ভবানীপুর উপনির্বাচন: মমতার বিরুদ্ধে বিজেপি প্রার্থী হওয়ার ইঙ্গিত শুভেন্দুর

Shuvendu in front of Mamata

নিউজ ডেস্ক: আগামী একমাস রাজ্য রাজনীতির নজর থাকবে কলকাতার ভবানীপুরে। কারণ, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর এখানেই ভাগ্য নির্ধারণ হবে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা নয়, ভাগ্য নির্ধারণ হবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতার। নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ২ হাজারেরও কম ভোটে হেরে যান মমতা বন্দ্যপাধ্যায়। ফলে মুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকতে হলে, নিয়ম মতো ছ’মাসের মধ্যে কোনও একটি কেন্দ্র থেকে জিতে আসতে হবে তাঁকে।

নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা হওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই, ভবানীপুরসহ তিন কেন্দ্রের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রত্যাশা মতোই এবার ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপির রুদ্রনীল ঘোষকে হারিয়ে দেওয়ার পরেও মুখ্যমন্ত্রীকে আসন ছেড়ে দিয়েছেন তৃণমূলের প্রবীন নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

এবার মমতার বিরুদ্ধে কে হবেন ভবানীপুরের পদ্মশিবিরের প্রার্থী? রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা এর উত্তর নিয়েই। অনেকে রুদ্রনীল ঘোষের প্রার্থী হওয়ার কথা শোনা যাচ্ছিল৷ তবে সেই বিতর্ক বাড়িয়েছেন নন্দীগ্রামের বিজেপি বিধায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

রবিবার শিক্ষক দিবসের এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অধিকারী বাড়ির মেজছেলে বলেন, ‘কে বলেছিল আপনাকে নন্দীগ্রামে আসতে ? এখন যদি আমাকে পার্টি বলে ভবানীপুরে আপনার বিপক্ষে দাঁড়াতে কী হবে তাহলে? আপনি নন্দীগ্রাম গিয়েছিলেন। এবার আমি এখানে আসি? মনে রাখবেন ওখানে কিন্তু ১৯৫৬ ভোটে হারিয়ে দিয়েছি, যেখানে ২৪ শতাংশ দুধেল গাই ছিল।’ ফলে শুভেন্দুর এই ইঙ্গিতবাসী বার্তা নিয়ে জোর বিতর্ক এবং জল্পনা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে৷ অনেকেই মনে করছে, তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীকে চাপে রাখতে শুভেন্দু পদ্ম-প্রার্থী হতে পারেন৷

ধপাস! বাংলার মাটি থেকে পা সরে গেল বিজেপির: ফিরহাদ

নিউজ ডেস্ক: আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ভবানীপুর কেন্দ্রে উপনির্বাচনের ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী থাকতে হলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই আসনে জয় পেতেই হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ভোট গণনা হবে ৩ অক্টোবর। এ ছাড়া একই সময়ে নির্বাচন ও ভোট গণনা হবে রাজ্যের আরো দুই আসন সমশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরে। ভবানীপুর-সহ বাকি ৭টি বিধানসভা আসনে ভোট করানোর দাবিতে বার বার কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি ছিল, রাজ্যো করোনা সংক্রমণ অনেকটাই কম। তাই ভোট করানো যেতে পারে।

আরও পড়ুন ত্রিপুরা: মমতার টার্গেট কংগ্রেস ভোট! সন্তোষমোহন কন্যা সুস্মিতায় আপ্লুত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার

তারপরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সমর্থনে দেওয়াল লিখন করতে নামলেন ফিরহাদ হাকিম (Fihad Hakim)। ফিরহাদ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরের ঘরের মেয়ে। কারণ তিনি জন্মেছেন ভবানীপুরে, বড় হয়েছেন ভবানীপুরে এবং দীর্ঘদিন ধরে ভবানীপুরে বিধায়ক ছিলেন। এবারও এই কেন্দ্রের বিধায়ক হতে চলেছেন।”

আরও পড়ুন মমতা ও TMC বিধায়কদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য দেবে না রাজ্য লোকায়ুক্ত

আরও পড়ুন সেপ্টেম্বর ভয়: মমতার আগরতলা গমনে বিজেপি সরকার সংখ্যালঘু হওয়ার দিকে

নির্বাচনের দিন ঘোষণা করার জন্য কমিশনকেও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। ফিরহাদ হাকিম বলেন, “ধন্যবাদ জানাই কমিশনকে। দেরিতে হলেও ন‍্যায়ের বিচার হয়েছে। বিজেপি গণতন্ত্রের দোহাই নিয়ে রাজনীতি চেষ্টা করে। আর তৃণমূল কংগ্রেস গণতন্ত্র রক্ষা করে। বিজেপি ভেবেছিল বাংলার মাটিতে পা পড়বে। বাংলার মাটি থেকে বিজেপির পা সরে গিয়েছে।”

আরও পড়ুন একবছর হয়ে গেল বাণিজ্য সম্মেলনের তথ্য চেয়েও পাইনি, রাজ্যকে আক্রমণ ধনখড়ের

তৃণমূল মোট ২১৩ টি সিট পেয়ে ক্ষমতায় এসেছিল বিধানসভা নির্বাচনে। তারপরেও ভারতীয় জনতা পার্টি থেকে প্রায় ছ’জন বিধায়ক যোগ দিয়েছেন রাজ্যের শাসকদলে। সেই সংখ্যাটাও আরও বাড়তে পারে। এবার উপনির্বাচনে সেই আসন সংখ্যা আরও বাড়ানোর সুযোগ এসেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের কাছে।

মমতা ও TMC বিধায়কদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য দেবে না রাজ্য লোকায়ুক্ত

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক: সম্ভাবনা ছিলই? ঠিক তেমনই হয়েছে। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারের কোনও মন্ত্রী বিধায়কের বিরুদ্ধে দূর্নীতির তথ্য দেওয়া হবে না৷ এমন জানিয়ে দিল রাজ্য লোকায়ুক্ত। এর জেরে রাজনৈতিক হাওয়া ফের গরম হতে চলেছে।

পরপর তিনবার ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও ক্ষমতাসীন দলটির বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন, কেন সরকারে থাকা দল টিএমসি ও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লোকায়ুক্ত (Corruption monitoring & controlling body) নিষ্ক্রিয়।

রাজ্য লোকাযুক্ত সাফ জানিয়েছে, কোনওভাবেই মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সরকারের কোনও মন্ত্রী বিধায়কের বিরুদ্ধে দূর্নীতির তথ্য দেওয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে এবার আদালতে যাওয়ার পথ বিরোধী বিজেপির।তবে বিধানসভায় না থাকলেও সিপিআইএম সহ অন্যান্য বিরোধীরাও আদালতের দরজায় যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।

আগেই মুখ্যমন্ত্রীকে লোকায়ুক্তের আওতার বাইরে আনার লক্ষ্যে আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। বিধানসভায় সেই শক্তি তাদের রয়েছে। তবে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে শাসক পক্ষ আইন বদলে ফেললেও আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা ভাবছে বিরোধীরা।

মমতা-সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশিদের ভুয়ো ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার অভিযোগ দিলীপের

Dilip Ghosh and mamata banerjee

নিউজ ডেস্ক: ভুয়ো আইএএস, ভুয়ো সিবিআই, ভুয়ো সিআইডি অফিসার, ভুয়ো মানবাধিকার সংগঠনের কর্ণধার… গত কয়েকদিনে রাজ্যে বহু ‘ভুয়ো’ পদাধিকারী ধরা পড়েছে। স্বভাবতই তাতে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছে বিরোধী দলগুলি।

আরও পড়ুন ত্রিপুরা: মমতার টার্গেট কংগ্রেস ভোট! সন্তোষমোহন কন্যা সুস্মিতায় আপ্লুত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার

এবার একধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁর দলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ আনলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। বাংলাদেশি নাগরিকদের ভুয়ো ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হচ্ছে, এবং ভোটব্যাঙ্ক বাড়ানোর লোভে তা করছে রাজ্যের তৃণমূল সরকার। এমনটাই দাবি করেছেন দিলীপ। 

আরও পড়ুন একবছর হয়ে গেল বাণিজ্য সম্মেলনের তথ্য চেয়েও পাইনি;, রাজ্যকে আক্রমণ ধনখড়ের

কয়েক ঘন্টা আগেই জাল সরকারি পরিচয় পত্র তৈরি চক্রের মূল পান্ডা শেখ গোলাম মোর্তজাকে গ্রেফতার করেছে লেক টাউন থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর আমডাঙার বাসিন্দা এই অভিযুক্ত নিউটাউন এলাকায় ভুয়ো সরকারি নথি এবং ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির কাজ চালাতো।

আরও পড়ুন উত্তরে বিজেপির ধস নামছে, চিন্তা বাড়ছে দিলীপ-শুভেন্দুর

কিছু টাকা দিলেই পাওয়া যেত ভুয়ো নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র। গত ১৯ জুন ভুয়ো নথি সহ এক বাংলাদেশী নাগরিককে গ্রেফতার করে লেক টাউন থানার পুলিশ। তাঁর কাছ থেকেই উঠে আসে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। বেআইনি ভাবে প্রবেশের পর টাকা দিয়ে তৈরি করেছিল ভারতীয় নাগরিকত্বের জাল নথি। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে লেকটাউন থানার পুলিশ। 

‘একবছর হয়ে গেল বাণিজ্য সম্মেলনের তথ্য চেয়েও পাইনি’, রাজ্যকে আক্রমণ ধনখড়ের

নিউজ ডেস্ক: ফের ‘অপমানিত’ রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। টুইটারে অভিযোগ করলেন গত বছরের ২৫ আগস্ট বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটের (Bengal Global Business Summit) বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য চেয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। এক বছর কেটে গেলেও রাজ্য এখনও তা পাঠায়নি। গত বছর রাজ্যে শিল্প সম্মেলনকে নিশানা করে টুইট করেন রাজ্যপাল। সেখানে তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে শুরু হওয়া বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটের বিষয় অর্থ সচিবের কাছে জানতে চেয়েছি। অর্থসচিবের কাছ থেকে বিজনেস সামিট নিয়ে মোট ছটি বিষয় জানতে চেয়েছেন বলে জানিয়েছিলেন ধনকড়।

আরও পড়ুন ত্রিপুরা: মমতার টার্গেট কংগ্রেস ভোট! সন্তোষমোহন কন্যা সুস্মিতায় আপ্লুত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার

বিষয়গুলি হল-২০১৬ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রতি বছর কত টাকা খরচ হয়েছে? কোন কোন সংস্থার মাধ্যমে এই টাকা খরচ হয়েছে? সংস্থাটি কি সরাসরি টাকা পেয়েছে নাকি, FICCI,-র মাধ্যমে পেয়েছে? প্রতি বছর কতগুলি মউ সই হয়েছে, লগ্নি ও চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে? প্রতি বছর আসলে কত বিনিয়োগ এসেছে, ক’জন কাজ পেয়েছেন?

আরও পড়ুন ত্রিপুরা: সন্তোষ মোহনের নেতৃত্বে বাম হটিয়ে কংগ্রেস সরকার গড়েছিল, সুস্মিতায় বাজি মমতার

https://twitter.com/jdhankhar1/status/1433363778842738695?s=20

এক বছর কেটে যাওয়ার পরেও সেই তথ্য না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন রাজ্যপাল। টুইটারে লিখলেন, “২০২০ সালের ২৫ আগস্ট বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটের ১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য চেয়েছিলাম। কিন্তু একবছর কেটে যাওয়ার পরে এখনও তা পাইনি।”

আরও পড়ুন শরিয়তি আইনে চলা আফগানিস্তান থেকে উইঘুর মুসলিমদের চিনে পাঠাবে তালিবান

ধনখড়ের এই অভিযোগের পরেই তাঁকেও আক্রমণ করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব। পালটা টুইট করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন তিনি লিখেছেন, “আমি রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়কে পরামর্শ দিচ্ছি সুকুমার রায়ের পাগলা দাশু পড়ার। আশা করি উনি সেটা উপভোগ করতে পারবেন এবং ওনার ভালো লাগবে।””

ত্রিপুরা: মমতার টার্গেট কংগ্রেস ভোট! সন্তোষমোহন কন্যা সুস্মিতায় আপ্লুত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর পরিবার

Susmita Dev

#Susmita Dev
নিউজ ডেস্ক: বাবার ভূমিকায় কন্যা! এমনই মনে করছে ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহল। এই রাজ্য ও অসমের একসময়ের জবরদস্ত সাংসদ সন্তোষমোহন দেব কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের অন্যতম স্তম্ভ ছিলেন। তিনিই ত্রিপুরায় প্রথমবার বাম সরকার হটিয়ে কংগ্রেসকে ক্ষমতা আনেন। সেই সন্তোষমোহন কন্যা সুস্মিতা দেব এখন আবেগ রাজনীতি হাতিয়ার করেছেন বলে শাসক বিজেপি ও বিরোধী সিপিআইএমের কটাক্ষ।

ত্রিপুরায় গত নির্বাচনগুলিতে তৃণমূলের প্রাপ্তি ০.৩ শতাংশ ভোট। এই শক্তি নিয়েই একক সংখ্যাগরিষ্ঠ বিজেপি ও রাজ্যে টানা ২৫ বছরের সরকারে থাকা সিপিআইএমের বিরুদ্ধে লড়তে নেমেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

ত্রিপুরায় তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে এখনও পর্যন্ত উত্তর পূর্বাঞ্চলের যে হেভিওয়েট মুখ টিএমসি ব্যবহার করছে তিনি প্রয়াত সন্তোষমোহন দেবের কন্যা সুস্মিতা। অসমের শিলচর থেকে দুবারের কংগ্রেস সাংসদ সুস্মিতা দেব সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেন কলকাতায়। এর পরেই তাঁকে ত্রিপুরায় পাঠান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

আগরতলা পৌঁছেই সুস্মিতা দেব পুরনো দল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বার্তা দিয়েছেন। মনে করা হচ্ছে, কংগ্রেসের ভোটব্যাংকটি তৃণমূল কংগ্রেসের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই যেন সুস্মিতা দেব দেখা করলেন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী সুধীররঞ্জন মজুমদারের স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্যদের সঙ্গে।

তাৎপর্যপূর্ণ, সন্তোষমোহন দেব ত্রিপুরার সাংসদ থাকাকালীন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সুধীরবাবু। অসমের বরাক উপত্যকার শিলচরের নেতা সন্তোষমোহন দেব ও সুধীররঞ্জন মজুমদারের মধ্যে সখ্যতা ছিল। সুস্মিতা দেব জানান, বাবার সঙ্গে পুরনো সম্পর্কের কারণেই আমি সুধীরবাবুর বাড়ি এসেছি। নেহাত সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, রাজনৈতিক কৌশলই এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে আগরতলা ও কলকাতার রাজনৈতিক মহল। সন্তোষমোহন দেব অসমের শিলচর থেকে ৫ বার ও ত্রিপুরা থেকে ২ বার সাংসদ হন। ইন্দিরা গান্ধীর পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ শিলচরের দেব পরিবার। সেই সূত্রে সন্তোষমোহন হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ভারি শিল্পমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে ১৯৮৯ সালে ত্রিপুরায় প্রথম বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। ক্ষমতা হারার কিংবদন্তি সিপিআইএম নেতা নৃপেন চক্রবর্তী। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন সুধীররঞ্জন মজুমদার।

প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন আগরতলার গান্ধীঘাট এলাকায়। সেখানেই যান সুস্মিতা দেব। তিনি বলেন, প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী সুধীর রঞ্জন মজুমদারের পরিবারের সাথে দেখা করাটা হলো ব্যক্তিগত সাক্ষাৎ। কারণ উনার পিতা ত্রিপুরা রাজ্যে তৎকালীন সময়ের সাংসদ ছিলেন। বর্তমানে ত্রিপুরা রাজ্যে যে সন্ত্রাসের বাতাবরণ চলছে তার তীব্র নিন্দা জানান তিনি।

সুস্মিতা দেব বলেছেন, গণতন্ত্রের দেশে সকলের অধিকার আছে রাজনীতি করার। জনগণের স্বার্থে যা করার তা করবেন তিনি। ত্রিপুরার স্বার্থে সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসতে পারেন কংগ্রেসের নেতৃত্ব এবং কর্মীরা। তাদের সঠিক সম্মান দেওয়া হবে। তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে ত্রিপুরা রাজ্যের মূল শত্রু হলো বিজেপি। কংগ্রেসেরও শত্রু বিজেপি। রাজ্যের মাটিতে তৃণমূল কংগ্রেসকে প্রতিষ্ঠা করতে ত্রিপুরার রাজনৈতিক আবেগ ও চাহিদা বুঝতে চান দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে জানান সুস্মিতা দেব।

পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ছিলেন সুস্মিতা দেবের সঙ্গে। তিনি বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুনামির ঝড় ত্রিপুরা রাজ্যের মাটিতে আছড়ে পড়তে শুরু করেছে। বিজেপি’র বিদায় ঘন্টা বেজে গেছে বলে জানান তিনি। তিনি বিজেপি বিধায়ক ও প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা সুদীপ রায় বর্মনকে মমতা শিবিরে ফের ফিরে আসার আহ্বান জানান।

কলকাতা লিগে নেই ইস্ট-মোহন, ‘বাংলার ফুটবল’ বাঁচাতে এবার মুখ্যমন্ত্রীর দ্বারস্থ আইএফএ কর্তারা

স্পোর্টস ডেস্ক: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হস্তক্ষেপে বিনিয়োগকারী সংস্থা শ্রী সিমেন্টের (Shree Cement) সঙ্গে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের (East Bengal) চুক্তি নিয়ে সমস্যা মিটে গিয়েছে। গতবারও তাঁর উদ্যোগেই ইন্ডিয়ান সুপার লিগে অংশ নিয়েছিল লাল-হলুদ বাহিনী। এবার বাংলার ফুটবলকে বাঁচাতে আইএফএ-র কর্তারাও দ্বারস্থ হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

আরও পড়ুন শুভ ঘোষ-আদিল খানকে দলে নিয়ে চমক দিল এসসি ইস্টবেঙ্গল

দুই প্রধানকে এবার কলকাতা লিগে খেলতে দেখা যাবে না। সেই ঘটনা জানাতেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গেলেন ইন্ডিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্তারা। রবিবার ছিল এটিকে মোহনবাগানের খেলা। প্রতিপক্ষ রঞ্জন ভট্টাচার্যের জর্জ টেলিগ্রাফ। কল্যাণী স্টেডিয়ামে জর্জের ফুটবলার-সহ কোচ, কর্তারা উপস্থিত থাকলেও দল নামায়নি এটিকে-মোহনবাগান। আজ, মঙ্গলবার কল্যাণীতে ভবানীপুরের বিরুদ্ধে ম্যাচ ছিল এসসি ইস্টবেঙ্গলের। যথারীতি তারাও টিম নামায়নি। জর্জের কোচ রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “ঘরোয়া লিগে ছোট দলের ফুটবলাররা প্রস্তুতি নেয় বড় ম্যাচে খেলবে বলে। মোহনবাগান, এসসি ইস্টবেঙ্গল, মহামেডানের মতো দলগুলোর বিপক্ষে খেললে খেলোয়াড়দের মনোবল বাড়ে। সেটাই এবার সম্ভব হল না।”

কলকাতা লিগে এবার দেখা যাবে না এই চিরপরিচিত দৃশ্য।

মোহনবাগান পৌঁছে গিয়েছে এএফসি কাপের মূলপর্বে। তার উপর জাতীয় দলের হয়ে নেপালে খেলতে চলে গিয়েছেন পাঁচজন ফুটবলার। সেপ্টেম্বরে মূলপর্বের খেলা হওয়ায় দেশেও ফিরে গিয়েছেন দলের অনেক ফুটবলার। ফলে কলকাতা লিগে দল নামাবে না বলে অনেক আগেই আইএফএকে জানিয়েছিল ক্লাব। সৃঞ্জয় বোস জানিয়েছেন, “আগেই বলেছিলাম, আবার শনিবার মেল করে আমরা জানিয়েছিলাম, আমাদের পক্ষে ঘরোয়া লিগে খেলা এবার সম্ভব নয়। এটাতো দেশের সম্মানের প্রশ্ন। তাই আমরা আইএফএ-র সহযোগিতা চেয়েছি। তাছাড়া এবার কোভিড পরিস্থিতির দরুন সেভাবে প্র্যাকটিসও হয়নি।”

বল দখলের লড়াইয়ে কাতসুমি-সৌমিক।

অন্যদিকে সবে চুক্তি সমস্যা মেটার পর দলগঠনে নেমেছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। ফলে প্র্যাকটিস ছাড়া দল নামাতে রাজি নন তারাও। লাল-হলুদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০ সেপ্টেম্বরের আগে তাঁদের পক্ষে কলকাতা লিগে দল নামানো অসম্ভব। তারপর খেলতে তাঁদের আপত্তি নেই। যদিও কলকাতা লিগ চলাকালীনই হয়তো আইএসএলেরও খেলা পড়ে যাবে, ফলে আইএফএ কর্তারা ইস্টবেঙ্গলের মাঠে না নামার বিষয়ে একপ্রকার নিশ্চিত। ফলে বাংলার ফুটবলের এই তথৈবচ অবস্থার কথা জানিয়ে বিহিত চাইতেই নবান্ন যাচ্ছেন আইএফএ কর্তারা।

উপনির্বাচন কবে? মমতার মুখ্যমন্ত্রীর পদ হারানোর সম্ভাবনা প্রবল

Mamata Banerjee facing political threat

#Mamata Banerjee
নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা ভোটে পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হয়ে হেরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তবে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) বিপুল জয় পেয়েছে। সেই সুবাদে মুখ্যমন্ত্রীর পদে তিনিই আছেন। তবে বিজেপির কটাক্ষ ‘হেরো মমতা’ কতদিন এভাবে চালাবেন রাজ্য। তিনিই পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র মুখ্যমন্ত্রী যিনি সাম্প্রতিক ভোটে হেরে কুর্সিতে বসেছেন।

প্রধান বিরোধী দল বিজেপির ( BJP) এই কটাক্ষের পিছনে রয়েছে তীব্র সাংবিধানিক সংকটের ইঙ্গিত। কারণ, গত মে মাসে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তিনি বিধায়ক নন। নিয়মানুসারে পদে থাকতে হলে ৬ মাসের মধ্যে উপর্নিবাচনে (By election) জিতে আসত হবে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীকে তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে।

বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর চার মাস পার হচ্ছে উপনির্বাচনের কোনও নামগন্ধ নেই রাজ্যে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে উদ্বেগ বাড়ছেই। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উপনির্বাচন কবে হবে?

Mamata Banerjee facing political threat

সবের মূলে করোনা সংক্রমণ। কিন্তু মমতা তথা রাজ্য সরকারও প্রতিযুক্তি দেখিয়েছে। কেন্দ্র সরকারের তথ্য, স্বাস্থ্যমন্ত্রকের তথ্য দেখিয়ে তৃ়নমূল কংগ্রেস সরকারের দাবি পশ্চিমবঙ্গের করোনা সংক্রমণ এখন নিম্নগামী। এই অবস্থায় ভোট হতেই পারে।

সেপ্টেম্বরে উপনির্বাচন করাতে মরিয়া। কারণ অক্টোবর মাসে শারদীয়া উৎসব। দুর্গা পূজার সময় কোনওভাবেই নির্বাচন করানো সম্ভব নয়। সময় পার হচ্ছে দ্রুত। ৬ মাস সময়ের মধ্যে হাতে আছে দুমাস। এর মধ্যে উপনির্বাচন না হলে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পদত্যাগ করতে হবে। যেহেতু তিনি নির্বাচিত বিধায়ক নন, আর বিধান পরিষদ গঠন কেন্দ্রের সহমতির উপর নির্ভর করছে ফলে বিধান পরিষদ (MLC) সদস্য হয়ে ঘুরপথে কুর্সি রাখা সম্ভব না।

তৃ়নমূল কংগ্রেসের দাবি রাজ্যে যে সাতটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন হবে সরকটিতেই করোনা সংক্রমণ নেই বললেই চলে। বিশেষ করে কলকাতার ভবানীপুরের পরিস্থিতি তুলে ধরছে টিএমসি। এই কেন্দ্রের বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় পদত্যাগ করেছে। কেন্দ্রটিতেই ফের প্রার্থী হবেন মমতা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, প্রবল করোনা সংক্রমণের মাঝে বিধানসভা ভোট হয়েছিল। এখন সংক্রমণ তেমন নেই, তবে বিজেপি যে করেই হোক নির্বাচন আটকে দিতে চাইছে। গণতান্ত্রিক পথ তারা নিচ্ছে না। উপনির্বাচন যাতে দ্রুত করানো হয় এমন আবেদন জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করে তৃণমূল কংগ্রেস। একইভাবে রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরেও আবেদন জানানো হয়েছে। কিন্তু কমিশন নীরব!

যদি উপনির্বাচন না হয়?
তাহলে পশ্চিমবঙ্গ অভূতপূর্ব রাজনৈতিক মোড় নিতে চলেছে বলেই মনে করছেন সংবিধান বিশেষজ্ঞরা। একাংশের যুক্তি, রাজ্যে সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম, বিধানসভা নির্বাচন শেষ হওয়ার ৬ মাসের মধ্যেই উপনির্বাচন করতে হয়। ফলে কমিশনও স্বস্তিতে নেই খুব একটা।

সেপ্টেম্বর ‘ভয়’: মমতার আগরতলা গমনে বিজেপি সরকার সংখ্যালঘু হওয়ার দিকে

Mamata Banerjee

নিউজ ডেস্ক: আসছে সেপ্টেম্বর মাসে কী জানি কী হয়! এমনই ভয় ছড়িয়ে ত্রিপুরা (Tripura) প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে। আসছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তাঁর উপস্থিতিতে বড়সড় ধস নামতে পারে সরকারপক্ষে। ফলে ত্রিপুরায় বিজেপি (TMC) জোটের ডবল ইঞ্জিন সরকার লাইনচ্যুত হওয়ার গুঞ্জন উত্তর পূর্বাঞ্চলের সব রাজ্যে। সেপ্টেম্বরেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগরতলায় জনসভা হতে চলেছে।

তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগরতলার আস্তাবল ময়দানে (বর্তমান স্বামী বিবেকানন্দ স্টেডিয়াম) তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রীর জনসভা হবে। সেখানেই বিজেপির অন্তত ১২ জন বিধায়ক ফের ফিরতে পারেন তৃণমূল কংগ্রেসে।

কলকাতায় টিএমসি সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন ত্রিপুরা সরকারের বিদ্রোহী তথা সংস্কারপন্থী বিধায়করা। নেতৃত্বে রয়েছেন সুদীপ রায় বর্মণ। তিনি মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের (Biplab Deb) প্রবল প্রতিপক্ষ।

সুদীপবাবুর হাত ধরেই গত বিধানসভা ভোটের আগে বিরোধী দল কংগ্রেস ছেড়ে এই বিধায়করা টিএমসিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে ত্রিপুরায় টিএমসি হয়েছিল বিরোধী দল। মমতা-সুদীপ সখ্যতা বেশিদিন চলেনি। সুদীপবাবুর রাজনৈতিক গুরু মুকুল রায় বিজেপিতে যান। সেই সূত্রেস সুদীপবাবু টিএমসি ত্যাগ করে বিজেপিতে যান। নির্বাচনে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। বিজেপি-আইপিএফটি জোট এখন সরকারে।

ত্রিপুরায় বিজেপি প্রথমবার সরকার গড়ে। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন সুদীপবাবু। তবে সরকারের কাজে লাগাতার অসন্তোষ দেখাতে থাকেন। তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরানো হয়। শুরু হয় সুদীপবাবুর বিদ্রোহ।

গত চার বছরে ত্রিপুরা বিজেপির অন্দরে সুদীপবাবুর অনুগামীরা বিতর্কিত স্লোগান চালু করেছেন, ‘বিপ্লব হটাও ত্রিপুরা বাঁচাও’। এই বিদ্রোহী বিধায়কদের সবাই সরাসরি তৃণমূলে ফিরতে মরিয়া। তাঁরা দলত্যাগ করলে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাবে বিজেপি।

ত্রিপুরা বিধানসভা এখন এমন-
tripura bidhansavaপশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার গড়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুুকুল রায় বিজেপি ছেড়ে মমতা শিবিরে ফিরেছেন। সেই থেকে ত্রিপুরায় ফের মুকুল শিষ্য সুদীপ বর্মণ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমীকরণ জমাট হতে শুরু করেছে।

রাজ্যে ০.৩ শতাংশ ভোট নিয়ে টিএমসি শুরু করেছে ‘খেলা হবে’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আগরতলা সফরে কী ঘটবে তা স্পষ্ট জানেনা বিজেপি। প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের দাবি, কোনও অবস্থায় বাম বিধায়করা পক্ষত্যাগ করবেন না।

কয়লাকাণ্ডে দিল্লির ডাক: অমিত শাহকে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ ত্রিপুরা ‘দখল করব’

Abhishek Banerjee

নিউজ ডেস্ক: একই দিনে সমন ও পাল্টা হুমকির খেলায় কলকাতা-নয়াদিল্লি-আগরতলা সব একাকার। শনিবারই তৃণমূল (TMC) কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) কয়লা কাণ্ডে সস্ত্রীক সমন পেয়েছেন। দিল্লিতে ইডি তলব করেছে।

পশ্চিমবঙ্গে শাসক তৃণমূলের কাছে এটা বড় অস্বস্তির। এর পরেই টিএমসি সাধারণ সম্পাদকের হুঁশিয়ারি, “ত্রিপুরায় (Tripura) তৃণমূল পা রাখতেই বিজেপির (BJP) পা কাঁপতে শুরু হয়েছে। ওখান থেকে মুছে যাবে বিজেপি। ত্রিপুরা ছাড়াও অসম বা অন্য যে সব জায়গায় বিজেপি আছে সব জায়গা থেকে তাদের উৎখাত করা হবে।” হুঙ্কার অভিষেক বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের।

কলকাতায় তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) প্রতিষ্ঠাতা দিবসে অভিষেকের হুঁশিয়ারিতে আগরতলায় পড়ে গেল শোরগোল। কারণ এর আগেও আগরতলা গিয়ে সরাসরি তিনি বলেছিলেন চাইলে যে কোনও সময় ত্রিপুরার বিজেপি জোট সরকার ফেলে দিতে পারেন।

এবার সরাসরি ত্রিপুরা দখলের বার্তা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক। একইসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, “আমি অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ করছি- ক্ষমতা থাকলে তৃণমূলকে রুখে দেখাও।”

তাৎপর্যপূর্ণ শনিবারই কয়লা পাচার কাণ্ডে দিল্লিতে জেরার মুখোমুখি হতে ডাক পেয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক। এদিনই তিনি অমিত শাহকে হুঁশিয়ারি দিলেন। দিল্লি ও কলকাতার রাজনৈতিক হাওয়া গরম হয়েছে এই কারণে।

অন্যদিকে আগরতলা সরগরম। সূত্রের খবর, ত্রিপুরার রাজনৈতিক ছক বদলানোর কাণ্ডারী বর্তমান বিজেপি বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মণ কলকাতায় এসে তৃণমূল শিবিরের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি গত বিধানসভা ভোটের আগে আগে কলকাতায় এসে ত্রিপুরার তৎকালীন বিরোধী দল কংগ্রেসকে শূন্য করেছিলেন। সবাই টিএমসিতে যোগ দেন। পরে তারা সবাই বিজেপিতে চলে যান। ত্রিপুরায় গত বিধানসভা নির্বাচনে সে রাজ্যে টানা ২৫ বছরের বাম শাসনের অবসান হয়। ক্ষমতায় বিজেপি আইপিএফটি জোট।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গে টানা তিনবার সরকার ধরে রেখেছে টিএমসি। তৃতীয়বার জয়ের পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ত্রিপুরা দখলের জন্য দলনেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন। টি়এমসি সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার্তা দিয়েছিলেন, রাজ্যের বাইরে সংগঠনকে প্রতিষ্ঠা করবেন তিনি। ইতিমধ্যেই ত্রিপুরা ও অসমে সংগঠন বিস্তারে মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বাধা বিপত্তি সত্ত্বেও যেভাবে দলে দলে মানুষ ত্রিপুরার রাস্তায় তৃণমূলের মিছিলে সামিল হয়েছেন তাতে স্পষ্ট আগামীদিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ত্রিপুরায় পা রাখলে জনস্রোতের বন্যা বইবে। চ্যালেঞ্জ জানিয়ে অভিষেক বলেন, যতদিন ভারতবর্ষের মাটি থেকে বিজেপির বিদায় ঘন্টা না বাজছে, ততদিন আন্দোলন চলবে।

পশ্চিমবঙ্গে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর করোনা আবহে ভার্চুয়ালি পালিত হচ্ছে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস। এদিন ভার্চুয়ালি দলের যুব কর্মীদের উদ্দেশ্যে বিজেপিকে কড়া বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় বিজেপিকে রুখে দেওয়ার পরে এবার দেশের অন্যান্য রাজ্য থেকেও পদ্ম শিবিরকে মুছে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন অভিষেক। সরাসরি তিনি নিশানা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায় ডায়মন্ডহারবারের সাংসদকে। বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মাটিতে পরাস্ত হয়েছে বিজেপি। তারপর থেকেই রাজ্যের বাইরে সংগঠন মজবুত করতে সক্রিয় হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

অন্য অম্বিকেশ: এবার মমতাকে খুনের হুমকি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের

নিউজ ডেস্ক: ২০১২ সালে একটি কার্টুন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে পড়েছিল। সোনার কেল্লার দৃশ্যর আদলে বানানো মমতা-মুকুল-দীনেশ ত্রিবাদীকে নিয়ে কার্টুনটি ছিল ‘‌দুষ্টু লোক?‌ ভ্যানিশ’‌। ওই কার্টুন-কাণ্ডে ২০১২ সালের এপ্রিলে গ্রেফতার হয়েছিলেন অধ্যাপক অম্বিকেশ মহাপাত্র। তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা চালু রয়েছে এখনও। যদিও তথ্যপ্রযুক্তি আইনের যে ৬৬এ ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছিল, তা ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হয়ে গিয়েছে।

আরও পড়ুন গোয়েন্দা রিপোর্ট: ত্রিপুরায় দূর্বল হচ্ছে বিজেপি, ঘর গোছাচ্ছে মানিক-মমতা

বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ তুলেছিলেন, কার্টুনে ‘ভ্যানিশ’ কথাটি লিখে আসলে তাঁকে মেরে ফেলার বার্তা ছড়ানো হচ্ছে৷ গোটা বিষয়টিকে সাইবার ক্রাইম বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি৷ চলতি বছরেও বিধানসভা ভোটের আগে থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণ শুরু হয়েছিল। নন্দীগ্রামে তাঁর পায়ে চোটের পিছনে ষড়যন্ত্র ছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। একাধিক জনসভা থেকে তিনি দাবি করেছিলেন তাঁকে মেরে ফেলার চক্রান্ত করছে বিরোধীরা। তারপর তিনি তৃতীয়বার রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছেন বিপুল মানুষের জনসমর্থন নিয়ে। তখন থেকেই তাঁর উপর টার্গেট ছিল বলে মনে করেন রাজ্যের গোয়েন্দারা।

এবার সরাসরি তাঁকে খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ফেসবুক গ্রুপে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কাজ নিয়ে তর্কবিতর্ক চলাকালীন হঠাৎ ‘মুখ্যমন্ত্রীকে হত্যা করতে চাই’ বলে ওঠেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপক। তাঁর পর পর মন্তব্য দেখে অনুমান, স্ত্রীর চাকরি না থাকার কারণেও তিনি রাজ্য সরকারকে দায়ী করেছেন। তিনি ওয়েবকুটার সদস্য। জুওলজি বিভাগে অধ্যাপনা করেন। জানা গিয়েছে, এর আগেও একাধিকবার এই অধ্যাপককে ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্য করতে দেখা গিয়েছে। নির্বাচনের আগেও তাঁকে একাধিকবার ফেসবুক কমেন্টের জন্য পরিচিতরা সতর্ক করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

fir copy

অভিযোগকারীদের বক্তব্য, একজন অধ্যাপক যদি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সম্পর্কে এই ভাষায় কথা বলেন তা হলে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে অবশ্যই ভাবতে হয়। তাই তাঁরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে লালবাজারে বিষয়টি জানাবেন। ফেসবুক কমেন্টে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে খুন করার হুমকি পোস্ট করার অভিযোগে অধ্যাপক অরিন্দম ভট্টাচার্যের নামে ইতিমধ্যেই লালবাজারে FIR দায়ের হয়েছে

কালীঘাটের আমন্ত্রণে কলকাতায় সুদীপ বর্মণ, আগরতলায় বিজেপি মহলে ধস আতঙ্ক

Mamata has little scope in N-E beyond Tripura

নিউজ ডেস্ক: আবারও কি ২০১৮ সালের ঠিক আগের অবস্থা ফিরতে চলেছে আগরতলায় ? ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি কার্যালয়ে শুরু হয়েছে আতঙ্ক-ধস আতঙ্ক। নেতৃত্ব বিধায়কদের বড় অংশ ফের তৃ়ণমূল কংগ্রেসে ফিরতে পারেন এমনই গুঞ্জন। কারণ, ত্রিপুরার তাবড় নেতা সুদীপ রায় বর্মণ এখন কালীঘাটের আমন্ত্রণে কলকাতায়।

উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই বাংলাভাষী প্রধান রাজ্যে গত বিধানসভা ভোটের আগে রাতারাতি বিরোধী আসন থেকে মুছে গেছিল কংগ্রেস। কয়েকদিনের জন্য তৃ়নমূল কংগ্রেসের ঘরে বিরোধী দলের তকমা জুটেছিল। সবই হয়েছিল ‘ত্রিপুরার মুকুল রায়’ বলে সুপরিচিত নেতা সুদীপ রায় বর্মণের রাজনৈতিক ছকে।

পরে গুরু মুকুল রায়ের পরামর্শে সুদীপবাবু তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে অনুগামীদের নিয়ে বিজেপিতে যান। ত্রিপুরায় পালাবদল হয়। বামফ্রন্টের টানা ২৫ বছরের সরকার পড়ে যায়। ক্ষমতায় আসে বিজেপি আইপিএফটি জোট। এর পরেই সরকারের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গে সংঘাত শুরু সূদীপ বর্মণের।  সংঘাত তীব্র হয়েছে। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা পারেননি সামাল দিতে। বিপ্লববাবু ও সুদীপবাবুর মধ্যে কথাবার্তা আগেই বন্ধ। দুজনেই পরস্পরকে এড়িয়ে চলেন।

রাজনৈতিক মোড় ঘুরতে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গে পরপর তিনবার তৃণমূল কংগ্রেস সরকারে থেকে যাওয়ায়। বিজেপি ত্যাগ করে মুকুল রায় ফিরে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে। সেই ধাক্কা গিয়ে লাগে ত্রিপুরায়। মুকুল শিষ্য সুদীপ রায় বর্মণ বিজেপি ত্যাগ না করলেও দলের কোনও বিষয়েই নেই। তিনি এখন কলকাতায়।

সিপিআইএমের টানা দু দশকের জমানায় আগরতলার রাজনীতিতে বরাবর প্রভাব রাখা সুদীপ রায় বর্মণ ফের কলকাতায় অবস্থান করছেন কেন? তৃ়নমূল কংগ্রেস নীরব। তবে প্রদেশ বিজেপি ধরেই নিচ্ছে তিনি ফের শিবির পাল্টাবেন। কতজন বিধায়ক যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে? এই প্রশ্ন এখন আগরতলায় সর্বত্র। এমনকি পরিস্থিতি খুব গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিরোধী দল সিপিআইএম। তাদের রাজ্য দফতর দশরথ দেব ভবনেও চাপা আলোচনা-‘সুদীপ বর্মণ ফের ছক করেছে’।

সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলায় গিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন যে কোনও সময়ে ত্রিপুরায় বিজেপির সরকার ফেলে দিতে পারি। তবে নির্বাচিত সরকার পূর্ণ মেয়াদ থাকুক এটা চাই।

এর পর ত্রিপুরায় ক্রমে বাড়ছে টিএমসির রাজনৈতিক কার্যকলাপ। দলটির দখলে এই রাজ্যে ০.৩ শতাংশ ভোট। সেখান থেকে উঠে আসা এবং সরকার ভেঙে দেওয়ার ঘোষণায় যে সুদীপবাবুর ‘ছক’ আছে তা স্পষ্ট বিজেপির কাছে।পূর্বতন বিরোধী দল কংগ্রেস বিধানসভায় এখন শূন্য। তবে কংগ্রেসের ভোট ব্যাংক পেতে মরিয়া টিএমসি। কালীঘাটের আমন্ত্রণে অনেক কিছুই হবে। সেই রাতারাতি সবকিছু পাল্টে যাওয়া? আগরতলায় ধসের আতঙ্ক বিজেপি মহলে।

সুস্মিতার পর পীযুষ, উত্তরপূর্বে ফের কংগ্রেসের বড় মাথা মমতামুখী

mamata banerjee

বিশেষ প্রতিবেদন: ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ালেন বর্ষিয়ান নেতা পীযুষকান্তি বিশ্বাস। সম্ভবত তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিচ্ছেন তিনি।পীযুষবাবুর পদত্যাগে উত্তরপূর্বাঞ্চলে কংগ্রেসের বড় ধাক্কা। তবে তিনি নীরব।

সম্প্রতি অসমের জবরদস্ত কংগ্রেসনেত্রী তথা জাতীয় মহিলা কংগ্রেস সভানেত্রী পদ থেকে সুস্মিতা দেব কলকাতায় এসে টিএমসিতে যোগ দেন। সুস্মিতা দেব অসমের কাছাড় জেলা তথা বরাক উপত্যকার তাবড় নেত্রী। শিলচর থেকে দুবার সাংসদ হন। তিনি প্রয়াত কেন্দ্রীয় ভারি শিল্পমন্ত্রী সন্তোষ মোহন দেবের কন্যা। গান্ধী পরিবারের বিশেষ ঘনিষ্ঠ সুস্মিতা এখন মমতা শিবিরে।৷

সুস্মিতাকে দলে টানার পর ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসে ভাঙন ধরাল টিএমসি বলেই মনে করা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মু়খ্যমন্ত্রী তিনবার পরপর সরকার গড়ার পর অপর বাংলাভাষী প্রধান রাজ্য ত্রিপুরায় নজর দিয়েছেন। টিএমসি সেই লক্ষ্যে আগামী ২০২৩ বিধানসভায় ভোটে ত্রিপুরায় ঝাঁপাচ্ছে।

টিএমসির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগরতলায় সাংবাদিক সম্মেলনে বিরোধী দল সিপিআইএম ও কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন দলের নেতা কর্মীদের টিএমসিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

আগেই বিজেপি ত্যাগ করে আসা সুবল ভৌমিক টিএমসিতে এসেছেন। এবার কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতির পদ ছাড়লেন পীযুষবাবু। তিনি সম্প্রতি টিএমসির ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক সংস্থার কর্মীদের আটক করার বিষয়ে আইনি তদারকি করেন। পীযুষবাবু রাজ্যের অন্যতম আইনজীবী।

গত বিধানসভা ভোটে ত্রিপুরায় টিএমসি ভেঙে বিজেপিতে যান ততকালীন বিরোধী কংগ্রেসের বিধায়করা। ভোটে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। টানা দু দশকের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার এখন বিরোধী নেতা। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। সরকারে বিজেপি আইপিএফটি জোট।

জনপ্রিয়তা কমছে মোদীর, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে দ্রুত এগোচ্ছেন মমতা

Mamata is moving fast in the race to become the Prime Minister

নিউজ ডেস্ক: নরেন্দ্র মোদী। দেশের জনপ্রিয়তম রাজনীতিবিদদের মধ্যে অন্যতম। মাত্র সাত বছর আগে তাঁর জনপ্রিয়তার ঝড়ে বেসামাল হয়ে গিয়েছিল বিরোধীরা। তাঁর একক দক্ষতাতেই কেন্দ্রে ক্ষমতায় এসেছিল ভারতীয় জনতা পার্টি। এখনও দেশের প্রধানমন্ত্রীর মুখ হিসেবে তাঁর নামই সকলের আগে। কিন্তু গত এক বছরে দ্রুতগতিতে সমর্থন কমছে তাঁর। উল্টোদিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হোক, অনেকেই তা চাইছেন। গত বছরের আগস্টেও ৬৬ শতাংশ মানুষ নরেন্দ্র মোদীকেই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইছিলেন, সেখানে এবারের আগস্টে এসে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ২৪ শতাংশে।

এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একটি সমীক্ষায় ধরা পড়েছে এই ছবি। কিন্তু কেন রাতারাতি এতটা কমেছে মোদির জনপ্রিয়তা? গত ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটেও বিপুল সংখ্যক আসন পেয়েছিল পদ্মশিবির। এবং তাতে অন্যতম কারণ ছিল মোদী-ক্যারিশমা। কিন্তু তারপর থেকেই বিতর্কে জড়িয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। সাধারণ জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া, পেট্রোলের দাম সেঞ্চুরী করে ফেলেছে, রান্নার গ্যাসের দামেও আগুন। এই সমস্যা ছাড়াও মনে করা হচ্ছে এর পিছনে অন্যতম ফ্যাক্টর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। বছরের শুরুতে সংক্রমণের হার অনেকটাই কমে গিয়েছিল। কিন্তু এপ্রিল থেকে দেশে আছড়ে পড়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। অতিমারী সামলাতে কেন্দ্রের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলতে থাকে বিরোধীরা।

অন্যদিকে রাজ্যের বিধানসভা ভোটে জিতে তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দিল্লির দিকে ছুটছেন। উত্তরপ্রদেশ ভোটেও তাঁকেই বিরোধী শিবিরের প্রধান মুখ করার আর্জি জানিয়েছেন অনেক বিরোধী নেতাই। শুধু দেশীয় রাজনীতিতেই নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। গত আগস্টে তাঁকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চাইছিলেন ২ শতাংশ মানুষ। জানুয়ারিতে তা বেড়ে ৪ শতাংশ হওয়ার পরে এবারের আগস্টে সেটা এসে দাঁড়িয়েছে ৮ শতাংশ। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে চার নম্বরে উঠে এসেছেন তিনি।

যোগীকে ঠেকাতে মমতায় ভরসা উত্তর প্রদেশ

নিউজ ডেস্ক: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাতীয় রাজনীতিতে ক্রমশ উত্থান হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। অবশ্য সে উত্থান তৃণমূল নেত্রী বা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হিসেবে নয়, কারণ বহুদিন আগেই জাতীয় রাজনীতিতে নিজের গুরুত্ব বাড়িয়েছেন তিনি। এবার তাঁর উত্থান হচ্ছে নরেন্দ্র মোদী বা বিজেপির শিবিরের বদলি হিসেবে।

আরও পড়ুন বিজেপির বিরুদ্ধে একাই লড়াই করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ব্রাত্য বসু

কয়েকমাস আগেই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিপুল ভোটে জিতে তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তারপরেই দেশের একাধিক রাজ্যে নিজেদের সংগঠন মজবুত করতে উঠেপড়ে লেগেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সদ্য ত্রিপুরা থেকে ফিরেছে তাদের যুব নেতৃত্ব। সেখানে তাদের ওপর হামলা হওয়ায় প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই পড়শি রাজ্যে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে দিল্লি গিয়ে বিরোধী শিবিরের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে বৈঠক সেড়ে এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এবার আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপিকে টক্কর দিতে তৈরি হচ্ছে তৃণমূল নেতৃত্ব।

আগামী বছর উত্তরপ্রদেশ ভোটের দিকে তাকিয়ে বিরোধী শিবির। তারমধ্যেই যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বাধীন পদ্মশিবিরকে চাপে ফেলতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম তুলে আনলেন রাজ্যের বিরোধী শিবিরের অন্যতম মুখ এবং রাষ্ট্রীয় লোকদলের নেতা জয়ন্ত চৌধরি। তিনি জানিয়েছেন, “বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বিরোধী শিবিরকে এককাট্টা হতে হবে। একইসঙ্গে বিজেপির উপর চাপ বাড়াতে সকলে মিলে আমন্ত্রণ জানাক বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে।” কিন্তু সেই রাজ্যের অখিলেশ-মায়াবতীকে বাদ দিয়ে কেন মমতা?

আরও পড়ুন বাংলার ইতিহাস বলছে তাঁরা চিরকাল বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে, মমতার সঙ্গে সাক্ষাতের পর বললেন জাভেদ আখতার

আগ্রায় এক সমাবেশে আরএলডি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তাঁর ব্যাখ্যা, “নরেন্দ্র মোদীর বিরোধিতায় চোখে চোখ রেখে লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় যে ভাবে তিনি ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছেন, তা বিজেপির রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। আর সে কারণেই ২০২২-এর বিধানসভা ভোটের দিকে তাকিয়ে বিরোধী-জোটের উচিত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমন্ত্রণ জানানো।”

বেশ কয়েক বছর আগে উত্তরপ্রদেশে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে সক্রিয় হয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পরবর্তীকালে অবশ্য তার বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। কিন্তু বাংলায় বিধানসভা ভোটের আগে থেকে তাঁর সক্রিয় বিজেপি-বিরোধিতা এবং নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের বাংলা দখলের সব চেষ্টায় জল ঢেলে রাজ্যে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরে আসা অন্য বিরোধী দলগুলির নজর কেড়েছে।

আরও পড়ুন মুখ্যমন্ত্রী মমতাকে রাক্ষসী বলে কটাক্ষ বিজেপি বিধায়কের

বাংলায় বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে মমতা অন্য বিরোধী দলগুলিকে পাশে নিয়ে নিরন্তর বিজেপি-বিরোধী লড়াইয়ের ডাক দিচ্ছেন। এই অবস্থায় রাজনৈতিক শিবিরের অনেকে বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখেই উত্তরপ্রদেশে ভোটের আগে সব বিরোধী দলকে একজোট করা প্রয়োজন। সেই লড়াইয়ে মমতার বিজেপি-বিরোধী ভাবমূর্তিকে কাজে লাগালে বিজেপির উপরে চাপ অনেকটাই বাড়বে বলে মত তাঁদের।

বিজেপির বিরুদ্ধে একাই লড়াই করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ব্রাত্য বসু

Mamata Banerjee-Bratya Basu

নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নানা জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে একা লড়ে যাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বাকিরা হই হই করলেও বিজেপির বিরুদ্ধে প্রকৃত লড়াই লড়ছেন মমতা৷ শুক্রবার ত্রিপুরা সফরে গিয়ে এমনটা বললেন বাংলার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু৷

বিজেপিশাসিত ত্রিপুরায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাংলার শাসকদল তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা আগরতলায় ঘাঁটি করেছেন৷ এই তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের সংসদ সদস্য শান্তনু সেন এবং রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। শুক্রবার সকালে আগরতলায় উড়ে গিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং তৃণমূল সংসদ সদস্য অপরূপা পোদ্দার৷

এদিন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘ত্রিপুরায় বামফ্রন্টের সঙ্গে কোনও জোট হবে না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বামেদের সঙ্গে এই রাজ্যের বামেদের চরিত্রগত পার্থক্য আছে। তারা মাটির কাছাকাছি থেকে লড়াই করছেন। চাইলে বাম নেতা-কর্মীরা তৃণমূলে আসতে পারেন। তারা জানেন, বিজেপি’র বিরুদ্ধে প্রকৃত লড়াই লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

ব্রাত্য বসু আরও বলেন, ‘প্রয়োজনে বারবার ত্রিপুরায় আসব। স্থানীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা ত্রিপুরার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেব৷ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে উন্নয়ন ও লড়াকু নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা আমরা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’

অন্যদিকে, ত্রিপুরায় বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি মানিক সাহা তৃণমূলের নেতৃত্বের সফর প্রসঙ্গে বলেন, ‘যেকোনও রাজনৈতিক দল কর্মসূচির জন্য আসতেই পারেন। আমরা ওদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব।’
ত্রিপুরায় সম্প্রতি তৃণমূল নেতাদের উপরে আক্রমণ ও তাদের গ্রেফতারের ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপি’র মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। তৃণমূলের বক্তব্য, গণতন্ত্রের হত্যাকারী বিজেপিকে পরাজিত করে জিতবে ত্রিপুরা।

উত্তরবঙ্গে বন্যা, মালদায় গিয়ে ছবি তুলে লোক দেখাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী: দিলীপ ঘোষ

Mamata-Dilip

কলকাতা: রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে শাসক-বিরোধী চাপানউতোর বাড়ল। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বন্যার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা ডিভিসি-র জল ছাড়াকে দায়ী করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখেছেন। তা নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন কালের গর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে ইতিহাস

এবার একধাপ এগিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বসলেন তিনি। এদিন তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভ্যাস হয়ে গিয়েছে অন্যদের দোষারোপ করা। তিনি মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন কি করেছেন? কলকাতাকে বাঁচাতে পারছেন না। ঘাটাল, ময়না ইত্যাদি জায়গার অবস্থা আরও শোচনীয়। উত্তরবঙ্গে বন্যা হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু মালদা গিয়ে জলে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে নিয়ে চলে এসেছিলেন।”

অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রীকে আশ্বাস দিয়েছেন এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পরিস্থিতিতে রাজ্যের পাশেই আছে কেন্দ্র। প্রয়োজনে সব ধরনের সাহায্য করবে কেন্দ্রীয় সরকার। মুখ্যমন্ত্রীও প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন, ‘আমি ইতিমধ্যেই উপদ্রুত এলাকা পরিদর্শনে বেরিয়েছি। নবান্নে ফিরে এসে সামগ্রিক রিপোর্ট প্রধানমন্ত্রীর দফতরে পাঠাব।’ তা নিয়েও অভিযোগ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তিনি এদিন বলেন, সেচের বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে না পারায় টাকা দিল্লিতে ফেরত চলে গিয়েছে।

আরও পড়ুন নয় দশক পেরিয়েও বঙ্গ জীবনের অঙ্গ বোরোলিন

এর পরেই দুর্গতদের সঙ্গে দেখা করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশনের জল ছাড়ার বিষয়ে অভিযোগ জানান। এই বন্যাকে ‘ম্যান মেড’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি বলেন, ‘ডিভিসি রাজ্যকে না জানিয়েই জল ছেড়েছে। তার উপর প্রবল বর্ষণের জন্যই রাজ্যে কার্যত বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।’ তা নিয়ে কার্যত তৃণমূল সূপ্রিমোকেই দায়ী করেছেন দিলীপ ঘোষ। ‘রাজ্য সরকারকে জানিয়েই জল ছাড়ে ডিভিসি। সমস্ত ঘটনাই রাজ্য সরকার জানে। এখন নাটক করছে”, মন্তব্য দিলীপের।

‘বাংলার ইতিহাস বলছে তাঁরা চিরকাল বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে’, মমতার সঙ্গে সাক্ষাতের পর বললেন জাভেদ আখতার

javed-akhtar-meets-mamata-with-shabana-azmi

নিউজ ডেস্ক: লক্ষ্য ২০২৪। সেই লক্ষ্যপুরণে রাজধানীতে পাড়ি দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের দিল্লী সফরে একের পর এক হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সেই বৈঠকগুলিতে আলোচ্য বিষয় একই, অ- বিজেপি দল গড়ে তোলা।

এবার সেই লক্ষ্যেই শামিল হলেন বিনোদন জগতের দুই হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব- জাবেদ আখতার এবং শাবানা আজমি।দিদির দিল্লি সফরের শেষ বেলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে আসেন জাভেদ আখতার ও শাবানা আজমি।এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাভেদ আখতারকে ‘খেলা হবে’ স্লোগান নিয়ে একটি গান লেখার অনুরোধও জানান।

বৈঠক শেষে জাভেদ আখতার ও শাবানা আজমিকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে বের হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।।জাভেদ আখতার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “বাংলা চিরকালই পরিবর্তনের কান্ডারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় পরিবর্তন এনেছেন। এবার গোটা দেশেও পরিবর্তন চাই। পরিবর্তনের নেতৃত্ব কে দেবেন সেটা পরের বিষয়, কিন্তু আগে ঠিক করতে হবে কী রকম পরিবর্তন আমরা পেতে চাই।”

জাভেদ বলেন,” গোটা দেশেই খেলা হবে, তা নিয়ে কোনও প্রশ্নের অবকাশ নেই।তিনি আরও বলেন, “সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছি। তবে, বাংলার ইতিহাস বলছে তাঁরা চিরকাল বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। শিল্পীরাও তাতে অবদান রাখবেন, এ নিয়ে আশ্চর্যের কিছু নেই। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি এবার কেন্দ্রেও পরিবর্তন দরকার।” 

নেতৃত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গে জাভেদ বললেন”কে নেতৃত্ব দেবেন সেটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অগ্রাধিকারের বিষয় নয়। তিনি পরিবর্তনে বিশ্বাস করেন। আসল ব্যাপার হল, আমরা কী ধরনের ভারতবর্ষ দেখতে চাই।”

দিল্লির মসনদ থেকে মোদী উৎখাতে মমতা-অরবিন্দ বৈঠক

After 'tea' with Sonia Gandhi, Mamata Banerjee meets Arvind Kejriwal in Delhi

নিউজ ডেস্ক: বাংলায় ব্যাপক সাফল্যের পর তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবার টার্গেট দিল্লির মসনদ দখল৷ সেই লক্ষ্যে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর দিল্লিতে ঘাঁটি করেছেন মমতা৷ মঙ্গল এবং বুধবার জাতীয় রাজনৈতিকস্তরে একের পর এক বৈঠক করছেন তিনি৷ প্রতিটি বৈঠকের পরেই মমতার চোখেমুখে ছিল দিল্লি দখল নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প৷

বুধবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পর অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এদিন বিকেলে অরবিন্দ কেজরিওয়াল তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান। তাঁদের মধ্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যথেষ্ট ইতিবাচক হয়েছে তাদের বৈঠক৷ আগামিদিনে এই বৈঠকের ভালো ফল আশা করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো বলেও জানান সংবাদমাধ্যমকে৷ কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে দেশের সমস্ত বিরোধী দলগুলিকে একত্র করতেই দিল্লি সফরে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘রাহুলের উপস্থিতিতে সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে সদর্থক বৈঠক হয়েছে’: মমতা

Mamata Banerjee meets Sonia Gandhi on Prez race, unity bid

নিউজ ডেস্ক: বিকেল সাড়ে ৪টায় ১০ নম্বর জনপথে গিয়ে কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।  বৈঠকের রাহুল গান্ধী উপস্থিত ছিলেন বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বৈঠকের পর সোনিয়া গান্ধীর বাড়ি থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন,‘দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাহুলের উপস্থিতিতে সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে সদর্থক বৈঠক হয়েছে।’

দেশের রাজনীতিতে এখন সরগরম পেগাসাসকাণ্ড। ন সেই বিষয়টি এই বৈঠকে উঠে এসেছিল বলেই জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।তিনি বলেন,”করোনা থেকে পেগাসাস, সব ইস্যুতেই কথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বিজেপিকে হারানোর জন্য সবাইকে একসঙ্গে জোট বেঁধে লড়তে হবে। আমি লিডার নই, আমি ক্যাডার। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত সংসদে পেগাসাস নিয়ে জবাব দেওয়া।’’

অন্যদিকে বুধবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বললেন,”আগামিদিনে নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গোটা দেশের লড়াই হবে৷” তিনি আরও বলেন,”‘আমরা বিভিন্ন দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। কোভিড সঙ্কট মিটে গেলে আমরা বৈঠক করতে পারি।’

বিরোধীদের জোট প্রসঙ্গে সোনিয়া গান্ধীর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একমত, সেই কথা সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক হওয়ার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের জানালেন। তিনি বলেন,” সোনিয়া গান্ধীও বিরোধী ঐক্য চাইছেন। এখন অন্য দলগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।’