OnePlus 9 পাওয়া যাচ্ছে দারুণ ছাড়ে! 21 হাজারেই মিলবে সাধের মোবাইল

OnePlus 9

টেক ডেস্ক: আইফোন এবং স্যামসাংয়ের মতো কোম্পানির ফোনের ফ্যান ফলোয়িং বেশ ভালো। একইভাবে ওয়ানপ্লাসের ফোনগুলিও বেশ পছন্দ অনেকের৷ ওয়ানপ্লাসও সময়ে সময়ে নতুন ফোন লঞ্চ করলে, তা আলোচনায় উঠে আসে৷ ওয়ানপ্লাস চলতি বছরের এপ্রিল মাসে OnePlus 9 বাজারে এনেছিল। এই দুর্দান্ত ফোনটি এখনও অনেক আলোচনায় রয়ে গিয়েছে। ফোনটিতে একটি দুর্দান্ত ক্যামেরা, শক্তিশালী ব্যাটারি এবং দুর্দান্ত প্রসেসর রয়েছে। দামের কথা বললে, এখন আপনি খুব সুলভ মূল্যে এই ফোনটি কিনতে পারবেন। আপনি এই ফোনটি 21 হাজার টাকায় কিনতে পারেন। আসুন জেনে নিই কিভাবে …

OnePlus 9 এ অফার এবং ছাড়
OnePlus 9 এর 8GB RAM এবং 128GB স্টোরেজ ভেরিয়েন্টের দাম 49,999 টাকা। এই ফোনটি আমাজনে অফারের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ আপনি এই ফোনটি সস্তায় কিনতে পারবেন। আপনি যদি HDFC ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করেন, তাহলে আপনি 3,000 টাকা তাত্ক্ষণিক ছাড় পাবেন। অর্থাৎ 49,999 টাকার একটি ফোনের দাম 46,999 টাকা।

OnePlus 9

এ ছাড়া এক্সচেঞ্জ অফারও পাওয়া যায়। আপনি যদি পুরানো ফোনটি এক্সচেঞ্জ করেন, তাহলে আপনি 18,150 টাকা ছাড় পেতে পারেন। যদি আপনার পুরোনো ফোনের অবস্থা ভালো হয় তাহলে আপনি আরও ভালো এক্সচেঞ্জ অফার পেতে পারেন। এইভাবে, আপনি প্রায় 21 হাজার টাকায় OnePlus 9 কিনতে পারেন।

OnePlus 9 এর স্পেসিফিকেশন
OnePlus 9 এ আপনি 6.55-ইঞ্চি HD + AMOLED ডিসপ্লে পাবেন। 120Hz রিফ্রেশ রেট ফোনগুলিতে পাওয়া যায়। ডিসপ্লে সুরক্ষার জন্য গরিলা গ্লাসও দেওয়া হচ্ছে। OnePlus 9 এ আপনাকে একটি বিশেষ স্ন্যাপড্রাগন 888 চিপসেট দেওয়া হচ্ছে। OnePlus 9 সর্বোচ্চ 12 এবং 256GB স্টোরেজ দেওয়া হচ্ছে।

OnePlus 9 ক্যামেরা
OnePlus 9 এর প্রাথমিক ক্যামেরা 48MP। এতে সোনি IMX689 এর সেন্সর রয়েছে। এছাড়াও ক্যামেরা 8K এবং 4K ভিডিও রেকর্ডিং সমর্থন করে। ক্যামেরায় আপনাকে একটি 50MP আল্ট্রা-ওয়াইড এঙ্গেল সেন্সর দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ফোনে একটি 16MP সেলফি ক্যামেরাও দেওয়া হয়েছে।

মাথা কাটার তালিবানি ফরমান জারির শঙ্কায় আফগানিরা

Kabul violation against women

নিউজ ডেস্ক: কাবুল দখল নেওয়ার দশ দিনের মাথায় ঘোষিত অবস্থানের উল্টো পথেই হাঁটছে তালিবান। আফগান মহিলাদের ঘরেই থাকতে হবে। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও গত ১৫ আগস্ট কাবুলে বিখ্যাত সাাংবাদিক সম্মেলনে পরিশীলিত ভাবমূর্তির যে ছবি তুলে ধরার কথা বলেছিল তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ, তাতে মহিলাদের কর্মস্থলে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়।

প্রথমে ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে পড়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা, এখন মহিলাদের কর্মস্থলে না যাওয়ার ফরমান-এরপর কী মাথা কাটার ফতোয়া? আফগানিস্তানের মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিস্তর। কারণ এর আগে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবান সরকারের ভয়ঙ্কর রূপ দেখেছেন আফগানবাসী।

Kabul violation against women

বিবিসি জানাচ্ছে, তালিবান মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেছেন, আফগানিস্তানে কর্মরত নারীদের তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকতে হবে। মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, এটি খুবই স্বল্প সময়ের জন্য একটি প্রক্রিয়া। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই নির্দেশের পরেই আসতে চলেছে কড়া শরিয়া আইনের অন্তর্গত মাথা কাটার ফরমান।

তালিবান স্পষ্ট জানিয়েছে আফগানিস্তানে শরিয়া আইন জারি চলবে। কড়া ধর্মীয় এই নিয়মকানুনে মহিলাদের জন্য ভয়ঙ্কর সব নিদান রয়েছে। এর একটু ভুল হলেই প্রকাশ্যে নিদারুণ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পেতে হয়। আর সময বিশেষে সেই শাস্তি হয় মাথা কেটে নেওয়া।

২০০১ সালের আগে তালিবান যখন আফগানিস্তান শাসন করত, তখন তারা কঠোর শরিয়া আইন জারি করেছিল। বিবিসি জানাচ্ছেন আফগানবাসীরা মেনেই নিতে পারছেন না আফগানিস্তানের পূর্ণ ক্ষমতা নেওয়ার পরেই তালিবান যে নরম মনোভাবের ছবি তুলে ধরার কথা বলছে তা কতটা পূরণ হবে।

জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছে, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকেরই প্রশিক্ষণ নেই যে কীভাবে নারীদের সাথে আচরণ করতে হয় বা তাদের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয়। পূর্ণ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা নারীদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিচ্ছি।

তবে বিভিন্ন রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশলেটের আশঙ্কা, তিনি খবর পেয়েছেন তালিবানরা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া শুরু করেছে।

আগামী ৩১ আগস্ট লাল তারিখ। তার মধ্যেই সম্পূর্ণ মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ত্যাগ করবে। যদিও এই সেনা এখন কাবুল বিমান বন্দরে অবস্থান করছে। তারাই কাবুল থেকে উদ্ধারকারী বিমানগুলির তদারকিতে। আর কাবুল বিমান বন্দরের বাইরের ফটকে তালিবান পাহারা।

ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং জার্মানির তরফে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান ত্যাগের জন্য বেঁধে দেয়া ৩১শে আগস্টের সময়সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। তবে তালিবান কোনওভাবেই এই আবেদন মানবে না বলে জানায়।

বিবিসি জানাচ্ছে, মার্কিন সেনারা কাবুল বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ করছে। যেখান থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৮ হাজার ৭০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তালিবানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে হুশিয়ারি দিলেন ‘লায়ন অফ পঞ্জশির’

Lion of Panjshir Ahmed Masood

নিউজ ডেস্ক: যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত! তালিবানের সঙ্গে আলোচনা ব্যর্থ হলে প্রতিরোধ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত নর্দান অ্যালায়েন্স৷ মঙ্গলবার একথা স্পষ্ট করে দিলেন ‘লায়ন অফ পঞ্জশির’ আহমদ মাসুদ৷ আফগানিস্তানের জাতীয় বীর আহমদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমদ মাসুদ বলেছেন, পঞ্জশির এলাকা তালিবানের কাছে কোনভাবেই আত্মসমর্পণ করবে না৷

তালিবান পঞ্জশির অঞ্চল ঘিরে ফেলার দাবি করার পর এই মন্তব্য করে আহমদ মাসুদ। তিনি ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট অব আফগানিস্তান বা এনআরএফ’র প্রতিষ্ঠাতা প্রধান। তালিবান দাবি করেছে, তারা পঞ্জশির এলাকাটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। তালিবানের এই দাবিকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়েছেন আহমদ মাসুদ৷

প্রতিরোধ সংগ্রামের ক্ষেত্রে পঞ্জশিরের বীরত্বপূর্ণ ঐতিহ্য রয়েছে। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত চলা সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে এবং ১৯৯০–এর দশকে তালিবানের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য বিখ্যাত পাঞ্জশির এলাকা। তালিবান রাজধানী কাবুলের দখল নিলেও এখনও পাঞ্জশিরের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি। এর আগেও আফগানিস্তানজুড়ে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হলেও, পঞ্জশির দখলে নিতে ব্যর্থ হয়েছিল তালিবান।

এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করছে আহমদ মাসুদের এনআরএফ। আহমদ মাসুদের বাবা আফগানিস্তানে জাতীয় বীর হিসেবে স্বীকৃত। ১৯৯০–এর দশকে তালিবানের প্রতিরোধে আফগানিস্তানের সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব দেন তিনি। তালিবানদের ক্ষমতা দখলের পর তিনি বিরোধী পক্ষের প্রধান কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে তাঁকে হত্যা করা হয়। এখন তারই ছেলে আহমদ মাসুদ তালিবান বিরোধী প্রতিরোধ বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছেন

প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনার সুবিধা নিলে আপনার কারাবাসও হতে পারে

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকার দেশে অনেক নতুন স্কিম চালু করেছে৷ করোনাভাইরাস সংকটকালে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিনিয়ত মানুষকে আর্থিক অনটন থেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে। অনেক সময় যারা এগুলির অধিকারী নয়, তারাও এই প্রকল্পগুলির (পিএম কিষাণ সম্মান যোজনা) সুবিধা নেওয়া শুরু করে। কিন্তু, মোদী সরকার এবার এই ধরনের ভুয়ো সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছে। আপনিও যদি এই ভুল করে থাকেন, তাহলে এই পুরো প্রতিবেদনটি পড়ুন।

টাকা সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে যায়
পিএম কিষাণ সম্মান যোজনার আওতায় একজন প্রান্তিক কৃষককে একটি সম্মান নিধি থেকে বছরে ছয় হাজার টাকা দেওয়া হয়। এই অর্থ সরাসরি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে যায়। প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রী কৃষি আশির্বাদ যোজনার সুবিধা (সিএম কৃষি আশির্বাদ যোজনা ঝাড়খণ্ড) ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম জেলায় পূর্ববর্তী রঘুভার সরকার শুরু করেছিল। এর অধীনে প্রায় ৯০ হাজার সুবিধাভোগী নথিভুক্ত হয়েছিল। আর এখানেই ধরা পড়েছে বড়সড় একটা অনিয়ম৷

পিএম কিষাণ যোজনায় বিশেষ বিধান
পিএম কিষাণ যোজনার আওতায় কেন্দ্রীয় সরকার কৃষকদের অ্যাকাউন্টে অষ্টম কিস্তির টাকা পাঠিয়েছিল। দেশের প্রায় ৯.৫ কোটি কৃষকের প্রতিবার দুই হাজার করে সবার অ্যাকাউন্টে প্রায় ২০ কোটি টাকা পাঠানো হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে, পিএম কিষাণ যোজনায় একটি বিধান করা হয়েছে যে, একজন কৃষক যদি প্রথমবারের মতো এই প্রকল্পে নিজেকে নিবন্ধন করেন, তাহলে তিনি একই সঙ্গে দুটি কিস্তির পরিমাণ পান। মুখ্যমন্ত্রী কিষাণ সমৃদ্ধি যোজনা ২০১৯ পর্যন্ত ঝাড়খণ্ডেও বাস্তবায়িত হয়েছিল, যাতে পূর্ব সিংভূম জেলার প্রায় এক লক্ষ কৃষক এই তালিকায় ছিলেন।

সরকার তদন্ত করছে
এখন সরকার কিষাণ যোজনার আওতায় কেলেঙ্কারির ব্যাপারে কঠোর নজর রাখছে। সরকার এখন এমন লোকদের কঠোরভাবে তদন্ত করছে, যারা যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও পিএম কিষাণ যোজনার সুবিধা নিচ্ছে। কিন্তু তারা ভুলে গিয়েছে যে তাদের নাম আধারের সঙ্গে সংযুক্ত এবং আধারও প্যানের সঙ্গে যুক্ত। এভাবে সরকারের পক্ষে তাদের আয় বের করা সহজ হয়। ঝাড়খণ্ডের পূর্ব সিংভূম বাদে অনেক জেলায় এমন লোকদের চিহ্নিত করা হয়েছে ,যারা অযোগ্য হয়েও প্রধানমন্ত্রী কিষানের সুবিধা নিয়েছেন। এখন তাদের সকলের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করা হচ্ছে।

হাসপাতালে রোগী-রাতজাগা আত্মীয়দের পেট ভরাচ্ছেন ‘হসপিটাল ম্যান’ পার্থ

অনুভব খাসনবীশ: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা নগরলক্ষ্মী কবিতায় ‘বুদ্ধ’ জিজ্ঞেস করেছিলেন ‘ক্ষুধিতের অন্নদান-সেবার ভার কে নেবে?’ যা শুনে রত্নাকর শেঠ, ধর্মপালেরা পিছিয়ে গেলেও এগিয়ে এসেছিল এক ভিক্ষুণী, দায়িত্ব নিয়েছিল ‘খাদ্যহারা’দের খাদ্য বিলোবার। ভিক্ষুণীর বলা সেই,

‘কাঁদে যারা খাদ্যহারা       আমার সন্তান তারা;
নগরীরে অন্ন বিলাবার
আমি আজি লইলাম ভার।’

– কথাগুলিরই যেন বাস্তবায়ন করে চলেছেন পার্থ কর চৌধুরী, কলকাতার ‘হসপিটাল ম্যান’।

চার বছরেরও বেশি সময় ধরে খাদ্যহীনদের মুখে বিনামূল্যে খাবার তুলে দিচ্ছেন পেশায় পুলকার চালক পার্থ কর চৌধুরী। কলকাতা শহরের শেঠ শুখলাল কারনানী মেমোরিয়াল হাসপাতাল অর্থাৎ পিজি হাসপাতাল, শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতাল এবং চিত্তরঞ্জন ক্যানসার হাসপাতাল, তিন সরকারী হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষারত রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়দের খাবার দেন তিনি। তাঁদের জন্যই দু’বেলা খাবার নিয়ে হাসপাতালের গেটে পৌঁছে যান পার্থ। ভালোবেসে তিলোত্তমা তাঁকে ডাকে ‘হসপিটাল ম্যান’ বলে।

আরও পড়ুন ভারতীয় বায়ুসেনার জনকের নামেই রয়েছে জনপ্রিয় ফুটবল কাপ

৫১ বছরের পার্থর বাড়িতে রয়েছেন বৃদ্ধ মা, বাবা, স্ত্রী ও এক মেয়ে। নিজে অসুস্থ হয়ে ভরতি হয়েছিলেন শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে। চিকিৎসারত অবস্থাতেই দেখেছিলেন কলকাতার সরকারী হাসপাতালে রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়দের দুরবস্থা। বেড না পেয়ে হাসপাতালের বাইরেই পড়ে থাকে অনেক রোগী, বিনিদ্র রাত্রিযাপন করেন তাঁদের আত্মীয়রা। দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীদের পরিজনেরা শুধু টাকার অভাবেই নয়, অব্যবস্থাতেও খাবার জোটেনা অনেকের। তা দেখার পরেই তাঁদের খাওয়ানোর সঙ্কল্প নেন তিনি। টানা চার বছর ধরে তাঁর একক প্রয়াসেই চলছে সেই সঙ্কল্পের বাস্তবায়ন। সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “জলপাইগুড়ির অ্যাম্বুলেন্স দাদা করিমূল হক, বীরভূমের ডাক্তার সুশোভন ব্যানার্জি (এক’টাকার ডাক্তার), আউশগ্রামের সুজিত চট্টোপাধ্যায় (দু’টাকার মাস্টারমশাই) আমাদের পথপ্রদর্শক।”

May be an image of one or more people and people standing

প্রথমদিকে শহরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট থেকে অতিরিক্ত খাবার সংগ্রহ করে পৌঁছে যেতেন হাসপাতালের গেটে। করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর রেস্টুরেন্টগুলি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাধা এসেছিল তাঁর কাজে। যদিও তাতে না থেমে নেমেছেন নতুন উদ্যমে। করোনার সময় শুধু হাসপাতালে রোগী-পরিজনদেরই খাবার দেননি, দায়িত্ব নিয়েছেন বহু পরিবারের কাছে মাসের রেশন পৌঁছে দেওয়ারও। স্থানীয় বহু পরিবারের কাছেই অতিমারীর সময়ে কার্যত ‘মসিহা’র মতোই পাশে দাঁড়িয়েছেন কালীঘাটের এই ‘যুবক’।

May be an image of one or more people and people standing

প্রথমে খাবার নিয়ে যেতেন নিজের পুলকার করেই, কয়েক মাস আগে এক শুভাকাঙ্ক্ষী একটি টোটো গিফট করেছেন। বর্তমানে সেটি করেই পৌঁছে যান তাঁর অপেক্ষায় বসে থাকা লোকেদের কাছে। খাবার দেওয়া ছাড়াও নিয়মিত করেন একটি স্বাস্থ পরীক্ষা শিবিরও। বিনামূল্যে স্বাস্থ পরীক্ষা, ওষুধ দেওয়া হয় সেখানে। করোনার সময় লোকের পাশে দাঁড়ানোর জন্য নিজের খরচায় কিনে ফেলেছেন অক্সিজেন সিলিন্ডার, কনসেনট্রেটারও। নিজেই সিলিন্ডার নিয়ে পৌঁছে যাচ্ছেন রোগীর বাড়িতে। আর্তের সেবায় প্রায় অর্ধেক দশক কাটিয়ে ফেললেও এখনও তাঁর ভাগ্যে জোটেনি কোনও সরকারি সাহায্য বা পুরস্কার। পার্থর কথায়, ‘বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম আমাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমার কথা লোকের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। এটাই অনেক। এছাড়া কয়েকজন কিছু সাহায্যও করছে। তাছাড়া কিছুর আশা আমি আর করি না।’

পেট্রল-ডিজেল বাই বাই: টাটার এই গাড়ি একবারের চার্জে চলবে ৩৫০ কিমি

electric car tata tigor ev

নিউজ ডেস্ক: ভারতসহ সারা বিশ্বে ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা খুব দ্রুত হারে বাড়ছে। এখন মানুষ পেট্রল এবং ডিজেলের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ি চালাতে পছন্দ করছে। কিন্তু, ইলেকট্রিক গাড়ির দাম এখনও গ্রাহকদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। সেই কথা মাথায় রেখে ভারতীয় অটোমোবাইল কোম্পানি টাটা মোটরস সস্তা দামের ইলেকট্রিক গাড়ি চালু করার কথা ঘোষণা করেছে৷

electric car tata tigor ev

টাটা মোটরসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বলা হয়েছে, ৩১ অগস্ট ইলেকট্রিক গাড়ি টাটা টিগোর ভারতে লঞ্চ করবে৷ আত্মপ্রকাশে আগেই এই গাড়ি নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচণ্ড উৎসাহ রয়েছে। কারণ এটি টাটার অন্যতম বিক্রিত গাড়ি। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুসারে, এই গাড়িটি ডিলারদের কাছে পৌঁছতে শুরু করেছে৷ একই সঙ্গে গাড়ির কিছু বৈশিষ্ট্য বিবরণও প্রকাশ করা হয়েছে৷ তাতে বলা হয়েছে, নতুন টাটা টিগোর ইভি একবারের চার্জে ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারবে।

আরও পড়ুন : ভারতের গাড়িবাজারে শিগগির আসছে নতুন চেহারার Maruti Baleno

সম্প্রতি টাটা মোটরস নতুন টিগোর একটি টিজার ভিডিও বাজারে ছেড়েছে৷ তাতে গাড়ির মডেল এবং বৈশিষ্ট্যগুলি প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিও অনুসারে, জিপট্রন ইভি প্রযুক্তি টাটা টিগোর ইভিতে সর্বাধিক বিক্রিত বৈদ্যুতিক এসইউভি টাটা নেক্সন ইভির মতো ব্যবহার করা হয়েছে। জিপট্রন চালিত বৈদ্যুতিক যান সম্পর্কে টাটা মোটরস দাবি করেছে, এর ব্যাটারির ক্ষমতা ২৫০ কিলোমিটার। এখন নতুন পাওয়ারট্রেনে ব্যাটারির ক্ষমতা আরও ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। টাটা টিগোর ইভি ১০-১২ লক্ষ টাকার মধ্যে দেওয়া যেতে পারে।

https://twitter.com/Tatamotorsev/status/1425329396995354626?s=20

টাটার এই বৈদ্যুতিক গাড়িতে ৫৫kW বৈদ্যুতিক মোটর এবং ২৬kWh লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্যাক থাকবে৷ যা ৭৪bhp (৫৫kW) এবং ১৭০Nm পর্যন্ত টর্ক উৎপন্ন করতে সক্ষম হবে। দাবি করা হচ্ছে , মাত্র ৫.৯ সেকেন্ডে এটি ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলতে সক্ষম হবে। টাটা মোটরস 8 বছরের ব্যাটারি লাইফ এবং এই গাড়িতে ১,৬০,০০০ কিমি পর্যন্ত গ্যারান্টি দেবে। দ্রুত চার্জিং পয়েন্টে এর ব্যাটারি মাত্র এক ঘন্টার মধ্যে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ করা যায়। বাড়িতে চার্জ করতে ৮.৫ ঘন্টা সময় লাগবে। ইতিমধ্যে টাটা মোটরসের নেক্সন ইভি বর্তমানে ভারতে প্রচুর বিক্রি হচ্ছে এবং এটি একবারের চার্জে ৩১২ কিলোমিটার চালাতে পারেন।

টাটা মোটরসের মাস্টারস্ট্রোক
টাটা মোটরসের এই দাবি মাস্টারস্ট্রোকের চেয়ে কম নয়। এর ফলে শুধু টাটার গাড়ি বিক্রিই বাড়বে না, অন্য গাড়ি প্রস্তুতকারীরাও তাদের বৈদ্যুতিক গাড়ির দাম কমাতে বাধ্য হবে। কিছু মিডিয়া রিপোর্টের মাধ্যমে খবরও আসতে শুরু করেছে, টাটার ইলেকট্রিক গাড়ি চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অনেক কোম্পানি সস্তায় নতুন ইলেকট্রিক গাড়ি চালু করার পরিকল্পনা করছে। সামগ্রিকভাবে গ্রাহকরা উপকৃত হবেন।

তালিবান-সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স আঁতাত, সরগরম বিশ্ব রাজনীতি

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবানরা। তাজিকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট ঘানি। তারপরেই বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনর পদত্যাগ দাবি করলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কার্যত দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অথচ ডোনাল্ড ট্রাম্প রাষ্ট্রপতি থাকাকালীনই দোহায় শান্তিচুক্তির নামে একপ্রকার ‘শর্তসাপেক্ষে’ তালিবানদের আফগানিস্তান দখলে শীলমোহর দিয়েছিল ওয়াশিংটন। তারপর থেকেই আফগানিস্তানের অবস্থার জন্য পরোক্ষে আমেরিকাকেই দায়ী করেছে বিশ্বের অনেক দেশ। ঠিক সেই সময়েই কাবুলে তালিবান নেতাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র প্রধান। এবার সে খবরেই তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি।

আরও পড়ুন তালিবান উৎখাতে আফগান নাগরিকদের ভরসা ‘রিয়েল হিরো’ আমরুল্লাহ সালেহ

‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’কে উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সম্প্রতি আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে তালিবানের অন্যতম শীর্ষনেতা আবদুল ঘানি বরাদরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করেছেন সিআইএ (Central Intelligence Agency) প্রধান উইলিয়াম বার্নস। কাবুল বিমানবন্দর এখনও আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে। আর সেখান দিয়েই মার্কিন ও বিদেশি নাগরিকদের উদ্ধার করার কাজ চলছে।

আরও পড়ুন G-7 Summit: তালিবানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে বিশ্বের সুপার পাওয়ার’ দেশ

সমস্ত লোককে উদ্ধার না করা গেলে ৩১ আগস্টের পরও আফগানিস্তানে সেনা রাখতে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অন্যদিকে আমেরিকা সেনা না সরালে লড়াইয়ের ঈঙ্গিত দিয়েছে তালিবানরাও। এই অবস্থায় সিআইএ প্রধানের সঙ্গে তালিবানের বৈঠক যথেষ্ট ঈঙ্গিতপূর্ন বলে মনে করছেন অনেকে।

আরও পড়ুন তালিবানদের জয়ে আনন্দে আত্মহারা পাকিস্তান, হুমকির মুখে ভারত-আমেরিকা

যদিও সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির তরফে জানানো হয়েছে, এজেন্সির চিফের বিষয়ে বিশদে কিছু জানানো যায় না। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়েই বৈঠক করেছেন ওই দুই শীর্ষ নেতা। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শেষ ২৪ ঘণ্টায়ও প্রায় ২১৬০০ জনকে কাবুল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

তালিবান সরকার ইস্যু: পুতিন-মোদী আলোচনার পর প্রশ্ন ‘সমর্থন ইঙ্গিত’

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানে তালিবান নিয়ন্ত্রণ হলেও এখনও জঙ্গিরা সরকার গড়েনি। দ্রুত সরকার গড়ার কাজ শেষ হবে জানিয়েছে তালিবান। কাবুল এখন বিশ্ব রাজনৈতিক ঘনঘটার কেন্দ্র। আফগানিস্তানে এই জঙ্গি তালিবান সরকারের প্রতি আগেই প্রচ্ছন্ন সমর্থন ইঙ্গিত দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, আফগানিস্তানে এখন তালিবানই নিয়ন্ত্রক, এই বাস্তবতা মানছেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। তবে ক্রেমলিন চায় আফগানিস্তানে যেন দ্রুত স্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হোক।

এদিকে পুতিনের ইঙ্গিতপূর্ণ সমর্থন আসতেই কাবুলে তালিবান জঙ্গি নেতৃত্বের মধ্যে উল্লাস ছড়ায়। রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের অন্যতম চিন ও রাশিয়া ক্রমে নিকট হচ্ছে তালিবানের।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে আফগান ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুজনের মধ্যে দীর্ঘ টেলিফোনিক আলোচনা তৈরি করেছে বিশ্বজোড়া কৌতূহল। আন্তর্জাতিক মহলের প্রশ্ন ভারত কি আফগানিস্তানে সরকার গড়তে চলা তালিবানকে সমর্থন দেবে ?

Modi with putin

প্রধানমন্ত্রী মোদী আফগানিস্তান ইস্যুতে ২৬ অগাস্ট বৃহস্পতিবার সকালে সর্বদলীয় বৈঠক ডেকেছেন। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শংকর জানিয়েছেন, বৈঠকে লোকসভা ও রাজ্যসভার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আফগানিস্তানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

আফগানিস্তানের টালমাটাল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের উপর আর্থিক চাপ বিরাট। কারণ বিদেশে ভারতের সর্বাধিক বিনিয়োগের খাতায় আফগানিস্তান অন্যতম। বিদেশমন্ত্রক জানাচ্ছে, আফগানিস্তানে পরিকাঠামো নির্মাণে ভারত ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে। আসন্ন তালিবান সরকারের আমলে আফগানিস্তানে সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও সর্বদলীয় বৈঠকে আলোচনা হবে।

সরকারে বিজেপি। তালিবান যখন ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত প্রথমবার আফগানিস্তানে জঙ্গি নাশকতার সরকার কায়েম করেছিল সেই সময় ঘটেছিল কান্দাহার বিমান অপহরণের মতো মারাত্মক ঘটনা। ১৯৯৯ সালের সেই ঘটনার সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন অটল বিহারী বাজপেয়ী। চাপের মুখে জঙ্গি নেতা মাসুদ আজহারের মুক্তির বিনিময়ে ভারতীয় যাত্রীদের জীবন বাঁচানো হয়।

ভারতে এখন এনডিএ সরকার। ক্ষমতার কেন্দ্রে বিজেপি। আফগানিস্তানে ফের তালিবান নিয়ন্ত্রণ শুরু। ফলে বাজপেয়ী জমানার সঙ্গে মোদী জমানার কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও চলছে আলোচনা।

মোদীর আহ্বানে সর্বদলীয় বৈঠকে সরকারপক্ষ বিজেপি ছাড়া বিরোধীদের মধ্যে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে, সিপিআইএম, সিপিআই সহ বিভিন্ন দল থাকবে। সূত্রের খবর, এই বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা থাকছে। তিনি কী বার্তা দেবেন মোদীকে সেটি বিশেষ আলোচিত। তেমনই জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হবে। কারণ তালিবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলি তৎপরতা বেড়েছে।

তবে এই ধরণের আন্তর্জাতিক ইস্যুতে সিপিআইএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির বার্তা বিশেষ গুরুত্ব দেয় কেন্দ্র। ইউপিএ বা এনডিএ যে কোনও সরকারের আমলেই বিদেশ সংক্রান্ত নীতির উপর বারবার সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির সূক্ষ্ম সমালোচনা করেন ইয়েচুরি।

কংগ্রেস কী বার্তা দেয় তাও লক্ষ্যনীয়। ইউপিএ আমলেই আফগানিস্তানে বড়সড় বিনিয়োগের সূত্রপাত হয়। ফলে রাহুল গান্ধীর অবস্থান নিয়েও চলছে আলোচনা।

এদিকে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে এখনও অনেক ভারতীয় আটকে রয়েছেন। তাদের ফিরিয়ে আনতে দিল্লি থেকে কাবুল পর্যন্ত বিশেষ বিমান পরিষেবা চালু করেছে সরকার।

তালিবানদের ‘জয়ে’ আনন্দে আত্মহারা পাকিস্তান, হুমকির মুখে ভারত-আমেরিকা

One week after taliban occupied Afghanistan

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই কায়েম হচ্ছে শরিয়তি আইন। ইসলামের আদেশ অনুসারেই চলছে দেশ। আর তাতেই উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানের ইসলামীয় ধর্ম সংগঠনগুলি। গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে কট্টরপন্থীরা।

আরও পড়ুন G-7 Summit: তালিবানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে বিশ্বের সুপার পাওয়ার’ দেশ

সংবাদসংস্থা আইএএনএস (Indo-Asian News Service) সূত্রে খবর, তালিবানের প্রশংসায় পঞ্চমুখ পাকিস্তানের ইসলামীয় সংগঠনগুলি। বহুদিন ধরেই পাকিস্তানের বিভিন্ন সংগঠন মদত দিয়ে আসছে। এবার সরকারীভাবে ইসলামাবাদের প্রভাবশালী সংগঠন জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ-উল-হক হাক্কানি তালিবানের কাবুল জয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। এছাড়াও তালিবানদের আফগানিস্তান দখল এবং আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করার জন্য ‘আল্লাকে ধন্যবাদ জানাতে’ ২৭ আগস্ট একটি অনুষ্ঠান পালন করা হবে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে।

Pakistan and Taliban: Back to where it all began - The Week

পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গায় সেই অনুষ্ঠান এবং তালিবান ও লস্করের জঙ্গিদের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতে দেখা গিয়েছে সেদেশের বিভিন্ন সংগঠনগুলিকে। তালিবানের জন্ম হয় পাকিস্তানেই। পাকিস্তানেই মহিলাদের বিভিন্নভাবে কোনঠাসা করা শুরু হয়েছিল, গুলি করা হয়েছিল মালালা ইউসুফজাইকেও।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

এরপর আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্য ফিরে যাওয়ার পর মুজাহিদিনরা রীতিমতো ক্ষমতাশালী হয়ে ওঠে। আইএসআইয়ের হাত থেকে তাদের রাশ বেরিয়ে যায়। গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার, আহমেদ শাহ মাসুদের মতো মুজাহিদ কমান্ডাররা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক মজবুত করে তোলে। মুজাহিদিনদের শায়েস্তা করতেই নয়ের দশকে তালিবান প্রতিষ্ঠা করে পাকিস্তান।

আরও পড়ুন রাজনীতিতে পা রেখেই পুর-প্রার্থী হচ্ছেন ‘করোনা-হিরো’ সোনু সুদ

জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ সাংবাদিক সন্মেলনে জানিয়েছেন, ‘বিশ্বের উচিত আফগানিস্তানে এক্ষুনি তালিবান সরকারকে মান্যতা দেওয়া।’ শুধু তাই নয়, আমেরিকা এবং ভারতের মদতেই এতদিন আফগানিস্তানে অশান্তি লেগে ছিল। ফলে তাঁর কথায় আবার নতুন করে ভারতে জঙ্গিহামলার আশঙ্কা বেড়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজনীতিতে পা রেখেই পুর-প্রার্থী হচ্ছেন ‘করোনা-হিরো’ সোনু সুদ

Sonu Sood

নিউজ ডেস্ক: করোনাকালের মসিহায় পরিণত হয়েছেন অভিনেতা সোনু সুদ। যে কোনও সমস্যা নিয়ে তাঁর কাছে পৌঁছলেই সাহায্য করেছেন অভিনেতা। আর তাই নেটিজেনদের অনেকেরই দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত সোনু সুদের। আর এবার হয়তো সেই জল্পনাই সত্যি হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী না হলেও রাজনীতিতে আসছেন সোনু সুদ। অন্তত মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস পার্টি সূত্রে এমনটাই খবর।

আরও পড়ুন: Shweta Tiwari শেয়ার করেছেন লেটেস্ট ফটোশ্যুট, বলিপাড়া বলছে OMG!

কংগ্রেস বৃহন্মুম্বাই পৌর কর্পোরেশন (বিএমসি) নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাতীয় এবং মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজেদের হারানো জায়গা ফিরে পেতে বিশেষ কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস। দল রাজ্যের হাইকমান্ডকে পরামর্শ দিয়েছে যে নির্বাচনের আগে মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে হবে। শুধু তাই নয়, অভিনেতা রিতেশ দেশমুখ, মিলিন্দ সোমন এবং করোনা সময়কালে মানুষকে সাহায্য করার জন্য মন জয় করা অভিনেতা সোনু সুদের নামও মেয়রের জন্য বিবেচনা করা হবে।

যদিও এই তিনজনের কেউই কংগ্রেসের সদস্য নন। ২৫ পৃষ্ঠার প্রস্তাবটি নগর কংগ্রেস সচিব গণেশ যাদব সামনে আনলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নেতাদের কাছে তা উপস্থাপন করা হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রস্তাবপত্রটি অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস পার্টির (AICC) মহারাষ্ট্রের ইনচার্জ এইচ কে পাতিলের কাছে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: সিনেমা নয় বাস্তব: আবার ‘বিয়ে’ করলেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ

এর আগেও সোনু সুদের রাজনীতিতে আসার দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহলে। প্রধানমন্ত্রী করার দাবি উঠলেও, সোনু নিজে সাধারণ মানুষ হিসেবেই থাকতে চেয়েছিলেন। নিদের বাড়ির নীচে সোনু মানুষকে গরমে সুস্থ থাকার পানীয় বিতরণ করছিলেন। তখনই পাপারাজ্জিরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, “রাখি সাওয়ান্তও আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হতে বলছেন। আপনি কী বলবেন?” উত্তরে সোনু জানিয়েছিলেন, “আমি সাধারণ মানুষ হিসেবেই ভালো আছি।” রাজনীতির ময়দান যে তাঁর জায়গা নয়, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন সোনু। এবার সেই মনোভাব বদলে কংগ্রেসের ডাকে বৃহন্মুম্বাই পৌর কর্পোরেশন (বিএমসি) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন কিনা, সেটাই এখন দেখার।

করোনায় বিশ্বে শিশুমৃত্যুর এক তৃতীয়াংশ ভারতেরঃ বিশ্ব ব্যাংক

Narendra-Modi

নিউজ ডেস্কঃ বিশ্বজোড়া করোনা সংক্রমণ পরিসংখ্যান দাখিল করা ওয়ার্ল্ডোমিটার জানাচ্ছে, সোমবার পর্যন্ত কোভিড ১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃতের তালিকায় ভারত দ্বিতীয়। প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ওয়ার্ল্ডোমিটার রিপোর্টে সোমবার পর্যন্ত ভারতে করোনায় মৃত ৪ লক্ষ ৩৫ হাজারের বেশি। আর বিশ্বব্যাঙ্ক রিপোর্টে এসেছে করোনায় সোমবার পর্যন্ত ভারতে প্রায় এক লক্ষ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, করোনা হামলায় ১২৮টি দেশে প্রায় ২ লক্ষ ৬৭ হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর এক তৃতীয়াংশ ভারতের। আরও বলা হয়েছে, করোনার কারণে বিশ্বের অর্থনৈতিক গতি ১৭ শতাংশ সংকুচিত।এর ফলে শিশু মৃত্যুর হার প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে।

কেন এত শিশুমৃত্যু? প্রশ্নে জর্জরিত কেন্দ্র সরকার। যদিও বিজেপি নেতৃত্বে চলা নরেন্দ্র মোদীর সরকার দাবি করেছে, করোনা নিয়ন্ত্রণে ভারত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। তবে অভিযোগ আন্তর্জাতিক স্তরের। সেক্ষেত্রে সরকার অস্বস্তিতে। বিশ্বে করোনায় শিশু মৃত্যের খতিয়ানে এক তৃতীয়াংশ ভারতেই এটি চরম উদ্বেগের বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ভারতের থেকে কম উন্নয়নশীল দেশেও এভাবে করোনায় শিশুমৃত্যু হয়নি।

করোনায় শিশু মৃত্যুর পরিসংখ্যান আসতেই কেন্দ্রীয় সরকারের মুখ পুড়ল। বিশ্ব ব্য়াংকের রিপোর্ট নিয়ে বিরোধী দলগুলি বলছে মুখ পুড়েছে প্রধানমন্ত্রী মোদীর। 

HAL-এর সঙ্গে ৭১৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করল GE Aviation

নিউজ ডেস্ক: হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (Hindustan Aeronautics Limited) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিই এভিয়েশনের সঙ্গে ৭১৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করল। দেশীয় তেজাস লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এলসিএ) এমকে-১ এর শক্তি বাড়ানোর জন্য ৯৯ টি এফ-৪০৪ এয়ারক্রাফট ইঞ্জিন এবং সাপোর্ট সার্ভিসের দেবে হ্যাল।

আরও পড়ুন ভারতীয় সেনার জল-স্থল-নৌবাহিনীতে অফিসার পদে প্রচুর নিয়োগ

এইচএএল এইচএফ-৪৪ মারুতের পরে হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (Hindustan Aeronautics Limited) বানানো দ্বিতীয় সুপারসোনিক যুদ্ধবিমান হল তেজাস। ভারতীয় বায়ুসেনার (আইএএফ) জন্য তেজস মার্ক-১ এর উৎপাদন ২০১৬ সালে শুরু হয়।

আরও পড়ুন আত্মসমর্পণের প্রশ্ন উড়িয়ে আমেরিকার কাছে অস্ত্রসাহায্য চাইলেন নিহত তালিবান-বিরোধী নেতার ছেলে

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও, প্রতিরক্ষা মন্ত্রক ভারতীয় বিমান বাহিনীকে 83 LCA-Mk1A সরবরাহ করার জন্য হিন্দুস্থান অ্যারোনটিক্সের সঙ্গে ৪৮ হাজার কোটি টাকার চুক্তি করেছিল।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

হ্যালের সিএমডি মি আর মাধবন জানিয়েছেন, “এটি সর্বকালের সবচেয়ে বড় চুক্তি। তেজাস লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফটের শক্তি বাড়ানোর জন্য এবং জিই-৪০৪ ইঞ্জিনের সরবরাহ করার জন্য কোম্পানি জিই এভিয়েশনের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করছে।’ 83 MK1A জেটগুলি 40-LCA এর পাশাপাশি ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়ান এয়ার ফোর্সও অর্ডার করেছে। ২০ টির দুটি ব্যাচে ইনিশিয়াল অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স (IOC) এবং ফাইনাল অপারেশনাল ক্লিয়ারেন্স (FOC) কনফিগারেশনে অর্ডার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আর মাধবন। জিই এভিয়েশনের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড সেলসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস সির বলেন, ‘F-404 ইঞ্জিনগুলি সারা বিশ্ব জুড়ে বিভিন্ন অপারেশনে দারুন সাপোর্ট দিয়েছে।’

আরও পড়ুন তালিবান উৎখাতে আফগান নাগরিকদের ভরসা ‘রিয়েল হিরো’ আমরুল্লাহ সালেহ

হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, 83 এলসিএ চুক্তির ক্ষেত্রে এতগুলি ইঞ্জিনের অর্ডার একটি বড় মাইলফলক। আসন্ন তেজাস লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট এমকেআইআই প্রোগ্রামের জন্য ভারতে এফ-৪০৪ ইঞ্জিন তৈরির বরাত পরে আরও বাড়ানো হবে।

G-7 Summit: তালিবানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে বিশ্বের ‘সুপার পাওয়ার’ দেশ

G-7 Summit

বিশেষ প্রতিবেদন: আফগানিস্তান দখলের পর তালিবানের ভবিষ্যৎ কী হবে? তাদের উপর অনেক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে? নাকি বিশ্বের পরাশক্তি দেশগুলো এই তালিবান সরকারকে স্বীকৃতি দেবে? সবটাই নির্ভর করবে আজ, মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া G-7 বৈঠকের অবস্থানের উপর। আমেরিকা এবং তার মিত্ররা এই বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

তালিবানরা যেভাবে আফগানিস্তান দখল করেছে, তাতে অনেক দেশ ক্ষুব্ধ। জি-7 বৈঠকে হয়তো বিশ্ব থেকে তালিবানকে বিচ্ছিন্ন করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সূত্রের মতে, জো বাইডেন আফগানিস্তানে ৩১ আগস্টের পরেও কিছু সময়ের জন্য আমেরিকান এবং ন্যাটো দেশের বাহিনী ফেরত আনার বন্ধ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

আন্তর্জাতিক নিয়ম মানার ক্ষেত্রে সকলে সহমত হতে পারে
জি-7 দেশের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, কানাডা এবং জাপান। এটা মনে করা হচ্ছে, সমস্ত দেশ একত্রে বেশ কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তালিবানকে স্বীকৃতি দেওয়ার মনোভাব গ্রহণ করবে। এক ইউরোপীয় কূটনীতিক বলছেন, জি-7 দেশগুলো আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার এবং মহিলাদের তাদের অধিকার দেওয়ার শর্ত তালিবানকে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত কারেন পিয়ার্স বলেছেন, বরিস জনসন বৈঠকে কিছু সমাধান নিয়ে আসতে পারেন। রাষ্ট্রসংঘে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং রাষ্ট্রসংঘে মহাসচিব জেন স্টলটেনবার্গও বৈঠকে যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

আজ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া G-7 ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডে৷ জি-7 এর এই সভা আহ্বানের দাবি ব্রিটেনের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন ​​সাকি তার বিবৃতিতে বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জি-7 দেশের নেতাদের সঙ্গে ২৪ অগস্ট ভার্চুয়াল বৈঠক করতে পারেন। এই নেতারা আফগানিস্তানের ব্যাপারে সমন্বয় বাড়াতে এবং পশ্চিমের দেশগুলিকে সমর্থনকারী আফগানদের তাড়িয়ে দিতে আলোচনা করবেন। সাকি বলেন, জি-7 নেতারা আফগান শরণার্থীদের মানবিক সহায়তা প্রদানের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করবেন।

বরিস জনসনের বক্তব্য
এর আগে টুইটারে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছিলেন, ‘আফগান জনগণকে নিরাপত্তা দিতে, মানবিক সংকট রোধ করতে এবং গত ২০ বছরের কঠোর পরিশ্রমকে সুরক্ষিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আফগান জনগণকে সমর্থন করার জন্য একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’ এই বছর জি-7 দেশগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছে ব্রিটেন। এই গ্রুপে রয়েছে ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র।

আফগান নীতি সম্পর্কে অভিন্ন পদ্ধতির প্রয়োজন
হোয়াইট হাউসের মতে, জো বাইডেন এবং বরিস জনসন জি-7 এর ভার্চুয়াল বৈঠকের কথাও বলেছিলেন৷ দুই নেতা আফগানিস্তানের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন পদ্ধতির বিষয়ে আলোচনা করেন। আফগানিস্তানের নীতি নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার ওপরও জোর দিয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, আফগানিস্তান থেকে আমেরিকান বাহিনী প্রত্যাহারের জন্য বাইডেন প্রশাসন তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে৷

হস্তি সংরক্ষণে একগুচ্ছ নয়া নিয়ম নিয়ে এল পড়শি দেশ

নিউজ ডেস্ক: বছর দুয়েক আগের ঘটনা। শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো থেকে ৮০ কিলোমিটার পূর্বে কেগাল্লেতে টিকিরি নামে একটি হাতির মৃত্যু হয়। ঠিকমতো খেতে না পেয়েই টিকিরি অস্বাভাবিক রোগা হয়ে গিয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন হস্তি বিশেষজ্ঞ জয়ন্ত জয়বর্ধনে। শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে আয়োজিত একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ওই চেহারাতেই নামানো হয় টিকিরিকে।

অন্যদিকে শ্রীলঙ্কার বিখ্যাত পর্যটন কেন্দ্র সিগিরিয়াতে হাতির পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ানোটাই আকর্ষণ। অনেকদিন থেকেই একটি হাতিকে সেই কাজে ব্যবহার করা হত। দিনের বেশিরভাগ সময়ই পিঠে পর্যটক নিয়ে চলতে হত তাকে। সামান্য বিশ্রামটুকুও মিলত না। রোজকার মতোই সেরকমই বিশ্রাম না নিয়ে নাগাড়ে সে পিঠে মানুষ নিয়ে ঘুরছিল হাতিটি। পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবেই পরে হাতিটির মৃত্যু হয়।

Elephants can lose two bathtubs full of water in a single day when it gets  hot | Science | AAAS

বারবার এই ঘটনার পর এবার হাতি সংরক্ষণে কঠোর হল শ্রীলঙ্কান সরকার। হাতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী শ্রীলঙ্কায় দুই বছরের কম বয়সী বাচ্চা হাতিদের কাজ করানো নিষেধ, এছাড়াও তাদের মায়েদের সঙ্গে রাখতে হবে। এছাড়াও হাতি হ্যান্ডলার বা মাহুত, কাজ করার সময় মাদক গ্রহণ করতে পারবে না। হাতির সঙ্গে মাদকাসক্ত থাকা অবস্থায় ধরা পড়লে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

সম্প্রতি পড়শি দেশের বন্যপ্রাণী সুরক্ষা প্রতিমন্ত্রী উইমালাবিরা দিসনায়েক এই নোটিশটি প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ‘প্রতিটি গৃহপালিত হাতির একটি পূর্ণদৈহিক ছবি এবং ডিএনএ বিশদ সহ একটি বায়োমেট্রিক পরিচয়পত্র থাকতে হবে।’ বিশ্ব বন্যপ্রাণী আইন অনুসারে, হাতি শ্রীলঙ্কায় অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং সেদেশে হাতি হত্যা মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধ। যদিও ধর্মীয় মিছিল, পর্যটক আকর্ষণ এবং লগিংয়ের জন্য হাতিকে কাজে লাগানো হয়।

নতুন নিয়মে, লগিং হাতি দিনে মাত্র চার ঘন্টা পর্যন্ত কাজ করতে পারবে, রাতে কাজ করানো নিষিদ্ধ। প্রতিদিন কমপক্ষে আড়াই ঘন্টা স্নানের সময় দিতে হবে, কারণ কাদায় স্নান করে হাতিগুলো ঠান্ডা হয়ে যায়। এছাড়াও একবারে মাত্র চারজন মানুষ হাতিতে চড়তে পারবে, অবশ্যই ভাল প্যাডেড স্যাডে বসতে হবে। বন্দী হাতিদেরও প্রতি ছয় মাসে বাধ্যতামূলকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। সরকারি প্রযোজনা ছাড়া হাতিগুলিকে চলচ্চিত্রে অংশগ্রহণের অনুমতি নেই। সংবাদসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিয়ম ভঙ্গকারীদের তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে এবং তাদের হাতিগুলিকে রাষ্ট্রীয় হেফাজতে নেওয়া হতে পারে।

কাশ্মীর: ভোর থেকে ভূস্বর্গে সেনা-জঙ্গি গুলির লড়াই

encounter in sopore

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানে তালিবানরাজ কায়েম হতেই ভারতের জম্মু-কাশ্মীরে পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গিরা বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে৷ মঙ্গলবার ভোরে জম্মু ও কাশ্মীরের সৌপোরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী এবং জঙ্গিদের মধ্যে এনকাউন্টার শুরু হয়েছে৷ এ গুলির লড়াইয়ে এক জঙ্গি খতম হয়েছে৷

একই সঙ্গে দুই থেকে তিনজন জঙ্গিকে ঘিরে রেখেছে ভারতীয় সেনা জওয়ানরা৷ জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গিদের ঘেরাও করেছে৷ তবে আপাতত জঙ্গিদের দিক থেকে গুলি বন্ধ হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সোমবার এসওজি’র ১০ জন কমান্ডো ছদ্মবেশে ক্রিকেট মাঠ ঘিরে ফেলে এবং দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) নেতা আব্বাস শেখ এবং উপপ্রধান সাকিব মঞ্জুরকে এনকাউন্টারে হত্যা করে। দু’জনেই দীর্ঘদিন ধরে পুলিশের রাডারে ছিলেন। নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে প্রচুর অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। দুজনেই বেশ কয়েকজন সাধারণ নাগরিক হত্যায় জড়িত ছিল। তারা স্থানীয় যুবকদের নিয়োগের ক্ষেত্রেও ভূমিকা পালন করছিল। পুলিশের মতে, এটি তাদের একটি বড় সাফল্য।

আইজিপি বিজয় কুমার বলেছিলেন, দুই জঙ্গির সম্পর্কে সুনির্দিস্ট ইনপুট পেয়ে শ্রীনগর পুলিশের ১০ জন কর্মী সাদা পোশাকে গিয়েছিলেন। সেখানে তারা এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং তাদের চ্যালেঞ্জ জানায়। সতর্কবার্তা দেওয়ার পর সেখান থেকে গুলি চালানো হয়৷ যার জবাব দেওয়া হয়।

আব্বাস সন্ত্রাস ছড়িয়েছিলেন এবং নতুন যুবকদের জঙ্গিবাদে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করতেন৷ যার কারণে শিশুদের বাবা -মা খুবই বিরক্ত হয়েছিলেন। তিনি অভিভাবকদের কাছে আবেদন করেন যেন তাদের সন্তানরা এই পথে না যায়। যারা চলে গিয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন, আমরা তাদের স্বাগত জানাব।

বিজয় কুমার জানান, আব্বাস শেখের নির্দেশেই সাকিব মঞ্জুর শ্রীনগরে অনেক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। আরও চারজন জঙ্গি রয়েছে, যারা শীঘ্রই খতম হবে। কয়েক মাস আগে সাকিবের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল৷ যাতে তাকে ফিরানে AK 47 বের করতে এবং দুই পুলিশ সদস্যকে আক্রমণ করতে দেখা যায়। এই হামলায় দুই পুলিশ সদস্যই শহীদ হন।

রেখার সাহসী পাঁচ অন্তরঙ্গ দৃশ্য এখনও সুপার হিট

intimate scene rekha

বায়োস্কোপ ডেস্ক: বলিউডের চিরনবীন অভিনেত্রী রেখা যে সমস্ত সিনেমা ছবি করেছেন, তার অধিকাংশই সুপার হিট হয়েছে। এই বয়সেও তাঁর সৌন্দর্য রীতিমতো আলোচনার বিষয়বস্তু৷ যদিও, রুপোলি জগতের অনেক বড় বড় তারকার সঙ্গে রেখার নাম জড়িয়েছিল৷ যেখানে অমিতাভ বচ্চনের নাম প্রথম আসে৷ কিন্তু রেখা দিল্লির বাসিন্দা ব্যবসায়ী মুকেশ আগরওয়ালকে বিয়ে করেন। রেখা বর্তমানে বিগ বস নিয়ে আলোচনায় রয়েছেন। এবার কিংবদন্তি অভিনেত্রী রেখার কণ্ঠও শোনা যাবে রিয়্যালিটি শো ‘বিগ বস ১৫’ তে। শোয়ের প্রোমোতে তাঁর অনন্য চরিত্রটিও নির্মাতারা প্রকাশ করেছেন।

সাহসী চরিত্রে অভিনয় করেছেন রেখা
১৯৭০ সালে রেখা সাওন ভাদো ছবি দিয়ে তাঁর চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেছিলেন। এরপর তিনি বলিউডে অনেক হিট ছবি উপহার দেন। যদিও রেখাকে তাণর চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছিল। রেখার মতো সফল নায়িকারাও এমন কিছু সাহসী চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা অন্য কেউ করতে পারত না। দেখুন এই চরিত্রগুলি কী ছিল?

rekha in utsab

উৎসব: ১৯৮৪ সালে উৎসব ছবিতে রেখা প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। বসন্ত সেন নামে একজনের উপপত্নীর ভূমিকায় অভিনয় করেন রেখা৷ যার একজন দরিদ্র মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। এই ছবিতে শেখর সুমন এবং রেখার সাহসী দৃশ্য সেই দশকে রীতিমতো কাঁপিয়ে দিয়েছিল।

rekha kamsutra

কামসূত্র: সাহসী দৃশ্যে ভরা এই ছবিটি তখন বক্স অফিসে প্রশংসা এবং সাফল্য দু’টোই পেয়েছিল। ছবিটি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল। এই ছবিতে রেখা কামসূত্র পড়ানোর শিক্ষকের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। রেখার চেয়ে এই ভূমিকাটা খুব কমই কেউ করতে পারত।

rekha akhsay

খিলাড়ি কা খিলাড়ি: রেখা এবং অক্ষয় কুমার শুধু খিলাড়ি কা খিলাড়ি ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেননি বরং অনেক সাহসী দৃশ্যও দিয়েছেন। রেখা একজন ভদ্রমহিলা ডনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন৷ যিনি তাঁর বোনের প্রেমিকের প্রেমে পড়েন। এই ছবির পরে অক্ষয় এবং রেখার একসঙ্গে থাকার গুজবও রটেছিল।

reakha astha

আস্থা: ১৯৯৭ সালে বাসু ভট্টাচার্য পরিচালিত ‘আস্থা: দ্য প্রিজন অফ স্প্রিং’ ছবিতে রেখা সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন। রেখা ছাড়াও এই ছবিতে ছিলেন ওম পুরী এবং নবীন নিসচল। ওম পুরী এবং নবীন নিসচলের সঙ্গে অন্তরঙ্গ দৃশ্য দিয়েছেন রেখা৷ এখনও অনেক অভিনেত্রী রেখার মতো সাহসী পদক্ষেপ নিতে লজ্জা পান।

Rekha Popular “Nude” Bath Scene from "Pran Jaye Par Vachan Na Jaye

প্রাণ যায় পার বচন না জায়ে: রেখা তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ‘সাওয়ান ভাদো’ ছবির মাধ্যমে৷ এটিও তার প্রথম হিট ছবি৷ কিন্তু ‘প্রাণ যায় পার বচন না জায়ে’ ছবিটিও ছিল এমন একটি সিনেমা, যাতে রেখাকে অনেক দৃশ্যে নগ্ন দেখা যায়। এটি একটি প্রায় বি গ্রেড ছবি ছিল৷ এই ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন সুনীল দত্ত। ছবিতে রেখার পোস্টার প্রকাশ হতেই সেই সময় অনেক হৈচৈ পড়ে গিয়েছিল। ছবিতে তাওয়াইফের চরিত্রে দেখা গিয়েছিল রেখাকে। রেখা পুকুরে স্নান করার এবং কাপড় ছাড়াই বেরিয়ে আসার দৃশ্য শিরোনামে এসেছিল৷

পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে আফগান ফেরত লস্কর-জইশ জঙ্গিদের সমাবেশ

Jaish-e-Mohammad, Lashkar-e-Taiba

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান দখলের পর এবার কি তালিবান সহযোগী পাক-মদতপুষ্ট জঙ্গিদের লক্ষ্য ভারতের ভূ-স্বর্গ? গত কয়েকদিন তালিবানের বন্ধু জঙ্গি সংগঠনগুলির গতিবিধি কিন্তু সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে৷ দু’দিন আগেই জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন ভারতকে হুমকি দিয়ে একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করেছে৷

তার পরেই সোমবার কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জইশ-ই-মহম্মদ পাক অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) বেশ কয়েকটি সমাবেশ করেছে। এই দুই জঙ্গিগোষ্টীর সদস্যরা আফগানিস্তান সরকারের বিরুদ্ধে তালিবানদের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়েছিল৷ কাবুল দখলের পরে পাকিস্তানের মদতে তারা পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে ফিরে এসেছে।

Jaish-e-Mohammad, Lashkar-e-Taiba

কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গিগোষ্ঠীর পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে সমাবেশ করার বেশ কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে৷ সেই ভিডিওতে জঙ্গি সদস্যরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে বাতাসে গুলি ছুড়তে দেখা যায়। ভিজ্যুয়ালগুলি আব্বাসপুর, হাজিরা এবং সেন্সা এলাকার৷ এই এলাকাগুলি নিয়ন্ত্রণ রেখার (এলওসি) খুব কাছে৷

hizbul mujahideens chief syed salahuddin

তালিবানদের নিয়ে কাশ্মীর দখলের হুমকি হিজবুল মুজাহিদিন প্রধানের
গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। এবার সেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল ভারতেও। সৌজন্যে জঙ্গিগোষ্ঠী হিজবুল মুজাহিদিনের প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন। তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করার পরেই ভারতকে হুমকি দিয়ে একটি অডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন এই জঙ্গিনেতা। জম্মু ও কাশ্মীরে সক্রিয় একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন। এরা মূলত জম্মু ও কাশ্মীরকে পাকিস্তানের সঙ্গে সংযুক্তিকরণের পক্ষে।

অডিও বার্তায় তিনি তালেবান জঙ্গিদের জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদ ছড়ানোর জন্য সাহায্যের অনুরোধ জানান। অনলাইনে পোস্ট করা ওই বিবৃতিতে হিজবুল মুজাহিদিন প্রধান সৈয়দ সালাহউদ্দিন বলেন, “আমি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করছি যে তিনি আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতকে শক্তিশালী করুন যাতে তারা ভারতের বিরুদ্ধে কাশ্মীরিদের সমর্থন করতে পারে।”

এদিকে, তালিবানিদের শান্তির আশ্বাস সত্ত্বেও, আফগান এবং বিদেশীরা কাবুল থেকে পালিয়ে চলেছে। মার্কিন জেনারেল বলেছেন, আগস্ট থেকে তালিবানি শাসন শুরুর পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭০০০ জনকে অন্য দেশে সরিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে ভারতীয় সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হন হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান ওয়ানি। মৃত্যুর পর তাঁর দেহকে পাকিস্তানি পতাকায় মুড়ে ঘোরানো হয় উপত্যকায়। সেই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন কাশ্মীরের প্রচুর মানুষ, যারা প্রত্যেকেই সমর্থন করেন সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনকে। সেই বুরহান ওয়ানির বাবা মোজাফফর ওয়ানি সম্প্রতি স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে ভারতীয় তেরঙ্গা উত্তোলন করেছেন।

হিজবুল মুজাহিদিনের ‘পোস্টার বয়’ ছিলেন বুরহান ওয়াদি। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে নিয়মিত কাশ্মীরি যুবকদের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য অস্ত্রের ছবি পোস্ট করতেন এই কমান্ডার। ২০১০ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে হিজবুল মুজাহিদিনে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর প্রায় ছ’মাস ব্যাপক অশান্তি ছড়িয়ে পড়েছিল কাশ্মীরজুড়ে।

গতকালও সেনার গুলিতে নিহত হয় দুই হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার পম্পোরে এনকাউন্টার শুরু হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমান অস্ত্রশস্ত্র, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম। ঠিক তার পরেই মুজাহিদিন কমান্ডারের এই ভিডিও বার্তা চিন্তা বাড়িয়েছে সরকারের।

কাশ্মীর: নিরাপত্তা রক্ষীদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে খতম লস্কর কমান্ডার সহ দুই জঙ্গি

security forces in srinagar city

নিউজ ডেস্ক: জঙ্গি দমনে জম্মু-কাশ্মীরে বড়সড় সাফল্য পেয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী৷ সোমবার জঙ্গি ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে দুই সন্ত্রাসবাদীর খতম হয়েছে৷ বর্তমানে নিরাপত্তা বাহিনী এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

কাশ্মীর পুলিশ সূত্রে খবর, শ্রীনগরের বাটমালু এলাকায় জঙ্গিদের লুকিয়ে থাকার খবর পেয়েছিল গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। খবর পেয়ে নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে। নিজেদের ঘিরে থাকতে দেখে জঙ্গিরা নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

নিরাপত্তা বাহিনী জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলে৷ কিন্তু তা না করে জঙ্গিরা গুলি চালিয়ে যেতে থাকে। নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা জবাব দেয় এবং দুই জঙ্গিকে হত্যা করে। কাশ্মীরের আইজিপি বিজয় কুমার জানান, শ্রীনগর শহরে দুই সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এলাকায় তল্লাশি অভিযান চলছে।

কাশ্মীর পুলিশের মহানির্দেশক আরও বলেছেন, এদিন একটি বড় সাফল্য পাওয়া গিয়েছে। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বা এবং দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্টের শীর্ষ কমান্ডার আব্বাস শেখ এবং সাকিব মঞ্জুর নিহত হন। উভয়েই সাধারণ মানুষ হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল।

এর আগে শনিবার দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার ত্রাল জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে জইশ-ই-মহম্মদের তিন জঙ্গি নিহত হয়। শীর্ষ দশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত জঙ্গি আইনজীবী শাহকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তিনি ত্রাল পৌর পরিষদের সভাপতি এবং বিজেপি নেতা রাকেশ পণ্ডিত সহ বহু লোককে হত্যা করেছিলেন।

এদিন নিহত জঙ্গিদের কাছ থেকে দুটি AK-47, একটি SLR, একটি UBGL এবং অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এই UBGL টি 2018 সালের ১১ ডিসেম্বর শোপিয়ানের জৈনপোড়ায় পদে আক্রমণ করে লুট করা হয়েছিল। নিহত জঙ্গিরা উপজাতীয় মহিলাদের শারীরিকভাবে হয়রানিও করত। আইজি কাশ্মীর এবং ভিক্টর ফোর্সের জিওসি এটিকে একটি বড় সাফল্য বলেছেন।

পঞ্জশির দখলে মরিয়া তালিবানরা, প্রস্তুত নর্দান অ্যালায়েন্সও

বিশেষ প্রতিবেদন: কাবুলসহ আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকা তালিবানদের দখলে৷ দেশে তালিবানিরাজ কায়েম করেছে৷ তাসত্বেও এখনও এমন অনেক এলাকা আছে, যেখানে মানুষ এই ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পতাকা তুলছে। তার মধ্যে অন্যতম হল নর্দান অ্যালায়েন্সের প্রাক্তন কমান্ডার আহমেদ শাহ মাসুদের শক্ত ঘাঁটি পঞ্জশির উপত্যকা।

আরও পড়ুন তালিবান উৎখাতে আফগান নাগরিকদের ভরসা ‘রিয়েল হিরো’ আমরুল্লাহ সালেহ

এবার পঞ্জশির দখলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করল তালিবানরা। রাজধানী কাবুলের খুব কাছেই এই উপত্যকাটি৷ এখানে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষের বসবাস৷ এলাকাটি এতটাই বিপজ্জনক যে, ১৯৮০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তালিবানদের কব্জায় আসেনি এই উপত্যকাটি। এবার সেই উপত্যকার দখল নিতে মরিয়া তালিবানরা। অন্যদিকে, তালিবানদের রুখতে তৈরি নর্দান অ্যালায়েন্সও।

দিনকয়েক আগেই বিখ্যাত তালিবান-বিরোধী নেতা আহমেদ শাহ মাসুদের ছেলে আহমেদ মাসুদ অস্ত্র সাহায্য চেয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। জানিয়েছিলেন যে তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার শক্তি তাদের আছে, কিন্তু তার জন্য আমেরিকার সাহায্য দরকার। আহমেদ মাসুদ বলেন, “আমি পঞ্জশির উপত্যকা থেকে লিখছি, আমার বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করার জন্য আমি প্রস্তুত। মুজাহিদিন যোদ্ধারা আবারও তালিবানদের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।”

আশরফ গনি জমানার ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লা সালেহও রয়েছেন তাঁর সঙ্গে। আফগান বাহিনীর একটা অংশও যোগ দিয়েছে তাঁদের সঙ্গে। এই বাহিনীর সামনে পড়ে গত কয়েক দিনে বেশ কয়েক বার পিছু হটেছে তালিবান। সেই পঞ্জশির দখলে এ বার সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে তালিবানরা। সম্প্রতি তালিবানের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখা হয়েছে, ‘পঞ্জশিরের স্থানীয় প্রশাসন শান্তিপূর্ণ ভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করছে রাজি হয়নি। তাই ইসলামিক আমিরশাহির শতাধিক মুজাহিদিন সদস্য পঞ্জশির দখল‌ে‌র জন্য যাচ্ছে।’

Afghanistan-Taliban Crisis Highlights: Ashraf Ghani Says "In Talks To  Return Afghanistan

অন্যদিকে তালিবানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লোকেরা পঞ্জশিরে জড়ো হচ্ছেন বলে জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা এএফপি। প্রয়াত আহমেদ শাহ মাসুদের স্বপ্ন পূরনে মরিয়া তাঁরা। আহমেদ মাসুদও এক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘‘আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে পূর্বতন আফগান সরকারের বহু সেনা পঞ্জশিরে এসেছেন। তালিবানদের মোকাবিলা করার জন্য নর্দান অ্যালায়েন্স এবং অন্যান্যরা তৈরি।’’

আফগানিস্তানের পঞ্জশির এলাকার ভৌগোলিক কাঠামো এমন যে, কোন সেনাবাহিনী এই এলাকায় প্রবেশ করার সাহস দেখাতে পারে না। চারদিকে উঁচু পাহাড় দিয়ে ঘেরা এই অঞ্চলের মাঝখানে সমতল ভূমি রয়েছে। সেখানকার গোলকধাঁধা সবার জন্য সহজ হয় না৷ কার্যত গোটা দেশ দখলের পর এই এলাকায় বাধা পেয়েছে বিপজ্জনক তালিবানরা। এবার আগামী কয়েকদিনে তারা এই এলাকা দখল করতে পারে, না নর্দান অ্যালায়েন্স নিজেদের কর্তৃত্ব কায়েম রাখে সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বিশ্ব।

 

হিন্দুধর্মের অবমাননা: ট্যুইটারে ভাইরাল #BoycottMyntra

নিউজ ডেস্ক: বিজ্ঞাপনে হিন্দুধর্মের অবমাননা করায় নেটিজেনদের কোপের মুখে অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম ‘মিন্ট্রা’ (Myntra)। “হিন্দু বিরোধী” বিজ্ঞাপন ভাইরাল হওয়ার পর হ্যাশট্যাগ বয়কট মিন্ট্রা সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রেন্ডিং শুরু করে। ওই বিতর্কিত বিজ্ঞাপনটি ছিল মহাকাব্য মহাভারতের একটি দৃশ্যের উপর ভিত্তি করে। কৃষ্ণ “দ্রৌপদী বস্ত্রহরণ” এর সময় মিন্ট্রা অ্যাপে ‘অতিরিক্ত দীর্ঘ’ শাড়ির জন্য অনলাইন কেনাকাটা করছেন।

আরও পড়ুন তালিবান উৎখাতে আফগান নাগরিকদের ভরসা ‘রিয়েল হিরো’ আমরুল্লাহ সালেহ

@Hindutvaoutloud নামের একটি ইনস্টাগ্রাম পেজ থেকে এই ছবিটি শেয়ার করা হয়। তারপর থেকেই হিন্দুধর্মকে অবজ্ঞা করে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মকে বয়কট করা শুরু করে অনেকে। একটি বিজ্ঞাপনভিত্তিক মিম সোশ্যাল মিডিয়াকে এত খারাপভাবে প্রভাবিত করেছে, যে কয়েকঘন্টার মধ্যেই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মটিকে বন্ধ করার দাবি তুলেছে কয়েক হাজার নেটিজেন।

https://twitter.com/pappuchikna001/status/1429353125798768640?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1429353125798768640%7Ctwgr%5E%7Ctwcon%5Es1_c10&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.shethepeople.tv%2Fnews%2Fwhy-boycott-myntra-trending-on-twitter%2F

অনেকেই বিজ্ঞাপিত গ্রাফিকটিকে তাদের ধর্মের প্রতি অসম্মানজনক বলে অভিহিত করেছেন। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, “আপনার কি অন্য ধর্মের শ্রদ্ধেয় দেবতাদের ছবি ব্যবহার করে একই ধরনের প্রচার করার সাহস আছে? যদি তা না হয় তবে ক্ষমা চান। আপনার সমস্ত প্ল্যাটফর্ম থেকে এই বিজ্ঞাপনটিকে সরিয়ে দিন।” আরেক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এই অপমানজনক বিজ্ঞাপনের জন্য মিন্ট্রা আনইনস্টল করলাম l ফ্লিপকার্ট সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছে এই অবমাননাকর বিজ্ঞাপনের ব্যপারে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করার জন্য সময় দিলাম। নয়তো সেগুলোও আনইনস্টল হবে।”

আরও পড়ুন এবারে শীতে বড় পর্দায় আসতে চলেছে দেব-রুক্মিণীর ‘কিশমিশ’, প্রকাশ্যে ছবির অ্যানিমেটেড টিজার

২০১৬ সালেও বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল ঠিক একই ধরনের আরেকটি বিজ্ঞাপন। সেসময় লোকেরা ধরে নিয়েছিল যে এটি মিন্ট্রার বিজ্ঞাপন। পরে জানা যায়, স্ক্রোলড্রোল নামে এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ওই ছবিটি পোস্ট করেছিলেন, মূল উদ্দেশ্য ছিল একবিংশ শতকের প্রযুক্তি ব্যবহার করলে কী হবে দেখানো। এই বছরের শুরুর দিকে আরেকটি বিতর্কেও জড়িয়ে পড়েছিল জনপ্রিয় এই ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম। মুম্বাই সাইবার ক্রাইমে কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয় ‘মিন্ট্রা’র নামে। মিন্ট্রার লোগোটি মহিলাদের প্রতি অপমানজনক এবং আপত্তিকর বলে অভিযোগ করেছিলেন এক মহিলা। পরে সমস্ত জায়গা থেকে সরকারীভাবে লোগো পরিবর্তন করেছিল ফ্লিপকার্টের মালিকানাধীন এই সংস্থা।