Teipura: আগরতলা পুর নির্বাচনে BJP-CPIM কুস্তির মধ্যেই TMC খুঁজছে ফাঁক

abhishek

News Desk: রাতভর জনসভাস্থলের অনুমতি নিয়ে বিস্তর টালবাহানা চলেছে। সর্বশেষ ফের আগরতলায় পূর্ব নির্ধারিত রবীন্দ্রভবন সংলগ্ন স্থানেই মিলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের জনসভার অনুমতি। এই মঞ্চে ভাষণ দেবেন টিএমসির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সূত্রের খবর, গোয়ায় দলের ভোট পূর্ববর্তী কর্মসূচি সেরে কলকাতা ফিরবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসন্ন আগরতলা পুরনিগম ভোটে তিনিও প্রচারে আসবেন। তবে তার আগে ভাইপো কে দিয়েই নতুন করে ত্রিপুরায় রাজনৈতিক যুদ্ধ শুরু করিয়ে দিয়েছেন মমতা।

পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার শাসনে এসে তৃণমূল কংগ্রেস বাংলাভাষী প্রধান রাজ্য ত্রিপুরায় নিজেদের বিস্তার ঘটাতে মরিয়া। সর্বশেষ ভোট পরিসংখ্যান বলছে তৃণমূল এ রাজ্যে ০.৩ শতাংশ ভোট পেয়েছে। সেই পুঁজি নিয়েই বারবার ত্রিপুরার শাসকদল বিজেপিকে আক্রমণ শুরু করেছে তৃণমূল।

আসন্ন আগরতলা পুরনিগম ভোটে পরীক্ষা দিতে মরিয়া টিএমসি। যদিও দলের তরফে কোনও প্রার্থী ঘোষণা হয়নি। টিএমসির দাবি, বিজেপি থেকে হু হু করে সমর্থক চলে আসছেন মমতার শিবিরে। টিএমসির উপর বারবার হামলার প্রমাণ রাজ্যের বিজেপি জোট সরকার ভীত। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব গণতান্ত্রিক পথ নিতে চাননা।

আগরতলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সভা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল শনিবার। রাতে সভার অনুমতি মিলতেই ‘বিজয় উল্লাস’ পালন করেন টিএমসি নেতা কর্মীরা। অভিযোগে এদের বেশিরভাগই পশ্চিমবঙ্গের। শুধুমাত্র রাজ্যে টিএমসির সাংগঠনিক প্রসারের দায়িত্ব নিয়ে আসা সুস্মিতা দেব অসমবাসী।

আগরতলা পুরনিগম দখলে শাসক বিজেপি ও বিরোধী সিপিআইএমের মধ্যে মূল লড়াই হবে। বিজেপি শিবিরও জানিয়েছে, বিরোধী বামেরা প্রচারে এগিয়ে। তবে রবিবার থেকেই পূর্ণ উদ্যমে নামছে বিজেপি। পুর যুদ্ধে রয়েছে একদা রাজ্যের শাসক ও টানা কয়েক দশক বিরোধী থাকা কংগ্রেস।

By election : মাথায় ইটের আঘাত, প্রাক্তন বাম বিধায়ক তন্ময় TMC কে দুষতে নারাজ

Tanmoy Bhattacharya

News Desk: উপনির্বাচনে হামলার মুখে পড়লেন প্রাক্তন সিপিআইএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য (Tanmoy Bhattacharya)। তিনি দলের তরফে এদিন সকাল থেকেই খড়দহ বিধানসভার ভোট তদারকিতে আছেন। অভিযোগ, খড়দহ স্টেশন রোডে আক্রান্ত হন প্রাক্তন সিপিআইএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় পাথর। সেটি লেগে মাথা ফাটে প্রাক্তন সিপিএম বিধায়কের।

জখম তন্ময়বাবু দলীয় দফতরে আসতেই সাংবাদিকরা জানতে চান তিনি কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। উত্তর দমদম বিধানসভার প্রাক্তন বাম বিধায়কের স্পষ্ট জবাব, আমি কোনও দলকে দায়ি করছি না। এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমার রাজনৈতিক সংস্কৃতি এমন নয় যে ব্যক্তিগত আক্রমণে যাব। তিনি বলেন, ২০১৬ বিধানসভা ভোটে আমি আক্রান্ত হয়েছিলাম। তখন অভিযোগ করেছিলাম তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এবার আমি আক্রান্ত হয়েছি কিন্তু দয়া করে আমার মুখ দিয়ে কারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করাতে পারবেন না। কারণ, আমি হামলাকারীদের দেখতে পাইনি।

২০১৬ বিধানসভা ভোটে উত্তর দমদম থেকে জয়ী হয়েছিলেন তন্ময় ভট্টাচার্য। রাজ্যে তিনি সিপিআইএমের তরফে একজন পরিচিত নেতা। সম্প্রতি বিধানসভা ভোটে বামেদের বিরাট বিপর্যয় ও রাজ্যে শূন্য হয়ে যাওয়া নিয়ে দলীয় নির্বাচনী নীতির কড়া সমালোচনা করেন সোশ্যাল সাইট ও সংবাদ মাধ্যমে। এর জেরে সিপিআইএম রাজ্য কমিটির তরফে তন্ময়বাবুকে চুপ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।

By Election: ৪-০ গোলে জিততে চায় TMC, ভোট লুঠের আশঙ্কা বিরোধীদের

WB by election

News Desk: লক্ষ্য ৪-০ গোলে জয়ী হওয়া। তাতেই মশগুল শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বিরোধী বিজেপি চিন্তিত ভোট লুঠের আশঙ্কায়। শূন্য হয়ে যাওয়া বামেরা টার্গেট করছে ভোট শতাংশ বাড়িয়ে নেওয়ার। এরই মাঝে উদ্বেগহীন তৃণমূল নেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপনির্বাচন ফেলে রেখে গোয়ার ভোট নিয়ে মেতে আছেন।

মুখ্যমন্ত্রীর গোয়া সফর ইঙ্গিত দিচ্ছে রাজ্যে যে চারটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন- দিনহাটা (কোচবিহার), খড়দহ (উ: ২৪ পরগনা), গোসাবা (দ:২৪ পরগনা).ও শান্তিপুর (নদিয়া) সেখানে একতরফা জয় আশা করছে টিএমসি।
সাম্প্রতিক যে তিনটি আসনে (ভবানীপুর, সামসেরগঞ্জ ও জঙ্গিপুর) উপনির্বাচন হয়েছে তাতে ৩-০ গোলে জয়ী হয় তৃণমূল কংগ্রেস। এতে লাভের লাভ ‘হেরো মুখ্যমন্ত্রী’র তকমা ঘুচিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফের বিধায়ক হয়েছেন।

শনিবার আরও চারটি আসনের উপনির্বাচনে সেই জয় ধরে রাখতে আদাজল খেয়ে নেমেছে টিএমসি। প্রচার করেছে বিজেপি ও সিপিআইএম। তবে উপনির্বাচনে বিরোধীদের আশঙ্কা ভোট লুঠের। শাসক টিএমসির দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়ন নীতি দলকে জিতিয়ে দেবে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, চারটি কেন্দ্রেই ভোট নির্বিঘ্নে করতে পর্যাপ্ত ১০০ কেম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সমস্ত বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ৫০ শতাংশ বুথে ওয়েব কাস্টিং চালানো হবে।

দিনহাটা ও শান্তিপুরে জয় ধরে রাখতে মরিয়া বিজেপি। খড়দহ ও গোসাবা তৃণমূল গত বিধানসভায় জয়ী হয় টিএমসি। একমাত্র শান্তিপুরে বামেরা কড়া প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা করতে পারে বলে পরিসংখ্যান বলছে। যদিও রাজ্যে এখন বামেদের অবস্থা দেখে কে বলবে সিপিআইএম টানা ৩৪ বছর সরকারে ছিল।

বাইচুংয়ের মতো লি এলেন মমতার দলে, কতদিনের জন্য?

Leander Paes

News Desk: পশ্চিমবঙ্গে সরকারে থাকা তৃণমূল কংগ্রেসে খেলোয়াড়ের অভাব তেমন নেই। দলটির অন্যতম নির্বাচনী স্লোগান ‘খেলা হবে’। সেই রেশ ধরেই গোয়া বিধানসভায় ভোটের প্রচরাভিজান শুরুর দিনেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে দলীয় পতাকা নিয়ে তৃণমূলী হলেন আন্তর্জাতিক লন টেনিস কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজ। তিনি এখন থেকে ক্রীড়া রাজনীতিক।

এইভাবেই তৃ়ণমূল কংগ্রেসে আচমকা এসেছিলেন ভারতের প্রাক্তন ফুটবল অধিনায়ক তথা এশিয়ার অন্যতম ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে দুবার নির্বাচনে নামেন। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটে দার্জিলিং ও ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে শিলিগুড়ি থেকে টিএমসির হয়ে প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা করেছিলেন। পরাজিত হন।

বাইচুংয়ের সঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূলের সংশ্রব নেই। নিজ রাজ্য সিকিমে ফিরে গিয়ে সেখানকার রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। তাঁর দল হামরো সিকিম পার্টি ২০১৯ সালে সিকিম বিধানসভা ভোটে লড়ে। পশ্চিমবঙ্গ হোক বা সিকিম ভোট যুদ্ধে বাইচুংয়ের পরাজয় গেরো এখনও কাটেনি।

সেদিক থেকে দেখতে গেলে ডাবলস বা মিক্সড ডাবলসে বারবার উইম্বলডন কাপ জয়ী কিংবদন্তি লিয়েন্ডার পেজ রাজনীতিতে নবাগত। সূত্রের খবর, গোয়াতে তাঁকে বিশেষ প্রচারে নামাবেন মমতা। লিয়েন্ডারের সঙ্গে রাজনৈতিক সংযোগ নিয়ে ক্রীড়া মহলের আলোচনা, ইনিও কি বাইচুংয়ের মতো মমতার সঙ্গে স্বল্পমেয়াদি সম্পর্ক নিয়েই এসেছেন?

কলকাতার ছেলে লিয়েন্ডারের পিতা অলিম্পিয়ান হকি তারকা ডা. ভেস পেজ রাজনীতির ধারপাশে ছিলেন না। তবে দীর্ঘ বামফ্রন্ট জমানায় ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে ভেস পেজের সঙ্গে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও ক্রীড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তীর সঙ্গে সুসসম্পর্ক ছিল। বাবার মতো লি’এর সঙ্গেও ভালো সম্পর্ক ছিল বাম সরকারের। কিছু ক্রীড়া ব্যক্তিত্বকে দলে বা সরকারের ঘনিষ্ট করলেও লি বা বাইচুংকেকে টানতে পারেনি জ্যোতি-বুদ্ধর সরকার।

ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কলকাতার ফুটবল জগতের সবার সঙ্গেই বাম সরকারের বিশেষ করে কিংবদন্তি হয়ে যাওয়া প্রয়াত সুভাষ চক্রবর্তীর মধুর সম্পর্ক ছিল। যার ফলে ইংলিশ চ্যানেল জয়ী বুলা চৌধুরী ও এশিয়াডে সোনা জয়ী অ্যাথলিট জ্যোতির্ময়ী শিকদার সরাসরি সিপিআইএমের হয়ে ভোটে নেমে জয়ী হন। পরে সরকার পাল্টাতেই তাঁরাও সরে গিয়েছেন।

বাম জমানাতেই লি-ভুটিয়া ময়দানে বা টেনিস সার্কিটে রীতিমতো সক্রিয়। ফলে সরাসরি রাজনৈতিক সংশ্রব রাখেননি। ২০১১ সালে সরকার পরিবর্তনের পরে প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রীড়া তারকা হিসেবে বাইচুং সরাসরি চলে আসেন তৃণমূল কংগ্রেসে। আসেন দেশের অন্যতম খ্যাতনামা ফুটবলার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজনীতিতে পুরো জড়িয়ে। বাকি যারা এসেছেন কমবেশি রয়েছেন বা ছেড়েছেন।

রাজ্যে বিরোধী দল বিজেপিতে কিছু ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই দলত্যাগে মরিয়া। সেদিক থেকে তৃণমূল কংগ্রেস ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের ছড়াছড়ি। কিছু বাম মনস্ক ক্রীড়াবিদ এখনও বাম শিবিরে আছেন।

তবে বামই হোক বা তৃণমূল প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অশোক ভট্টাচার্যের সঙ্গে ক্রীড়া ব্যক্তিত্বদের সম্পর্ক গভীর। গত বিধানসভা ভোটে শিলিগুড়ি থেকে অশোকবাবুর হয়ে প্রচার করেন তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের হয়ে ভোট লড়ে যাওয়া বাইচুং। তবে এবার আর অশোকবাবু জিততে পারেননি।

বাইচুং বা লি দুজনেই ক্রীড়া বিশ্বে ভারতের দুই উজ্জ্বল মুখ। দুজনেই অশোকবাবুর ঘনিষ্ঠ। দুজনেই রাজনীতিতে ঝড়ের মতো এলেন। কতদিন টিকতে পারবেন মমতার সঙ্গে? প্রশ্ন সবারই।

Priyanka Gandhi: মমতার পথে কংগ্রেসের ‘বড় দাবি’ সরকার গড়লেই ছাত্রীদের স্কুটি-স্মার্টফোন

Priyanka Gandhi

নিউজ ডেস্ক: উত্তর প্রদেশে কংগ্রেস ‘মৃত’। তেমন কিছু নেই আর অবশিষ্ট। অন্তত গত লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন নিরিখে এমনই মত বিশেষজ্ঞদের। কিন্তু প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে(Priyanka Gandhi) নির্বাচনে নামিয়ে চমক দিতে শুরু করেছে কংগ্রেস।

রাজ্যে কংগ্রেস সরকার গড়লে ছাত্রীদের জন্য ঢালাও স্কুটি ও স্মার্টফোন দেওয়ার ঘোষণা করলেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী। রাজ্যে ৪০ শতাংশ প্রার্থী মহিলা হবেন এই ঘোষণার পরেই কিশোরী ও যুবতীদের জন্য বড়সড় দাবি করেছেন প্রিয়াঙ্কা।

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী টুইটে লিখেছেন, কয়েকজন পড়ুয়ার সঙ্গে কথা বলেছি। তারা জানায় পড়ার জন্য স্মার্টফোন দরকারি। আমি খুশি যে ঘোষণা সমিতির সহমতিতে ইউপি কংগ্রেস সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই রাজ্যে সরকার গড়লে ছাত্রীদের জন্য স্কুটি ও স্মার্টফোন দেওয়া হবে।

উত্তর প্রদেশে কংগ্রেসের এই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের তৃ়ণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ে একের পর এক ঘোষণার মিল পাওয়া যাচ্ছে। তিনিও বিধানসভা ভোটের আগেই ঘোষণা করেছিলেন,রাজ্যের পড়ুয়াদের জন্য ট্যাব দেওয়া হবে। ট্যাব কেনার জন্য দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করেছে। তবে অনেক্ষেত্রে এসেছে অভিযোগ।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সরকার গড়া রুখে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। এর পর থেকেই দেশে বিজেপি বিরোধী নেত্রী হিসেবে মমতা কে টি়এমসি তুলে ধরতে মরিয়া। যদিও নির্বাচন বিশ্লেষণ বলছে, কেরলে সিপিআইএমের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন তাঁর রাজ্যে বিজেপিকে শূন্য করেছেন।

উত্তর প্রদেশ বিজেপির সর্বপেক্ষা শক্তিশালী ঘাঁটি। এই রাজ্যে তাদের সরকারকে ফেলতে ফের বিরোধীদের জোট হবে নাকি কংগ্রেস একলা চলবে সেটি আলোচিত। তবে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী প্রচারে ঝড় তুলতে শুরু করেছেন।

Red Volunteers: উৎসবে করোনার অট্টহাসি টের পেয়েই যুদ্ধে নামছে বামেদের রেড ভলান্টিয়ার্স

Red Volunteers

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: ‘আমরা তৈরি আছি’, বার্তা দিয়েছে করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিরোধী সিপিআইএম সহ বামদলগুলির উদ্যোগে তৈরি বিখ্যাত রেড ভলান্টিয়ার্স (Red Volunteers)। অদৃশ্য জীবাণু ঘাতকের বিরুদ্ধে লড়তে দার্জিলিং থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা- সবকটি জেলার যত সদস্য রয়েছেন সবাইকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে। কারণ, উৎসব শেষে করোনা সংক্রমণের হার বাড়তে চলেছে বলেই আশঙ্কা।

লোকসভার পর বিধানসভা ভোটে রাজ্যে বামেরা শূন্য হয়ে গেছে। কে বলবে সিপিআইএম এই রাজ্যে টানা সাড়ে তিন দশকের সরকার চালিয়েছে। এখন পরিস্থিতি এমন যে জামানত বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়ছে। তার পরেও সিপিআইএমের মূল উদ্যোগে তৈরি রেড ভলান্টিয়ার্সদের ভূমিকা দেখেছেন রাজ্যবাসী। শাসক তৃণমূল কংগ্রেস, বিরোধী দল বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা নিজেদের মোবাইলে স্থানীয় রেড ভলান্টিয়ার্সদের নাম ও নম্বর সেভ করেছেন। দুই দলের বহু নেতার স্পষ্ট মতামত, বলা তো যায় না বিপদ কখন হয়। তখন আর কেই বা আছে !

Red Volunteers

রেড ভলান্টিয়ার্স মানেই করোনা সংক্রমণ সংকটে বিপদের বন্ধু। যেভাবে লকডাউনের মাঝে এই লাল স্বেচ্ছাসেবকরা এগিয়ে এসেছিলেন ‘সিংহের মতো সাহস ও বাজপাখির মতো চোখ’ নিয়ে তাতে রাজ্য দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রবল আলোচিত হয় সংগঠনটি। বামপন্থী ছাত্র-যুব সংগঠনগুলির সদস্যদের নিয়ে তৈরি রেড ভলান্টিয়ার্স ফের সক্রিয়।

সোশ্যাল সাইটে রেড ভলান্টিয়ার্স গ্রুপে বারবার আবেদন জনানো হচ্ছে পরিস্থিতি বুঝে বাইরে বের হওয়ার। ইতিমধ্যেই করোনা আক্রান্তদের বাড়ি বাড়ি যেতে শুরু করেছেন রেড ভলান্টিয়ার্স সদস্যরা। পৌঁছে যাচ্ছে অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ওষুধ। উৎসব চলছে। যে যার মতো আনন্দ করছেন।

শারোদৎসবে প্রবল ভিড় ও উদাসীনতার কারণে করোনা সংক্রমণের বড়সড় আশঙ্কায় বুক কাঁপছে চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। তাঁদের আশঙ্কা, অতি দ্রুত বড়সড় সংক্রমণ ঢেউ আসতে চলেছে। তাঁদের মতে এর কারণ উৎসবে উদাসীন হয়ে ঘোরা অন্যতম কারণ।

Red Volunteers

বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও সতর্কতা পেয়েই রেডভলান্টিয়ার্স সদস্যরা আসন্ন যুদ্ধের জন্য তৈরি হয়েছেন। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবার তাঁদের ভূমিকা আরও জবরদস্ত হবে এমনই আশা করছেন সদস্যরা। উৎসবের মাঝেও চলছে করোনা আক্রান্তদের জন্য পরিষেবা।

অভিযোগ, রাজ্য সরকার বাইরে বের হওয়ার নিয়ম শিথিল করতেই মণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় বিপদ ডেকে এনেছে। আসন্ন বিপদের সতর্কতা দিতে শুরু করেছে স্বাস্থ্যমন্ত্রকের রিপোর্ট। বলা হয়েছে, উৎসবের মাঝে দেশে ফের বাড়ল দৈনিক করোনা সংক্রমণ। বেড়েছে মৃত্যু। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৮,৯৮৭ জন। মৃত ২৪৬ জন। তবে একদিনে সুস্থ হয়েছেন ১৯,৮০৮ জন। করোনা আক্রান্তের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ সপ্তম স্থানে। রাজ্যে করোনা আক্রান্ত ১৫,৭৮,৪৮২ জন। মৃত্যু হয়েছে ১৮,৯৩৫ জনের। সুস্থ হয়েছেন ১৫,৫১,৮৯০জন।

Buddha Vs Mamata: শারদীয়ার বাজারেও বুদ্ধ-মমতা লড়াই তুঙ্গে

Mamata versus Buddhadeb two Writer chief ministers books attracted readers

নিউজ ডেস্ক: বর্তমান ও প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রীর বই বইমেলা থেকে শারদ উৎসব সবেতেই চাহিদা তুঙ্গে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই বিরাট কাটতি। তাঁর একাধিক রাজনৈতিক বই, কবিতার বই দলীয় সমর্থকরা কিনছেন। অনেকে আবার এমনই সংগ্রহ করেছেন।

আবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর লেখা বেশ কয়েকটি বই ইতিমধ্যেই জনপ্রিয়। বইমেলা হোক বা উৎসবের সময় বুদ্ধবাবুর লেখা বই পাঠকদের আগ্রহ ও পছন্দের কেন্দ্রে থাকে।

Mamata versus Buddhadeb two Writer chief ministers books attracted readers

তবে বই লেখার হিসেব ও খতিয়ানে কবিতাপ্রেমী মার্কসবাদী বুদ্ধদেববাবুকে দশ গোলের মালা পরিয়েছেন কবি, চিত্র ও সঙ্গীতশিল্পী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সর্বশেষ হিসেবে লেখিকা মমতার প্রকাশিত বই একশর ঘরে। আর বুদ্ধদেববাবুর লেখা বইয়ের সংখ্যা গুটিকয়েক।

ganashakti Book stall

রাজনৈতিক প্রবন্ধ নিয়ে বুদ্ধবাবুর লেখা বইগুলি বাংলার মননশীল পাঠকের কাছে বেশ চাহিদার। তবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বইগুলির চাহিদাও বিরাট। দুই লেখকের বই প্রকাশকরা জানিয়েছেন, পাঠকরা কিনতে মুখিয়ে থাকেন। সেটা বিক্রি দেখলেই মালুম হবে।

Jaga Bangla Book stall

টানা চৌত্রিশ বছরের বাম শাসনের পতন হয় বুদ্ধবাবুর সময়েই। তাঁকে পরাজিত করে তৃণমূল কংগ্রেসের জমানা শুরু করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার শাসনেই পশ্চিমবঙ্গে বামেরা শূন্য হয়ে গিয়েছে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধবাবু অসুস্থ হয়ে ঘরবন্দি। আর মুখ্যমন্ত্রী মমতা তাঁর রাজনৈতিক কর্মসূচিকে জাতীয়স্তরে নিয়ে যেতে মরিয়া।রাজনৈতিক এই লড়া়িয়ের মাঝে প্রাক্তনী বুদ্ধবাবুর খোঁজ নেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।

তবে বই বাজারে যুদ্ধ প্রবল। সেখানে মমতার লেখা ‘উপলব্ধি’ বনাম বুদ্ধদেবের ‘স্বর্গের নিচে মহাবিশৃঙ্খলা’ দুটি বই পরস্পরকে এখনও সমানে টেক্কা দিয়ে চলেছে।

Shantipur: লকডাউনে রাত-বিরেতের ‘অক্সিজেন দাতা’ বাম প্রার্থী সৌমেন ‘জামানত বাঁচাতে’ লড়বেন

Soumen Mahato

নিউজ ডেস্ক: লড়াই হবে জমানত বাঁচানোর। আপাতত এই লক্ষ্যেই আসন্ন উপনির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে টানা ৩৪ বছর রাজ্যের শাসকপক্ষ বামফ্রন্ট! এই পর্বের উপনির্বাচনে বামেদের অন্যতম প্রার্থী শান্তিপুর (Shantipur) বিধানসভার কেন্দ্রের সৌমেন মাহাতো।

কে তিনি? সিপিআইএমের যুব সংগঠনের নেতা। তার থেকেও বড় কথা, সৌমেন রেড ভলান্টিয়ার্স এই নামে একটি মোবাইল নম্বর নদিয়ার শান্তিপুর বা সংলগ্ন এলাকায় বহুজনের মোবাইলে সেভ করা আছে।

করোনাভাইরাস হামলা ও তীব্র অক্সিজেন সংকটের সময় যখন ঘরে ঘরে মৃতদেহ পড়ে থাকছিল বা অক্সিজেন চেয়েও না পাওয়া মানুষ অসহায় হয়েছিলেন তখন এগিয়ে আসে রেড ভলান্টিয়ার্স।

তীব্র অক্সিজেন সংকটের সেই সময়ে বারবার ভাইরাল হয় রেড ভলান্টিয়ার্স কর্মকান্ড। শান্তিপুরের বাম যুব কর্মীদের নেতা সৌমেন মাহাতো অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে করোনা আক্রান্তদের ঘরে ঘরে চলে যান। পরিস্থিতি এমন হয় যে রেড ভলান্টিয়ার্সে-ই ভরসা করেন তৃ়ণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের মোবাইলেও নম্বরগুলো সেভ করা আছে।

Soumen Mahato

সিপিআইএম ও বিভিন্ন বাম দলগুলির ছাত্র যুব সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে গঠিত রেড ভলান্টিয়ার্সের ভূমিকায় রাজ্যবাসী চমকে যান। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকস্তরে প্রবল আলোচিত হয় সংগঠনটির ভূমিকা। প্রশাসনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা কাঠামো ভেঙে পড়ছিল। তখন বিপদের বন্ধু ছিল রেড ভলান্টিয়ার্স।

শান্তিপুরের করোনা রোগীদের জন্য ‘অক্সিজেন দাতা’ সৌমেন মাহাতো আর অন্যান্য রেড ভলান্টিয়ার্সদের বিভিন্ন মুহূর্ত ভাইরাল হতে শুরু করে।

আসন্ন উপনির্বাচনে সেই ভূমিকা থেকে ভোটের লড়াইতে শান্তিপুরের ‘অক্সিজেন দাতা’।সিপিআইএম এই কেন্দ্রে সৌমেন মাহাতো কে প্রার্থী করার পরেই পুরো বিধানসভা জুড়ে শোরগোল। মূলত তৃ়ণমূল ও বিজেপিতে বিভক্ত ভোটারদের কাছেও দ্বিধা তৈরি হচ্ছে।

চমক ছিল সৌমেন মাহাতোর মনোনয়ন জমার মিছিল। সদ্য সমাপ্ত তিনটি কেন্দ্রের উপনির্বাচনে যা দেখা যায়নি। সর্বত্রই জামানত খোয়ান বাম প্রার্থীরা।

বিধানসভা ভোটে জিতেও শান্তিপুরের বিধায়ক পদ ছেড়েছেন বিজেপির জগন্নাথ সরকার। ফলে আগামী ৩০ অক্টোবর উপনির্বাচন।

শান্তিপুরে বামফ্রন্টের সিপিআইএম প্রার্থী সৌমেন কি ‘জামানত কাঁটা’ দূর করতে পারবেন? সেটাই মূল প্রশ্ন বাম শিবিরে। বহু ভোটের পোড় খাওয়া বাম নেতারা জানেন জনসেবা এক বিষয় আর ভোটের লড়াই ভিন্ন।

Lakhimpur Kheri : যোগী পুলিশের সাথে লুকোচুরি, বাম নেতৃত্ব ঢুকলেন ‘কৃষক গণহত্যা’র কেন্দ্রে

aiks leaders have reached lakhimpur kheri

নিউজ ডেস্ক: ঠিক যেন গোয়েন্দা কাহিনীর প্লট। চোরাপথে এ ওর পিছনে ছুটছে। অনেকটা তেমনই করে গেঁয়ো পথ ধরে মুখ্যমন্ত্রী যোগীআদিত্যনাথের পুলিশের ‘আঁখ মে ধুল’ (চোখ এড়ানো) ছিটিয়ে ‘কৃষক গণহত্যা’র কেন্দ্র উত্তর প্রদেশের লখিমপুর খেরিতে ঢুকলেন বাম কৃষক সংগঠনের নেতারা। সারা ভারত কৃষকসভার (AIKS) নেতারা ঢুকতেই এলাকাবাসী ভিড় করে এগিয়ে আসেন। শুরু হয় নিহতদের পরিবারের কান্না।

aiks leaders have reached lakhimpur kheri

সিপিআইএম (CPIM) ও সিপিআই (CPI) দুই দলের কৃষক সংগঠন কৃষকসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রীর কড়া পুলিশি পাহারা এড়িয়ে লখিমপুর খেরিতে কৃষক নেতারা ঢুকতে পারলেন। প্রতিনিধি দলে আছেন কৃষক সভার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডিপি সিং, উত্তর প্রদেশ রাজ্য সম্পাদক মুকুট সিং, কৃষক নেতা চন্দ্রপাল সিং সহ অন্যান্যরা।

এই রক্তাক্ত লখিমপুর খেরি ঢুকতে গিয়ে কংগ্রেস(INC) নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী পুলিশের ঘেরাটোপে আটকে পড়েন। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) সাংসদ সুস্মিতা দেব সহ বাকি প্রতিনিধিরা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে যাচ্ছিলেন। তাঁদেরও আটকে দেওয়া হয়। তবে টিএমসি প্রতিনিধিরা দাবি করেছেন তারা লখিমপুর খেরি ঢুকেছিলেন। উত্তর প্রদেশের পূর্বতন দুই শাসক দল সমাজবাদী পার্টি(SP) ও বহুজন সমাজপার্টির (BSP) প্রতিনিধিরাও রাজ্য পুলিশের ঘেরাটোপে আটকে পড়ে ঘটনাস্থলে যেতে পারেননি। বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে বিবৃতি দিয়েছেন দুই দলের নেতা প্রাক্তন দুই মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ সিং যাদব ও মায়াবতী।

aiks leaders have reached lakhimpur kheri

অভিযোগ, লখিমপুর খেরিতেই কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কৃষি আইনের বিরোধিতা করে কৃষক জমায়েত চলছিল। সেই জমায়েতের উপর গাড়ি চালিয়ে পিষে মারা হয়েছে কয়েকজনকে। চলেছে গুলি। মোট মৃত ৯ জন। মৃতদের ৬ জন কৃষক। একজন সাংবাদিক আর দুজন হামলাকারী গাড়িতে ছিল।

গোটা ঘটনায় মূল অভিযুক্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী অজয় মিশ্রর পুত্র আশিস। তাঁর পিতা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সহকারী মন্ত্রী। আরও অভিযোগ এই কারণেই আশিসকে এখনও গ্রেফতার করেনি উত্তর প্রদেশ পুলিশ। অভিযোগ আশিস মিশ্র ও তার বন্ধুরা কৃষকদের পিষে মারে।

Kolkata: প্রকাশ্যে মমতাকে মাতৃশক্তি হিসেবে তুলনা BJP বিধায়কের, ভাঙন স্পষ্ট

Ashis Das

নিউজ ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী মোদীর ভূমিকায় প্রবল হতাশ হয়েছেন তা খোলাখুলি জানাতে দ্বিধা নেই। তেমনই বিজেপি বিধায়ক হয়েও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Mamata Banerjee) দেশনেত্রী হিসেবে মেনে নিতেও কুন্ঠা নেই। এভাবেই দলত্যাগের ইঙ্গিত স্পষ্ট করলেন ত্রিপুরায় শাসক দল বিজেপির (BJP) বিধায়ক আশিস দাস।

আশিস দাস ত্রিপুরার সুরমা (Surma vidhansabha) বিধানসভার বিধায়ক। তিনি কলকাতায় এসেছেন কিছু ব্যক্তিগত কাজে। জানিয়েছেন, কালীঘাটে পুজো দেবেন। তার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে ভবিষ্যত কর্মসূচি জানাবেন।

আশিসবাবুর ইঙ্গিতে স্পষ্ট তিনি বিজেপি ত্যাগ করতে চলেছেন। সূত্রের খবর আরও এক ডজন বিধায়ক দ্রুত বিজেপি ছাড়বেন। ত্রিপুরায় হয় সংখ্যালঘু সরকার হবে কিংবা মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সরকার পড়ে যাবে। এমনই আশঙ্কা সে রাজ্যের বিজেপি শিবিরে।

আগরতলা থেকে আশিস দাস কলকাতা এসে তৃণমূল কংগ্রেস ভবনে যান। তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন শুধু একটি রাজ্যের নেত্রী নন তিনি সর্বভারতীয় বিরোধী মুখ। ইন্দিরা গান্ধীর পর মাতৃশক্তির হাতেই ভারত সুরক্ষিত হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর সরকার দেশীয় সম্পদের বিক্রি নীতির প্রবল সমালোচনা করেন বিজেপি বিধায়ক।

ত্রিপুরায় আগামী বিধানসভা ভোটের আগে শাসক বিজেপির অভ্যন্তরে ভাঙন ক্রমে বড় হচ্ছে। সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে লাগাতার সুর চড়িয়ে রেখেছেন একগুচ্ছ বিধায়ক। এরা সংস্কারপন্থী বা বিদ্রোহী বলে পরিচিত। এই গোষ্ঠীর নেতা সুদীপ রায় বর্মণ। সুদীপবাবুর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সংঘাত প্রবল।

বিজেপি বিধায়কদের বিদ্রোহী গোষ্ঠী দিল্লি গিয়ে খোদ সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডার কাছে মুখ্যমন্ত্রীকে পদচ্যুত করার দাবি রাখেন। তাঁদের অভিযোগ, বিপ্লব দেব কে মুখ্যমন্ত্রী করে আগামী বিধানসভা ভোট লড়লে ত্রিপুরা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বিজেপি। তবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেকথা মানেননি। বিভিন্ন রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী বদল করলেও ত্রিপুরায় বিপ্লববাবুকেই পদে বহাল রেখেছে।

গত বিধানসভা ভোটের আগে ততকালীন বিরোধী দল কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে সুদীপ রায় বর্মণের নেতৃত্বে বিধায়করা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন। টিএমসি হয়েছিল বিরোধী দল। পরে সেই বিধায়করা সুদীপবাবুর নেতৃত্বে়ই ফের বিজেপিতে যান। ভোটে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট শাসনের অবসান হয়। সিপিআইএম এখন বিরোধী দল।

এর মাঝে পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়েন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পরেই তৃণমূল কংগ্রেস ত্রিপুরায় ফের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েছে। টিএমসি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, ত্রিপুরায় বিজেপির প্রায় সব বিধায়ক দলত্যাগ করে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আসতে তৈরি।

Tripura: মমতার জয়ে আগরতলায় রসগোল্লা উৎসবে মত্ত TMC

mamata banerjee tmc supporters of tripura distributed rosogolla

নিউজ ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ থেকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata banerjee) জয়ের সংবাদ এক মুহূর্তে পৌঁছে গেল ত্রিপুরায়। বাংলাভাষী প্রধান এই রাজ্যেও শূন্য হয়ে যাওয়া টিএমসি সমর্থকদের মধ্যে এতটাই উল্লাস যে তারা রসগোল্লা উৎসব শুরু করেছেন।

হাঁড়ি হাঁড়ি রসগোল্লা পথচলতি সবাইকে খাওয়ানোর পালা চলছে। আগরতলায় তৃণমূল সমর্থকদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের পর ত্রিপুরাতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপি ও সিপিআইএমকে পরাজিত করে সরকার গড়া হবে।

রসগোল্লা খাওয়ানোর পিছনে জয় ও জনসংযোগ দুটোই চালাচ্ছে ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেস। তবে এই রাজ্যে লোকসভা ভোটের নিরিখে তৃণমূলের প্রাপ্তি ০.৩ শতাংশ। এই শক্তি নিয়েই ত্রিপুরার আসন্ন বিধানসভা ভোটে ঝাঁপিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

mamata banerjee tmc supporters of tripura distributed rosogolla

সূত্রের খবর সরকারে থাকা বিজেপির বিধায়করা দলত্যাগে তৈরি। ত্রিপুরায় বিজেপি শিবিরেও ভাঙন স্পষ্ট। সূত্রের খবর, উপনির্বাচনে মমতার জয় ঘোষণা হতেই ত্রিপুরায় শাসক বিজেপির বিদ্রোহী বিধায়করা দলত্যাগ শুরু করবেন। এদের নেতৃত্বে রয়েছেন বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ।

সুদীপবাবু গত বিধানসভা ভোটের আগে কংগ্রেস ছেড়ে অনুগামীদের নিয়ে তৃণমূলে যান। সে রাজ্যে বিরোধী দল হয় টিএমসি। পরে তিনিই আবার অনুগামীদের নিয়ে বিজেপিতে যান। ভোটে সরকার পরিবর্তন হয়। বাম সরকারকে হারিয়ে বিজেপি জোট সরকার গড়ে।

পশ্চিমবঙ্গে তিনবার সরকার গড়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেসকে পুনরায় শক্তিশালী করতে মরিয়া। ইতিমধ্যেই বিজেপিতে ভাঙন ধরছে। শনিবার বিজেপি বিধায়ক আশিস দাস কলকাতায় টিএমসি ভবনে এসে কথাবার্তা পাকা করেছেন বলেই সূত্রের খবর

DYFI রাজ্য সম্মেলনে সাধারণ যাত্রী হয়ে আসছেন চারবারের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার

ordinary passenger Ex cm of tripura manik sarkar

নিউজ ডেস্ক: সম্মেলন মঞ্চের প্রস্তুতি দেখনদারি। তবে দলটাই যে বিধানসভায় শূন্য হয়ে গেছে। রাজ্যের কোনও লোকসভাতেই নেই। এমনই অবস্থায় সিপিআইএমের যুব সংগঠন ডিএয়াইএফআইয়ের (DYFI) ১৯ তম রাজ্য সম্মেলন হচ্ছে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে (Raiganj)।

সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান বক্তা ত্রিপুরার চারবারের মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্তমান বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার (Manik Sarkar)। তিনি রায়গঞ্জে আসছেন এমন একটি ছবি প্রকাশ হয়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে সিপিআইএম(CPIM) পলিটব্যুরো সদস্য মানিকবাবু তাঁর ‘যুব কমরেড’ দের আহ্বানে ট্রেনে আগরতলা থেকে রায়গঞ্জে আসছেন। সঙ্গে আছেন ত্রিপুরার বাম যুবকর্মীরা।

Manik sarkar

মানিক সরকারের এমন ছবি দেখে বাম সমর্থক তো বটেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে পড়েছে বিপুল সাড়া। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সরকারি সুবিধা অনুযায়ী আগরতলা থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় আসতে পারতেন, কিন্তু দলীয় সহকর্মীদের সঙ্গে খোশগল্প করতে করতে ট্রেনে আসছেন এ দৃশ্য রীতিমতো বিরল।

শনিবার রায়গঞ্জের রেল ময়দানে ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্মেলনে মানিক সরকার প্রধান বক্তা। তিনি এই মুহূর্তে ক্ষয়িষ্ণু বাম দলগুলির কাছে ‘আইকন’। আসন্ন ত্রিপুরা বিধানসভা ভোটে তাঁকে মুখ করেই ফের রাজ্যটি পুনর্দখলে ঝাঁপাবে সিপিআইএম।

DYFI

টানা ২৫ বছর ত্রিপুরায় বামফ্রন্ট সরকার ছিল। গত বিধানসভা ভোটে সে রাজ্যে বাম সরকারের পতন হয়। কুড়ি বছরের টানা মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার হন বিরোধী নেতা।

ডিওয়াইএফআই জানিয়েছে, সম্মেলনের লোগো উদ্বোধন করেছেন বিশিষ্ট অভিনেতা সব্যসাচী। তিনিও সম্মেলনের জন্য শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন।

DYFI

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছেন বাম যুব সংগঠনটির রাজ্য সভানেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জি (Minakshi Mukherjee)। গত বিধানসভা ভোটে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে সংযুক্ত মোর্চার সিপিআইএম প্রার্থী হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করেন। পরাজিত হলেও মীনাক্ষীর প্রচার নন্দীগ্রাম সহ রাজ্য জুড়ে প্রবল আলোড়ন ফেলেছিল।

ভবানীপুরে ‘হাওয়া গরম’ বুঝছে কমিশন, নির্বিঘ্নে ভোট করানো চ্যালেঞ্জ

by election politics tension spreading in bheanipur

নিউজ ডেস্ক: বিরোধী দল বিজেপির অভিযোগ লোক ঢোকাচ্ছে তৃণমূল। তৃতীয় পক্ষ বামেদের অভিযোগ, ভবানীপুর ও সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন অনুষ্ঠান বাড়ি, হোটেল বুকিং করা হয়েছে। কেন এত বুকিং? শাসক টিএমসির টার্গেট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক লক্ষ ভোটের ব্যবধানে জেতানো। সবমিলে উপনির্বাচনের হাওয়া গরম। নির্বাচন কমিশন নির্বিঘ্নে ভোট করানোর চেষ্টা করছে।

একটি মাত্র কেন্দ্র তাতেই গলদঘর্ম কমিশনের। নির্বাচনের দিন যে কোনওরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কুইক রেষপন্স টিম থাকবে। কিন্তু কুইক রেসপন্স হবে কি ?.প্রশ্ন বিরোধী দল বিজেপির।

ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র বিধানসভা ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের দখলেই গিয়েছে। বিধায়ক হয়েছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। কিন্তু পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম কেন্দ্রে হেরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে টিএমসি তিনবার টানা সরকার ধরে রাখে। মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকতে বিধায়ক হতে হবে মমতাকে। তাঁকে ভবানীপুর ছেড়ে দেন শোভনদেব।

by election politics tension spreading in bheanipur

উপনির্বাচন ঘিরে টানটান পরিস্থিতি। বিরোধী বিজেপি, তিন নম্বরে থাকা বামফ্রন্টের প্রচারে বাধার ঘটনায় বারবার উত্তপ্ত হয়েছে ভবানীপুর। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, উপনির্বাচনে হাওয়া গরম করতে চাইছে বিরোধীরা।

টিএমসি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলীয় কর্মীদের কাছে এক লক্ষ ভোটে জয়ের টার্গেট বেধে দিয়েছেন। অভিযোগ, এই টার্গেট পূরণ করতে বহিরাগতদের আনাচ্ছে শাসকদল।

শাসক বিরোধী রোষের ভবানীরুরের সব বুথে ঝামেলা হওয়ার আশঙ্কা কমিশনের। ভোট পর্ব ঘিরে বিক্ষিপ্ত অশান্তি হবে ধরে নিয়েই নিজেদের প্রস্তুত রাখছে কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি, সশস্ত্র পুলিশ, কুইক রেসপন্স টিম, সিসিটিভি নিয়ে ভোটদানের নিরাপত্তা থাকলেও ভবানীপুরবাসী নিশ্চিত কিছু একটা হবেই। কারণ হাওয়া বেশ গরম

Politics: নেহরু থেকে কানহাইয়া, কংগ্রেসের ‘বাম’ নেতারা বরাবর সুপারহিট

Kanhaiya Kumar joins the Congress party

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: সুভাষবাবু কংগ্রেস ত্যাগ করে যেদিন ফরওয়ার্ড ব্লক গঠন করলেন সেদিনই ইতিহাসের কিছু নির্দেশ লেখা হয়ে ছিল। কংগ্রেসের প্রথম বড় ধাক্কা কিন্তু সুভাষচন্দ্র বসুর দলত্যাগ। ভারতীয় রাজনীতির দলত্যাগের এই নজির এখনও সমান জ্বলজ্বলে।  সুভাষবাবু বামপন্থী ছিলেন, তাঁর দলের পতাকা, নীতি আদর্শের দিকটি স্পষ্ট। কংগ্রেস তাহলে কী?

কংগ্রেস তখনও বৃহত্তম রাজনৈতিক মঞ্চ, এখনও। জাতীয় কংগ্রেস বকলমে ইন্দিরা কংগ্রেস বহুধা বিভক্ত হয়েছে, জুড়েছে। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির ইতিহাসের গর্ভগৃহ হিসেবে কংগ্রেসকে অস্বীকার করা যাবেনা। তবে কংগ্রেস ঘোষিত দক্ষিণপন্থী দল। আবার এই দলে বাম মনস্কদের সমাহার কম নয়। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (CPI) ত্যাগ করে জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিলেন কানহাইয়া কুমার। কংগ্রেসের আদর্শে এখন তিনি চলবেন। যে কংগ্রেস জওহরলাল নেহরুর মতো সমাজতান্ত্রিক নেতা ছিলেন, সেই কংগ্রেসে সামিল আধুনিক ভারতের সমাজতান্ত্রিক তথা কমিউনিস্ট নেতা কানহাইয়া কুমার। কানহাইয়ার দলত্যাগ ভারতের অন্যতম কমিউনিস্ট মনোভাবাপন্ন বিপ্লবী নেতা ভগত সিংয়ের জন্মদিনেই। তবে দলীয় পতাকার রং পাল্টে গেল। সিপিআই জাতীয় পরিষদ, বিহার রাজ্য পরিষদের নেতারা জানতেন কানহাইয়া যাচ্ছেন। বস্তুতপক্ষে সিপিআই কেন্দ্রীয় নেতাদের কিছুই করার ছিলনা। কানহাইয়ার মতো প্রবল জনপ্রিয়, তার্কিক নেতার কাছে দলের বাকি নেতারা তুচ্ছ তা স্পষ্ট হয়েছে মোদী জমানাতেই।

কানহাইয়া কুমারের সিপিআই ত্যাগ ইতিহাসের কয়েকটি দিক ফের দেখতে বাধ্য করছে। জাতীয় কংগ্রেসের সমাজতান্ত্রিক ও বাম মনস্ক নেতার অন্যতম নেহরু। বস্তুত নেহরু প্রায় ঘোষিত বাম ঘেঁষা নেতা ছিলেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে সমাজতান্ত্রিক শিবিরের সঙ্গে নিবিড় সংযোগ। সেই প্রভাবে দেশের শিল্প পরিকাঠামো গড়া, কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্বে চলা সোভিয়েত ইউনিয়নের সাহায্যে ভারতকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।

নেহরু পরবর্তী ইন্দিরা জমানায় কংগ্রেসের মধ্যে সমাজতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত। বাবার পথেই দেশীয় শিল্প, আর্থিক কাঠামোর জাতীয়করণে ইন্দিরা পুরোপুরি সোভিয়েত অনুগামী হন।  নেহরু-ইন্দিরার পরিচিত ও বন্ধুবলয়টি আরও লাল তারকা খচিত। ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা এম এন রায়, কমিউনিস্ট মার্কসবাদী নেতা জ্যোতি বসু, এস এ ডাঙ্গে, মোহন কুমারমঙ্গলম, ভূপেশ গুপ্ত, অজয় ঘোষ, পার্বতী কৃষ্ণান-কে নেই। একেবারে লাল তারার ঘেরাটোপে থেকেও নিজের মতো ছিলেন পিতা-পুত্রী।

১৯৬২ সালে ভারত-চিন সংঘর্ষের পর সিপিআই ভেঙে ১৯৬৪ সালে সিপিআইএম তৈরি হয়। নেহরু পরবর্তী জমানায় ক্ষমতা ধরে রাখতে সিপিআইএমের(CPIM) সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে সরাসরি সংঘর্ষে গেলেও সিপিআইয়ের(CPI) সঙ্গে কংগ্রেসের সংযোগ ছিল নিবিড়। সে কারণেই ১৯৭৫ সালে ইন্দিরা গান্ধীর সরকারের জরুরি অবস্থা ঘোষণাকে সমর্থন করে সিপিআই। পরে অবস্থান বদলেছে এই দলটি। জরুরি অবস্থার বিরোধী নেতা জয়প্রকাশ নারায়ণ কংগ্রেসের মধ্যে চরম সমাজতান্ত্রিক নেতা ছিলেন। পরে তিনিই দেশের প্রথম অ-কংগ্রেসি সরকার গঠনের রূপকার হন।

জরুরি অবস্থার সময় দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের তুখোড় ছাত্র বর্তমান সিপিআইএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি। তিনিও কংগ্রেস ঘনিষ্ঠ। আর মোদী জমানাকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ বলা জেএনইউ প্রাক্তনী কানহাইয়া কুমার এখন বৃহত্তর মোদী বিরোধী মঞ্চ কংগ্রেসে সামিল। কংগ্রেসের অন্যতম আলোচিত নেতা মনিশংকর আইয়ার তাঁর বাম নীতির জন্য আলোচিত। যতটা আলোচিত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তাঁর মার্কসীয় অর্থনীতির জন্য। এরা সবাই কংগ্রেসের ‘বামপক্ষ’।

সেই তালিকায় আরও এক তুখোড় ছাত্র নেতা কানহাইয়া কুমার এলেন। কংগ্রেসের ভাষণ দেওয়া নেতার অভাব মিটল। ক্ষয়িষ্ণু সিপিআই-তে থেকে মোদীর মুখোমুখি হওয়া আর কংগ্রেসে গিয়ে সর্বভারতীয় স্তরে চ্যালেঞ্জ দেওয়ার মধ্যে বিরাট পার্থক্য। যারা ময়দানি রাজনীতি করেন তারা জানেন বড় দলে খেলার সুবিধা। জার্সি বদলে সেই সুবিধা নিলেন কংগ্রেসের কমিউনিস্ট নেতা কানহাইয়া কুমার।

#BharatBandah: ত্রিপুরায় বনধে সফল মানিক, বাংলায় বিফল সূর্য-সেলিম

Bharat-Bandh tripura

নিউজ ডেস্ক: সরকারে নেই দু রাজ্যেই। তবে সরকার হারানোর বামেদের পর তেজ কিন্তু ত্রিপুরাতেই। আগামী বিধানসভা ভোটের আগে ফের সাংগঠনিক শক্তির দেখনাদারিতে সফল হলেন মানিক সরকার। ত্রিপুরায় বনধের বিরাট প্রভাব। এমনকি বিজেপির দখল করা বিধানসভাগুলিতেও জনজীবন স্তব্ধ হয়ে গেছে।

দেশজোড়া বনধের জেরে উত্তর পশ্চিম ভারতের সঙ্গে রাজধানী নয়াদিল্লির সড়ক ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি। বিভিন্ন রাজ্যে বনধের প্রভাব পড়লেও পশ্চিমবঙ্গে বনধ পালনে ফের ব্যর্থ বামেরা। বিক্ষিপ্ত কিছু ট্রেন রোকো ও বাজার বন্ধ করাতে পারলেও মোটের উপর রাজ্যে বনধ ব্যর্থ করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি বনধের সবকটি ইস্যুকে সমর্থন করছেন বলে জানান।

বনধ যে বাংলায় তেমন হবে না তা বুঝেই গিয়েছিল সিপিআইএম সহ বাম দলগুলি। কিন্তু বঙ্গ বামেদের লজ্জায় ফেলে দিয়ে ফের শক্তি পরীক্ষায় পাশ মার্ক পেল ত্রিপুরা সিপিআইএম। এ রাজ্যে বিরোধী দলের ডাকা যতগুলি বনধ হয়েছে সবকটিকেই ছাপিয়ে গেছে সোমবারের ভারত বনধের ছবি।

কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কৃষি আইনের বিরোধিতায় সর্বভারতীয় কৃষক সংগঠনগুলির ডাকা ভারত বনধের সমর্থনে মানিক সরকার আগেই জানিয়েছিলেন, ত্রিপুরা স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। খোদ বিজেপি শাসিত রাজ্য সকাল থেকেই স্তব্ধ।

রাজধানী আগরতলা শুনশান। কৈলাসহর, ধর্মনগর, সাব্রুম, পানিসাগর, গোমতী, বিশালগড়, উদয়পুর সহ রাজ্যের সর্বত্র বনধে বিরাট প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একেবারে শুনশান চারিদিক। আগরতলায় বনধের প্রভাব সবথেকে বেশি বলেই মনে করা হচ্ছে। বনধে বিক্ষিপ্ত অশান্তি রুখতে রাজ্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সবথেকে উল্লেখযোগ্য, যে পার্বত্য উপজাতি অঞ্চলে সিপিআইএম এবারের বোর্ড হারিয়ে শূন্য হয়েছে এডিসি নির্বাচনে সেখানেও বনধের বড় প্রভাব পড়েছে।

গত নির্বাচনে টানা ২৫ বছরের বাম সরকারের পতন হয় ত্রিপুরায়। বিরোধী দল সিপিআইএমের দখলে থাকা বিধানসভাগুলির পাশাপাশি সরকারপক্ষ বিজেপি ও আইপিএফটি জোটের দখলে যাওয়া বিধানসভাতেও বনধের ‘সর্বাত্মক প্রভাব’ পড়েছে।

হেরেও ‘সুশান্ত এফেক্ট’ পশ্চিম মেদিনীপুরে, বনধের রোষ বাম কর্মীদের

Bharat-Bandh

নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা ভোটের আগে প্রবল সাড়া ফেলে নিজ এলাকা পশ্চিম মেদিনীপুরে ফিরে ক্রমাগত তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির বিরুদ্ধে রোষ দেখিয়েছিলেন দাপুটে সিপিআইএম নেতা সুশান্ত ঘোষ। তবে ভোটে শালবনী কেন্দ্রে তিনি পরাজিত হন। প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিধায়ক তথা বেনাচাপড়া কঙ্কাল কান্ডে জেল খেটে আসা সুশান্তবাবুর দাপট ফের দেখা গেল ভারত বনধে।

পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের বিস্তির্ণ গ্রামাঞ্চলে প্রায় খড়কুটোর মতো উড়ে যাওয়া সিপিআইএম সমর্থকরা তীব্র রোষ নিয়ে বনধে সামিল। চন্দ্রকোনা, মেদিনীপুর, শালবনি, গড়বেতায় বনধের প্রভাব পড়েছে। ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল এলাকাতেও একই ছবি। সুশান্তবাবুর খাস এলাকা লাগোয়া বাঁকুড়ার বিভিন্ন গ্রামে বনধের প্রভাবে রাজ্য ও জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ।

Susanta-Ghosh

তবে আশ্চর্যজনকভাবে সুশান্ত ঘোষ অদৃশ্য। সূত্রের খবর, তিনি দলীয় কর্মী সমর্থকদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। সেই নির্দেশ মেনে সকাল থেকেই বনধ পালনে নেমেছে বাম সমর্থকরা।

সুশান্ত ঘোষ টানা ৩৪ বছরের বাম জমানার ৩২ বছরের বিধায়ক ছিলেন। বামফ্রন্ট জমানার শেষ দশবছরে ততকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিরোধিতা ছিল চরমে। সেই সব কথা বইতে লিখে দল থেকে সাময়িক সাসপেন্ড হন। পরে বিধানসভা ভোটের আগে তাঁকে ফেরায় সিপিআইএম।

সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক হামলার অভিযোগ রয়েছে। তবে বাম নেতা আইনি প্রক্রিয়ায় জামিন নিয়েছেন। তাঁর মন্ত্রীত্বের সময়ে নেতাই গণহত্যা ঘটে। প্রবল বিতর্কিত সেই সময়। পরে নির্বাচনে বাম জমানা শেষ হয়। কিন্তু ২০১১ সালের ভোটেও জিতেছিলেন সুশান্ত ঘোষ।

#BharatBandh: কৃষক আন্দোলনের ধাক্কা, উত্তর ভারতের গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব, বাংলায় নেই

all india strike hits north and weststern states

নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্র সরকারের কৃষি আইনের বিরোধিতা সহ রাষ্ট্রায়ত্ব সংস্থাগুলির বিক্রি করার প্রতিবাদে একাধিক বিজেপি ও অবিজেপি শাসিত রাজ্যে বনধের প্রভাব পড়লেও পশ্চিমবঙ্গে তেমন ছবি নেই।

পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি অনুসারে মধ্যরাত থেকে কৃষক সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ সারা ভারত কৃষক সংঘর্ষ সমন্বয় সমিতি (AIKSCC) বনধ পালন করছে।

all india strike hits north and weststern states

সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার ডাকা ভারত বনধে পশ্চিম ও উত্তর ভারতে বিক্ষিপ্ত প্রভাব শুরু৷ মহারাষ্ট্রের বড় প্রভাব। পাঞ্জাব, হরিয়ানা অবরোধ। বড় প্রভাব তামিলনাড়ুতেও। সকালেই ত্রিপুরা স্তব্ধ হয়ে যায়। বাম শাসিত রাজ্য কেরল স্তব্ধ। বিহার, ওডিশায় প্রভাব পড়েছে।

এদিকে বনধের ইস্যু সমর্থন করেছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বনধ পালনের বিরোধিতা করবে তৃণমূল কংগ্রেস, সেটি আগেই জানানো হয়। সরকারি কর্মীদের হাজিরায় কড়াকড়ি করা হয়েছে।পশ্চিমবঙ্গে বনধ সফল হবে না। তৃণমূলের দাবি। তবে রাস্তায় বিরোধী বামেরা। বনধে সমর্থন করছে কংগ্রেস ও ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট।

all india strike hits north and weststern states

বনধের বড় প্রভাব পড়েছে ব্যাংকে। ব্যাংক কর্মীদের বিভিন্ন সংগঠন সরাসরি বনধে অংশ নিয়েছে। বিমা, রেল, খনিতে কর্মরত শ্রমিকদের বড় অংশ বনধ করছেন। সংঘ পরিবার ও তৃণমূূল কংগ্রেসের শ্রমিক সংগঠন বনধ পালন করছে না। দেশের কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলি সরাসরি বনধে সামিল।

সরকারি কর্মীদের বাম সংগঠন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য কোঅর্ডিনেশন কমিটি বনধকে সমর্থন করার কথা জানিয়েছে। কংগ্রেসও বনধকে সমর্থন করবে।

উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, হরিয়ানার, হিমচল প্রদেশে বনধের বিরাট প্রভাব পড়েছে গ্রামাঞ্চলে। তামিলনাড়ুতে বনধ সফল, কারণ এই ডিএমকে কংগ্রেস ও বাম জোটের রাজ্য সরকার সরাসরি বনধ সমর্থন করেছে।

বনধ সফলে মানিক ‘কনফিডেন্ট’, বঙ্গ বাম হাই তুলছে

Manik sarkar

নিউজ ডেস্ক: দুই বাংলাভাষী রাজ্যেই বামেরা ক্ষমতায় নেই। সরকারে না থাকলেও বঙ্গ বামেদের মতো ঝিমিয়ে যায়নি ত্রিপুরি বামেরা, তা রাজনৈতিক ভূমিকা থেকেই স্পষ্ট। পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরা দুই রাজ্যে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি বনধ বিরোধী। তবুও যে কোনও ইস্যুতে বনধ পালনে কেন্দ্রীয় কমিটির খাতায় ত্রিপুরায় এখনও একশ তে একশ পান মানিক সরকার। আর বঙ্গ বামের কাছে আসে হতাশা।

সোমবার দেশজোড়া বনধ। কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বে চলা এনডিএ সরকারের কৃষি আইনের প্রতিবাদে যে কৃষক অবস্থান বিক্ষোভ চলছে তারই রেশ ধরে বনধ ও চাক্কা জ্যাম কর্মসূচি নিয়েছে কৃষক সংঘর্ষ সমিতি। সর্বভারতীয় কৃষক আন্দোলনের অন্যতম সারা ভারত কৃষক সভা যা কিনা সিপিআইএম ও সিপিআইয়ের শাখা তারাও বনধ সমর্থন করেছে।

শুধু কৃষক সংগঠনগুলি নয়, সংঘ পরিবারের বিএমএস বাদে কেন্দ্রীয় শ্রমিক সংগঠনগুলিও এই বনধকে সমর্থন করেছে। কংগ্রেস, ডিএমকে, সমাজবাদী পার্টি, বিএসপি, আরজেডি ও বাম দলগুলি বনধের পক্ষে। ব্যাংক, বিমা, খনি, রেল সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের শ্রমিক সংগঠনও সমর্থন করেছে।

বনধের ব্যাপক প্রভাব পড়তে চলেছে উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, ছত্তিসগড়, কর্নাটক, কেরলে। বিহার, ওডিশা, পশ্চিমবঙ্গ, অসমে প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।

উত্তর পূর্বে বনধের সর্বাধিক প্রভাব পড়তে চলেছে ত্রিপুরায়। রাজ্যের বিরোধী দল সিপিআইএম সরাসরি বনধ পালনে নামবে। ত্রিপুরায় বিরোধী আসনে থেকে বনধ সফল করালেও পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হারানোর পর বামেদের ডাকা বনধ কর্মসূচি একেবারেই ফ্লপ হয়। তবে বনধের সকালে কিছু রেষ থাকে ট্রেন চলাচলে। কলকাতা শহরতলী লাগোয়া স্টেশনে বনধ পালনকারীদের রোষ দেখা যায়।

কৃষক আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রাজ্য সরকার জানায়, বনধ পালন হবে না। অন্যদিকে ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার সরাসরি কৃষক আন্দোলনের বিরোধিতা করছে। কিন্তু বিরোধী দল সিপিআইএম বনধে অনড়। আশঙ্কা বনধ ঘিরে শাসক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়াতে পারে। সম্প্রতি যেভাবে রাজনৈতিক সংঘর্ষে জ্বলেছিল ত্রিপুরা, সেরকমই আশঙ্কা থাকছে।

তবে বঙ্গ বামেদের মতো হাই তোলা কর্মসূচি নেই ত্রিপুরার বামেদের। সেখানে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনে মরিয়া বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার। কলকাতায় তাঁর দলীয় সহকর্মীদের আক্ষেপ এমন নেতা কেন যে নেই এই ‘দু:সময়ে’।

বনধের দাবিগুলি একনজরে
★নয়া তিন কৃষি আইন বাতিল করো এবং বিদ্যুৎ বিল বাতিল করো।
★ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য গ্যারান্টি আইন চালু করো।
★ধান, আলু, পাট সহ সমস্ত কৃষি ফসল উৎপাদন খরচের দেড়গুণ দামে সরকারকে কিনতে হবে।
★গ্রামীণ মজুরদের বছরে ২০০ দিনের কাজ ও দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি দিতে হবে।
★আদিবাসীদের জল-জমি-জঙ্গল থেকে উচ্ছেদ করা চলবে না।
★কৃষিপণ্যের মজুতদারী ও কালোবাজারী বন্ধ করো।
★কৃষককে কর্পোরেটদের গোলামে পরিণত করা চলবে না।
★শ্রমিকদের শ্রম আইনের অধিকার কেড়ে নিয়ে শ্রম কোড চাপিয়ে দেওয়া চলবে না।
★পেট্রোল-ডিজেল সহ নিত্যপণ্যের মূলবৃদ্ধি কার স্বার্থে?
★দেশের সরকারী সম্পদ বেসরকারী করা চলবে না।

বাবুল TMC হতেই ‘বিজেমূল’ তত্ত্বে বাম নেতাদের দুষছেন সমর্থকরা

biman basu and surjya kanta mishra

নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী পরাজয়ের বিশ্লেষণে বাম নেতারা নিজেদের শূন্য হওয়ার কারণ খুঁজেছেন। পরে সিপিআইএমের (CPIM) সাংগঠনিক রিপোর্ট ‘পার্টি চিঠি’ তে বলা হয়, ভোটে টিএমসি (TMC) বিজেপির পারস্পরিক নেতা বিধায়কের বদলে যে বিজেমূল (Bijemool) স্লোগান তোলা হয়েছিল তা ভুল।

এই বিজেমূল স্লোগান মূলত কটাক্ষ মিশ্রিত। কিন্তু বাস্তবিক। ভোটের আগে একের পর এক তৃণমূল নেতার বিজেপিতে যাওয়া নিয়েই তৈরি স্লোগানটি রাজনৈতিক মহলে ঝড় তুলেছিল। যদিও বামেরা কিছুই করতে পারেনি।ভোটের পর তৃণমূলে ফিরে আসা নেতাদের নিয়েও কটাক্ষ চলছে।

Bijemul

তবে সিপিআইএমের সাংগঠনিক কড়া রীতি অনুসারে বিজেমূল তত্ত্ব নাকচ হওয়ায় উপনির্বাচনের আবহে তেমন শোনা যাচ্ছে না। সব হিসেব উল্টে গেল শনিবার। পশ্চিম বর্ধমানের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় (Babul supriyo) বিজেপি তো আগেই ছেড়েছিলেন, এবার তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন।

বাবুলের টিএমসি শিবিরে আসার পরেই ফের বিজেমূল তত্ত্বে মশগুল রাজনৈতিক মহল। সোশ্যাল মিডিয়ায় বাম সমর্থকরা কটাক্ষ শুরু করেছেন। মন্তব্যের ঝড়ে দলের নেতাদের মুন্ডপাত করছেন। সমর্থকদের অভিযোগ, বিজেমূল স্লোগান ভুল না একদমই বাস্তবিক। তবে নেতারা বুঝতে পারেননি।

সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় টিএমসি হতেই বিজেমূল স্লোগান সক্রিয়। সিপিআইএম নেতাদের ঠেস দেওয়ার কাজও চলছে সমর্থকদের তরফে।

জামানত বাজেয়াপ্ত হবে জেনেই ‘নেতারা বেপাত্তা’, সিপিআইএমের শ্রীজীব প্রায় একলা

Shrijeeb Biswas

নিউজ ডেস্ক: রাস্তায় গলিতে প্রচার করছেন। সঙ্গে গুটিকয় যুবকর্মী সমর্থক, আর কেউ নেই! থাকার কথাও নয়, একেবারেই আনকোরা প্রার্থী তাও আবার রাজ্যে শূন্য হয়ে যাওয়া সিপিআইএম (CPIM) দলের। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল কংগ্রেসের ‘হেরো’ প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনিও অস্তিত্বের যুদ্ধে নেমেছেন। আর আছেন বিজেপির প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল। তিনি যথারীতি গিমিক টানতে মরিয়া, সম্বল অবাঙালি ভোটার। ভবানীপুরের উপনির্বাচনে এটাই তিন প্রতিদ্বন্দ্বীর চালচিত্র।

ভবীনীপুর তৃণমূল কংগ্রেসের সেফ সিট। বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্রে জয়ী হন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামে বিজেপির কাছে পরাজিত হন। দল যেহেতু বিপুল শক্তি নিয়ে তৃতীয়বার সরকার গড়েছে তাই মুখ্যমন্ত্রী পদেই আছেন মমতা। প্রাক্তন বিধায়ককে নির্বাচন কমিশনের নিয়মে জিতে বিধানসভা ঢুকতে হবে। মমতা মরিয়া জিততে। বিজেপি মরিয়া আটকাতে। আর ‘বামেরা মরিয়া তাদের প্রার্থীকে জামানত খোয়াতে!’ এমনই কটাক্ষ টিএমসি ও বিজেপি শিবিরের।

Shrijeeb Biswas

বিধানসভা ভোটে বামফ্রন্ট, কংগ্রেস, ও আইএসএফের মধ্যে যে আসন সমঝোতা হয়েছিল তার নিরিখে সংযুক্ত মোর্চা লড়াই করে। একটি আসন তাদের জুটেছে। ভোট শেষ জোট শেষ অনেকটা এমনই ইঙ্গিত দিয়েছেন সিপিআইএমের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

ভবানীপুরের উপনির্বাচনে তাই একলা বামফ্রন্ট। কংগ্রেস ভবানীপুরে প্রার্থী দেবেনা ঘোষণা করেছে। আইএসএফ এখন বামেদের কাছে অছ্যুত। তবে ভবানীপুর কেন্দ্রে সিপিআইএম প্রার্থী প্রচার শুরু করেছেন। প্রচার দেখে এলাকার বাম কর্মী সমর্থকদের আক্ষেপ নেতারা কবে যে বুঝবেন। এভাবে ছেলেটাকে একলা ঠেলে দিলেন কেন?

শ্রীজীব বিশ্বাস হাঁটছেন। তাঁর পিছনে রয়েছে টানা চৌত্রিশ বছরের দীর্ঘ সময়ের বাম জমানার কঙ্কাল।