Tripura: চোখ খুবলে নেওয়ার চেষ্টা, খুনের হুমকি বাম সমর্থককে, অভিযুক্ত BJP

tripura post poll violence

News Desk: ত্রিপুরা (Tripura) পুর নির্বাচনের সন্ত্রাস চলছেই। ফল গণনার পর বিজেপির বিপুল জয়ের পর বিরোধী সিপিআইএম, টিএমসি ও কংগ্রেস সমর্থকদের উপর হামলা আরও বেড়েছে।

দক্ষিণ ত্রিপুরার অমরপুর পৌর এলাকার চেলাগাং ভোট পরবর্তী হামলায় সন্ত্রস্ত। এখানেই পুর নির্বাচনে শাসক বিজেপি ও বিরোধী বামেদের ভোট লড়াইয়ে পুরসভাটি বিজেপি দখল করেছে। ফল ঘোষণার পর হামলা শুরু হয়।

চেলাগাংয়ে সিপিআইএম কর্মী চন্দ্রধন সরকারের উপর প্রাণঘাতী হামলা হয়। তার চোখ খুবলে নেওয়ার চেষ্টা করে হামলাকারীরা। অভিযোগ, শাসকদলের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতিদের হামলা চালায়। জখম বাম সমর্থক হাসপাতাল ভর্তি। আরও কিছু বাম সমর্থকদের বাড়িতে হামলা হয়েছে। জমির ফসল নষ্ট করা হয়েছে।

আক্রান্ত হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সমর্থকরাও। ফলে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সরগরম। তবে হামলার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে শাসক বিজেপি।

পুর নির্বাচনের ফলাফলে উঠে এসেছে, অমরপুর নগর পঞ্চায়েতে বিজেপি পায় ৬৯.১১ শতাংশ ভোট। বিরোধী সিপিআইএম পেয়েছে ২২.৫৭ শতাংশ। তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ৫.৩৩ শতাংশ ভোট।

পুর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করে তারা রাজ্যে বিরোধী দল হিসেবে উঠে এসেছে। টিএমসির দাবি উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান ধরে শাসকদল জানিয়েছে টিএমসি নয়, বিরোধী হিসেবে আছে সিপিআইএম। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের দাবি ভুল।

Tripura: মোদীর টুইটে ‘সুশাসন’ বেছে নেওয়ার ধন্যবাদ, হামলায় সন্ত্রস্ত ত্রিপুরা

Tripura post poll violence

News Desk: পুর ও নগর পরিষদ-পঞ্চায়েক নির্বাচনে বিপুল জয় পেয়েছে ত্রিপুরার (Tripura) শাসকদল বিজেপি। প্রবল ভোট সন্ত্রাস ও রিগিং অভিযোগে নির্বাচন নিয়ে অসন্তুষ্ট সুপ্রিম কোর্ট বারবার রাজ্যের বিজেপি সরকারকে নির্বিঘ্নে ভোট ব্যবস্থা পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছিল।

অভিযোগ, সেই নির্দেশ গিয়েছে ধুলোয় লুটিয়ে। ভোটে সন্ত্রাসের ভয়াবহ হামলা অব্যাহত ফল বের হওয়ার পরেও। রবিবার রাতভর চলেছে হামলা, বাড়ি ঘর ভাঙচুর। সর্বক্ষেত্রে হামলায় অভিযুক্ত বিজেপি।

পুর নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করেন। তিনি লিখেছেন, ত্রিপুরাবাসীকে ধন্যবাদ। তাঁরা সুশাসন বেছে নিয়েছেন।

Tripura post poll violence

সুশাসনের ভয়াবহ ছবি সোমবার সকাল হতেই স্পষ্ট হতে শুরু করেছে। শুধু আগরতলা নয়, জেলায় জেলায়, এলাকাভিত্তিক হামলা চলছে। গাড়ি ভাঙচুর, বিরোধী দল সিপিআইএমের সমর্থকদের উপর হামলা অব্যাহত। তেমনই আক্রান্ত হচ্ছেন তৃ়ণমূল কংগ্রেস সমর্থক ও প্রার্থীরা। আক্রান্ত কংগ্রেসও।

ভোটের ফল ঘোষণার পর ত্রিপুরার মু়খ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব জানান, এই জয় জনগণের জয়। ত্রিপুরার শাসকদল বিজেপির দাবি গণতন্ত্রের জয়। প্রধান বিরোধীদল সিপিআইএমের দাবি, গণতন্ত্র লুঠ হয়েছে। টিএমসি ভোটে ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ করেছে। বিধানসভায় খেলা হবে বলে জানিয়েছে। কংগ্রেসের তরফে ভোটের ফল প্রত্যাখান করা হয়েছে। তিপ্রা মথা ভোট সন্ত্রাস নিয়ে সরব।

রবিবার পুর ও নগর পঞ্চায়েত-পরিষদ ভোটের ফলাফলে বিজেপি কার্যত একতরফা জয়ী। ফলাফল বিশ্লেষণে উঠে এসেছে ত্রিপুরায় পুর নির্বাচনে ৯৯ শতাংশ জয়ী শাসকদল বিজেপি।

মোট ২০টি পৌর এলাকার ৩৩৪টি আসন। বিজেপি জয়ী ৩২৯টি। ৯৯ শতাংশ আসনে জয়!
তাৎপর্যপূর্ণ, ৭টি পুর ও নগর পঞ্চায়েতে নির্বাচন হয়নি। এই এলাকাগুলিতে বিরোধীদের উপর হামলার বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতায় জয়ী হয় বিজেপি।

আগরতলা পুরনিগম সহ যে ১৩টি নগর পঞ্চায়েক ও পরিষদের ভোট হয়েছিল তার ২২২টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ২১৭টি। বিরোধী সিপিআইএম পেয়েছে ৩টি। টিএমসি একটি। তিপ্রা মথা ১টি।

Tripura: আগরতলায় দ্বিতীয়,অন্যত্র ‘টিমটিম’ হয়েই বিরোধী তকমার দাবি TMC নেতাদের

opposition face in tripura

News Desk: ব্যাপক রিগিং ও বুথ লুঠের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের অসন্তোষের পর যে ত্রিপুরা (Tripura) পুরনিগম ও নগর নির্বাচন হয়েছে তার ভোট প্রাপ্তির পরিসংখ্যান বলছে, পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তিন নম্বরেই।

নির্বাচন কমিশন জানাচ্ছে, বিজেপি সারা রাজ্যে পেয়েছে ৫৯.০১% ভোট। ১৯.৬৫% সারা রাজ্যে ভোট পেয়েছে বামফ্রন্ট। তৃণমূল কংগ্রেস ১৬.৩৯% ভোট পেয়েছে।আর কংগ্রেস ২.০৭% ভোট পেয়েছে।

আগরতলা পুরনিগম সহ রাজ্যের ১৩টি পুরসভা ও ৬টি নগর পঞ্চায়েত দখল করেছে শাসকদল বিজেপি। রাজ্যে ভোটের নিরিখে দ্বিতীয় স্থানে বামেরা।

তবে আগরতলা পুর নিগমের ভোটে চমক তৈরি করে টিএমসি দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। এখানে তৃতীয় বামেরা। আগরতলা পুর নিগমের ৫১ টি আসনের মধ্যে সবেতেই জয়ী শাসকদল।  আগরতলা পুর নিগমের ভোট প্রাপ্তির হার:

বিজেপি পেয়েছে ৫৭.৬৭ শতাংশ।
তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ২০.২২ শতাংশ।
বামফ্রন্ট পেয়েছে ১৮.১৪ শতাংশ।
কংগ্রেস পেয়েছে ১.৭৬ শতাংশ।

আগরতলা পুর নিগমের ফল বের হওয়ার পর, টিএমসি নেতারা দাবি করতে শুরু করেন, তারা রাজ্যে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়েছেন। তাঁদের আরও দাবি, বিধানসভায় বিরোধী আসনে থাকলেও বামেরা ত্রিপুরায় অস্তিত্বহীন।

Tripura municipal election

একনজরে ত্রিপুরা পুর ও নগর নির্বাচন ফল
বিজেপি ৩২৯
সিপিআইএম ৩
টি়এমসি ১
তিপ্রা মথা ১

এই ফল আসা মাত্র তৃণমূল কংগ্রেস নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়, ও ত্রিপুরার দলীয় নেতা সুবল ভৌমিক আগরতলায় যৌ়থ সাংবাদিক সম্মেলন করেন। দুই নেতা দাবি করেন, ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম মাত্র তিনমাসে কোনও ভিনরাজ্যে গিয়ে একটি দল ভোটে লড়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসল। এটি একটি নজির। আগামী ২০২৩ বিধানসভা ভোটে ত্রিপুরায় টিএমসি সরকার গড়বে।

তবে পুর ও নগর নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বিশ্লেষণের কোনও জায়গাই নেই এমনই দাবি রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের। যুক্তি হিসেবে বামেরা তুলে ধরছে ব্যাপক ছাপ্পা ও রিগিং অভিযোগ। বামেদের দাবি, যেখানে প্রায় একশ শতাংশ আসনেই ভোট হয়েছে রিগিং করে সেখানে কে কত ভোট পেল তা গ্রহণযোগ্য নয়। রাজবাসী যদি সঠিকভাবে ভোট দিতে পারতেন তাহলে পুর নির্বাচনেই বিজেপির পতন দেখা যেত। বিধানসভার লড়াই হবে অন্য মাত্রায়। ভোটের ফলকে পুরোপুরি প্রত্যাখান করেছে বিরোধী দল সিপিআইএম।

Tripura: ‘ব্যাপক রিগিং’ অভিযোগের ভোটে জয়ী BJP, প্রাপ্ত গুণতে কালঘাম ছুটছে

Tripura municipal election

News Desk, Agartala: কত এসেছে? নিচু তলা থেকে দলীয় ভোট পরিসংখ্যান বিশেষজ্ঞরা গুণতে গিয়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছেন। শুধু ত্রিপুরার (Tripura) রাজধানী আগরতলা পুরনিগম নয়, পুর পরিষদ ও নগর পঞ্চায়েত ভোটের যে সব হিসেব আসছে তাতে ভোট প্রাপ্তির শতাংশ দেখে চমকে যাচ্ছেন কারিয়াকর্তারা। হিসেব মেলাতে গিয়ে কালঘাম ছুটতে শুরু করেছে।

প্রবল ভোট সন্ত্রাসের কারণে আগরতলা পুরনিগমের ৫১টি ওয়ার্ডকেই স্পর্শকাতর বলে ঘোষণা করেছিল ত্রিপুরা রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ভোটের আগে থেকে ও ভোট চলাকালীন ব্যাপক ছাপ্পা চলতে শুরু করে। সর্বক্ষেত্রে অভিযুক্ত হয় বিজেপি। বিরোধী দল সিপিআইএম ভোট লুঠের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে অবস্থান হয়েছিল। খোদ রাজধানীর ভোট পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ।

আগরতলা পুর নিগমের বুথ লুঠ, ভোটারদের উপর হামলা এমনকি বিজেপি সমর্থকদের উপরেও হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রবীণ ভোটারদের মারধর, বুথের সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভোট পড়ার শতাংশ সঠিক নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এক নজরে আগরতলা পুরনিগমের ফলাফল।
৫১ টি আসনের মধ্যে সবতেই জয়ী বিজেপি।
বিজেপি ৫৭.৬৭ শতাংশ, তৃণমূল কংগ্রেস ২০.২২ শতাংশ, বামফ্রন্ট ১৮.১৪ শতাংশ, কংগ্রেস ১.৭৬ শতাংশ ভোট পেয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ, রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম নেমেছে তিন নম্বরে।

ভোটে তুমুল রিগিং অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টকে বারবার হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। রাজ্য সরকারের কাছে ভোটে নিরাপত্তা দানের নির্দেশ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত। ফলাফল বের হওয়ার পর জয় মসৃণ হলেও ভোট প্রাপ্তির সঠিক হিসেব নেই বিজেপির কাছে।

রাজ্যের বাকি ৬টি নগর পঞ্চায়েত ও ৩টি পুর পরিষদেও বিজেপির একছত্র জয়। কোথাও কোথাও বিরোধী সিপিআইএম ও টিএমসির কেউ কে়ু়উ জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের আগেই শতাধিক আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্ব্বিতায় শাসকদল জয়ী হয়ে যায়।

এই বিপুল জয়ের হিসেবেও কাঁটা হয়ে খচখচ করছে ভোট প্রাপ্তির সঠিক পরিসংখ্যান। কোথাও কোনও হিসেবই সঠিক আসছে না। বিরোধী দল সিপিআইএমের দাবি, যেভাবে রিগিং হয়েছে তাতে শাসক দল বিজেপি জানেই না তাদের ভোট কত শতাংশ। হিসেব সেই ২০১৮ সালের বিধানসভায় নির্বাচনের ফলাফলে আটকে রয়েছে। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি জোট সরকারের আমলে পঞ্চায়েত ভোট, লোকসভা নির্বাচনে কত সমর্থন বিপ্লব দেব সরকারের, তার সঠিক হিসেবই নেই।

পুর পরিষদ ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনে ভোট প্রাপ্তির সঠিক তথ্য না থাকায় আগামী বিধানসভা ভোটে সরকারপক্ষ সমস্যায় পড়তে চলেছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ বিধানসভা ভোট হবে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে। থাকবে কড়াকড়ি।

Tripura: শাসক বিজেপির ‘গণতন্ত্রের জয়’ বনাম বিরোধী CPIM এর কার্টুন কটাক্ষ

tripura election

News Desk: ত্রিপুরা (Tripura) বিধানসভা ভোটের আগে যে সেমিফাইনাল হয়ে গেল তার ফলাফলে শাসক বিজেপির বিপুল জয় এসেছে। তেমনই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএম। আগরতলা পুর নিগম বিজেপির দখলে। রাজ্যের ৬টি নগর পঞ্চায়েত ও ৩টি পুর পরিষদে কোথাও টিমটিম করে জ্বলছে বিরোধী দলের দুটি একটি প্রার্থীর নাম। তাৎপর্যপূর্ণ, আগরতলা পুরনিগমে তৃণমূল কংগ্রেস কোনও আসন না পেলেও বিরোধীপক্ষ হিসেবে উঠে এসেছে। একাধিক ওয়ার্ডে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল সিপিআইএমের থেকে এগিয়ে।

রবিবার গণনার ফলে ছবিটা স্পষ্ট হতেই শাসক বিজেপির তরফে প্রধানমন্ত্রী মোদী, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব সহ কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে পোস্টারে ছয়লাপ সোশ্যাল মিডিয়া। বিজেপির দাবি ‘গণতন্ত্রের জয়’।

আর নির্বাচনে সন্ত্রাস, রিগিং ও ভোট লুঠের যে অভিযোগে ত্রিপুরা সহ দেশজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল তাকে হাতিয়ার করে কার্টুন প্রকাশ করেছে সিপিআইএম। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলের ফেসবুক পেজে সেই কার্টুন প্রকাশ করা হয়েছে। এই কার্টুন প্রবল আলোড়ন ফেলে দিল।

ত্রিপুরার পুর ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্যাপক ভোট লুঠের অভিযোগে রাজ্য সরকারকে সুপ্রিম কোর্ট বারবার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বিঘ্ন ভোট পরিবেশ তৈরির। বিরোধী দল সিপিআইএমের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে পাত্তা না দিয়েই চলেছিল বুথ দখল। ভোট পরবর্তী হামলায় বারবার উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য।

এই পরিস্থিতিতে পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটের ফল বের হওয়ার ঠিক আগেই রাজ্য প্রশাসনকে কটাক্ষ করে বিরোধী দল সিপিআইএমের কার্টুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্রবল সরগরম।

Tripura: ‘রাম ভক্ত’দের ভোট পরবর্তী হামলায় শিবমন্দির ভাঙার অভিযোগ

Tripura Siv mandir

News Desk: মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সরকারের বিরুদ্ধেই পুরভোটের আগের দিন বিস্ফোরক অভিযোগ করেছিলেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মণ। তাঁর অভিযোগ, যেভাবে সন্ত্রাস চলছে, তাতে দলকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা। পুর নির্বাচনে ভোট সন্ত্রাসের পরেও ত্রিপুরা (Tripura) অশান্ত। চলছে বিরোধী সিপিআইএম সহ অন্যান্য দলের প্রার্থী সমর্থকদের বাড়িতে হামলা।

বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার কারণে ভয়াবহ হামলা চলছে ত্রিপুরায়। অভিযোগ, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা অ বিজেপি সমর্থকের ঘরে ঢুকে শিব মন্দির ভেঙেছে। ঘটনা আগরতলার। আক্রান্ত পরিবারটি বামসমর্থক। এই পরিবারের এক সদস্য পুর নির্বাচনে বামপ্রার্থী। তার নাম দেবাশিস বর্মণ হরিজন। তিনি আগরতলা পুরনিগমের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী  

আরও পড়ুন: Tripura: ‘মহিলারা এসে সোনার হার ছিনতাই করল বুথের সামনে’

ভোট পরবর্তী হামলার ঘটনায় আরও একটি মর্মান্তিক ছবি প্রকাশ হয়েছে। বোমা হামলায় এক বাম সমর্থকের বাড়ি তছনছ। তাঁর পোষা গবাদি পশুগুলির দেহ চারিদিকে ছড়িয়ে রয়েছে। এই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আলোড়ন ফেলে দেয়। অভিযোগ, বিরোধী দল সিপিআইএমের উপর হামলায় জড়িত শাসক বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা।

পড়ুন: Tripura: ‘স্বামীর গলা ধরে রাস্তায় ফেলে দিল, বলল মাসিমা ভোট দেবেন না’

 হামলার ঘটনা রাজ্যের সিপাহীজলা জেলার সোনামুড়া এলাকার। স্থানীয় সিপিআইএম সমর্থক ইন্দ্রজিত সাহার বাড়িতে হামলা হয়। ঘর ভাঙচুর যেমন করা হয়েছে, হামলাকারীরা মেরেছে গবাদি পশুগুলিকে। উঠোনে ছজ়িয়ে আছে সেই দেহগুলি।

ভোটের আগে থেকেই হামলায় সন্ত্রস্ত ত্রিপুরা। নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি আরও চিন্তাজনক। তবে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব জন্মদিনের অনুষ্ঠান করার পর বলেন, রাজ্যবাসী সরকারের উপর পূর্ণ আস্থা রেখেছেন। বিরোধী দল সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, ভোটে রিগিংয়ের মাস্টার মাইন্ড বিপ্লব দেব। রিগিংয়ের মাস্টার শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ।

Tripura: ‘মহিলারা এসে সোনার হার ছিনতাই করল বুথের সামনে’

Tripura election

News Desk, Agartala: পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোট মিটতেই ত্রিপুরায় (Tripura) শাসক দল বিজেপি দাবি করে, গণতন্ত্রের উৎসব হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব ঘটা করে জন্মদিন পালন করেন।

বিজেপি রাজ্য সভাপতি মানিক সাহা জানান, মানুষ নিজে তাঁদের অধিকার প্রয়োগ করেছেন। একধাপ এগিয়ে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরীর দাবি, একটাও মৃত্যু হয়নি। ঐতিহাসিক ভোট।

ভোট পরবর্তী সকালে ভয়াবহ ছবি ও জনগণের বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ছে আগরতলার সংবাদ মাধ্যমে। তেমনই এক যুবতী ভোটার দাবি করেন, বৃহস্পতিবারের ভোট সন্ত্রাস অভিজ্ঞতা। তিনি সংবাদ মাধ্যমের সামনে স্পষ্ট জানান, কীভাবে বুথের সামনে মহিলারা ঘিরে ধরে তাঁকে মারধর করে সোনার হার ছিনতাই করেছে। পুরোটাই পুলিশের সামনে হয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।

Tripura Senior Citizen voter

ওই যুবতীর আরও অভিযোগ, বুথ দখল করা হয়েছিল। হামলাকারীরা সরকারপক্ষের বলেই সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে। সূত্র ভিত্তিক জানা গিয়েছে, হামলাকারীরা বিজেপির মহিলা মোর্চার সদস্য। তারা বুথ দখলে এসেছিলেন বলে অভিযোগ।

আক্রান্ত যুবতীর দাবি, রাজ্যে গণতন্ত্র নেই। তিনি ছিনতাই হওয়া সোনার চেন ফেরত পেতে পুলিশে অভিযোগ করেছেন। তবে তিনি রাজ্য প্রশাসন নিয়ে প্রবল ক্ষোভ উগরে দেন। অভিযোগ করেন, মহিলারা ঘিরে তাঁর ভাইকেও মারধর করেছে।

এদিকে ভোট মিটতেই ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা পুর নিগম সহ অন্যান্য নগর পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে চলছে ক্ষোভ। সরকারের ভূমিকায় জনগণ ক্ষুব্ধ।

Tripura: এক ডজন বিধায়ক BJP সরকার ত্যাগ করতে গোপনে আলোচনা করলেন

News Desk: তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক রেখেই শেষ হয়েছে ত্রিপুরার পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোট পর্ব। ভোটপর্ব ঘিরে ব্যাপক রিগিং করার অভিযোগে জেরবার শাসকদল বিজেপি। তবে তাদের দাবি নির্বাচন হয়েছে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে। বিরোধী দল সিপিআইএমের দাবি রিগিং কী পর্যায়ে হয়েছে তা সংবাদ মাধ্যমেই স্পষ্ট।

বিজেপি ও সিপিআইএমের ভোট যুদ্ধের মাঝে সরকারপক্ষের অন্তত ১৩ জন বিধায়ক দলত্যাগের জন্য গোপনে আলোচনা শেষ করেছেন। বিশেষ সূত্রে kolkata24x7.in জানতে পেরেছে এই বৈঠকের কথা। আগেই এক বিধায়ক আশিস দাস বিজেপি ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন।

সূত্রের খবর, সরকারপক্ষ ত্যাগ করতে চাওয়া বিধায়করা দিনভর আগরতলা পুর নিগম ও বাকি নগরপঞ্চায়েত ভোট পর্যবেক্ষণ করেন। বিরোধী দল সিপিআইএমের ভূমিকা খতিয়ে দেখেন। রিগিংয়ের অভিযোগ, বুথ লুঠের ছবি ও ভিডিওর ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া পুনরায় নিরাপত্তা আশ্বাসের পরও যখন পরিস্থিতি একই থাকে তখন তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন।

ঘনিষ্ঠমহলে এদের বক্তব্য পুর নির্বাচনে সরকারের ভূমিকায় জনগণের মনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। বিধানসভা ভোটে এর ধাক্কা সামলানো কঠিন হবে। এই বিজেপি বিধায়কদের বেশিরভাগ গত বিধানসভায় ভোটের আগে তৎকালীন বিরোধী দল কংগ্রেস ত্যাগ করে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছিলেন। পরে তাঁরা বিজেপিতে সামিল হন।

এক নজরে ত্রিপুরা বিধানসভার অঙ্ক

মোট আসন ৬০
সরকারপক্ষে মোট ৪২ জন
বিজেপি ৩৫
আইপিএফটি ৭

প্রধান বিরোধীপক্ষ সিপিআইএম ১৬

অন্যান্য

তৃণমূল কংগ্রেস ১

তিপ্রা মথা ১

সূত্র মারফত Kolkata24x7.in আরও জানতে পেরেছে বিজেপির বিধায়করা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের ভূমিকা নিয়ে নিজেদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী, বর্তমান মন্ত্রী ও হেভিওয়েটরা।

আরও তাৎপর্যপূর্ণ, পুর ও নগর পঞ্চায়েত নির্বাচনে এদের অনেককেই প্রচারে বিজেপির তরফে তেমন ভূমিকা নেননি। বৃহস্পতিবার ভোটের ছবি দেখে তাঁরা অবস্থান আরও মজবুত করেছেন।

Tripura: ‘স্বামীর গলা ধরে রাস্তায় ফেলে দিল, বলল মাসিমা ভোট দেবেন না’

Tripura Senior Citizen voter

Tripura poll violence
News Desk: পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে বিরোধী দলের ভুরি ভুরি অভিযোগ নিয়ে সরগরম পরিস্থিতি। সুপ্রিম কোর্টের তরফে ভোটারদের নিরাপত্তার ব্যবস্থার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। বেলা শেষে ত্রিপুরায় ভোট সন্ত্রাসের ছবি আরও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে বলেই জানাচ্ছেন ভোটাররা।

আগরতলা পুর নিগম ভোটের সন্ত্রাসের ঘটনা বলতে গিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কেঁদে ফেললেন এক প্রৌঢ়া ভোটার। তিনি বর্ণনা দিয়েছেন, কেমন করে রিগিং হয়েছে।

ওই প্রৌঢ়া জানান, সকালে ভোট দিতে আসছি। এমন সময় কয়েকজন যুবক ঘিরে নিয়ে বলল, আপনার ভোট দিতে যাবেন না। ওদের কথা না শুনে বললাম কেন ভোট দেব না। ওদের পেরিয়ে যেই

আরেকটু এগিয়ে এসেছি এমন সময় দু’জন যুবক এসে আমার স্বামীর গলা টিপে ধরে রাস্তায় ফেলে দিল। আমাকে আটকে রাখল। বলল ভোট দিতে যাবেন না। এর পরেই প্রৌঢ়া কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি পরে জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি আগের সরকারের আমলে ছিল না।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের স্ত্রী নীতি দেব সাংবাদিকদের জানান, রাজ্যবাসী সুষ্ঠু উন্নয়নের জন্য ভোট দিয়েছেন। সরকার জনগণের উন্নয়নকেই প্রাধান্য দেয়।

ত্রিপুরায় গত বিধানসভা নির্বাচনের পর এই রাজ্যে টানা ২৫ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন হয়। সরকার গড়ে বিজেপি আইপিএফটি জোট। বিধানসভা ভোট সুষ্ঠুভাবেই হয়েছিল সেকথা সব রাজনৈতিক মহল স্বীকার করেছে। ভোটের ফল ঘোষণার দিন থেকে ত্রিপুরায় রাজনৈতিক হামলা শুরু হয়।

বিধানসভায় ভোটের পর থেকে রাজ্যে যতগুলি ভোট হয়েছে তাতে রিগিং পুরোমাত্রায় বলে অভিযোগ বিরোধী দল সিপিআইএমের। পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে ব্যাপক সন্ত্রাস নিয়ে সরব বিরোধী বামেরা। যদিও শাসক বিজেপির দাবি ভোটে কোনও রিগিং হয়নি।

Tripura: বুথে ‘মার খেয়ে’ বিরোধী CPIM এর বিশাল মিছিল! সমর্থকরা দুষছেন নেতাদের

Tripura poll violence

Tripura poll violence
News Desk: নেতারা রাস্তায়। বিরাট মিছিল নিয়ে থানা ঘেরাও করে রেখেছেন বাম সমর্থকরা। আগরতলায় পুর ভোটে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি। বিরোধী দল সিপিআইএমের মিছিল দেখে কে বলবে বুথে বুথে হাল ছেড়ে দিয়েছেন কর্মীরা ! রাজপথ কাঁপিয়ে সিপিআইএমের মিছিল দেখে শাসক বিজেপির কটাক্ষ, এত লোক ওদের মিছিলে! কটা ভোট পাবে!

আর বাম সমর্থকদের প্রশ্ন দলেরই কাছে। তারা বলছেন, এত মিছিলেন শক্তি নিয়ে আন্দোলনের ছিঁটেফোঁটাও যদি বুথে দেখাতে পারত দল তাহলেই ছবিটা পাল্টে যেত। ভোট সন্ত্রাস রুখে দিতে পারতাম। নেতারা মিছিল করতে যত পটু ততটা বুথে নন।

Tripura poll violence

ত্রিপুরা পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে ব্যাপক সন্ত্রাসে অভিযুক্ত শাসক বিজেপি। পরিস্থিতি এমন যে সুপ্রিম কোর্ট ফের বুথে বুথে নিরাপত্তার নির্দেশ দিয়েছে। সকাল থেকে একের পর এক ছবিতে স্পষ্ট পুর ভোট লুঠ হয়েছে। বিরোধী দল সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরী যে সন্ত্রাসের ভিডিও দেখিয়ে আশঙ্কা করেছিলেন, ভোটারদের বুথ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া সেটাই প্রমাণ করেছে।

বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস, কংগ্রেসের তরফেও ভোট সন্ত্রাসের অভিযোগ এনে থানা ঘেরাও ও ধর্না কর্মসূচি চলে।
এদিকে শাসক দল বিজেপির রাজ্য সভাপতি মানিক সাহা জানান, রাজ্যবাসী ভোট উৎসকে অংশ নিয়েছেন। কোথাও রিগিং হয়নি। আরও একধাপ এগিয়ে রাজ্যের তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী দাবি করেছেন, ঐতিহাসিক ভোট হয়েছে রাজ্যে। একটিও খুনের খবর আসেনি। অথচ আগে সব ভোটে এমন ঘটনা ঘটত।

Tripura: বিরোধী বামেদের থানা ঘেরাও, তৃণমূলের আর্তনাদ, শাসক বিজেপি বলছে ‘নো রিগিং’

Tripura poll violence

Tripura Municipal Election
News Desk: সুপ্রিম কোর্ট স্তম্ভিত। সব সংবাদ মাধ্যমকে বুথে বুথে প্রবেশের নির্দেশ। ত্রিপুরায় পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে ব্যাপক সন্ত্রাসের অভিযোগ নিয়ে জাতীয় রাজনৈতিক মহলে প্রবল শোরগোল। সকাল থেকেই নির্বাচনে সন্ত্রাস মাত্রাছাড়া বলে অভিযোগ।

শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে লাগাতার সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগ ঘিরে সরগরম পরিস্থিতি। সশস্ত্র অবস্থায় হামলা চলছেই।

আগরতলা পুর নিগম সহ সবকটি নগর পঞ্চায়েতের ভোটে সন্ত্রাসের যে ছবি আসছে তা প্রত্যাশিত ছিল বলেই জানাচ্ছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম।

ব্যাপক রিগিং ঘিরে উত্তপ্ত আগরতলা। ভোট রিগিংয়ের অভিযোগে বিরোধী দল সিপিআইএমের বিশাল মিছিল হয়। ঘেরাও করা হয় পশ্চিম আগরতলা থানা। পুলিশ অসহায় বলে জানিয়েছে পুলিশ মহলের একাংশ। সিপিআইএমের রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরী ভোট সন্ত্রাসের ভয়াবহ ভিডিও সংবাদ মাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন। তাঁর দাবি, সরকার জনসমর্থন হারিয়ে সন্ত্রাস করে জিততে মরিয়া।

অন্যদিকে হামলার মুখে তৃণমূল কংগ্রেস কার্যত আর্তনাদ শুরু করেছে। একাধিক প্রার্থী আক্রান্ত। দলের নেতা সুবল ভৌমিক আক্রান্ত প্রার্থীকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। অপর বিরোধী দল কংগ্রেস কার্যত হাল ছেড়ে দিয়েছে।

যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাসক দল বিজেপির রাজ্য সভাপতি মানিক সাহা। তিনি বলেছেন, মানুষ শান্তিতে গণতান্ত্রিক রায় দিচ্ছেন। ভোট রিগিং নেই ভোট উৎসব চলছে। তাঁর মন্তব্য নিয়েই ত্রিপুরার রাজনৈতিক মহল সরগরম।

আক্রান্ত ভোচদাতাদের দাবি, বিজেপি সমর্থকদেরও ছাড় দিচ্ছেনা বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা। তাঁদের অভিযোগ, এ যেন পশ্চিমবঙ্গের বিগত পঞ্চায়েত ভোটের হুবহু ছবি ত্রিপুরা পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে। নির্বাচনের আগে থেকে যে ভোট সন্ত্রাস চলছিল তার পরিপূর্ণ রূপ দেখাল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা।

Tripura: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর আশ্বাস ‘সোনার পাথরবাটি’, ভোট প্রায় ‘লুঠ’

Masive poll rigging in tripura

News Desk: এ যেন পশ্চিমবঙ্গের বিগত পঞ্চায়েত ভোটের হুবহু ছবি ত্রিপুরা (Tripura) পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে। নির্বাচনের আগে থেকে যে ভোট সন্ত্রাস চলছিল তার পরিপূর্ণ রূপ দেখাল বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা, এমনই অভিযোগ। মূল বিরোধী সিপিআইএমের দাবি, ভোট হচ্ছেই না। ভোট হলেই পরাজয় বুঝে গণতান্ত্রিক রায় লুঠ করেছে শাসক বিজেপি।

নির্বাচনে ভয়াবহ সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর কাছে তদ্বির করেছিল রাজ্যে নতুন করে রাজনীতি শুরু করা তৃণমূল কংগ্রেস। টিএমসি সাংসদ সুস্মিতা দেবের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট ত্রিপুরা রাজ্য সরকারকে নির্বিঘ্নে ভোটের নির্দেশ দেয়। লাগাতার সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে টিএমসি সাংসদরা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে দেখা করেন। বৈঠকে শাহ আশ্বাস দেন ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে কথা বলে ভোট সন্ত্রাস বন্ধ করা হবে।

tripura-election

বিরোধী সিপিআইএমের অভিযোগ, অমিত শাহর আশ্বাস ‘সোনার পাথরবাটি’ সেটা ভোট শুরু হতেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। আগরতলা পুর নিগমের কোনও ওয়ার্ড বাকি নেই যেখানে বিজেপি রিগিং করতে বাকি রেখেছে। নির্বাচনী সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলে বুধবার রাতে সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরী সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন বলে জানান। তিনি ভোট সন্ত্রাসের ভয়াবহ ছবি দেখান সাংবাদিকদের।

অভিযোগ, মু়খ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের নির্দেশে এমন করছে রাজ্য বিজেপি। বিরোধী নেতা মানিক সরকার জানিয়েছেন, সন্ত্রাস থেকেই স্পষ্ট সরকার জনসমর্থন হারিয়েছে। বিজেপির হেভিওয়েট নেতা ও প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায়বর্মণের দাবি, যেভাবে সন্ত্রাস চলছে তাতে দলের ভাবমূর্তি প্রবল কালিমালিপ্ত। ভবিষ্যতের দিন ভয়াবহ। রাজ্যে বিজেপি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়তে চলেছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সুস্মিতা দেবের অভিযোগ, ভয়াবহ ভোট সন্ত্রাসের আশঙ্কা ছিলই। তাই হয়েছে।

অভিযোগের জবাবে বিজেপি জোট সরকার নীরব। আরও অভিযোগ, রাজ্য নির্বাচন কমিশন রিগিং চালাতে দিচ্ছে নির্বিঘ্নে। নিরাপত্তা শিকেয় উঠেছে।

Tripura: পিস্তল নিয়ে ভোটারদের হুমকি বিজেপির, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সিপিআইএমের

Tripura violence

News Desk: ত্রিপুরার (Tripura) পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোট শুরুর আগে বাড়ি বাড়ি ঢুকে ভোটারদের হুমকি ও ভোট না দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ভিডিও তুলে ধরল রাজ্যের বিরোধীদল সিপিআইএম।

রাজ্য সম্পাদক জীতেন্দ্র চৌধুরীর অভিযোগ, কীভাবে নির্বাচন বানচাল করতে চাইছে শাসক বিজেপির মদতপুষ্ট হামলাকারীরা এই ভিডিও তারই প্রমাণ। ভিডিওটি বিলোনিয়ার বলে দাবি করে়ছে সিপিআইএম। শাসক বিজেপি এই বিষয়ে নীরব।

বৃহস্পতিবার আগরতলা পুর নিগমের ভোট। একইসাথে অন্যান্য নগর পঞ্চায়েতেও নির্বাচন। রাজধানী শহর আগরতলার সবকটি বুথ স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

বিরোধী দল সিপিআইএমের অভিযোগ রাতেই বিভিন্ন বুথ দখল করার ছক করেছে শাসক দল। এই মর্মে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করা হয়। একইসঙ্গে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে রাতেই জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়েছে।

রাত বাড়ছে একের পর এক এলাকা থেকে ভোট সন্ত্রাসের সংবাদ আসছে। ভোটকর্মীরাও নিরাপত্তাহীনতায় ভূগতে শুরু করেছেন। বিজেপির বিদ্রোহী বিধায়ক তথা প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায় বর্মণের অভিযোগ, নির্বাচনে নিয়ে প্রহসন চালাচ্ছেন সরকারের একাংশ। এতে বিজেপির ভাবমূর্তি কালিমালিপ্ত হচ্ছে। তবে বিরোধী সিপিআইএমের সোশ্যাল সাইটে সুদীপবাবুর কিছু পুরনো ছবি দেখিয়ে তুলে ধরা হয় যারা হামলাকারী তারা প্রাক্তন মন্ত্রীরই ঘনিষ্ঠ।

Tripura: সন্ধের আগেই হামলা শুরু, সকালে ভোট সন্ত্রাসের আশঙ্কা

tripura-cpm

News Desk: আগরতলা পুর নির্বাচন সহ রাজ্যের বাকি নগর পঞ্চায়েত ভোটের ঠিক আগের মুহূর্তে ফের শুরু হয়েছে সন্ত্রাস। বিরোধী সিপিআইএম প্রার্থীদের বাড়ি বাড়ি হামলা চলছে। বেশকিছু দোকান ভাঙচুর। অভিযোগ সর্বক্ষেত্রে বিজেপির বাইক বাহিনী হামলা করছে। যদিও বিজেপি এই দাবি অস্বীকার করেছে।

বৃহস্পতিবার ত্রিপুরায় বহু চর্চিত আগরতলা পুর নিগমের ভোট ঘিরে বু়ধবার বিকেল থেকেই হিংসাক্মক পরিস্থিতি তৈরি হলো ফের। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে হামলা চলছে বলে অভিযোগ বিরোধী দল সিপিআইএমের। একই অভিযোগ করছে তৃ়ণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেস।

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকারের স্ত্রী তথা সিপিআইএম নেত্রী পাঞ্চালি সরকারের অভিযোগ, শাসক বিজেপি যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় এসেছিল তার একটিও পূর্ণ হয়নি। এর ফলে সন্ত্রাস পরিবেশ তৈরি করেছে।

পাঞ্চালি সরকারের উপস্থিতিতে বিজেপি আশ্রিত হামলাকারীদের নামের তালিকা সাংবাদিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পঞ্চালি সরকার জানান, পরিস্থিতি এমন যে বিজেপি সমর্থকদের বাড়িতে গিয়েও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হামলাকারী ৯ জনের নামের তালিকা রাজ্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আগরতলার বিভিন্ন ওয়েব সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে হামলাকারীদের ছবি। অভিযোগ, সব জেনেও নির্বাচন কমিশন নীরব। ভোটের দিন সকাল থেকে তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হবে বলেই আশঙ্কা। পরিস্থিতি দেখে পুর নিগমের ৫১টি ওয়ার্ডের সব বুথকে স্পর্শকাতর বলে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

(ছবি সৌজন্য আগরতলার সংবাদ মাধ্যম)

Tripura: ‘মানসিক বিকারগ্রস্ত’ নেতা বিজেপির কবর খুঁড়ছে: সুদীপ বর্মণ

Sudip Roy Barman

News Desk: পুর নির্বাচনে লাগাতার সন্ত্রাসের প্রতিবাদে ভালো কিছুর জন্য ভোট দিতে আবেদন করলেন ত্রিপুরার (Tripura) প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সুদীপ রায়বর্মণ। তাঁর আবেদন, বিজেপির তকমাধারী হামলাকারীদের প্রতিহত করে ভোট দিন। তিনি বলেন, আগে রাজ্যে উৎসবের আবহে ভোট হতো।

বিজেপি বিধায়ক সুদীপ রায়বর্মণ সরাসরি তাঁর দলের উর্ধ্বতন কিছু নেতার কড়া সমালোচনা করেছেন। ইঙ্গিতে তিনি বলেন, এমন এক নেতা আছেন যাঁর ত্রিপুরা সম্পর্কে কোনও অভিজ্ঞতা নেই। শিশুসুলভ আচরণ করছেন তিনি। সুদীপবাবু নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের কড়া সমালোচনা করেছেন বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে দীর্ঘসময় ত্রিপুরা থেকে দূরেই ছিলেন বিপ্লব দেব।

আগরতলা পুরনিগম ভোট ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে লাগামছাড়া সন্ত্রাসের পরপর ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কোনও কাজেই আসেনি। অভিযোগ, শাসক বিজেপি আশ্রিত হামলাকারীরা বিরোধী সিপিআইএম, টিএমসি ও কংগ্রেস প্রার্থী, সমর্থকদের রুখতে মরিয়া। বিরোধীরা সরব নির্বাচনী সন্ত্রাস নিয়ে।

tripura

ভোট সন্ত্রাস নিয়ে সুদীপ রায় বর্মণ সরব। তিনি বলেন, রাজ্যে এমন এক নেতা আছেন যিনি বিজেপির কবর খুঁড়ছেন নিজেই। উড়ে এসে জুড়ে বসা এই নেতা বাম আমলের ‘হুলিগান’দের ব্যবহার করে ভোটে জিততে মরিয়া। এতে ক্ষতি হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর ভাবমূর্তি ও বিজেপিরই। আগামী দিন দলের পক্ষে ভয়ঙ্কর এই রাজ্যে।

সাংবাদিক বৈঠকে সুদীপবাবুর অভিযোগ, পুলিশ প্রশাসন ইচ্ছাকৃত নীরব ভূমিকা নিচ্ছে। তারা চাইছে এই রাজ্যে আবার বাম শাসন। যে টানা ২৫ বছর সিপিআইএমের শাসন চলেছিল, তাকে সরিয়েই বিজেপি সরকার গড়েছে উন্নত পরিষেবা দিতে। তবে কিছু নেতার ভূমিকা বামেদের পথ প্রসস্ত করছে।

আগরতলা পুর নিগম নির্বাচনের আগেই সুদীপ রায় বর্মণের কড়া আক্রমণে ত্রিপুরা রাজ্য বিজেপিতে প্রবল শোরগোল। মনে করা হচ্ছে ফের তৃণমূল কংগ্রেসে ফিরতে চলেছেন সুদীপবাবু।

সুদীপবাবুর সাংবাদিক বৈঠকের পরেই টিএমসি সাংসদ ও ত্রিপুরার দায়িত্বে থাকা সুস্মিতা দেব বলেন, সুদীপ দা একজন দায়িত্বপূর্ণ, গুরুত্বপূর্ণ নেতা। একধাপ এগিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, সাহস থাকলে সুদীপবাবুকে বহিষ্কার করুক বিজেপি।

ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সমীর রঞ্জন বর্মণের পুত্র সুদীপ রায়বর্মণ। তিনি দীর্ঘ সময় কংগ্রেসের বিধায়ক। টানা বাম আমলে দাপুটে কংগ্রেস নেতা। তবে গত বিধানসভা ভোটের আগে সুদীপবাবু সহ ততকালীন বিরোধী দল কংগ্রেসের বিধায়করা টিএমসিতে যোগ দেন। রাজ্যে টিএমসি হয়েছিল ক্ষনিকের জন্য বিরোধী দল। এরপর বিধানসভা ভোটের আগে সুদীপবাবু সহ সেই বিধায়করা বিজেপিতে চলে যান। বিরোধী দল থেকে পরিবর্তনের ভোটে ত্রিপুরায় সরকার গড়ে বিজেপি। আর সিপিআইএম হয় প্রধান বিরোধী দল।

রাজ্যে বিজেপি আইপিএফটি জোট সরকারের আমলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হন সুদীপবাবু। তবে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিধানসভা ও বাইরে সরব ছিলেন তিনি। তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

Tripura: TMC প্রার্থীর বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি, অভিযোগ অস্বীকার করল BJP

tripura-tmc

News Desk: সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর আশ্বাসের পরেও পরিস্থিতি গরম। পুরভোটের সময় যত এগিয়ে আসছে ততই রাজনৈতিক হামলা হচ্ছে।

সোমবার রাতে আগরতলা পুরনিগমের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) প্রার্থী গৌরী মজুমদারের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ তারা বিজেপির সমর্থক। তবে অভিযোগ অস্বীকার করছে শাসক দল বিজেপি।

পড়ুন: Tripura: শিক্ষামন্ত্রীর শরীর BJP-র সঙ্গে, মন উড়ুউড়ু, বিস্ফোরক ইঙ্গিত CPIM রাজ্য সম্পাদকের

তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভিযোগ জানালে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয়েছে গুলির খোল। প্রার্থী গৌরী মজুমদারের অভিযোগ, স্থানীয় বিজেপি নেতা রঞ্জিত মজুমদারের নেতৃত্বে হামলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও বিরোধীদের কোনওরকম নিরাপত্তা দিচ্ছে না রাজ্যের বিপ্লব দেব সরকার। আরও অভিযোগ, শুধু গুলি চালানোই নয়, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা রীতিমতো হুমকিও দিয়েছে।

অন্যদিকে বিজেপি নেতা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রঞ্জিতের পাল্টা অভিযোগ, পরাজয় নিশ্চিত বুঝেই তৃণমূল প্রার্থী নাটক করছেন। মিথ্যা অভিযোগ করছেন।

tripura-tmc

উল্লেখ্য, সোমবার ত্রিপুরা ছাড়ার আগে টিএমসি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট বলেছেন, ত্রিপুরায় জঙ্গল রাজ চলছে। এখানে পুলিশ, সাংবাদিক, আইনজীবী, বিরোধীদলের নেতা কেউই বিপ্লব দেবের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মঙ্গলবার সেই মামলার শুনানিতে ত্রিপুরার বিপ্লব দেব সরকারকে কড়া ভর্ৎসনা করে শীর্ষ আদালত। শীর্ষ আদালতের বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় জানতে চান, রাজ্যের পুরভোট অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ করতে সরকার কী ব্যবস্থা নিয়েছে।

শীর্ষ আদালতে তৃণমূল তার আবেদনে বলেছে, ত্রিপুরার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। সেখানে নির্বাচন হওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। তাই অবিলম্বে পুরভোট স্থগিত রাখা হোক। অন্যদিকে ত্রিপুরা সরকারের আইনজীবী শীর্ষ আদালতে বলেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। প্রচারে শেষ দিনে হঠাৎই কয়েকটি হিংসাত্মক ঘটনার কথা উল্লেখ করে তৃণমূল মামলা করেছে। অথচ তাদের প্রতিটি অভিযোগের তদন্ত করছে পুলিশ।

ত্রিপুরা সরকারের ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।
আদালত জানতে চায়, ত্রিপুরার নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার হাতে? রাজ্যের পুর নির্বাচন স্বচ্ছ, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে সরকার কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে। ভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে এই ব্যাপারে ত্রিপুরা সরকার কি কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারবে? ভোট গ্রহণ বা ভোট গণনার দিন রাজ্যে কোথাও কোনও অশান্তি হবে না সে ব্যাপারে কি কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারবে সরকার? আদালতের এ ধরনের একের পর এক কড়া কড়া প্রশ্নের উত্তরে ত্রিপুরা সরকার জানায়, তারা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।

ত্রিপুরায় হিংসা বন্ধ হবে, অমিত শাহর মন্তব্যে অস্বস্তিতে বিপ্লব দেব

amit-mamata

News Desk: দলের যুবনেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতার পরে জামিন দেওয়া ও রাজনৈতিক হামলার প্রতিবাদে সোমবার সকাল থেকেই আগরতলা ও দিল্লি সরগরম। টিএমসি সাংসদদের লাগাতার চাপের মুখে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, ত্রিপুরায় হিংসা বন্ধ হবে।

পুরো বিষয়টিকে রাজনৈতিক চাপের মুখে অমিত শাহর মাথা ঝুঁকিয়ে নেওয়া বলেই ধরে নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্যের পর অস্বস্তিতে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। পরপর রাজনৈতিক হামলায় সন্ত্রস্ত ত্রিপুরা। বিরোধী দল সিপিআইএমের কটাক্ষ, তৃণমূল ও বিজেপি কাউকেই বিশ্বাস নেই।

ত্রিপুরায় হিংসা বন্ধের জন্য অমিত শাহ সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানান। সোমবার সন্ধ্যায় অমিত শাহর বাসভবন থেকে বেরিয়ে এসে এই কথা জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার ত্রিপুরায় গ্রেফতার হয়েছিলেন তৃণমূলের যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ। রবিবার থেকেই শাহর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। কিন্তু শাহ তৃণমূল সাংসদের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হননি। সোমবার সকাল থেকেই নর্থ ব্লকে ধরনায় বসেন তৃণমূল সাংসদরা। তাঁদের দাবি ছিল, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে হবে। প্রথম দিকে শাহ কোনওভাবেই তৃণমূল নেতৃত্বকে সময় দিতে চাননি। কিন্তু একটানা ধরনা চলার পর চাপের মুখে তিনি দেখা করেন।

আধ ঘণ্টার বৈঠক শেষে শাহর বাসভবন থেকে বেরিয়ে এসে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ত্রিপুরায় অবিলম্বে হিংসা ও অশান্তি বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গে আগেও কথা বলেছেন প্রয়োজনে আবারও তিনি বিষয়টি নিয়ে কথা বলবেন। তবে এই আশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত হল সেটা সময়ই জানিয়ে দেবে।

কল্যাণের সুরে সুর মিলিয়ে একই কথা বলেছেন দলের প্রবীণ সাংসদ সৌগত রায়। তিনি বলেছেন, ত্রিপুরায় অবিলম্বে হিংসা বন্ধের আশ্বাস দিয়েছেন শাহ। তবে শাহর এই আশ্বাস কতটা বাস্তবায়িত হল সেদিকে তাঁরা কড়া নজর রাখবেন।

Tripura: ‘পশ্চিমবঙ্গে TMC সন্ত্রাসের ছবি ত্রিপুরায় দেখাচ্ছে BJP’

tripura

News Desk: পশ্চিমবঙ্গে যেমন তৃণমূল কংগ্রেস সন্ত্রাস চালাচ্ছে, তেমনই ত্রিপুরায় বিজেপি একই পথ নিয়েছে। ত্রিপুরায় পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটের আবহে রবিবার দিনভর রাজনৈতিক হামলার প্রেক্ষিতে এমনই অভিযোগ করলেন সিপিআইএম নেতা ও প্রাক্তন বিধায়ক সুজন চক্রবর্তী।

সুজনবাবুর আরও অভিযোগ দুই রাজ্যের দুই শাসক দলের বিরুদ্ধেই। তিনি বলেন, ত্রিপুরায় সিপিআইএম প্রধান বিরোধী দল। কেন তাদের উপর হামলার সংবাদ চেপে যাচ্ছে কলকাতার সংবাদ মাধ্যম।

tripura

ত্রিপুরায় আইন শৃঙ্খলা শিকেয় উঠেছে এমনই অভিযোগ করে বিবৃতি দিল বিরোধী দল সিপিআইএম। এই বিবৃতিতে তৃণমূল যুবনেত্রী সায়নী ঘোষকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে থানায় জেরা করার সময় হামলার কড়া নিন্দা জানানো হয়েছে।

বিবৃতি দিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার নিন্দা করেছে সিপিআইএম ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি। বিরোধী দলনেতা ও প্রাক্তন মু়খ্যমন্ত্রী মানিক সরকার নির্বাচনী জনসভায় বিজেপি সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেছেন সরকার জনসমর্থন হারিয়ে হিংসার পথ নিয়েছে। আগামী বিধানসভা ভোটে পরাজয় নিশ্চিত।

দিনভর পূর্ব আগরতলা থানায় দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। টিএমসি নেতারা থানাতেই আক্রান্ত হন। সাংবাদিকরা আক্রান্ত হন। অভিযোগ পুলিশের সামনেই হামলা চালায় বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতিরা। তবে পুলিশ বলছে ‘কিছু জানি না’। এমনকি রাজ্য পুলিশের কর্তারা পর্যন্ত নীরব।

ত্রিপুরা প্রদেশ কংগ্রেসের তরফেও শাসক বিজেপি কড়া নিন্দা করা হয়েছে। দলীয় প্রার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলেই অভিযোগ।

খুনের চেষ্টার অভিযোগে তৃণমূল যুব কংগ্রেস নেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতার করার পর থেকে ত্রিপুরার ভোট উত্তাপ পশ্চিমবঙ্গে ছড়াতে শুরু করে। পরপর অভিযোগে বিদ্ধ হয়েও শাসক বিজেপি নীরব। তবে প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, সায়নী ঘোষ ত্রিপুরায় হাওয়া গরম করতে গেছেন।

Tripura: ‘খুনের চেষ্টার অভিযোগে’ গ্রেফতার TMC যুবনেত্রী সায়নী ঘোষ

News Desk: ত্রিপুরার পুর ও নগর পঞ্চায়েত ভোটে শাসক বিজেপি বনাম বিরোধী সিপিআইএমের মূল লড়াই। তার মাঝে তৃৃণমূল কংগ্রেসকে নিয়ে তুলকালাম কান্ড চলছে। এবার খুনের চেষ্টার অভিযোগে টিএমসি যুবনেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

রবিবার বেলা গড়াতেই আগরতলা সরগরম হয় থানায় হামলার কারণে। আগরতলা পূর্ব থানায় ডেকে পাঠানো হয় টিএমসি নেত্রী ও অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে। তাকে যখন পুলিশ জেরা করছিল তখনই হামলা হয় থানায়। সশস্ত্র পুলিশের সামনেই হেলমেট পরা কয়েকজন যুবক এসে হামলা করে টিএমসি নেতাদের উপর। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, ফাঁদ পেতে পুলিশ এই হামলা করিয়েছে। হামলাকারীরা বিজেপির সমর্থক বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পড়ুন: Tripura: থানায় ঢুকে সশস্ত্র পুলিশের সামনে TMC কে ‘পেটানোয়’ অভিযুক্ত BJP

এদিকে জেরার পর টিএমসি নেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতারের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত। তিনি খেলা হবে বলে স্লোগান দিয়েছিলেন। তাঁর এই স্লোগানের ভিত্তিতেই পুলিশ থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করে।

টি়এমসি নেতা কু়ণাল ঘোষের অভিযোগ, থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল বিনা নোটিশে। আইন মেনে থানায় গিয়েছিলেন সায়নী ঘোষ। কিন্তু তাকে গ্রেফতারির পরে তাকে আদালতে যতক্ষণ না পেশ করছে পুলিশ ততক্ষণ জামিনের প্রক্রিয়া ঢিলে হবে। এই বিষয়ে আইনজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলছে দল।

Tripura: থানায় ঢুকে সশস্ত্র পুলিশের সামনে TMC কে ‘পেটানোয়’ অভিযুক্ত BJP

tripura

News Desk: তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ ত্রিপুরার পূর্ব আগরতলার থানার পুলিশ তদন্তের নামে ডেকে পাঠিয়ে ফাঁদ তৈরি করেছিল। থানার মধ্যেই আক্রান্ত হয়ে এমনই মারাত্মক অভিযোগ করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষ। সংবাদ মাধ্যমের ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, কীভাবে থানায় ঢুকে সশস্ত্র পুলিশের সামনেই টিএমসি নেতা সমর্থকদের উপর হামলা চালাচ্ছে একদল দুষ্কৃতি। অভিযোগ হামলাকারীরা সবাই শাসক বিজেপির সমর্থক।

tripura

ঘটনাস্থল পূর্ব আগরতলা থানা এলাকা। তৃ়ণমূল কংগ্রেসের যুবনেত্রী সায়নী ঘোষের ‘খেলা হবে’ রাজনৈতিক মন্তব্যের কারণে ডেকে পাঠানো হয়। তিনি থানায় যান। অভিযোগ এর পরেই শুরু হয় হামলা। টিএমসি নেতা কুণাল ঘোষের অভিযোগ, সায়নীর জন্য সাহায্য করতে এসে থানার মধ্যেই হামলার মুখে পড়ি। এটা একটা ফাঁদ, সবই পূর্ব পরিকল্পিত বলে তিনি আরও অভিযোগ করেছেন।

tripura

ত্রিপুরায় গিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম দলীয় জনসভায় বলেছেন, ‘এখানে একটা মারলে ওখানে পাঁচটা মারব।’ তেলিয়ামুড়ায় পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়রের এই ভাষণের পর থেকেই রাজনৈতিক পরিবেশ নতুন করে উত্তপ্ত হতে থাকে। আগরতলায় নিজেরই গানে একসময় টিএমসিকে তুলোধনা করা প্রাক্তন বিজেপি নেতা বাবুল সুপ্রিয়কে কটাক্ষ করেন ত্রিপুরার বিজেপি সমর্থকরা। বর্তমান টিএমসি নেতা বাবুল এতে অস্বস্তিতে পড়ে যান। তাঁর সঙ্গে বিজেপির সমর্থকদের বচসা হয়। পুলিশ সামাল দেয় পরিস্থিতি।

রবিবার সকাল থেকে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ভ। পুলিশের সামনেই আক্রান্ত হলেন টিএমসি নেতারা। এর আগে পুলিশের সামনেই রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের রাজ্য দফতরে হামলা হয়েছিল।