ত্রিপুরার প্রাক্তন কৃষিমন্ত্রীর পুত্র রাজনৈতিক হামলায় গুরুতর জখম হয়েছিলেন। তিনি কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত হয়েছেন।
মৃত মুজিবুর ইসলাম মজুমদার তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। তাঁর মৃত্যুর খবরে আগরতলার রাজনৈতিক মহল সরগরম। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। দলীয় নেতাকে খুন করা হয়েছে।
ত্রিপুরার কংগ্রেস সরকারের আমলে কৃষিমন্ত্রী মনসুর আলির পুত্র মৃত মুজিবুর ইসলাম মজুমদার। তিনি তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। তাঁর এক ভাই ডক্টর বাহারুল ইসলাম মজুমদার ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি সংখ্যালঘু সেলের নেতা।
টিএমসির নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন মুজিবুর ইসলাম মজুমদার। টিএমসির দাবি, গত ২৮ শে আগস্ট তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে মুজিবর ইসলাম মজুমদারের বাসভবনে এক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেই দিন বিজেপি আশ্রিত দুর্বৃত্তরা চড়াও হয়। তিন জন তৃণমূল কর্মী ও ওনার পরিবারের সদস্যরা জখম হন। গুরুতর জখম মুজিবর ইসলাম মজুমদার এবং ছাত্রনেতা শুভঙ্কর মজুমদারকে কলকাতায় এসএসকেএম হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। শুভঙ্কর মজুমদার সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। গুরুতর জখম মুজিবুর ইসলাম মজুমদার মারা গেছেন।
টিএমসির তরফে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে। গোটা ঘটনায় আগরতলা সরগরম। কারণ মৃতের ভাই খোদ রাজ্য বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ মুখ।
আগরতলায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভা করছেন আর ত্রিপুরায় (Tripura) বিজেপির অন্যতম খুঁটি সুদীপ রায় বর্মণ গরহাজির! এতে তৃণমূল কংগ্রেস মহলে মুচকি হাসি আরও চওড়া হতে শুরু করল। বিজেপি মহলে স্পষ্ট হয়েছে ভাঙন।
মোদী আসছেন, মোদী এলেন আর বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ নীরব থাকলেন। আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে (আস্তাবল ময়দান) যেমন নেই, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়াতেও নেই। অথচ, তিনি বারবার দাবি করেছেন, মোদীজীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ত্রিপুরায় এর যথাযথ প্রয়োগ করা দরকার।
সুদীপ রায় বর্মণের গরহাজিরা, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে একটি শব্দ খরচ না করার পিছনে বিজেপির অন্দরমহল দ্বন্দ্ব আরও বাড়ল। আগরতলায় রাজনৈতিক মহলের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজ গোষ্ঠীর বিধায়কদের নিয়ে সুদীপ রায় বর্মণ ফের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন।
সম্প্রতি পুর নির্বাচনের আগে ত্রিপুরার রাজনৈতিক সন্ত্রাস নিয়ে সরকারের ভূমিকায় প্রবল আক্রমনাত্মক মন্তব্য করেছিলেন সুদীপবাবু। তিনি বলেছিলেন, এ রাজ্যে বিজেপি এমন কিছু জনের হাতে পড়েছে যারা নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নমুখী ভূমিকাকে কালিমালিপ্ত করতে চায়। নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের মুন্ডপাত করেছিলেন সুদীপ রায় বর্মণ।
ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রীকে বদল না করলে তাঁর ভূমিকা বিজেপির পতনের কারণ হবে। দলীয় উচ্চস্তরে এই বার্তা বারবার পাঠিয়েছেন সুদীপবাবু ও বিদ্রোহী বিধায়করা। দিল্লি থেকে বারবার পরিস্থিতি সামাল দিতে এসেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। চিঁড়ে ভেজেনি। ফাটল ক্রমে বেড়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় সুদীপবাবু সহ বিদ্রোহী বিধায়কদের অনুপস্থিতি বিতর্ক আরও উস্কিয়ে দিল।
ত্রিপুরায় দীর্ঘ আড়াই দশকের টানা বাম জমানায় সুদীপবাবু কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। পিতা সমীররঞ্জন বর্মণ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। গত বিধানসভা ভোটের আগে সুদীপবাবু সহ সব কংগ্রেস বিধায়করা দলত্যাগ করে টিএমসিতে যোগ দেন। এরপর টিএমসি ত্যাগ করে বিজেপিতে চলে আসেন। সরকার পরিবর্তন হয়। মন্ত্রিসভায় এলেও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে সুদীপবাবুর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সংঘাত তীব্র আকার নেয়।
তবে দল জিতলে আনন্দ করবেন না তা কী হয় নাকি ! মঙ্গলবার যখন কলকাতা পুরনিগমে বিপুল জয় পাচ্ছিল তৃণমূল কংগ্রেস, তখন আগরতলাতেও টিএমসি উল্লাস শুরু হয়। সেই উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা গেছে মীরজাফর রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে।
ত্রিপুরায় তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা সুবল ভৌমিক রসগোল্লার হাঁড়ি নিয়ে সমর্থকদের ঘেরাটোপে। যে পারছে টপাটপ রসগোল্লা খাচ্ছে। সেই ভিড়ে কে যে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখে ভরে দিয়েছে রসগোল্লা। তিনি গবগবিয়ে খাচ্ছেন। মুখে অনাবিল হাসির ছোঁয়া।
কটা রসগোল্লা খেয়েছেন রাজীববাবু? কেউ জানে না। তবে কানাঘুষোয় শোনা যাচ্ছে গোটা কতক খেয়েছেন। ত্রিপুরায় তিনি টিএমসির হয়ে রাজনৈতিক জমি খুঁজছেন।
পশ্চিমবঙ্গের টিএমসি সমর্থকদের বিশেষত হাওড়ার সমর্থকদের নজরে ‘মীরজাফর’ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, তিনি পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের আগে টিএমসি ছেড়ে চাটার্ড প্লেনে চেপে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ভোটে হারেন। বিজেপি সরকার গড়তে পারেনি। ফের তৃণমূলে ফিরেছেন। ত্রিপুরায় পৌর ভোটের আগে তিনি আগরতলায় এসে টিএমসিতে যোগ দেন। প্রবল লড়ে আগরতলা পুরনিগমে একটি ওয়ার্ড দখলে আনতে পেরেছেন।
আপাতত ত্রিপুরাতেই তিন আছেন। কারণ, আগামী বিধানসভা ভোটে এই রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস প্রবল শক্তি নিয়ে নামবে বলেই জানিয়েছেন দলনেত্রী তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানে তাঁর লড়াই শাসক বিজেপি ও বিরোধী সিপিআইএমের সঙ্গে।
News Desk: এই প্রতিবেদন মূলত স্মৃতিকথা ভিত্তিক। সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সদস্য সিমিন হোসেন রিমি ত্রিপুরায় এসেছিলেন। ৫০ বছর (Bangladesh 50) আগে তিনি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বহু শরণার্থীর মতো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে আগরতলায় এসেছিলেন কিশোরী অবস্থায়। ত্রিপুরা ছিল বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম ঘাঁটি। জীবন হাতে করে আগরতলা পৌঁছনোর দীর্ঘ যাত্রা কেমন ভয়ানক ছিল, সেটাই জানিয়েছেন।
সিমিন হোসেন রিমির (Simeen Hussein) পিতা তাজউদ্দিন আহমদ (first prime minister of Bangladesh Tajuddin)। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় গঠিত অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের (মুজিবনগর সরকার) প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশের জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে খুন করা হয়। সেই সামরিক অভ্যুত্থানে তাজউদ্দিন আহমদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। মুজিব সহযোগী তাজউদ্দিন সহ চার শীর্ষ নেতাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের মধ্যে গুলি করে খুন করা হয়। ভয়াবহ মুহূর্তগুলো জীবন স্মৃতিতে দগদগে হয়ে আছে সিমিন হোসেনের।
মুক্তিযুদ্ধের সময় আগরতলায় সফর করা তাজউদ্দিন আহমদের স্বাক্ষর
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমির স্মৃতিতে মুক্তিযুদ্ধের সেই পরিস্থিতি আমরা তুলে ধরলাম।
১৯৭১ এর ২৫ মার্চ রাতের পর থেকে পাকিস্তানি হায়েনাদের হাত থেকে বাঁচতে ঢাকার এক এলাকা থেকে আরেক এলাকা এভাবে ঘুরতে ঘুরতে গ্রামের বাড়ি দরদরিয়া পৌঁছাই আমরা। চারিদিকে অগুন্তি লাশ। পচে যাওয়া দেহ কাক কুকুরে খাচ্ছিল। ভয়াবহ পরিস্থিতি। গ্রামের বাড়িতেও হামলার ঠিক আগের মুহূর্তে গভীর রাতে নদী পথে অনির্দিষ্ট যাত্রা শুরু হলো।
তিনি লিখেছেন, তারপর কত এলাকা, কতপথ ঘুরে কুমিল্লা হয়ে শরণার্থী আমরা ভারত সীমান্ত পার করি। আগরতলার বক্সনগর দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করেছিলাম। পথে প্রতি মুহূর্তে মৃত্যুর আশঙ্কা। পাক সেনার মুখোমুখি হবার প্রবল ভয় নিয়ে পচা লাশে ঢেকে থাকা বাংলাদেশের জমি ছেড়ে ঢুকলাম ইন্ডিয়াতে। পুরো সীমান্ত জুড়ে তখন হাজার হাজার শরণার্থী। সেই শরণার্থী স্রোতের সাথে সীমান্ত ধরে ২৬ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে সীমান্ত ঘেঁষা ত্রিপুরার সোনামুড়ায় পৌঁছাই। সেই সময় সোনামুড়ার মহকুমা প্রশাসক ছিলেন হিমাংশু মোহন চৌধুরী।
স্মৃতিতে সিমিন হোসেন লিখেছেন, সোনামুড়ার যে টিলার ওপর হিমাংশু মোহন চৌধুরী যে বাড়িতে থাকতেন, সেই সরকারি বাড়িটি এখনও একই রকম আছে। শুধু বাড়ির পাশে দেয়াল হয়েছে।
পঞ্চাশ বছর আগের স্মৃতিতে ফিরে গিয়ে সিমিন হোসেন রিমি লিখেছেন, সেই সবুজ ঘাসের উঠান, টিনের চালা ঘর। আমরা ৪ ভাইবোন চার জায়গায় আছি। আম্মা নেই। আজ আমি যখন ঘরের ভেতর ঢুকলাম, আমি তখন ছোট বেলার আমি। আমি অবাক হয়ে দেখছি আশপাশ। আমি আমার পঞ্চাশ ছয় মাস বছর আগের স্মৃতিকে স্পর্শ করলাম ৯ ডিসেম্বর ২০২১সালের বৃহস্পতিবার। মনে মনে বলছিলাম চোখ তুমি ভিজে যেওনা। কিন্তু গড়িয়ে পরতে থাকল আনন্দ বেদনার মিলিত অশ্রু।
ত্রিপুরা স্টেট মিউজিয়াম দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে একটি কক্ষ আছে। সংরক্ষিত ছবি, খবরের কাগজ ইত্যাদি দেখছিলাম আর পড়ছিলাম গভীর মনোযোগে। যে দিন (১৫ অক্টোবর ১৯৭১) প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ফিল্ড হাসপাতাল পরিদর্শনে এসেছিলেন, তাঁদের হাতের লেখা দেখলাম। জাদুঘরে ছবি তোলা নিষেধ। কিউরেটর অভিভূত হলেন পরিচয় জেনে। শুধু বাংলাদেশের ওই অংশের ছবি তুলতে দিলেন।
বাবা ছিলেন বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা, বঙ্গবন্ধুর বিপ্নবী সাথী। বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পকিবারকে যে অপশক্তি দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়েছে, তারাই আমার বাবাকে বন্দি করে খুন করেছে। তবুও তারা সফল নয়। বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী অটুট থাকবেই।
<
p style=”text-align: justify;”>(আগরতলার সংবাদ মাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকার ও সিমিন হোসেন রিমির স্মৃতিকথা তাঁর ফেসবুক পোস্ট থেকে নেওয়া।)
News Desk: পুর ও নগর পরিষদ-পঞ্চায়েক নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে ত্রিপুরার (Tripura) শাসকদল বিজেপি। প্রবল ভোট সন্ত্রাস ও রিগিং অভিযোগে নির্বাচন নিয়ে অসন্তুষ্ট সুপ্রিম কোর্ট বারবার রাজ্যের বিজেপি সরকারকে নির্বিঘ্নে ভোট ব্যবস্থা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিল।
অভিযোগ, সেই নির্দেশ গিয়েছে ধুলোয় লুটিয়ে। ভোটে সন্ত্রাসের ভয়াবহ হামলা অব্যাহত ফল বের হওয়ার পরেও। রবিবার রাতভর চলেছে হামলা, বাড়ি ঘর ভাঙচুর। সর্বক্ষেত্রে হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি।
পুর নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করেন। তিনি লিখেছেন, ত্রিপুরাবাসীকে ধন্যবাদ। তাঁরা সুশাসন বেছে নিয়েছেন।
সুশাসনের ভয়াবহ ছবি সোমবার সকাল হতেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। শুধু আগরতলা নয়, জেলায় জেলায়, এলাকাভিত্তিক হামলা চলছে। গাড়ি ভাঙচুর, বিরোধী দল সিপিআইএমের সমর্থকদের উপর হামলা অব্যাহত। তেমনই আক্রান্ত হচ্ছেন তৃ়ণমূল কংগ্রেস সমর্থক ও প্রার্থীরা। আক্রান্ত কংগ্রেসও।
ভোটের ফল ঘোষণার পর ত্রিপুরার মু়খ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব জানান, এই জয় জনগণের জয়। ত্রিপুরার শাসকদল বিজেপির দাবি গণতন্ত্রের জয়। প্রধান বিরোধীদল সিপিআইএমের দাবি, গণতন্ত্র লুঠ হয়েছে। টিএমসি ভোটে ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ করেছে। বিধানসভায় খেলা হবে বলে জানিয়েছে। কংগ্রেসের তরফে ভোটের ফল প্রত্যাখান করা হয়েছে। তিপ্রা মথা ভোট সন্ত্রাস নিয়ে সরব।
রবিবার পুর ও নগর পঞ্চায়েত-পরিষদ ভোটের ফলাফলে বিজেপি কার্যত একতরফা জয়ী। ফলাফল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ত্রিপুরায় পুর নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ জয়ী শাসকদল বিজেপি।
মোট ২০টি পৌর এলাকার ৩৩৪টি আসন। বিজেপি জয়ী ৩২৯টি। ৯৯ শতাংশ আসনে জয়!
তাৎপর্যপূর্ণ, ৭টি পুর ও নগর পঞ্চায়েতে নির্বাচন হয়নি। এই এলাকাগুলিতে বিরোধীদের উপর হামলার বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতায় জয়ী হয় বিজেপি।
আগরতলা পুরনিগম সহ যে ১৩টি নগর পঞ্চায়েক ও পরিষদের ভোট হয়েছিল তার ২২২টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২১৭টি। বিরোধী সিপিআইএম পেয়েছে ৩টি। টিএমসি একটি। তিপ্রা মথা ১টি।
News Desk: ত্রিপুরা (Tripura) বিধানসভা ভোটের আগে যে সেমিফাইনাল হয়ে গেল তার ফলাফলে শাসক বিজেপির বিপুল জয় এসেছে। তেমনই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম। আগরতলা পুর নিগম বিজেপির দখলে। রাজ্যের ৬টি নগর পঞ্চায়েত ও ৩টি পুর পরিষদে কোথাও টিমটিম করে জ্বলছে বিরোধী দলের দুটি একটি প্রার্থীর নাম। তাৎপর্যপূর্ণ, আগরতলা পুরনিগমে তৃণমূল কংগ্রেস কোনও আসন না পেলেও বিরোধীপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছে। একাধিক ওয়ার্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল সিপিআইএমের থেকে এগিয়ে।
রবিবার গণনার ফলে ছবিটা স্পষ্ট হতেই শাসক বিজেপির তরফে প্রধানমন্ত্রী মোদী, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব সহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে পোস্টারে ছয়লাপ সোশ্যাল মিডিয়া। বিজেপির দাবি ‘গণতন্ত্রের জয়’।
আর নির্বাচনে সন্ত্রাস, রিগিং ও ভোট লুঠের যে অভিযোগে ত্রিপুরা সহ দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল তাকে হাতিয়ার করে কার্টুন প্রকাশ করেছে সিপিআইএম। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের ফেসবুক পেজে সেই কার্টুন প্রকাশ করা হয়েছে। এই কার্টুন প্রবল আলোড়ন ফেলে দিল।
ত্রিপুরার পুর ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্যাপক ভোট লুঠের অভিযোগে রাজ্য সরকারকে সুপ্রিম কোর্ট বারবার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বিঘ্ন ভোট পরিবেশ তৈরির। বিরোধী দল সিপিআইএমের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে পাত্তা না দিয়েই চলেছিল বুথ দখল। ভোট পরবর্তী হামলায় বারবার উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য।
এই পরিস্থিতিতে পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটের ফল বের হওয়ার ঠিক আগেই রাজ্য প্রশাসনকে কটাক্ষ করে বিরোধী দল সিপিআইএমের কার্টুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্রবল সরগরম।
News Desk, Agartala: পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোট মিটতেই ত্রিপুরায় (Tripura) শাসক দল বিজেপি দাবি করে, গণতন্ত্রের উৎসব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব ঘটা করে জন্মদিন পালন করেন।
বিজেপি রাজ্য সভাপতি মানিক সাহা জানান, মানুষ নিজে তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করেছেন। একধাপ এগিয়ে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর দাবি, একটাও মৃত্যু হয়নি। ঐতিহাসিক ভোট।
ভোট পরবর্তী সকালে ভয়াবহ ছবি ও জনগণের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে আগরতলার সংবাদ মাধ্যমে। তেমনই এক যুবতী ভোটার দাবি করেন, বৃহস্পতিবারের ভোট সন্ত্রাস অভিজ্ঞতা। তিনি সংবাদ মাধ্যমের সামনে স্পষ্ট জানান, কীভাবে বুথের সামনে মহিলারা ঘিরে ধরে তাঁকে মারধর করে সোনার হার ছিনতাই করেছে। পুরোটাই পুলিশের সামনে হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
ওই যুবতীর আরও অভিযোগ, বুথ দখল করা হয়েছিল। হামলাকারীরা সরকারপক্ষের বলেই সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে। সূত্র ভিত্তিক জানা গিয়েছে, হামলাকারীরা বিজেপির মহিলা মোর্চার সদস্য। তারা বুথ দখলে এসেছিলেন বলে অভিযোগ।
আক্রান্ত যুবতীর দাবি, রাজ্যে গণতন্ত্র নেই। তিনি ছিনতাই হওয়া সোনার চেন ফেরত পেতে পুলিশে অভিযোগ করেছেন। তবে তিনি রাজ্য প্রশাসন নিয়ে প্রবল ক্ষোভ উগরে দেন। অভিযোগ করেন, মহিলারা ঘিরে তাঁর ভাইকেও মারধর করেছে।
এদিকে ভোট মিটতেই ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা পুর নিগম সহ অন্যান্য নগর পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে চলছে ক্ষোভ। সরকারের ভূমিকায় জনগণ ক্ষুব্ধ।
News Desk: তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক রেখেই শেষ হয়েছে ত্রিপুরার পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোট পর্ব। ভোটপর্ব ঘিরে ব্যাপক রিগিং করার অভিযোগে জেরবার শাসকদল বিজেপি। তবে তাদের দাবি নির্বাচন হয়েছে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে। বিরোধী দল সিপিআইএমের দাবি রিগিং কী পর্যায়ে হয়েছে তা সংবাদ মাধ্যমেই স্পষ্ট।
বিজেপি ও সিপিআইএমের ভোট যুদ্ধের মাঝে সরকারপক্ষের অন্তত ১৩ জন বিধায়ক দলত্যাগের জন্য গোপনে আলোচনা শেষ করেছেন। বিশেষ সূত্রে kolkata24x7.in জানতে পেরেছে এই বৈঠকের কথা। আগেই এক বিধায়ক আশিস দাস বিজেপি ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।
সূত্রের খবর, সরকারপক্ষ ত্যাগ করতে চাওয়া বিধায়করা দিনভর আগরতলা পুর নিগম ও বাকি নগরপঞ্চায়েত ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। বিরোধী দল সিপিআইএমের ভূমিকা খতিয়ে দেখেন। রিগিংয়ের অভিযোগ, বুথ লুঠের ছবি ও ভিডিওর ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া পুনরায় নিরাপত্তা আশ্বাসের পরও যখন পরিস্থিতি একই থাকে তখন তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন।
ঘনিষ্ঠমহলে এদের বক্তব্য পুর নির্বাচনে সরকারের ভূমিকায় জনগণের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বিধানসভা ভোটে এর ধাক্কা সামলানো কঠিন হবে। এই বিজেপি বিধায়কদের বেশিরভাগ গত বিধানসভায় ভোটের আগে তৎকালীন বিরোধী দল কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। পরে তাঁরা বিজেপিতে সামিল হন।
এক নজরে ত্রিপুরা বিধানসভার অঙ্ক
মোট আসন ৬০ সরকারপক্ষে মোট ৪২ জন
বিজেপি ৩৫
আইপিএফটি ৭
প্রধান বিরোধীপক্ষ সিপিআইএম ১৬
অন্যান্য
তৃণমূল কংগ্রেস ১
তিপ্রা মথা ১
সূত্র মারফত Kolkata24x7.in আরও জানতে পেরেছে বিজেপির বিধায়করা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী, বর্তমান মন্ত্রী ও হেভিওয়েটরা।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ, পুর ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনে এদের অনেককেই প্রচারে বিজেপির তরফে তেমন ভূমিকা নেননি। বৃহস্পতিবার ভোটের ছবি দেখে তাঁরা অবস্থান আরও মজবুত করেছেন।
Tripura Municipal election নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: টানটান উত্তেজনার মধ্য দিয়েই বৃহস্পতিবার ত্রিপুরায় পুরভোটের (municipal election)৷ ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এদিন ভোট শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে একের পর এক হিংসা ও অশান্তির অভিযোগ। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে পড়ে যে ভোটচলাকাকীন হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয় দেশের শীর্ষ আদালত।
এদিন শীর্ষ আদালত (Supreme court)ভোট চলাকালীন ত্রিপুরায় (tripura) আরও দুই কোম্পানি সশস্ত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী (crpf) পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেয়। ভোটচলাকালীন এভাবে নিরাপত্তা বাহিনী পাঠাতে বলার নির্দেশ এককথায় নজিরবিহীন বলা যেতে পারে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ একদিকে যেমন বিজেপির কাছে বড় ধাক্কা তেমনই এতদিন ধরে রাজ্যের অন্যতম বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস সন্ত্রাসের যে অভিযোগ করছিল তা যে একেবারেই সঠিক সেটা প্রমাণ হল।
ত্রিপুরার প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিএম শীর্ষ আদালতের কাছে অভিযোগ করে যে, রাজ্যে ব্যাপক সন্ত্রাস চালাচ্ছে বিজেপি। সাধারণ মানুষকে বিজেপির পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য ভয় দেখানোর পাশাপাশি বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের উপরেও আক্রমণ চালাচ্ছে। এধরনের হিংসা ও সন্ত্রাসের পরিবেশে কখনওই অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। বিরোধীদের এই অভিযোগ পাওয়ার পরেই সক্রিয় হয়ে ওঠে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষ আদালতের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে নির্দেশ দেন, অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটের জন্য অবিলম্বে ত্রিপুরায় আরও দুই কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী পাঠাতে হবে। শুধু তাই নয়, পুরভোট যাতে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ হতে পারে তার জন্য কেন্দ্র ও ত্রিপুরা সরকারকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
ত্রিপুরার পরিস্থিতি নিয়ে বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের এই পর্যবেক্ষণ ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। বিচারপতি চন্দ্রচূড় বলেন, পুর নির্বাচনে প্রতিটি বুথে যাতে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকে তার জন্য রাজ্য নির্বাচন কমিশন ও ত্রিপুরা পুলিশ আধিকারিকদের যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রতিটি বুথে সাংবাদিকদের প্রবেশ করার অনুমতি দিতে হবে। পাশাপাশি ব্যালট পেপারের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। ২৮ নভেম্বর ভোট গণনার দিন যাতে কোথাও কোনও অশান্তি ও ঝামেলা না হয় সে বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের এই নির্দেশ নিশ্চিতভাবেই বিজেপির কাছে একটি ধাক্কা। পাশাপাশি শীর্ষ আদালতের নির্দেশে উজ্জীবিত বিরোধী শিবির।
রাজ্যের অন্যতম বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রথম থেকেই ত্রিপুরায় বিজেপির বিরুদ্ধে ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে আসছে। গত কয়েক দিনে এখানে তৃণমূল নেতা কর্মীদের মারধর করা হয়েছে। এমনকী, তৃণমূল প্রার্থীদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ও বোমা ছোড়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব নিজেই বিজেপির হার্মাদ বাহিনীকে উস্কানি দিয়ে চলেছেন। ঘটনার জেরে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, আগরতলার প্রতি বুথে কমপক্ষে পাঁচজন সশস্ত্র বাহিনীর জওয়ানকে রাখতে হবে। এদিন ২০টি পুর অঞ্চলের ৩৩৪ টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২২২টিতে আজ ভোটগ্রহণ চলছে। বিজেপি ইতিমধ্যেই ১১২ টি ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় পেয়েছে। এদিন যে সব বুথে ভোট নেওয়া হচ্ছে সেখানেই বিজেপি নতুন করে সন্ত্রাস চালিয়েছে বলে অভিযোগ।
Tripura poll violence News Desk: পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধী দলের ভুরি ভুরি অভিযোগ নিয়ে সরগরম পরিস্থিতি। সুপ্রিম কোর্টের তরফে ভোটারদের নিরাপত্তার ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বেলা শেষে ত্রিপুরায় ভোট সন্ত্রাসের ছবি আরও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে বলেই জানাচ্ছেন ভোটাররা।
আগরতলা পুর নিগম ভোটের সন্ত্রাসের ঘটনা বলতে গিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কেঁদে ফেললেন এক প্রৌঢ়া ভোটার। তিনি বর্ণনা দিয়েছেন, কেমন করে রিগিং হয়েছে।
ওই প্রৌঢ়া জানান, সকালে ভোট দিতে আসছি। এমন সময় কয়েকজন যুবক ঘিরে নিয়ে বলল, আপনার ভোট দিতে যাবেন না। ওদের কথা না শুনে বললাম কেন ভোট দেব না। ওদের পেরিয়ে যেই
আরেকটু এগিয়ে এসেছি এমন সময় দু’জন যুবক এসে আমার স্বামীর গলা টিপে ধরে রাস্তায় ফেলে দিল। আমাকে আটকে রাখল। বলল ভোট দিতে যাবেন না। এর পরেই প্রৌঢ়া কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি পরে জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি আগের সরকারের আমলে ছিল না।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের স্ত্রী নীতি দেব সাংবাদিকদের জানান, রাজ্যবাসী সুষ্ঠু উন্নয়নের জন্য ভোট দিয়েছেন। সরকার জনগণের উন্নয়নকেই প্রাধান্য দেয়।
ত্রিপুরায় গত বিধানসভা নির্বাচনের পর এই রাজ্যে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। সরকার গড়ে বিজেপি আইপিএফটি জোট। বিধানসভা ভোট সুষ্ঠুভাবেই হয়েছিল সেকথা সব রাজনৈতিক মহল স্বীকার করেছে। ভোটের ফল ঘোষণার দিন থেকে ত্রিপুরায় রাজনৈতিক হামলা শুরু হয়।
বিধানসভায় ভোটের পর থেকে রাজ্যে যতগুলি ভোট হয়েছে তাতে রিগিং পুরোমাত্রায় বলে অভিযোগ বিরোধী দল সিপিআইএমের। পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে ব্যাপক সন্ত্রাস নিয়ে সরব বিরোধী বামেরা। যদিও শাসক বিজেপির দাবি ভোটে কোনও রিগিং হয়নি।
Tripura poll violence News Desk: নেতারা রাস্তায়। বিরাট মিছিল নিয়ে থানা ঘেরাও করে রেখেছেন বাম সমর্থকরা। আগরতলায় পুর ভোটে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। বিরোধী দল সিপিআইএমের মিছিল দেখে কে বলবে বুথে বুথে হাল ছেড়ে দিয়েছেন কর্মীরা ! রাজপথ কাঁপিয়ে সিপিআইএমের মিছিল দেখে শাসক বিজেপির কটাক্ষ, এত লোক ওদের মিছিলে! কটা ভোট পাবে!
আর বাম সমর্থকদের প্রশ্ন দলেরই কাছে। তারা বলছেন, এত মিছিলেন শক্তি নিয়ে আন্দোলনের ছিঁটেফোঁটাও যদি বুথে দেখাতে পারত দল তাহলেই ছবিটা পাল্টে যেত। ভোট সন্ত্রাস রুখে দিতে পারতাম। নেতারা মিছিল করতে যত পটু ততটা বুথে নন।
ত্রিপুরা পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে ব্যাপক সন্ত্রাসে অভিযুক্ত শাসক বিজেপি। পরিস্থিতি এমন যে সুপ্রিম কোর্ট ফের বুথে বুথে নিরাপত্তার নির্দেশ দিয়েছে। সকাল থেকে একের পর এক ছবিতে স্পষ্ট পুর ভোট লুঠ হয়েছে। বিরোধী দল সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরী যে সন্ত্রাসের ভিডিও দেখিয়ে আশঙ্কা করেছিলেন, ভোটারদের বুথ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া সেটাই প্রমাণ করেছে।
বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেসের তরফেও ভোট সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে থানা ঘেরাও ও ধর্না কর্মসূচি চলে।
এদিকে শাসক দল বিজেপির রাজ্য সভাপতি মানিক সাহা জানান, রাজ্যবাসী ভোট উৎসকে অংশ নিয়েছেন। কোথাও রিগিং হয়নি। আরও একধাপ এগিয়ে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী দাবি করেছেন, ঐতিহাসিক ভোট হয়েছে রাজ্যে। একটিও খুনের খবর আসেনি। অথচ আগে সব ভোটে এমন ঘটনা ঘটত।
Tripura Municipal Election News Desk: সুপ্রিম কোর্ট স্তম্ভিত। সব সংবাদ মাধ্যমকে বুথে বুথে প্রবেশের নির্দেশ। ত্রিপুরায় পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ নিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক মহলে প্রবল শোরগোল। সকাল থেকেই নির্বাচনে সন্ত্রাস মাত্রাছাড়া বলে অভিযোগ।
আগরতলা পুর নিগম সহ সবকটি নগর পঞ্চায়েতের ভোটে সন্ত্রাসের যে ছবি আসছে তা প্রত্যাশিত ছিল বলেই জানাচ্ছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম।
ব্যাপক রিগিং ঘিরে উত্তপ্ত আগরতলা। ভোট রিগিংয়ের অভিযোগে বিরোধী দল সিপিআইএমের বিশাল মিছিল হয়। ঘেরাও করা হয় পশ্চিম আগরতলা থানা। পুলিশ অসহায় বলে জানিয়েছে পুলিশ মহলের একাংশ। সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরী ভোট সন্ত্রাসের ভয়াবহ ভিডিও সংবাদ মাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, সরকার জনসমর্থন হারিয়ে সন্ত্রাস করে জিততে মরিয়া।
অন্যদিকে হামলার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত আর্তনাদ শুরু করেছে। একাধিক প্রার্থী আক্রান্ত। দলের নেতা সুবল ভৌমিক আক্রান্ত প্রার্থীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। অপর বিরোধী দল কংগ্রেস কার্যত হাল ছেড়ে দিয়েছে।
যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাসক দল বিজেপির রাজ্য সভাপতি মানিক সাহা। তিনি বলেছেন, মানুষ শান্তিতে গণতান্ত্রিক রায় দিচ্ছেন। ভোট রিগিং নেই ভোট উৎসব চলছে। তাঁর মন্তব্য নিয়েই ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহল সরগরম।
আক্রান্ত ভোচদাতাদের দাবি, বিজেপি সমর্থকদেরও ছাড় দিচ্ছেনা বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা। তাঁদের অভিযোগ, এ যেন পশ্চিমবঙ্গের বিগত পঞ্চায়েত ভোটের হুবহু ছবি ত্রিপুরা পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে। নির্বাচনের আগে থেকে যে ভোট সন্ত্রাস চলছিল তার পরিপূর্ণ রূপ দেখাল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা।
News Desk: এ যেন পশ্চিমবঙ্গের বিগত পঞ্চায়েত ভোটের হুবহু ছবি ত্রিপুরা (Tripura) পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে। নির্বাচনের আগে থেকে যে ভোট সন্ত্রাস চলছিল তার পরিপূর্ণ রূপ দেখাল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা, এমনই অভিযোগ। মূল বিরোধী সিপিআইএমের দাবি, ভোট হচ্ছেই না। ভোট হলেই পরাজয় বুঝে গণতান্ত্রিক রায় লুঠ করেছে শাসক বিজেপি।
নির্বাচনে ভয়াবহ সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে তদ্বির করেছিল রাজ্যে নতুন করে রাজনীতি শুরু করা তৃণমূল কংগ্রেস। টিএমসি সাংসদ সুস্মিতা দেবের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ত্রিপুরা রাজ্য সরকারকে নির্বিঘ্নে ভোটের নির্দেশ দেয়। লাগাতার সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে টিএমসি সাংসদরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকে শাহ আশ্বাস দেন ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে কথা বলে ভোট সন্ত্রাস বন্ধ করা হবে।
বিরোধী সিপিআইএমের অভিযোগ, অমিত শাহর আশ্বাস ‘সোনার পাথরবাটি’ সেটা ভোট শুরু হতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আগরতলা পুর নিগমের কোনও ওয়ার্ড বাকি নেই যেখানে বিজেপি রিগিং করতে বাকি রেখেছে। নির্বাচনী সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে বুধবার রাতে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন বলে জানান। তিনি ভোট সন্ত্রাসের ভয়াবহ ছবি দেখান সাংবাদিকদের।
অভিযোগ, মু়খ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের নির্দেশে এমন করছে রাজ্য বিজেপি। বিরোধী নেতা মানিক সরকার জানিয়েছেন, সন্ত্রাস থেকেই স্পষ্ট সরকার জনসমর্থন হারিয়েছে। বিজেপির হেভিওয়েট নেতা ও প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায়বর্মণের দাবি, যেভাবে সন্ত্রাস চলছে তাতে দলের ভাবমূর্তি প্রবল কালিমালিপ্ত। ভবিষ্যতের দিন ভয়াবহ। রাজ্যে বিজেপি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা দেবের অভিযোগ, ভয়াবহ ভোট সন্ত্রাসের আশঙ্কা ছিলই। তাই হয়েছে।
অভিযোগের জবাবে বিজেপি জোট সরকার নীরব। আরও অভিযোগ, রাজ্য নির্বাচন কমিশন রিগিং চালাতে দিচ্ছে নির্বিঘ্নে। নিরাপত্তা শিকেয় উঠেছে।
News Desk: ত্রিপুরার (Tripura) পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোট শুরুর আগে বাড়ি বাড়ি ঢুকে ভোটারদের হুমকি ও ভোট না দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ভিডিও তুলে ধরল রাজ্যের বিরোধীদল সিপিআইএম।
রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, কীভাবে নির্বাচন বানচাল করতে চাইছে শাসক বিজেপির মদতপুষ্ট হামলাকারীরা এই ভিডিও তারই প্রমাণ। ভিডিওটি বিলোনিয়ার বলে দাবি করে়ছে সিপিআইএম। শাসক বিজেপি এই বিষয়ে নীরব।
বৃহস্পতিবার আগরতলা পুর নিগমের ভোট। একইসাথে অন্যান্য নগর পঞ্চায়েতেও নির্বাচন। রাজধানী শহর আগরতলার সবকটি বুথ স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।
বিরোধী দল সিপিআইএমের অভিযোগ রাতেই বিভিন্ন বুথ দখল করার ছক করেছে শাসক দল। এই মর্মে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়। একইসঙ্গে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে রাতেই জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছে।
রাত বাড়ছে একের পর এক এলাকা থেকে ভোট সন্ত্রাসের সংবাদ আসছে। ভোটকর্মীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভূগতে শুরু করেছেন। বিজেপির বিদ্রোহী বিধায়ক তথা প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণের অভিযোগ, নির্বাচনে নিয়ে প্রহসন চালাচ্ছেন সরকারের একাংশ। এতে বিজেপির ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হচ্ছে। তবে বিরোধী সিপিআইএমের সোশ্যাল সাইটে সুদীপবাবুর কিছু পুরনো ছবি দেখিয়ে তুলে ধরা হয় যারা হামলাকারী তারা প্রাক্তন মন্ত্রীরই ঘনিষ্ঠ।
News Desk: আগরতলা পুর নির্বাচন সহ রাজ্যের বাকি নগর পঞ্চায়েত ভোটের ঠিক আগের মুহূর্তে ফের শুরু হয়েছে সন্ত্রাস। বিরোধী সিপিআইএম প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি হামলা চলছে। বেশকিছু দোকান ভাঙচুর। অভিযোগ সর্বক্ষেত্রে বিজেপির বাইক বাহিনী হামলা করছে। যদিও বিজেপি এই দাবি অস্বীকার করেছে।
বৃহস্পতিবার ত্রিপুরায় বহু চর্চিত আগরতলা পুর নিগমের ভোট ঘিরে বু়ধবার বিকেল থেকেই হিংসাক্মক পরিস্থিতি তৈরি হলো ফের। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হামলা চলছে বলে অভিযোগ বিরোধী দল সিপিআইএমের। একই অভিযোগ করছে তৃ়ণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকারের স্ত্রী তথা সিপিআইএম নেত্রী পাঞ্চালি সরকারের অভিযোগ, শাসক বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় এসেছিল তার একটিও পূর্ণ হয়নি। এর ফলে সন্ত্রাস পরিবেশ তৈরি করেছে।
পাঞ্চালি সরকারের উপস্থিতিতে বিজেপি আশ্রিত হামলাকারীদের নামের তালিকা সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পঞ্চালি সরকার জানান, পরিস্থিতি এমন যে বিজেপি সমর্থকদের বাড়িতে গিয়েও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হামলাকারী ৯ জনের নামের তালিকা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে আগরতলার বিভিন্ন ওয়েব সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে হামলাকারীদের ছবি। অভিযোগ, সব জেনেও নির্বাচন কমিশন নীরব। ভোটের দিন সকাল থেকে তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হবে বলেই আশঙ্কা। পরিস্থিতি দেখে পুর নিগমের ৫১টি ওয়ার্ডের সব বুথকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।
News Desk: সাংবাদিক বৈঠকে যেভাবে দল ও মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ, তাতে ত্রিপুরা বিজেপি ক্ষুব্ধ। শাসক দলের তরফে জানানো হয়েছে ভোট মিটলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর পরেই প্রশ্ন সুদীপবাবু কি ফের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন?
ত্রিপুরায় টিএমসির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী সাংসদ সুস্মিতা দেব জানিয়েছেন, সুদীপ দা গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাঁর মন্তব্যে শোরগোল পড়েছে। যদিও আগরতলা থেকে কলকাতা ফিরে তিনি এই বিষয়ে নীরব। তবে জানিয়েছেন, পুর নির্বাচনের দিন সন্ত্রাসের আশঙ্কা প্রবল।
এদিকে প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বর্তমান হেভিওয়েট বিজেপি নেতা সুদীপ রায় বর্মণের দাবি, তিনি দলের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার ষড়যন্ত্র রুখতে চান। নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে কটাক্ষ করে বলেন, রাজ্যে পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে যে হুলিগান তাণ্ডব চলছে তাতে সরকারের কী বক্তব্য? কোথায় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ? তাৎপর্যপূর্ণ মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর ও পুলিশ বিভাগ।
পুর ভোটের দিন রাস্তায় নেমে তাণ্ডবলীলা রুখবেন বলে জানিয়েছেন সুদীপবাবু। আর রাজ্য বিজেপির তরফে জানানো হয়, ভোটের দিন দলীয় কর্মীরা রাস্তায় থাকবেন। সুদীপবাবু যখন নিজেকে বিজেপির কার্যকর্তা বলে দাবি করেছেন তিনিও থাকবেন। তবে তাঁর মন্তব্য নিয়ে ভোটের পরেই সিদ্ধান্ত নেবে দল।
সুদীপবাবু কি টিএমসিতে আসছেন ? আগরতলা থেকে কলকাতা পর্যন্ত এই প্রশ্ন। সূত্রের খবর, বিপ্লব দেব বিরোধী বিধায়কদের নিয়েই দলত্যাগের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন সুদীপ রায় বর্মণ। তবে তিনি পুর ভোট পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্তে নেবেন।
পুর নির্বাচনে সন্ত্রাস উপেক্ষা করে আগরতলাবাসীকে ভালো কিছুর জন্য ভোট দিতে আহ্বান জানান সুদীপবাবু। এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে। তিনি বলেন, আগে উৎসবের মেজাজে রাজ্যে ভোট হত। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে আগামী দিনে বিজেপির ভয়ঙ্কর অবস্থা হতে চলেছে।
সুদীপবাবুর এই উৎসবের মেজাজে ভোটের কথা বিরোধী দল সিপিআইএম লুফে নিয়েছে। বাম মহলের দাবি, ত্রিপুরায় টানা ২৫ বছর বামফ্রন্ট সরকারের আমলে নির্বিঘ্নে ভোট হতো তা স্বীকার করেছেন সুদীপবাবু।
ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমীর রঞ্জন বর্মণের পুত্র সুদীপ রায়বর্মণ। তিনি দীর্ঘ সময় কংগ্রেসের বিধায়ক। টানা বাম আমলে দাপুটে কংগ্রেস নেতা। তবে গত বিধানসভা ভোটের আগে সুদীপবাবু সহ ততকালীন বিরোধী দল কংগ্রেসের বিধায়করা টিএমসিতে যোগ দেন। রাজ্যে টিএমসি হয়েছিল ক্ষনিকের জন্য বিরোধী দল। এরপর বিধানসভা ভোটের আগে সুদীপবাবু সহ সেই বিধায়করা বিজেপিতে চলে যান। বিরোধী দল থেকে পরিবর্তনের ভোটে ত্রিপুরায় সরকার গড়ে বিজেপি। আর সিপিআইএম হয় প্রধান বিরোধী দল।
রাজ্যে বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকারের আমলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন সুদীপবাবু। তবে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিধানসভা ও বাইরে সরব ছিলেন তিনি। তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
News Desk: পশ্চিমবঙ্গে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তেমনই ত্রিপুরায় বিজেপি একই পথ নিয়েছে। ত্রিপুরায় পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটের আবহে রবিবার দিনভর রাজনৈতিক হামলার প্রেক্ষিতে এমনই অভিযোগ করলেন সিপিআইএম নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী।
সুজনবাবুর আরও অভিযোগ দুই রাজ্যের দুই শাসক দলের বিরুদ্ধেই। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় সিপিআইএম প্রধান বিরোধী দল। কেন তাদের উপর হামলার সংবাদ চেপে যাচ্ছে কলকাতার সংবাদ মাধ্যম।
ত্রিপুরায় আইন শৃঙ্খলা শিকেয় উঠেছে এমনই অভিযোগ করে বিবৃতি দিল বিরোধী দল সিপিআইএম। এই বিবৃতিতে তৃণমূল যুবনেত্রী সায়নী ঘোষকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে থানায় জেরা করার সময় হামলার কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে।
বিবৃতি দিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার নিন্দা করেছে সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি। বিরোধী দলনেতা ও প্রাক্তন মু়খ্যমন্ত্রী মানিক সরকার নির্বাচনী জনসভায় বিজেপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেছেন সরকার জনসমর্থন হারিয়ে হিংসার পথ নিয়েছে। আগামী বিধানসভা ভোটে পরাজয় নিশ্চিত।
দিনভর পূর্ব আগরতলা থানায় দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। টিএমসি নেতারা থানাতেই আক্রান্ত হন। সাংবাদিকরা আক্রান্ত হন। অভিযোগ পুলিশের সামনেই হামলা চালায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা। তবে পুলিশ বলছে ‘কিছু জানি না’। এমনকি রাজ্য পুলিশের কর্তারা পর্যন্ত নীরব।
ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের তরফেও শাসক বিজেপি কড়া নিন্দা করা হয়েছে। দলীয় প্রার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলেই অভিযোগ।
খুনের চেষ্টার অভিযোগে তৃণমূল যুব কংগ্রেস নেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতার করার পর থেকে ত্রিপুরার ভোট উত্তাপ পশ্চিমবঙ্গে ছড়াতে শুরু করে। পরপর অভিযোগে বিদ্ধ হয়েও শাসক বিজেপি নীরব। তবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, সায়নী ঘোষ ত্রিপুরায় হাওয়া গরম করতে গেছেন।
News Desk: ত্রিপুরার পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে শাসক বিজেপি বনাম বিরোধী সিপিআইএমের মূল লড়াই। তার মাঝে তৃৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে তুলকালাম কান্ড চলছে। এবার খুনের চেষ্টার অভিযোগে টিএমসি যুবনেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতার করল পুলিশ।
রবিবার বেলা গড়াতেই আগরতলা সরগরম হয় থানায় হামলার কারণে। আগরতলা পূর্ব থানায় ডেকে পাঠানো হয় টিএমসি নেত্রী ও অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে। তাকে যখন পুলিশ জেরা করছিল তখনই হামলা হয় থানায়। সশস্ত্র পুলিশের সামনেই হেলমেট পরা কয়েকজন যুবক এসে হামলা করে টিএমসি নেতাদের উপর। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, ফাঁদ পেতে পুলিশ এই হামলা করিয়েছে। হামলাকারীরা বিজেপির সমর্থক বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে জেরার পর টিএমসি নেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতারের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত। তিনি খেলা হবে বলে স্লোগান দিয়েছিলেন। তাঁর এই স্লোগানের ভিত্তিতেই পুলিশ থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।
টি়এমসি নেতা কু়ণাল ঘোষের অভিযোগ, থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল বিনা নোটিশে। আইন মেনে থানায় গিয়েছিলেন সায়নী ঘোষ। কিন্তু তাকে গ্রেফতারির পরে তাকে আদালতে যতক্ষণ না পেশ করছে পুলিশ ততক্ষণ জামিনের প্রক্রিয়া ঢিলে হবে। এই বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলছে দল।
News Desk: ত্রিপুরায় (Tripura) আসন্ন পুর ও নগর পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতায় প্রায় ৩০ শতাংশ আসনে জয়ী শাসক বিজেপি। অভিযোগ, প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম সহ বাকিদেরকে মনোনয়ন জমা দিতেই দেয়নি শাসক দল। এই অবস্থায় আগরতলা পুর নিগমের ভোট ঘিরে রাজনৈতিক হামলায় জখম একাধিক বাম প্রার্থী। আরও অভিযোগ, গত লোকসভা, পঞ্চায়েত ভোটের মতো চোখ বন্ধ করে রেখেছে নির্বাচন কমিশন।
যদিও বিজেপির দাবি, যে সব বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে তাতে দল জড়িত নয়। বিরোধী দলের এলাকাগত গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। সূত্রের খবর, রাজ্য বিজেপির বিধায়কদের একটি অংশের আশঙ্কা দলের ভোটব্যাংকে বিরাট ধস নামছে।
আগামী ২৫ নভেম্বর আরতলা পুরনিগমের ভোট। রাজধানী শহরের পুর নিগম দখল করতে মরিয়া শাসক বিজেপি। আর গত পুর বোর্ড চালানো সিপিআইএম নেমেছে তেড়েফুঁড়ে। ভোটে আছে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস।
এদিকে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক হামলার মুখে পড়ছেন বিরোধী প্রার্থীরা। আক্রান্তের পরিসংখ্যানে বেশি আছেন সিপিআইএমের প্রার্থীরা। কিছুক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের উপর হামলা হয়েছে।
শনিবার বিকেল থেকে নতুন করে রাজনৈতিক হামলায় আগরতলা পুর নিগমের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একাধিক বাম প্রার্থীর ঘর ভাঙচুরে অভিযুক্ত বিজেপির বাইক বাহিনী, এমনই অভিযোগ।
সাম্প্রতিক আগরতলায় বিজেপির সমর্থকদের তাণ্ডবের কারণে দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। আক্রান্ত হয় বিরোধী সিপিআইএম দলের রাজ্য কার্যালয়। তার আগে ধনপুরে বিরোধী নেতা মানিক সরকারের কনভয়ে হামলার জেরে সেখানকার বাম সমর্থকরা বিজেপি সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার রেশ ধরেই আগরতলায় বিজেপির প্রতিবাদ মিছিল থেকে ‘আগুন জ্বলেছিল’। পরপর আক্রান্ত হয়েছিল সংবাদপত্র দফতর।
News Desk: পশ্চিমবঙ্গে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে উপনির্বাচনে লাগাতার রিগিং ও ভোট লুঠ, সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছে বিরোধী দল বিজেপি। তারাই আবার ত্রিপুরায় শাসক দল হয়ে ভোট সন্ত্রাসে অভিযুক্ত। আসন্ন পুর ও স্থানীয় ভোটে শতাধিক আসনে কোনও প্রার্থী নেই প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের। অভিযোগ, সন্ত্রাস ছড়িয়ে মনোনয়ন জমা করতে দেয়নি বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গে গ্রামপঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিল ঘিরে ব্যাপক সন্ত্রাসে অভিযুক্ত হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের বিরুদ্ধে সরব বিজেপি ত্রিপুরায় ভয়াবহ সন্ত্রাস ছড়িয়েছে এমন অভিযোগে বারে বারে দেশ উত্তপ্ত হয়েছিল। প্রায় ৯৫ শতাংশ গ্রামভিত্তিক আসনে ভোট লুঠে অভিযুক্ত বিজেপি।
আসন্ন পুর নির্বাচনে ত্রিপুরায় নির্বাচনী সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে সিপিআইএম। অভিযোগ, উদয়পুর, বিশালগড়, কমলপুর, শান্তিরবাজার ও মোহনপুর পৌর পরিষদে কোনও ভোটই যাতে না হয় তার জন্য বাম প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে দেওয়া হয়নি। একইভাবে জিরানিয়া ও রানিরবাজার নগর পঞ্চায়েতেও কোনও ভোট হবে না।
ত্রিপুরা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা দিয়েছে, আগরতলা পুরনিগম, ১৩টি পৌর পরিষদ ও ৬টি নগর পঞ্চায়েতের মোট ৩৩৪টি আসনে ভোট হবে। পুর নিগম বাদ দিলে, বিরোধী বাম শিবির, কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের কোনওপক্ষই সম্পূর্ণ আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি। ৭টি নগর সংস্থায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা জিতে যাবে শাসক বিজেপি।
বিরোধী দল সিপিআইএমের অভিযোগ, ২০১৮ সালে রাজ্যে বিজেপি জোট সরকারে আসার পর যে সন্ত্রাস শুরু করেছে তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে শাসক দল তৃ়ণমূল কংগ্রেস ও তাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতির পুরো মিল। তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি।