স্পোর্টস ডেস্ক: গত বছর কিবু ভিকুনার কোচিংয়ে আই লিগ জিতেছিল মোহনবাগান (ATK-Mohunbagan)। ফলে সুযোগ পেয়েছিল এএফসি কাপে। তারপর অনেক বদলে গিয়েছে গঙ্গাপাড়ের ক্লাব। মোহনবাগানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কর্পোরেট এটিকে। ফলে এটিকে মোহনবাগান নাম নিয়ে এই লিগের বদলে আইএসএলে খেলেছে দল। একই নামে খেলছে চলতি এএফসি কাপেও।
গতবার তেকাঠির তলায় সবুজ-মেরুনের অন্যতম ভরসা ছিলেন অরিন্দম ভট্টাচার্য (Arindam Bhattacharya)। ফাইনালে তাঁর ভুলে মোহনবাগান গোল খেলেও গোটা টুর্নামেন্টেই ধারাবাহিকতা দেখিয়েছিলেন এই বাঙালি গোলরক্ষক৷ গোল্ডেন গ্লাভসও উঠেছিল তাঁর হাতেই।
কিন্তু তারপরেই আইএসএলেরই আরেক গোলরক্ষক অমরিন্দর সিংকে দলে নিয়েছে এটিকে মোহনবাগান। ফলে এএফসি কাপের প্রথম তিন ম্যাচে অ্যান্তোনীয় হাবাসের দলে জায়গা হয় নি অরিন্দমের। দলের শেষ প্রহরীর দায়িত্ব সামলেছেন অমরিন্দর। শোনা গিয়েছিল, লোনে লাল-হলুদে আসতে পারেন তিনি। প্রণয় হালদারকেও প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইস্টবেঙ্গল অফিসিয়ালরা৷ কিন্তু এই মূহুর্তে দু’জনেরই লাল-হলুদে আসার সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে।
মোহনবাগান ছেড়ে জামশেদপুর এফসিতে যোগ দিয়েছেন প্রণয় হালদার। দলে সু্যোগ পেয়ে না পেয়ে ইতিমধ্যেই মোহনবাগান ছেড়েছেন অরিন্দম। যদিও লাল-হলুদে আসার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীন।
হাতে সময় কম, ৩১ আগস্ট দলবদলের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। হাতে মাত্র ৫ দিন সময়, তার আগেই দলগঠন সম্পূর্ন করতে হবে লাল-হলুদকে। নয়তো বড় অঙ্কের ট্রান্সফার ফি দিয়ে অন্য দল থেকে ফুটবলার নিতে হবে। যদিও নতুন ফুটবলার নেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক কাজ কিছুটা সেরে ফেলেছেন ক্লাব অফিসিয়ালরা। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ফুটবলারকে প্রস্তাব দিয়েছেন ক্লাবের তরফ থেকে। মহম্মদ রফিক, শঙ্কর রায়, মির্শাদ, জেজে, অঙ্কিত মুখোপাধ্যায়রা গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে।
দলবদলের ব্যাপারে লাল-হলুদের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন, বৃহস্পতিবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ফলে নতুন ফুটবলার সই করাতে আর কোনও বাধা রইল না এসসি ইস্টবেঙ্গলের সামনে।
#Atmanirbhar Bharat নিউজ ডেস্ক: এটা কোন সাধারণ বুলেট প্রুফ জ্যাকেট নয়৷ এই জ্যাকেট একদিকে যেমন সেনা-পুলিশ জওয়ানের (soldiers) প্রাণ রক্ষা করবে৷ অন্যদিকে বুলেট থেকেই সরাসরি শত্রুকে লক্ষ্য করে গুলিও করবে৷ আর এই হাইটেক জ্যাকেট (Hi-tech jacket) তৈরি করেছে মিরাট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অটল কমিউনিটি ইনোভেশন সেন্টার (Atal Community Innovation Center)৷ এখানে শেষ নয়, এই সংস্থার দাবি, কোনও জওয়ান জখম হলে জ্যাকেটে থাকা হাইটেক প্রযুক্তি সরাসরি তা কন্ট্রোলকে জানিয়ে দেবে৷
মিরাটের এমআইইটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের উদ্ভাবক শ্যাম চৌরাসিয়া দাবি করেছেন, এমন ধরনের একটি হাই-টেক জ্যাকেট ডিজাইন করা হয়েছে, যা গুলি চালানোর পাশাপাশি জওয়ানের আঘাত হওয়ার খবর ও তার অবস্থানসহ বিস্তারিত তথ্য কন্ট্রোল রুমকে জানাবে৷ যাতে আহত জওয়াদের চিকিৎসা অবিলম্বে শুরু করা যায় এবং তাদের জীবন বাঁচানো যায়। শ্যাম আরও বলেছেন, এই জ্যাকেটটি ওয়্যারলেস প্রযুক্তিতে সজ্জিত। এই হাই-টেক বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটের একটি ওয়্যারলেস ট্রিগারও রয়েছে, যার সাহায্যে সেনা জওয়ানরা সীমান্তে ১০টিরও বেশি বন্দুক রেখে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে শত্রুদের উপযুক্ত জবাব দিতে সক্ষম হবে। এই জ্যাকেটটি মাত্র ১৫ দিনে প্রস্তুত করা হয়েছে। হাই-টেক জ্যাকেট ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সক্রিয় থাকে।
অটল কমিউনিটি ইনোভেশন সেন্টারের প্রযুক্তিবিদ শ্যাম চৌরাসিয়া জানিয়েছে, এই প্রযুক্তির সাহায্যে সীমান্তে নিযুক্ত জওয়ানরা কখনও একা থাকবে না৷ কারণ, এই জ্যাকেট জওয়ানদের সীমান্তের কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে ২৪ ঘন্টা যোগাযোগ রাখবে। জ্যাকেটে ১১ মিমি দু’টি ব্যারেল রয়েছে, যা জ্যাকেটের সামনে বা পিছনে লাগানো যেতে পারে। জ্যাকেটটি লাইভ ক্যামেরা দিয়ে সজ্জিত, যাতে শত্রুরা পিছন থেকে আক্রমণ করতে পারবে না৷ কারণ, কন্ট্রোল রুম এবং জওয়ান পিছনসহ আশপাশের ছবি দেখতে পাবেন. আর সেই মতো শত্রুকে উপযুক্ত জবাব দিতে পারবে৷ জ্যাকেটে থাকা লাইভ বন্দুকটি ইন্টারনেট থেকেও চালানো যায় এবং যদি কোনও শত্রু কোনও জওয়ানকে আক্রমণ করে, তাহলে এই জ্যাকেট তাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গুলি করবে। দাবি করা হয়েছে, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেটে লাগানো বন্দুকের ফায়ার রেঞ্জ ২০০ মিটার। এই জ্যাকেটের সাহায্যে যে কোন ধরনের অস্ত্র চালানো যায়।
এই সম্পূর্ণ সিস্টেমটি MIET ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অটল কমিউনিটি ইনোভেশন সেন্টারে প্রস্তুত করা হয়েছে। বিশেষ বিষয় হল এই জ্যাকেটে ইনস্টল করা সমস্ত সরঞ্জাম ভারতীয়। এটি তৈরি করতে ২৫ দিন লেগেছিল। সম্পূর্ণ প্রোটোটাইপ প্রকল্পগুলি প্রস্তুত করতে ২০ থেকে ২২ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এটি কলেজে পড়ে থাকা আবর্জনা থেকে প্রস্তুত করা হয়েছে। এতে ৩.৭ ভোল্ট ব্যাটারি, ৯ ভোল্ট ব্যাটারি, সোলার প্লেট ৬ ভোল্ট, এলার্ম, ট্রান্সমিটার রিসিভার, জিপিএস, মেটাল পাইপ, রিলে ৫ ভোল্ট, ক্যামেরা, ১০ মিমি পাইপ রয়েছে।
এমআইইটির ভাইস-চেয়ারম্যান পুনিত আগরওয়াল বলেন, যারা কিছু উদ্ভাবক করতে চায়, অটল কমিউনিটি ইনোভেশন সেন্টার সায়েন্স ল্যাব সম্পূর্ণরূপে সহযোগিতা করে শিক্ষার্থীদের৷ যাতে তরুণরা তাদের চিন্তাকে প্রোটোটাইপে রূপান্তর করতে পারে এবং পেটেন্ট করতে পারে। তিনি বলছেন, যে সমস্ত মেধাবীরা সুযোগ পাচ্ছে না, তারা তাদের নতুন আইডিয়া নিয়ে এখানে প্রজেক্ট তৈরি করছে। এই হাই-টেক জ্যাকেটটিও পেটেন্ট করা হচ্ছে।
তবে প্রতিরক্ষার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, যতক্ষণ না এর পরীক্ষা শেষ হচ্ছে, ততক্ষণ এর উপযোগিতা সম্পর্কে কিছু বলা যাবে না। এই প্রকল্পের পেটেন্ট করার আগে সেনাবাহিনীর সঙ্গে একটি পরীক্ষা করা উচিত৷ তবেই এর উপযোগিতা জানা যাবে। তবে এই জ্যাকেটটি আজকাল মানুষের মধ্যে অবশ্যই আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিউজ ডেস্ক: আসছে সেপ্টেম্বর মাসে কী জানি কী হয়! এমনই ভয় ছড়িয়ে ত্রিপুরা (Tripura) প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে। আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর উপস্থিতিতে বড়সড় ধস নামতে পারে সরকারপক্ষে। ফলে ত্রিপুরায় বিজেপি (TMC) জোটের ডবল ইঞ্জিন সরকার লাইনচ্যুত হওয়ার গুঞ্জন উত্তর পূর্বাঞ্চলের সব রাজ্যে। সেপ্টেম্বরেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগরতলায় জনসভা হতে চলেছে।
তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগরতলার আস্তাবল ময়দানে (বর্তমান স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়াম) তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর জনসভা হবে। সেখানেই বিজেপির অন্তত ১২ জন বিধায়ক ফের ফিরতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসে।
কলকাতায় টিএমসি সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন ত্রিপুরা সরকারের বিদ্রোহী তথা সংস্কারপন্থী বিধায়করা। নেতৃত্বে রয়েছেন সুদীপ রায় বর্মণ। তিনি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের (Biplab Deb) প্রবল প্রতিপক্ষ।
সুদীপবাবুর হাত ধরেই গত বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী দল কংগ্রেস ছেড়ে এই বিধায়করা টিএমসিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে ত্রিপুরায় টিএমসি হয়েছিল বিরোধী দল। মমতা-সুদীপ সখ্যতা বেশিদিন চলেনি। সুদীপবাবুর রাজনৈতিক গুরু মুকুল রায় বিজেপিতে যান। সেই সূত্রেস সুদীপবাবু টিএমসি ত্যাগ করে বিজেপিতে যান। নির্বাচনে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। বিজেপি-আইপিএফটি জোট এখন সরকারে।
ত্রিপুরায় বিজেপি প্রথমবার সরকার গড়ে। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন সুদীপবাবু। তবে সরকারের কাজে লাগাতার অসন্তোষ দেখাতে থাকেন। তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়। শুরু হয় সুদীপবাবুর বিদ্রোহ।
গত চার বছরে ত্রিপুরা বিজেপির অন্দরে সুদীপবাবুর অনুগামীরা বিতর্কিত স্লোগান চালু করেছেন, ‘বিপ্লব হটাও ত্রিপুরা বাঁচাও’। এই বিদ্রোহী বিধায়কদের সবাই সরাসরি তৃণমূলে ফিরতে মরিয়া। তাঁরা দলত্যাগ করলে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে বিজেপি।
ত্রিপুরা বিধানসভা এখন এমন- পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে মমতা শিবিরে ফিরেছেন। সেই থেকে ত্রিপুরায় ফের মুকুল শিষ্য সুদীপ বর্মণ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমীকরণ জমাট হতে শুরু করেছে।
রাজ্যে ০.৩ শতাংশ ভোট নিয়ে টিএমসি শুরু করেছে ‘খেলা হবে’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগরতলা সফরে কী ঘটবে তা স্পষ্ট জানেনা বিজেপি। প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের দাবি, কোনও অবস্থায় বাম বিধায়করা পক্ষত্যাগ করবেন না।
সে মাঠে দাঁড়িয়েছিল, সন্ধ্যায়, লাইটপোস্টে হেলান দিয়ে; ইশিতা আসবে, ইশিতা এলে তার ভালো লাগে।
অনেকেই আসে ভাব জমাতে, কেউ কেউ রাতে মেসেঞ্জারে টুইট টুইট করেও অজ্ঞাতে ছেড়ে দেয় পিঁপড়ে; সে লেখে তার মুখস্ত কথাটি, এখনকার মনের কথাও বোদলেয়ারের ভাষায়, আমি ভালোবাসি মেঘ, আশ্চর্য মেঘ, ওই উঁচুতে।
এর মানে, মানুষের মাথার উপর দিয়ে আরও আরও উঁচুতে সে চোখ রেখেছে, বা রাখে, এজন্য যে নারীতে পুরুষে এইসব খেলায় অনেক অপচয় হয়ে গেছে সময়। রহস্য যাকে ভেবেছিল তা পাকা ডালিমের মতো ফেটে দগ্ধ উঠোনে রক্তরঙে রাঙানো নদী হয়ে গেছে; চেনা, খুব চেনা নদী।
ইশিতাকে সে ফোন করে না, সে জানে যাবার বেলায় একবার ঢুঁ মেরে যাবে।
ইশিতারও সামনে আছে বহু বাড়িয়ে রাখা হাতের গুচ্ছ গুচ্ছ আঙুল। সে কখনও তা ছোঁয়, কখনও ছোঁয় না।
সে কি ইশিতাকে পেতে চায়? পেতে চাওয়া মানে কি জুনের তপ্ত রোদে পুড়ে পুড়ে তার শীতল ফেনায় শরীরে শরীর ঘষে সুখী হওয়া?
এমন তো সে প্রায়ই করে, প্রতিদিনই করে, বারবার করে, ঘুরেফিরে করে, নিজের সঙ্গে নিজে করে।
তবু সে নিজের কাছে জানতে চাইলো সে কী করবে? ইশিতাকে বলবে?
রাতে ছোট ছেলেটার ডায়পার বদলাতে গিয়ে তার ঘুম ছুটে গেছে। মোবাইল ফোনের স্ক্রিন জীবন্ত করে দেখে রাতের দ্বিতীয় ভাগ কেবল শুরু হয়েছে। বিছানায় ছটফট না করে সে স্ট্যাডিতে গিয়ে অনেকদিন ফেলে রাখা উপন্যাসের শেষ লাইনের উপর কার্সর রেখে ইশিতার কথা ভাবে।
ঝনঝন আয়না ভেঙে পড়ার শব্দে স্ট্যাডির দরোজায় এসে রূপা আর্তনাদ করে দাঁড়ায়, ‘বাবা কী হয়েছে তোমার? কী করে ভাঙলো?’ রূপার পেছনে বেলা চোখের পাতায় ইরেজারের মতো আঙুল ঘষতে ঘষতে হয়ত স্যাভলন আনতে ভেতরে গেছে।
‘না, খুকু কিচ্ছু না। হঠাৎ আয়নাটা ভেঙে পড়লো।’
সে আয়নার টুকরো-টাকরোর মধ্যে নিজের মুখ স্পষ্ট করে খুঁজলো, রূপাকেও খানিকটা দেখতে পেলো।
‘যাও শুয়ে পড়ো, আমি আসছি।’
রূপা তার মায়ের ডাক্তারীর দিকে তাকিয়ে থাকলো। সে সময় বেলার কোনো প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে সে উপন্যাসের শেষ প্যারাটি শব্দ করে পড়লো, ‘দিলারা ভেবেছিল সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় কোনোদিন হঠাৎ জানালার কাঁচ তার মাথায় ঢুকে গেলে ডাক্তার তাকে কোনো একটি স্যানাটোরিয়ামে এই ঋতুটা কাটানোর পরামর্শ দেবে। কিন্তু স্যানাটোরিয়াম তো ইউরোপের বিষয়। বাংলার এই জটাজটের ভেতরে…’
বেলা ও রূপা ঘুমাতে চলে যায়।
সে ঘুষি মেরে আয়ানা ভেঙে নিজেকে কী বোঝাতে চায়?
সে ইশিতাকে চায়?
ইশিতার অন্তরঙ্গ মুহূর্তের তরমুজগোলা অন্ধকারে ডুবে থাকতে চায়?
যখন সে স্বপ্ন আর জাগরণের দ্বিধায় থাকে, তাকে আয়না ভাঙতে হয়। নিজের রক্ত দিয়ে তার জেগে থাকার, সচেতন থাকার স্বাক্ষর এঁকে নেয়।
কোনো ভণিতা না করেই মাঠের মেলা ভেঙে গেলে ইশিতার ড্রইংরুমে বসে সে বলে, ‘আমি সম্ভবত আপনার প্রতি অনুরক্ত হয়েছি। এমনটা হওয়া আমার উচিত কিনা জানি না। বা আপনি অসম্মত হলে আমি আগের অবস্থায় ফিরেও যাবো। বা আমার মনে হয় এই জাতীয় সম্পর্ক বরং যাতনাই বাড়ায়।’
ইশিতা তার আঙুলের ভেতর আঙুল রেখে জানালায় ডাল কুত্তার মতো অস্থির পর্দাটার দিকে তাকিয়ে বলে, ‘আমাদের মনে হয় ভালোই হবে।’
কিন্তু সে যে বয়সে এবং ইশিতা আরও যতখানি বেশি তারও চেয়ে, তাতে এই প্রেম ওষুধের গন্ধের মতো উত্তেজনাহীন। কিন্তু তারা বিছানায় ডুবে যেতে চায়। পরস্পরের অন্ধকার বিছিয়ে শুয়ে থাকতে চায়।
এরই মধ্যে ইশিতা দু’দফা হাসপাতালে থেকে এসেছে। মাঝে মাঝে ফোন করে কেবল আর্তনাদ করে বলে, ‘আমার মাথাটা ছিঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে। আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাচ্ছি।’
এই বয়সের যা যা অসুস্থতা তা তার আছে, উপরন্তু কোনো ছুতোয় রোদের মধ্যে রিকশায় ঘোরাঘুরি করে বাড়িয়ে তোলে মাইগ্রেনের ব্যথা।
সে নিজের উদ্বেগ চেপে রেখে বাইরে সহজ থাকে। ইশিতার জন্য তার কিছুই করার নেই। তার যে লড়াই, বা বলা যায় যে গহ্ববর, তাতে সে নেমে কোনো কূল পাবে না। তারচেয়ে তার ফোটা ফুলটুকু নিয়ে ঝরে পড়বার আগে স্তব করা বরং ভালো।
তাদের অবস্থানগত জটিলতায় তারা না কোনও বন্ধুর ডেরায় উঠতে পারে, না হোটেলে, উপরন্তু মারীর প্রকোপে তারা দুজনই ট্রমায়। তবু সে ভাবে, হয়ত ইশিতার আগ্রহের অভাবেই তারা মেলাতে পারছে না তাদের মর্ম।
সে জানতে চাইলে বলে, ‘আমি শূন্য। আমি শূন্য।’
স্পর্শে একটু সে কেঁপে উঠলেও তা নিতে না পারার অক্ষমতা বা হয়ত ভাবে শেষবেলায় এসে নতুন করে কিছুই আর শুরু করা যায় না। মানুষের ছায়া পড়লেও তা পাথরের মতো ঘন না হলে সে ছায়ায় দাঁড়ানো মানে রোদের চোখ ফেঁটে দুনিয়াকে দেখানো। আর তাতে ভেসে যাবে দুজনারই খড়কুটো, যা আছে মুঠোয় সামান্য।
*
ঝেঁপে বৃষ্টি নামায় রিকশা-গাড়ি নেকড়ের মতো লেজ গুটিয়ে পালাতে শুরু করলে তারা রাস্তা থেকে উঠে ফুটপাথের টং দোকানের ভেতরে এসে দাঁড়ায়।
মেঘের ভেতর লুকানো কামানগুলো কেবল মুহুর্মুহু ফাটছে।
রাস্তায় কেবল জলের ঢল ছাড়া কিছু নেই।
হয়ত ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই কোমর পর্যন্ত জল জমে যাবে।
তারা এখনি হাঁটা শুরু করলে, বা নিদেনপক্ষে ইশিতার বাড়িতে পৌঁছুতে পারবে ভয়াবহ জলজটের আগেই। কিন্তু তারা অন্ধকারে বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে থাকে। যেন বাইরে ভেজানোর জন্য তার মরুচারী উটের মতো হৃদয় দুখানা ভিজতে দিয়েছে। ভেজা শেষে হলে গুটিয়ে নেবে।
অরিত্র বলে, জানেন, এমন পরিস্থিতেই রবীন্দ্রনাথের একরাত্রি গল্পে অভিসার হয়। কীভাবে কী করেছে তাই ভাবছি।
‘রবীন্দ্রনাথ কী লিখেছে আমার ঠিক মনে নেই।’ বলে সে গুনগুন করে আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার, পরাণসখা বন্ধু হে আমার…
অরিত্র ইশিতার পেটে হাত বুলিয়ে বললো, কিন্তু আমরা যা লিখবো তা তো এখনই রচনা করতে পারি।
ইশিতা চমকে ওঠে, মাথা খারাপ?
যথেষ্ট খারাপই আছে। তাছাড়া প্রকৃতি এই-ই চায়।
ইশিতা আতঙ্কিত হয়, এর মধ্যে সম্ভব নাকি?
অরিত্র হেসে বলে, টেস্ট ম্যাচ আর টি টুয়ান্টির মধ্যে পার্থক্য ও উত্তেজনা আলাদা আলাদা থাকবে না!
অরিত্র হঠাৎ নিজের হাঁটুর উপর বসে ইশিতার শাড়ি তুলে তার আনন্দকুঞ্জে বৃষ্টি ও ঘামের গন্ধে ঠোঁট ছোঁয়ায় তীব্র চুমোয়।
ইশিতার জল ফুঁসে ওঠে, যেন তার নিঃশ্বাসের এলোমেলো হাওয়ায় উড়তে শুরু করবে এক লক্ষ নিউজপ্রিন্ট।
সে আর্তনাদ করে বলে, ‘না, উঠে আসো। উঠে আসো।’
সে বাধ্য ছেলের মতো উঠে এসে বলে, অন্তত হৃদয়ে হৃদয় মেশাও।
ইশিতা তাকে বুকে চেপে ধরতে গেলে সে বাধা দিয়ে বলে, ‘না এভাবে নয়, টাটকা বুকের সঙ্গে বুক মেলাতে চাই।’
২০১৮ সালে আমি সাহিত্য আকাদেমির পক্ষ থেকে ট্রাভেল গ্র্যান্ট পেয়েছিলাম। সে বছর জুলাই মাসে একটি কবিতাপাঠের পাঠের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম কলকাতার সাহিত্য আকাদেমি ভবনে। সেদিনই আমি জানতে পারি ট্রাভেল গ্র্যান্ট পেতে চলেছি। জানা মাত্রই অত্যন্ত আনন্দ হয়েছিল আমার। সেদিন আমার সঙ্গে কয়েকজন বন্ধুও ছিল। আমরা সবাই মিলে এর আনন্দ উদযাপন করেছিলাম।
এই গ্র্যান্ট পেলে সাহিত্য সম্পর্কিত বিষয়ে দেশের অন্য একটি রাজ্যে যেতে হয়। আমি আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য অসমকে নির্বাচন করেছিলাম। আমার পৈত্রিক বাড়ি আলিপুরদুয়ারে। আর অসমে ঢোকার রাস্তাই হল এই শহর। ছোটবেলা থেকে নানা ভাবে এই রাজ্য সম্পর্কে জেনে এসেছি। পড়েছি অসমীয়া ভাষার কবিতাও। একবার একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আলিপুরদুয়ারে এসেছিলেন অসমের বিখ্যাত কবি নীলমণি ফুকন। অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন আমার বাবাও। সেবার নীলমণি ফুকনকে খুব কাছ থেকে দেখা সুযোগ পেয়েছিলাম ওই ছোটবেলায়।
ট্রাভেল গ্র্যান্ট পেয়ে আমি গিয়েছিলাম অসমের বরাক উপত্যকায়, শিলচরে। এই শহরের প্রতি আমার ভালবাসার টান। আগেও নানা অনুষ্ঠানে গিয়েছি। তবে ট্রাভেল গ্রান্ট পেয়ে শিলচরে যাওয়ার আনন্দটাই আলাদা। বেশ কয়েকদিন ছিলাম। দেখা হয়েছিল কিছু গুণী মানুষের সঙ্গে। মনে পড়ছে ঐতিহ্যবাহী কাছার ক্লাবের কথা। প্রায় প্রতিদিনই সন্ধ্যাবেলায় সেখানে যেতাম। এখানে এক সময় পোলো খেলা হত। পাশেই ছিল অজন্তা হোটেল। যেখানে আমি উঠেছিলাম।
শিলচরে পৌঁছনোর পরদিন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য তপোধীর ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে যাই। তার সান্নিধ্য পাওয়া এক বিরল ব্যাপার। দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ার সময় তাঁর লেখা ‘কবিতার রূপান্তর’ বইটি বহুবার পড়েছি আর মুগ্ধ হয়েছি। অনেকজন কবির কবিতাকে চিনতে পারি এই বইটি পড়ে। তাঁর সঙ্গে আগেই যোগাযোগ করেছিলাম ফোনে। তিনি আমাকে সময় দিয়েছেন। তাঁর মুখোমুখি বসে সাহিত্যের নানা বিষয়ে আলোচনা করি। আমাদের আলোচনার ঘুরে ফিরে আসে রবীন্দ্রনাথের প্রসঙ্গ। তিনি রবীন্দ্রনাথের একটি প্রবন্ধের বিশ্লেষণ করেন আমার সামনে।
এ কথা বলতেই হয়ে, তপোধীর বাবুর সঙ্গ পেয়ে আমি সেদিন ঋদ্ধ হয়েছি। তাঁর সারা বড়ি জুড়ে বই আর বই। দেওয়ালে নানা ছবি টাঙানো। একটি ছবিতে দেখলাম তিনি প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলির হাতে ডিলিট তুলে দিচ্ছে। ছবিটি প্রসঙ্গে তিনি বললেন, আমার প্রিয় খেলোয়াড়। আমি যখন অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ছিলাম সেই সময় তাকে ডিলিট দিই। তপোধীর ভট্টাচার্য একাধিক গ্রন্থের রচয়িতা। অনেকে তাকে শুধু প্রাবন্ধিক হিসেবেই চেনেন। কিন্তু তিনি একজন কবি। তাঁর একাধিক কবিতার বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর কবিরা আমার খুব ভাল লাগে। কোচবিহার থেকে প্রকাশিত ‘তমসুক’ পত্রিকা তপোধীর ভট্টাচার্যকে নিয়ে একটি সংখ্যা প্রকাশ করেছে। তাকে জানার জন্য এটি একটি ভাল বই।
এরপর শিলচর শহরে আমি কবিতার অনুষ্ঠানে অংশ নিই। সেখানে আরও কয়েকজন স্থানীয় কবির সঙ্গে আমার দেখা হয়। অনুষ্ঠানটি হয়েছিল অধ্যাপক অর্জুন চৌধুরীর উদ্যোগে। সেখানে এসেছিলেন বাংলা ভাষার বিশিষ্ট কবি অমিতাভ দেব চৌধুরী। তিনিও সেদিন অনেক কবিতা শুনিয়েছিলেন তাঁর বই থেকে। দেখা হয়েছিল তরুণ কবি শতদল আচার্যের সঙ্গে। তিনি কর্মসূত্রে শিলচরে অবস্থিত অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত।
এরপর দিন আমার কবিতা পাঠ ছিল অসম বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগে। এই বিভাগটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কবি অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত। সেখানে আমার কবিতা শুনতে এসেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছত্রছাত্রীরা। আমি সেদিন আমার নতুন কবিতার বইয়ের পাণ্ডুলিপি থেকে একাধিক কবিতা পাঠ করেছিলাম। পড়ুয়াদের মুখোমুখি বসে কবিতা পড়ার আনন্দ আজও ভুলতে পারি না। ২০১৮ সালে আমি যখন অসমে গিয়েছিলাম তখন NRC-র কারণে উত্তাল সারা রাজ্য। শিলচর থেকে আমার যাওয়ার কথা ছিল গুয়াহাটিতে। কিন্তু সেখানে তখন ধর্মঘট চলছিল। তাই আমি প্ল্যান পালটে ফিরে আসি কলকাতায়।
নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। তারপরেই পাকিস্তানের জইশ-ই-মহম্মদ নেতা মৌলানা মাসুদ আজহার (Masood Azhar) জম্মু-কাশ্মীরে দখলের জন্য তালিবানদের সহযোগিতা চাইলেন। সূত্র উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে গোপন বৈঠক সারতে কান্দাহারও গিয়েছিলেন তিনি।
২৬/১১ মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী মাসুদ আজহারের সঙ্গে বৈঠক করে তালিবান নেতা মোল্লা আবদুল গণি বরাদার। আফগানিস্তানে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। দেশে শরিয়তি আইন কায়েম হওয়াতে গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে দেখা গিয়েছে কট্টরপন্থীদের।
কে এই আবদুল গণি বরাদার ?
কয়েক দশক পর আফগানিস্তানের ক্ষমতা পেয়েছে তালিবানরা। ১৫ আগস্ট কাবুলে আসরাফ ঘানি সরকারকে হারিয়ে ক্ষমতা কায়েম করেছে। আফগানিস্তানের নাম বদলে নাম রেখেছে ইসলামিক এমিরেটস অফ আফগানিস্তান। এই সমস্ত ঘটনার পেছনে অন্যতম নাম আবদুল গণি বরাদার।
১৯৬৮ সালে দক্ষিণ আফগানিস্তানের এক পুস্তুন (আফগান উপজাতি) পরিবারে জন্ম। মুজাহিদদের হয়ে সোভিয়েত সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধেও অংশ নিয়েছেন। তারপর মহম্মদ ওমারের সঙ্গে প্রতিষ্টা করেন তালিবান গোষ্ঠী।
১৯৯৬ সাল নাগাদ দ্রুত উঠতে থাকে তালিবানিরা। দখল করতে থাকে একের পর এক রাজ্য। সে সময়েই উল্কা গতিতে উত্থান হয় বরাদারেরও। পরবর্তী ২০ বছর তালিবানদের হয়ে যুদ্ধবাহিনী পরিচালনা এবং কুটনৈতিক দিক পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০১০ সালে পাকিস্তানের করাচি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, আইএসআই।
দোহা চুক্তি এবং বরাদার
গ্রেফতারের আট বছর পর দোহাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আফগানদের মধ্যে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য পাকিস্তানকে বরাদারকে মুক্তি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন জালম্যে খালিজাদ। পাকিস্তান তার অনুরোধ মেনে নিলে দু’বছর পর দোহায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালিবানদের হয়ে চুক্তি করেন তিনি।
মাসুদ আজহারের মুক্তি এবং বরাদার
কয়েক দিন আগে মাসুদ আজহার “মার্কিন সমর্থিত আফগান সরকারকে” হটিয়ে ক্ষমতা দখল করায় তালিবানদের প্রশংসা করেছিলেন। জইশ-ই-মহম্মদ নেতা “মঞ্জিল কি তারফ” (গন্তব্যের দিকে) শিরোনামের একটি নিবন্ধে আফগানিস্তানে “মুজাহিদিনের সাফল্যের” প্রশংসা করেছেন। পাকিস্তানের বাহওয়ালপুর মারকাজে জইশ-ই-মহম্মদ কর্মীদেরও তালিবানদের বিজয়ের আনন্দে অভিনন্দন বিনিময় করতে দেখা গিয়েছে।
১৯৯৯ সালে মাসুদ আজহারের মুক্তির পর থেকেই জইশ-ই-মহম্মদ জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে শুরু করে। কাঠমান্ডু থেকে লখনউ যাওয়ার পথে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক করে পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীরা। এরপর ফ্লাইটটি আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে যাওয়া হয়, সেসময় আফগানিস্তান শাসন করছিল তালিবানরা। ফলে চাপে পড়ে মাসুদ আজহারকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল ভারত সরকার। অনেক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, গোটা প্ল্যানের পেছনে ছিল বরাদারের মস্তিষ্ক।
কাশ্মীর ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিষয়: তালিবান
আফগানিস্তান দখল করার কয়েকদিন পরেই তালিবানরা কাশ্মীরের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়। সরকারীভাবে জানিয়ে দেয়, এটি একটি “দ্বিপক্ষীয়; এবং ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়”।
ইন্ডিয়ান ইনটেলিজেন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী তালিবানদের কাবুল দখলের পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাস এবং দেশের গুরুত্বপূর্ন অঞ্চলে নাশকতার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে। মাসুদ আজহারের গলাতেও কাশ্মীর দখলের সুর শোনা গিয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর জনপ্রিয় নেত্রী নীলম ইরশাদ শেখও বলেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।” আফগানিস্তান্মে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। নীলমও জানান যে তালিবানের পাশে পাকিস্তান যেভাবে দাঁড়িয়েছে তাতে আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্ব খুব খুশি। তার প্রতিদানেই কাশ্মীর দখলে পাকিস্তানকে সাহায্য করবে তারা।
প্রথমে কাশ্মীরকে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে নিজেদের সরকারীভাবে সুরক্ষিত করা এবং কাশ্মীর সমস্যাতে পেছন থেকে অনুঘটক হিসেবে কাজ করা, সমস্ত ঘটনার পেছনেই রয়েছে আফগানিস্তানের সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতির মস্তিষ্ক।
নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবান জঙ্গিরা। এই নিয়ে দুবার তারা আফগান ক্ষমতার কেন্দ্রে। কিন্তু কোনওভাবেই কাবুলের নিকটস্থ হিন্দুকুশ পর্বতমালা দিয়ে ঘেরা বিখ্যাত পঞ্জশির এলাকা দখল করতে পারল না। অবশেষে অপরাজেয় পঞ্জশির উপত্যকা নিয়ে সমঝোতার পথেই হাঁটল তালিবান।
পঞ্জশির দখলে শত শত জঙ্গি পাঠালেও, এখানকার তাজিক বংশজাত যোদ্ধারা প্রবল প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। শেষ পর্যন্ত পঞ্জশির দখলে ব্যর্থ হলো তালিবান। এরপরেই আলোচনার কৌশল নেয় জঙ্গিরা। আফগান সংবাদ মাধ্যমের খবর পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদের সঙ্গে তালিবান প্রতিনিধিরা বৈঠক করে। সেই বৈঠকে সন্ধির প্রস্তাব দেয় তালিবান জঙ্গিরা।
বর্তমান পঞ্জশির শাসক আহমেদ মাসুদের পিতা ছিলেন কিংবদন্তি তালিবান বিরোধী নেতা আহমেদ শাহ মাসুদ। তিনি পঞ্জশিরের সিংহ বলেও সুপরিচিত। বিগত ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত যখন প্রথমবার আফগানিস্তানে তালিবান জঙ্গি সরকার ছিল তখন সিনিয়র মাসুদ প্রবল লড়াই চালিয়ে তাঁর এলাকা জঙ্গি মুক্ত করে রাখেন। পরে ১৯৯৭ সালে বিস্ফোরণে আহমেদ শাহ মাসুদের মৃত্যু হয়।
আফগান সংবাদ মাধ্যমগুলো জানাচ্ছে, জুনিয়র মাসুদের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য কাবুল থেকে তালিবান জঙ্গিদের ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উত্তরাঞ্চলীয় পারওয়ান প্রদেশের রাজধানী চারিকারে গিয়েছিল। সেখানেই হয়েছে আলোচনা। এই প্রথম আহমেদ মাসুদের সঙ্গে কোনও তালিবান প্রতিনিধিদলের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে স্থির হয়েছে পঞ্জশিরে কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকবে না তালিবান জঙ্গিদের। এই এলাকায় তালিবানি শরিয়তি আইন চলবে না, এমনই কড়া শর্ত দিয়েছেন জুনিয়র মাসুদ। পঞ্জশিরের সব ক্ষমতা তাঁর হাতেই থাকছে। সব মেনে নিয়েছে জঙ্গি সরকারের প্রতিনিধিরা। তবে আলোচনার আগে রাশিয়া সরকারে প্রতি বার্তা দিয়েছিলেন পঞ্জশিরের শাসক মাসুদ। তিনি বলেন, মস্কো যেন তালিবানকে বোঝায়।
বৈঠকের আগে তালিবান হুমকি দিয়েছিল, আলোচনায় ব্যর্থ হলে বলপ্রয়োগ করে পঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। সঙ্গে সঙ্গে আহমেদ মাসুদ জানিয়েছিলেন, উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ তালিবানের হাতে কোনওভাবেই ছেড়ে দেবেন না। এর পরেই পঞ্জশিরে নিজের মিলিশিয়া বাহিনির বিভিন্ন ফুটেজ প্রকাশ করেন তিনি। তাতে দেখা যায় অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিতে শুরু করেছে নর্দান অ্যালায়েন্স রক্ষীরা। যারা তালিবানদের মাথা কাটার জন্য সুপরিচিত।
পঞ্জশির উপত্যকা হাজার হাজার বছর ধরে অজেয়। মহাবীর আলেকজান্ডার, গজনীর সুলতান মামুদ, পাঞ্জাব কেশরী শিখ সম্রাট রণজিৎ সিং, ব্রিটিশ, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিশাল সেনা কেউ এই আফগান উপত্যকা দখল করতে পারেনি। এমনকি প্রথম তালিবান সরকারের আমলেও এই এলাকা ছিল জঙ্গি মুক্ত। দ্বিতীয় তালিবান সরকারের আমলেও চরিত্র ধরে রাখল পঞ্জশির ২৫০০ বছর ধরে অজেয় চরিত্র। এও এক নজির।
নিউজ ডেস্ক: করোনা মহামারী এবং লকডাউনের কারণে অটো সেক্টরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিটি কাটিয়ে নতুন উদ্যোম নিয়ে নেমে পড়ল বাইক প্রস্তুতকারক সংস্থা Royal Enfield, Bajaj, TVS এবং CFMoto.
আসন্ন উৎসব মৌসুমের কথা মাথায় রেখে ভালো ব্যবসা পেতে এই তিন সংস্থা নতুন বাইক বাজারে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সব কোম্পানির বাইক সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে লঞ্চ করা হবে। কেমন হবে সেইসব বাইক? তাই খুঁজে নিয়ে এলাম আমরা৷ যাতে আপনার পছন্দের বাইকটি বেছে নিতে কোন সমস্যা না হয়।
New Royal Enfield Classic 350- ক্লাসিক 350 বাইকটি রয়েল এনফিল্ডের সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বাইক। কোম্পানি আগামী সপ্তাহে এই বাইকের নেক্সট জেনারেশন মডেল লঞ্চ করতে চলেছে৷ এই বাইক কোম্পানি Meteor 350 এর 349cc এয়ার-কুল্ড সিঙ্গেল সিলিন্ডার ইঞ্জিন দিয়েছে৷ যা 20.4 Ps শক্তি এবং 27 Nm টর্ক উৎপন্ন করে।
New TVS Apache RR 310 – এই বাইকটি 2021 সালের প্রথম দিকে লঞ্চ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কোনও কারণে কোম্পানি এই বাইকটি চালু করেননি। কিন্তু আসন্ন উৎসব মৌসুমে নতুন TVS Apache RR 310 বাইকটি চালু করতে চলেছে। এই বাইকে আপনি নতুন অ্যাডজাস্টেবল ফ্রন্ট সাসপেনশনসহ ইঞ্জিনে অনেক আপডেট পাবেন।
Royal Enfield 650 Cruiser- রয়্যাল এনফিল্ড উৎসবের মরসুমে RE cruiser বাইক রাজপথে আনতে চলেছে। এই বাইকে কোম্পানি 650cc পার্লেল টুইন ইঞ্জিন দিচ্ছে৷ যা 47.65ps শক্তি এবং 52Nm টর্ক উৎপন্ন করে।
Bajaj Pulsar 250F- বাজাজ এই বাইকে একটি সিঙ্গেল সিলিন্ডার এয়ার কুলড ইঞ্জিন দেবে। যা 20.4hp শক্তি এবং 18.5Nm পিক টর্ক উৎপন্ন করে। একই সঙ্গে এই বাইকের শুরুর দাম এক লক্ষ টাকার একটু বেশি হতে পারে৷ এই বাইকটি KTM Duke 250, Suzuki Gixxer 250SF এর মতো বাইকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে।
CFMoto 650 GT – এই বাইকটি সম্প্রতি ভারতে পরীক্ষার সময় দেখা গিয়েছিল৷ এবার এই কোম্পানি শিগগিরই CFMoto 650 GT বাইক আত্মপ্রকাশ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই বাইকটি 649cc কুল্ড পেরোল টুইট ইঞ্জিন আছে৷ যা 62.54Ps শক্তি এবং 58.5 Nm টর্ক উৎপন্ন করে।
নিউজ ডেস্ক: ভারতের সবচেয়ে বড় গাড়ি নির্মাতা মারুতি সুজুকি বেশ কিছুদিন ধরেই অপেক্ষাকৃত চুপচাপ ছিল৷ অন্যদিকে তখন অন্যান্য সমস্ত গাড়ি নির্মাতা বাজারে নতুন নতুন মডেল নিয়ে আসছিল। তবে এবার মনে করা হচ্ছে মারুতি বিলাসবহুল হ্যাচব্যাক বালেনো সহ তার অন্যান্য মডেলের বেশ কয়েকটি ফেসলিফটেড সংস্করণ চালু করতে চলেছে৷ দেশের গাড়িবাজারের রিপোর্ট অনুসারে, মারুতি শিগগিরই বালেনো (Maruti Baleno) হ্যাচব্যাকের ফেসলিফ্ট সংস্করণ চালু করবে। সম্প্রতি ভারতীয় রাস্তায় এই গাড়ির পরীক্ষা করা হয়েছে৷ যা কিছু পরিবর্তন প্রকাশ করা হয়েছে৷
গত কয়েক বছর ধরে ভারতীয় গাড়ি নির্মাতা সংস্থা মারুতির মারুতি বালেনো অন্যতম বিক্রিত মডেল৷ ছয় বছর আগে এই গাড়ি লঞ্চ করা হয়েছিল৷ বালেনো ২০১৯ সালে সর্বশেষ চেহারা পেয়েছিল৷ তখন এই গাড়িতে বাম্পার এবং গ্রিল ডিজাইন এবং ৭.০ ইঞ্চি স্মার্টপ্লে ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম দেওয়া হয়েছিল।
এবার Maruti Baleno ফেসলিফ্ট ভার্সনে অনেক পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যাবে৷ বেশ কিছু আপডেট থাকছে৷ তার মধ্যে রয়েছে ডুয়াল অ্যারো আকৃতির ডিআরএল-সহ নতুন লুক হেডলাইট, নতুন ডিজাইনের নতুন টেইললাইট এবং অ্যালয় হুইল। বনেটটি একটি আপডেট করা নকশাও পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গাড়ির নতুন ফেসলিস্ট মডেলটি বাইরের তুলনায় অভ্যন্তরে আরও পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ফাঁস হওয়া ছবি অনুযায়ী, গাড়িতে একটি নতুন ডিজাইন করা ড্যাশবোর্ড, একটি নতুন এবং বড় টাচস্ক্রিন ইনফোটেইনমেন্ট সিস্টেম, ওয়্যারলেস কারপ্লে এবং একটি নতুন ডিজিটাল যন্ত্র ক্লাস্টার পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন ফেসলিস্ট মডেলে শুধুমাত্র বিদ্যমান ইঞ্জিন ব্যবহার করা যাবে। বালেনো হ্যাচব্যাক বর্তমানে ভারতে দুটি ইঞ্জিনের পছন্দ নিয়ে আসে। একটি ১.২-লিটার K12M VVT ইঞ্জিন রয়েছে৷ যা ৮৩ hp শক্তি এবং ১১৩ Nm পিক টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম। অন্যদিকে, একটি ১.৩ লিটার DDiS 200 ডিজেল ইঞ্জিন রয়েছে৷ যা ৭৪ এইচপি শক্তি এবং ১৯০ এনএম পিক টর্ক উৎপন্ন করে। এই গাড়ির ইঞ্জিনগুলি ৫-স্পিড ম্যানুয়াল বা একটি CVT স্বয়ংক্রিয় গিয়ারবক্সের সঙ্গে মিলিত হয়।
মারুতি বালেনো নিয়মিত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য নিয়ে ডুয়াল এয়ারব্যাগ, এবিএস এবং ইবিডি সহ আসবে। এটি এখনও জানা যায়নি যে, মারুতি এখানকার থাকা নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য ছাড়াও নতুন গাড়িতে নয়া কোনও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য অন্তর্ভুক্ত করবে কিনা।
বর্তমানে মারুতি বালেনোর দাম ৫.৫৪ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম) থেকে শুরু হয় এবং টপ-স্পেক আলফা ১.৩ ডিজেল ম্যানুয়াল ভেরিয়েন্টের জন্য ৮.৬৯ লক্ষ টাকা (এক্স-শোরুম) পর্যন্ত৷ একবার চালু হলে এটি Hyundai i20, Tata Altroz, Volkswagen Polo এবং Honda Jazz এর মতো গাড়ির সঙ্গে রীতিমতো প্রতিযোগিতা করতে পারে।
নিউজ ডেস্ক: একই দিনে সমন ও পাল্টা হুমকির খেলায় কলকাতা-নয়াদিল্লি-আগরতলা সব একাকার। শনিবারই তৃণমূল (TMC) কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) কয়লা কাণ্ডে সস্ত্রীক সমন পেয়েছেন। দিল্লিতে ইডি তলব করেছে।
পশ্চিমবঙ্গে শাসক তৃণমূলের কাছে এটা বড় অস্বস্তির। এর পরেই টিএমসি সাধারণ সম্পাদকের হুঁশিয়ারি, “ত্রিপুরায় (Tripura) তৃণমূল পা রাখতেই বিজেপির (BJP) পা কাঁপতে শুরু হয়েছে। ওখান থেকে মুছে যাবে বিজেপি। ত্রিপুরা ছাড়াও অসম বা অন্য যে সব জায়গায় বিজেপি আছে সব জায়গা থেকে তাদের উৎখাত করা হবে।” হুঙ্কার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠাতা দিবসে অভিষেকের হুঁশিয়ারিতে আগরতলায় পড়ে গেল শোরগোল। কারণ এর আগেও আগরতলা গিয়ে সরাসরি তিনি বলেছিলেন চাইলে যে কোনও সময় ত্রিপুরার বিজেপি জোট সরকার ফেলে দিতে পারেন।
এবার সরাসরি ত্রিপুরা দখলের বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক। একইসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “আমি অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করছি- ক্ষমতা থাকলে তৃণমূলকে রুখে দেখাও।”
তাৎপর্যপূর্ণ শনিবারই কয়লা পাচার কাণ্ডে দিল্লিতে জেরার মুখোমুখি হতে ডাক পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক। এদিনই তিনি অমিত শাহকে হুঁশিয়ারি দিলেন। দিল্লি ও কলকাতার রাজনৈতিক হাওয়া গরম হয়েছে এই কারণে।
অন্যদিকে আগরতলা সরগরম। সূত্রের খবর, ত্রিপুরার রাজনৈতিক ছক বদলানোর কাণ্ডারী বর্তমান বিজেপি বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মণ কলকাতায় এসে তৃণমূল শিবিরের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি গত বিধানসভা ভোটের আগে আগে কলকাতায় এসে ত্রিপুরার তৎকালীন বিরোধী দল কংগ্রেসকে শূন্য করেছিলেন। সবাই টিএমসিতে যোগ দেন। পরে তারা সবাই বিজেপিতে চলে যান। ত্রিপুরায় গত বিধানসভা নির্বাচনে সে রাজ্যে টানা ২৫ বছরের বাম শাসনের অবসান হয়। ক্ষমতায় বিজেপি আইপিএফটি জোট।
এদিকে পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার ধরে রেখেছে টিএমসি। তৃতীয়বার জয়ের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ত্রিপুরা দখলের জন্য দলনেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। টি়এমসি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছিলেন, রাজ্যের বাইরে সংগঠনকে প্রতিষ্ঠা করবেন তিনি। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা ও অসমে সংগঠন বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও যেভাবে দলে দলে মানুষ ত্রিপুরার রাস্তায় তৃণমূলের মিছিলে সামিল হয়েছেন তাতে স্পষ্ট আগামীদিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় পা রাখলে জনস্রোতের বন্যা বইবে। চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন, যতদিন ভারতবর্ষের মাটি থেকে বিজেপির বিদায় ঘন্টা না বাজছে, ততদিন আন্দোলন চলবে।
পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর করোনা আবহে ভার্চুয়ালি পালিত হচ্ছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। এদিন ভার্চুয়ালি দলের যুব কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় বিজেপিকে রুখে দেওয়ার পরে এবার দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকেও পদ্ম শিবিরকে মুছে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন অভিষেক। সরাসরি তিনি নিশানা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে। বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মাটিতে পরাস্ত হয়েছে বিজেপি। তারপর থেকেই রাজ্যের বাইরে সংগঠন মজবুত করতে সক্রিয় হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।
নিউজ ডেস্ক: ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য ১৪টি সাবমেরিন সরবরাহের বরাত পেল মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা লিমিটেড। শুক্রবার মাহিন্দ্রা ডিফেন্স সিস্টেমস লিমিটেড (MDS) ভারত সরকারের কাছ থেকে ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিক অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার ডিফেন্স স্যুট (IADS) তৈরির জন্য ১৩৪৯.৯৫ কোটি টাকার বরাত পেয়েছ।
মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা একটি রেগুলেটরি ফাইলিংয়ে বলেছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় (এমওডি) উন্মুক্ত দরপত্রের বিভিন্ন কোম্পানিকে ডেকেছিল, যেখানে ফিল্ড করা সিস্টেমগুলিকে তাদের সক্ষমতা প্রমাণের জন্য সমুদ্রে বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তারপরেই এই বরাত পেয়েছে মাহিন্দ্রা।
মাহিন্দ্রা ডিফেন্স সিস্টেম লিমিটেডের চেয়ারম্যান এসপি শুক্লা বলেন, “এই চুক্তি আত্মনির্ভর ভারত উদ্যোগের সাফল্যের প্রতীক। ” আইএডিএস হ’ল উচ্চমানের সরঞ্জাম যা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জটিল সেন্সর সংযুক্ত করে তৈরি যা যুদ্ধজাহাজকে সমুদ্রের গভীরে শনাক্ত ও রক্ষা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
মাহিন্দ্রা ডিফেন্স জানিয়েছে, “এই আধুনিক প্রযুক্তি ভারতীয় নৌবাহিনীর জন্য একটি ভারতীয় কোম্পানি তৈরি করছে। যা দেশের অগ্রগতির জন্য একটি ইতিবাচক দিক।”
স্পোর্টস ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হস্তক্ষেপে বিনিয়োগকারী সংস্থা শ্রী সিমেন্টের (Shree Cement) সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের (East Bengal) চুক্তি নিয়ে সমস্যা মিটে গিয়েছে। আর তার পরেই দল গড়ার কাজে নেমে পড়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড। যদিও প্রথমবার ইণ্ডিয়ান সুপার লিগ জিততে মরিয়া ইস্টবেঙ্গলের ফুটবল বাজেট কমছে বলে খবর।
সমর্থকেরা বলছেন, আইএসএল খেলা নিয়ে টানাপোড়েন থাকলেও স্রেফ টার্মশিটের ভিত্তিতেই মে-জুন মাস থেকে অনায়াসে এসসি ইস্ট বেঙ্গলের আধিকারিকরা ফুটবলার রিক্রুট করতে পারতেন। কিন্তু অত্যন্ত আগ্রাসী মনোভাব নিয়ে ক্লাবের দখলদারি নেওয়াই ছিল তাঁদের লক্ষ্য। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে এখন সেই টার্মশিটের ভিত্তিতেই দল গড়তে নেমেছেন লগ্নিকারী সংস্থাটির কর্তারা।
তাই যত দিন যাবে ততই প্রমাণ হবে, মে-জুন মাসে টিম করার ক্ষেত্রে না নেমে চরম ভুল করেছেন তাঁরা। যার প্রভাব প্রবলভাবে পড়তে বাধ্য আইএসএলে। কারণ, ভালো খেলোয়াড়দের আইএসএলেত অন্যান্য দলগুলো আগেই নিজেদের দলে নিয়ে নিয়েছে।
সূত্রের খবর, আইএসএল খেলা নিশ্চিত হতেই আলোচনায় বসেছিলেন শ্রী সিমেন্টের আধিকারিকরা। এই সভায় বাজেট নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। ঠিক হয়েছে, এবার দল গঠনের বাজেট কমবে।
রবি ফাউলার দু’জন কিংবা তিনজন ফ্রি প্লেয়ারকে (বিদেশি) নিয়ে আসবেন। তবে শ্রী সিমেন্ট কর্তৃপক্ষ ব্রাইট এনোবাখারেকে কভেন্ট্রি সিটি থেকে লিয়েনে নিতে চাইছে। এফসি গোয়ার হয়ে গত মরশুমে খুব বেশি ম্যাচ খেলেননি ঈশান পাণ্ডিতিয়া, যদিও বেশিরভাগ ম্যাচেই শেষ মুহুর্তে নেমে গোল পেয়েছিলেন। তাকেও চাইছে ইস্টবেঙ্গল।
মহম্মদ রফিক, শঙ্কর রায়, মির্শাদ, জেজে, অঙ্কিত মুখোপাধ্যায়রা গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে। মোহনবাগান থেকেও কয়েকজনকে নেওয়া হবে বলে খবর। প্রবীর দাস, অরিন্দম ভট্টাচার্যকেও প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছেন তাঁরা। সাইড ব্যাকে খেলা হীরা মণ্ডলকেও সই করাতে চলেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল।
নিউজ ডেস্ক: আলফার ভয় আছেই এবার জুড়ছে নৃশংস ডিমাসা জঙ্গিদের নাম। অসম থমথমে। রাজ্যের ডিমা হাসাও জেলায় শুক্রবার পাঁচ শ্রমিককে পুড়িয়ে মেরেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ডিএনএলএ। তাদের দাবি আলাদা হিড়িম্বা রাজি অর্থাত অসম কেটে তৈরি হোক স্বশাসিত এলাকা। দাবি মানা না হলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করা হবে হুমকি ছিল তাদের তরফে। শুক্রবার সেটাই করে দেখিয়েছে ডিমাসা বিচ্ছিন্নতাবাদী-জঙ্গিরা।
রাজ্যের ডিমা হাসাও জেলা পুরোটাই উপজাতি অঞ্চল। ডিমাসা উপজাতি ভিত্তিক এই জেলায় অবশ্য বাঙালিরাও আছেন। নিম্ন অসমের বরাক নদী উপত্যকার কাছাড় জেলা পুরো বাঙালি অধ্যুষিত। কাছাড়ের উত্তরে উপজাতি জেলা হলো ডিমা হাসাও। এখানেই সক্রিয় ডিমাসা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি। সংগঠনটি অত্যন্ত আগ্রাসী।
হিড়িম্বা রাজি কী?
স্থানীয় পৌরাণিক গাথা অনুসারে একটি কাল্পনিক ভূখণ্ড হলো হিড়িম্বা রাজি। সেই ভূখণ্ডের দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলা চালাল ডিএনএলএ গোষ্ঠী। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ডিএনএলএ অধ্যক্ষ কার্মিনডাও ডিমাসা জানিয়েছে, আমরা কারও জমি ছিনিয়ে নিতে আন্দোলন করছি না। ডিমাসাদের হারিয়ে যাওয়া রাজ্য উদ্ধারে এই আন্দোলন চলছে।
২০১৮ সালের ডিমাসা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ডিএনএলএ জন্ম নেয়। অসম নাগাল্যাণ্ড সীমান্তে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে কয়েকবার।
কেমন আগ্রাসী হিড়িম্বা রাজি দাবি করা ডিমাসা জঙ্গিরা?
শুক্রবার যেভাবে পাঁচ লরি শ্রমিককে পুড়িয়ে মারা হয়েছে তাদের চেহারা থেকেই স্পষ্ট হবে হামলাকারী ডিএনএলএ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কতটা নৃশংস। অসম পুলিশের মহানির্দেশক ভাস্করজ্যোতি মহন্ত জানিয়েছেন, ডিএনএলএ হামলা করেছে বেছে বেছে। মৃত ও জখম কেউ উপজাতিভুক্ত নয়। ডিমা হাসাও জেলার সদর হাফলং থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে হামলা হয়। একটি ট্রাক ঘিরে নেয় ডিএনএলএ জঙ্গিরা। গুলি চালিয়ে সবাইকে জখম করে। পরে আগুনে পুড়িয়ে মারে।
অসম সরকার ও ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে মৃতদের চারজন রাজ্যের হোজাই জেলার বাসিন্দা। একজন উত্তর প্রদেশের প্রতাপগড়ের বাসিন্দা। মৃত তালিকায় সংখ্যালঘু মুসলিমরা রয়েছেন।
শনিবারের পরিস্থিতি আরও থমথমে। ডিমা হাসাও জেলায় ছড়িয়েছে ভয়। কারণ ডিএনএলএ স্বাধীনতা দিবসের আগেই ভিডিও বার্তায় রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়াকি দিয়ে বলেছিল পৃথক স্বশাসিত এলাকা না হলে ভয়ঙ্কর হামলা হবে। তেমনই ঘটনা তারা ঘটিয়েছে শুক্রবার।
ডিমাসা জঙ্গিদের হামলা, জ্যান্ত পাঁচজনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় প্রবল অস্বস্তিতে অসমের বিজেপি সরার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রশাসন দূর্বল দাবি করেছে বিরোধী কংগ্রেস সহ বাকিরা। সম্প্রতি অসম-মিজো রক্তাক্ত পুলিশ যুদ্ধের পরেই রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রশাসন দূর্বল অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা।
অসমের কাছাড় জেলা লাগোয়া মিজোরামের কৈলাশিব জেলার আন্ত:সীমানায় দুই রাজ্য পুলিশের মধ্যে নজিরবিহীন গুলির লড়াইয়ে কেঁপেছিল দেশ। অসম পুলিশের ৫ রক্ষীর মৃত্যু হয়। এ যেন রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্র। পরিস্থিতি এমনই যে দুই রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর ও মুখ্যমন্ত্রীরা পরস্পরকে অভিযুক্ত করছেন। বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গার মধ্যে টুইট লড়াইয়ে কেন্দ্র সরকার অস্বস্তিতে পড়ে।
এই রক্তাক্ত পুলিশ সংঘর্ষের পর বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলায় ফের অসমে ভয় ছড়িয়েছে।
নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত যে নিয়ম রয়েছে তালিবান সংগঠনের সেটার ভিত্তিতেই সরকার গড়তে চলেছে তালিবান। আফগানিস্তানের তাদের এই দ্বিতীয় দফার সরকারে পুরনো প্রেসিডেন্ট ভিত্তিক দেশ থাকতে নাও পারে। এখানেই প্রশ্ন, তালিবান সরকার কি তাদের আমীরতন্ত্র চালু করবে আফগানিস্তানে ?
গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তানের নাম পাল্টে দেয় তালিবান। নতুন নাম হয়েছে ইসলামি আমীরশাহি আফগানিস্তান। পাল্টে দেওয়া হয়েছে জাতীয় পতাকা। এই নিয়ে দেশটির জাতীয় পতাকা ১৯ বার পাল্টেছে। এখন তালিবান সংগঠনের পতাকা উড়ছে কাবুল প্যালেসে।
ফরেন পলিসি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়ক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের ওয়েব ম্যাগাজিনে লেখা হয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এমন কিছু গঠনতন্ত্র আনতে চলেছে যাতে প্রেসিডেন্ট পদ থাকতেও না পারে। সেক্ষেত্রে আমীর পদ ফের চালু করবে তালিবান জঙ্গিরা।
আফগান সংবাদ মাধ্যম আরিয়ানা নিউজ জানাচ্ছে, দেশ শাসনের জন্য ১২ সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠন করতে যাচ্ছে তালিবান। এই কাউন্সিলে থাকতে পারেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। আফগান পুনর্গঠন কাউন্সিলের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এবং ইসলামিক পার্টির নেতা গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার। তিনজনেই আফগান রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। হেকমতিয়ার প্রাক্তন মুজাহিদিন, যিনি সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে অংশ নেন। আফগান গৃহযুদ্ধের সময় হেকমতিয়ারের ভূমিকা বিতর্কিত বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।
তালিবান জনসংযোগ বিভাগ জানাচ্ছে, গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে এই তিন নেতাকে নিয়েছে একটি সমন্বয় কাউন্সিল গঠন করা হয়। তারা ধারাবাহিকভাবে তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ফরেন পলিসি জানাচ্ছে, আফগানিস্তান শাসন করতে ১২ সদস্যের কাউন্সিল গঠন করবে তালিবান। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য প্রশাসন গঠনে মরিয়া থাকাতে চায় এই মারাত্মক জঙ্গি সংগঠনটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত অপসারিত আশরাফ ঘানির সরকারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে এই কাউন্সিলে যুক্ত করতে পারে তালিবান।
কাউন্সিলের সর্বচ্চো তিন প্রধান হবে তালিবানের সহ প্রতিষ্ঠাতা আবদুল ঘানি বারাদার, তালিবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা মহম্মদ ইয়াকুব এবং তালিবান সহযোগী জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্ক ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব।
ইতিমধ্যে হাক্কানি নেটওয়ার্ক প্রধান জঙ্গি নেতা আনাস হাক্কানির সঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের বৈঠকের ছবি প্রকাশ হয়েছে। আফগান বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কারজাইকে বিশেষ পদ দেওয়া হবে। কারণ তিনিই ছিলেন তালিবান ও পূর্বতন আফগান সরকারের মধ্যে শান্তি বৈঠকের অন্যতম নেতা।
তালিবান কী রকম সরকার গড়বে, কেউ জানে না। তবে এই সরকারকে সমর্থন দিতে চাইছে একের পর এক দেশ। রাশিয়া, চিন, ইরান, ইংল্যান্ড এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সমর্থন দেবে বলেই ইঙ্গিত।
কাবুলে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার প্রধানের সঙ্গে তালিবান বৈঠকের পর প্রচুর প্রশ্ন উঠে আসছে। যে তালিবান গত জঙ্গি জমানায় প্রকাশ্যে মাথা কাটার সরকার গড়েছিল তাদের চরিত্র কি বদলেছে ?
কাবুল দখল করার পর গত ১৫ আগস্ট তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানায়, এই তালিবান সেই আগের তালিবান নয়। তবে আফগানিস্তান থেকে ইতিমধ্যেই একের পর গণহত্যার খবর আসছে। লাল তারিখ ৩১ আগস্ট। মার্কিন সেনা পুরোপুরি ছাড়বে আফগানিস্তান। তারপর কী হবে, প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলের।
লাইফস্টাইল ডেস্ক: ভাতঘুমের মজাই অন্যরকম। যদি আপনি বাড়িতে থাকেন তাহলে নো প্রবলেম। কিন্তু যদি অফিসে যান বা বাড়িতেই ওয়ার্ক ফ্রম হোম তাহলে কি করবেন? তখন এই ভাতঘুমই কাজের দিনগুলিতে আপনার রাগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অফিস এবং ভাতঘুম, দুটি শব্দই যেন একদম বিপরীত। এদিকে অফিসে থেকে দুপুরে চোখ বন্ধ হয়ে আসে আপনার। মনে হয় একটু জিরিয়ে নিই।
হাজারও চেষ্টার পরেও পারেন না জেগে থাকতে। এর থেকে কিন্তু মুক্তি পাওয়ার উপায় আছে। দুপুরের ঘুম কী করে তাড়াবেন তাহলে দেখে নিন, এসব মেনে চললেই হবে সব মুশকিল আসান।
দুপুরে একবারে অনেকটা ভারি খাবার না খেয়ে, সেটিকে ছোট ছোট ভাগে কয়েকবার করে খান। এই যেমন সকালে হালকা কিছু খাওয়ার পর একেবারে লাঞ্চ না করে মিড মর্নিং স্ন্যাক্স হিসেবে আপনি কিছু খাবার খেতে পারেন।
মিড মর্নিং স্ন্যাক্সে খেতে পারেন যে কোনও ড্রাই ফ্রুটস বা গোটা ফল, চিড়ে, স্যুপ। এতে পেট ভরা থাকবে। দুপুরেও একটু কম খেলে সমস্যা হবে না।
আবার অনেকেই ঘুমকে দূরে রাখতে খাওয়ার পর খান চা-কফি। কেউ আবার ধূমপান করেন। চা-কফিতে থাকা ক্যাফিন খাবার হজম করতে দেয় না। আর ধূমপানের ক্ষতিকারক দিক নিয়ে তো নতুন করে কিছু বলার নেই।
দুপুরে খাবার পর শুয়ে না পড়ে অথবা সঙ্গে সঙ্গেই কাজে না বসে ঘরের ভিতরে বা অফিসে একটু হাঁটাচলা করুন।
অফিসে থাকলে সহকর্মীদের সঙ্গে একটু আড্ডা দিন।
চোখে-মুখে জলের ঝাপটা দিতে পারেন। এতে দীর্ঘক্ষণ কাজ করার যে ক্লান্তি, সেটাও কেটে যাবে।
নিউজ ডেস্ক: ২০১২ সালে একটি কার্টুন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছিল। সোনার কেল্লার দৃশ্যর আদলে বানানো মমতা-মুকুল-দীনেশ ত্রিবাদীকে নিয়ে কার্টুনটি ছিল ‘দুষ্টু লোক? ভ্যানিশ’। ওই কার্টুন-কাণ্ডে ২০১২ সালের এপ্রিলে গ্রেফতার হয়েছিলেন অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালু রয়েছে এখনও। যদিও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের যে ৬৬এ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছিল, তা ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হয়ে গিয়েছে।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন, কার্টুনে ‘ভ্যানিশ’ কথাটি লিখে আসলে তাঁকে মেরে ফেলার বার্তা ছড়ানো হচ্ছে৷ গোটা বিষয়টিকে সাইবার ক্রাইম বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি৷ চলতি বছরেও বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণ শুরু হয়েছিল। নন্দীগ্রামে তাঁর পায়ে চোটের পিছনে ষড়যন্ত্র ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। একাধিক জনসভা থেকে তিনি দাবি করেছিলেন তাঁকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করছে বিরোধীরা। তারপর তিনি তৃতীয়বার রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছেন বিপুল মানুষের জনসমর্থন নিয়ে। তখন থেকেই তাঁর উপর টার্গেট ছিল বলে মনে করেন রাজ্যের গোয়েন্দারা।
এবার সরাসরি তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ফেসবুক গ্রুপে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কাজ নিয়ে তর্কবিতর্ক চলাকালীন হঠাৎ ‘মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যা করতে চাই’ বলে ওঠেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক। তাঁর পর পর মন্তব্য দেখে অনুমান, স্ত্রীর চাকরি না থাকার কারণেও তিনি রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি ওয়েবকুটার সদস্য। জুওলজি বিভাগে অধ্যাপনা করেন। জানা গিয়েছে, এর আগেও একাধিকবার এই অধ্যাপককে ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। নির্বাচনের আগেও তাঁকে একাধিকবার ফেসবুক কমেন্টের জন্য পরিচিতরা সতর্ক করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, একজন অধ্যাপক যদি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে এই ভাষায় কথা বলেন তা হলে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হয়। তাই তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে লালবাজারে বিষয়টি জানাবেন। ফেসবুক কমেন্টে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে খুন করার হুমকি পোস্ট করার অভিযোগে অধ্যাপক অরিন্দম ভট্টাচার্যের নামে ইতিমধ্যেই লালবাজারে FIR দায়ের হয়েছে
নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। তারপরেই পাকিস্তানের জইশ-ই-মহম্মদ নেতা মৌলানা মাসুদ আজহার (Masood Azhar) জম্মু-কাশ্মীরে দখলের জন্য তালিবানদের সহযোগিতা চাইলেন। সূত্র উদ্ধৃত করে ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে গোপন বৈঠক সারতে কান্দাহারও গিয়েছিলেন তিনি।
২৬/১১ মুম্বাই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী মাসুদ আজহারের সঙ্গে বৈঠক করে তালিবান নেতা মোল্লা আবদুল গণি বরাদার। আফগানিস্তানে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। দেশে শরিয়তি আইন কায়েম হওয়াতে গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে দেখা গিয়েছে কট্টরপন্থীদের। তালিবানদের আফগানিস্তান দখল এবং আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করার জন্য ‘আল্লাকে ধন্যবাদ জানাতে’ ২৭ আগস্ট একটি অনুষ্ঠান পালন করা হয়েছে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে। এবার মাসুদ আজহারের কাশ্মীর দখলের স্বপ্নে তালিবানদের সামিল করায় জল্পনা আরও বাড়ল।
কয়েক দিন আগে মাসুদ আজহার “মার্কিন সমর্থিত আফগান সরকারকে” হটিয়ে ক্ষমতা দখল করায় তালিবানদের প্রশংসা করেছিলেন। জইশ-ই-মহম্মদ নেতা “মঞ্জিল কি তারফ” (গন্তব্যের দিকে) শিরোনামের একটি নিবন্ধে আফগানিস্তানে “মুজাহিদিনের সাফল্যের” প্রশংসা করেছেন। পাকিস্তানের বাহওয়ালপুর মারকাজে জইশ-ই-মহম্মদ কর্মীদেরও তালিবানদের বিজয়ের আনন্দে অভিনন্দন বিনিময় করতে দেখা গিয়েছে।
১৯৯৯ সালে মাসুদ আজহারের মুক্তির পর থেকেই জইশ-ই-মহম্মদ জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাতে শুরু করে। কাঠমান্ডু থেকে লখনউ যাওয়ার পথে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি-৮১৪ হাইজ্যাক করে পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীরা। এরপর ফ্লাইটটি আফগানিস্তানের কান্দাহারে নিয়ে যাওয়া হয়, সেসময় আফগানিস্তান শাসন করছিল তালিবানরা। ফলে চাপে পড়ে মাসুদ আজহারকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল ভারত সরকার।
চলতি মাসে ক্ষমতা দখলের পর এক বিবৃতিতে তালিবানরা জানিয়েছে, আফগান ভূখণ্ড কোনো দেশের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের জন্য ব্যবহার করা হবে না। যদিও ইন্ডিয়ান ইনটেলিজেন্সের রিপোর্ট অনুযায়ী তালিবানদের কাবুল দখলের পর থেকেই জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাস এবং দেশের গুরুত্বপূর্ন অঞ্চলে নাশকতার সম্ভাবনা বেড়ে গিয়েছে।
কাশ্মীর ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ’ বিষয়: তালিবান
আফগানিস্তান দখল করার কয়েকদিন পরেই তালিবানরা কাশ্মীরের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়। সরকারীভাবে জানিয়ে দেয়, এটি একটি “দ্বিপক্ষীয়; এবং ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়”। সংবাদ সংস্থা এএনআই (Asian News International) জানিয়েছে, পাকিস্তানের ঘটনা তালিবানদের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একেবারেই মেলে না।
মাসুদের সুর শোনা গিয়েছে ইমরান খানের দলের নেত্রী মুখেও:
তালিবানের সাহায্যেই ভারতের হাত থেকে কাশ্মীরকে স্বাধীন করবে পাকিস্তান! প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর এক নেত্রী এই দাবিই করেছেন টিভি চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠানে। নীলম ইরশাদ শেখ নামের ওই নেত্রী সোজাসুজি বলেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।” আফগানিস্তান্মে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। এবার কার্যত তাতেই শীলমোহর দিল তহেরিক-ই-ইনসাফ নেত্রী। শোয়ের শেষদিকে তিনি আবার তিনি জানান, তালিবানের পাশে পাকিস্তান যেভাবে দাঁড়িয়েছে তাতে আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্ব খুব খুশি। তার প্রতিদানেই কাশ্মীর দখলে পাকিস্তানকে সাহায্য করবে তারা।
এর কয়েকদিন আগেও ইসলামাবাদের প্রভাবশালী সংগঠন জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ-উল-হক হাক্কানি তালিবানের কাবুল জয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। তালিবান ও লস্করের জঙ্গিদের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতেও দেখা গিয়েছিল সেদেশের বিভিন্ন সংগঠনগুলিকে।
জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ সাংবাদিক সন্মেলনে জানিয়েছিলেনন, ‘বিশ্বের উচিত আফগানিস্তানে এক্ষুনি তালিবান সরকারকে মান্যতা দেওয়া।’ শুধু তাই নয়, আমেরিকা এবং ভারতের মদতেই এতদিন আফগানিস্তানে অশান্তি লেগে ছিল। এবার ইমরান খানের দলের নেত্রীর মুখেও একই সুর শোনায় আবার নতুন করে ভারতে জঙ্গিহামলার আশঙ্কা বেড়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্পোর্টস ডেস্ক: কয়েকদিন আগেই কার্যত পয়েন্ট অফ নো রিটার্নের ইঙ্গিত দিয়ে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছে স্পোর্টিং রাইট ফিরিয়ে দিয়েছিল লগ্নিকারী সংস্থা। বুধবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে বিনিয়োগকারী সংস্থা শ্রী সিমেন্টের সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের চুক্তি নিয়ে সমস্যা মিটে গিয়েছে। আর তার পরেই দল গড়ার কাজে নেমে পড়েছে লাল-হলুদ ব্রিগেড।
আর দু’দিন পরেই স্বস্তির খবর লাল-হলুদের কাছে। দলবদলের ব্যাপারে লাল-হলুদের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন, বৃহস্পতিবার সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। শুক্রবার থেকে ফুটবলার সই করাতে আর কোনও বাধা রইল না এসসি ইস্টবেঙ্গলের সামনে।
আগের মরশুমের বেতন সম্পূর্ণ মেটায়নি ইস্টবেঙ্গল, এই অভিযোগ জানিয়ে সর্ব ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তিন ফুটবলার। পিন্টু মাহাত, রক্ষিত ডাগার ও আভাস থাপার অভিযোগে ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন ইস্টবেঙ্গলের ওপর দলবদলের ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই তিন ফুটবলারের মোট ১২ লাখ টাকা বাকি ছিল। ক্লাবকে জানানো হয়েছিল যতক্ষণ পর্যন্ত ওই তিন ফুটবলারের বকেয়া মেটানো না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত নতুন ফুটবলার সই করানো যাবে না। মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে আইএসএল খেলা নিশ্চিত হতে বৃহস্পতিবারই ওই ফুটবলারদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দিয়েছে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব।
যদিও হাতে সময় কম, ৩১ আগস্ট দলবদলের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। হাতে মাত্র ৫ দিন সময়, তার আগেই দলগঠন সম্পূর্ন করতে হবে লাল-হলুদকে। নয়তো বড় অঙ্কের ট্রান্সফার ফি দিয়ে অন্য দল থেকে ফুটবলার নিতে হবে। যদিও নতুন ফুটবলার নেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক কাজ কিছুটা সেরে ফেলেছেন ক্লাব অফিসিয়ালরা। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু ফুটবলারকে প্রস্তাব দিয়েছেন ক্লাবের তরফ থেকে।
মহম্মদ রফিক, শঙ্কর রায়, মির্শাদ, জেজে, অঙ্কিত মুখোপাধ্যায়রা গত মরশুমে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে খেলেছিলেন। তাঁদের সঙ্গে চুক্তি করা হচ্ছে। মোহনবাগান থেকেও কয়েকজনকে নেওয়া হবে বলে খবর। প্রবীর দাস, অরিন্দম ভট্টাচার্যকেও প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছেন তাঁরা। সাইড ব্যাকে খেলা হীরা মণ্ডলকেও সই করাতে চলেছে এসসি ইস্টবেঙ্গল। পিয়ারলেসের জার্সিতে ভাল পারফরম্যান্সের সৌজন্যেই ইস্টবেঙ্গল বছর তিনেক আগে তাঁকে সই করিয়েছিল। যদিও দার্জিলিং গোল্ড কাপে ভালো পারফর্ম্যান্সের পরেও দলে জায়গা হয়নি হীরার। এবার মহমেডানের হয়ে স্বপ্নের মরশুম কাটিয়ে ফের লাল-হলুদ জার্সি গায়ে চাপাতে চলেছেন তিনি। সব ঠিকঠাক থাকলে শুক্রবারই হয়তো সই করবেন বাঙালি প্রতিভাবান এই সাইড ব্যাক।
নিউজ ডেস্ক: আবারও কি ২০১৮ সালের ঠিক আগের অবস্থা ফিরতে চলেছে আগরতলায় ? ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে শুরু হয়েছে আতঙ্ক-ধস আতঙ্ক। নেতৃত্ব বিধায়কদের বড় অংশ ফের তৃ়ণমূল কংগ্রেসে ফিরতে পারেন এমনই গুঞ্জন। কারণ, ত্রিপুরার তাবড় নেতা সুদীপ রায় বর্মণ এখন কালীঘাটের আমন্ত্রণে কলকাতায়।
উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই বাংলাভাষী প্রধান রাজ্যে গত বিধানসভা ভোটের আগে রাতারাতি বিরোধী আসন থেকে মুছে গেছিল কংগ্রেস। কয়েকদিনের জন্য তৃ়নমূল কংগ্রেসের ঘরে বিরোধী দলের তকমা জুটেছিল। সবই হয়েছিল ‘ত্রিপুরার মুকুল রায়’ বলে সুপরিচিত নেতা সুদীপ রায় বর্মণের রাজনৈতিক ছকে।
পরে গুরু মুকুল রায়ের পরামর্শে সুদীপবাবু তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে অনুগামীদের নিয়ে বিজেপিতে যান। ত্রিপুরায় পালাবদল হয়। বামফ্রন্টের টানা ২৫ বছরের সরকার পড়ে যায়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি আইপিএফটি জোট। এর পরেই সরকারের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গে সংঘাত শুরু সূদীপ বর্মণের। সংঘাত তীব্র হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা পারেননি সামাল দিতে। বিপ্লববাবু ও সুদীপবাবুর মধ্যে কথাবার্তা আগেই বন্ধ। দুজনেই পরস্পরকে এড়িয়ে চলেন।
রাজনৈতিক মোড় ঘুরতে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিনবার তৃণমূল কংগ্রেস সরকারে থেকে যাওয়ায়। বিজেপি ত্যাগ করে মুকুল রায় ফিরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। সেই ধাক্কা গিয়ে লাগে ত্রিপুরায়। মুকুল শিষ্য সুদীপ রায় বর্মণ বিজেপি ত্যাগ না করলেও দলের কোনও বিষয়েই নেই। তিনি এখন কলকাতায়।
সিপিআইএমের টানা দু দশকের জমানায় আগরতলার রাজনীতিতে বরাবর প্রভাব রাখা সুদীপ রায় বর্মণ ফের কলকাতায় অবস্থান করছেন কেন? তৃ়নমূল কংগ্রেস নীরব। তবে প্রদেশ বিজেপি ধরেই নিচ্ছে তিনি ফের শিবির পাল্টাবেন। কতজন বিধায়ক যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে? এই প্রশ্ন এখন আগরতলায় সর্বত্র। এমনকি পরিস্থিতি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিরোধী দল সিপিআইএম। তাদের রাজ্য দফতর দশরথ দেব ভবনেও চাপা আলোচনা-‘সুদীপ বর্মণ ফের ছক করেছে’।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলায় গিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন যে কোনও সময়ে ত্রিপুরায় বিজেপির সরকার ফেলে দিতে পারি। তবে নির্বাচিত সরকার পূর্ণ মেয়াদ থাকুক এটা চাই।
এর পর ত্রিপুরায় ক্রমে বাড়ছে টিএমসির রাজনৈতিক কার্যকলাপ। দলটির দখলে এই রাজ্যে ০.৩ শতাংশ ভোট। সেখান থেকে উঠে আসা এবং সরকার ভেঙে দেওয়ার ঘোষণায় যে সুদীপবাবুর ‘ছক’ আছে তা স্পষ্ট বিজেপির কাছে।পূর্বতন বিরোধী দল কংগ্রেস বিধানসভায় এখন শূন্য। তবে কংগ্রেসের ভোট ব্যাংক পেতে মরিয়া টিএমসি। কালীঘাটের আমন্ত্রণে অনেক কিছুই হবে। সেই রাতারাতি সবকিছু পাল্টে যাওয়া? আগরতলায় ধসের আতঙ্ক বিজেপি মহলে।
নিউজ ডেস্ক: অনেকেই আছেন যাঁরা অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার থেকে হোমিওপ্যাথির ওপর বেশি ভরসা করেন। কোনও রোগ হলেই ছোটেন হোমিওপ্যাথির চিকিৎসা করাতে। এর পেছনে অনেকরই একটি ভাবনা কাজ করে, তা হল অ্যালোপ্যাথি ওষুধ খেলে পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হয়, হোমিওপ্যাথিতে তা হয় না।
কিন্তু হোমিওপ্যাথি ওষুধ খেলেও ডাক্তাররা বেশ কিছু জিনিস মেনে চলার পরামর্শ দেন। যা মেনে না চললে ওষুধের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হওয়ার যেমন সম্ভাবনা থাকে, তেমনই নিময় মেনে না খেলে ওষুধ কাজ নাও করতে পারে। আর এই ভুলগুলি হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা চলাকালীন আমরা অনেকেই করে থাকি। দেখে নিন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা চলাকালীন কোন বিষয়গুলো মাথাই রাখতে হবে।
একইসঙ্গে অ্যালোপাথি ও হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা না করানো উচিৎ। একইসঙ্গে দু’ধরণের ওষুধ খেলে ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে। যদিও প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই চিকিৎসা করানো উচিৎ।
বাজারে হোমিওপ্যাথির বই সহজলভ্য। কিন্তু তা দেখে নিজে নিজে চিকিৎসা করতে যাবেন না। অ্যালোপ্যাথির মতো হোমিওপ্যাথি ডাক্তাররাও ডিগ্রি পেয়েই চিকিৎসা করেন, তাদের ওপর দিয়ে যেতে গেলে বিপদ আপনারই।
হোপিওপ্যাথি ওষুধ যতদিন খাবেন ততদিন কোনও রকম নেশা করবেন না। বিশেষ করে অ্যালকোহল বা প্রচুর পরিমানে ক্যাফিন খেলে ওষুধের কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায়।