নানান বৈচিত্র্যময় আয়োজনকে ঘিরে এই শহর যেন সারা বছরই সাংস্কৃতিক আনন্দ-আমেজে ভরপুর থাকে। সুইজারল্যান্ডে গ্রীষ্মকাল মোটামুটি তিন মাসের জন্য আসে। যদিও এর মধ্যে এক-দুই সপ্তাহ এমনও থাকে, যখন তাপমাত্রা প্রায় ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছে যায়। তবে পুরো গ্রীষ্মকাল জুড়েই এই ফুলের মতো সুন্দর দেশটি যেন এক নতুন প্রাণ ফিরে পায়।

বাংলা সাংস্কৃতিক দূত | Playback Singer • Freelance Reporter & Bengali Cultural Ambassador, Switzerland
এই সময় বিভিন্ন শহর ও জনপদ নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং সৃজনশীলতাকে নানা রঙমঞ্চে তুলে ধরে। কোথাও সঙ্গীতানুষ্ঠান, কোথাও সাইকেল রেস, কোথাও কমেডি শো, আবার কোথাও সার্কাস। শিশুদের জন্য থাকে গল্প বলার আসর, নাটক, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান ও নানা বিনোদনের ব্যবস্থা। এছাড়াও ম্যারাথন, সাঁতার প্রতিযোগিতা, সার্ফিং, সাইক্লিং রেস, তাইকুন্ডো প্রদর্শনী, গাড়ি ও মোটরবাইকের রেসিং কিংবা মোটরবাইক র্যালি_সব মিলিয়ে দেখার মতো অসংখ্য আয়োজন।
এর পাশাপাশি রয়েছে নানা দেশের ও অঞ্চলের খাবারের সম্ভার, সমৃদ্ধ জাদুঘর, শিল্প-স্থাপত্য এবং নান্দনিক শিল্পচর্চা। এই লেখায় সেই অসংখ্য আয়োজনের মধ্য থেকে কয়েকটি প্রসিদ্ধ অনুষ্ঠান ও তাদের কিছু চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
আমাদের দেশ কিংবা এশিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যখন মানুষ এখানে আসেন, তখন ভাষাগত ব্যবধান থাকলেও এই বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক পরিবেশ, উৎসব ও জনসম্পৃক্ত অনুষ্ঠানগুলো তাঁদের দ্রুত আপন করে নেয়। অনেক সময় মনেই হয় না যে পরিবার-পরিজন থেকে দূরে, এক ভিন্ন দেশে অবস্থান করছি। বরং এক অদ্ভুত উষ্ণ ও হোমলি অনুভূতি ঘিরে রাখে চারপাশ।
এই অনুভূতি গড়ে তোলার পেছনে এখানকার ইভেন্ট আয়োজকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। পাশাপাশি সরকারের সুসংগঠিত পরিকল্পনা, কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলা এবং নাগরিক সচেতনতা দেশটিকে অত্যন্ত সুন্দরভাবে পরিচালিত করছে। এখানকার মানুষের সময়ানুবর্তিতা সত্যিই বিস্ময়কর। মনে হয়, সময় যেন তাদের নিত্যসঙ্গী। অধিকাংশ মানুষই নিজেদের কাজ নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে সম্পন্ন করেন_সে কাজ যত ছোট বা বড়ই হোক না কেন।
অনেক বিষয়ই এখানে সত্যিই শিক্ষণীয়। বিশেষ করে জ্ঞান, দক্ষতা ও পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানুষের বিনয়, সৌজন্য ও আন্তরিক ব্যবহার নন-সুইস বাসিন্দাদের হৃদয়েও বিশেষ স্থান করে নেয়। তাই সুইজারল্যান্ডের এই সংস্কৃতি, শৃঙ্খলা ও মানবিকতা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
