স্টুডেন্টস আইডি কার্ড দেখিয়ে ভ্যাকসিনের জন্য নাম লেখাতে ১৫-১৮ বছর বয়সিরা

15-16 year olds to register for the vaccine by showing the student ID card

প্রতিবেদন, ২৫ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (narendra modi) জানিয়েছেন, আগামী ৩ জানুয়ারি থেকে ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য টিকা দেওয়া শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর বেশিরভাগ অভিভাবক চিন্তিত ছিলেন কিভাবে তাঁরা ছেলেমেয়েদের জন্য টিকা নেওয়ার আবেদন করবেন! সোমবার সেই কৌতূহলের নিরসন করেছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক (health ministry)।
সোমবার (monday) মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সিরা ১ জানুয়ারি থেকে নিজেদের নাম নথিভুক্ত (name registration) করতে পারবে। কো-উইন অ্যাপের মাধ্যমে ছাত্র-ছাত্রীদের নাম রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

কো-উইন অ্যাপের প্রধান আর এস শর্মা বলেছেন, এখনও পর্যন্ত ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের অনেকেরই আধার কার্ড নেই। সেক্ষেত্রে নাম নথিভুক্ত করতে গেলে হয়তো তারা সমস্যায় পড়তে পারে। কিন্তু এতে চিন্তার কিছু নেই। যে সমস্ত ছাত্র-ছাত্রীদের আধার কার্ড নেই তারা স্কুল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া আইডি কার্ডের সাহায্যে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবে। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের অনেকেরই যে আধার কার্ড নেই এটা জানার পরেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে জন্য কো-উইন অ্যাপে বেশ কিছু পরিবর্তনও করা হয়েছে।

আর এস শর্মা আরও বলেছেন অনেক অভিভাবকই তাঁদের ছেলেমেয়েদের আধার কার্ড না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিষয়টি জানার পর সরকার এই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। তাই যেসমস্ত ছাত্রছাত্রীর আধার কার্ড তৈরি হয়নি তাদের মা-বাবার দুশ্চিন্তার কোনও কারণ নেই। কারণ তাঁরা স্টুডেন্টস আইডি কার্ড দেখিয়েই কো-উইন অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। যদি কোন ছাত্র-ছাত্রীর স্কুলের আইডি কার্ড না থাকে তাহলে স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিখিত একটি প্রশংসাপত্র নিয়ে তার মাধ্যমেও নাম নথিভুক্ত করতে পারবে। ৩ জানুয়ারি থেকেই ছোটদের জন্য ভ্যাকসিন দেওয়ার কাজ গোটা দেশেই শুরু হয়ে যাবে বলে শর্মা জানান।

Rahul Dravid: টিনেজারের দ্রাবিড়ীয় ‘ক্রাশ’ আজও অমলিন

টিংকু মণ্ডল: একবিংশ শতাব্দীর দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আজকের জেনারেশনের কাছে সবচেয়ে থেকে আকর্ষণীয় বিষয় হল মোবাইল, ইন্টারনেট ও সোশাল মিডিয়ায় নিজের স্ট্যাটাস আপডেট করা৷ এমনকি এই চটকদারিতে পিছিয়ে নেই এখনকার টিনেজাররাও৷ তাদের কাছে সব থেকে প্রিয় বিষয় হল ইন্টারনেট গেম ও একবিংশ শতাব্দী ‘ক্রাশ’ শব্দটিকে তারা তাদের গেমিং সুপার হিরোদের ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকে৷

নব্বইয়ের দশকে ভারতীয়দের কাছে অন্যতম প্রিয় ‘গেম’ হল ক্রিকেট এবং গেমিং ক্রাশ বলতে সেই সময়কার জনপ্রিয় খেলোয়াড়দের নাম৷ যাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রাহুল শরদ দ্রাবিড়৷ তাঁর ব্যক্তিত্ব, লুকস, স্টাইল, ব্যাটিংয়ের ধরন ও স্মার্টনেস সবকিছু নিয়ে তিনি ছিলেন অনবদ্য৷ তাঁর সবথেকে আকর্ষণীয় যে বিষয়টি সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করত তা হল, তাঁর নম্রতা ও ভদ্রতা৷ আর সব থেকে বেশি যে জিনিটির প্রতি সব মেয়েরা পাগল ছিল, তা হল স্মাইল৷

রাহুল দ্রাবিড় সে সময় শুধুমাত্র অষ্টাদশী মহিলাদেরই নয়, মন জয় করে ছিলেন টিনেজারদেরও৷ সেই সময় নেটদুনিয়া ও সোশাল মিডিয়ায় এখনকার মতো আড়ম্বর ছিল না৷ তাই, সেই জেনারেশনের কাছে একটা দু’ টাকা দামের পোস্টকার্ডই ছিল অনেক বেশি দামি৷ শুধু পোস্ট কার্ডই নয়, যে কোনও ক্রিকেটবুক থেকে পাওয়া ছবি এমনকি পেপার কাটিংয়ের চল ছিল প্রচুর৷ পেপসির বোতোলের গায়ে লাগানো ব়্যাপার থেকে শুরু করে পোস্টকার্ড, স্ট্যাম্প সাইজ ফোটো সবকিছুকেই ডায়েরিতে স্মৃতি হিসেবে সংগ্রহ করে রাখা ছিল টিনেজারদের কাছে অনেকবেশি গুরুত্বপূর্ণ৷

তখন ভারতীয় ক্রিকেট দলে রাহুল দ্রাবিড় ও সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের জুটি ছিল অনবদ্য৷ ১৯৯৯ সালের ২৬ মে, টনটনে বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলে ক্রিকেটবিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন টিম ইন্ডিয়ার এই দুই তরুণ তুর্কি৷ ওয়ান ডে ক্রিকেটে প্রথমবার তিনশোর পার্টনারশিপের রেকর্ড গড়েছিলেন রাহুল ও সৌরভ৷ ম্যাচে দ্রাবিড় মাত্র ১২০ বলে একটি ছক্কা ও ১৭টি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ১৪৫ রানের ইনিংস খেলেছিলেন৷ যা ছিল ‘দ্য ওয়াল’-এর স্বভাববিরুদ্ধ৷ সৌরভ-রাহুলের এই পার্টনারশিপ ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে স্বর্ণময় মুহূর্ত হিসেবে লেখা হয়েছে৷ সৌরভ বাঙালি হিসেবে আমাদের মনে এক আলদা জায়গা করে নিয়েছিলেন৷ কিন্তু প্রচুর বাঙালি টিনেজার থেকে শুরু করে বয়স্ক ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ‘ঘরের ছেলে’ হয়ে উঠেছিলেন দ্রাবিড়৷

নিজের ড্যাশিং পার্সোনালিটি দিয়ে টিনেজারদের স্বপ্নের নায়ক হয়ে উঠেছিলেন রাহুল৷ সেই সময় এখনকার মতো সারা বছর ধরে ক্রিকেটেদর দাপাদাপি ছিল না৷ ছিল না টি-২০ বা আইপিএল-এর মতো জনপ্রিয় ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণ৷ ফলে সে সময় ভারতীয় দলের খেলা মানেই সবার মনে আলাদা উদ্বেগ থাকত৷ বাংলা মিডিয়াম স্কুলের পরীক্ষার সময় টিভি-তে ভারত-পাক ম্যাচ থাকলেও তা যেন কিছুতেই মিস করা যেত না৷ তখন অংক পরীক্ষার যোগ-বিয়োগ, গুণ-ভাগকে দূরে সরিয়ে রেখে বাইশ গজে কোনও খেলোয়াড় কত রান করল বা কোন দল কত উইকেট হারাল তা জেনে ওঠাই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ৷ আর এই হিসেব থেকে বাদ পড়তেন না দ্রাবিড় নিজেও৷

টিভি-র ওপারে রাহুলের রানের যোগ-বিয়োগ হিসেব করতে বসতেন টিভি-র এপারে থাকা ক্রিকেটপ্রেমীরা৷ তখনকার টিনেজারের কাছে রাহুলের জনপ্রিয়তা আজও বিদ্যমান৷ সেদিনের টিনেজার আজ মাঝ বয়সি মহিলা হয়ে উঠলেও পঞ্চাশ ছুঁই ছুঁই দ্রাবিড়ের প্রেমে মশগুল৷ সদ্য ভারতীয় দলের কোচ হয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে যাওয়া দ্রাবিড় দু’দশক আগের সেই প্রেমকেই যেন আবার প্রাণবন্ত করে তুললেন৷ ক্রিকেটের ‘দ্য জেন্টেলম্যান’ আজও তাঁর ফ্যানদের মনের মণিকোঠায় জায়গা ধরে রেখেছেন৷

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে আত্মঘাতী হল এক কিশোর

Stop committed suicide

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে (Narendra Modi) চিঠি লিখে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করল বছর ১৬-র এক কিশোর। সোমবার রাতে মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরের মৃতদেহের পাশেই পড়েছিল একটি সুইসাইড নোট। সেখান থেকেই তার মৃত্যুর কারণ জানা গিয়েছে।

ওই কিশোর সুইসাইড নোটটি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছিল। ওই কিশোর জানিয়েছে, তার ভাল নৃত্যশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু পরিবার তার এই স্বপ্নপূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বাবা-মা-সহ পরিবারের অন্যদের অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেও সে সফল হতে পারেনি। তাই সে আত্মহত্যা করতে চলেছে।
ওই কিশোর সুইসাইড-নোট বা চিঠিতে আরও জানিয়েছে, তার মৃত্যুর পর যেন একটি মিউজিক ভিডিয়ো তৈরি করা হয়। যাতে গান গাইবেন অরিজিত সিং এবং কোরিওগ্রাফি করবেন নেপালের শিল্পী সুশান্ত খতরি। প্রধানমন্ত্রী যদি এই শেষ ইচ্ছা পূরণ করেন তাহলেই তার আত্মা শান্তি পাবে। একাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রর দেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ।

গোয়ালিয়র পুলিশ অবশ্য আত্মঘাতী কিশোরের পরিচয় জানায়নি। তবে ওই কিশোরের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে পুলিশ। সূত্রের খবর, ছেলের আত্মহত্যার খবরে ভেঙে পড়েছে তার মা ও বাবা। কেউই কথা বলার মত অবস্থায় নেই। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন ওই কিশোর নাচতে খুব ভালোবাসত কিন্তু তার মা-বাবা বাড়ির কেউই সেটা পছন্দ করত না। সে কারণেই সে যাতে নাচ বন্ধ করে দেয় তার জন্য বারবার তাকে বোঝানো হত। কিন্তু কোন কিছুই ছেলেটিকে তার এই নৃত্য সাধনা থেকে সরাতে পারেনি। মৃত কিশোরের এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় জানিয়েছেন, নাচ শিখতে না পারার জন্য শেষ পর্যন্ত যে ওই কিশোর আত্মঘাতী হবে এটা তাঁরা স্বপ্নেও ভাবেননি।

মনোবিদরা জানিয়েছেন, বেশিরভাগ পরিবারই মা-বাবা তাদের সন্তানদের জোর করে কিছু বিষয় চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই প্রবণতা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। বরং একজন ছেলেমেয়ে যেটা শিখতে চায় সেটা করতে দেওয়া হলে সে অনেক বেশি সাবলীলভাবে এগিয়ে যেতে পারে। জোর করে কোন কিছু চাপিয়ে দিলে সংশ্লিষ্ট ছাত্র-ছাত্রীর উপর মানসিক চাপ তৈরি হয়। অনেক সময় এ ধরনের চাপ সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করে থাকে তারা। এক্ষেত্রেও ঠিক তেমনটাই হয়েছে। আত্মঘাতী কিশোরের পরিবার যদি বিষয়টি একটু বুঝত তাহলে আজ আর ছেলেকে এভাবে অকালেই হারাতে হত না।