বাবুল TMC হতেই ‘বিজেমূল’ তত্ত্বে বাম নেতাদের দুষছেন সমর্থকরা

biman basu and surjya kanta mishra

নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী পরাজয়ের বিশ্লেষণে বাম নেতারা নিজেদের শূন্য হওয়ার কারণ খুঁজেছেন। পরে সিপিআইএমের (CPIM) সাংগঠনিক রিপোর্ট ‘পার্টি চিঠি’ তে বলা হয়, ভোটে টিএমসি (TMC) বিজেপির পারস্পরিক নেতা বিধায়কের বদলে যে বিজেমূল (Bijemool) স্লোগান তোলা হয়েছিল তা ভুল।

এই বিজেমূল স্লোগান মূলত কটাক্ষ মিশ্রিত। কিন্তু বাস্তবিক। ভোটের আগে একের পর এক তৃণমূল নেতার বিজেপিতে যাওয়া নিয়েই তৈরি স্লোগানটি রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছিল। যদিও বামেরা কিছুই করতে পারেনি।ভোটের পর তৃণমূলে ফিরে আসা নেতাদের নিয়েও কটাক্ষ চলছে।

Bijemul

তবে সিপিআইএমের সাংগঠনিক কড়া রীতি অনুসারে বিজেমূল তত্ত্ব নাকচ হওয়ায় উপনির্বাচনের আবহে তেমন শোনা যাচ্ছে না। সব হিসেব উল্টে গেল শনিবার। পশ্চিম বর্ধমানের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় (Babul supriyo) বিজেপি তো আগেই ছেড়েছিলেন, এবার তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন।

বাবুলের টিএমসি শিবিরে আসার পরেই ফের বিজেমূল তত্ত্বে মশগুল রাজনৈতিক মহল। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাম সমর্থকরা কটাক্ষ শুরু করেছেন। মন্তব্যের ঝড়ে দলের নেতাদের মুন্ডপাত করছেন। সমর্থকদের অভিযোগ, বিজেমূল স্লোগান ভুল না একদমই বাস্তবিক। তবে নেতারা বুঝতে পারেননি।

সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় টিএমসি হতেই বিজেমূল স্লোগান সক্রিয়। সিপিআইএম নেতাদের ঠেস দেওয়ার কাজও চলছে সমর্থকদের তরফে।

জামানত বাজেয়াপ্ত হবে জেনেই ‘নেতারা বেপাত্তা’, সিপিআইএমের শ্রীজীব প্রায় একলা

Shrijeeb Biswas

নিউজ ডেস্ক: রাস্তায় গলিতে প্রচার করছেন। সঙ্গে গুটিকয় যুবকর্মী সমর্থক, আর কেউ নেই! থাকার কথাও নয়, একেবারেই আনকোরা প্রার্থী তাও আবার রাজ্যে শূন্য হয়ে যাওয়া সিপিআইএম (CPIM) দলের। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের ‘হেরো’ প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও অস্তিত্বের যুদ্ধে নেমেছেন। আর আছেন বিজেপির প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। তিনি যথারীতি গিমিক টানতে মরিয়া, সম্বল অবাঙালি ভোটার। ভবানীপুরের উপনির্বাচনে এটাই তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর চালচিত্র।

ভবীনীপুর তৃণমূল কংগ্রেসের সেফ সিট। বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্রে জয়ী হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে বিজেপির কাছে পরাজিত হন। দল যেহেতু বিপুল শক্তি নিয়ে তৃতীয়বার সরকার গড়েছে তাই মুখ্যমন্ত্রী পদেই আছেন মমতা। প্রাক্তন বিধায়ককে নির্বাচন কমিশনের নিয়মে জিতে বিধানসভা ঢুকতে হবে। মমতা মরিয়া জিততে। বিজেপি মরিয়া আটকাতে। আর ‘বামেরা মরিয়া তাদের প্রার্থীকে জামানত খোয়াতে!’ এমনই কটাক্ষ টিএমসি ও বিজেপি শিবিরের।

Shrijeeb Biswas

বিধানসভা ভোটে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, ও আইএসএফের মধ্যে যে আসন সমঝোতা হয়েছিল তার নিরিখে সংযুক্ত মোর্চা লড়াই করে। একটি আসন তাদের জুটেছে। ভোট শেষ জোট শেষ অনেকটা এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন সিপিআইএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

ভবানীপুরের উপনির্বাচনে তাই একলা বামফ্রন্ট। কংগ্রেস ভবানীপুরে প্রার্থী দেবেনা ঘোষণা করেছে। আইএসএফ এখন বামেদের কাছে অছ্যুত। তবে ভবানীপুর কেন্দ্রে সিপিআইএম প্রার্থী প্রচার শুরু করেছেন। প্রচার দেখে এলাকার বাম কর্মী সমর্থকদের আক্ষেপ নেতারা কবে যে বুঝবেন। এভাবে ছেলেটাকে একলা ঠেলে দিলেন কেন?

শ্রীজীব বিশ্বাস হাঁটছেন। তাঁর পিছনে রয়েছে টানা চৌত্রিশ বছরের দীর্ঘ সময়ের বাম জমানার কঙ্কাল।

পাক হামলার বিরুদ্ধে জনমত গঠন, CPIM ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদককে শেষ শ্রদ্ধা বাংলাদেশের

Cpim leader Goutam das passes away

নিউজ ডেস্ক: ১৯৭১ সালে ভারত পাকিস্তান সংঘর্ষের আরও একটি রাজনৈতিক দিক হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম-মুক্তিযুদ্ধ। সেই সংঘর্ষের অন্যতম কেন্দ্র ছিল আগরতলা। ততকালীন ত্রিপুরার তরুণ সিপিআইএম নেতা গৌতম দাস মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে জনমত গঠন করতেন। সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তাঁর লেখনি আলোড়ন ফেলত।

প্রয়াত সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাসকে শেষ শ্রদ্ধা জানাল বাংলাদেশ সরকার। সিপিআইএম পশ্চিম ত্রিপুরা জেলা কার্যালয়ে গিয়ে প্রয়াত নেতার দেহে পুষ্পস্তবক দেন আগরতলার বাংলাদেশ অ্যাসিস্ট্যান্ট হাইকমিশনার ও দূতাবাসের কর্মীরা।

রাজনৈতিক জীবনে বহু সম্মান পেয়েছেন গৌতম দাস। এর মধ্যে ছিল অনন্য ‘মুক্তিযুদ্ধ সম্মাননা’। প্রতিবেশি বাংলাদেশের স্বাধীনতার লড়াই ‘মুক্তিযুদ্ধ’ চলাকালীন ত্রিপুরায় সিপিআইএমের তরুণ নেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন গৌতম দাস। সেই সূত্রে তাঁকে এই সম্মান দেয় বাংলাদেশ সরকার।

সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি জানিয়েছে, গৌতম দাসের জন্ম ১৯৫১ সালের ২৬ আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের চট্টগ্রামে। পরে তাঁর পরিবার আগরতলায় চলে আসে। রাজনৈতিক জীবনে গৌতম দাস বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখতেন। প্রতিবেশি দেশের বামপন্থী দল ওয়ার্কাস পার্টি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ছিল।

বৃহস্পতিবার সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য সম্পাদকের প্রয়াণ হয় কলকাতায়। রাতেই তাঁর দেহ আনা হয় ত্রিপুরায়। রাতভর ভিড় ছিল রাজ্যের বিরোধী দলের রাজ্য দফতরে। আগরতলা লোকারণ্য। সিপিআইএমের প্রয়াত রাজ্য সম্পাদককে শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন ত্রিপুরাবাসী।

মানিক, বাদল, জীতেন্দ্র, কার হাতে সিপিআইএমের ভার, প্রবল গুঞ্জন ত্রিপুরায়

next state secretary of tripura cpim

নিউজ ডেস্ক: প্রয়াত ত্রিপুরা সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক গৌতম দাস। করোনা আক্রান্ত হয়ে কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর প্রয়াণ হয়। গৌতমবাবু এমন সময়ে প্রয়াত হলেন যখন ত্রিপুরায় বিধানসভা ভোট নিকটে এসে পড়েছে। বিরোধী দল সিপিআইএম কোমর বেঁধে নামছে ভোট ময়দানে। দলের তরফে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী তথা টানা কুড়ি বছরের মুখ্যমন্ত্রী থাকা মানিক সরকার।

বৃহস্পতিবার কলকাতায় গৌতম দাসের প্রয়াত হতেই আগরতলার রাজনৈতিক মহলে শোক ছড়ায়। তাৎপর্যপূর্ণ, তিনি যে বছর সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক হন সেই ২০১৮ সালেই ত্রিপুরায় পতন হয় টানা ২৫ বছরের বাম শাসনের। ক্ষমতায় আসে বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকার। সিপিআইএম হয়ে যায় বিরোধী দল।

সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক থাকাকালীন বারবার সরকারের বিরুদ্ধে তীক্ষ্ণ আক্রমণ করেছেন গৌতমবাবু। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের পরেই তাঁর মুখ আগরতলার সংবাদ মাধ্যমে বাম নেতাদের মধ্যে বেশি ভেসে উঠত। সোমবার তিনি প্রয়াত হওয়ার পর রাজ্য সম্পাদক পদে কে বসছেন ? এই প্রশ্ন যেমন বাম মহলে, তেমনই সরকারপক্ষ বিজেপিতেও। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যেও ঘুরছে একই প্রশ্ন।

গুঞ্জন, বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে রাজ্য সম্পাদকের সাময়িক দায়িত্ব দিতে পারে সিপিআইএম। তিনি এক সময় এই দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে আরও দুটি মুখ বেছে রাখা হচ্ছে। প্রথমেই রয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ ও দাপুটে নেতা জীতেন্দ্র চৌধুরী ও দ্বিতীয় পছন্দ হিসেবে প্রাক্তন মন্ত্রী বাদল চৌধুরী। এর পরে নাম ভেসে আসছে প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার পবিত্র করের।

মানিক বাদল জীতেন্দ্র ত্রিপুরা সিপিআইএমের তিন জবরদস্ত মুখ। বলা হয়,বঙ্গ বাম যেমন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের পর দ্বিতীয় কোনও মুখ তৈরি না করার খেসারত দিয়ে ভোট ময়দানে শূন্য হয়েছে, সেই ভুল করেনি ত্রিপুরার সিপিআইএম। তাদের তিন নেতা সবসময় সামনের সরিতে।

মানিক সরকারের পরিচিতি দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও। জীতেন্দ্র চৌধুরীর রাষ্ট্র জনপ্রিয়তা উপজাতি মহলে। সেখানে তিনি নতুন করে সংগঠন চাঙ্গা করছেন। আর প্রাক্তন পূর্ত মন্ত্রী বাদল চৌধুরী দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে জেলে পাঠিয়েছিল সরকার। তবে আইনি প্রক্রিয়ায় সরকারের মুখ পুড়েছে। বাদলবাবু জনপ্রিয়। এর পরেই থাকছেন পবিত্র কর। বিধানসভা পরিচালনা করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাইবে দল।

মানিকের সেই “মাইনাস জিরো পারফরম্যান্স বিজেপির” মন্তব্যে তীব্র শোরগোল

Manik Sarkar

নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক সন্ত্রাসের পরিবেশ ত্রিপুরায় (Tripura)। আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম। বিজেপি জোট সরকার তীব্র বিতর্কে। ‘মাইনাস জিরো বিজেপি’ এখন ত্রিপুরা ছাড়িয়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে শোরগোল ফেলেছে।
মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গে দলেরই পলিটব্যুরো সদস্য মানিক সরকার  (Manik Sarkar) সাংবাদিক সম্মেলন থেকে ফের ‘মাইনাস জিরো বিজেপির পারফরম্যান্স’ মন্তব্য করেন। মানিকবাবুর সেই মন্তব্য সর্বপ্রথম প্রচার করে ekolkata24.com বাংলা ওয়েব সংবাদ মাধ্যম।

পডুন গত ৮ সেপ্টেম্বরের সেই খবর

দিল্লিতে মানিক সরকার ফের একই মন্তব্য করার পরেই দিল্লির রাজনীতি উত্তপ্ত। তাঁর ভাইরাল মন্তব্যটি নিয়ে অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা সরব হতে শুরু করেছেন। সূত্রের খবর, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুর চড়াবেন দ্রুত।

জানা গিয়েছে, বাম শাসিত কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনরাই বিজয়ন, কংগ্রেস শাসিত ছত্তিসগড়, পাঞ্জাব, ডিএমকে বাম কংগ্রেস জোট শাসিত তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীরাও মোদী সরকারকে বিঁধতে তৈরি।

দিল্লিতে সর্বভারতীয় সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে মানিকবাবু জানান, রাজ্যটিতে আরএসএস ভয়ঙ্কর নীতির প্রয়োগশালা করার চেষ্টা করছে। ত্রিপুরা হলো আরএসএস বিজেপির রাজনৈতিক স্বৈরাচারী শাসনের গবেষণাগার।

গত ৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।সেদিন রাজনৈতিক আগুনে ত্রিপুরা জ্বলছিল। আগরতলা, উদয়পুর সহ এই রাজ্যের সর্বত্র বিরোধী দল সিপিআইএমের একের পর এক কার্যালয়ে আগুন ধরানো হয়। এমনকি আগরতলায় দলটির রাজ্য দফতর দশরথ দেব ভবন সহ দুটি সংবাদ প্রতিষ্ঠান দফতরে ভাঙচুর হয়। অভিযোগ প্রতিক্ষেত্রে পুলিশকে নিষ্ক্রিয় করে রেখে সরকারে থাকা বিজেপির সমর্থকরা হামলা চালায়। দলীয় পতাকা নিয়ে তাদের হামলার ছবি ও রাজপথে ভীত মানুষের পালানোর দৃশ্য দেশ জুড়ে ভাইরাল হয়েছে।

হামলার নেপথ্য কারণ হিসেবে উঠে এসেছে সম্প্রতি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী নেতা মানিক সরকারের কনভয়ে হামলার ঘটনায় সিপিআইএম কর্মীদের আক্রমণ। নিজের বিধানসভা ধনপুরে যেতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন মানিকবাবু। তাঁর উগ্র মূর্তিতে উৎসাহী হয়ে বাম সমর্থকরা হামলা চলায় ঘেরাওকারী বিজেপি সমর্থকদের উপরে। রনে ভঙ্গ দেয় বিজেপি।

বাম সমর্থকদের হামলার প্রতিবাদে ত্রিপুরা জুড়ে ৮ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছিল প্রদেশ বিজেপি। অভিযোগ সেই সব মিছিলে বারবার হামলা চালায় সিপিআইএম সমর্থকরা। আচমকা দুপুরের পর থেকে বিজেপির সমর্থকরা উগ্রমূর্তি নেন। জ্বলতে থাকে ত্রিপুরা।

সন্ধে নাগাদ বিরোধী নেতা মানিক সরকার দাবি করেন, রাজ্যে শাসক দলের পায়ের তলায় মাটি সরে গেছে। তাদের পারফরম্যান্স ‘মাইনাস জিরো’।

সাইড লাইনে ইয়েদুরাপ্পা, বিপ্লব? বেঙ্গালুরু-আগরতলায় শোরগোল

Bjp may change cm of karnataka and tripura

নিউজ ডেস্ক: আচমকা গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে বিজয় রুপানির পদত্যাগ, তাঁর জায়গায় নতুন মুখ ভূপেন্দ্র প্যাটেল। মোদী সরকারের আমলেই তিনবার মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদলে গেল গুজরাটে। অথচ বিজেপি (BJP) সেখানে টানা ক্ষমতায়। কেন গুজরাটেই এতবার মুখ্যমন্ত্রীর বদল? নীরব সংঘ ও বিজেপি।

গুজরাটে মুখ্যমন্ত্রী বদল অপর দুই বিজেপি শাসিত রাজ্য কর্নাটক ও ত্রিপুরায় তীব্র আলোড়ন ফেলে দিয়েছে। কারণ দক্ষিণ ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের দুই রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদলের দাবি উঠেছে। মনে করা হচ্ছে, কর্নাটকে যে কোনও সময় বদল করা হবে মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পাকে।

Read More: সাত বছরে সর্বাধিক কংগ্রেস নেতা-বিধায়ক-সাংসদের বিজেপি যোগ: রিপোর্ট

তবে এর আগে উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রীর পদে তিনজন মুখ্যমন্ত্রী বদল করেছে বিজেপি। অসমের মুখ্যমন্ত্রী পদে সর্বানন্দ সোনোয়ালের বদলে আনা হয়েছে হিমন্ত বিশ্বশর্মাকে। অসমের প্রতিবেশি রাজ্য ত্রিপুরায় বিজেপির অন্দরমহলে তীব্র আলোড়ন। এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে নিয়েই বিক্ষোভ তুঙ্গে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই বিক্ষুব্ধ বিজেপি বিধায়করা বারবার ক্ষোভ দেখিয়েছেন। তাঁদের দাবি বিধানসভা ভোটের আগে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ বদল না করলে ত্রিপুরায় দলের বিলীন হওয়া নিশ্চিত।

ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির অভ্যন্তরে ক্রমে দীর্ঘ হচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী বিরোধী গোষ্ঠী সুদীপ রায় বর্মণের ছায়া। আগরতলায় গুঞ্জন বিভেদ এমন যে যে কোনও সময় সুদীপবাবুর নেতৃত্বে অন্তত ১৬ জন বিধায়ক দলত্যাগ করবেন। তাঁরা ফের তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যেতে পারেন। সরকার পড়েও যেতে পারে। গত বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী দল কংগ্রেস ছেড়ে তৃ়নমূল কংগ্রেস হয়ে শেষপর্যন্ত বিজেপিতে এরা এসেছিলেন। নির্বাচনে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। সিপিআইএম এখন প্রধান বিরোধী দল।

ত্রিপুরায় আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে হাজির তৃণমূল কংগ্রেস। পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ত্রিপুরায় শক্তি জাহির করতে মরিয়া। টিএমসি সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট দাবি করেন, চাইলে যে কোনও মুহূর্তে বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকার ফেলে দিতে পারেন। তিনি ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রীরই ঘনিষ্ঠ মন্ত্রীরা তৃণমূলে ফিরতে মরিয়া।

দলে বিক্ষোভ থামাতে গুজরাট, উত্তরাখণ্ড, অসমের মতো এবার কি কর্নাটকে ইয়েদুরাপ্পা ও ত্রিপুরায় বিপ্লবকে সাইডলাইনে ঠেলবে বিজেপি? বেঙ্গালুরু ও আগরতলায় চলছে রাজনৈতিক জল্পনা।

সরকারের সমালোচনা করায় ফের সংবাদপত্র লুঠ ত্রিপুরায়

Tripura Media

আগরতলা: আবারও সংবাদপত্র লুঠ ত্রিপুরায়। এক কাগজ বিক্রেতাকে মারধর করে তাঁর সব কাগজ নষ্ট করে দিল হামলাকারীরা। অভিযুক্ত বিজেপি সমর্থকরা। এই ঘটনার জেরে ফের উত্তপ্ত আগরতলার রাজনৈতিক মহল।
বিরোধী দল সিপিআইএমের অভিযোগ, সম্প্রতি আগরতলা সহ রাজ্যের সর্বত্র ভয়াবহ হামলা চালায় শাসক দল বিজেপির সমর্থকরা। তখনও যে দুটি সংবাদ দফতরে হামলা হয়েছিল, তাদের উপর রোষ এখনও রয়েছে। সেই কারণে ফের ওই সংবাদপত্র নষ্ট করা হয়েছে।

আক্রান্ত হকার ‘প্রতিবাদী কলম’ সংবাদপত্র বিক্রি করছিলেন উত্তর ত্রিপুরা জেলার চন্দ্রপুরে। তাকে ঘিরে নিয়ে মারধর করা হয়। কেড়ে নেওয়া খবরের কাগজ ছিঁড়ে নষ্ট করে দেয় হামলাকারীরা। ঘটনার জেরে রাজ্য উত্তপ্ত। বিরোধী দল সিপিআইএমের অভিযোগ, সরকারের পায়ের তলায় মাটি সরে যাচ্ছে।

কংগ্রেসের তরফে সংবাদপত্র বিক্রেতার উপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানানো হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস নিন্দা জানিয়েছে।

গত বিধানসভা ভোটের পর ত্রিপুরায় বারবার সংবাদপত্র ও সাংবাদিকরা আক্রান্ত। বারবার আগরতলা জার্নালিস্ট ইউনিয়নের তরফে প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। অতি সম্প্রতি আগরতলা সহ রাজ্যের সর্বত্র যে রাজনৈতিক হামলা হয় তাতে একটি সংবাদপত্র ও একটি টিভি চ্যানেলের দফতর ভেঙে দেয় হামলাকারীরা। এর জের ছড়িয়েছে দেশের সর্বত্র। দিল্লিতে এডিটরস গিল্ডের তরফে ত্রিপুরায় সংবাদমাধ্যমের উপর হামলার নিন্দা জানানো হয়।

‌ভবানীপুরে মমতার মনোনয়ন, গোরু খোঁজার মতো প্রার্থী খুঁজছে BJP

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক: সরকার পক্ষের মনোনয়ন পেশ। বিরোধীপক্ষ গোরু খোঁজার মতো প্রার্থী খুঁজছে। তৃতীয়পক্ষ শূন্য সিপিআইএম পর্যন্ত প্রার্থী দিয়েছে। সব মিলে শুক্রবার উপনির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ছে।

ভবানীপুর কেন্দ্রে ফের প্রার্থী হতে মনোনয়ন জমা দেবেন মুখ্যমন্ত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর মনোনয়ন পেশ নিয়ে রাজনৈতিক মহল সরগরম।

সরকারে থাকা তৃণমূল এগিয়ে। নির্বাচনে এই কেন্দ্র টিএমসির দখলে গিয়েছে। তবে নন্দীগ্রামে মুখ্যমন্ত্রী হেরে যান। তাঁর দল জিতে যায় রাজ্যে। তিনি প্রাক্তন বিধায়ক হয়েই কুর্সিতে বসেন। নিয়মানুসারে ছয়।মাসের মধ্যে মমতা কে বিধায়ক হিসেবে নির্বাচিত হতে হবে। ইতিমধ্যে দলনেত্রীকে বিধানসভান নিয়ে যেতে সেফ আসন হিসেবে ভবানীপুরকেই বেছে নেয় টিএমসি। জয়ী বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিধায়কপদ ত্যাগ করেন।

এই কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস দলনেত্রীর জয়ের বিষয়ে আশাবাদী। শুধু মার্জিন বাড়িয়ে নেওয়ার জন্য নেতা কর্মীরা ঝাঁপ মারতে তৈরি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেরকমই নির্দেশ দিয়েছেন।

তবে বিরোধী দল বিজেপির অন্দরে আলোড়ন। মমতার বিরুদ্ধে নন্দীগ্রামে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জিতে এখন বিরোধী নেতা। এবার কে দাঁড়াবে ভবানীপুরে, হন্যে হয়ে মুখ খুঁজছে বিরোধী দল।

বিধানসভাবিধায়ক ভোটে নজিরবিহীনভাবে ভাবে শূন্য হয়ে গিয়েছে বামফ্রন্ট। তবে তাদের তরফে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী হয়েছেন তরুন আইনজীবী শ্রীজীব বিশ্বাস।

ভবানীপুর কেন্দ্র আসন্ন উপনির্বাচনের চরম কৌতূহলের কেন্দ্র। এখানে লড়াই হচ্ছে বিধানসভায় আশাহত তিন পক্ষের মধ্যে। প্রথম পক্ষ তৃণমূলের নেত্রী যিনি নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মুখ তিনি নন্দীগ্রামেই পরাজিত হয়ে চরম ‘বেদনাহত’।

দ্বিতীয়পক্ষ আশাহত বিজেপি যারা মনে করেছিল রাজ্যে প্রথমবার সরকার গড়বে। এখন দলত্যাগী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ক্রমাগত বিধায়ক সংখ্যা কমছে তাদের।

তৃতীয়পক্ষ শূন্য বামেরা সব হারিয়ে ভাঁড়ে মা ভবানীর মতো পরিস্থিতি। ভবানীপুরে ফের ভোট হবে।

‘হেরো’ মমতা-‘শূন্য’ সিপিএম-‘দলত্যাগী ভাইরাস’ বিজেপি, ভবানীপুরে ভোট!

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক: এমন ভোট কখনও হয়নি। বঙ্গ রাজনীতির সেই স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময় মুসলিম লীগ সরকার থেকে স্বাধীনতা পরবর্তী কংগ্রেস, যুক্তফ্রন্ট, বামফ্রন্টের আমলে এমনটা হয়নি। নজিরবিহিন হয়ে গিয়েছে সর্বশেষ বিধানসভার নির্বাচন। তৃণমূল কংগ্রেসের দশ বছরের সরকার চালিয়ে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) হেরে গিয়েছেন নন্দীগ্রাম থেকে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে তৃতীয়বার সরকার গড়েছে। প্রথমবার বিজেপি রাজ্যে বিরোধী দল আর গোহারা হেরে শূন্য হয়েছে একদা শাসক সিপিআইএম।

নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী হেরেও দলীয় শক্তির জোরে ফের কুর্সিতে। তাঁকে আইনত জয়ী বিধায়ক হিসেবে বিধানসভায় আসতে হবে। প্রাক্তন বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাই উপনির্বাচনের পরীক্ষা দেবেন। সেই পুরনো কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে। যেখান থেকে গত বিধানসভার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।

কলকাতার ভবানীপুর ঘিরে এখন তিনটি শব্দ- ‘মমতার কী হবে’। তৃণমূল বলছে, দেশের একমাত্র মোদী বিরোধী মুখ মমতাকে জিতিয়ে দেবেন ভবানীপুরবাসী। যেমন তারা এবারের ভোটে তাঁরই মনোনীত শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে জয়ী করেছেন। বিরোধী দল বিজেপির কটাক্ষ, ‘হেরো মমতা’ নিজেকে বাঁচাতে মরিয়া। শূন্য হয়ে যাওয়া বামেরা নীরব। তবে তারাও হেরো তকমা দিচ্ছে মু়খ্যমন্ত্রীকে।

ভবানীপুর কেন্দ্র আসন্ন উপনির্বাচনের চরম কৌতূহলের কেন্দ্র। এখানে লড়াই হচ্ছে বিধানসভায় আশাহত তিন পক্ষের মধ্যে। প্রথম পক্ষ তৃণমূলের নেত্রী যিনি নন্দীগ্রাম আন্দোলনের মুখ তিনি নন্দীগ্রামেই পরাজিত হয়ে চরম ‘বেদনাহত’।

দ্বিতীয়পক্ষ আশাহত বিজেপি যারা মনে করেছিল রাজ্যে প্রথমবার সরকার গড়বে। এখন দলত্যাগী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ক্রমাগত বিধায়ক সংখ্যা কমছে তাদের। তৃতীয়পক্ষ শূন্য বামেরা সব হারিয়ে ভাঁড়ে মা ভবানীর মতো পরিস্থিতি। ভবানীপুরে ফের ভোট হবে।

Photo Gallery: জ্বলছে ত্রিপুরা-আগরতলায় আতঙ্ক

Attack on cpim tripura state office at agaartala

রাজনৈতিক হামলায় বিরোধী দল সিপিআইএম রাজ্য দফতর পুড়েছে। এমনই আগুন যে আসেপাশের কয়েকটি বাড়িতেও আগুন ছড়ায়। অভিযোগ পুলিশ নির্বিকার। হামলায় অভিযুক্ত সরকারে থাকা বিজেপি সমর্থকরা। বু়ধবার ত্রিপুরায় একের পর এক জেলা সদর, মহকুমা ছাড়িয়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপে খোদ রাজধানী আগরতলা শহর যেন জ্বলন্তপুরী। আগুনে জ্বলছে ত্রিপুরা দেখুন ছবিতে

জ্বলছে আগরতলা, মাইনাস জিরো পারফরম্যান্স বিজেপির, জনবিচ্ছিন্ন দল: মানিক সরকার

Political vandalism creats controversy in tripura

নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক হামলায় বিরোধী দল সিপিআইএম রাজ্য দফতর পুড়েছে। এমনই আগুন যে আসেপাশের কয়েকটি বাড়িতেও আগুন ছড়ায়। অভিযোগ পুলিশ নির্বিকার। হামলায় অভিযুক্ত সরকারে থাকা বিজেপি সমর্থকরা। বু়ধবার ত্রিপুরায় একের পর এক জেলা সদর, মহকুমা ছাড়িয়ে তীব্র রাজনৈতিক উত্তাপে খোদ রাজধানী আগরতলা শহর যেন জ্বলন্তপুরী।

দলীয় রাজ্য দফতরে আগুন ধরানো ও জনজীবনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় বিরোধী দলনেতা ও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার ক্ষোভ উগরে দেন। তিনি বলেন, মাইনাস জিরো পারফরম্যান্স বিজেপির, জনবিচ্ছিন্ন দল হয়ে গিয়েছে। তবে পুরো ঘটনায় বিজেপি ত্রিপুরা প্রদেশ সম্পূর্ণ নীরব।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, ত্রিপুরার রাজনৈতিক জ্বলন্ত পরিবেশ। ভয়াবহ পরিস্থিতি। রাজপথ দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছেন জনগণ। পরপর দোকান লুঠ হচ্ছে। একের পর এক গাড়িতে আগুন ধরানো হচ্ছে। সেই সঙ্গে স্লোগান ‘জয় শ্রী রাম’, এই মাটিতেই হিসেব হবে। আতঙ্কিত আগরতলাবাসী। খোদ ত্রিপুরার রাজধানীতে এখন অগ্নিগর্ভ পরিবেশ। হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি।

জ্বলছে ত্রিপুরা

পরিস্থিতি এমন যে আগরতলায় জনগণ প্রবল আতঙ্কিত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কনভয় সোমবার তাঁর বিধানসভা কেন্দ্র ধনপুরে আটকেছিল বিজেপি সমর্থকরা। মানিকবাবু নিজে নেমে রুদ্রমূর্তি নেন। বাম সমর্থকরা ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজেপির সমর্থকদের উপরে। রণে ভঙ্গ দেয় বিজেপি। মাত্র একদিনের মধ্যেই মারের বদলা নিতে অগ্নিমূর্তি ধারণ করল বিজেপি বলে অভিযোগ। আগরতলা জ্বলছে। বিশালগড়, উদয়পুর সহ রাজ্যের সর্বত্র হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই পরপর আগরতলায় একটার পর একটা দোকান ভাঙচুর করা হয়।

আগরতলায় সিপিআইএমের রাজ্য দফতরে হামলার পাশাপাশি কয়েকটি সংবাদপত্র দফতরেও হামলা হয়। সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির অভিযোগ, বিশালগড়ে তাদের দলীয় দফতরে হামলা করে আগুন ধরিয়েছে বিজেপির সমর্থকরা। প্রকাশ্যেই আগ্মেয়াস্ত্র নিয়ে আস্ফালন করছে হামলাকারীরা। এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

Tripura: ‘জয় শ্রী রাম’ বলে হামলা CPIM রাজ্য দফতরে, পরপর গাড়িতে আগুন

Attack on cpim tripura state office at agaartala

আগরতলা: মাত্র একদিনের মধ্যেই মারের বদলা নিতে অগ্নিমূর্তি ধারণ করল বিজেপি। আগরতলা জ্বলছে। সিপিআইএম রাজ্য দফতরে হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি। রাজপথে থাকা একটার পর একটা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ সরকারে থাকা দলটির সমর্থকদের বিরুদ্ধে।

Attack on cpim tripura state office at agaartala

পরিস্থিতি এমন যে আগরতলায় জনগণ প্রবল আতঙ্কিত। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কনভয় তাঁর বিধনসভা কেন্দ্র ধনপুরে আটকেছিল বিজেপি সমর্থকরা। মানিকবাবু নিজে নেমে রুদ্রমূর্তি নেন। বাম সমর্থকরা ঝাঁপিয়ে পড়ে বিজেপির সমর্থকদের উপরে। রণে ভঙ্গ দেয় বিজেপি।

Attack on cpim tripura state office at agaartala

ঘটনার জেরে ত্রিপুরা সহ গোটা দেশে ছড়ায় চাঞ্চল্য। বুধবার আগরতলা, বিশালগড়, উদয়পুর সহ রাজ্যের সর্বত্র অগ্নিমূর্তি নেয় বিজেপি সমর্থকরা। অভিযোগ, পুলিশের সামনেই পরপর আগরতলায় একটার পর একটা দোকান ভাঙচুর করা হয়। আগরতলায় সিপিআইএমের রাজ্য দফতরে হামলা হয়েছে।

 

সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটির অভিযোগ, বিশালগড়ে তাদের দলীয় দফতরে হামলা করে আগুন ধরিয়েছে বিজেপির সমর্থকরা। আগরতলার পরিস্থিতি প্রবল উত্তপ্ত। প্রকাশ্যেই আগ্মেয়াস্ত্র নিয়ে আস্ফালন করছে হামলাকারীরা। এমন ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

“ক্ষমতা দ্যাখাইতাস, তোমাদের ফ্যালাইয়া ফেরত যামু”, আগ্রাসী মানিকে উল্লসিত সুশান্ত, বঙ্গ বামে হেঁচকি

Manik Sarkar EX Cm Tripura

আগরতলা ও কলকাতা: এ কোন মানিক! যার প্রতিটা বাক্য থাকে সংযত সেই বর্ষিয়ান সিপিআইএম নেতা, ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার (Manik Sarkar) রাস্তায় নেমে সরকারপক্ষ বিজেপির উত্তেজিত সমর্থকদের ধমকে ঠান্ডা করছেন। ভাইরাল ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে মানিক সরকার কে আক্রমনাত্মক ভঙ্গীমায়। তিনি বলছেন, “ক্ষমতা দ্যাখাইতাস, তোমাদের ফ্যালাইয়া ফেরত যামু”।

ত্রিপুরার বর্তমান বিরোধী নেতা মানিক সরকারের এমন রূপ কেউ আগে দেখেইনি। বাম মহলে হই হই রব।পশ্চিমবঙ্গের বাম নেতারা রীতিমতো চমকে গেছেন তাঁদের ত্রিপুরার নেতা মানিক সরকারের আগ্রাসী রূপ দেখে। সিপিআইএম মহলে তীব্র আলোচিত হচ্ছে মানিক সরকারের অবস্থান।

Manik Sarkar

বঙ্গ বামেদের মুখ চুন। জেলা মহকুমার সমর্থকরা পর্যন্ত নেতাদের মুন্ডপাত করছেন। অনেকেরই যুক্তি বুদ্ধবাবুর নরম মুখ দিয়ে দলকে শূন্যতে নামানো ছাড়া কিছুই হয়নি। অথচ ত্রিপুরাতেও দল সরকারে নেই। তবে বিরোধী নেতা মানিক সরকার যেভাবে হামলাকারীদের দিকে তেড়ে গেছেন তা নজিরবিহিন ঘটনা। পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে এমন কেন করেনা নেতারা, প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

সূত্রের খবর, মানিক সরকারের রূদ্র রূপ দেখে প্রবল উল্লসিত সিপিআইএমের আগ্রাসী নেতা সুশান্ত ঘোষ। ২০১১ সালে বাম সরকার পতনের পর বেনাচাপড়া কঙ্কাল কাণ্ডে জড়িয়ে জেলে গিয়েছিলেন সুশান্তবাবু। তবে তিনি আইনি জটিলতা কাটিয়ে ফের পশ্চিম মেদিনীপুরে ফিরেছেন। দল চাঙ্গা হলেও ভোটে সুশান্তবাবু হেরেছেন। সূত্রের খবর,আসন্ন দলীয় রাজ্য সম্মেলনে সুশান্তবাবুর হামলা হবে বুদ্ধদেব ঘনিষ্ট ‘নরম’নেতাদের উপর। আগেই ‘বামফ্রন্ট জমানার শেষ দশবছর’ বইতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের দূর্বল প্রশাসনিক কাজের প্রবল সমালোচনা করেছেন সুশান্ত ঘোষ।

ঘটনা সোমবারের। ত্রিপুরার বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার নিজের কেন্দ্র ধনপুরে সভা করতে গিয়েছিলেন। তাঁর কনভয় আটকে দেয় বিজেপি। শুরু হয় হামলা। গাড়ি থেকে নেমে মানিক সরকার পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীদের বারবার বলেন পরিস্থিতি সামাল দিতে। অভিযোগ, পুলিশ নীরব ভূমিকা নেয়। এর পরেই মানিকবাবু সরাসরি হামলাকারীদের দিকে আঙুল তুলে শাসানি দেন।

পাক্কা স্থানীয় বাচনে( সিলেটি উচ্চারণ ) মানিক সরকার বিজেপি সমর্থকদের বেশি বাড়াবাড়ি না করার হুঁশিয়ারি দেন। এদিকে মানিকবাবুকে ঘিরে রাখে বিজেপি সমর্থক ও পুলিশ। তাদের মাঝখান থেকে নেতাকে ছিনিয়ে আনেন বাম সমর্থকরা। মানিক সরকারের রুদ্র রূপ দেখে উত্তেজিত সিপিআইএম কর্মীরা দলীয় ঝাণ্ডার বাঁশ নিয়ে তেড়ে যান। সেই হামলায় বিজেপি সমর্থকরা জখম হন। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের পর ঘেরাও কেটে মানিক সরকারকে নিয়ে টানা ৫ কিলোমিটার মিছিল করে সিপিআইএম।

ধনপুরের সভা থেকে রাজ্য সরকার, বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মানিকবাবু। তিনি চারবারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন। সেই প্রসঙ্গ টেনে এনে বলেন, রাজ্যে গণতন্ত্র ধ্বংস হয়েছে। মানিকবাবুর অভিযোগ, কেউ একজন ফোন করে পুলিশকে নির্বিকার থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তাঁর লক্ষ্য সরকারের দুই শীর্ষ মন্ত্রীর দিকে তা স্পষ্ট।

মানিক সরকারের এমন রূপ দেখে পশ্চিমবঙ্গের সিপিআইএম মহলে প্রায় হেঁচকি তোলা পরিস্থিতি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে এমন ভূমিকা কেন যে রাজ্যের প্রাক্তন বাম মুখ্যমন্ত্রী নেননি তাও সমালোচনায় উঠে আসছে। রাজ্য বাম শিবিরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে হতাশার কয়েকটি বাক্য- ইস বাংলায় একজন মানিক সরকার নেই।

কৃষক বিক্ষোভ: প্রবল উত্তপ্ত হরিয়ানা, ইন্টারনেট বন্ধ, মমতাকে বনধ সমর্থনের আহ্বান

Farmers Protest

নিউজ ডেস্ক: কৃষক বিক্ষোভের জেরে হরিয়ানার বহু এলাকা সীমানা ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন। মঙ্গলবার বিক্ষোভকারী কৃষকদের মহাপঞ্চায়েত ঘিরে উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলাতেও প্রবল উত্তেজনা। দুটি রাজ্যেই বিজেপি ক্ষমতাসীন। তবে কৃষক বিক্ষোভের কেন্দ্র কার্নাল হরিয়ানার মধ্যে। সেখানেই জমায়েত।
পরি

স্থিতি সামাল দিতে হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টার পাঁচটি জেলায় ইন্টারনেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এর জেরে আরও উত্তাপ ছড়িয়েছে। কেন্দ্রের মোদী সরকারের কৃষি নীতির বিরোধিতায় আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ভারত বনধ পালন করবে কৃষক সংগঠনগুলি।

আন্দোলন বন্ধ হবে না। সরকারকে বিতর্কিত কৃষি আইন বাতিল করেই ছাড়ব। এমনই জানিয়েছেন সর্বভারতীয় কৃষক নেতা উলুবেড়িয়ার প্রাক্তন বাম সাংসদ হান্নান মোল্লা। পশ্চিম ভারতের কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েতের হুঙ্কার বিজেপি সরকার পড়ে যাবে হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশে।

Farmers Protest

আন্দোলনরত কৃষকদের যৌথ মঞ্চ কৃষক সংঘর্ষ সমিতির তরফে বার্তা পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে। সর্বভারতীয় কৃষক নেতৃত্বের দাবি, মমতা যখন বিজেপি বিরোধী নেত্রী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরছেন, তাহলে কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ধর্মঘটে অংশ নিন।

পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার ২০১১ সালে সরকার গড়ার পরেই তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ঘোষণা করেন, তাঁর সরকার বনধ সমর্থন করবে না। গত দুটি মেয়াদে টানা সরকার চালিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস একবারও বনধ ডাকেনি। বিরোধীদের ডাকা বনধ রুখতে রাস্তায় থেকেছে টিএমসি সমর্থকরা।

কৃষক সংগঠনগুলির ডাকা ভারত বনধ ঘিরে উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ডে ব্যাহত হবে জনজীবন এমনই মনে করা হচ্ছে। বিহার, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাডু, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটকেও বনধের প্রভাব পড়তে চলেছে। মহারাষ্ট্রে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলেই ধারণা।

বনধের সমর্থন করছে সমাজবাদী পার্টি, কংগ্রেস, সিপিআইএম, সিপিআই, শিবসেনা, ডিএমকে, শিরোমনি আকালি দল। দিল্লির সরকারে থাকা আম আদমি পার্টি কী অবস্থান নেয় তাও লক্ষ্যণীয়। দলনেতা তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়ালের নজরে পাঞ্জাবের নির্বাচন। তিনিও ঝুঁকি নেবেন না বলেই মনে করা হচ্ছে।

এর পরেই আসছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। কৃষক আন্দোলনে সমর্থন দেওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি বনধ সমর্থন করবেন? কলকাতা থেকে দিল্লি, লখনউ সর্বত্র এই প্রশ্ন।

কৃষক আন্দোলনের ধাক্কায় হরিয়ানার সরকার টলমল করছে।হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টার কৃষক আন্দোলনের প্রবল বিপক্ষে। তবে তাঁর সরকারেই লেগেছে ভাঙন আতঙ্ক। শরিকদলগুলি রুষ্ঠ। এই সুযোগে তাল ঠুকছে বিরোধী কংগ্রেস।

বিজেপির ‘হামলা’ রুখে বামেদের ‘আক্রমণ’, মানিকের দাবি কর্মীরা ‘হিরো-হিরোইন’

Manik Sarkar

নিউজ ডেস্ক: আপনারাই হিরো-হিরোইন! মানিক ভাষণে চমকে গিয়েছে ত্রিপুরা। সাম্প্রতিক অতীত তো বটেই, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এমন প্রথাভাঙা ভাষণ কবে দিয়েছেন বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা তথা ত্রিপুরার বর্তমান বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার (Manik Sarkar) তা নিয়ে তুুমুল চর্চা আগরতলার রাজনৈতিক মহলে। ত্রিপুরা সিপিআইএম রাজ্য দফতর দশরথ দেব ভবন সরগরম। শাসক বিজেপির সদর কার্যালয় কৃষ্ণনগরে গুঞ্জন মানিক সরকারের ভাষণ নিয়ে।

প্রথা ভাঙলেন মানিক। রাজনৈতিক ভাষণই হোক বা যে কোনও মন্তব্য ত্রিপুরার চারবারের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার মেপে কথা বলেন। তাঁর বক্তব্যরীতি অনেকটা পশ্চিমবঙ্গের প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর সঙ্গে মিলে যায়। গাম্ভীর্যপূর্ণ মন্তব্য করতেন জ্যোতিবাবু।

সোমবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ধনপুরে যেতে গিয়ে ত্রিপুরার বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার বিজেপি সমর্থকদের হামলার মুখে পড়েন। তাঁকে এলাকায় ঢুকতে না দিতে শাসক দলের সমর্থকরা বিক্ষিপ্ত হামলা চালায়। এর পরেই স্থানীয় সিপিআইএম সমর্থকরা তেড়ে যান হামলাকারীদের দিকে। দলীয় পতাকাকে লাঠি করে নিয়ে বিজেপি সমর্থকদের উপর চড়াও হয় বাম সমর্থকরা।

ভাইরাল হওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গিয়েছে সিপিআইএম সমর্থকরা প্রবল আস্ফালন করছে। তাদের হামলায় পালাচ্ছে মানিকবাবুকে ঘেরাও করা বিজেপির সমর্থকরা। সিপিআইএমের অভিযোগ, পুলিশকে জানিয়ে গেলেও তারা বিজেপির হামলার সময় নীরব ছিল।

বাম সমর্থকদের হামলায় বহু বিজেপি সমর্থক এলাকাছাড়া। ভিডিও দেখে হামলার সময় কারা ছিল তাদের চিহ্নিত করছে সিপিআইএম। বিজেপির অভিযোগ, পুরনো কায়দায় সন্ত্রাস চালাচ্ছে বামেরা।

মানিক সরকারের কনভয় আক্রান্ত, পাল্টা বাম কর্মীদের আক্রমণ সবমিলে ত্রিপুরা উত্তপ্ত। শুধু মানিকবাবুর কেন্দ্র ধনপুর নয়, আরও কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ছড়িয়েছে বলেই খবর।

ধনপুর থেকেই পরপর চরবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মানিক সরকার। গত বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় বামফ্রন্টের পতন হয়। সরকার গড়েছে বিজেপি আইপিএফটি জোট। মানিকবাবু জিতেছেন। তিনি বিরোধী দলনেতা।

সেই ধনপুরেই মানিক সরকার হামলার পরে সভা করেন। তিনি বাম কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা হিরো-হিরোইনের মতো ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁর ভাষণে এমন ধরণের শব্দের জেরে রাজনৈতিক হাওয়া গরম।
সম্প্রতি আগরতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের মতো ত্রিপুরায় সরকার হারিয়ে সিপিআইএম এখন পিঁপড়ের মতো অবস্থা।

ত্রিপুরার ‘কমরেড’দের মারকাটারি ইমেজে ‘হাই তোলা’ ভুলে গেলেন বঙ্গ বাম নেতৃত্ব

Manik Sarkar

আগরতলা ও কলকাতা: ফোনটা আসতেই ঝিমুনি কাটল বঙ্গ বামেদের ‘লেনিনগ্রাদ’ আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের নিঝুম মুজফ্ফর আহমেদ ভবনে। বন্ধ হয়ে গেল হাই তোলা !

ততক্ষণে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে ত্রিপুরার (Tripura) বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের (Manik Sarkar) কনভয় ঘিরে হামলার খবর। অভিযুক্ত বিজেপি। তবে সেইসব ভাইরাল ছবিতেই দেখা গিয়েছে, বাম সমর্থকরা তেড়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর শুরু করেছেন। বঙ্গ বাম নেতারা দেখলেন ত্রিপুরার ‘কমরেড’রা কেমন ‘রণংদেহী’ ইমেজ নিয়েছেন।

Read More: বারবার নিজ কেন্দ্রেই কেন আক্রান্ত মানিক সরকার, সিপিআইএমে ‘জমি’ হারানোর উদ্বেগ

পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালে বামেরা সরকার থেকে চলে যেতেই নেতারা ঘরমুখো হন। ন্যুনতম শক্তিটুকু নেই। এমনই অবস্থা যে তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে মাথা তুলে দাঁড়ানোর সাহসটুকু নেই। অভিযোগ, সরকার চলে যেতেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য নিজেকে ‘ঘরবন্দি’ করে নেন। সেই ‘পলায়ন ভাইরাস’ গোটা বঙ্গ বামকে একেবারে গিলে নিয়েছে গত দশ বছরে। নেতৃত্বের দূর্বলতা দলীয় সমর্থনের বড় অংশ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতায় বিজেপিকে বেছে নেন। ফলাফল স্পষ্ট, রাজ্যে বামেরা শূন্য বিধানসভায়। বিজেপি প্রধান বিরোধী দল। তবে বিপুল শক্তি নিয়ে টানা তিনবার সরকার গড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Manik Sarkar

ত্রিপুরায় সিপিআইএমের টানা ২৫ বছরের সরকার পতন হয় ২০১৮ সালে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই বাংলাভাষী প্রধান রাজ্যে এখন বিজেপি -আইপিএফটি জোট সরকার। বিরোধী বাম। অভিযোগ, গত চার বছরে রাজ্যে বিরোধীরা প্রবল আক্রান্ত। তবে প্রশাসন নির্বিকার। রাজনৈতিক হামলায় বিজেপি যে নিজের মুখ পোড়াচ্ছে তার সমালোচনা করেছেন বিজেপিরই গুরুত্বপূর্ণ বিধায়ক তথা প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায়বর্মণ।

Read More: ত্রিপুরা: মমতার টার্গেট কংগ্রেস ভোট! সন্তোষমোহন কন্যা সুস্মিতায় আপ্লুত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার

ত্রিপুরায় বারবার আক্রান্ত হয়েও বিরোধী দল সিপিআইএম বঙ্গ কমরেডদের ঘরবন্দি হয়ে ‘পলায়ন ভাইরাস’ জ্বরে আক্রান্ত হয়নি। সরকার হারিয়ে মানিকবাবু রাস্তায় নেমে গণআন্দোলনে অংশ নেন নিয়মিত। রাজ্য জুড়ে তাঁর দলের কর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলছেন। ফলাফল বলছে, বামেরা কোনও দেশব্যাপী ধর্মঘট বা বিক্ষোভ কর্মসূচি নিলে পশ্চিমবঙ্গে টিএমসির দাপটে তেমন প্রভাব পড়েনা। কিন্তু ত্রিপুরায় বিজেপির দাপট উড়িয়েই সম্পূর্ণ সফল হয়। দুপক্ষের সংঘর্ষ হতেই থাকে। তেমনই ঘটনার কেন্দ্র রাজ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ সোনামুড়া মহকুমার ধনপুর।

Manik Sarkar

আরও পড়ুন: কান্তি-অশোক-সুশান্ত-তন্ময় ‘চতুরঙ্গ’ সর্বনাশা আঘাতের মুখে CPIM

সোমবার নিজ কেন্দ্রে যেতে গিয়ে ফের বাধার মুখে পড়েন মানিক সরকার। এর জেরে এলাকায় বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ ছড়ায়। এখান

থেকে টানা চারবার মুখ্যমন্ত্রী ও পরে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বিধায়ক মানিক সরকার। তিনি দেশের ‘গরীব মুখ্যমন্ত্রী’ তকমা পেয়েছিলেন। সোমবার নিজ কেন্দ্রে যেতে গিয়ে মানিকবাবুর কনভয় আক্রান্ত হওয়ার পরেই বাম কর্মীরা হামলা শুরু করেন।

সিপিআইএমের বিরুদ্ধে বিজেপি কর্মীদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। মানিক সরকার বাধা কাটিয়ে ধনপুরেই সভা করেন। তিনি বলেন, ভয় পেও না। আমি আছি। এই ছবি দেখে চমকে গেছেন বঙ্গ বামেরা। যাঁরা বিলক্ষণ জানেন ত্রিপুরায় তাঁদেরই কমরেডরা একদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে নেমেছিল।

বারবার নিজ কেন্দ্রেই কেন আক্রান্ত মানিক সরকার, সিপিআইএমে ‘জমি’ হারানোর উদ্বেগ

Manik Sarkar

নিউজ ডেস্ক: টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের আমলে যা স্বপ্নেও ভাবেনি ত্রিপুরাবাসী, গত বিধানসভা ভোটের পর তাই হচ্ছে বারবার। আক্রান্ত হচ্ছেন দেশের অন্যতম আলোচিত ‘গরীব’ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার (Manik Sarkar)। তাও আবার নিজ কেন্দ্র ধনপুরে। সোমবারেও তাঁর কনভয় ঘিরে হামলা হয়েছে। অভিযুক্ত বিজেপি।

তবে ধনপুরের বিধায়ক তথা বর্তমান বিরোধী নেতা মানিক সরকারের কনভয়ে হামলার ঘটনা নরমভাবে নেয়নি সিপিআইএম। তাদের সমর্থকরা দলীয় পতাকার ডান্ডা নিয়ে পুলিশ, টিএসআর ও বিজেপি কর্মীদের দিকে তেড়ে যান। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ শুরু হয়। এর পরেই ঘেরাও ছেড়ে রণে ভঙ্গ দেয় বিজেপি সমর্থকরা।

মানিক সরকার ধনপুরে রাজনৈতিক সভা করেন। তাঁর অভিযোগ,পরিস্থিতি ত্রিপুরায় খুবই খারাপ। বিজেপি জোট সরকার রাজ্যে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে।
কেন মানিকবাবু বারবার তাঁর কেন্দ্রেই ঘেরাওয়ের মুখে পড়ছেন? এই প্রশ্ন তুঙ্গে। এর থেকেই আগরতলায় ত্রিপুরা সিপিআইএম রাজ্য দফতর দশরথ দেব ভবনে ছড়িয়েছে উদ্বেগ-ভয়। প্রশ্ন উঠছে তবে কি ধনপুরেও দল জমি হারাচ্ছে?

Manik Sarkar

ধনপুর মানিকবাবুর নিজের কেন্দ্র। এখান থেকে তিনি গত বাম বিপর্যয় বছরে সরকার হারালেও নিজে জয়ী হয়েছেন। ২০১৮ সালে রাজ্যে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকার পরাজিত হয়। সরকার গড়ে বিজেপি আইপিএফটি জোট। বিপর্যয়ের দিনে মানিকবাবু গণনা কেন্দ্রেই আক্রান্ত হওয়ার মুখে ছিলেন। তখনও তিনি মুখ্যমন্ত্রী। প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির প্রতিমা ভৌমিকের সমর্থকরা তেড়ে এসেছিল। পরে জয়ী হন মানিকবাবু। তবে ততক্ষণে বামেরা বিদায় নিয়েছে উত্তর পূর্বাঞ্চলে তাদের একমাত্র দুর্গ ত্রিপুরা থেকে।

ফল ঘোষণার পর থেকে ত্রিপুরায় রাজনৈতিক পরিবেশ রক্তাক্ত হতে থাকে। সেই ধারা এখনও চলছে। বিরোধী দল সিপিআইএমের সমর্থকরা বারবার হামলার মুখে পড়ছেন। বিধানসভায় না থাকলেও কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের উপর লাগাতার হামলা হচ্ছে। সম্প্রতি একাধিক ঘটনায় তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকরা আক্রান্ত হন। সর্বক্ষেত্রে অভিযুক্ত বিজেপি।

সরকার হারানোর পরে মানিকবাবু বেশ কয়েকবার ঘেরাও ও হামলার মুখে পড়েছেন। বিরোধী দললেতা আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় বিধানসভা অধিবেশন উত্তপ্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব জানিয়েছেন, রাজনৈতিক হামলা মেনে নেওয়া হবে না। তবুও বারবার হামলার ঘটনায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ যে দলীয় সমর্থকদের উপর নেই তা স্পষ্ট।

ত্রিপুরায় এখন দুটি সুপার হেভিওয়েট আসন একটি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের কেন্দ্র বনমালীপুর অন্যটি বিরোধী নেতা চার বারের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের কেন্দ্র ধনপুর। বনমালীপুর শান্তিপূর্ণ, কিন্তু ধনপুর থাকে অশান্ত। বিশেষকরে মানিকবাবু তাঁর কেন্দ্রে যাওয়ার পরেই ঘেরাও হন বারবার। তবে সিপিআইএমের সমর্থকরাও পাল্টা তেড়ে যান।

ত্রিপুরা ভারতের একমাত্র রাজ্য, যেখানে স্বাধীনতার পর প্রথমবার বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। এই রাজ্যেই প্রথমবার বাম বনাম রামের রাজনৈতিক লড়াই হয়েছে। প্রথম দফায় বাম পরাজিত। পরবর্তী দফা চলে আসছে। ত্রিপুরায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের মুখ হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লড়াই এখানে দ্বিমুখী আর নয়, ত্রিমুখী।

কান্তি-অশোক-সুশান্ত-তন্ময় ‘চতুরঙ্গ’ সর্বনাশা আঘাতের মুখে CPIM

cpim state conference will be a political drama stage

#Political Drama
বিশেষ প্রতিবেদন: আক্রমণ হবেই। এটা ধরেই রাজ্য সম্মেলনে ঢোঁক গিলতে তৈরি সিপিআইএম (CPIM)। বিমান-সূর্যকান্ত অর্থাৎ প্রাক্তন ও বর্তমান রাজ্য সম্পাদক হতে চলছেন মূল লক্ষ্যবস্তু। গোছাগোছা বাছাবাছা প্রশ্নের শক্তিশেল নিয়ে তৈরি আক্রমণকারী ‘চতুর্মুখ’-কান্তি গাঙ্গুলী, অশোক ভট্টাচার্য, সুশান্ত ঘোষ ও তন্ময় ভট্টাচার্য। সিপিআইএমের রাজ্য সম্মেলনে হতে চলেছে ‘চতুরঙ্গ সর্বনাশ’।

২০১১ সাল রাজ্যে বাম বিপর্যয়ের সীমান্ত বছর। সেই বছরেই চৌত্রিশ বছরের বামফ্রন্ট সরকার কুর্সি হারায়। সেই বছরেই তৃণমূল কংগ্রেসের কুর্সি লাভ। গত দশ বছরের ছবি একদম স্পষ্ট পশ্চিমবঙ্গে বামেদের আর স্থান নেই। হারতে হারতে একেবারে শূন্য। সর্বশেষ বিধানসভা ভোটে ‘ভয়াবহ বিপর্যয়’ স্বীকার করেছেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র।

Susanta Ghosh

সুশান্তর বাণ: ‘বুদ্ধ-তন্ত্র’!
কিন্তু চতুরঙ্গ সর্বনাশা আক্রমণ তাতে আটকাবে না। সূত্রের খবর বারবার বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নরম রাজনীতির গরম সমালোচক সুশান্ত ঘোষ একেবারে মুখিয়ে রয়েছেন। সম্ভবত তিনিই সর্বাধিক ভয়ঙ্কর আঘাতটি করতে চলেছেন রাজ্য কমিটিকে।সুশান্তবাবুর কাটা কাটা মন্তব্য কীরকম হতে পারে তা তাঁরই লেখা ‘বামফ্রন্ট জনানার শেষ দশবছর’ বই থেকেই মিলতে পারে। জ্যোতিবাবু ও বুদ্ধবাবু দুই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক দিকের তুল্যমূল্য আলোচনা তুলে ধরে প্রাক্তন পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষ তীব্র সমালোচনা করেছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের। দল থেকে সাময়িক সাসপেন্ড হন। তবে তাঁকে ফেরাতে বাধ্য হয় সিপিআইএম। শাসক তৃণমূলের নজরে এখনও ‘প্রবল আগ্রাসী’ সুশান্ত ঘোষের লক্ষ্যবস্তু নরম সরম নেতারা।

Kanti Ganguly

কান্তির হামলা: ‘বুড়ো বুড়ি নয় ছোঁড়া ছুঁড়ি’!
সদ্য প্রকাশিত হয়েছে প্রাক্তন সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী কান্তি গাঙ্গুলীর লেখা ব্যক্তিগত রাজনৈতিক স্মৃতির চমকপ্রদ ঘটনাবলী ‘রক্তপলাশের আকাঙ্খায়’। বর্ষীয়ান সিপিআইএম নেতা গতবারের মতো এবারেও যে হারবেন তা স্বয়ং তৃণমূল নেত্রীর ক্যালকুলেশনের বাইরে ছিল বলে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা টিএমসি নেতাদের অনেকেই মনে করছেন। কান্তিবাবু সরাসরি জানিয়েছেন, দলে বৃদ্ধতন্ত্রের ভারত্ব কমাতে হবে। তাঁর হামলার লক্ষ্যবস্তু অবশ্যই সাংগঠনিক গঠনস্তর ও নেতৃত্বের ‘হাই তোলা’ কর্মসূচি। সত্তরোর্ধ কান্তিবাবুর যৌবনদীপ্ত ভূমিকা সামুদ্রিক ঘূর্ণিঝড় এলেই রাজ্যবাসীর কাছে মূল আলোচনা হয়। বয়স তাঁর পায়ের তলায় পড়ে থাকে।

Ashok Bhattacharya

অশোক অশনি: বে-আক্কেলের জোট!
শিলিগুড়ি শুধু নয়, অতি উন্নত চিন পর্যন্ত তাঁর নাম ছড়িয়ে। পুর প্রশাসনের খুঁটিনাটি, পুর উন্নয়নের বিষয়ে প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যের রাজনৈতিক তাত্ত্বিক প্রশ্নের উত্তর দিতে কালঘাম ছুটবেই মুজফ্ফর আহমেদ ভবন আলো করে থাকা নেতাদের। অশোকবাবুর সাফ কথা কোন যুক্তিতে সংযুক্ত মোর্চা গঠিত হয়েছিল? নির্বাচনে শিলিগুড়ি থেকে তিনি যে হারবেন তা মোদী-মমতা কারোর অংকেই ছিলনা। তবে তিনি হেরেছেন। শিষ্য শংকর ঘোষ বাম ছেড়ে রাম হয়ে জিতে গুরুর আশীর্বাদ নিয়েছেন। সম্ভবত শিষ্যটি তৃণমূলে যাওয়ার পথে।

Tanmoy Bhattacharya
তন্ময়ে তটস্থ: কেমনধারা দল!
ভোটে হেরে ঘরে ফিরে চিকেন স্যান্ডুইচ খেতে খেতে ত্রিপুরার সর্বাপেক্ষা আলোচিত টিভি চ্যানেলের সাক্ষাৎকারে দলের মুণ্ডপাত করেছিলেন। তার আগে নিজের ফেসবুকেই হামলা করেন দলীয় উচ্চস্তরীয় নেতাদের। প্রশ্ন ছিল অনেকটা এমন, দল কি আদৌ ভোট লড়তে নেমেছিল! প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্যের অবস্থানে সিপিআইএমের অন্দরে ভূমিকম্প দেখা দেয়। প্রবল যুক্তিধর তন্ময়কে মুখ বন্ধ রাখার ফরমান দেওয়া হয়। তিনি মুখ বন্ধ করেছেন। তবে রাজ্য সম্মেলনে তোপ দাগবেন।

পরিস্থিতি বলছে, সিপিআইএমের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সম্মেলন থেকে নতুন কোনও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর জন্ম হতে পারে। অন্তত নেতৃত্বের একাংশের মধ্যে ঘুরছে ১৯৬৮ সালে সিপিআইএমের বর্ধমান প্নেনামের (বর্ধিত সম্মেলন) স্মৃতি।

BJP নীরব, মমতার বিপক্ষে বামেদের পোস্টার গার্ল মীনাক্ষী?

meenakshi mukherjee and mamata banerjee

#politics
নিউজ ডেস্ক: উপনির্বাচনের দিন ও গণনার তারিখ ঘোষণা হতেই তৃণমূল কংগ্রেস নেমে পড়েছে প্রেস্টিজ ফাইটে। বিরোধীদের নীরবতা শাসক দলের প্লাস পয়েন্ট। মুরলীধর সেন লেনে বিজেপি রাজ্য দফতরে নেই হেলদোল। পরপর বিধায়ক ভাঙনে প্রধান বিরোধী দলে নামছে হতাশা। মুখ্যমন্ত্রীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে কে প্রার্থী হবেন বিজেপির সেটা রীতিমতো চর্চিত।

তবে চর্চার অন্য দিকটি হল রাজ্যে গত বিধানসভা ভোটে গোহারা হেরে শূন্য হয়ে যাওয়া বাম শিবিরের প্রার্থী কে হচ্ছেন তা নিয়েও। যে সিপিআইএম ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা চৌত্রিশ বছরের রাজ্য শাসক তাদের এখন হাঁড়ির হাল। তবে বাম প্রার্থীর দিকে নজর আছেই রাজনৈতিক মহলের। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটেও হাই উঠছে।

উপনির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্রে জাতীয় কংগ্রেস প্রার্থী না দেওয়ার পথে। প্রদেশ কংগ্রেস ভবনে নেই কোনও তাপ উত্তাপ। শোনা যাচ্ছে বামেদের সঙ্গে জোট ভাঙার সূত্র খুঁজছেন কংগ্রেস নেতারা।

এত সবের মাঝে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে উপনির্বাচনে উঠে আসছে মীনাক্ষী মুখার্জির (Minakshi Mukherjee) নাম। নন্দীগ্রামে তিনিই বামফ্রন্ট, কংগ্রেস ও আইএসএফের তরফে সংযুক্ত মোর্চার প্রার্থী ছিলেন। জিতবেন না সবাই জানত। তবে ভোট ঘিরে প্রবল উন্মাদনার মাঝে মীনাক্ষী হয়ে উঠেছেন রাজ্য সিপিআইএমের পোস্টার গার্ল।

নন্দীগ্রামে বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে মমতা পরাজিত হন। তবে তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে তৃতীয়বারের জন্য সরকার গড়েছে। পরাজিত মমতা নজির গড়ে বিধায়ক না হয়েই মুখ্যমন্ত্রী পদে থেকেছেন। নিয়মানুসারে ৬ মাসের মধ্যে জিতে আসতে হবে তাঁকে। ফলে টিএমসি মমতারই ছেড়ে দেওয়া ভবানীপুরে ফের তাঁকে প্রার্থী করেছে। এই কেন্দ্র টিএমসির সেফ সিট। নির্বাচনে ভবানীপুর থেরে জিতেও দলনেত্রীর জন্য সরে গিয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রচার তুঙ্গে। শুরু হয়েছে দেয়াল লিখন। মাঠে এখনও নেই বিরোধী দলের কেউ। একতরফা জয়ের গন্ধ পাচ্ছে শাসক দল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় নিশ্চিত মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বিরোধীদের এত নীরবতা আরো বেশি চিত্তাকর্ষক।

সেপ্টেম্বর ‘ভয়’: মমতার আগরতলা গমনে বিজেপি সরকার সংখ্যালঘু হওয়ার দিকে

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক: আসছে সেপ্টেম্বর মাসে কী জানি কী হয়! এমনই ভয় ছড়িয়ে ত্রিপুরা (Tripura) প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে। আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর উপস্থিতিতে বড়সড় ধস নামতে পারে সরকারপক্ষে। ফলে ত্রিপুরায় বিজেপি (TMC) জোটের ডবল ইঞ্জিন সরকার লাইনচ্যুত হওয়ার গুঞ্জন উত্তর পূর্বাঞ্চলের সব রাজ্যে। সেপ্টেম্বরেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগরতলায় জনসভা হতে চলেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগরতলার আস্তাবল ময়দানে (বর্তমান স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়াম) তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর জনসভা হবে। সেখানেই বিজেপির অন্তত ১২ জন বিধায়ক ফের ফিরতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসে।

কলকাতায় টিএমসি সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন ত্রিপুরা সরকারের বিদ্রোহী তথা সংস্কারপন্থী বিধায়করা। নেতৃত্বে রয়েছেন সুদীপ রায় বর্মণ। তিনি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের (Biplab Deb) প্রবল প্রতিপক্ষ।

সুদীপবাবুর হাত ধরেই গত বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী দল কংগ্রেস ছেড়ে এই বিধায়করা টিএমসিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে ত্রিপুরায় টিএমসি হয়েছিল বিরোধী দল। মমতা-সুদীপ সখ্যতা বেশিদিন চলেনি। সুদীপবাবুর রাজনৈতিক গুরু মুকুল রায় বিজেপিতে যান। সেই সূত্রেস সুদীপবাবু টিএমসি ত্যাগ করে বিজেপিতে যান। নির্বাচনে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। বিজেপি-আইপিএফটি জোট এখন সরকারে।

ত্রিপুরায় বিজেপি প্রথমবার সরকার গড়ে। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন সুদীপবাবু। তবে সরকারের কাজে লাগাতার অসন্তোষ দেখাতে থাকেন। তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়। শুরু হয় সুদীপবাবুর বিদ্রোহ।

গত চার বছরে ত্রিপুরা বিজেপির অন্দরে সুদীপবাবুর অনুগামীরা বিতর্কিত স্লোগান চালু করেছেন, ‘বিপ্লব হটাও ত্রিপুরা বাঁচাও’। এই বিদ্রোহী বিধায়কদের সবাই সরাসরি তৃণমূলে ফিরতে মরিয়া। তাঁরা দলত্যাগ করলে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে বিজেপি।

ত্রিপুরা বিধানসভা এখন এমন-
tripura bidhansavaপশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে মমতা শিবিরে ফিরেছেন। সেই থেকে ত্রিপুরায় ফের মুকুল শিষ্য সুদীপ বর্মণ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমীকরণ জমাট হতে শুরু করেছে।

রাজ্যে ০.৩ শতাংশ ভোট নিয়ে টিএমসি শুরু করেছে ‘খেলা হবে’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগরতলা সফরে কী ঘটবে তা স্পষ্ট জানেনা বিজেপি। প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের দাবি, কোনও অবস্থায় বাম বিধায়করা পক্ষত্যাগ করবেন না।