ভবানীপুরে ভোটের আগেই দিলীপ ঘোষকে বিদায় জানাল বিজেপি

Sukanta majumdar

নিউজ ডেস্ক: মাত্র রবিবার বাবুল কারনামা দেখেছেন রাজ্যবাসী। বিজেপির সাংসদ সোজা তৃণমূলে ঢুকেছেন। এর মাঝে নীরবে দলের ভিতর সাংগঠনিক রদবদলের পথ নিয়েছে প্রদেশ বিজেপি তা টের পাওয়া যায়নি। সোমবার দলটির রাজ্য সভাপতি অপসারিত হলেন দিলীপ ঘোষ। বিজেপি ঘোষণা করেছে নতুন রাজ্য সভাপতি হচ্ছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের সাংসদ ডা সুকান্ত মজুমদার।

যদিও দিলীপবাবুর হাতেই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ঐতিহাসিক সফলতা অর্জন করে রাজ্যে বিরোধী দলের তকমা পেয়েছে। আরএসএসের আদর্শে জীবন চালানো অকৃতদার দিলীপবাবুকে দায়িত্ব দেওয়ার পর তিনি কার্যত পদ্ম শিবিরের মরা গাঙে জোয়ার এনেছেন। তবে প্রত্যাশামতো বিজেপি রাজ্যে সরকার গড়তে পারেনি। তবে নজির গড়ে বঙ্গ বিধানসভায় বিরোধী দল হয়।

আচমকা দিলীপ ঘোষকে কেন অপসারিত করা হলো? এটাই চরম চর্চিত প্রশ্ন। পুরোটাই সাংগঠনিক পদক্ষেপ বলে চিহ্নিত করেছে বিজেপি। দিলীপবাবুর তুলনায় বর্তমান বিজেপি রাজ্য সভাপতি ডা সুকান্ত মজুমদার অনেকটা নরম। দিলীপবাবু যেভাবে কড়া ভাষণেই অভ্যস্থ সুকান্তবাবু ততটা নন।

প্রশ্ন উঠছে, ভাবানীপুর বিধানসভার উপনির্বাচনের আগেই কেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি পদ থেকে দিলীপবাবুকে অপসারিত করা হলো? সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক যে ভাঙন ধরেছে বঙ্গ বিজেপিতে তা রুখতে পারছিলেননা দিলীপ ঘোষ। তাঁর বিরুদ্ধে দলেরই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে অভিযোগের পাহাড় জমেছে।

বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দিলীপ ঘোষের সম্পর্কের ফাটল বেড়েছে। দু পক্ষ পরস্পরকে কটাক্ষ করেন অবিরত। বিভিন্ন জেলা থেকে দিলীপবাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগের ফিরিস্তি আসছে। হাওয়া ঠান্ডা করতেই রাজ্য সভাপতি বদল করল বিজেপি।

ভোট লুঠ অভিযোগ, ক্রেমলিনের নীল লাল কাঁচ ঘেরা বারান্দায় ফের হাঁটবেন পুতিন

Vladimir Putin

নিউজ ডেস্ক: ক্রেমলিন। বিশ্ব রাজনীতির যে ত্রিমুখী নিয়ন্ত্রক রয়েছে তার একটি কোনা হল রুশ রাজনীতির প্রশাসনিক সদর ভবনটি। ঠান্ডা পাথুরে দেওয়ালের গায়ে লাল নীল সবুজ হলুদ কাঁচের বন্ধ জানালাগুলো কবে শেষ খোলা হয়েছিল তা কেউ বলতে পারে না।

সেই ভবনের নিরাপদতম কুঠুরিতে যে প্রাচীন ওক কাঠের বিরাট টেবিল রয়েছে সেখানেই দেখা যায় ভ্লাদিমির পুতিন কে। দেখা যাবে আগামী ২০২৪ সাল পর্যন্ত। রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, জাতীয় নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ফের জয়ী। বিরোধী আসনে বসছে কমিউনিস্ট পার্টি।

Vladimir Putin

বিবিসি জানাচ্ছে, ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন পুতিন। গত নির্বাচনে তাঁর দল ইউনাইটেড রাশিয়া পার্টি ৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এবারের নির্বাচনে পুতিনের জনসমর্থন কমেছে। তাৎপর্যপূর্ণ, বিরোধী আসনে থেকে ভোটে নেমেছিল পূর্বতন সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসক কমিউনিস্ট পার্টি। তারা এবারেও সরকার গড়তে না পারলেও জনসমর্থন বাড়িয়েছে।রুশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রধান গেন্নাদি জুগানভ কড়া প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতায় ফেলে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পুতিনকে। বেশ কয়েকটি আসনে পুতিনের দলকে সরাসরি পরাজিত করেছে কমিউনিস্ট পার্টি।

বিবিসি আরও জানাচ্ছে,পুতিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার সমালোচকদের এই নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। ব্যালট বাক্স আগেই ভর্তি করে রাখা এবং জোরপূর্বক ভোট দেওয়ার অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।
১৯৯৯ সালে পুতিন রুশ সরকারের প্রেসিডেন্ট হন। বলা হয় সোভিয়েত জমানার শেষে তৎকালীন কেজিবি গুপ্তচর পুতিন তাঁর ক্ষুরধার বুদ্ধিতে সরকার চালান। সেই সঙ্গে অভিযোগ ওঠে, পুরনো কায়দায় অপহরণের। পার্লামেন্টে বিপুল ক্ষমতা পাওয়ায় পুতিন নিজেকে প্রায় একচ্ছত্র নায়ক করে রেখেছেন। কিন্তু এবার তাঁর জনসমর্থনে ঘাটতি এসেছে।

UP Election: রাহুল বাবা ভরসার নন, বেটি প্রিয়াঙ্কা কংগ্রেসের খুঁটি

Priyanka gandhi attacked up cm

নিউজ ডেস্ক: একলা চলো রে…। উত্তর প্রদেশের মতো মরণফাঁদে একলাই চলতে চাইছে কংগ্রেস। আপাতত এমন সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যৎ জোট অন্য কথা।

দেশের রাজনৈতিক ভার কেন্দ্র উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের মুখ কে? এআইসিসি চাইছে, প্রিয়াঙ্কা বঢরা গান্ধীকে। রাজীব সোনিয়ার উত্তরসূরী হিসেবে রাহুল গান্ধী জনপ্রিয় তবে রাজনীতিতে তেমন কিছু করতে পারছেন না। তাঁকে কেরল থেকে সাংসদ হতে হয়েছে।

উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে শাসক বিজেপি ও আপনা দল জোট বনাম অ-বিজেপি দলগুলির লড়াই। তবে এদের মধ্যে জোট সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তর প্রশ্ন রয়েছে।

সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টি, রাষ্ট্রীয় লোকদল, বাকি কিছু স্থানীয় দলের শক্তিকে একত্রিত করা কঠিন বুঝেই কংগ্রেস একলা চলতে চায়। তাৎপর্যপূর্ণ, এবারের উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে প্রথম থেকেই সক্রিয় প্রিয়াঙ্কা। কংগ্রেস মহলের খবর, ঠাকুমার মুখের আদল রয়েছে প্রিয়াঙ্কার। আর দেশে এখনও ইন্দিরা গান্ধী নাম বহুল পরিচিত।

প্রিয়াঙ্কা কি রাজনীতিতে সরাসরি? লখনউ থেকে ছড়াচ্ছে গুঞ্জন। বিজেপি প্রদেশ কার্যালয়ে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার অবস্থান নিয়ে চর্চা চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সরকারের ব্যর্থতা নিয়ে ক্রমাগত সরব হচ্ছেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি বলেছেন, গত উত্তর প্রদেশ সবদিক দিয়েই পিছিয়ে পড়েছে। বেকারদের চাকরি নেই। কৃষকদের সুখ-শান্তি নেই।

কৃষক আন্দোলনকে চাবিকাঠি করছেন প্রিয়াঙ্কা। এই কৃষক আন্দোলন রাজ্যে রাজনৈতিক মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ভবানীপুরের গুঞ্জন: মমতার বিরুদ্ধে লড়লেও দ্রুত TMC দরজায় প্রিয়াঙ্কা

priyanka tibrewal

নিউজ ডেস্ক: নেহাত লড়াই করতে হয় করা তার পরেই বন্ধুর আহ্বানে তিনিও চলে যাচ্ছেন টিএমসি শিবিরে। ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়ালকে নিয়ে এমনই গুঞ্জন প্রবল।

এদিকে সদ্য তৃণমূলে আসা তথা প্রিয়াঙ্কার বন্ধু বাবুল সুপ্রিয় জানান, ভবানীপুরে প্রচারে নিয়ে গেলে বিড়ম্বনায় পড়ব। তবে তৃণমূল কাজ করার সুযোগ দিয়েছে বাংলার জন্য কাজ করতে চাই।

পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় বিজেপি ছেড়ে এখন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা। তাঁর বন্ধু হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। মূলত অবাঙালি ভোটারদের এলাকা ভবানীপুরে ভোট টানতে অবাঙালি মুখের প্রার্থী দিয়েছে বিরোধী দল বিজেপি।

priyanka tibrewal

এদিকে বাবুল তৃণমূলে যোগ দিতেই ভবানীপুরে গুঞ্জন, বিজেপি প্রার্থী নামেই লড়ছেন। তিনিও দ্রুত দলত্যাগ করতে চলেছেন। বাবুল যেহেতু বিড়ম্বনার কথা বলেছেন তাই গুঞ্জন আরও বেশি।

ভবানীপুরে গত বিধানসভা ভোটে তৃণমূল জয়ী হয়। আর নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে পরাজিত হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হতে ফের ভবানীপুরকেই বেছে নিয়েছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক। গত নির্বাচনে ভবানীপুর থেকে জয়ী হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়েট। তিনি সরে দাঁড়ান। ফলে উপনির্বাচন হতে চলেছে। নির্বাচনে অপর প্রতিদ্বন্দ্বী সিপিআইএমের শ্রীজীব বিশ্বাস।

বিজয়ার পরেই বঙ্গ বিজেপিতে ‘বিচ্ছেদ সুর’ চড়া হচ্ছে

After durga puja Bjp bengal will face masive blow

নিউজ ডেস্ক: এর পর কে? ভোটের আগে টিএমসি (TMC) মহলে যখন পলাতক ভাইরাস তাড়া করছিল, রোজই প্রশ্ন ছিল এবার কে? ফল বের হতেই ছবি বদলে গিয়েছে। যদিও রাজ্যে প্রথমবার বিরোধী দল হয়েছে বিজেপি (BJP)। তবে স্বস্তি নেই একেবারে ভাগীরথীর ভাঙন ধরেছে।

পরপর বিরোধী শিবির ত্যাগ করে টিএমসি শিবিরে যেতে মরিয়া একগুচ্ছ নেতা, সাংসদ, বিধায়ক। সূত্রের খবর, বঙ্গ বিজেপি বহু চেষ্টা করে তাঁদের আটকাতেই পারেননি। এরা তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যাবেন তা ধরেই নিয়েছে মুরলীধর সেন লেনের ক্রাইসিস ম্যানেজাররা।

এই  সংক্রান্ত আরও খবর: ‘আমি দিদির সেবক’ মন্ত্রে পুজোর পরেই লাগাতার বিসর্জনের সানাই শুনবে BJP

সবথেকে চিন্তার বিজেপির বহু নেতা, সাংসদ, বিধায়ক নীরব। সংগঠন নিচু তলায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে গেছে বলেই জানতে পারছে রাজ্য নেতৃত্ব। এই তালিকায় উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে বিজেপিতে যোগ দেওয়া টলিপাড়ার শিল্পীরা যেমন আছে তেমনই আছে রূপোলি দুনিয়া থেকে রাজনীতিতে জমি পাওয়া নেত্রীরা। সূত্রের খবর, বিজেপির তাবড় দুই নেত্রীর নামে তৃণমূল সবুজ সংকেত দিয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন একগুচ্ছ বিধায়ক।

এই  সংক্রান্ত আরও খবর:বাবুল TMC হতেই ‘বিজেমূল’ তত্ত্বে বাম নেতাদের দুষছেন সমর্থকরা

সূত্রের খবর, আসন্ন শারোদতসবের পর বিজয়া পালন করেই বিচ্ছেদ টানতে চলেছেন বিজেপি সাংসদ বিধায়করা। তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা তথা বীরভূম জেলার দলীয় সভাপতি অনুব্রত মন্ডল (কেষ্ট) জানিয়েছেন, ভয়ঙ্কর খেলা হবে। মমতা ব্যানার্জি ভয়ঙ্কর খেলা খেলবেন।

ভবানীপুর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস জয় নিশ্চিত ধরে নিয়েছে। সদ্য তৃণমূলে আসা বাবুল সুপ্রিয়কে দিয়েই ভবানীপুরে প্রচার চালাবে টিএমসি। তাঁর পিছু আরও অনেকে লাইন দিয়েছেন, বিজেপি মহলেই খেদোক্তি প্রবল। সেই সঙ্গে কটাক্ষ, যেভাবে ভাঙাচ্ছিল তার উল্টোটা এখন হচ্ছে।

বাবুল TMC হতেই ‘বিজেমূল’ তত্ত্বে বাম নেতাদের দুষছেন সমর্থকরা

biman basu and surjya kanta mishra

নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী পরাজয়ের বিশ্লেষণে বাম নেতারা নিজেদের শূন্য হওয়ার কারণ খুঁজেছেন। পরে সিপিআইএমের (CPIM) সাংগঠনিক রিপোর্ট ‘পার্টি চিঠি’ তে বলা হয়, ভোটে টিএমসি (TMC) বিজেপির পারস্পরিক নেতা বিধায়কের বদলে যে বিজেমূল (Bijemool) স্লোগান তোলা হয়েছিল তা ভুল।

এই বিজেমূল স্লোগান মূলত কটাক্ষ মিশ্রিত। কিন্তু বাস্তবিক। ভোটের আগে একের পর এক তৃণমূল নেতার বিজেপিতে যাওয়া নিয়েই তৈরি স্লোগানটি রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছিল। যদিও বামেরা কিছুই করতে পারেনি।ভোটের পর তৃণমূলে ফিরে আসা নেতাদের নিয়েও কটাক্ষ চলছে।

Bijemul

তবে সিপিআইএমের সাংগঠনিক কড়া রীতি অনুসারে বিজেমূল তত্ত্ব নাকচ হওয়ায় উপনির্বাচনের আবহে তেমন শোনা যাচ্ছে না। সব হিসেব উল্টে গেল শনিবার। পশ্চিম বর্ধমানের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় (Babul supriyo) বিজেপি তো আগেই ছেড়েছিলেন, এবার তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন।

বাবুলের টিএমসি শিবিরে আসার পরেই ফের বিজেমূল তত্ত্বে মশগুল রাজনৈতিক মহল। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাম সমর্থকরা কটাক্ষ শুরু করেছেন। মন্তব্যের ঝড়ে দলের নেতাদের মুন্ডপাত করছেন। সমর্থকদের অভিযোগ, বিজেমূল স্লোগান ভুল না একদমই বাস্তবিক। তবে নেতারা বুঝতে পারেননি।

সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় টিএমসি হতেই বিজেমূল স্লোগান সক্রিয়। সিপিআইএম নেতাদের ঠেস দেওয়ার কাজও চলছে সমর্থকদের তরফে।

জামানত বাজেয়াপ্ত হবে জেনেই ‘নেতারা বেপাত্তা’, সিপিআইএমের শ্রীজীব প্রায় একলা

Shrijeeb Biswas

নিউজ ডেস্ক: রাস্তায় গলিতে প্রচার করছেন। সঙ্গে গুটিকয় যুবকর্মী সমর্থক, আর কেউ নেই! থাকার কথাও নয়, একেবারেই আনকোরা প্রার্থী তাও আবার রাজ্যে শূন্য হয়ে যাওয়া সিপিআইএম (CPIM) দলের। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের ‘হেরো’ প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও অস্তিত্বের যুদ্ধে নেমেছেন। আর আছেন বিজেপির প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। তিনি যথারীতি গিমিক টানতে মরিয়া, সম্বল অবাঙালি ভোটার। ভবানীপুরের উপনির্বাচনে এটাই তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর চালচিত্র।

ভবীনীপুর তৃণমূল কংগ্রেসের সেফ সিট। বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্রে জয়ী হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে বিজেপির কাছে পরাজিত হন। দল যেহেতু বিপুল শক্তি নিয়ে তৃতীয়বার সরকার গড়েছে তাই মুখ্যমন্ত্রী পদেই আছেন মমতা। প্রাক্তন বিধায়ককে নির্বাচন কমিশনের নিয়মে জিতে বিধানসভা ঢুকতে হবে। মমতা মরিয়া জিততে। বিজেপি মরিয়া আটকাতে। আর ‘বামেরা মরিয়া তাদের প্রার্থীকে জামানত খোয়াতে!’ এমনই কটাক্ষ টিএমসি ও বিজেপি শিবিরের।

Shrijeeb Biswas

বিধানসভা ভোটে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, ও আইএসএফের মধ্যে যে আসন সমঝোতা হয়েছিল তার নিরিখে সংযুক্ত মোর্চা লড়াই করে। একটি আসন তাদের জুটেছে। ভোট শেষ জোট শেষ অনেকটা এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন সিপিআইএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

ভবানীপুরের উপনির্বাচনে তাই একলা বামফ্রন্ট। কংগ্রেস ভবানীপুরে প্রার্থী দেবেনা ঘোষণা করেছে। আইএসএফ এখন বামেদের কাছে অছ্যুত। তবে ভবানীপুর কেন্দ্রে সিপিআইএম প্রার্থী প্রচার শুরু করেছেন। প্রচার দেখে এলাকার বাম কর্মী সমর্থকদের আক্ষেপ নেতারা কবে যে বুঝবেন। এভাবে ছেলেটাকে একলা ঠেলে দিলেন কেন?

শ্রীজীব বিশ্বাস হাঁটছেন। তাঁর পিছনে রয়েছে টানা চৌত্রিশ বছরের দীর্ঘ সময়ের বাম জমানার কঙ্কাল।

মানিকের সেই “মাইনাস জিরো পারফরম্যান্স বিজেপির” মন্তব্যে তীব্র শোরগোল

Manik Sarkar

নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পরিবেশ ত্রিপুরায় (Tripura)। আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম। বিজেপি জোট সরকার তীব্র বিতর্কে। ‘মাইনাস জিরো বিজেপি’ এখন ত্রিপুরা ছাড়িয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে শোরগোল ফেলেছে।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গে দলেরই পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকার  (Manik Sarkar) সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ফের ‘মাইনাস জিরো বিজেপির পারফরম্যান্স’ মন্তব্য করেন। মানিকবাবুর সেই মন্তব্য সর্বপ্রথম প্রচার করে ekolkata24.com বাংলা ওয়েব সংবাদ মাধ্যম।

পডুন গত ৮ সেপ্টেম্বরের সেই খবর

দিল্লিতে মানিক সরকার ফের একই মন্তব্য করার পরেই দিল্লির রাজনীতি উত্তপ্ত। তাঁর ভাইরাল মন্তব্যটি নিয়ে অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা সরব হতে শুরু করেছেন। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুর চড়াবেন দ্রুত।

জানা গিয়েছে, বাম শাসিত কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন, কংগ্রেস শাসিত ছত্তিসগড়, পাঞ্জাব, ডিএমকে বাম কংগ্রেস জোট শাসিত তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীরাও মোদী সরকারকে বিঁধতে তৈরি।

দিল্লিতে সর্বভারতীয় সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে মানিকবাবু জানান, রাজ্যটিতে আরএসএস ভয়ঙ্কর নীতির প্রয়োগশালা করার চেষ্টা করছে। ত্রিপুরা হলো আরএসএস বিজেপির রাজনৈতিক স্বৈরাচারী শাসনের গবেষণাগার।

গত ৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।সেদিন রাজনৈতিক আগুনে ত্রিপুরা জ্বলছিল। আগরতলা, উদয়পুর সহ এই রাজ্যের সর্বত্র বিরোধী দল সিপিআইএমের একের পর এক কার্যালয়ে আগুন ধরানো হয়। এমনকি আগরতলায় দলটির রাজ্য দফতর দশরথ দেব ভবন সহ দুটি সংবাদ প্রতিষ্ঠান দফতরে ভাঙচুর হয়। অভিযোগ প্রতিক্ষেত্রে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রেখে সরকারে থাকা বিজেপির সমর্থকরা হামলা চালায়। দলীয় পতাকা নিয়ে তাদের হামলার ছবি ও রাজপথে ভীত মানুষের পালানোর দৃশ্য দেশ জুড়ে ভাইরাল হয়েছে।

হামলার নেপথ্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সম্প্রতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী নেতা মানিক সরকারের কনভয়ে হামলার ঘটনায় সিপিআইএম কর্মীদের আক্রমণ। নিজের বিধানসভা ধনপুরে যেতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন মানিকবাবু। তাঁর উগ্র মূর্তিতে উৎসাহী হয়ে বাম সমর্থকরা হামলা চলায় ঘেরাওকারী বিজেপি সমর্থকদের উপরে। রনে ভঙ্গ দেয় বিজেপি।

বাম সমর্থকদের হামলার প্রতিবাদে ত্রিপুরা জুড়ে ৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিল প্রদেশ বিজেপি। অভিযোগ সেই সব মিছিলে বারবার হামলা চালায় সিপিআইএম সমর্থকরা। আচমকা দুপুরের পর থেকে বিজেপির সমর্থকরা উগ্রমূর্তি নেন। জ্বলতে থাকে ত্রিপুরা।

সন্ধে নাগাদ বিরোধী নেতা মানিক সরকার দাবি করেন, রাজ্যে শাসক দলের পায়ের তলায় মাটি সরে গেছে। তাদের পারফরম্যান্স ‘মাইনাস জিরো’।

রাজা প্রদ্যোতের সঙ্গে জোট সম্ভাবনা, মমতার জমি শক্ত হচ্ছে ত্রিপুরায়

Mamata and Pradyot Manikya

#Tripura নিউজ ডেস্ক: বঙ্গ বিধানসভার সর্বশেষ ভোটের ফলাফলে টিএমসি ও বিজেপির দ্বৈরথে ‘ছাগলের তৃতীয় সন্তানের মতো অবস্থা’ একদা রাজ্যের দুই শাসক দলের। সে ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার ফলাফল ঘোষিত হচ্ছিল। টিএমসি ও বিজেপির প্রার্থীদের জয় ও সংযুক্ত মোর্চার পরাজয়ের সংবাদ আসছিল। সর্বশেষে বঙ্গ বিধানসভায় শূন্য হয়ে গেল বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। মুজফ্ফর আহমেদ ভবনে সিপিআইএম রাজ্য দফতরের নেমেছিল ঘুমঘুম ভাব। বিধান ভবনে প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে অসহায় নীরবতা। জোটের শরিক একমাত্র আইএসএফের দখলে একটি আসন।

পশ্চিমবঙ্গের মতো ত্রিপুরার (Tripura) উপজাতি পার্বত্য স্বশাসিত পরিষদ (ADC) বোর্ড গঠনের ফলাফলে শূন্য প্রাপ্তি হয় বামেদের। তবে শাসক বিজেপি তাদের উপজাতি শরিক দলও পারেনি বোর্ডের দখল নিতে। আচমকা ঝড়ের মতো এসে ক্ষমতা দখল করে নিলেন রাজা প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মা (Pradyot Bikram Manikya Deb Barma)। তাঁর দল তিপ্রা মথা উপজাতি এলাকার সদর খুমলুঙের নিয়ন্ত্রক। আগরতলার রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন রাজামশাইয়ের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সুসম্পর্ক আরও একটা চমক তৈরি করবে।

বিধানসভার মোট ৬০ টি আসন। উপজাতি এলাকার মধ্যে পড়ছে ২০টি আসন। তার প্রায় নিরানব্বই শতাংশ এলাকায় এখন তিপ্রা মথা অর্থাত রাজা প্রদ্যোতের কর্তৃত্ব। বাকি থাকে ৪০টি আসন। এতে লড়াইয়ে আছে বিরোধী দল সিপিআইএম ও কংগ্রেস। সূত্রের খবর সরকারে থাকলেও বিজেপি ক্রমে জমি হারাচ্ছে সর্বত্র।

পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার জয়ী হয়েই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নজর ঘুরিয়েছেন ত্রিপুরার দিকে। ফের এই রাজ্যে টিএমসির রাজনৈতিক কর্মসূচি চলছে। দলনেত্রীর তরফে রাজ্য চষছেন সুস্মিতা দেব। অসমের শিলচরের সদ্য কংগ্রেসত্যাগী সুস্মিতা প্রয়াত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা। তিনি রাজা প্রদ্যোত একসঙ্গে দীর্ঘ সময় কংগ্রেসে ছিলেন। পুরনো সম্পর্ক। মনে করা হচ্ছে জোটের সমীকরণে বড় ভূমিকা নিচ্ছেন সুস্মিতা দেব।

সূত্রের খবর, রাজা প্রদ্যোতের সঙ্গে সুসম্পর্ক মমতারও। তিপ্রা মথা ও টিএমসির জোটে এই সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। পরিস্থিতি এই দিকে গেলে তৃণমূল কংগ্রেসের জমি শক্ত হবে ত্রিপুরায়। পার্বত্য উপজাতি এলাকা শরিকদের হাতে ছেড়ে বহু পরিচিত বিজেপির বিক্ষুব্ধ নেতার শক্তিতে সমতল এলাকায় রাজনৈতিক যুদ্ধে নামবেন মমতা। সূত্র খবর, এই নেতা মনস্থির করে নিয়েছেন। শুধু বিজেপি ত্যাগ করার ঘোষণার অপেক্ষা। তাঁর নেতৃত্বে গত নির্বাচনের আগে ত্রিপুরার বিরোধী দল কংগ্রেস এক নিমেষে তৃণমূল হয়েছিল। তারই নেতৃত্বে সেই তৃণমূলীরা হয়েছেন বিজেপি। ফের তারা মমতামুখী।

সাইড লাইনে ইয়েদুরাপ্পা, বিপ্লব? বেঙ্গালুরু-আগরতলায় শোরগোল

Bjp may change cm of karnataka and tripura

নিউজ ডেস্ক: আচমকা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে বিজয় রুপানির পদত্যাগ, তাঁর জায়গায় নতুন মুখ ভূপেন্দ্র প্যাটেল। মোদী সরকারের আমলেই তিনবার মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদলে গেল গুজরাটে। অথচ বিজেপি (BJP) সেখানে টানা ক্ষমতায়। কেন গুজরাটেই এতবার মুখ্যমন্ত্রীর বদল? নীরব সংঘ ও বিজেপি।

গুজরাটে মুখ্যমন্ত্রী বদল অপর দুই বিজেপি শাসিত রাজ্য কর্নাটক ও ত্রিপুরায় তীব্র আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। কারণ দক্ষিণ ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের দুই রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদলের দাবি উঠেছে। মনে করা হচ্ছে, কর্নাটকে যে কোনও সময় বদল করা হবে মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পাকে।

Read More: সাত বছরে সর্বাধিক কংগ্রেস নেতা-বিধায়ক-সাংসদের বিজেপি যোগ: রিপোর্ট

তবে এর আগে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদে তিনজন মুখ্যমন্ত্রী বদল করেছে বিজেপি। অসমের মুখ্যমন্ত্রী পদে সর্বানন্দ সোনোয়ালের বদলে আনা হয়েছে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে। অসমের প্রতিবেশি রাজ্য ত্রিপুরায় বিজেপির অন্দরমহলে তীব্র আলোড়ন। এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে নিয়েই বিক্ষোভ তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই বিক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়করা বারবার ক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের দাবি বিধানসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদল না করলে ত্রিপুরায় দলের বিলীন হওয়া নিশ্চিত।

ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির অভ্যন্তরে ক্রমে দীর্ঘ হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী গোষ্ঠী সুদীপ রায় বর্মণের ছায়া। আগরতলায় গুঞ্জন বিভেদ এমন যে যে কোনও সময় সুদীপবাবুর নেতৃত্বে অন্তত ১৬ জন বিধায়ক দলত্যাগ করবেন। তাঁরা ফের তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যেতে পারেন। সরকার পড়েও যেতে পারে। গত বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী দল কংগ্রেস ছেড়ে তৃ়নমূল কংগ্রেস হয়ে শেষপর্যন্ত বিজেপিতে এরা এসেছিলেন। নির্বাচনে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। সিপিআইএম এখন প্রধান বিরোধী দল।

ত্রিপুরায় আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে হাজির তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ত্রিপুরায় শক্তি জাহির করতে মরিয়া। টিএমসি সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট দাবি করেন, চাইলে যে কোনও মুহূর্তে বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকার ফেলে দিতে পারেন। তিনি ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রীরই ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীরা তৃণমূলে ফিরতে মরিয়া।

দলে বিক্ষোভ থামাতে গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, অসমের মতো এবার কি কর্নাটকে ইয়েদুরাপ্পা ও ত্রিপুরায় বিপ্লবকে সাইডলাইনে ঠেলবে বিজেপি? বেঙ্গালুরু ও আগরতলায় চলছে রাজনৈতিক জল্পনা।

সাত বছরে সর্বাধিক কংগ্রেস নেতা-বিধায়ক-সাংসদের বিজেপি যোগ: রিপোর্ট

নিউজ ডেস্ক: গত সাত বছরে দল বদলের খেলায় চরম সংকটে পড়েছে কংগ্রেস (Congress)৷ সমস্ত রাজনৈতিক দলের মধ্যে সব থেকে বেশি কংগ্রেস নেতা-বিধায়ক দলত্যাগ করেছে৷ তারা প্রত্যেকের ‘হাত’ সঙ্গ থেকে বিজেপিতে যোগদান করেছে৷ পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দেশে অনুষ্ঠিত বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনের সময় সর্বাধিক সংখ্যক নেতা কংগ্রেস পার্টি ত্যাগ করেছেন।

ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস (এডিআর) সম্প্রতি একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে৷ সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, কংগ্রেসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রার্থী দলত্যাগ করে অন্যান্য রাজনৈতিক দলে যোগদান করছেন।

রিপোর্টে অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময়ে ২২২ জন প্রার্থী (২০ শতাংশ) কংগ্রেস ছেড়ে অন্য দলে যোগদান করেছেন। এটিই সব থেকে বেশি প্রার্থীর সংখ্যা। যদিও ওই সময়কালের মধ্যে ১৫৩ জন (১৪ শতাংশ) প্রার্থী নির্বাচনে লড়তে এবং অন্য একটি দলে যোগ দিতে বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) ত্যাগ করেছেন।

ইলেকশন ওয়াচের বিশ্লেষণ অনুসারে, রাজনৈতিক দলত্যাগকারী ১১৩৩ জন প্রার্থীর মধ্যে কমপক্ষে ২৫৩ জন (২২ শতাংশ) ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগদান করেছেন। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৪ থেকে ২০২১সালের মধ্যে মোট ১১৩৩ জন প্রার্থীর ২৫৩ জন (২২ শতাংশ) বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এরপরেই কংগ্রেসে যোগদানকারী প্রার্থীদের সংখ্যা এবং তারপর বিএসপিতে যোগ দেন ৬৫ জন (৬ শতাংশ) প্রার্থী।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একটি দল ত্যাগকারী সর্বাধিক ১৭৭ জন (৩৫ শতাংশ) এমপি, বিধায়ক কংগ্রেসের ছিলেন৷ যারা ২০১৪-২০২১ সালের বর্তমান সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময়ে অন্য দলে যোগ দিয়েছেন।

এডিআর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গত সাত বছরের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের সময়ে ১৭৭ জন (৩৫ শতাংশ) সংসদ সদস্য ও বিধায়ক, যা সর্বোচ্চ সংখ্যক, কংগ্রেসকে ছেড়ে অন্য একটি দলে যোগ দেন। অন্যদিকে, ৩৩ জন (৭ শতাংশ) সাংসদ-বিধায়ক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য এবং অন্য দলে যোগ দিতে বিজেপি ত্যাগ করেছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই সাত বছরের মধ্যে রাজনৈতিক দল বদলকারী ৫০০ সাংসদ/বিধায়কের মধ্যে ১৭৩ (৩৫ শতাংশ) বিজেপিতে যোগদান করেছেন। তারপরে ৬১ জন (১২ শতাংশ) সাংসদ-বিধায়ক কংগ্রেসে শামিল হয়েছেন। ৩১ জন (৬ শতাংশ) সাংসদ-বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।

ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্রেটিক রিফর্মস ১১৩৩ জন প্রার্থী এবং ৫০০ সাংসদ-বিধায়কের দেওয়া নিজেস্ব হলফনামা বিশ্লেষণ করেছে৷ যারা ২০১৪ সালের পর থেকে লোকসভা এবং বিধানসভা নির্বাচনের সময় দল বদল করে পুনরায় ভোটের লড়াইয়ে নেমেছিলেন৷

‌ভবানীপুরে মমতার মনোনয়ন, গোরু খোঁজার মতো প্রার্থী খুঁজছে BJP

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক: সরকার পক্ষের মনোনয়ন পেশ। বিরোধীপক্ষ গোরু খোঁজার মতো প্রার্থী খুঁজছে। তৃতীয়পক্ষ শূন্য সিপিআইএম পর্যন্ত প্রার্থী দিয়েছে। সব মিলে শুক্রবার উপনির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ছে।

ভবানীপুর কেন্দ্রে ফের প্রার্থী হতে মনোনয়ন জমা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর মনোনয়ন পেশ নিয়ে রাজনৈতিক মহল সরগরম।

সরকারে থাকা তৃণমূল এগিয়ে। নির্বাচনে এই কেন্দ্র টিএমসির দখলে গিয়েছে। তবে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী হেরে যান। তাঁর দল জিতে যায় রাজ্যে। তিনি প্রাক্তন বিধায়ক হয়েই কুর্সিতে বসেন। নিয়মানুসারে ছয়।মাসের মধ্যে মমতা কে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হতে হবে। ইতিমধ্যে দলনেত্রীকে বিধানসভান নিয়ে যেতে সেফ আসন হিসেবে ভবানীপুরকেই বেছে নেয় টিএমসি। জয়ী বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধায়কপদ ত্যাগ করেন।

এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস দলনেত্রীর জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। শুধু মার্জিন বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য নেতা কর্মীরা ঝাঁপ মারতে তৈরি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেরকমই নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে বিরোধী দল বিজেপির অন্দরে আলোড়ন। মমতার বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জিতে এখন বিরোধী নেতা। এবার কে দাঁড়াবে ভবানীপুরে, হন্যে হয়ে মুখ খুঁজছে বিরোধী দল।

বিধানসভাবিধায়ক ভোটে নজিরবিহীনভাবে ভাবে শূন্য হয়ে গিয়েছে বামফ্রন্ট। তবে তাদের তরফে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন তরুন আইনজীবী শ্রীজীব বিশ্বাস।

ভবানীপুর কেন্দ্র আসন্ন উপনির্বাচনের চরম কৌতূহলের কেন্দ্র। এখানে লড়াই হচ্ছে বিধানসভায় আশাহত তিন পক্ষের মধ্যে। প্রথম পক্ষ তৃণমূলের নেত্রী যিনি নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মুখ তিনি নন্দীগ্রামেই পরাজিত হয়ে চরম ‘বেদনাহত’।

দ্বিতীয়পক্ষ আশাহত বিজেপি যারা মনে করেছিল রাজ্যে প্রথমবার সরকার গড়বে। এখন দলত্যাগী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ক্রমাগত বিধায়ক সংখ্যা কমছে তাদের।

তৃতীয়পক্ষ শূন্য বামেরা সব হারিয়ে ভাঁড়ে মা ভবানীর মতো পরিস্থিতি। ভবানীপুরে ফের ভোট হবে।

‘হেরো’ মমতা-‘শূন্য’ সিপিএম-‘দলত্যাগী ভাইরাস’ বিজেপি, ভবানীপুরে ভোট!

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক: এমন ভোট কখনও হয়নি। বঙ্গ রাজনীতির সেই স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় মুসলিম লীগ সরকার থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী কংগ্রেস, যুক্তফ্রন্ট, বামফ্রন্টের আমলে এমনটা হয়নি। নজিরবিহিন হয়ে গিয়েছে সর্বশেষ বিধানসভার নির্বাচন। তৃণমূল কংগ্রেসের দশ বছরের সরকার চালিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) হেরে গিয়েছেন নন্দীগ্রাম থেকে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে তৃতীয়বার সরকার গড়েছে। প্রথমবার বিজেপি রাজ্যে বিরোধী দল আর গোহারা হেরে শূন্য হয়েছে একদা শাসক সিপিআইএম।

নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী হেরেও দলীয় শক্তির জোরে ফের কুর্সিতে। তাঁকে আইনত জয়ী বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় আসতে হবে। প্রাক্তন বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই উপনির্বাচনের পরীক্ষা দেবেন। সেই পুরনো কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে। যেখান থেকে গত বিধানসভার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।

কলকাতার ভবানীপুর ঘিরে এখন তিনটি শব্দ- ‘মমতার কী হবে’। তৃণমূল বলছে, দেশের একমাত্র মোদী বিরোধী মুখ মমতাকে জিতিয়ে দেবেন ভবানীপুরবাসী। যেমন তারা এবারের ভোটে তাঁরই মনোনীত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে জয়ী করেছেন। বিরোধী দল বিজেপির কটাক্ষ, ‘হেরো মমতা’ নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া। শূন্য হয়ে যাওয়া বামেরা নীরব। তবে তারাও হেরো তকমা দিচ্ছে মু়খ্যমন্ত্রীকে।

ভবানীপুর কেন্দ্র আসন্ন উপনির্বাচনের চরম কৌতূহলের কেন্দ্র। এখানে লড়াই হচ্ছে বিধানসভায় আশাহত তিন পক্ষের মধ্যে। প্রথম পক্ষ তৃণমূলের নেত্রী যিনি নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মুখ তিনি নন্দীগ্রামেই পরাজিত হয়ে চরম ‘বেদনাহত’।

দ্বিতীয়পক্ষ আশাহত বিজেপি যারা মনে করেছিল রাজ্যে প্রথমবার সরকার গড়বে। এখন দলত্যাগী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ক্রমাগত বিধায়ক সংখ্যা কমছে তাদের। তৃতীয়পক্ষ শূন্য বামেরা সব হারিয়ে ভাঁড়ে মা ভবানীর মতো পরিস্থিতি। ভবানীপুরে ফের ভোট হবে।

Photo Gallery: জ্বলছে ত্রিপুরা-আগরতলায় আতঙ্ক

Attack on cpim tripura state office at agaartala

রাজনৈতিক হামলায় বিরোধী দল সিপিআইএম রাজ্য দফতর পুড়েছে। এমনই আগুন যে আসেপাশের কয়েকটি বাড়িতেও আগুন ছড়ায়। অভিযোগ পুলিশ নির্বিকার। হামলায় অভিযুক্ত সরকারে থাকা বিজেপি সমর্থকরা। বু়ধবার ত্রিপুরায় একের পর এক জেলা সদর, মহকুমা ছাড়িয়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপে খোদ রাজধানী আগরতলা শহর যেন জ্বলন্তপুরী। আগুনে জ্বলছে ত্রিপুরা দেখুন ছবিতে

জ্বলছে আগরতলা, মাইনাস জিরো পারফরম্যান্স বিজেপির, জনবিচ্ছিন্ন দল: মানিক সরকার

Political vandalism creats controversy in tripura

নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক হামলায় বিরোধী দল সিপিআইএম রাজ্য দফতর পুড়েছে। এমনই আগুন যে আসেপাশের কয়েকটি বাড়িতেও আগুন ছড়ায়। অভিযোগ পুলিশ নির্বিকার। হামলায় অভিযুক্ত সরকারে থাকা বিজেপি সমর্থকরা। বু়ধবার ত্রিপুরায় একের পর এক জেলা সদর, মহকুমা ছাড়িয়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপে খোদ রাজধানী আগরতলা শহর যেন জ্বলন্তপুরী।

দলীয় রাজ্য দফতরে আগুন ধরানো ও জনজীবনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলনেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, মাইনাস জিরো পারফরম্যান্স বিজেপির, জনবিচ্ছিন্ন দল হয়ে গিয়েছে। তবে পুরো ঘটনায় বিজেপি ত্রিপুরা প্রদেশ সম্পূর্ণ নীরব।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ত্রিপুরার রাজনৈতিক জ্বলন্ত পরিবেশ। ভয়াবহ পরিস্থিতি। রাজপথ দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছেন জনগণ। পরপর দোকান লুঠ হচ্ছে। একের পর এক গাড়িতে আগুন ধরানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে স্লোগান ‘জয় শ্রী রাম’, এই মাটিতেই হিসেব হবে। আতঙ্কিত আগরতলাবাসী। খোদ ত্রিপুরার রাজধানীতে এখন অগ্নিগর্ভ পরিবেশ। হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি।

জ্বলছে ত্রিপুরা

পরিস্থিতি এমন যে আগরতলায় জনগণ প্রবল আতঙ্কিত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কনভয় সোমবার তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র ধনপুরে আটকেছিল বিজেপি সমর্থকরা। মানিকবাবু নিজে নেমে রুদ্রমূর্তি নেন। বাম সমর্থকরা ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজেপির সমর্থকদের উপরে। রণে ভঙ্গ দেয় বিজেপি। মাত্র একদিনের মধ্যেই মারের বদলা নিতে অগ্নিমূর্তি ধারণ করল বিজেপি বলে অভিযোগ। আগরতলা জ্বলছে। বিশালগড়, উদয়পুর সহ রাজ্যের সর্বত্র হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই পরপর আগরতলায় একটার পর একটা দোকান ভাঙচুর করা হয়।

আগরতলায় সিপিআইএমের রাজ্য দফতরে হামলার পাশাপাশি কয়েকটি সংবাদপত্র দফতরেও হামলা হয়। সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির অভিযোগ, বিশালগড়ে তাদের দলীয় দফতরে হামলা করে আগুন ধরিয়েছে বিজেপির সমর্থকরা। প্রকাশ্যেই আগ্মেয়াস্ত্র নিয়ে আস্ফালন করছে হামলাকারীরা। এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

অসুস্থতার মধ্যে বিশ্রামের তোয়াক্কা না করে ফিরোজ গান্ধি মৃত্যুকে ডেকে এনেছিলেন

Feroze Gandhi

বিশেষ প্রতিবেদন:  ১৯৬০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর যেদিন ফিরোজের (Feroze Gandhi) তৃতীয়বার হার্ট অ্যাটাক হল সেদিনও ইন্দিরা নেই দিল্লিতে, তিনি সেদিন কেরলে রয়েছেন৷ এর ঠিক বছয় দুয়েক আগে যেদিন ফিরোজের প্রথম হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল সেদিনও ইন্দিরা ছিলেন দিল্লির বাইরে৷

বছর দুয়েক আগের কথা সেটাও ছিল সেপ্টেম্বর মাস৷ আগের দিন রাতে ফিরোজ গান্ধির হার্ট অ্যাটাক হওয়ায় , ১৯৫৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে ওয়েলিংডন হাসপাতালে ভর্তি হতে হল তাঁকে। খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পন্থ এবং শিল্প বাণিজ্যমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। রাতের দিকে অনেকটাই শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়।খবর পাওযার পর সন্ধ্যেবেলায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় ফিরোজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ডাক্তারদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং চিকিৎসার বিষয় তাঁর পরামর্শ দেন।দিল্লিতে যখন এই সব ঘটনা‌ ঘটছে তখন প্রধানমন্ত্রী নেহরু রয়েছেন ভুটান সফরে। নেহরুর সঙ্গে ইন্দিরাও গিয়েছেন ওই সফরে৷ সেখানেই ইন্দিরা ফিরোজের অসুস্থতার খবর পান। তবে সেদিন সন্ধেবেলায় অবস্থার উন্নতি হওয়ায় ফিরোজের বিপদ কেটে গিয়েছে তাদের আর তাড়াহুড়ো করে ভুটান থেকে আসার দরকার নেই বলে বার্তা যায় নেহরু ও তাঁর কন্যার কাছে।কারণ খবর পেয়ে প্রথমে তাঁরা সফর কাটছাট করে ফেরার কথা ভাবছিলেন৷ সিকিম ভুটান সফর সেরে তারা কয়েকদিন পরে ফিরলে নেহরু পালাম বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গেলেও, অন্য গাড়িতে করে ইন্দিরা চলে আসেন সরাসরি হাসপাতালে‌ অসুস্থ স্বামীকে দেখতে। সেখানে গিয়ে সেদিন ফিরোজের কাছে ছিলেন আধঘন্টা। ভর্তি হওয়ার পর সাত সপ্তাহের বেশি দিন কাটিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান ফিরোজ। ছাড়া পেলেও চিকিৎসকদের পরামর্শ ছিল তারপরেও অন্তত দিন ১৫ যেন তিনি বিশ্রাম নেন।

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও বিশ্রামের তোয়াক্কা করেন না ফিরোজ৷ যথারীতি আগের মতোই জীবন৷ বরং তখন যেন একটু বেশিই পরিশ্রম করতে তাঁকে দেখা যাচ্ছিল বলে মনে হয়েছিল তাঁর পরিচিত মহলের একাংশের৷ ইন্দর মালহোত্রার মতে , ফিরোজ যতই তার বন্ধু এবং শুভানুধ্যায়ীদের দ্বারা পরিবৃত হয়ে থাকুন না কেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে খুবই একা এবং মানসিক ভাবে দুঃখে ছিলেন। আর তাই অতিরিক্ত কাজের মধ্যে ডুবে থেকে নিজেকে শেষ করে দেন। তাছাড়া ফিরোজের পরিচিত অনেকেই লক্ষ্য করেছিলেন ডাক্তারেরা সিগারেট এবং মদ্য পান করতে নিষেধ করলেও তিনি তা একেবারেই শুনতেন না।

এই অসুস্থতার মধ্যেও গত দুবছর তিনি নিয়মিত সংসদে হাজিরা দিতেন, সময় ভাগ করে নিতেন বিতর্কে অংশ নেওয়া এবং লবিতে থাকার জন্য। তৃতীয়বার হার্ট অ্যাটাকের কয়েকদিন আগে ফিরোজ তাঁর ক্লান্তির কথা বলেছিলেন ঘনিষ্ঠ মহলে৷ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের নজরে এসেছিল শেষ কয়েক মাস ফিরোজ কী রকম রীতিমতো পরিশ্রম করেছেন। তিনি ফিরোজ সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘‘উনি ডাক্তারের এবং বন্ধু-বান্ধবের পরামর্শ অগ্রাহ্য করেই রীতিমত পরিশ্রম করতেন শুধুমাত্র সাংসদ হিসেবে নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবেও এই সময় যথেষ্ট কাজ করতে দেখা যেত। এই বিশেষ দায়িত্ব থাকার জন্য দুটি তৈল শোধনাগারের কাজের বিষয়ে বুঝতে ১৪ সেপ্টেম্বর তার বম্বে যাওয়ার কথা ছিল।’’ তাছাড়া রাধাকৃষ্ণণকে ফিরোজ জানিয়েছিলেন, তাঁর নিজের লোকসভা কেন্দ্রে তিনি একটি কলেজ গড়তে চান৷ আর সেজন্য তহবিল জোগাড়ের উদ্দেশ্যে ফিরোজ বম্বে এবং অন্যান্য জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

এদিকে যথারীতি ৭ সেপ্টেম্বরেও ফিরোজ লোকসভায় এলেন এবং বিকেল পর্যন্ত ছিলেন। তারপর তিনি ওয়েলিংডন নার্সিংহোমের সুপারেনটেনডেন্ট ডাক্তার খোসলাকে ফোন করেন শারীরিক কারণে। এই ডাক্তার খোসলা তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধু৷ তাছাড়া ১৯৫৮ সালে তার প্রথম হার্ট অ্যাটাকের পর থেকেই ফিরোজের চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ফোন পাওয়ার পরেই তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে ফিরোজকে অনুরোধ করেন না বের হতে। কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ শোনার পাত্র তো তিনি নন৷ গত পাঁচদিন ধরে বুকে ব্যথা হচ্ছিল, সেই সব উপেক্ষা করেই তিনি সংসদ ভবন থেকে নার্সিংহোমের দিকে গাড়ি চালিয়ে রওনা দিলেন। এরপর সেখানে গিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলার পর চা খাবেন ঠিক করেন। চা দেওয়া হলে তিনি হঠাৎ ঢলে পড়েন। তখন তাকে বিছানায় নিয়ে এসে শুইয়ে দেওয়া হয়। খোসলা এবং আরও পাঁচ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ফিরোজকে ঘিরে রাখেন কিন্তু তিনি চিকিৎসায় ঠিকমতো সাড়া দেন না। ক্রমশ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তবে যেটুকু জ্ঞান ছিল তাতে বারবার জানতে চাইছিলেন ইন্দিরা কখন আসবে। ইন্দিরা সেই সময় দলীয় কাজে ত্রিবান্দম গিয়েছেন। ইন্দিরা দিল্লি ফিরেই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি নার্সিংহোমে চলে আসেন স্বামীকে দেখতে। ইন্দিরা তাকে দেখতে এলেও হাসপাতালের ফিরোজের শয্যার পাশে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি কারণ সে নিজেও সেদিন ছিল ভীষণ ক্লান্ত। ৮সেপ্টেম্বর ফিরোজের যখন মৃত্যু হয় তখন সে একেবারে একাই ছিল।

মৃত্যুর খবর পেয়ে নার্সিংহোমে সবার আগে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ। মরদেহ নেহরুর বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। ফিরোজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বহু মানুষের ভিড় জমে। শুধু ভিআইপি নয় বহু সাধারন মানুষ সেখানে পৌঁছে যায়। গীতা, রামায়ণ , বাইবেল , কোরান থেকে পাঠ হয় ।পাশাপাশি পার্শী পুরোহিত বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেন। ইন্দিরা বসেছিলেন মৃতদেহের পাশে। নার্সিংহোম থেকে ফিরে শোকে থমথমে মুখ নিয়ে কিছুক্ষণ দোতলা ঘরের চুপ করে বসে থাকেন জওহরলাল। তার কিছুক্ষণ পরে উঠে এসে‌ বোনেদের এবং অন্যান্যদের বলেন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা করতে।

তিরঙ্গা জড়ানো ফিরোজের দেহ উন্মুক্ত ট্রাকের করে শেষযাত্রার জন্য রওনা দেয়। ওই ট্রাকে তখন দুই ছেলেকে নিয়ে ইন্দিরা, ফিরোজের বোন এবং ফিরোজের দীর্ঘদিনের বন্ধু কেডি মালব্য৷ প্রধানমন্ত্রী ভবন, বিজয় চক, ইন্ডিয়া গেট, রাজঘাট জুম্মা ব্রিজ ধরে এগিয়ে চলে মরদেহবাহী ট্রাক। বহু মানুষের ভিড় শেষযাত্রায়। সূর্যাস্তের সময় যমুনার তীরে নিগমবোধ ঘাটে এসে পৌঁছয়। ট্রাক থেকে নামিয়ে চিতায় তোলার সময় মানুষের ভিড়ে পদপৃষ্ট হয়ে যাবার উপক্রম। সেই ভিড় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। কোনরকমে জওহরলাল এবং দুই ছেলের সঙ্গে চিতায় শায়িত ফিরোজের কাছে এসে পৌঁছন ইন্দিরা। শোকোস্তব্ধ ইন্দিরা ছলছলে চোখে তাঁর স্বামীর পায়ে কয়েকটা লিলি ফুল রাখেন।বৈদিক স্তোত্র পাঠের মধ্যে দিয়ে বড় ছেলে রাজীব দাহ করেন ।ফিরোজের শেষ যাত্রায় মানুষের ভিড় দেখে সেদিন পন্ডিতজি বলেছিলেন, “আমি বুঝতে পারিনি ফিরোজ এত জনপ্রিয়‌।”ফিরোজের মৃত্যুর কথা ছড়িয়ে পড়তে শোকে হতাশায় দিল্লি শহরের দোকান বাজারের শাটার নামিয়ে দেয় মানুষ। বহু জায়গা থেকে শোকবার্তা এসেছিল।

(উপরের অংশটি সম্প্রতি প্রকাশিত সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘‘ফিরোজ গান্ধি সংসদের ভিতরে ও বাইরে’’ বইটির অংশ বিশেষ৷ বইটির প্রকাশক সৃষ্টিসুখ। মূল্য ১৮০টাকা৷ )

বিশ্লেষণ: ড্রাগনে চড়ে ISI জাল বিস্তার করল ইসলামাবাদ-কাবুল ভায়া ঢাকা

taliban-chaina

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: আফগানিস্তানের (Afghanistan) দ্বিতীয় দফার তালিবান সরকারকে (Taliban) ঘিরে রেখেছে পাকিস্তানের (Pakistan) সামরিক গুপ্তচর সংস্থা ইন্টার সার্ভিসেস ইন্টেলিসেন্স (ISI) অফিসার ও এজেন্টরা। খোদ পাক গুপ্তচর সংস্থার প্রধান ফইজ হামিদের এখান যেন নাওয়া খাওয়ার সময় নেই। পাক সামরিক সদর দফতর রাওয়ালপিন্ডি থেকে তৈরি হওয়া নীল নকশা মাফিক পুরো আফগানিস্তান এখন আইএসআই ‘সেফ জোন’।

Read More: তালিবান সরকারের অংশীদার হাক্কানি নেটওয়ার্ক সক্রিয় নেপাল থেকে উত্তরবঙ্গে

তালিবান জঙ্গিদের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছায়া মন্ত্রিপরিষদের ঘোষণার সব থেকে বড় চমকটি হলো আফগান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই দফতরের ভার গিয়েছে আইএসআই নয়নের মণি জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্কের (Haqqani Network) ঘাড়ে। অর্থাৎ তালিবান জঙ্গি সরকার যাই কিছু করুক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গি নেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানির কড়া নজর থাকবে। মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা এফবিআইয়ের তালিকায় তার মাথার দাম ৫০ লক্ষ মার্কিন ডলার। মোস্ট ওয়ান্টেড। এর থেকেই স্পষ্ট পুরো তালিবান মন্ত্রিসভায় পাকিস্তানের দাপট।

taliban-chaina

ISI চক্রজাল ইসলামাবাদ-ঢাকা-কাবুল একটি বিশ্লেষণ

ISI ঢাকা ইউনিট
কূটনৈতিক মহলের আলোচনা, পাকিস্তান জন্মের পর এই প্রথম কোনও দেশে (আফগানিস্তান) নিরাপদ বিচরণের শক্তিশালী ঘাঁটি তৈরি করেছে আইএসআই। তবে আলোচনায় উঠে আসছে, ১৯৭১ পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপি-জামাত ইসলামি জোট সরকারের আমলে ঢাকায় পাক গুপ্তচর সংস্থার স্বস্তিদায়ক বিচরণের প্রসঙ্গ।

১৯৭৫ সালে সেনা অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে খুনের পর থেকে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। অভিযোগ, পাকিস্তানের প্রতি খানিকটা নরম হয়েছিলেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি তথা বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান। তিনিও সেনা অভ্যুত্থানে খুন হন। এর পর রাষ্ট্রপতি এরশাদের সামরিক জমানা পেরিয়ে ফের বিএনপি সরকারে আসে। তখন প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। ঢাকায় অত্যন্ত সক্রিয় আইএসআই। তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অতিমাত্রায় সজাগ থাকে ভারত। সেই চাপ নিয়েছিল পাক গুপ্তচর সংস্থাটি। তাদের ষড়যন্ত্রের অন্যতম নাশকতা তৎকালীন বিরোধী নেত্রী আওয়ামী লীগ সুপ্রিমো শেখ হাসিনার উপর ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। বিশ্ব কেঁপেছিল। পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি যোগ স্পষ্ট হয় তদন্তে। বিএনপির একের পর এক মন্ত্রী, খোদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের নাম এই নাশকতায় জড়িত। তিনি বাংলাদেশ সরকারের খাতায়’পলাতক’। লন্ডনে থাকেন।

ISI কাবুল ইউনিট
বাংলাদেশে আইএসআই জাল নষ্ট হয় আওয়ামী লীগের সরকার পরপর ক্ষমতায় আসার পর। ঢাকা থেকে নেটওয়ার্ক রাখলেও পাক গুপ্তচর সংস্থাটি পরবর্তী সময়ে বারবার প্রতিবেশি আফগানিস্তানে তাদের নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে থাকে। প্রথম তালিবান সরকারের সময়ে এই সুযোগ এনে দেয় আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত এলাকায় সক্রিয় হাক্কানি নেটওয়ার্ক। জঙ্গি সংগঠনটি শীর্ষ নেতা সিরাজউদ্দিন হাক্কানি আইএসআইয়ের ঘনিষ্ঠ। সেই শুরু তাদের মধুচন্দ্রিমা। তবে ২০০১ সালে মার্কিন সেনা প্রবেশের পর কাবুল থেকে সরে যাওয়ায় আইএসআই তার জমি হারান। তারা আফগানিস্তানে সক্রিয় থাকলেও ভারতের ভূমিকা হয় বড়। শুরু হয় ‘র’আনাগোনা। গত দু দশক এমন চলেছে। গত ১৫ আগস্ট তালিবান দখলে গেছে কাবুল। ফের সক্রিয় আইএসআই। তাদেরই পুতুল সরকার এখন কুর্সিতে। আফগানভূমির হর্তাকর্তার বিধাতা এখন পাকিস্তান।

‘আমি দিদির সেবক’ মন্ত্রে পুজোর পরেই লাগাতার বিসর্জনের সানাই শুনবে BJP

Abhisekh Banerjee

নিউজ ডেস্ক: ‘শুধু আসা আর যাওয়া…’। এই যাতায়াতের মাঝে একটি মন্ত্র গুঞ্জরিত বিরোধী দল বিজেপি (BJP) শিবিরে-‘আমি দিদির সেবক’। যাঁরা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে থেকে দমবন্ধ হয়ে আসছিল তারাই এখন মমতা (Mamata Banerjee) শিবিরে যেতে মরিয়া। বিজেপি রাজ্য দফতরের হিসেবে দুর্গা পূজার দশমীর পরেই বিসর্জনের বাজনা বাজতে চলেছে। সূত্রের খবর, এক ডজন বিধায়ক তৃণমূল কংগ্রেসে যাচ্ছেন।

Read More: কয়লাকাণ্ডে ইডির জেরা শেষে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন অভিষেক

উপনির্বাচনের ফলাফল সরকারপক্ষে যাচ্ছে তাতে নিশ্চিত বিরোধী দল বিজেপি। রাজ্য নেতৃত্বের কাছে আরও নিশ্চিত খবর, বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিধায়ক চন্দনা বাউরির পক্ষত্যাগ। তিনি তৃণমূলে যাচ্ছেন-এমনই বার্তা এসেছে জেলা বিজেপি নেতৃত্বের তরফে। চন্দনা বাউরি সম্প্রতি বিতর্কিত ব্যক্তিগত বিষয়ে জড়িয়ে রাজ্যে নতুন করে আলোচিত। ভোটের আগে তাঁর নিম্নবিত্ত আটপৌরে জীবন ছিল তীব্র আলোচিত।

BJP party Office

পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ বিজেপি চন্দনা বিসর্জনের দিন গুনছে। তেমনই ক্যালকুলেশন চলছে আর কে কে যাচ্ছেন তৃণমূল শিবিরে। সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গে বিরাট ধ্বস নামছে বিজেপিতে। পাল্লা দিচ্ছে দক্ষিণবঙ্গ।

বিধানসভা ভোটে ৭৭টি আসনে জিতে বিজেপি রাজ্যে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে। প্রথমবার রাজ্যে এতবড় সফলতা ও বিরোধী দলের তকমা নিয়ে বিধানসভা ভবনে যাওয়ার পরেই আচমকা মুকুল রায়ের পক্ষত্যাগ আর তার পরেই শুরু তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান পালা। প্রদেশ বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের ধারণা, যেভাবে ভোটের আগে হুড়মুড়িয়ে এসেছিল সবাই এখন বিসর্জন বাদ্যিতে যাওয়ার অপেক্ষা।

আপাতত বিজেপি বিধায়ক ৭১ জন। দুর্গা পুজোর পর ৫০ এর নিচেও চলে যাবে দলের শক্তি। পরিস্থিতি ঘোরতর। মুরলীধর সেন লেনের পক্ষে কাউকে আটকানোর ক্ষমতা নেই। কারণ জয়ী বিধায়কদের কেউ বিজেপি নন, ভিন্ন রাজনৈতিক দৃষ্টির সুযোগসন্ধানী।

শুভক্ষণে ইসলামাবাদের আশীর্বাদ নিয়েই কুর্সিতে বসবে তালিবান সরকার

taliban government protected by pakistan

নিউজ ডেস্ক: কাবুল সরগরম। মঙ্গলবার রাজপথে আচমকা পাকিস্তান বিরোধী আফগান জনতার মিছিল হয়ে গেল। সেই মিছিল ছত্রভঙ্গ করতে তালিবান রক্ষীরা গুলি চালাল আকাশে। হুড়োহুড়ি করে পালাতে গিয়ে কয়েকজন জখম হয়েছেন।

বুধবার আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বার সরকার গড়ার আনুষ্ঠানিক কাজ শেষ করতে মরিয়া তালিবান জঙ্গিরা। পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনার ভার নিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। পাক গুপ্তচর প্রধান এখন কাবুলেই। তার নির্দেশে সরকারের মন্ত্রিপরিষদ গঠন চূড়ান্ত। ইসলামাবাদের আশীর্বাদ নিয়েই কাবুলে তালিবান সরকার তার কাজ শুরু করবে।

কী কাজ করবে তালিবান জঙ্গি সরকার ? প্রাথমিকভাবে স্থির হয়েছে সরকার শুরুর প্রথম দিন থেকেই শরিয়া আইনের কঠোর প্রয়োগ হবে আফগানিস্তানের সর্বত্র। ইতিমধ্যেই আফগান যৌনকর্মীদের মেরে ফেলার জন্য তালিকা তৈরি হয়েছে।

তবে বিশ্বকে কূটনৈতিক বার্তা দিয়ে চলেছে তালিবান। এর পিছনে আইএসআই বুদ্ধি রয়েছে বলেই ধারণা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের। সরকার গড়ার অনুষ্ঠানে চিন, রাশিয়া, ইরান, পাকিস্তান, তুরস্কের মতো দেশগুলির কাছে গিয়েছে আমন্ত্রণপত্র। তাদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি হবে কিনা তা নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছে।

ভারতের সঙ্গে তালিবান সরকারের সম্পর্ক কী হবে?উঠছে এই প্রশ্ন। তালিবান জঙ্গিদের দ্বিতীয় সরকারের অন্যতম এক মন্ত্রী হিসেবে ফের আলোচিত শের মহম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই। আশির দশকে দেরাদুন মিলিটারি একাডেমির সেনা প্রশিক্ষণ নেওয়া ‘শেরু’ প্রথম দফার তালিবান সরকারের উপ প্রধানমন্ত্রী ছিল। এবারে তার কপালে বিদেশমন্ত্রক জুটতে পারে বলেই আলোচনা। তাকে সামনে রেখেই নয়াদিল্লিকে কূটনৈতিক বার্তা পাঠাবে তালিবান সরকার।

আফগানিস্তান এখন সম্পূর্ণরূপে তালিবান কব্জায়। এক পথের কাঁটা পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদ এখন কোনঠাসা। পঞ্জশির দখল করে হাঁফ ছেড়েছে তালিবান। গত ১৯৯৬-২০০১ প্রথম তালিবান সরকারের আমলে পঞ্জশির দখল করা সম্ভব হয়নি জঙ্গিদের পক্ষে।

তালিবানের পঞ্জশির উপত্যকা দখলের পর জরুরি বৈঠকে বসেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সবার নজর পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই পরিকল্পনার দিকে। তাদেরই অঙ্গুলি হেলনে চলবে তালিবান সরকার। আফগানিস্তান এখন পাকিস্তানের সেফ জোন-বড় খুঁটি।

“ক্ষমতা দ্যাখাইতাস, তোমাদের ফ্যালাইয়া ফেরত যামু”, আগ্রাসী মানিকে উল্লসিত সুশান্ত, বঙ্গ বামে হেঁচকি

Manik Sarkar EX Cm Tripura

আগরতলা ও কলকাতা: এ কোন মানিক! যার প্রতিটা বাক্য থাকে সংযত সেই বর্ষিয়ান সিপিআইএম নেতা, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার (Manik Sarkar) রাস্তায় নেমে সরকারপক্ষ বিজেপির উত্তেজিত সমর্থকদের ধমকে ঠান্ডা করছেন। ভাইরাল ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মানিক সরকার কে আক্রমনাত্মক ভঙ্গীমায়। তিনি বলছেন, “ক্ষমতা দ্যাখাইতাস, তোমাদের ফ্যালাইয়া ফেরত যামু”।

ত্রিপুরার বর্তমান বিরোধী নেতা মানিক সরকারের এমন রূপ কেউ আগে দেখেইনি। বাম মহলে হই হই রব।পশ্চিমবঙ্গের বাম নেতারা রীতিমতো চমকে গেছেন তাঁদের ত্রিপুরার নেতা মানিক সরকারের আগ্রাসী রূপ দেখে। সিপিআইএম মহলে তীব্র আলোচিত হচ্ছে মানিক সরকারের অবস্থান।

Manik Sarkar

বঙ্গ বামেদের মুখ চুন। জেলা মহকুমার সমর্থকরা পর্যন্ত নেতাদের মুন্ডপাত করছেন। অনেকেরই যুক্তি বুদ্ধবাবুর নরম মুখ দিয়ে দলকে শূন্যতে নামানো ছাড়া কিছুই হয়নি। অথচ ত্রিপুরাতেও দল সরকারে নেই। তবে বিরোধী নেতা মানিক সরকার যেভাবে হামলাকারীদের দিকে তেড়ে গেছেন তা নজিরবিহিন ঘটনা। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এমন কেন করেনা নেতারা, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সূত্রের খবর, মানিক সরকারের রূদ্র রূপ দেখে প্রবল উল্লসিত সিপিআইএমের আগ্রাসী নেতা সুশান্ত ঘোষ। ২০১১ সালে বাম সরকার পতনের পর বেনাচাপড়া কঙ্কাল কাণ্ডে জড়িয়ে জেলে গিয়েছিলেন সুশান্তবাবু। তবে তিনি আইনি জটিলতা কাটিয়ে ফের পশ্চিম মেদিনীপুরে ফিরেছেন। দল চাঙ্গা হলেও ভোটে সুশান্তবাবু হেরেছেন। সূত্রের খবর,আসন্ন দলীয় রাজ্য সম্মেলনে সুশান্তবাবুর হামলা হবে বুদ্ধদেব ঘনিষ্ট ‘নরম’নেতাদের উপর। আগেই ‘বামফ্রন্ট জমানার শেষ দশবছর’ বইতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দূর্বল প্রশাসনিক কাজের প্রবল সমালোচনা করেছেন সুশান্ত ঘোষ।

ঘটনা সোমবারের। ত্রিপুরার বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার নিজের কেন্দ্র ধনপুরে সভা করতে গিয়েছিলেন। তাঁর কনভয় আটকে দেয় বিজেপি। শুরু হয় হামলা। গাড়ি থেকে নেমে মানিক সরকার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের বারবার বলেন পরিস্থিতি সামাল দিতে। অভিযোগ, পুলিশ নীরব ভূমিকা নেয়। এর পরেই মানিকবাবু সরাসরি হামলাকারীদের দিকে আঙুল তুলে শাসানি দেন।

পাক্কা স্থানীয় বাচনে( সিলেটি উচ্চারণ ) মানিক সরকার বিজেপি সমর্থকদের বেশি বাড়াবাড়ি না করার হুঁশিয়ারি দেন। এদিকে মানিকবাবুকে ঘিরে রাখে বিজেপি সমর্থক ও পুলিশ। তাদের মাঝখান থেকে নেতাকে ছিনিয়ে আনেন বাম সমর্থকরা। মানিক সরকারের রুদ্র রূপ দেখে উত্তেজিত সিপিআইএম কর্মীরা দলীয় ঝাণ্ডার বাঁশ নিয়ে তেড়ে যান। সেই হামলায় বিজেপি সমর্থকরা জখম হন। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের পর ঘেরাও কেটে মানিক সরকারকে নিয়ে টানা ৫ কিলোমিটার মিছিল করে সিপিআইএম।

ধনপুরের সভা থেকে রাজ্য সরকার, বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মানিকবাবু। তিনি চারবারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, রাজ্যে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে। মানিকবাবুর অভিযোগ, কেউ একজন ফোন করে পুলিশকে নির্বিকার থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তাঁর লক্ষ্য সরকারের দুই শীর্ষ মন্ত্রীর দিকে তা স্পষ্ট।

মানিক সরকারের এমন রূপ দেখে পশ্চিমবঙ্গের সিপিআইএম মহলে প্রায় হেঁচকি তোলা পরিস্থিতি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে এমন ভূমিকা কেন যে রাজ্যের প্রাক্তন বাম মুখ্যমন্ত্রী নেননি তাও সমালোচনায় উঠে আসছে। রাজ্য বাম শিবিরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে হতাশার কয়েকটি বাক্য- ইস বাংলায় একজন মানিক সরকার নেই।