হাফ সেঞ্চুরি বয়সে মাধ্যমিক পাস করলেন শাসক দলের বিধায়ক

Odisha MLA Purna Chandra Swain

নিউজ ডেস্ক: কথায় আছে, ‘পড়াশোনার কোন বয়স হয় না৷ আর তা আক্ষরিক অর্থেই প্রমাণ করে দিলেন ওডিশার শাসক দল বিজু জনতা দলের বিধায়ক পূর্ণ চন্দ্র সোয়াইন৷ ৪৯ বছর বয়সী পূর্ণচন্দ্র সোয়াইন মাধ্যমিক বোর্ডের পরীক্ষা দিয়েছিলেন৷ তাতে তিনি ৬৮ শতাংশ নম্বর পেয়ে পেয়ে পাস করেছেন৷ না! তিনি অনলাইনে পরীক্ষা দেয়নি৷ পরীক্ষায় বসেছিলেন অফলাইন মোডেই৷

করোনা মহামারীর কারণে ওডিশা মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড শিশুদের জন্য অনলাইন বোর্ড পরীক্ষা নিয়েছিল৷ যেখানে দশম শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থী ফেল করে৷। এই অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা অফলাইন পরীক্ষা নেওয়ার দাবি করেছিল৷ তাদের দাবি মেনেই বোর্ড অফলাইন পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। গঞ্জাম জেলার সুরাদা থেকে বিজেডি বিধায়ক সোয়াইনও এই অফলাইন পরীক্ষায় বসেছিলেন৷

Odisha MLA Purna Chandra Swain

বি -২ গ্রেড পেয়ে এমএলএ পাস করেছেন
বোর্ডের পরীক্ষায় বিজু জনতা দলের সুরদা বিধানসভার বিধায়ক বি-২ গ্রেড নিয়ে পাস করেছেন। তিনি ৫০০-এর মধ্যে ৩৪০ নম্বর পেয়েছেন। তিনি পেইন্টিংয়ে ৮৫, হোম সায়েন্সে ৮৩, ওডিয়া ভাষায় ৬৭, সামাজিক বিজ্ঞানে ৬১ এবং ইংরেজিতে ৪৪ নম্বর পেয়েছেন। সামগ্রিকভাবে তিনি দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ৬৮শতাংশ নম্বর পেয়েছেন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর বিজেডির বিধায়ক সংবাদ শিরোনামে চলে এসেছেন৷

মাধ্যমিকে ফেল করা অসন্তুষ্ট ছাত্রদের জন্য অফলাইন পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল৷ ৫ অগস্ট ওড়িশা বোর্ড সেই ছাত্রদের অফলাইন পরীক্ষা করেছিল৷ তারা অনলাইন পরীক্ষার নম্বর নিয়ে খুশি ছিল না। এই অফলাইন পরীক্ষায় ৫২২৩ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে৷ আর ১৪১ জন ফেল করেছে৷ বিজেডির বিধায়ক পূর্ণচন্দ্র সোয়াইনও পাশ করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন৷

বিজেডির বিধায়ক পূর্ণচন্দ্র সোয়াইন ওডিশার একজন প্রভাবশালী নেতা। তিনি তিনবার বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছেন। তিনি এর আগেও মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন, কিন্তু তিনি তখন পাস করেননি।

তালিবান সরকার: রাজনৈতিক জীবনে কঠিনতর সিদ্ধান্ত নিতে চলেছেন মোদী

Narendra Modi wore an army uniform

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে সর্বদলীয় বৈঠক হতে চলেছে। বৈঠকে আফগানিস্তানে আটকে থাকা ভারতীয়দের দেশে ফেরানো, তালিবান (Taliban) ক্ষমতা দখলের মধ্যে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি বিচার করা হবে।
সূত্রের খবর, তালিবান জঙ্গিরা দ্বিতীয়বার আফগানিস্তানে সরকার গঠনের পর ভারত সরকারের কী পদক্ষেপ হবে সেটা অন্যতম আলোচিত বিষয়।

আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর তালিবানদের একপ্রকার মান্যতা দিয়েছে রাশিয়া। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন জানিয়েছেন এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রক একমাত্র তালিবান। আর বিকল্প নেই।

পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর দীর্ঘ টেলিফোনিক আলোচনার পরেই সর্বদলীয় বৈঠক স্থির হয়েছে। বৈঠকে বিজেপির অবস্থান স্পষ্ট জানতে চাইবে বিরোধী দলগুলি।

গোটা বিশ্ব মুখিয়ে আফগান ইস্যুতে ভারতের ভূমিকার দিকে। রাজনৈতিক জীবনে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে আফগান তালিবান ইস্যুর উপর সিদ্ধান্ত খুব গুরুত্বপূর্ণ।

নিজেই গাড়ি চালিয়ে স্বামীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি পৌঁছলেন কাশ্মীরি নববধু সানা

Kashmiri bride drives groom home

নিউজ ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় এক কাশ্মীরি নব দম্পতির একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে৷ সুন্দরী কাশ্মীরি বধূ বরকে নিয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁকে তাঁর বিয়ের পোশাক পরে নিজেই গাড়ি চালিয়ে শ্বশুরবাড়ি রওনা দিতে দেখা যাচ্ছে৷ কাশ্মীরি এই নববধূ ভিডিও মানুষ খুব পছন্দ করছে। তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কাশ্মীরের বারামুল্লা জেলায় দুদিন আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। পাত্র-পাত্রী দু’জনেই কাশ্মীরের বাসিন্দা।

এই ভিডিওটি টুইটারে @MantashaQ_ নামে একজন ইউজার শেয়ার করেছেন। বর-কনেকে তাদের বিয়ের পোশাকে দেখা যাচ্ছে৷ দু’জনেই হাসছে। ভিডিওতে দেখা যায়, কনে আনন্দ করে তাঁর শ্বশুর বাড়িতে যাচ্ছেন। ভিডিওর সঙ্গে ক্যাপশনে লেখা আছে, “একজন বধূ বরকে নিয়ে তার শ্বশুর বাড়িতে যাচ্ছেন৷ #KhudkafeelKashmir “

জানা গিয়েছে, ২২ অগস্ট বারামুল্লা জেলার ডেলিনার শেখ আমিরের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন সানা শাবনুম৷ তাঁর এই ভিডিওটি ইন্টারনেটে ঝড় তোলে৷ কারণ, বিয়ের দিনে মাহিন্দ্রা থারে চাপিয়ে বরকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যান৷ তিনি নিজেই গাড়ি চালান৷

 

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

 

A post shared by forever photos (@foreverphotos_jb)

এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব দ্রুত ভাইরাল হয়েছে এবং সবাই এটিকে খুব পছন্দ করছে। ভিডিওতে কনেকে একটি মাহিন্দ্রা থার চালাতে দেখা যাচ্ছে। টুইটার ব্যবহারকারীরা কমেন্ট করে নবদম্পতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ভিডিওটিকে ‘সুন্দর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করে লিখেছেন- এখন রীতির পরিবর্তন হচ্ছে।

যোগী-রাজ্যের ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রে ভয়ে কাঁপবে পাকিস্তান-চিন

নিউজ ডেস্ক: সোমবারই হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (Hindustan Aeronautics Limited) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জিই এভিয়েশনের সঙ্গে ৭১৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করল। দেশীয় তেজাস লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট (এলসিএ) এমকে-১ এর শক্তি বাড়ানোর জন্য ৯৯ টি এফ-৪০৪ এয়ারক্রাফট ইঞ্জিন এবং সাপোর্ট সার্ভিসের দেবে হ্যাল। এবার উত্তরপ্রদেশে তৈরি হতে চলেছে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র। সে রাজ্যে কারখানা নির্মাণের ছাড়পত্র দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

আরও পড়ুন HAL-এর সঙ্গে ৭১৬ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি করল GE Aviation

ডিফেন্স করিডর প্রকল্পের জন্য ২০০ একর জমি চেয়ে ইউপিইআইডিএ-র (U.P. Expressways Industrial Development Authority) সিইও ও অতিরিক্ত মুখ্যসচিবকে (স্বরাষ্ট্র) অবনীশ অবস্তিকে চিঠি দিয়েছিলেন ব্রহ্মস এরোস্পেসের ডিরেকটর জেনারেল সুধীরকুমার মিশ্র। ব্রহ্মস এরোস্পেস সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার মিটিং করার পর ইতিমধ্যেই ব্রহ্মস এরোস্পেসকে জমি দেওয়ার বিষয়ে শীলমোহর দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। গোটা প্রকল্পে ইতিমধ্যেই সবুজ সংকেত দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।

আরও পড়ুন NASA Report: কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলসহ দেশের ১২টি শহর নিশ্চিহ্ন হবে

কারখানা তৈরি হলে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে উত্তরপ্রদেশ। গোটা প্রকল্পে ৩০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হতে চলেছে। উৎপাদন কেন্দ্রে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ৫০০ ইঞ্জিনিয়ার ও প্রযুক্তিবিদের। কাজ করবেন অন্তত ১০ হাজার শ্রমিক। অন্যান্যভাবে কারখানার সঙ্গে যুক্ত হবেন আরও কয়েক হাজার লোক। শুধু আর্থ-সামাজিক ভাবে উত্তরপ্রদেশকেই এগিয়ে নিয়ে যাবে না, এই প্রকল্পে সামরিক ক্ষেত্রেও অনেক শক্তিশালী হবে ভারত। এমনটাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

উত্তরপ্রদেশ সরকার বিবৃতি জারি করে জানিয়েছে, ‘আগামী তিন বছরে ১০০-র বেশি ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি প্রকল্প এবং ক্ষেপনাস্ত্র উৎপাদনের কাজ শুরু হবে। শুধু ক্ষেপনাস্ত্র উৎপাদনই নয়, একইসঙ্গে ক্ষেপনাস্ত্র বিষয়ক গবেষণাগার তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের।’

তা-লি-বা-ন জঙ্গি ! What a look

New look of taliban militant

নিউজ ডেস্ক: কাবুল দখলের কিছু সময় আগে আফগানিস্তান থেকে করা কিছু টুইটে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। টুইট লেখকরা দাবি করেছিলেন নিউ লুক তালিবান এসেছে। তবে যে তালিবান জঙ্গিদের দেখে অভ্যস্ত বিশ্ব তাদের মতো আলখাল্লা পরা হামলাকারীদের সঙ্গে এই নিউ লুক বেমানান। ফলে কেউই মানতে চাননি।

তবে তালিবান তার লুক পাল্টেছে! যে কোনও ইউরোপীয় দেশের সেনা সদস্যরা যেমন পোশাকে থাকে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া তালিবান সেরকমই বেশভুষা নিতে চলেছে। আর পুরনো রীতির জঙ্গিরাও আছে।

পরনে ইউনিফর্ম, বুট, হেলমেট দিয়ে পুরোপুরি সামরিক সাজে তালিবান সদস্যদের এই রূপ দেখে চমকে যাচ্ছে দুনিয়া। নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ বাহিনির এমন ছবি প্রকাশ করেছে তালিবান। সেই আফগান পোশাক পরিচিক তালিবান জঙ্গিরা সাথে এই তালিবানের কোনো মিলই খুঁজে পাওয়া যাবে না।

old look of taliban militant
পুরোনো তালিবান বাহিনী৷ সেই আলখাল্লা পরা৷

তালিবান তাদের এই বিশেষ বাহিনির নাম রেখেছে বদরি ওয়ান থ্রি ওয়ান। অতীতের চেয়ে বর্তমানের তালিবান কতটা সুসজ্জিত সেটা বোঝাতেই বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে জঙ্গি সংগঠনটি।

রাশিয়ার তৈরি কালাশনিকভ রাইফেলের বদলে তালিবানের বিশেষ বাহিনির কাঁধে দেখা গেছে এম ফোরের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি রাইফেল। চোখে দেখা গেছে নাইট ভিশন গগলস।

এ কী তালিবানের নতুন রূপ। যে তালিবান আফগান গুহায় থাকে তাদের এমন রূপ ! দ্বিতীয়বার কাবুল দখল করার পর তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছিল, নতুন তালিবান দেখা যাবে। সেই লুক দেখা যাচ্ছে।

ঘানি-বাইডেন বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন, বিস্ফোরক আফগান সেনাপ্রধান

নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ দু’দশক ধরে বিদেশী সেনাবাহিনীর সাহায্য পেয়েছে আফগানিস্তান সেনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাটোর সাহায্য এবং প্রশিক্ষণই শুধু নয়, আমেরিকার থেকে পেয়েছিল প্রচুর অস্ত্র, যুদ্ধে ব্যবহৃত আধুনিক মানের গাড়ি প্রভৃতি। কয়েকদিন আগে পেন্টাগন জানিয়েছিল, আগামী তিনমাসের মধ্যেই কাবুল দখল করবে তালিবানরা। সে অনুমানকে নস্যাৎ করে কয়েকদিনেই গোটা আফগানিস্তানে আধিপত্য কায়েম করেছে তালিবান।

আরও পড়ুন তালিবানদের এত দ্রুত আফগানিস্তান দখলে আমরা অবাক, মন্তব্য বিপিন রাওয়াতের

আফগানিস্তান সেনা তাদের সামনে শুধু পিছুই হটেনি, রীতিমতো ধরাশায়ীও হয়েছে। গোটা দেশের একমাত্র পঞ্জশির, জালালাবাদ বাদে কোথাও প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি সেভাবে। তাও প্রতিরোধ এসেছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকেই। আফগান প্রেসিডেন্ট আসরাফ ঘানি দেশ ছেড়েছেন। ফলে প্রশ্ন উঠেছে এত প্রশিক্ষণ, টাকা খরচের পরেও আফগান সেনা কোনওরকম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারল না কেন ? অনেক বিশেষজ্ঞ ঈঙ্গিত দিয়েছিলেন ‘সাবোতাজ’ এরও। এবার দেশ দখল হওয়ার দশদিন পর মুখ খুললেন আফগানিস্তান সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল সামি সাদাত। কার্যত শীলমোহর দিলেন ‘সাবোতাজ’ এর অভিযোগেই।

Ghani discusses troop withdrawal decision with Biden | Ariana News

সামি সাদাত জানিয়েছেন, “দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং রাষ্ট্রপতিরা তাঁর সেনাবাহিনীকে ব্যর্থ করেছে। শুধু আসরাফ ঘানি নন, সাদাতের নিশানায় রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বিডেনও। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে সাদাত লিখেছেন যে জো বাইডেনের তাড়াহুড়ো করে সেনা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত দেশের অবস্থা আরও খারাপ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট চুক্তি না মেনে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন বলেও অভিযোগ আফগান সেনাপ্রধানের।

আরও পড়ুন তালিবানদের সাহায্যেই কাশ্মীর দখলের স্বপ্ন দেখছে পাকিস্তান

সাদাত লিখেছেন, “যুদ্ধের শেষ দিনগুলো ছিল অকল্পনীয়। আমরা তালিবানদের বিরুদ্ধে গুলির লড়াইয়ে ব্যস্ত ছিলাম, আমেরিকান যুদ্ধবিমান আমাদের মাথার উপরে চক্কর দিচ্ছিল সরব দর্শকের মতো। আমেরিকার পাইলটরা আমাদের বলেছেন আমাদের দেখে তাদের খারাপ লাগলেও আমাদের সাহায্য করতে তাঁরা অক্ষম, রাষ্ট্রের নির্দেশ অমান্য করতে পারবেন না তাঁরা।”

তিনি আরও জানিয়েছেন, “রাজনীতি এবং রাষ্ট্রপতিরা আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। এটা শুধু আফগান-তালিবান যুদ্ধ ছিল না, একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধ ছিল, এতে অনেক দেশের সামরিক কর্মীরা জড়িত ছিল। ফলে একা আমাদের সেনাবাহিনীর পক্ষে তালবানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা অসম্ভব। এটা আমাদের সামরিক পরাজয় নয়, রাজনৈতিক ব্যর্থতা।”

Drugs Case: রকুল প্রীত সিং, রানা দাগ্গুবতীসহ ১০ অভিনেতাকে তলব করল ইডি

drugs case rakul preet singh rana daggubati

নিউজ ডেস্ক: চার বছর পুরোনো একটি মাদক মামলায় (Drugs Case) শীর্ষ অভিনেতা রাকুল প্রীত সিং (Rakul preet Singh), রানা দাগ্গুবতী ( Rana Daggubati ) এবং আরও ১০ অভিনেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। সুত্রের খবর, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ৬ সেপ্টেম্বর রাকুল প্রীত সিং, ৮ সেপ্টেম্বর বাহুবলী অভিনেতা রানা দাগ্গুবতী, ৯ সেপ্টেম্বর তেলেগু অভিনেতা রবি তেজা এবং ৩১ সেপ্টেম্বর পরিচালক পুরী জগন্নাথকে তলব করেছে।

তদন্তকারী সংস্থার পদস্থ এক কর্মকর্তারা বলেছেন, রাকুল প্রীত সিং, রানা দগ্গুবতী, রবি তেজা বা পুরী জগন্নাথকে আসামি করা হয়নি। তারা অর্থ পাচারের (মানি লন্ডারিং) সঙ্গে জড়িত কিনা তা এখনই বলা উচিত হবে না৷

২০১৭ সালে তেলেঙ্গানা আবগারি ও নিষেধাজ্ঞা বিভাগ ৩০ লক্ষ মূল্যের ওষুধ বাজেয়াপ্ত করার পর ১ টি মামলা নথিভুক্ত করেছিল। ১১টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। পরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আবগারি দফতরের ক্ষেত্রে অর্থ পাচারের দিক থেকে তদন্ত শুরু করে। তেলেঙ্গানা আবগারি বিভাগ মাদক মামলায় এখনও পর্যন্ত ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে ৷ ৬২ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করা ১০ জন চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে জড়িত৷

গত কয়েক বছরে হায়দরাবাদে মাদক চোরাচালানের বেশ কয়েকটি ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সবচেয়ে বড় পাচারের ঘটনাটি ধরা পড়ে ২০১৭ জুলাই মাসে৷ ওই অভিযানে কমপক্ষে ১৩ জনের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে এলএসডি এবং কোকেন উদ্ধার করা হয়েছিল।

আবগারি বিভাগ জানিয়েছে, স্কুল-কলেজের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মাদক ব্যবহার করে থাকে৷ কমপক্ষে ২৬টি স্কুল এবং ২৭টি কলেজ এবং অভিভাবকদেরও বিষয়টি জানান হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা গোয়া ও হায়দ্রাবাদের পাব, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রেভ পার্টিগুলিতে নিষিদ্ধ ওষুধের প্রধান সরবরাহকারী বলে জানা যায়৷ যাদের পুনে, মুম্বই এবং দিল্লির সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে। কর্মকর্তারা জানান, ডিলাররা সুশিক্ষিত এবং তাদের কেউ কেউ শীর্ষ কোম্পানিতে কাজ করছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ছয়জন ইঞ্জিনিয়ারের স্নাতক।

সৌরজগতের দ্রুততম গ্রহাণুর খোঁজ পেলেন বিজ্ঞানী এস শেফার্ড

নিউজ ডেস্ক: চিলিতে অবস্থিত ডার্ক এনার্জি ক্যামেরা (DECam) ব্যবহার করে আবিস্কৃত হল সৌরজগতের দ্রুততম গ্রহাণু। ৫৭-মেগাপিক্সেল ডিইক্যাম ব্যবহারে আবিস্কৃত ‘2021PH27’ নামের গ্রহাণুটি সূর্যের চারপাশে তার কক্ষপথ মাত্র ১১৩ দিনে শেষ করে।

আরও পড়ুন চাঁদে জলের অনু খুঁজে পেল ইসরোর চন্দ্রযান-২

যা আমাদের সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহাণুর চেয়ে দ্রুততর। সূর্য থেকে গ্রহাণুর নিকটতম দূরত্ব প্রায় ২০ মিলিয়ন কিলোমিটার, যা সূর্যের থেকে বুধের দূরত্বের চেয়ে তিনগুন কম। যদিও সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম গ্রহ তার কক্ষপথ যাত্রা মাত্র ৮৮ দিনে শেষ করে। ফলে সবচেয়ে কম সময়ে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করার কৃতিত্ত্ব এখনও সূর্যের সবচেয়ে কাছের গ্রহরই।

আরও পড়ুন রাজস্থানে ভেঙে পড়ল ভারতীয় যুদ্ধ বিমান মিগ-২১

সূর্যের সঙ্গে তার দূরত্বও। খুব কাছে থাকার ফলে এটির তাপমাত্রা ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রাথমিক ভাবে ১ কিমি চওড়া এই গ্রহাণুটি মঙ্গল ও বৃহস্পতির মাঝে থাকলেও পরে বিভিন্ন গ্রহের মহাকর্ষের ধাক্কায় সেটি সূর্যের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। কিন্তু কোনওভাবে পাক খেতে খেতে কি পৃথিবীর দিকে ছুটে আসতে পারে এই গ্রহাণু? আপাতত তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন NASA Report: কলকাতার বিস্তীর্ণ অঞ্চলসহ দেশের ১২টি শহর নিশ্চিহ্ন হবে

গ্রহাণুটি আবিষ্কার করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত ‘কার্নেগি ইনস্টিটিউশন অফ সায়েন্স’-এর বিজ্ঞানী এস শেফার্ড। শেফার্ড ওয়াশিংটন ডিসির কার্নেগি ইনস্টিটিউশন ফর সায়েন্সে বহুদিন ধরেই কাজ করেন। ১৩ আগস্ট গোধূলির সময় ডিইক্যামের তোলা ছবি বিশ্লেষণ করছিলেন তিনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানী ইয়ান ডেল এন্টোনিও এবং শেনমিং ফু স্থানীয় ভলিউম কমপ্লিট ক্লাস্টার সার্ভের পর্যবেক্ষণ করার সময় ছবিগুলো তোলেন। আপাতত ওই গ্রহাণুটিকে পর্যবেক্ষণে রাখতে চান বিজ্ঞানীরা। কিন্তু আবার আগামী বছর সেটিকে দেখা যাবে বলে জানিয়েছে বিজ্ঞানীরা। কক্ষপথে ঘোরার সময় আপাতত অন্য গ্রহের পেছনে লুকিয়ে পড়েছে সেটি।

EKolkata24 এখন টেলিগ্রামেও… 

রাজস্থানে ভেঙে পড়ল ভারতীয় যুদ্ধ বিমান মিগ-২১

MiG-21 Bison aircraft crashes in Rajasthan's Barmer

নিউজ ডেস্ক: বুধবার ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি মিগ-২১ যুদ্ধবিমান রাজস্থানের বারমের জেলায় ভেঙে পড়ে৷ তবে এই দুর্ঘটনায় পাইলট নিরাপদে রয়েছেন সামরিক মুখপাত্র এই বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

সামরিক মুখপাত্র অমিতাভ শর্মা জানিয়েছেন, বুধবার সন্ধ্যায় রাজস্থানের বারমের জেলায় ভারতীয় বিমানবাহিনীর মিগ -২১ বিধ্বস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার পর পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন৷ তিনি এখন নিরাপদেই আছেন৷

বারমারের পুলিশ সুপার আনন্দ শর্মার মতে, বিমানটি ভুর্তিয়া গ্রামের কাছে পড়ে। তিনি বলেন, বিমান দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।

অন্ধকারে থাকা শবর জাতিকে জীবনের রঙ চেনাচ্ছেন পুলিশকর্মী অরূপ

অনুভব খাসনবীশ: ছোটবেলায় দাদুর মুখে শুনেছিলেন শবর জাতির করা চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা। বেশ কয়েকবার একই ঘটনা শুনে প্রশ্ন করেছিলেন,”এই জাতির লোকেরাই কেন চুরি করছে? অন্যদের কথা তো তেমন শুনতে পাই না।” উত্তরে দাদু বলেছিলেন যে মানুষ চুরি করে দুটি কারণে। এক পেটের দায়ে, দুই শিক্ষার অভাবে। শিক্ষার অভাবে এই জাতিকে মানুষ ঠকাতো বহুভাবে। বেশিরভাগ সময়েই অপরাধের দায় এসে পড়তো এই জাতির ওপরেই। ইংরেজ আমলে শবর জাতির নামই হয়ে গিয়েছিল ‘ক্রিমিনাল ট্রাইব’ বা ‘হিংসা-প্রবণ জাতি’।

আরও পড়ুন হাসপাতালে রোগী-রাতজাগা আত্মীয়দের পেট ভরাচ্ছেন হসপিটাল ম্যান পার্থ

চোয়াল শক্ত করে সেদিন অরূপ মুখোপাধ্যায় দাদুকে বলেছিলেন যে চাকরি পেলে স্কুল গড়বেন শবরদের জন্য। শিক্ষার আলো পৌঁছে দেবেন তাদের বাড়িতে। দাদু তাঁর কথায় আমল না দিলেও কথা রেখেছে সেদিনের বলা কথা রেখেছে বছর পাঁচেকের সেই ছেলেটি। প্রায় একা হাতে পুরুলিয়ার পুঞ্চায় শবর শিশুদের জন্য একটি অবৈতনিক বিদ্যালয় গড়ে তুলেছেন। জীবনের রঙ মাখাচ্ছেন অন্ধকারে থাকা লোকগুলির শরীরে।

Meet Kolkata's 'Police Dada', the Constable Who's Changing the Lives of a  Neglected 'Criminal Tribe'

১৯৯৯ সালে কলকাতা পুলিশ কনস্টেবল পোস্টে যোগ দেন। প্রথম মাস থেকেই স্বপ্ন পূরণ করার লক্ষ্যে টাকা জমাতে শুরু করেন। ২০১০ সালের তার জমানো টাকার পরিমাণ এসে দাঁড়ায় আড়াই লক্ষে। ঠিক করেন শবর শিশুদের জন্য স্কুল তৈরি করবেন। সেই বছরেই পাশে পান পাশের গ্রামেরই ক্ষিরোদশশী মুখোপাধ্যায়কে। যিনি বিনা-পয়সায় নিজের জমি স্কুল করার জন্য তাকে দিয়ে দেন। ২০১১ সালে সাড়ে চার লক্ষ টাকা ব্যয়ে তৈরি হয় পাঁচটি ঘর। ১৫ জন শবর শিশু নিয়ে শুরু হয় তার স্বপ্নের,’পুঞ্চা নব-দিশা মডেল স্কুল’এর।

বর্তমানে স্কুলে ছাত্রের সংখ্যা ১২৬ জন। ক্লাস ওয়ান থেকে ফোর পর্যন্ত পড়ানো হয় এই স্কুলে। তারপর ছাত্ররা ভরতি হন সেখানকারই সরকারী স্কুলে। যদিও তারা থাকেন অরূপবাবুর স্কুলেই, তাদের খাওয়া-পড়ার সমস্ত দায়িত্ব তাঁর। অনেক শুভাকাঙ্ক্ষীর থেকে প্রতি মাসে সাহায্য পেলেও তাঁর বেতনের সিংহভাগই চলে যায় এই স্কুলের বাচ্চাদের পেছনে।

আরও পড়ুন শিল্পেই বিপ্লব: তালিবানদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে কাবুলের গ্রাফিতি শিল্পী শামসিয়া হাসানি

‘হাই রেঞ্জ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড’-এ নাম উঠে গিয়েছে তাঁর। এর আগে যে পুরষ্কার পেয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক বিরাট কোহলি, সমাজকর্মী পদ্মভূষণ আন্না হাজারে, টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা, গ্র্যান্ডমাস্টার বিশ্বনাথন আনন্দ, অ্যাথলিট পদ্মশ্রী মিলখা সিং এর মতো ব্যক্তিত্বরা। কাজের স্বীকৃতি হিসাবে শারজা থেকে পেয়েছেন ‘ব্র্যাভো ইন্টারন্যাশনাল বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড’ পুরস্কার সহ অন্যান্য পুরস্কারও। যদিও এতকিছুর পরেও ঘরের লোকের কাছেই ব্রাত্য কলকাতা পুলিশের কর্মী অরূপ মুখোপাধ্যায়। পাননি সরকারী কোনও স্বীকৃতিও।

ঘরের মানুষের কাছে তিনি শুধু ব্রাত্যই শুধু নন, শবরদের পাশে দাঁড়ানোর অপরাধে কিছু সহকর্মীর করা অভিযোগে বিভাগীয় তদন্তের মুখেও পড়েছেন তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ডিউটিতে ফাঁকি দিয়ে সেবামূলক কাজ করে চলেছেন তিনি। যদিও তাতে দমে যাওয়ার পাত্র তিনি নন। সমস্ত বাধা উপেক্ষা করে তাঁর একটাই স্বপ্ন, শবর জাতিকে আলোয় ফেরানো।

ব্যাংক কর্মচারীদের পারিবারিক পেনশন বাড়িয়ে চূড়ান্ত বেতনের 30% করা হবে

নিউজ ডেস্ক: ব্যাংক কর্মীদের পারিবারিক পেনশন সর্বশেষ বেতনের 30% পর্যন্ত বাড়ানো হবে। সরকারি ব্যাংকের কর্মচারীদের NPS কর্পাসে ব্যাংকের অবদান বাড়িয়ে 14%করা হবে।

ব্যাংক কর্মচারীদের পরিবারকে সুবিধা দেওয়ার জন্য সরকার ইন্ডিয়ান ব্যাংকিং অ্যাসোসিয়েশনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যাতে পারিবারিক পেনশন সর্বশেষ টানা বেতনের 3০% করা হয়।

সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে ব্যাংক কর্মীদের প্রতি পরিবারে পারিবারিক পেনশন ৩০,০০০ থেকে বেড়ে ,৩৫,০০০ টাকা হবে। বুধবার মুম্বাইয়ে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এক সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা করেন।

 

দেশ আলোড়িত: প্রকাশ্যে শিক্ষিকাদের বিষ পান নিয়ে ‘নীরব’ মমতা

Teachers protest

নিউজ ডেস্ক: বেতন বৈষম্য ও দূরে বদলির প্রতিবাদে মঙ্গলবার কলকাতায় বিক্ষেভকারী ৫ শিক্ষিকা বিষ পান করেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও নীরব। ঘটনার জেরে আলোড়িত দেশ।

প্রশ্ন উঠছে মুখ্যমন্ত্রী কেন নীরবতার পথ নিয়েছেন
মঙ্গলবার কলকাতায় বিকাশ ভবনের সামনে চরম নাটকীয় পরিস্থিতিতে ৫ জন শিক্ষিকা প্রকাশ্যে বিষ পান করেন। বুধবার পর্যন্ত মু়খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে নীরব। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু নীরব। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবল ক্ষোভ শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনার বন্যা বইছে।

স্বাধীনতার পরে পশ্চিমববঙ্গ, দুটি রাজনৈতিক জমানা
কংগ্রেস, বামফ্রন্টের আমলে যা হয়নি তা হয়েছে মঙ্গলবার। পাঁচ শিক্ষিকা প্রকাশ্যে বিষ পান করেন। বিষের ফেনা ওঠা মুখে চিৎকার করে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করছিলেন তাঁরা।

টানা তিনবার জয়ী হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জমানা চলছে রাজ্যে। এই মমতা জমানা আগের দুই রাজনৈতিক জমানার তুলনায় অনেকবেশি উন্নয়নমুখী বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সরকারের আমলেই যখন বেতন বৈষম্য, দূরে বদলির বিরোধিতা করে শিক্ষক আন্দোলন চলছিল তখনই ঘটেছে বিষ পান করার ঘটনা। কলকাতায় বিকাশ ভবনের সামনে শিক্ষিকারা যেভাবে গলায় বিষ ঢেলেছেন তাতে শিহরিত সবাই।

অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে ত্রিপুরায় গিয়ে সে রাজ্যের ভয়াবহ বেকারত্বের বিষয় ও সেখানকার ১০৩২৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকার কর্মচ্যুতি নিয়ে প্রবল সরব। খোদ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরার গত বাম জমানা ও বর্তমান বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকারের কর্মসংস্থান ইস্যুতে প্রবল সরব হয়েছিলেন। তিনিই এখন নিজ রাজ্যে পাঁচ শিক্ষিকার বিষ পান নিয়ে ‘মুখ লুকিয়েছেন’ বলে কটাক্ষ বিরোধীদের।

ত্রিপুরার কর্মচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকাদের আত্নহত্যার পাশাপাশিপশ্চিমবঙ্গের ছবিটা হচ্ছে রাজপথে শিক্ষিকারা বিষ পান করছেন। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তাদের আন্দোলন চলছেই।

বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ! অপহরণকারী সিআইডি, মুক্তিপণের দরকষাকষিতেও ওস্তাদ

নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে ফের অপহরণের অভিযোগ। ফের শেখ হাসিনার সরকার বিব্রত। বিবিসি জানাচ্ছে, অপহরণে জড়িত সিআইডি বিভাগ। পুলিশের একাংশের এই অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ব্যবসায় বারবার আলোড়িত হয়েছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া ব্যক্তিদের অবস্থান ও পরিণতি জানতে চেয়ে সম্প্রতি রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিল চিঠি পাঠায়। জানা গিয়েছে এই চিঠির ধাক্কায় বিব্রত শেখ হাসিনার সরকার।

বিবিসি জানাচ্ছে দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় বাড়ি থেকে দুজনকে অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে সিআইডির তিনজন সদস্যকে আটক করে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর ও রংপুরের পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, চিরিরবন্দর উপজেলা সদরের সোলেমান শাহপাড়ায় সোমবার রাতে নাটকীয় কায়দায় বাড়ি থেকেই মা ও ছেলেকে অপহরণ করে নেয় একদল ব্যক্তি। পরে জানা গিয়েছে অপহরণকারীরা রংপুরের পুলিশ বিভাগের কর্মী। ওই নারীর স্বামী ও এক আত্মীয়কে ফোন করে তাদের মুক্তির জন্য পনের লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে আট লাখ টাকা মুক্তিপণ রফা হয়।

মঙ্গলবার অপহরণকারীদের টাকা নিতে আসতে বলা হয় নির্দিষ্ট স্থানে। সেখানে পৌঁছানো মাত্রই স্থানীয় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তারা। ধাওয়া করে দিনাজপুর সদরের দশমাইল নামক স্থান থেকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ। চিরিরবন্দর থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার ঘটনাটি স্বীকার করেছেন।

বাংলাদেশে পুলিশ বিভাগের বিরুদ্ধে বারবার অপহরণের অভিযোগে ঢাকার রাজনৈতিক মহল উত্তপ্ত হয়েছে। কখনও সেনাবাহিনির বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। তদন্তে সেই অভিযোগ প্রমাণ হয়েছে। আরও অভিযোগ, বিভিন্ন সময় সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির নেতা কর্মীরা পুলিশ কর্তৃক অপহরণের শিকার হন।

অপহরণ সংক্রান্ত রাষ্ট্রসংঘের চিঠি এসেছে স্বীকার করেছ্ন বাংলাদেশের বিদেশমন্ত্রী ড. এম এ মোমেন। তিনি জানান, অবশ্যই জবাব দেব। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণকে কাছে সেই চিঠি পাঠিয়েছি। উত্তর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রসংঘে জবাব পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, এমন ধরনের কোনও চিঠির জবাব ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড দেয় না। মায়ানমার পাত্তাও দেয় না। আমরা সজাগ আছি বলে উত্তর দিই।

রাষ্ট্রসংঘের পাঠানো চিঠিতে অপহৃতদের তালিকায় বেশিরভাগই বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্য বলে জানা গিয়েছে। এই চিঠির প্রসঙ্গে ড. মোমেন আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার সব সময় সবকিছু গুরুত্ব নিয়ে দেখে। কেউ অভিযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে দেখে।

তালিবানদের এত দ্রুত আফগানিস্তান দখলে আমরা অবাক, মন্তব্য বিপিন রাওয়াতের

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই কায়েম হচ্ছে শরিয়তি আইন। ইসলামের আদেশ অনুসারেই চলছে দেশ। তাতে গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে কট্টরপন্থীরা। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর নীলম ইরশাদ শেখ নামের এক নেত্রী দাবী করেছেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।”

আরও পড়ুন এক এক পয়সার জন্য ভিক্ষে করবে তালিবানরা! ব্যবস্থা করল আমেরিকা-বিশ্বব্যাংক

এর পরেই আফগানিস্তান সম্পর্কে প্রথম মন্তব্য করলেন ভারতের চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত। তালিবানদের আফগানিস্তান দখলের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “তালিবানদের আফগানিস্তান দখল প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু এত দ্রুত তারা আফগানিস্তান দখল করেছে, গোটা বিষয়টাই আমাদের অবাক করেছে”। পেন্টাগনও জানিয়েছিল, আগামী তিনমাসের মধ্যে কাবুল দখল করবে তালিবানরা। সেই রিপোর্টও ভুল প্রমাণ করে কয়েকদিনেই কাবুলে ঢুকেছিল তারা।

আরও পড়ুন তালিবানের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত বলে হুশিয়ারি দিলেন ‘লায়ন অফ পঞ্জশির’

একটি অনুষ্ঠানে জেনারেল রাওয়াত জানান, “গত কয়েকদিন ধরে যা কিছু ঘটেছে তা প্রত্যাশিতই ছিল। শুধুমাত্র সময়সীমা পরিবর্তিত হয়েছে। এত তাড়াতাড়ি আফগানিস্তানের ক্ষমতা তালিবানদের হাতে যাবে আমরা ভাবি নি।” অন্যদিকে পাকিস্তানি বিভিন্ন সংগঠনের মন্তব্যে ভারতে নাশকতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জানিয়েছেন, “আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম কিভাবে আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ভারতে ঢুকতে পারে। এর জন্য আমাদের কন্টিনজেন্সি প্ল্যানিং চলছিল। এখন আমরা এর জন্য প্রস্তুত।”

আরও পড়ুন তালিবান সরকার ইস্যু: পুতিন-মোদী আলোচনার পর প্রশ্ন সমর্থন ইঙ্গিত

ভারত আফগানিস্তান থেকে বেশ কিছু নাগরিককে ইতিমধ্যেই সরিয়ে নিয়েছে। আফগানদের, বিশেষ করে সংখ্যালঘু শিখ এবং হিন্দুদের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে ভারত সরকারের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, আফগানিস্তান থেলে বাকি আটকে থাকা ভারতীয়দের আনার প্রাণপণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

তালিবানদের সাহায্যেই কাশ্মীর দখলের স্বপ্ন দেখছে পাকিস্তান

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান দখল করেছে তালিবানরা। দেশের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই কায়েম হচ্ছে শরিয়তি আইন। ইসলামের আদেশ অনুসারেই চলছে দেশ। আর তাতেই উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানের ইসলামীয় ধর্ম সংগঠনগুলি। গোটা পাকিস্তানজুড়েই রীতিমতো উতসবের মেজাজে কট্টরপন্থীরা। তালিবানদের আফগানিস্তান দখল এবং আমেরিকান সৈন্য প্রত্যাহার করার জন্য ‘আল্লাকে ধন্যবাদ জানাতে’ ২৭ আগস্ট একটি অনুষ্ঠান পালন করা হবে পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রান্তে।

এবার সেই তালিবানের সাহায্যেই ভারতের হাত থেকে কাশ্মীরকে স্বাধীন করবে পাকিস্তান! প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল ‘পাকিস্তান তহেরিক-ই-ইনসাফ’-এর এক নেত্রী এই দাবিই করেছেন টিভি চ্যানেলের একটি অনুষ্ঠানে। নীলম ইরশাদ শেখ নামের ওই নেত্রী সোজাসুজি বলেন, ”তালিবান বলেছে ওরা আমাদের সঙ্গে আছে। এবং কাশ্মীরকে স্বাধীন করতে আমাদের সাহায্যও করবে।” আফগানিস্তান্মে তালিবানরা ক্ষমতা দখলের পর থেকেই অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, এর পিছনে মদত রয়েছে পাকিস্তানের। এবার কার্যত তাতেই শীলমোহর দিল তহেরিক-ই-ইনসাফ নেত্রী।

আরও পড়ুন এক এক পয়সার জন্য ভিক্ষে করবে তালিবানরা! ব্যবস্থা করল আমেরিকা-বিশ্বব্যাংক

তাঁর কথা শুনে হতভম্ব হয়ে যান ওই বিতর্ক অনুষ্ঠানের সঞ্চালকও। পালটা তিনি বলেন, “ম্যাডাম আপনি জানেন আপনি কী বললেন! এই অনুষ্ঠানটা গোটা পৃথিবীর মানুষ দেখবেন। ভারতেও এটি দেখা যাবে।” তারপরেই নেত্রী জানান, পাকিস্তান সেনার শক্তি রয়েছে কাশ্মীরকে ভারতের হাত থেকে মুক্ত করে স্বাধীন করার। পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রীও ‘সুযোগ্য’ নেতৃত্ব দিচ্ছেন। যদিও শোয়ের শেষদিক আবার তিনি জানান, তালিবানের পাশে পাকিস্তান যেভাবে দাঁড়িয়েছে তাতে আফগানিস্তানের তালিবান নেতৃত্ব খুব খুশি। তার প্রতিদানেই কাশ্মীর দখলে পাকিস্তানকে সাহায্য করবে তারা।

https://twitter.com/SAMRIReports/status/1429883964701958144?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1429883964701958144%7Ctwgr%5E%7Ctwcon%5Es1_c10&ref_url=https%3A%2F%2Fwww.wionews.com%2Fsouth-asia%2Fwatch-taliban-will-help-pakistan-conquer-kashmir-leader-of-imran-khans-party-408045

কয়েকদিন আগেও ইসলামাবাদের প্রভাবশালী সংগঠন জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ-উল-হক হাক্কানি তালিবানের কাবুল জয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন। তালিবান ও লস্করের জঙ্গিদের জন্য চাঁদা সংগ্রহ করতেও দেখা গিয়েছিল সেদেশের বিভিন্ন সংগঠনগুলিকে।

জমিয়ত-ই-উলেমা-ই-ইসলাম ও দিফা-ই-পাকিস্তান কাউন্সিল-এর প্রধান মৌলানা হামিদ সাংবাদিক সন্মেলনে জানিয়েছিলেনন, ‘বিশ্বের উচিত আফগানিস্তানে এক্ষুনি তালিবান সরকারকে মান্যতা দেওয়া।’ শুধু তাই নয়, আমেরিকা এবং ভারতের মদতেই এতদিন আফগানিস্তানে অশান্তি লেগে ছিল। এবার ইমরান খানের দলের নেত্রীর মুখেও একই সুর শোনায় আবার নতুন করে ভারতে জঙ্গিহামলার আশঙ্কা বেড়ে গেল বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সক্রিয়, লালপাণ্ডার দেশ সিকিম নিচ্ছে পর্যটনের রিস্ক

Yumthang Valley red ponda

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বিভাগ থেকে আসন্ন অক্টোবর মাসে দেশে করোনাভাইরাসের তৃতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট এখনও সক্রিয়-বিশেষ করে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং জেলায়। এর পরেও সিকিম সরকার অন্য রাজ্যের পর্যটক টানতে ঝুঁকি নিল।

সিকিমের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণ প্রতিবেশি পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাংশে ছড়িয়েছে। দার্জিলিং এখনও করোনার মারাত্মক সংক্রমণ কেন্দ্রের একটি। এই জেলায় এখন কলকাতা ও উত্তর ২৪ পরগনার সংক্রমণের থেকেও বেশি। শৈলশহরের করুণ চিত্র পর্যটনের জন্য বিরুপ পরিবেশ।

এরই মাঝে সিকিম সরকার দীর্ঘদিন পর আবার পর্যটনের জন্য দরজা খুলে দিচ্ছে। সিকিম পর্যটন দফতর জানিয়েছে, অতি সুন্দর লাচুংয়ের ইয়ুমথাং উপত্যকায় পর্যটকরা যেতে পারবেন।

Yumthang Valley red ponda

সিকিমের আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র চিন সীমান্তের নাথু লা, ছাঙ্গু লেক, বাবা মন্দিরে প্রচুর পর্যটক যান। কিন্তু গত দু বছর করোনা সংক্রমণের কারণে উত্তর পূর্বাঞ্চলের সিকিম প্রায় অবরুদ্ধ ছিল। প্রথমদিকে করোনা ঠেকাতে পারলেও পরে সিকিমে ছড়ায় এই জীবানু সংক্রমণ। মুখ্যমন্ত্রী পেমা খান্ডুর নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ থেকে সিকিম আসার সড়ক পর্যটকদের জন্য বন্ধ করা হয়।

এদিকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে করোনার সংক্রমণ বেশি ছড়ায়। জলপাইগুড়িতে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও দার্জিলিংয়ে সংক্রমণ নিয়ে চিন্তিত নবান্ন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে এই জেলা প্রশাসন আপ্পাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।

সিকিমে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণ দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলায় ছড়ানোর আশঙ্কা ছিলই। সংক্রমণ ছড়িয়েছে। উত্তরবঙ্গের আকাশে জীবাণুর মেঘ ছড়িয়েছে।

আসন্ন অক্টোবরে দেশজোড়া করোনার তৃতীয় ঢেউ আসছে। কেন্দ্র সরকার উদ্বেগে। এরই মাঝে সিকিম সরকার যেভাবে পর্যটন টানতে ঝাঁপ দিচ্ছে তাতে এই রাজ্য তো বটেই পশ্চিমবঙ্গের ক্ষেত্রে চিন্তার।সূত্রের খবর, নবান্ন থেকে গ্যাংটকে বার্তা পাঠানো হবে।

এদিকে সিকিম সরকার জানিয়েছে, এই রাজ্যে ঘুরতে আসার আগে প্রতি পর্যটককে করোনা টিকার দুটি ডোজ নেওয়ার সার্টিফিকেট দেখাতে হবে। সেটি না থাকলে প্রবেশের অনুমতি মিলবে না।

এক এক পয়সার জন্য ভিক্ষে করবে তালিবানরা! ব্যবস্থা করল আমেরিকা-বিশ্বব্যাংক

strike against taliban

নিউজ ডেস্ক: তালিবানরা আফগানিস্তান দখল করতে পেরেছে, কিন্তু সরকার পরিচালনা করা তাদের জন্য সহজ হবে না। কারণ, আমেরিকাসহ অনেক দেশ তালিবান-সরকারকে আর্থিকভাবে ভিখারি করতে চায়। এদিকে এখন বিশ্বব্যাংকও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশ্বব্যাংক আফগানিস্তানকে আর্থিক সাহায্য বন্ধ করে দিয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি, বিশেষ করে মহিলাদের অধিকারের পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মুখপাত্রটি বলেন, বর্তমানে বিশ্বব্যাংক সব ধরনের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছে এবং ক্রমাগত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। প্রসঙ্গত, আফগানিস্তান দখল করার পর তালিবান সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র এক পয়সাও দেবে না
সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছে, আমেরিকায় গচ্ছিত আফগানিস্তানের স্বর্ণ ও মুদ্রার মজুদ তালিবানদের দখলে রাখতে দেবে না। তথ্য অনুযায়ী, শুধু আমেরিকায় আফগানিস্তানের সম্পদ রয়েছে ৭০৬ বিলিয়ন রুপি। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ তালিবানদের জন্য বড় ধাক্কা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) আফগানিস্তানকে আর্থিক সাহায্যও বন্ধ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে আইএমএফ আফগানিস্তানে তালিবানদের সম্পদ ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে।

One week after taliban occupied Afghanistan

আইএমএফ প্রবেশাধিকারও বন্ধ করে দিয়েছে
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আফগানিস্তানের ৪৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৪৬ মিলিয়ন ডলার জরুরি রিজার্ভে আফগানিস্তানের প্রবেশ বন্ধ করার ঘোষণা করেছে৷ কারণ, তালিবানের নিয়ন্ত্রণ আফগানিস্তানের ভবিষ্যতের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। লক্ষণীয়, বর্তমানে বিশ্বব্যাংকের অধীনে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে দুই ডজনেরও বেশি প্রকল্প চলছে। ব্যাংকের ওয়েবসাইটে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০০২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বব্যাংক আফগানিস্তানকে ৫.৩ বিলিয়ন ডলার আর্থিক সহায়তা দিয়েছে।

Shweta Tiwari শেয়ার করেছেন লেটেস্ট ফটোশ্যুট, বলিপাড়া বলছে OMG!

Shweta Tiwari

বায়োস্কোপ ডেস্ক: অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারি (Shweta Tiwari) তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সর্বশেষ ফটোশুট শেয়ার করেছেন। টিভি অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারিকে এই সর্বশেষ ফটোশুটে গ্ল্যামারাস স্টাইলে দেখা যাচ্ছে৷ ফ্যানদের পাশাপাশি অনেক বলি তারকাও তাঁর এই ছবিতে মন্তব্য করছেন। এই ছবিতে শ্বেতা একটি ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরেছেন এবং আশ্চর্যজনক অভিব্যক্তি দিচ্ছেন। টিভি অভিনেত্রী দিলজিৎ কৌর এবং সঙ্গীতা বিজলানিও এই ছবিতে মন্তব্য করেছেন। শ্বেতা তিওয়ারির এই ফটোশুটটি বেশ পছন্দ হচ্ছে।

শ্বেতা তিওয়ারি এই ছবিটি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘চাঁদনী।’ ছবিতে টিভি অভিনেত্রী দিলজিৎ কৌর লিখেছেন, ‘ওহ মাই গড … মোটিভেশন ব্যক্তিত্ব।’ একই সঙ্গে অভিনেত্রী সঙ্গীতা বিজলানি লিখেছেন, ‘শ্বেতা তোমাকে হট লাগছে।’ শ্বেতা তিওয়ারির মেয়ে পলক তিওয়ারিও এই ছবিতে মন্তব্য করেছেন। শ্বেতা তিওয়ারির এই ছবিটিতে দেড় লক্ষেরও বেশি লাইক পড়েছে এবং সেখানে মন্তব্যের লাইন লেগে গিয়েছে৷

 

 
 
 
 
 
View this post on Instagram
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 
 

 

A post shared by Shweta Tiwari (@shweta.tiwari)

শ্বেতা তিওয়ারিকে সম্প্রতি সোনি টিভির শো ‘মেরে বাবা কি দুলহান’ -এ দেখা গিয়েছে। শ্বেতা তিওয়ারি তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন বিখ্যাত টিভি সিরিয়াল ‘কসৌটি জিন্দেগি কি’ দিয়ে। এরপর থেকে টেলিভিশন জগতে তিনি প্রেরণা নামে পরিচিত। শ্বেতা তিওয়ারি ‘বিগ বস 4’ -এর বিজয়ীও হয়েছেন। বর্তমানে তাকে ‘খতরন কে খিলাড়ি 11’ তে দেখা যাচ্ছে। এদিকে শ্বেতা তিওয়ারির মেয়ে পলক তিওয়ারি শিগগিরই বলিউডে অভিষেক করতে যাচ্ছেন।

সিনেমা নয় বাস্তব: আবার ‘বিয়ে’ করলেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ

prakash raj got married again with pony verma

বায়োস্কোপ ডেস্ক: বলিউড এবং দক্ষিণের জনপ্রিয় অভিনেতা প্রকাশ রাজ (Prakash Raj) আবার তাঁর স্ত্রী পনি ভার্মাকে (Pony Verma) বিয়ে করলেন। টুইটের করে তিনি তাঁর বিয়ের খবর জানিয়েছেন৷

প্রকৃতপক্ষে ২৪ অগস্ট মঙ্গলবার প্রকাশ রাজ এবং পনি ভার্মির বিবাহের ১১ বছর পূর্ণ হল৷ এই উপলক্ষে তিনি আবার বিয়ে করেন। অভিনেতা বলেছেন, তাঁর ছেলে বিয়ে দেখতে চেয়ে আবদার করেছিল৷ তাই তিনি আবার বিয়ে করলেন৷ প্রকাশ রাজ তার পরিবারের সঙ্গে বেশ কিছু ছবিও পোস্ট করেছেন, যা তাঁর ফ্যানে লাইকের বন্যা বইয়ে দিয়েছে৷

প্রকাশ রাজ বেশ কয়েকটি ছবি পোস্ট করেছেন এবং তাঁর টুইটে লিখেছেন: ‘আজ রাতে আমাদের আবার বিয়ে হল .. কারণ আমাদের ছেলে বেদান্ত আমাদের বিয়ে দেখতে চেয়েছিল’৷ অভিনেতার শেয়ার করা ছবিগুলিতে দেখা যাচ্ছে, তিনি তাঁর পরিবারের সঙ্গে সুখের মুহূর্ত কাটাচ্ছেন। এর আগে প্রকাশ রাজ তাঁর বিয়ের একটি ছবি শেয়ার করে লিখেছিলেন: “এটা খুবই সত্যি। আমার প্রিয়তম স্ত্রী আমার জন্য এত ভালো বন্ধু হওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। বান্ধবী এবং একজন অসাধারণ সহযাত্রী হওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।”

প্রকাশ রাজ সেইসব তারকাদের একজন, যারা দক্ষিণ ইন্ডাস্ট্রিতে নাম কামানোর পর বলিউডেও একটি শক্তিশালী পরিচয় তৈরি করেছেন। ১৯৯৮ সালে হিটলার চলচ্চিত্র দিয়ে তাঁর বলিউড ক্যারিয়ার শুরু হয়। কিন্তু তিনি ওয়ান্টেডে চরিত্র গনি ভাইয়ের কাছ থেকে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন৷ তিনি ইন্দ্রপ্রস্থম, বন্ধনম, ভিআইপি, নন্দনী, শান্তি শান্তি শান্তি, ভন্নাবালি, আজাদ, গীতা, ঋষি, দোস্ত, সিংহম, ওয়ান্টেড, বুড্ডা হোগা তেরা বাপ, হেরোপান্তি বিনোদন, মুরারি, ইন্দ্র, ইডিয়ট, শক্তি দ্য পাওয়ার, গঙ্গোত্রী, স্মার্ট তিনি দ্য চ্যালেঞ্জ, পোকরি, রানা, লায়ন এবং রুদ্রমাদেবীর মতো ছবিতে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছেন।

আবদুলের আকাশ: তালিবানি ফতোয়া কেটে পলাতক আফগান মহাকাশচারী

Abdul Ahad Momand first Afghan citizen to journey to outer space

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: তখন আফগানিস্তানের শাসনে সে দেশের কমিউনিস্ট দল পিডিপি। দলটির ‘খালাক’ গোষ্ঠীর হাতে ক্ষমতা। প্রতিবেশী সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যক্ষ মদতে আফগানিস্তান ধর্ম নিরপেক্ষ দেশ। ইসলামি শাসনতন্ত্র কায়েম করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদতে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলিকে (মুজাহিদিন) সরাসরি সংঘর্ষে নেমেছিল।

আফগান সরকারে থাকা পিডিপি দলের মধ্যে চলছিল টানাপোড়েন। এই টানাপোড়েনের মাঝেই কমিউনিস্ট খালাক গোষ্ঠীকে সরিয়ে কুর্সি দখল করে অপর গোষ্ঠী পরচম। এই রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ১৯৮০ দশকে আফগানিস্তান জুড়ে শুরু হয়েছিল মহাকাশ বিজ্ঞানের চর্চা !!

মহাকাশ বিজ্ঞান-স্পেস সায়েন্স এসব নাম আফগানিস্তানের সঙ্গে যায়-ই না !! কারণ এই দেশ তো আমাদের চোখে সুদখোর, কিসমিস বেচা কাবুলিওয়ালাদের দেশ। তবে তলিয়ে দেখলে জানা যায়, আফগানিস্তান ভারতের আগে স্বাধীনতা পাওয়া দেশ। সেই দেশ বরাবর ভারতের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র পথকে সমর্থন জানিয়েছে।

Abdul Ahad Momand

পড়ুনঃ লেনিনের সমর্থনে আফগানিস্তানেই হয় ভারতের প্রথম ‘বিপ্লবী সরকার’

এমনই আফগানিস্তান তখন সোভিয়েত নিয়ন্ত্রিত। আফগান জনজীবনে লেগেছে ইউরোপিয়ান স্পর্শ। কাবুল, জালালাবাদ সহ দেশটির সর্বত্র রাস্তায় রাস্তায় বোরখা প্রায় ভুলে গেছেন মহিলারা। এসেছে ইউরোপীয় পোশাক। এমনই সময়ে আফগান সরকার উদ্যোগ নেয় মহাকাশ বিজ্ঞান চর্চার। মস্কো রাজি হয়। শুরু হলো আকাশের ঠিকানায় আফগানি কিসমিসের কাহিনি লেখার পালা।

আফগানিস্তান তখন পরিচিত গণপ্রজাতন্ত্রী দেশ। ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও পরে আমীরতন্ত্র থেকে বহুদূরে আফগানিস্তান ছিল। ‘৮০ দশক। প্রতিবেশি সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রত্যক্ষ মদতে আফগানিস্তানে চলছিল কমিউনিস্ট সরকার। আমেরিকার মদতে ধর্মীয় মুজাহিদিন বিভিন্ন গোষ্ঠী তখন সোভিয়েত বিরোধী লড়াই করছে। তাদের পক্ষ নিয়ে কলকাতা, শিলিগুড়ি সহ বিভিন্ন জেলায় বুদ্ধিজীবীরা বলছিলেন, “সোভিয়েত সরকার আফগানিস্তানকে গোল্লায় পাঠাচ্ছে”। ঠিক তখনই আফগানিস্তানের কমিউনিস্ট সরকার সোভিয়েত সাহায্যে তাদের দেশের প্রথম মহাকাশ অভিযান চালায়।

Abdul Ahad Momand

বিশ্ববিখ্যাত সোভিয়েত মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ‘মির’ (নাসার চক্ষুশূল) থেকে ব্রহ্মাণ্ড পরিভ্রমণ করেছিলেন আফগান মহাকাশচারী আবদুল আহদ মোহামন্দ। ১৯৮৮ সালের ২৯ আগস্ট দিনটা আফগানিস্তান তো বটেই, বিশ্বের মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ। যে দেশ শুধু এক গোলি এক দুশমন রীতিতে বিশ্বাসী, তাদের প্রতিনিধি হয়েছে আবদুল আহদ মহাকাশে বিচরণ করছিলেন। আফগানিস্তান শুরু করেছিল মহাকাশ বিজ্ঞানের কাহিনি লিখতে।

তখন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর মহম্মদ নাজিবুল্লাহ। তিনি সোভিয়েত অনুরাগী। তাঁর অনুরোধেই আফগান বিমান সৈনিক আবদুল আহদকে সোভিয়েত বলশেভিক সরকার সুযোগ দিয়েছিল মহাকাশ পরিভ্রমণের। মহাকাশ থেকে বিশেষ টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট ডক্টর নাজিবুল্লাহের সঙ্গে কথা বলেন আফগান মহাকাশযাত্রী, বৈজ্ঞানিক, বিমান সৈনিক আবদুল আহদ। গোটা আফগান জাতি তো বটেই বিশ্ব সেলাম করেছিল।

সোভিয়েত মহাকাশ বিজ্ঞান কেন্দ্র ইউরি গ্যাগারিন রিসার্চ সেন্টারে দীর্ঘ সময় তালিম নেন আফগান মহাকাশচারী আবদুল আহদ। তাঁকে মহাকাশে পাঠানোর বিষয়ে সোভিয়েত সরকার নিয়েছিল যাবতীয় উদ্যোগ। সুযোগ্য ছাত্র হিসেবে আবদুল সবকিছু শিখে দুই রুশ মহাকাশচারীর সঙ্গে পৃথিবী ছেড়েছিলেন। তারপর মহাকাশে তাঁদের পরিভ্রমণ পালা।

১৯৮৮ সালের পর আফগানিস্তানের পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকে। প্রতিবেশি সোভিয়েতে অভ্যন্তরে শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। সেই ধাক্কা লাগতে শুরু করে আফগানিস্তানে। নব্বই দশকে টুকরো হয়ে যায় সোভিয়েত। স্বাভাবিকভাবেই আফগানিস্তানে এর প্রভাব পড়েছিল।

সোভিয়েতকে ভাঙার অভিযুক্ত তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মিখাইল গরবাচেভ। কাবুল জুড়ে রাজনৈতিক গালিচার রঙ পাল্টে যাচ্ছিল। গরবাচেভ সফল হলেন। সোভিয়েত ভাঙল। সোভিয়েত পতন বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম অধ্যায়।
নব্বই দশকে কমিউনিস্ট বলশেভিক সরকারের সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাঙতেই কাবুলের কমিউনিস্ট সরকারের পতন অবশ্যম্ভাবী হয়। প্রেসিডেন্ট ডক্টর নাজিবুল্লাহর সরকারের পতন হল। এরপর কখনো গুলাবুদ্দিন হেকমতিয়ার, তো কখনো বুরহাউদ্দিন রব্বানির মিলিশিয়া হামলা। অরক্ষিত কাবুলের রাষ্ট্রসংঘ কার্যালয়ে থাকা নাজিবুল্লাহ বুঝছিলেন বাঁচা অসম্ভব। এসবই গত শতাব্দীর ‘৯০ দশকের ঘটনা।

নাজিবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ সোভিয়েত অনুরাগী মার্শাল আবদুল রশিদ দোস্তাম আর সোভিয়েত বিরোধী ‘পঞ্জশিরের সিংহ’ আহমেদ শাহ মাসুদের বন্ধুত্ব তৈরি করল ধোঁয়াশা। পথ আলাদা তবে দুজনেরই শত্রু তালিবান। এই জোট চেয়েছিল নাজিবুল্লাহকে রক্ষা করতে। নাজিবুল্লাহ বুঝতে পারেননি। হয়তবা দোস্তাম-মাসুদের সহাবস্থান মানতে পারেননি। একলা হয়ে গেলেন।

রাতের পর রাত, কাবুলের রাজপথ ধরে সোভিয়েত লাল তারা মার্কা ট্যাংকগুলো ঘড়ঘড় করে চলছিল পশ্চিম দিকে -উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তানের দিকে। সোভিয়েত সেনা সরতে সময় নিয়েছিল। বিরাট সামরিক বহর যেদিন পুরোপুরি আফগানিস্তান ত্যাগ করল তখনই কাবুলে ঢুকল তালিবান। কাবুল দখল করে রাষ্ট্রসংঘ কার্যালয় ঘিরে নিল তালিবান জঙ্গিরা।

নাজিবুল্লাহ একটি কাজ করতে পেরেছিলেন। স্ত্রী সন্তানদের নয়াদিল্লি পাঠাতে পেরেছিলেন। মার্কিন চাপে রাষ্ট্রসংঘের কাবুল কার্যালয়ের দরজা খুলে দিল স্টেনগানধারী রক্ষীরা। তাদের সামনে দিয়েই তালিবান জঙ্গিরা টেনে আনল মহম্মদ নাজিবুল্লাহকে। মেরে ঝুলিয়ে দিল লাইট পোস্টে। ১৯৯৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কাবুলে তৈরি হল প্রথম তালিবান সরকার।

নাজিবুল্লাহকে খুনের কয়েকদিন আগেই আফগানিস্তান ছাড়েন মহাকাশচারী আবদুল আহদ। কাবুল থেকে মস্কো যান। সেখানে আর ঠাঁই হয়নি সোভিয়েত জমানার বিশ্বশ্রেষ্ঠ মির মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের একমাত্র আফগানি মহাকাশ বিজ্ঞানীর। ‘লাল তারা’ পদক লুকিয়ে মস্কো থেকে জার্মানিতে চলে যান আবদুল আহদ।

গত তিরিশ বছর সেখানেই রয়েছেন আবদুল আহদ। মহাকাশের সঙ্গে তেমন যোগ নেই। ইউরি গ্যাগারিন মহাকাশ চর্চা কেন্দ্রের আফগানি গবেষক এখন প্রৌঢ় জার্মান নাগরিক। টিভিতে কাবুলের পতন দেখলেন আবার। হয়ত একটু দীর্ঘশ্বাস পড়েছে।