কৃষক বিক্ষোভ: প্রবল উত্তপ্ত হরিয়ানা, ইন্টারনেট বন্ধ, মমতাকে বনধ সমর্থনের আহ্বান

Farmers Protest

নিউজ ডেস্ক: কৃষক বিক্ষোভের জেরে হরিয়ানার বহু এলাকা সীমানা ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন। মঙ্গলবার বিক্ষোভকারী কৃষকদের মহাপঞ্চায়েত ঘিরে উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলাতেও প্রবল উত্তেজনা। দুটি রাজ্যেই বিজেপি ক্ষমতাসীন। তবে কৃষক বিক্ষোভের কেন্দ্র কার্নাল হরিয়ানার মধ্যে। সেখানেই জমায়েত।
পরি

স্থিতি সামাল দিতে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টার পাঁচটি জেলায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এর জেরে আরও উত্তাপ ছড়িয়েছে। কেন্দ্রের মোদী সরকারের কৃষি নীতির বিরোধিতায় আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ভারত বনধ পালন করবে কৃষক সংগঠনগুলি।

আন্দোলন বন্ধ হবে না। সরকারকে বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল করেই ছাড়ব। এমনই জানিয়েছেন সর্বভারতীয় কৃষক নেতা উলুবেড়িয়ার প্রাক্তন বাম সাংসদ হান্নান মোল্লা। পশ্চিম ভারতের কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েতের হুঙ্কার বিজেপি সরকার পড়ে যাবে হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশে।

Farmers Protest

আন্দোলনরত কৃষকদের যৌথ মঞ্চ কৃষক সংঘর্ষ সমিতির তরফে বার্তা পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। সর্বভারতীয় কৃষক নেতৃত্বের দাবি, মমতা যখন বিজেপি বিরোধী নেত্রী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন, তাহলে কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ধর্মঘটে অংশ নিন।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ২০১১ সালে সরকার গড়ার পরেই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ঘোষণা করেন, তাঁর সরকার বনধ সমর্থন করবে না। গত দুটি মেয়াদে টানা সরকার চালিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস একবারও বনধ ডাকেনি। বিরোধীদের ডাকা বনধ রুখতে রাস্তায় থেকেছে টিএমসি সমর্থকরা।

কৃষক সংগঠনগুলির ডাকা ভারত বনধ ঘিরে উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ডে ব্যাহত হবে জনজীবন এমনই মনে করা হচ্ছে। বিহার, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাডু, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটকেও বনধের প্রভাব পড়তে চলেছে। মহারাষ্ট্রে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলেই ধারণা।

বনধের সমর্থন করছে সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস, সিপিআইএম, সিপিআই, শিবসেনা, ডিএমকে, শিরোমনি আকালি দল। দিল্লির সরকারে থাকা আম আদমি পার্টি কী অবস্থান নেয় তাও লক্ষ্যণীয়। দলনেতা তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের নজরে পাঞ্জাবের নির্বাচন। তিনিও ঝুঁকি নেবেন না বলেই মনে করা হচ্ছে।

এর পরেই আসছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। কৃষক আন্দোলনে সমর্থন দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি বনধ সমর্থন করবেন? কলকাতা থেকে দিল্লি, লখনউ সর্বত্র এই প্রশ্ন।

কৃষক আন্দোলনের ধাক্কায় হরিয়ানার সরকার টলমল করছে।হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টার কৃষক আন্দোলনের প্রবল বিপক্ষে। তবে তাঁর সরকারেই লেগেছে ভাঙন আতঙ্ক। শরিকদলগুলি রুষ্ঠ। এই সুযোগে তাল ঠুকছে বিরোধী কংগ্রেস।

বিজেপির ‘হামলা’ রুখে বামেদের ‘আক্রমণ’, মানিকের দাবি কর্মীরা ‘হিরো-হিরোইন’

Manik Sarkar

নিউজ ডেস্ক: আপনারাই হিরো-হিরোইন! মানিক ভাষণে চমকে গিয়েছে ত্রিপুরা। সাম্প্রতিক অতীত তো বটেই, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন প্রথাভাঙা ভাষণ কবে দিয়েছেন বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা তথা ত্রিপুরার বর্তমান বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার (Manik Sarkar) তা নিয়ে তুুমুল চর্চা আগরতলার রাজনৈতিক মহলে। ত্রিপুরা সিপিআইএম রাজ্য দফতর দশরথ দেব ভবন সরগরম। শাসক বিজেপির সদর কার্যালয় কৃষ্ণনগরে গুঞ্জন মানিক সরকারের ভাষণ নিয়ে।

প্রথা ভাঙলেন মানিক। রাজনৈতিক ভাষণই হোক বা যে কোনও মন্তব্য ত্রিপুরার চারবারের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার মেপে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যরীতি অনেকটা পশ্চিমবঙ্গের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে মিলে যায়। গাম্ভীর্যপূর্ণ মন্তব্য করতেন জ্যোতিবাবু।

সোমবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ধনপুরে যেতে গিয়ে ত্রিপুরার বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার বিজেপি সমর্থকদের হামলার মুখে পড়েন। তাঁকে এলাকায় ঢুকতে না দিতে শাসক দলের সমর্থকরা বিক্ষিপ্ত হামলা চালায়। এর পরেই স্থানীয় সিপিআইএম সমর্থকরা তেড়ে যান হামলাকারীদের দিকে। দলীয় পতাকাকে লাঠি করে নিয়ে বিজেপি সমর্থকদের উপর চড়াও হয় বাম সমর্থকরা।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে সিপিআইএম সমর্থকরা প্রবল আস্ফালন করছে। তাদের হামলায় পালাচ্ছে মানিকবাবুকে ঘেরাও করা বিজেপির সমর্থকরা। সিপিআইএমের অভিযোগ, পুলিশকে জানিয়ে গেলেও তারা বিজেপির হামলার সময় নীরব ছিল।

বাম সমর্থকদের হামলায় বহু বিজেপি সমর্থক এলাকাছাড়া। ভিডিও দেখে হামলার সময় কারা ছিল তাদের চিহ্নিত করছে সিপিআইএম। বিজেপির অভিযোগ, পুরনো কায়দায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে বামেরা।

মানিক সরকারের কনভয় আক্রান্ত, পাল্টা বাম কর্মীদের আক্রমণ সবমিলে ত্রিপুরা উত্তপ্ত। শুধু মানিকবাবুর কেন্দ্র ধনপুর নয়, আরও কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ছড়িয়েছে বলেই খবর।

ধনপুর থেকেই পরপর চরবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মানিক সরকার। গত বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় বামফ্রন্টের পতন হয়। সরকার গড়েছে বিজেপি আইপিএফটি জোট। মানিকবাবু জিতেছেন। তিনি বিরোধী দলনেতা।

সেই ধনপুরেই মানিক সরকার হামলার পরে সভা করেন। তিনি বাম কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা হিরো-হিরোইনের মতো ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁর ভাষণে এমন ধরণের শব্দের জেরে রাজনৈতিক হাওয়া গরম।
সম্প্রতি আগরতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের মতো ত্রিপুরায় সরকার হারিয়ে সিপিআইএম এখন পিঁপড়ের মতো অবস্থা।

ত্রিপুরার ‘কমরেড’দের মারকাটারি ইমেজে ‘হাই তোলা’ ভুলে গেলেন বঙ্গ বাম নেতৃত্ব

Manik Sarkar

আগরতলা ও কলকাতা: ফোনটা আসতেই ঝিমুনি কাটল বঙ্গ বামেদের ‘লেনিনগ্রাদ’ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নিঝুম মুজফ্ফর আহমেদ ভবনে। বন্ধ হয়ে গেল হাই তোলা !

ততক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে ত্রিপুরার (Tripura) বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের (Manik Sarkar) কনভয় ঘিরে হামলার খবর। অভিযুক্ত বিজেপি। তবে সেইসব ভাইরাল ছবিতেই দেখা গিয়েছে, বাম সমর্থকরা তেড়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করেছেন। বঙ্গ বাম নেতারা দেখলেন ত্রিপুরার ‘কমরেড’রা কেমন ‘রণংদেহী’ ইমেজ নিয়েছেন।

Read More: বারবার নিজ কেন্দ্রেই কেন আক্রান্ত মানিক সরকার, সিপিআইএমে ‘জমি’ হারানোর উদ্বেগ

পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালে বামেরা সরকার থেকে চলে যেতেই নেতারা ঘরমুখো হন। ন্যুনতম শক্তিটুকু নেই। এমনই অবস্থা যে তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহসটুকু নেই। অভিযোগ, সরকার চলে যেতেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নিজেকে ‘ঘরবন্দি’ করে নেন। সেই ‘পলায়ন ভাইরাস’ গোটা বঙ্গ বামকে একেবারে গিলে নিয়েছে গত দশ বছরে। নেতৃত্বের দূর্বলতা দলীয় সমর্থনের বড় অংশ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতায় বিজেপিকে বেছে নেন। ফলাফল স্পষ্ট, রাজ্যে বামেরা শূন্য বিধানসভায়। বিজেপি প্রধান বিরোধী দল। তবে বিপুল শক্তি নিয়ে টানা তিনবার সরকার গড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Manik Sarkar

ত্রিপুরায় সিপিআইএমের টানা ২৫ বছরের সরকার পতন হয় ২০১৮ সালে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই বাংলাভাষী প্রধান রাজ্যে এখন বিজেপি -আইপিএফটি জোট সরকার। বিরোধী বাম। অভিযোগ, গত চার বছরে রাজ্যে বিরোধীরা প্রবল আক্রান্ত। তবে প্রশাসন নির্বিকার। রাজনৈতিক হামলায় বিজেপি যে নিজের মুখ পোড়াচ্ছে তার সমালোচনা করেছেন বিজেপিরই গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ক তথা প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায়বর্মণ।

Read More: ত্রিপুরা: মমতার টার্গেট কংগ্রেস ভোট! সন্তোষমোহন কন্যা সুস্মিতায় আপ্লুত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার

ত্রিপুরায় বারবার আক্রান্ত হয়েও বিরোধী দল সিপিআইএম বঙ্গ কমরেডদের ঘরবন্দি হয়ে ‘পলায়ন ভাইরাস’ জ্বরে আক্রান্ত হয়নি। সরকার হারিয়ে মানিকবাবু রাস্তায় নেমে গণআন্দোলনে অংশ নেন নিয়মিত। রাজ্য জুড়ে তাঁর দলের কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছেন। ফলাফল বলছে, বামেরা কোনও দেশব্যাপী ধর্মঘট বা বিক্ষোভ কর্মসূচি নিলে পশ্চিমবঙ্গে টিএমসির দাপটে তেমন প্রভাব পড়েনা। কিন্তু ত্রিপুরায় বিজেপির দাপট উড়িয়েই সম্পূর্ণ সফল হয়। দুপক্ষের সংঘর্ষ হতেই থাকে। তেমনই ঘটনার কেন্দ্র রাজ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ সোনামুড়া মহকুমার ধনপুর।

Manik Sarkar

আরও পড়ুন: কান্তি-অশোক-সুশান্ত-তন্ময় ‘চতুরঙ্গ’ সর্বনাশা আঘাতের মুখে CPIM

সোমবার নিজ কেন্দ্রে যেতে গিয়ে ফের বাধার মুখে পড়েন মানিক সরকার। এর জেরে এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ছড়ায়। এখান

থেকে টানা চারবার মুখ্যমন্ত্রী ও পরে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বিধায়ক মানিক সরকার। তিনি দেশের ‘গরীব মুখ্যমন্ত্রী’ তকমা পেয়েছিলেন। সোমবার নিজ কেন্দ্রে যেতে গিয়ে মানিকবাবুর কনভয় আক্রান্ত হওয়ার পরেই বাম কর্মীরা হামলা শুরু করেন।

সিপিআইএমের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মানিক সরকার বাধা কাটিয়ে ধনপুরেই সভা করেন। তিনি বলেন, ভয় পেও না। আমি আছি। এই ছবি দেখে চমকে গেছেন বঙ্গ বামেরা। যাঁরা বিলক্ষণ জানেন ত্রিপুরায় তাঁদেরই কমরেডরা একদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে নেমেছিল।

বারবার নিজ কেন্দ্রেই কেন আক্রান্ত মানিক সরকার, সিপিআইএমে ‘জমি’ হারানোর উদ্বেগ

Manik Sarkar

নিউজ ডেস্ক: টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের আমলে যা স্বপ্নেও ভাবেনি ত্রিপুরাবাসী, গত বিধানসভা ভোটের পর তাই হচ্ছে বারবার। আক্রান্ত হচ্ছেন দেশের অন্যতম আলোচিত ‘গরীব’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার (Manik Sarkar)। তাও আবার নিজ কেন্দ্র ধনপুরে। সোমবারেও তাঁর কনভয় ঘিরে হামলা হয়েছে। অভিযুক্ত বিজেপি।

তবে ধনপুরের বিধায়ক তথা বর্তমান বিরোধী নেতা মানিক সরকারের কনভয়ে হামলার ঘটনা নরমভাবে নেয়নি সিপিআইএম। তাদের সমর্থকরা দলীয় পতাকার ডান্ডা নিয়ে পুলিশ, টিএসআর ও বিজেপি কর্মীদের দিকে তেড়ে যান। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ শুরু হয়। এর পরেই ঘেরাও ছেড়ে রণে ভঙ্গ দেয় বিজেপি সমর্থকরা।

মানিক সরকার ধনপুরে রাজনৈতিক সভা করেন। তাঁর অভিযোগ,পরিস্থিতি ত্রিপুরায় খুবই খারাপ। বিজেপি জোট সরকার রাজ্যে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে।
কেন মানিকবাবু বারবার তাঁর কেন্দ্রেই ঘেরাওয়ের মুখে পড়ছেন? এই প্রশ্ন তুঙ্গে। এর থেকেই আগরতলায় ত্রিপুরা সিপিআইএম রাজ্য দফতর দশরথ দেব ভবনে ছড়িয়েছে উদ্বেগ-ভয়। প্রশ্ন উঠছে তবে কি ধনপুরেও দল জমি হারাচ্ছে?

Manik Sarkar

ধনপুর মানিকবাবুর নিজের কেন্দ্র। এখান থেকে তিনি গত বাম বিপর্যয় বছরে সরকার হারালেও নিজে জয়ী হয়েছেন। ২০১৮ সালে রাজ্যে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকার পরাজিত হয়। সরকার গড়ে বিজেপি আইপিএফটি জোট। বিপর্যয়ের দিনে মানিকবাবু গণনা কেন্দ্রেই আক্রান্ত হওয়ার মুখে ছিলেন। তখনও তিনি মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রতিমা ভৌমিকের সমর্থকরা তেড়ে এসেছিল। পরে জয়ী হন মানিকবাবু। তবে ততক্ষণে বামেরা বিদায় নিয়েছে উত্তর পূর্বাঞ্চলে তাদের একমাত্র দুর্গ ত্রিপুরা থেকে।

ফল ঘোষণার পর থেকে ত্রিপুরায় রাজনৈতিক পরিবেশ রক্তাক্ত হতে থাকে। সেই ধারা এখনও চলছে। বিরোধী দল সিপিআইএমের সমর্থকরা বারবার হামলার মুখে পড়ছেন। বিধানসভায় না থাকলেও কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের উপর লাগাতার হামলা হচ্ছে। সম্প্রতি একাধিক ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকরা আক্রান্ত হন। সর্বক্ষেত্রে অভিযুক্ত বিজেপি।

সরকার হারানোর পরে মানিকবাবু বেশ কয়েকবার ঘেরাও ও হামলার মুখে পড়েছেন। বিরোধী দললেতা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় বিধানসভা অধিবেশন উত্তপ্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব জানিয়েছেন, রাজনৈতিক হামলা মেনে নেওয়া হবে না। তবুও বারবার হামলার ঘটনায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ যে দলীয় সমর্থকদের উপর নেই তা স্পষ্ট।

ত্রিপুরায় এখন দুটি সুপার হেভিওয়েট আসন একটি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের কেন্দ্র বনমালীপুর অন্যটি বিরোধী নেতা চার বারের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কেন্দ্র ধনপুর। বনমালীপুর শান্তিপূর্ণ, কিন্তু ধনপুর থাকে অশান্ত। বিশেষকরে মানিকবাবু তাঁর কেন্দ্রে যাওয়ার পরেই ঘেরাও হন বারবার। তবে সিপিআইএমের সমর্থকরাও পাল্টা তেড়ে যান।

ত্রিপুরা ভারতের একমাত্র রাজ্য, যেখানে স্বাধীনতার পর প্রথমবার বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। এই রাজ্যেই প্রথমবার বাম বনাম রামের রাজনৈতিক লড়াই হয়েছে। প্রথম দফায় বাম পরাজিত। পরবর্তী দফা চলে আসছে। ত্রিপুরায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখ হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লড়াই এখানে দ্বিমুখী আর নয়, ত্রিমুখী।

কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তের জেরায় ইডি দফতরে অভিষেক

TMC General Secretary Abhishek Banerjee

নিউজ ডেস্ক: কয়লা কেলেঙ্কারির মামলায় অর্থ পাচারের অভিযোগে তৃণমূল সাধারণ সম্পাদক এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাউপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট অফিসে পৌঁছলেন৷ নয়াদিল্লির ইডি কার্যালয়ে পৌঁছে সংবাদমাধ্যমকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইডির জারি করা নোটিশের ভিত্তিতে সোমবার তিনি হাজির হয়েছেন। অভিষেক বলেন, তদন্তে তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে পুরোপুরি সহযোগিতা করবেন।

দিল্লি যাওয়ার আগে অভিষেক বলেছিলেন, তিনি যেকোনও ধরনের তদন্তের জন্য প্রস্তুত। তবে কবে থেকে তদন্ত শুরু হবে, সে বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বলা হচ্ছে, অভিষেককে দ্বিতীয়ার্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এর আগে তাঁর স্ত্রীকেও এজেন্সি ডেকেছিল৷ কিন্তু তিনি করোনা মহামারীর কথা উল্লেখ করে বাড়িতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুরোধ করেছিলেন।

ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, যদি কোনও কেন্দ্রীয় সংস্থা তাঁর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে কোনও অবৈধ লেনদেনে জড়িত থাকার প্রমাণ দেয়, তবে তিনি নিজেকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেবেন। একই সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর বিজেপি রাজনৈতিক প্রতিশোধ নিচ্ছে।

তদন্তের বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমি যেকোন তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। যদি তারা আমার বিরুদ্ধে প্রমাণ দিতে পারে, তাহলে ইডি এবং সিবিআই ব্যবহার করার দরকার নেই। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন, তারা টিএমসির সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করতে পারে না, তাই এখন তারা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে এসেছে। তারা তাদের রাজনৈতিক স্বার্থকে আরও এগিয়ে নিতে তদন্তকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করছে।

এর আগে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর ভাইপো অভিষেকের বিরুদ্ধে কয়লা কেলেঙ্কারির মামলায় তদন্ত সংস্থা ব্যবহার করছে৷ যাতে বিজেপির পরাজয়ের প্রতিশোধ নেওয়া যায়।

ভবানীপুর উপনির্বাচন: মমতার বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত শুভেন্দুর

Shuvendu in front of Mamata

নিউজ ডেস্ক: আগামী একমাস রাজ্য রাজনীতির নজর থাকবে কলকাতার ভবানীপুরে। কারণ, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এখানেই ভাগ্য নির্ধারণ হবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা নয়, ভাগ্য নির্ধারণ হবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতার। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ২ হাজারেরও কম ভোটে হেরে যান মমতা বন্দ্যপাধ্যায়। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে হলে, নিয়ম মতো ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে তাঁকে।

নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই, ভবানীপুরসহ তিন কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রত্যাশা মতোই এবার ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষকে হারিয়ে দেওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রীকে আসন ছেড়ে দিয়েছেন তৃণমূলের প্রবীন নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

এবার মমতার বিরুদ্ধে কে হবেন ভবানীপুরের পদ্মশিবিরের প্রার্থী? রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা এর উত্তর নিয়েই। অনেকে রুদ্রনীল ঘোষের প্রার্থী হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল৷ তবে সেই বিতর্ক বাড়িয়েছেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

রবিবার শিক্ষক দিবসের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধিকারী বাড়ির মেজছেলে বলেন, ‘কে বলেছিল আপনাকে নন্দীগ্রামে আসতে ? এখন যদি আমাকে পার্টি বলে ভবানীপুরে আপনার বিপক্ষে দাঁড়াতে কী হবে তাহলে? আপনি নন্দীগ্রাম গিয়েছিলেন। এবার আমি এখানে আসি? মনে রাখবেন ওখানে কিন্তু ১৯৫৬ ভোটে হারিয়ে দিয়েছি, যেখানে ২৪ শতাংশ দুধেল গাই ছিল।’ ফলে শুভেন্দুর এই ইঙ্গিতবাসী বার্তা নিয়ে জোর বিতর্ক এবং জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে৷ অনেকেই মনে করছে, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীকে চাপে রাখতে শুভেন্দু পদ্ম-প্রার্থী হতে পারেন৷

কান্তি-অশোক-সুশান্ত-তন্ময় ‘চতুরঙ্গ’ সর্বনাশা আঘাতের মুখে CPIM

cpim state conference will be a political drama stage

#Political Drama
বিশেষ প্রতিবেদন: আক্রমণ হবেই। এটা ধরেই রাজ্য সম্মেলনে ঢোঁক গিলতে তৈরি সিপিআইএম (CPIM)। বিমান-সূর্যকান্ত অর্থাৎ প্রাক্তন ও বর্তমান রাজ্য সম্পাদক হতে চলছেন মূল লক্ষ্যবস্তু। গোছাগোছা বাছাবাছা প্রশ্নের শক্তিশেল নিয়ে তৈরি আক্রমণকারী ‘চতুর্মুখ’-কান্তি গাঙ্গুলী, অশোক ভট্টাচার্য, সুশান্ত ঘোষ ও তন্ময় ভট্টাচার্য। সিপিআইএমের রাজ্য সম্মেলনে হতে চলেছে ‘চতুরঙ্গ সর্বনাশ’।

২০১১ সাল রাজ্যে বাম বিপর্যয়ের সীমান্ত বছর। সেই বছরেই চৌত্রিশ বছরের বামফ্রন্ট সরকার কুর্সি হারায়। সেই বছরেই তৃণমূল কংগ্রেসের কুর্সি লাভ। গত দশ বছরের ছবি একদম স্পষ্ট পশ্চিমবঙ্গে বামেদের আর স্থান নেই। হারতে হারতে একেবারে শূন্য। সর্বশেষ বিধানসভা ভোটে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ স্বীকার করেছেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র।

Susanta Ghosh

সুশান্তর বাণ: ‘বুদ্ধ-তন্ত্র’!
কিন্তু চতুরঙ্গ সর্বনাশা আক্রমণ তাতে আটকাবে না। সূত্রের খবর বারবার বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নরম রাজনীতির গরম সমালোচক সুশান্ত ঘোষ একেবারে মুখিয়ে রয়েছেন। সম্ভবত তিনিই সর্বাধিক ভয়ঙ্কর আঘাতটি করতে চলেছেন রাজ্য কমিটিকে।সুশান্তবাবুর কাটা কাটা মন্তব্য কীরকম হতে পারে তা তাঁরই লেখা ‘বামফ্রন্ট জনানার শেষ দশবছর’ বই থেকেই মিলতে পারে। জ্যোতিবাবু ও বুদ্ধবাবু দুই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক দিকের তুল্যমূল্য আলোচনা তুলে ধরে প্রাক্তন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষ তীব্র সমালোচনা করেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের। দল থেকে সাময়িক সাসপেন্ড হন। তবে তাঁকে ফেরাতে বাধ্য হয় সিপিআইএম। শাসক তৃণমূলের নজরে এখনও ‘প্রবল আগ্রাসী’ সুশান্ত ঘোষের লক্ষ্যবস্তু নরম সরম নেতারা।

Kanti Ganguly

কান্তির হামলা: ‘বুড়ো বুড়ি নয় ছোঁড়া ছুঁড়ি’!
সদ্য প্রকাশিত হয়েছে প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী কান্তি গাঙ্গুলীর লেখা ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্মৃতির চমকপ্রদ ঘটনাবলী ‘রক্তপলাশের আকাঙ্খায়’। বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা গতবারের মতো এবারেও যে হারবেন তা স্বয়ং তৃণমূল নেত্রীর ক্যালকুলেশনের বাইরে ছিল বলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা টিএমসি নেতাদের অনেকেই মনে করছেন। কান্তিবাবু সরাসরি জানিয়েছেন, দলে বৃদ্ধতন্ত্রের ভারত্ব কমাতে হবে। তাঁর হামলার লক্ষ্যবস্তু অবশ্যই সাংগঠনিক গঠনস্তর ও নেতৃত্বের ‘হাই তোলা’ কর্মসূচি। সত্তরোর্ধ কান্তিবাবুর যৌবনদীপ্ত ভূমিকা সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় এলেই রাজ্যবাসীর কাছে মূল আলোচনা হয়। বয়স তাঁর পায়ের তলায় পড়ে থাকে।

Ashok Bhattacharya

অশোক অশনি: বে-আক্কেলের জোট!
শিলিগুড়ি শুধু নয়, অতি উন্নত চিন পর্যন্ত তাঁর নাম ছড়িয়ে। পুর প্রশাসনের খুঁটিনাটি, পুর উন্নয়নের বিষয়ে প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক তাত্ত্বিক প্রশ্নের উত্তর দিতে কালঘাম ছুটবেই মুজফ্ফর আহমেদ ভবন আলো করে থাকা নেতাদের। অশোকবাবুর সাফ কথা কোন যুক্তিতে সংযুক্ত মোর্চা গঠিত হয়েছিল? নির্বাচনে শিলিগুড়ি থেকে তিনি যে হারবেন তা মোদী-মমতা কারোর অংকেই ছিলনা। তবে তিনি হেরেছেন। শিষ্য শংকর ঘোষ বাম ছেড়ে রাম হয়ে জিতে গুরুর আশীর্বাদ নিয়েছেন। সম্ভবত শিষ্যটি তৃণমূলে যাওয়ার পথে।

Tanmoy Bhattacharya
তন্ময়ে তটস্থ: কেমনধারা দল!
ভোটে হেরে ঘরে ফিরে চিকেন স্যান্ডুইচ খেতে খেতে ত্রিপুরার সর্বাপেক্ষা আলোচিত টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে দলের মুণ্ডপাত করেছিলেন। তার আগে নিজের ফেসবুকেই হামলা করেন দলীয় উচ্চস্তরীয় নেতাদের। প্রশ্ন ছিল অনেকটা এমন, দল কি আদৌ ভোট লড়তে নেমেছিল! প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যের অবস্থানে সিপিআইএমের অন্দরে ভূমিকম্প দেখা দেয়। প্রবল যুক্তিধর তন্ময়কে মুখ বন্ধ রাখার ফরমান দেওয়া হয়। তিনি মুখ বন্ধ করেছেন। তবে রাজ্য সম্মেলনে তোপ দাগবেন।

পরিস্থিতি বলছে, সিপিআইএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্মেলন থেকে নতুন কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জন্ম হতে পারে। অন্তত নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে ঘুরছে ১৯৬৮ সালে সিপিআইএমের বর্ধমান প্নেনামের (বর্ধিত সম্মেলন) স্মৃতি।

BJP নীরব, মমতার বিপক্ষে বামেদের পোস্টার গার্ল মীনাক্ষী?

meenakshi mukherjee and mamata banerjee

#politics
নিউজ ডেস্ক: উপনির্বাচনের দিন ও গণনার তারিখ ঘোষণা হতেই তৃণমূল কংগ্রেস নেমে পড়েছে প্রেস্টিজ ফাইটে। বিরোধীদের নীরবতা শাসক দলের প্লাস পয়েন্ট। মুরলীধর সেন লেনে বিজেপি রাজ্য দফতরে নেই হেলদোল। পরপর বিধায়ক ভাঙনে প্রধান বিরোধী দলে নামছে হতাশা। মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে কে প্রার্থী হবেন বিজেপির সেটা রীতিমতো চর্চিত।

তবে চর্চার অন্য দিকটি হল রাজ্যে গত বিধানসভা ভোটে গোহারা হেরে শূন্য হয়ে যাওয়া বাম শিবিরের প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়েও। যে সিপিআইএম ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা চৌত্রিশ বছরের রাজ্য শাসক তাদের এখন হাঁড়ির হাল। তবে বাম প্রার্থীর দিকে নজর আছেই রাজনৈতিক মহলের। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেও হাই উঠছে।

উপনির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থী না দেওয়ার পথে। প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে নেই কোনও তাপ উত্তাপ। শোনা যাচ্ছে বামেদের সঙ্গে জোট ভাঙার সূত্র খুঁজছেন কংগ্রেস নেতারা।

এত সবের মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে উপনির্বাচনে উঠে আসছে মীনাক্ষী মুখার্জির (Minakshi Mukherjee) নাম। নন্দীগ্রামে তিনিই বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ও আইএসএফের তরফে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী ছিলেন। জিতবেন না সবাই জানত। তবে ভোট ঘিরে প্রবল উন্মাদনার মাঝে মীনাক্ষী হয়ে উঠেছেন রাজ্য সিপিআইএমের পোস্টার গার্ল।

নন্দীগ্রামে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা পরাজিত হন। তবে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য সরকার গড়েছে। পরাজিত মমতা নজির গড়ে বিধায়ক না হয়েই মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকেছেন। নিয়মানুসারে ৬ মাসের মধ্যে জিতে আসতে হবে তাঁকে। ফলে টিএমসি মমতারই ছেড়ে দেওয়া ভবানীপুরে ফের তাঁকে প্রার্থী করেছে। এই কেন্দ্র টিএমসির সেফ সিট। নির্বাচনে ভবানীপুর থেরে জিতেও দলনেত্রীর জন্য সরে গিয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রচার তুঙ্গে। শুরু হয়েছে দেয়াল লিখন। মাঠে এখনও নেই বিরোধী দলের কেউ। একতরফা জয়ের গন্ধ পাচ্ছে শাসক দল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় নিশ্চিত মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বিরোধীদের এত নীরবতা আরো বেশি চিত্তাকর্ষক।

মমতা ও TMC বিধায়কদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য দেবে না রাজ্য লোকায়ুক্ত

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক: সম্ভাবনা ছিলই? ঠিক তেমনই হয়েছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারের কোনও মন্ত্রী বিধায়কের বিরুদ্ধে দূর্নীতির তথ্য দেওয়া হবে না৷ এমন জানিয়ে দিল রাজ্য লোকায়ুক্ত। এর জেরে রাজনৈতিক হাওয়া ফের গরম হতে চলেছে।

পরপর তিনবার ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও ক্ষমতাসীন দলটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন, কেন সরকারে থাকা দল টিএমসি ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লোকায়ুক্ত (Corruption monitoring & controlling body) নিষ্ক্রিয়।

রাজ্য লোকাযুক্ত সাফ জানিয়েছে, কোনওভাবেই মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের কোনও মন্ত্রী বিধায়কের বিরুদ্ধে দূর্নীতির তথ্য দেওয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে এবার আদালতে যাওয়ার পথ বিরোধী বিজেপির।তবে বিধানসভায় না থাকলেও সিপিআইএম সহ অন্যান্য বিরোধীরাও আদালতের দরজায় যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আগেই মুখ্যমন্ত্রীকে লোকায়ুক্তের আওতার বাইরে আনার লক্ষ্যে আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। বিধানসভায় সেই শক্তি তাদের রয়েছে। তবে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে শাসক পক্ষ আইন বদলে ফেললেও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছে বিরোধীরা।

মমতা-সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশিদের ভুয়ো ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার অভিযোগ দিলীপের

Dilip Ghosh and mamata banerjee

নিউজ ডেস্ক: ভুয়ো আইএএস, ভুয়ো সিবিআই, ভুয়ো সিআইডি অফিসার, ভুয়ো মানবাধিকার সংগঠনের কর্ণধার… গত কয়েকদিনে রাজ্যে বহু ‘ভুয়ো’ পদাধিকারী ধরা পড়েছে। স্বভাবতই তাতে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছে বিরোধী দলগুলি।

আরও পড়ুন ত্রিপুরা: মমতার টার্গেট কংগ্রেস ভোট! সন্তোষমোহন কন্যা সুস্মিতায় আপ্লুত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার

এবার একধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বাংলাদেশি নাগরিকদের ভুয়ো ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে, এবং ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর লোভে তা করছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার। এমনটাই দাবি করেছেন দিলীপ। 

আরও পড়ুন একবছর হয়ে গেল বাণিজ্য সম্মেলনের তথ্য চেয়েও পাইনি;, রাজ্যকে আক্রমণ ধনখড়ের

কয়েক ঘন্টা আগেই জাল সরকারি পরিচয় পত্র তৈরি চক্রের মূল পান্ডা শেখ গোলাম মোর্তজাকে গ্রেফতার করেছে লেক টাউন থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর আমডাঙার বাসিন্দা এই অভিযুক্ত নিউটাউন এলাকায় ভুয়ো সরকারি নথি এবং ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির কাজ চালাতো।

আরও পড়ুন উত্তরে বিজেপির ধস নামছে, চিন্তা বাড়ছে দিলীপ-শুভেন্দুর

কিছু টাকা দিলেই পাওয়া যেত ভুয়ো নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র। গত ১৯ জুন ভুয়ো নথি সহ এক বাংলাদেশী নাগরিককে গ্রেফতার করে লেক টাউন থানার পুলিশ। তাঁর কাছ থেকেই উঠে আসে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। বেআইনি ভাবে প্রবেশের পর টাকা দিয়ে তৈরি করেছিল ভারতীয় নাগরিকত্বের জাল নথি। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে লেকটাউন থানার পুলিশ। 

তালিবান সম্পর্কে ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করুক: ওয়াইসি

asaduddin owaisi

নিউজ ডেস্ক: তালিবান জঙ্গি সংগঠন কী না সেই বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা উচিত। বৃহস্পতিবার এই দাবি তুললেন মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি৷ এদিন তিনি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই দাবি তুলেছেন৷

আফগানিস্তানে আটকা পড়া ভারতীয়দের নিরাপদে ফিরিয়ে আনা সহ বিভিন্ন ইস্যুতে গত মঙ্গলবার কাতারে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তাল তালিবান নেতা শের মুহম্মদ আব্বাস স্তানিকজ়াইয়ের সঙ্গে কাতারের রাজধানী দোহায় সাক্ষাৎ করেন। এই প্রথম কোনও তালিবান নেতার সঙ্গে ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

ভারতের বিভিন্ন বিরোধী দল ওই বৈঠককে কেন্দ্র করে মোদী-সরকারকে টার্গেট করেছে। ‘মিম’ প্রধান আইনজীবী আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এই ঘটনাকে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় বলে অভিহিত করেন৷ তিনি বলেন, ভারতের উচিত তালিবানের ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করা, তারা এদেরকে জঙ্গি সংগঠন মনে করে কী না?’

তালিবান নেতার সঙ্গে সংলাপ প্রসঙ্গে প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার দেবাশিস দাস একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, রাষ্ট্রদূত যে তালিবানের সঙ্গে কথা বলেছেন, সেটা একটা ভালো ব্যাপার। যোগাযোগ বন্ধ করা একেবারেই উচিত নয়। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কে যোগাযোগ খুবই জরুরি। আমরা যোগাযোগ বন্ধ করলে সবচেয়ে লাভবান হবে পাকিস্তান। ভারতীয়দের ফেরত আনা এখন প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত।’

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগেই বলেছেন, ‘ভালো তালিবান, খারাপ তালিবান বলে কিছু হয় না। হয় তুমি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে, নয় সন্ত্রাসবাদের পক্ষে। এর মাঝামাঝি কিছু নেই।’ এই বার তালিবানের সঙ্গে বৈঠকের পর বিরোধীদের প্রশ্ন, মোদি সরকার কী তাহলে আর তালিবানকে জঙ্গি সংগঠন বলে মনে করছে না? জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘তালিবান হয় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন, নচেৎ নয়। সরকার স্পষ্ট করুক, আমরা তালিবানকে কী চোখে দেখছি।’

কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্দেশে তাঁর প্রশ্ন, ‘যদি ওরা জঙ্গিবাদী সংগঠন হয়, তাহলে কেন ওদের সঙ্গে কথা বলছেন? যদি জঙ্গি সংগঠন না হয়, তা হলে আপনারা কী রাষ্ট্রসংঘে ওদের সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের তালিকা থেকে বাদ দিতে বলবেন? এ বিষয়ে মনস্থির করতে হবে।’

গত সোমবার ভারতের সভাপতিত্বেই রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে তালিবানকেই আহ্বান জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানের মাটিতে সন্ত্রাসবাদে যেন মদত না দেওয়া হয়। যা তালিবানকে কার্যত স্বীকৃতি দেওয়াই বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। ভারত বলেছে, সন্ত্রাসবাদের প্রশ্নে তাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে জায়গা পেয়েছে।

ভারতের প্রধান বিরোধীদল কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরম বলেন, ‘সরকার নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব নিয়ে নিজেই নিজেকে অভিনন্দন জানাচ্ছে। কিন্তু এই প্রস্তাবের দু’টি অর্থ হতে পারে। এক, গোটা বিষয়টির সমাধান হয়ে গিয়েছে এবং তাতে ভারত সন্তুষ্ট। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদে তা হয়নি। দুই, আমরা নিজেদের ইচ্ছে প্রকাশ করেছি এই প্রস্তাবে। অন্যরা তাতে সই করেছে। নিরাপত্তা পরিষদে শুধু সেটাই হয়েছে। এখনই নিজের পিঠ চাপড়ানোর সময় আসেনি।’ চিন- পাকিস্তান ও তালিবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের সম্ভাব্য অক্ষ ভারতের কাছে চিন্তার বিষয় বলেও কংগ্রেস নেতা পি চিদম্বরম মন্তব্য করেন৷

ক্রিকেট কূটনীতিতে তালিবান 2.0! পরপর টার্গেট ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশ

taliban sendin cricket diplomacy

#Afghanistan
নিউজ ডেস্ক: কাবুল জুড়ে এখন ব্যাস্ততা তুঙ্গে। সরকার গড়ার কাজ চলছে। এই সরকার তালিবান জঙ্গিদের। দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানের কুর্সিতে জঙ্গিরা বসতে চলেছে। প্রথম তালিবান সরকার (১৯৯৬-২০০১) পর্যন্ত যেমন খেলা বিনোদন সবকিছুই অ-ইসলামিক বলে নিষিদ্ধ করেছিল তালিবান জঙ্গিরা, এবার তারা স্পষ্ট জানিয়েছে অনেকাংশে নরম মনোভাব থাকবে। সেই সূত্রে আফগানিস্তানের পুরুষ ক্রিকেট দলকে আগামী কয়েকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বলেছে তালিবান নেতৃত্ব।

এখানেই শুরু তালিবান ক্রিকেট কূটনীতির পর্ব। যে তালিবান কড়া শরিয়তি আইনে মাথা কাটার ফরমান দেয় তারা নিজেদের নরম দেখাতে বাইশ গজের খেলাকে প্রাধান্য দিতে শুরু করেছে।

তালিবান জানিয়েছে, ২০২২ সালে প্রথমদিকে ভারতের সঙ্গে একটি টেস্ট সিরিজ খেলা অনুষ্ঠিত করতে চায়। সরকার গড়ার পর আফগানিস্তান ও ভারতের মধ্যে এই টেস্ট ক্রিকেট খেলায় তীব্র ইচ্ছে তালিবানের। এমন বার্তায় লাগল চমক। তবে বিসিসিআইয়ের পক্ষ এখনও এই বিষয়ে কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের তরফে এসেছে ইঙ্গিত। তালিবান যেভাবে ভারতের প্রতি একটার পর একটা কূটনৈতিক বার্তা দিচ্ছে তাতে স্পষ্ট তারা নয়াদিল্লির সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে মরিয়া। তবে এই কূটনৈতিক বার্তার পিছনে তালিবান নেতা তথা আশির দশকে দেরাদুন মিলিটারি একাডেমির প্রাক্তনী শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাইয়ের (শেরু) ভূমিকা আছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। সম্প্রতি তার সঙ্গেই কাতারের রাজধানী দোহা শহরে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল কূটনৈতিক আলোচনা করেন।

দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট কূটনীতির নতুন সদস্য তালিবান!
দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি প্রতিবেশি দেশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরকার সময় বিশেষে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গতি আনতে ক্রিকেট কূটনীতির প্রয়োগ করে। নয়াদিল্লি-ইসলামাবাদ, বা নয়াদিল্লি-ঢাকা কিংবা ইসলামাবাদ-ঢাকা এই ক্রিকেট কূটনীতির বহুল প্রয়োগকারী। সেই তালিকায় তালিবান অধিকৃত কাবুল এসে জুড়ে যাচ্ছে এবার।

কূটনৈতিক মহলের ধারণা, নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে ভাবমূর্তি উজ্জ্বল বানাতে মরিয়া তালিবান। তাদের নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে গণহত্যা, গণধর্ষণ সহ বহু নারকীয় ঘটনা। যেহেতু কাবুল দখল করার পরেই তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ জানিয়েছিল, এই তালিবান আগের মতো নয়। সেই বার্তার পরেই নিজেদের নতুন করে তুলে ধরতে মরিয়া জঙ্গি সংগঠনটি।

কূটনৈতিক মহলের আরও ধারণা, তালিকার ঘোষিত বন্ধু দেশ পাকিস্তান তো রয়েইছে, ভারতের সঙ্গে একটি খেলা হলেই তাদের পোয়াবারো। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি ক্রিকেট কূটনীতির বার্তা দিতে চলেছে তালিবান।

আফগান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী হামিদ শিনওয়ারি বলেছেন, তালিবান সরকার ক্রিকেটকে সমর্থন করছে এবং আমাদের সমস্ত ক্রিকেট নির্ধারিত সময় অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। ২০২২ সালের শুরুতেই ভারতের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজ করা যেতে পারে৷

তিনি আরও জানান, আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে আফগানিস্তান। তবে আফগানিস্তানে মহিলা ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে৷

ত্রিপুরা: মমতার টার্গেট কংগ্রেস ভোট! সন্তোষমোহন কন্যা সুস্মিতায় আপ্লুত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার

Susmita Dev

#Susmita Dev
নিউজ ডেস্ক: বাবার ভূমিকায় কন্যা! এমনই মনে করছে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহল। এই রাজ্য ও অসমের একসময়ের জবরদস্ত সাংসদ সন্তোষমোহন দেব কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন। তিনিই ত্রিপুরায় প্রথমবার বাম সরকার হটিয়ে কংগ্রেসকে ক্ষমতা আনেন। সেই সন্তোষমোহন কন্যা সুস্মিতা দেব এখন আবেগ রাজনীতি হাতিয়ার করেছেন বলে শাসক বিজেপি ও বিরোধী সিপিআইএমের কটাক্ষ।

ত্রিপুরায় গত নির্বাচনগুলিতে তৃণমূলের প্রাপ্তি ০.৩ শতাংশ ভোট। এই শক্তি নিয়েই একক সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি ও রাজ্যে টানা ২৫ বছরের সরকারে থাকা সিপিআইএমের বিরুদ্ধে লড়তে নেমেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে এখনও পর্যন্ত উত্তর পূর্বাঞ্চলের যে হেভিওয়েট মুখ টিএমসি ব্যবহার করছে তিনি প্রয়াত সন্তোষমোহন দেবের কন্যা সুস্মিতা। অসমের শিলচর থেকে দুবারের কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন কলকাতায়। এর পরেই তাঁকে ত্রিপুরায় পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

আগরতলা পৌঁছেই সুস্মিতা দেব পুরনো দল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বার্তা দিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, কংগ্রেসের ভোটব্যাংকটি তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই যেন সুস্মিতা দেব দেখা করলেন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী সুধীররঞ্জন মজুমদারের স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে।

তাৎপর্যপূর্ণ, সন্তোষমোহন দেব ত্রিপুরার সাংসদ থাকাকালীন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সুধীরবাবু। অসমের বরাক উপত্যকার শিলচরের নেতা সন্তোষমোহন দেব ও সুধীররঞ্জন মজুমদারের মধ্যে সখ্যতা ছিল। সুস্মিতা দেব জানান, বাবার সঙ্গে পুরনো সম্পর্কের কারণেই আমি সুধীরবাবুর বাড়ি এসেছি। নেহাত সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, রাজনৈতিক কৌশলই এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আগরতলা ও কলকাতার রাজনৈতিক মহল। সন্তোষমোহন দেব অসমের শিলচর থেকে ৫ বার ও ত্রিপুরা থেকে ২ বার সাংসদ হন। ইন্দিরা গান্ধীর পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ শিলচরের দেব পরিবার। সেই সূত্রে সন্তোষমোহন হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ভারি শিল্পমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৮৯ সালে ত্রিপুরায় প্রথম বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। ক্ষমতা হারার কিংবদন্তি সিপিআইএম নেতা নৃপেন চক্রবর্তী। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন সুধীররঞ্জন মজুমদার।

প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন আগরতলার গান্ধীঘাট এলাকায়। সেখানেই যান সুস্মিতা দেব। তিনি বলেন, প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী সুধীর রঞ্জন মজুমদারের পরিবারের সাথে দেখা করাটা হলো ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ। কারণ উনার পিতা ত্রিপুরা রাজ্যে তৎকালীন সময়ের সাংসদ ছিলেন। বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যে যে সন্ত্রাসের বাতাবরণ চলছে তার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

সুস্মিতা দেব বলেছেন, গণতন্ত্রের দেশে সকলের অধিকার আছে রাজনীতি করার। জনগণের স্বার্থে যা করার তা করবেন তিনি। ত্রিপুরার স্বার্থে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসতে পারেন কংগ্রেসের নেতৃত্ব এবং কর্মীরা। তাদের সঠিক সম্মান দেওয়া হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে ত্রিপুরা রাজ্যের মূল শত্রু হলো বিজেপি। কংগ্রেসেরও শত্রু বিজেপি। রাজ্যের মাটিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রতিষ্ঠা করতে ত্রিপুরার রাজনৈতিক আবেগ ও চাহিদা বুঝতে চান দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে জানান সুস্মিতা দেব।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ছিলেন সুস্মিতা দেবের সঙ্গে। তিনি বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুনামির ঝড় ত্রিপুরা রাজ্যের মাটিতে আছড়ে পড়তে শুরু করেছে। বিজেপি’র বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে বলে জানান তিনি। তিনি বিজেপি বিধায়ক ও প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুদীপ রায় বর্মনকে মমতা শিবিরে ফের ফিরে আসার আহ্বান জানান।

ত্রিপুরা: সন্তোষ মোহনের নেতৃত্বে বাম হটিয়ে কংগ্রেস সরকার গড়েছিল, সুস্মিতায় বাজি মমতার

Susmita Dev

#Tripura
নিউজ ডেস্ক: পিতা সন্তোষমোহন দেব পাঁচবার অসমের শিলচরের সাংসদ। দুবার ত্রিপুরা থেকে নির্বাচিত। তাঁর নেতৃত্বেই কংগ্রেস ত্রিপুরায় হারিয়েছিল কিংবদন্তি সিপিআইএম নেতা নৃপেন চক্রবর্তীর নেতৃত্বে চলা বামফ্রন্ট সরকারকে। গান্ধী পরিবার ঘনিষ্ঠ প্রয়াত সন্তোষ মোহনের কন্যা সুস্মিতাকে এবার আগরতলার রাজনৈতিক মাঠে বাজি ধরলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার ত্রিপুরায় পৌঁছান সন্তোষ মোহন কন্যা সুস্মিতা দেব। তিনি সদ্য কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে সুস্মিতা দেব রাজ্যে আসন্ন বিধানসভার ভোটে কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

সূত্রের খবর, ত্রিপুরায় কংগ্রেসের যে ভোটব্যাংক রয়েছে সেটির দিকে নজর তৃণমূল কংগ্রেসের। ফলে প্রয়াত সন্তোষ মোহন দেবের কন্যাকে আগরতলার রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

বুধবার আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলন করেন সুস্মিতা দেব। তিনি বলেন, তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে সংগঠন মজবুত করতে ত্রিপুরায় এসেছেন। এর পরেই তাঁর ইঙ্গিত জোটের দিকে। সুস্মিতা দেব জানিয়েছেন আসন ভাগাভাগি নিয়ে যার সঙ্গে চূড়ান্ত রফা হবে তাদেরই জোটে নেওয়া হবে। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মূল রাজনৈতিক শত্রু বিজেপি।

অসমের বরাক উপত্যকা থেকে ত্রিপুরার রাজনীতিতে নেমেই সদ্য তৃণমূলী হওয়া সুস্মিতা দেবের ইঙ্গিত এ রাজ্যেও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মা মাটি মানুষের সরকার তৈরি হবে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে।

সদ্য কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন অসমের বরাক উপত্যকার জবরদস্ত নেত্রী সুস্মিতা দেব। তিনি উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বাঙালি নেত্রী। সুস্মিতা তৃণমূলে আসার পরেই ধারণা করা হচ্ছিল ত্রিপুরা বিধানসভার ভোটে তাঁকে নামাতে পারেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আগরতলায় পৌঁছে সুস্মিতা জানিয়েছেন, মমতাদি যে পতাকা হাতে দিয়েছেন তাই নিয়ে ত্রিপুরায় লড়াই করব। অসমের বাংলাভাষী এলাকা বরাক উপত্যকার কাছাড় জেলার তাবড় নেত্রী সুস্মিতা। শিলচর থেকে দুবারের সাংসদ ছিলেন। গত লোকসভা ভোটে তিনি পরাজিত হন। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মহিলা শাখার নেত্রী ছিলেন।

আফগানিস্তানে তালিবানি পতাকা কেনার হিড়িক, জঙ্গি বিরোধী পঞ্জশির বলছে ‘না’

Afghanistan Taliban National flag,

#Afghanistan
নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে একটি ছবি। এতে দেখা যাচ্ছে, কাবুলের রাজপথে এক কিশোরকে সদ্য অধিগ্রহন করা তালিবান পতাকা হাতে যেতে। আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা এখন এটি। গত ১৫ আগস্ট তালিবান (Taliban) যখন কাবুল দ্বিতীয়বার দখল করে, কিছু পরেই আফগান জাতীয় পতাকা নামিয়ে দেয়।
তালিবান জঙ্গি অধিকৃত আফগানিস্তানের নতুন নামরণ করা হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তান নাম আর নেই। এর বদলে তালিবান দিয়েছে ইসলামিক আমিরশাহী আফগানিস্তান নাম। প্রচলিত অর্থে দেশটিতে পুরনো আমিরতন্ত্র ফিরিয়েছে তালিবান জঙ্গি সংগঠন।

১৫ আগস্ট তালিবান দখলে কাবুল চলে যাওয়ার পরেই আফগানিস্তানের পূর্বতন জাতীয় পতাকা নিয়ে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছিল। বিক্ষোভরত আফগানিদের দাবি কোনওভাবেই জাতীয় পতাকা পরিবর্তন করা যাবে না। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তালিবান রক্ষীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। তবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নতুন তালিবানি পতাকা নিতে দেখা গিয়েছে অনেক আফগানিকেই। অতীত স্মৃতি হচ্ছে সদ্য অপসারিত নির্বাচিত সরকারের আমলের পতাকা।

বিভিন্ন সময়ে কাবুলের তখতে যারা ক্ষমতা এসেছে তখনই বদলেছে আফগান জাতীয় পতাকা। গত একশ বছরে এই পরিবর্তন হয়েছে অন্তত ১৯ বার। আফগান জাতীয় পতাকার এই পরিবর্তন দেশটির প্রতিটি জমানার একেকটি ইঙ্গিতবাহী দিক মনে করেন গবেষকরা।

কাবুলের সংবাদমাধ্যমেও নতুন তালিবান পতাকা দিয়ে খবর সম্প্রচার শুরু হয় ১৫ আগস্ট দুপুরের পর থেকেই। সেইদিনই সকাল পর্যন্ত যতক্ষণ কাবুলে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ছিলেন ততক্ষণ আফগান জাতীয় পতাকা উড়েছিল কাবুল প্যালেস ও আইনসভার উপর। তিনি পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। তালিবান জঙ্গিরা দখল করে নেয় কাবুল। আফগান রাজধানীতে নিজেদের সংগঠনের পতাকা হাতে জঙ্গি তালিবান টহল শুরু হয়। সেই পতাকা এখন সব সরকারি ভবন, আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট ভবনে উড়ছে।

কাবুলের সংবাদ মাধ্যমের খবর, ৩১ সেপ্টেম্বরে মার্কিন সেনা পুরোপুরি আফগানভূমি ত্যাগ করার পরই হুড়মুড়িয়ে বেড়েছে তালিবানের কায়দার পোশাক, বোরখা কেনার পালা। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। পাল্লা দিয়ে বিকোচ্ছে নতুন তালিবানি পতাকা। সাধারণ আফগানির মনে রয়েছে সদ্য পুরনো হওয়া পতাকাটি। তবে তারা নিজেদের নিরাপদে রাখতে নতুন পতাকায় মুড়ে নিচ্ছেন।

ব্যতিক্রম আছে। আফগানিস্তানের একমাত্র তালিবান বিরোধী এলাকা পঞ্জশির। সেখানে কোনও তালিবানি শাসন নেই। পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদ জানিয়েছেন, পিতার মতো তিনিও আফগানিস্তানের কৌলীন্য বজায় রাখতে তালিবান বিরোধী যুদ্ধ চালাবেন। পঞ্জশিরের সিংহ বলে সুপরিচিত আহমেদ শাহ মাসুদ গত তালিবান সরকারের আমলে প্রবল যুদ্ধ করে নিজের এলাকা তালিবান মুক্ত রেখেছিলেন। পরে নাশকতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পিতার মতোই পঞ্জশিরকে তালিবান মুক্ত রাখতে নিজস্ব সেনাবাহিনির প্রস্তুতি শুরু করেছেন জুনিয়র মাসুদ। এখানেই রয়েছেন অপসারিত আফগান সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট সামারুল্লাহ। তিনি নিজেকে প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করেছেন। একমাত্র পঞ্জশিরেই এখনও উড়ছে তালিবানি আমলে সদ্য উপড়ে ফেলা আফগান জাতীয় পতাকা।

আফগানি কূটনীতির তাস খেলায় দিল্লির টেক্কা তালিবান স্তানেকজাই

sher mohammad abbas stanikzai

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: আফগানিস্তানে তালিবান সরকার গড়ার প্রক্রিয়া চলছে। যে জঙ্গিরা ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত সরকার চালিয়েছিল তারা দু’দশক বাদ ফের কাবুলের ‘তখত- এ- তউস’ (সিংহাসন) দখল করেছে। দু-দফার এই তালিবান শাসনের মাঝে নয়াদিল্লির আফগান নীতি কী হবে? এই প্রশ্ন তাড়া করছে কেন্দ্রের এনডিএ সরকারকে।

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, প্রথম দফায় যখন আফগানিস্তানের সরকার তালিবান কব্জায় ছিল তখনও ভারতে এনডিএ সরকার। বিখ্যাত ‘কান্দাহার বিমান অপহরণ’ বা ‘IC 814 Hijack’ ঘটে ১৯৯৯ সালে। পাকিস্তানের জঙ্গি নেতা মাসুদ আজাহারের মুক্তির বিনিময়ে বিমানে বন্দি ভারতীয়দের ছাড়িয়ে আনেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী।

আফগানিস্তানের সেই প্রথম তালিবান সরকারের উপ প্রধানমন্ত্রী শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই। একদা দেরাদুন মিলিটারি একাডেমির প্রশিক্ষিত আফগান সেনা অফিসার স্তানেকজাই (শেরু) আই সি ৮১৪ বিমান অপহরণের ঘটনায় অপহরণকারী পাকিস্তানি জঙ্গিদের সঙ্গে আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। এমনকি, তালিবান সরকার অপহরণকারীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছিল বিমানটির ক্ষতি করা চলবে না। সে কথা মেনে নেয় পাকিস্তানি জঙ্গি অপহরণকারীরা।

সেই স্তানেকজাই আবারও তালিবান শাসনে চলে যাও আফগানিস্তানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পদে আসছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর, তালিবান নেতা শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই আফগানিস্তানের বিদেশমন্ত্রী হতে পারে।

এখানেই লুকিয়ে আছে ভারতের আফগান নীতির তুরুপের টেক্কা। কারণ স্তানেকজাই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চায়। গত ১৫ আগস্ট তালিবান যখন ফের কাবুল দখল করে, স্তানেকজাই নয়াদিল্লিকে সম্পর্কের বার্তা দেয়। ৩১ আগস্ট আমেরিকান সেনার সর্বশেষ বিমান উড়ে যাওয়ার পরেই স্তানেকজাইয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা করেছেন কাতারে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল।

কাতারে রাজধানী দোহা শহরেই আছে তালিবান জঙ্গি সংগঠনের আন্তর্জাতিক কর্পোরেট কার্যালয়। সেখানেই থাকে শেরু অর্থাৎ শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই। আল জাজিরা জানিয়েছে, দোহার ভারতীয় দূতাবাসে আমন্ত্রণ জানানো হয় স্তানেকজাইকে। বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, স্তানেকজাইয়ের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয় ছিল, ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরানোর বিষয়। আলোচনা হয়েছে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে। এছাড়াও বেশ কিছু আফগান নাগরিক যারা ইতিমধ্যে ভারতে যাওয়ার আবেদন করেছে, সেই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

কেন স্তানেকজাই ‘টেক্কা’?
শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই এমন এক তালিবান জঙ্গি নেতা যে প্রথম জীবন ছিল আফগান সেনা অফিসার। আশির দশকে আফগানিস্তানের সরকার তাকে দেরাদুনে ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিতে পাঠায়। দেশে ফিরে সোভিয়েত বিরোধী মুজাহিদিন গোষ্ঠীর হয়ে যুদ্ধে নামে। পরে স্তানেকজাই তালিবান সংগঠনের শীর্ষে ওঠে। আফগানিস্তানের প্রথম তালিবান সরকারের আমলে উপ প্রধানমন্ত্রীর পদ ছিল স্তানেকজাইয়ের।

২০০১ সালে মার্কিন সেনা অভিযানে তালিবান সরকারের পতন হয়। তখন স্তানেকজাই আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে কাতারে আশ্রয় নেয়। স্তানেকজাই ভারত সম্পর্কে নরম মনোভাব রাখে। কারণ তার দেরাদুন স্মৃতি ও ভারতীয় ‘বন্ধু’। দুটি কারণে স্তানেকজাই ওরফে শেরুকে সামনে রেখেই ভারত পরবর্তী আফগান নীতি নিচ্ছে। জানা যাচ্ছে, অতি দ্রুত স্তানেকজাইকে নয়াদিল্লি কূটনৈতিক বার্তা দেবে।

আফগান তালিবান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রক (সম্ভবত বিদেশমন্ত্রক) পেতে চলা স্তানেকজাই কাতার থেকে কবুলে এসে দায়িত্ব নেওয়ার পরেই নয়াদিল্লি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। ইতিমধ্যেই স্তানেকজাইয়ের তৈরি বয়ান আন্তর্জাতিকস্তরে ছড়িয়েছে তালিবান। কাবুল থেকে মার্কিন সেনার শেষ বিমান উড়ে যেতেই তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বিমানবন্দরের রানওয়েতেই বার্তা দেয় আফগানিস্তানকে মুক্ত ও সার্বভৌম দেশ। সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই।

ঘরবন্দি খালেদা জিয়া, বেগম-বিহীন ‘৪৩’ এর বিএনপি ছন্নছাড়া

Khaleda Zia

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: বাংলাদেশ (Bangladesh) জাতীয় রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী দল কোনটি? ধাঁধার প্রশ্ন। উত্তরটা মজার। বিএনপি বিরোধী দল আবার নয় ! দলটি ৪৩ বছরে পা রেখে এই ধাঁধা গোলকে ঘুরপাক খাচ্ছে।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম দল বিএনপির ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ১ সেপ্টেম্বর। ১৯৭৮ সালের এই দিনে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ ও ইসলামী মূল্যবোধ সামনে রেখে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই দল গঠন করেন।

বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সেনা অভ্যুত্থানে খুন করা হয় ১৯৭৫ সালে। এর পরেই ততকালীন অন্যতম সেনাকর্তা জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসেছিলেন। চূড়ান্ত অরাজকতা তখন ঢাকায়। রাষ্ট্রপতি ভবন অর্থাৎ বঙ্গভবন ঘিরে যুযুধান দুই সেনা পক্ষের ট্যাংক ঘিরে রেখেছিল। তেমনই পরিস্থিতে ক্ষমতার শীর্ষে চলে যান জিয়াউর রহমান।

সেই বিখ্যাত ধাঁধা!
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন আওয়ামী লীগ জোয়ার। আর জাতীয় সংসদের বিরোধী আসনে নেই একসময়ের ক্ষমতাধর বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি (বিএনপি)। ভোটে বিলীন হয়ে গিয়েছে দলটি। টায়টোয় ৬টি আসন! তবে যে কোনও মুহূর্তে রাজপথ দখল করে নিতে পারে বা নেয় বাংলাদেশের এই দলটি। বাংলাদেশের জনগণ জানেন বিরোধী দল বিএনপি। আর সরকারি হিসেবে গত দুটি জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদে বিরোধী দল হয়েছে একদা সামরিক শাসক প্রয়াত হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের দল জাতীয় পার্টি (জাপা)।

দ্বিতীয় ধাঁধা, বাংলাদেশের বিরোধী নেত্রী কে? একশ জনের মধ্যে নিরানব্বই জন বাংলাদেশি বা বিদেশি যারা বাংলাদেশের খবর রাখেন-এক ঝটকায় বলে দেবেন খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) নাম। আদৌ তা নয়। দেশটিতে প্রায় অস্তিত্বহীন ‘জাপা’ দলের (রংপুর বাদে) নেত্রী রওশন এরশাদ বিরোধী নেত্রী। তিনি প্রয়াত এরশাদের স্ত্রী।

দুটি ধাঁধাতেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের চরিত্র। পরপর তিনবার জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ। পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত তিনটি নির্বাচনের মধ্যে প্রথম দুটি নির্বাচনে ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগ তুলে ভোট বয়কট করেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া। জোট শরিক জামাত ইসলামিকে পাশে নিয়ে হিংসাত্মক জ্বালাও-পোড়াও নীতি নিয়েছিল বিএনপি। শতাধিক মৃত্যু হয়। বিএনপির উগ্র আন্দোলন দলটিতে রাজনৈতিকভাবে জনবিমুখ করে তেমনই দলটির কট্টরপন্থী সমর্থকরা আরও সংঘবদ্ধ হয়। তবে দলের অভ্যন্তরে খালেদা জিয়া ভোট বয়কট প্রশ্নে বিদ্ধ হন।

বিএনপির এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের তকমা পায় এরশাদ প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি। কুর্সিতে থাকা আওয়ামী লীগের সঙ্গে নরম সম্পর্কের খাতিরে বিরোধী দল হয়েও ‘জাপা’ এখন সরকারি দলের বর্ধিত অংশ বলেই বিবেচিত। এই অবস্থায় বিএনপি সংসদে প্রায় না থেকেও বাংলাদেশের রাজপথের বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ফের সেনা অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খুন হন। তাঁর সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়া আসেন নেতৃত্বে। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। এর পরেই হয় তাদের বিপর্যয়ের শুরু। আওয়ামী লীগের দ্রুত উত্থান। ফের কুর্সিতে বসেন শেখ হাসিনা। টানা হাসিনা শাসনে ঢুকে পড়েছে বাংলাদেশ।

তবে বিএনপি দলনেত্রী খালেদা জিয়া যিনি দলের অভ্যন্তরে ম্যাডাম ও বাংলাদেশের সর্বত্র বেগম জিয়া নামে সুপরিচিত তিনি রাজনৈতিক বিপর্যয়ের সাথে দুর্নীতির মামলায় জর্জরিত হতে থাকেন। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুটি মামলা দায়ের করে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল সোসাইটির আর্থিক দুর্নীতির মামলায় জেলে যান খালেদা জিয়া। অসুস্থতার কারণে তিনি এখন ঘরবন্দি। দেশ ছেড়ে বাইরে যেতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এই অবস্থায় বিএনপি দিশেহারা। আন্দোলনের ডাক দিলে হাজার হাজার সমর্থক রাজপথে জড় হন। কিন্তু আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছে ঘাটতি।

এক যুগের দেশ শাসন, টানা এক যুগেরও বেশি ক্ষমতার বাইরে। দুই দফা আন্দোলনে ব্যর্থতা, দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব এবং দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা। এমন বাস্তবতায় প্রতিষ্ঠার ৪৩তম বছরে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।

চারবার রাষ্ট্র ক্ষমতা এবং দু বার বিরোধী দলে থাকা বিএনপির ভবিষ্যৎ ঘরবন্দি বেগমের নির্দেশে চলে। তবে ক্ষয় হচ্ছে দ্রুত।

ভারতীয় রাষ্ট্রদূত-তালিবান আলোচনা শুরু, বড়সড় কূটনৈতিক ইঙ্গিত

India’s envoy in Qatar meets Taliban leader

#Afghanistan
নিউজ ডেস্ক: কাবুল (Kabul) থেকে মার্কিন সেনার বিমান সর্বশেষ উড়ানের পরেই আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রক তালিবান জঙ্গিরা বিশ্বজোড়া কূটনৈতিক বার্তা পাঠিয়েছে। তাদের বক্তব্য, সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক! এই বার্তার পরেই চরম কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু করল ভারত। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানাচ্ছে, কাতারের রাজধানী দোহা শহরে ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তলের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা হয় তালিবান নেতা স্তানেকজাইয়ের।

কাতারে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীপক মিত্তল ভারতীয় দূতাবাসে তালিবান নেতা স্তানেকজাইকে আহ্বান জানান। সেখানে জঙ্গি সংগঠনটির অন্যতম নেতার সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন।

বিদেশমন্ত্রক সূত্রে খবর, স্তানেকজাইয়ের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয় ছিল, ভারতীয় নাগরিকদের দ্রুত দেশে ফেরানোর বিষয়। আলোচনা হয়েছে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে। এছাড়াও বেশ কিছু আফগান নাগরিক যারা ইতিমধ্যে ভারতে যাওয়ার আবেদন করেছে, সেই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

আশির দশকে দেরাদুনে ইন্ডিয়ান মিলিটারি অ্যাকাডেমিতে প্রশিক্ষিত স্তানেকজাই পূর্বতন তালিবান সরকারের মন্ত্রী। আফগান সেনা হিসেবে ভারতে এসে দেরাদুন মিলিটারি একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেয় স্তানেকজাই। দেশে ফিরে সোভিয়েত বিরোধী মুজাহিদিন গোষ্ঠীর হয়ে যুদ্ধে নামে। পরে স্তানেকজাই তালিবান সংগঠনের শীর্ষে ওঠে। আফগানিস্তানের প্রথম তালিবান সরকারের আমলে উপ প্রধানমন্ত্রীর পদ ছিল স্তানেকজাইয়ের।  ২০০১ সালে মার্কিন সেনা অভিযানে তালিবান সরকারের পতন হয়। তখন স্তানেকজাই আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে কাতারে আশ্রয় নেয় স্তানেকজাই৷

দেরাদুন মিলিটারি একাডেমির সেই শেরু অর্থাৎ শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই সম্প্রতি ভারতের কাছে বার্তায় কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা বলেছিল। ভারতে সেনা প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুবাদে এই দায়িত্ব দেয় তার সংগঠন।

কাতারে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত ও তালিবানের মধ্যে হয়েছে তাৎপর্যপূর্ণ কূটনৈতিক বৈঠক। কারণ, মঙ্গলবার সর্বশেষ মার্কিন সেনা কাবুল থেকে চলে গিয়েছে। আফগানিস্তানকে মুক্ত ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে তালিবান। তারা বিশ্বজোড়া কূটনৈতিক বার্তা দিয়ে সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা বলেছে।

তালিবান কারা? আফগানিস্তানের জঙ্গি শাসকদের কথা

নিউজ ডেস্ক: তালিবান আসলে কারা? কীভাবে এই গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে আফগানিস্তানে? এক নজরে জেনে নিন।
পশতু ভাষায় তালিবান মানে ছাত্র।আফগানিস্তানে ১৯৮০-৯০ দশকে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ।সোভিয়েত হটাতে আমেরিকার মদতে মুজাহিদিন বাহিনি যুদ্ধ শুরু করে। শুরু হয় বিখ্যাত আফগান গৃহযুদ্ধ।
১৯৯০ দশক। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়। সেই সময় উত্তর পাকিস্তানে তালিবান সশস্ত্র সংগঠনের জন্ম।

সোভিয়েত বিরোধী কট্টর সুন্নী মতাদর্শের ইসলামই প্রচার করত তালিবান।
সোভিয়েত পতনের পর আফগানভূমি থেকে সরে যায় লাল ফৌজ।
পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান খুব দ্রুত প্রভাবশালী হয় তালিবান।

শুরু হয় তালিবানের কাবুল দখল অভিযান। সোভিয়েত মদতের আফগান সরকারের পতন হয়।
১৯৯৬ সালে তালিবান দখল করে কাবুল। প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাজিবুল্লাহকে খুন করে ঝুলিয়ে দেয়।
১৯৯৬-২০০১ তালিবান সরকার চলে আফগানিস্তানে।

প্রকাশ্যে মহিলাদের মাথা কাটা, গণহত্যার ও গণধর্ষণ শুরু করে তালিবান।
বিবিসি জানাচ্ছে,তালিবান দুর্নীতি দমনে সাফল্যে দেখিয়েছিল। ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ করে দিয়েছিল। তবে তালিবানের নৃশংসতা সবকিছু ছাপিয়ে যায়।

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আল কায়েদা হামলা করে।
আল কায়েদা জঙ্গি সংগঠনটির নেতা লাদেনের সঙ্গে সখ্যতা তালিবানের।
আল কায়েদা ও তালিবান সম্পর্কের কারণে আমেরিকা সরাসরি আফগানিস্তানে সেনা পাঠায়।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট সেনার হামলায় ২০০১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তালিবান সরকারের পতন ঘটে।
২০০১-২০২১ টানা কুড়ি বছর আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রক আমেরিকা।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকাএবং তালিবানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয় কাতারে।
চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকান সেনা সরতে শুরু করে। গত ১৫ আগস্ট তালিবান দখল করে কাবুল।
৩১ আগস্ট সম্পূর্ণ চলে গেলে আমেরিকান সেনা। আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বার তালিবান সরকার গড়ছে।

অ-মঙ্গল: গান্ধার দেশে মঙ্গলেই তালিবান আস্ফালন শুরু

Biden to Withdraw Combat Troops From Afghanistan

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: কুড়ি বছরের মারাত্মক অভিযান শেষ হয়ে যাচ্ছে। আজ ৩১ আগস্ট, ২০২১ আমেরিকার (US) সেনা পুরোপুরি সরে যাবে আফগানিস্তান (Afghanistan) থেকে।

আমেরিকা সরকার তালিবানের (Taliban) সঙ্গে যে শান্তি বৈঠক করেছিল তার ফল হিসেবে জঙ্গিরা এখন দ্বিতীয়বারের জন্য আফগানভূমির ক্ষমতায়। আজই আমেরিকান সেনা তাদের সর্ববৃহৎ বিদেশে সামরিক কর্মসূচি তুলে নিচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার, আজ মাথা কাটার তালিবানি আস্ফালনের দিন
ঠিক পনের দিন আগে, গত ১৫ আগস্ট ভারতের ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসের দিন দ্বিতীয়বার তালিবান জঙ্গি কব্জায় ঢুকেছিল আফগান রাজধানী কাবুল। সেইদিনই বিশ্ববিখ্যাত সাংবাদিক সম্মেলনে তালিবান জঙ্গিদের ঝাঁ চকচকে কর্পোরেট আদল দেখাতে মরিয়া চেষ্টা করে সংগঠনটির মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। আন্তর্জাতিক সংবাদদাতাদের সামনে তার দাবি ছিল, এই তালিবান তাদের পূর্বসূরিদের তুলনায় নরম মনোভাব দেখাবে।

আরও পড়ুন: ২০ বছরের যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তানে পরাজিত আমেরিকা

তালিবান তার চরিত্র বদলাবে না এটা আফগানবাসীর পালানো দেখেই স্পষ্ট। ঘরপোড়া গোরু যেমন সিঁদূরে মেঘ দেখলে ডরায় তেমনই ভুক্তভোগী আফগানিরা ভীত। তাঁরা প্লেনের চাকা ধরে পালাতে গিয়ে মরেছেন। কিন্তু পালাতে চাইছেন দেশ থেকে। কারণ সরকার গড়বে তালিবান। যে তালিবানের ভয়ঙ্কর মাথা কাটার রূপ গত ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে দেখা গিয়েছিল।

প্রথম তালিবান সরকার তৈরি হয় আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের লাল ফৌজ সরে যাওয়ার পর নির্বাচিত সরকারের প্রেসিডেন্ট ড নাজিবুল্লাহকে খুন করে। সম্পূর্ণ আমেরিকান মদতে তালিবান দখল করেছিল আফগানিস্তানের কুর্সি। তারপরেই তাদের বন্ধু জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার বাড়বাড়ন্ত। ২০০১ সালে আল কায়েদার হামলায় আমেরিকা সর্বাধিক নাশকতার কবলে পড়ে। ভয়াবহ ৯/১১ হামলার পরেই আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছিল আমেরিকান সেনা।

আরও পড়ুন : মার্কিন-আফগানিস্তান যুদ্ধে মৃত্যু এবং খরচ হল কত?

২০০১-২০২১ এই কুড়ি বছরে আমেরিকা তাদের সর্ববৃহৎ সামরিক অভিযান সংঘটিত করেছে আফগানিস্তানে। এই অভিযান শেষের চূড়ান্ত মুহূর্ত কাতারের রাজধানী দোহা শহরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তালিবান উপপ্রধা মোল্লা আবদুল বারাদারের মধ্যে শান্তি আলোচনায় তৈরি হয়। আফগানিস্তানের পুতুল সরকারের পক্ষে কিছুই করার ছিলনা। একপ্রকার পতন বুঝেই যায় আফগান সরকার।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতো আমেরিকা সেনা সরাতে শুরু করে। বিভিন্ন প্রদেশের দখল নেয় তালিবান। ন্যুনতম প্রতিরোধ করে আফগান সেনা পালাতে থাকে। অবশেষে গত ১৫ আগস্ট কাবুলে আফগান সরকারের পতন হয়। প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশত্যাগ করেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে তালিবান এখনও আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেয়নি। ৩১ আগস্ট আমেরিকার সেনা পুরো সরে গেলে কী হবে তা তালিবান ও আফগান জনতা জানে।

ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে ফিরেছে আল কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের দেহরক্ষী আমিন উল হক। লাদেন মৃত। আফগান সীমান্তের কাছে রুশ সামরিক মহড়া চলছে।রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক হয়েছে।

সবই ৩১ আগস্টের পরের পরিস্থিতি বিচার করে পদক্ষেপ নেওয়ার পালা। আজকেই তালিবান আফগানভূমিতে ফের মুক্ত। তাদের আস্ফালন শুনছে বিশ্ব। ঘর ফেরত আমেরিকান সেনারা জানেন তারা কী পরিস্থিতি পিছনে ফেলে যাচ্ছেন। অসহায় আফগানিরা মাথা কাটার ভয়ে দিন শুরু করবেন আজ থেকে।