক সাহায্যের পথ।

এদিকে রাষ্ট্রসংঘে নিজেদের অবস্থান পাকা করতে মরিয়া তালিবান। তাদের নির্বাচিত দূতকে যদিও স্বীকৃতি দেয়নি রাষ্ট্রসংঘ। তবে জানানো হয় বিষয়টি বিবেচনাধীন। যতদিন না পাকা সিদ্ধান্ত হবে ততদিন অপসারিত প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির নিযুক্ত দূতকেই মান্যতা দেবে রাষ্ট্রসংঘ।

তেল আর পরিকাঠামোর জন্য বন্ধুত্ব চেয়ে বার্তা ইরান-রাশিয়াকে বার্তা তালিবানের

taliban militant government trying to close iran and russia

নিউজ ডেস্ক: সীমান্তের ওপারেই মারাত্মক তেল ভাণ্ডার ইরান। কোনও অবস্থায় তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করা যাবে না। এই যুক্তিতে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার সরাসরি ইরানের কাছে বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাল। একইভাবে বার্তা গিয়েছে রাশিয়ার কাছেও। কারণ, রুশ পরিকাঠামো যেমন দরকার তেমনই ভয় আছে রুশ সেনা নিয়েও। রুশ প্রেসিডেন্টকে নরমে রাখার কৌশল নিয়েছে তালিবান।

কাবুলে সাংবাদিক সম্মেলনে তালিবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানায়, ইরান ও রাশিয়ার সঙ্গে আফগানিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দৃঢ় করা হবে। তালিবান মুখপাত্রের বার্তা, ইরানের সঙ্গে তালিবানের নেতৃত্বাধীন আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী সরকারের মতবিরোধ নেই। তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে চায় কাবুল।

রাশিয়ার প্রতি বার্তায় তালিবান জানায়, বর্তমান আফগান সরকার রাশিয়ার সঙ্গে সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করতে চায়। রুশ সরকার যেন রাষ্ট্রসংঘে তাদের প্রভাব খাটিয়ে তালিবানের উপর আরোপ করা আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধ কাটানোর ভূমিকা নেয় তারও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
টানা দু দশক বাদে আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বার সরকার গড়েছে তালিবান জঙ্গিরা। এই সরকারের সঙ্গে প্রথম থেকেই রাশিয়া, ইরান, চিন, পাকিস্তান, তুরস্কের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আগেই জানান আফগানিস্তানে এখন তালিবান শাসন চলছে। এটাই বাস্তব। সেই বাস্তবকে মানতে হবে।

আসছে মাথা কাটার ফরমান, ইঙ্গিত দিল সরকারি তালিবান

afgan women

নিউজ ডেস্ক: দ্রুত শুরু হবে অপরাধের কঠিন শাস্তি। মাথা ও হাত কেটে নেওয়ার নিয়ম ফের লাগু হচ্ছে আফগানিস্তানে। এমনই জানিয়েছে জঙ্গি সংগঠনটির সরকার।  বিবিসি জানাচ্ছে, তালিবান ধর্ম মন্ত্রকের অন্যতম মোল্লা নুরুদ্দিন তুরাবির হুঙ্কার ফের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া শুরু হবে। তালিবান সরকার তাদের নিয়মে অপরাধীদের শাস্তি দেবে। এর জন্য যা রীতি রয়েছে ধর্মীয় গ্রন্থে তাই প্রয়োগ হবে।

মোল্লা নুরুদ্দিন বর্তমানে তালিবান সরকারের তরফে জেল পরিদর্শনের দায়িত্বে। তার দাবি, তেমন দরকার পড়লে গুরুতর অপরাধের দন্ড হিসেবে অপরাধীর দেহের অঙ্গ কাটা হবে। মোল্লা নুরিদ্দিনের দাবি, অন্য কোনও দেশের আইন ও শাস্তি নিয়ে তালিবান মন্তব্য করেনা।কিন্তু আফগানিস্তানে কী আইন ও শাস্তি প্রয়োগ করা হবে তা আমরাই ঠিক করব। এর জন্য ধর্মীয় গ্রন্থের নির্দেশ অনুসরণ করা হবে।

বিবিসি জানাচ্ছে, তালিবানি রীতিতে শাস্তি দানের ভয়ঙ্কর মুহূর্ত ১৯৯৬ সালে আফগানিস্তানে শুরু করেছিল তালিবান। সেবছরেই তারা প্রথমবার আফগানিস্তানের সরকার গড়ে। ২০০১ সাল পর্যন্ত তাদের সরকার ছিল। এই সময়ে প্রকাশ্যে মাথা কেটে, গুলি করে মারার শাস্তি দেওয়া হতো। বিভিন্ন ক্ষেত্রে হাত পা কেটে নেওয়া হতো। প্রথম তালিবান আমলে মহিলাদের উপর নির্যাতনের মাত্রা ছিল লাগামছাড়া। বহু মহিলার মৃত্যুদণ্ড হয় প্রকাশ্যে।

গত দু দশক ভয়াবহ এই শাস্তি ছিল না আফগানিস্তানে। কিন্তু আমেরিকান সেনা নিয়ন্ত্রণ তুলে নিতেই গত ১৫ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় তালিবান সরকার শুরু হয় আফগানিস্তানে। তবে সাংবাদিক সম্মেলনে তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ দাবি করে, এবারের তালিবান সরকার হবে পূর্বের তুলনায় নরম।

এদিকে সরকার গঠনের পর পুরনো রীতি শুরু করেছে তালিবান জঙ্গিরা। মহিলাদের উপর আরোপ হয়েছে বিশেষ নিয়ম। এরপর তাদের তরফে পুরনো শাস্তির নিয়ম ফের চালুর ইঙ্গিত দেওয়া হলো।

বন্দুকের জোরে BA পাশ উপাচার্য! তালিবানি হুকুম মানতেই হবে

graduate student for kabul university VC

নিউজ ডেস্ক: ফতোয়া পেয়েই পরপর পদত্যাগ কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের। কারণ উপাচার্য পদে নেওয়া হয়েছে এমন একজনকে যার শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক। বিএ পাশ এই যুবকের আসল যোগ্যতা অবস্য তালিবান ঘনিষ্ঠতা। সেই সুবাদে শতাব্দী প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ করা হল তাকে।

নতুন উপাচার্যের নাম মহম্মদ আশরাফ। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের খুন করার মত উস্কানিমূলক মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ৭০ জন কর্মী ও অধ্যাপক পদত্যাগ করেছেন। তবে সবারই জীবন চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কারণ ফতোয়া না মানলে কড়া শাস্তি হবে। সেক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডের সাজা তালিবান দেয়।

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়ে বিএ পাশ মহম্মদ আশরাফ বাকি অধ্যাপকদের বিরাগভাজন হয়। তবে নীরব প্রতিবাদ হিসেবে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে।

কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে মনোনীত এক পিএইচডি করা প্রার্থীকে জোর করে সরিয়ে সেই জায়গায় নিজেদের পছন্দের লোক বসিয়েছে তালিবান।

সম্প্রতি তালিবান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জানিয়েছিল, দেশে অত গবেষণার দরকার নেই। বেশি পড়ারও প্রয়োজন নেই। তবে এর পরে গত ১৫ আগস্ট ক্ষমতা দখলের সময় থেকে বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয় খুলতে নির্দেশ জারি হয়। কিন্তু মেয়েদের শিক্ষাদানের বিষয়ে তেমন কিছু বলা হয়নি। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তালিবান সরকার জানায় মেয়েদের দ্রুত বিদ্যালয়ে ফেরানো হবে।

তালিবান দখলের আগে আফগানিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সহশিক্ষা চালু ছিল। নারী ও পুরুষ শিক্ষার্থীরা পাশাপাশি বসতেন এবং ছাত্রীদের কোন পোশাক সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলতে হতো না।

এর অবসান ঘটানোর কথা ঘোষণা করে তালিবান সরকারের শিক্ষামন্ত্রী আবুল বাকি হাক্কানি বলেন, এই সরকার ছেলে ও মেয়ের সহশিক্ষা বন্ধ করায় কোনও সমস্যা দেখে না।

দুয়ারে তালিবান, কে ছাপাবে খবর! ই-পেপারেই জীবন খুঁজছে আফগান সংবাদপত্র

ewspapers of Afghanistan

নিউজ ডেস্ক: সরকারে তালিবান জঙ্গিরা। দুয়ারেও তারা হাজির। বন্দুক বাগিয়ে তৈরি। ফলে সংবাদপত্র ছাপানোর আর সাহস নেই কোনও ছাপাখানার। গত ১৫ অাগস্টের পর থেকে প্রায় অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। বহু ছাপাখানা বন্ধ। এসবের সরাসরি আঘাত এসেছে আফগানি সংবাদপত্রের উপরে।

কাবুলের কিছু কাগজ চললেও বিভিন্ন প্রদেশ থেকে বের হওয়া সংবাদপত্রগুলি ছাপানো একেবারেই বন্ধ। পরিস্থিতি বুঝে পুরোপুরি ই-সংস্করণে চলে গিয়েছে আফগান সংবাদত্রের বড় অংশ।

ewspapers of Afghanistan

দ্বিতীয় দফার তালিবান সরকার কায়েম হতেই জঙ্গি সংগঠনটির তরফে বলা হয়, বেশি সমালোচনা সহ্য করা যাবে না। তার পরপর কাবুলে সাংবাদিকদের অপহরণ করে মারধরের ভিডিও ফুটেজ থেকে মুখে বারবার আধুনিক মানসিকতার বার্তা দিলেও এটা স্পষ্ট পুরনো মেজাজেই রয়েছে তালিবান। ফলে তালিবান সরকার বিরোধী অবস্থান আর কোনও খবরের কাগজের পক্ষেই নেওয়া সম্ভব নয়।

আফগান ন্যশনাল ইউনিয়ন অফ জার্নালিস্টস জানিয়েছে, তালিবান সরকার আসার পথের পরিস্থিতি ভয়াবহ আর্থিক বিপর্যয়। এর ধাক্কায় ছাপাখানা বন্ধ। অন্তত ১৫০টি সংবাদপত্রের কোনও সংস্করণই আর বের হচ্ছে না। এক্ষেত্রে ই পেপার ভরসা।

একের পর এক সংবাদপত্র বন্ধ হয়েছে। কাজ হারাচ্ছেন সাংবাদিকরা। তবে কিছু বিদেশি সংবাদমাধ্যম কাজ করছে। তাদের খবর ও ছবি গোপনে সরবরাহ করছেন কর্মচ্যুত সাংবাদিকরা।

বিভিন্ন সংবাদপত্রের ইন্টারনেট সংস্করণ, অনলাইন নিউজ পোর্টালের উপর নজরদারি চলছে তালিবান জঙ্গিদের। আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘ওয়াচডগ’ জানাচ্ছে, তালিবানি ফতোয়ায় আফগান সংবাদ সংস্থাগুলি বন্দি। সেই সঙ্গে রয়েছে অর্থনৈতিক বিপর্যয়।

আমাদের কিছু বলতে দিন… রাষ্ট্রসংঘে চিঠি পাঠাল তালিবান জঙ্গি শাসক

Afghanistan, Taliban, UN

নিউজ ডেস্ক: বন্দুক আছে আবার ই মেল-ও আছে! আফগানিস্তানের কর্পোরেট তালিবান জঙ্গি শাসকদের তরফে চিঠি পৌঁছে গেল রাষ্ট্রসংঘ কার্যালয়ে। তালিবানের দাবি, তারাও বক্তব্য রাখতে চায় কারণ এখন আফগানভূমিতে তাদেরই সরকার।

নিউইয়র্কে চলছে রাষ্ট্রসংঘ অধিবেশন। সেই অধিবেশনে আফগানিস্তানের শাসক হিসেবে নিজেদের কথা তুলে ধরতে তালিবান অন্তর্বতীকালীন সরকার আবেদন পত্র পাঠিয়েছে। এতে লেখা হয়েছে, আফগানিস্তানের সরকারের পতনের পর এখন তালিবান সংগঠন দেশটির শাসক। আরও জানানো হয়, কাতারের রাজধানী দোহা শহরে তালিবান আন্তর্জাতিক কার্যালয়ের মুখপাত্র সুহাইল শাহিনকে রাষ্ট্রসংঘে আফগানিস্তানের দূত হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

নিয়মানুসারে রাষ্ট্রসংঘে পাঠানো এই চিঠি পর্যালোচনা করবে বিশেষ কমিটি। বিবিসি জানাচ্ছে ৯ সদস্যের এই কমিটির মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও রাশিয়র মতো নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য। যতক্ষণ পর্যন্ত সেই কমিটি পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন দেবে ততক্ষণ রাষ্ট্রসংঘে আফগান মুখপাত্র হিসেবে থাকবেন অপসারিত প্রেসিডেন্ট

আশরাফ ঘানির সরকারের মনোনীত গুলাম ইসাকজাই। গত ১৫ আগস্ট তালিবান জঙ্গিরা কাবুল দ্বিতীয়বার দখল করে। সেইদিনই প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশত্যাগ করেন।

রাষ্ট্রসংঘের কর্মসূচি অনুসারে আগামী সোমবার সাধারণ সভা শেষ হওয়ার আগে এই বিশেষ কমিটির বৈঠকের সম্ভাবান নেই। কমিটির বৈঠকের সিদ্ধান্ত পরবর্তী সাধারণ অধিবেশনে প্রয়োগ হবে। সেক্ষেত্রে এখনই তালিবানের পক্ষে তাদের মনোনীত জঙ্গি প্রতিনিধিকে রাষ্ট্রসংঘে দেখা যাচ্ছে না।

ভয়ঙ্কর হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গি এখন আফগান ক্রিকেট কর্তা

afghan cricket ceo

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (CEO) হামিদ সিনওয়ারিকে সরিয়ে দিল তালিবান সরকার। কিছু একটা পরিবর্তন আসা করা যাচ্ছিল কিন্তু নতুন কর্তা হিসেবে আফগান ক্রিকেটের মাথায় বসল হাক্কানি নেটওয়ার্ক গোষ্ঠী। এর পিছনেও পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই ছক স্পষ্ট। হাক্কানি জঙ্গি সংগঠনটি বরাবর তারা মদত দেয়।

বিশ্বের অন্যতম জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্ক। এই সংগঠনটি তালিবান জঙ্গিদের সহযোগী। তবে তালিবান নেতৃত্ব সমঝে চলে হাক্কানিদের। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ তালিকায় মোস্ট ওয়ান্টেড সিরাজউদ্দিন হাক্কানি, আনাস হাক্কানি সহ সংগঠনটির বহু নেতার নাম রয়েছে।

আফগান ক্রিকেট প্রশাসনিক কর্তা হিসেবে বসানো হয়েছে হাক্কানি নেটওয়ার্কের এক সদস্যকে যে বিভিন্ন সময় ভয়ংকর হামলায় জড়িত।

এদিকে অপসারিত আফগান ক্রিকেট বোর্ডের সিইও হামিদ সিনওয়ারি ফেসবুক পোস্টে জানান, হাক্কানি নেটওয়ার্কের সদস্যদের নির্দেশে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফেসবুকে হামিদ লেখেন, আনাস হাক্কানি নিজে ক্রিকেট বোর্ডে এসে আমাকে বলেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে আমার চাকরি আর নেই।

মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার তালিবান জঙ্গিদের সরকার গঠন হয় আফগানিস্তানে। এই তালিবান সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সিরাজুদ্দিন হাক্কানি। মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতার ছোট ভাই ও বর্তমান হাক্কানি নেটওয়ার্কের প্রধান আনাস হাক্কানি এখন আফগান ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক।

অপসারিত সিইও হামিদ জানান, তাকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি চাইলেও তা দেওয়া হয়নি। জানা যাচ্ছে, হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িত জঙ্গি নেতা নাসিবুল্লাহ হাক্কানিকে দেওয়া হয়েছে প্রধান নির্বাহীর পদ।

বাইশ গজের ফাঁসে তালিবান, মুচকি হাসি নারী অধিকার কর্মীদের

Taliban cricket

নিউজ ডেস্ক: তালিবান সরকারের গলায় চেপে বসছে বাইশ গজের আন্তর্জাতিক নিয়মের ফাঁস। হয় নিয়ম মেনে মেয়েদের মাঠে নামাও না হলে পুরো পুরুষ দলটাই নিষিদ্ধ হয়ে যেতে পারে।

সামনেই একগুচ্ছ টুর্নামেন্ট, বিশ্বকাপ। তালিবান শাসিত আফগানিস্তান ক্রিকেট দল তাতে অংশ নিতে মরিয়া। তালিবান জঙ্গি গোষ্ঠীর দ্বিতীয় দফার সরকার চাইছে তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল দেখাতে।

তবে আফগানিস্তানে ছেলেদের জন্য বিভিন্ন খেলার ছাড় দেওয়া হলেও মহিলাদের জন্য নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তালিবান সরকার। এই তালিকায় রয়েছে ক্রিকেট। খেলার অনুমতি নেই আফগান জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের।
গত সপ্তাহে তালিবানের সাংস্কৃতিক কমিশনের উপ প্রধান আহমদুল্লাহ ওয়াসিক বলেছেন, মেয়েদের জন্য খেলা জরুরি নয়। ক্রিকেট খেলতে হলে, তাদের মুখ ও সারা শরীর ঢেকে রাখা সম্ভব নয়।

মেয়েদের ক্রিকেট খেলা নিয়ে তালিবানের উপর চাপ বাড়ছে। কারণ, আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) নিয়মে প্রতিটি দেশ যারা পুরুষদের ক্রিকেট খেলে, তাদের মহিলা দল বাধ্যতামূলকভাবে রাখতে হবে।  তাদের টেস্ট ম্যাচ খেলতে হবে।

এদিকে আফগান পুরুষ দলকে অনুমতি দিলেও দেশের মহিলাদের খেলার বিষয়ে রাজি নয় তালিবান সরকার। তবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে হয়ত সরকার কিছুটা নিয়ম বদলাবে এমনই আশা করেন

আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট আজিজুল্লাহ ফজলি। তিনি বলেছেন, মেয়েদের ক্রিকেট খেলার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

তালিবান সরকারের ফরমান সাঁতার ফুটবল, অশ্বারোহন, ক্রিকেট সহ মোট ৪০০ রকমের খেলায় অংশ নিতে পারবেন আফগান পুরুষরা। দেশটির ডিরেক্টর জেনারেল অফ স্পোর্টস বসির আহমেদ রুস্তমজাই সংবাদসংস্থা

এএফপিকে জানান মেয়েদের খেলার ব্যাপারে শেষ সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নিয়মের প্যাঁচে পড়ে তালিবান সরকার হতচকিত। তাদের আইনে মেয়েদের খেলা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিয়ম চললে পুরো ক্রিকেট থেকেই মুখ ঘুরিয়ে নিতে হবে। কারণ, আইসিসি নিয়ম মেনে মেয়েদের টিম না থাকলে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিষিদ্ধ হতে পারে আফগান দল।

কাবুল এয়ারপোর্টের সুইসাইড-বোম্বার গ্রেফতার হয় দিল্লিতে: চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

kabul airport blast

নিউজ ডেস্ক: গোয়েন্দা রিপোর্টে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও এড়ানো যায়নি কাবুলের আত্মঘাতী বিস্ফোরণ। ২৬ অগাস্ট ওই বিস্ফোরণের দায় যে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট। মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়ার পাঁচদিন আগে জোড়া আত্মঘাতী বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছিল কাবুল বিমানবন্দরের বাইরের এলাকা। 

 

আরও পড়ুন Explained: আবদুল গণি বরাদার এবং তালিবান সরকারের অংশীদার হাক্কানি নেটওয়ার্কের বিরোধ

এবার প্রকাশ্যে এল আরেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। আইএসআইএস-কে প্রোপাগান্ডা ম্যাগাজিনের (ISIS-K propaganda magazine) মতে, ২৬ আগস্ট কাবুল বিমানবন্দরে আমেরিকান সেনা সদস্য এবং আফগানদের উপর ওই আত্মঘাতী হামলা চালানো সন্ত্রাসবাদীকে পাঁচ বছর আগেও ভারতে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তাও খোদ রাজধানী দিল্লি থেকে।

সন্ত্রাসবাদী সংগঠনটি দাবি করেছে যে আবদুর রহমান আল-লোগরি নামের ওই জঙ্গি ২০১৬ সালে দিল্লি থেকে গ্রেফতার হয়েছিলেন। সেসময় আল-লোগরি দিল্লিতে একটি আত্মঘাতী হামলা চালানোর জন্যই এসেছিল বলে জানা গিয়েছে।

 

আরও পড়ুন আবদুল গণি বরাদার: তালিবান নেতা থেকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি

অন্যদিকে কাবুল বিমানবন্দরের আইএসআইএস-খোরাসান (ISIS-K) জঙ্গিগোষ্ঠীর আত্মঘাতী হামলার পরেই প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল আমেরিকা। ‘সন্ত্রাসবাদীদের খুঁজে বের করে মারব’, জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তারপরেই আফগানিস্তানে অবস্থিত আইএসআইএস-খোরাসান জঙ্গিগোষ্ঠীর ঘাঁটিতে হামলা চালায় আমেরিকা। 

হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওই আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৬৯ জন নিহত হন।  মৃতদের বেশিরভাগই সাধারণ আফগানি। যারা তালিবান শাসিত দেশ ছেড়ে পালাতে চাইছিলেন বিদেশে।

আরও পড়ুন পেনসিলভেনিয়ার বিলবোর্ডে তালিবানযোদ্ধা বাইডেন, আফগান-সমস্যার সমালোচনার মুখে প্রেসিডেন্ট

পাকিস্তানের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল, তালিবানের পাশে পাকিস্তান যেভাবে দাঁড়িয়েছে তাতে আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্ব খুব খুশি। তার প্রতিদানেই কাশ্মীর দখলে পাকিস্তানকে সাহায্য করবে তারা। কয়েকদিন আগেও ইসলামাবাদের প্রভাবশালী সংগঠন জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ-উল-হক হাক্কানি তালিবানের কাবুল জয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। তালিবান ও লস্করের জঙ্গিদের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতেও দেখা গিয়েছিল সেদেশের বিভিন্ন সংগঠনগুলিকে।

আরও পড়ুন Afghanistan: ফতোয়ার কারণে ছাত্রী নেই, খুলেছে তালিবান শাসিত আফগান বিদ্যালয়

জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ সাংবাদিক সন্মেলনে জানিয়েছিলেনন, ‘বিশ্বের উচিত আফগানিস্তানে এক্ষুনি তালিবান সরকারকে মান্যতা দেওয়া।’ শুধু তাই নয়, আমেরিকা এবং ভারতের মদতেই এতদিন আফগানিস্তানে অশান্তি লেগে ছিল। এবার ইমরান খানের দলের নেত্রীর মুখেও একই সুর শোনায় আবার নতুন করে ভারতে জঙ্গিহামলার আশঙ্কা বেড়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এবার এই ঘটনা সামনে আসায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত অফিসারদের কপালে। যদিও বেশ কয়েকদিন আগেই ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত জানিয়েছিলেন, “আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম কিভাবে আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদীরা ভারতে ঢুকতে পারে। এর জন্য আমাদের কন্টিনজেন্সি প্ল্যানিং চলছিল। এখন আমরা এর জন্য প্রস্তুত।”

Afghanistan: ফতোয়ার কারণে ছাত্রী নেই, খুলেছে তালিবান শাসিত আফগান বিদ্যালয়

Afghanistan Primary education

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুল খুললেও দেখা নেই ছাত্রীদের। তালিবান জঙ্গি সরকারের শিক্ষা মন্ত্রকের ফতোয়া মেনে দীর্ঘ এক মাস পর ৩৪টি প্রদেশের কয়েকটি মাধ্যমিক স্কুল, মাদ্রাসা ও সেমিনারি স্কুল খুলেছে।

তবে ছাত্ররা ক্লাসে ফিরতে পারলেও মাধ্যমিকস্তরের ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্কুলে যেতে দেখা যায়নি।
তালিবান দ্বিতীয় দফার সরকারের এই ছবি পূর্ববর্তী ১৯৯৬-২০০১ সালের প্রথম জঙ্গি শাসনের সময়ের হুবহু। যদিও গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করার পর তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানায়, এবারের তালিবান আগের মতো হবে না।

পূর্বতন তালিবান জঙ্গি সরকারের আমলে নারীশিক্ষা নিষিদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার তালিবান ক্ষমতায় এসেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, মেয়েদের পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ দিলেও ক্লাসে ছেলে মেয়েদের আলাদা বসার আদেশ দিয়েছে অন্তর্বর্তী তালিবান সরকার।

তবে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকস্তরের শিক্ষায় ছাত্রী ও শিক্ষিকারা ফতোয়ার মুখে পড়ায় মনে হচ্ছে আফগানিস্তানে একসময় পুরোপুরিভাবে নারীশিক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে।

তালিবান এখনও তার সরকারের শপথ নেয়নি। সূত্রের খবর, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অভ্যন্তরে বিবাদ প্রবল। এর ধাক্কা লাগছে সংগঠনটিতে।

আফগান স্বাধীনতা যুদ্ধের সাক্ষী গিরিশ্ক দুর্গ ভাঙল তালিবান

grishk fort

নিউজ ডেস্ক: কিছুই পাল্টায়নি। সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। ২০০১ সালে তালিবান যেভাবে ধংস করেছিল বামিয়ানের বৌদ্ধ মূর্তি এবার তাদের দ্বিতীয় দফার সরকারে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আফগান স্বাধীনতার প্রতীক গিরিশ্ক দুর্গ। টুইটারে ছড়িয়ে পড়ে গিরিশ্ক ধ্বংসের চিত্র। তাতে দেখা যায় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে ফেলা হচ্ছে একটি ঐতিহাসিক কেল্লা।

গিরিশ্ক একটি সমৃদ্ধ কৃষি এলাকা। শহরটির তীরে একটি দুর্গ ঐতিহাসিক অ্যাংলো আফগান যুদ্ধের প্রতীক। প্রথম অ্যাংলো-আফগান যুদ্ধের সময়কার (১৮৩৯-৪২) একটি দুর্গা। এটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। আফগানিস্তানের সঙ্গে ব্রিটেন সরকারের তিনটি যুদ্ধ হয়। তৃতীয় যুদ্ধের পর ব্রিটেন মেনে নেয় আফগানিস্তানের স্বাধীনতা। সেই সময়ের লড়াইয়ের কেন্দ্র গিরিশ্ক দুর্গ।

grishk fort

২০০১ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর হামলার সময় তালিবানরাএকের পর এক স্থাপত্য ধ্বংস করেছিল। সেই সময় নষ্ট করা হয় আফগানিস্তানের গৌরবোজ্জ্বল বুদ্ধমূর্তি দুটি।

একের পর এক আফগান ঐতিহাসিক স্থাপত্য ফের ধংস করতে নেমেছে তালিবান। প্রবল উদ্বেগ বিশ্বে।মনে করা হচ্ছে বামিয়ান বুদ্ধ যেমন অতীত আরও অনেক স্থাপত্যের একই গতি হবে।

স্বাভাবিক হচ্ছে পঞ্জশির, খুলছে সড়ক-টেলিকম পরিষেবা

The Panjshir Valley, the only area not taken by the Taliban or any invading force

নিউজ ডেস্ক: পরস্পর বিরোধী বার্তা আসছে ক্ষণে ক্ষণে। তালিবান (Taliban) দাবি করছে পঞ্জশির (Panjshir valley) তাদের দখলে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আফগান (Afghanistan) সংবাদ মাধ্যমেরও একই খবর। পঞ্জশিরের মূল সদর শহর সহ বিভিন্ন নগর, জেলা থেকে হটে গিয়েছে জুনিয়র মাসুদের আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্স। ৩৪তম প্রদেশ হিসেবে পাঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালিবানরা। ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। 

আরও পড়ুন গেরিলা কায়দায় পঞ্জশিরকে তালিবান মুক্ত করতে মাসুদ বাহিনীর লড়াই

আবার সংবাদ মাধ্যমেই আসছে মাসুদ বাহিনীর ভিডিও বার্তা-লড়াই এখনও শেষ হয়নি। তালিকা জঙ্গি বিরোধী আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের দাবি, পার্বত্যাঞ্চলে তাদের শক্তি অটুট। এর মাঝেই ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে পঞ্জশির। টোলো নিউজ সূত্র জানা গিয়েছে, বিদ্যুত ব্যবস্থা চালু না হলেও পঞ্জশিরে খুলেছে রাস্তা। চালু হয়েছে বন্ধ হয়ে যাওয়া টেলিকম পরিষেবাও।

আরও পড়ুন তালিবানদের পঞ্জশির দখলের নেপথ্যে কি পাক বাহিনী?


আরও পড়ুন ২৫০০ বছরের অজেয় পঞ্জশিরের পতন, উড়ল তালিবান পতাকা

যদিও জঙ্গি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে জানায় আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্স। পঞ্জশিরের পরিস্থিতি এখনও তীব্র সংঘাতময়। এখানেই একমাত্র তালিবান বিরোধী শক্তি সংগঠিত। তবে ক্রমাগত হামলায় তারা পিছু হটে যায়। পঞ্জশিরের সিংহ প্রয়াত আহমেদ শাহ মাসুদের বাড়ি দখল করে তালিবান। তাঁর পুত্র আহমেদ মাসুদ সরে গিয়েছেন পার্বত্য এলাকায়। শুধু তিনিই নন, তালিবানদের সঙ্গে সংঘাতের জেরে প্রায় ৯০% মানুষ পঞ্জশির ছেড়েছেন।

আহমদ মাসুদ, সোভিয়েত বিরোধী প্রতিরোধ আহমদ শাহ মাসুদ এর পুত্র

পঞ্জশিরের রাস্তার বিভিন্ন দিকে তাকালে এখন দেখা মেলে সশস্ত্র তালিবান যেদ্ধাদের৷ পঞ্জশির ঘিরে যখন রেজিস্টেন্স ফোর্সের পাহারা চলত, সে সময় সেখানকার মানুষ নিরাপদ মনে করতেন নিজেদেরকে৷ কিন্তু তালিবানদের পঞ্জশির দখলের পর সেখান থেকে সাধারণ মানুষ পালাতে শুরু করেন৷ যদিও এই জঙ্গি সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে জানায় আফগান রেজিস্ট্যান্স ফোর্স। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর, মানুষের বাহিনী কাবুলের তালিবান সরকারকে কোনওভাবেই মেনে নেবে না বলেই জানিয়েছে।