দিল্লির মসনদ থেকে মোদী উৎখাতে মমতা-অরবিন্দ বৈঠক

After 'tea' with Sonia Gandhi, Mamata Banerjee meets Arvind Kejriwal in Delhi

নিউজ ডেস্ক: বাংলায় ব্যাপক সাফল্যের পর তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবার টার্গেট দিল্লির মসনদ দখল৷ সেই লক্ষ্যে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর দিল্লিতে ঘাঁটি করেছেন মমতা৷ মঙ্গল এবং বুধবার জাতীয় রাজনৈতিকস্তরে একের পর এক বৈঠক করছেন তিনি৷ প্রতিটি বৈঠকের পরেই মমতার চোখেমুখে ছিল দিল্লি দখল নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প৷

বুধবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পর অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এদিন বিকেলে অরবিন্দ কেজরিওয়াল তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান। তাঁদের মধ্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যথেষ্ট ইতিবাচক হয়েছে তাদের বৈঠক৷ আগামিদিনে এই বৈঠকের ভালো ফল আশা করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো বলেও জানান সংবাদমাধ্যমকে৷ কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে দেশের সমস্ত বিরোধী দলগুলিকে একত্র করতেই দিল্লি সফরে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘রাহুলের উপস্থিতিতে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সদর্থক বৈঠক হয়েছে’: মমতা

Mamata Banerjee meets Sonia Gandhi on Prez race, unity bid

নিউজ ডেস্ক: বিকেল সাড়ে ৪টায় ১০ নম্বর জনপথে গিয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  বৈঠকের রাহুল গান্ধী উপস্থিত ছিলেন বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বৈঠকের পর সোনিয়া গান্ধীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন,‘দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাহুলের উপস্থিতিতে সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে সদর্থক বৈঠক হয়েছে।’

দেশের রাজনীতিতে এখন সরগরম পেগাসাসকাণ্ড। ন সেই বিষয়টি এই বৈঠকে উঠে এসেছিল বলেই জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।তিনি বলেন,”করোনা থেকে পেগাসাস, সব ইস্যুতেই কথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিজেপিকে হারানোর জন্য সবাইকে একসঙ্গে জোট বেঁধে লড়তে হবে। আমি লিডার নই, আমি ক্যাডার। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত সংসদে পেগাসাস নিয়ে জবাব দেওয়া।’’

অন্যদিকে বুধবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন,”আগামিদিনে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গোটা দেশের লড়াই হবে৷” তিনি আরও বলেন,”‘আমরা বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কোভিড সঙ্কট মিটে গেলে আমরা বৈঠক করতে পারি।’

বিরোধীদের জোট প্রসঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একমত, সেই কথা সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানালেন। তিনি বলেন,” সোনিয়া গান্ধীও বিরোধী ঐক্য চাইছেন। এখন অন্য দলগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।’

“আগামিদিনে নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে গোটা দেশের লড়াই হবে”: মমতা

Mamata Banerjee, Sonia Gandhi to hold meeting with Opposition CMs over NEET

নিউজ ডেস্ক: লোকসভা নির্বাচনের আগে বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনগুলিকেও পাখির চোখ করেছেন তৃণমুল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৪ পর্যন্ত অপেক্ষা করা নয়৷ উত্তর প্রদেশে বিজেপি-র বিজয়রথ থামিয়ে দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য৷ তার জন্য যে, অবিজেপি দলগুলোকে একজোট হতে হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বুধবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন,”আগামিদিনে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গোটা দেশের লড়াই হবে৷” তিনি আরও বলেন,”‘আমরা বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কোভিড সঙ্কট মিটে গেলে আমরা বৈঠক করতে পারি।’

বিরোধীদের জোট প্রসঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একমত, সেই কথা সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানালেন। তিনি বলেন,” সোনিয়া গান্ধীও বিরোধী ঐক্য চাইছেন। এখন অন্য দলগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।’ 

শহর কলকাতায় ভুয়ো পুলিশ গ্রেফতার করল লালবাজারের গোয়েন্দারা

fraud police

নিউজ ডেস্ক: লালবাজার গোয়েন্দাদের ফাঁদে ভুয়া পুলিশ ।পুলিশ সেজে প্রতারণার অভিযোগ ধৃত সুমন ভৌমিকের বিরুদ্ধে। সাব ইন্সপেক্টর পরিচয় দিয়ে হরিদেবপুরের রাজদেও সিং নামের এক ব্যক্তির থেকে 48 লক্ষ টাকা প্রতারণা করার অভিযোগ রয়েছে এই অভিযুক্ত বিরুদ্ধে । এই অভিযুক্ত প্রাক্তন সিভিক ভলেন্টিয়ার ছিল বলে জানা যাচ্ছে। এর আগে একটি প্রতারণার মামলায় তার নাম জড়ায় এবং তার সেই চাকরি চলে যায় বলে জানা যাচ্ছে। তারপরে সে ভুয়ো সাব-ইন্সপেক্টর পরিচয় দিয়ে আবারও প্রতারণা জাল বিস্তার করে।

প্রতারণার শিকার হওয়া হরিদেব পুরের রাজ দেও সিং নামের ব্যক্তি দ্বারস্থ হয় লালবাজারে। চারু মার্কেট থানাতেও একটি অভিযোগ দায়ের করেন। লাল বাজার তদন্তে নেমে সুমন ভৌমিক নামের ভুয়ো পুলিশ পরিচয় ব্যক্তি কে গ্রেফতার করে।

তালিবানদের বামিয়ান উপত্যকার বৌদ্ধ মূর্তি ধ্বংসের ২০ বছর

Afghanistan’s Bamiyan Buddhas to be reconstructed using laser scanning, 3D printing

নিউজ ডেস্ক: কাবুল থেকে ২০০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে বামিয়ান উপত্যকার৷ এক সময় এটি ঐতিহাসিক সিল্করুটের অংশ ছিল৷ ষষ্ঠ শতাব্দীতে বৌদ্ধদের অন্যতম কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয় বামিয়ান৷ কয়েক হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষুর বসবাস ছিল তখন এই উপত্যকায়৷

ভিক্ষুদের হাত ধরে পার্বত্য অঞ্চলটিতে তাদের শিল্প ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটে৷ লাল বেলেপাথরের পাহাড়ের গায়ে গুহা তৈরি করে তারা বসবাস করতেন৷ এই পাথর দিয়েই গড়েন বুদ্ধের প্রকাণ্ড মূর্তি৷ চিনের বৌধ ভিক্ষু ও পরিব্রাজক সুয়েনজাং সপ্তম শতাব্দীতে এখানে এসেছিলেন৷ বামিয়ান উপত্যকার কথা তিনি লিখেছেন এভাবে, ‘‘কয়েক ডজন মন্দির আর হাজারো ভিক্ষুর বসবাস সেখানে৷ বুদ্ধের দণ্ডায়মান মূর্তি ৫০ মিটার উঁচু, যার থেকে সোনালী আভা ছড়িয়ে পড়ে৷’’ সুয়েনজাং পরিচিত হিউয়েন সাঙ নামেও৷

সবচেয়ে উঁচু মূর্তিটি ছিল ৫৩ মিটার উঁচু দীপঙ্কর বুদ্ধের প্রতিভূ৷ ইতিহাসবিদদের মতে, এর নির্মাণশৈলীতে গ্রিকদের হেলেনিস্টিক বৈশিষ্টের সঙ্গে বৌদ্ধ শিল্পকলার মেলবন্ধন ঘটে৷ প্রায় এক হাজার খ্রিষ্টাব্দে বামিয়ান উপত্যকা মুসলিম শাসনের অধীনে আসে৷ তখনও বহাল তবিয়েতে ছিল মূর্তিগুলো৷ বিশ শতকেও জায়গাটি অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে টিঁকে ছিল৷ তবে ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত আগ্রাসনের পর বদলে যায় চিত্র৷ কৌশলগত গুরুত্বের কারণে সোভিয়েতদের বিরুদ্ধে আমেরিকার মদতপুষ্ট মুজাহিদিনদের যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয় বামিয়ান উপত্যকা৷

বিভিন্ন শাসনকালে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য হিসেবে হাজার বছর টিঁকে থাকলেও ২০০১ সালের মার্চে তালিবানরা বামিয়ানের বৌদ্ধ মূর্তি ধ্বংস করে৷ কাবুলের জাতীয় জাদুঘরও তছনছ করে তারা৷ ধ্বংসের পরে ইউনেস্কো বামিয়ানকে বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে৷ সেখানে আবারও বৌদ্ধ মূর্তি গড়ে তোলার বেশ কয়েকটি প্রস্তাব উঠলেও, এখন পর্যন্ত তার কোনটি বাস্তবায়ন হয়নি৷

MISSION PARLIAMENT: মমতার নেতৃত্বে রাজধানীতে হোমওয়ার্ক তৃণমূল সাংসদের

Mamata Banerjee meeting AITC MPs at Sukhendu Sekhar Roy's residence

নিউজ ডেস্ক: ২০২১ বিধানসভা ভোটে বাংলায় মোদী-শাহ অ্যান্ড কোম্পানিকে ধরাশায়ী করে তৃণমূল কংগ্রেসের এখন লক্ষ্য নয়াদিল্লি৷ আর সেই লক্ষ্যপূরণেই রাজধানীর রাজনীতির ময়দানে কোমর বেঁধে নেমে পড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস৷ জাতীয় রাজনৈতিক স্তরে বিজেপিকে ঠেকাতে কার্যত ব্যর্থ সোনিয়া-রাহুলের কংগ্রেস৷ বাংলায় ব্যাপক জয়ের পর এখন কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারিকা তাকিয়ে আছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই৷ তাই মমতার এবারের মমতার দিল্লি সফরকে বেশ গুরুত্ব দিয়েই দেখছে রাজনৈতিক মহল৷ গত কয়েকদিন নয়াদিল্লিকে মমতার ঠাসা কর্মসূচি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে৷

মঙ্গলবার রাজধানীতে সুখেন্দুশেখর রায়ের বাড়িতে তৃণমূল সাংসদের বৈঠক হল। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল সংসদীয় বৈঠক হয়। এই বৈঠকের মূলত আগামিদিনের ব্লু প্রিন্ট তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচন এখন পাখির চোখ তৃণমূলের কাছে। সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

তৃণমূল সুপ্রিমোর নেতৃত্বে এই বৈঠকে বিজেপি বিরোধী বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামিদিনে সংসদে বিজেপির বিরুদ্ধে কোন কোন ইস্যু তৃণমূল সাংসদরা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে, সেই বিষয় নিয়ে রূপরেখা তৈরি করে দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে সূত্রের খবর।

২১ জুলাই শহীদ দিবসের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিজেপি দলগুলিকে একজোট হওয়ার কথা বলেছিলেন। সেই লক্ষ্যেই৷ ইতিমধ্যেই জাতীয়স্তরে মমতার পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে সিপিএম নেতা বিমান বসু৷ এনিয়ে বাংলার রাজনীতির ময়দানে বেশ শোরগোল পড়েছে৷ এদিকে, বুধবার বিকেলে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে মমতা-সোনিয়ার এই বৈঠক খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এই বৈঠকের আগে দলের সাংসদদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনায় বসেছেন সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

চলতি বছরে বিশ্বজুড়ে সাতটি ভয়াবহ বিপর্যয়

Rebuilding after Natural Disasters

নিউজ় ডেস্ক: ২০২০ থেকে এখনও পর্যন্ত মারণ করোনাভাইরাসের কোপে বিপর্যস্ত৷ এখনও বিশ্বের বহু দেশ এই মহামারিতে রীতিমতো দিশেহারা৷ এই মহামারির সঙ্গে নতুন করে নানা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কবলে বিশ্ববাসী৷ কোথাও ভয়াবহ বন্যা৷ কোথাও ভূমিধস৷ আবার মস্কো, কানাডার মতো শীতপ্রধান দেশও জ্বলছে প্রচণ্ড গরমে৷ চলতি বছরে ঘটে যাওয়া সাতটি ভয়াবহ বিপর্যয় তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে৷

ইউরোপে বন্যা: গ্রীষ্মকালে অতিবৃষ্টির কারণে ইউরোপের জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়ামে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে৷ আকস্মিক এই বন্যায় শুধুমাত্র জার্মানি ও বেলজিয়ামেই দুইশ নয় জন প্রাণ হারিয়েছে৷ আর ঘরছাড়া হয়েছেন শত শত মানুষ৷ এমন বন্যা গত এক দশকেও দেখেনি ইউরোপ৷

আক্রান্ত চিন-ভারতও: অতিবৃষ্টির কারণে বিশ্বের সবচেয়ে দুই জনবহুল রাষ্ট্র চিন এবং ভারতেও বন্যা দেখা দিয়েছে৷ হতাহতের সংখ্যাও নেহাত কম নয়৷ বিজ্ঞানীদের ধারণা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাবের কারণেই এমন পরিস্থিত তৈরি হচ্ছে৷ যা আসছে বছরগুলোতেও হতে পারে৷

মঙ্গায় আক্রান্ত লক্ষাধিক মানুষ: তীব্র খরায় কারণে ফসল উৎপাদন না হওয়ায় আফ্রিকার দেশ মাদাগাস্কারের প্রায় ১১ লক্ষ ৪০ হাজার মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে পড়েছে৷ পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, সেখানকার মানুষ ক্ষুধা মেটাতে ক্যাকটাস ও পোকামাকড় খেয়ে জীবন বাঁচানোর চেষ্টায় আছে৷

রেকর্ড গরম যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যানাডায়: ইউরোপ কিংবা এশিয়া যখন বন্যায় নাকাল, যুক্তরাষ্ট্র ও ক্যানাডার কিছু অঞ্চল তখন উচ্চ তাপমাত্রায় পুড়ছে৷ দক্ষিণ ক্যানাডার লিটোন অঞ্চলে সর্বোচ্চ ৪৯ দশমিক ছয় ডিগ্রি পর্যন্ত রেকর্ড হয়েছে৷

প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘর ছাড়া হাজারো মানুষ: প্রাকৃতিক দুর্যোগে মুখে ঘরছাড়া মানুষের সংখ্যা গত এক দশকের মধ্যে ২০২০ সালেই সবচেয়ে বেশি ছিল৷ পরিসংখ্যান বলছে, বন্যা, বৃষ্টি ও খরাসহ নানা ধরনের প্রকৃতিক দুর্যোগের কারণে ২০২০ সালে সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন৷

ঝুঁকিতে আমাজন: এদিকে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিল দগ্ধ হচ্ছে তীব্র খরায়৷ এমন খরা গত একশ বছরেও দেখেনি ব্রাজিল৷ এর ফলে পৃথিবীর ফুসফুস হিসেবে খ্যাত আমাজনে দাবানল ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে৷

দাবানলে পুড়ছে: উষ্ণ তাপমাত্রায় সৃষ্ট তীব্র গরম কমে এলেও আবহাওয়ার শুষ্কতার কারণে দেখা দিচ্ছে অন্য বিপদ৷ যুক্তরাজ্যের অরিগন অঞ্চলের কথাই ধরুন৷ সেখানে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট দাবানলে দুই সপ্তাহে বিশাল এলাকা পুড়ে গিয়েছে৷

রাজনীতিকে সঙ্গে রেখেই অভিনেত্রী সায়নীর ‘বড়’ সিদ্ধান্ত

Saayoni Ghosh likes to experiment with her hair

বায়োস্কোপ ডেস্ক: একজন অভিনেত্রী আর একজন পরিচালক। ছবি তৈরির সময় তাঁদের এটুকু পরিচয়ই যথেষ্ট। একথা একশো শতাংশ সত্য। তবে একুশের নির্বাচনের আগে একসময়ের ‘বামপন্থী’ মনস্ক সায়নী ঘোষ তৃণমূলে যোগদান করে নির্বাচনের টিকিট পান। তখন থেকেই সায়নীকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় নানা মহলে।

পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে লোকে তুলে আনেন অনীক দত্তের ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবির প্রর্দশন বন্ধ করার পর ছবির টিমের আন্দোলনের কথা। সেই আন্দোলনে বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন সায়নীও। তবে এই মুহূর্তে এসব পুরনো বিতর্ক ভুলে শুধু অভিনয়ের জন্যই অনীক দত্তের ছবিতে কামব্যাক করে ফেললেন অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। এক্ষেত্রে অনীক শুধুই পরিচালক আর সায়নী শুধুই অভিনেত্রী!

পরিচালক অনীক দত্ত তৈরি করছেন ‘অপরাজিত’। ছবির নাম শুনে অনেকেই মনে করেছিলেন অনীক দত্ত সত্যজিৎ রায়ের বায়োপিক বানাচ্ছেন। তবে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর এই ছবি একেবারেই সত্যজিতের বায়োপিক নয়। বরং, ‘পথের পাঁচালী’ ছবিটি করার সময় এবং সত্যজিৎ রায়ের লড়াই থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তৈরি হয়েছে এই ছবির গল্প। ছবির প্রেক্ষাপট ১৯৫৫ সাল।

অনীকের এই ছবিতেই এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে। ছবিতে বিমলা রায় নামে এক মহিলা চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। সংবাদমাধ্যমে সায়নী জানিয়েছেন, ‘আমার এই চরিত্র সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী বিজয়া রায়ের ছায়াতেই তৈরি হবে। যেহেতু এই ছবি বায়োপিক নয়, সেহেতু বিমলা রায় আসলে বিজয়া রায়, তা বলা যাবে না। তাই এই চরিত্রে অভিনয় করার সময় অবশ্যই আমার নিজস্বতা থাকবে।’

অনীক দত্তের সঙ্গে আগেও কাজ করেছেন সায়নী। তাই অনীক ঠিক কীরকম কাজ চান, তা অভিনেত্রী জানেন। সায়নীর কথায়, ‘অনীকদা দুর্দান্ত গাইড করেন। তাই এই চরিত্রের ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী।’

সায়নী এখন তৃণমূল কংগ্রেসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাই রাজনীতির সঙ্গে সিনেমার শুটিং থাকায়, কাজের চাপটা যে একটু বেড়ে যাবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে সায়নীর কথায়, ‘দুটো দিককে সামলাতে আমি জানি। কাজ আর রাজনীতি দুই ক্ষেত্রেই সমান মনযোগ থাকবে।’

সায়নীর বিপরীতে দেখা যাবে অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়কে। সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হবে ছবির শুটিং। কয়েকদিন আগে অনীক দত্ত তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন শিল্পীদের স্ক্রিপ্ট রিডিং সেশনের ছবিও।

ওয়েব সিরিজে অভিনয় করতে কি ভয় পাচ্ছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া

Bengali Hot Teen Ditipriya Roy

বায়োস্কোপ ডেস্ক: ছোট পর্দার জনপ্রিয় মুখ দিতিপ্রয়া এবার ওয়েব সিরিজে আস্তে চলেছেন। এতকাল তিনি রানী রাসমণির চরিত্রে মন কেড়েছে দর্শকদের। তবে যে কনফিডেন্স নিয়ে তিনি ছোটপর্দায় কাজ করেছেন সেই আত্মবিশ্বাস একটু হলেও টলোমলো হয়েছে বড় টিমের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে। অভিনেত্রী নিজের নিজের শৈশব সাইটে লিখেছেন “চিন্তা হচ্ছে”। পারি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে সমালোচনা। নেটিজেনরা ভাবছেন অভিনেত্রী কোথায় ভয় পাচ্ছেন বড় প্রজেক্টে কাজ করার বিষয়।

ফিসফাস শোনা যাচ্ছিল বেশ কয়েকদিন ধরেই। এবারে তাতে পড়ল সিলমোহর। ওয়েবে ডেবিউ করছেন ‘রানিমা’ ওরফে দিতিপ্রিয়া রায়। ছোটপর্দা এবং ‘রানিমা’ দুইই ছেড়ে একেবারে নতুন অবতারে, নতুন প্ল্যাটফর্মে হাজির হচ্ছেন তিনি। চলতি মাসেই ‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’ ধারাবাহিকে মহাপ্রয়াণ পর্বের মাধ্যমে এই জনপ্রিয় শো-কে বিদায় জানিয়েছেন দিতিপ্রিয়া। এরপর নিজের লুক পাল্টানোর ব্যাপারেও ইচ্ছেপ্রকাশ করেছিলেন। সেইমতো নিজের একঢাল চুল ‘চপি’ স্টাইলে কাটিয়ে নিজের ভোল বদলে ফেলেছিলেন ‘রানিমা’.

ছোট করে কাটা চুলের সঙ্গে ওয়েস্টার্ন পোশাকের সঙ্গতে এই মর্ডান লুকে এই অভিনেত্রী নিশ্চিতভাবে বর্তমানের ‘টক অফ দ্য টাউন’. জানা গেছে, হইচইয়ের জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘তানসেনের তানপুরা’র তিন নম্বর সিজনের শুটিং। এই সিরিজেই ‘রানিমা’-র ইমেজ ভেঙেচুরে একেবারে নতুন লুকে, নতুনভাবে হাজির হবেন দিতিপ্রিয়া।

‘তানসেনের তানপুরা’-র এই তিন নম্বর সিজনের নাম এখনও পাকাপাকিভাবে ঠিক না হলেও ওয়ার্কিং টাইটেল হিসেবে রাখা হয়েছে ‘রুদ্রবীণার অভিশাপ’. নাম থেকেই স্পষ্ট এই সিজনেরও পরতে পরতে জড়িয়ে থাকবে থ্রিলার এবং অ্যাডভেঞ্চার। থাকবে ফেলে আসা ইতিহাসের গন্ধ। তবে এই সিরিজে বিক্রম চট্টোপাধ্যায় আর রূপসা চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি দিতিপ্রিয়ার চরিত্রটি ঠিক কী সেই বিষয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন নির্মাতা সংস্থা থেকে শুরু করে স্বয়ং অভিনেত্রী।
তবে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তাঁর এই যাত্রা যে এক্কেবারে ‘নিউ এজ গার্ল’ এর অবতারেই হতে চলেছে এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এতদিনের মাথায় ঘোমটা দেওয়া পরিচিত অবতারে নন, বরং ওয়েস্টার্ন এবং ইন্দো-ওয়েস্টার্ন পোশাকেই দাপিয়ে বেড়াবেন রহস্য,অ্যাডভেঞ্চারে মোড়া এই অভিযান সিরিজ। সূত্রের খবর, চলতি সিজনের অন্যতম কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবেই দর্শকদের সামনে হাজির হবেন ‘রানিমা’।

অসম-মিজোরাম পুলিশের লড়াইয়ে মৃত ছয়

A still from a video of the Assam-Mizoram border clash on Monday

নিউজ ডেস্ক: উত্তর-পূর্ব ভারতের অসম ও মিজোরামের পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ৷ দুই রাজ্য পুলিশের মধ্যে ছয় ঘণ্টা ধরে লড়াই চলল৷ এই লড়াইয়ে অসমের ছয় পুলিশ কর্মী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আর ৮০।

সোমবার লায়লাপুর সীমানার কাছে অসমের দিকে আসছিলেন কিছু সরকারি কর্মী। তখন উত্তেজিত জনতা তাদের লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ে। এরপর অসম সরকার সীমানায় প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করে। শুরু হয় দুই মুখ্যমন্ত্রীর টুইট-যুদ্ধ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে টুইট করে মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গা বলেন, ”আপনি দয়া করে বিষয়টি দেখুন। এখনই এই সব বন্ধ করুন।” অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মাও টুইট করে অমিত শাহকে বলেন, ”এভাবে সরকার চালান যায় না।” দুই মুখ্যমন্ত্রী টুইটের সঙ্গে করে ভিডিও শেয়ার করেন।
এরপর শুরু হয় দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ। অসমের অভিযোগ, মিজোরাম লায়লাপুরে জঙ্গল কেটে রাস্তা তৈরি করছে পুলিশের একটি ক্যাম্প তৈরির জন্য। অসম সেটা চায় না। অসমের পুলিশ বাহিনীকে প্রথমে দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করে। তারপর মিজোরাম পুলিশ আক্রমণ চালায়। তারা লাইট মেশিন গান ব্যবহার করেছে বলেও অসম পুলিশ জানিয়েছে।

মিজোরাম সরকার জানিয়েছে, অসম পুলিশ সীমানা পেরিয়ে তাদের দিকে এসে কোলাসিবে একটি পুলিশের ক্যাম্প ভেঙে দেয়। তারা জাতীয় সড়কে আসে, গাড়ি ভাঙচুর করে এবং মিজো পুলিশের উপর গুলি চালায়।
দুই দিন আগেই শিলংয়ে উত্তর পূর্বের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন অমিত শাহ। তারপরেই এই কাণ্ডে উত্তাল উত্তর-পূর্ব ভারত। অমিত শাহ জোরামথাঙ্গা এবং হিমন্ত বিশ্বশর্মা দুই জনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। তাদের অবিলম্বে বিরোধ মিটিয়ে নিতে বলেছেন।

অসম ও মিজোরামের সীমানা-বিরোধ নতুন নয়। গত জুন মাসেও দুই রাজ্য বিরোধে জড়িয়েছিল। মিজোরামের সঙ্গে অসমের ১৬৪ কিলোমিটার লম্বা সীমানা রয়েছে। মিজোরামের তিন জেলা আইজল, কোলাসিব ও মামিট ও অসমের কাছার, হাইলাকান্দি ও শিলচর সীমানায় অবস্থিত। অসমের মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবার শিলচর সফরে যাচ্ছেন। তিনি বলেছেন, মিজোরামের পুলিশ কীভাবে আক্রমণ করেছে, তা ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে।

মিজোরাম সরকার সীমানা নির্ধারণের জন্য বাউন্ডারি কমিশন গঠন করেছে। তবে শুধু মিজোরাম নয়, মেঘালয় এবং অরুণাচলের সঙ্গেও অসমের সীমানা-বিরোধ আছে। তবে দেশের মধ্যে দুইটি রাজ্য যেভাবে সীমানা বিরোধে জড়িয়েছে, দুই রাজ্যের পুলিশের মধ্যে লড়াই হচ্ছে, পুলিশ কর্মী মারা যাচ্ছেন, তাতে বোঝা যাচ্ছে পরিস্থিতি কতটা খারাপ। আর এই সংঘর্ষ খুব একটা ভালো ছবি তুলে ধরছে না।

অলিম্পিক: ইজরায়েলের প্রতিদ্বন্দ্বীকে এড়াতে ইভেন্ট থেকে সরলেন সুদানি জুডো খেলোয়াড়

Algerian judoka Fethi Nourine

নিউজ ডেস্ক: টোকিও অলিম্পিকের আসরও ইহুদিবাদী ইস্যু মাথাচাড়া দিল৷ আর সেই কারণেই ইহুদিবাদী ইজরায়ালির প্রতিদ্বন্দ্বীকে এড়াতে নিজের ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সুদানের জুডো খেলোয়াড় মহম্মদ আব্দুর রসুল। এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত টোকিও অলিম্পিকে দুইজন অ্যাথলিট ইজরায়েলের প্রতিদ্বন্দ্বীকে এড়াতে অলিম্পিকের এই ইভেন্ট থেকে সরে দাঁড়ালেন।

ফিলিস্তিনের ওয়াফা নিউজ এজেন্সি জানাচ্ছে, সুদানের খেলোয়াড় আব্দুর রসুল পুরুষদের ৭৩ কেজি ওজন বিভাগে ইহুদিবাদী ইজরায়েলের প্রতিদ্বন্দ্বী তোহার বুটবুলের বিরুদ্ধে খেলায় অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আলজেরিয়ার জুডো খেলোয়াড় ফেথি নুরাইন ইজরায়েলের একই খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্ত নেন। এরইমধ্যে নুরাইন আলজেরিয়ায় ফিরে গিয়েছেন। আজ, সোমবার সুদানের আব্দুর রসুলের সঙ্গে তার খেলার কথা ছিল।

অলিম্পিকের ইভেন্ট থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নেওয়ার মধ্যদিয়ে নুরাইন ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “অলিম্পিকে খেলার জন্য নির্বাচিত হতে তাদেরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। কিন্তু এই খেলার চেয়ে ফিলিস্তিনি ইস্যুটি তার কাছে অনেক বেশি বড় বিষয় এবং এই সিদ্ধান্ত অপরিবর্তনযোগ্য।”

নুরাইনের কোচ আমর বিন ইয়াকলিফও বলেছেন, “আমরা এই খেলায় ভাগ্যবান ছিলাম না। দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী পড়েছে ইসরায়লি এবং এই কারণে আমরা নিজেদেরকে প্রত্যাহার করে নিয়েছি। আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

২০১৯ সালে টোকিওতে জুডো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপেও ইজরায়েলের খেলোয়াড় বুটবুলের বিরুদ্ধে তার ম্যাচ পড়েছিল এবং নুরাইন নিজেকে প্রত্যাহার করে নেন। এছাড়া, ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে মিশরীয় খেলোয়াড় ইসলাম আল-শাহাবী ইসরায়লি প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকার করেছিলেন৷

কার্গিল বিজয় দিবসের ২২ বছর

নিউজ ডেস্ক: সোমবার কার্গিল বিজয় দিবস । সোমবার থেকে ২২ বছর আগে এই দিনেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জয় হাসিল করেছিল ভারতীয় সেনা বাহিনী। ১৯৯৯ সালে কার্গিল যুদ্ধের সময় যে সমস্ত ভারতীয় সেনা শহিদ হয়েছিলেন তাঁদের শ্রদ্ধা।

১৯৯৯ সালে যখন ভারতের জম্মু ও কাশ্মীরের আউটপোস্টগুলি দখল নেওয়ার চেষ্টা করে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তান তখনই ওই যুদ্ধ বাধে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওই যুদ্ধ প্রক্রিয়াকেই নাম দেওয়া হয় “অপারেশন বিজয়”।

১৯৯৯ সালের মে-জুলাই মাসে কাশ্মীরের কার্গিল জেলায় ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রের মধ্যে সংঘটিত একটি সশস্ত্র সংঘর্ষ। পাকিস্তানি ফৌজ ও কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে ডি ফ্যাক্টো সীমান্তরেখা হিসেবে পরিচিত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা লাইন অফ কন্ট্রোল পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়লে এই যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে।যুদ্ধ চলাকালীন ও যুদ্ধের অব্যবহিত পরে পাকিস্তান এই যুদ্ধের দায় সম্পূর্ণত কাশ্মীরি স্বাধীনতাপন্থী জঙ্গিদের উপর চাপিয়ে দেয়। তবে যুদ্ধের পর ফেলে যাওয়া তথ্যপ্রমাণ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের পরবর্তীকালের বিবৃতি থেকে স্পষ্টতই জানা যায় যে পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনীও এই যুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল।এই বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জেনারেল আশরাফ রাশিদ।ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানি ফৌজকে আক্রমণ করে। পরে সেনাবাহিনীকে সহায়তা দান করে ভারতীয় বিমানবাহিনীও। অবশেষে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমর্থনের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাকিস্তানকে ফৌজ প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়।

১৯৯৯ সালে, ভারতীয় সেনাবাহিনী আপাতদৃষ্টিতে বিরাট প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হয়।  পাক সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধের পাশাপাশি প্রতিকূল ভূখণ্ড, আবহাওয়ার সঙ্গে যুঝে এবং শ্রীনগর-লেহ জাতীয় সড়কটিকে পাকিস্তানি অনুপ্রবেশকারীদের কাছ থেকে সফলভাবে পুনরুদ্ধার করেছিল এ দেশের সেনা।

বলিউডে সবচেয়ে জনপ্রিয় ৭ পরকীয়া প্রেম কাহিনি

amitabh-rekha

নিউজ ডেস্ক: বলিউড তারকাদের পরকীয়ার ঘটনা সব সময় খবরের শিরোনামে থাকে।সারা বিশ্বের নজর তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের ওপর সব সময় থাকে। সেই কারণেই তারকাদের জীবনে যে কোন ছোট বড় ঘটনা মানুষের কাছে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে।

অমিতাভ বচ্চন-রেখা
অমিতাভ-রেখার প্রেম কাহিনী আজীবন রহস্যময় রয়ে গেছে। বলিউডে এই জুটি একের পর এক সুপারহিট ছবি দিয়েছে তা।র সঙ্গেই তাদের প্রেম কাহিনীর গল্পও আনাচে-কানাচে কান পাতলেই শোনা যেত। তবে অমিতাভের স্ত্রী জয়া বচ্চন ,রেখা কে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে কোনও ভাবেই তিনি তার স্বামী অমিতাভ বচ্চনকে ছাড়বেন না। পরবর্তী সময়ে এই জুটিকে আলাদা হয়ে যেতে হয়। তবে আজও তাদের কাহিনী যেন অজানাই রয়ে গেছে।

মিঠুন চক্রবর্তী- শ্রীদেবী
মিঠুন শ্রীদেবীর সম্পর্কের কথা মানুষের কাছে অজানা ছিল না। তবে স্ত্রী যোগিতা বালির সম্মানের কথা ভেবে কোনদিনও লোক সমাজে শ্রীদেবীর সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি মিঠুন চক্রবর্তীর। অনেকে বলে মিঠুন চক্রবর্তী এবং শ্রীদেবী চুপিসারে বিয়ে করেছিলেন। তবে যোগিতা বালির আত্মহত্যা করার চেষ্টার ফলে তাদের এই বিয়ে এবং সম্পর্ক ভেঙ্গে দিতে হয়।

শাহরুখ খান -প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
বি-টাউনের সবথেকে সত স্বামী হিসেবেই পরিচিত ছিলেন শাহরুখ খান ।তবে কিং খান এবং প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার পরকীয়ার গুঞ্জনে তার এই ছবি ভেঙে যায়। বলা হয় ‘ডন’ ছবির শুটিংয়ের সময় তারা সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই সম্পর্কের জেরে নাকি শাহরুখ গৌরীর সংসার ভাঙতে বসেছিল। তবে শেষ রক্ষা করতে সফল হয়েছিলেন কিং খান। অন্যদিকে গৌরি খান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে কোন দিন প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে ছবি করতে পারবেন না শাহরুখ। তার পর থেকে এই জুটিকে কোন ছবিতে একসঙ্গে কাজ করতে দেখা যায়নি।

গোবিন্দা -রানী মুখার্জি
‘হদ কর দি আপনে’ ছবিতে গোবিন্দা এবং রানী মুখার্জি অভিনয় করেছিলেন ।সেই সময় তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয় বলে গুঞ্জন ছিল বলিপাড়ায়। সেই সময় গোবিন্দা বিবাহিত ছিলেন এবং দুই সন্তান ছিল তার। নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করতে গোবিন্দা প্রায়শই দামি দামি উপহার দিতেন রানী মুখার্জিকে। শুধু তাই নয় সেই সময়ে বলিউডের নতুন অভিনেত্রী রানী মুখার্জিকে বিভিন্ন পরিচালকদের সঙ্গে কাজের জন্য দেখা করাতেন গোবিন্দা। গোবিন্দা এবং রানীর সম্পর্কের কথা গোবিন্দার স্ত্রী সুনিতা জানতে পারেন এই ঘটনার জেরে তাদের সংসারে অশান্তি শুরু হয় ।সুনিতা বাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন বলেও প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেন ।তবে শেষমেশ রানী এবং গোবিন্দা সম্পর্কে অজানা কিছু কারণে চিড় ধরে। গোবিন্দা নিজের সংসার ভাঙতে দেননি এবং সুনিতার সঙ্গে এখনও ঘর করছেন।

শত্রুঘ্ন সিনহা- রিনা রায়
শত্রুঘ্ন এবং রিনার সম্পর্কের কথা বলিউডের সকলেই জানতেন। তবে রিনা এই সম্পর্ককে নাম দিতে চেয়েছিলেন ।আর সেখানেই আপত্তি ছিল শত্রুঘ্ন সিনহার।তিনি তার স্ত্রী পুনমকে কোনভাবেই ছেড়ে দিতে রাজি হননি। যার জেরে শত্রুঘ্ন এবং রিনা রায় সম্পর্ক ভেঙে যায় ।অনেকে বলে থাকেন সোনাক্ষী সিনহা রিনার মুখের অদ্ভুত মিল রয়েছে। এমনকি বলা হয় শত্রুঘ্ন রিনা সন্তান সোনাক্ষী। তবে সে কথা কখনওই পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়নি ।এমনকি এই ধরনের গুজব উড়িয়ে দিয়েছে সিনহা পরিবার।

হৃত্বিক রোশন-বারবারা মোরি
‘কাইট’ ছবিটি নাম না করতে পারলেও এই ছবিতে অভিনীত জুটি হৃত্বিক রোশন এবং বারবারা মোরির সম্পর্ক যথেষ্ট চর্চায় এসেছিল ।সেই সম্পর্কের জেরে সুজান এবং ঋত্বিককের সম্পর্কে চিড় ধরা শুরু করে ।এমনকি ঋত্বিক রোশনের বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন সুজান। তবে সেই সময় পরিস্থিতি সামলে নেন হৃত্বিক রোশন। সুজানকে বাড়ি ছেড়ে যেতে হয়নি। তবে পরবর্তী সময়ে ২০১৪সালে ঋত্বিক এবং সুজানের বিবাহবিচ্ছেদ হয়।

আদিত্য পাঞ্চোলি- কঙ্গনা রানাওয়াত
আদিত্য পাঞ্চোলির স্ত্রী জারিনা ওয়াহাব নিজে সকলের সামনে স্বীকার করেছিলেন যে তার স্বামী আদিত্য পাঞ্চোলির সঙ্গে কঙ্গনা রানাওয়াত এর সম্পর্ক রয়েছে। ধীরে ধীরে বলিউডের সমস্ত অনুষ্ঠানে কঙ্গনা এবং আদিত্যকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে ।তাদের সম্পর্কের কথা আর অজানা ছিলনা ।তবে পরবর্তী সময়ে তাদের সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং তা পরিণত হয় শত্রুতায়। আদিত্য পাঞ্চোলি এবং কঙ্গনা রানাওয়াত একে অপরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন একাধিক সময়।

গত ২৪ ঘণ্টায় আফগান সেনা অভিযানে খতম ২৬৯ তালিবান জঙ্গি

269 Taliban militants killed in Afghanistan

নিউড ডেস্ক: আফগানিস্তানের ১৩টি প্রদেশে সেনাবাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে ২৬৯ তালিবান জঙ্গি নিহত হয়েছে৷ এই খবর দিয়েছে আফগানিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক।

মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আফগানিস্তানের লাগমান, নানগারহার, নুরিস্তান, কুনার, গজনি, পাকতিয়া, কান্দাহার, হেরাত, বাল্‌খ, জুযজান, হেলমান্দ, কুন্দুজ ও কাপিসা প্রদেশে এসব অভিযান চালান হয়।

এই অভিযানে ১৭৬ তালিবানি আহত হয়েছে। এ সময় সেনাবাহিনী তালিবানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে। তবে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের এই পরিসংখ্যান প্রত্যাখ্যান করেছে তালিবান।

এদিকে আফগানিস্তানের শতকরা ৯০ ভাগ সীমান্তের ওপর নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করার যে দাবি তালিবান করেছে, তা প্রত্যাখ্যান করেছে আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। ওই মন্ত্রকের মুখপাত্র ফুয়াদ আমান বলেছেন, আফগান সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার পরিধি ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে এবং হাতছাড়া হয়ে যাওয়া জেলাগুলো তালিবানের কাছ থেকে একের পর এক পুনরুদ্ধার করা হচ্ছে।

আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশ থেকে পাওয়া অন্য এক খবরে জানা গিয়েছে, সেখানকার কারাখ জেলায় তালিবানের একটি বড় ধরনে অভিযান প্রতিহত করেছে সেনাবাহিনী। শুক্রবার জেলাটি তালিবানের হাত থেকে পুনরুদ্ধার করেছে আফগানিস্তানের সরকারি সৈন্যরা।

প্রাক্তনের কাছে ফিরে যেতে চাইলে, মাথায় রাখুন এই বিষয়গুলি

relation

ব্রেকআপ হয়েছে বহুদিন হল। এর মধ্যে অন্য কারোর সঙ্গে নতুন সম্পর্কেও জড়িয়ে পড়েছেন। তবে সেই সম্পর্কও দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বারবারই মনে পড়ছে প্রাক্তনের কথা। পুরনো সম্পর্ক যেন আপনাকে তারিয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে। মনে হচ্ছে, হয়তো আগের ভুলগুলো শুধরে নিলেই ভালো হত। আরও কিছুটা ধৈর্য্য ধরলে জীবনটা অন্যরকম হত। আসল কথা হল ফিরতে চাইছেন আগের সম্পর্কে। তবে প্রাক্তনের কাছে ফিরে যাওয়ার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা প্রয়োজন।

প্রাক্তনের কাছে ফিরে যাওয়ার পূর্বে একবার ভাবুন, কেন এই সম্পর্কে ইতি টেনেছিলেন? নিজেকে প্রশ্ন করুন, একাকীত্ব কাটিয়ে উঠতেই কী সবকিছু নতুন করে শুরু করতে চাইছেন? সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার অনেক কারণই থাকতে পারে। আপনাদের ক্ষেত্রে যদি দূরত্ব বা পারিবারিক সমস্যা, সম্পর্ক ভাঙার কারণ হয়ে থাকে, তবে আপনি প্রাক্তনের কাছে ফিরতেই পারেন। আবারও নতুন করে শুরু করতে পারেন সবকিছু।

relationship

তবে ভুল বোঝাবুঝি, সন্দেহ, মতের অমিল, অতিরিক্ত পজেসিভনেস যদি আপনাদের সম্পর্ক ভাঙার কারণ হয়, তাহলে সেই সম্পর্কে না ফেরাই ভালো। কিন্তু তাও যদি ফিরতে চান, তবে একটি বিষয় সবসময় মনে রাখবেন। অতীতের যাবতীয় তিক্ততা ভুলে গিয়ে নতুন করে শুরু করুন। কখনোই পুরনো কোনও কথা টেনে আনবেন না। খারাপ স্মৃতিগুলি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ভুলে যাওয়াই ভালো। হয়তো এবারেও ঝামেলা হবে বা ঝগড়া হবে, তবে সেই সময় ভুল করেও পুরনো কথা টেনে আনবেন না।

মৈতৈ উপজাতির মীরাবাঈ কৃষ্ণপ্রেমিক, দুরন্ত ঘোড়সওয়ার সেনার উত্তরসূরী

Origin of Olympic silver medalist meitei community mrmber mirabai chanu

বিশেষ প্রতিবেদন: যুদ্ধ ও প্রেমে মিথ্যে বলা যায়। মিথ্যে নয়, বরং রোমাঞ্চকর সত্যি কথা এটি। টোকিও অলিম্পিকে ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় রূপো জয়ী সোইখম মীরাবাঈ চানুর রক্তে প্রেম ও যুদ্ধের ঘনঘটা মিশে রয়েছে। এতে জড়িয়ে আছে মৈতৈ জাতির ইতিহাস, সংঘর্ষ, প্রেম ও কূটচাল।

লিখিত ইতিহাস কম করেও দু’হাজার বছরের। তার থেকেও প্রাচীন বহুশ্রুত কথা। এই বর্নিল অধ্যায়ে জড়িয়ে আছে মৈতৈ উপজাতিদের জীবন। এদের ব্যাপ্তি মায়ানমার থেকে পুরো উত্তর পূর্ব ভারত জুড়ে, কিছুটা বাংলাদেশের পাহাড়ি জনজীবনে।

মীরাবাঈ। তিনি রাজস্থানের রাজপুতানি ঐতিহাসিক চরিত্র। তাঁর কৃষ্ণ অনুরাগে রাধা পর্যন্ত বেসামাল হন। যুগ যুগ ধরে মীরা নামটি শ্রীকৃষ্ণ অনুরক্তদের মধ্যে ছড়িয়ে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের মনিপুর নরম কৃষ্ণপ্রেমে মগ্ন। তবে ভয়ঙ্কর হতেও দেরি করেনা। বৈষ্ণব ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যাগুরু জনসংখ্যার মনিপুরিদের সবথেকে বড় অংশ মৈতৈ জাতি। প্রাচীন ব্রহ্মদেশ বর্তমান মায়ানমার থেকে সমগ্র উত্তর পূর্বাঞ্চল দুনিয়ায় মৈতৈ জাতির প্রভাব কম নয়।

Mirabai Chanu-Manipur

একাধারে কৃষ্ণপ্রেমে কাতর মৈতৈরা। রসকলি আর পান টুসটুসে মুখ, কীর্তন-খোলের ঝংকার তাদের মন শান্ত করে। সময় বুঝে তলোয়ার ঝলসে ওঠে হাতে। ছোটে ঘোড়া বাহিনি। শত্রুর মাথা কেটে নিতে হাত কাঁপেনা এতটুকু। পৌরাণিক আখ্যানে শ্রীকৃষ্ণের কূটনৈতিক ছলাকলার যে বিস্তর উদাহরণ রয়েছে তাতেও পটু মৈতৈ বা সংখ্যাগুরু মনিপুরি।

মৈতৈ সংস্কৃতি, ভাষা, সামাজিক কাঠামো মনিপুরি জাতির মূল আধার মেনে নিয়েছেন গবেষকরা। যুদ্ধের ঝনঝনানি মনিপুর কম দেখেনি। যুদ্ধ কম করেনি। মহাভারতের বর্ণনায় অর্জুনকে পরাজিত হতে হয়েছিল এই মনিপুরেই। জয়ী হন রাজকুমারী কৃষ্ণপ্রেমিক চিত্রাঙ্গদা। তিনিও অর্জুনের স্ত্রী।

পুরাণ যদি বিশ্বাস না হয়, তাহলে অন্তত দু হাজার বছর আগের ইতিহাস ঘেঁটে গবেষকদের বের করা তথ্যগুলো চরম বিশ্বাসযোগ্য। তারা বলছেন, রাজার হয়ে যুদ্ধ, রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে লডাই, ষড়যন্ত্র সবেতেই সমান ভূমিকা নিয়েছে মৈতৈরা। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই ভূমিকা ধরে রেখেছে মৈতৈ জাতি। তলোয়ার, তীর বারবার শত্রুর রক্তে সুখানুভূতি লাভ করেছে।

একেবারে বিংশ শতাব্দী থেকে হাল আমলের ইতিহাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ হোক বা ১৯৭১ সালের ভারত পাকিস্তানের মধ্যে সংঘর্ষ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই, বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র পথ নেওয়া তলোয়ার ছেড়ে রাইফেল, এ কে ৪৭ নিতেও খামতি নেই মৈতৈদের। উত্তরপূর্ব ভারতে যতগুলি ভয়াবহ নাশকতা ঘটনো হয়েছে তার মধ্যে মনিপুরের মাটিতে সেনা কনভয়ে হামলায় দেশ নড়ে গিয়েছে বারবার।

রক্তের নেশা ও কৃষ্ণপ্রেম মৈতৈ জাতির সঙ্গে জড়িয়ে। কখনও তলোয়ার তো কখনও আগ্নেয়াস্ত্র এই জাতির দুরন্ত ভয়াল মাপকাঠি। বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসে বারবার রক্তাক্ত মনিপুরি তথা মৈতৈ জাতির মীরাবাঈ চানু জন্মের পর থেকেই সেনা ও বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘর্ষের সাক্ষী। তেমনই সাক্ষী বিতর্কিত আফস্পা আইনেরও।

২০ বছরের যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তানে পরাজিত আমেরিকা

20 years in Afghanistan: Was it worth it?

নিউজ ডেস্ক: বছর কুড়ি আগে আমেরিকার ট্যুইন টাওয়ার ধ্বংস করে আফগানিস্তানের তালিবানরা৷ তারই প্রতিশোধ নিতে রাতারাতি আফগানিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের তালিবান জঙ্গিদের নিকেষ অভিযান শুরু করে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ৷ দুই দশক পরে আফগানিস্তানে তালিবানদের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করে পাতাতাড়ি গুটিয়ে দেশে ফিরছে মার্কিন সেনাবাহিনী৷

৯/১১ হামলার পরে আফগানিস্তানে প্রথম সেনা পাঠান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ। তিনি জানিয়েছিলেন, এ হল সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই। তালিবানদের সঙ্গে যুদ্ধ করেও আল কায়দা প্রধান ওসামা বিন লাদেনকে খুঁজে বার করতেই বহু বছর সময় লেগে গিয়েছে মার্কিন সেনার। শেষপর্যন্ত পাকিস্তানে তাকে হত্যা করা হয়। আফগানিস্তানে বহু তালিবান নেতার মৃত্যু হয়েছে মার্কিন সেনার হাতে।

The US war in Afghanistan is over
লড়াই শেষ.. এবার ঘরে ফেলার পালা

গত প্রায় বিশ বছরে শুধু আফগানিস্তানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ন্যাটো বাহিনীর মৃত্যু হয়েছে। যার অধিকাংশই মার্কিন। ৪৭ হাজার আফগান নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। ৬৬ হাজার আফগান সেনা মারা গিয়েছেন। লক্ষাধিক আফগান নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ এলাকা। যুদ্ধের চিহ্ন সর্বত্র। আর্থ-সামাজিক দিক থেকেও দেশটির অবস্থা ভয়াবহ।

এতদিন যুদ্ধের পর বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জানিয়েছেন, আর যুদ্ধ নয়৷ অগাস্টের মধ্যে আফগানিস্তান থেকে সমস্ত সেনা ফেরত আনা হবে। আফগানিস্তানের দায়িত্ব আমেরিকা আর নিতে পারবে না।
মার্কিন সেনা ফিরতে শুরু করার পরেই ফের আফগানিস্তানের দখল নিতে শুরু করেছে তালিবান। আফগানিস্তান কার্যত গৃহযুদ্ধের মুখোমুখি।

Taliban gains drive Afghanistan gov’t to arm local volunteers
আমেরিকার যুদ্ধ শেষের ঘোষণার পরেই রাজপথে তালিবানরা

আফগানিস্তানে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করা মার্কিন সেনাদের একাংশ বলছেন, এটা আসলে আমেরিকার হার। ২০ বছরেও যুদ্ধ জয় করতে পারেনি আমেরিকা। কেউ কেউ এই হারকে ভিয়েতনামের সঙ্গে তুলনা করছেন। তাদের দাবি, ভিয়েতনাম থেকেও শেষ পর্যন্ত মার্কিন সেনাকে ফিরে আসতে হয়েছিল। আফগানিস্তানেও তাই হল।

তাদের দাবি, ভিয়েতনামের মতোই আফগানিস্তানে আমেরিকার কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল না। কিছু নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সার্বিক পরিবর্তন ঘটানো যায়নি। নতুন করে আবার তালিবানরা আফগানিস্তানে তাদের সাম্রাজ্য বিস্তার করতে শুরু করেছে৷

রুমানা বিতর্কে মহুয়ার পাশে তসলিমা

Taslima Nasrin supports Mahua in Rumana debate

নিউজ ডেস্ক: উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম স্থানাধিকারী রুমানা সুলতানার ধর্ম পরিচয় উল্লেখ করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন সংসদ সভাপতি মহুয়া দাস। যা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। একজন ছাত্রীর ধর্মীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়ায় সমালোচনায় বিদ্ধ করা হয় উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতিকে। তা নিয়ে সাফাইও দিয়েছেন মহুয়াদেবী। যদিও এই বিতর্কে মুহুয়া দাসের পাশেই দাঁড়ালেন বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিন।

ধর্মের বিরুদ্ধে বরাবরই সরব হয়েছেন তসলিমা নাসরিন। যা নিয়ে অনেক জটিলতা হয়েছে তাঁর জীবনে। তারপরেও নিজের অবস্থানে অনড় থেকেছেন তিনি। ইসলাম এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন সময়ে সরব হতে দেখা গিয়েছে লজ্জার লেখিকাকে। তবে রুমানা সুলতানার মুসলিম পরিচয় উল্লেখ করার ক্ষেত্রে ভুল কিছু দেখছেন না তিনি। যা নিয়ে সুবিস্তারে ব্যাখ্যা করে পোস্ট করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

তসলিমার কথায়, “নিগেটিভ কথার বেলায় মুসলিম শব্দটি ব্যবহার করা চলতে পারে, পজিটিভ কথার বেলায় মুসলিম শব্দটির ব্যবহার চলতে পারে না! বলতে হবে ‘রুমানা সুলতানা পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে।’ যেন রুমানা সুলতানা নামটা শুনে বোঝা যাবে না সে হিন্দু না মুসলিম! মুসলিম শব্দটি পজিটিভ বাক্যে ব্যবহার হোক। এতে মুসলিমরাও অনুপ্রাণিত হবে সামনে এগোতে। আর মুসলিম বিরোধীদেরও কিছুটা বোধোদয় হবে।”

শনিবার নিজের ফেসবুকের দেওয়ালে তিনি লিখেছেন-
মুসলিমরা নামাজ পড়ার জন্য রাস্তা ব্লক করে ট্রাফিক জ্যাম বাড়ায়, জনগণের অসুবিধে করে।
মুসলিমরা আত্মঘাতী বোমা হয়ে মানুষ খুন করে।
মুসলিমরা বোমাবাজি করে।
মুসলিমরা সন্ত্রাস করে।
মুসলিমরা বহুবিবাহ করে।
মুসলিমরা লাভ-জিহাদ করে।
মুসলিমরা আইন-বিরোধী ফতোয়া জারি করে। মানুষের মাথার মূল্য ধার্য করে।
মুসলিমরা মানবাধিকার বিরোধী।
মুসলিমরা নারীবিরোধী শরিয়া আইন বহাল রাখতে চায়।
মুসলিমদের কাছে মেয়ে বিয়ে দেওয়া যাবে না।
মুসলিমদের কাছে বাড়ি ভাড়া দেওয়া যাবে না।
এগুলো ঠিক আছে।

কিন্তু ‘একটি মুসলিম মেয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে পাস করেছে’ বললে ঠিক নেই।
তাহলে তো মনে হচ্ছে নিগেটিভ কথার বেলায় মুসলিম শব্দটি ব্যবহার করা চলতে পারে, পজিটিভ কথার বেলায় মুসলিম শব্দটির ব্যবহার চলতে পারে না!

বলতে হবে ‘রুমানা সুলতানা পরীক্ষায় প্রথম হয়েছে।’ যেন রুমানা সুলতানা নামটা শুনে বোঝা যাবে না সে হিন্দু না মুসলিম!
মুসলিম শব্দটি পজিটিভ বাক্যে ব্যবহার হোক। এতে মুসলিমরাও অনুপ্রাণিত হবে সামনে এগোতে। আর মুসলিম বিরোধীদেরও কিছুটা বোধোদয় হবে।

আমি বলতে চাই একটি মুসলিম মেয়ে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছে।
একটি মুসলিম মেয়ে শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর সম্মান অর্জন করেছে।
একদল মুসলিম মেয়ে শরিয়া আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে।
একদল মুসলিম ছেলে নারীর সমানাধিকারের পক্ষে মিছিল করছে।
একদল মুসলিম মেয়ে ময়দানে গিয়ে তাদের হিজাব আর বোরখা খুলে আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে।
একটি মুসলিম নভোচারি মেয়ে মঙ্গলগ্রহে পাড়ি দিচ্ছে।
একটি মুসলিম মেয়ে ভরত নাট্যম নৃত্য প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছে।
একটি মুসলিম ছেলে ভালোবেসে এক হিন্দু মেয়েকে বিয়ে করেছে, বলেছে তোমার ধর্ম তুমি পালন করবে, আমার ধর্ম আমি।

করোনালিম্পিক! জাপান উপকূলে ভাইরাস সুনামি

Tokyo cancels public viewing sites for summer Olympics

নিউজ ডেস্ক: শুরু হয়েছে বিশ্বের শ্রেষ্ঠ রঙ্গমঞ্চ-অলিম্পিক। একইসঙ্গে জাপান উপকূলে ধেয়ে এসেছে ভাইরাস সুনামি। রাজধানী টোকিও অর্থাৎ অলিম্পিক নগরীতে “গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ” যেমন চলছে, তেমনি চলছে জরুরি অবস্থা। করোনা ও অলিম্পিকের মাঝে পড়েছেন টোকিওবাসী।

চলতি বিশ্ব শ্রেষ্ঠ ক্রীড়ানুষ্ঠানের মাঝেই জাপানে করোনার আরও একটি ঢেউ আসার সম্ভাবনা প্রবল। চিন্তিত বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন উঠছে চিকিৎসক মহলে, কেন এই ঝুঁকি নিতে গেল সরকার।

পরিস্থিতি এমনই যে অলিম্পিক নগরী টোকিওর রাস্তায় রাস্তায় বিক্ষোভ চলছেই। এতে অংশ নিয়েছেন চিকিৎসার সঙ্গে যুক্তরা। আছেন চিকিৎসক, নার্স, চিকিৎসা কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, যেভাবে গত কয়েকদিনে করোনা ছড়িয়েছে তাতে অলিম্পিকের মাঝেই বড়সড় ভাইরাস সংক্রমণ হবে।

জাপানের বহুল প্রচারিত সংবাদপত্র জাপান টাইমসের রিপোর্ট, শুক্রবার সকালে টোকিও শহরে করোনা সংক্রমণের তালিকায় ১৩৫৯ জন এসেছেন। জাপানের সামগ্রিক করোনা পরিস্থিতি বলছে ১৫ হাজারের বেশি মৃত। ৮৬ হাজারের অধিক আক্রান্ত।

তবে অলিম্পিক আসরে আসা বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের কড়া স্বাস্থ্যবিধির মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। তার পরেও সংক্রমণের চেহারা দেখে চিন্তার সুনামি ধেয়ে আসছে জাপান উপকূলে।

জন জীবনে করোনার ভয় প্রবল। সেটাই পুঞ্জিভূত ক্ষোভের আকার নিয়ে বড়সড় বিক্ষোভে ফেটে পড়ার দিকেই এগোচ্ছে। শুক্রবার অলিম্পিক শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে টোকিও শহরের করোনা চিত্র রীতিমতো আশঙ্কাজনক বলেই জানাচ্ছে জাপান টাইমস।

অভিযোগ উঠেছে, খোদ অলিম্পিক ভিলেজেই করোনা সংক্রমিত বহু। তাদের মধ্য দিয়ে সংক্রমণ আরও ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।জাপানবাসীর বেশিরভাগ আগে থেকেই অলিম্পিক বন্ধের জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেছিলেন। পরে অলিম্পিক কমিটির চাপের মু়খে সরকার রাজি হয় প্রতিযোগিতা চালিয়ে যেতে।

করোনার লাল চোখ সর্বত্র। তবে করোনাকে চ্যালেঞ্জ করেই বিশ্বজোড়া আশার বার্তা দিতে মরিয়া অলিম্পিক কমিটি। পরিস্থিতি কতটা খারাপ হতে পারে সেই আশঙ্কায় টোকিও শহরের চিকিৎসা পরিষেবার সঙ্গে জড়িতদের বিক্ষোভ থেকেই আন্দাজ করা যাচ্ছে।

করোনা ভাইরাসের পরিসংখ্যান দেওয়া ওয়ার্ল্ডোমিটার জানাচ্ছে, জাপানে শুক্রবার পর্যন্ত সংক্রমিত রোগী ৮ লক্ষ ৫২ হাজারের বেশি। মৃত ১৫ হাজার পার করেছে। তবে গত এক সপ্তাহে করোনার সংক্রমণ বেড়েছে জাপানে। অলিম্পিক নগরী টোকিওতে সংক্রমণের রেখচিত্র উর্ধমুখী। অলিম্পিক ভিলেজে করোনা হানা ও সংক্রমণ ছড়ানোর ঘটনায় জাপানবাসী আরও আতঙ্কিত। অতি সংক্রামক এই ভাইরাস অলিম্পিকের মাঝেই তার রূদ্ররূপ নেবে এমনই আশঙ্কা।

ভালো Vs মন্দ সাংবাদিকতা: বিশ্বের ছ’টি বিখ্যাত কেলেঙ্কারি ফাঁস

Good vs bad journalism: Six famous scandals in the world

বিশেষ প্রতিবেদন: এখন বহু প্রবীণ সাংবাদিকের মুখেই শোনা যায় একটা হতাশার কথা৷ তাঁরা প্রায়শই বলে থাকেন, এখন সাংবাদিকতা হয়ে গিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ নির্ভর৷ এখনকার সাংবাদিকতা মানেই সোশ্যাল মিডিয়া নির্ভর৷ অধিকাংশ সাংবাদিকই আর খুঁড়ে খবর যোগার করে না৷ বরং তারা ফরোয়ার্ড মেসেজে আসা খবরেই ব্যস্ত৷

সাম্প্রতিকালে পেগাসেস ইস্যুতে সংবাদমাধ্যমের একটা বড় ভুমিকা লক্ষ্য করা যাচ্ছে৷ বিরোধী দল তো বটেই, সাংবাদিকদের ফোন হ্যাক করার পরেই সংবাদমাধ্যমের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷ স্বাভাবিক কারণেই এই ইস্যুতে কার্যত কোনঠাসা শাসকদল প্রশ্ন তুলেছে, পিগাসেস কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আনা সংবাদমাধ্যমটির ভুমিকা নিয়ে৷ প্রশ্ন উঠেছে, তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে৷ অন্যদিকে, গত এক-দেড় দশক ধরে ‘গদি মিডিয়া’ বনাম ‘অগদি মিডিয়ার ঠাণ্ডা লড়াই৷ এখন কর্পোরেট হাতে চলে যাওয়া ভারতের সংবাদমাধ্যমের ভুমিকায় সংবিধানের চতুর্থ স্তম্ভের ভুমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে৷ তবে কি সংবাদমাধ্যমে ঢুকে গিয়ে ভালো-মন্দের সাংবাদিকতা? তারই নিরিখে তুলে ধরা হল ভালো-মন্দের মধ্যেই বিশ্বখ্যাত ছ’টি কেলেঙ্কারি ফাঁসে সংবাদমাধ্যমের ভুমিকা৷

media news paper online media girl

ওয়াটারগেট কেলেংকারি: সাংবাদিকতার ইতিহাসে এটি অন্যতম উল্লেখযোগ্য ঘটনা৷ ১৯৭২ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ওয়াশিংটনের ওয়াটারগেট কমপ্লেক্সে ডেমোক্রেটদের সদরদপ্তরে আড়ি পাতার অভিযোগ উঠেছিল৷ পরবর্তীতে সেই ঘটনা আড়ালের চেষ্টা করেছিল প্রেসিডেন্ট নিক্সনের প্রশাসন৷ ওয়াশিংটন পোস্টের দুই সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড ও কার্ল ব্যার্নস্টাইনের রিপোর্টিংয়ের কারণে কংগ্রেস ঘটনাটি তদন্ত করেছিল৷ পরে নিক্সন পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন৷

ভিয়েতনাম যুদ্ধ বন্ধে সংবাদমাধ্যম: সাংবাদিক ওয়াল্টার ক্রোনকাইটকে অনেকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বিশ্বস্ত লোক’ মনে করতেন৷ ভিয়েতনাম যুদ্ধ নিয়ে করা প্রতিবেদনে তিনি বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধ জিততে পারবে না৷ তাঁর বক্তব্য মার্কিনিদের বিশ্বাসে পরিবর্তন এনেছিল৷ এমনকি প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসনও নাকি বলেছিলেন, ‘‘যখন আমি ক্রোনকাইটের বিশ্বাস হারাই, তখন আমি মধ্যবিত্ত মার্কিনিদের বিশ্বাস হারাই৷’’ ক্রোনকাইটের রিপোর্টিং যুদ্ধ থামাতে বড়সড় ভুমিকা নিয়েছিল৷

শিশু হত্যার ভুয়ো খবর: ১৯৯০ সালে লস অ্যাঞ্জেলস টাইমসের এক প্রতিবেদনে কুয়েতে ইরাকি সেনাদের নির্যাতনের কথা তুলে ধরা হয়েছিল৷ সেনারা নাকি ইনকিউবেটরে থাকা শিশুদের মেরে ফেলছে৷ পরে ওয়াশিংটন পোস্টও এমন তথ্য দিয়েছিল৷ এরপর মার্কিন কংগ্রেশনাল ককাসে একই বর্ণনা দেন ১৫ বছরের কুয়েতি মেয়ে নায়িরাহ৷ এসব তথ্যের ভিত্তিতে ইরাকে যুদ্ধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র৷ পরে জানা যায়, তথ্যগুলো ভুয়ো ছিল৷ আর নায়িরাহ আসলে কুয়েতি রাষ্ট্রদূতের মেয়ে ছিলেন!

ইরাকে গণবিধ্বংসী অস্ত্র: ইরাক যুদ্ধ শুরু করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সে দেশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র আছে বলে অভিযোগ তুলেছিলেন৷ প্রথম সারির কয়েকটি পত্রিকাও এমন অভিযোগ তুলেছিল৷ নিউইয়র্ক টাইমসে প্রতিবেদন করেছিলেন জুডিথ মিলার৷ অবিশ্বস্ত সূত্রের উপর ভরসা করে তিনি লিখেছিলেন, ‘‘পুরো ইরাক গণবিধ্বংসী অস্ত্রের এক বড় আধার৷’’ যদিও পরে এমন অস্ত্রের সন্ধান পাওয়া যায়নি৷ নিউইয়র্ক টাইমস তাদের রিপোর্টগুলো মানসম্মত ছিল না বলে স্বীকার করেছিল৷

পানামা পেপার্স: পানামার ‘মোসাক ফনসেকা’ নামে আইন বিষয়ক এক প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন কর্মচারীর তথ্যের ভিত্তিতে কর ফাঁকি দেওয়া দুই লক্ষের বেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম প্রকাশ করেছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম’ আইসিআইজে৷ ২০১৬ সালে প্রকাশিত ওই তালিকায় বহু ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে এসেছিল৷ তবে আইসিআইজে বলেছে, তালিকায় যাদের নাম এসেছে তারা সকলেই যে অনিয়মে জড়িত, এমন নয়৷

এনএসএ-র নজরদারি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএ জননিরাপত্তার জন্য যাদের হুমকি মনে করত, তাদের উপর নজরদারি চালাত৷ কিন্তু ২০১৩ সালে জানা গেল ডাকঘরকর্মী, প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক সবার উপর নজরদারি করছে এনএসএ৷ এডওয়ার্ড স্নোডেনের সহায়তায় ওয়াশিংটন পোস্ট ও গার্ডিয়ান এই তথ্য প্রকাশ করে৷ পরে জানা যায়, জার্মান চ্যান্সেলর ম্যার্কেল, ফ্রান্সের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওঁলদের মতো যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুরাও নজরদারির আওতায় ছিলেন৷