আফগানিস্তানে তালিবানি পতাকা কেনার হিড়িক, জঙ্গি বিরোধী পঞ্জশির বলছে ‘না’

Afghanistan Taliban National flag,

#Afghanistan
নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে একটি ছবি। এতে দেখা যাচ্ছে, কাবুলের রাজপথে এক কিশোরকে সদ্য অধিগ্রহন করা তালিবান পতাকা হাতে যেতে। আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকা এখন এটি। গত ১৫ আগস্ট তালিবান (Taliban) যখন কাবুল দ্বিতীয়বার দখল করে, কিছু পরেই আফগান জাতীয় পতাকা নামিয়ে দেয়।
তালিবান জঙ্গি অধিকৃত আফগানিস্তানের নতুন নামরণ করা হয়েছে। ইসলামি প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তান নাম আর নেই। এর বদলে তালিবান দিয়েছে ইসলামিক আমিরশাহী আফগানিস্তান নাম। প্রচলিত অর্থে দেশটিতে পুরনো আমিরতন্ত্র ফিরিয়েছে তালিবান জঙ্গি সংগঠন।

১৫ আগস্ট তালিবান দখলে কাবুল চলে যাওয়ার পরেই আফগানিস্তানের পূর্বতন জাতীয় পতাকা নিয়ে কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছিল। বিক্ষোভরত আফগানিদের দাবি কোনওভাবেই জাতীয় পতাকা পরিবর্তন করা যাবে না। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে তালিবান রক্ষীদের বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষে কয়েকজনের মৃত্যু হয়। তবে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নতুন তালিবানি পতাকা নিতে দেখা গিয়েছে অনেক আফগানিকেই। অতীত স্মৃতি হচ্ছে সদ্য অপসারিত নির্বাচিত সরকারের আমলের পতাকা।

বিভিন্ন সময়ে কাবুলের তখতে যারা ক্ষমতা এসেছে তখনই বদলেছে আফগান জাতীয় পতাকা। গত একশ বছরে এই পরিবর্তন হয়েছে অন্তত ১৯ বার। আফগান জাতীয় পতাকার এই পরিবর্তন দেশটির প্রতিটি জমানার একেকটি ইঙ্গিতবাহী দিক মনে করেন গবেষকরা।

কাবুলের সংবাদমাধ্যমেও নতুন তালিবান পতাকা দিয়ে খবর সম্প্রচার শুরু হয় ১৫ আগস্ট দুপুরের পর থেকেই। সেইদিনই সকাল পর্যন্ত যতক্ষণ কাবুলে প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি ছিলেন ততক্ষণ আফগান জাতীয় পতাকা উড়েছিল কাবুল প্যালেস ও আইনসভার উপর। তিনি পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। তালিবান জঙ্গিরা দখল করে নেয় কাবুল। আফগান রাজধানীতে নিজেদের সংগঠনের পতাকা হাতে জঙ্গি তালিবান টহল শুরু হয়। সেই পতাকা এখন সব সরকারি ভবন, আইনসভা ও প্রেসিডেন্ট ভবনে উড়ছে।

কাবুলের সংবাদ মাধ্যমের খবর, ৩১ সেপ্টেম্বরে মার্কিন সেনা পুরোপুরি আফগানভূমি ত্যাগ করার পরই হুড়মুড়িয়ে বেড়েছে তালিবানের কায়দার পোশাক, বোরখা কেনার পালা। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। পাল্লা দিয়ে বিকোচ্ছে নতুন তালিবানি পতাকা। সাধারণ আফগানির মনে রয়েছে সদ্য পুরনো হওয়া পতাকাটি। তবে তারা নিজেদের নিরাপদে রাখতে নতুন পতাকায় মুড়ে নিচ্ছেন।

ব্যতিক্রম আছে। আফগানিস্তানের একমাত্র তালিবান বিরোধী এলাকা পঞ্জশির। সেখানে কোনও তালিবানি শাসন নেই। পঞ্জশিরের শাসক আহমেদ মাসুদ জানিয়েছেন, পিতার মতো তিনিও আফগানিস্তানের কৌলীন্য বজায় রাখতে তালিবান বিরোধী যুদ্ধ চালাবেন। পঞ্জশিরের সিংহ বলে সুপরিচিত আহমেদ শাহ মাসুদ গত তালিবান সরকারের আমলে প্রবল যুদ্ধ করে নিজের এলাকা তালিবান মুক্ত রেখেছিলেন। পরে নাশকতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

পিতার মতোই পঞ্জশিরকে তালিবান মুক্ত রাখতে নিজস্ব সেনাবাহিনির প্রস্তুতি শুরু করেছেন জুনিয়র মাসুদ। এখানেই রয়েছেন অপসারিত আফগান সরকারের ভাইস প্রেসিডেন্ট সামারুল্লাহ। তিনি নিজেকে প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করেছেন। একমাত্র পঞ্জশিরেই এখনও উড়ছে তালিবানি আমলে সদ্য উপড়ে ফেলা আফগান জাতীয় পতাকা।

তালিবান জঙ্গিদের বার্তা: ভারত-আমেরিকাসহ সবার সঙ্গে কূটনৈতিক সুসম্পর্ক চাই

Taliban army in kabul airport

নিউজ ডেস্ক: বিবৃতির চমক। প্রথমে আফগানিস্তানকে (Afghanistan) সার্বভৌম দাবি করা। কিছু পরে সব দেশের সঙ্গে কূটনীতি সুসম্পর্কের বার্তা। মার্কিন সেনার কাবুল ত্যাগের পর তালিবান যে বার্তা দিচ্ছে তাতে আন্তর্জাতিক মহল চমকে যাচ্ছে।

তবে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রবল উদ্বেগে ভারত সরকার। গোয়েন্দা সতর্কতা যে কোনও সময়ে জম্মু-কাশ্মীরে তালিবান ঘনিষ্ঠ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা নাশকতা ঘটাবে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই নাশকতার পরিক্লপনা করছে জঙ্গি নেতা পাকিস্তানে থাকা মাসুদ আজাহার।

এদিকে দীর্ঘ ২০ বছর পর মঙ্গলবার ৩১ আগস্ট সকালেই মার্তিন যুক্তরাষ্ট্রের শেষ বিমানটিতে সেনাকর্মীরা আফগানিস্তান ছেড়ে যান। এরপরেই আফগানিস্তানের ‘পূর্ণ স্বাধীনতা’ ঘোষণা করেছে তালিবান। মার্কিন বাহিনি প্রত্যাহারের মুহূর্তকে ঐতিহাসিক আখ্যায়িত করে আফগানবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছে জঙ্গি সংগঠনটি। বিমানবন্দরের রানওয়ে থেকে তালিবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলে, আফগানিস্তানকে অভিনন্দন। এই বিজয় আমাদের সবার। আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ পুরো বিশ্বের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে চাই। সবার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে আগ্রহী।

মার্কিন বাহিনির শেষ বিমানটি কাবুল ত্যাগ করার পর কাবুল বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তালিবান। বিমানবন্দরে ঢুকেই ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে উদযাপন শুরু করে তারা।

মার্কিন বাহিনীর জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন, ছয় হাজার মার্কিন নাগরিক সহ ৭৯ হাজার মানুষকে কাবুল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ১৫ আগস্ট তালিবান কাবুল দখল করার পর অল্প সময়ের মধ্যে সব মিলিয়ে কাবুল থেকে এক লাখ ২৩ হাজার সাধারণ আফগানি ও বিদেশি বিভিন্ন দেশে পালিয়েছেন।

গত এপ্রিলেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আফগানিস্তান থেকে ৩১ আগস্টের মধ্যে সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেই ঘোষণা অনুযায়ী মঙ্গলবার সেনা প্রত্যাহার শেষ করল ওয়াশিংটন।

তালিবান কারা? আফগানিস্তানের জঙ্গি শাসকদের কথা

নিউজ ডেস্ক: তালিবান আসলে কারা? কীভাবে এই গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে আফগানিস্তানে? এক নজরে জেনে নিন।
পশতু ভাষায় তালিবান মানে ছাত্র।আফগানিস্তানে ১৯৮০-৯০ দশকে ছিল সোভিয়েত ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণ।সোভিয়েত হটাতে আমেরিকার মদতে মুজাহিদিন বাহিনি যুদ্ধ শুরু করে। শুরু হয় বিখ্যাত আফগান গৃহযুদ্ধ।
১৯৯০ দশক। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন হয়। সেই সময় উত্তর পাকিস্তানে তালিবান সশস্ত্র সংগঠনের জন্ম।

সোভিয়েত বিরোধী কট্টর সুন্নী মতাদর্শের ইসলামই প্রচার করত তালিবান।
সোভিয়েত পতনের পর আফগানভূমি থেকে সরে যায় লাল ফৌজ।
পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান খুব দ্রুত প্রভাবশালী হয় তালিবান।

শুরু হয় তালিবানের কাবুল দখল অভিযান। সোভিয়েত মদতের আফগান সরকারের পতন হয়।
১৯৯৬ সালে তালিবান দখল করে কাবুল। প্রেসিডেন্ট মহম্মদ নাজিবুল্লাহকে খুন করে ঝুলিয়ে দেয়।
১৯৯৬-২০০১ তালিবান সরকার চলে আফগানিস্তানে।

প্রকাশ্যে মহিলাদের মাথা কাটা, গণহত্যার ও গণধর্ষণ শুরু করে তালিবান।
বিবিসি জানাচ্ছে,তালিবান দুর্নীতি দমনে সাফল্যে দেখিয়েছিল। ব্যবসা বাণিজ্যের সুযোগ করে দিয়েছিল। তবে তালিবানের নৃশংসতা সবকিছু ছাপিয়ে যায়।

২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে আল কায়েদা হামলা করে।
আল কায়েদা জঙ্গি সংগঠনটির নেতা লাদেনের সঙ্গে সখ্যতা তালিবানের।
আল কায়েদা ও তালিবান সম্পর্কের কারণে আমেরিকা সরাসরি আফগানিস্তানে সেনা পাঠায়।

মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট সেনার হামলায় ২০০১ সালের ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে তালিবান সরকারের পতন ঘটে।
২০০১-২০২১ টানা কুড়ি বছর আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রক আমেরিকা।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকাএবং তালিবানের মধ্যে শান্তি চুক্তি হয় কাতারে।
চুক্তি অনুযায়ী আমেরিকান সেনা সরতে শুরু করে। গত ১৫ আগস্ট তালিবান দখল করে কাবুল।
৩১ আগস্ট সম্পূর্ণ চলে গেলে আমেরিকান সেনা। আফগানিস্তানে দ্বিতীয়বার তালিবান সরকার গড়ছে।

গুডবাই কাবুল, ভেরি ব্যাড মর্নিং!

Jet fighters circle the skies of Kabul as the U.S

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: নিচে কাবুল (Kabul) নগরী। মোগল সম্রাট, কাবুলের শাসক বাবরের তৈরি চমকদার বাগান ‘বাগ এ বাবর’ এর উপর দিয়ে পুরো আফগান (Afghanistan) রাজধানীর উপর শেষ চক্কর কাটল আমেরিকান যুদ্ধ বিমান। সেনারা (US army) বিমানের গোল গোল জানালা দিয়ে দেখলেন অধিকৃত জমিন ছেড়ে যাওয়ার মুহূর্ত। কেউ হয়ত বলেছে গুড বাই কাবুল! ভেরি ব্যাড মর্নিং।

কথা রেখেছে আমেরিকা। কাতারের রাজধানী দোহা শহরে তালিবান (Taliban) জঙ্গি ও আমেরিকা সরকারের কূটনৈতিক শান্তি বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে ৩১ আগস্ট ২০২১ টানা কুড়ি বছর সর্বাধিক খরচের সামরিক অভিযান শেষ করে কাবুলকে মাথা কেটে নেওয়ৈর মারাত্মক তালিবান শাসনের হাতে তুলে দিয়ে চলে আসার মুহূর্ত এমন॥
১৯৭৫ সালে এমনই এক সকালে সরাসরি যুদ্ধে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির কাছে পরাজিত হয়ে ভিয়েতকং গেরিলা যোদ্ধাদের সামনে দিয়ে আমেরিকার সেনা সায়গন শহর ত্যাগ করেছিল। সেই সায়গন ত্যাগের কালো ছায়া বরাবর লম্বা হয়ে পড়ে বিশ্ববিখ্যাত সাদা বাড়ি-হোয়াইট হাউসের উপরে এখনো।

Jet fighters circle the skies of Kabul as the U.S

সায়গন ছেড়ে পালানোর পর কাবুল ছেড়ে চলে যাওয়ার মাঝে পার্থক্য- ‘৭৫ সালের সায়গন ছিল কুড়ি বছর ভিয়েতনামে মার্কিনি আধিপত্যের শেষ। ভিয়েতনামি জনগণের জয়। আর আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল থেকে কুড়ি বছরের সামরিক অভিযান শেষ করে আমেরিকান সেনার চলে যাওয়া কূটনৈতিক উপায়ে নিজেদের তৈরি তালিবান জঙ্গিদের জন্য খোলা মাঠ তৈরি, তাদের বিশ্বজনীন স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা।

ast flight of us troops has take off from Afghanistan capital

আজ মঙ্গলবার। আজ তালিবানি শাসনে দ্বিতীয়বার চলে যাওয়া আফগানি জনতার একলা হওয়ার দিন। আজ মঙ্গলবার আজ থেকে নির্বিচারে মাথা কাটার দিন। কুড়ি বছরের সর্বব্যাপী সামরিক অভিযান শেষ। আফগানিস্তান থেকে চূড়ান্তভাবে সরে গেল আমেরিকা। মঙ্গলবার খুব ভোরে কাবুল বিমান বন্দর থেকে উড়ে গিয়েছে মার্কিন সেনার বিমান। কাবুল সহ পুরো আফগানিস্তানে এখন তালিবান শাসন শুরু হবে। মঙ্গসবারের পর থেকে তালিবান জঙ্গিদের দ্বিতীয় সরকার ঘোষণার দিকে বিশ্ব।

আফগানিস্তান এখন জঙ্গি দখলে। আমেরিকান সেনা নিয়ে শেষ বিমান উড়ে যাওয়ার পরেই কাবুল জুড়ে শুরু হয়েছে তালিবানদের বিজয় পালন। চিরাচরিত আফগান রীতিতে আকাশের দিকে বন্দুক তাক করে গুলি ছুঁড়ে উল্লাসে মত্ত জঙ্গিরা।আফগানবাসী ঘরবন্দি। তালিবান শরিয়া আইন চালু হচ্ছে। যে কোনও সময় মাথা কাটা যাবে।

প্রথম তালিবান সরকার তৈরি হয় আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের লাল ফৌজ সরে যাওয়ার পর নির্বাচিত সরকারের প্রেসিডেন্ট ড নাজিবুল্লাহকে খুন করে। সম্পূর্ণ আমেরিকান মদতে তালিবান দখল করেছিল আফগানিস্তানের কুর্সি। তারপরেই তাদের বন্ধু জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার বাড়বাড়ন্ত। ২০০১ সালে আল কায়েদার হামলায় আমেরিকা সর্বাধিক নাশকতার কবলে পড়ে। ভয়াবহ ৯/১১ হামলার পরেই আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছিল আমেরিকান সেনা।

২০০১-২০২১ এই কুড়ি বছরে আমেরিকা তাদের সর্ববৃহৎ সামরিক অভিযান সংঘটিত করেছে আফগানিস্তানে। এই অভিযান শেষের চূড়ান্ত মুহূর্ত কাতারের রাজধানী দোহা শহরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তালিবান উপপ্রধা মোল্লা আবদুল বারাদারের মধ্যে শান্তি আলোচনায় তৈরি হয়। আফগানিস্তানের পুতুল সরকারের পক্ষে কিছুই করার ছিলনা। একপ্রকার পতন বুঝেই যায় আফগান সরকার।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতো আমেরিকা সেনা সরাতে শুরু করে। বিভিন্ন প্রদেশের দখল নেয় তালিবান। ন্যুনতম প্রতিরোধ করে আফগান সেনা পালাতে থাকে। অবশেষে গত ১৫ আগস্ট কাবুলে আফগান সরকারের পতন হয়। প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশত্যাগ করেন।

অ-মঙ্গল: গান্ধার দেশে মঙ্গলেই তালিবান আস্ফালন শুরু

Biden to Withdraw Combat Troops From Afghanistan

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: কুড়ি বছরের মারাত্মক অভিযান শেষ হয়ে যাচ্ছে। আজ ৩১ আগস্ট, ২০২১ আমেরিকার (US) সেনা পুরোপুরি সরে যাবে আফগানিস্তান (Afghanistan) থেকে।

আমেরিকা সরকার তালিবানের (Taliban) সঙ্গে যে শান্তি বৈঠক করেছিল তার ফল হিসেবে জঙ্গিরা এখন দ্বিতীয়বারের জন্য আফগানভূমির ক্ষমতায়। আজই আমেরিকান সেনা তাদের সর্ববৃহৎ বিদেশে সামরিক কর্মসূচি তুলে নিচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার, আজ মাথা কাটার তালিবানি আস্ফালনের দিন
ঠিক পনের দিন আগে, গত ১৫ আগস্ট ভারতের ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবসের দিন দ্বিতীয়বার তালিবান জঙ্গি কব্জায় ঢুকেছিল আফগান রাজধানী কাবুল। সেইদিনই বিশ্ববিখ্যাত সাংবাদিক সম্মেলনে তালিবান জঙ্গিদের ঝাঁ চকচকে কর্পোরেট আদল দেখাতে মরিয়া চেষ্টা করে সংগঠনটির মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ। আন্তর্জাতিক সংবাদদাতাদের সামনে তার দাবি ছিল, এই তালিবান তাদের পূর্বসূরিদের তুলনায় নরম মনোভাব দেখাবে।

আরও পড়ুন: ২০ বছরের যুদ্ধ শেষে আফগানিস্তানে পরাজিত আমেরিকা

তালিবান তার চরিত্র বদলাবে না এটা আফগানবাসীর পালানো দেখেই স্পষ্ট। ঘরপোড়া গোরু যেমন সিঁদূরে মেঘ দেখলে ডরায় তেমনই ভুক্তভোগী আফগানিরা ভীত। তাঁরা প্লেনের চাকা ধরে পালাতে গিয়ে মরেছেন। কিন্তু পালাতে চাইছেন দেশ থেকে। কারণ সরকার গড়বে তালিবান। যে তালিবানের ভয়ঙ্কর মাথা কাটার রূপ গত ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত আফগানিস্তানে দেখা গিয়েছিল।

প্রথম তালিবান সরকার তৈরি হয় আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের লাল ফৌজ সরে যাওয়ার পর নির্বাচিত সরকারের প্রেসিডেন্ট ড নাজিবুল্লাহকে খুন করে। সম্পূর্ণ আমেরিকান মদতে তালিবান দখল করেছিল আফগানিস্তানের কুর্সি। তারপরেই তাদের বন্ধু জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদার বাড়বাড়ন্ত। ২০০১ সালে আল কায়েদার হামলায় আমেরিকা সর্বাধিক নাশকতার কবলে পড়ে। ভয়াবহ ৯/১১ হামলার পরেই আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছিল আমেরিকান সেনা।

আরও পড়ুন : মার্কিন-আফগানিস্তান যুদ্ধে মৃত্যু এবং খরচ হল কত?

২০০১-২০২১ এই কুড়ি বছরে আমেরিকা তাদের সর্ববৃহৎ সামরিক অভিযান সংঘটিত করেছে আফগানিস্তানে। এই অভিযান শেষের চূড়ান্ত মুহূর্ত কাতারের রাজধানী দোহা শহরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তালিবান উপপ্রধা মোল্লা আবদুল বারাদারের মধ্যে শান্তি আলোচনায় তৈরি হয়। আফগানিস্তানের পুতুল সরকারের পক্ষে কিছুই করার ছিলনা। একপ্রকার পতন বুঝেই যায় আফগান সরকার।

বৈঠকের সিদ্ধান্ত মতো আমেরিকা সেনা সরাতে শুরু করে। বিভিন্ন প্রদেশের দখল নেয় তালিবান। ন্যুনতম প্রতিরোধ করে আফগান সেনা পালাতে থাকে। অবশেষে গত ১৫ আগস্ট কাবুলে আফগান সরকারের পতন হয়। প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি দেশত্যাগ করেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে তালিবান এখনও আফগানিস্তানের ক্ষমতা নেয়নি। ৩১ আগস্ট আমেরিকার সেনা পুরো সরে গেলে কী হবে তা তালিবান ও আফগান জনতা জানে।

ইতিমধ্যেই আফগানিস্তানে ফিরেছে আল কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের দেহরক্ষী আমিন উল হক। লাদেন মৃত। আফগান সীমান্তের কাছে রুশ সামরিক মহড়া চলছে।রাষ্ট্রসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি বৈঠক হয়েছে।

সবই ৩১ আগস্টের পরের পরিস্থিতি বিচার করে পদক্ষেপ নেওয়ার পালা। আজকেই তালিবান আফগানভূমিতে ফের মুক্ত। তাদের আস্ফালন শুনছে বিশ্ব। ঘর ফেরত আমেরিকান সেনারা জানেন তারা কী পরিস্থিতি পিছনে ফেলে যাচ্ছেন। অসহায় আফগানিরা মাথা কাটার ভয়ে দিন শুরু করবেন আজ থেকে।

তালিবান জঙ্গি সরকারের গঠন কেমন হতে পারে, কারা থাকছে

Taliban government

নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত যে নিয়ম রয়েছে তালিবান সংগঠনের সেটার ভিত্তিতেই সরকার গড়তে চলেছে তালিবান। আফগানিস্তানের তাদের এই দ্বিতীয় দফার সরকারে পুরনো প্রেসিডেন্ট ভিত্তিক দেশ থাকতে নাও পারে। এখানেই প্রশ্ন, তালিবান সরকার কি তাদের আমীরতন্ত্র চালু করবে আফগানিস্তানে ?

গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তানের নাম পাল্টে দেয় তালিবান। নতুন নাম হয়েছে ইসলামি আমীরশাহি আফগানিস্তান। পাল্টে দেওয়া হয়েছে জাতীয় পতাকা। এই নিয়ে দেশটির জাতীয় পতাকা ১৯ বার পাল্টেছে। এখন তালিবান সংগঠনের পতাকা উড়ছে কাবুল প্যালেসে।

ফরেন পলিসি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়ক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের ওয়েব ম্যাগাজিনে লেখা হয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এমন কিছু গঠনতন্ত্র আনতে চলেছে যাতে প্রেসিডেন্ট পদ থাকতেও না পারে। সেক্ষেত্রে আমীর পদ ফের চালু করবে তালিবান জঙ্গিরা।

আফগান সংবাদ মাধ্যম আরিয়ানা নিউজ জানাচ্ছে, দেশ শাসনের জন্য ১২ সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠন করতে যাচ্ছে তালিবান। এই কাউন্সিলে থাকতে পারেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। আফগান পুনর্গঠন কাউন্সিলের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এবং ইসলামিক পার্টির নেতা গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার। তিনজনেই আফগান রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। হেকমতিয়ার প্রাক্তন মুজাহিদিন, যিনি সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে অংশ নেন। আফগান গৃহযুদ্ধের সময় হেকমতিয়ারের ভূমিকা বিতর্কিত বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

তালিবান জনসংযোগ বিভাগ জানাচ্ছে, গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে এই তিন নেতাকে নিয়েছে একটি সমন্বয় কাউন্সিল গঠন করা হয়। তারা ধারাবাহিকভাবে তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।

ফরেন পলিসি জানাচ্ছে, আফগানিস্তান শাসন করতে ১২ সদস্যের কাউন্সিল গঠন করবে তালিবান। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য প্রশাসন গঠনে মরিয়া থাকাতে চায় এই মারাত্মক জঙ্গি সংগঠনটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত অপসারিত আশরাফ ঘানির সরকারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে এই কাউন্সিলে যুক্ত করতে পারে তালিবান।

কাউন্সিলের সর্বচ্চো তিন প্রধান হবে তালিবানের সহ প্রতিষ্ঠাতা আবদুল ঘানি বারাদার, তালিবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা মহম্মদ ইয়াকুব এবং তালিবান সহযোগী জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্ক ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব।
ইতিমধ্যে হাক্কানি নেটওয়ার্ক প্রধান জঙ্গি নেতা আনাস হাক্কানির সঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের বৈঠকের ছবি প্রকাশ হয়েছে। আফগান বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কারজাইকে বিশেষ পদ দেওয়া হবে। কারণ তিনিই ছিলেন তালিবান ও পূর্বতন আফগান সরকারের মধ্যে শান্তি বৈঠকের অন্যতম নেতা।
তালিবান কী রকম সরকার গড়বে, কেউ জানে না। তবে এই সরকারকে সমর্থন দিতে চাইছে একের পর এক দেশ। রাশিয়া, চিন, ইরান, ইংল্যান্ড এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সমর্থন দেবে বলেই ইঙ্গিত।

কাবুলে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার প্রধানের সঙ্গে তালিবান বৈঠকের পর প্রচুর প্রশ্ন উঠে আসছে। যে তালিবান গত জঙ্গি জমানায় প্রকাশ্যে মাথা কাটার সরকার গড়েছিল তাদের চরিত্র কি বদলেছে ?

কাবুল দখল করার পর গত ১৫ আগস্ট তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানায়, এই তালিবান সেই আগের তালিবান নয়। তবে আফগানিস্তান থেকে ইতিমধ্যেই একের পর গণহত্যার খবর আসছে। লাল তারিখ ৩১ আগস্ট। মার্কিন সেনা পুরোপুরি ছাড়বে আফগানিস্তান। তারপর কী হবে, প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলের।

নতমস্তকে বাইডেন: প্রবীণ কমিউনিস্ট ভিয়েতকং গেরিলারা ফিরলেন সোনালি অতীতে

Photo of Biden from Afghanistan news conference goes viral

নিউজ ডেস্ক: শতাব্দী পেরিয়েছে, গত শতকের সত্তরের দশকে ভিয়েতনামে (Vietnam war) চরম পরাজয়ের ছায়া এখনও হোয়াইট হাউসে (White House) লম্বা হয়ে পড়ে। এ যেন রীতিমতো এক ‘অভিশাপ’-যেটা আরও কত শতাব্দী বইবে মার্কিন সরকার তা অজানা। ভিয়েতনাম যুদ্ধে পরাজয়ের পর মার্কিন  (USA) প্রেসিডেন্ট নিক্সন মাথা নামিয়েছিলেন। সেই ঘটনা ফিরে এসেছে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden) আফগানিস্তান ইস্যুতে হতাশার চরমে পৌঁছে গেছেন। তিনিও মাথা নামালেন।

Photo of Biden from Afghanistan news conference goes viral
বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন (Joe Biden) আফগানিস্তান ইস্যুতে হতাশার চরমে পৌঁছে গেছেন। তিনিও মাথা নামালেন

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধম্য, সোশ্যাল সাইটে ছড়িয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মাথা নামানোর ছবি। বৃহস্পতিবার আফগান রাজধানী তথা তালিবান (Taliban) অধিকৃত কাবুলের বিমান বন্দরের ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়। সেই রক্তাক্ত ঘটনার পর সাংবাদিক সম্মেলনে বাইডেন ছিলেন হতাশ। তবে তিনি শেষ দেখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিস্ফোরণে শতাধিক মৃত। মৃত তালিকায় আছে মার্কিন সেনা।

হোয়াইট হাউসে বাইডেনের মাথা নামানোর ছবি দেখে ১৯৬০-৭০ দশকের প্রবীন ভিয়েতকং গেরিলা কমান্ডার ও যোদ্ধারা ফিরে গিয়েছেন তাঁদের সোনালি জয়ের মুহূর্তে। প্রবল শক্তিশালী মার্কিন সেনা, তাদের অন্যতম সহযোগী ফরাসি সেনাকে পরাজিত করে ভিয়েতনাম স্বাধীনতার যুদ্ধে জয়ী হয়, নেতৃত্বে ছিলেন কিংবদন্তি কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক হো চি মিন।

Richard Nixon
ভিয়েতনাম যুদ্ধে পরাজয়ের পর মার্কিন  (USA) প্রেসিডেন্ট নিক্সন মাথা নামিয়েছিলেন

ভিয়েতনাম যুদ্ধ অতীত। তবে যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষিতে তৎকালীন মার্কিন সেনার দখলে থাকা দক্ষিণ ভিয়েতনামের সায়গনের পতন আলোচিত হয়। যেমনটা হয়েছে গত ১৫ আগস্ট কাবুল থেকে মার্কিন সেনা নিয়ে বিমান উড়ে যাওয়ার ছবি বের হওয়ার পর। সেই দিনই দ্বিতীয়বারের জন্য আফগানিস্তানের দখল নিয়েছে তালিবান জঙ্গিরা।

বিবিসি জানায়, কাবুল তালিবান দখলে যেতেই আমেরিকান দূতাবাস থেকে হেলিকপ্টারে লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। এ যেন সেই ১৯৭৫ সালে দক্ষিণ ভিয়েতনামের রাজধানী সায়গন থেকে মার্কিন সেনা ও দূতাবাসকর্মীদের চলে যাওয়ার ঐতিহাসিক মুহূর্ত। ‘৭৫ সালের ৩০শে এপ্রিল সায়গনের দখল নেয় ভিয়েতনামের গেরিলা বাহিনি। ফটোগ্রাফার হিউবার্ট ফন এস এমন একটি ছবি তুলেছিলেন যা ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল। ছবিতে ধরা পড়ে ভিয়েতনাম যুদ্ধের শেষ দিনগুলিতে সায়গন শহরের মানুষ হুড়োহুড়ি করে একটি হেলিকপ্টারে উঠে পালিয়ে যাচ্ছে।

Vietnam war
‘৭৫ সালের ৩০শে এপ্রিল সায়গনের দখল নেয় ভিয়েতনামের গেরিলা বাহিনি। ফটোগ্রাফার হিউবার্ট ফন এস এমন একটি ছবি তুলেছিলেন যা ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল

সায়গন দখল করেছিল ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টি। ভিয়েতকং গেরিলা যোদ্ধাদের ভয়ে ভীত মার্কিন সেনা তখন পালাতে ব্যাস্ত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন হতাশায় ভেঙে পড়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের ততকালীন সংবাদাতারা এখন অতি বৃদ্ধ। তাঁরা সেই ঘটনার স্মৃতিতে রেখে দিয়েছেন। ঠিক তেমনই প্রবীণ ভিয়েতকং যোদ্ধারা মনে রেখেছেন তাঁদের সায়গন দখলের কথা।

‘ভিয়েতনামের যুদ্ধ’ বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম রাজনৈতিক বাঁক। সেই যুদ্ধ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি চরম ধিকৃত হয় বিশ্বে। খোদ মার্কিন মুলুকেই বিক্ষোভ প্রবল আকার নিয়েছিল। আর ভিয়েতনামে চলছিল ভয়ঙ্কর লড়াই।
বিবিসি জানাচ্ছে, যুদ্ধের দুই পক্ষ, উত্তর ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট সরকার বনাম দক্ষিণ ভিয়েতনামের সরকার ও তাদের সমর্থক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। যুদ্ধ চলেছিল প্রায় ২০ বছর ধরে। ব্যয়বহুল যুদ্ধ নিয়ে আমেরিকা ছিল আলোড়িত।

ভিয়েতনাম যুদ্ধে উত্তর ভিয়েতনামকে সমর্থন করছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং তার কমিউনিস্ট মিত্র দেশগুলি। আর দক্ষিণ ভিয়েতনামকে সমর্থন করছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা। যুদ্ধে মার্কিন বাহিনীর লক্ষ লক্ষ সেনা ভিয়েতনামে মোতায়েন করা হয়েছিল।

গত কুড়ি বছর ধরে আফগানিস্তানেও মার্কিন সেনা ছিল। বিশাল খরচ বহন করছিল ওয়াশিংটন। প্রেসিডেন্ট বাইডেন আফগান নীতির পরিবর্তন আনেন। সরানো শুরু হয় সেনা। এই গত দু দশকে জঙ্গি হামলায় রক্তাক্ত মার্কিন সেনা তাদের গায়ে শেষ বড় ক্ষত নিয়ে দেশে ফিরছে।

তালিবান জঙ্গি সরকারের গঠন কেমন হতে পারে, কারা থাকছে

নিউজ ডেস্ক: প্রচলিত যে নিয়ম রয়েছে তালিবান সংগঠনের সেটার ভিত্তিতেই সরকার গড়তে চলেছে তালিবান। আফগানিস্তানের তাদের এই দ্বিতীয় দফার সরকারে পুরনো প্রেসিডেন্ট ভিত্তিক দেশ থাকতে নাও পারে। এখানেই প্রশ্ন, তালিবান সরকার কি তাদের আমীরতন্ত্র চালু করবে আফগানিস্তানে ?

আরও পড়ুন শতাধিক মৃতদেহে রক্তাক্ত কাবুল, CIA-তালিবান বৈঠকের পরেই কেন বিস্ফোরণ ?

গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখল করার পর ইসলামি প্রজাতন্ত্র আফগানিস্তানের নাম পাল্টে দেয় তালিবান। নতুন নাম হয়েছে ইসলামি আমীরশাহি আফগানিস্তান। পাল্টে দেওয়া হয়েছে জাতীয় পতাকা। এই নিয়ে দেশটির জাতীয় পতাকা ১৯ বার পাল্টেছে। এখন তালিবান সংগঠনের পতাকা উড়ছে কাবুল প্যালেসে।

ফরেন পলিসি একটি আন্তর্জাতিক বিষয়ক তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের ওয়েব ম্যাগাজিনে লেখা হয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান সরকার এমন কিছু গঠনতন্ত্র আনতে চলেছে যাতে প্রেসিডেন্ট পদ থাকতেও না পারে। সেক্ষেত্রে আমীর পদ ফের চালু করবে তালিবান জঙ্গিরা।

আফগান সম্প্রচার মাধ্যম আরিয়ানা নিউজ জানাচ্ছে, দেশ শাসনের জন্য ১২ সদস্যের একটি কাউন্সিল গঠন করতে যাচ্ছে তালিবান। এই কাউন্সিলে থাকতে পারেন প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। আফগান পুনর্গঠন কাউন্সিলের প্রধান আবদুল্লাহ আবদুল্লাহ এবং ইসলামিক পার্টির নেতা গুলবুদ্দিন হেকমতিয়ার। তিনজনেই আফগান রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। হেকমতিয়ার প্রাক্তন মুজাহিদিন, যিনি সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধে অংশ নেন। আফগান গৃহযুদ্ধের সময় তাঁর ভূমিকা বিতর্কিত বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।

তালিবান জনসংযোগ বিভাগ জানাচ্ছে, গত ১৫ আগস্ট কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে এই তিন নেতাকে নিয়েছে একটি সমন্বয় কাউন্সিল গঠন করা হয়। তারা ধারাবাহিকভাবে তালিবান নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ফরেন পলিসি জানাচ্ছে, আফগানিস্তান শাসন করতে ১২ সদস্যের কাউন্সিল গঠন করবে তালিবান। আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য প্রশাসন গঠনে মরিয়া থাকাতে চায় এই মারাত্মক জঙ্গি সংগঠনটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত অপসারিত আশরাফ ঘানির সরকারের বেশ কয়েকজন সদস্যকে এই কাউন্সিলে যুক্ত করতে পারে তালিবান।

কাউন্সিলের তিন প্রধান হবে তালিবানের সহ প্রতিষ্ঠাতা আবদুল ঘানি বারাদার, তালিবান প্রতিষ্ঠাতা মোল্লা ওমরের ছেলে মোল্লা মহম্মদ ইয়াকুব এবং তালিবান সহযোগী জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্ক ঊর্ধ্বতন নেতৃত্ব। ইতিমধ্যে হাক্কানি নেটওয়ার্ক প্রধান জঙ্গি নেতা আনাস হাক্কানির সঙ্গে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের বৈঠকের ছবি প্রকাশ হয়েছে। আফগান বিষয়ক আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন কারজাইকে বিশেষ পদ দেওয়া হবে। কারণ তিনিই ছিলেন তালিবান ও পূর্বতন আফগান সরকারের মধ্যে শান্তি বৈঠকের অন্যতম নেতা।

তালিবান কী রকম সরকার গড়বে, কেউ জানে না। তবে এই সরকারকে সমর্থন দিতে চাইছে একের পর এক দেশ। রাশিয়া, চিন, ইরান, ইংল্যান্ড এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পর্যন্ত সমর্থন দেবে বলেই ইঙ্গিত। কাবুলে মার্কিন গুপ্তচর সংস্থার প্রধানের সঙ্গে তালিবান বৈঠকের পর প্রচুর প্রশ্ন উঠে আসছে।

যে তালিবান গত জঙ্গি জমানায় প্রকাশ্যে মাথা কাটার সরকার গড়েছিল তাদের চরিত্র কি বদলেছে ? কাবুল দখল করার পর গত ১৫ আগস্ট তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সাংবাদিক সম্মেলনে স্পষ্ট জানায়, এই তালিবান সেই আগের তালিবান নয়। তবে আফগানিস্তান থেকে ইতিমধ্যেই একের পর গণহত্যার খবর আসছে। লাল তারিখ ৩১ আগস্ট। মার্কিন সেনা পুরোপুরি ছাড়বে আফগানিস্তান। তারপর কী হবে, প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলের।

তা-লি-বা-ন জঙ্গি ! What a look

New look of taliban militant

নিউজ ডেস্ক: কাবুল দখলের কিছু সময় আগে আফগানিস্তান থেকে করা কিছু টুইটে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছিল। টুইট লেখকরা দাবি করেছিলেন নিউ লুক তালিবান এসেছে। তবে যে তালিবান জঙ্গিদের দেখে অভ্যস্ত বিশ্ব তাদের মতো আলখাল্লা পরা হামলাকারীদের সঙ্গে এই নিউ লুক বেমানান। ফলে কেউই মানতে চাননি।

তবে তালিবান তার লুক পাল্টেছে! যে কোনও ইউরোপীয় দেশের সেনা সদস্যরা যেমন পোশাকে থাকে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া তালিবান সেরকমই বেশভুষা নিতে চলেছে। আর পুরনো রীতির জঙ্গিরাও আছে।

পরনে ইউনিফর্ম, বুট, হেলমেট দিয়ে পুরোপুরি সামরিক সাজে তালিবান সদস্যদের এই রূপ দেখে চমকে যাচ্ছে দুনিয়া। নিজেদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশেষ বাহিনির এমন ছবি প্রকাশ করেছে তালিবান। সেই আফগান পোশাক পরিচিক তালিবান জঙ্গিরা সাথে এই তালিবানের কোনো মিলই খুঁজে পাওয়া যাবে না।

old look of taliban militant
পুরোনো তালিবান বাহিনী৷ সেই আলখাল্লা পরা৷

তালিবান তাদের এই বিশেষ বাহিনির নাম রেখেছে বদরি ওয়ান থ্রি ওয়ান। অতীতের চেয়ে বর্তমানের তালিবান কতটা সুসজ্জিত সেটা বোঝাতেই বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেছে জঙ্গি সংগঠনটি।

রাশিয়ার তৈরি কালাশনিকভ রাইফেলের বদলে তালিবানের বিশেষ বাহিনির কাঁধে দেখা গেছে এম ফোরের মতো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি রাইফেল। চোখে দেখা গেছে নাইট ভিশন গগলস।

এ কী তালিবানের নতুন রূপ। যে তালিবান আফগান গুহায় থাকে তাদের এমন রূপ ! দ্বিতীয়বার কাবুল দখল করার পর তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সামনে দাবি করেছিল, নতুন তালিবান দেখা যাবে। সেই লুক দেখা যাচ্ছে।

মাথা কাটার তালিবানি ফরমান জারির শঙ্কায় আফগানিরা

Kabul violation against women

নিউজ ডেস্ক: কাবুল দখল নেওয়ার দশ দিনের মাথায় ঘোষিত অবস্থানের উল্টো পথেই হাঁটছে তালিবান। আফগান মহিলাদের ঘরেই থাকতে হবে। এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও গত ১৫ আগস্ট কাবুলে বিখ্যাত সাাংবাদিক সম্মেলনে পরিশীলিত ভাবমূর্তির যে ছবি তুলে ধরার কথা বলেছিল তালিবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ, তাতে মহিলাদের কর্মস্থলে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়।

প্রথমে ছেলে-মেয়ে একসঙ্গে পড়ার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা, এখন মহিলাদের কর্মস্থলে না যাওয়ার ফরমান-এরপর কী মাথা কাটার ফতোয়া? আফগানিস্তানের মহিলাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে বিস্তর। কারণ এর আগে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত তালিবান সরকারের ভয়ঙ্কর রূপ দেখেছেন আফগানবাসী।

Kabul violation against women

বিবিসি জানাচ্ছে, তালিবান মুখপাত্র সাংবাদিকদের বলেছেন, আফগানিস্তানে কর্মরত নারীদের তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা না হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকতে হবে। মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেন, এটি খুবই স্বল্প সময়ের জন্য একটি প্রক্রিয়া। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই নির্দেশের পরেই আসতে চলেছে কড়া শরিয়া আইনের অন্তর্গত মাথা কাটার ফরমান।

তালিবান স্পষ্ট জানিয়েছে আফগানিস্তানে শরিয়া আইন জারি চলবে। কড়া ধর্মীয় এই নিয়মকানুনে মহিলাদের জন্য ভয়ঙ্কর সব নিদান রয়েছে। এর একটু ভুল হলেই প্রকাশ্যে নিদারুণ যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পেতে হয়। আর সময বিশেষে সেই শাস্তি হয় মাথা কেটে নেওয়া।

২০০১ সালের আগে তালিবান যখন আফগানিস্তান শাসন করত, তখন তারা কঠোর শরিয়া আইন জারি করেছিল। বিবিসি জানাচ্ছেন আফগানবাসীরা মেনেই নিতে পারছেন না আফগানিস্তানের পূর্ণ ক্ষমতা নেওয়ার পরেই তালিবান যে নরম মনোভাবের ছবি তুলে ধরার কথা বলছে তা কতটা পূরণ হবে।

জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছে, আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর অনেকেরই প্রশিক্ষণ নেই যে কীভাবে নারীদের সাথে আচরণ করতে হয় বা তাদের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয়। পূর্ণ নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা নারীদের ঘরে থাকার নির্দেশ দিচ্ছি।

তবে বিভিন্ন রাষ্ট্রসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার মিশেল ব্যাশলেটের আশঙ্কা, তিনি খবর পেয়েছেন তালিবানরা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া শুরু করেছে।

আগামী ৩১ আগস্ট লাল তারিখ। তার মধ্যেই সম্পূর্ণ মার্কিন সেনা আফগানিস্তান ত্যাগ করবে। যদিও এই সেনা এখন কাবুল বিমান বন্দরে অবস্থান করছে। তারাই কাবুল থেকে উদ্ধারকারী বিমানগুলির তদারকিতে। আর কাবুল বিমান বন্দরের বাইরের ফটকে তালিবান পাহারা।

ইংল্যান্ড, ফ্রান্স এবং জার্মানির তরফে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান ত্যাগের জন্য বেঁধে দেয়া ৩১শে আগস্টের সময়সীমা বাড়ানোর আহ্বান জানানো হয়। তবে তালিবান কোনওভাবেই এই আবেদন মানবে না বলে জানায়।

বিবিসি জানাচ্ছে, মার্কিন সেনারা কাবুল বিমানবন্দর নিয়ন্ত্রণ করছে। যেখান থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫৮ হাজার ৭০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ফিরল ‘ভয়াবহ রবিবার’, আফগানিস্তানে জঙ্গি সরকারকে সমর্থনে বিশ্ব দোদুল্যমান

One week after taliban occupied Afghanistan

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: এক সপ্তাহ আগের সেই ভয়াবহ রবিবার-১৫ অগাস্ট। ভারত ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস পালন করছিল। আর ভারতের স্বাধীনতার আগেই স্বাধীন হওয়া (১৯১৯) আফগানভূমি সেই দিনই ঢুকেছিল দ্বিতীয়বার তালিবান কব্জায়। প্রথমবার ১৯৯৬-২০০১ পর্যন্ত তালিবান ছিল ক্ষমতায়।

এক সপ্তাহ পার হয়েছে তালিবান জঙ্গিরা এখনও সরকার গড়েনি। তবে আফগানিস্থানের এই জঙ্গিদের সরকারকে মান্যতা দিতে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন দেশ। আগ বাড়িয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, প্রয়োজন হলে ব্রিটেন তালিবানের সঙ্গে কাজ করবে।

কাবুলে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস বন্ধ। বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া তাদের দূতাবাস থেকে সব কর্মী সরিয়ে নিল। অন্যদিকে সুন্নি ইসলামিক তালিবানের সঙ্গে নরম সম্পর্ক রাখছে শিয়াপন্থী ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান সরকার। তাদের কাবুল দূতাবাস খোলা।

Taliban gains drive Afghanistan gov’t to arm local volunteers
আমেরিকার যুদ্ধ শেষের ঘোষণার পরেই রাজপথে তালিবানরা

তাৎপর্যপূর্ণ তালিবান জঙ্গিরা আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করতেই পাকিস্তান সরাসরি সমর্থন করে। পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছিলেন, আফগানিরা বিদেশি দাসত্ব থেকে মুক্তি পেলেন। সেই সুন্নি ইসলামি প্রজাতন্ত্র পাকিস্তান এখন এক কদম পিছিয়ে জানাচ্ছে, অন্যান্য দেশের অবস্থান দেখে নিয়েই তালিবানদের প্রতি বার্তা দেওয়া হবে।

তবে ইসলামাবাদ এই মুহূর্তে আফগানিস্তানের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রক। কাবুলে তালিবান সরকার কি বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমন্বয়ে হবে নাকি একলাই সরকার গড়বে জঙ্গিরা সেটি নিয়ে পাক রাজনৈতিক মহল তীব্র উত্তপ্ত। বিভিন্ন আফগান গোষ্ঠীর নেতারা এখন ইসলামাবাদে জরুরি আলোচনা চালাচ্ছেন।

One week after taliban occupied Afghanistan

আরও তাৎপর্যপূর্ণ, পাক সামরিক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই তাদের মদতপুষ্ট হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গি গোষ্ঠীর জন্য হতে চলা তালিবান নিয়ন্ত্রিত সরকারে বড়সড় অংশীদারী চাইছে। কাবুলের সংবাদ মাধ্যম ও রুশ সংবাদ সংস্থা তাস জানাচ্ছে, হাক্কানি নেটওয়ার্ক জঙ্গি সংগঠনটি আফগান অর্থমন্ত্রক পাবে। ইতিমধ্যেই হাক্কানি প্রধান আনাস হাক্কানি কাবুলে গিয়ে কথা বলেছে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাইয়ের সঙ্গে।

প্রাক্তন আফগান প্রেসিডেন্ট কারজাই তালিবান শান্তি বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। তিনি কাবুলে নিরাপদেই রয়েছেন। যদিও প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারিত হয়েই দেশ ছাড়েন আশরাফ ঘানি। আর ভাইস প্রেসিডেন্ট এখন নিজেকে বৈধ প্রেসিডেন্ট বলে ঘোষণা করে তালিবান বিরোধী সংঘর্ষ চালাতে মরিয়া।

Taliban militants are taking underage girls as sex slaves

আফগানিস্তানের কিছু অংশে তালিবান বিরোধী বিক্ষোভ হলেও দেশটি এখন পুরোপুরি জঙ্গি কব্জায়। আর তালিবান ছাড়া আফগানিস্তানে এই মুহূর্তে কিছু বিকল্প নেই বলেছেন কাবুলের রুশ রাষ্ট্রদূত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, আফগানিস্তানের ওপর তালিবানের নিয়ন্ত্রণ কায়েম হচ্ছে একটা বাস্তবতা। এটা মেনে নিতে হবে। তালিবান কাবুল দখলের আগে জঙ্গি সংগঠনটির নেতা তথা আগামী প্রেসিডেন্ট হতে চলা মোল্লা আবদুল ঘানি বারাদার চিন সফর করে। তার সঙ্গে চিনা বিদেশমন্ত্রীর বৈঠকের পর আফগানিস্তানের রাজনৈতিক মোড় ঘুরতে শুরু করে। অতি দ্রুত তালিবান দখল করে নেয় কাবুল। চিন এখন সরাসরি তালিবানের পক্ষে বার্তা দিয়েছে।

আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দেওয়া আমেরিকা স্পষ্ট করেছে তাদের অবস্থান। বলেছে সেনা প্রত্যাহার করা ঠিক পদক্ষেপ। তবে আফগানিস্তানে যাবতীয় অর্থ সাহায্য বন্ধ করেছে ওয়াশিংটন। কঠিন পরিস্থিতি ভারতের। বহু ভারতীয় আটকে পড়েছেন। বিদেশে ভারতের বৃহত্তম বিনিয়োগ এই আফগানিস্তানেই। সেসব লোকসানের খাতায় যাওয়া নিশ্চিত বলেই মনে করছেন দিল্লির কূটনৈতিক মহল। তবে তালিবান সরকারকে ভারত মান্যতা দেবে নাকি দেবেনা সেটা বিশ্বজোড়া প্রশ্ন।

তালিবানের হাতে আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ যাওয়ার পর থেকে দেশটির ব্যাংক ব্যবস্থা বন্ধ। খাদ্য সংকট চরমে পৌঁছেছে। কাবুল পতনের পর সাত দিন ব্যাংক বন্ধ থাকায় শুরু হয়েছে ঝকমারি। চারদিকে খাদ্যের হাহাকার বাড়ছে। এমনকি তালিবানের হাত খালি। তারাও হন্যে হয়ে টাকার খোঁজ করছে।

গণহত্যা, ধর্ষণ নিয়মিত। ধর্মের নামে চলছে অত্যাচার। আফগানিস্তানের অবস্থা ফের প্রমাণ করছে, সন্ত্রাসবাদের কোনও প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম নেই। তার একটাই ধর্ম রক্তাক্ত পরিস্থিতি তৈরি করা।

লেনিনের সমর্থনে আফগানিস্তানেই হয় ভারতের প্রথম ‘বিপ্লবী সরকার’

indian provincial government was founded in kabul

প্রসেনজিৎ চৌধুরী: সে ছিল এক মারকাটারি ব্যাপার। ব্রিটিশ ভীত। আফগানিস্তানের আমীর উল্লসিত। সোভিয়েত দিচ্ছে সমর্থন। সবমিলে ১৯১৫ সালে ভারতীয় বিপ্লবীরা আফগানিস্তানের রাজধানীতে যে প্রবাসী সরকার গঠন করেছিলেন তার সম্পর্কে বিস্তর লিখেছেন কমিউনিস্ট বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত। ‘My Life Story’ আত্মজীবনীমূলক বইতে লিখেছেন সেই সরকারের প্রধান রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ।

আফগানিস্তান এখন তালিবান শাসনাধীন। গণতান্ত্রিক নির্বাচিত সরকারকে উপড়ে ফেলে দেশটিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতা দখল করেছে তালিবান। এই জঙ্গি সরকার কায়েম হওয়ার পিছনে কূটনৈতিক জলঘোলা প্রবল। একপ্রকার তালিবান হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে আফগানিস্তানের শাসন। নির্বাসিত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানি।

তবে আফগানিস্তান নিয়ে কূটনৈতিক পাশা খেলা বহু পুরনো। এ দেশের ভৌগোলিক অবস্থান এমনই যে বারবার বিভিন্ন দেশ, রাজতন্ত্র শক্তি আফগানিস্তানের ক্ষমতায় এসে এশিয়ার বুকে নিজেদের ভিত শক্ত করতে চেয়েছে। আধুনিক ইতিহাসের তিন শক্তি ব্রিটিশ, সোভিয়েত ও আমেরিকা এসেছে-গেছে। আফগানিস্তানের গৃহবিবাদের মঞ্চ ঘিরে জন্ম নিয়েছে কূটনৈতিক খেলা।

ব্রিটিশ শাসনে থাকা ভারতের বিপ্লবীরা সোভিয়েত ইউনিয়নের কমিউনিস্ট সরকারের মদতে বারবার সশস্ত্র পথ নিয়েছিলেন। এতে জড়িয়েছিল দারুল উলুম দেওবন্দের ধর্মীয় শিক্ষার্থীরা। আফগানিস্তানের মাটিতে ব্রিটিশ বিরোধী গোষ্ঠী প্রত্যক্ষ মদত পায়। তৈরি হয় ভারতের বাইরে বিপ্লবীদের নেতৃত্বে প্রথম প্রবাসী ভারত সরকার।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের মাঝেই ভারত থেকে আফগানিস্তান হয়ে সোভিয়েত ইউনিয়নে চলে যাওয়া বিপ্লবীদের নেতৃত্বে তৈরি প্রবাসী ভারত সরকার বেশিদিন চলে। তবে এই সরকার ব্রিটিশ শক্তির কাছে চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

১৯১৫ সালের ১ ডিসেম্বর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময় কাবুলে ভারতীয় জাতীয়তাবাদী নেতাদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত হয় প্রবাসী সরকার। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য এই সরকার আফগানিস্তানের আমীর (শাসক), জার্মানির ভারতীয় বিপ্লবী কমিটি (জার্মান কমিটি), তুরস্ক ও প্রথম দিতে রাশিয়ার জার রাজ পরিবারের সমর্থন পায়। ১৯১৭ সালে জারতন্ত্র উচ্ছেদ করে সোভিয়েত তৈরি হলে, সেই সরকারের প্রধান লেনিন সরাসরি কাবুলের এই প্রবাসী ভারতীয় সরকারকে সমর্থন করেন। সোভিয়েত সমর্থন পায় বিপ্লবীদের সরকার।

এক নজরে প্রবাসী বিপ্লবীদের পরিচালিত সরকারের মন্ত্রিপরিষদ:
১. রাষ্ট্রপতি বিপ্লবী রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ
২. প্রধানমন্ত্রী মাওলানা বরকতউল্লাহ
৩. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উবায়দুল্লাহ সিন্ধি
৪. বিদেশমন্ত্রীর চম্পকরমন পিল্লাই
৫. যুদ্ধমন্ত্রী মৌলবি বশির

এই বিপ্লবী সরকার বা প্রবাসী ভারতীয় সরকারের কথা বিপ্লবী এম এন রায়ের লেখা, বিপ্লবী ভূপেন্দ্রনাথ দত্তের বিভিন্ন রচনায় এসেছে। তাঁরাও এই সরকারের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। প্রবাসী ভারতীয় সরকারের রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিপ্লবী রাজা মহেন্দ্র প্রতাপ আফগানিস্তান থেকে ব্রিটিশ শাসনে থাকা ভারতের দিকে সেনা অভিযানের পরিকল্পনা করেন।

কাবুল থেকে গুপ্তচরদের পাঠানো সংবাদে ভীত ছিল ব্রিটেন। ফলে তারা আফগানিস্তানের উপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করতে থাকে। ইতিমধ্যে আফগানিস্তানের আমীরের সঙ্গে তিনটি যুদ্ধ হয় ব্রিটিশদের। ইঙ্গ-আফগান যুদ্ধ নামে এটি পরিচিত। ১৯১৯ সালে তৃতীয় যুদ্ধের পর আফগানিস্তান স্বাধীন হয়। তবে আফগান আমীর হাবিবুল্লাহ খানের উপর চাপ তৈরি করা হয় যাতে প্রবাসী ভারতীয় বিপ্লবীদের সরকার চলতে না পারে।

আফগান আমীর হাবিবুল্লাহ ছিলেন ভারতীয় বিপ্লবীদের প্রতি সহানুভূতিশীল। তিনি চাপের মুখে সরাসরি কোনও সমর্থন না করলেও গোপনে প্রভূত সাহায্য করেন। তবে ১৯১৯ সালের পর কাবুলে ভারতীয় বিপ্লবীদের এই সরকার আর স্থায়ী হয়নি। যে সব বিপ্লবীরা, দেওবন্দের শিক্ষার্থিরা আফগানিস্তানে গিয়েছিলেন তাঁরা সোভিয়েতমুখী হতে থাকেন। অনেকে দেশে ফিরে গোপনে ব্রিটিশ বিরোধী কাজ শুরু করেন। ধরা পড়েন।

কাবুলের সেই বিপ্লবী সরকারের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল সোভিয়েত কমিউনিস্ট সরকার। পরাধীন ভারতের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র ও সংগঠিক শ্রমিক কৃষক বিদ্রোহের জন্য সোভিয়েত প্রধান লেনিন সরাসরি বার্তা পাঠান। কমিউনিস্ট রাষ্ট্রপ্রধানের ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এই বার্তায় দেশের অভ্যন্তরে বিপ্লবীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ফেলে দেয়। যার ফল ভারতের মাটিতে দুটি ব্রিটিশ বিরোধী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড। একটি কানপুর বলশেভিক ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৪) ও দ্বিতীয়টি মিরাট ষড়যন্ত্র মামলা (১৯২৯)।

ভারত স্বাধীন হওয়ার পর কাবুলের প্রবাসী ভারতীয় সরকারের রাষ্ট্রপতি বিপ্লবী রাজা মহেন্দ্রপ্রতাপ কানপুর থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। ১৯৫৭ সালের লোকসভা নির্বাতনে কমিউনিস্ট নেতা, নির্দল প্রার্থী মহেন্দ্রপ্রতাপের কাছেই মথুরা কেন্দ্রে পরাজিত হয়েছিলেন ভারতীয় জনসংঘ প্রার্থী অটলবিহারী বাজপেয়ী।

তালিবানের কাবুল দখলের আগেই দেশ ছেড়েছি: ফেসবুকে আশরাফ গনি

Ashraf Ghani on Facebook

নিউজ ডেস্ক: অবশেষে দেশ ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করলেন আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি৷ তালিবানরা কাবুল দখলের বেশ কয়েক ঘণ্টা বাদে রীতিমতো ফেসবুকে পোস্ট করে বিশ্ববাসীকে জানালেন গনি৷ তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তালিবান কাবুল নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগেই রবিবার আফগানিস্তান থেকে পালিয়ে গিয়েছিলেন তিনি৷

রবিবার রাতে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, তিনি একটি কঠিন সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয়েছিলেন৷ তিনি কি সশস্ত্র তালিবানের মুখোমুখি হবেন? নাকি যে দেশের জন্য ২০টি বছর দিয়েছেন, সেই দেশ ছেড়ে যাবেন। তিনি লিখেছেন, ‘’আমাকে সরিয়ে দিতে তালিবানরা পুরো কাবুল ও বাসিন্দাদের ওপর হামলা করতে এসেছে। রক্তপাত এড়াতে দেশ ছেড়ে যাওয়া ভালো হবে বলে আমি মনে করেছি,’’

তিনি আরও লিখেছেন, ‘’তরবারি আর বন্দুকের ওপর নির্ভর করে তারা বিজয়ী হয়েছে। এখন আমাদের দেশবাসীর সম্মান, সম্পদ আর আত্মমর্যাদা রক্ষার দায়িত্বও তাদের,’’ তবে আশরাফ গনি তাজিকিস্তান নাকি উজবেকিস্তান গিয়েছেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়।

কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করা ৭২ বছর বয়সী আশরাফ গনি দীর্ঘদিন বিদেশে কাটিয়েছেন। ২০০১ সালে তালিবানের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। ২০১৪ সালে তিনি প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য পুনঃনির্বাচিত হন।

এদিকে সোমবার তালিবান নেতারা আফগান বাসিন্দাদের ক্ষতি না করতে মুজাহিদিনদের নির্দেশন দিয়েছে৷ কাবুলের এক বাসিন্দাআয়শা খুররম একটি টুইট বার্তায় জানিয়েছেন, আজ সকালে তিনি ঘুম থেকে উঠেছেন তাদের বাসার দরজার বাইরে চিৎকার আর গুলির শব্দ শুনে।

তিনি বলছেন, মানুষজন বলাবলি করছিল যে, মুজাহিদিনরা ঘরে ঘরে গিয়ে গাড়ি এবং ধনসম্পদ লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু যখনি তারা শুনতে পেয়েছে যে, তালিবান কর্মকর্তারা আসছে, তারা দৌড়ে পালিয়েছে।

এর মাত্র এক ঘণ্টা আগেই তালিবান পুনরায় নিশ্চয়তা দিয়ে বলেছে যে, তারা আফগান বেসামরিক নাগরিকদের কোনরকম ক্ষতি না করার জন্য যোদ্ধাদের নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, কাবুলে প্রবেশের সময় তুলনামূলক উদার মনোভাব প্রদর্শন করেছে তালিবান।

তালিবানরাজ কায়েম হতেই দেশ ছাড়লেন আফগান প্রেসিডেন্ট

Afghanistan president Ashraf Ghani

নিউজ ডেস্ক: তালিবানদের হাতে দেশবাসীকে তুলে দিয়ে আফগানিস্তান ছাড়লেন প্রেসিডেন্ট আশরাফ গনি৷ আফগান কর্মকর্তারা এই খবরের সত্যতা স্বীকার করেছেন৷ তারা জানাচ্ছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট আমরুল্লাহ সালেহও দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন৷

তালিবান যোদ্ধারা ঝটিকা অভিযানে আফগানিস্তানের অধিকাংশ এলাকার দখল নেওয়ার পর রবিবার তারা কাবুল শহর ঘিরে ফেলে। এরপর থেকেই পদত্যাগ করার জন্য আশরাফ গনির ওপর চাপ বাড়ছিল। আশরাফ গনি একটি বিমানে করে তাজিকিস্তান চলে গিয়েছেন বলে রয়টার্স সহ কিছু বার্তা সংস্থা রিপোর্ট করেছে। আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এককর্মকর্তাও একথা বলেছেন।

তবে আফগান প্রেসিডেন্টের অফিস বলেছে, নিরাপত্তার কারণে তারা আশরাফ গনির গতিবিধি সম্পর্কে কিছু বলতে পারছে না। রয়টার্স এই কথা তাদের রিপোর্টে উল্লেখ করেছে৷

এদিকে, তালিবানরা আফগানিস্তানের দখল নেওয়ার পর থেকেই কাবুলে গুলির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে৷ রাজধানী শহর কাবুলের বিভিন্ন এলাকা থেকে গুলি চলার খবর জানাচ্ছে রয়টার্স সংবাদ সংস্থা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই খবর জানাচ্ছে সংবাদ সংস্থাটি৷

অন্যদিকে তালিবানের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তারা মহিলাদের অধিকারের প্রতি সম্মান দেখাবেন। মুখপাত্রটি বলেন, মহিলাদেরকে একা বাড়ির বাইরে যেতে দেওয়া হবে৷ তাদের শিক্ষা ও কাজের সুযোগও বহাল থাকবে। মনে করা হচ্ছে, তালিবানকে নিয়ে সারা বিশ্বে যে উদ্বেগ রয়েছে তা অবসানের জন্যই এ বিবৃতি।

তবে ইতিমধ্যে তালিবানে দখলে চলে যাওয়া কান্দাহার থেকে খবর পাওয়া গিয়েছে, সেখানে ব্যাংকে কর্মরত মহিলাদের বলা হয়েছে, এখন থেকে তাদের জায়গায় কাজ করবে পুরুষ আত্মীয়রা। আফগানিস্তানের অন্য জায়গা থেকেও মেয়েদের বাইরে যেতে না দেওয়ার এবং বোরকা পরতে বাধ্য করার খবর এসেছে।
রবিবার টোলো নিউজ নামে আফগান বার্তা সংস্থার প্রধান লোৎফুল্লাহ নাজাফিজাদা একটি ছবি টুইট করেছেন – যাতে দেখা যাচ্ছে যে কাবুলের একটি দেওয়ালে থাকা মেয়েদের ছবি সাদা রঙ দিয়ে ঢেকে দিচ্ছেন একজন লোক। তালিবান মুখপাত্র আরও বলেছেন, সংবাদ মাধ্যমকে অবাধে সমালোচনা করতে দেওয়া হবে৷ তবে তারা ‘চরিত্র হননে’ লিপ্ত হতে পারবে না।

দেশের শাসন ক্ষমতা হাতে নিয়েই আফগানিস্তানে তালিবানরাজ শুরু হয়েছে৷ কাবুলের পুল-ই-চরখি কারাগার থেকে তালিবান বন্দীদের মুক্তি দেয়ার ছবির ফুটেজ অনলাইনে পোস্ট করেছে তালিবান সমর্থক একটি সংবাদ সংস্থা। এটি আফগানিস্তানের সর্ববৃহৎ কারাগার। রবিবার আরও আগের দিকে তালিবান সৈন্যরা বাগরামে আমেরিকান সমারিক ঘাঁটির সেনা কারাগারের দখল নেয়। বাগরাম কারাগারে পাঁচ হাজার বন্দী ছিল৷ তাদের মধ্যে ছিল তালিবান সদস্য, উগ্রপন্থী যোদ্ধা এবং ইসলামিক স্টেটের সদস্য। তাদেরও মুক্তি দেওয়া হয়েছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে৷