RSS: মমতা-মোদীর দ্বৈরথে বঙ্গে আরও শাখা বিস্তার করতে মরিয়া সংঘ

rss to establish more branch in west bengal

News Desk: উত্তর প্রদেশ বিধানসভা ভোট নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তেমন সাড়াশব্দ নেই। তিনি সরাসরি জোর দিয়েছেন গোয়া ও ত্রিপুরায়। রাজনৈতিক মহলের গুঞ্জন, দিদির মোদী বিরোধিতাকে নরম চোখেই দেখছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ (RSS)। দিদি-মোদী দ্বৈরথের মাঝেই পশ্চিমবঙ্গে ব্লক ভিত্তিক শাখা সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছে বিজেপির শিরদাঁড়া সংঘ পরিবার।

সূত্রের খবর, নাগপুর থেকে সংঘ কর্তার বার্তা এসেছে বঙ্গ সংঘীদের কাছে। বিধানসভা ভোটে সরকার গড়তে না পারা ও পরপর উপনির্বাচনে জমানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে সংঘের রাজনৈতিক শাখা বিজেপির। আর বিশ্লেষকদের যুক্তি, তৃ়ণমূল কংগ্রেস নেত্রী যতটা মোদী-অমিত শাহ নেতৃত্বের বিজেপি বিরোধী মন্তব্য করেন তার এক ছটাকও আরএসএসের বিরুদ্ধে বলেন না।

RSS

সূত্রের খবর, এই সুযোগটি নিতে মরিয়া সংঘ। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে বিগত বাম জমানায় সংঘের অস্তিত্ব থাকলেও চরম বিপরীত শক্তি কমিউনিস্ট নেতৃত্বের হাতে রাজ্যের ভার ছিল। বাম জমানার আগে কংগ্রেস ও যুক্তফ্রন্ট সময়ে সংঘ সফল হয়নি, বামমুখী রাজনৈতিক ঝড়ে। সেই বঙ্গ এখন বাম বিমুখ। বিধানসভায় বামেদের শূন্য করে দিয়েছেন মমতা। আগামী সময়ে বামপন্থীরা যে দ্রুত শক্তি অর্জন করতে পারবে এমন আশা করছে না সংঘ। এই পরিস্থিতিতে শাখা সম্প্রসারণ গুরুত্ব পেয়েছে সংঘ নেতৃত্বের কাছে।

Modi Vs RSS

সূত্রের আরও খবর, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি নেতাদের ভূমিকা নিয়ে বঙ্গ সংঘীদের বেশিরভাগই ক্ষুব্ধ। তাঁদের যুক্তি, এই রাজ্যের বিজেপি নেতদের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার অভাব এতটাই যে ক্ষমতায় আসার লোভে বাছবিচার করা হয়নি। ফলে দ্রুত বিজেপি ভেঙে যাবে। সেই ভাঙন থেকে ফের বাম শক্তি বেড়ে উঠবে বলে মনে করছে সংঘ।

বঙ্গ সংঘী নেতা যাঁরা জেলার গ্রামাঞ্চলে কাজ করেন, তাঁদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, বামেদের পুনরায় উত্থান হতেই পারে। তাঁদের যুক্তি, জনসমর্থন হারালেও কমিউনিস্ট মতাদর্শের কোনও ক্ষতি হয়না। ঠিক যেভাবে সংঘ দীর্ঘ সময় পশ্চিমবঙ্গে ক্ষীণকায় ছিল কিন্তু টিকে ছিল।

<

p style=”text-align: justify;”>কিছু সংঘ নেতার স্পষ্ট দাবি, পশ্চিমবঙ্গের জনগণকে হিন্দি বলয়ের মানসিকতার সঙ্গে তুলনা করে বড় ভুল করেছেন নেতারা। তাঁদের দেখছেন না, একটা যে কোনও মিছিলে বামেদের ভিড়। সাংগঠনিক কারণে সেই ভিড়কে ভোটের দিকে ঠেলে আনতে পারছে না কমিউনিস্ট পার্টি। তবে দীর্ঘ বাম শাসনের ফলে রাজ্যবাসীর কাছে তারা পরিচিত। সেটি ফিরে যেতে পারে।

Tripura : খাদ্যাভাবে ব্যাঙাচি খাওয়ার দৃশ্যে শোরগোল

News Desk: পুর নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ যেমন প্রবল তেমনই ভয়াবহ বেকারি ও খাদ্যাভাবের দিক উঠে আসছে উপজাতি পার্বত্য এলাকা থেকে। খাদ্যাভাবে ব্যাঙাচি বা ব্যাঙের ছানা খেতে শুরু করেছেন অনেকে। আগরতলার সংবাদ মাধ্যমে এই খবর প্রকাশ হয়েছে। তারই ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন।

ত্রিপুরা সহ উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন উপজাতিদের মধ্যে বনজ হরেক বস্তু, প্রাণী খাদ্য তালিকাভুক্ত। তবে ব্যাঙাচি খাওয়ার কথা এতদিন তেমন আসেনি। অভিযোগ, গত বিধানসভা ভোটে বামেদের টানা ২৫ বছরের সরকার পতনের পর রাজ্যের স্বাভাবিক অর্থনৈতিক পরিকাঠামো এতটাই ক্ষতির মুখে যে বেকারত্ব হারে দেশে অন্যতম।

আরও অভিযোগ, ঘরে ঘরে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে সরকারে আসা বিজেপি ও উপজাতি দল আইপিএফটি জোটের আমলে সরকারি চাকরি নেই। উপজাতি এলাকায় দেখা দিয়েছে কর্মাভাব। এর ফলে অনেকেই ব্যাঙাচি খেতে শুরু করেছেন।

আগরতলার সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট, রাজ্যের তেলিয়ামুড়া মহকুমার মুঙ্গিয়া ব্লকের এডিসি ভিলেজ (উপজাতি এলাকার গ্রাম) ৪৫ মাইল এলাকার। এখানকার বিভিন্ন উপজাতি পরিবার খাদ্যাভাবে জঙ্গলে বা আশেপাশের নোংরা জলে জন্মানো ব্যাঙাচি সংগ্রহ করছেন। সেই ব্যাঙাচি তারা খাচ্ছেন।
সংবাদ মাধ্যমে এই দৃশ্য সোশ্যাল সাইটে ভাইরাল হতে শুরু করেছে।

ছবির সত্যতা যাচাই করা নেই

রাজ্যের উপজাতি স্বশাসিত এলাকার ভোটে শাসক বিজেপি বোর্ড গঠন করতে পারেনি। শরিক আইপিএফটি ব্যার্থ। টানা এক দশকের বেশি বোর্ড হাতছাড়া হয়েছে সিপিআইএমের। এডিসি দখল করেছে রাজা প্রদ্যোত দেববর্মার দল তিপ্রা মথা।

অভিযোগ, ত্রিপুরায় বাম আমলে উন্নয়নের গতি ধীরে চলেছে। তবে উপজাতিদের অনেকেই জানান, গ্রাম ভিত্তিক কর্মসংস্থান ছিল। বিজেপি আইপিএফটি জোটের সরকারে সেটি নেই। আর এডিসির ক্ষমতাসীন দল তিপ্রা এখনও তেমন কিছু করতে পারেনি। কর্ম ও খাদ্যাভাবের কারণে ব্যাঙের ছানাকেই বেছে নিচ্ছেন অনেকে। ব্যাঙাচি খাওয়ার এই সংবাদ ও ছবি ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন তৈরি করেছে।

পশ্চিমবঙ্গে বাম আমলে আমলাশোলে খাদ্যাভাবে পিঁপড়ের ডিম খাওয়ার খবর প্রচারিত হয়েছিল। যদিও এই ডিম বা কুরকুট আসলে স্থানীয় আদিবাসীদের কাছে লোভনীয়। এর দামও অনেক। যারা জঙ্গল থেকে সংগ্রহ করেন তারা খান। একথা পরে প্রকাশ হয়েছে।

(ছবির সত্যতা যাচাই করা নেই)

Tripura: TMC নেতাদের হোটেলে ঘর দিও না, ফের হুমকিতে অভিযুক্ত BJP

TMC-Tripura

News Desk: পুরভোট যতই এগিয়ে আসছে ততই ত্রিপুরার (Tripura) রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল টিএমসির একাধিক বিধায়ক ও নেতা ত্রিপুরায় ঘাঁটি গেড়েছেন। অভিযোগ, তৃণমূল নেতারা যাতে ত্রিপুরায় থাকতে না পারেন তার জন্য এবার বেছে বেছে হোটেল মালিকদের হুমকি দিতে শুরু করেছে বিজেপি।

শনিবার রাতে রাজ্যের তেলিয়ামুড়ায় বর্ধমান দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক খোকন দাস ও লাভপুর কেন্দ্রের বিধায়ক অভিজিৎ সিংহকে হোটেলে থাকতে দিলে খুনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে বলে অভিযোগ। এর জেরে রাতেই দুই বিধায়ক মিছিল করেন ত্রিপুরার টিএমসি সমর্থকদের নিয়ে।

পড়ুন : Tripura: হোটেলে বাংলার TMC বিধায়করা কেন? হুমকিতে অভিযুক্ত BJP

রবিবার সকাল থেকে বিভিন্ন হোটেলে হুমকি বার্তা আসছে বলেই অভিযোগ।নিন্দায় সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (kunal ghosh) বলেছেন, বিজেপি বুঝে গিয়েছে পুরনির্বাচনে (municipal election) তাদের আর কোনও আশা নেই। সে কারণেই গেরুয়া দল তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তাতেও তৃণমূলকে আটকাতে না পেরে হোটেল মালিকদের হুমকি দিচ্ছে।

tmc mla's threthend by bjp supporters at teliamura tripura

ত্রিপুরায় টিএমসির স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য আশিসলাল সিং (ashishlal sing) বলেছেন, দলের পক্ষ থেকে তাঁরা পুলিশ সুপার, এসডিপিও-সহ প্রশাসনের পদস্থ কর্তাদের পুরো বিষয়টি জানিয়েছেন। প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু তাতেও কোনও কাজ হচ্ছেনা। বিজেপি গায়ের জোরে সবকিছু দখল করতে চাইছে। তবে এত কিছু করেও তারা ত্রিপুরায় তৃণমূলকে আটকাতে পারবে না।

<

p style=”text-align: justify;”>কুণাল ঘোষ বিজেপিকে কটাক্ষ করে আরও বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভিন রাজ্যের একাধিক বিজেপি নেতা তো প্রতিদিনই বাংলায় ডেলি প্যাসেঞ্জারি করতেন। এখানে তাঁরা হোটেলে ওঠতেন। তাঁদের তো কখনও কোনও রকম বাধার মুখে পড়তে হয়নি। আসলে বিজেপি বুঝে গিয়েছে যে, ত্রিপুরা ধরে রাখা আর তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। সে কারণেই তারা যেনতেন প্রকারেন তৃণমূলকে আটকানোর চেষ্টা করছে।

Tripura: সুপ্রিম ‘নিরাপত্তা নির্দেশ’ উড়িয়ে হামলা, আক্রান্ত সরকারি কর্মী,অভিযুক্ত BJP

Tripura CPIM police station

News Desk: পুর নির্বাচনের আগেই ‘ভয়াবহ রাজনৈতিক সন্ত্রাস’ চলছে এমনই অভিযোগের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, পুর নির্বাচনে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে ত্রিপুরা (Tripura) রাজ্য সরকারকে। সেই নির্দেশের পরেও আগরতলা পুর নিগমের ভোটে লাগামছাড়া সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ উঠছে শাসক বিজেপির বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ, খোদ মু়খ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব চোখ বন্ধ করে বসে আছেন।

আগরতলা পুর নিগম, ১৩টি পৌর পরিষদ ও ৬টি নগর পঞ্চায়েতের ভোট হবে আগামী ২৫ নভেম্বর। নির্বাচনে রাজনৈতিক হামলার অভিযোগ করছে প্রধান বিরোধী সিপিআইএম। এছাড়াও টিএমসি ও কংগ্রেসের লাগাতার অভিযোগ চলছেই। নির্বাচনে শতাধিক আসনে বিরোধীদের কোনও প্রার্থী নেই।

tripura

এবার রাজনৈতিক হামলার শিকার হলেন এক রাজ্য সরকারি কর্মী। হামলায় তাঁর চোখ ক্ষতিগ্রস্থ। আক্রান্ত ওই সরকারি কর্মীর অভিযোগ, তাঁকে মারধর করেছে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা। তিনি কোনও দলের কর্মী নন বলেই জানান।

আসন্ন পুর নির্বাচনের মুখে রাজধানী আগরতলা পুরনিগমের ভোট ঘিরে শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে হামলা চলছে শাসক দলের আশ্রিত দুষ্কৃতিদের। বিরোধী দল সিপিআইএমের তরফে পশ্চিম ত্রিপুরা থানা ঘেরাও করা হয়। থানায় ঢুকে বাম নেতারা পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ এনে তীব্র ক্ষোভ দেখান।

পশ্চিম ত্রিপুরা থানায় সিপিআইএম নেতৃত্ব ও অফিসারদের কথা কাটাকাটির মাঝে বাম নেতা বলেন “এ পর্যন্ত ক’জন সমাজদ্রোহীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ?” তাঁর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেননি পুলিশ অফিসার।

tripura

বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার জানিয়েছেন, বিজেপি সরকার জনসমর্থন হারিয়ে রাজনৈতিক হামলার পথ নিয়েছে। জনতার জবাব পাবে।

অন্যদিকে লাগাতার হামলার অভিযোগ করে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব সুপ্রিম কোর্টের দরজায় গিয়েছিলেন। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট ত্রিপুরার বিজেপি জোট সরকারকে নির্দেশ দেয় পুর নির্বাচন নির্বিঘ্নে করাতে হবে। তবে সেই নির্দেশ উড়িয়েই বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা হামলা অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের।

<

p style=”text-align: justify;”>রাজ্যের অপর বিরোধী দল কংগ্রেসও নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার দাবিতে ঘেরাও অবস্থান করেছে। কংগ্রেস নেতৃত্ব বারবার সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ করেছেন।

Tripura: ‘ভোটে সন্ত্রাস’ নিরাপত্তা দিক সরকার, সুপ্রিমকোর্টে অস্বস্তিতে BJP

biplab-abhishekh

News Desk: ত্রিপুরায় আসন্ন পুর নির্বাচনে রাজনৈতিক আক্রমণ ‘লাগামছাড়া’।বিরোধীদের এমনই অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে নির্বিঘ্নে প্রচার ও নিরাপত্তার জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম নির্দেশে প্রবল অস্বস্তিতে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেবের আবেদনকে মান্যতা দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সাংসদ আবেদনে বলেন, ত্রিপুরায় লাগামছাড়া রাজনৈতিক হামলা চলছে তৃণমূল প্রার্থী ও সমর্থকদের উপরে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট ত্রিপুরা সরকারকে ভোট নির্বিঘ্নে করার নির্দেশ দিয়েছে। বিচারপতি  ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় জানান, সরকারকে শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রচার চালানোর যথাযথ দায়িত্ব নিতে হবে। কাউকে প্রচারে বাধা দেওয়া যাবে না।

ত্রিপুরায় গত বিধানসভা ভোটে টানা ২৫ বছরের বাম শাসনের পতন হয়। সরকার গড়ে বিজেপি ও আইপিএফটি জোট। ২০১৮ সাল সেই বিধানসভা ভোটের গণনার দিন থেকে প্রবল রাজনৈতিক হামলা শুরু হয়। দেশজুড়ে বারবার আলোচিত হয়েছে বিরোধী সিপিআইএম ও কংগ্রেসের উপর ত্রিপুরার রাজনৈতিক হামলা। এরপর লোকসভা, পঞ্চায়েত ভোটেও রাজনৈতিক সন্ত্রাস চালানোয় অভিযুক্ত হয়েছে বিজেপি।

আসন্ন পুর ও নগর পরিষদ ভোটে শতাধিক আসনে বিজেপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতায় জিতেছে। অভিযোগ, বিরোধী দল সিপিআইএম সহ কংগ্রেস, টিএমসি কোনও দলই এই আসনগুলিতে প্রার্থী দিতে পারেনি।বিভিন্ন আসনে প্রার্থী দিয়েও তৃণমূল কংগ্রেস ও সিপিআইএম নাম প্রত্যাহার করেছে।

পুর নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে আগরতলা পুর নিগমে। বিজেপি ও সিপিআইএমের মধ্যে বোর্ড দখলের লড়াই। তবে টিএমসি ও কংগ্রেস প্রার্থী দিয়েছে। ভোট ২৫ নভেম্বর। ২৮ নভেম্বর গণনা।

বিরোধী সিপিআইএমের অভিযোগ, পুর ও নগরপরিষদ ভোটে রাজ্য জুড়ে সন্ত্রাস চালাচ্ছে বিজেপি। আক্রান্ত বাম সমর্থক ও প্রার্থীদের বাড়ি যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার।

বিরোধী দলনেতা মানিকবাবু জানিয়েছেন, বিজেপি সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে ভোট সন্ত্রাস চালাচ্ছে। গত নির্বাচনের আগে যে বাড়ি বাড়ি চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি তা পূরণে ব্যর্থ। সরকার পতনের মুখে।

CPIM: নিধিরাম সর্দার হয়ে পুরভোটে জোটের ‘বগল বাজাচ্ছে’ বামেরা, একলা চলো দাবি

CPIM new generation

Political correspondent: বামফ্রন্ট শরিক দল ফরওয়ার্ড ব্লকের সিংহ গর্জন শুনতে পাচ্ছেন সিপিআইএম (CPIM)নেতারা। আসন্ন পুর নির্বাচনে ফের কংগ্রেসের সঙ্গে জোট নাকি একলা বামফ্রন্ট এই নিয়ে শূন্য ভাঁড়ার পূর্বতন শাসক গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ বাড়ছেই।

আরও পড়ুন : ‘হাল ছেড়ে দেওয়া’ গৃহবন্দি বুদ্ধবাবু শুনলেন নব্যরা ফাইট করেছে

সূত্রের খবর, পুর ভোটকে সামনে রেখে বামফ্রন্টের বৈঠকে ফ.ব নেতারা সিপিআইএমকে একদম ধুনে দিতে তৈরি। এর জন্য ফরওয়ার্ড ব্লকের বাংলা কমিটি (রাজ্য কমিটি) বাছা বাছা বাক্য সংগ্রহ করে রেখেছেন। সেসব প্রয়োগ করা হবে বৈঠকে।

ফ.ব ইঙ্গিত দিয়েছে যদি জোট হয় তবে বামফ্রন্ট নাম ব্যবহার করা যাবে না। প্রয়াত জ্যোতি বসুর সূত্র মেনে শরিকদলগুলির মিলিত শক্তিকেই বামফ্রন্ট মানতে রাজি ফরওয়ার্ড ব্লক।

এদিকে বামমহলে শুরু হয়েছে ভোট বেড়ে যাওয়ার আনন্দে ‘বগল বাজানো’। সম্প্রতি চার বিধানসভার উপনির্বাচনে একলা লড়াই করে বামফ্রন্ট তার ভোট ও ভোট শতাংশ দুটোই বাড়িয়ে নেয়। যদিও ঝুলি এখনও খালি। গত লোকসভা ভোট থেকে যে শূন্য কোঠা বামেদের জন্য বরাদ্দ করেছেন রাজ্যবাসী তাতে প্রলেপ দিয়েছেন জনতা।

আরও পড়ুন: হেরেও ‘সুশান্ত এফেক্ট’ পশ্চিম মেদিনীপুরে, বনধের রোষ বাম কর্মীদের

মহানগর থেকে মফস্বল সর্বত্র চর্চায় এসেছে একলা চলো রে নীতিতে বামেদের ভোট বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি। নিচু তলার নেতা কর্মীদের দাবি, এবার অন্তত কংগ্রেস বা কোনও জগাখিচুড়ি জোটের বগল বাজানো বন্ধ করুন উঁচু তলার নেতারা। তা না হলে স্বল্প পুঁজি যা এসেছে তাও যাবে ভেসে।

এদিকে পশ্চিম মেদিনীপুরের তাবড় নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষের দাবি, লেজুড়বৃত্তি না করে চোখে চোখ রেখে কথা বললেই বাম ফের পুরনো ছন্দে ফিরবে। গুঞ্জন আসন্ন সিপিআইএম রাজ্য সম্মেলনে তিনি দলীয় অচলাবস্থার নীতিতে ‘বোমা মারা’র যাবতীয় প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। ‘সুশান্ত বচন’ যে কত কঠিন তা হাড়ে হাড়ে বোঝেন বাম নেতারা। একই পথে হাঁটতে চলেছেন উত্তরবঙ্গের তথা রাজ্যের অন্যতম হেভিওয়েট নেতা অশোক ভট্টাচার্য ও সুন্দরবনের কিংবদন্তি নেতা কান্তি গাঙ্গুলী। তালিকায় নাম ক্রমে বাড়ছে।

<

p style=”text-align: justify;”>আর জেলায় জেলায় সমর্থকদের দাবি, দল আছে, ভোট পড়ছে, মিছিল হচ্ছে, তবে নেতাদের ভাবা দরকার একলা চলার নীতি। কোথায় আটকাচ্ছে তাঁদের। ‘জোটের বগল বাজানো বন্ধ করুক দল’।

BJP: পুলিশে ছুঁলে…! তথাগতর ‘নারীচক্র’ মন্তব্যের তদন্তের প্রস্তুতি

Tathagata Roy

News Desk: বাঘে ছুঁলে আঠারো ঘা, পুলিশে ছুঁলে? ঠিক কেউ জানেন না কতগুলো ঘা হয় ! বিজেপি নেতা প্রাক্তন রাজ্যপাল (ত্রিপুরা ও মেঘালয়) তথাগত রায় ‘নারীচক্র’ মন্তব্য বিতর্কের জালে জড়িয়ে পড়ছেন।

রাজ্য বিজেপির অভ্যন্তরে ‘নারীচক্র’ মন্তব্য করে আগেই রাজনৈতিক বোমা ফাটিয়েছিলেন তিনি। সেই মন্তব্য ধরেই এবার তথাগত রায়ের বিরুদ্ধে যে এফআইআর দায়ের করেছেন বাম নেতা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই অভিযোগ গ্রহণ করেছে পুলিশ। এর পরেই প্রশ্ন, পুলিশ কি প্রবী়ন বিজেপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে?

সিপিআইএম যুব নেতা ও আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের লিখিত অভিযোগ খতিয়ে দেখে পুলিশ সেটি গ্রহণ করেছে। এর পরেই বঙ্গ বিজেপিতে শোরগোল। তবে তথাগতবাবুর মন্তব্য তাঁর নিজ দলেরই একাংশ নেতার বিরুদ্ধে। সেক্ষেত্রে ভিন্ন দলের সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ আরও জল্পনা উস্কে দিয়েছে।

সম্প্রতি উপনির্বাচনে পরপর পরাজয়ের রোষে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে তোপ দেশে চলেছেন তথাগতবাবু। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, “বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিট বিনিময়ের ক্ষেত্রে দলের একাংশ অর্থ এবং নারী চক্রের দ্বারা প্রভাবিত হয়।” 

বামপন্থী আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, নারীচক্র সক্রিয় রাজ্যে। তা বিধানসভায় নির্বাচনের প্রেক্ষিতে তথাগত রায়ের একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে করা মন্তব্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। এই বিষয়ে তদন্ত চেয়েই পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি। তিনি জানান, ইতিমধ্যে নারী সংক্রান্ত বিজেপি নেতাদের অপরাধ সম্পর্কে রাজ‍্য মহিলা কমিশনে বিভিন্ন অভিযোগ জমা পড়েছে।

সায়নবাবুর অভিযোগ, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে নারীচক্র ব্যবহার হয়েছিল তা তথাগতবাবুর টুইট ও মন্তব্য থেকে জানা গিয়েছে। “একটি সাক্ষাৎকারে ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ‍্যপাল তথাগত রায় অভিযোগ করেছেন ২০২১ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি অনৈতিকভাবে অর্থ এবং নারীর আদান প্রদান করেছে। নিজের অফিসিয়াল ট‍্যুইটার হ‍্যান্ডেল থেকেও এই বিষয়ে একটি ট‍্যুইট করেন তিনি এবং এর সাথে আরও অভিযোগ করেন যে বাংলায় বিজেপি রাজ‍্যনেতারা নারী চক্রে জড়িয়ে পড়েছেন।”

Birbhum: ‘তৃণমূলীরাই খুন করেছে’ অভিযোগ মৃত CPIM সমর্থক বাদল শেখের স্ত্রীর

TMC

News Desk: তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন এসে ডেকে নিয়ে মারধর করেছিল। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে দেয়নি। তৃণমূলীরাই খুনের জন্য দায়ি। এমনই অভিযোগ করলেন নানুরে খুন হওয়া সিপিআইএম সমর্থক বাদল শেখের স্ত্রী জরিনা বিবি।

বাদল শেখ খুনের ঘটনায় বীরভূম জেলা সিপিআইএমের তরফে তীব্র ক্ষোভ জানানো হয়েছে। দলের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছেন, নভেম্বর বিপ্লবের বার্ষিকীতে রক্তপতাকা তুলেছিল বলে বাদল শেখকে খুন করা হলো। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ হবে রাজ্যের সর্বত্র।

উল্লেখ্য বীরভূমের নানুর বিধানসভাটি এবার তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে। পরাজিত হন গতবারের বিধায়ক সিপিআইএমের শ্যামলী প্রধান। নির্বাচনী প্রচারে প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশনের ক্যামেরার সামনেই শ্যামলী প্রধানের হাত কেটে নেওয়ার হুমকি দেয় স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতা। সেই ঘটনায় রাজ্য জুড়ে প্রবল আলোড়ন পড়েছিল। টিএমসি জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল নানুর জয় করতে মরিয়া ছিলেন। জানিয়েছিলেন নানুর তাঁর প্রেস্টিজ আসন। ভোটে বামেরা রাজ্যে শূন্য হয়ে গিয়েছে।

ভোটে পরাজয় হলেও বীরভূম জুড়ে ক্ষেতমজুর সংগঠনের মাধ্যমে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের কৃষি আইনের বিরোধিতা করে আন্দোলন চালাচ্ছে সিপিআইএম। রাজনৈতিক সংঘর্ষ কবলিত নানুর বারবার উত্তপ্ত হয়েছে।

নিহত বাদল শেখ নানুরের পরিচিত বাম সমর্থক। জানা গিয়েছে তিনি প্রতিবছর ১ নভেম্বর নিজের বাড়িতে নভেম্বর বিপ্লব দিবসে দলীয় পতাকা তুলতেন। তাঁর স্ত্রী জরিনা বিবির অভিযোগ, দিনটি পালন না করার হুমকি দিয়েছিল তৃণমূলীরা। সেকথা শোনেনি তার স্বামী।

অভিযোগ, সোমবার সকালে নানুরের বালিগুনি বাসস্ট্যান্ডে বাদল শেখকে ঘিরে নেয় স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকরা। তারা কৈফিয়ত চায়, কেন বাড়িতে সিপিএমের পতাকা তোলা হয়েছে। বাদল শেখের সঙ্গে শুরু হয় বচসা ও হাতাহাতি। মারধরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বাদল শেখ।

জরিনা বিবির আরও অভিযোগ, অসুস্থ স্বামীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেয়নি তৃ়ণমূলীরা। বিনা চিকিৎসায় তার মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগের জবাবে নিরুত্তর জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতারা।

CPIM: পুর ভোটে বাম-কংগ্রেস জোট ? কী বললেন বিমান

biman-basu

News Desk: উপনির্বাচনে জোট করেনি বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। তাতে বামেদের ভোট বেড়েছে। গত লোকসভা নির্বাচন থেকে যে বাম ভোট রাম পক্ষে চলে গিয়েছে সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে তার উল্টো স্রোত। তবে এর পরেও আসন্ন পুর নির্বাচনে জোট নিয়ে জল্পনা জিইয়ে রাখলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। তিনি বলেছেন, এই বিষয়ে আগামী সপ্তাহে আলোচনা হবে।

বাম কংগ্রেস জোট গত নির্বাচনগুলিতে তেমন কোনও সফলতা পায়নি। সর্বশেষ বিধানসভা ভোটে বাম কংগ্রেস ও আইএসএফের সঙ্গে মিলে যে সংযুক্ত মোর্চা তৈরি হয়েছিল তার মাত্র একজন বিধায়ক। ভোট শেষ জোট শেষ বলে দিয়েছেন সিপিআইএমের সর্বভারতীয় সাধারণত সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি।

এর পরেও বঙ্গ বাম শীর্ষ নেতা বিমান বসুর মন্তব্যে পুর নির্বাচনে জোট নিয়ে ইঙ্গিতবহুল বার্তা এসেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে পুর নির্বাচনে মূল লড়াই শাসক তৃণমূল কংগ্রেস ও বিরোধী বিজেপির মধ্যে হবে। তৃতীয়পক্ষ হিসেবে জোট থাকতে পারে। আর জোট না হলে চতুর্থ পক্ষ হবে কংগ্রেস।

উপনির্বাচনে জোটের বাইরে গিয়ে একলা বামফ্রন্ট লড়াই করে ভোট বাড়িয়ে নেওয়ায় সিপিআইএমের অভ্যন্তরে ও সমর্থকদের মধ্যে জোট বিরোধী অবস্থান আরও জোরালো হচ্ছে। পুর ভোটে জোট নিয়ে বাম অন্দরমহলে আগুন ছুটবে বলেই মনে করা হচ্ছে। জেলায় জেলায় জোট বিরোধী হাওয়া বুঝেই সিদ্ধান্ত নেবেন বিমান বসু।

কংগ্রেসের তরফে ইঙ্গিত এসেছে জোটের। তবে স্থানীয় ইস্যুতে জোট নিয়ে ধন্দে প্রদেশ নেতৃত্ব।

Revolution: অক্টোবর বিপ্লব নাকি নভেম্বর বিপ্লব, ধন্দ কাটান

November-Revolution

Special Correspondent, Kolkata: এক পক্ষকালের ফারাকে রুশ বিপ্লবের সময়কালটাই যেন বদলে গিয়েছে ৷ যদিও এই বিপ্লবের সময়কালটা বা মাসটা বদলে গেলেও সেই ইতিহাস তো আর বদলাইনি ৷ তবু মানুষের মনে অনেক সময় ধন্দ দেখা যায় রুশ বিপ্লবের সময়টা নিয়ে – সেটা অক্টোবর নাকি নভেম্বর কি বলা যায় ৷

১৯১৭ সালের রাশিয়ায় যে বিপ্লব ঘটে গিয়েছিল তা ইতিমধ্যেই শতবর্ষ পেরিয়ে গিয়েছে ৷ তবে সেই বিপ্লবের প্রভাব তো শুধু রাশিয়া বলে নয় আরও অন্য দেশেও রয়েছে ৷ যদিও আবার তিন দশক আগে সোভিয়েট রাশিয়ার ভেঙে যাওয়ায় রাশিয়ার শক্তি আর তেমন নেই বলা হয়ে থাকে ৷ তা স্বত্তেও বিশ্বে এখনও রুশ বিপ্লবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে , এখনও সেই বিপ্লব প্রাসঙ্গিক বলে মনে করা হচ্ছে ৷ অর্থাৎ এই বিপ্লবকে ঘিরে আলাপ আলোচনা বিতর্ক চলছেই ৷ তেমনি আবার প্রশ্ন উঠছে এই বিপ্লবের সময় নিয়ে।

এটা ঘটনা ইতিহাসের পাতায় লেখা রয়েছে অক্টোবর বিপ্লব। কিন্তু গোটা বিশ্ব এখন ওই বিপ্লবকে চেনে নভেম্বর বিপ্লব নামে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্নটা ওঠে – একই ঘটনা তবু দুই নামে চিহ্নিত কেন? এ এক অদ্ভুত ঘটনা যা পৃথিবীর আর কোনও ঐতিহাসিক ঘটনার ক্ষেত্রে ঘটেনি। এমন নজিরও বিরল যেখানে – বিপ্লবের সময়টাই বদলে গিয়েছে ।

এক পক্ষ কালের ব্যবধান- পুরনো ধারণা অনুসারে ২৪ অক্টোবর আর নতুন ধারণায় ৭ নভেম্বর ৷ এরফলে দিনক্ষণ মাস, তারিখ, আমূল পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। পুরোটাই ঘটে গিয়েছে ক্যালেন্ডারের কারসাজিতে। আর ধন্দ তৈরি হয়েছে- কেন

যাহা অক্টোবর বিপ্লব তাহাই নভেম্বর বিপ্লব বলা হয় ?
গত শতাব্দীর শুরুতে যখন গোটা ইউরোপ জাতীয়তাবাদী এবং গণতান্ত্রিক ভাবধারায় উত্তাল হয়েছে তখনও রাশিয়ায় রোমানভ বংশীয় জারদের স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চলছে ৷ ইশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতায় বিশ্বাসী জার ও তাদের অনুগত অভিজাতরাই শাসনের সর্বেসর্বা৷ বিপ্লবের মাধ্যমে শুধু তাদের হাত থেকে ক্ষমতা পরিবর্তন নয় তাদের পদ্ধতির সময় গণনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল রাশিয়াকে ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে।

সেই সময় দু’ধনের ক্যালেন্ডারের অস্তিত্ব ছিল পৃথিবীতে— গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার এবং জুলিয়ান ক্যালেন্ডার। রুশ বিপ্লব যখন ঘটে, সেই সময় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে দিনক্ষণ মেনে চলা হত রাশিয়ায়। যদিও একই সময়ে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে চালু হয়ে গিয়ে ছিল জুলিয়ান ক্যালেন্ডার। পুরনো রাশিয়ার সময় গণনার পদ্ধতি অর্থাৎ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে বিপ্লবের সময়কাল ছিল ২৪ অক্টোবর। আর সেটাই আবার জুলিয়ানের ক্যালন্ডরের দৌলতে নানা দেশে হয়ে গেল ৭ নভেম্বর।

ইতিহাসের পাতায় এখনও পুরনো সময় পদ্ধতি মেনে ‘অক্টোবর বিপ্লব’ শব্দবন্ধ আজও লেখা হয়ে চলেছে। কিন্তু রাশিয়া-সহ বেশির ভাগ দেশেই এই বিপ্লবের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় নভেম্বর মাসে। রাশিয়া তো এখন আর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে আটকে নেই উল্টে জুলিয়ানের ক্যালেন্ডারে হাত ধরেই এখন তার সময় এগিয়ে চলেছে। ফলে সারা পৃথিবীই এখন অক্টোবর বিপ্লবকে নভেম্বর বিপ্লব নামে চিনছে।

Tripura: নির্বাচন কমিশনের ‘চোখ বন্ধ’, পরপর হামলায় বিরোধী বাম প্রার্থীরা জখম

tripura

News Desk: ত্রিপুরায় (Tripura) আসন্ন পুর ও নগর পরিষদ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতায় প্রায় ৩০ শতাংশ আসনে জয়ী শাসক বিজেপি। অভিযোগ, প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম সহ বাকিদেরকে মনোনয়ন জমা দিতেই দেয়নি শাসক দল। এই অবস্থায় আগরতলা পুর নিগমের ভোট ঘিরে রাজনৈতিক হামলায় জখম একাধিক বাম প্রার্থী। আরও অভিযোগ, গত লোকসভা, পঞ্চায়েত ভোটের মতো চোখ বন্ধ করে রেখেছে নির্বাচন কমিশন।

যদিও বিজেপির দাবি, যে সব বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে তাতে দল জড়িত নয়। বিরোধী দলের এলাকাগত গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। সূত্রের খবর, রাজ্য বিজেপির বিধায়কদের একটি অংশের আশঙ্কা দলের ভোটব্যাংকে বিরাট ধস নামছে।

আগামী ২৫ নভেম্বর আরতলা পুরনিগমের ভোট। রাজধানী শহরের পুর নিগম দখল করতে মরিয়া শাসক বিজেপি। আর গত পুর বোর্ড চালানো সিপিআইএম নেমেছে তেড়েফুঁড়ে। ভোটে আছে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস।

আরও পড়ুন: Tripura: আসন্ন পুর নির্বাচনে ‘প্রবল সন্ত্রাসে’ অভিযুক্ত BJP, বিনা ভোটেই বিপুল জয়

এদিকে নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক হামলার মুখে পড়ছেন বিরোধী প্রার্থীরা। আক্রান্তের পরিসংখ্যানে বেশি আছেন সিপিআইএমের প্রার্থীরা। কিছুক্ষেত্রে তৃণমূল কংগ্রেসের উপর হামলা হয়েছে।

শনিবার বিকেল থেকে নতুন করে রাজনৈতিক হামলায় আগরতলা পুর নিগমের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একাধিক বাম প্রার্থীর ঘর ভাঙচুরে অভিযুক্ত বিজেপির বাইক বাহিনী, এমনই অভিযোগ।

সাম্প্রতিক আগরতলায় বিজেপির সমর্থকদের তাণ্ডবের কারণে দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। আক্রান্ত হয় বিরোধী সিপিআইএম দলের রাজ্য কার্যালয়। তার আগে ধনপুরে বিরোধী নেতা মানিক সরকারের কনভয়ে হামলার জেরে সেখানকার বাম সমর্থকরা বিজেপি সমর্থকদের বেধড়ক মারধর করে বলে অভিযোগ। সেই ঘটনার রেশ ধরেই আগরতলায় বিজেপির প্রতিবাদ মিছিল থেকে ‘আগুন জ্বলেছিল’। পরপর আক্রান্ত হয়েছিল সংবাদপত্র দফতর।

নকশাল নেতা সরোজ দত্তর ‘মার্ডার’ দেখা উত্তমকুমারকে ফোন করলেন, কে তিনি?

naxal leader saroj dutta murder case

News Desk: কে তিনি? উত্তমকুমার জীবদ্দশায় যাঁদের কাছে ‘মুখ খুলেছিলেন’ তাঁরাও কোনও এক অজানা আশঙ্কায় নীরব ছিলেন। কারণ সে মন্ত্রী আর জবরদস্ত তার কাজকর্ম।

মহানায়কের জীবনে এমন সন্ধিক্ষণ আর আসেনি। তিনি বম্বে (মুম্বই) চলে গিয়ে কিছুটা ধাতস্থ হতে চেয়েছিলেন। সেই সময় একটি ফোন এসেছিল, হাসি হাসি গলায় উত্তমকুমারকে কিছু উপদেশ দিয়েছিলেন ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তিটি। সিনেমায় বহু ভিলেনকে সরাসরি কুপোকাত করে দেওয়া উত্তমকুমার বুঝেছিলেন বেশি বলা ভালো না।

এই ঘটনার পিছনে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের অতিবামপন্থী নেতা, কবি ও সাংবাদিক সরোজ দত্তর মার্ডার মুহূর্ত। কলকাতাতেই ১৯৭১ সালের ৫ই আগস্টের ভোরে কিংবদন্তি এই রাজনীতিককে খুন করা হয়। কানাঘুষোয় শোনা যায় ঘটনাচক্র বা দুর্ঘটনাচক্রে সরোজ দত্তকে খুনের মুহূর্তটি দেখে ফেলেছিলেন মর্নিং ওয়াক করতে আসা উত্তম কুমার। এর পরেই কেউ তাঁকে বলেছিল ‘উত্তমদা আপনি কিছুই দেখেননি’।

চলচ্চিত্র পরিচালক তপন সিনহার সাড়া জাগানো সিনেমা আতঙ্ক মুক্তি পায় ১৯৮৬ সালে। সেখানে সত্তর দশকে পাড়া পাড়ায় যে মস্তানি ও খুন চলছিল তারই জ্বলন্ত মুহূর্ত ধরা আছে। এক ছাত্র অপর ছাত্রকে খুন করছে এই মুহূর্ত দেখে ফেলা বৃদ্ধ শিক্ষককে পরিচ্ছন্ন হুমকি দেয় খুনি ‘মাস্টারমশাই আপনি কিছুই দেখেননি’। এই সংলাপেই ধরা আছে ভয়াবহ সময়টির আতঙ্কিত জনজীবন।

তপন সিনহার আতঙ্ক সিনেমার সংলাপটির চিন্তা এসেছিল উত্তমকুমারকে দেওয়া টেলিফোনে হুমকি থেকেই তাতে নিশ্চিত অনেকেই। সেই ফোন যিনি করেন তিনি সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের পছন্দের এক তরুণ নেতা। এও শোনা যায় উত্তমকুমার সহ বাংলা চলচ্চিত্রের প্রায় সবাই তাঁর ঘনিষ্ঠ। ফলে ফোনটা এসেছিল হুকুমদারি মার্কা গলায় নয়, নেহাতই উত্তম গুণমুগ্ধ হয়েই একটি আবদার। তবে সেই ফোন যে আসলে হুঁশিয়ারি তাও স্পষ্ট ছিল।

তবে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মহলে উত্তমকুমার কিছুটা বলেছিলেন সেই ফোন করা ব্যক্তির বিষয়ে। তাঁর সেই ভীত গলায় আলোচনার রেশ ধরেই পরবর্তী কালে সময় ও তারিখ মিলিয়ে জানা যায় সেদিন ভোরে নকশালপন্থী নেতা সরোজ দত্তকে খুনের মুহর্তে কাকতালীয়ভাবে হাজির হয়েছিলেন মর্নিংওয়াক করা উত্তমকুমার। এর পরেই খুব পরিচিত একজন তাঁকে বলেন, ‘উত্তমদা আপনি কিছুই দেখেননি।’

নকশালবাড়ি আন্দোলনের কিংবদন্তি নেতা সরোজ দত্ত অন্যান্যদের মতো আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁকে ১৯৭১ সালের ৪ আগস্টের শেষ রাতে পুলিশ এসে অধ্যাপক দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। এরপর থেকে তাঁকে আর কোথাও কেউ দেখেনি। সেই থেকেই তিনি আজও পর্যন্ত পুলিশের খাতায় ‘নিখোঁজ’। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু অনেক রহস্য অনাবৃত থেকে গেল।

Subrata Mukherjee: হেফাজতে চারু মজুমদারে মৃত্যু, পুলিশমন্ত্রী ছিলেন সুব্রত

Subrata mukherjee always silent on charu majumdar dearth mystery

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: বিতর্কিত ২৮ জুলাই। ১৯৭২ সালের দিনটিতে মৃত্যু হয়েছিল সশস্ত্র নকশালপন্থী আন্দোলনের স্রষ্টা চারু মজুমদারের। তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে বিস্তর বিবাদ বিতর্ক রয়েছে। তবে সরকার কর্তৃক ঘোষণা করা হয়েছিল মৃত্যুর কারণ ‘হৃদরোগ’। নকশালপন্থী নেতা ও দলগুলির অভিযোগ, ‘তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের পুলিশমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের (Subrata Mukherjee) অধীনস্থ পুলিশ বিভাগ অজানা কারণে চারুবাবুর মৃত্যুর কারণ গোপন করেছিল’।

নকশালবাড়ি আন্দোলনের সরাসরি সমর্থক বিভিন্ন অতিবামপন্থী সংগঠনগুলির আরও অভিযোগ, দেশের অন্যতম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা আন্তর্জাতিক পরিচিতি পাওয়া ‘সিএম’ (চারু মজুমদার) কে পুলিশি হেফাজতে মেরে ফেলা হয়েছিল। তৎকালীন পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সরকারের আমলেই চারুবাবুর গ্রেফতারি ও হেফাজতে মৃত্যুর বিতর্ক এখনও চলছে।

ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে কৃষক আন্দোলনের অন্যতম অধ্যায় দার্জিলিং জেলার নকশালবাড়ি কৃষক অভ্যুত্থান। সশস্ত্র সংগ্রামের তত্ত্বে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পরিকল্পনা করেছিলেন সিপিআইএম থেকে বহিষ্কৃত কমিউনিস্ট নেতা চারু মজুমদার ও সমদর্শী নেতারা।

১৯৬৭ সালে সরাসরি নকশালবাড়িতে সশস্ত্র কৃষকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, রক্তাক্ত পরিস্থিতির জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক হাওয়া আরও গরম হয়েছিল। সেই আন্দোলনের ফলে গোটা দেশে অতি বাম রাজনৈতিক তত্ত্বের পালে হাওয়া লাগে। এই আন্দোলনের মূল নেতা চারু মজুমদার অসুস্থ হয়েও গোপনে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। তাঁকে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকাভুক্ত করে সরকার। নকশাল আন্দোলন তীব্র আকার নেয়। অবশেষে তাঁকে ১৯৭২ সালের ১৬ জুলাই কলকাতার গোপন আস্তানা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

চারু মজুমদারের গ্রেফতারের পরই রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন ছিল তাঁর শারিরীক অবস্থা কেমন? শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত চারবাবু বন্দি হলেও তিনি আইনত চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠতে থাকে। তবে নিরুত্তর ছিলেন রাজ্যের ততকালীন পুলিশমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়।

অভিযোগ উঠছিল, চারু মজুমদারকে বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলার ছক করেছে সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনিও নীরবতার পথ নিয়েছিলেন। চাপে পড়ে অসুস্থ চারুবাবুর চিকিৎসা শুরু হয় হাসপাতালে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯৭২ সালের ২৮ জুলাই তিনি প্রয়াত হন।

এই ইস্যুটি রাজ্যে কংগ্রেস সরকারের তৎকালীন মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে জীবনভর তাড়া করেছে। তিনিও বিষয়টি নিয়ে নিজের মতামত স্পষ্ট করেননি। ফলে বিতর্ক থেকেই গিয়েছে। সুব্রতবাবুর প্রয়াণে এই বিতর্কের সরাসরি জবাব দেওয়ার কেউ নেই। নকশালপন্থীদের অভিযোগ অনুসারে ‘রহস্যাবৃত’ থাকল চারু মজুমদারের মৃত্যুর কারণ।

Subrata Mukherjee: জরুরি অবস্থা, সিদ্ধার্থ থেকে মমতা মন্ত্রিসভার বর্ণময় সুব্রত মুখোপাধ্যায়

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: রাজ্যে বাম জমানার পতনের পর যখন তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার মহাকরণে ঢুকছে, তখন প্রায় অনুচ্চারিত একটি নজির গড়েছিলেন সুব্রত মুখোপাধ্যায়। তিনিই মু়খ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার একমাত্র সদস্য যাঁর রাজ্যে মন্ত্রীত্ব করার পূর্বঅভিজ্ঞতা ছিল। সেই অর্থে তিনি টিএমসি সরকারের একমাত্র মহাকরণ ঘোরা একজন। যদিও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্ব সামলেছেন আগে। কিন্তু রাজ্য সরকারের মন্ত্রীর অভিজ্ঞতা ছিল সুব্রতবাবুর।

বাম জমানার পতনের ঠিক আগে ১৯৭২-১৯৭৭ পর্যন্ত কংগ্রেসের সরকারের সুব্রতবাবু ছিলেন পুলিশ ও তথ্য দফতরের দায়িত্বে। মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সিদ্ধার্থ শংকর রায়।

প্রথম পাঁচ বছরের মন্ত্রিত্বই সুব্রতবাবুর রাজনৈতিক জীবনে সবথেকে আলোচিত। সেই সময়েই অর্থাৎ ১৯৭৫ সালে জারি হয়েছিল জরুরি অবস্থা। তথ্য বিভাগের দায়িত্বে থাকায় বহু ‘অপ্রিয়’ কাজ করতে হয়েছে সুব্রতবাবুকে। জরুরি অবস্থা বিরোধী যে কোনও সংবাদ কেটে দেওয়ার মতো ঘটনা রাজ্যে তাঁর দফতরেই হত। তিনি থাকতেন উপস্থিত। সে কথা পরবর্তী সময়ে স্বীকার করেছেন। বিশেষ করে ততকালীন বিরোধী দল সিপিআইএমের মু়খপত্র ‘গণশক্তি’ সংবাদ পরিবেশনায় সুব্রতবাবুর নজর থাকত প্রবল।

নিজেই জানিয়েছিলেন “গণশক্তির সরোজ মুখার্জি আমার কাছে এসেছিলেন। ওঁরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “চিত্ত যেথা ভয়শূন্য উচ্চ যেথা শির” ছাপতে চান। আমি সটান না করে দিয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছিল দেশের যা অবস্থা তাতে ওই কবিতার অন্য অর্থ হবে। এটা আমি ঠিক করিনি৷ এখন ভাবলে খারাপ লাগে” 

জরুরি অবস্থার পরে ১৯৭৭ সালে রাজ্যে কংগ্রেস সরকারের পতন হয়। তৈরি হয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। এই দীর্ঘ চৌত্রিশ বছরের বাম জমানাতে বিরোধী কংগ্রেসের তিনমূর্তি ছিলেন প্রিয়-সোমেন-সুব্রত। আর নেই তাঁরা। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের প্রয়াণে সেই অধ্যায় শেষ হয়ে গেল। তিনি এমন এক রাজনীতিক যিনি বিরোধী হোক বা সরকার সবপক্ষেই নিজ মহিমায় উজ্জ্বল।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় টালমাটাল যুক্তফ্রন্ট সরকার ছিল এ রাজ্যে প্রথম অ-কংগ্রেসি সরকার। ১৯৬৭ ও ১৯৬৯ এই সময়ে দুটি যুক্তফ্রন্ট সরকারকে নড়িয়ে দেওয়ার যে ঘটনাবহুল ছক তৈরি হয়েছিল সেই সময়টিতে অর্থাৎ রাজনৈতিক ঝঞ্ঝাপূর্ণ বামপন্থী রাজনীতির উত্থান সময়ে কংগ্রেসি জাতীয়তাবাদী ঘরানার দক্ষিণপন্থী তরুন নেতাদের আকাল চলছিল। সেই আকালের বাজারে উদয় প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সি, সোমেন মিত্র ও সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের। তাবড় তাবড় বাম ও অতিবাম রাজনৈতিক নেতৃত্বের মাঝে কংগ্রেসি তিন মূর্তির প্রবল আত্মপ্রকাশ সেই যে শুরু হয়েছিল, দীর্ঘ চার দশক পেরিয়ে সুব্রতবাবু ছিলেন সেই জাতীয়তাবাদী ঘরানার সর্বশেষ প্রতিনিধি।

রাজনৈতিক জীবনে প্রথম মাইলফলকটি অবশ্যই ছিল, ১৯৭২ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে রাজ্যে ফের কংগ্রেসের ক্ষমতা দখলে সুব্রতবাবুর মন্ত্রী হওয়া। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধার্থ শংকর রায়ের সঙ্গে মহাকরণ ও বিধানসভায় ঢুকলেন পুলিশ ও তথ্য দফতরের মন্ত্রী হয়ে। তারপর কংগ্রেস ভেঙে মমতার তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের পরপর দলত্যাগ ফের ফিরে আসা এরকমই চলেছে। একপর্যায়ে মমতাকে নেত্রী বলে মেনেও নিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের মন্ত্রী হয়েছেন।

সিদ্ধার্থশংকর থেকে শুরু মাঝে জ্যোতি বসু-বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মুখ্যমন্ত্রীতে বিরোধী পক্ষে আর সর্বশেষ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মু়খ্যমন্ত্রীত্বে মন্ত্রিসভাতেই রাজনৈতিক জীবন কাটল। পুরো রাজনৈতিক জীবনে জরুরি অবস্থার মতো সবথেকে বিতর্কিত ঘটনাটি পরে হেসে উড়িয়েছেন। সুব্রতবাবু এমনই। সেটা সবপক্ষই স্বীকার করে নিয়েছেন।

Tripura: আসন্ন পুর নির্বাচনে ‘প্রবল সন্ত্রাসে’ অভিযুক্ত BJP, বিনা ভোটেই বিপুল জয়

cpim

News Desk: পশ্চিমবঙ্গে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে উপনির্বাচনে লাগাতার রিগিং ও ভোট লুঠ, সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলছে বিরোধী দল বিজেপি। তারাই আবার ত্রিপুরায় শাসক দল হয়ে ভোট সন্ত্রাসে অভিযুক্ত। আসন্ন পুর ও স্থানীয় ভোটে শতাধিক আসনে কোনও প্রার্থী নেই প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের। অভিযোগ, সন্ত্রাস ছড়িয়ে মনোনয়ন জমা করতে দেয়নি বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গে গ্রামপঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন দাখিল ঘিরে ব্যাপক সন্ত্রাসে অভিযুক্ত হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের বিরুদ্ধে সরব বিজেপি ত্রিপুরায় ভয়াবহ সন্ত্রাস ছড়িয়েছে এমন অভিযোগে বারে বারে দেশ উত্তপ্ত হয়েছিল। প্রায় ৯৫ শতাংশ গ্রামভিত্তিক আসনে ভোট লুঠে অভিযুক্ত বিজেপি।

আসন্ন পুর নির্বাচনে ত্রিপুরায় নির্বাচনী সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে সিপিআইএম। অভিযোগ, উদয়পুর, বিশালগড়, কমলপুর, শান্তিরবাজার ও মোহনপুর পৌর পরিষদে কোনও ভোটই যাতে না হয় তার জন্য বাম প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দিতে দেওয়া হয়নি। একইভাবে জিরানিয়া ও রানিরবাজার নগর পঞ্চায়েতেও কোনও ভোট হবে না।

ত্রিপুরা নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা দিয়েছে, আগরতলা পুরনিগম, ১৩টি পৌর পরিষদ ও ৬টি নগর পঞ্চায়েতের মোট ৩৩৪টি আসনে ভোট হবে। পুর নিগম বাদ দিলে, বিরোধী বাম শিবির, কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের কোনওপক্ষই সম্পূর্ণ আসনে প্রার্থী দিতে পারেনি। ৭টি নগর সংস্থায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা জিতে যাবে শাসক বিজেপি।

বিরোধী দল সিপিআইএমের অভিযোগ, ২০১৮ সালে রাজ্যে বিজেপি জোট সরকারে আসার পর যে সন্ত্রাস শুরু করেছে তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে শাসক দল তৃ়ণমূল কংগ্রেস ও তাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতির পুরো মিল। তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি।

BJP West Bengal: দীপাবলির আগেই দিলীপ ‘দোদমা’, জেলাস্তরে BJP ভাঙনের ইঙ্গিত

dilip ghosh

News Desk: দীপাবলিতে ডবল ধামাকা ! দিলীপ ঘোষ যিনি কার্যত রাজ্য সভাপতি না থেকেও ‘একই ভূমিকা নিয়ে চলেছেন’, পরপর বোমা ফাটাতে শুরু করলেন। চারটি আসনের উপনির্বাচনে বিজেপির তিন কেন্দ্রে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। গতবারের জয়ী দুটি কেন্দ্রে হেরেছে বিজেপি। সবমিলে তথৈবচ পরিস্থিতি রাজ্যের বিরোধী দলে। গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়েছে বামেরা। তাদের ভোট বেড়েছে।

এর পরেই তীব্র আক্রমণে প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেছেন বাংলায় আগামী দিনেও জিততে পারবে না বিজেপি’।

দিলীপবাবুর মন্তব্যের পরেই রাজ্য বিজেপিতে প্রবল শোরগোল। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দিকেই ঘুরিয়ে আঙুল তুলেছেন দিলীপবাবু এমনই অভিমত দলেরই জেলা নেতৃত্বের মধ্যে। অনেকেরই অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারী যেভাবে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক হামলার প্রসঙ্গ টেনে ভোটের হাওয়া গরম করতে চেয়েছিলেন তার ফল মেলেনি চার কেন্দ্রে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দুই জেলা নদিয়া ও কোচবিহারের ভোটাররা মুখ ঘুরিয়েছেন।

দিলীপ ঘোষের আরও দাবি, রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস যেভাবে ভোট করছে তাতে চিনের মতো একদলীয় ব্যবস্থা চালু হবে।

এদিকে উপনির্বাচনে বিরাট পরাজয়ের পর বিজেপি রাজ্যসভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দাবি, আসন্ন পুরনিগম ও পুরসভাগুলির ভোটে দল প্রবল প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতা গড়ে তুলবে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।

রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে দুই নেতার বার্তায় জেলার নেতারা হতচকিত। কী করে ভাঙন ঠেকাবেন তার সদুত্তর নেই কারোর কাছে। সূত্রের খবর, উত্তরবঙ্গ থেকে ক্রমাগত ধস নামা শুরু হতে চলেছে বিজেপিতে। দীপাবলির পরেই রাজ্যে অন্তত ১২ জন বিজেপি বিধায়ক দলত্যাগ করবেন। এই অবস্থায় দিলীপবাবুর মন্তব্য বিধায়কদের দলত্যাগের বিষয়ে ইঙ্গিতবহুল বলে মনে করা হচ্ছে।

‘হাল ছেড়ে দেওয়া’ গৃহবন্দি বুদ্ধবাবু শুনলেন নব্যরা ফাইট করেছে

Buddhadeb Bhattacharya

News Desk: অসুস্থ বুদ্ধবাবু শুনলেন উপনির্বাচনে বামেদের বড়সড় লড়াই ও ভোট বৃদ্ধির খবরটি। বামফ্রন্টের নবীন প্রজন্ম লড়াই করছে। তবে তিনি নীরব। হয়ত মনের গভীরে এখনও পরাজয় মানতে না পারার ক্ষেদ রয়েছে। অনেক সিপিআইএম নেতার ক্ষোভ এভাবে তিনি হাল না ছেড়ে দিলে রাজ্যে ভোট রাজনীতিতে অনেক কিছুই হতে পারত। অন্তত দল শূন্য তো হতো না।

পরিবর্তন হয়েছিল ২০১১ সালে। টিএমসির কাছে পরাজয়ের পর আর বাহির মুখো হতেন না তেমন। পরবর্তী সময়ে যদিও বা কয়েকবার বেরিয়েছিলেন গত কয়েক বছর অসুস্থ হয়ে গৃহবন্দি। সিওপিডি পেশেন্ট প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মাঝে কয়েকবার হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর অসুস্থতার সংবাদে রাজ্য জুড়ে চিন্তিত হন বহু বাম-অবাম সমর্থক।

এই গত কয়েক বছরে পরপর ভোটে রাজ্যে বামেদের শুধুই জামানত বাজেয়াপ্ত আর ভয়াবহ বিপর্যয় সংবাদ আসে গণনার দিন। সেসব শুনতেই অভ্যস্ত প্রবীন সিপিআইএম নেতা।

তাৎপর্যপূর্ণ গত লোকসভা ও বিধানসভা ভোটে বামেরা রাজ্যে শূন্য হয়েছে। পরপর উপনির্বাচনেও একই ফল। তবে মঙ্গলবার খড়দহ, শান্তিপুর, গোসাবা, দিনহাটা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল আসতেই দেখা যায় শূন্য থাকলেও বামেদের ভোট বেড়েছে। গণনার এক পর্যায়ে খড়দহ কেন্দ্রে দ্বিতীয়স্থানে এসেছিল সিপিআইএম।

তবে ফলাফল শূন্যই। যে শূন্যতা লোকসভাতে তৈরি হয়েছে তা ভরাট করার জন্য নব্য নেতা ও প্রার্থীদের উপর জোর দিয়েছে সিপিআইএম। আসন্ন রাজ্য সম্মেলন ও পার্টি কংগ্রেসে এ ব্যাপারে শিলমোহর লাগবে।

সিপিআইএম সহ বামদলগুলির তো বটেই রাজ্যবাসীর কাছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি তীব্র আলোচিত। তেমনই সমালোচনা হয় তাঁর পরাজয় না মানতে পেরে নিজেকে একলা করে নেওয়ার নীতি। সেই বুদ্ধবাবু শুনেছেন তাঁর দলেরই নতুন ধারার কর্মীরা লড়ছেন।

নন্দরানি ডলের লক্ষাধিক ভোটে জয়কে হারালেন উদয়ন-সুব্রত

bengal By election result live update

News Desk: জয়ের ব্যবধান লক্ষাধিক। তবে এই বিপুল ব্যবধানের জয় পেলেও জয়ীরা স্বস্তিতে থাকেননা। অভিযোগ ওঠে রিগিংয়ের। উপনির্বাচনে দিনহাটা ও গোসাবা কেন্দ্রে তৃ়ণমূল কংগ্রেসের লক্ষাধিক ভোটে জয় ফিরিয়ে আনছে বাম জমানার বিতর্কিত কেশপুর নির্বাচনের ফলাফলকে। লক্ষাধিক ভোটে জয়ী হয়েছিলেন সিপিআইএমের নন্দরানি ডল।

দু দশক পর উপনির্বাচনে ফিরল নন্দরানির জয়ের পর বিতর্কিত স্মৃতি। সেবার তৃ়ণমূলের অভিযোগ ছিল, বামেরা রিগিং করে জিতেছে।

তখনও রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতা দখলের কোনও প্রশ্ন ছিল না। তবে শাসক সিপিআইএমের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্ব্বী হিসেবে টিএমসি উঠে এসেছে। সেই প্রেক্ষিতে ২০০১ সালে রাজনৈতিক সংঘর্ষ কবলিত কেশপুর কেন্দ্র ছিল তীব্র আলোচিত। এই কেন্দ্রে সিপিআইএম জয়ী হয়। বিধায়ক নন্দরানি ডল ১ লক্ষ ৮ হাজার ১১২ ভোটে পরাজিত করেন তৃণমূলের রজনী দলু়ুইকে।

কেশপুর সিপিএমের শেষপুর হবে এই স্লোগান দিয়েছিলেন ততকালীন টিএমসি নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বামেদের জমানা শেষ হয় ২০১১ সালে মমতার হাতেই। তৃণমূল সরকারের আমলেও বিস্তর রিগিং অভিযোগ উঠেছে।

উপনির্বাচনে কোচবিহারের দিনহাটায় উদয়ন গুহ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা কেন্দ্রে জয়ী সুব্রত মণ্ডল। উদয়ন গুহ জিতেছেন ১ লক্ষ ৬৩ হাজারের বেশি ভোটে। আর সুব্রত মন্ডল জয়ী ১ লক্ষ ৪১ হাজার ৮৯৩ ভোটে। বর্তমান বিরোধী দল বিজেপি সরাসরি ভোট লুঠের দাবি করেছে।

By election Result: মঙ্গলে BJP আরও কমছে ধরেই নিল TMC

bengal-by-election

News Desk, Kolkata: ফের উপনির্বাচনের ফলাফলে শাসক তৃ়ণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে আরও চার বিধায়ক আসতে চলেছেন। এমনই কনফিডেন্ট মন্ত্রী থেকে সমর্থকরা। বিরোধী বিজেপি শিবিরে আরও বিধায়ক কমার আশঙ্কা।

মঙ্গলবার চার বিধানসভা দিনহাটা(কোচবিহার), শান্তিপুর (নদিয়া), খড়দহ (উ:২৪ পরগনা) ও গোসাবা (দ:২৪ পরগনা) কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল বের হবে। এই চার কেন্দ্রের কোনোটাতেই জয়ের সম্ভাবনা দেখছেন না বাম নেতৃত্ব। তবে তাদের ধারণা, ভোট বাড়বে। আর কংগ্রেস নীরব।

সূত্রের খবর, এবার চার কেন্দ্রের ফলাফল দেখেই উৎসব অন্তে ধস নামতে শুরু করবে বিজেপিতে। অন্তত ১২ জন সরাসরি তৃণমূলে যোগ দেবেন। এদের বেশিরভাগই উত্তরবঙ্গের। ইতিমধ্যেই উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। আরও জানা যাচ্ছে কোচবিহার থেকে ক্রমাগত দু:সংবাদ আসতে চলেছে বিরোধী দলনেতার কাছে।

উপনির্বাচন ফল ঘোষণার আগেই বিস্ফোরণ মন্তব্য করেছেন সদ্য বিজেপি থেকে ফের তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরে আসা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি ত্রিপুরায় গিয়ে তৃণমূলে যোগ দেন। আগরতলা থেকে কলকাতায় এসেই রাজীব বলেন, রাজ্যে বিজেপি সাইনবোর্ড হয়ে যাবে।

জানা গিয়েছে, ফল ঘোষণার আগেই বিধানসভায় ট্রেজারি বেঞ্চে (সরকার পক্ষ)চারটি আসন সংরক্ষিত করা হয়। তবে এই বিষয়ে বিধানসভার তরফে কিছু জানানো হয়নি। বিরো়ধী দলের অভিযোগ, ফলাফল না দেখেন এরকম পদক্ষেপ গণতন্ত্রের পক্ষে ক্ষতিকর। তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্যে গণতন্ত্র নষ্ট করে দিয়েছে।

মঙ্গলবার গণনা উপলক্ষে গণনাকর্মীরা কড়া কোভিড নিয়মের আওতায় থাকবেন। তেমনই থাকবেন বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরা। বেলা গড়াতেই স্পষ্ট হবে জনতার রায়।

Tripura: পুর ভোটে BJP-CPIM প্রচার তুঙ্গে, গোরু খোঁজার মতো প্রার্থী খুঁজছে TMC

tripura election TMC

News Desk: তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জনসভা থেকে দুটি চ্যালেঞ্জ করেছেন। তিনি বলেছেন বিজেপি ভাইরাসকে দুটি ডোজের টিকা দিতে হবে প্রথম ডোজ আসন্ন আগরতলা পুরনিগম ভোটে ও দ্বিতীয় ডোজ আগামী বিধানসভা ভোটে।

টিএমসি ত্রিপুরা প্রদেশের একাংশ নেতার অভিযোগ, জনসভায় হাওয়া গরম ভাষণ তো দিয়েছেন অভিষেক কিন্তু প্রথম ডোজের জন্য প্রার্থী খুঁজতেই হিমশিম খাচ্ছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতার খেদোক্তি, এভাবে ঘেঁটে না দিলেই পারতেন তিনি।

tripura election

আগরতলা পুরনিগম নির্বাচনের প্রচারে রাজ্যের শাসক বিজেপি ও বিরোধী সিপিআইএমের মধ্যে মূল লড়াই সেটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। নির্বাচন ঘোষণা হতেই শাসকপক্ষকে চমকে দিয়ে বামফ্রন্ট প্রার্থী ঘোষণা করে। সিপিআইএম ত্রিপুরার রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরী জানান, সরকারের প্রতি জনগণের ক্ষোভের প্রকাশ হতে চলেছে ভোটে।

বিরোধী দলের প্রচার শুরু হতেই ‘গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মিটিয়ে’ শাসক বিজেপি তাদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তবে এর পরেই আগরতলা পুরনিগমের বিভিন্ন ওয়ার্ডে বিক্ষুব্ধ বিজেপি প্রার্থীদের নিয়ে গলদঘর্ম পরিস্থিতি। অভিযোগ, এরই মাঝে বেশ কয়েকজন প্রার্থী ও আরএসএস নেতা আক্রান্ত হয়েছেন। প্রতিক্ষেত্রেই এসেছে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা।

শাসক ও বিরোধীদের পুরনিগম ভোট যুদ্ধের মাঝে দেখা নেই কংগ্রেসের। তবে কংগ্রেস প্রার্থী বাছাই করছে বলেই জানান প্রদেশ নেতারা।

<

p style=”text-align: justify;”>তবে সব নজর আটকেছে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী কারা হচ্ছেন তার উপরেই। টিএমসির দাবি সাময়িক কিছু সমস্যা আছে। ত্রিপুরায় এবার সরাসরি প্রখমবার ভোটে নামছে দল। শাসকদল বিজেপি থেকে ক্রমাগত সমর্থক ও নেতারা ভেঙে আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। দ্রুত প্রার্থীদের নাম জানানো হবে। কিন্তু কবে বের হবে সেই তালিকা? টিএমসি ত্রিুপুরা নেতারা বলছেন, সবই জানেন কলকাতার লোকেরা!