উত্তরে বিজেপির ধস নামছে, চিন্তা বাড়ছে দিলীপ-শুভেন্দুর

Alipurduar, Siliguri, Darjeeling, BJP, TMC

নিউজ ডেস্ক: উপনির্বাচন না হলে রাজ্যে সাংবাদিক সংকট তৈরি হবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়েই। তৃণমূল যেমন চিন্তায় তেমনি প্রধান বিরোধী দলের চিন্তা দলে ধস নামা নিয়ে। যে জোয়ার ভোটের আগে ছিল তাতে এখন ভাটার টান। বিজেপির অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি উত্তরবঙ্গের আলিপুরদুয়ার। সেখানেই হুড়মুড়িয়ে ধস নামছে।

জেলার কালচিনিতে বিজেপি ছাড়লেন ৫০০ জন। তারা যোগ দিলেন তৃণমূল শিবিরে। সম্প্রতি উত্তরবঙ্গের গিয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বিজেপি নির্বাচনে সরকার গড়তে না পারলেও প্রধান বিরোধী দল হয়েছে। রোজই দলে আসছেন বহু কর্মী।

আলিপুরদুয়ারের বিজেপির পাকা অবস্থান বলে দাবি করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেই জেলাতেই বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ নেতা নেপাল বর্মণ ও দলের তফসিলি উপজাতি মোর্চার জেলা সহ সভাপতি রশ্মি বাগোয়ার সহ প্রায় ৫০০ অনুগামী তৃণমুল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। কালচিনির চুয়াপাড়া, ভূতরি, রাঙামাটি ও সেন্ট্রাল ডুয়ার্স এলাকা থেকে বিজেপির কর্মীরা এদিন দলে দলে গিয়ে তৃণমুল কংগ্রেসে নাম লেখান। বিজেপি নেতা জন বারলার বিরুদ্ধে গোষ্ঠী অসন্তোষ বাড়ছে জেলায়। বিজেপির একাংশের কটাক্ষ, উনি শুধু কথার সাংসদ। প্রতিশ্রুতি দেন।

সাংসদ জন বারলার বিরুদ্ধে ক্ষোভ দলেই। কোচবিহারেও বিজেপির বড় শক্তি। সাংসদ নিশীথ প্রামানিক স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী। তিনিও এখন নীরব। আলিপুরদুয়ারের মতো কোচবিহারেও বিজেপি শিবিরে ধস নামবে বলে মনে করছেন উত্তরের বিজেপি নেতারা। সূত্রের খবর, এই বিষয়টি দেখভাল করছেন তৃণমূল কংগ্রেসের দুই যুযুধান হেভিওয়েট রবীন্দ্রনাথ ঘোষ ও গৌতম দেব।

দার্জিলিং জেলায় চমক দিয়ে সিপিআইএমের হেভিওয়েট নেতা প্রাক্তন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক কেরিয়ারটাই শেষ করে দিয়েছেন তাঁরই শিষ্য শংকর ঘোষ। গুরুকে হারিয়ে তিনি এখন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক। সূত্রের খবর তিনিও তৃণমূল কংগ্রেসে যাচ্ছেন। তাঁকে টানতে মরিয়া গৌতম দেব।

শিলিগুড়ি গত দুটি বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের অধরা। গতবার সিপিআইএম ও এবার বিজেপি জিতেছে। শিলিগুড়িকে কব্জা করতে তৃণমূল মরিয়া। শংকর ঘোষ পক্ষত্যাগ করলেই ষোলকলা পূর্ণ হবে। দার্জিলিং ও কালিম্পং পার্বত্যাঞ্চলে বিজেপির সমর্থন ভেঙে দিয়েছে তৃণমূল। লোকসভা ও বিধানসভার ফল পাহাড়ি এলাকায় ভালো নয়।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার গুরুং শিবির ফের বেশি সক্রিয়। বিজেপি ঘনিষ্ঠ মোর্চা শিবির নিষ্ক্রিয়। জলপাইগুড়ি,উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহে তৃণমূল কংগ্রেস পঞ্চায়েত ভিত্তিক শক্তি ধরে রেখে নিজের জমি শক্ত করবে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপির ধস শুরু হয়েছে উত্তরে। আলিপুরদুয়ার থেকে ধস গড়িয়ে নামছে নিচের দিকে।

ত্রিপুরা টালমাটাল: বন্ধ ঘরে মিটিং বিজেপির, মুখ্যমন্ত্রীর থমথমে মুখ

BJP CM Tripura Biplab deb

নিউজ ডেস্ক: কী হবে এবার? বিদ্রোহী বিধায়কদের চাহিদা অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী বদল নাকি পুরো বিজেপিটাই পড়ে যাবে-দুটি প্রশ্ন নিয়েই টালমাটাল ত্রিপুরা। আগরতলার কৃষ্ণনগরে বিজেপির প্রদেশ কার্যালয়ের সামনে যেন হাজির হয়েছে আশঙ্কার বুলডোজার।

সোমবার সন্ধের পরেই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব, উপমুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মণ, শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ সহ মন্ত্রিসভার বিপ্লব শিবিরের সবাই মুখ ভার করে ঢুকেছেন বৈঠকে। আগরতলায় এসেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক দিলীপ সইকিয়া। তাঁর উপস্থিতিতেই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রবিবার দল ও সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের নেতা সংস্কারপন্থী সুদীপ রায় বর্মণ। তাঁর উদ্যোগে আগরতলায় বিরাট সমাবেশ হয়। তাতে যোগ দেন বিক্ষুব্ধ বিধায়ক ও সমর্থকরা। মঞ্চ থেকেই সুদীপবাবু সরাসরি হুঁশিয়ারি দেন, শেষ সুযোগ দিচ্ছি। শুধরে যান। কর্মীদের কথা শোনা হোক দলে। নতুবা চরম সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সুদীপবাবুর হুমকির পরেই প্রবল আলোড়ন ছড়ায় উত্তর পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বাংলাভাষী রাজ্য ত্রিপুরায়। গুঞ্জন, সুদীপবাবু ফের তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরবেন। তবে তিনি এই বিষয়ে কিছু বলেননি। কিন্তু তাঁর হুঁশিয়ারি দিচ্ছে ইঙ্গিত। রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বনাম সুদীপ রাযবর্মণের সংঘাত চলছেই।

ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের দাবি, যে কোনও দিন সরকার পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে সুদীপ রায়বর্মণ নেবেন মুখ্য ভূমিকা। রাজ্যে সংস্কারপন্থী বিধায়কদের তিনিই নেতা। বিজেপির অভ্যন্তরে বিদ্রোহের ছায়া ক্রমে লম্বা হচ্ছে।

বিধানসভায় বিরোধী দল সিপিআইএম। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী নেতা মানিক সরকারের দাবি, বিজেপির অ-গণতান্ত্রিক রাজনীতি রাজ্যে অসহনীয় পরিবেশ তৈরি করেছে। নির্বাচনে তাদের পতন নিশ্চিত। শক্তি প্রদর্শন করতে বিলোনিয়া, ধর্মনগর, সাব্রুম, আগরতলায় বড়বড় মিছিল করছে বামেদের শাখা সংগঠনগুলি।

পশ্চিমবঙ্গে তিনবার ক্ষমতা ধরে রেখে তৃণমূল কংগ্রেস এবার ত্রিপুরায় ঝাঁপাচ্ছে। গত বিধানসভা ভোটের আগে তৎকালীন বিরোধী দল কংগ্রেসের বিধায়করা দলত্যাগ করে প্রথমে তৃণমূলেই গিয়েছিলেন। তাঁরা পরে বিজেপি হন। ভোটে বিজেপি জোট সরকার গড়ে। ২৫ বছরের বাম সরকার পড়ে যায়। আগামী বিধানসভা ভোটের আগে ফের সেই বিধায়কদের বিদ্রোহ যেন বুলডোজার হয়ে সবকিছু গুঁড়িয়ে দিতে তৈরি।

লাল তারিখ ৩১ আগস্ট: তারপর মাথা কাটা? হিন্দুকুশের নিচে পঞ্জশির তৈরি তালিবান খতম অভিযানে

The Panjshir Valley, the only area not taken by the Taliban or any invading force

নিউজ ডেস্ক: সর্বশেষ সংবাদ এসেছে কোনও যোগাযোগ নেই। পঞ্জশির বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। বিবিসি জানিয়েছে, আফগানিস্তানের তালিবান কব্জার বাইরে পঞ্জশির এখনও অটুট। তবে সেখানকার শাসক আহমেদ মাসুদের (জুনিয়র মাসুদ) সঙ্গে তালিবান কর্তৃপক্ষের সন্ধি হয়েছে। বৈঠকে স্থির হয় পঞ্জশির থাকবে মাসুদের হাতেই।
রবিবার রাত থেকেই পঞ্জশিরের সঙ্গে টেলিফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন। স্বাভাবিকভাবেই পঞ্জশিরে ক্ষমতাসীন নর্দান অ্যালায়েন্সের আশঙ্কা তালিবান হামলার পূর্ব প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তারা কোনওভাবেই সন্ধি মানবে না।

লাল তারিখ ৩১ আগস্ট। কী হবে ?
এই দিনই মার্কিন সেনা পুরোপুরি আফগানিস্তান মিশন শেষ করবে। টানা কুড়ি বছরের এই মিশন শেষ হলেই আফগানিস্তানের শাসন ক্ষমতায় পাকাপাকিভাবে বসবে তালিবান জঙ্গিরা-দ্বিতীয়বারের মতো। গত ১৫ আগস্ট তারা কাবুল দখল করে। পঞ্জশির আর একটি ক্ষুদ্র অংশ বাদে পুরো আফগানিস্তানই তালিবান দখলে।
পঞ্জশিরে যা যা ঘটার সম্ভাবনা

Whatever is likely to happen in Panjshir১. পঞ্জশির দখলের জন্য তালিবান অভিযান শুরু হবে ৩১ আগস্টের পরেই।
২. পঞ্জশির উপত্যকাবাসী প্রবল লড়াই করবেন। গত তালিবান সরকারের আমলেও এই এলাকা ছিল জঙ্গি মুক্ত এলাকা।
৩. পঞ্জশিরের পতন হতে পারে। শাসক আহমেদ মাসুদ হয় পলাতক অথবা মারা যেতে পারেন। আহমেদ মাসুদের পিতা আহমেদ শাহ মাসুদ পঞ্জশিরের সিংহ বলে পরিচিত। সুপরিচিত তালিবান বিরোধী নেতা ছিলেন।
আড়াই হাজার বছর ধরে অজেয় পঞ্জশির

পঞ্জশির উপত্যকা হাজার হাজার বছর ধরে অজেয়। মহাবীর আলেকজান্ডার, গজনীর সুলতান মামুদ, পাঞ্জাব কেশরী শিখ সম্রাট রণজিৎ সিং, ব্রিটিশ, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশাল সেনা কেউ এই আফগান উপত্যকা দখল করতে পারেনি। এমনকি প্রথম তালিবান সরকারের আমলেও এই এলাকা ছিল জঙ্গি মুক্ত। দ্বিতীয় তালিবান সরকারের আমলেও চরিত্র ধরে রাখল পঞ্জশির ২৫০০ বছর ধরে অজেয় চরিত্র। এও এক নজির।

এই পঞ্জশির নিয়ে তালিবানের মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়। ৩১ তারিখের পর তালিবান সরকার ঘোষণা করেই পঞ্জশির অভিযান করতে মরিয়া। বিবিসি জানাচ্ছে, পঞ্জশিরের শাসক মাসুদ সব দিক খতিয়ে দেখেছেন। তাঁর বাহিনি প্রস্তুতি শেষ করেছে। অত্যাধুনিক অস্ত্র নিয়েছে মাসুদের নর্দান অ্যালায়েন্স রক্ষীরা। যারা তালিবানদের মাথা কাটার জন্য সুপরিচিত।

তালিবান জঙ্গিরা দুবার তারা আফগান ক্ষমতার কেন্দ্রে। কাবুলের নিকটস্থ হিন্দুকুশ পর্বতমালা দিয়ে ঘেরা বিখ্যাত পঞ্জশির এলাকা দখল করতে পারেনি তারা। পঞ্জশির দখলে শত শত জঙ্গি পাঠালেও, এখানকার তাজিক বংশজাত যোদ্ধারা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। শেষ পর্যন্ত আলোচনার কৌশল নেয় জঙ্গিরা। আফগান সংবাদ মাধ্যমের খবর পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ সন্ধির প্রস্তাব দেয় তালিবান জঙ্গিরা। বৈঠকে স্থির হয় পঞ্জশিরে কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না তালিবান জঙ্গিদের। এই এলাকায় তালিবানি শরিয়তি আইন চলবে না, এমনই কড়া শর্ত দেন জুনিয়র মাসুদ। তবে আলোচনার আগে রাশিয়া সরকারে প্রতি বার্তা দিয়েছিলেন পঞ্জশিরের শাসক মাসুদ। তিনি বলেন, মস্কো যেন তালিবানকে বোঝায়। এবার পঞ্জশিরে ইন্টারনেট বন্ধের ইঙ্গিত সন্ধি ভাঙতে চলেছে।

বৈঠকের আগে তালিবান হুমকি দিয়েছিল, আলোচনায় ব্যর্থ হলে বলপ্রয়োগ করে পঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গে আহমেদ মাসুদ জানিয়েছিলেন, উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ তালিবানের হাতে কোনওভাবেই ছেড়ে দেবেন না।

উপনির্বাচন কবে? মমতার মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারানোর সম্ভাবনা প্রবল

Mamata Banerjee facing political threat

#Mamata Banerjee
নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা ভোটে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হয়ে হেরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিপুল জয় পেয়েছে। সেই সুবাদে মুখ্যমন্ত্রীর পদে তিনিই আছেন। তবে বিজেপির কটাক্ষ ‘হেরো মমতা’ কতদিন এভাবে চালাবেন রাজ্য। তিনিই পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি সাম্প্রতিক ভোটে হেরে কুর্সিতে বসেছেন।

প্রধান বিরোধী দল বিজেপির ( BJP) এই কটাক্ষের পিছনে রয়েছে তীব্র সাংবিধানিক সংকটের ইঙ্গিত। কারণ, গত মে মাসে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি বিধায়ক নন। নিয়মানুসারে পদে থাকতে হলে ৬ মাসের মধ্যে উপর্নিবাচনে (By election) জিতে আসত হবে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীকে তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে।

বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর চার মাস পার হচ্ছে উপনির্বাচনের কোনও নামগন্ধ নেই রাজ্যে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে উদ্বেগ বাড়ছেই। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উপনির্বাচন কবে হবে?

Mamata Banerjee facing political threat

সবের মূলে করোনা সংক্রমণ। কিন্তু মমতা তথা রাজ্য সরকারও প্রতিযুক্তি দেখিয়েছে। কেন্দ্র সরকারের তথ্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য দেখিয়ে তৃ়নমূল কংগ্রেস সরকারের দাবি পশ্চিমবঙ্গের করোনা সংক্রমণ এখন নিম্নগামী। এই অবস্থায় ভোট হতেই পারে।

সেপ্টেম্বরে উপনির্বাচন করাতে মরিয়া। কারণ অক্টোবর মাসে শারদীয়া উৎসব। দুর্গা পূজার সময় কোনওভাবেই নির্বাচন করানো সম্ভব নয়। সময় পার হচ্ছে দ্রুত। ৬ মাস সময়ের মধ্যে হাতে আছে দুমাস। এর মধ্যে উপনির্বাচন না হলে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদত্যাগ করতে হবে। যেহেতু তিনি নির্বাচিত বিধায়ক নন, আর বিধান পরিষদ গঠন কেন্দ্রের সহমতির উপর নির্ভর করছে ফলে বিধান পরিষদ (MLC) সদস্য হয়ে ঘুরপথে কুর্সি রাখা সম্ভব না।

তৃ়নমূল কংগ্রেসের দাবি রাজ্যে যে সাতটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে সরকটিতেই করোনা সংক্রমণ নেই বললেই চলে। বিশেষ করে কলকাতার ভবানীপুরের পরিস্থিতি তুলে ধরছে টিএমসি। এই কেন্দ্রের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পদত্যাগ করেছে। কেন্দ্রটিতেই ফের প্রার্থী হবেন মমতা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, প্রবল করোনা সংক্রমণের মাঝে বিধানসভা ভোট হয়েছিল। এখন সংক্রমণ তেমন নেই, তবে বিজেপি যে করেই হোক নির্বাচন আটকে দিতে চাইছে। গণতান্ত্রিক পথ তারা নিচ্ছে না। উপনির্বাচন যাতে দ্রুত করানো হয় এমন আবেদন জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে তৃণমূল কংগ্রেস। একইভাবে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরেও আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু কমিশন নীরব!

যদি উপনির্বাচন না হয়?
তাহলে পশ্চিমবঙ্গ অভূতপূর্ব রাজনৈতিক মোড় নিতে চলেছে বলেই মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। একাংশের যুক্তি, রাজ্যে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম, বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার ৬ মাসের মধ্যেই উপনির্বাচন করতে হয়। ফলে কমিশনও স্বস্তিতে নেই খুব একটা।

সেপ্টেম্বর ‘ভয়’: মমতার আগরতলা গমনে বিজেপি সরকার সংখ্যালঘু হওয়ার দিকে

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক: আসছে সেপ্টেম্বর মাসে কী জানি কী হয়! এমনই ভয় ছড়িয়ে ত্রিপুরা (Tripura) প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে। আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর উপস্থিতিতে বড়সড় ধস নামতে পারে সরকারপক্ষে। ফলে ত্রিপুরায় বিজেপি (TMC) জোটের ডবল ইঞ্জিন সরকার লাইনচ্যুত হওয়ার গুঞ্জন উত্তর পূর্বাঞ্চলের সব রাজ্যে। সেপ্টেম্বরেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগরতলায় জনসভা হতে চলেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগরতলার আস্তাবল ময়দানে (বর্তমান স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়াম) তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর জনসভা হবে। সেখানেই বিজেপির অন্তত ১২ জন বিধায়ক ফের ফিরতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসে।

কলকাতায় টিএমসি সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন ত্রিপুরা সরকারের বিদ্রোহী তথা সংস্কারপন্থী বিধায়করা। নেতৃত্বে রয়েছেন সুদীপ রায় বর্মণ। তিনি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের (Biplab Deb) প্রবল প্রতিপক্ষ।

সুদীপবাবুর হাত ধরেই গত বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী দল কংগ্রেস ছেড়ে এই বিধায়করা টিএমসিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে ত্রিপুরায় টিএমসি হয়েছিল বিরোধী দল। মমতা-সুদীপ সখ্যতা বেশিদিন চলেনি। সুদীপবাবুর রাজনৈতিক গুরু মুকুল রায় বিজেপিতে যান। সেই সূত্রেস সুদীপবাবু টিএমসি ত্যাগ করে বিজেপিতে যান। নির্বাচনে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। বিজেপি-আইপিএফটি জোট এখন সরকারে।

ত্রিপুরায় বিজেপি প্রথমবার সরকার গড়ে। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন সুদীপবাবু। তবে সরকারের কাজে লাগাতার অসন্তোষ দেখাতে থাকেন। তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়। শুরু হয় সুদীপবাবুর বিদ্রোহ।

গত চার বছরে ত্রিপুরা বিজেপির অন্দরে সুদীপবাবুর অনুগামীরা বিতর্কিত স্লোগান চালু করেছেন, ‘বিপ্লব হটাও ত্রিপুরা বাঁচাও’। এই বিদ্রোহী বিধায়কদের সবাই সরাসরি তৃণমূলে ফিরতে মরিয়া। তাঁরা দলত্যাগ করলে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে বিজেপি।

ত্রিপুরা বিধানসভা এখন এমন-
tripura bidhansavaপশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে মমতা শিবিরে ফিরেছেন। সেই থেকে ত্রিপুরায় ফের মুকুল শিষ্য সুদীপ বর্মণ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমীকরণ জমাট হতে শুরু করেছে।

রাজ্যে ০.৩ শতাংশ ভোট নিয়ে টিএমসি শুরু করেছে ‘খেলা হবে’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগরতলা সফরে কী ঘটবে তা স্পষ্ট জানেনা বিজেপি। প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের দাবি, কোনও অবস্থায় বাম বিধায়করা পক্ষত্যাগ করবেন না।

আবদুল গণি বরাদার: তালিবানদের ক্ষমতা দখলের সিংহভাগ কৃতিত্ব যার প্রাপ্য

Abdul Ghani Baradar

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। তারপরেই পাকিস্তানের জইশ-ই-মহম্মদ নেতা মৌলানা মাসুদ আজহার (Masood Azhar) জম্মু-কাশ্মীরে দখলের জন্য তালিবানদের সহযোগিতা চাইলেন। সূত্র উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে গোপন বৈঠক সারতে কান্দাহারও গিয়েছিলেন তিনি।

২৬/১১ মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী মাসুদ আজহারের সঙ্গে বৈঠক করে তালিবান নেতা মোল্লা আবদুল গণি বরাদার। আফগানিস্তানে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। দেশে শরিয়তি আইন কায়েম হওয়াতে গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে দেখা গিয়েছে কট্টরপন্থীদের।

কে এই আবদুল গণি বরাদার ?
কয়েক দশক পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা পেয়েছে তালিবানরা। ১৫ আগস্ট কাবুলে আসরাফ ঘানি সরকারকে হারিয়ে ক্ষমতা কায়েম করেছে। আফগানিস্তানের নাম বদলে নাম রেখেছে ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান। এই সমস্ত ঘটনার পেছনে অন্যতম নাম আবদুল গণি বরাদার।

১৯৬৮ সালে দক্ষিণ আফগানিস্তানের এক পুস্তুন (আফগান উপজাতি) পরিবারে জন্ম। মুজাহিদদের হয়ে সোভিয়েত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন। তারপর মহম্মদ ওমারের সঙ্গে প্রতিষ্টা করেন তালিবান গোষ্ঠী।

১৯৯৬ সাল নাগাদ দ্রুত উঠতে থাকে তালিবানিরা। দখল করতে থাকে একের পর এক রাজ্য। সে সময়েই উল্কা গতিতে উত্থান হয় বরাদারেরও। পরবর্তী ২০ বছর তালিবানদের হয়ে যুদ্ধবাহিনী পরিচালনা এবং কুটনৈতিক দিক পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০১০ সালে পাকিস্তানের করাচি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, আইএসআই।

দোহা চুক্তি এবং বরাদার

গ্রেফতারের আট বছর পর দোহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আফগানদের মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে বরাদারকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন জালম্যে খালিজাদ। পাকিস্তান তার অনুরোধ মেনে নিলে দু’বছর পর দোহায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালিবানদের হয়ে চুক্তি করেন তিনি।

US-Taliban Deal Is a Conditions Based Pact

মাসুদ আজহারের মুক্তি এবং বরাদার
কয়েক দিন আগে মাসুদ আজহার “মার্কিন সমর্থিত আফগান সরকারকে” হটিয়ে ক্ষমতা দখল করায় তালিবানদের প্রশংসা করেছিলেন। জইশ-ই-মহম্মদ নেতা “মঞ্জিল কি তারফ” (গন্তব্যের দিকে) শিরোনামের একটি নিবন্ধে আফগানিস্তানে “মুজাহিদিনের সাফল্যের” প্রশংসা করেছেন। পাকিস্তানের বাহওয়ালপুর মারকাজে জইশ-ই-মহম্মদ কর্মীদেরও তালিবানদের বিজয়ের আনন্দে অভিনন্দন বিনিময় করতে দেখা গিয়েছে।

১৯৯৯ সালে মাসুদ আজহারের মুক্তির পর থেকেই জইশ-ই-মহম্মদ জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে শুরু করে। কাঠমান্ডু থেকে লখনউ যাওয়ার পথে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক করে পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীরা। এরপর ফ্লাইটটি আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে যাওয়া হয়, সেসময় আফগানিস্তান শাসন করছিল তালিবানরা। ফলে চাপে পড়ে মাসুদ আজহারকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল ভারত সরকার। অনেক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, গোটা প্ল্যানের পেছনে ছিল বরাদারের মস্তিষ্ক।

কাশ্মীর ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিষয়: তালিবান
আফগানিস্তান দখল করার কয়েকদিন পরেই তালিবানরা কাশ্মীরের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়। সরকারীভাবে জানিয়ে দেয়, এটি একটি “দ্বিপক্ষীয়; এবং ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়”।

ইন্ডিয়ান ইনটেলিজেন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী তালিবানদের কাবুল দখলের পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাস এবং দেশের গুরুত্বপূর্ন অঞ্চলে নাশকতার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে। মাসুদ আজহারের গলাতেও কাশ্মীর দখলের সুর শোনা গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর জনপ্রিয় নেত্রী নীলম ইরশাদ শেখও বলেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।” আফগানিস্তান্মে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। নীলমও জানান যে তালিবানের পাশে পাকিস্তান যেভাবে দাঁড়িয়েছে তাতে আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্ব খুব খুশি। তার প্রতিদানেই কাশ্মীর দখলে পাকিস্তানকে সাহায্য করবে তারা।

প্রথমে কাশ্মীরকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে নিজেদের সরকারীভাবে সুরক্ষিত করা এবং কাশ্মীর সমস্যাতে পেছন থেকে অনুঘটক হিসেবে কাজ করা, সমস্ত ঘটনার পেছনেই রয়েছে আফগানিস্তানের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির মস্তিষ্ক।

অপরাজেয় পঞ্জশির: ২৫০০ বছরের অজেয় তকমা ধরে রাখল, তালিবান পাঠিয়েছে সন্ধি প্রস্তাব

Panjshir valley

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবান জঙ্গিরা। এই নিয়ে দুবার তারা আফগান ক্ষমতার কেন্দ্রে। কিন্তু কোনওভাবেই কাবুলের নিকটস্থ হিন্দুকুশ পর্বতমালা দিয়ে ঘেরা বিখ্যাত পঞ্জশির এলাকা দখল করতে পারল না। অবশেষে অপরাজেয় পঞ্জশির উপত্যকা নিয়ে সমঝোতার পথেই হাঁটল তালিবান।

পঞ্জশির দখলে শত শত জঙ্গি পাঠালেও, এখানকার তাজিক বংশজাত যোদ্ধারা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। শেষ পর্যন্ত পঞ্জশির দখলে ব্যর্থ হলো তালিবান। এরপরেই আলোচনার কৌশল নেয় জঙ্গিরা। আফগান সংবাদ মাধ্যমের খবর পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদের সঙ্গে তালিবান প্রতিনিধিরা বৈঠক করে। সেই বৈঠকে সন্ধির প্রস্তাব দেয় তালিবান জঙ্গিরা।

Ex-Afghan VP Amrullah Saleh

বর্তমান পঞ্জশির শাসক আহমেদ মাসুদের পিতা ছিলেন কিংবদন্তি তালিবান বিরোধী নেতা আহমেদ শাহ মাসুদ। তিনি পঞ্জশিরের সিংহ বলেও সুপরিচিত। বিগত ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত যখন প্রথমবার আফগানিস্তানে তালিবান জঙ্গি সরকার ছিল তখন সিনিয়র মাসুদ প্রবল লড়াই চালিয়ে তাঁর এলাকা জঙ্গি মুক্ত করে রাখেন। পরে ১৯৯৭ সালে বিস্ফোরণে আহমেদ শাহ মাসুদের মৃত্যু হয়।

আফগান সংবাদ মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, জুনিয়র মাসুদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য কাবুল থেকে তালিবান জঙ্গিদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উত্তরাঞ্চলীয় পারওয়ান প্রদেশের রাজধানী চারিকারে গিয়েছিল। সেখানেই হয়েছে আলোচনা। এই প্রথম আহমেদ মাসুদের সঙ্গে কোনও তালিবান প্রতিনিধিদলের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৈঠকে স্থির হয়েছে পঞ্জশিরে কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না তালিবান জঙ্গিদের। এই এলাকায় তালিবানি শরিয়তি আইন চলবে না, এমনই কড়া শর্ত দিয়েছেন জুনিয়র মাসুদ। পঞ্জশিরের সব ক্ষমতা তাঁর হাতেই থাকছে। সব মেনে নিয়েছে জঙ্গি সরকারের প্রতিনিধিরা। তবে আলোচনার আগে রাশিয়া সরকারে প্রতি বার্তা দিয়েছিলেন পঞ্জশিরের শাসক মাসুদ। তিনি বলেন, মস্কো যেন তালিবানকে বোঝায়।

বৈঠকের আগে তালিবান হুমকি দিয়েছিল, আলোচনায় ব্যর্থ হলে বলপ্রয়োগ করে পঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গে আহমেদ মাসুদ জানিয়েছিলেন, উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ তালিবানের হাতে কোনওভাবেই ছেড়ে দেবেন না। এর পরেই পঞ্জশিরে নিজের মিলিশিয়া বাহিনির বিভিন্ন ফুটেজ প্রকাশ করেন তিনি। তাতে দেখা যায় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিতে শুরু করেছে নর্দান অ্যালায়েন্স রক্ষীরা। যারা তালিবানদের মাথা কাটার জন্য সুপরিচিত।

পঞ্জশির উপত্যকা হাজার হাজার বছর ধরে অজেয়। মহাবীর আলেকজান্ডার, গজনীর সুলতান মামুদ, পাঞ্জাব কেশরী শিখ সম্রাট রণজিৎ সিং, ব্রিটিশ, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশাল সেনা কেউ এই আফগান উপত্যকা দখল করতে পারেনি। এমনকি প্রথম তালিবান সরকারের আমলেও এই এলাকা ছিল জঙ্গি মুক্ত। দ্বিতীয় তালিবান সরকারের আমলেও চরিত্র ধরে রাখল পঞ্জশির ২৫০০ বছর ধরে অজেয় চরিত্র। এও এক নজির।

কয়লাকাণ্ডে দিল্লির ডাক: অমিত শাহকে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ ত্রিপুরা ‘দখল করব’

Abhishek Banerjee

নিউজ ডেস্ক: একই দিনে সমন ও পাল্টা হুমকির খেলায় কলকাতা-নয়াদিল্লি-আগরতলা সব একাকার। শনিবারই তৃণমূল (TMC) কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) কয়লা কাণ্ডে সস্ত্রীক সমন পেয়েছেন। দিল্লিতে ইডি তলব করেছে।

পশ্চিমবঙ্গে শাসক তৃণমূলের কাছে এটা বড় অস্বস্তির। এর পরেই টিএমসি সাধারণ সম্পাদকের হুঁশিয়ারি, “ত্রিপুরায় (Tripura) তৃণমূল পা রাখতেই বিজেপির (BJP) পা কাঁপতে শুরু হয়েছে। ওখান থেকে মুছে যাবে বিজেপি। ত্রিপুরা ছাড়াও অসম বা অন্য যে সব জায়গায় বিজেপি আছে সব জায়গা থেকে তাদের উৎখাত করা হবে।” হুঙ্কার অভিষেক বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের।

কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠাতা দিবসে অভিষেকের হুঁশিয়ারিতে আগরতলায় পড়ে গেল শোরগোল। কারণ এর আগেও আগরতলা গিয়ে সরাসরি তিনি বলেছিলেন চাইলে যে কোনও সময় ত্রিপুরার বিজেপি জোট সরকার ফেলে দিতে পারেন।

এবার সরাসরি ত্রিপুরা দখলের বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক। একইসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “আমি অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করছি- ক্ষমতা থাকলে তৃণমূলকে রুখে দেখাও।”

তাৎপর্যপূর্ণ শনিবারই কয়লা পাচার কাণ্ডে দিল্লিতে জেরার মুখোমুখি হতে ডাক পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক। এদিনই তিনি অমিত শাহকে হুঁশিয়ারি দিলেন। দিল্লি ও কলকাতার রাজনৈতিক হাওয়া গরম হয়েছে এই কারণে।

অন্যদিকে আগরতলা সরগরম। সূত্রের খবর, ত্রিপুরার রাজনৈতিক ছক বদলানোর কাণ্ডারী বর্তমান বিজেপি বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মণ কলকাতায় এসে তৃণমূল শিবিরের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি গত বিধানসভা ভোটের আগে আগে কলকাতায় এসে ত্রিপুরার তৎকালীন বিরোধী দল কংগ্রেসকে শূন্য করেছিলেন। সবাই টিএমসিতে যোগ দেন। পরে তারা সবাই বিজেপিতে চলে যান। ত্রিপুরায় গত বিধানসভা নির্বাচনে সে রাজ্যে টানা ২৫ বছরের বাম শাসনের অবসান হয়। ক্ষমতায় বিজেপি আইপিএফটি জোট।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার ধরে রেখেছে টিএমসি। তৃতীয়বার জয়ের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ত্রিপুরা দখলের জন্য দলনেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। টি়এমসি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছিলেন, রাজ্যের বাইরে সংগঠনকে প্রতিষ্ঠা করবেন তিনি। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা ও অসমে সংগঠন বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও যেভাবে দলে দলে মানুষ ত্রিপুরার রাস্তায় তৃণমূলের মিছিলে সামিল হয়েছেন তাতে স্পষ্ট আগামীদিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় পা রাখলে জনস্রোতের বন্যা বইবে। চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন, যতদিন ভারতবর্ষের মাটি থেকে বিজেপির বিদায় ঘন্টা না বাজছে, ততদিন আন্দোলন চলবে।

পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর করোনা আবহে ভার্চুয়ালি পালিত হচ্ছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। এদিন ভার্চুয়ালি দলের যুব কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় বিজেপিকে রুখে দেওয়ার পরে এবার দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকেও পদ্ম শিবিরকে মুছে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন অভিষেক। সরাসরি তিনি নিশানা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে। বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মাটিতে পরাস্ত হয়েছে বিজেপি। তারপর থেকেই রাজ্যের বাইরে সংগঠন মজবুত করতে সক্রিয় হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

অসমে ‘হিড়িম্বা আতঙ্ক’: নৃশংস ডিমাসা বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কেমন করে খুন করে জানুন

dnla militant of assam

নিউজ ডেস্ক: আলফার ভয় আছেই এবার জুড়ছে নৃশংস ডিমাসা জঙ্গিদের নাম। অসম থমথমে। রাজ্যের ডিমা হাসাও জেলায় শুক্রবার পাঁচ শ্রমিককে পুড়িয়ে মেরেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ডিএনএলএ। তাদের দাবি আলাদা হিড়িম্বা রাজি অর্থাত অসম কেটে তৈরি হোক স্বশাসিত এলাকা। দাবি মানা না হলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করা হবে হুমকি ছিল তাদের তরফে। শুক্রবার সেটাই করে দেখিয়েছে ডিমাসা বিচ্ছিন্নতাবাদী-জঙ্গিরা।

রাজ্যের ডিমা হাসাও জেলা পুরোটাই উপজাতি অঞ্চল। ডিমাসা উপজাতি ভিত্তিক এই জেলায় অবশ্য বাঙালিরাও আছেন। নিম্ন অসমের বরাক নদী উপত্যকার কাছাড় জেলা পুরো বাঙালি অধ্যুষিত। কাছাড়ের উত্তরে উপজাতি জেলা হলো ডিমা হাসাও। এখানেই সক্রিয় ডিমাসা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি। সংগঠনটি অত্যন্ত আগ্রাসী।

dnla militant of assam

হিড়িম্বা রাজি কী?
স্থানীয় পৌরাণিক গাথা অনুসারে একটি কাল্পনিক ভূখণ্ড হলো হিড়িম্বা রাজি। সেই ভূখণ্ডের দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলা চালাল ডিএনএলএ গোষ্ঠী। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ডিএনএলএ অধ্যক্ষ কার্মিনডাও ডিমাসা জানিয়েছে, আমরা কারও জমি ছিনিয়ে নিতে আন্দোলন করছি না। ডিমাসাদের হারিয়ে যাওয়া রাজ্য উদ্ধারে এই আন্দোলন চলছে।

২০১৮ সালের ডিমাসা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ডিএনএলএ জন্ম নেয়। অসম নাগাল্যাণ্ড সীমান্তে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে কয়েকবার।

dnla militant of assam

কেমন আগ্রাসী হিড়িম্বা রাজি দাবি করা ডিমাসা জঙ্গিরা?
শুক্রবার যেভাবে পাঁচ লরি শ্রমিককে পুড়িয়ে মারা হয়েছে তাদের চেহারা থেকেই স্পষ্ট হবে হামলাকারী ডিএনএলএ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কতটা নৃশংস। অসম পুলিশের মহানির্দেশক ভাস্করজ্যোতি মহন্ত জানিয়েছেন, ডিএনএলএ হামলা করেছে বেছে বেছে। মৃত ও জখম কেউ উপজাতিভুক্ত নয়। ডিমা হাসাও জেলার সদর হাফলং থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে হামলা হয়। একটি ট্রাক ঘিরে নেয় ডিএনএলএ জঙ্গিরা। গুলি চালিয়ে সবাইকে জখম করে। পরে আগুনে পুড়িয়ে মারে।

অসম সরকার ও ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে মৃতদের চারজন রাজ্যের হোজাই জেলার বাসিন্দা। একজন উত্তর প্রদেশের প্রতাপগড়ের বাসিন্দা। মৃত তালিকায় সংখ্যালঘু মুসলিমরা রয়েছেন।

dnla militant of assam

আরও পড়ুন: তালিবান সরকারের অংশীদার হাক্কানি নেটওয়ার্ক সক্রিয় নেপাল থেকে উত্তরবঙ্গে

শনিবারের পরিস্থিতি আরও থমথমে। ডিমা হাসাও জেলায় ছড়িয়েছে ভয়। কারণ ডিএনএলএ স্বাধীনতা দিবসের আগেই ভিডিও বার্তায় রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়াকি দিয়ে বলেছিল পৃথক স্বশাসিত এলাকা না হলে ভয়ঙ্কর হামলা হবে। তেমনই ঘটনা তারা ঘটিয়েছে শুক্রবার।

ডিমাসা জঙ্গিদের হামলা, জ্যান্ত পাঁচজনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় প্রবল অস্বস্তিতে অসমের বিজেপি সরার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রশাসন দূর্বল দাবি করেছে বিরোধী কংগ্রেস সহ বাকিরা। সম্প্রতি অসম-মিজো রক্তাক্ত পুলিশ যুদ্ধের পরেই রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রশাসন দূর্বল অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা।

অসমের কাছাড় জেলা লাগোয়া মিজোরামের কৈলাশিব জেলার আন্ত:সীমানায় দুই রাজ্য পুলিশের মধ্যে নজিরবিহীন গুলির লড়াইয়ে কেঁপেছিল দেশ। অসম পুলিশের ৫ রক্ষীর মৃত্যু হয়। এ যেন রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্র। পরিস্থিতি এমনই যে দুই রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর ও মুখ্যমন্ত্রীরা পরস্পরকে অভিযুক্ত করছেন। বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গার মধ্যে টুইট লড়াইয়ে কেন্দ্র সরকার অস্বস্তিতে পড়ে।

এই রক্তাক্ত পুলিশ সংঘর্ষের পর বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলায় ফের অসমে ভয় ছড়িয়েছে।

কালীঘাটের আমন্ত্রণে কলকাতায় সুদীপ বর্মণ, আগরতলায় বিজেপি মহলে ধস আতঙ্ক

Mamata has little scope in N-E beyond Tripura

নিউজ ডেস্ক: আবারও কি ২০১৮ সালের ঠিক আগের অবস্থা ফিরতে চলেছে আগরতলায় ? ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে শুরু হয়েছে আতঙ্ক-ধস আতঙ্ক। নেতৃত্ব বিধায়কদের বড় অংশ ফের তৃ়ণমূল কংগ্রেসে ফিরতে পারেন এমনই গুঞ্জন। কারণ, ত্রিপুরার তাবড় নেতা সুদীপ রায় বর্মণ এখন কালীঘাটের আমন্ত্রণে কলকাতায়।

উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই বাংলাভাষী প্রধান রাজ্যে গত বিধানসভা ভোটের আগে রাতারাতি বিরোধী আসন থেকে মুছে গেছিল কংগ্রেস। কয়েকদিনের জন্য তৃ়নমূল কংগ্রেসের ঘরে বিরোধী দলের তকমা জুটেছিল। সবই হয়েছিল ‘ত্রিপুরার মুকুল রায়’ বলে সুপরিচিত নেতা সুদীপ রায় বর্মণের রাজনৈতিক ছকে।

পরে গুরু মুকুল রায়ের পরামর্শে সুদীপবাবু তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে অনুগামীদের নিয়ে বিজেপিতে যান। ত্রিপুরায় পালাবদল হয়। বামফ্রন্টের টানা ২৫ বছরের সরকার পড়ে যায়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি আইপিএফটি জোট। এর পরেই সরকারের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গে সংঘাত শুরু সূদীপ বর্মণের।  সংঘাত তীব্র হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা পারেননি সামাল দিতে। বিপ্লববাবু ও সুদীপবাবুর মধ্যে কথাবার্তা আগেই বন্ধ। দুজনেই পরস্পরকে এড়িয়ে চলেন।

রাজনৈতিক মোড় ঘুরতে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিনবার তৃণমূল কংগ্রেস সরকারে থেকে যাওয়ায়। বিজেপি ত্যাগ করে মুকুল রায় ফিরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। সেই ধাক্কা গিয়ে লাগে ত্রিপুরায়। মুকুল শিষ্য সুদীপ রায় বর্মণ বিজেপি ত্যাগ না করলেও দলের কোনও বিষয়েই নেই। তিনি এখন কলকাতায়।

সিপিআইএমের টানা দু দশকের জমানায় আগরতলার রাজনীতিতে বরাবর প্রভাব রাখা সুদীপ রায় বর্মণ ফের কলকাতায় অবস্থান করছেন কেন? তৃ়নমূল কংগ্রেস নীরব। তবে প্রদেশ বিজেপি ধরেই নিচ্ছে তিনি ফের শিবির পাল্টাবেন। কতজন বিধায়ক যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে? এই প্রশ্ন এখন আগরতলায় সর্বত্র। এমনকি পরিস্থিতি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিরোধী দল সিপিআইএম। তাদের রাজ্য দফতর দশরথ দেব ভবনেও চাপা আলোচনা-‘সুদীপ বর্মণ ফের ছক করেছে’।

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলায় গিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন যে কোনও সময়ে ত্রিপুরায় বিজেপির সরকার ফেলে দিতে পারি। তবে নির্বাচিত সরকার পূর্ণ মেয়াদ থাকুক এটা চাই।

এর পর ত্রিপুরায় ক্রমে বাড়ছে টিএমসির রাজনৈতিক কার্যকলাপ। দলটির দখলে এই রাজ্যে ০.৩ শতাংশ ভোট। সেখান থেকে উঠে আসা এবং সরকার ভেঙে দেওয়ার ঘোষণায় যে সুদীপবাবুর ‘ছক’ আছে তা স্পষ্ট বিজেপির কাছে।পূর্বতন বিরোধী দল কংগ্রেস বিধানসভায় এখন শূন্য। তবে কংগ্রেসের ভোট ব্যাংক পেতে মরিয়া টিএমসি। কালীঘাটের আমন্ত্রণে অনেক কিছুই হবে। সেই রাতারাতি সবকিছু পাল্টে যাওয়া? আগরতলায় ধসের আতঙ্ক বিজেপি মহলে।

নতমস্তকে বাইডেন: প্রবীণ কমিউনিস্ট ভিয়েতকং গেরিলারা ফিরলেন সোনালি অতীতে

Photo of Biden from Afghanistan news conference goes viral

নিউজ ডেস্ক: শতাব্দী পেরিয়েছে, গত শতকের সত্তরের দশকে ভিয়েতনামে (Vietnam war) চরম পরাজয়ের ছায়া এখনও হোয়াইট হাউসে (White House) লম্বা হয়ে পড়ে। এ যেন রীতিমতো এক ‘অভিশাপ’-যেটা আরও কত শতাব্দী বইবে মার্কিন সরকার তা অজানা। ভিয়েতনাম যুদ্ধে পরাজয়ের পর মার্কিন  (USA) প্রেসিডেন্ট নিক্সন মাথা নামিয়েছিলেন। সেই ঘটনা ফিরে এসেছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden) আফগানিস্তান ইস্যুতে হতাশার চরমে পৌঁছে গেছেন। তিনিও মাথা নামালেন।

Photo of Biden from Afghanistan news conference goes viral
বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden) আফগানিস্তান ইস্যুতে হতাশার চরমে পৌঁছে গেছেন। তিনিও মাথা নামালেন

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধম্য, সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মাথা নামানোর ছবি। বৃহস্পতিবার আফগান রাজধানী তথা তালিবান (Taliban) অধিকৃত কাবুলের বিমান বন্দরের ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। সেই রক্তাক্ত ঘটনার পর সাংবাদিক সম্মেলনে বাইডেন ছিলেন হতাশ। তবে তিনি শেষ দেখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিস্ফোরণে শতাধিক মৃত। মৃত তালিকায় আছে মার্কিন সেনা।

হোয়াইট হাউসে বাইডেনের মাথা নামানোর ছবি দেখে ১৯৬০-৭০ দশকের প্রবীন ভিয়েতকং গেরিলা কমান্ডার ও যোদ্ধারা ফিরে গিয়েছেন তাঁদের সোনালি জয়ের মুহূর্তে। প্রবল শক্তিশালী মার্কিন সেনা, তাদের অন্যতম সহযোগী ফরাসি সেনাকে পরাজিত করে ভিয়েতনাম স্বাধীনতার যুদ্ধে জয়ী হয়, নেতৃত্বে ছিলেন কিংবদন্তি কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক হো চি মিন।

Richard Nixon
ভিয়েতনাম যুদ্ধে পরাজয়ের পর মার্কিন  (USA) প্রেসিডেন্ট নিক্সন মাথা নামিয়েছিলেন

ভিয়েতনাম যুদ্ধ অতীত। তবে যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে তৎকালীন মার্কিন সেনার দখলে থাকা দক্ষিণ ভিয়েতনামের সায়গনের পতন আলোচিত হয়। যেমনটা হয়েছে গত ১৫ আগস্ট কাবুল থেকে মার্কিন সেনা নিয়ে বিমান উড়ে যাওয়ার ছবি বের হওয়ার পর। সেই দিনই দ্বিতীয়বারের জন্য আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবান জঙ্গিরা।

বিবিসি জানায়, কাবুল তালিবান দখলে যেতেই আমেরিকান দূতাবাস থেকে হেলিকপ্টারে লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। এ যেন সেই ১৯৭৫ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানী সায়গন থেকে মার্কিন সেনা ও দূতাবাসকর্মীদের চলে যাওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ‘৭৫ সালের ৩০শে এপ্রিল সায়গনের দখল নেয় ভিয়েতনামের গেরিলা বাহিনি। ফটোগ্রাফার হিউবার্ট ফন এস এমন একটি ছবি তুলেছিলেন যা ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। ছবিতে ধরা পড়ে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ দিনগুলিতে সায়গন শহরের মানুষ হুড়োহুড়ি করে একটি হেলিকপ্টারে উঠে পালিয়ে যাচ্ছে।

Vietnam war
‘৭৫ সালের ৩০শে এপ্রিল সায়গনের দখল নেয় ভিয়েতনামের গেরিলা বাহিনি। ফটোগ্রাফার হিউবার্ট ফন এস এমন একটি ছবি তুলেছিলেন যা ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল

সায়গন দখল করেছিল ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি। ভিয়েতকং গেরিলা যোদ্ধাদের ভয়ে ভীত মার্কিন সেনা তখন পালাতে ব্যাস্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের ততকালীন সংবাদাতারা এখন অতি বৃদ্ধ। তাঁরা সেই ঘটনার স্মৃতিতে রেখে দিয়েছেন। ঠিক তেমনই প্রবীণ ভিয়েতকং যোদ্ধারা মনে রেখেছেন তাঁদের সায়গন দখলের কথা।

‘ভিয়েতনামের যুদ্ধ’ বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম রাজনৈতিক বাঁক। সেই যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি চরম ধিকৃত হয় বিশ্বে। খোদ মার্কিন মুলুকেই বিক্ষোভ প্রবল আকার নিয়েছিল। আর ভিয়েতনামে চলছিল ভয়ঙ্কর লড়াই।
বিবিসি জানাচ্ছে, যুদ্ধের দুই পক্ষ, উত্তর ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট সরকার বনাম দক্ষিণ ভিয়েতনামের সরকার ও তাদের সমর্থক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। যুদ্ধ চলেছিল প্রায় ২০ বছর ধরে। ব্যয়বহুল যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকা ছিল আলোড়িত।

ভিয়েতনাম যুদ্ধে উত্তর ভিয়েতনামকে সমর্থন করছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তার কমিউনিস্ট মিত্র দেশগুলি। আর দক্ষিণ ভিয়েতনামকে সমর্থন করছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা। যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর লক্ষ লক্ষ সেনা ভিয়েতনামে মোতায়েন করা হয়েছিল।

গত কুড়ি বছর ধরে আফগানিস্তানেও মার্কিন সেনা ছিল। বিশাল খরচ বহন করছিল ওয়াশিংটন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন আফগান নীতির পরিবর্তন আনেন। সরানো শুরু হয় সেনা। এই গত দু দশকে জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত মার্কিন সেনা তাদের গায়ে শেষ বড় ক্ষত নিয়ে দেশে ফিরছে।

শতাধিক মৃতদেহে রক্তাক্ত কাবুল, CIA-তালিবান বৈঠকের পরেই কেন বিস্ফোরণ ?

নিউজ ডেস্ক: বিশ্ববিখ্যাত গুপ্তচর সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, যাদের কাজ বিভিন্ন দেশে অস্থিরতা তৈরি করে সরকার ফেলে মার্কিন আধিপত্য বজায় রাখা-তাদের প্রধানের সঙ্গে তালিবান জঙ্গিদের বৈঠকের পরেই বিস্ফোরণের আগাম বার্তা ও সেই বিস্ফোরণে রক্তাক্ত চেহারা দেখছে বিশ্ব। আর শতাধিক মানুষের মৃতদেহ নিয়ে কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে এখন ভয়াবহ ছবি।

তবে আফগান সংবাদ মাধ্যমের খবর, বিমান বন্দর থেকে সব দেহ সরানো হয়েছে, রাতভর লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে মৃতের সংখ্যা। শুক্রবার সকালে শতাধিক মৃত্যু হয়েছে। আরও মৃত্যুর আশঙ্কা।

বৃহস্পতিবার কাবুল বিমান বন্দরে বিস্ফোরণের পরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ও আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া তালিবান জঙ্গিদের বক্তব্যে সবটাই মিল। দুই তরফের দাবি হামলা করেছে ইসলামিক স্টেট খোরাসান। অই সংগঠনটি আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের আফগান-পাকিস্তান সীমান্ত শাখা।

খোরাসান একটি পুরনো ঐতিহাসিক শব্দ। আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের কিছু অংশ নিয়ে খোরাসান ছিল। সেখানেই সক্রিয় তালিবান বিরোধী ইসলামিক স্টেট। সেই ইসলামিক স্টেট (আইএস) এরই মধ্যে বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে। এমন জানাচ্ছে রয়টার্স। তবে এর মধ্যেই প্রশ্ন, তালিবান চোখ এড়িয়ে কাবুলে আইএস হামলা যদি সত্যি হয় তাহলে এই তালিবান অন্দরে দূর্বল।

এও প্রশ্ন, সম্প্রতি তালিবান জানিয়েছে কোনও আফগান নাগরিককে বিদেশে যেতে দেওয়া হবে না। তবুও কাবুল এয়ারপোর্টে হাজার হাজার আফগানি হাজির। ন্যুনতম বিদেশের যোগসূত্র নিয়ে ছাড়পত্র পেতে মরিয়া। আগামী ৩১ আগস্ট মার্কিন সেনা পুরো সরে গেলে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে ভেবেই যে যার নিকটস্থ সীমান্ত পেরিয়ে বিদেশে যেতে মরিয়া।

তালিবানের দাবি, কাবুল বিস্ফোরণে তাদের কয়েকজন মৃত। আমেরিকার দাবি, বিস্ফোরণে তাদের কয়েকজন সেনা মৃত। কাবুল বিমান বন্দরের ভিতরে আমেরিকা সহ বিভিন্ন দেশের সেনা আছে। বাইরের গেটে তালিবান পাহারায়। কোন অবস্থায় ইসলামিক স্টেট বিস্ফোরক বোঝাই করে পাঠাল সেটা নিয়েই প্রশ্ন করছেন বিভিন্ন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

পতনের মুখে পঞ্জশির? তালিবান থমকে, রুশ সাহায্য চান মাসুদ

Biden keeps to August 31 deadline for Kabul airlift

নিউজ ডেস্ক: ‘পঞ্জশিরের সিংহ’ বাবা আহমেদ শাহ মাসুদের মারাত্মক তালিবান বিরোধিতার পথেই এবারও গর্জন করছেন পুত্র মাসুদ। কিন্তু পঞ্জশির বাদে পুরো আফগানিস্তানের কব্জা এখন তালিবান দখলে। বিশ্বশক্তি ইতিবাচক বার্তা দিতে শুরু করেছে। আর তালিবানি শরিয়া আইন বিরোধী গোষ্ঠী নর্দান অ্যালায়েন্স লড়াই চালাচ্ছে।

আফগান সংবাদ মাধ্যমের খবর, পঞ্জশির দখলে মরিয়া তালিবান। তাদের নেতা হাইবাখান্দা আখুন্দাজাদা কোনওভাবেই আফগান মাটিতে বিরোধী শক্তির অবস্থান চায় না। তালিবান মিলিটারি কাউন্সিল তথা জঙ্গি সংগঠনটির সর্বচ্চো এই নেতার নির্দেশ যে করেই হোক পঞ্জশির দখল করতে হবে।

এদিকে পঞ্জশির থেকে প্রত্যাঘাত শুরু হয়েছে তালিবান বিরোধী আফগান শক্তির। পঞ্জশিরের বর্তমান শাসক আহমেদ মাসুদ জানিয়েছেন কোনও অবস্থায় তালিবানকে মেনে নেওয়া হবে না।

অপর একটি তালিবান বিরোধী শক্তি আফগান মার্শাল আবদুল রশিদ দোস্তাম গেরিলা কায়দায় হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেই খবর। তিনি মাজার ই শরিফের শাসক ছিলেন। গত ১৫ আগস্ট তালিবান জঙ্গিরা দ্বিতীয়বার কাবু্ল দখল করার কিছু আগে তিনি দেশত্যাগ করে সীমান্তবর্তী উজবেকিস্তানের গোপন আস্তানায় চলে যান।

সোভিয়েত জমানার আফগান মার্শাল দোস্তাম ও সোভিয়েত বিরোধী পঞ্জশিরের সিংহ আহমেদ শাহ মাসুদের দোস্তি ছিল তীব্র আলোচিত। তাঁর প্রয়াণের পর দোস্তামের সঙ্গে জুনিয়র মাসুদের সম্পর্ক অটুট। দোস্তাম বার্তা পাঠিয়ে লড়াই জারি রাখতে বলেছেন।

কিন্তু কাবুল থেকে বেশি দূরে নয় পঞ্জশির। ফলে তালিবান তার পুরো শক্তি ব্যবহার করছে এই এলাকা দখলের। পঞ্জশির থেকে তারই জবাব দিয়ে চলেছেন জুনিয়র মাসুদ। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের খবর, পঞ্জশিরের দোরগোড়ায় থমকে গিয়েছে তালিবান। তবে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন আহমদ মাসুদ। এই অবস্থায় তালিবানের সঙ্গে আলোচনার পথ নিতে চলেছেন তিনি। এই বিষয়ে রাশিয়া সরকারের সাহায্য চেয়েছেন।

রুশ সংবাদমাধ্যমের খবর,তালিবান বিরোধী গোষ্ঠীর আহমদ মাসুদ বলেন, আমি আশা করছি রাশিয়া একমাত্র আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। যারা আফগানিস্তান ত্যাগ করতে পারছে না, তাদের জন্য নিরাপদ অঞ্চল তৈরি করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, রাশিয়াসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলো তালিবানকে চাপ দিতে পারে।

মাসুদ বলেন, আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি শান্তি আলোচনাই একমাত্র সমাধান। কিন্তু পঞ্জশির উপত্যকায় কিছু সামরিক কূটচাল এবং প্রস্তুতি আছে, আমরাও আত্মরক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

গোয়েন্দা রিপোর্ট: ত্রিপুরায় দূর্বল হচ্ছে বিজেপি, ঘর গোছাচ্ছে মানিক-মমতা

Bjp loosing supporter base In tripura

নিউজ ডেস্ক: ফের মানিক নাকি মমতামুখী ত্রিপুরা? আগরতলার রাজনৈতিক মহলের এমন গুঞ্জন যে আসলেই ত্রিপুরার শাসক বিজেপির জন্য বড়সড় ধসের ইঙ্গিত সেটি সরকারকে জানিয়েছে গোয়েন্দা রিপোর্ট।

মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের কাছে পৌঁছে যাওয়া রিপোর্টের কিছু অংশ জেনে ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের একাংশ খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই ক্ষুব্ধ। বিজেপি সমর্থকদের তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে চলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছেই। গোয়েন্দা রিপোর্টে এসেছে এই তথ্য।

ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসে দাবি, হুড়মুড়িয়ে বিজেপি ভেঙে পড়বে। নাম প্রকাশ না করলেও টিএমসি জানাচ্ছে, রাজ্যের শাসকপক্ষের দুই বিধায়ক মমতা শিবিরে ফিরে আসছেন। তাদের সঙ্গেই বাকিরা আসবেন। যদিও ত্রিপুরা প্রদেশ টিএমসি সভাপতি আশীষলাল সিংহ জানান, গত বিধানসভা ভোটের আগে যারা কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে এসেছিলেন তারা পরে বিজেপিতে যান। সেই নেতারা ফিরতে মরিয়া।

গত বিধানসভা ভোটের আগে ত্রিপুরার ততকালীন কংগ্রেস হেভিওয়েট বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ দলবদলে টিএমসিতে যান। তাঁর অনুগামী বিধায়কদের নিয়েই ত্রিপুরায় বিরোধী দল হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই বিধায়করা পরে বিজেপিতে যান। এখন তারা সরকারে। তারাই এখন মুখ্যমন্ত্রীর প্রবল বিরোধী।

ত্রিপুরায় তৃণমূল নিজেদের জমি তৈরিতে ব্যাস্ত। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজ্যবাসী যাদের বড় অংশ গত নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন তারা তৃণমূলমুখী হচ্ছেন। গত নির্বাচনে ত্রিপুরায় টানা ২৫ বছরের বাম জমানা শেষ হয়েছে। সরকারে এখন বিজেপি-আইপিএফটি জোট।

গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে লাগাতার ধাক্কা সামলে সিপিআইএম এখনও সংহত। তাদের সমর্থনে ধস আসছে না। তবে আগামী কয়েকমাসে বাম সমর্থন কিছুটা মমতামুখী হবেন। আর উপজাতি এলাকায় ক্ষমতাসীন নতুন দল হিসেবে রাজা প্রদ্যোত দেববর্মণের দল তিপ্রা মথা হতে চলেছে বিধানসভা ভোটে সবথেকে বড় ফ্যাক্টর।

তালিবান ইস্যু: লক্ষ্য ভারতীয়দের উদ্ধার, ধীরে চলো নীতি মোদীর

all-party meet jaisahnkar

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের (Afghanistan) সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। সর্বদলীয় বৈঠকের পর কেন্দ্র সরকারের অবস্থান ব্যাখা করতে গিয়ে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর আরও জানালেন, সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য আফগানিস্তানে আটকে থাকা ভারতীয়দের দ্রুত ফেরত আনা।

তবে বিদেশমন্ত্রকের সূত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে, আফগানিস্তানে তালিবান (Taliban) নিয়ন্ত্রণের পর নয়াদিল্লি খুবই ধীরে চলো নীতি নিয়েছে। যদিও ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশ বার্তা দিতে শুরু করেছে তালিবানকে। তাদের বার্তায় এসেছে সমর্থন ইঙ্গিত।

দিল্লিতে সর্বদলীয় বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে বিরোধী দলের নেতৃত্বের দীর্ঘ আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী আফগান পরিস্থিতি তুলে ধরেন। ব্যাখ্যা করেন পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে। বিরোধী নেতা কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ অন্যান্য দলগুলির নেতৃত্ব ছিলেন।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালিবানদের একপ্রকার মান্যতা দিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছেন এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রক একমাত্র তালিবান। আর বিকল্প নেই। পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ টেলিফোনিক আলোচনার পরেই সর্বদলীয় বৈঠক স্থির হয়।

মাথা কাটার তালিবানি ফরমান জারির শঙ্কায় আফগানিরা

Kabul violation against women

নিউজ ডেস্ক: কাবুল দখল নেওয়ার দশ দিনের মাথায় ঘোষিত অবস্থানের উল্টো পথেই হাঁটছে তালিবান। আফগান মহিলাদের ঘরেই থাকতে হবে। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও গত ১৫ আগস্ট কাবুলে বিখ্যাত সাাংবাদিক সম্মেলনে পরিশীলিত ভাবমূর্তির যে ছবি তুলে ধরার কথা বলেছিল তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ, তাতে মহিলাদের কর্মস্থলে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়।

প্রথমে ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে পড়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা, এখন মহিলাদের কর্মস্থলে না যাওয়ার ফরমান-এরপর কী মাথা কাটার ফতোয়া? আফগানিস্তানের মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিস্তর। কারণ এর আগে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবান সরকারের ভয়ঙ্কর রূপ দেখেছেন আফগানবাসী।

Kabul violation against women

বিবিসি জানাচ্ছে, তালিবান মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেছেন, আফগানিস্তানে কর্মরত নারীদের তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকতে হবে। মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, এটি খুবই স্বল্প সময়ের জন্য একটি প্রক্রিয়া। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই নির্দেশের পরেই আসতে চলেছে কড়া শরিয়া আইনের অন্তর্গত মাথা কাটার ফরমান।

তালিবান স্পষ্ট জানিয়েছে আফগানিস্তানে শরিয়া আইন জারি চলবে। কড়া ধর্মীয় এই নিয়মকানুনে মহিলাদের জন্য ভয়ঙ্কর সব নিদান রয়েছে। এর একটু ভুল হলেই প্রকাশ্যে নিদারুণ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পেতে হয়। আর সময বিশেষে সেই শাস্তি হয় মাথা কেটে নেওয়া।

২০০১ সালের আগে তালিবান যখন আফগানিস্তান শাসন করত, তখন তারা কঠোর শরিয়া আইন জারি করেছিল। বিবিসি জানাচ্ছেন আফগানবাসীরা মেনেই নিতে পারছেন না আফগানিস্তানের পূর্ণ ক্ষমতা নেওয়ার পরেই তালিবান যে নরম মনোভাবের ছবি তুলে ধরার কথা বলছে তা কতটা পূরণ হবে।

জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছে, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকেরই প্রশিক্ষণ নেই যে কীভাবে নারীদের সাথে আচরণ করতে হয় বা তাদের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয়। পূর্ণ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা নারীদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিচ্ছি।

তবে বিভিন্ন রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশলেটের আশঙ্কা, তিনি খবর পেয়েছেন তালিবানরা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া শুরু করেছে।

আগামী ৩১ আগস্ট লাল তারিখ। তার মধ্যেই সম্পূর্ণ মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ত্যাগ করবে। যদিও এই সেনা এখন কাবুল বিমান বন্দরে অবস্থান করছে। তারাই কাবুল থেকে উদ্ধারকারী বিমানগুলির তদারকিতে। আর কাবুল বিমান বন্দরের বাইরের ফটকে তালিবান পাহারা।

ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং জার্মানির তরফে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান ত্যাগের জন্য বেঁধে দেয়া ৩১শে আগস্টের সময়সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। তবে তালিবান কোনওভাবেই এই আবেদন মানবে না বলে জানায়।

বিবিসি জানাচ্ছে, মার্কিন সেনারা কাবুল বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ করছে। যেখান থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৮ হাজার ৭০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তালিবানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে হুশিয়ারি দিলেন ‘লায়ন অফ পঞ্জশির’

Lion of Panjshir Ahmed Masood

নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত! তালিবানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে প্রতিরোধ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নর্দান অ্যালায়েন্স৷ মঙ্গলবার একথা স্পষ্ট করে দিলেন ‘লায়ন অফ পঞ্জশির’ আহমদ মাসুদ৷ আফগানিস্তানের জাতীয় বীর আহমদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমদ মাসুদ বলেছেন, পঞ্জশির এলাকা তালিবানের কাছে কোনভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না৷

তালিবান পঞ্জশির অঞ্চল ঘিরে ফেলার দাবি করার পর এই মন্তব্য করে আহমদ মাসুদ। তিনি ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট অব আফগানিস্তান বা এনআরএফ’র প্রতিষ্ঠাতা প্রধান। তালিবান দাবি করেছে, তারা পঞ্জশির এলাকাটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তালিবানের এই দাবিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন আহমদ মাসুদ৷

প্রতিরোধ সংগ্রামের ক্ষেত্রে পঞ্জশিরের বীরত্বপূর্ণ ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত চলা সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে এবং ১৯৯০–এর দশকে তালিবানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য বিখ্যাত পাঞ্জশির এলাকা। তালিবান রাজধানী কাবুলের দখল নিলেও এখনও পাঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। এর আগেও আফগানিস্তানজুড়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হলেও, পঞ্জশির দখলে নিতে ব্যর্থ হয়েছিল তালিবান।

এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করছে আহমদ মাসুদের এনআরএফ। আহমদ মাসুদের বাবা আফগানিস্তানে জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৯০–এর দশকে তালিবানের প্রতিরোধে আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেন তিনি। তালিবানদের ক্ষমতা দখলের পর তিনি বিরোধী পক্ষের প্রধান কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তাঁকে হত্যা করা হয়। এখন তারই ছেলে আহমদ মাসুদ তালিবান বিরোধী প্রতিরোধ বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন

তালিবান সরকার ইস্যু: পুতিন-মোদী আলোচনার পর প্রশ্ন ‘সমর্থন ইঙ্গিত’

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানে তালিবান নিয়ন্ত্রণ হলেও এখনও জঙ্গিরা সরকার গড়েনি। দ্রুত সরকার গড়ার কাজ শেষ হবে জানিয়েছে তালিবান। কাবুল এখন বিশ্ব রাজনৈতিক ঘনঘটার কেন্দ্র। আফগানিস্তানে এই জঙ্গি তালিবান সরকারের প্রতি আগেই প্রচ্ছন্ন সমর্থন ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, আফগানিস্তানে এখন তালিবানই নিয়ন্ত্রক, এই বাস্তবতা মানছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। তবে ক্রেমলিন চায় আফগানিস্তানে যেন দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হোক।

এদিকে পুতিনের ইঙ্গিতপূর্ণ সমর্থন আসতেই কাবুলে তালিবান জঙ্গি নেতৃত্বের মধ্যে উল্লাস ছড়ায়। রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের অন্যতম চিন ও রাশিয়া ক্রমে নিকট হচ্ছে তালিবানের।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আফগান ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুজনের মধ্যে দীর্ঘ টেলিফোনিক আলোচনা তৈরি করেছে বিশ্বজোড়া কৌতূহল। আন্তর্জাতিক মহলের প্রশ্ন ভারত কি আফগানিস্তানে সরকার গড়তে চলা তালিবানকে সমর্থন দেবে ?

Modi with putin

প্রধানমন্ত্রী মোদী আফগানিস্তান ইস্যুতে ২৬ অগাস্ট বৃহস্পতিবার সকালে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর জানিয়েছেন, বৈঠকে লোকসভা ও রাজ্যসভার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

আফগানিস্তানের টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের উপর আর্থিক চাপ বিরাট। কারণ বিদেশে ভারতের সর্বাধিক বিনিয়োগের খাতায় আফগানিস্তান অন্যতম। বিদেশমন্ত্রক জানাচ্ছে, আফগানিস্তানে পরিকাঠামো নির্মাণে ভারত ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। আসন্ন তালিবান সরকারের আমলে আফগানিস্তানে সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও সর্বদলীয় বৈঠকে আলোচনা হবে।

সরকারে বিজেপি। তালিবান যখন ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত প্রথমবার আফগানিস্তানে জঙ্গি নাশকতার সরকার কায়েম করেছিল সেই সময় ঘটেছিল কান্দাহার বিমান অপহরণের মতো মারাত্মক ঘটনা। ১৯৯৯ সালের সেই ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। চাপের মুখে জঙ্গি নেতা মাসুদ আজহারের মুক্তির বিনিময়ে ভারতীয় যাত্রীদের জীবন বাঁচানো হয়।

ভারতে এখন এনডিএ সরকার। ক্ষমতার কেন্দ্রে বিজেপি। আফগানিস্তানে ফের তালিবান নিয়ন্ত্রণ শুরু। ফলে বাজপেয়ী জমানার সঙ্গে মোদী জমানার কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও চলছে আলোচনা।

মোদীর আহ্বানে সর্বদলীয় বৈঠকে সরকারপক্ষ বিজেপি ছাড়া বিরোধীদের মধ্যে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, সিপিআইএম, সিপিআই সহ বিভিন্ন দল থাকবে। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা থাকছে। তিনি কী বার্তা দেবেন মোদীকে সেটি বিশেষ আলোচিত। তেমনই জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে। কারণ তালিবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলি তৎপরতা বেড়েছে।

তবে এই ধরণের আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সিপিআইএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির বার্তা বিশেষ গুরুত্ব দেয় কেন্দ্র। ইউপিএ বা এনডিএ যে কোনও সরকারের আমলেই বিদেশ সংক্রান্ত নীতির উপর বারবার সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সূক্ষ্ম সমালোচনা করেন ইয়েচুরি।

কংগ্রেস কী বার্তা দেয় তাও লক্ষ্যনীয়। ইউপিএ আমলেই আফগানিস্তানে বড়সড় বিনিয়োগের সূত্রপাত হয়। ফলে রাহুল গান্ধীর অবস্থান নিয়েও চলছে আলোচনা।

এদিকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এখনও অনেক ভারতীয় আটকে রয়েছেন। তাদের ফিরিয়ে আনতে দিল্লি থেকে কাবুল পর্যন্ত বিশেষ বিমান পরিষেবা চালু করেছে সরকার।

করোনায় বিশ্বে শিশুমৃত্যুর এক তৃতীয়াংশ ভারতেরঃ বিশ্ব ব্যাংক

Narendra-Modi

নিউজ ডেস্কঃ বিশ্বজোড়া করোনা সংক্রমণ পরিসংখ্যান দাখিল করা ওয়ার্ল্ডোমিটার জানাচ্ছে, সোমবার পর্যন্ত কোভিড ১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃতের তালিকায় ভারত দ্বিতীয়। প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়ার্ল্ডোমিটার রিপোর্টে সোমবার পর্যন্ত ভারতে করোনায় মৃত ৪ লক্ষ ৩৫ হাজারের বেশি। আর বিশ্বব্যাঙ্ক রিপোর্টে এসেছে করোনায় সোমবার পর্যন্ত ভারতে প্রায় এক লক্ষ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনা হামলায় ১২৮টি দেশে প্রায় ২ লক্ষ ৬৭ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর এক তৃতীয়াংশ ভারতের। আরও বলা হয়েছে, করোনার কারণে বিশ্বের অর্থনৈতিক গতি ১৭ শতাংশ সংকুচিত।এর ফলে শিশু মৃত্যুর হার প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে।

কেন এত শিশুমৃত্যু? প্রশ্নে জর্জরিত কেন্দ্র সরকার। যদিও বিজেপি নেতৃত্বে চলা নরেন্দ্র মোদীর সরকার দাবি করেছে, করোনা নিয়ন্ত্রণে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তবে অভিযোগ আন্তর্জাতিক স্তরের। সেক্ষেত্রে সরকার অস্বস্তিতে। বিশ্বে করোনায় শিশু মৃত্যের খতিয়ানে এক তৃতীয়াংশ ভারতেই এটি চরম উদ্বেগের বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ভারতের থেকে কম উন্নয়নশীল দেশেও এভাবে করোনায় শিশুমৃত্যু হয়নি।

করোনায় শিশু মৃত্যুর পরিসংখ্যান আসতেই কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ পুড়ল। বিশ্ব ব্য়াংকের রিপোর্ট নিয়ে বিরোধী দলগুলি বলছে মুখ পুড়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদীর।