Delhi Pollution: দূষণের জন্য দায়ী পাকিস্তানকে দায়ী করল যোগী সরকার

Delhi Pollution

Kolkata24x7 Desk: দিল্লির বাতাস দূষণের জন্য আর কেউ নয় পাকিস্তান (pakistan) দায়ী, এমনটাই দাবি করল উত্তরপ্রদেশ সরকার (up government)। উত্তরপ্রদেশের বিজেপি সরকারের এই দাবিতে শীর্ষ আদালতে উপস্থিত অনেকেই হেসে ওঠেন।

শুক্রবার দিল্লি দূষণ (pollution in delhi ) নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে (supreme court) শুনানি চলছিল। দিল্লির দূষণের জন্য কলকারখানা ও গাড়ি থেকে নির্গত ধোঁয়ার পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা, পাঞ্জাবের মত রাজ্যে ফসলের গোড়া পোড়ানো অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এনভি রামান্নার বেঞ্চে দূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছে।

সেই শুনানিতেই শুক্রবার উত্তরপ্রদেশের আইনজীবী রঞ্জিত কুমার দাবি করেন, দিল্লির দূষণের জন্য উত্তরপ্রদেশকে কখনওই দায়ী করা যায় না। কারণ উত্তরপ্রদেশের প্রতিটি শিল্প-কলকারখানা পরিবেশ সংক্রান্ত বিধি মেনেই কাজ করে। তাই সেখান থেকে কোনও রকমভাবে দূষিত ধোঁয়া নির্গত হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। এরপরই রঞ্জিত কুমার আদালতকে স্তম্ভিত করে দিয়ে দাবি করেন, পাকিস্তান থেকে দূষিত বায়ু প্রবেশ করছে দিল্লিতে। সে কারণেই দিল্লির বাতাসে দূষণ বাড়ছে।

উত্তরপ্রদেশ সরকারের আইনজীবীর এই বক্তব্যে বিচারপতিরাও কিছুক্ষনের জন্যে চুপ করে যান। বিচারপতিরাও বুঝতে পারেননি, কীভাবে একজন আইনজীবী এই মন্তব্য করতে পারেন। এরপরই প্রধান বিচারপতি রামান্না উত্তরপ্রদেশের আইনজীবীকে ব্যঙ্গ করে বলেন, তাহলে আপনারা কি চান আমরা পাকিস্তানের শিল্প-কারখানাও নিষিদ্ধ করি। উত্তর প্রদেশ এবং দিল্লির মধ্যে কয়েক কিলোমিটারের ব্যবধান। তুলনায় পাকিস্তান ও দিল্লির মধ্যে ব্যবধানটা অনেক অনেক বেশি। তাহলে উত্তরপ্রদেশ থেকে যদি দূষিত বাতাস দিল্লিতে প্রবেশ করতে না পারে পাকিস্তান থেকে কিভাবে দূষিত বাতাস দিল্লিতে ঢুকছে?

রামান্না আরও বলেন, আসলে আপনারা কোনও চিন্তাভাবনা করে কথা বলেন না। একটি কথা বলার পর তার কি প্রতিক্রিয়া হতে পারে সেটা ভেবে দেখেন না। আপনার মনে যা এল সেটাই বলে দিলেন। এর চেয়ে হাস্যকর আর কিছু হতে পারে না।

উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে গোটা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তকমা পেয়েছে দিল্লি। সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসতে সুপ্রিম কোর্ট সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিতে পারে মাত্র, তা বাস্তবায়িত করার কাজ রাজ্য সরকারের। সেই কাজে ইতিমধ্যেই দিল্লি সরকারের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি দিল্লি, পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশের মত রাজ্যগুলিকে দূষণ নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে।

Parliament building: শীতকালীন অধিবেশন চলাকালীন দিল্লির সংসদ ভবনে আগুন

fire broke out in the Parliament building in Delhi

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: সোমবার থেকে শুরু হয়েছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন (Winter season)। শীত অধিবেশন দু’দিন চলার পর বুধবার (Wednesday) সকালে সংসদ (Parliament) ভবনে আগুন (fire at parliament) লাগে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। যদিও দমকলকর্মীরা (fire brigade ) কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কী কারণে এই আগুন লাগল তা এখনও স্পষ্ট নয়।

দু’দিন ধরে সংসদের অধিবেশন চলছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, শাসক ও বিরোধী পক্ষের সাংসদ সকলেই হাজির থাকছেন সংসদে। সংসদ ভবনের বাইরে চলছে বিরোধীদের ধরনা কর্মসূচি। এরই মধ্যে হঠাৎই সংসদ ভবনে আগুন লাগায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। তবে সাতসকালে আগুন লাগায় সে সময় কোনও মন্ত্রী বা সাংসদ সংসদ ভবনে ছিলেন না।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার সকাল ৮টা নাগাদ সংসদের ৫৯ নম্বর ঘরে আগুন লাগে। সঙ্গে সঙ্গেই খবর দেওয়া হয় দমকলে। ছুটে আসে দমকলবাহিনী। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে দমকল কর্মীরা। তবে কী কারণে আগুন লাগল দমকলের পক্ষ থেকে তা এখনও জানা যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। দমকল বাহিনীর প্রাথমিক অনুমান, সম্ভবত শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে থাকতে পারে। তবে সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখছে দমকল।

Delhi High Court: বুস্টার ডোজ সরকার দেবে না কেন, কেন্দ্রের কাছে জবাবদিহি আদালতের

covid booster shot

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: করোনার মতো মারণব্যাধি প্রতিরোধ করতে কেন বুস্টার ডোজ (booster dose) দেওয়া হবে না, কেন্দ্রের কাছে তার জবাব চাইল দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court )। শুক্রবার আদালত স্পষ্ট জানায়, আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করে কখনওই বুস্টার ডোজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বুস্টার ডোজ সংক্রান্ত বিষয়ে যত শীঘ্র সম্ভব কেন্দ্রীয় সরকারকে (central goverment) তার মতামত জানাতে বলল হাইকোর্ট।

করোনা প্রতিরোধ করতে ইতিমধ্যেই আমেরিকা (America) ও ইউরোপের (Europe) কয়েকটি দেশে বুস্টার ডোজ দেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, ভারত সরকার চাইছে চলতি বছরের মধ্যেই দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে টিকার দু’টি ডোজ দিতে। যদিও সরকার নিজের ঠিক করা সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারবে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। চলতি পরিস্থিতিতে বুস্টার ডোজ নিয়ে মোদী সরকারকে নিজেদের বক্তব্য স্পষ্টভাবে জানাতে বলল দিল্লি হাইকোর্ট।

এদিন হাইকোর্টের বিচারপতি বিপিন সিংঘি এবং বিচারপতি জসমীত সিংয়ের ডিভিশন বেঞ্চে করোনা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি হয়। এই মামলায় দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বুস্টার ডোজ নিয়ে বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের মতামত খতিয়ে দেখেন। বেঞ্চ এদিন বলে, বুস্টার ডোজের বিষয়ে ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা কোনও জোরদার সওয়াল করেননি। তবে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখা যাচ্ছে রোগ প্রতিরোধ করতে হলে বুস্টার ডোজ আবশ্যিক।

আমরা জানি, বুস্টার ডোজ দেওয়া যথেষ্টই ব্যয়বহুল। তবে দেশের মানুষের পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সকলকেই একেবারে বিনামূল্যেই বুস্টার ডোজ দিতে হবে। দেশের খুব কম মানুষই আছেন যারা এই বুস্টার ডোজ কিনবেন। সরকারের উচিত নয়, মানুষের আর্থিক অবস্থা খতিয়ে দেখে বুস্টার ডোজ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া। যেহেতু বুস্টার ডোজ দেওয়ার খরচ অনেকটা বেশি সম্ভবত সে কারণেই সরকার এখনই বিষয়টি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করছে না। যদিও এটা একেবারেই ঠিক নয়।

কারণ আমরা করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের ভয়াবহতা দেখেছি। নতুন করে আমরা ফের এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চাই না। সে কারণেই বুস্টার ডোজ দেওয়া আবশ্যিক। তাই সরকার জানাক, বুস্টার ডোজ দেওয়ার বিষয়ে তারা কী ভাবনাচিন্তা করছে।

একইসঙ্গে বেঞ্চ এদিন বলে, ভ্যাকসিনের বহু ডোজ অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। সেই সমস্ত ভ্যাকসিনের মেয়াদও দ্রুত শেষ হয়ে যাবে। তাই আরও জোর গতিতে টিকাকরণ করতে হবে।

শিশুদের টিকাকরণ নিয়েও দুই বিচারপতির বেঞ্চ এদিন মুখ খুলেছে। বিচারপতিরা বলেন, বিশ্বের বহু দেশে ইতিমধ্যেই শিশুদের টিকাকরণ চলছে। আমাদের দেশেও স্কুল-কলেজ খুলে গিয়েছে। তাই শিশুদের টিকাকরণও দ্রুত শুরু হওয়া দরকার। এ বিষয়ে সরকার কী ভাবছে তা আমাদের জানা দরকার।

Delhi pollution: রাজধানীর বাতাসের গুণমান ফের নামল অতি খারাপ পর্যায়ে

Delhi pollution

Delhi  air quality is down to a very bad level
নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: রাজধানীর দূষণ কমাতে একাধিক নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট (supreme court)। সেই সমস্ত নির্দেশ মেনে একাধিক ব্যবস্থাও নিয়েছে দিল্লি সরকার (Delhi goverment)। কিন্তু তারপরেও দিল্লির দূষণকে (pollution) যেন কোনওভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। একাধিক বিধিনিষেধ মানার কারণে গত কয়েকদিন দিল্লি দূষণ সামান্য কমলেও বুধবার (wednesday) থেকে দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। যে কারণে দিল্লির বাতাসের গুণমান ফের ‘অতি খারাপ’ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

দূষণ কমাতে গত কয়েকদিন ধরেই দিল্লির সমস্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। যান চলাচলের উপর জারি করা হয়েছে একাধিক বিধি নিষেধ। এমনকী, দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকার কয়েকটি জায়গায় জারি করা হয়েছে লকডাউন। এসবের জেরে রবিবার পর্যন্ত দিল্লির বাতাসের গুণমান কিছুটা ভালো হলেও ফের অবনতি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লির এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্স বা বাতাসের গুণমানের সূচক ফের ‘অতি খারাপ’ বিভাগে নেমে গিয়েছে। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বেশি থাকার কারণে আগামী দুদিন দূষণের পরিমাণ একই থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

বাতাসের গুণমানের বেশ কিছুটা উন্নতি হওয়ায় দিল্লিতে ফের নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আপাতত আরও কয়েকদিন নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। পাশাপাশি দূষণ কমাতে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট আরোও একবার দিল্লি সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে।

Pollution: দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারি আমলাদের ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ আদালতের

Pollution

News Desk: দূষণ (Pollution) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকারি আমলাদের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রামান্নার (nv ramanna) নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে দূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলছে।

বুধবার মামলার শুনানিতে বেঞ্চ বলে, দিল্লির বাতাসের গুণমান কিছুটা ভাল হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা ঠিক নয়। দিল্লির (delhi) বাতাসে বিশেষ কোনও পরিবর্তন হয়েছে বলে আদৌ মনে হচ্ছে না। বরং আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী দিনে দিল্লির বাতাসের পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। তাই দূষণ (pollution) নিয়ন্ত্রণে আরও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। দূষণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সকলেই চেষ্টা চালাচ্ছে, কিন্তু সরকারি আমলারা কী করছে সেটা জানা দরকার।

দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদেরও তো কিছু করা উচিত। ওনারা শুধু কৃষকদের ঘাড়ে দায় চাপিয়ে নিজেদের দায়িত্ব ঝেড়ে ফেলবেন এটা চলতে পারে না। কৃষকরা কেন ফসলের গোড়া পোড়াচ্ছেন সেটা তাঁদের কাছে গিয়ে দেখতে হবে। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

nv ramana

এরই মধ্যে জানা গিয়েছে দিল্লির বাতাসের পরিস্থিতি গত কয়েক দিনের তুলনায় কিছুটা ভালো হয়েছে। যে কারণে দিল্লির বাতাসের গুণমান অতিখারাপ পর্যায়ে থেকে খারাপে নেমে এসেছে। কিন্তু আদালত এদিন স্পষ্ট জানায়, এতে আত্মসন্তুষ্টির কোনও জায়গা নেই। দিল্লির বাতাসকে আমাদের যথাসাধ্য বিশুদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এদিন আদালতে বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্র।

ইতিমধ্যে একাধিক দীর্ঘকালীন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, কয়েকদিনের মধ্যেই বাতাসের গুণমানের উন্নতি হবে। সরকার পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। সাত দিন দিন বাদে বাতাসের গুণমানের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। সলিসিটর জেনারেলের ওই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ পাল্টা জানতে চায়, সাত দিনের মধ্যে পরিস্থিতি খারাপ হলে কি হবে? দিল্লির দূষণ কমাতে প্রয়োজনে আরও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করতে হতেই পারে।

একইসঙ্গে বেঞ্চ এদিন কেন্দ্র-দিল্লি সরকারের কাছে জানতে চায়, দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে। প্রধান বিচারপতি রামান্না বলেন, দূষণ কিছুটা কমলেও এই মামলাটি বন্ধ হবে না। বরং এক থেকে দু’দিন অন্তর এই মামলার নিয়মিত শুনানি চলবে। একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতি বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে ছোটখাটো কিছু পদক্ষেপ করে কোনও কাজ হবে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি স্থায়ী বন্দোবস্ত করা দরকার। এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদী কোনও পরিকল্পনা নিয়ে ৭ দিনে দিল্লির বায়ুর উপর তার কী প্রভাব পড়ছে সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। দিল্লি ও কেন্দ্র দুই সরকারই দূষণের জন্য কৃষকদের দায়ী করেছে।

এ বিষয়ে শীর্ষ আদালত এদিন ক্ষোভ প্রকাশ করে। শীর্ষ আদালতের বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, কৃষকরা কেন ফসলের গোড়া পোড়াচ্ছে সে ব্যাপারে তাদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সরকারি আমলাদের যেতে হবে কৃষকদের কাছে। এই সমস্যা যাতে দূর করা যায় সে ব্যাপারে উদ্যোগী হতে হবে। শুধু কৃষকদের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে নিস্তার মিলবে না। সরকারি আমলাদের উচিত ঘরে বসে না থেকে কৃষকদের কাছে মাঠে চলে যাওয়া। ফসলের গোড়া না পুড়িয়ে কৃষকরা কিভাবে সেগুলি নষ্ট করবেন সে বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া।

Delhi: সফরের লোডশেডিং গেরো, তবে রাজনৈতিক আলোকেই মমতা

mamata banerjee

News Desk: চারদিনের দিল্লি সফরে সোমবার রাজধানীতে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে ইতিমধ্যেই দিল্লির রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট উত্তেজনা ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কিন্তু দিল্লি পৌঁছে সফরের প্রথম দিন বেশ কিছুক্ষণ সময় আঁধারে কাটাতে হল মুখ্যমন্ত্রীকে।

সোমবার সন্ধ্যায় হঠাৎই দিল্লিতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়। যে কারণে মুখ্যমন্ত্রীর সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাড়িতেও প্রায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। দিল্লির বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সংস্থা এনডিএমসি (ndmc) বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কথা স্বীকার করে নিয়েছে।

১৮৩ সাউথ অ্যাভিনিউয়ের বাংলোটি সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দিল্লি আসলে মুখ্যমন্ত্রী এখানেই থাকেন। সোমবার দিল্লি পৌঁছলেও মমতার কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না। তাই তিনি ঘরের মধ্যেই ছিলেন। এসময় আচমকা আলো নিভে যায়। শুধু মমতার বাড়িতে যে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে তা নয়, বহু সাংসদের বাংলো এমনকী, রাষ্ট্রপতি ভবনও নিষ্প্রদীপ হয়ে পড়েছিল। সরবরাহকারী সংস্থার দাবি, হঠাৎই উৎপাদনে ঘাটতির কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য হয়েছিল সংস্থা।

শোনা যাচ্ছে, মমতার এই সফরে আরও অনেক উল্লেখযোগ্য নাম তৃণমূলে আসতে পারে। যার মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাম বিজেপির তরুণ সাংসদ বরুণ গান্ধী।

BJP MP Varun Gandhi criticized the Centre's agricultural policy

গত মে মাসে তৃতীয়বার বিপুল ভোটে জিতে বাংলায় সরকার গঠনের পর সর্বভারতীয় স্তরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলের শক্তি বাড়াতে নেমেছেন। ইতিমধ্যেই গোয়া ও ত্রিপুরায় তৃণমূল পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছে। গোয়ায় টেনিস তারকা অভিনেত্রী লিয়েন্ডার পেজ, অভিনেত্রী নাফিসা আলির মতো ব্যক্তিত্ব ইতিমধ্যেই তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন।

মোদী সরকারকে ফেলতে বিরোধীদের নিয়ে রণকৌশল গড়তে দিল্লিতে মমতা

Mamata Banerjee

News Desk: আর কয়েকদিন পরেই শুরু হতে চলেছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন (Winter Season)। শীতকালীন অধিবেশনের শুরুতেই দিল্লি যাচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর চূড়ান্ত সফরসূচি জানা না গেলেও দলীয় সূত্রে খবর, ২২ থেকে ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। রাজনৈতিক মহলের কাছে মমতার এই দিল্লি (Delhi) সফর যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ আগামী বছর পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আগে সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে বিভিন্ন বিরোধী দলগুলির রণকৌশল নির্ধারণে মমতা আলোচনায় বসবেন। কথা বলবেন প্রায় সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে। একই সঙ্গে এই সফরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সামনে তুলে ধরবেন বিভিন্ন দাবিদাওয়া।

mamata banerjee

দিল্লির রাজনৈতিক মহলে এরই মধ্যে মমতার সফরকে ঘিরে এক তীব্র রাজনৈতিক কৌতুহল তৈরি হয়েছে। কারণ দিল্লির বাতাসে একটা গুজব ছড়িয়েছে এই যে, তরুণ বিজেপি সাংসদ বরুণ গান্ধী (Varun Gandhi) তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। যদিও তৃণমূলে যোগ দেওয়া নিয়ে তৃণমূল এবং গান্ধী পরিবারের এই সদস্য কেউই কোনও মন্তব্য করেননি।

উল্লেখ্য, ২৯ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের শীতকালীন অধিবেশন। এর আগে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন পেগাসাস ইস্যুতে কার্যত অচল হয়ে গিয়েছিল। বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ বিক্ষোভের জেরে সংসদে কোনও কাজই হয়নি। তাই শীতকালীন অধিবেশনে সরকার ও বিরোধী পক্ষ উভয়ই সক্রিয় হয়ে উঠেছে। মোদী সরকার যেমন এই অধিবেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করাতে চাইছে তেমনি বিরোধীরা বুঝে নিতে চাইছে নিজেদের অধিকার।

এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী কৃষি আইন বাতিলের কথা ঘোষণা করেছেন। কৃষি আইন বাতিলের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শীতকালীন অধিবেশনে সংসদ সম্পন্ন হওয়ার কথা। সে দিকেও নজর থাকছে। সাধারণত মমতা সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে বা চলাকালীন একবার হলেও দিল্লিতে আসেন। বর্ষাকালীন অধিবেশনেও মমতা দিল্লি এসে জানিয়েছিলেন, বিরোধীদের একজোট হয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করেতে হবে। কে নেতা হবে সে বিষয়টি ভেবে লাভ নেই। তাঁর কোনও ইগো নেই। তাই তিনি শুধু লড়াই করতে চান, নেত্রী হতে চান না।

ওই সফরে মমতা এটা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে, ২০২৪ সালে মোদীকে যদি গদি থেকে সরাতে হয় তাহলে বিরোধীরা জোটবদ্ধ না হলে সেটা সম্ভব হবে না। মমতা বিরোধীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার কথা বললেও দিল্লি থেকে ফিরে গিয়েই তিনি এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। তৃণমূলের এই অবস্থান দেখে অবশ্য বিরোধীরাই ধন্দে পড়েছেন। তারা অনেকেই মনে করছেন, কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিরোধী ঐক্য কখনওই সম্ভব নয় কিন্তু তৃণমূল যদি এভাবে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে মুখ খোলে তাহলে কংগ্রেস বিরোধী জোটে আসবে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

বিপদজনক না হলেও দিল্লির বাতাস অতি খারাপ রয়ে গেল

delhi-yumana

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: দিল্লির বাতাসের গুণমানে সামান্য উন্নতি হয়েছে। তবে এই উন্নতিতে এখনই কোনও আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। কারণ বৃহস্পতিবার সকালে ৬টা নাগাদ এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্স এর সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে দিল্লির (delhi) বাতাসের গুণমান ছিল ৩৬২।

অর্থাৎ বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লির বাতাস বিপদজনক না হলেও ‘অতি খারাপ’ পর্যায়ে আটকে রইল। এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্সের আশঙ্কা, বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসের গুণমান আরও কিছুটা খারাপ হবে। কারণ বেলা বাড়লে রাস্তায় যানচলাচল আরও বাড়বে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, আগামী রবিবারের (sunday) আগে দিল্লির বাতাসের গুণমানের উন্নতির তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে ঠান্ডা জাঁকিয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত দিল্লির বাতাসের গুণমান ছিল বিপজ্জনক পর্যায়ে। শীতের কারণে বাতাসের বেগ বেশ কিছুটা কম হওয়ায় দূষিত বায়ুকণা ভূপৃষ্ঠ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

Delhi Pollution

ফলে দূষণের মাত্রা যেমন বাড়ছে তেমনি সেই দূষণ কাটতে সময় লাগছে। আগামী রবিবার পর্যন্ত আবহাওয়া একই রকম থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। তাই রবিবারের আগে রাজধানীর দূষণ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না মানুষ। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই উত্তরের ঠান্ডা বাতাস দিল্লিতে প্রবেশ করবে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, উত্তরের হিমেল বাতাস ঢুকলে কিছুটা হলেও দিল্লির বাতাসের গুণমান ফিরবে।

অন্যদিকে দূষণ কমাতে সুপ্রিমকোর্টের সমালোচনার জেরে হরিয়ানা সরকারও গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে জোড়-বিজোড় পদ্ধতি চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল (monoharlal) খাট্টার জানিয়েছেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি তৈরি করেছে। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশ মেনে রাজ্যের বেশ কয়েকটি তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। কৃষকদের একাধিকবার অনুরোধ করা হয়েছে, তাঁরা যেন ফসলের গোড়া পোড়ানো কিছুদিন হলেও বন্ধ রাখেন।

<

p style=”text-align: justify;”>দূষণ রুখতে হরিয়ানা (hariyana) সরকারও দিল্লি সীমান্তবর্তী এলাকায় স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হরিয়ানা ছাড়াও সুপ্রিম কোর্টের (supreme court) নির্দেশে পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশও দূষণ কমাতে বেশ কিছুটা সক্রিয় হয়েছে। এই দুই রাজ্যেই দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশকিছু পদক্ষেপ করা হয়েছে।

Delhi Pollution: রাজধানীর স্কুল-কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ, অফিস বাড়ি থেকে

Delhi Pollution

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: ভয়াবহ দূষণের হাত থেকে দিল্লির মানুষকে রক্ষা করতে চালু হল একাধিক নতুন সিদ্ধান্ত। ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্য রক্ষায় দিল্লির সমস্ত স্কুল-কলেজ (school and College) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, বিভিন্ন অফিসে যারা কাজ করেন তাঁদের বাড়ি থেকেই কাজ অর্থাৎ ওয়ার্ক ফ্রম হোম (work from home) করতে হবে। কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের অনলাইনেই পড়াশোনা করতে হবে।

কমিশন ফর এয়ার কোয়ালিটি ম্যানেজমেন্টের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিল্লি, হরিয়ানা, রাজস্থান, উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন অফিসে ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাধ্যতামূলকভাবে বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে। ২১ নভেম্বর পর্যন্ত এই নিয়ম বলবৎ থাকবে। তারপর বাতাসের গুণমান পরীক্ষা করে দেখা হবে এবং নেওয়া হবে পরবর্তী সিদ্ধান্ত।

এদিন কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ জানিয়েছে, দিল্লি ও রাজধানী সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে ৫০ শতাংশ কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করার ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ জানিয়েছে, নির্মাণ কাজের জন্য কেউ যদি নির্মাণসামগ্রী রাস্তার উপর জমা করে রাখে তাহলে তার কড়া শাস্তি হবে। চলতি মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত রাজধানী ও সংলগ্ন এলাকায় কোনও রকম বাড়ি ভাঙা এবং নির্মাণ কাজ করা যাবে না। তবে এই নির্দেশের মধ্যে ছাড় দেওয়া হয়েছে মেট্রো, পরিষেবা, বিমানবন্দর, বাস টার্মিনাল এবং প্রতিরক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন প্রকল্পকে।

Delhi pollution

উল্লেখ্য, দূষণ কমাতে দিল্লি ও আশপাশ এলাকার ১১টি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের (power plant) মধ্যে পাঁচটিতে উৎপাদন চালু রয়েছে। বাকিগুলি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। রাজধানীতে ট্রাকের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। কেবল যে সমস্ত ট্রাক অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বহন করছে তারাই দিল্লিতে ঢোকার অনুমতি পাবে। একইসঙ্গে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ জানিয়েছে, পেট্রোল চালিত গাড়ির বয়স ১৫ এবং ডিজেল চালিত গাড়ির বয়স ১০ বছর হলে সেগুলি বাতিল করে দিতে হবে। কোন গাড়িচালক যদি পলিউশন কন্ট্রোল সার্টিফিকেট (pollution control certificate) দেখাতে না পারেন, তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

<

p style=”text-align: justify;”>এরই মধ্যে দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী গোপাল রাই (gopal rai) বলেছেন, তাঁরা শীর্ষ আদালতে প্রস্তাব দিয়েছেন প্রতি সপ্তাহের শেষে লকডাউন করা হোক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সুপ্রিমকোর্ট (supreme court)। আদালত যা বলবে সেটা মেনে নেওয়া হবে।

হাইভোল্টেজ ম্যাচে দিল্লিকে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলা

bangla women team

Sports desk: বিসিসিআই আয়োজিত ঘরোয়া ওয়ান ডে টুর্নামেন্টের কোয়াটার ফাইনালে দিল্লিকে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হারিয়ে সেমিফাইনালে বাংলা। প্রথম দিকে বাংলার উইকেট দ্রুত পড়তে থাকলেও পরবর্তীতে দুর্দান্তভাবে খেলা ধরেন ধারা গুজ্জর (৭৫) এবং জুমিয়া খাতুন(৩৬)। বাংলা এই দুই জুটির কাঁধে চেপে দিল্লির দেওয়া ১৮৬ রানের লক্ষ্যমাত্রা এক উইকেট বাকি থাকতে তুলে নেয়।

বেঙ্গালুরুতে টসে জিতে বাংলা বোলিং’র সিদ্ধান্ত নেয়। দিল্লির হয়ে প্রিয়া পুনিয়া ৯০, লক্ষী যাদব ২৪,আয়ূসী সোনি ৫২ নট আউট,নেহা চিল্লর ৩ রানে অপরাজিত থাকে। ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে দিল্লি ১৮৫ রান তোলে। বাংলার হয়ে রুমেলি ধর ২, সাইকা ২,গৌহর সুলতানা ১ উইকেট নেয়।

gujjar

জবাবে ব্যাট করতে নেমে বাংলা দ্রুত উইকেট হারিয়ে ফেলে। ফলে ব্যাকফ্রুটে চলে যায় বাংলা। ভ্যানিথা ভি আর (১০),মিতা পাল ৮,রুমেলি ধর (০),পিপি পাল (১),পি বালা(১০),মমতা(১৬), গৌহর সুলতানা (৬) রানে আউট হয়ে যায়।

bangla-team

একদিকে যখন বাংলা দ্রুত উইকেট হারিয়ে ফেলছে, অন্যদিকের উইকেটে ধারা গুজ্জর মাটি কামড়ে ক্রিজে পড়েছিল। ধারা গুজ্জর এবং জুমিয়া খাতুন বাংলার ইনিংস গোছানোর কাজে মন দেয়। ধারা গুজ্জর ১২০ বলে ৭৫ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে প্যাভিলিয়ন ফিরে আসেন।

জুমিয়া খাতুন ৪৫ বলে ৩৬ রানের এক ধৈহ্যশীল ইনিংস খেলে আউট হন।সাইকা ৮ বলে ১৪ রান এবং সুকন্যা পরিধা রানের খাতা না খুলেও অপরাজিত থেকে দিল্লির মুঠো থেকে ম্যাচ জিতিয়ে আনে। বাংলা ১ উইকেটে জিতে সেমিফাইনালের যোগ্যতা অর্জন করে।

<

p style=”text-align: justify;”>দিল্লির হয়ে সোনি যাদব, মঞ্জু, সিমরন দিল বাহাদুর ২,পারুনিকা সিসোদিয়া এবং নেহা চিল্লর একটি করে উইকেট নিয়েছে।

এই প্রথম হাইকোর্টের বিচারপতি হতে চলেছেন কোন সমকামী

saurabh kirpal

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়ামের সুপারিশে এই প্রথম কোনও সমকামী আইনজীবী হাইকোর্টের বিচারপতি হতে চলেছেন। দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রামান্নার (nv ramanna) নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের কলেজিয়াম সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৌরভ কৃপালের নাম দিল্লি হাইকোর্টের (delhi high court) বিচারপতি হিসেবে সুপারিশ করেছে।

চলতি মাসের ১১ তারিখে কলেজিয়ামের বৈঠকে সৌরভ কৃপালের নাম দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। প্রধান বিচারপতি ছাড়াও কলেজিয়ামে রয়েছেন বিচারপতি ইউ ইউ ললিত এবং বিচারপতি এ এম খানউইলকর।

কেন্দ্র যদি কলেজিয়ামের সুপারিশ মেনে নেয় তাহলে সৌরভই (sourav kripal) হবেন দেশের প্রথম ঘোষিত সমকামী বিচারপতি। আইনজীবী মহলে সৌরভ প্রকাশ্যেই নিজেকে সমকামী বলে ঘোষণা করেছেন। উল্লেখ্য, প্রায় তিন বছর আগেই ২০১৮ সালে সৌরভের নাম বিচারপতি পদের জন্য সুপারিশ করেছিল কলেজিয়াম। কিন্তু সে সময় সেই সুপারিশ মেনে নেওয়া হয়নি।

saurabh kirpal

সে সময় বলা হয়, আইনজীবী সৌরভের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইউরোপীয় এবং তিনি সুইজারল্যান্ড দূতাবাসে কর্মরত। ২০২০-র ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদকে (ravishankar prasad) চিঠি দিয়ে সৌরভের সম্পর্কে গোয়েন্দাদের দেওয়া তথ্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা চেয়ে ছিলেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে (s a bobdey)। সে সময় কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়, সৌরভের বন্ধু একজন বিদেশি। তাই তাঁর নাম মেনে নিতে কিছু সমস্যা রয়েছে। আইনজীবী মহল অবশ্য মনে করছে, সৌরভ যেহেতু নিজেকে প্রকাশ্যেই সমকামী বলে ঘোষণা করেছেন সে কারণেই কেন্দ্র তাঁকে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করতে গড়িমসি করছে।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৭ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি গীতা মিত্তালের (gita mittal) নেতৃত্বাধীন কলেজিয়ামও বিচারপতি হিসেবে সৌরভের নাম সুপারিশ করেছিল। ইতিমধ্যেই ২০১৮ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ নম্বর ধারাটি খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। ৩৭৭ ধারায় সমকামকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হত। যে মামলায় শীর্ষ আদালত ওই রায় দিয়েছিল তার অন্যতম আইনজীবী ছিলেন সৌরভ কৃপাল। এর আগে ২০১৯ সালের জানুয়ারি এবং এপ্রিলে এবং ২০২০-র অগাস্ট মাসে কৃপালকে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছিল কলেজিয়াম। তবে ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ দিল্লি হাইকোর্টের ৩১ জন বিচারপতি সর্বসম্মতিক্রমে সৌরভকে সিনিয়র অ্যাডভোকেট হিসেবে পদোন্নতিতে সায় দিয়েছিলেন।

<

p style=”text-align: justify;”>উল্লেখ্য, অক্সফোর্ড এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেছেন সৌরভ। তাঁর বাবা বি এন কৃপাল একসময় ভারতের প্রধান বিচারপতি (chief justice) ছিলেন।

Delhi: শীর্ষ আদালতের পরামর্শ মেনে লকডাউনে সায় কেজরি সরকারের

poliution Delhi

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: দিল্লির বাতাস ভয়ঙ্করভাবে দূষিত। গোটা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর দিল্লি। দুদিন আগে রাজধানীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র ও দিল্লি (delhi) সরকারকে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।

সেই পরামর্শের প্রেক্ষিতে সোমবার কেজরিওয়াল সরকার সুপ্রিম কোর্টে (supreme court) জানাল, দূষণ নিয়ন্ত্রণে তারা লকডাউনের মতো কঠোরতম সিদ্ধান্ত নিতেও প্রস্তুত। কেজরি সরকার এক হলফনামায় জানিয়েছে, শুধুমাত্র দিল্লিতে লকডাউন করলে দূষণ (pollution) সেভাবে নিয়ন্ত্রণে আসবে না। তাই আশপাশের বা এনসিআর অঞ্চলেও লকডাউন জারি করার প্রয়োজন রয়েছে।

শনিবার দূষণ সংক্রান্ত এই মামলায় দিল্লি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্য জানতে চেয়েছিল শীর্ষ আদালত। ওইদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজধানীর দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে লকডাউন জারির পরামর্শ দিয়েছিল দিল্লি সরকারকে। রাজধানীর দূষণ রুখতে কী করা যেতে পারে এদিন সে বিষয়ে কেজরিওয়াল সরকার শীর্ষ আদালতে একটি হলফনামা জমা দেয়। সেই হলফনামাতেই স্পষ্ট বলা হয়েছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার সম্পূর্ণ লকডাউন করতে প্রস্তুত।

poliution Delhi

তবে শুধু দিল্লিতে লকডাউন (lockdown) করলেই হবে না, আশপাশ বা এনসিআর ভুক্ত এলাকাগুলিতেও লকডাউন জারি করা দরকার। তবেই দিল্লির বাতাসের গুণমান নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। দিল্লি সংলগ্ন এনসিআর ভুক্ত অঞ্চলগুলিতে লকডাউন করতে কেন্দ্র এবং শীর্ষ আদালতের অনুমতি দরকার বলেও কেজরি সরকার জানায়।

এদিনের শুনানিতে কেজরিওয়াল সরকারকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। শীর্ষ আদালতের তিন সদস্যের বেঞ্চ জানায়, দিল্লিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্য সরকার কিছু বোকা বোকা অজুহাত দিচ্ছে। রাজ্য সরকার যদি এই ধরনের ভূমিকা পালন করে তবে সুপ্রিম কোর্টকেই রাজ্য সরকারের রাজস্ব আদায় ও সেই টাকা দিয়ে কিভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা ভেবে দেখতে হবে। দেশের প্রধান বিচারপতি এনভি রামান্না (nv ramanna) বলেন, আমরা চাই অবিলম্বে দূষণের মাত্রা কমুক। কিন্তু সরকারকে প্রতিটা পদক্ষেপে পরামর্শ দেওয়ার মতো সময় শীর্ষ আদালতের নেই। কিভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে সেটা তো সরকারকেই ঠিক করতে হবে। দিল্লি সরকারের হলফনামা হাতে পাওয়ার পর প্রধান বিচারপতি বলেন হলফনামার কথা ভুলে যান। এখন আদালতকে স্পষ্ট করে বলুন দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার কী কী পদক্ষেপ করেছে। ওই প্রশ্নের উত্তরে দিল্লি সরকারের আইনজীবী বলেন, দূষণ নিয়ন্ত্রণে পুরসভাগুলিকেও উদ্যোগী হতে হবে।

এই জবাবে প্রধান বিচারপতি আরও ক্ষুব্ধ হন। তিনি কেজরি সরকারের আইনজীবীর যার কাছে জানতে চান, তাহলে দূষণের দায়ে কি আপনারা পুরসভাগুলির ঘাড়ে ঠেলতে চাইছেন? বেঞ্চের অপর বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেন, আপনারা যদি এই ধরনের কথা বলেন তবে আমরা সরকারের রাজস্ব অডিটের নির্দেশ দেব। আসলে আপনারা শুধু সরকারে প্রচারের জন্যই টাকা খরচ করছেন।

এখানেই শেষ নয় শীর্ষ আদালত এদিন স্পষ্ট জানিয়েছে, কিভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে তা নিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাঞ্জাব, দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ সরকারকে বৈঠকে বসতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্র ও যে সংস্থা বায়ুর গুণমান পরীক্ষার তাদের মঙ্গলবার বৈঠকে বসার নির্দেশ দিয়েছে। এই বৈঠকে পাঞ্জাব, দিল্লি, হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশের মুখ্যসচিবদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বুধবার এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। দূষণের হাত থেকে মানুষকে রক্ষা করতে শীর্ষ আদালতে এদিন কেন্দ্র ও কেজরি সরকারকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ নীতি অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়েছে।

এদিন শীর্ষ আদালত কেজরি সরকারকে আরও এক নির্দেশে জানিয়েছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে কোন কোন প্রতিষ্ঠান বন্ধ করা সম্ভব, কী ধরনের গাড়ি চলাচল বন্ধ রাখা যেতে পারে এবং কোন কোন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্লান্টগুলি বন্ধ করা যায় সে সম্পর্কে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে।

<

p style=”text-align: justify;”>মঙ্গলবারের মধ্যেই এই হলফনামা দিতে বলা হয়েছে। শনিবারের শুনানিতে দূষণ কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা জানতে চেয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন সেই জবাব দিয়েছে কেজরি সরকার। কিন্তু শীর্ষ আদালত জানায়, এই পরিকল্পনা হল দীর্ঘমেয়াদি। কিন্তু দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য অবিলম্বে কিছু ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্বের দূষিততম শহর দিল্লি, পিছিয়ে নেই কলকাতাও

delhi

নিউজ ডেস্ক, নয়াদিল্লি: দিল্লির মুকুটে নতুন পালক। তবে এই পালক আনন্দের নয় বরং অত্যন্ত উদ্বেগের। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর দিল্লি (delhi)।

এই সমীক্ষায় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত ১০টি শহরের একটি তালিকা তৈরি করা হয়েছে যে তালিকায় রয়েছে ভারতের তিনটি শহরের নাম। এই তিন শহর হল যথাক্রমে দিল্লি, কলকাতা (kolkata) ও মুম্বই (mumbai)। উল্লেখ্য, আইকিউ এয়ার (iqair) নামে সুইজারল্যান্ডের আবহাওয়াবিদদের একটি দল গবেষণা চালিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এই গবেষণা সংস্থাটি রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে জড়িত।

সমীক্ষা রিপোর্টে জানা গিয়েছে, ভারত তথা গোটা বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর দিল্লি। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের এই তালিকায় কলকাতা ও মুম্বই রয়েছে যথাক্রমে চতুর্থ ও ষষ্ঠ স্থানে। এই সমীক্ষার রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে দিল্লির গড় এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্স ৫৫৬। দূষিত শহরগুলির মধ্যে দ্বিতীয় স্থানটি দখল করেছে পাকিস্তানের লাহোর। অপর শহরগুলির মধ্যে বুলগেরিয়ার সোফিয়া (sofia) রয়েছে তৃতীয় স্থানে, ক্রোয়েশিয়ার জাগরেব (gagreb) রয়েছে পঞ্চম এবং সার্বিয়ার বেলগ্রেড (belgrade) সপ্তম স্থানে। চিনের চেংদু (chendu) অষ্টম, নর্থ ম্যাসিডোনার স্কোপেজ (skopja) নবম এবং পোল্যান্ডের ক্রাকো (krako )১০ম স্থানটি দখল করেছে।

উল্লেখ্য, কয়েক বছর ধরেই দিল্লিতে দূষণ মাত্রা ছাড়া হয়েছে। এরই মধ্যে দীপাবলির পর দিল্লির দূষণ আরও বেড়েছে। পাশাপাশি নভেম্বরের প্রথম থেকেই দিল্লি ও সংলগ্ন হরিয়ানা (hariyana) ও পাঞ্জাবে (punjab) চাষিরা ফসলের গোড়া পুড়িয়ে থাকেন। নাড়া পোড়ানোর ফলে দূষণ একেবারে মাত্রাছাড়া হয়েছে বলে ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।

পরিবেশবিদরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দিল্লির বাতাস দূষিত হওয়ার অন্যতম বড় কারণ হল ফসলের গোড়া পোড়ানো। মূলত পাঞ্জাব ও হরিয়ানা কৃষকদের এই কর্মকাণ্ডের ফলে রাজধানী দিল্লির বাতাস ক্রমশই বিষাক্ত হয়ে উঠছে।

শুধু দিল্লি নয়, ফসলের গোড়া পোড়ানোর ঘন কালো ধোঁয়ায় রাজধানী সংলগ্ন গ্রেটার নয়ডা, নয়ডা, গুরুগ্রাম, গাজিয়াবাদের আকাশও কালো ধোঁয়ায় মুখ ঢেকেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিভিন্ন কলকারখানা ও যানবাহন থেকে নির্গত কার্বন ডাই অক্সাইড। এই মুহূর্তে দিল্লিতে বাতাসে ভাসমান ধূলিকণা পরিমাণ স্বাভাবিকের থেকে প্রায় তিন গুণ বেশি। আসন্ন শীতে বাতাসে এই ধূলিকণার পরিমাণ চারগুণ ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা।

পরিবেশবিদরা আরও জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে দিল্লির বাতাসে যেভাবে দূষণের পরিমাণ বাড়েছে তাকে অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠবে। ইতিমধ্যেই দিল্লির বহু মানুষ শ্বাসকষ্ট, কাশি ও নাক-জ্বালার সমস্যায় ভুগছেন। বাতাসের দূষণ অবিলম্বে কমানোর জন্য যাতে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া যায় সেজন্য সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ জানিয়ে আবেদন করেছেন কয়েকজন পরিবেশবিদ।

দিল্লিতে এইমসের সামনে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব, গুলির লড়াইয়ে জখম ৩

delhi-police

News Desk: রাজধানী দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা অবনতি হয়েছে আরও একবার তার প্রমাণ মিলল। মঙ্গলবার ভোরে দিল্লির এইমসের (aims) সামনে পুলিশের সঙ্গে দুষ্কৃতীদের গুলির লড়াইয়ে জখম হয়েছেন তিনজন। যার মধ্যে দু’জন পুলিশ কর্মী। এইমসের মত জনবহুল জায়গায় গুলি চলায় গোটা এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে এইমস ও সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আঁটসাঁট করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোর চারটে নাগাদ কয়েকজন দুষ্কৃতী বাইকে চেপে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালাচ্ছিল। এইমসের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি পুলিশ ভ্যান লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। সঙ্গে সঙ্গে পাল্টা জবাব দেয় পুলিশ। এদিনের সংঘর্ষে জড়িত থাকার কারণে তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার বেনিটা মেরি জয়কার (banita mari) বলেছেন, গোপন সূত্রে তাঁরা খবর পেয়েছিলেন কোটলা মোবারাকপুরে (mobarakpur) দুষ্কৃতীদের একটি দল লুকিয়ে আছে। তাই ওই এলাকায় তল্লাশি অভিযান যায় পুলিশ।

পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই গোপন ডেরা থাকে গুলি ছুড়তে থাকে দুষ্কৃতীরা। গুলি চালাতে চালাতেই তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সঙ্গে সঙ্গে পুলিশও দুষ্কৃতীদের পিছনে ধাওয়া করে। পুলিশ দেখে তারা আরও বেশি করে গুলি চালাতে শুরু করে। পুলিশও পাল্টা জবাব দেয়। উভয়পক্ষের এই লড়াইয়ে দুই পুলিশকর্মী ও এক দুষ্কৃতী জখম হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত তিন দুষ্কৃতী ধরা পড়েছে। ধৃতদের মধ্যে একজন নাবালক। ধৃতদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমাণে অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে দুইজনের নাম জানা গিয়েছে। এদের একজনের নাম গুরুদেব (gurudeb sing) সিং অন্যজনের নাম অভি সৌরভ (avi sourav)।

এইমসের মত একটি কড়া নিরাপত্তাবেষ্টিত এবং জনবহুল এলাকায় এইগুলির লড়াইয়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। হাসপাতালের রোগী থেকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী এমনকী, রোগীর আত্মীয় পরিজনরাও আতঙ্কিত বোধ করছেন।

এদিনের ঘটনায় রাজধানী দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আরও একবার প্রশ্ন উঠল। ঘটনার জেরে এইমস ও সংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও মজবুত করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, গত দু’মাসের মধ্যে দিল্লির রাস্তায় এই নিয়ে তৃতীয়বার দুষ্কৃতীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাধল। মাস দুয়েক আগে দিল্লির রোহিনী আদালত চত্বরে গুলির লড়াইয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকেও দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে দুষ্কৃতীদের সংঘর্ষ বাধে। ওই ঘটনায় এক দুষ্কৃতী জখম হয়েছিল। পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। দিল্লিতে পুলিশের উপর একের পর এক দুষ্কৃতীদের আক্রমণের ঘটনায় তীব্র আতঙ্কে ভুগছেন রাজধানীর বাসিন্দারা।

Delhi: ভয়াবহ দূষণের জেরে রাজধানীর হাসপাতালে বাড়ছে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা

Delhi pollution

News Desk, Delhi: দীপাবলির পর তিনদিন কেটে গিয়েছে। কিন্তু রাজধানী দিল্লি (Delhi), হরিয়ানা (Hariyana) ও সংলগ্ন এলাকায় বায়ু দূষণের পরিস্থিতির উন্নতি হওয়া তো দূরের কথা বরং আরও অবনতি হয়েছে। ভয়াবহ দূষণের কারণে দিল্লিতে শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীর সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও বেসরকারি চিকিৎসকদের ক্লিনিকে শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের লাইন পড়েছে বলা যায়। প্রতিটি হাসপাতালেই শ্বাসকষ্টের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে।

দীপাবলির তিনদিন পরেও এখনও ঘন কুয়াশার চাদরে মুখ ঢেকে রেয়েছে দিল্লি। শুক্র ও শনিবারের তুলনায় রবিবার বাতাসের গুণমানের (একিউআই) কিছুটা উন্নতি হলেও এখনও তা বিপজ্জনক পর্যায়ে রয়ে গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রবিবার সকালেও রাজধানী দিল্লি ও নিকটবর্তী গুরগাঁও (Gurgaon). গাজিয়াবাদ (Gajiabad), নয়ডা Noida). ফরিদাবাদ (Faridabad) শহরের এয়ার কোয়ালিটি ইন্ডেক্স বা বাতাসের গুণমান অত্যন্ত বিপজ্জনক মাত্রায় রয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা গুরগাঁওয়ের। সেখানে বাতাসের গুণমান বা একিউআই হল ৪৬০। এরপরই আছে গাজিয়াবাদ ও নয়ডা। এই দুই জায়গায় বাতাসের গুণমান যথাক্রমে ৪৫৮ ও ৪৫৫। রবিবার খোদ দিল্লিতে বাতাসের গুণমান ৪৩৬।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই মুহূর্তে রাজধানী দিল্লি ও সংলগ্ন শহরগুলির বাতাসের গুণমান বা একিউআই সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অতীব বিপদজনক। দিল্লি ও হরিয়ানায় বাতাসের গুণমান খারাপ থেকে খারাপতর হয়েছে। দিল্লিতে বাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ হলেও দীপাবলির দিন যে পরিমাণ বাজি পুড়েছে তাতেই রাজধানী এই ভয়ঙ্কর সমস্যার মুখে পড়েছে। আইনি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দিল্লিতে যেভাবে বাজি পুড়েছে তাতে অনেকেই অবাক হয়েছেন। বাজি পোড়ানো বন্ধ করতে পুলিশ ও প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে দেখা যায়নি। শনিবার দিল্লির বাতাসের গুণমান অতি ভয়ঙ্কর পর্যায়ে পৌঁছে ছিল।

এসবের জেরে রাজধানী দিল্লিতে বহু প্রবীণ ও শিশু অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এরা সকলেই প্রবল শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। সঙ্গে রয়েছে কাশি ও চোখ-মুখ জ্বালা। দিল্লি হরিয়ানা, পাঞ্জাবে এ সময় প্রতিবছরই বায়ুদূষণ চরমে ওঠে। কারণ দীপাবলির বাজি ছাড়াও এ সময়েই এই রাজ্যগুলিতে ফসলের গোড়া পোড়ানো হয়। ফসলের গোড়া পোড়ানোর ফলে বাতাসে প্রচুর কার্বন মেশে। যা মানুষের স্বাভাবিক শ্বাস ক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়।

দিল্লিতে বাতাসের পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতিমধ্যেই রাস্তায় জল ছেঁটানোর কাজ শুরু করেছে কেজরিওয়াল সরকার। পাশাপাশি জোড়-বিজোড় নম্বরের গাড়ি চালানোর ব্যবস্থা করা হবে কিনা সে ব্যাপারে চিন্তাভাবনা চলছে। চিকিৎসক রাজেশ চাওলা (Rajesh Chaola) জানিয়েছেন, দিল্লিতে এবং সংলগ্ন এলাকায় অবিলম্বে দূষণ কমানো না গেলে তা সাধারন মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত খারাপ হয়ে দাঁড়াবে। দূষণের কারণে ইতিমধ্যেই দিল্লিতে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যায় পড়া রোগীর সংখ্যা প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রবল দূষণের জেরে আতঙ্কে ভুগছেন রাজধানীর মানুষ। যে কারণে চিকিৎসকরা শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভোগা মানুষকে বাড়িতেই থাকতে অনুরোধ করেছেন।

সরকার চলতে পারলে কৃষক আন্দোলনও পাঁচ বছর চলবে: টিকায়েত

Rakesh Tikayet

News Desk: কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদি ( modi) সরকার যদি পাঁচ বছর চলতে পারে তবে কৃষক আন্দোলনও পাঁচ বছর চলবে। তাৎপর্যপূর্ণ এই মন্তব্য করলেন কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত (rakesh tikayat)। নরেন্দ্র মোদি সরকারের তৈরি তিন কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর থেকে তিনটি জায়গায় বিক্ষোভ দেখাচ্ছে সংযুক্ত কিষান মোর্চা। দিল্লি হরিয়ানা (delhi hariyana) সীমান্তবর্তী গাজীপুর, সিংঘু এবং টিকরি এই তিন জায়গায় প্রায় এক বছর ধরে চলছে কৃষক আন্দোলন।

এই কৃষি আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে মোদি সরকার শেষবার আলোচনায় বসে ছিল চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি। কিন্তু ওই আলোচনায় কোনও সমাধানসূত্র মেলেনি। তারপর প্রায় ১০ মাস গড়িয়ে গিয়েছে। মোদি সরকার কৃষকদের সঙ্গে আর কোনও রকম আলোচনায় বসেনি। এরই মধ্যে সংযুক্ত কিষান মোর্চা মোদি সরকারকে ২৬ নভেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। ওই দিনই কৃষক আন্দোলনের এক বছর পূর্ণ হবে। সংযুক্ত কিষান মোর্চা মোদি সরকারকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ২৬ নভেম্বরের মধ্যে তিন কৃষি আইন নিয়ে উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া না হলে সরকার দেখবে কৃষকদের শক্তি কত।

কিষান মোর্চার ওই হুমকির পরেও মোদি সরকারের টনক নড়েনি। এই প্রেক্ষিতে টিকায়েতের কাছে জানতে চাওয়া হয়, সরকার তো তাদের সঙ্গে কোনও কথাই বলছে না। তাহলে তাঁদের এই আন্দোলন কত দিন চলবে? এই প্রশ্নের উত্তরে টিকায়েত বলেন, কেন্দ্রের মোদি সরকার যদি পাঁচ বছর চলতে পারে তবে তাদের এই আন্দোলনও পাঁচ বছর চলবে।

অন্যদিকে রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই তিন কৃষি আইন নিয়ে খুব সম্ভবত মোদি সরকার শীঘ্রই কৃষকদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে। কারণ দেশের বিভিন্ন রাজ্যের ২৯টি বিধানসভা ও ৩টি লোকসভা আসনে অত্যন্ত হতাশজনক ফল করেছে বিজেপি। আগামী বছরের গোড়াতেই আরও পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন রয়েছে। যার মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হল উত্তরপ্রদেশ। এই নির্বাচনের কথা মাথায় রেখেই মোদি সরকার কৃষি আইন নিয়ে কৃষকদের সঙ্গে হয়তো একটা সমঝোতা করবে।

কারণ সম্প্রতি হওয়া বিভিন্ন রাজ্যের উপনির্বাচনে কৃষি আইন নিয়ে মানুষের ক্ষোভ উপচে পড়েছে ভোটের বাক্সে। যার ফলশ্রুতিতে বিজেপিকে ধরাশায়ী হতে হয়েছে।

দীপাবলির পরেই ভয়াবহ দূষণের কবলে রাজধানী, বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছে দিল্লিবাসী

Delhi air quality dips to very poor

News Desk: বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা ছিল। আদালত নির্দেশ জারি করেছিল। কিন্তু সব ধরনের পরামর্শ ও নির্দেশিকাকে উপেক্ষা করে বৃহস্পতিবার রাতভর দিল্লিতে (delhi)পুড়েছে বাজি। সব বাজিই যে পরিবেশবান্ধব ছিল এমনটাও নয়। মাত্রাছাড়া বাজি পোড়ানোর ফলও মিলল হাতেনাতে।

শুক্রবার ভোর থেকেই শারীরিক সমস্যায় ভুগতে শুরু করেছে মানুষ। স্থানীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, শুক্রবার ভোর থেকেই দিল্লিতে বায়ু দূষণের মাত্রা চরমে পৌঁছেছে। গোটা দিল্লির আকাশ ঢেকেছে ধোঁয়ায়। ইতিমধ্যেই দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকার বহু মানুষ গলার সমস্যায় ভুগছেন অনেকেরই চোখ ও নাক থেকে জল বের হওয়ার সমস্যা শুরু হয়েছে। সঙ্গে রয়েছে কাশি।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি অবধি দিল্লিতে বাজি পোড়ানো নিষিদ্ধ। কিন্তু দিল্লির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকেই শুরু হয় কানফাটানো শব্দে বাজি ফাটানো। এলাকার অনেক অসুস্থ ও প্রবীণ মানুষ ভয়ঙ্কর আওয়াজে অসুস্থ বোধ করেন। যারা বাজি পোড়াচ্ছিলেন তাঁদেরকে এ ব্যাপারে বলা হলেও তাঁরা কোনও কথায় কর্ণপাত করেননি। দিল্লির পাশাপাশি নয়ডা (noida), হরিয়ানার গুরুগ্রাম (gurugram) এবং ফরিদাবাদ (faridabad) থেকেও অত্যন্ত জোরাল শব্দের বাজি পোড়ানোর খবর এসেছে। এসবের জেরে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই দিল্লির বাতাসের গুণমান খারাপ হতে শুরু করে। শুক্রবার সকালে তা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় পৌঁছয়।

আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, বাজি পোড়ানোর কারণে শুক্রবার রাজধানীর ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দৃশ্যমানতা ৬০০ থেকে ৮০০ মিটারের মত কমে আসে। সকাল ১০টা পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ছিল ঘন কুয়াশা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এটা কুয়াশা নয়, বাজির বিষাক্ত ধোঁয়া। বিশেষজ্ঞরা আরও বলেছেন, শুক্রবার রাত ৩ টে নাগাদ বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়ে হয়েছে ৭৭৪.৬৯। যা নির্ধারিত বিপদসীমার থেকে অনেক বেশি। রাত একটায নাগাদ এই সূচকটি পৌঁছে গিয়েছিল এক হাজারের উপরে।

ভয়াবহ দূষণের কারণে শুক্রবার সকাল থেকেই দিল্লির বাসিন্দারা অনেকেই শ্বাসকষ্ট ও গলা ব্যথায় ভুগতে থাকেন। কারও কারও আবার নাক ও চোখ দিয়ে জল বের হতে শুরু করে। অনেকেরই চোখ লাল হয়ে যায়। সঙ্গে ছিল প্রবল কাশি। শারীরিক সমস্যায় ভয় পেয়ে গিয়ে অনেকেই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে দৌড়ন। সার্বিক পরিস্থিতির বিচারে বলা যায়, করোনা এবং পরিবেশের কথা মাথায় রেখে আদালত যে নির্দেশ দিয়েছিল তা রক্ষা করতে আগ্রহী ছিল না দিল্লির বাসিন্দারা। সচেতনতার অভাবেই তাঁরা নিজেদেরকে ফেলে দিলেন চরম দূষণের চক্রব্যূহে। স্থানীয় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, কালীপুজো ও দীপাবলীর কারণে আগামী তিনদিন দিল্লির বায়ুদূষণও মাত্রাছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবারের পর থেকে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে পারে।

রাজধানীর হিংসা ঘটনায় ফেসবুককেও দায়ী করল দিল্লি বিধানসভার শান্তি কমিটি

violence in Delhi

News Desk: নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে গত বছর এক ভয়াবহ দাঙ্গার সাক্ষী হয়েছিল দিল্লি। ওই ঘটনায় কমপক্ষে ৫৪ জন মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। জখম হয়েছিলেন তিনশোরও বেশি মানুষ। রাজধানীর হিংসার ঘটনায় ফেসবুকও দায়ী বলে মনে করছে দিল্লি বিধানসভার শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষা কমিটি।

ফেসবুকের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বিদ্বেষপূর্ণ পোস্ট ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। এ বিষয়ে জানতে দিল্লি বিধানসভা ফেসবুক ইন্ডিয়ার ম্যানেজিং ডিরেক্টর তথা ভাইস-প্রেসিডেন্ট অজিত মোহনকে সমন পাঠিয়েছিল। দিল্লি বিধানসভার বিশেষ কমিটি ফেসবুককে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পেশ করার জন্য ১৬ দিনের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। অর্থাৎ ১৬ দিনের মধ্যে ফেসবুককে তাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ ও উসকানিমূলক। পোস্ট ছড়ানোর যে অভিযোগ উঠেছে তার জবাব দিতে হবে।

গত বছর যখন দিল্লিতে প্রবল দাঙ্গা ছড়িয়ে ছিল সে সময় ফেসবুকের বিরুদ্ধে হিংসা ও বিদ্বেষমূলক পোস্ট ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল। শুধু তাই নয়, ফেসবুককে এ বিষয়ে সতর্ক করার পরেও তারা কোনও রকম ব্যবস্থা নেয়নি। গুরুতর এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে লোকসভার সংসদীয় কমিটির পক্ষ থেকেও ফেসবুকে সমন পাঠানো হয়েছিল। একইসঙ্গে দিল্লি বিধানসভার বিশেষ শান্তি ও সম্প্রীতি রক্ষা কমিটি ও ফেসবুকে সমান পাঠায়।

বিধানসভা কমিটির প্রধান রাঘব চাড্ডা জানিয়েছেন, ফেসবুকের বিরুদ্ধে হিংসা ও উস্কানিমূলক মন্তব্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছিল তার তদন্ত করছে বিধানসভা। তাই এ বিষয়ে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে ১৬ দিনের মধ্যে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে। কারণ কমিটির মনে করছে দিল্লিতে দাঙ্গা ছড়ানোর ক্ষেত্রে ফেসবুকও দায়ী। তাই এ বিষয়ে তাদের মতামত শোনার প্রয়োজন।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অবশ্য দিল্লি বিধানসভার এই সমন এড়িয়ে যায়। এমনকী, বিধানসভার বিশেষ কমিটির সামনে হাজিরা এড়াতে ফেসবুক সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে শীর্ষ আদালত জানায়, দিল্লি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। তাই দিল্লির আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার ভার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের। তাই ফেসবুক কর্তৃপক্ষের আর্জির প্রেক্ষিতে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে কৈফিয়ৎ তলব করা হলে তা কেন্দ্রীয় আইন লঙ্ঘন করা হবে। অন্যদিকে ফেসবুকের পাল্টা যুক্তি ছিল, তারা আগেই সংসদীয় কমিটির কাছে নিজেদের বক্তব্য পেশ করেছে। দিল্লির আইন-শৃংখলার বিষয়টি কেন্দ্রের একটি এক্তিয়ারভুক্ত। তাই বিধানসভা কমিটির কোনও অধিকার নেই তাদেরকে ডেকে পাঠানোর।

Delhi: ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

Delhi: Arrest of main accused

News Desk, Delhi: দু’দিন পালিয়ে বেড়ানোর পরেও পুলিশের হাত থেকে রেহাই মিলল না। রবিবার সকালে হরিয়ানার রোহতক থেকে গ্রেফতার করা হল পশ্চিম দিল্লির রঞ্জিত নগরে নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে। শুক্রবার রাতে দিল্লিতে প্রতিবেশী এক যুবক ৬ বছরের শিশুকে লজেন্স ও খেলনার লোভ দেখিয়ে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ।

ওই নাবালিকার পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার সকালে রোহতক থেকে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পশ্চিম দিল্লির রঞ্জিত নগরে এই ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাড়ির সামনে খেলা করছিল ছয় বছরের একটি নাবালিকা। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, প্রতিবেশী এক যুবক এসে তাকে খেলনা দেওয়ার লোভ দেখায়। খেলনা পাওয়ার জন্য ওই শিশুটি প্রতিবেশী যুবকের পিছন পিছন বাজারের দিকে চলতে থাকে। এরপর একটি নির্জন এলাকায় নিয়ে গিয়ে ওই শিশুটির উপর পাশবিক অত্যাচার চালায় প্রতিবেশী যুবক।

রক্তাক্ত নাবালিকা বাড়ি ফিরে এসে বাবা-মাকে সব কথা জানায়। অসুস্থ হয়ে পড়া ওই শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয় রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতলে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়েছে। আপাতত শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই শিশুটির পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করে। পকসো ধারায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। শুরু হয় তদন্ত। তবে প্রায় ২৪ ঘন্টা গা ঢাকা দিয়েছিল ওই যুবক। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে শেষ পর্যন্ত রবিবার সকালে হরিয়ানার রোহতক থেকে ওই যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ।

রবিবারই তাকে দিল্লি এনে আদালতে তোলা হতে পারে। ইতিমধ্যেই এই ধর্ষণের ঘটনায় পুলিশের কাছে তদন্ত রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে দিল্লি মহিলা কমিশন।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও আমজনতা এই ঘটনায় ফের একবার দিল্লির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। এলাকার মহিলারাও ধৃত যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

Delhi: এইমসে সিনিয়র সহকর্মী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ মহিলা চিকিৎসকের

Delhi AIIMS

অনলাইন ডেস্ক, নয়াদিল্লি: এবার ধর্ষণের এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটল দিল্লির এইমসে। এইমস ক্যাম্পাসের ভেতরেই এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন হাসপাতালেরই এক চিকিৎসক। ঘটনায় অভিযুক্ত এইমসেরই এক প্রবীণ চিকিৎসক। তবে ওই চিকিৎসক ঘটনার পর থেকেই পালিয়ে গিয়েছেন। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ঘটেছে গত মাসে।

অভিযোগকারিণী চিকিৎসকের দাবি, ২৬ সেপ্টেম্বর ক্যাম্পাসে চলছিল এক সহকর্মীর জন্মদিনের পার্টি। পার্টি চলাকালীন এক সিনিয়র চিকিৎসক তাঁকে ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। অভিযুক্ত চিকিৎসক এইমসের পাশেই থাকেন। জন্মদিনের পার্টিতে ওই মহিলার চিকিৎসক-সহ সকলেই মদ্যপান করেছিলেন। সে কারণে রাতে বাড়ি না ফিরে ওই মহিলা চিকিৎসক ক্যাম্পাসেই থেকে গিয়েছিলেন। সে দিনই তাঁকে নিজের ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন এক সিনিয়র চিকিৎসক। ওই সিনিয়র চিকিৎসক বিবাহিত। তবে ঘটনার পরেই তিনি পালিয়ে গিয়েছেন। তাঁকে গ্রেফতার করতে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এখনও অভিযুক্ত চিকিৎসক ধরা পড়েননি।

অভিযোগকারিণী মহিলা চিকিৎসক ১১ অক্টোবর হজ খাস থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর বক্তব্যের উপর ভিত্তি করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ৩৭৬ ও ৩৭৭ ধারায় মামলা হয়েছে। দিল্লির হজ খাস থানা সেই মামলার তদন্ত করছে। তদন্তকারী অফিসার বেনিতা মেরি জানিয়েছেন, অভিযোগকারিণী চিকিৎসকের বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। তাঁর মেডিকেল পরীক্ষাও হয়েছে। অভিযোগকারিণীর সঙ্গে পুলিশ বিস্তারিত কথা বলেছে।

তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজ। তাঁর খোঁজে দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কিন্তু এখনো খোঁজ মেলেনি। তবে আমরা আশা করছি, খুব শীঘ্রই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে পারব। ওই অভিযুক্ত চিকিৎসক পরিবার নিয়ে এইমসের পাশেই থাকেন। ঘটনার দিন চিকিৎসকের পরিবারের অন্য সদস্যরা বাইরে গিয়েছিলেন। সেই সুযোগেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এই অঘটন ঘটিয়েছেন। ওই দিন জন্মদিনের পার্টিতে আর যে সমস্ত চিকিৎসকও অতিথি উপস্থিত ছিলেন তাঁদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

এইমসের ভিতরেই এক চিকিৎসকের হাতে আর এক চিকিৎসকের ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসতেই রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সকলেই অভিযুক্ত চিকিৎসককে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।