অনলাইন ডেস্ক: খাদ্য সাম্রাজ্যের অন্যতম স্বাস্থ্যকর সবজি করলা। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থে পরিপূর্ণ। একে সবজি বা রস হিসেবে খাওয়া যায়। করলা নিয়মিত খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে। করলাতে ক্যালোরি কম থাকে। ১০০ গ্রাম করলা প্রায় ১৯ ক্যালোরি শক্তি দেয়। করলাতে ৮৭ গ্রামের উচ্চ জলের পরিমাণও রয়েছে। করলা ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ।
করলার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলি জেনে নিন৷
১। ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো: করলার একটি যৌগ আছে৷ যা ইনসুলিনের অনুরূপ কাজ করে। আসলে, ‘করলা এবং ডায়াবেটিস’ প্রায়ই একসঙ্গে তৈরি হয়! এটি টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিস উভয় ক্ষেত্রে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা হ্রাস করে।
২। ত্বক ও চুলের জন্য ভালো: করলা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন এ এবং সি সমৃদ্ধ৷ যা ত্বকের জন্য ভালো। এটি বার্ধক্য হ্রাস করে, ব্রণ এবং ত্বকের দাগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটি ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ যেমন দাদ, সোরিয়াসিস এবং চুলকানির চিকিৎসায় উপকারী।
৩। লিভার ক্লিনজার: করলা লিভার বান্ধব এবং ডিটক্সিফাই করে। এটি লিভারের এনজাইমগুলিকে বৃদ্ধি করে এবং হ্যাংওভারের জন্য এটি একটি ভাল নিরাময়৷ কারণ এটি লিভারে অ্যালকোহল জমা কমায়। মূত্রাশয় এবং অন্ত্রও করলা সেবনে উপকার করে।
৪। হজমের জন্য ভালো: করলাফাইবারে পরিপূর্ণ এবং মলত্যাগ উন্নত করতে সাহায্য করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং পেট পরিস্কার রাখে৷
৫। কার্ডিয়াক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে: করলা এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল) কমায় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমায়। ফাইবার ধমনীগুলি আনলক করতেও সাহায্য করে।
৬। ক্যান্সারের বিরুধে লড়াই করে: করলা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, অ্যালার্জি এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। কিন্তু এর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুবিধা হল, এটি ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে। এটি ক্যান্সার কোষের বিস্তারের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং টিউমার গঠন বন্ধ করে।
৭। ক্ষত সারায়: করলার দারুণ নিরাময়ের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি রক্ত প্রবাহ এবং রক্ত জমাট নিয়ন্ত্রণ করে৷ যা ক্ষত দ্রুত নিরাময় এবং সংক্রমণ হ্রাসে সহায়তা করে।
৮। রক্ত পরিশোধক: করলাতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে এবং এটি এটি দূষিত রক্ত সম্পর্কিত অনেক সমস্যা নিরাময়ে সহায়তা করে। করলা নিয়মিত খেলে ত্বক, চুল এবং ক্যান্সারের সমস্যা ভালো হয়। এছাড়াও, এটি রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে সাহায্য করে।
৯। চোখের উপকার করে: করলা ভিটামিন এ সমৃদ্ধ এবং ছানি প্রতিরোধ করে এবং দৃষ্টিশক্তি শক্তিশালী করে। এমনকি ডার্ক সার্কেলও হালকা করে।
১০। শরীরকে শক্তি দেয়: নিয়মিত করলা খাওয়ার পর শরীরের স্ট্যামিনা এবং এনার্জি লেভেল উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখায়। এটি ঘুমের মান উন্নত করতে সাহায্য করে এবং ঘুমের সমস্যা যেমন অনিদ্রা কমায়।