নিজেকে ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ

Amrullah Saleh

নিউজ ডেস্ক: তালিবান ক্ষমতা লাভের সঙ্গে সঙ্গে আফগানিস্তানের রাজনীতিতে নতুন মোড়৷ দেশের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশের সংবিধানের উদ্ধৃতি দিয়ে নিজেকে আফগানিস্তানের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন।

২০ বছর ধরে ক্ষমতা থেকে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তালিবানরা আবারও আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেয়েছে। কিন্তু, আফগানিস্তানে ক্ষমতা পরিবর্তনের এই সংকটের মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেশের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহ একটি বড় ঘোষণা করেছেন৷ সালেহ নিজেকে আফগানিস্তানের তত্ত্বাবধায়ক রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, আমি দেশের সব নেতাদের সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য যোগাযোগ করছি।

Read More: পঞ্জশির: আফগান এই উপত্যকা এখনও তালিবানরা দখল করতে পারেনি

আমরুল্লাহ সালেহ একটি টুইটে লিখেছেন, “আফগানিস্তানের সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতির অনুপস্থিতি, তার দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া, পদত্যাগ বা মৃত্যু হলে প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। আমি বর্তমানে দেশে আছি এবং বৈধ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি। আমি সব নেতাদের কাছে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য পৌঁছাচ্ছি। এটি লক্ষণীয় যে, এখন পর্যন্ত আমরুল্লাহ সালেহের এই ঘোষণার বিষয়ে তালিবানের পক্ষ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

চিন-পাকিস্তান তালিবানের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক তৈরি করবে
আফগানিস্তানে 20 বছরের দীর্ঘ মার্কিন মিশন শেষ হওয়ার ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে অনেক দেশ কাবুলে তাদের দূতাবাস থেকে কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করতে শুরু করে। আফগানিস্তানে নতুন শাসনের সঙ্গে প্রথম দিকে সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার বিষয়ে অনেক কর্মকর্তা সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, অন্য কয়েকটি দেশও তালিবান শাসনের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের ঘোষণা করে এটির প্রশংসা করে। এই তালিকায় প্রথম নাম রয়েছে পাকিস্তান এবং চিনের।

পঞ্জশির: আফগান এই উপত্যকা এখনও তালিবানরা দখল করতে পারেনি

panjshir-province-taliban-free

বিশেষ প্রতিবেদন: কাবুলসহ আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকা তালিবানদের দখলে৷ দেশে তালিবানিরাজ কায়েম করেছে৷ তাসত্বেও এখনও এমন অনেক এলাকা আছে, যেখানে মানুষ এই ভয়ঙ্কর জঙ্গি সংগঠনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পতাকা তুলছে। তার মধ্যে অন্যতম হল নর্দান অ্যালায়েন্সের প্রাক্তন কমান্ডার আহমেদ শাহ মাসুদের শক্ত ঘাঁটি পঞ্জশির উপত্যকা।

রাজধানী কাবুলের খুব কাছেই এই উপত্যকাটি৷ এখানে প্রায় ১ লক্ষ ৭০ হাজার মানুষের বসবাস৷ এলাকাটি এতটাই বিপজ্জনক যে, ১৯৮০ থেকে ২০২১ পর্যন্ত তালিবানদের কব্জায় আসেনি এই উপত্যকাটি৷ শুধু তাই নয়, ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীও এই এলাকায় শুধুমাত্র বিমান হামলা চালিয়েছে৷ তারা কখনও কোনও পদাদিক বাহিনী পাঠানোর সাহস দেখাতে পারেনি৷

মনে করা হচ্ছে আফগান ভাইস প্রেসিডেন্ট সালেহ এই এলাকায় লুকিয়ে আছেন
আফগানিস্তানের ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহও এই এলাকার বাসিন্দা। রবিবার তিনি টুইট করে বলেন, আমি কোনও অবস্থাতেই তালিবান জঙ্গিদের কাছে মাথা নত করব না। আমি কখনই আমাদের নায়ক কমান্ডার, কিংবদন্তি এবং গাইডের আহমেদ শাহ মাসুদের চেতনা এবং উত্তরাধিকারকে বিশ্বাসঘাতকতা করব না। আমার কথা শোনার লক্ষ লক্ষ মানুষকে আমি হতাশ করব না। আমি কখনই তালিবানদের সঙ্গে এক ছাদের নিচে থাকব না। কখনও না।

তালিবান আজ পর্যন্ত পঞ্জশির দখল করতে পারেনি
জুলাই মাসের শুরুতে যখন তালিবান আফগানিস্তানের বিভিন্ন প্রদেশে আক্রমণ শুরু করে, তখন তারা প্রতিরোধ ছাড়াই অনেক জায়গা জিতে নেয়। বলা হচ্ছে, আফগান ন্যাশনাল আর্মির সৈন্যদের মধ্যে খবর ছড়িয়েছিল যে, শীর্ষ সামরিক কমান্ডাররা তালিবানদের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে। যোগাযোগের অভাব এবং অস্ত্রের অভাবও সৈন্যদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছিল। এই কারণে আফগান সেনাবাহিনীর জওয়ানরা অনেক এলাকায় একটিও গুলি খরচ না করে তালিবানদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। তবে, পঞ্জশির একমাত্র প্রদেশ যা এখনও তালিবানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে৷

সোভিয়েত সেনাবাহিনীও ঢুকতে পারেনি
উত্তর-মধ্য আফগানিস্তানের এই উপত্যকাটি ১৯৭০ এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন বা ১৯৯০ এর দশকে তালিবানদের দখলে ছিল না। আহমদ শাহ মাসুদ৷ যাকে শের-ই-পঞ্জশির বলা হয়৷ তিনি ছিলেন এই অঞ্চলের সর্বশ্রেষ্ঠ সেনাপতি। এলাকার ভৌগোলিক কাঠামো এমন যে, কোন সেনাবাহিনী এই এলাকায় প্রবেশ করার সাহস দেখাতে পারে না। চারদিকে উঁচু পাহাড় দিয়ে ঘেরা এই অঞ্চলের মাঝখানে সমতল ভূমি রয়েছে। সেখানকার গোলকধাঁধা সবার জন্য সহজ হয় না৷

Ahmad Massoud, son of the slain hero of the anti-Soviet resistance Ahmad Shah Massoud
আহমদ মাসুদ, সোভিয়েত বিরোধী প্রতিরোধ আহমদ শাহ মাসুদ এর নিহত বীর আহমদ শাহ মাসুদের পুত্র

আফগানদের নায়ক ছিলেন আহমেদ শাহ মাসুদ
১৯৯০ -এর দশকে তালিবানদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় আহমেদ শাহ মাসুদ দারুণ প্রতিপত্তি অর্জন করেছিলেন। ভারতও তাদের সাহায্য করে আসছে। বলা হয়ে থাকে যে, একবার যখন তালিবানদের হামলায় আহমদ শাহ মাসুদ মারাত্মকভাবে আহত হন, তখন তাঁকে ভারত সরকার এয়ারলিফ্ট করে তাজিকিস্তানের ফারখোর এয়ারবেসে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করায়। এখানই ভারতের প্রথম বিদেশি সামরিক ঘাঁটি রয়েছে৷ ভারত বিশেষ করে নর্দান অ্যালায়েন্সকে সাহায্য করার জন্য এই সামরিক ঘাঁটি প্রতিষ্ঠা করেছিল।

আমেরিকানরা ঘরে ফেরেনি, তারা পালিয়েছে: রাশিয়া সংবাদমাধ্যম

U.S. completes 90 percent of Afghanistan withdrawal

নিউজ ডেস্ক: আফগানিস্তান দখলের লড়াইয়ে তালিবানের বিজয় ঘোষণার দুদিন পর সেখানে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তার জন্য আমেরিকাকে দায়ী করে তীব্র সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছে রাশিয়ায় আজকের সংবাদপত্রগুলোতে।

সরকারি সংবাদপত্র রসিইসকায়া গেজেটায় বিদেশনীতি বিষয়ক বিশ্লেষক ফিয়োদোর লুকিয়ানফ আফগানিস্তানের ঘটনাবলীকে একটা ‘চরম বিশৃঙ্খলা’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ”আমেরিকার মদতপুষ্ট প্রশাসন তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়েছে৷ আমেরিকানরা ঘরে ফেরেনি, তারা পালিয়েছে।”

বিবিসির মস্কো সংবাদদাতা স্টিভ রোজেনবার্গ টুইটারে সংবাদপত্রগুলোর পর্যালোচনা করেছেন। তিনি বলছেন পত্রিকাগুলোর শিরোনাম হয়েছে মূলত এরকম: “একটা চরম বিশৃঙ্খলা”, ”পশ্চিমা বিশ্ব এবং জো বাইডেনের জন্য পাহাড়-প্রমাণ রাজনৈতিক অপমান”। একটি পত্রিকা এমন প্রশ্নও তুলেছে: “রাশিয়াকে কি এখন আফগানিস্তানে সৈন্য পাঠাতে হবে?”

https://twitter.com/BBCSteveR/status/1427553647693504522?s=20

অন্যদিকে, মঙ্গলবার তালিবান তাদের যোদ্ধাদের নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা কারও বাড়িতে প্রবেশ না করে৷ রাস্তায় কোন দূতাবাসের গাড়ি চলাচলে বাধা না দেয়৷ বিশেষ করে রাজধানী কাবুলে। এই নির্দেশ জারি করেছেন তালিবানের উপনেতা মোলাভি ইয়াকুব। তালিবান যোদ্ধারা লুটপাটের ঘটনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে এরকম খবরের পর ইয়াকুব নিজের কণ্ঠে রেকর্ড করা এক বার্তা জারি করেছেন।

তালিবান আফগানিস্তানে তাদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা শুরু করেছে। সব সরকারি কর্মচারীদের তারা কাজে ফিরতে বলেছে এবং তাদের জন্য সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। যারা লুটপাটের সঙ্গে জড়াবে, ধরা পড়লে তাদের কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়েছে তালিবান। কাবুলের অনেক জায়গায় এদিন রুটি এবং ওষুধের দোকান খুলেছে৷ রাস্তা ঘাটে আরও বেশি গাড়ি চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।

কাবুলে একটি টিভি অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে একজন মহিলা উপস্থাপক এক তালিবান নেতার সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। তালিবান বিশ বছর আগে যখন ক্ষমতায় ছিল তখন এটা অকল্পনীয় ছিল। প্রথম সারির টিভি চ্যানেল, টোলো নিউজ তাদের এক মহিলা সংবাদদাতার ছবি টুইট করেছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে তিনি রাস্তায় ঘুরে ঘুরে রিপোর্টিং করছেন।

তবে কাফেতে, দোকানে বা গাড়িতে এখন আর কোন গান বাজতে শোনা যাচ্ছে না। বড় বড় পোস্টারে বা বিজ্ঞাপনে যেসব মহিলার মুখ আছে, সেগুলো রঙ দিয়ে মুছে দেওয়া হচ্ছে।
মনে করা হচ্ছে, তালিবানের কিছু শীর্ষ নেতা কাবুলে একটি সংবাদ সম্মেলন করছেন। যেখানে নতুন সরকার এবং দেশটির ভবিষ্যত রূপরেখা নিয়ে তাদের পরিকল্পনা তারা জানাচ্ছেন৷

আফগান পরিস্থিতি মোকাবিলায় মোদীর জরুরি ক্যাবিনেট বৈঠক

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আগ্রাসন দেশজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী। আমেরিকার সামরিক কার্যালয় পেন্টাগনের তরফ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, তিনমাসের মধ্যেই কাবুল দখল করে ফেলবে তালিবানরা। কিন্তু দু’দিনের মধ্যেই কাবুলে ঢুকে রাজধানী শহর দখল করতে শুরু করে তালিবানরা। বর্তমানে তালিবানদের কব্জায় আফগানিস্তান।

আরও পড়ুন তালিবানি ফতোয়া, পোশাক বদলে হিজাব পরলেন সাংবাদিক ক্লারিসা

তা নিয়েই আজ জরুরি বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবার আফগানিস্তানের বর্তমান অবস্থা, তালিবানরাজ, বৈদেশিক সম্পর্ক, ভারতের নিরাপত্তা ইত্যাদি নিয়ে নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, এবং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন, উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন স্রিলা, আফগানিস্তানে ভারতের রাষ্ট্রদূত রুদ্রেন্দ্র ট্যান্ডন। এদিনই আফগানিস্তান থেকে বায়ুসেনার বিমানে ভারতে ফিরে আসেন তিনি।

আরও পড়ুন ই-রুপি: নতুন ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সূচনা করলেন নরেন্দ্র মোদী

আফগানিস্তানের রাশ নিজের হাতে নিয়েছে তালিবানরা। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আসরাফ ঘানি। দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও। তালিবানদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানের আকাশে কোনও অসামরিক বিমান চলাচল করতে পারবে না। যদিও তারমধ্যেও ভারত ভারতীয় বিদেশমন্ত্রকের সদস্য সহ আফগানিস্তানে আটকে থাকা প্রায় ১৩০ জন ভারতীয় নাগরিককে বিশেষ বিমানে দেশে ফিরিয়ে এনেছে।

সংবর্ধনা মঞ্চেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভারতের সোনার ছেলে

Neeraj chopra

স্পোর্টস ডেস্ক: সোনার ছেলেকে স্বাগত জানাতে সেজে উঠেছে নীরজের পানিপথ। টোকিওয় সোনা জিতে ভারতে পা রাখলেও এতদিন বাড়িতেই ফিরতে পারেননি টোকিও অলিম্পিকে সোনাজয়ী নীরজ চোপড়া। কিন্তু সেই আনন্দে বাধ সাধল জ্বর। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়ায় হাসপাতালে ভর্তি করাতে হল তাঁকে। 

আরও পড়ুন ইস্টবেঙ্গলের কোর্টে বল, চূড়ান্ত চুক্তিপত্র পাঠিয়ে দিল শ্রী সিমেন্ট

দিল্লি থেকে পানিপথ পর্যন্ত প্রায় ৬ ঘণ্টার রাস্তার অতিক্রম করে বাড়ি ফিরছিলেন নীরজ। রেড কার্পেট পেতে অলিম্পিকে সোনাজয়ীর জন্য অপেক্ষারত ছিলেন সকলে। পূর্ব পরিকল্পিত ভাবেই শুরু হয়েছিল সংবর্ধনা অনুষ্ঠান। সেই অনুষ্ঠান চলাকালীন অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাঁর পরিবারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার সকালে দিল্লি থেকে পানিপথ আসতে নীরজের ছয় ঘণ্টা লেগে যায়। কখনও রোদে, কখনও গাড়ির এয়ার কন্ডিশনে থাকাতেই ঠান্ডা-গরমে জ্বর এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন দেশ দখল করেছে তালিবানরা, আইপিএল খেলা নিয়ে সংশয়ে রশিদ-নবিরা

কয়েক দিন আগেও তাঁর জ্বর এসেছিল। গলাতেও ব্যথা ছিল। পরে করোনা পরীক্ষা করা হলে সেই রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। লালকেল্লায় স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে তাঁর যোগদানও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ওই অনুষ্ঠানে যান। অসুস্থ শরীরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। সেই সব সেরেই মঙ্গলবার বাড়ি ফিরছিলেন নীরজ। টোকিয়ো থেকে ফেরার পর নানা অনুষ্ঠানে যেতে হচ্ছে তাকে। সেই ধকল নিতে না পারার ফলেই বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন তিনি।

আরও পড়ুন ভারতীয় বায়ুসেনার জনকের নামেই রয়েছে জনপ্রিয় ফুটবল কাপ

টোকিয়ো অলিম্পিকে প্রথম ভারতীয় হিসেবে অ্যাথলেটিক্সে (জ্যাভলিন থ্রো) সোনা জেতেন নীরজ চোপড়া। অভিনব বিন্দ্রার পর দ্বিতীয় ভারতীয় অ্যাথলিট হিসেবে অলিম্পিকের ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিতেছেন তিনি। জ্যাভলিনে ৮৭.৫৮ মিটার ছুড়ে ভারতকে সোনার পদক এনে দিয়েছেন। তারপর থেকে অভিনন্দনের বন্যায় ভেসে যাচ্ছেন ভারতের সোনার ছেলে।

ইস্টবেঙ্গলের কোর্টে বল, চূড়ান্ত চুক্তিপত্র পাঠিয়ে দিল শ্রী সিমেন্ট

East-Bengal

স্পোর্টস ডেস্ক: ক্রমশ দুরত্ব বাড়ছে ইস্টবেঙ্গল এবং ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্টের। দীর্ঘদিন ধরে ক্লাব কর্তা এবং বিনিয়োগকারীদের মতবিরোধ চলছে। বিভিন্ন সময়ে তা মেটানোর চেষ্টা হলেও এখনও পর্যন্ত সমাধানসূত্র অধরা। তারমধ্যেই খেলা হবে দিবসের সন্ধেয় ইস্টবেঙ্গল ক্লাবকে পরিমার্জিত এবং চূড়ান্ত চুক্তিপত্র পাঠাল ইনভেস্টর শ্রী সিমেন্ট। চুক্তিপত্র পাওয়ার পরই আইনজীবীদের কাছে তা পাঠিয়ে দেন ক্লাব কর্তারা।

গত বছর টার্মশিটে সইয়ের পর চূড়ান্ত চুক্তিপত্রে সই করেনি ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। টার্মশিট আর চুক্তিপত্রের মধ্যে অসঙ্গতি থাকার দাবি তোলেন কর্তারা। মূলত দুটি শর্তে তাদের সমস্যা ছিল-

১. ট্রান্সফার অব রিয়াল প্রপার্টি: ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের তাঁবু-মাঠ-গ্যালারি সবকিছু শ্রী সিমেন্টকে দিতে হবে। ক্লাবের তরফ থেকে বলা হয়েছে, এই সব কিছু ব্যবহারের জন্য সেনার অনুমতি প্রয়োজন। বিনিয়োগকারী সংস্থার বক্তব্য, সেনার কাছে নো অবজেকশন লেটার (এনওসি) দিতে হবে ক্লাবকে। তা মানতে নারাজ লাল-হলুদ কর্তারা।

২. মেম্বারশিপ: সদস্যদের সংখ্যা ইনভেস্টরকে জানাতে রাজি ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। কিন্তু সদস্যদের যাবতীয় তথ্য (নাম, ঠিকানাসহ সঠিক পরিচয়পত্র) জানাতে নারাজ তারা। তবুও এই বিষয়টি নিয়ে যথেষ্টই নরম সুর কর্তাদের। কিন্তু প্রথম বিষয়টি মানতে তারা অনড়।

যদিও শ্রী সিমেন্টের কর্ণধার হরিমোহন বাঙুর অবশ্য স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে চুক্তিপত্র পাঠানো হয়েছিল সেটাই চূড়ান্ত চুক্তিপত্র হিসেবে গন্য হবে৷ চুক্তিপত্রে নতুন করে আর বদল সম্ভব নয়। সূত্রের খবর, চুক্তিপত্র পাঠানোর জন্য ক্লাব কর্তারা সরাসরি কথা বলেন শ্রী সিমেন্টের কর্ণধারের সঙ্গে৷ আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার পরই কার্যকমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ক্লাব। মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমেই পরিমার্জিত চুক্তির খসড়া ও চূড়ান্ত চুক্তিপত্র তৈরি হয়েছে। কিন্তু এবারও ক্লাব যদি বেঁকে বসে তাহলে ইস্টবেঙ্গল আদৌ ভারতের প্রিমিয়ার ফুটবল টুর্নামেন্ট আইএসএল খেলবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই গেল।

জনপ্রিয়তা কমছে মোদীর, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে দ্রুত এগোচ্ছেন মমতা

Mamata is moving fast in the race to become the Prime Minister

নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদী। দেশের জনপ্রিয়তম রাজনীতিবিদদের মধ্যে অন্যতম। মাত্র সাত বছর আগে তাঁর জনপ্রিয়তার ঝড়ে বেসামাল হয়ে গিয়েছিল বিরোধীরা। তাঁর একক দক্ষতাতেই কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। এখনও দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখ হিসেবে তাঁর নামই সকলের আগে। কিন্তু গত এক বছরে দ্রুতগতিতে সমর্থন কমছে তাঁর। উল্টোদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হোক, অনেকেই তা চাইছেন। গত বছরের আগস্টেও ৬৬ শতাংশ মানুষ নরেন্দ্র মোদীকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইছিলেন, সেখানে এবারের আগস্টে এসে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশে।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একটি সমীক্ষায় ধরা পড়েছে এই ছবি। কিন্তু কেন রাতারাতি এতটা কমেছে মোদির জনপ্রিয়তা? গত ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটেও বিপুল সংখ্যক আসন পেয়েছিল পদ্মশিবির। এবং তাতে অন্যতম কারণ ছিল মোদী-ক্যারিশমা। কিন্তু তারপর থেকেই বিতর্কে জড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সাধারণ জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া, পেট্রোলের দাম সেঞ্চুরী করে ফেলেছে, রান্নার গ্যাসের দামেও আগুন। এই সমস্যা ছাড়াও মনে করা হচ্ছে এর পিছনে অন্যতম ফ্যাক্টর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। বছরের শুরুতে সংক্রমণের হার অনেকটাই কমে গিয়েছিল। কিন্তু এপ্রিল থেকে দেশে আছড়ে পড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। অতিমারী সামলাতে কেন্দ্রের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলতে থাকে বিরোধীরা।

অন্যদিকে রাজ্যের বিধানসভা ভোটে জিতে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দিল্লির দিকে ছুটছেন। উত্তরপ্রদেশ ভোটেও তাঁকেই বিরোধী শিবিরের প্রধান মুখ করার আর্জি জানিয়েছেন অনেক বিরোধী নেতাই। শুধু দেশীয় রাজনীতিতেই নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। গত আগস্টে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইছিলেন ২ শতাংশ মানুষ। জানুয়ারিতে তা বেড়ে ৪ শতাংশ হওয়ার পরে এবারের আগস্টে সেটা এসে দাঁড়িয়েছে ৮ শতাংশ। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে চার নম্বরে উঠে এসেছেন তিনি।

গোয়ার সুইমিং পুলে মভ রঙের বিকিনিতে HOT LOOK তৃণা

Trina Saha

বায়োস্কোপ ডেস্ক: বাংলা ধারাবাহিকের জনপ্রিয় মুখ তৃণা সাহা। অন্যদিকে তাঁর স্বামী নীলও কম যান না। বেশি দিন হয়নি ভালোবেসে বিয়ে করেছেন দুজনে। বিয়ের ৬ মাসের মাথায় গোয়ায় ছুটি কাটিয়ে এলেন এই জুটি। টলি-পাড়ায় নীল এবং তৃণার জুটি বেশ চর্চিত। তাঁদের অনুরাগীরা ভালোবেসে এই জুটির নাম দিয়েছেন ‘তৃনীল’। অভিনয়ের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও বেশ অ্যাক্টিভ তৃণা। জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তকে ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করতে ভালোবাসেন অভিনেত্রী।

Trina Saha in Goa

এর আগে গোয়ায় নীলের সঙ্গে কাটানো বেশ কিছু মুহূর্তের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন তৃণা। এবারে তাঁকে দেখা গেলো একেবারে অন্যরূপে। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রামে ছবি পোস্ট করেন তৃণা। ইতিমধ্যেই সেই ছবি নেটদুনিয়ায় ঝরের মতো ভাইরাল হয়েছে। বিকিনি পরে পুলে নেমে জলকেলি করার ছবি পোস্ট করে নেটিজেনদের অবাক করে দেন তৃণা। মভ রঙের বিকিনি এবং ট্রান্সপারেন্ট অফ শোল্ডার বিচ-টপ পরে পুলে জলের ভেতরে আংশিক ডুবে ছবির পোজ দিতে দেখা যায় তাঁকে। তৃণার এই অবতার দেখে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছে নেটিজেনদের।

Trina Saha in Goa

গ্ল্যামার জেন ঠিকরে বেরচ্ছে। ছবির প্রতিটি পরতে ধরা পড়ছে উষ্ণতার ছোঁয়া। ছবিটি পোস্ট করে অভিনেত্রী ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘পুল লাইফ কুল’। তৃণার এই ছবি দেখে চোখ সরাতে পারচ্ছেন না তাঁর ইনস্টা ফোলয়াররা। ছবিতে লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গেছে। চলতি বছরেই ফেব্রুয়ারি মাসে বিয়ের বাঁধনে আবদ্ধ হন নীল এবং তৃণার। ‘খরকুটো’ ধারাবাহিকে গুণগুণ এবং সৌজন্য-এর জুটি যতই হিট হোক না কেন ক্যামেরার পিছনেও তৃণা এবং নীলের বাস্তবিক জুটিও বেশ চর্চিত। দুজনকে সবসময় একসঙ্গে দেখতেই পছন্দ করেন নীল এবং তৃণার অনুরাগীরা।

Trina Saha in Goa

নায়িকাদের সেক্স নিয়ে কথা বলাটা মানুষ মেনে নিতে পারে না: বিস্ফোরক করিনা

Kareena Kapoor

বায়োস্কোপ ডেস্ক: নিজের মতো করে জীবন কাটাতে ভালোবাসেন করিনা কাপুর খান। সমাজের বাঁধাধরা ছক ভাঙতে পারদর্শী তিনি। সোশ্যাল মিডিয়াতেও তিনি বেশ অ্যাক্টিভ। সম্প্রতি করিনা নিজের ‘প্রেগন্যান্সি বাইবেলে’ অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন ভক্তদের সামনে।

এই বইতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তিনি যৌন ইচ্ছে হারিয়ে ছিলেন। করিনার এই মন্তব্যে নেটাগরিকদের অনেকেই ভ্রূ কুঁচকেছিলেন। তবে শুধু নিজের যৌন আগ্রহ হারানো ছাড়াও একাধিক সাহসী মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে করিনাকে।

‘প্রেগন্যান্সি বাইবেল’ বইতে করিনা নিজের ব্রেস্টফিডিংয়ের সমস্যার কথা আলোচনা করেন। তিনি জানান, তৈমুরের জন্মের পর প্রায় ২ সপ্তাহ করিনা সন্তানকে স্তন্যপান করাতে পারেননি। সেই সময় তাঁর স্তন একেবারে শুকনো ছিল।

তিনি আরও জানান, তাঁর মা এবং নার্সেরা মিলে অনেক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। পড়ে অবশ্য সব ঠিক হয়ে যায়। এছাড়াও ওই সময় তাঁর ‘স্পটিং’ নিয়েও অভিনেত্রী খোলামেলা আলোচনা করেছেন তাঁর বই ‘প্রেগন্যান্সি বাইবেলে’।

নিজের ইনস্টাগামে নিজের বই প্রকাশ করে করিনা তৈমুর এবং জাহাঙ্গীরের জন্মের আগের এবং পড়ে তাঁর শরীরের নানান অবস্থানের কথা তুলে ধরেন। এতে অনেক হবু মায়েদের সাহায্য হবে বলে ধারণা করিনার।
করিনার এই সাহসী পদক্ষেপকে অনেকেই সহজভাবে গ্রহণ করলেও বেশিরভাগ নেটাগরিকরা এই বিষয়কে সহজভাবে গ্রহণ করতে পারেননি। ট্রোলের শিকারও হতে হয় বেবোকে। তবে প্রতিবারের মতো এবারেও ট্রোলারদের পাত্তা দেননি করিনা।

সম্প্রতি এক প্রথমসারির সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে করিনা জানান, একজন প্রথম সারির নায়িকা নিজের সেক্স লাইফ নিয়ে কথা বলছেন, এটা মানুষ মেনে নিতে পাড়ছেন না। তবে এই পরিস্থিতি প্রত্যেকটি নারীর জীবনেই হয়ে থাকে।

তিনি আরও জানান, এটা খুবই স্বাভাবিক অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নারীরা যৌনতার তাগিদ অনুভব করেন না। অনেক সময় সে নিজেকেও ভালবাসতে চায় না। সেই সময় ওই নারীর কাছে প্রথম গুরুত্ব পায় তাঁর গর্ভে বাড়তে থাকা সন্তান।

করিনার কথায়, এমন অনেক মানুষই আছেন যারা নায়িকাদের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দেখাতেও খুব বেশি পছন্দ করেন না। তবে বেবোর প্রতিটি কথায় তিনি প্রমাণ করে দেন লোকে যাই বলুক না কেন তিনি এই বই লিখে কোনও ভুল করেননি।

সিপিএম ছাড়ার হুমকি কঠোর বামপন্থী শ্রীলেখা-রাহুলের

Sreelekha Mitra

নিউজ ডেস্ক: বরাবরই সিপিআইএম-এর একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। দলের হাজারো প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও দলের পাশে থেকেছেন তাঁরা। এমনকি ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিপিআইএম প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করতেও দেখা যায় শ্রীলেখাকে। অন্যদিকে যেকোনো আলোচনা অনুষ্ঠান হোক কিংবা জনসমক্ষের আলোচনা, নিজেকে বাম সমর্থক হিসেবে দাবি করেন রাহুল। বরাবরই তাঁকে দেখা যায় বামেদের হয়ে কথা বলতে। তবে এবারে এহেন বাম সমর্থকরা দল ছাড়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানিয়ে দিলেন।

সম্প্রতি ৫০০ দিন পূর্ণ করলো সিপিএম-এর শ্রমজীবী ক্যান্টিন। বহু প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও একবারের জন্যও বন্ধ হয়নি ক্যান্টিন। এই সুবাদে সোমবার যাদবপুরে একটি বড় অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয় দলের পক্ষ থেকে। মিছিল, কেক কাটা, নাচ এবং গানে অনুষ্ঠান জমজমাট ছিল। তবে ছন্দপতন ঘটলো যখন সেই অনুষ্ঠানে দেখা পাওয়া গেলো সদ্য বিজেপি ছেড়ে বেড়িয়ে আসা অভিনেতা আনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী রুপা ভট্টাচার্য। শুধু তাই নয় সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষের সঙ্গে নেটমাধ্যমে তাঁদের ছবি পোস্ট হওয়া মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রীলেখা এবং রাহুল।

ফেসবুকে শ্রীলেখা জানান, আমায় প্রলোভন দেওয়া হয়েছিলো। অন্যদলের থেকে বিধানসভার টিকিটও প্রস্তাব করা হয়েছিলো। গ্রহণ করলে হয়তো জীবনটা আলাদা হতো। তবে তা তিনি করেননি। অভিনেত্রীর মতে তিনি একজন বাম মতাদর্শী। যারা প্রকিত বামপন্থী হন তাঁরা কখনোই সময়ে সময়ে দল পরিবর্তন করেন না। এমনকি শ্রীলেখা জানান, ‘আমি বহু অপমান আর কষ্টের জায়গা থেকে বলছি, আমি সিপিআইএম-এর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করব। এরাই আমাকে গালমন্দ করেছিলেন একদিন। তাঁদের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগ করা কোনোমতেই সম্ভব নয়’। অন্যদিকে রাহুলও টুইট করে নিজের ক্ষোভ উগ্রে দেন। তিনি জানান, সিপিআইএম-এর মঞ্চে যদি টিকিট না পাওয়া হতাশ বিজেপি জায়গা পায়, তবে আমি দলের সঙ্গে সব সম্পর্ক এই মুহূর্তে ছিন্ন করলাম।

ভারতীয় বায়ুসেনার জনকের নামেই রয়েছে জনপ্রিয় ফুটবল কাপ

Air Marshal Subroto Mukerjee

বিশেষ প্রতিবেদন: স্বাধীন ভারতের বায়ুসেনার প্রথম ‘কমান্ডার ইন চিফ’ ছিলেন একজন বাঙালি। গোটা ভারতবর্ষ তাঁকে চেনে ‘ভারতীয় বায়ুসেনার জনক’ হিসেবে। ভারতীয় বায়ুসেনার দুঁদে এই পাইলট ঘোল খাইয়ে ছেড়েছে তাবড় তাবড় শত্রুদের। সেই ‘কমান্ডার’ই আবার ছিলেন ফুটবল পাগল। ভারতের ‘জাতীয় ক্লাব’ মোহনবাগান অ্যাথলেটিক ক্লাবের আজীবন সদস্য। ফলে তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর নামেই নামকরণ করা হয় দেশের একটা গোটা ফুটবল টুর্নামেন্টের।

সুব্রত মুখোপাধ্যায়, যার বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে সহযোদ্ধা এয়ার মার্শাল অ্যাম্পি ইঞ্জিনিয়র তাঁকে ‘ভারতীয়বায়ুসেনার জনক’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর নামেই খেলা হয় ‘সুব্রত কাপ’।

১৯১১ সালে ৭, বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডের মামাবাড়িতে জন্ম সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের। বাবা সতীশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়, ১৮৯২ সালে ইন্ডিয়ান সিভিল সার্ভিস (আইসিএস) পাশ করেন। পরবর্তীকালে ভারতের সিভিল সার্ভিসের প্রধান কর্মকর্তাও হয়েছিলেন। মা চারুলতা দেবী, সেযুগের প্রেসিডেন্সি কলেজের একমাত্র ছাত্রী, কাজ করতেন নারীশিক্ষা নিয়ে। ঠাকুরদা নিবারণ চন্দ্র মুখোপাধ্যায় ছিলেন ব্রাহ্ম সমাজের অন্যতম সদস্য। দাদু প্রসন্নকুমার রায় প্রেসিডেন্সি কলেজের প্রথম ভারতীয় অধ্যক্ষ। দিদা সরলা রায় প্রায় একার উদ্যোগেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘গোখেল মেমোরিয়াল স্কুল’।

Air Marshal Subroto Mukerjee

‘সুব্রত কাপ’ না হোক, সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের কথা বলতে গেলেই প্রথমেই আসে তাঁর পরিবারের কথা। তাঁর পূর্ববর্তী প্রজন্মের সবাই নিজেদের জায়গায় অসাধারণত্বের ছাপ রেখেছিলেন। ফলে সেই পরিবারের ছেলে ছোটোবেলা থেকেই পেয়েছিলেন দৃড়চেতা মানসিকতা, শৃঙ্খলপরায়ণ মনোভাব। স্কুল জীবন কেটেছে পশ্চিমবঙ্গ এবং ইংল্যান্ড মিলিয়ে। উচ্চশিক্ষা শেষ করার পর ইংল্যান্ডের ক্র্যানওয়েলে রয়্যাল এয়ার ফোর্স কলেজ থেকে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। ১৯২৯ সালে ওই কলেজের পরীক্ষায় মাত্র ৬ জন ভারতীয় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন। ছ’জনের মধ্যে তিনি ছাড়াও ছিলেন এইচসি সরকার, এবি আওয়ান, ভুপেন্দর সিং, অমরজিৎ সিং ও জেএন ট্যান্ডন।

২৮ বছর ধরে এয়ারফোর্সকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানে পৌঁছে দিয়েছিলেন ভারতীয় বায়ুসেনাকে। ১৯৩২ সালে রয়্যাল এয়ারফোর্সে যোগ দেন। ১৯৩৯ সালে হন এয়ারফোর্সের প্রথম ভারতীয় স্কোয়াড্রন লীডার। তার পাঁচ বছর পরে, ১৯৪৩ সালে এয়ারফোর্সের প্রথম ভারতীয় কমান্ডার নিযুক্ত হন। ১৯৪৭ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে হব স্বাধীন ভারতের প্রথম ডেপুটি চীফ অফ এয়ার স্টাফ। ১৯৫৪ সালে এয়ার মার্শাল হন। চারবছর এয়ার মার্শাল পদ থাকার পর ১৯৬০ সালে কর্মজীবন শেষ হয় তাঁর। কর্মজীবনের বৈচিত্রের জন্য ‘অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার’ পুরস্কারও পান তিনি। ১৯৬০ সালে, রিটায়ারমেন্টের পরেই একটি টেকনিক্যাল মিশনের চীফ হয়ে জাপানে যান। সেখানে একটি রেস্তরায় ডিনার খাওয়ার সময় শ্বাসনালীতে খাবার আটকে দুর্ভাগ্যজনকভাবে তাঁর মৃত্যু ঘটে।

Rank Promotions
• Pilot Officer, RAF: 1 September 1932
• Flying Officer: 1936
• Flight Lieutenant: 16 March 1939
• Acting Squadron Leader: 25 August 1939
• Acting Wing Commander: 1 November 1942
• Squadron Leader: 1943
• Wing Commander, RIAF: 1945
• Group Captain: 6 March 1946
• Air Commodore: 15 May 1947
• Acting Air Vice-Marshal: 27 September 1948
• Air Vice-Marshal: 1 February 1949
• Acting Air Marshal (Commander-in-Chief, IAF): 1 April 1954
• Air Marshal (Chief of the Air Staff, Indian Air Force): 1 April 1955

তালিবানি ফতোয়া, পোশাক বদলে ‘হিজাব’ পরলেন সাংবাদিক ক্লারিসা

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আগ্রাসন দেশজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী। আমেরিকার সামরিক কার্যালয় পেন্টাগনের তরফ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, তিনমাসের মধ্যেই কাবুল দখল করে ফেলবে তালিবানরা। কিন্তু কাল দুপুর থেকেই কাবুলে ঢুকে রাজধানী শহর দখল করতে শুরু করে তালিবানরা।

আরও পড়ুন তালিবানরাজে সুরক্ষিত নন মহিলারা, উদ্বেগ প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী Rhea Chakraborty

তালিবানদের কাবুল দখল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক তারকাই এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশেষ করে আফগানিস্তানে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন অনেকে। কারণ দেশ দখলের পর থেকে মহিলাদের ছবি দেওয়া পোস্টার ঢেকে দিতে শুরু করেছে তালিবানরা। ফলে দেশে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই।

ক্লারিসা ওয়ার্ড। তালিবানদের ক্ষমতা দখলের আগে এবং পরে।

এবার সেই ছবিই যেন উঠে এল টিভির পর্দায়। কাবুলের রাস্তায় রিপোর্টিং করছিলেন সিএনএন নিউজ চ্যানেলের সাংবাদিক ক্লারিসা ওয়ার্ড। তালিবানরা কাবুল দখল নেওয়ার আগেই তিনি একই শহর থেকে রিপোর্টিং করেছিলেন, সেদিন তাঁর পরনে ছিল সালোয়ার। কিন্তু তালিবানরা শহর দখল নেওয়ার পরই পোশাক পাল্টেছে তাঁর, এদিন দেখা গেল হিজাব পরে রিপোর্টিং করছেন তিনি। সিএনএন রিপোর্টার ক্লারিসা কাবুল থেকে রিপোর্ট করেছেন যে তাকে একজন মহিলা হওয়ার কারণে পাশে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল তালিবানদের পক্ষ থেকে। এই ছোট্ট আদেশই যেন নিশ্চিত করেছে যে দেশের মহিলাদের জীবন আমূল বদলে গেছে। ক্লারিসা বলছিলেন, “ওরা (তালিবান) শুধু ‘আমেরিকা মুর্দাবাদ’ স্লোগান দিচ্ছে, যদিও ওদের দেখে বন্ধুত্বপূর্ণ বলেই মনে হচ্ছে।” এই দৃশ্যই অবাক করেছে ক্লারিসাকে।

আরও পড়ুন দেশ দখল করেছে তালিবানরা, আইপিএল খেলা নিয়ে সংশয়ে রশিদ-নবিরা

ক্লারিসা একজন আন্তর্জাতিক পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক। তাঁর ছবি দেখে আফগানিস্তানের অবস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। প্রত্যেকেরই প্রশ্ন, একজন আন্তর্জাতিক পুরস্কার পাওয়া জনপ্রিয় টিভি চ্যানেলের সাংবাদিককে যদি তালিবানদের ফতোয়া মেনে নিয়ে ‘সাধারণ পোশাকের’ বদলে হিজাব পরে সাংবাদিকতা করতে হয় এবং শুধুমাত্র মহিলা হওয়ার কারণে তাকে পাশে সরে দাঁড়াতে বলা হয়, তাহলে দেশের সাধারণ মহিলাদের অবস্থা খুব সহজেই অনুমেয়। ক্লারিসাও জানিয়েছেন, তালিবানরা কাবুল দখল করার পর রাস্তায় মহিলাদের চলাচল প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছে।

কয়েকদিন ধরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে একটি ছবি। ১৯৪০ এর দশকে কাবুলের রাস্তায় হাঁটছেন কিছু তরুণী, প্রত্যেকেরই পরনে আধুনিক পোশাক, স্কার্ট। কিন্তু শতকের শেষে তালিবানরা আসার পরেই ছবিটা বদলে যায়। ক্রমশ অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয় আফগানিস্তানের মেয়েদের। সেই চিত্রই যেন ধরা পড়ল ক্লারিসা ওয়ার্ডের ভাইরাল ছবিতে।

ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের রাশ নিজের হাতে নিয়েছে তালিবানরা। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি। দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও। তালিবানদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানের আকাশে কোনও অসামরিক বিমানও চলাচল করতে পারবে না।

আফগান নাগরিকদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করে ট্রোলড সিদ্ধার্থ শুক্লা

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আগ্রাসন দেশজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী। আমেরিকার সামরিক কার্যালয় পেন্টাগনের তরফ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, তিনমাসের মধ্যেই কাবুল দখল করে ফেলবে তালিবানরা। কিন্তু কাল দুপুর থেকেই কাবুলে ঢুকে রাজধানী শহর দখল করতে শুরু করে তালিবানরা।

আরও পড়ুন তালিবানরাজে সুরক্ষিত নন মহিলারা, উদ্বেগ প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী Rhea Chakraborty

তালিবানদের কাবুল দখল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক তারকাই এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশেষ করে আফগানিস্তানে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন অনেকে। কারণ দেশ দখলের পর থেকে মহিলাদের ছবি দেওয়া পোস্টার ঢেকে দিতে শুরু করেছে তালিবানরা। ফলে দেশে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই। তাছাড়াও একাধিক ভিডিওতে তালিবান নাগরিকদের অবস্থা দেখে হতাশ গোটা বিশ্ব।

ইনস্টাগ্রামে এই পোস্ট করেই ট্রোলড হন অভিনেতা।

তার জন্যই ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করেছিলেন অভিনেতা সিদ্ধার্থ শুক্লা। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের কপালে হাত দেওয়া একটি সাদা-কালো ছবি পোস্ট করেন অভিনেতা। ক্যাপশনে লেখেন, “আফগানিস্তানের জন্য কষ্ট হচ্ছে। মানবতা এখনও বেঁচে আছে?” তারপরেই ব্যাপক ট্রোলের মধ্যে পড়েন তিনি।

আরও পড়ুন হাতিয়ার আফগান সমস্যা, ব্যর্থ বাইডেনের পদত্যাগ চাইলেন ট্রাম্প

জনৈক নেটনাগরিক লিখেছেন, “যা খুশি করুন। কিন্তু এগুলো করবেন না।” একটি মিম পেজ তার পোস্টের স্ক্রিনশট শেয়ার করে লিখেছে, “ইয়ে কৌনসা তারিকা হ্যে আফসোস জাতানে কা (এটা দুঃখ প্রকাশ করার কেমন কায়দা)।”

আরও পড়ুন এবারে শীতে বড় পর্দায় আসতে চলেছে দেব-রুক্মিণীর ‘কিশমিশ’, প্রকাশ্যে ছবির অ্যানিমেটেড টিজার

ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের রাশ নিজের হাতে নিয়েছে তালিবানরা। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আসরাফ ঘানি। দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও। তালিবানদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানের আকাশে কোনও অসমারকি বিমান চলাচল করতে পারবে না।

তালিবানরাজে সুরক্ষিত নন মহিলারা, উদ্বেগ প্রকাশ করলেন অভিনেত্রী Rhea Chakraborty

Rhea

নিউজ ডেস্ক: গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আগ্রাসন দেশজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী। আমেরিকার সামরিক কার্যালয় পেন্টাগনের তরফ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, তিনমাসের মধ্যেই কাবুল দখল করে ফেলবে তালিবানরা। কিন্তু কাল দুপুর থেকেই কাবুলে ঢুকে রাজধানী শহর দখল করতে শুরু করে তালিবানরা।

আরও পড়ুন এবারে শীতে বড় পর্দায় আসতে চলেছে দেব-রুক্মিণীর ‘কিশমিশ’, প্রকাশ্যে ছবির অ্যানিমেটেড টিজার

তালিবানদের কাবুল দখল নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক তারকাই এর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বিশেষ করে আফগানিস্তানে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে চিন্তা প্রকাশ করেছেন অনেকে। অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তী (Rhea Chakraborty) আফনিস্তানের সংখ্যা লঘু মহিলাদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারণ দেশ দখলের পর থেকে মহিলাদের ছবি দেওয়া পোস্টার ঢেকে দিতে শুরু করেছে তালিবানরা। ফলে দেশে মহিলাদের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেকেই।

এবার তা নিয়ে প্রতিবাদে সামিল হলেন বলিউড অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীও। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে রিয়া লিখছেন, “সারা বিশ্বের মহিলারা যখন সমান অধিকারের জন্য লড়াই করছেন, তখন আফগানিস্তানের মহিলাদের বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। আফগানিস্তানের অবস্থা দেখে সত্যিই যন্ত্রণা হচ্ছে। বিশ্বের নেতাদের অনুরোধ করছি এর জন্য পদক্ষেপ করার।”

Rhea Chakraborty and Tisca Chopra shared their thoughts on Instagram.

আরও পড়ুন হাতিয়ার আফগান সমস্যা, ‘ব্যর্থ’ বাইডেনের পদত্যাগ চাইলেন ট্রাম্প

অভিনেত্রী টিসকা চোপড়া তাঁর শৈশবের এক ছবি শেয়ার করেছেন। যেখানে মহিলাদের পশ্চিমী পোশাকে দেখা যাচ্ছে। ক্যাপশনে তিনি লিখছেন, শৈশবে এই কাবুলকে তিনি চিনতেন। পরিচালক শেখর কাপুর একাধিক টুইট করেছেন আফগানিস্তান নিয়ে। একটি টুইটে তিনি লিখছেন, “আফগানিস্তানের মানুষের জন্য বিশেষ ভাবে প্রার্থনা করছি। বিদেশি শক্তিদের ঔপনিবেশিক উদ্দেশ্যের জন্য একটা দেশ ধ্বংস হয়ে গেল।”

আরও পড়ুন আর মাত্র ১৫ দিন, জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করছেন Rhea Chakraborty

ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের রাশ নিজের হাতে নিয়েছে তালিবানরা। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আসরাফ ঘানি। দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও। তালিবানদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানের আকাশে কোনও অসমারকি বিমান চলাচল করতে পারবে না।

দেশ দখল করেছে তালিবানরা, আইপিএল খেলা নিয়ে সংশয়ে রশিদ-নবিরা

স্পোর্টস ডেস্ক: করোনা পরিস্থিতিতে অর্ধেক হয়ে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ। খুব তাড়াতাড়িই বাকি অর্ধেক টুর্নামেন্ট শুরু হবে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে। কিন্তু তাতে কি যোগ দিতে পারবেন আফগানিস্তানের দুই ক্রিকেটার রশিদ খান ও মহম্মদ নবি? তা নিয়েই তৈরি হয়েছে বড়সড় প্রশ্ন।

আরও পড়ুন হাতিয়ার আফগান সমস্যা, ব্যর্থ বাইডেনের পদত্যাগ চাইলেন ট্রাম্প

অন্যদিকে ইতিমধ্যেই গোটা আফগানিস্তান জুড়ে ক্রমশই বৃদ্ধি পাচ্ছে তালিবানদের আক্রমণ এবং তার সঙ্গে আতঙ্ক। আক্রমণের সঙ্গে সঙ্গে তাদের আগ্রাসন দেশজুড়ে ঊর্ধ্বমুখী। আমেরিকার সামরিক কার্যালয় পেন্টাগনের তরফ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছিল, তিনমাসের মধ্যেই কাবুল দখল করে ফেলবে তালিবানরা। কিন্তু কাল দুপুর থেকেই কাবুলে ঢুকে রাজধানী শহর দখল করতে শুরু করে তালিবানরা।

আরও পড়ুন তালিবানরাজ কায়েম হতেই দেশ ছাড়লেন আফগান প্রেসিডেন্ট

ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানের রাশ নিজের হাতে নিয়েছে তালিবানরা। দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন প্রেসিডেন্ট আসরাফ ঘানি। দেশ ছাড়তে শুরু করেছেন অন্যান্য দেশের নাগরিকরাও। তালিবানদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানের আকাশে কোনও অসমারকি বিমান চলাচল করতে পারবে না। এদিকে দুই আফগান ক্রিকেটার রশিদ খান ও মহম্মদ নবি এখন ইংল্যান্ডে।

আরও পড়ুন সমর্থকদের উদ্বেগ বাড়িয়ে আইএসএলে এখনও অনিশ্চিত লাল-হলুদ

দুজনেরই পরিবার আটকে রয়েছে কাবুলে। ঠিক ছিল ইংল্যান্ড থেকে সোজা দুবাইয়ে পৌঁছে যাবে আইপিএলের দ্বিতীয়ার্ধের খেলা খেলতে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তাদের কাবুলে ফেরা জরুরি। তারমধ্যেই সোমবার সকাল থেকেই তো মার্কিন সেনাদের সঙ্গে গুলির লড়াই শুরু হয়ে গিয়েছেনে তালিবানদের। দেশ ছাড়ার চেষ্টায় রয়েছেন আফগান নাগরিকরা।

আরও পড়ুন অভাবের সংসারে হাল ধরতে সবজি বিক্রি করছেন ভারতের বিশ্বকাপজয়ী ক্রিকেটার

এই পরিস্থিতিতে মন দিয়ে আইপিএল খেলাও যে দুষ্কর তা ভালই বুঝতে পারছে দুই ক্রিকেটারের আইপিএল দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা বিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

কাবুল বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনী

নিউজ ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য সহযোগী দেশের কূটনৈতিক এবং কর্মীদের সরিয়ে নিতে কাবুল বিমানবন্দরের পুরো নিয়ন্ত্রণ হাতে নিয়েছে আমেরিকান সৈন্যরা। তারা এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেছে।

তালিবানরা কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর হাজারে হাজারে মানুষ রাজধানী থেকে থেকে পালাতে চাইছে৷ তাদের দূরে সরিয়ে রাখতে বিমানবন্দরের রানওয়েতে কাঁটাতারের বেড়াও দিয়েছে মার্কিন সৈন্যরা। বাণিজ্যিক বিমান চলাচল বেশিরভাগ স্থগিত হয়ে রয়েছে। ফলে হাজার হাজার সাধারণ আফগান এবং বিদেশি নাগরিক বিমানবন্দরে আটকে পড়েছেন।

অন্যদিকে দেশ ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি৷ তালিবানরা কাবুল দখলের বেশ কয়েক ঘণ্টা বাদে রীতিমতো ফেসবুকে পোস্ট করে বিশ্ববাসীকে জানিয়েছেন, তালিবান কাবুল নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই রবিবার আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি৷

রবিবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, তিনি একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন৷ তিনি কি সশস্ত্র তালিবানের মুখোমুখি হবেন? নাকি যে দেশের জন্য ২০টি বছর দিয়েছেন, সেই দেশ ছেড়ে যাবেন। তিনি লিখেছেন, ‘’আমাকে সরিয়ে দিতে তালিবানরা পুরো কাবুল ও বাসিন্দাদের ওপর হামলা করতে এসেছে। রক্তপাত এড়াতে দেশ ছেড়ে যাওয়া ভালো হবে বলে আমি মনে করেছি,’’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘’তরবারি আর বন্দুকের ওপর নির্ভর করে তারা বিজয়ী হয়েছে। এখন আমাদের দেশবাসীর সম্মান, সম্পদ আর আত্মমর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও তাদের,’’ তবে আশরাফ গনি তাজিকিস্তান নাকি উজবেকিস্তান গিয়েছেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

‘দুটো ঢিল খেয়েই সমস্ত বিপ্লব শেষ’, দেবাংশুদের কটাক্ষ দিলীপের

নিউজ ডেস্ক: “দুটো ঢিল মেরেছে, আর তাতেই বিপ্লব শেষ।” ত্রিপুরায় আক্রান্ত যুব তৃণমূল নেতৃত্বকে এভাবেই কটাক্ষ করলেন ভারতীয় জনতা পার্টি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সোমবার ‘খেলা হবে’ দিবসের দিনে তৃণমূল নেতৃত্বকে কটাক্ষ করে দিলীপ বলেন, “খেলা তো সব জায়গায় শুরু হয়ে গিয়েছে। ত্রিপুরাতেও খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। ওঁরা শুরু করার আগে।”

আরও পড়ুন উত্তরবঙ্গে বন্যা, মালদায় গিয়ে ছবি তুলে লোক দেখাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী: দিলীপ ঘোষ

আজ থেকে রাজ্য জুড়ে ‘খেলা হবে’ দিবস পালন করছে তৃণমূল। গত বিধানসভা নির্বাচন থেকেই এই স্লোগানে ঝাঁপিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তারপরেই রাজ্যে নির্বাচনে জিতে তৃতীয়বারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। নির্বাচনের জেতার পরেই অন্যান্য রাজ্যের দিকে নজর দিয়েছে জোড়াফুল নেতৃত্ব। সেই লক্ষ্যেই পড়শি রাজ্য ত্রিপুরায় গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য নেতৃত্ব।

চলতি সপ্তাহের রবিবার ফের ত্রিপুরায় আক্রান্ত হন তৃণমূল নেতৃত্ব। দুই মহিলা সাংসদের গাড়ি ঘিরে ব্যাপক ভাঙচুর চলে বলে অভিযোগ। এমনকি সাংসদ অপরূপা পোদ্দারের ব্যাগ ছুড়ে ফেলা দেওয়া হয়। সাংবাদিক বৈঠক এই ঘটনার নিন্দা করার পাশাপাশি ত্রিপুরার রাজ্যপাল, মানবাধিকার কমিশন ও মহিলা কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসক দল।

আরও পড়ুন দিল্লির কৃষক আন্দোলন ভুয়ো, বিরোধীদের মদতপুষ্ট: দিলীপ ঘোষ

প্রসঙ্গত, ত্রিপুরায় প্রশান্ত কিশোরের আইপ্যাকের টিমকে আটকে রাখার নিয়ে শুরু হয় বিরোধ। কয়েকদিন আগে ত্রিপুরায় দলীয় কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়ে আক্রান্ত হন তৃণমূল কংগ্রেসের যুব নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্য, সুদীপ রাহা এবং জয়া দত্তরা। তারপর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় পৌঁছালে তাঁর ওপরেও হামলার অভিযোগ ওঠে স্থানীয় বিজেপি শিবিরের বিরুদ্ধে।

বারবার এই ঘটনায় বিপ্লব দেবের সরকারের দিকে আঙুল তুলছে রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব। সেই প্রসঙ্গেই দিলীপ ঘোষ বলেন, “এই ঘটনা নিয়ে খুব কান্নাকাটি করছে ওরা। ত্রিপুরায় বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের নিয়ে গিয়েছে। তাঁদের কেন নিয়ে যায়? কেউ বলছে সুইসাইড করব, কেউ বলছে রাস্তায় শুয়ে থাকবে- দুটো ঢিল মেরেছে আর তাতেই সব বিপ্লব শেষ!”

তালিবানের কাবুল দখলের আগেই দেশ ছেড়েছি: ফেসবুকে আশরাফ গনি

Ashraf Ghani on Facebook

নিউজ ডেস্ক: অবশেষে দেশ ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি৷ তালিবানরা কাবুল দখলের বেশ কয়েক ঘণ্টা বাদে রীতিমতো ফেসবুকে পোস্ট করে বিশ্ববাসীকে জানালেন গনি৷ তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তালিবান কাবুল নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই রবিবার আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি৷

রবিবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, তিনি একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন৷ তিনি কি সশস্ত্র তালিবানের মুখোমুখি হবেন? নাকি যে দেশের জন্য ২০টি বছর দিয়েছেন, সেই দেশ ছেড়ে যাবেন। তিনি লিখেছেন, ‘’আমাকে সরিয়ে দিতে তালিবানরা পুরো কাবুল ও বাসিন্দাদের ওপর হামলা করতে এসেছে। রক্তপাত এড়াতে দেশ ছেড়ে যাওয়া ভালো হবে বলে আমি মনে করেছি,’’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘’তরবারি আর বন্দুকের ওপর নির্ভর করে তারা বিজয়ী হয়েছে। এখন আমাদের দেশবাসীর সম্মান, সম্পদ আর আত্মমর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও তাদের,’’ তবে আশরাফ গনি তাজিকিস্তান নাকি উজবেকিস্তান গিয়েছেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করা ৭২ বছর বয়সী আশরাফ গনি দীর্ঘদিন বিদেশে কাটিয়েছেন। ২০০১ সালে তালিবানের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। ২০১৪ সালে তিনি প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য পুনঃনির্বাচিত হন।

এদিকে সোমবার তালিবান নেতারা আফগান বাসিন্দাদের ক্ষতি না করতে মুজাহিদিনদের নির্দেশন দিয়েছে৷ কাবুলের এক বাসিন্দাআয়শা খুররম একটি টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, আজ সকালে তিনি ঘুম থেকে উঠেছেন তাদের বাসার দরজার বাইরে চিৎকার আর গুলির শব্দ শুনে।

তিনি বলছেন, মানুষজন বলাবলি করছিল যে, মুজাহিদিনরা ঘরে ঘরে গিয়ে গাড়ি এবং ধনসম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু যখনি তারা শুনতে পেয়েছে যে, তালিবান কর্মকর্তারা আসছে, তারা দৌড়ে পালিয়েছে।

এর মাত্র এক ঘণ্টা আগেই তালিবান পুনরায় নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছে যে, তারা আফগান বেসামরিক নাগরিকদের কোনরকম ক্ষতি না করার জন্য যোদ্ধাদের নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, কাবুলে প্রবেশের সময় তুলনামূলক উদার মনোভাব প্রদর্শন করেছে তালিবান।

হাতিয়ার আফগান সমস্যা, ‘ব্যর্থ’ বাইডেনের পদত্যাগ চাইলেন ট্রাম্প

আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবানরা। তাজিকিস্তানে আশ্রয় নিয়েছেন দেশের প্রেসিডেন্ট ঘানি। তারপরেই বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনর পদত্যাগ দাবি করলেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে কার্যত দু’ভাগে ভাগ হয়ে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প জানিয়ে দেন, “আফগানিস্তানে যে লজ্জাজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য প্রেসি়ডেন্ট জো বাইডেনের উচিত পদত্যাগ করা।”

আরও পড়ুন তালিবানদের হয়ে যুদ্ধ করতে আফগানের পথে বাংলাদেশি জঙ্গিরা: পুলিশ কমিশনার

আমেরিকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ৯/১১ হামলার পরই তাদের ন্যাটো বাহিনী দখল নেয় আফগানিস্তানের। প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় আফগান সেনাদের, জেলবন্দি করা হয় তালিবানদের। বিশ্বজুড়ে আল কায়েদার যে দাপট ছিল, তাও নিয়ন্ত্রণে আনে মার্কিন সেনা। লক্ষ্য ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সন্ত্রাসমুক্ত করা। কিন্তু ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তালিবানদের সঙ্গে দোহায় চুক্তি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই চুক্তিতে বলা হয়, আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে মার্কিন সেনা, কিন্তু আমেরিকায় সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বন্ধ রাখবে তারা। অন্য সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীকে আমেরিকায় হামলা করা থেকে বিরত রাখারও চেষ্টা করবে তালিবানরা।

এই চুক্তির পরেই নির্বাচনে হেরে যান ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে ক্ষমতায় বসেন জো বাইডেন। কিন্তু, ক্ষমতায় এসেও তিনি ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকেই পূনর্বহাল রাখেন। উল্টে জানান, এই বছরের সেপ্টেম্বরের আগেই আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। আমেরিকার ভবিষ্যতবানী ছিল, আগামী তিন মাসের মধ্যে আফগানিস্তান দখল করবে তালিবানরা। যদিও সে হিসেব উল্টে তিনদিনের মধ্যে কাবুল দখল করেছে তালিবানরা।

Jamaat-Hefazat leaders determined to create Taliban state in Bangladesh

অনেক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞই ভেবেছিলেন, তালিবানদের বাড়বাড়ন্ত দেখে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখবেন বাইডেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত না বদলে বাইডেন জানান, “আফগান নেতাদের একজোট হতেই হবে। আফগানিস্তানের সেনার সংখ্যা তালিবানদের তুলনায় অনেক বেশি। তাদের দেশের জন্য লড়াই চালাতেই হবে।” এরপরেই বাইডেনকে কটাক্ষ করে আমেরিকানদের উদ্দেশ্য করে টুইট করেন ট্রাম্প। সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “আমায় মিস করছেন কি?” শুধু তাই নয়, আমেরিকায় করোনা পরিস্থিতি, অর্থনীতি সহ নানা বিষয়েও বাইডেনের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি।

Ekolkata24 এখন টেলিগ্রামেও

আফগান সংকটমোচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত মিলছে

russian army kazakhstan

নিউজ ডেস্ক: এক সময় আফগানিস্তান থেকে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ দূর করতেই তালিবান জঙ্গিদের জন্ম দিয়েছিল আমেরিকা৷ সেই তালিবানের সঙ্গে নিয়েই আমেরিকার ট্যুইন টাওয়ার ধ্বংস করেছিল ওসামা বিন লাদেনের আল কায়দা৷ তাই লাদেনের আশ্রয়দাতা আফগানিস্তান থেকে তালিবান উৎখাতে কার্যত যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ৷ ২০ বছরের যুদ্ধ শেষে কার্যত পরাস্ত আমেরিকা সেনা প্রত্যাহার করেছে আফগানিস্তান থেকে৷ বাইডেনের নির্দেশে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মাত্র একমাসের মধ্যে আফগানে ফের তালিবান শাসক কায়েম হল৷

সেই সেই আফগানিস্তানকে বাঁচাতে ত্রাতার ভূমিকা নিতে চলেছে প্রাক্তন কেজিবি প্রধান তথা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন৷ রবিবার তালিবানরা কাবুলের প্রেসিডেন্ট ভবনের দখল নেওয়ার পরেই নড়েচড়ে বসেছেন ক্রেমলিনের কর্তারা৷ আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আলোচনার জন্য রাশিয়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি জরুরি বৈঠক ডাকার পরিকল্পনা করছে। বিদেশ নীতি বিষয়ে রুশ সংসদের একজন মুখপাত্র বলেছেন, মানবিক বিপর্যয় রোধ করা এখন খুবই জরুরি। মনে করা হচ্ছে, আফগানিস্তানকে তালিবান শাসন মুক্ত করতে ঘুঁটি সাজাচ্ছে ক্রেমলিন৷ ইতিমধ্যে সাবেক সোভিয়েত আফগান সীমান্ত যেটি এখন তাজিকিস্তানের অধীনে পড়ে, সেখানেই বিপুল পরিমান রুশ সেনা, সাঁজোয়া গাড়ি, ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন শুরু করেছে রাশিয়া সরকার। তাদের সঙ্গে রয়েছে তাজিক সেনা ও আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে আসা সেনাকর্মীরা।

Russian intervention in resolving the Afghan crisis

নব্বই দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন অবলুপ্ত হয়। তখনই তাজিকিস্তান স্বাধীন দেশ হিসেবে নিজেকে ঘোষণা করে। এর পরেও তাজিকিস্তানে রুশ সেনার সবথেকে বড় সেনা ঘাঁটি রয়েছে। ক্রেমলিন কোনওদিনই আফগান সীমান্তকে অবহেলা করেনি। এবার তা করবে না বলেই মনে করা হচ্ছে৷

ইইউর একজন মুখপাত্র সংবাদ সংস্থা বিবিসিকে বলেছেন, আফগানিস্তানে মানবাধিকার লংঘন হচ্ছে কিনা এবং মহিলাদের অধিকার মেনে চলা হচ্ছে কিনা, তার ওপর নির্ভর করবে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখা হবে কিনা।
অন্যদিকে ভ্যাটিকানে পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই আফগানিস্তানে দীর্ঘমেয়াদে শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ব্রিটিশ সংসদে গ্রীষ্মকালীন ছুটির মধ্যে এই সংকট নিয়ে আলোচনার জন্য বুধবার সংসদের জরুরি অধিবেশন ডেকেছেন।

আশির দশকে আফগানিস্তানের গৃহযুদ্ধের সুযোগে সে দেশে ঢুকেছিল ততকালীন সোভিয়েত লাল ফৌজ। তাদের সঙ্গে আফগান ধর্মীয় সংগঠনগুলির সংঘর্ষ হয়। তবে আফগানিস্তানের নিমন্ত্রণ নেয় সোভিয়েত ইউনিয়ন।নব্বই দশকে সোভিয়েত পতনের পর আফগানিস্তান থেকে সরে যায় লাল ফৌজ। দেশটির দখল নিতে ধর্মীয় গেরিলা সংগঠনগুলি থেকে জন্ম নেয় তালিবান। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদতে আফগানিস্তানে তাদের জয় হয়, এটি প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

তালিবান জঙ্গি সরকার আফগানিস্তানের ক্ষমতায় আসা, আমেরিকার টুইন টাওয়ার ধংস, আল কায়েদা সংগঠনের প্রধান লাদেনের আফগানিস্তানে আত্মগোপন সবমিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সেনা পাঠায় এ দেশে। সম্প্রতি সেই সেনা সরতে শুরু করেছে। সেই সঙ্গে তালিবান ফের হামলা চালাচ্ছে। প্রায় অরক্ষিত আফগানিস্তানে এবার কি তালিবান নিধনে রুশ সেনা ঢুকবে?