DRDO’র নতুন প্রযুক্তি, দেশের যুদ্ধবিমান ধরতে পারবে না শত্রুপক্ষের রাডার

নিউজ ডেস্ক: ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও) এমন উন্নত চ্যাফ প্রযুক্তি তৈরি করেছে, যুদ্ধবিমান শত্রুর রাডার থেকে লুকিয়ে থাকে। অর্থাৎ, শত্রুপক্ষের আকাশে ঢুকে গেলেও তাদের রাডার বিমানের গতিবিধি ধরতে পারবে না।

আরও পড়ুন দেশ অশান্ত: নিউ ইয়র্কে ক্লিনটনের পাড়ায় বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন ঘানি-কন্যা মরিয়ম

ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, তারা একটি উন্নতমানের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে যা শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্র থেকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান রক্ষার জন্য শত্রু রাডার গাইডেড মিসাইলের দৃষ্টি সরানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। বৃহস্পতিবার একটি বিবৃতি জারি করে বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে সফল পরীক্ষার পর ভারতীয় বায়ুসেনার প্রতিটি বিমানে এই প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন তালিবান সরকারের অংশীদার হাক্কানি নেটওয়ার্ক সক্রিয় নেপাল থেকে উত্তরবঙ্গে

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুটি ডিআরডিও ল্যাবরেটরি “উন্নত তুষের উপাদান এবং তুষের গুলি” তৈরি করেছে। শত্রু ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে উপকারী অল্প পরিমাণ মোতায়েন করা তুষ উপাদান যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। ফলে বায়ুসেনার প্রয়োজনেই এই প্রযুক্তি এনেছে তারা।

আরও পড়ুন আফগানিস্তানে পোস্টিং চাই, মহিলা ITBP কনস্টেবলের মামলায় হতবাক বিচারপতি

এই উন্নত প্রযুক্তি ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এর পর্যাপ্ত পরিমানে উৎপাদনও শুরু হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বৃহস্পতিবার এই গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি বিকাশের জন্য ডিআরডিও, ভারতীয় বায়ুসেনার প্রশংসা করে বলেন, ‘এটি ‘স্বনির্ভর ভারতের’ দিকে ডিআরডিও’র আরেকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।’

ভারত আশ্রয় দিয়েছে, উচ্ছ্বসিত আফগান মহিলারা

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ। ক্রমশ আতঙ্ক বাড়ছে আফগান নাগরিকদের মধ্যে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের জওয়ানরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে উদ্ধারকাজে। কালই এক মার্কিন মহিলা উদ্ধার করেছেন আফগান মহিলা রোবোটিক্স টিমকে।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

তালিবানদের কাবুল দখল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। এবার দেশেই সেই পরিস্থিতির কথাই ভারতে আসার পর জানালেন এক আফগান শরণার্থী। সংবাদসংস্থা এএনআই-এর (Asian News International) কাছে ওই মহিলা দাবি করেন যে আফগানিস্তানে তাঁর ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে তালিবানরা। মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে বাধ্য হয়ে প্রাণ বাঁচাতে ভারতে এসেছেন তিনি। ভারতে এসে ওই শরনার্থী জানান, ‘আফগানিস্তানের পরিস্থিতি ভালো নয়। তালিবানরা অত্যাচার করছে গোটা দেশ জুড়ে, আমার ঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। ভারতের ভাই-বোনেরা ওই অবস্থা থেকে আমাদের উদ্ধার করেছে। ভারতকে আমি ধন্যবাদ জানাই।’

Afghan nationals in Jaipur plead for help from Government of India - Cities  News

এদিন ভারতে আসা সকল ভারতীয় এবং আফগান শরণার্থীদের করোনা পরীক্ষা করানো হয় বিমানবন্দরেই। পরে কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, ভারতে আসা সকল আফগানকে পোলিও টিকা দেবে ভারত। এদিকে জানা গিয়েছে, আফগানিস্তান থেকে ভারতীয় এবং শরণার্থীদের বের করে আনতে প্রতিদিন দু’টি করে বিমান ওঠা-নামা করানোর অনুমতি পেল ভারত। তালিবানের হাতে দখল হয়ে যাওয়ার পর আফগানিস্তানে আটকে পড়া মানুষকে দেশে ফেরানোর জন্য আমেরিকা এবং NATO-র তরফে এই অনুমতি মিলেছে বলে জানা গিয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

আরও পড়ুন আফগানিস্তানে পোস্টিং চাই, মহিলা ITBP কনস্টেবলের মামলায় হতবাক বিচারপতি

ভারত ছাড়াও অন্যান্য সংগঠনও আফগান শরনার্থীদের উদ্ধারের কাজে এগিয়ে এসেছে। কাবুল এয়ারপোর্টেও গত কয়েকদিনে দেখা গিয়েছে ওই ছবি। প্রচুর মানুষ তালিবানদের ঘেরাটোপ থেকে বেড়িয়ে আসতে চাইছেন। আজও তিন দফায় ৩০০ জনের বেশি মানুষকে ভারতে আনা হয়েছে কাবুল থেকে। তাঁদের মধ্যে অধিকাংশ ভারতীয়। রয়েছেন বহু আফগান নাগরিকও।

ত্রিপুরা-পাঞ্জাবে টলমল BJP, পরীক্ষায় মোদী-শাহ

narendta modi and amit shah

বিশেষ প্রতিবেদন: কৃষি আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের জেরে শংকিত বিজেপি পাঞ্জাব বিধানসভা ভোটের আগেই বিরাট ভাঙনের মুখে। ঠিক যেমন করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার হিড়িক লেগেছিল। পাঞ্জাবে বিজেপি শিবিরের পুরনো সহযোগী শিরোমনি আকালি দলে ভিড়ছেন ‘জয় শ্রীরাম’ বলা নেতা কর্মীরা।

একইভাবে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ত্রিপুরায় শাসক বিজেপিতে চরম সঙ্কটে। তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ার জন্য অনেকেই সরাসরি কলকাতায় ফোনাফুনি শুরু করেছেন। শাসক দলের ভিতর চওড়া হচ্ছে ভাঙন।
মোদী-শাহ, মমতা, কেজরি, রাহুল, CPIM সবার পরীক্ষা

(১) আগামী বছর ২০২২ সালে পাঞ্জাবে ভোট। ২০২৩ সালে ত্রিপুরায় ভোট। দেশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের নির্বাচনে মোদী-শাহের অগ্নিপরীক্ষা। দুজনেই পশ্চিমবঙ্গ দখলে ব্যর্থ হয়েছেন।

(২) পরীক্ষায় বসবে সিপিআইএম। দলটি ত্রিপুরায় টানা ২৫ বছর সরকারে ছিল। গত বিধানসভায় সেই বাম সরকারের পতন হয়। ত্রিপুরায় এখন তারা প্রধান বিরোধী দল। পশ্চিমবঙ্গে শূন্য হলেও কেরলে পরপর দুবার সরকার তারা গড়েছে। ত্রিপুরায় ফিরে আসতে মরিয়া মানিক সরকার।

(৩) পরীক্ষা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতারও। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়েছেন তিনি। দেশের অপর বাংলাভাষী প্রধান রাজ্যে তিনি রাজত্ব সম্প্রসারণে মরিয়া।

(৪) পরীক্ষা দেবেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। টানা তিনবার দিল্লির সরকারে আম আদমি পার্টি। পাঞ্জাবে তারা অন্যতম শক্তি। কেজরির লক্ষ্য অন্তত পাঞ্জাবে বিরোধী আসন।

(৫) কেরল দখলে ব্যর্থ হয়ে পাঞ্জাবের মতো দুর্গ ধরে রাখার পরীক্ষায় নামছে কংগ্রেস। সেনিয়া-রাহুল গান্ধীর পাখির চোখ পাঞ্জাব।

পরীক্ষার্থীদের দিকে চোখ রাখলে স্পষ্ট হয় দেশের তাবড় তাবড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অগ্নিপরীক্ষা শুরু হতে চলেছে। পাঞ্জাব ও ত্রিপুরার ভোট লড়াইয়ে যারা যারা কুর্সিতে যাবে তাদের কাছে আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে স্বস্তিকর।

ইতিমধ্যে পাঞ্জাবে বিজেপির অবস্থা সঙ্গীন। কৃষি আইন বিরোধিতার পক্ষে গিয়ে এনডিএ জোটের অতি বিশ্বস্ত শিরোমনি আকালি দল একলা হয়ে গিয়েছে। গতবার তাদের বদান্যতায় পাঞ্জাবে কিছু আসন ছিল বিজেপির দখলে। সদ্য কয়েকটি পুরসভা ও স্থানীয় ভোটে বিজেপি একা লড়ে করুণ অবস্থায়। লেগেছে দলত্যাগ হিড়িক। বরং উঠে এসেছে আম আদমি পার্টি।

ত্রিপুরায় রাতারাতি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে গিয়ে পাঁচবছর আগে মোদী ঝড়ের ফায়দায় বাম রাজ্যটি ‘রাম রাজ্য’ হয়েছিল। সেই ত্রিপুরায় এখন বিজেপির বিধায়করা মমতা শিবিরে ঢুকতে হত্যে দিতে শুরু করেছেন। দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার গিয়েও পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না। দলকে চাঙ্গা করতে বিজেপি বিধায়কের গলায় হাড় গুঁড়ো করার হুঁশিয়ারি তো তালিবানি রীতিতে মারধরের হুমকি শোনা যাচ্ছে। এতে বিব্রত বিজেপি। তার সঙ্গে জুটেছে ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি না পূরণের ক্ষোভ।
সবমিলে রাজনৈতিক লড়াইয়ে দুই রাজ্যে চাপে বিজেপি। ফায়দা লুঠবে কে?

Bollywood: মেয়ে শ্বেতার সঙ্গে আচমকা হাসপাতালে অমিতাভ বচ্চন

abmitabh bachchan reached lilavati hospital along with daughter shweta nanda

নিউজ ডেস্ক: বলিউডের মেগাস্টার অমিতাভ বচ্চন হঠাৎ রবিবার সন্ধ্যায় আচমকা হাসপাতালে পৌঁছেছেন। এই সময় তাঁর মেয়ে শ্বেতা নন্দও সঙ্গে ছিলেন। অমিতাভ বচ্চন হাসপাতালে পৌঁছানোর কারণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

তাঁর হাসপাতালে ঢোকার ছবিটি সোশ্যাল মিডিয়ায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই তা ভাইরাল হয়ে গিয়েছে৷ ছবিটি দেখার পর বিগ-বি ভক্তরা জানতে চান, কেন অমিতাভ বচ্চন হাসপাতালে পৌঁছেছেন। এখনও পর্যন্ত অমিতাভ বচ্চন বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়া হয়নি৷

সন্ধ্যায় অমিতাভ বচ্চন হাসপাতালে
প্রকৃতপক্ষে এই প্রতিবেদন লেখার ঘণ্টা তিনেক আগে ভাইরাল ভায়ানির ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেল থেকে একটি ছবি পোস্ট করা হয়েছিল৷ যাতে অমিতাভ বচ্চনকে মেয়ে শ্বেতা নন্দার সঙ্গে লীলাবতী হাসপাতালের বাইরে দেখা যায়। তাঁকে গাড়ি থেকে নেমে হাসপাতালে যেতে দেখা গিয়েছে। এই সময় বিগ বি’কে একটি সাদা ট্র্যাক স্যুটে দেখা যায়। এর পাশাপাশি তিনি কোভিড সেফটি গিয়ার্সও পরছেন।

কন্যা শ্বেতাও সঙ্গে ছিলেন
অমিতাভ বচ্চনের একটি ছবি পোস্ট করে ভাইরাল ভায়ানি পোস্টে লিখেছেন, ‘অমিতাভ বচ্চন এবং তাঁর মেয়ে শ্বেতা বচ্চনকে লীলাবতী হাসপাতালের বাইরে এই ছবিটি তোলা। হাসপাতালে পৌঁছানোর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। অনুমান করা হচ্ছে, এটি একটি নিয়মিত চেকআপ হবে অথবা তিনি ভ্যাকসিন নিতে আসতে পারেন।

কারণ প্রকাশ করা হয়নি
ই পোস্টের ঠিক নীচে ভাইরাল ভায়ানীর আরেকটি মন্তব্য করা হয়েছে৷ যাতে লেখা আছে, ‘অভিষেক বচ্চনের কারণে এই তাঁরা হয়তো হাসপাতালে পৌঁছেছে। সম্প্রতি অভিষেক তাঁর আঙুলে এবং হাতে আঘাত পেয়েছেন। ফ্যানের এই পোস্টে এখনও মন্তব্য করছেন এবং তারা আসল কারণ জানতে চান। একই সময়ে অনেক ফ্যানও শুভ কামনা করেছেন। এখন আসল কারণ কি, সেটা অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট আসার পরেই জানা যাবে।

আফগানিস্তানে পোস্টিং চাই, মহিলা ITBP কনস্টেবলের মামলায় হতবাক বিচারপতি

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ। ক্রমশ আতঙ্ক বাড়ছে আফগান নাগরিকদের মধ্যে। অন্যদিকে বিভিন্ন দেশের জওয়ানরা ঝাঁপিয়ে পড়েছে উদ্ধারকাজে। কালই এক মার্কিন মহিলা উদ্ধার করেছেন আফগান মহিলা রোবোটিক্স টিমকে।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

তালিবানদের কাবুল দখল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক তারকাই এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশেষ করে আফগানিস্তানে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন অনেকে। কাবুলের দৃশ্য দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারছেন না ভারতীয় সৈন্যরাও। কাবুলে আটক ভারতীয় সদস্যদের ইতিমধ্যেই উদ্ধার করে এনেছে ভারতীয় বায়ুসেনা। এবার আফগানিস্তানে বদলি চেয়ে দিল্লি হাইকোর্টে মামলা দায়ের করলেন ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের দুই মহিলা কনস্টেবল।

আরও পড়ুন ফিরল ‘ভয়াবহ রবিবার’, আফগানিস্তানে জঙ্গি সরকারকে সমর্থনে বিশ্ব দোদুল্যমান

প্রথমদিনেই মামলা খারিজ করে দেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি রাজীব সহায় এবং অমিত বনসল। যদিও যুদ্ধবিদ্ধস্ত কাবুলে যেতে চান, এই ঘটনাটিতেই অবাক হয়ে গিয়েছেন বিচারপতিরা। যদিও এই মামলার আবেদন এবং খারিজ দুটোই তালিবানদের কাবুল দখলের আগে হয়েছিল।

রিপোর্ট অনুযায়ী, এদিকে মামলা খারিজ করে দিল্লি হাইকোর্ট বলে, ‘সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ান হিসেবে আইটিবিপির (Indo-Tibetan Border Police) জওয়ানদের যেকোনও জায়গায় মোতায়েন করা যায়। প্রয়োজন অনুযায়ী এই নিয়োগ করা হয়। কিন্তু নির্দিষ্ট ভাবে আফগানিস্তানে নিযোগ চাওয়ার কোনও এক্তিয়ার জওয়ানদের নেই। ফলে মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হল। তবে পড়শি দেশের এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে তাদের নিজে থেকে আফগানিস্তানে মোতায়েন চেয়ে আবেদন করায় আমরা হতবাক।’

ওই দুই আইটিবিপি কনস্টেবলদের দাবি, ২০২০ সালের আগস্টে তাঁদের কাবুলের দূতাবাসে নিয়োগ করা হয়েছিল দুই বছরের জন্য। ফলে কাবুলে দুই বছর থাকা তাঁদের অধিকারের মধ্যে পড়ে। তালিবানদের কাবুল দখলের পর থেকে আফগানিস্তান থেকে ৯৯ জন আইটিবিপি জওয়ানকে ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

১ সেপ্টেম্বর থেকে বদলে যাচ্ছে চেক ক্লিয়ারিং সিস্টেম

নিউজ ডেস্ক: আপনি যদি অ্যাক্সিস ব্যাংকের গ্রাহক হন, তবে আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ খবর৷ আপনি যদি অ্যাক্সিস ব্যাংকের চেকবুক ব্যবহার করেন, তাহলে আপনাকে অবশ্যই এই খবরটি পড়তে হবে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যাক্সিস ব্যাংকে চেক ক্লিয়ারিং সিস্টেম পরিবর্তন হচ্ছে। অ্যাক্সিস ব্যাংক এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহকদের এই বার্তা পৌঁছে দিয়েছে৷ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংক থেকে চেক ক্লিয়ার হওয়ার একদিন আগে পজিটিভ পে ডিটেলস দিতে হবে৷ তা না করলে আপনার চেক ফেরত চলে যাবে৷

স্বয়ংক্রিয় প্রতারণা শনাক্তকরণ টুলস
২০২১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দেশে চেকের জন্য নতুন পজিটিভ পে সিস্টেম প্রয়োগ করা হয়েছে। পজিটিভ পে সিস্টেম একটি স্বয়ংক্রিয় জালিয়াতি সনাক্তকরণের মাধ্যম৷ আরবিআই বলেছে, এই নিয়মটি বাস্তবায়নের পিছনে উদ্দেশ্য হল চেকের অপব্যবহারের উপর জাল শক্ত করা। ব্যাংক এই জন্য গ্রাহকদের এসএমএস পাঠিয়েছে। গ্রাহকদের পাঠানো এসএমএসে অ্যাক্সিস ব্যাংক বলেছে, “১ সেপ্টেম্বর থেকে যদি আপনি চেক ক্লিয়ারিং ডেট থেকে এক কার্যদিবসের আগে পজিটিভ পে সংক্রান্ত বিবরণ প্রদান না করেন, তাহলে ৫ লক্ষ বা তার বেশি টাকার চেক ফেরত দেওয়া হবে।”

পজিটিভ পে সিস্টেম কি?
পজেটিভ পে সিস্টেম হল চেক ক্লিয়ারিং সিস্টেমের অধীনে চেক ক্লিয়ার করার ক্ষেত্রে জালিয়াতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করা। চেক কাটার সিস্টেম হল চেক ক্লিয়ার করার একটি প্রক্রিয়া। এটি চেক সংগ্রহের প্রক্রিয়াটিকে আরও দ্রুত করে তোলে। ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (এনপিসিআই) ব্যাঙ্কগুলিকে চেক কাটার পদ্ধতিতে (সিটিএস) পজিটিভ পে সুবিধা প্রদান করছে। এই ব্যবস্থা ৫০ হাজার বা তার বেশি পরিমাণ চেকের মাধ্যমে অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

পজিটিভ পে সিস্টেম কীভাবে কাজ করে?
এই সিস্টেমের মাধ্যমে এসএমএস, মোবাইল অ্যাপ, ইন্টারনেট ব্যাংকিং এবং এটিএমের মাধ্যমে চেকের তথ্য দেওয়া যাবে। চেক পেমেন্ট করার আগে এই বিবরণগুলি পুনরায় যাচাই করা হবে। যদি কোন অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তাহলে ব্যাংক সেই চেক প্রত্যাখ্যান করবে। এখানে যদি দুটি ব্যাংকের ক্ষেত্রে হয় অর্থাৎ যে ব্যাঙ্কের চেক কেটে নেওয়া হয়েছে এবং যে ব্যাংকে চেক জমা করা হয়েছে, তাহলে উভয়কেই এই বিষয়ে জানানো হবে।

অঙ্গদান সম্পর্কে কয়েকটি জরুরি তথ্য

নিউজ ডেস্ক: ‘অঙ্গদান’ কথাটির সঙ্গে বর্তমানে আমরা কমবেশি সকলেই পরিচিত। অঙ্গদান বিষয়টি আসলে মানবিকতার একটি পরিচয়। কিন্তু বিস্তারিত জ্ঞান বা সচেতনতা না থাকায় অনেকেই নিজে অঙ্গদানের মতো মহৎ কাজে সামিল হতে পারে না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ০.০৮ শতাংশ ভারতীয় অঙ্গদান করেন। তুলনায় স্পেন এবং বেলজিয়ামের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ এই মহত্‌ কাজটি করেন।

আরও পড়ুন কিডনি দান করে ভাইকে রাখী পূর্ণিমায় অমূল্য উপহার বোনের

কোনও ব্যক্তির মৃত্যুর পর তাঁর শরীরের নানা সুস্থ অঙ্গ মরণাপন্ন ব্যক্তির সুস্থ হয়ে ওঠায় ব্যবহার করা যায়। জানুন কীভাবে করে যাবেন মরনোত্তর অঙ্গদান!

Organ transplants: why so many people are put off donating

অঙ্গদান কী?

অঙ্গদান হল, নিজের শরীরের অংশ অন্য কোনও ব্যক্তিকে দান করে দেওয়া।

কোন কোন অঙ্গ দান করা যায়?

শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন হৃদপিণ্ড, যকৃত, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয়, রক্ত, রক্তনালী প্রভৃতি দান করা যায়।

আরও পড়ুন সারাদিনে প্রচুর জল খাচ্ছেন! অজান্তেই শরীরে বিপদ ডেকে আনছেন না তো!

অঙ্গদানের বয়স :

অঙ্গদানের কোনও নির্দিষ্ট বয়স নেই। সদ্যোজাত থেকে শুরু করে বয়স্ক ব্যক্তিরা অঙ্গদান করতে পারেন। তবে অঙ্গদান করার আগে অবশ্যই চিকিত্‌সকের পরামর্শ নেওয়া উচিত্‌। একমাত্র তিনিই বলতে পারবেন আপনার দান করা অঙ্গটি সুস্থ কিনা।

আরও পড়ুন এবারে শীতে বড় পর্দায় আসতে চলেছে দেব-রুক্মিণীর ‘কিশমিশ’, প্রকাশ্যে ছবির অ্যানিমেটেড টিজার

অঙ্গদানের রেজিস্ট্রেশনের পদ্ধতি

প্রত্যেক রাজ্যের নিজস্ব অঙ্গদানের জন্য সাইট রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে https://organdonationbengal.in/ সাইটের মাধ্যমে আপনি অঙ্গদান করতে পারবেন। ইন্টারনেট ঘাঁটলে সেই সম্পর্কে সমস্ত তথ্য পাওয়া যায়। যাঁরাই অঙ্গদান করতে চান, নিজেদের নাম সেখানে রেজিস্ট্রি করতে হয়। প্রথমে নিজের মোবাইল নম্বর অথবা ইমেল আইডি নিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

কিন্তু মনে রাখতে হবে, মরণোত্তর অঙ্গদানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাধা হয়ে দাঁড়ায় পরিবারের লোক। ফলে শুধু নিজে মনস্থির করাই নয়, পর্যাপ্ত তথ্য জানিয়ে সচেতন করতে হবে পরিবারের লোকদেরও।

জনসংখ্যার সংকট দূর করতে তৃতীয় সন্তানের পথে বেজিং

China population

নিউজ ডেস্ক: অর্থনৈতিক সাফল্যের লক্ষ্যে সন্তান নীতি বদলাচ্ছে চিন৷ এক সন্তান নীতি থেকে সরে তিন সন্তান গ্রহণের অনুমতি দেওয়ার পথে হাঁটছে বেজিং৷ চিনের দাবি, আশির দশকে চালু হওয়া এক সন্তান নীতির ফলে ৪০ কোটি অতিরিক্ত সন্তান জন্মগ্রহণ ঠেকানো গিয়েছে৷ কিন্তু, তার আগে থেকেই দেশের কর্মক্ষম জনসংখ্যা ছিল নিম্নমুখী।

বিশ্ব ব্যাংকের পরিসংখ্যান বলছে, চিনে ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে প্রতিজন মায়ের সন্তান সংখ্যা ছয় থেকে কমে তিনে নেমে আসে। দেশে এক সন্তান নীতি চালু করার পর এই সংখ্যা আরও কমতে থাকে।

২০২০ সালে চিনে ষাটোর্ধ্ব নাগরিক ছিল মোট জনসংখ্যার ১৮.৭ শতাংশ, যা ২০১০ সালের তুলনায় ৫.৪৪ শতাংশ বেশি। একইভাবে ২০২০ সালে চিনে কর্মক্ষম নাগরিকের সংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৬৩.৩ শতাংশ। দশ বছর আগেও এই সংখ্যাটি ছিল ৭০ শতাংশের কিছু বেশি।

মাঝে দুই সন্তান নীতি প্রণয়ন করা হলেও, তা এই ধারাকে তেমন একটা প্রভাবিত করতে পারেনি। পাশাপাশি, চিনা সমাজে মহিলারা সন্তানবিমুখ হতে শুরু করেন। সব মিলিয়ে চিনে বর্তমানে সন্তান জন্মের হার কমছে।
এই সমস্যা শুধু চিনের একার নয়। জাপান বা জার্মানির মতো দেশেও রয়েছে এই পরিস্থিতি৷ যেখানে ক্রমেই কমে আসছে কর্মক্ষম জনবল। কিন্তু সেই দেশগুলির জন্য তা এত বড় সমস্যা নয়।

China population

জাপান বা জার্মানির অর্থনীতি মূলত প্রযুক্তি, বিদেশি লগ্নি ও কারখানায় অর্থায়নের পরিচালিত হয়ে থাকে। কিন্তু চিনের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে শ্রমনির্ভর পণ্য প্রস্তুতকারী শিল্প ও কৃষির উপর। যার ফলে দেশে কর্মক্ষম জনগণের প্রাধান্য তুলনামূলক বেশি।

গত সপ্তাহে চিনের স্ট্যান্ডিং কমিটি অফ দ্যা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস জানায়, সন্তান ধারণ বিষয়ে যে সমস্ত কড়াকড়ি আগে চালু ছিল, তা তারা তুলে নিচ্ছে। পাশাপাশি জরিমানা আর থাকছে না৷ দেওয়া হচ্ছে মাতৃত্ব ও পিতৃত্বকালীন ছুটির সুযোগও৷ এছাড়াও শিক্ষা, গৃহায়ণ, কর ও নিয়োগ বিষয়ক নীতিতে বদল আনার প্রস্তাব আলোচিত হচ্ছে৷ যা ‘পরিবারের ওপর চাপ কমাবে’ বলে জানাচ্ছে বেজিং।

এই বদলের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে দেশে সন্তানসম্ভবা মহিলাদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা দেওয়া ও সহকর্মীদের তাদের প্রতি আচরণের বিষয়টি। চিনের কর্মক্ষম জনসংখ্যায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব উচ্চহারে থাকলেও কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিকস্তরে উচ্চ নেতৃত্বের পদে মহিলাদের অভাব লক্ষণীয়।

পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র এইসব উচ্চ মর্যাদার পদে ৮.৪ শতাংশ মহিলা রয়েছেন। পাশাপাশি আগামী কয়েক দশকে যে সমস্ত তরুণ নেতৃত্বকে ক্ষমতায় দেখা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তার মধ্যেও ১১ শতাংশ মহিলা।

সৎকারের আগে মৃত্যুর খবর জানাতে চাননি শম্ভু মিত্র

Shambhu Mitra did not want to report the death before the funeral

বিশেষ প্রতিবেদন: শম্ভু মিত্র থিয়েটারের পরিকাঠামো নিয়ে কোনও সমঝোতা মানতে রাজি ছিলেন না৷ তাঁর আমলে বহুরূপী-র অভিনয়ের আমন্ত্রণ থাকলে আগে দলের প্রতিনিধি সেখানে গিয়ে দেখে আসতেন মঞ্চ, সাজঘর, আলো ও শব্দ-ব্যবস্থা, এমনকি দর্শক আসনের উপযুক্ত ব্যবস্থা আছে কিনা৷ তা না হলে দল অভিনয় করত না।

কখনও কখনও নাট্যদলগুলি প্যান্ডেলে অস্থায়ী মঞ্চে বা পরিত্যক্ত প্রেক্ষাগৃহে নাটক নামিয়ে দেন৷ রাজনৈতিক দলের আমন্ত্রণে এমন কোনও স্থানেও অভিনয় করেন যেখানে নাটকের সংলাপকে আলাদা করা যায় না আশপাশ থেকে ভেসে আসা গান, বক্তৃতা এবং হাঁকডাকের আওয়াজ থেকে৷ এই আপোষ আসলে এক ধরনের প্রতারণার সামিল যেটা কোনও ভাবেই মানতে পারেননি নির্দেশক নট শম্ভু মিত্র৷ মানাতে না পেরে জীবনের শেষদিকে আসতে আসতে একেবারে প্রচারের আলো থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে দেখা গিয়েছিল তাকে ।

১৯১৫ সালের ২২ অগস্ট শম্ভু মিত্রের জন্ম হয় কলকাতায়৷ বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে বিদ্যালয় শিক্ষা শেষ করে ভর্তি হন সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। ১৯৩৯ সালে রংমহলে বাণিজ্যিক নাট্যমঞ্চে যোগ দেন তিনি। পরে যোগ দিয়েছিলেন মিনার্ভায়। এই সময় কিংবদন্তি নাট্যব্যক্তিত্ব শিশিরকুমার ভাদুড়ীর সঙ্গে আলাপ হয় এবং তাঁরই প্রযোজনায় আলমগীর নাটকে অভিনয়ও করেন তিনি। যদিও তখন থেকেই নাট্যজগতে শিশিরকুমারের থেকে আলাদা ঘরানা তৈরিতে উদ্যোগী হন শম্ভু মিত্র।

১৯৪২ সালে ফ্যাসিবিরোধী সংঘের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। ১৯৪৩ সালে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক পি. সি. যোশির অনুপ্রেরণায় যোগ দেন ভারতীয় গণনাট্য সংঘে। ১৯৪৫ সালের ১০ ডিসেম্বর গণনাট্য সংঘে কাজ করার সময়ই তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয় মঞ্চাভিনেত্রী তৃপ্তি মিত্রের। ১৯৪৮ সালে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠন করেন বহুরূপী নাট্যগোষ্ঠী। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত বহুরূপীর প্রযোজনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সফোক্লিস, হেনরিক ইবসেন, তুলসী লাহিড়ী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নাট্যকারের রচনা তাঁর পরিচালনায় মঞ্চস্থ হয়।

ভারতীয় নাটকের ইতিহাসে যেগুলি মাইলফলক হিসেবে পরিগণিত হয়। ১৯৭০ সালে একটি আর্ট কমপ্লেক্স নির্মাণে উদ্দেশ্যে গঠিত হয় বঙ্গীয় নাট্যমঞ্চ সমিতি। তখন আর্ট কমপ্লেক্সের জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সমিতির প্রযোজনায় ও অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিচালনায় মঞ্চস্থ মুদ্রারাক্ষস নাটকে অভিনয়ও করেন তিনি৷ ১৯৭৮ সালের ১৬ জুন অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে দশচক্র নাটকে অভিনয় করেন। বহুরূপীর প্রযোজনায় সেটিই ছিল তাঁর শেষ নাটক। ওই বছরই ১৫ অগস্ট অ্যাকাডেমিতে স্বরচিত চাঁদ বনিকের পালা নাটকটি পাঠ করেন তিনি। এরপর বহুরূপীর আর কোনো প্রযোজনায় তাঁকে দেখা যায়নি।

এদিকে ১৯৭৯ সালে প্রায় দৃষ্টিহীন অবস্থায় নান্দীকার প্রযোজিত মুদ্রারাক্ষস নাটকে চাণক্যের ভূমিকায় তাঁর অভিনয় বিশেষ সাড়া ফেলেছিল।১৯৮০-৮১ সালে ফ্রিৎজ বেনেভিৎজের পরিচালনায় ক্যালকাটা রিপোর্টারির প্রযোজনায় গ্যালিলিওর জীবন নাটকে অভিনয় করেন। কন্যা শাঁওলী মিত্র পরিচালিত ‘নাথবতী অনাথবৎ’ এবং ‘ কথা অমৃতসমান’ নাটক দু’টির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন শম্ভু মিত্র। কন্যার নাট্যসংস্থা পঞ্চম বৈদিকের প্রতিষ্ঠাতা-সদস্য ও আমৃত্যু কর্মসমিতি সদস্য ছিলেন। ১৯৮৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রবীন্দ্রসদনে পঞ্চম বৈদিকের প্রযোজনায় ও তাঁর পরিচালনায় দশচক্র নাটকটির পরপর ছয়টি অভিনয় পাঁচ দিনে মঞ্চস্থ হয়। অভিনেতা রূপে এর পর আর কোনও দিন মঞ্চে অবতীর্ণ হননি তিনি।

১৯৯৭ সালের ১৯ মে কলকাতার বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শম্ভু মিত্র। তবে শুধু মঞ্চ নয় এই অভিমানী নট জনগণের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন৷ তাই মৃত্যুর আগে ইচ্ছাপত্র-এ লিখেছিলেন, “মোট কথা আমি সামান্য মানুষ, জীবনের অনেক জিনিস এড়িয়ে চলেছি, তাই মরবার পরেও আমার দেহটা যেন তেমনই নীরবে, একটু ভদ্রতার সঙ্গে, সামান্য বেশে, বেশ একটু নির্লিপ্তির সঙ্গে গিয়ে পুড়ে যেতে পারে।” এই কারণে সৎকার হওয়ার আগে সংবাদমাধ্যমের কাছে শম্ভু মিত্রের মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছয়নি৷ ফলে অগণিত শম্ভু মিত্রের ভক্ত অনুগামীরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাননি বলে আক্ষেপ করেন ৷

ফিরল ‘ভয়াবহ রবিবার’, আফগানিস্তানে জঙ্গি সরকারকে সমর্থনে বিশ্ব দোদুল্যমান

One week after taliban occupied Afghanistan

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: এক সপ্তাহ আগের সেই ভয়াবহ রবিবার-১৫ অগাস্ট। ভারত ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছিল। আর ভারতের স্বাধীনতার আগেই স্বাধীন হওয়া (১৯১৯) আফগানভূমি সেই দিনই ঢুকেছিল দ্বিতীয়বার তালিবান কব্জায়। প্রথমবার ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত তালিবান ছিল ক্ষমতায়।

এক সপ্তাহ পার হয়েছে তালিবান জঙ্গিরা এখনও সরকার গড়েনি। তবে আফগানিস্থানের এই জঙ্গিদের সরকারকে মান্যতা দিতে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন দেশ। আগ বাড়িয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, প্রয়োজন হলে ব্রিটেন তালিবানের সঙ্গে কাজ করবে।

কাবুলে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস বন্ধ। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া তাদের দূতাবাস থেকে সব কর্মী সরিয়ে নিল। অন্যদিকে সুন্নি ইসলামিক তালিবানের সঙ্গে নরম সম্পর্ক রাখছে শিয়াপন্থী ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান সরকার। তাদের কাবুল দূতাবাস খোলা।

Taliban gains drive Afghanistan gov’t to arm local volunteers
আমেরিকার যুদ্ধ শেষের ঘোষণার পরেই রাজপথে তালিবানরা

তাৎপর্যপূর্ণ তালিবান জঙ্গিরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করতেই পাকিস্তান সরাসরি সমর্থন করে। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছিলেন, আফগানিরা বিদেশি দাসত্ব থেকে মুক্তি পেলেন। সেই সুন্নি ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান এখন এক কদম পিছিয়ে জানাচ্ছে, অন্যান্য দেশের অবস্থান দেখে নিয়েই তালিবানদের প্রতি বার্তা দেওয়া হবে।

তবে ইসলামাবাদ এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রক। কাবুলে তালিবান সরকার কি বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমন্বয়ে হবে নাকি একলাই সরকার গড়বে জঙ্গিরা সেটি নিয়ে পাক রাজনৈতিক মহল তীব্র উত্তপ্ত। বিভিন্ন আফগান গোষ্ঠীর নেতারা এখন ইসলামাবাদে জরুরি আলোচনা চালাচ্ছেন।

One week after taliban occupied Afghanistan

আরও তাৎপর্যপূর্ণ, পাক সামরিক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই তাদের মদতপুষ্ট হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গি গোষ্ঠীর জন্য হতে চলা তালিবান নিয়ন্ত্রিত সরকারে বড়সড় অংশীদারী চাইছে। কাবুলের সংবাদ মাধ্যম ও রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গি সংগঠনটি আফগান অর্থমন্ত্রক পাবে। ইতিমধ্যেই হাক্কানি প্রধান আনাস হাক্কানি কাবুলে গিয়ে কথা বলেছে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে।

প্রাক্তন আফগান প্রেসিডেন্ট কারজাই তালিবান শান্তি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তিনি কাবুলে নিরাপদেই রয়েছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারিত হয়েই দেশ ছাড়েন আশরাফ ঘানি। আর ভাইস প্রেসিডেন্ট এখন নিজেকে বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করে তালিবান বিরোধী সংঘর্ষ চালাতে মরিয়া।

Taliban militants are taking underage girls as sex slaves

আফগানিস্তানের কিছু অংশে তালিবান বিরোধী বিক্ষোভ হলেও দেশটি এখন পুরোপুরি জঙ্গি কব্জায়। আর তালিবান ছাড়া আফগানিস্তানে এই মুহূর্তে কিছু বিকল্প নেই বলেছেন কাবুলের রুশ রাষ্ট্রদূত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, আফগানিস্তানের ওপর তালিবানের নিয়ন্ত্রণ কায়েম হচ্ছে একটা বাস্তবতা। এটা মেনে নিতে হবে। তালিবান কাবুল দখলের আগে জঙ্গি সংগঠনটির নেতা তথা আগামী প্রেসিডেন্ট হতে চলা মোল্লা আবদুল ঘানি বারাদার চিন সফর করে। তার সঙ্গে চিনা বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকের পর আফগানিস্তানের রাজনৈতিক মোড় ঘুরতে শুরু করে। অতি দ্রুত তালিবান দখল করে নেয় কাবুল। চিন এখন সরাসরি তালিবানের পক্ষে বার্তা দিয়েছে।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া আমেরিকা স্পষ্ট করেছে তাদের অবস্থান। বলেছে সেনা প্রত্যাহার করা ঠিক পদক্ষেপ। তবে আফগানিস্তানে যাবতীয় অর্থ সাহায্য বন্ধ করেছে ওয়াশিংটন। কঠিন পরিস্থিতি ভারতের। বহু ভারতীয় আটকে পড়েছেন। বিদেশে ভারতের বৃহত্তম বিনিয়োগ এই আফগানিস্তানেই। সেসব লোকসানের খাতায় যাওয়া নিশ্চিত বলেই মনে করছেন দিল্লির কূটনৈতিক মহল। তবে তালিবান সরকারকে ভারত মান্যতা দেবে নাকি দেবেনা সেটা বিশ্বজোড়া প্রশ্ন।

তালিবানের হাতে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ যাওয়ার পর থেকে দেশটির ব্যাংক ব্যবস্থা বন্ধ। খাদ্য সংকট চরমে পৌঁছেছে। কাবুল পতনের পর সাত দিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় শুরু হয়েছে ঝকমারি। চারদিকে খাদ্যের হাহাকার বাড়ছে। এমনকি তালিবানের হাত খালি। তারাও হন্যে হয়ে টাকার খোঁজ করছে।

গণহত্যা, ধর্ষণ নিয়মিত। ধর্মের নামে চলছে অত্যাচার। আফগানিস্তানের অবস্থা ফের প্রমাণ করছে, সন্ত্রাসবাদের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম নেই। তার একটাই ধর্ম রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি করা।

বাবরি মসজিদ ধংসের সময় বিতর্কিত মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংয়ের প্রয়াণ

ex cm of Uttar pradesh kalyan singh

লখনউ: যে রাম মন্দিরের স্বপ্ন দেখতেন তার ভূমি পূজা হয়েছে। কিন্তু মন্দির দেখা আর হলো না। ৮৯ বছরে প্রয়াত হলেন উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিং। কট্টর সংঘ পরিবার সদস্য এই হিন্দুত্ববাদী নেতা যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন তখনই ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধংস করেছিল করসেবকরা।

১৯৯২ সালে অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধংস স্বাধীনতা পরবর্তী ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ একটি বাঁক বলে চিহ্নিত। তবে সংঘ পরিবার এই মুহূর্তকে বারবার দেশের বৃহত্তম ধর্মীয় গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে।

চরম রাজনৈতিক ঝড় তৈরি হয়েছিল ১৯৯০ দশকে। সংঘ পরিবার ও হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি বনাম কংগ্রেস ও বাম এবং ধর্মনিরপেক্ষ সংগঠনগুলির সংঘাতের কেন্দ্র ছিল উত্তর প্রদেশের অযোধ্যার বিতর্কিত রামজন্ম ভূমি ও সংলগ্ন বাবরি মসজিদ চত্বর। এই বিতর্কিত জমির অধিকার দাবি করে আরএসএস ও সহযোগী দলগুলির করসেবকরা ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর যে গণঅবস্থান নিয়েছিল তার পরিণতি বাবরি ধংস। ততকালীন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কল্যাণ সিংয়ের সরকার কেন নীরব ছিল সে প্রশ্ন যেমন আছে, তেমনই কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরসিমা রাওয়ের নরম অবস্থান নিয়েও বিস্তর সমালোচনা হয়।

প্রায় পুরো রাজনৈতিক জীবনটাই হিন্দুত্ব জাগরণ রাজনীতি ছিল কল্যাণ সিংয়ের। তিনি আরএসএসের নেতা। পরে উত্তর প্রদেশে বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী। বিতর্কিত বাবরি মসজিদ ধংসের ঘটনায় তাঁর প্রশাসনের গাফিলতি নাকি সমর্থন এই নিয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা করেছে লিবারহান কমিশন। রিপোর্টে কল্যাণ সিংকে অন্যতম অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বাবরি ধংস বিজেপির উল্কা গতিতে উত্থান সবমিলে কল্যাণ সিং বাজপেয়ী ও আদবানী পরবর্তী সবথেকে আলোচিত বিতর্কিত বিজেপি নেতা ছিলেন। কল্যাণ সিংহ প্রথমবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন ১৯৯১ সালে। ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর তিনি প্রবল চাপের মুখে পদত্যাগ করেন। ১৯৯৭ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রী হন। ১৯৯৯ সালে তাঁকে সরিয়ে দেয় বিজেপি। বিজেপি ছেড়ে দেন। আলাদা দল গঠন করেন। ২০০৪ সালে তিনি ফের বিজেপিতে ফিরে আসেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক বিতর্কিত জীবন তাঁর। ১৯৩২ সালে আলিগড় জেলায় জন্ম হয় তাঁর। গত মাস দেড়েক ধরে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার লখনউয়ের সঞ্জয় গান্ধী পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সসে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কল্যাণ সিং। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সহ বিজেপি।  প্রবীণ নেতার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন অন্যান্য দলের নেতৃত্বরা।

কিডনি দান করে ভাইকে রাখী পূর্ণিমায় অমূল্য উপহার বোনের

ভাই-বোনের অটুট ভালোবাসার প্রতীক হল রাখী বন্ধন উৎসব। হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী শ্রাবণ মাসের শুক্ল পক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে রাখী বন্ধন উৎসব পালিত হয়। এদিন বোন নিজের ভাইয়ের হাতে রাখী বাঁধেন। ভাইয়ের দীর্ঘায়ু, সাফল্য ও সমৃদ্ধির কামনা করেন বোনেরা। পাশাপাশি ভাইরাও নিজের বোনেদের হাতে রাখি পরিয়ে দেন। গিফটও দেন একে অপরকে।

সেই রীতি মেনে ছোটবেলা থেকেই ভাইকে রাখী পরিয়ে আসছেন ডঃ সুজাতা দেব। কিন্তু চলতি বছরের রাখী তাঁর এবং তাঁর ভাই সন্দীপ কুমারের কাছে একটু বেশীই স্পেশাল। কারণ, রাখীতে ভাইকে একটি অমূল্য উপহার দিয়েছেন সুজাতা। ভাইকে উপহার হিসেবে নিজের কিডনি দান করেছেন তিনি, গত ১৪ আগস্ট তা প্রতিস্থাপনও করা হয়েছে সন্দীপের শরীরে। সন্দীপ কুমার বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠছেন এবং খুব তাড়াতাড়িই তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন দেশ অশান্ত: নিউ ইয়র্কে ক্লিনটনের পাড়ায় বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন ঘানি-কন্যা মরিয়ম

সন্দীপ কুমার পেশায় ভারতীয় রাজস্ব পরিষেবা ( Indian Revenue Service) অফিসার। বর্তমানে লক্ষ্ণৌতে প্রধান আয়কর কমিশনারের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। ডঃ সুজাতা দেব একজন গাইনোকোলজিস্ট এবং লক্ষ্ণৌয়ের মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক। আঁট বছর আগে, ২০১৩ সালেও সন্দীপের একটি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। সেই সময়, সুরাটের একজন রোগীর ব্রেন ডেথ হওয়ায় তাঁর কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয় সন্দীপের শরীরে। তারপর থেকেই তিনি গুজরাটে ক্যাডাভার দান সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য সক্রিয়ভাবে জড়িত হন। বর্তমানে, সন্দীপ ডোনেট লাইফের ভাইস-প্রেসিডেন্ট, ডোনেট লাইফ সুরাটের একটি জনপ্রিয় এনজিও (NGO) যারা অঙ্গদান সচেতনতার জন্য কাজ করে।

২০১৭ সালে, ৪৮ বছর বয়সী বন্দনা চন্দ্র তাঁর একটি কিডনি তাঁর ভাইকে দান করেছিলেন। পরে নতুন দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে সফলভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়। এবার রাখীর আগেই ভাইকে উপহার হিসেবে জীবনদান করলেন বোন, পালটা উপহার দিলেন ভাইও। সফল প্রতিস্থাপনের পর সুস্থ হয়ে বাড়িতে বোনের কাছে ফিরছেন তিনি।

আফগানিস্তানের মহিলাদের রোবোটিক্স টিমকে উদ্ধার করল মার্কিন মহিলা

Afghan Girls Robotic Team

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আগ্রাসন দেশজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী। তালিবানদের কাবুল দখল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। আফগানিস্তানে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন অনেকে। এর মধ্যেই আফগানিস্তানের মহিলা রোবোটিক্স টিমকে উদ্ধার করল এক মার্কিন মহিলা। ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী দশজন ছাত্রীর রোবটিক টিমকে উদ্ধার করেন অ্যালিসন রেন্যু নামের এক মার্কিন মহিলা। ২০১৯ সালেও মহিলা রোবোটিক্স টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন রেন্যু। তাঁর সাহসিকতার জন্য মার্কিন মহলে তাঁকে ‘সুপারউম্যান’ বলে ডাকা হয়।

Afghan Girls Robotic Team

তালিবান এবং আফগানিস্তানের নারীশিক্ষা
তালিবানরা কোনও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেখানে শিক্ষার পরিবেশ কেমন হয়, তার একটি সরেজমিন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল দ্য ডিপ্লোম্যাট। ওই প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, ২০১৬ সালে কুন্দুজ প্রদেশের কিছু এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয় তালিবানেরা। এরপর সেসব এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খেলাধুলা, সমাজবিজ্ঞান ও ইংরেজি ছেঁটে ফেলে তারা। সেই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৯৯০–এর দশকে ক্ষমতায় আসার পর ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা কারিকুলাম বাতিল করে তালিবানেরা। সেই সময় মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল তারা। আর এখন যেসব এলাকা তালিবানদের নিয়ন্ত্রণে, সেখানে মেয়েদের এখনও স্কুলে যেতে দেওয়া হয় না। অর্থাৎ নারীশিক্ষার বিষয়ে তালিবানদের মনোভাবের পরিবর্তন হয়নি।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, অ্যালিসন রেন্যু কাতার চলে যান। সেখানকার মার্কিন দূতাবাসের এক বন্ধু তাকে সাহায্য করেছিল। দুজন মিলে আফগান রোবোটিক্স টিমকে উদ্ধার করেন। ১৯ আগস্ট, অ্যালিসন তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন যে আফগান মেয়েদের মধ্যে ১০ জনকে সরিয়ে আফগানিস্তানের বাইরে একটি নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

কে এই অ্যালিসন রেন্যু কে?
তাঁর ইনস্টাগ্রাম বায়ো অনুসারে, রেন্যু একজন হার্ভার্ড স্নাতক। তাছাড়াও তিনি একজন আন্তর্জাতিক বক্তা, পাইলট, জিমন্যাস্টিকস কোচ, রানার, অশ্বারোহী এবং হিউম্যান অ্যাক্টিভিস্ট।

আফগান সেনা পাহারা দিয়েছিল বিগ-বি’কেও, ব্যবস্থা করেছিলেন খোদ রাষ্ট্রপতি

তালিবানদের দখলে আফগানিস্তান, গোটা বিশ্বজুড়ে এক দমবন্ধকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আমেরিকার সামরিক কার্যালয় পেন্টাগনের তরফ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, তিনমাসের মধ্যেই কাবুল দখল করে ফেলবে তালিবানরা। কিন্তু দু’দিনের মধ্যেই কাবুলে ঢুকে রাজধানী শহর দখল করতে শুরু করে তালিবানরা।

আরও পড়ুন এবারে শীতে বড় পর্দায় আসতে চলেছে দেব-রুক্মিণীর ‘কিশমিশ’, প্রকাশ্যে ছবির অ্যানিমেটেড টিজার

তালিবানদের কাবুল দখল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক তারকাই এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশেষ করে আফগানিস্তানে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন অনেকে। আফগান মেয়েদের সুরক্ষা ও স্বাধীনতা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ প্রথম বিশ্বের ২০টি দেশ। দমবন্ধ করা এই পরিস্থিতিতে আফগানিস্তান থেকে ভাইরাল হওয়া একের পর এক মর্মান্তিক ছবি, ভিডিয়ো দেখে শিউরে উঠছে বিশ্ববাসী। এবার আফগানিস্তান নিয়েই অমিতাভ বচ্চনের করা একটি পুরোনো সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট।

ধর্মাত্মা থেকে কাবুল এক্সপ্রেস- বলিউডের বহু নামকরা সিনেমার শ্যুটিং হয়েছে আফগানিস্তানে। অমিতাভ বচ্চনের ‘খুদা গাওয়া’ সিনেমারও শ্যুটিং হয়েছিল আফগানিস্তানে, বলা ভালো অশান্ত আফগানিস্তানে। ১৯৯২ সালে যখন অমিতাভ-শ্রীদেবীর এই ছবির শ্যুটিং হয়, তখন সবে সোভিয়েতের হাত থেকে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে নাজিবুল্লাহ আহমেদজাইয়ের হাতে, অন্যদিকে উঠে আসছে তালিবানরাও।

নাজিবুল্লাহ ছিলেন বিগ বি-র বিরাট ভক্ত। জানা যায়, সে দেশে শ্যুটিং করার সময়ে অমিতাভর যাতে কোনও রকম অসুবিধে না হয়, তা নিশ্চিত করতে দেশের এয়ারফোর্সের অর্ধেক সেনা বিগ বি-র সুরক্ষায় মোতায়েন করেছিলেন তিনি।

Amitabh Bachchan's post on Khuda Gawah's shoot in Afghanistan.

অমিতাভ কয়েক বছর আগে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছিলেন, ‘মনোজ দেশাই ছিলেন সিনেমার প্রযোজক। বেশ কিছু দিনের জন্য শ্যুট করতে গোটা ইউনিটকে আফগানিস্তানে যেতে হয়েছিল। সোভিয়েত সবে দেশ ছেড়ে গেছে এবং ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে নাজিবুল্লাহ আহমেদজাইর হাতে। উনি হিন্দি ছবির ভক্ত ছিলেন। আমার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন।

মাজার-এ-শরিফে আমাদের সবাইকে রাষ্ট্রের তরফে ভিভিআইপি সম্মান দেওয়া হয়েছিল। ভীষণ সুন্দর সেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরিয়ে দেখানো হয়েছিল প্লেনে করে। সঙ্গী ছিলেন আর্মড এসকর্টরা। আমাদের হোটেলেও থাকতে দেওয়া হয়নি। একটি পরিবার তাঁদের বাড়ি আমাদের জন্যে ছেড়ে দিয়েছিলেন। তাঁরা নিজেরা অন্য জায়গায় থেকেছিলেন।’ প্রসঙ্গত, এই ছবির ‘বুজকাশি’ (ঘোড়ায় চড়ে এক খেলা)-র দৃশ্য শ্যুটিং করা হয়েছিল আফগানিস্তানের মাজার-এ-শরিফে, যা এখন তালিবানের কবলে।

সুস্মিতার পর পীযুষ, উত্তরপূর্বে ফের কংগ্রেসের বড় মাথা মমতামুখী

mamata banerjee

বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন বর্ষিয়ান নেতা পীযুষকান্তি বিশ্বাস। সম্ভবত তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন তিনি।পীযুষবাবুর পদত্যাগে উত্তরপূর্বাঞ্চলে কংগ্রেসের বড় ধাক্কা। তবে তিনি নীরব।

সম্প্রতি অসমের জবরদস্ত কংগ্রেসনেত্রী তথা জাতীয় মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী পদ থেকে সুস্মিতা দেব কলকাতায় এসে টিএমসিতে যোগ দেন। সুস্মিতা দেব অসমের কাছাড় জেলা তথা বরাক উপত্যকার তাবড় নেত্রী। শিলচর থেকে দুবার সাংসদ হন। তিনি প্রয়াত কেন্দ্রীয় ভারি শিল্পমন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা। গান্ধী পরিবারের বিশেষ ঘনিষ্ঠ সুস্মিতা এখন মমতা শিবিরে।৷

সুস্মিতাকে দলে টানার পর ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসে ভাঙন ধরাল টিএমসি বলেই মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মু়খ্যমন্ত্রী তিনবার পরপর সরকার গড়ার পর অপর বাংলাভাষী প্রধান রাজ্য ত্রিপুরায় নজর দিয়েছেন। টিএমসি সেই লক্ষ্যে আগামী ২০২৩ বিধানসভায় ভোটে ত্রিপুরায় ঝাঁপাচ্ছে।

টিএমসির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দল সিপিআইএম ও কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন দলের নেতা কর্মীদের টিএমসিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

আগেই বিজেপি ত্যাগ করে আসা সুবল ভৌমিক টিএমসিতে এসেছেন। এবার কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতির পদ ছাড়লেন পীযুষবাবু। তিনি সম্প্রতি টিএমসির ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক সংস্থার কর্মীদের আটক করার বিষয়ে আইনি তদারকি করেন। পীযুষবাবু রাজ্যের অন্যতম আইনজীবী।

গত বিধানসভা ভোটে ত্রিপুরায় টিএমসি ভেঙে বিজেপিতে যান ততকালীন বিরোধী কংগ্রেসের বিধায়করা। ভোটে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। টানা দু দশকের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এখন বিরোধী নেতা। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। সরকারে বিজেপি আইপিএফটি জোট।

তালিবান উৎখাতে আফগান নাগরিকদের ভরসা ‘রিয়েল হিরো’ আমরুল্লাহ সালেহ

নিউজ ডেস্ক: তালিবান ক্ষমতা লাভের সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তানের রাজনীতিতে নতুন মোড়৷ দেশের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ দেশের সংবিধানের উদ্ধৃতি দিয়ে নিজেকে আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন।

আরও পড়ুন নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ

২০ বছর ধরে ক্ষমতা থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তালিবানরা আবারও আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। কিন্তু, আফগানিস্তানে ক্ষমতা পরিবর্তনের এই সংকটের মধ্যে দেশের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ একটি বড় ঘোষণা করেছেন৷ সালেহ নিজেকে আফগানিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, আমি দেশের সব নেতাদের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য যোগাযোগ করছি।

Leaders in Afghanistan holdout look to revive alliance that helped U.S.  oust Taliban in 2001কে এই আমরুল্লাহ সালেহ ?

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনগোষ্ঠী তাজিকদের নেতা হলেন আমরুল্লাহ সালেহ। গত মঙ্গলবার তিনি টুইট করে হুঁশিয়ারি দেন, ঘানির অনুপস্থিতিতে তিনিই দেশের ‘কেয়ারটেকার প্রেসিডেন্ট’। ঘানির ডেপুটি হলেও শরীরে তাজিক রক্ত বইছে তাঁর। ফলে এত সহজে হাল ছাড়তে রাজি নন সালেহ। জনসমক্ষে জানিয়ে দিয়েছেন, ঘানির মতো তিনি পালিয়ে যাবেন না।

আমেরিকার অনেক আগেই পাকিস্তানে লাদেনের ডেরার হদিশ পেয়েছিলেন তিনি। একবার কিংবা দু’বার নয়, মৃত্যুকে হারিয়ে ফিরে এসেছেন বার বার। তাই বাকিরা যখন গা ঢাকা দিয়েছেন, বন্দুকের নলের সামনে এগিয়ে এসেছেন আমরুল্লাহ সালেহ। নিজেই নিজেকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, তালিবানের সামনে মাথা নোয়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। শৈশবেই অনাথ হয়ে যাওয়া থেকে দেশের অন্যতম সাহসী গুপ্তচর, পরবর্তী কালে দুঁদে রাজনীতিক, বছর ৪৮-এর আমরুল্লাহর জীবন হার মানায় রোমাঞ্চকর সিনেমাকেও।

১৯৭২ সালে পঞ্জসিরে তাজিক পরিবারে জন্ম আমরুল্লার। শৈশবেই মা-বাবাকে হারান। তার পর থেকে একমাত্র বোনকে নিয়ে শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই। সোভিয়েত শাসনের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সেই মুজাহিদিনে যোগ দেন। তৎকালীন মুজাহিদিন কম্যান্ডার আহমদ শাহ মাসুদের কাছে পাকিস্তানে অস্ত্র শিক্ষাও নেন। অল্প কয়েকদিনেই মাসুদের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন আমরুল্লাহ। আমরুল্লাহকে না পেয়ে ১৯৯৬ সালে তাঁর বোনকে নৃশংস অত্যাচারের পর খুন করে তালিবানরা।

পরবর্তী কালে একটি আন্তর্জাতিক পত্রিকায় আমরুল্লাহ লেখেন, ওই ঘটনার পর তালিবানদের প্রতি তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি একেবারেই পাল্টে যায়। প্রাণ চলে গেলেও কখনও তালিবানদের সঙ্গে এক ছাদের নীচে দাঁড়াবেন না তিনি। মুজাহিদিনে থাকাকালীন মাসুদ এবং ভারতের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তিনি। তালিবানদের রুখতে ভারত থেকে আফগানিস্তানে অস্ত্রশস্ত্র যেত তাঁর তদারকিতেই। মাসুদের তালিবান বিরোধী নর্দার্ন অ্যালায়্যান্সের সদস্যও ছিলেন আমরুল্লাহ। ২০০১ সালের মাসুদকে হত্যা করে তালিবানরা। তার দু’দিন পরেই আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে হামলা চালায় আল কায়দা।

আরও পড়ুন আত্মসমর্পণের প্রশ্ন উড়িয়ে আমেরিকার কাছে অস্ত্রসাহায্য চাইলেন নিহত তালিবান-বিরোধী নেতার ছেলে

ঠিক তার পরেই আফগানিস্তানে ন্যাটো পাঠায় আমেরিকা। আমরুল্লাহকে দেশের গুপ্তচর সংস্থা ন্যাশনাল ডিরেক্টরেট অব সিকিয়োরিটির প্রধান হিসেবে নিযুক্ত করেন তৎকালীন আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। ৯/১১ হামলাকারী আল কায়দা এবং তাদের প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিল তালিবানের বিরুদ্ধে। ফলে সেই সময় তালিবান-বিরোধী নেতা হিসেবে পরিচিত আমরুল্লাহকে লুফে নেয় আমেরিকা। তাঁর তদারকিতেই পাকিস্তান সীমান্তে ঢুকে বহু জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করেন আফগান গুপ্তচররা।

২০০৬ সালে তৎকালীন পাকিস্তান প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে আমরুল্লা দাবি করেন, পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ সংলগ্ন এলাকায় লুকিয়ে রয়েছেন ওসামা বিন লাদেন। ইসলামাবাদ তাঁকে আশ্রয় দেওয়ায় মাসুল গুনতে হচ্ছে আফগানিস্তানকে। আমরুল্লাহর এই দাবিতে তৎকালীন পাক প্রেসিডেন্ট পারভেজ মুসারফ রেগেমেগে বৈঠক বাতিল করে দেন। পাঁচ বছর পর, ২০১১ সালে সেও অ্যাবোটাবাদেই পাক সেনা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অদূরেই লাদেনের হদিশ মেলে। তার আগেই অবশ্য, ২০১০ সালে কারজাই সরকার থেকে বেরিয়ে যান আমরুল্লাহ। কারজাই তালিবানের প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। কারজাইয়ের সঙ্গ ছেড়ে বসেজ-ই-মিল্লি নামে আলাদা দলও গড়েন তিনি। ২০১৭ সালে নিজের দলের সদস্যদের নিয়ে আশরফ ঘানির সরকারে যোগ দেন। একবছর পর, ২০১৮ সালে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রী হন। ২০২০ সালে দেশের উপরাষ্ট্রপতি নিযুক্ত হন।

১৪ আগস্ট তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করায় দেশ ছাড়েন প্রেসিডেন্ট আশরফ ঘানি। শোনা গিয়েছিল, দেশ ছেড়েছেন আমরুল্লাহও। কিন্তু তিনি টুইট করে জানিয়ে দেন, আফগানিস্তানেই রয়েছেন। তালিবানদের সামনে মাথা নোয়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। শুধু তাই নয়, তালিবানের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের শক্তি সঞ্চয় করছেন। তাঁর ‘গুরু’ মাসুদের ছেলে আহমদ মাসুদ এবং গনি সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী বিসমিল্লা খান মহম্মদির সঙ্গে মিলে পঞ্জসিরে তালিবানের বিরুদ্ধে প্রত্যাঘাতে তিনিই নেতৃত্ব দেন।
এখনও পঞ্জশির দখল করতে পারেনি তালিবানরা। উলটে তাঁর মদতেই আহমেদ মাসুদ তালিবানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার জন্য আমেরিকার কাছে অস্ত্রসাহায্য চেয়েছেন বলেও মনে করছেন অনেকে।

কাশ্মীর: অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করেছেন ‘প্রতিবাদী’ প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক: জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী এবং বিজেপির সিনিয়র নেতা কাবিন্দর গুপ্ত। কবিন্দর জেলা উন্নয়ন পরিষদের (District Development Council) গত নভেম্বরের নির্বাচনে কাশ্মীরের বিতর্কিত রোশনি আইনের অধীনে রাষ্ট্রীয় জমি (এখন বাতিল) দখলকে ‘ভূমি জিহাদ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। এবার তাঁর বিরুদ্ধেই অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করার অভিযোগ উঠল। ২০১০ থেকে ২০১৭, মোট সাত বছর রাষ্ট্রীয় ভূমির অবৈধ দখলদার ছিলেন তিনি।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

ভালওয়াল তহসিলদারের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট শেখ শাকিলের দায়ের করা একটি আরটিআই আবেদন থেকে কাবিন্দরের অবৈধভাবে জমি দখল করার ঘটনা সামনে এসেছে। কাবিন্দর গুপ্ত সহ আরও দুজন, সুভাষ শর্মা এবং শিব রতন গুপ্ত, যৌথভাবে খসড়া নং ১৭৮৯ দখল করেছেন। জমিটির মোট আয়তন ২৩ ক্যানাল, ৯ মারলা (৮ ক্যানাল = ১ একর, ১ মারলা = ২৭০ বর্গফুট)। জম্মু জেলার ভালওয়াল তহসিলের ঘাঁক গ্রামে (Ghaink) ২০১০ সাল থেকে জমিটি দখল করেছেন তাঁরা।

Deputy CM Kavinder Gupta says Kathua minor incident as Jammu and Kashmir  cabinet inductees trigger row | Latest News India - Hindustan Times

সুভাষ শর্মা জম্মু পৌর কর্পোরেশনের জানিপুরের ইন্দ্র কলোনির প্রতিনিধি। শিব রতন গুপ্ত ইন্দ্র কলোনির বাসিন্দা। কাবিন্দর গুপ্ত এবং সুভাষ শর্মা দুজনেই ঘাঁক গ্রামে (Ghaink) সরকারি জমি দখল করার কথা অস্বীকার করেছেন। কাবিন্দর গুপ্ত বলেন,”আমি আমার বাবা-মায়ের নামে শপথ করে বলছি যে আমি কোনও অবৈধকাজ করিনি। আমি জানি না কিভাবে আমার নামে ঘাঁকে ২৩ ক্যানাল, ৯ মারলা জমি দখল হয়েছে।”

২০১০ সালে, যখন খসড়া গিরিদোয়ারি’তে (রাজস্ব বিভাগের নথি যাতে জমি এবং ফসলের বিবরণ থাকে) তাদের নামে জমি অ্যালোট করানো হয়, তখন জম্মু-কাশ্মীরে ন্যাশনাল কনফারেন্স-কংগ্রেস জোট সরকার ছিল। সেসময় কাবিন্দর গুপ্ত ছিলেন জম্মু পৌর কর্পোরেশনের মেয়র। অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এস কে ভাল্লার অ্যাডভোকেট শেখ শাকিলের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলায় জমির মালিকানা বাতিলের নির্দেশ দেয় আদালত। কাবিন্দর গুপ্ত তখন ছিলেন জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার স্পিকার।

আরও পড়ুন তালিবানদের নিয়ে কাশ্মীর দখলের হুমকি হিজবুল মুজাহিদিন প্রধানের

ভালওয়াল তহসিলদার অমিত উপাধ্যায় এবং ঝাঁক পাটোয়ারী মোহাম্মদ আসলাম জানান, ‘২০১০ সালে কাবিন্দর গুপ্ত এবং অন্য দুজনের নামে রাজ্য জমির রাজস্ব এন্ট্রি কীভাবে হয়েছে তা সম্পর্কে তারা বিশদে জানেন না। যদিও রাষ্ট্রীয় জমির ব্যাপারে খসড়া গিরিদোয়ারিতে কারো নামেই করা যাবে না যতক্ষণ না কেউ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে দেখায় যে জমি তাঁর দখলে রয়েছে। এবং সে বিষয়ে প্রমাণ দেখান।’

জম্মু-কাশ্মীর রাজ্য জমি (মালিকদের মালিকানা যাচাই) আইনটি ২০০১ সালে ফারুক আবদুল্লাহর নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল কনফারেন্স সরকার এনেছিল। যদিও ২০২০ সালের নভেম্বরে এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেছিলেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাহ রোশনি আইনের সুবিধাভোগীদের মধ্যে ছিলেন। এবার সেই তালিকাতেই নতুন সংযোজন বিজেপি নেতা কাবিন্দর গুপ্ত।

দেশ অশান্ত: নিউ ইয়র্কে ক্লিনটনের পাড়ায় বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন ঘানি-কন্যা মরিয়ম

Mariam Ghani daughter of exiled Afghan president Ashraf Ghani

বিশেষ প্রতিবেদন: কথায় আছে- রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয় আর উলু খাগড়ার প্রাণ যায়৷ আর তার হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন আফগানিস্তানের আম-আদমি৷ ১৫ অগস্ট দেশে তালিবানদের দখলদারির পর দেশবাসী জীবন-মরণের লড়াই লড়ছেন৷ অন্যদিকে, যুদ্ধের ময়দান থেকে পালিয়ে যাওয়া আফগান প্রেসিডেন্ট আশরফ গনির কন্যা বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন মার্কিন মুলুকে বসে৷

তালিবানদের দখলে চলে যাওয়ার পর আফগানিস্তানের মানুষের জীবন মাঝখানে আটকে গিয়েছে। প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি তার লোকদের তালিবানদের হাতে তুলে দিয়ে দেশ ত্যাগ করেছেন। ঠিক এই সময় তার মেয়ে মরিয়ম ঘানি নিউ ইয়র্কে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছেন।

‘দ্য নিউইয়র্ক পোস্টে’র রিপোর্ট অনুযায়ী, ৪২ বছর বয়সী ঘানি-কন্যা মরিয়ম ব্রুকলিনের ক্লিনটন হিলের পাড়ায় থাকেন। তাঁর আমেরিকায় জন্ম এবং পড়াশুনা৷ মরিয়ম পেশায় একজন শিল্পী এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা। মরিয়ম আফগানিস্তানের মহিলাদের থেকে একেবারেই আলাদা জীবনযাপন করে। ২০১৫ সালে নিউইয়র্ক টাইমস মরিয়মের সাক্ষাৎকার নিয়েছিল। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত মেরির বাড়ির তাক বইয়ে ভরা। তাঁর বাড়িতে সিরিয়ার আলেপ্পো থেকে বালিশ এবং তাঁর বাবার দেওয়া তুর্কমেনিস্তান থেকে গালিচায় মোড়া নিউ ইয়র্কের বিলাসবহুল আবাস৷

Mariam Ghani daughter of exiled Afghan president Ashraf Ghani

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মরিয়ম তার ফ্রিজ থেকে শুরু করে সমস্ত সামগ্রী ম্যাগনেটিক মোটিভেনসাল কোটস দিয়ে সাজিয়েছেন৷ তাঁর রান্নাঘর সবুজ টমেটোতে ভরা ছিল। সেই সময়ে দেওয়া তাঁর সাক্ষাৎকারে, মরিয়ম তার জীবনধারা সম্পর্কে কথা বলার সময় নিজেকে ‘ব্রুকলিন ক্লিশ’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

বর্তমানে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি নন মরিয়ম। তিনি আমেরিকার মানুষকে আফগানদের অধিকারের জন্য রুখে দাঁড়ানোর জন্য সচেতন করছেন। এই জন্য তিনি একটি বিশেষ প্রচারণাও চালাচ্ছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে মরিয়ম জানতে চেয়েছেন, ‘আফগানদের সাহায্য করার জন্য আমরা এখন কী করতে পারি?’

Mariam Ghani daughter of exiled Afghan president Ashraf Ghani

মরিয়ম বলেছেন, তিনি তার পরিবার, বন্ধু এবং আফগানিস্তানে বসবাসকারী সহকর্মীদের নিয়ে চিন্তিত। মরিয়ম আফগানদের জন্য বিশেষ অভিবাসন ভিসা ত্বরান্বিত করার প্রচেষ্টায়ও কাজ করছেন। আরেকটি পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘গত কয়েক দিনে যারা সংযমী দেখিয়েছে, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছ থেকে যা সম্ভব, আমি অবশ্যই তা করব।

ব্রুকলিনে জন্ম নেওয়া ঘানি-কন্যা মেরিল্যান্ডে বেড়ে ওঠেন এবং তার কর্মজীবন শিল্প ও শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত। মরিয়ম নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যানহাটনের স্কুল অফ ভিজ্যুয়াল আর্টসে পড়াশোনা করেছেন। তাঁর কাজ লন্ডনের টেট মডার্ন এবং নিউইয়র্কের গুগেনহাইম এবং এমওএমএ -এ বিশ্বের অনেক জাদুঘরে প্রদর্শিত হয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি ভারমন্টের বেনিংটন কলেজে অনুষদ সদস্য হন। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রবাসে বেড়ে ওঠা মরিয়ম ২০০২ সালে প্রথমবার আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন৷ যখন তার বয়স ছিল ২৪ বছর। তবে, তাঁর শিল্প আফগানিস্তানে অত্যন্ত প্রশংসিত হয়েছে।

সম্প্রতি নিউইয়র্ক পোস্টের সাংবাদিকরা তার ব্রুকলিন বাড়িতে মরিয়মের সঙ্গে দেখা করেন৷ সাংবাদিকরা আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সম্পর্কে তার মন্তব্য চান। তবে তিনি কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হননি। তিনি তার বাবা সম্পর্কে কোনও তথ্য দিতেও অস্বীকার করেন৷ ২০১৫ সালের একটি সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর বাবাকে ‘অসাধারণ ব্যক্তিত্ব’ সম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

মরিয়ম বলেন, তিনি বিভিন্ন সংস্কৃতির মাঝে বড় হয়েছেন এবং তাঁর শিল্পের মাধ্যমে তা দেখানোর চেষ্টা করেন। ২০১৫ সালে নিউইয়র্ক টাইমস মরিয়মকে একজন নারীবাদী এবং কর্মী হিসাবে উল্লেখ করেছিল। সেই সময় মরিয়ম বলেছিলেন, আমি একজন শিল্পী হতে চেয়েছিলাম৷ কারণ আমি অনুভব করেছি যে, একজন শিল্পী হয়ে আমি আরও অনেক কিছু করতে পারি।

খবরে প্রকাশ, তালিবানদের আগমনের পর মরিয়মের বাবা এবং আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি কোটি কোটি টাকা এবং চারটি গাড়ি নিয়ে দুবাই পালিয়ে গিয়েছেন। যদিও একটি ভিডিওর মাধ্যমে ঘানি এই সব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁকে “মানবিক কারণে” দুবাইয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। গণি বলেন, দেশকে রক্তপাত থেকে বাঁচাতে তিনি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: একুশবার বেঁচেছেন হাসিনা, পাক মদতে হুজি-বি ষড়যন্ত্র ছিল ভয়াবহ

Sheikh Hasina

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: একুশবার হামলা হয়ে গিয়েছ। একুশবার বেঁচেছেন। তবে ১৭ বছর আগের ২১ আগস্ট ছিল রীতিমতো মরণফাঁদ। গ্রেনেডের পর গ্রেনেড ছুঁড়েছিল জঙ্গিরা। বাংলাদেশের ততকালীন বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনাকে বাঁচাতে নজিরবিহিন মানব বর্মের ঢাল দেখেছিল দুনিয়া। হাসিনা এখন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে খুন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনির বিদ্রোহী অফিসাররা। ১৯৭৫ সালের সেই হামলায় বিদেশে থাকায় বেঁচে যান মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা।

২০০৪ সালের২১ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কলঙ্কময় দিন। ২০০৪ সালের এই দিনে ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ সমাবেশ ছিল। সেই সমাবেশ ঘিরে টানটান উত্তেজনা। সরকারে তখন বিএনপি জামাত ইসলামি জোট। প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।

Sheikh Hasina 2004 Dhaka grenade attack

সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা ভাষণ দিয়ে সবেমাত্র নামছিলেন। সেই সময় ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। একের পর এক গ্রেনেড ছুঁড়তে থাকে হামলাকারীরা। মুহূর্তে মৃতদেহের স্তূপে পরিনত হয় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর সেই মঞ্চ সংলগ্ন এলাকা।

হামলায় অল্পের জন্যে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে সেদিনের সেই গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা ও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নিহত এবং কয়েকশ জন আহত হন।

প্রায় দেড় দশক আগে ২০০৪ সালের এই দিনে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তি সমাবেশে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়, যা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা নামে পরিচিত।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় বাংলাদেশের ততকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিএনপির নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু সহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তথা খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান, দলটির নেতা হারিছ চৌধুরী, প্রাক্তন সংসদ সদস্য শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়ে ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর রায় দে আদালত। এই রায়ের বিষয়ে হাইকোর্টে আপিল মামলা শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। 

হামলার সময় ক্ষমতায় ছিল বিএনপি জামাত ইসলামি জোট। তদন্তে উঠে এসেছে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই মদতে হুজি-বি জঙ্গি সংগঠন এই হামলা চালিয়েছিল।

তালিবানদের নিয়ে কাশ্মীর দখলের হুমকি হিজবুল মুজাহিদিন প্রধানের

hizbul mujahideens chief syed salahuddin

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। এবার সেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল ভারতেও। সৌজন্যে জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন। তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করার পরেই ভারতকে হুমকি দিয়ে একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন এই জঙ্গিনেতা। জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। এরা মূলত জম্মু ও কাশ্মীরকে পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের পক্ষে।

অডিও বার্তায় তিনি তালেবান জঙ্গিদের জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর জন্য সাহায্যের অনুরোধ জানান। অনলাইনে পোস্ট করা ওই বিবৃতিতে হিজবুল মুজাহিদিন প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যে তিনি আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতকে শক্তিশালী করুন যাতে তারা ভারতের বিরুদ্ধে কাশ্মীরিদের সমর্থন করতে পারে।”

hizbul mujahideens chief syed salahuddin

এদিকে, তালিবানিদের শান্তির আশ্বাস সত্ত্বেও, আফগান এবং বিদেশীরা কাবুল থেকে পালিয়ে চলেছে। মার্কিন জেনারেল বলেছেন, আগস্ট থেকে তালিবানি শাসন শুরুর পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭০০০ জনকে অন্য দেশে সরিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ভারতীয় সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি। মৃত্যুর পর তাঁর দেহকে পাকিস্তানি পতাকায় মুড়ে ঘোরানো হয় উপত্যকায়। সেই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন কাশ্মীরের প্রচুর মানুষ, যারা প্রত্যেকেই সমর্থন করেন সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনকে। সেই বুরহান ওয়ানির বাবা মোজাফফর ওয়ানি সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতীয় তেরঙ্গা উত্তোলন করেছেন।

হিজবুল মুজাহিদিনের ‘পোস্টার বয়’ ছিলেন বুরহান ওয়াদি। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিয়মিত কাশ্মীরি যুবকদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য অস্ত্রের ছবি পোস্ট করতেন এই কমান্ডার। ২০১০ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে হিজবুল মুজাহিদিনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর প্রায় ছ’মাস ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল কাশ্মীরজুড়ে।

গতকালও সেনার গুলিতে নিহত হয় দুই হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার পম্পোরে এনকাউন্টার শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমান অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম। ঠিক তার পরেই মুজাহিদিন কমান্ডারের এই ভিডিও বার্তা চিন্তা বাড়িয়েছে সরকারের।