Tripura: মোদীর জনসভায় অনুপস্থিত সুদীপ, বিজেপির ফাটল স্পষ্ট

Sudip Barman

আগরতলায় প্রধানমন্ত্রীর জনসভা করছেন আর ত্রিপুরায় (Tripura) বিজেপির অন্যতম খুঁটি সুদীপ রায় বর্মণ গরহাজির! এতে তৃণমূল কংগ্রেস মহলে মুচকি হাসি আরও চওড়া হতে শুরু করল। বিজেপি মহলে স্পষ্ট হয়েছে ভাঙন।

মোদী আসছেন, মোদী এলেন আর বিজেপি বিধায়ক তথা প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ নীরব থাকলেন। আগরতলার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে (আস্তাবল ময়দান) যেমন নেই, তেমনই সোশ্যাল মিডিয়াতেও নেই। অথচ, তিনি বারবার দাবি করেছেন, মোদীজীর নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। ত্রিপুরায় এর যথাযথ প্রয়োগ করা দরকার।

সুদীপ রায় বর্মণের গরহাজিরা, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে একটি শব্দ খরচ না করার পিছনে বিজেপির অন্দরমহল দ্বন্দ্ব আরও বাড়ল। আগরতলায় রাজনৈতিক মহলের খবর, বিধানসভা নির্বাচনের আগে নিজ গোষ্ঠীর বিধায়কদের নিয়ে সুদীপ রায় বর্মণ ফের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন।

সম্প্রতি পুর নির্বাচনের আগে ত্রিপুরার রাজনৈতিক সন্ত্রাস নিয়ে সরকারের ভূমিকায় প্রবল আক্রমনাত্মক মন্তব্য করেছিলেন সুদীপবাবু। তিনি বলেছিলেন, এ রাজ্যে বিজেপি এমন কিছু জনের হাতে পড়েছে যারা নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নমুখী ভূমিকাকে কালিমালিপ্ত করতে চায়। নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের মুন্ডপাত করেছিলেন সুদীপ রায় বর্মণ।

ত্রিপুরায় মুখ্যমন্ত্রীকে বদল না করলে তাঁর ভূমিকা বিজেপির পতনের কারণ হবে। দলীয় উচ্চস্তরে এই বার্তা বারবার পাঠিয়েছেন সুদীপবাবু ও বিদ্রোহী বিধায়করা। দিল্লি থেকে বারবার পরিস্থিতি সামাল দিতে এসেছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। চিঁড়ে ভেজেনি। ফাটল ক্রমে বেড়েছে। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় সুদীপবাবু সহ বিদ্রোহী বিধায়কদের অনুপস্থিতি বিতর্ক আরও উস্কিয়ে দিল।

ত্রিপুরায় দীর্ঘ আড়াই দশকের টানা বাম জমানায় সুদীপবাবু কংগ্রেসের বিধায়ক ছিলেন। পিতা সমীররঞ্জন বর্মণ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। গত বিধানসভা ভোটের আগে সুদীপবাবু সহ সব কংগ্রেস বিধায়করা দলত্যাগ করে টিএমসিতে যোগ দেন। এরপর টিএমসি ত্যাগ করে বিজেপিতে চলে আসেন। সরকার পরিবর্তন হয়। মন্ত্রিসভায় এলেও সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে সুদীপবাবুর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সংঘাত তীব্র আকার নেয়।

Modi: ‘ঘরে ঘরে চাকরি’ নেই, মোদীর সফরে ত্রিপুরায় বেকারত্ব কাঁটা

modi farm laws withdrawal announcement

কড়া নিরাপত্তায় মুড়েছে ত্রিপুরার রাজধানী শহর আগরতলা। মঙ্গলবার আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম বিমান বন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। তাঁর সফরসূচি জমকালো করতে রাজ্যের বিজেপি জোট সরকার খামতি রাখছে না। বিমানবন্দর থেকে আগরতলার বিখ্যাত আস্তাবল ময়দান জুড়ে নিরাপত্তার কঠিন বলয় রাখা হচ্ছে।

একই সফরে মনিপুর যাবেন মোদী। বরাক নদীর উপর সেতু উদ্বোধন করবেন তিনি। মনিপুরে আসন্ন বিধানসভা ভোটে বিজেপি সরকার  নড়বড়ে বলে সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

মোদীর ত্রিপুরা সফরে রাজনৈতিক বিতর্ক প্রবল আকার নিয়েছে। আগরতলার রাজনৈতিক মহল তপ্ত। রাজ্য সশস্ত্র বাহিনী টিএসআর নিয়োগ ঘিরে সরকার অস্বস্তিতে। ভুয়ো নিয়োগের অভিযোগে সরব চাকরি প্রার্থীরা। রাস্তায় বিক্ষোভ তুঙ্গে। চাকরিচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকাদের আন্দোলনও চলছে।

বিজেপি জোট সরকারে আসার পর অর্থাভাবে আত্মঘাতী ও অসুস্থ হয়ে শতাধিক চাকরিচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকা মৃত। আরও অভিযোগ, ঘরে ঘরে চাকরির মি়থ্যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি।

রাজ্যের বিজেপি সরকারের দাবি, ত্রিপুরা এখন উন্নয়নের পথে সামিল। তার উদাহরণ বাঁশ দিয়ে রোজগার ও বিমান বন্দরের জৌলুশ।

তবে প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের দাবি, ২০০৮ সাল থেকে রাজ্য বামফ্রন্ট সরকারের সদর্থক ভুমিকারই ফসল আজকের এই আগরতলা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বিজেপি এই রাজ্যে দুয়ারে গুণ্ডা সরকার চালাচ্ছে। সবমিলে মোদীর সফরের আগে আগরতলা সরগরম।

আগরতলা  বিমানবন্দরটি ১৯৪২ সালে ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য বাহাদুরের সময় মনির্মিত হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় এই বিমান বন্দর। বাংলাদেশ সীমান্তের একেবারে নিকটে ভারতের এই বিমানবন্দরটি উত্তর পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে বাকি দেশের আকাশপথ যোগাযোগের বিশেষ কেন্দ্র।

Tripura: ‘কল্পিত’ অভিযোগ টিকল না, BJP সরকারকে ধাক্কা দিয়ে মানিকের জামিন

Manik Sarkar

News Desk: সকালে রাজপথ দিয়ে হাঁটছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার সহ ত্রিপুরা (Tripura) সিপিআইএমের শীর্ষ নেতারা। আদালতের দিকে তাঁদের যাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়ে পড়ে ঝড়ের গতিতে। কেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আদালতে? উঠতে শুরু করে প্রশ্ন।

তাৎক্ষণিকভাবে সিপিআইএম ফেনী পেজে জানানো হয়, জনগণের দাবি নিয়ে নিয়ে আন্দেলনের কারণে মামলা দায়ের করা হয়েছিল রাজ্য সরকারের তরফে। সেই মামলায় হাজিরা ও জামিন নিতে আদালতে যাচ্ছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে আদালত চত্বর ছিল সরগরম। মানিকবাবু সহ রাজ্য সিপিআইএমের তাবড় নেতারা ছিলেন অভিযুক্ত। তাঁদের সঙ্গে নিয়েই বিরোধী দলনেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আদালতে হেঁটে উপস্থিতি নিয়ে শোরগোল ছড়ায়।

পরে আদালত প্রাঙ্গনের বাইরে এসে মানিক সরকার জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে সব দিক বিবেচনা করে সম্মানীয় বিচারক জামিন দিয়েছেন। পুরো অভিযোগ ছিল কল্পিত।

সদ্য পুর ও নগর নির্বাচনে বিজেপি বিপুল জয় পেয়েছে ত্রিপুরার। ব্যাপক রিগিংয়ের অভিযোগে বারবার বিদ্ধ হয়েছে বিজেপি জোট সরকার। তবে নির্বাচনে খড়কুটোর মত উড়ে গিয়েছে বিরোধী দল সিপিআইএম। তবে তারাই রাজ্যে ভোটের নিরিখে বিরোধী দল বলে দাবি করেছে সরকারপক্ষ।

ফল ঘোষণার পরে মঙ্গলবার মানিকবাবু কড়া সমালোচনা করেন রাজ্য সরকারের। এর পর বুধবার সকালে তাঁর আদালতে হাজিরা আরও শোরগোল ফেলে দেয়।

মানিকবাবু জানিয়েছেন, ২০২০ সালের ২৬ আগস্ট আগরতলায় ১৬ দফা দাবি নিয়ে বিরোধী দল সিপিআইএম সমাবেশ আন্দোলন করেছিল। কোভিড পরিস্থিতিতে সরকারের হাত গুটিয়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে জনগণ জড়ো হন। সিপিআইএমের তরফে সরকারের কাছে চিকিৎসা, আর্থিক সাহায্যের দাবি করা হয়। কোভিড পরিস্থিতিতে সেই সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছিল সরকার। কিন্তু সরকারের গা ছাড়া মনোভাবের বিরুদ্ধে ছিল আন্দোলন।

মানিকবাবু জানান, সেই আন্দেলন থেকে সিপিআইএম নেতা কর্মীদের গ্রেফতার করেই ছেড়ে দেয় পুলিশ। ঘটনার প্রেক্ষিতে পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ আনা হয়। এই অভিযোগ পুরো কল্পিত। আদালত সব অভিযোগপত্র খতিয়ে দেখেছে। সম্মানিত বিচারক সব দিক বুঝে জামিন দিয়েছেন।

মানিকবাবু বলেছেন, সরকার জনবিচ্ছিন্ন। জিরো পারফরম্যান্স। তাই এমন পদক্ষেপ নিয়েছিল। আদালতেই এর মোকাবিলা হবে।

Tripura: মোদীর টুইটে ‘সুশাসন’ বেছে নেওয়ার ধন্যবাদ, হামলায় সন্ত্রস্ত ত্রিপুরা

Tripura post poll violence

News Desk: পুর ও নগর পরিষদ-পঞ্চায়েক নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে ত্রিপুরার (Tripura) শাসকদল বিজেপি। প্রবল ভোট সন্ত্রাস ও রিগিং অভিযোগে নির্বাচন নিয়ে অসন্তুষ্ট সুপ্রিম কোর্ট বারবার রাজ্যের বিজেপি সরকারকে নির্বিঘ্নে ভোট ব্যবস্থা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিল।

অভিযোগ, সেই নির্দেশ গিয়েছে ধুলোয় লুটিয়ে। ভোটে সন্ত্রাসের ভয়াবহ হামলা অব্যাহত ফল বের হওয়ার পরেও। রবিবার রাতভর চলেছে হামলা, বাড়ি ঘর ভাঙচুর। সর্বক্ষেত্রে হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি।

পুর নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করেন। তিনি লিখেছেন, ত্রিপুরাবাসীকে ধন্যবাদ। তাঁরা সুশাসন বেছে নিয়েছেন।

Tripura post poll violence

সুশাসনের ভয়াবহ ছবি সোমবার সকাল হতেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। শুধু আগরতলা নয়, জেলায় জেলায়, এলাকাভিত্তিক হামলা চলছে। গাড়ি ভাঙচুর, বিরোধী দল সিপিআইএমের সমর্থকদের উপর হামলা অব্যাহত। তেমনই আক্রান্ত হচ্ছেন তৃ়ণমূল কংগ্রেস সমর্থক ও প্রার্থীরা। আক্রান্ত কংগ্রেসও।

ভোটের ফল ঘোষণার পর ত্রিপুরার মু়খ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব জানান, এই জয় জনগণের জয়। ত্রিপুরার শাসকদল বিজেপির দাবি গণতন্ত্রের জয়। প্রধান বিরোধীদল সিপিআইএমের দাবি, গণতন্ত্র লুঠ হয়েছে। টিএমসি ভোটে ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ করেছে। বিধানসভায় খেলা হবে বলে জানিয়েছে। কংগ্রেসের তরফে ভোটের ফল প্রত্যাখান করা হয়েছে। তিপ্রা মথা ভোট সন্ত্রাস নিয়ে সরব।

রবিবার পুর ও নগর পঞ্চায়েত-পরিষদ ভোটের ফলাফলে বিজেপি কার্যত একতরফা জয়ী। ফলাফল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ত্রিপুরায় পুর নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ জয়ী শাসকদল বিজেপি।

মোট ২০টি পৌর এলাকার ৩৩৪টি আসন। বিজেপি জয়ী ৩২৯টি। ৯৯ শতাংশ আসনে জয়!
তাৎপর্যপূর্ণ, ৭টি পুর ও নগর পঞ্চায়েতে নির্বাচন হয়নি। এই এলাকাগুলিতে বিরোধীদের উপর হামলার বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতায় জয়ী হয় বিজেপি।

আগরতলা পুরনিগম সহ যে ১৩টি নগর পঞ্চায়েক ও পরিষদের ভোট হয়েছিল তার ২২২টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২১৭টি। বিরোধী সিপিআইএম পেয়েছে ৩টি। টিএমসি একটি। তিপ্রা মথা ১টি।

Tripura: বামেদের ঘাড়ে ‘হামলা’ মমতার, হাসি চওড়া মোদীর

modi-mamata

News Desk: ত্রিপুরা (Tripura) পুর ও নগর পঞ্চায়েত, পরিষদের ভোটের ফলে ‘ব্যাপক রিগিং’ ছাপ লাগলেও শাসক বিজেপির বিপুল জয় সর্বত্র। আর বিরোধী দল সিপিআইএমের করুণ অবস্থা। ত্রিপুরায় আরও একটি সমীকরণ তৈরি হলো। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের উঠে আসা। বিরোধী দল না হয়েও কার্যত বিরোধীদলের ভূমিকা নিতে চলেছে মমতা শিবির।

পুর নির্বাচনের ফলাফলে দিশেহারা বাম শিবির। দুই দফায় রাজ্যে মোট ৩৫ বছর (১০+২৫) মধ্যে সর্বশেষ টানা ২৫ বছর সিপিআইএম ছিল সরকারে। গত বিধানসভা ভোটের পর বিরোধী আসনে তারা। দলটির দখলে আছে ১৬ জন বিধায়ক। এই শক্তি নিয়েও ফলাফলে তেমন কিছুই করতে পারেনি বিরোধীরা। ত্রিপুরায় ব্যাপক ভোট রিগিং হয়েছে বলে অভিযোগ সিপিআইএমের।

তৃণমূল কংগ্রেসের তরফেও ভোট সন্ত্রাস অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরেও সন্ত্রাস চলেছে ভোটে এমনই অভিযোগ। এরই মাঝে নিজেদের ভোট বাড়িয়ে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগরতলা পুরনিগমে ব্যাপক ভোট সন্ত্রাসের অভিযোগ এলেও এখানেই টিএমসি বিভিন্ন ওয়ার্ডে বামেদের তিননম্বরে পাঠিয়েছে। কোনও কোনও ওয়ার্ডে তারা সিপিআইএমের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলেছে।

রাজ্যের অন্যান্য নগর পঞ্চায়েত ও পুর পরিষদের ভোটেও বিজেপির বিপুল জয়ের মাঝে টিএমসি যেমন আছে টিমটিম করে, তেমনই আছে সিপিআইএম। একাধিক আসনে বামেদের থেকে এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে সর্বত্র বিজেপি জয়ী। জয়ের এই খবরে প্রধানমন্ত্রী মোদীর হাসি চওড়া। কারণ তাঁরই ঝড়ে গত বিধানসভা ভোটে ত্রিপুরায় ভেঙে পড়েছিল বিরাট বাম দুর্গ।

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটে প্রচারে এসে ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী নেতা মানিক সরকার বলেছিলেন, তাঁর রাজ্যে বিজেপি সরকারের আমলে জনগণের নিদারুণ অভিজ্ঞতার কথা। ঠিক সেই সময়ে ত্রিপুরা ছিল দেশের বেকারত্ব তালিকায় শীর্ষে। পূর্ব বর্ধমানের সদর বর্ধমান শহরে সিপিআইএমের জনসভায় মানিকবাবুর ভাষণের পর রাজ্য জুড়ে প্রবল শোরগোল পড়েছিল।

বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারে টিএমসি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বারবার মানিকবাবুর সেই ভাষণকে হাতিয়ার করেছেন। প্রচারে এসেছিলেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। তবে তিনি সাড়া পাননি।

ভোটে এ রাজ্যে সিপিআইএম শূন্য হয় বিধানসভায়।বিজেপির দাবি ত্রিপুরায় ডবল ইঞ্জিনের উন্নয়ন হয়েছে। এর পরেও বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়তে পারেনি। তৃণমূল কংগ্রেস টানা তিনবার সরকারে।

বঙ্গে বিজেপিকে রুখে দিয়ে ত্রিপুরায় ঝাঁপ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা। সেই লক্ষ্যে তিনি সেমিফাইনাল ম্যাচে অস্তিত্ব জানিয়ে দিলেন। বিরাট ভোট ধাক্কা নিয়ে মানিক সরকার ও সিপিআইএম আসন্ন বিধানসভার ভোটে ঘুরে দাঁড়ানোর সূত্র খুঁজতে মরিয়া। 

Tripura: পুর নির্বাচনের পরেই BJP তে বড় ধসের ইঙ্গিত, সুদীপ সমীকরণে চাঞ্চল্য

Sudip Roy Barman

News Desk: সাংবাদিক বৈঠকে যেভাবে দল ও মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণ, তাতে ত্রিপুরা বিজেপি ক্ষুব্ধ। শাসক দলের তরফে জানানো হয়েছে ভোট মিটলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর পরেই প্রশ্ন সুদীপবাবু কি ফের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে চলেছেন?

ত্রিপুরায় টিএমসির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেত্রী সাংসদ সুস্মিতা দেব জানিয়েছেন, সুদীপ দা গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাঁর মন্তব্যে শোরগোল পড়েছে। যদিও আগরতলা থেকে কলকাতা ফিরে তিনি এই বিষয়ে নীরব। তবে জানিয়েছেন, পুর নির্বাচনের দিন সন্ত্রাসের আশঙ্কা প্রবল।

এদিকে প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও বর্তমান হেভিওয়েট বিজেপি নেতা সুদীপ রায় বর্মণের দাবি, তিনি দলের ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত করার ষড়যন্ত্র রুখতে চান। নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে কটাক্ষ করে বলেন, রাজ্যে পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে যে হুলিগান তাণ্ডব চলছে তাতে সরকারের কী বক্তব্য? কোথায় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ? তাৎপর্যপূর্ণ মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর ও পুলিশ বিভাগ।

পুর ভোটের দিন রাস্তায় নেমে তাণ্ডবলীলা রুখবেন বলে জানিয়েছেন সুদীপবাবু। আর রাজ্য বিজেপির তরফে জানানো হয়, ভোটের দিন দলীয় কর্মীরা রাস্তায় থাকবেন। সুদীপবাবু যখন নিজেকে বিজেপির কার্যকর্তা বলে দাবি করেছেন তিনিও থাকবেন। তবে তাঁর মন্তব্য নিয়ে ভোটের পরেই সিদ্ধান্ত নেবে দল।

সুদীপবাবু কি টিএমসিতে আসছেন ? আগরতলা থেকে কলকাতা পর্যন্ত এই প্রশ্ন। সূত্রের খবর, বিপ্লব দেব বিরোধী বিধায়কদের নিয়েই দলত্যাগের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন সুদীপ রায় বর্মণ। তবে তিনি পুর ভোট পর্যবেক্ষণ করেই সিদ্ধান্তে নেবেন।

পুর নির্বাচনে সন্ত্রাস উপেক্ষা করে আগরতলাবাসীকে ভালো কিছুর জন্য ভোট দিতে আহ্বান জানান সুদীপবাবু। এই মন্তব্য ঘিরেই রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে। তিনি বলেন, আগে উৎসবের মেজাজে রাজ্যে ভোট হত। তিনি আরও বলেন, রাজ্যে আগামী দিনে বিজেপির ভয়ঙ্কর অবস্থা হতে চলেছে।

সুদীপবাবুর এই উৎসবের মেজাজে ভোটের কথা বিরোধী দল সিপিআইএম লুফে নিয়েছে। বাম মহলের দাবি, ত্রিপুরায় টানা ২৫ বছর বামফ্রন্ট সরকারের আমলে নির্বিঘ্নে ভোট হতো তা স্বীকার করেছেন সুদীপবাবু।

ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমীর রঞ্জন বর্মণের পুত্র সুদীপ রায়বর্মণ। তিনি দীর্ঘ সময় কংগ্রেসের বিধায়ক। টানা বাম আমলে দাপুটে কংগ্রেস নেতা। তবে গত বিধানসভা ভোটের আগে সুদীপবাবু সহ ততকালীন বিরোধী দল কংগ্রেসের বিধায়করা টিএমসিতে যোগ দেন। রাজ্যে টিএমসি হয়েছিল ক্ষনিকের জন্য বিরোধী দল। এরপর বিধানসভা ভোটের আগে সুদীপবাবু সহ সেই বিধায়করা বিজেপিতে চলে যান। বিরোধী দল থেকে পরিবর্তনের ভোটে ত্রিপুরায় সরকার গড়ে বিজেপি। আর সিপিআইএম হয় প্রধান বিরোধী দল।

রাজ্যে বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকারের আমলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন সুদীপবাবু। তবে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিধানসভা ও বাইরে সরব ছিলেন তিনি। তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Tripura: ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’ নেতা বিজেপির কবর খুঁড়ছে: সুদীপ বর্মণ

Sudip Roy Barman

News Desk: পুর নির্বাচনে লাগাতার সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ভালো কিছুর জন্য ভোট দিতে আবেদন করলেন ত্রিপুরার (Tripura) প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায়বর্মণ। তাঁর আবেদন, বিজেপির তকমাধারী হামলাকারীদের প্রতিহত করে ভোট দিন। তিনি বলেন, আগে রাজ্যে উৎসবের আবহে ভোট হতো।

বিজেপি বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মণ সরাসরি তাঁর দলের উর্ধ্বতন কিছু নেতার কড়া সমালোচনা করেছেন। ইঙ্গিতে তিনি বলেন, এমন এক নেতা আছেন যাঁর ত্রিপুরা সম্পর্কে কোনও অভিজ্ঞতা নেই। শিশুসুলভ আচরণ করছেন তিনি। সুদীপবাবু নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের কড়া সমালোচনা করেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে দীর্ঘসময় ত্রিপুরা থেকে দূরেই ছিলেন বিপ্লব দেব।

আগরতলা পুরনিগম ভোট ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে লাগামছাড়া সন্ত্রাসের পরপর ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কোনও কাজেই আসেনি। অভিযোগ, শাসক বিজেপি আশ্রিত হামলাকারীরা বিরোধী সিপিআইএম, টিএমসি ও কংগ্রেস প্রার্থী, সমর্থকদের রুখতে মরিয়া। বিরোধীরা সরব নির্বাচনী সন্ত্রাস নিয়ে।

tripura

ভোট সন্ত্রাস নিয়ে সুদীপ রায় বর্মণ সরব। তিনি বলেন, রাজ্যে এমন এক নেতা আছেন যিনি বিজেপির কবর খুঁড়ছেন নিজেই। উড়ে এসে জুড়ে বসা এই নেতা বাম আমলের ‘হুলিগান’দের ব্যবহার করে ভোটে জিততে মরিয়া। এতে ক্ষতি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ও বিজেপিরই। আগামী দিন দলের পক্ষে ভয়ঙ্কর এই রাজ্যে।

সাংবাদিক বৈঠকে সুদীপবাবুর অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসন ইচ্ছাকৃত নীরব ভূমিকা নিচ্ছে। তারা চাইছে এই রাজ্যে আবার বাম শাসন। যে টানা ২৫ বছর সিপিআইএমের শাসন চলেছিল, তাকে সরিয়েই বিজেপি সরকার গড়েছে উন্নত পরিষেবা দিতে। তবে কিছু নেতার ভূমিকা বামেদের পথ প্রসস্ত করছে।

আগরতলা পুর নিগম নির্বাচনের আগেই সুদীপ রায় বর্মণের কড়া আক্রমণে ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপিতে প্রবল শোরগোল। মনে করা হচ্ছে ফের তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরতে চলেছেন সুদীপবাবু।

সুদীপবাবুর সাংবাদিক বৈঠকের পরেই টিএমসি সাংসদ ও ত্রিপুরার দায়িত্বে থাকা সুস্মিতা দেব বলেন, সুদীপ দা একজন দায়িত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ নেতা। একধাপ এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, সাহস থাকলে সুদীপবাবুকে বহিষ্কার করুক বিজেপি।

ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমীর রঞ্জন বর্মণের পুত্র সুদীপ রায়বর্মণ। তিনি দীর্ঘ সময় কংগ্রেসের বিধায়ক। টানা বাম আমলে দাপুটে কংগ্রেস নেতা। তবে গত বিধানসভা ভোটের আগে সুদীপবাবু সহ ততকালীন বিরোধী দল কংগ্রেসের বিধায়করা টিএমসিতে যোগ দেন। রাজ্যে টিএমসি হয়েছিল ক্ষনিকের জন্য বিরোধী দল। এরপর বিধানসভা ভোটের আগে সুদীপবাবু সহ সেই বিধায়করা বিজেপিতে চলে যান। বিরোধী দল থেকে পরিবর্তনের ভোটে ত্রিপুরায় সরকার গড়ে বিজেপি। আর সিপিআইএম হয় প্রধান বিরোধী দল।

রাজ্যে বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকারের আমলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন সুদীপবাবু। তবে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিধানসভা ও বাইরে সরব ছিলেন তিনি। তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Tripura: শিক্ষামন্ত্রীর শরীর BJP-র সঙ্গে, মন উড়ুউড়ু, বিস্ফোরক ইঙ্গিত CPIM রাজ্য সম্পাদকের

Ratanlal Nath

News Desk: পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে শাসক দল বিজেপির অন্যতম নেতা ও ত্রিপুরার শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথের দলত্যাগ ইঙ্গিত বিরোধী দল সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরীর।

প্রধান বিরোধী দলের রাজ্য সম্পাদকের দাবি, রতনলাল নাথের কথা শুনে রাজ্যের ঘোড়াগুলো হাসবে। রতনবাবুর শরীর এখন বিজেপির সঙ্গেআছে কিন্তু মন এখন কোনখানে আছে কেউ জানে না। সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদকের ইঙ্গিতে ত্রিপুরা জুড়ে শোরগোল পড়েছে।

ত্রিপুরার শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ বকলমে বিপ্লব দেব মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ মুখ। সরকারের হয়ে যাবতীয় বিষয়ে সাংবাদিক সম্মেলন তিনিই করেন। পূর্বতন কংগ্রেস নেতা তিনি। গত বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপিতে যোগ দেন রতনবাবু।

শিক্ষামন্ত্রীর দলত্যাগ স্বভাবকে খোঁচা দিয়েছেন বিরোধী দলের রাজ্য সম্পাদক। সোশ্যাল সাইটে জীতেন্দ্র চৌধুরীর বক্তব্যের জেরে শাসক দল বিজেপির অভ্যন্তরে শোরগোল যেমন তেমনই তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যেও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Tripura CPI(M) Leader Jitendra Choudhury
সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরী

ত্রিপুরায় দলীয় প্রচারে এসে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই দাবি করেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রীর আশেপাশে যারা ঘোরেন তাদের সবাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আসতে তৈরি। ইচ্ছে করলে সরকার ফেলে দিতে পারি। কিন্তু নির্বাচিত সরকার পূর্ণ মেয়াদ থাকুক এটাই চাই।

ত্রিপুরার শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথের বিরুদ্ধে রাজ্যের কর্মচ্যুত ১০৩২৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকার যৌথ আন্দোলন মঞ্চ ক্ষুব্ধ। তাঁদের অভিযোগ, শিক্ষামন্ত্রী বারবার ধাপ্পা দিয়ে চলেছেন। কোনও চাকরির ব্যবস্থা হয়নি। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবও কিছুই করতে পারেননা বলেই অভিযোগ। ইতিমধ্যেই রাজ্যে কর্মচ্যুত শতাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা মারা গিয়েছেন।

ত্রিপুরায় হিংসা বন্ধ হবে, অমিত শাহর মন্তব্যে অস্বস্তিতে বিপ্লব দেব

amit-mamata

News Desk: দলের যুবনেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতার পরে জামিন দেওয়া ও রাজনৈতিক হামলার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকেই আগরতলা ও দিল্লি সরগরম। টিএমসি সাংসদদের লাগাতার চাপের মুখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ত্রিপুরায় হিংসা বন্ধ হবে।

পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক চাপের মুখে অমিত শাহর মাথা ঝুঁকিয়ে নেওয়া বলেই ধরে নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের পর অস্বস্তিতে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। পরপর রাজনৈতিক হামলায় সন্ত্রস্ত ত্রিপুরা। বিরোধী দল সিপিআইএমের কটাক্ষ, তৃণমূল ও বিজেপি কাউকেই বিশ্বাস নেই।

ত্রিপুরায় হিংসা বন্ধের জন্য অমিত শাহ সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। সোমবার সন্ধ্যায় অমিত শাহর বাসভবন থেকে বেরিয়ে এসে এই কথা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার ত্রিপুরায় গ্রেফতার হয়েছিলেন তৃণমূলের যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ। রবিবার থেকেই শাহর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু শাহ তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি। সোমবার সকাল থেকেই নর্থ ব্লকে ধরনায় বসেন তৃণমূল সাংসদরা। তাঁদের দাবি ছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে হবে। প্রথম দিকে শাহ কোনওভাবেই তৃণমূল নেতৃত্বকে সময় দিতে চাননি। কিন্তু একটানা ধরনা চলার পর চাপের মুখে তিনি দেখা করেন।

আধ ঘণ্টার বৈঠক শেষে শাহর বাসভবন থেকে বেরিয়ে এসে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ত্রিপুরায় অবিলম্বে হিংসা ও অশান্তি বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গে আগেও কথা বলেছেন প্রয়োজনে আবারও তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন। তবে এই আশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত হল সেটা সময়ই জানিয়ে দেবে।

কল্যাণের সুরে সুর মিলিয়ে একই কথা বলেছেন দলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেছেন, ত্রিপুরায় অবিলম্বে হিংসা বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন শাহ। তবে শাহর এই আশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত হল সেদিকে তাঁরা কড়া নজর রাখবেন।

Tripura: ‘পশ্চিমবঙ্গে TMC সন্ত্রাসের ছবি ত্রিপুরায় দেখাচ্ছে BJP’

tripura

News Desk: পশ্চিমবঙ্গে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তেমনই ত্রিপুরায় বিজেপি একই পথ নিয়েছে। ত্রিপুরায় পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটের আবহে রবিবার দিনভর রাজনৈতিক হামলার প্রেক্ষিতে এমনই অভিযোগ করলেন সিপিআইএম নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী।

সুজনবাবুর আরও অভিযোগ দুই রাজ্যের দুই শাসক দলের বিরুদ্ধেই। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় সিপিআইএম প্রধান বিরোধী দল। কেন তাদের উপর হামলার সংবাদ চেপে যাচ্ছে কলকাতার সংবাদ মাধ্যম।

tripura

ত্রিপুরায় আইন শৃঙ্খলা শিকেয় উঠেছে এমনই অভিযোগ করে বিবৃতি দিল বিরোধী দল সিপিআইএম। এই বিবৃতিতে তৃণমূল যুবনেত্রী সায়নী ঘোষকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে থানায় জেরা করার সময় হামলার কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে।

বিবৃতি দিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার নিন্দা করেছে সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি। বিরোধী দলনেতা ও প্রাক্তন মু়খ্যমন্ত্রী মানিক সরকার নির্বাচনী জনসভায় বিজেপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেছেন সরকার জনসমর্থন হারিয়ে হিংসার পথ নিয়েছে। আগামী বিধানসভা ভোটে পরাজয় নিশ্চিত।

দিনভর পূর্ব আগরতলা থানায় দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। টিএমসি নেতারা থানাতেই আক্রান্ত হন। সাংবাদিকরা আক্রান্ত হন। অভিযোগ পুলিশের সামনেই হামলা চালায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা। তবে পুলিশ বলছে ‘কিছু জানি না’। এমনকি রাজ্য পুলিশের কর্তারা পর্যন্ত নীরব।

ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের তরফেও শাসক বিজেপি কড়া নিন্দা করা হয়েছে। দলীয় প্রার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলেই অভিযোগ।

খুনের চেষ্টার অভিযোগে তৃণমূল যুব কংগ্রেস নেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতার করার পর থেকে ত্রিপুরার ভোট উত্তাপ পশ্চিমবঙ্গে ছড়াতে শুরু করে। পরপর অভিযোগে বিদ্ধ হয়েও শাসক বিজেপি নীরব। তবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, সায়নী ঘোষ ত্রিপুরায় হাওয়া গরম করতে গেছেন।

Tripura: ‘ভোটে সন্ত্রাস’ নিরাপত্তা দিক সরকার, সুপ্রিমকোর্টে অস্বস্তিতে BJP

biplab-abhishekh

News Desk: ত্রিপুরায় আসন্ন পুর নির্বাচনে রাজনৈতিক আক্রমণ ‘লাগামছাড়া’।বিরোধীদের এমনই অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে নির্বিঘ্নে প্রচার ও নিরাপত্তার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম নির্দেশে প্রবল অস্বস্তিতে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেবের আবেদনকে মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সাংসদ আবেদনে বলেন, ত্রিপুরায় লাগামছাড়া রাজনৈতিক হামলা চলছে তৃণমূল প্রার্থী ও সমর্থকদের উপরে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট ত্রিপুরা সরকারকে ভোট নির্বিঘ্নে করার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি  ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় জানান, সরকারকে শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রচার চালানোর যথাযথ দায়িত্ব নিতে হবে। কাউকে প্রচারে বাধা দেওয়া যাবে না।

ত্রিপুরায় গত বিধানসভা ভোটে টানা ২৫ বছরের বাম শাসনের পতন হয়। সরকার গড়ে বিজেপি ও আইপিএফটি জোট। ২০১৮ সাল সেই বিধানসভা ভোটের গণনার দিন থেকে প্রবল রাজনৈতিক হামলা শুরু হয়। দেশজুড়ে বারবার আলোচিত হয়েছে বিরোধী সিপিআইএম ও কংগ্রেসের উপর ত্রিপুরার রাজনৈতিক হামলা। এরপর লোকসভা, পঞ্চায়েত ভোটেও রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালানোয় অভিযুক্ত হয়েছে বিজেপি।

আসন্ন পুর ও নগর পরিষদ ভোটে শতাধিক আসনে বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতায় জিতেছে। অভিযোগ, বিরোধী দল সিপিআইএম সহ কংগ্রেস, টিএমসি কোনও দলই এই আসনগুলিতে প্রার্থী দিতে পারেনি।বিভিন্ন আসনে প্রার্থী দিয়েও তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআইএম নাম প্রত্যাহার করেছে।

পুর নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে আগরতলা পুর নিগমে। বিজেপি ও সিপিআইএমের মধ্যে বোর্ড দখলের লড়াই। তবে টিএমসি ও কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে। ভোট ২৫ নভেম্বর। ২৮ নভেম্বর গণনা।

বিরোধী সিপিআইএমের অভিযোগ, পুর ও নগরপরিষদ ভোটে রাজ্য জুড়ে সন্ত্রাস চালাচ্ছে বিজেপি। আক্রান্ত বাম সমর্থক ও প্রার্থীদের বাড়ি যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার।

বিরোধী দলনেতা মানিকবাবু জানিয়েছেন, বিজেপি সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে ভোট সন্ত্রাস চালাচ্ছে। গত নির্বাচনের আগে যে বাড়ি বাড়ি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি তা পূরণে ব্যর্থ। সরকার পতনের মুখে।

Kolkata: প্রকাশ্যে মমতাকে মাতৃশক্তি হিসেবে তুলনা BJP বিধায়কের, ভাঙন স্পষ্ট

Ashis Das

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভূমিকায় প্রবল হতাশ হয়েছেন তা খোলাখুলি জানাতে দ্বিধা নেই। তেমনই বিজেপি বিধায়ক হয়েও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) দেশনেত্রী হিসেবে মেনে নিতেও কুন্ঠা নেই। এভাবেই দলত্যাগের ইঙ্গিত স্পষ্ট করলেন ত্রিপুরায় শাসক দল বিজেপির (BJP) বিধায়ক আশিস দাস।

আশিস দাস ত্রিপুরার সুরমা (Surma vidhansabha) বিধানসভার বিধায়ক। তিনি কলকাতায় এসেছেন কিছু ব্যক্তিগত কাজে। জানিয়েছেন, কালীঘাটে পুজো দেবেন। তার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে ভবিষ্যত কর্মসূচি জানাবেন।

আশিসবাবুর ইঙ্গিতে স্পষ্ট তিনি বিজেপি ত্যাগ করতে চলেছেন। সূত্রের খবর আরও এক ডজন বিধায়ক দ্রুত বিজেপি ছাড়বেন। ত্রিপুরায় হয় সংখ্যালঘু সরকার হবে কিংবা মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সরকার পড়ে যাবে। এমনই আশঙ্কা সে রাজ্যের বিজেপি শিবিরে।

আগরতলা থেকে আশিস দাস কলকাতা এসে তৃণমূল কংগ্রেস ভবনে যান। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন শুধু একটি রাজ্যের নেত্রী নন তিনি সর্বভারতীয় বিরোধী মুখ। ইন্দিরা গান্ধীর পর মাতৃশক্তির হাতেই ভারত সুরক্ষিত হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরকার দেশীয় সম্পদের বিক্রি নীতির প্রবল সমালোচনা করেন বিজেপি বিধায়ক।

ত্রিপুরায় আগামী বিধানসভা ভোটের আগে শাসক বিজেপির অভ্যন্তরে ভাঙন ক্রমে বড় হচ্ছে। সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে লাগাতার সুর চড়িয়ে রেখেছেন একগুচ্ছ বিধায়ক। এরা সংস্কারপন্থী বা বিদ্রোহী বলে পরিচিত। এই গোষ্ঠীর নেতা সুদীপ রায় বর্মণ। সুদীপবাবুর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সংঘাত প্রবল।

বিজেপি বিধায়কদের বিদ্রোহী গোষ্ঠী দিল্লি গিয়ে খোদ সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কাছে মুখ্যমন্ত্রীকে পদচ্যুত করার দাবি রাখেন। তাঁদের অভিযোগ, বিপ্লব দেব কে মুখ্যমন্ত্রী করে আগামী বিধানসভা ভোট লড়লে ত্রিপুরা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বিজেপি। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেকথা মানেননি। বিভিন্ন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বদল করলেও ত্রিপুরায় বিপ্লববাবুকেই পদে বহাল রেখেছে।

গত বিধানসভা ভোটের আগে ততকালীন বিরোধী দল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে সুদীপ রায় বর্মণের নেতৃত্বে বিধায়করা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। টিএমসি হয়েছিল বিরোধী দল। পরে সেই বিধায়করা সুদীপবাবুর নেতৃত্বে়ই ফের বিজেপিতে যান। ভোটে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান হয়। সিপিআইএম এখন বিরোধী দল।

এর মাঝে পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরেই তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরায় ফের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েছে। টিএমসি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ত্রিপুরায় বিজেপির প্রায় সব বিধায়ক দলত্যাগ করে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আসতে তৈরি।

সাইড লাইনে ইয়েদুরাপ্পা, বিপ্লব? বেঙ্গালুরু-আগরতলায় শোরগোল

Bjp may change cm of karnataka and tripura

নিউজ ডেস্ক: আচমকা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে বিজয় রুপানির পদত্যাগ, তাঁর জায়গায় নতুন মুখ ভূপেন্দ্র প্যাটেল। মোদী সরকারের আমলেই তিনবার মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদলে গেল গুজরাটে। অথচ বিজেপি (BJP) সেখানে টানা ক্ষমতায়। কেন গুজরাটেই এতবার মুখ্যমন্ত্রীর বদল? নীরব সংঘ ও বিজেপি।

গুজরাটে মুখ্যমন্ত্রী বদল অপর দুই বিজেপি শাসিত রাজ্য কর্নাটক ও ত্রিপুরায় তীব্র আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। কারণ দক্ষিণ ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের দুই রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদলের দাবি উঠেছে। মনে করা হচ্ছে, কর্নাটকে যে কোনও সময় বদল করা হবে মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পাকে।

Read More: সাত বছরে সর্বাধিক কংগ্রেস নেতা-বিধায়ক-সাংসদের বিজেপি যোগ: রিপোর্ট

তবে এর আগে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদে তিনজন মুখ্যমন্ত্রী বদল করেছে বিজেপি। অসমের মুখ্যমন্ত্রী পদে সর্বানন্দ সোনোয়ালের বদলে আনা হয়েছে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে। অসমের প্রতিবেশি রাজ্য ত্রিপুরায় বিজেপির অন্দরমহলে তীব্র আলোড়ন। এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে নিয়েই বিক্ষোভ তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই বিক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়করা বারবার ক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের দাবি বিধানসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদল না করলে ত্রিপুরায় দলের বিলীন হওয়া নিশ্চিত।

ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির অভ্যন্তরে ক্রমে দীর্ঘ হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী গোষ্ঠী সুদীপ রায় বর্মণের ছায়া। আগরতলায় গুঞ্জন বিভেদ এমন যে যে কোনও সময় সুদীপবাবুর নেতৃত্বে অন্তত ১৬ জন বিধায়ক দলত্যাগ করবেন। তাঁরা ফের তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যেতে পারেন। সরকার পড়েও যেতে পারে। গত বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী দল কংগ্রেস ছেড়ে তৃ়নমূল কংগ্রেস হয়ে শেষপর্যন্ত বিজেপিতে এরা এসেছিলেন। নির্বাচনে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। সিপিআইএম এখন প্রধান বিরোধী দল।

ত্রিপুরায় আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে হাজির তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ত্রিপুরায় শক্তি জাহির করতে মরিয়া। টিএমসি সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট দাবি করেন, চাইলে যে কোনও মুহূর্তে বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকার ফেলে দিতে পারেন। তিনি ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রীরই ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীরা তৃণমূলে ফিরতে মরিয়া।

দলে বিক্ষোভ থামাতে গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, অসমের মতো এবার কি কর্নাটকে ইয়েদুরাপ্পা ও ত্রিপুরায় বিপ্লবকে সাইডলাইনে ঠেলবে বিজেপি? বেঙ্গালুরু ও আগরতলায় চলছে রাজনৈতিক জল্পনা।

Photo Gallery: জ্বলছে ত্রিপুরা-আগরতলায় আতঙ্ক

Attack on cpim tripura state office at agaartala

রাজনৈতিক হামলায় বিরোধী দল সিপিআইএম রাজ্য দফতর পুড়েছে। এমনই আগুন যে আসেপাশের কয়েকটি বাড়িতেও আগুন ছড়ায়। অভিযোগ পুলিশ নির্বিকার। হামলায় অভিযুক্ত সরকারে থাকা বিজেপি সমর্থকরা। বু়ধবার ত্রিপুরায় একের পর এক জেলা সদর, মহকুমা ছাড়িয়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপে খোদ রাজধানী আগরতলা শহর যেন জ্বলন্তপুরী। আগুনে জ্বলছে ত্রিপুরা দেখুন ছবিতে

জ্বলছে আগরতলা, মাইনাস জিরো পারফরম্যান্স বিজেপির, জনবিচ্ছিন্ন দল: মানিক সরকার

Political vandalism creats controversy in tripura

নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক হামলায় বিরোধী দল সিপিআইএম রাজ্য দফতর পুড়েছে। এমনই আগুন যে আসেপাশের কয়েকটি বাড়িতেও আগুন ছড়ায়। অভিযোগ পুলিশ নির্বিকার। হামলায় অভিযুক্ত সরকারে থাকা বিজেপি সমর্থকরা। বু়ধবার ত্রিপুরায় একের পর এক জেলা সদর, মহকুমা ছাড়িয়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপে খোদ রাজধানী আগরতলা শহর যেন জ্বলন্তপুরী।

দলীয় রাজ্য দফতরে আগুন ধরানো ও জনজীবনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলনেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, মাইনাস জিরো পারফরম্যান্স বিজেপির, জনবিচ্ছিন্ন দল হয়ে গিয়েছে। তবে পুরো ঘটনায় বিজেপি ত্রিপুরা প্রদেশ সম্পূর্ণ নীরব।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ত্রিপুরার রাজনৈতিক জ্বলন্ত পরিবেশ। ভয়াবহ পরিস্থিতি। রাজপথ দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছেন জনগণ। পরপর দোকান লুঠ হচ্ছে। একের পর এক গাড়িতে আগুন ধরানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে স্লোগান ‘জয় শ্রী রাম’, এই মাটিতেই হিসেব হবে। আতঙ্কিত আগরতলাবাসী। খোদ ত্রিপুরার রাজধানীতে এখন অগ্নিগর্ভ পরিবেশ। হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি।

জ্বলছে ত্রিপুরা

পরিস্থিতি এমন যে আগরতলায় জনগণ প্রবল আতঙ্কিত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কনভয় সোমবার তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র ধনপুরে আটকেছিল বিজেপি সমর্থকরা। মানিকবাবু নিজে নেমে রুদ্রমূর্তি নেন। বাম সমর্থকরা ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজেপির সমর্থকদের উপরে। রণে ভঙ্গ দেয় বিজেপি। মাত্র একদিনের মধ্যেই মারের বদলা নিতে অগ্নিমূর্তি ধারণ করল বিজেপি বলে অভিযোগ। আগরতলা জ্বলছে। বিশালগড়, উদয়পুর সহ রাজ্যের সর্বত্র হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই পরপর আগরতলায় একটার পর একটা দোকান ভাঙচুর করা হয়।

আগরতলায় সিপিআইএমের রাজ্য দফতরে হামলার পাশাপাশি কয়েকটি সংবাদপত্র দফতরেও হামলা হয়। সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির অভিযোগ, বিশালগড়ে তাদের দলীয় দফতরে হামলা করে আগুন ধরিয়েছে বিজেপির সমর্থকরা। প্রকাশ্যেই আগ্মেয়াস্ত্র নিয়ে আস্ফালন করছে হামলাকারীরা। এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

Tripura: ‘জয় শ্রী রাম’ বলে হামলা CPIM রাজ্য দফতরে, পরপর গাড়িতে আগুন

Attack on cpim tripura state office at agaartala

আগরতলা: মাত্র একদিনের মধ্যেই মারের বদলা নিতে অগ্নিমূর্তি ধারণ করল বিজেপি। আগরতলা জ্বলছে। সিপিআইএম রাজ্য দফতরে হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি। রাজপথে থাকা একটার পর একটা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সরকারে থাকা দলটির সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

Attack on cpim tripura state office at agaartala

পরিস্থিতি এমন যে আগরতলায় জনগণ প্রবল আতঙ্কিত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কনভয় তাঁর বিধনসভা কেন্দ্র ধনপুরে আটকেছিল বিজেপি সমর্থকরা। মানিকবাবু নিজে নেমে রুদ্রমূর্তি নেন। বাম সমর্থকরা ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজেপির সমর্থকদের উপরে। রণে ভঙ্গ দেয় বিজেপি।

Attack on cpim tripura state office at agaartala

ঘটনার জেরে ত্রিপুরা সহ গোটা দেশে ছড়ায় চাঞ্চল্য। বুধবার আগরতলা, বিশালগড়, উদয়পুর সহ রাজ্যের সর্বত্র অগ্নিমূর্তি নেয় বিজেপি সমর্থকরা। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই পরপর আগরতলায় একটার পর একটা দোকান ভাঙচুর করা হয়। আগরতলায় সিপিআইএমের রাজ্য দফতরে হামলা হয়েছে।

 

সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির অভিযোগ, বিশালগড়ে তাদের দলীয় দফতরে হামলা করে আগুন ধরিয়েছে বিজেপির সমর্থকরা। আগরতলার পরিস্থিতি প্রবল উত্তপ্ত। প্রকাশ্যেই আগ্মেয়াস্ত্র নিয়ে আস্ফালন করছে হামলাকারীরা। এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ‘ভয়’: মমতার আগরতলা গমনে বিজেপি সরকার সংখ্যালঘু হওয়ার দিকে

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক: আসছে সেপ্টেম্বর মাসে কী জানি কী হয়! এমনই ভয় ছড়িয়ে ত্রিপুরা (Tripura) প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে। আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর উপস্থিতিতে বড়সড় ধস নামতে পারে সরকারপক্ষে। ফলে ত্রিপুরায় বিজেপি (TMC) জোটের ডবল ইঞ্জিন সরকার লাইনচ্যুত হওয়ার গুঞ্জন উত্তর পূর্বাঞ্চলের সব রাজ্যে। সেপ্টেম্বরেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগরতলায় জনসভা হতে চলেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগরতলার আস্তাবল ময়দানে (বর্তমান স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়াম) তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর জনসভা হবে। সেখানেই বিজেপির অন্তত ১২ জন বিধায়ক ফের ফিরতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসে।

কলকাতায় টিএমসি সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন ত্রিপুরা সরকারের বিদ্রোহী তথা সংস্কারপন্থী বিধায়করা। নেতৃত্বে রয়েছেন সুদীপ রায় বর্মণ। তিনি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের (Biplab Deb) প্রবল প্রতিপক্ষ।

সুদীপবাবুর হাত ধরেই গত বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী দল কংগ্রেস ছেড়ে এই বিধায়করা টিএমসিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে ত্রিপুরায় টিএমসি হয়েছিল বিরোধী দল। মমতা-সুদীপ সখ্যতা বেশিদিন চলেনি। সুদীপবাবুর রাজনৈতিক গুরু মুকুল রায় বিজেপিতে যান। সেই সূত্রেস সুদীপবাবু টিএমসি ত্যাগ করে বিজেপিতে যান। নির্বাচনে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। বিজেপি-আইপিএফটি জোট এখন সরকারে।

ত্রিপুরায় বিজেপি প্রথমবার সরকার গড়ে। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন সুদীপবাবু। তবে সরকারের কাজে লাগাতার অসন্তোষ দেখাতে থাকেন। তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়। শুরু হয় সুদীপবাবুর বিদ্রোহ।

গত চার বছরে ত্রিপুরা বিজেপির অন্দরে সুদীপবাবুর অনুগামীরা বিতর্কিত স্লোগান চালু করেছেন, ‘বিপ্লব হটাও ত্রিপুরা বাঁচাও’। এই বিদ্রোহী বিধায়কদের সবাই সরাসরি তৃণমূলে ফিরতে মরিয়া। তাঁরা দলত্যাগ করলে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে বিজেপি।

ত্রিপুরা বিধানসভা এখন এমন-
tripura bidhansavaপশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে মমতা শিবিরে ফিরেছেন। সেই থেকে ত্রিপুরায় ফের মুকুল শিষ্য সুদীপ বর্মণ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমীকরণ জমাট হতে শুরু করেছে।

রাজ্যে ০.৩ শতাংশ ভোট নিয়ে টিএমসি শুরু করেছে ‘খেলা হবে’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগরতলা সফরে কী ঘটবে তা স্পষ্ট জানেনা বিজেপি। প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের দাবি, কোনও অবস্থায় বাম বিধায়করা পক্ষত্যাগ করবেন না।

কালীঘাটের আমন্ত্রণে কলকাতায় সুদীপ বর্মণ, আগরতলায় বিজেপি মহলে ধস আতঙ্ক

Mamata has little scope in N-E beyond Tripura

নিউজ ডেস্ক: আবারও কি ২০১৮ সালের ঠিক আগের অবস্থা ফিরতে চলেছে আগরতলায় ? ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে শুরু হয়েছে আতঙ্ক-ধস আতঙ্ক। নেতৃত্ব বিধায়কদের বড় অংশ ফের তৃ়ণমূল কংগ্রেসে ফিরতে পারেন এমনই গুঞ্জন। কারণ, ত্রিপুরার তাবড় নেতা সুদীপ রায় বর্মণ এখন কালীঘাটের আমন্ত্রণে কলকাতায়।

উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই বাংলাভাষী প্রধান রাজ্যে গত বিধানসভা ভোটের আগে রাতারাতি বিরোধী আসন থেকে মুছে গেছিল কংগ্রেস। কয়েকদিনের জন্য তৃ়নমূল কংগ্রেসের ঘরে বিরোধী দলের তকমা জুটেছিল। সবই হয়েছিল ‘ত্রিপুরার মুকুল রায়’ বলে সুপরিচিত নেতা সুদীপ রায় বর্মণের রাজনৈতিক ছকে।

পরে গুরু মুকুল রায়ের পরামর্শে সুদীপবাবু তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে অনুগামীদের নিয়ে বিজেপিতে যান। ত্রিপুরায় পালাবদল হয়। বামফ্রন্টের টানা ২৫ বছরের সরকার পড়ে যায়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি আইপিএফটি জোট। এর পরেই সরকারের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গে সংঘাত শুরু সূদীপ বর্মণের।  সংঘাত তীব্র হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা পারেননি সামাল দিতে। বিপ্লববাবু ও সুদীপবাবুর মধ্যে কথাবার্তা আগেই বন্ধ। দুজনেই পরস্পরকে এড়িয়ে চলেন।

রাজনৈতিক মোড় ঘুরতে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিনবার তৃণমূল কংগ্রেস সরকারে থেকে যাওয়ায়। বিজেপি ত্যাগ করে মুকুল রায় ফিরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। সেই ধাক্কা গিয়ে লাগে ত্রিপুরায়। মুকুল শিষ্য সুদীপ রায় বর্মণ বিজেপি ত্যাগ না করলেও দলের কোনও বিষয়েই নেই। তিনি এখন কলকাতায়।

সিপিআইএমের টানা দু দশকের জমানায় আগরতলার রাজনীতিতে বরাবর প্রভাব রাখা সুদীপ রায় বর্মণ ফের কলকাতায় অবস্থান করছেন কেন? তৃ়নমূল কংগ্রেস নীরব। তবে প্রদেশ বিজেপি ধরেই নিচ্ছে তিনি ফের শিবির পাল্টাবেন। কতজন বিধায়ক যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে? এই প্রশ্ন এখন আগরতলায় সর্বত্র। এমনকি পরিস্থিতি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিরোধী দল সিপিআইএম। তাদের রাজ্য দফতর দশরথ দেব ভবনেও চাপা আলোচনা-‘সুদীপ বর্মণ ফের ছক করেছে’।

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলায় গিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন যে কোনও সময়ে ত্রিপুরায় বিজেপির সরকার ফেলে দিতে পারি। তবে নির্বাচিত সরকার পূর্ণ মেয়াদ থাকুক এটা চাই।

এর পর ত্রিপুরায় ক্রমে বাড়ছে টিএমসির রাজনৈতিক কার্যকলাপ। দলটির দখলে এই রাজ্যে ০.৩ শতাংশ ভোট। সেখান থেকে উঠে আসা এবং সরকার ভেঙে দেওয়ার ঘোষণায় যে সুদীপবাবুর ‘ছক’ আছে তা স্পষ্ট বিজেপির কাছে।পূর্বতন বিরোধী দল কংগ্রেস বিধানসভায় এখন শূন্য। তবে কংগ্রেসের ভোট ব্যাংক পেতে মরিয়া টিএমসি। কালীঘাটের আমন্ত্রণে অনেক কিছুই হবে। সেই রাতারাতি সবকিছু পাল্টে যাওয়া? আগরতলায় ধসের আতঙ্ক বিজেপি মহলে।