Assam: ভেজা শরীর দেখে শিহরিত হয় ভক্তরা, ফের গ্রেফতার রাজকন্যা

Model Rajkanya Baruah re arrested from hospital 

নিউজ ডেস্ক: অসুস্থতার ছক করেও পার পেলেন না অসম সহ উত্তর পূর্বের অন্যতম মডেল রাজকন্যা বড়ুয়া (Rajkanya Baruah)। ৯ শ্রমিককে গাড়ির ধাক্কা দিয়েছেন। তাদের একজনের দুটি পা অকেজো হয়েছে। এমনই বিতর্কিত মামলার তদন্তে ফের গ্রেফতার জনপ্রিয় মডেল রাজকন্যা।

এবার তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ কেবিন থেকে গ্রেফতার করা হলো।সরেজমিনে তদন্তে উঠে এসেছে রাজকন্যা বড়ুয়া আদৌ অসুস্থ নন। আইসিইউ তে থাকার কোনও দরকার নেই তাঁর। পুর্ত বিভাগের শ্রমিকদের গাড়ির ধাক্কা দেওয়ার মামলায় ফের তিনি পুলিশি হেফাজতে।

গত ১ অক্টোবর মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে গুয়াহাটির রুক্মিনী গাঁও এলাকায় পুর্ত বিভাগের ৯ শ্রমিকের ভ্যানে ধাক্কা মারেন রাজকন্যা বড়ুয়া। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তে প্রমাণ হয় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তবে পরেরদিনই জামিন পান এই মডেল।

কী করে এত দ্রুত জামিন পেতে পারেন রাজকন্যা বড়ুয়া? এই সমালোচনায় জর্জরিত হয় বিজেপি শাসিত রাজ্য অসমের পুলিশ। বিতর্কের মাঝে নড়েচড়ে বসে সরকার। তদন্তে উঠে আসে, ট্রাফিক আইন ভেঙে গাড়ি চালিয়ে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটানো রাজকন্যা বড়ুয়ার কেস নরম করা হয়েছিল। এই কারণেই তিনি একদিনের মধ্যে জামিন পেয়েছিলেন।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা দ্রুত বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। এতে প্রমাণ হয়েছে, দুই সাব ইন্সপেক্টর সাবির আলি ও অাভারানি গগৈ জামিন পেতে সাহায্য করেছেন। তাদের দায়িত্ব থেকে সাময়িক সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এর পরেই নিজেকে অসুস্থ দাবি করে মডেল রাজকন্যা বড়ুয়া সরাসরি একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ কেবিনে চলে যান। বিতর্ক আরও বাড়ে। পুলিশের বিশেষ প্রতিনিধি দল সরেজমিনে সব খতিয়ে দেখে। চিকিৎসকরা জানান, রাজকন্যা বড়ুয়া আইসিইউ রোগী নন। রিপোর্ট পেয়ে পুলিশ দেরি করেনি। মডেল রাজকন্যাকে ফের গ্রেফতার করেছে।

আয় বহির্ভুত সম্পত্তি থাকার অভিযোগে গ্রেফতার রাজ্য পুলিশের বহিস্কৃত ডিআইজি

DIG Rounak Ali Hazarika

নিউজ ডেস্ক, গুয়াহাটি: আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পত্তি, ‘বিভিন্ন উপায়ে’ রোজগারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হলো অসম পুলিশের ডিআইজি রৌনক আলি হাজারিকাকে। তাঁর সরকারি আবাসনে তল্লাশি চালায় মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ ভিজিল্যান্স দল। তাঁকে আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছে অন্য একটি অভিযোগে।

ধৃত পুলিশ কর্তা রৌনক আলি হাজারিকার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি বিভাগীয় অনুমতি না নিয়েই বিভিন্ন সময়ে বিদেশ গিয়েছেন। এই ব্যয়বহুল যাত্রা তিনি কী করে করলেন তারও তদন্ত চলছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, রৌনক আলি যখন ডিআইজি (বর্ডার) পদে ছিলেন, তখনই তিনি বারবার বিদেশ গিয়েছেন অনুমতি না নিয়ে।

সাসপেন্ড হওয়া পুলিশ কর্তা রৌনক আলি হাজারিকার রোজগারেও বিস্তর অসঙ্গতি ধরা পডেছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গুয়াহাটির হেংরাবাড়ি এলাকা ওই পুলিশ কর্তার বাড়িতে তাল্লাশি অভিযান চালায় মুখ্যমন্ত্রীর ভিজিল্যান্স দল। এর নেতৃত্বে ছিলেন এস পি আর কলিতা। যদিও ভিজিল্যান্স দলের তরফে বাজেয়াপ্ত করা সম্পত্তির পূর্ণ বিবরণ দেওয়া হয়নি।

এদিকে রৌনক আলি হাজারিকার গ্রেফতারির ঘটনায় লাগছে রাজনৈতিক রং। কারণ তিনি রাজ্যে কংগ্রেস সরকারের আমলে পদন্নোতি পেয়েছিলেন। অসমে এখন বিজেপি জোট সরকার।

Assam: ‘উস্কানিমূলক’ মন্তব্যের কারণে কংগ্রেস MLA শেরমন আলির পুলিশি হেফাজত

ssam congress mla Sherman Ali Ahmed

নিউজ ডেস্ক: ‘উস্কানিমূলক মন্তব্যের’ কারণে অসমের বিতর্কিত বিধায়ক শেরমন আলির (Sherman Ali Ahmed) পুলিশি হেফাজত হয়েছে। আদালতের নির্দেশে দু দিনের পুলিশি হেফাজত হয়। শেরমন আলির বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি অসমের (Assam) প্রায় চার দশক পুরনো একটি ঘটনায় বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ তুলে লাগাতার গোষ্ঠী ভিত্তিক ‘উস্কানিমূলক মন্তব্য’ করছিলেন।

সম্প্রতি রাজ্যের দরং জেলায় গরুখুঁটি গ্রামে সংখ্যালঘুদের উচ্ছেদ ঘিরে বিক্ষোভ হয়। সেই বিক্ষোভে পুলিশ গুলি চালায়। এক ব্যক্তির মৃতদেহের উপর এক চিত্রগ্রাহকের নৃশংস লাফ মারা, মৃতদেহ পা দিয়ে আঘাত করা ঘিরে দেশ জুড়ে বিতর্ক চলছে। সেই চিত্রগ্রাহকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধেও উস্কানিমূলক ব্যবহার করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অসমের বাঘবর বিধানসভার কংগ্রেস (Congress) বিধায়ক শেরমন আলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি গরুখুঁটির এই ঘটনার পর দরং জেলার প্রায় চার দশক পুরনো একটি ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে ‘সাম্প্রদায়িক মন্তব্য’ করছিলেন। এই বিধায়কের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অন্তত ২৮টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

অসমের বিরোধী দল কংগ্রেস। দলের তরফে বিধায়ক শেরমন আলির কাছে জবাবদিহির চিঠি পাঠানো হয়। তারপরেই গুয়াহাটির বিধায়ক আবাস থেকে গ্রেফতার হন শেরমন আলি। অসম প্রদেশ কংগ্রেসের অভিযোগ, এই বিধায়ক বিজেপির এজেন্টের মতো ভূমিকা নিয়ে ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানি’ দিচ্ছিলেন।

Assam: ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানি’ মন্তব্য করে গ্রেফতার কংগ্রেস বিধায়ক শেরমন আলি

Congress mla Sherman Arrested

নিউজ ডেস্ক: ‘উস্কানিমূলক মন্তব্য’ করার কারণে দল থেকে জবাবদিহি চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল, পাত্তা দেননি কংগ্রেস (Congress) বিধায়ক শেরমন আলি আহমেদ (Sherman Ali Ahmed)। অভিযোগ, তিনি ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক’ মন্তব্য ছড়াচ্ছেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হলো অসমের এই বিধায়ককে। গুয়াহাটির পানবাজার থানার পুলিশ এমএলএ হোস্টেল থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে।

কংগ্রেস বিধায়ককে গ্রেফতারির ঘটনায় অসমের রাজনৈতিক মহল গরম। তবে অসম প্রদেশ কংগ্রেস তাদের দলীয় বিধায়কের ‘উস্কানিমূলক মন্তব্যের’ কারণে ক্ষুব্ধ। সরকারপক্ষ বিজেপি সরাসরি কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।

সম্প্রতি রাজ্যের দরং জেলায় গরুখুঁটি গ্রামে সংখ্যালঘুদের গ্রাম উচ্ছেদ ঘিরে বিক্ষোভ ও পুলিশের গুলি চালানো, মৃতদেহের উপর এক চিত্রগ্রাহকের নৃশংস লাফ মারা, মৃতদেহ পা দিয়ে আঘাত করা ঘিরে দেশ জুড়ে বিতর্ক চলছে। সেই চিত্রগ্রাহকও গ্রেফতার। তার বিরুদ্ধেও উস্কানিমূলক ব্যবহার করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আর অসমের বাঘবর বিধানসভার কংগ্রেস বিধায়ক শেরমন আলির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনিও দরংয়ের প্রায় ৪০ বছর পুরনো একটি ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে ‘সাম্প্রদায়িক মন্তব্য’ করেছেন। বিধায়কের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অন্তত ২৮টি অভিযোগ দায়ের হয়।

বিতর্কিত মন্তব্য করার কারণে কংগ্রেসের তরফে চিঠি পাঠিয়ে কারণ জানতে চাওয়া হয়। ‘সাম্প্রদায়িক উস্কানি’ মন্তবের জন্য বিধায়ক শেরমন আলিকে ‘বিজেপির এজেন্ট’ বলেও কটাক্ষ করেছে অসম প্রদেশ কংগ্রেস। শেরমন আলি এর পরেই গ্রেফতার হন। জানা যাচ্ছে পূর্নাঙ্গ তদন্তের জন্য বিধায়ককে সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হবে।

Assam: পুলিশের গুলিতে মৃত বাঙালি, প্রতিবাদ বাংলাপক্ষের

নিউজ ডেস্ক: ‘অবৈধ দখলদার’ উচ্ছেদ ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল অসমের দরং জেলা। পুলিসের উপরে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠল বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। পাল্টা গুলি চালায় অসম পুলিস (Assam)। ওই ঘটনায় মৃত্যু হয় মইনুল হক নামের এক বাঙালি যুবকের। ঘটনায় গোহাটি হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার সরকার। 

আরও পড়ুন #BharatBandah: ত্রিপুরায় বনধে সফল মানিক, বাংলায় বিফল সূর্য-সেলিম

পরে একটি একটি ভিডিয়ো ভাইরাল হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাতে দেখা যায়, মাটিতে পড়ে থাকা ওই ব্যক্তির (মৃত) উপর লাফাচ্ছেন অসম পুলিশের এক চিত্রগ্রাহক। পরে অবশ্য ওই চিত্রগ্রাহককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এবার ওই ঘটনার প্রতিবাদে পথে নামল বাংলাপক্ষ।

বাঙালি হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ইতিমধ্যেই তারা সাড়া বাংলা জুড়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাপক্ষের সদস্যরা। গান্ধী জন্ম জয়ন্তীতেও উত্তর ২৪ পরগনা জেলার চিনার পার্ক সংলগ্ন সলুয়া বাজারে একটি পথসভা ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে তারা। সংগঠনের তরফ থেকে উপস্থিত ছিলেন শীর্ষ পরিষদের সদস্য অমিত সেন ও উত্তর ২৪ পরগনা শহরাঞ্চল জেলার সম্পাদক পিন্টু রায়, জেলা কমিটির সদস্য সায়ন মিত্র এবং অন্যান্য সদস্যরা। কর্মসূচিটি পালন করা হয় সলুয়া বাজারে অবস্থিত ভারতীয় সেনার আসাম রেজিমেন্টের ট্রানজিট শিবিরের সামনে। উক্ত সভা থেকে তারা বাঙালি হত্যার বিরুদ্ধে সুবিচার চেয়ে আওয়াজ তোলে।

NRC কোপে ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি, কাটখড় পুড়িয়ে গঙ্গাধর ফিরল ঘরে

Gangadhar Pramanik

তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: কাজের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়ে অসমে পাড়ি দিয়েছিলেন বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের রাধানগর গ্রামের গঙ্গাধর প্রামানিক। কিন্তু কাজ নয়, জুটেছিল কারাবাস! মাত্র ১৬ বছর বয়সে বাড়ি থেকে অসমে পাড়ি দেওয়ায় সঙ্গে ছিলনা ভোটার কার্ড সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। ফলে ২০১৭ সালে অসম সীমান্ত শাখার পুলিশ বাংলাদেশী সন্দেহে গঙ্গাধরকে গ্রেফতার করে। পরে ঐ বছরেরই ১২ ডিসেম্বর থেকে আদালতের নির্দেশে ‘গোয়ালপাড়া ডিটেনশান ক্যাম্পে’ বন্দী জীবন কাটায় রাধানগর গ্রামের এই যুবক।

এই অবস্থায় বেশ কয়েক বছর কেটে গেছে। দীর্ঘদিন ছেলের খবর না পেয়ে গঙ্গাধরের বৃদ্ধা মা ভারতী প্রামানিক ধরেই নিয়েছিলেন ‘ছেলে আর বেঁচে নেই’। এই অবস্থায় ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় আসামের সিটিজেন ফর জাস্টিস অ্যাণ্ড পিসে’র সদস্যরা। ঐ ডিটেনশান ক্যাম্প থেকে মুক্তি পাওয়া দুই আবাসিকের কাছে গঙ্গাধরের খবর পেয়ে দীর্ঘ আইনী লড়াই শেষে ‘ঘরের ছেলেকে ঘরে’ ফিরিয়ে দিলেন তাঁরা। বুধবারই ঐ সংস্থার প্রতিনিধিরা গঙ্গাধর প্রামানিককে তার রাধানগরের বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়ে গেলেন।

১৪ বছর আগে বাড়ি থেকে কাজে খোঁজে বেরোনোর সময় মা, বাবা আর ছোটো বোনকে রেখে গেলেও জনমজুর বাবা মন্টু প্রামানিক আর নেই। কয়েক বছর আগেই বোনেরও বিয়ে হয়ে গেছে। বাড়িতে অসহায় বৃদ্ধা মা একাই থাকতেন। এক যুগ আগে ‘হারিয়ে যাওয়া’ ছেলেকে ফিরে পেয়ে আনন্দে চোখের জল আটকে রাখতে পারেননি তিনি।

অসমে ‘হিড়িম্বা আতঙ্ক’: নৃশংস ডিমাসা বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কেমন করে খুন করে জানুন

dnla militant of assam

নিউজ ডেস্ক: আলফার ভয় আছেই এবার জুড়ছে নৃশংস ডিমাসা জঙ্গিদের নাম। অসম থমথমে। রাজ্যের ডিমা হাসাও জেলায় শুক্রবার পাঁচ শ্রমিককে পুড়িয়ে মেরেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ডিএনএলএ। তাদের দাবি আলাদা হিড়িম্বা রাজি অর্থাত অসম কেটে তৈরি হোক স্বশাসিত এলাকা। দাবি মানা না হলে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করা হবে হুমকি ছিল তাদের তরফে। শুক্রবার সেটাই করে দেখিয়েছে ডিমাসা বিচ্ছিন্নতাবাদী-জঙ্গিরা।

রাজ্যের ডিমা হাসাও জেলা পুরোটাই উপজাতি অঞ্চল। ডিমাসা উপজাতি ভিত্তিক এই জেলায় অবশ্য বাঙালিরাও আছেন। নিম্ন অসমের বরাক নদী উপত্যকার কাছাড় জেলা পুরো বাঙালি অধ্যুষিত। কাছাড়ের উত্তরে উপজাতি জেলা হলো ডিমা হাসাও। এখানেই সক্রিয় ডিমাসা ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি। সংগঠনটি অত্যন্ত আগ্রাসী।

dnla militant of assam

হিড়িম্বা রাজি কী?
স্থানীয় পৌরাণিক গাথা অনুসারে একটি কাল্পনিক ভূখণ্ড হলো হিড়িম্বা রাজি। সেই ভূখণ্ডের দাবিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলা চালাল ডিএনএলএ গোষ্ঠী। বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ডিএনএলএ অধ্যক্ষ কার্মিনডাও ডিমাসা জানিয়েছে, আমরা কারও জমি ছিনিয়ে নিতে আন্দোলন করছি না। ডিমাসাদের হারিয়ে যাওয়া রাজ্য উদ্ধারে এই আন্দোলন চলছে।

২০১৮ সালের ডিমাসা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ডিএনএলএ জন্ম নেয়। অসম নাগাল্যাণ্ড সীমান্তে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়েছে কয়েকবার।

dnla militant of assam

কেমন আগ্রাসী হিড়িম্বা রাজি দাবি করা ডিমাসা জঙ্গিরা?
শুক্রবার যেভাবে পাঁচ লরি শ্রমিককে পুড়িয়ে মারা হয়েছে তাদের চেহারা থেকেই স্পষ্ট হবে হামলাকারী ডিএনএলএ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কতটা নৃশংস। অসম পুলিশের মহানির্দেশক ভাস্করজ্যোতি মহন্ত জানিয়েছেন, ডিএনএলএ হামলা করেছে বেছে বেছে। মৃত ও জখম কেউ উপজাতিভুক্ত নয়। ডিমা হাসাও জেলার সদর হাফলং থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরে হামলা হয়। একটি ট্রাক ঘিরে নেয় ডিএনএলএ জঙ্গিরা। গুলি চালিয়ে সবাইকে জখম করে। পরে আগুনে পুড়িয়ে মারে।

অসম সরকার ও ডিমা হাসাও জেলা প্রশাসন জানাচ্ছে মৃতদের চারজন রাজ্যের হোজাই জেলার বাসিন্দা। একজন উত্তর প্রদেশের প্রতাপগড়ের বাসিন্দা। মৃত তালিকায় সংখ্যালঘু মুসলিমরা রয়েছেন।

dnla militant of assam

আরও পড়ুন: তালিবান সরকারের অংশীদার হাক্কানি নেটওয়ার্ক সক্রিয় নেপাল থেকে উত্তরবঙ্গে

শনিবারের পরিস্থিতি আরও থমথমে। ডিমা হাসাও জেলায় ছড়িয়েছে ভয়। কারণ ডিএনএলএ স্বাধীনতা দিবসের আগেই ভিডিও বার্তায় রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়াকি দিয়ে বলেছিল পৃথক স্বশাসিত এলাকা না হলে ভয়ঙ্কর হামলা হবে। তেমনই ঘটনা তারা ঘটিয়েছে শুক্রবার।

ডিমাসা জঙ্গিদের হামলা, জ্যান্ত পাঁচজনকে পুড়িয়ে মারার ঘটনায় প্রবল অস্বস্তিতে অসমের বিজেপি সরার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার প্রশাসন দূর্বল দাবি করেছে বিরোধী কংগ্রেস সহ বাকিরা। সম্প্রতি অসম-মিজো রক্তাক্ত পুলিশ যুদ্ধের পরেই রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপির প্রশাসন দূর্বল অভিযোগ তুলছে বিরোধীরা।

অসমের কাছাড় জেলা লাগোয়া মিজোরামের কৈলাশিব জেলার আন্ত:সীমানায় দুই রাজ্য পুলিশের মধ্যে নজিরবিহীন গুলির লড়াইয়ে কেঁপেছিল দেশ। অসম পুলিশের ৫ রক্ষীর মৃত্যু হয়। এ যেন রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্র। পরিস্থিতি এমনই যে দুই রাজ্য সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর ও মুখ্যমন্ত্রীরা পরস্পরকে অভিযুক্ত করছেন। বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী জোরামথাঙ্গার মধ্যে টুইট লড়াইয়ে কেন্দ্র সরকার অস্বস্তিতে পড়ে।

এই রক্তাক্ত পুলিশ সংঘর্ষের পর বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলায় ফের অসমে ভয় ছড়িয়েছে।