बांग्लादेश की भीड़ ने प्रोड्यूसर और उसके सुपरस्टार बेटे को पीट-पीटकर मार डाला

मुंबई: बांग्लादेश से आई इस खबर ने बहुत ही दुखद स्थिति का परिचय दिया है। फिल्म प्रोड्यूसर सलीम खान और उनके बेटे शांतो खान की हत्या की घटना ने न केवल बांग्लादेश बल्कि भारतीय बंगाली फिल्म इंडस्ट्री को भी प्रभावित किया है। बता दें, सलीम खान बांग्लादेश के चांदपुर उपजिले में लक्ष्मीपुर मॉडल यूनियन परिषद के चेयरमैन थे और साथ ही वे एक प्रमुख फिल्म प्रोड्यूसर भी थे।

वे भारतीय टॉलीवुड फिल्म इंडस्ट्री से भी जुड़े हुए थे, जहाँ उन्होंने देव जैसे बड़े सितारे के साथ ‘कमांडो’ नामक एक फिल्म का निर्माण किया था, जो रिलीज नहीं हो पाई। इस घटना का एक पहलू यह भी है कि सलीम खान पर भ्रष्टाचार के आरोप थे। कहा जा रहा है कि वे रेत केअवैध उत्खनन में शामिल थे और इस कारोबार से उन्होंने काफी पैसा कमाया था।

इसी भ्रष्टाचार के मामले में उन्हें पहले भी जेल हो चुकी थी और उनके खिलाफ एंटी-करप्शन कमीशन ने जांच भी की थी। हिंसा के इस कृत्य की विस्तृत जानकारी के बिना स्थानीय सुरक्षा बलों ने भी इस पर कोई कार्रवाई नहीं की। यह दुखद घटना बांग्लादेश के समाज और कानून-व्यवस्था पर गंभीर सवाल उठाती है।

बाप-बेटे ने खुद को बचाने के लिए गोलियां भी चलाईं
रिपोर्ट्स की मानें तो सोमवार, 5 अगस्त को सलीम और शांतो अपने घर से भागने की कोशिश कर रहे थे। तभी फरक्काबाद बाजार में गुस्साई भीड़ उनके सामने आ गई। उन्होंने खुद को बचाने के लिए पिस्टल से गोलियां भी चलाईं, लेकिन पास ही के बगरा बाजार में उन्हें भीड़ ने घेर लिया। इसके बाद गुस्साई भीड़ ने सलीम और उनके बेटे शांतो की पीट-पीटकर हत्या कर दी। सलीम के निधन पर कोलकाता फिल्म इंडस्ट्री से देव और बोनी सेनगुप्ता समेत कई कलाकारों ने दुख जाताया है।

 

टॉलीवुड में प्रोड्यूस कर रहे थे 10 फिल्में
एक रिपोर्ट के अनुसार, टॉलीवुड (पश्चिम बंगाल सिनेमा) में सलीम की लगभग 10 फिल्में प्रोडक्शन स्टेज पर थीं और इनमें कई बड़े टॉलीवुड स्टार्स काम कर रहे थे। टॉलीवुड से जुड़े एग्जीक्यूटिव प्रोड्यूसर अरिंदम दास ने सोमवार को सलीम से बात भी की थी। दास ने कहा- ‘मैं उनसे मिलने कई बार बांग्लादेश जा चुका हूं। उन्होंने मेरी बड़ी ही खूब मेहमाननवाजी की थी। उनके निधन की खबर सुनकर बेहद दुखी हूं।’

Lakhimpur: লখিমপুর কাণ্ডের পুলিশের চার্জসিটে মন্ত্রীর ছেলে আশিস

২০২১ সালের অক্টোবর মাসে উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর (Lakihmpur) খেরিতে গাড়িচাপা দিয়ে ৮ জনকে হত্যার মামলায় চার্জশিট পেশ করল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। সোমবার আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে ৫০০০ পাতার এই চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। যাতে রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশিস মিশ্রর নাম। 

পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে আগেই যে চার্জশিট পেশ করেছিল তাতেই বলা হয়েছিল এটা দুর্ঘটনা নয়। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই কৃষকদের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছেলে আশিসের নাম। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে অনেক বেশি রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছে। সে কথা মাথায় রেখেই বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনার তদন্ত করেছে। সোমবার একটি বড় ট্রাঙ্কে করে কড়া পুলিশি নিরাপত্তায় ৫ হাজার পাতার চার্জশিট আদালতে নিয়ে আসা হয়। আদালতে প্রবেশের পর ট্রাঙ্কের তালাখুলে চার্জশিট বের করা হয়।
এই মামলার অন্যতম তদন্তকারী অফিসার এসপি যাদব জানিয়েছেন, আদালত যদি এই চার্জশিট গ্রহণ করে তবে খুব শীঘ্রই শুনানি শুরু হবে। বিশেষ তদন্তকারী দলের এই চার্জশিটে অবশ্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয়ের নাম নেই। তবে নাম আছে মন্ত্রীর এক আত্মীয় বীরেন্দ্র শুক্লার। ইতিমধ্যেই এই মামলার তদন্তে পুলিশের ঢিলেমির জন্য একাধিকবার আদালত ভর্ৎসনা করেছে। সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার পর এই মামলার তদন্ত কিছুটা গতি পায়। গত মাসেই সিট তার প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্টে জানিয়েছিল, লখিমপুরে দুর্ঘটনাজনিত কারণে কোনও কৃষকের মৃত্যু হয়নি। রীতিমতো পরিকল্পনা করেই কৃষকদের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন দেখার চার্জশিট পেশ করার পর কতদিন পরে এই মামলার শুনানি শুরু হয়।

Lakhimpur : লখিমপুরের কৃষক হত্যা ছিল পূর্বপরিকল্পিত, বলছে সিটের রিপোর্টে

Lakhimpurkheri

নিউজ ডেস্ক, লখনউ: আর মাস দু’য়েকের মধ্যেই উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন (Assembly Election) । সেই নির্বাচনের আগে লখিমপুর (Lakhimpur) খেরির ঘটনায় বিশেষ তদন্তকারী দল (Special Investigation team) বা সিটের রিপোর্টে বড় ধাক্কা খেল যোগী আদিত্যনাথ (Yogi Adityanath) সরকার।

অক্টোবর মাসে লখিমপুর (Lakhimpur) খেরিতে এক বিজেপি নেতার ছেলের গাড়ির চাকায় চার কৃষকের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনার তদন্ত করছিল সিট। মঙ্গলবার সিটের পেশ করা রিপোর্টে বলা হয়েছে, লখিমপুরের ঘটনা ছিল পূর্বপরিকল্পিত। মঙ্গলবারই সিট লখিমপুরের ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করে। সেই রিপোর্ট থেকেই চাঞ্চল্যকর এই তথ্য সামনে এসেছে। এই রিপোর্ট নিঃসন্দেহে যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে চাপে ফেলে দিল।

উল্লেখ্য, লখিমপুরের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশিস এবং তার কয়েকজন বন্ধুকে গ্রেফতার করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। যদিও মন্ত্রীপুত্র ও তার বন্ধুদের দাবি, লখিমপুরের ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই। তবে ঘটনার দিন তাঁরা কোথায় ছিলেন সে প্রশ্নেরও সঠিক উত্তর মেলেনি। অন্যদিকে কৃষকরা পাল্টা জানিয়েছেন, লখিমপুরে যে গাড়ি কৃষকদের পিষে দিয়েছে সেই গাড়িতেই ছিলেন আশিস।

উল্লেখ্য, মোদি সরকারের আনা তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ৩ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরিতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন কৃষকরা। অভিযোগ, কৃষকদের ওই নিরীহ অবস্থান বিক্ষোভে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশিসের গাড়ি চার কৃষককে পিষে দেয়। এমনকী, গাড়ির ভিতর থেকে কয়েক রাউন্ড গুলিও

চালানো হয়। মুহুর্তের মধ্যে গোটা এলাকা রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। লখিমপুর খেরির ঘটনায় অভিযুক্ত বিজেপি নেতার ছেলেকে গ্রেফতার করতে প্রথম থেকেই গড়িমসি করছিল বিজেপি সরকারের পুলিশ। শেষ পর্যন্ত দেশ জুড়ে প্রবল সমালোচনা এবং সুপ্রিম কোর্টের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়ে আশিসকে গ্রেফতার করে যোগীর পুলিশ।
কৃষকদের ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ দমন করতে যোগী সরকার লখিমপুরের ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে।

সেই তদন্তকারী দলের রিপোর্টেই জানানো হয়েছে লখিমপুরের কৃষক মৃত্যুর ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত। রীতিমতো পরিকল্পনা করেই কৃষকদের উপর আক্রমণ চালানো হয়েছিল সেদিন। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলির ফরেনসিক পরীক্ষার রিপোর্টও যোগী সরকারকে চাপে ফেলেছে। কারণ ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, লাইসেন্সড আগ্নেয়াস্ত্র থেকেই গুলি চালিয়েছিল অভিযুক্তরা। তবে সেদিনের ঘটনায় কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি। কৃষকরা একাধিকবার অভিযোগ করেছিলেন, মন্ত্রীর ছেলে ও তাঁর সঙ্গীরাই গুলি চালিয়েছিল। যদিও মন্ত্রীর ছেলে ও তার বন্ধু অঙ্কিত কেউই গুলি চালানোর কথা স্বীকার করেননি। তবে ফরেনসিক রিপোর্টে এটাই প্রমাণ হল যে, কৃষকরাই সঠিক কথা বলেছেন। তদন্তকারী অফিসার দিবাকর বিদ্যারামের রিপোর্টে জানিয়ে দেওয়া হল, লখিমপুরের ঘটনা ছিল একেবারেই পূর্বপরিকল্পিত।

বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি দাবি করেছিল, লখিমপুরের ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয়কে বরখাস্ত করতে হবে। কিন্তু তাদের সেই দাবিতে কর্ণপাত করেনি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু সিটের এই রিপোর্ট বিরোধীদের হাতে নতুন অস্ত্র তুলে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। যা বিধানসভা নির্বাচনের আগে অবশ্যই যোগী সরকারকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেবে।

কৃষক হত্যার জের, শেষ পর্যন্ত সরানো হল লখিমপুরের পুলিশ সুপার বিজয় ধুলকে

lakhimpur-police

নিউজ ডেস্ক: লখিমপুর খেরিতে চার কৃষককে গাড়িচাপা দিয়ে খুনের ঘটনায় গোটা দেশজুড়ে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় ওঠে। লখিমপুরের (lakhimpur) ঘটনায় পুলিশ তার যথাযথ ভূমিকা পালন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ।

এমনকী, অভিযোগ ওঠে পুলিশ বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ছেলে আশিস মিশ্রকে (ashish mishra) আড়াল করার চেষ্টা করছে। লখিমপুর নিয়ে ঘরে- বাইরে প্রবল চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত জেলার পুলিশ সুপার বিজয় ধুলকে (vijay dhul) বদলি করল যোগী সরকার। ঘটনার ঠিক ৪০ দিনের মাথায় বিজয়কে বদলি করা হল। সংবাদ সংস্থা এএনআই জানিয়েছে, বিজয়কে আপাতত রাজ্য পুলিশের সদর দফতরে বদলি করা হয়েছে। তাঁকে কম্পালসারি ওয়েটিং লিস্টে রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে লখিমপুরের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবীণ আইপিএস অফিসার সঞ্জীব সুমনকে, (sanjiv suman)। সঞ্জীব এতদিন লখনউ পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার পদে ছিলেন। অন্যদিকে সঞ্জীবের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আর এক আইপিএস অফিসার অমিত কুমার আনন্দ (amit kumar anand)।

উল্লেখ্য, চার কৃষক হত্যার ঘটনায় আগেই লখিমপুরের জেলাশাসক অরবিন্দ কুমারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দিয়েছিল যোগী সরকার তার জায়গায় নতুন জেলা শাসক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মহেন্দ্র বাহাদুর সিং (mahendra bahadur)।

উল্লেখ্য, লক্ষীপুরের ঘটনায় যোগী আদিত্যনাথ সরকার সুপ্রিমকোর্টের তীব্র সমালোচিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের তিরস্কারের মুখে পড়ে যোগী সরকার শেষ পর্যন্ত ওই ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেয়। কিন্তু সেই তদন্তের গতিপ্রকৃতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। লখিমপুর নিয়ে রাজ্য সরকার শীর্ষ আদালতে যে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে তা নিয়েও তীব্র কটাক্ষ করেছে শীর্ষ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ। আদালত পুলিশি তদন্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায় লখিমপুরের ঘটনার তদন্ত যে গতিতে এগোচ্ছে তাতে কবে এই মামলা শেষ হবে তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে যোগী, (yogi adityanath) সরকার দোষীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে লখিমপুর মামলার শুনানির কথা ছিল। কিন্তু এদিন শুনানি শুরু হলে উত্তরপ্রদেশ সরকার শুনানি স্থগিত রাখার আর্জি জানায়। সেই আরজি মেনে নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বেঞ্চ এই মামলার শুনানি সোমবার পর্যন্ত স্থগিত রেখেছে।

লখিমপুরের ঘটনায় জড়িতরা কেউ পার পাবে না, সাফ জানালেন যোগী আদিত্যনাথ

Yogi Adityanath

News Desk, New Delhi: এ যেন ভূতের মুখে রাম নাম! উত্তরপ্রদেশের সন্ন্যাসী রাজা যোগী আদিত্যনাথ একেবারে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে রবিবার বললেন, লখিমপুর খেরির ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এখানেই শেষ নয় যোগী আরও বলেন এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে তাঁর সরকার।

রবিবার একটি জাতীয় স্তরের সংবাদমাধ্যম আয়োজিত আলোচনা চক্রে বক্তব্য রাখছিলেন যোগী। সেখানেই যোগী বলেন, লখিমপুরের ঘটনা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। এই ঘটনা আমাদের মাথা হেঁট করে দিয়েছে। তবে চিন্তার কিছু নেই, সিট এই ঘটনার তদন্ত করছে। আমরা সিটের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছি। এই রিপোর্ট পেলেই ঘটনায় জড়িতদের নাম জানা যাবে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীরা কেউ পার পাবে না।

এর পাশাপাশি সকলকে চমকে দিয়ে যোগী এদিন সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের কাজ হল প্রকৃত সত্যকে তুলে ধরা। লখিমপুরের ঘটনায় সংবাদমাধ্যম সেই ভূমিকাই পালন করেছে। আমার সরকারের কাজ হল, এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া। আপনারা নিশ্চিন্তে থাকুন, আমি এই ঘটনায় জড়িতদের কাউকেই ছেড়ে কথা বলবো না।

রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কথা ভেবেই ডিগবাজি খেয়েছেন যোগী। কারণ তিনি বেশ বুঝতে পেরেছেন, এমনিতেই তিন কৃষি বিল নিয়ে তাঁরা যথেষ্ট ব্যাকফুটে। পাশাপাশি লখিমপুরে গাড়ি চাপা দিয়ে চার কৃষককে খুনের ঘটনায় বিজেপি সরকারের উপর প্রবল ক্ষুব্ধ রাজ্যের মানুষ। ভোট বাক্সে যার প্রতিফলন ঘটলে যোগী নিশ্চিতভাবেই তাঁর চেয়ার হারাবেন। বিজেপি যদি কোনভাবে উত্তরপ্রদেশের ক্ষমতার থেকে সরে যায় তাহলে ২০২৪- এর লোকসভা নির্বাচনে নরেন্দ্র মোদির ক্ষমতায় ফেরা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। সে কারণেই তড়িঘড়ি লখিমপুর নিয়ে সাফাই দিলেন যোগী।

যোগীর বক্তব্যে রাম মন্দির নির্মাণের প্রসঙ্গ আসবে না এটা ভাবা যায় না। এদিনও যোগী রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন কিছু মানুষ আছে যারা রাম মন্দির নির্মাণের বিরোধিতা করছে। নিশ্চিতভাবেই এই সব মানুষের জন্য দুর্ভাগ্য অপেক্ষা করে আছে। তাদের বোঝা উচিত, এই মন্দির একদিন উত্তরপ্রদেশের গর্ব হয়ে দাঁড়াবে। কোনও মানুষই চিরকাল থাকবে না। কিন্তু কিছু মানুষের তৈরি এই মন্দির থেকে যাবে। এই মন্দিরে হবে উত্তর প্রদেশের এক অন্যতম পরিচয়।

লখিমপুরের ঘটনার তদন্তকে কি আপনারা ছেলেখেলা মনে করছেন, যোগী সরকারকে প্রশ্ন প্রধান বিচারপতির

Lakhimpurkheri

নিউজ ডেস্ক: লখিমপুর খেরির ঘটনায় উত্তর প্রদেশ সরকারকে ফের তীব্র ভৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। ৩ অক্টোবর লখিমপুরে ৪ কৃষক সহ ৮ জনের মৃত্যু নিয়ে উত্তর প্রদেশ সরকারের তদন্তে শীর্ষ আদালত যে খুশি নয় সে কথা আগেই জানিয়েছে। এবার লখিমপুরের ঘটনায় রিপোর্ট জমা দিতে দেরি করায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সর্বোচ্চ আদালত। বুধবারের শুনানিতে শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ উত্তরপ্রদেশ সরকারকে লক্ষ্য করে বলে, “দয়া করে এবার আপনারা পা ঘষে চলার অনুভূতিটা বাদ দিন।”

৩ অক্টোবর উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরে আন্দোলনরত কৃষকদের উপর বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশিস মিশ্র গাড়ি চালিয়ে দেওয়ায় ৪ কৃষক সহ ৮ জনের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনায় জনস্বার্থ মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানি ছিল বুধবার।

এদিন শুনানি শুরু হলে লখিমপুরের ঘটনার রিপোর্ট দেরিতে জমা দেওয়ার জন্য শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ উত্তরপ্রদেশ সরকারকে তীব্র ভৎসনা করে। প্রধান বিচারপতি এনভি রামান্না বলেন, “আমরা রিপোর্টের জন্য মঙ্গলবার রাত ১টা অবধি অপেক্ষা করেছি। কিন্তু কোনও রিপোর্টই জমা পড়েনি। আপনারা কি বিষয়টাকে ছেলেখেলা মনে করছেন। ” বিচারপতি হিমা কোহলি বলেন, “আমাদের মনে হচ্ছে আপনারা পা ঘষে চলছেন। দয়া করে এই মনোভাব ছাড়ুন।”

প্রধান বিচারপতির প্রশ্নের জবাবে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের আইনজীবী হরিশ সালভে বলেন, বুধবার এই রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। সালভের ওই বক্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই প্রধান বিচারপতি ফের প্রশ্ন করেন, “যদি শুনানি শুরু হওয়ার কয়েক মিনিট আগে আপনারা রিপোর্ট জমা দেন, তবে আমরা ওই রিপোর্ট কীভাবে পড়ব? শুনানির অন্তত একদিন আগে রিপোর্ট জমা দেবেন, এটা তো আশা করা যায়। আমরা তো মুখ বন্ধ খামে রিপোর্ট চাইনি।” রিপোর্ট জমা দিয়ে আইনজীবী সালভে শুক্রবার শুনানির জন্য আবেদন জানান। প্রধান বিচারপতি অবশ্য সাফ জানিয়ে দেন, তাঁরা আজই রিপোর্ট পড়বেন। ২৬ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

ওই দিন রাজ্য সরকারকে ফের একটি রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি রামান্নার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ। শীর্ষ আদালত তার নির্দেশে জানিয়েছে, লখিমপুরের ঘটনায় কাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং কী কারণে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য ওই রিপোর্টে জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সমস্ত সাক্ষীদের বয়ান রেকর্ড করার নির্দেশও দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে বেঞ্চ বলেছে, “এটা যেন কোনও অসমাপ্ত গল্পে পরিণত না হয় সে দিকে খেয়াল রাখবেন।”

এদিন শুনানি চলাকালীন শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ উত্তরপ্রদেশ সরকারের কাছে জানতে চায়, “লখিমপুরের ঘটনায় আপনারা বলেছিলেন ১৬৪ জন সাক্ষী রয়েছে। তাদের মধ্যে মাত্র ৪৪ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তা হলে বাকিদের সাক্ষ্য কোথায় গেল?” জবাবে আইনজীবী সালভে বলেন, “জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া এখনও চলছে। দুটি অপরাধের কারণে সমস্ত প্রধান অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রথম অপরাধ হল গাড়ির ধাক্কা দিয়ে সাধারণ মানুষকে মারা। দ্বিতীয় অপরাধ হল, গাড়িতে থাকা দুইজনকে মারধর করে হত্যা করা। ঘটনাস্থলে বিপুল ভিড় থাকায় তদন্তে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল।” সালভের জবাবে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ পাল্টা বলে, “পুলিশ সাক্ষীদের সকলকে জিজ্ঞাসাবাদ না করলে আমরা সমস্ত তথ্য জানতে পারব না। তাই এটা যেন কোনওভাবেই অসমাপ্ত গল্পে পরিণত না হয় সে দিকে সতর্ক থাকবেন।” ২৬ অক্টোবর মামলার পরবর্তী শুনানির দিন সরকারের তরফে পরবর্তী রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।

লখিমপুরে কৃষক হত্যার প্রতিবাদে বাংলায় রেল রোকো আন্দোলন

অনলাইন ডেস্ক: উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরের গাড়ি চাপা দিয়ে কৃষক হত্যা, কৃষি ও কৃষক বিরোধী তিনটি কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে রেল রোকো চলছে। সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার আহ্বানে এই কর্মসূচিতে নেমেছে রাজ্যে বাম কৃষক সংগঠনগুলি।

সিপিআইএমের কৃষক সংগঠন সারা ভারত কৃষকসভার নেতৃত্বে আন্দোলন বিরাট ভূমিকা নিয়েছে। রাজ্যের সর্বত্র চলছে রেল রোকো। বাঁকুড়ায়। ওন্দা স্টেশনে রেল রোকো কর্মসূচি পালন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন কৃষকসভার বাঁকুড়া জেলা সম্পাদক যদুনাথ রায় ও জেলা সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য তরুণ সরকার সহ অন্যান্যরা। 

তবে কৃষষ আন্দোলনে প্রতিবেশী বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক হামলার নিন্দা জানানো হয়। হামলার কড়া নিন্দা করেছে সিপিআইএম পলিটব্যুরো। একইসঙ্গে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সাম্প্রদায়িক মনোভাব ও রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সমালোচনাও করেছে সিপিআইএম। উত্তরপ্রদেশে কৃষকদের পিষে মারার নায়ককে আড়াল করতে সে রাজ্যে বিজেপি সরকারের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেন বাম নেতারা। এক ঘন্টার অবরোধে খড়্গপুর-আদ্রা শাখায় রেল চলাচল ব্যাপক বিঘ্নিত হয়। সমস্যায় পড়েন সাধারণ রেলযাত্রীরা।

চাপের মুখে লখিমপুরের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত আশিসকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজত

Ashish Mishra

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: উত্তরপ্রদেশের লখিমপুরে গাড়িচাপা দিয়ে চার কৃষককে খুন করার ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশিস মিশ্র (Ashish Mishra)। শনিবার দীর্ঘ ১২ ঘন্টা জেরার পর তাঁকে গ্রেফতার করেছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

আশিসকে রবিবারে আদালতে তোলা হয়। রবিবার আদালত আশিসকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু আদালতের সেই নির্দেশকে কেন্দ্র করে প্রথম থেকেই তৈরি হয়েছিল বিতর্ক। রাজনৈতিক মহল থেকে আইনজীবীরা সকলেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে কেন পুলিশ নিজেদের হেফাজতে চাইল না?

শেষ পর্যন্ত পুলিশের দাবি মেনে সোমবার আশিসকে তিন দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পুলিশের দাবি, তদন্তে সহযোগিতা করছে না মন্ত্রীপুত্র।

এদিন শুনানি শুরু হলে পুলিশ আদালতকে জানায়, ৩ অক্টোবর ঘটনার দিন কৃষক হত্যার সময় তিনি কোথায় ছিলেন তা কিছুতেই বলছেন না আশিস। ঘটনাস্থল থেকে দু’টি কার্তুজের খোল মিলেছিল। কৃষকদের অভিযোগ, আশিসের বন্ধুরাই গুলি চালিয়েছিল। কিন্তু আশিস দাবি করছেন, কেউ গুলি চালায়নি।

মন্ত্রী অজয় মিশ্র বলেছিলেন, লখিমপুরের ঘটনার সময় তাঁর ছেলে অন্য একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, ওই দিন দুপুর দুটো থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত সেই অনুষ্ঠানে ছিলেন না আশিস। তার ফোনের লোকেশন পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, ঘটনার সময় তিনি লখিমপুরের কাছাকাছিই ছিলেন।

এরপরই উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এদিন আদালতে স্পষ্ট জানায়, মন্ত্রীপুত্র আশিস তদন্তে আদৌ সহযোগিতা করছে না। এই মামলার তদন্তে আশিসকে আরও জেরা করা প্রয়োজন। এজন্য আশিসকে পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়া হোক। অন্যদিকে আশিসের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেল ঘটনা সম্পর্কে যতটা জানেন ততটাই বলেছেন। কিন্তু পুলিশ তাঁর মুখ দিয়ে অন্য কথা বলাতে চাইছে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত সোমবার আশিসকে তিন দিনের জন্য পুলিশি হেফাজতে পাঠায়।

অন্যদিকে উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সভাপতি স্বতন্ত্র সিং এদিন লখিমপুরের ঘটনার কথা টেনে বলেন, নেতা হওয়া মানে এই নয় গাড়িচাপা দিয়ে মানুষ মারতে হবে। রাজনীতি করতে হলে সবার আগে ব্যবহার ঠিক করতে হবে। কারণ মানুষ একজন রাজনীতিবিদের ব্যবহার লক্ষ্য করে তবেই ভোট দেন। রাজনীতি মানে সমাজসেবা, কারও প্রাণ কেড়ে নেওয়া নয়।

অন্যদিকে যত সময় যাচ্ছে ততই বিরোধীরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছে। বিরোধীদের দাবি, অজয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকলে তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত হবে না।