কালীঘাটের আমন্ত্রণে কলকাতায় সুদীপ বর্মণ, আগরতলায় বিজেপি মহলে ধস আতঙ্ক

Mamata has little scope in N-E beyond Tripura

নিউজ ডেস্ক: আবারও কি ২০১৮ সালের ঠিক আগের অবস্থা ফিরতে চলেছে আগরতলায় ? ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে শুরু হয়েছে আতঙ্ক-ধস আতঙ্ক। নেতৃত্ব বিধায়কদের বড় অংশ ফের তৃ়ণমূল কংগ্রেসে ফিরতে পারেন এমনই গুঞ্জন। কারণ, ত্রিপুরার তাবড় নেতা সুদীপ রায় বর্মণ এখন কালীঘাটের আমন্ত্রণে কলকাতায়।

উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই বাংলাভাষী প্রধান রাজ্যে গত বিধানসভা ভোটের আগে রাতারাতি বিরোধী আসন থেকে মুছে গেছিল কংগ্রেস। কয়েকদিনের জন্য তৃ়নমূল কংগ্রেসের ঘরে বিরোধী দলের তকমা জুটেছিল। সবই হয়েছিল ‘ত্রিপুরার মুকুল রায়’ বলে সুপরিচিত নেতা সুদীপ রায় বর্মণের রাজনৈতিক ছকে।

পরে গুরু মুকুল রায়ের পরামর্শে সুদীপবাবু তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে অনুগামীদের নিয়ে বিজেপিতে যান। ত্রিপুরায় পালাবদল হয়। বামফ্রন্টের টানা ২৫ বছরের সরকার পড়ে যায়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি আইপিএফটি জোট। এর পরেই সরকারের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গে সংঘাত শুরু সূদীপ বর্মণের।  সংঘাত তীব্র হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা পারেননি সামাল দিতে। বিপ্লববাবু ও সুদীপবাবুর মধ্যে কথাবার্তা আগেই বন্ধ। দুজনেই পরস্পরকে এড়িয়ে চলেন।

রাজনৈতিক মোড় ঘুরতে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিনবার তৃণমূল কংগ্রেস সরকারে থেকে যাওয়ায়। বিজেপি ত্যাগ করে মুকুল রায় ফিরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। সেই ধাক্কা গিয়ে লাগে ত্রিপুরায়। মুকুল শিষ্য সুদীপ রায় বর্মণ বিজেপি ত্যাগ না করলেও দলের কোনও বিষয়েই নেই। তিনি এখন কলকাতায়।

সিপিআইএমের টানা দু দশকের জমানায় আগরতলার রাজনীতিতে বরাবর প্রভাব রাখা সুদীপ রায় বর্মণ ফের কলকাতায় অবস্থান করছেন কেন? তৃ়নমূল কংগ্রেস নীরব। তবে প্রদেশ বিজেপি ধরেই নিচ্ছে তিনি ফের শিবির পাল্টাবেন। কতজন বিধায়ক যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে? এই প্রশ্ন এখন আগরতলায় সর্বত্র। এমনকি পরিস্থিতি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিরোধী দল সিপিআইএম। তাদের রাজ্য দফতর দশরথ দেব ভবনেও চাপা আলোচনা-‘সুদীপ বর্মণ ফের ছক করেছে’।

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলায় গিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন যে কোনও সময়ে ত্রিপুরায় বিজেপির সরকার ফেলে দিতে পারি। তবে নির্বাচিত সরকার পূর্ণ মেয়াদ থাকুক এটা চাই।

এর পর ত্রিপুরায় ক্রমে বাড়ছে টিএমসির রাজনৈতিক কার্যকলাপ। দলটির দখলে এই রাজ্যে ০.৩ শতাংশ ভোট। সেখান থেকে উঠে আসা এবং সরকার ভেঙে দেওয়ার ঘোষণায় যে সুদীপবাবুর ‘ছক’ আছে তা স্পষ্ট বিজেপির কাছে।পূর্বতন বিরোধী দল কংগ্রেস বিধানসভায় এখন শূন্য। তবে কংগ্রেসের ভোট ব্যাংক পেতে মরিয়া টিএমসি। কালীঘাটের আমন্ত্রণে অনেক কিছুই হবে। সেই রাতারাতি সবকিছু পাল্টে যাওয়া? আগরতলায় ধসের আতঙ্ক বিজেপি মহলে।

গোয়েন্দা রিপোর্ট: ত্রিপুরায় দূর্বল হচ্ছে বিজেপি, ঘর গোছাচ্ছে মানিক-মমতা

Bjp loosing supporter base In tripura

নিউজ ডেস্ক: ফের মানিক নাকি মমতামুখী ত্রিপুরা? আগরতলার রাজনৈতিক মহলের এমন গুঞ্জন যে আসলেই ত্রিপুরার শাসক বিজেপির জন্য বড়সড় ধসের ইঙ্গিত সেটি সরকারকে জানিয়েছে গোয়েন্দা রিপোর্ট।

মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের কাছে পৌঁছে যাওয়া রিপোর্টের কিছু অংশ জেনে ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপির শীর্ষ নেতাদের একাংশ খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই ক্ষুব্ধ। বিজেপি সমর্থকদের তৃণমূল কংগ্রেসের দিকে চলে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ছেই। গোয়েন্দা রিপোর্টে এসেছে এই তথ্য।

ত্রিপুরা প্রদেশ তৃণমূল কংগ্রেসে দাবি, হুড়মুড়িয়ে বিজেপি ভেঙে পড়বে। নাম প্রকাশ না করলেও টিএমসি জানাচ্ছে, রাজ্যের শাসকপক্ষের দুই বিধায়ক মমতা শিবিরে ফিরে আসছেন। তাদের সঙ্গেই বাকিরা আসবেন। যদিও ত্রিপুরা প্রদেশ টিএমসি সভাপতি আশীষলাল সিংহ জানান, গত বিধানসভা ভোটের আগে যারা কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে এসেছিলেন তারা পরে বিজেপিতে যান। সেই নেতারা ফিরতে মরিয়া।

গত বিধানসভা ভোটের আগে ত্রিপুরার ততকালীন কংগ্রেস হেভিওয়েট বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মণ দলবদলে টিএমসিতে যান। তাঁর অনুগামী বিধায়কদের নিয়েই ত্রিপুরায় বিরোধী দল হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই বিধায়করা পরে বিজেপিতে যান। এখন তারা সরকারে। তারাই এখন মুখ্যমন্ত্রীর প্রবল বিরোধী।

ত্রিপুরায় তৃণমূল নিজেদের জমি তৈরিতে ব্যাস্ত। গোয়েন্দা রিপোর্টে বলা হয়েছে, রাজ্যবাসী যাদের বড় অংশ গত নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট দিয়েছিলেন তারা তৃণমূলমুখী হচ্ছেন। গত নির্বাচনে ত্রিপুরায় টানা ২৫ বছরের বাম জমানা শেষ হয়েছে। সরকারে এখন বিজেপি-আইপিএফটি জোট।

গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে লাগাতার ধাক্কা সামলে সিপিআইএম এখনও সংহত। তাদের সমর্থনে ধস আসছে না। তবে আগামী কয়েকমাসে বাম সমর্থন কিছুটা মমতামুখী হবেন। আর উপজাতি এলাকায় ক্ষমতাসীন নতুন দল হিসেবে রাজা প্রদ্যোত দেববর্মণের দল তিপ্রা মথা হতে চলেছে বিধানসভা ভোটে সবথেকে বড় ফ্যাক্টর।

দেশ আলোড়িত: প্রকাশ্যে শিক্ষিকাদের বিষ পান নিয়ে ‘নীরব’ মমতা

Teachers protest

নিউজ ডেস্ক: বেতন বৈষম্য ও দূরে বদলির প্রতিবাদে মঙ্গলবার কলকাতায় বিক্ষেভকারী ৫ শিক্ষিকা বিষ পান করেন। তাঁদের চিকিৎসা চলছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও নীরব। ঘটনার জেরে আলোড়িত দেশ।

প্রশ্ন উঠছে মুখ্যমন্ত্রী কেন নীরবতার পথ নিয়েছেন
মঙ্গলবার কলকাতায় বিকাশ ভবনের সামনে চরম নাটকীয় পরিস্থিতিতে ৫ জন শিক্ষিকা প্রকাশ্যে বিষ পান করেন। বুধবার পর্যন্ত মু়খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে নীরব। শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু নীরব। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রবল ক্ষোভ শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনার বন্যা বইছে।

স্বাধীনতার পরে পশ্চিমববঙ্গ, দুটি রাজনৈতিক জমানা
কংগ্রেস, বামফ্রন্টের আমলে যা হয়নি তা হয়েছে মঙ্গলবার। পাঁচ শিক্ষিকা প্রকাশ্যে বিষ পান করেন। বিষের ফেনা ওঠা মুখে চিৎকার করে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনা করছিলেন তাঁরা।

টানা তিনবার জয়ী হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জমানা চলছে রাজ্যে। এই মমতা জমানা আগের দুই রাজনৈতিক জমানার তুলনায় অনেকবেশি উন্নয়নমুখী বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সরকারের আমলেই যখন বেতন বৈষম্য, দূরে বদলির বিরোধিতা করে শিক্ষক আন্দোলন চলছিল তখনই ঘটেছে বিষ পান করার ঘটনা। কলকাতায় বিকাশ ভবনের সামনে শিক্ষিকারা যেভাবে গলায় বিষ ঢেলেছেন তাতে শিহরিত সবাই।

অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে ত্রিপুরায় গিয়ে সে রাজ্যের ভয়াবহ বেকারত্বের বিষয় ও সেখানকার ১০৩২৩ জন শিক্ষক শিক্ষিকার কর্মচ্যুতি নিয়ে প্রবল সরব। খোদ পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে ত্রিপুরার গত বাম জমানা ও বর্তমান বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকারের কর্মসংস্থান ইস্যুতে প্রবল সরব হয়েছিলেন। তিনিই এখন নিজ রাজ্যে পাঁচ শিক্ষিকার বিষ পান নিয়ে ‘মুখ লুকিয়েছেন’ বলে কটাক্ষ বিরোধীদের।

ত্রিপুরার কর্মচ্যুত শিক্ষক শিক্ষিকাদের আত্নহত্যার পাশাপাশিপশ্চিমবঙ্গের ছবিটা হচ্ছে রাজপথে শিক্ষিকারা বিষ পান করছেন। বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তাদের আন্দোলন চলছেই।

ত্রিপুরা-পাঞ্জাবে টলমল BJP, পরীক্ষায় মোদী-শাহ

narendta modi and amit shah

বিশেষ প্রতিবেদন: কৃষি আইনের প্রতিবাদে বিক্ষোভের জেরে শংকিত বিজেপি পাঞ্জাব বিধানসভা ভোটের আগেই বিরাট ভাঙনের মুখে। ঠিক যেমন করে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটে শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার হিড়িক লেগেছিল। পাঞ্জাবে বিজেপি শিবিরের পুরনো সহযোগী শিরোমনি আকালি দলে ভিড়ছেন ‘জয় শ্রীরাম’ বলা নেতা কর্মীরা।

একইভাবে উত্তর পূর্বাঞ্চলের ত্রিপুরায় শাসক বিজেপিতে চরম সঙ্কটে। তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে যাওয়ার জন্য অনেকেই সরাসরি কলকাতায় ফোনাফুনি শুরু করেছেন। শাসক দলের ভিতর চওড়া হচ্ছে ভাঙন।
মোদী-শাহ, মমতা, কেজরি, রাহুল, CPIM সবার পরীক্ষা

(১) আগামী বছর ২০২২ সালে পাঞ্জাবে ভোট। ২০২৩ সালে ত্রিপুরায় ভোট। দেশের পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তের নির্বাচনে মোদী-শাহের অগ্নিপরীক্ষা। দুজনেই পশ্চিমবঙ্গ দখলে ব্যর্থ হয়েছেন।

(২) পরীক্ষায় বসবে সিপিআইএম। দলটি ত্রিপুরায় টানা ২৫ বছর সরকারে ছিল। গত বিধানসভায় সেই বাম সরকারের পতন হয়। ত্রিপুরায় এখন তারা প্রধান বিরোধী দল। পশ্চিমবঙ্গে শূন্য হলেও কেরলে পরপর দুবার সরকার তারা গড়েছে। ত্রিপুরায় ফিরে আসতে মরিয়া মানিক সরকার।

(৩) পরীক্ষা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতারও। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়েছেন তিনি। দেশের অপর বাংলাভাষী প্রধান রাজ্যে তিনি রাজত্ব সম্প্রসারণে মরিয়া।

(৪) পরীক্ষা দেবেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী কেজরিওয়াল। টানা তিনবার দিল্লির সরকারে আম আদমি পার্টি। পাঞ্জাবে তারা অন্যতম শক্তি। কেজরির লক্ষ্য অন্তত পাঞ্জাবে বিরোধী আসন।

(৫) কেরল দখলে ব্যর্থ হয়ে পাঞ্জাবের মতো দুর্গ ধরে রাখার পরীক্ষায় নামছে কংগ্রেস। সেনিয়া-রাহুল গান্ধীর পাখির চোখ পাঞ্জাব।

পরীক্ষার্থীদের দিকে চোখ রাখলে স্পষ্ট হয় দেশের তাবড় তাবড় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অগ্নিপরীক্ষা শুরু হতে চলেছে। পাঞ্জাব ও ত্রিপুরার ভোট লড়াইয়ে যারা যারা কুর্সিতে যাবে তাদের কাছে আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে স্বস্তিকর।

ইতিমধ্যে পাঞ্জাবে বিজেপির অবস্থা সঙ্গীন। কৃষি আইন বিরোধিতার পক্ষে গিয়ে এনডিএ জোটের অতি বিশ্বস্ত শিরোমনি আকালি দল একলা হয়ে গিয়েছে। গতবার তাদের বদান্যতায় পাঞ্জাবে কিছু আসন ছিল বিজেপির দখলে। সদ্য কয়েকটি পুরসভা ও স্থানীয় ভোটে বিজেপি একা লড়ে করুণ অবস্থায়। লেগেছে দলত্যাগ হিড়িক। বরং উঠে এসেছে আম আদমি পার্টি।

ত্রিপুরায় রাতারাতি তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে বিজেপিতে গিয়ে পাঁচবছর আগে মোদী ঝড়ের ফায়দায় বাম রাজ্যটি ‘রাম রাজ্য’ হয়েছিল। সেই ত্রিপুরায় এখন বিজেপির বিধায়করা মমতা শিবিরে ঢুকতে হত্যে দিতে শুরু করেছেন। দিল্লি থেকে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার গিয়েও পরিস্থিতি সামলাতে পারছেন না। দলকে চাঙ্গা করতে বিজেপি বিধায়কের গলায় হাড় গুঁড়ো করার হুঁশিয়ারি তো তালিবানি রীতিতে মারধরের হুমকি শোনা যাচ্ছে। এতে বিব্রত বিজেপি। তার সঙ্গে জুটেছে ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি না পূরণের ক্ষোভ।
সবমিলে রাজনৈতিক লড়াইয়ে দুই রাজ্যে চাপে বিজেপি। ফায়দা লুঠবে কে?

সুস্মিতার পর পীযুষ, উত্তরপূর্বে ফের কংগ্রেসের বড় মাথা মমতামুখী

mamata banerjee

বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন বর্ষিয়ান নেতা পীযুষকান্তি বিশ্বাস। সম্ভবত তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন তিনি।পীযুষবাবুর পদত্যাগে উত্তরপূর্বাঞ্চলে কংগ্রেসের বড় ধাক্কা। তবে তিনি নীরব।

সম্প্রতি অসমের জবরদস্ত কংগ্রেসনেত্রী তথা জাতীয় মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী পদ থেকে সুস্মিতা দেব কলকাতায় এসে টিএমসিতে যোগ দেন। সুস্মিতা দেব অসমের কাছাড় জেলা তথা বরাক উপত্যকার তাবড় নেত্রী। শিলচর থেকে দুবার সাংসদ হন। তিনি প্রয়াত কেন্দ্রীয় ভারি শিল্পমন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা। গান্ধী পরিবারের বিশেষ ঘনিষ্ঠ সুস্মিতা এখন মমতা শিবিরে।৷

সুস্মিতাকে দলে টানার পর ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসে ভাঙন ধরাল টিএমসি বলেই মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মু়খ্যমন্ত্রী তিনবার পরপর সরকার গড়ার পর অপর বাংলাভাষী প্রধান রাজ্য ত্রিপুরায় নজর দিয়েছেন। টিএমসি সেই লক্ষ্যে আগামী ২০২৩ বিধানসভায় ভোটে ত্রিপুরায় ঝাঁপাচ্ছে।

টিএমসির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দল সিপিআইএম ও কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন দলের নেতা কর্মীদের টিএমসিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

আগেই বিজেপি ত্যাগ করে আসা সুবল ভৌমিক টিএমসিতে এসেছেন। এবার কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতির পদ ছাড়লেন পীযুষবাবু। তিনি সম্প্রতি টিএমসির ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক সংস্থার কর্মীদের আটক করার বিষয়ে আইনি তদারকি করেন। পীযুষবাবু রাজ্যের অন্যতম আইনজীবী।

গত বিধানসভা ভোটে ত্রিপুরায় টিএমসি ভেঙে বিজেপিতে যান ততকালীন বিরোধী কংগ্রেসের বিধায়করা। ভোটে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। টানা দু দশকের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এখন বিরোধী নেতা। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। সরকারে বিজেপি আইপিএফটি জোট।

শান্তি প্রতীক যীশু, ত্রিপুরায় BSF জওয়ান খুন করা NLFT জঙ্গিদের গলায় ক্রুশ লকেট থাকে

NLFT militant

বিশেষ প্রতিবেদন: উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠনগুলির মধ্যে সর্বাপেক্ষা ভয়ঙ্কর নাগাল্যান্ডের এনএসসিএন (খাপলাং) গোষ্ঠী। এদের হামলায় বারবার রক্তাক্ত হয়েছে উত্তর পূর্ব ভারত। নাগা জঙ্গিদের মতো ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্ট অফ ত্রিপুরা বা NLFT গোষ্ঠীর সদস্যদের গলায় ক্রুশবিদ্ধ যীশুর লকেট ঝোলে। যিনি বিশ্বশান্তির চিরন্তন যুগপুরুষ।

মঙ্গলবার দীর্ঘ কয়েক দশক পর ফের ত্রিপুরায় গর্জে উঠেছে ‘স্বাধীন ত্রিপুরা’ দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র পথ নেওয়া এনএলএফটির আগ্নেয়াস্ত্র। সংগঠনটির নব্বই শতাংশ সদস্য উপজাতি ও খ্রিষ্টান। এমনই জানাচ্ছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোকে নিয়ে তথ্য পরিবেশনকারী সংস্থা সাউথ এশিয়ান টেরোরিজম পোর্টাল। এই গবেষণা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা কে পি এস গিল।

মঙ্গলবার ফের ত্রিপুরার মাটিতে ফের শোনা গেল এনএলএফটি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বন্দুক গর্জন। বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের খাগড়াছড়ি জেলার লাগোয়া ত্রিপুরান ধলাই জেলার সীমান্তে এনএলএফটি জঙ্গিদের সঙ্গে টহলদারি করা বিএসএফ জওয়ানদের গুলি বিনিময় হয়। জঙ্গিদের গুলিতে দুই জওয়ানের মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই।
বাংলাদেশ সীমান্তের একেবারে গা ঘেঁষে দুই জওয়ানের রক্তাক্ত দেহের ছবি প্রকাশ করেছে ত্রিপুরার সংবাদমাধ্যম। বিএসএফ জানিয়েছে জঙ্গি হামলায় দুই জওয়ান এসআই ভুরু সিং এবং কনস্টেবল রাজ কুমার গুলিবিদ্ধ ঘটনাস্থলেই মারা যান। এই ঘটনার কেন্দ্র ধলাই জেলার ছামনু থানার অধীন বিএসএফ-এর ৬৪ নম্বর ব্যাটালিয়নের আরসি নাথ বিওপি।

হামলাকারীরা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এনএলএফটি গত বিধানসভা ভোটে বাম জমানার পতনের পর ফের সক্রিয়। যদিও ত্রিপুরার অপর বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এটিটিএফ এখনও নিষ্ক্রিয়। ১৯৮৯ সালে জন্ম নেওয়া এনএলএফটি সংগঠনটির বেশকিছু সদস্য ধরা পড়েছে। তাদের জেরা করেই জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের জমিতে গোপন ঘাঁটির কথা।

Two BSF killed in militant ambush in Tripura

এক নজরে ত্রিপুরার বিচ্ছিন্নতাবাদ:
রাজন্য ত্রিপুরা অর্থাত ব্রিটিশ করদ রাজ্য ত্রিপুরার ভারত অন্তর্ভুক্তি হয়েছিল ১৯৪৯ সালে। আর ১৯৭২ সালে ত্রিপুরা পৃথক রাজ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে ১৯৭২ সালে। এর পর থেকে ত্রিপুরার আদি বসবাসকারী উপজাতিদের মধ্যে আত্মসংকট বড় করে দেখা দেয়। শুরু হয় উপজাতি বনাম বাঙালি বিবাদ। উপজাতি আবেগ পুঁজি করে তৈরি হয় বিভিন্ন সংগঠন টিএনভি। যার দুই উত্তরসূরী এনএলএফটি ও এটিটিএফ।

তাৎপর্যপূর্ণ, দুটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সশস্ত্র পথে ‘স্বাধীন ত্রিপুরা’ গঠনের ডাক দিয়ে সরকার ও বাঙালি বিদ্বেষী আগ্রাসী ভূমিকা নিয়েছিল। আবার দুই সংগঠন পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলাও চালিয়েছে বারবারে। উপজাতি ভাবাবেগের রক্তাক্ত এই সময়ে ত্রিপুরায় ঘটে যায় গণহত্যার কয়েকটা ঘটনা।

অশান্ত সেই ত্রিপুরায় শান্ত পরিস্থিতি কায়েম হয় সে রাজ্যে দ্বিতীয় দফার বামফ্রন্ট শাসনে। মুখ্যমন্ত্রী দশরথ দেব ও মানিক সরকারের টানা ২৫ বছরের কড়া প্রশাসন উপজাতি বিচ্ছিন্নতাবাদ কে ঠাণ্ডা করেছিল।

তবে গত বিধানসভা নির্বাচনে বাম জমানার পতনের পর থেকে ফের সক্রিয় হয়েছে এনএলএফটি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবাদ রুখতে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছেন। বিশেষ সতর্ক থাকে দেশটির সীমান্তরক্ষী বিজিবি। তবে গোপনে ত্রিপুরার বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলি ফের সক্রিয় বাংলাদেশের খাগড়াছড়ির দুর্গম বনাঞ্চলে। সীমান্তের কাছে তাদের হামলা এরই প্রমাণ।