ভাই ফোঁটায় পিরিয়ড ! তাতে কী? ভাইয়ের কপালে ফোঁটা? হয়ে যাক

vaifonta period

Special Correspondent: আজ ভ্রাতৃদ্বিতীয়া। যদি এমন দিনে কোনও বোন ঋতুমতী হয়ে পড়েন তাহলে তাঁর ফোঁটা দেওয়া বারণ হয়ে যায়। কিন্তু কেন এমন হবে? পরিবেশবিদ করেছেন প্রতিবাদ। তিনি বলছেন, ‘ভাই দ্বিতীয়ায় পিরিয়ড ! তাতে কী? ভাইয়ের কপালে ফোঁটা? হয়ে যাক’

তাঁর কথায়, “এখনও মেয়েদেরকে এই অশুচি করে দূরে সরিয়ে রাখা হয় বেশিরভাগ সংসারেই। শ্বশুর বাড়ি গিয়ে দেখেছি, দাদারা বোনকে ডাকছে ফোঁটা দিতে;বোন এক ধারে মন খারাপ করে দাঁড়িয়ে আছে। বাড়ির বড়রা বলছেন,”ও এবছর ফোঁটা দেবে না।ওর অসুবিধা আছে।” এ বাড়িতে আমার মা বলতেন,”বচ্ছরকার দিনে একবার দাদারা আশা করে থাকে ওদের ফোঁটা দিতে হবেনা শুধু মিষ্টি ধরে দে।”সে আমার বড়দাদার হুলুস্থুল। “ফোঁটা না দিলে কিসের ভাইফোঁটা!”কে বোঝাবে তাকে!তখন দাদাদের কাছে আমরা অত খোলামেলাও নই। মা বোঝাতে চাইছেন এ বছর বোনকে ফোঁটা দিতে নেই। কেন নেই???? কেন নেই সে এক বড় প্রশ্নচিহ্ন দাদার মনে!”

একইসঙ্গে তিনি বলছেন ,”ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দিয়ে ভাইয়ের মঙ্গল কামনা করবে বোন সেখানেও তার দেহ #অশুচি! বোন তার অধিকার থেকে বঞ্চিত ! হ্যাঁ! শরীরের ঘাম বেরনোর মতো একটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বোন সেই সময় ঋতুমতি।মূর্তি সংক্রান্ত যা নিয়মাদি তা নিয়ে না হয় অনেক মতবিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু আমার নিজের দাদার মঙ্গল কামনা করব তাতে পিরিয়ড বাধা হবে কেন?যমুনাও তো মেয়েই নাকি! !!!

বাঙালি ঘরের হাজার হাতের কালী খুশি হন তামিল ভোগে

history of hajar hat kali

Correspondent, Kolkata: শতাধিক বছর ধরে এখানে অবস্থান করছেন হাজার হাতের কালী। জাগ্রত দেবী মন্দির প্রাঙ্গণে পূজিতা হন প্রতিদিন। সামনেই কালীপুজো সেদিন হবে দেবীর বিশেষ পূজা। কিন্তু চমক অন্য জায়গায়। শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষে দেবী তামিল ভোগ খান।

শিবপুর অঞ্চলের ওলাবিবিতলা থেকে একটু এগোলেই দেখা মিলবে হাজার হাত কালী মায়ের মন্দিরের। দেবীর নামেই জায়গার নামও হয়ে গিয়েছে হাজার হাত কালীতলা। ভাষার অপভ্রংশে লোকমুখে তা কখনও ‘হাজারাত কালীতলা’ নামেও প্রসিদ্ধ। আসা যাক মন্দিরের ইতিহাসে।

১৯০৫ সালে এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন তান্ত্রিক ভক্ত আশুতোষ মুখোপাধ্যায়। চণ্ডীর এই হাজার হাতের রূপ আসলে স্বপ্নাদেশেই পাওয়া বলে জানা যায়। পাশাপাশি চণ্ডীর ২২তম অধ্যায়ে দেবীর এই রূপের উল্লেখ রয়েছে। চণ্ডী অনুযায়ী অসুর নিধন কালীন দেবী দুর্গা বহুরূপ ধারণ করেছিলেন। তার মধ্যেই অন্যতম হল এই হাজার হাতের রূপ। কাত্যায়নী,মহামায়ার পরেই হুংকারে অসুর নিধন করতে আসেন হাজার হাত রূপিণী কালীমাতা। দক্ষিণবঙ্গের এই শহরের মন্দির বিখ্যাত দক্ষিণ ভারতেও।

বিখ্যাত গায়িকা শুভালক্ষী এই মন্দির দর্শন করে গিয়েছেন। মন্দিরে বাইরে দক্ষিণ ভারতীয় ভাষা লেখা রয়েছে মন্দিরের নাম। শুভালক্ষীর পর থেকেই বহু তামিল দর্শনার্থী এসে দর্শন করে যান এই মন্দির। শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষে শুক্রবার তামিলনাড়ু থেকে আসেন প্রচুর মানুষ। সেই দিন তারা মা’কে দেন তাঁদের স্পেস্যাল ভোগ। হাওড়ার আমিষ ভোগ ভুলে সেদিন দেবী টক ভাত, ঝাল ভাত, মিষ্টি ভাত, সম্বর, বড়া, দই ভাত, ঝুড়ি ভাজা, মুরুব্বুতে মজেন।

ইতিহাস ঘাঁটলে জানা যায় , মন্দির তৈরি করার ইচ্ছা থাকলেও সেই সামর্থ্য ছিল না তান্ত্রিক আশুতোষের। মন্দিরের বর্তমান সেবায়েত সেই আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পরিবারই। বর্তমান সেবায়েত মনোজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন ‘সবই মায়ের ইচ্ছা, হঠাৎ করেই মায়ের মন্দির তৈরিতে আগ্রহী হয় জনৈক হালদার পরিবার’। পাশাপাশি এগিয়ে আরও মানুষজন। সবার ইচ্ছাতেই তৈরি হয়ে যায় হাজার হাত কালী মায়ের এই মন্দির।

দেবীর মন্দিরটি চাঁদনী শ্রেণীর। মন্দিরের উত্তর দেওয়ালের কিছু সামনে রূপোলী কেশর জুক্ত হলুদ রং এর পা মুড়ে বসা সিংহের ওপর দেবীর বাম পদ। দক্ষিন পদের অবস্থান এক মহাপদ্মের উপরে। দেবীমূর্তি উচ্চতায় বারো ফুটের মতো। মূর্তির দেহ সংলগ্ন প্রমান মাপের বাম হাত আছে খড়গ এবং ডান হাতে পঞ্চশূল। বিগ্রহের গাত্রাবর্ণ সবুজ। পরনে লালা পাড়যুক্ত সাদা শাড়ী। দুই কাঁধে দুই সর্পফনা,মাথায় পঞ্চপুষের মুকুট। তার কিছু ওপরে রাজচ্ছত্র। দেবীর হাতে বলয়,কানে কানপাশা ,এবং উন্নত নাসিকার নথ। ত্রিনয়নী প্রতিমার তেজপূর্ন চোখের দিকে তাকালে ভয় লাগবে। দেবীর মুখে লোল জিহ্বা প্রলম্বিত নয়,তিনি প্রশান্ত। এখানেই ভয় কাটতে পারে।

মন্দিরে নেই বলিদানের প্রথা। তবে বুদ্ধ পূর্ণিমায় মন্দিরের প্রতিষ্ঠা দিবস ও কালীপূজা এই ২ দিন বিশাল ধুমধাম কর মায়ের পূজা হয়। এছাড়া প্রত্যহ সকাল সাড়ে ৬টা, দুপুর ২টো ও রাত সাড়ে ৮ টায় মায়ের পূজা ও আরতি হয়। প্রসাদ দেওয়া হয় বিকেল বেলা ও রাত্রিবেলা।

Imagine: লজেন্সের দামে মিলছে পোশাক, শুধুমাত্র রবিবারেই করা যায় কেনাকাটা

Imagine

News Desk: বহু গরিব মানুষ আছেন যারা বেশিরভাগ সময়ই নতুন পোশাক কিনতে পারেন না। মানুষের ফেলে দেওয়া পোশাক গায়ে দিয়েই দিন কাটান তাঁরা। এরকম মানুষের জন্যই লজেন্সের দামে শুরু হয়েছে পোশাক বিক্রি।

তবে বাংলার কোন শহরে নয়, এই পোশাক মিলছে বেঙ্গালুরুতে (bengaluru)। ওই পোশাক বিপণিতে যে কোনও বয়সের মানুষ নিজেদের পছন্দমতো পোশাক বেছে নিতে পারেন। যে কোনও ধরনের পোশাকের দাম মাত্র ১ টাকা।

এটা কোন গল্প-কাহিনী নয়, এটাই বাস্তব সত্যি। বেঙ্গালুরুতে ‘ইমাজিন ক্লোদ ব্যাংক’ (imagine cloth bank) নামে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গরিব মানুষের জন্য এই পোশাক বিপণিটি চালু করেছে। তবে এই ক্লোদ ব্যাংক শুধুমাত্র রবিবার খোলা থাকে। ইমাজিন ক্লোদ ব্যাংক কোনও টাকা পয়সা জমানোর জায়গা নয়। এটি একটি রীতিমত পোশাকের দোকান। এখানে যে কোনও বয়সের মানুষ তাঁদের চাহিদা মতো পোশাক পেয়ে থাকেন। তবে যে পোশাকই নেওয়া হোক না কেন, ক্রেতাকে তার জন্য দিতে হয় মাত্র ১ টাকা। প্রশ্ন হল আজকের দিনে কিভাবে এক টাকায় পোশাক বিক্রি করছে এই ক্লোথ ব্যাংক!

Imagine

জানা গিয়েছে, আজকের দিনে বহু ধনী মানুষ অকারণেই পোশাক কিনে থাকেন। দীর্ঘদিন আলমারিতে ফেলে রাখার পর সেগুলি তাঁরা ফেলে দেন। ইমাজিন এর স্বেচ্ছাসেবীরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে সেইসব নতুন পোশাক সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি বর্তমানে এই ব্যাংককে পোশাক দিয়ে সহযোগিতা করছে একাধিক সংস্থা, ধনী ব্যক্তি ও সংগঠন। তাদের কাছ থেকে পোশাক সংগ্রহ করার পর সেগুলি মানুষের বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী সাজিয়ে রাখা হয়। প্রতি রবিবারে খোলা হয় ক্লোদ ব্যাংকের দরজা। তখনই মানুষ কেনাকাটা করেন।

এই পোশাক বিক্রি করে যে আয় হয় সে টাকাও এই সংস্থাটি নিজেরা নেয় না। বরং ওই টাকা খরচ করা হয় দুস্থ পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা ও চিকিৎসার প্রয়োজনে। উল্লেখ্য ইমাজিন ক্লোদ ব্যাংকের সূচনা হয়েছিল ২০০২ সালে। নীতিন (nitin kumar) কুমার এবং বিনোদপ্রেম (binod)লোবো নামে দুই কলেজ পড়ুয়া বন্ধু এই ব্যাংক চালু করেছিলেন। কিন্তু পড়াশোনার পাঠ শেষ হওয়ার পর দুই বন্ধু চাকরি জীবনে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। থমকে যায় তাঁদের এই মহৎ উদ্দেশ্য।

কিন্তু করোনাজনিত অতিমারির কারণে দীর্ঘ ১৭ বছর পর ফের এই দুই বন্ধু এই পোশাক ব্যাংকটি চালু করতে উদ্যোগী হন। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন ভিগনেশ ও মেলিশা নামে আরও দুই বন্ধু। এই চার বন্ধুই কর্পোরেট সংস্থায় চাকরি করেন। নিজেদের পেশা সামলে তাঁরা ব্যাংকের জন্য প্রচুর সময় দেন। মেলিশা জানিয়েছেন, প্রতি সপ্তাহে ১৫০ থেকে ২০০ পরিবার তাঁদের এই দোকানে কেনাকাটা করেন। ইদানিং পোশাকের সঙ্গে বিছানার চাদর, পর্দা, তোয়ালে, গামছাও এই পোশাক বিপণিতে রাখা হচ্ছে। ক্লোদ ব্যাংকের এই কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে বহু স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সংস্থা তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে। এই সমস্ত সংস্থা এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে পোশাক কিনে দিয়ে থাকে। পাশাপাশি বহু ধনী ব্যক্তিও ব্যক্তিগতভাবে এই ব্যাংকে পোশাক দান করেন। খবর পেয়ে বেশ কয়েকজন প্রবাসী ভারতীয়ও ইমাজিন ক্লোদ ব্যাংকে পোশাক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

<

p style=”text-align: justify;”>ইমাজিন ক্লোদ ব্যাংকের চার বন্ধু জানিয়েছেন, তারা শুধু পোশাক বিক্রি করেই থেমে থাকতে রাজি নন। বরং তাঁরা আগামী দিনে দুঃস্থ শিশুদের জন্য খেলনা ব্যাংক চালু করার কথাও ভাবছেন। পাশাপাশি দুঃস্থ শিশুরা যাতে লেখাপড়া শিখতে পারে তার জন্যও কিছু করার পরিকল্পনা করছেন।

বাগনানের গ্রামে চন্ডীমন্ডপ, শতবর্ষের দোরগোড়ায় ঐতিহ্যবাহী সর্বজনীন কালীপুজো

Chandi mandap the theme

Special Correspondent, Kolkata: ‘আমাদের চণ্ডীমন্ডপ হইতে বিলাতি কারখানাঘরের প্রভূত জঞ্জাল যদি ঝাঁট দিয়া না ফেলি, তবে দুই দিক হইতেই মরিব — অর্থাৎ বিলাতি কারখানাও এখানে চলিবে না, চণ্ডীমন্ডপও বাসের অযোগ্য হইয়া উঠিবে।’ ‘আত্মশক্তি’ প্রবন্ধে উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর নগরায়ণ এবং গ্রামীণ সভ্যতার দ্বন্দ্বকে এভাবেই তুলে ধরতে চেয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। শুধু এই প্রবন্ধ নয় রবীন্দ্রনাথের ‘চোখের বালি’, ‘রাজর্ষি’র মতো উপন্যাসে গল্পে উঠে এসেছিল চণ্ডীমন্ডপের কথা। রবীন্দ্রনাথের পরেও বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ইছামতী’ উপন্যাসেও ‘গ্রামীণ জীবনের অপরিহার্য অঙ্গ’ হিসেবে উঠে এসেছিল চণ্ডীমন্ডপের কথা। বাংলার ধূলিধূসরিত গ্রাম্যজীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ চন্ডীমন্ডপ। বর্তমান প্রজন্ম এই শব্দটির সাথে সেভাবে পরিচিত না হলেও বেশ কয়েক দশক আগেও গ্রাম বাংলার সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল চন্ডীমন্ডপ।
এবার কালীপুজোয় বাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসা চন্ডীমন্ডপকেই থিম হিসাবে তুলে ধরল বাগনানের বাঙালপুর বয়েজ ক্লাব। এবার তাদের পুজো ৯৯ তম বর্ষে পদার্পণ করল।
শতবর্ষের দোরগোড়ায় বাঙালপুর বয়েজ ক্লাবের পক্ষ থেকে গড়ে তোলা হচ্ছে চণ্ডীমন্ডপ। উদ্যোক্তারা জানান, মাটি, খড়, কাঠের মাধ্যমে মন্ডপটি নির্মাণ করা হয়েছে। আল্পনার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে রং। গ্রামীণ হাওড়ার অন্যতম প্রাচীন এই সর্বজনীন কালীপুজোর রন্ধ্রে, রন্ধ্রে জড়িয়ে ইতিহাস। শোনা যায়, দেশে স্বাধীনতা আন্দোলন যখন জোরকদমে চলছে তখন হাওড়া জেলার অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী বিভূতিভূষণ ঘোষ তাঁর সহযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে এই পুজোয় এসে মাতৃশক্তির আরাধনা করেছিলেন। বাঙালপুর বয়েজ ক্লাবের অন্যতম কর্তা দীপঙ্কর ঘোষ জানান, বিগত প্রায় দশবছর ধরে আমরা থিমের পুজো করছি।
গতবছর থেকে করোনার জেরে বাজেট সহ আয়োজনে বেশ কিছুটা কাটছাঁট করা হয়েছে। এবার আমাদের বাজেট প্রায় দু’লক্ষ টাকা। কীভাবে এলো চন্ডী মন্ডপের ভাবনা? — দীপঙ্কর বাবুর কথায়, আমাদের গ্রামে রয়েছেন মা সিংহবাহিনী। মা’য়ের বাপেরবাড়ি ও শ্বশুরবাড়ি রয়েছে। পূর্ব পুরুষদের থেকে শুনেছি মায়ের মন্ডপ ছিল চন্ডীমন্ডপ সদৃশ। সে-ই মন্ডপকেই আমরা আমাদের পুজোয় তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। রাত পোহালেই দীপাবলি। শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত বাঙালপুর বয়েজ ক্লাবের সদস্যরা।

শুনলে অবাক হয়ে যাবেন এই খাবারগুলির বাঙালির পাতে আসার কাহিনী

Bengalis food history

Special Correspondent, Kolkata: বাঙ্গালিদের থালায় খাবার গুলো এলো কোথা থেকে? মেনে নিতে কষ্ট হলেও এটা সত্ত্যি যে আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যে খাবার আমরা খাই তার এক বৃহৎ অংশ এসেছে বিদেশ থেকে। বিশেষ করে সব্জী ও ফল ।

এরা আমাদের এত পরিচিত ও বাঙ্গালিয়ানায় ভরপুর যে এদের নাম শুনলে অধিকাংশ বাঙ্গালি বা ভারতীয় বিশ্বাস করবে না বা গাজাখুরি তথ্য বলে ভাববে । এই মুহূর্তে আমাদের খাবারের থালায় থাকা খাদ্যের প্রায় ৬০-৭৫ শতাংশ খাদ্যবস্তু এসেছে ভারতের বাইরে থেকে, আর এনেছেন এদেশে বানিজ্য করতে আসা বনিকেরা।

প্রথমেই নাম করি যে বস্তুটির সেটা হলো আলু। প্রায় ৮০০০ -১০০০০ বছর আগে দক্ষিন আমেরিকার পেরুর রেড ইন্ডিয়ানরা আলুর চাষ শুরু করেছিল আন্দিজ পর্বতমালার ঢালে ও পাদদেশে । পনেরশ শতকে স্পানিশরা দক্ষিন ও মধ্য আমেরিকা থেকে আলু নিয়ে আসে ইয়োরোপে । ভারতে আলু প্রবেশ করে ১৭ শতকে পর্তুগীজ বনিক বা জলদস্যুদের মাধমে যারা এর সাথে পরিচিত হয়েছিল পাশের দেশ স্পেন থেকে । এই মুহূর্তে আলু পৃথিবীর চতুর্থ প্রধান খাদ্য – ভাত, গম, ভুট্টার পরে। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ৫০০০ বিভিন্ন প্রজাতির আলু চাষ হয় এবং মানব প্রজাতির (বাঙ্গালিদের ত বটেই ) দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় এর গুরুত্ব কি তা বলা নিষ্প্রয়োজন । আলু শুধু সুস্বাদুই নয় ,অন্যতম পুষ্টিকর ও ক্যালরি সমৃদ্ধ এক খাদ্যবস্তু। ডায়াবেটিস রোগীদের চিকিৎসকরা অনেকেই আলু আর ভাত নিষেধ করেন এবং রুটি খেতে বলেন। কিন্তু ১০০ গ্রাম আলু ও গমে ক্যালরির পরিমান যথাক্রমে ১৫৭৪ ও ১৫৩৩ কিলো কালরি এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমান ৮১ ও ৮২ গ্রাম । অর্থাৎ যিনি রুটি খান তিনি রুটির বদলে সম পরিমান আলু খেলে তার খাদ্যে সমান পরিমান কালরি ও কার্বোহাইড্রেট থাকার সম্ভবনা ( এই প্রসঙ্গে একটি কথা জরুরী – আলুর গ্লাইসেমিক্স ইন্ডেক্স গমের চেয়ে বেশি , এটা রক্তে সুগার বাড়াতে পারে)।

বিজ্ঞানীদের মত অনুযায়ী আন্টি অক্সিডেন্ট ( লাইকোপেন ) ও ভিটামিন সমৃদ্ধ সব্জীর মধ্যে অন্যতম হলো টমেটো । এই অতি পরিচিত সব্জীটি প্রথম চাষ শুরু করেছিলো দক্ষিন আমেরিকার আন্দিজ পর্বত মালার পেরু ও ইকুয়েডরের আদি রেড ইন্ডিয়ানরা ও মধ্য আমেরিকার মেক্সিকো অঞ্চলের আজটেক সভ্যতার রেড ইন্ডিয়ান্ জাতির মানুষেরা। আজটেকদের এক প্রচলিত ভাষা ‘নাহুটি’ তে tomati , স্পানিশে পরিবর্তিত হয়ে হয় tomate , সেখান থেকে ইংরেজি ভাষায় এলো tomato । বলা বাহুল্য পর্তুগীজ বনিকদের হাত ধরেই এই পরিচিত ফল বা সব্জীটি আমাদের দেশে আসে। ১৬ শ শতাব্দীতে বম্বে বন্দরের আশেপাশে প্রথম টমাটোর চাষ শুরু হয়। আর টমাটো সস আমেরিকান দের আবিস্কার ।

পেঁপে , হ্যা ঘোর বাঙালি ও ভারতীয় ফল পেঁপে আমাদের দেশের ফলই নয়। উদ্ভিদবিদ ও কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে এরও আদি উৎপত্তি বা চাষ শুরু করেছিলো মধ্য আমেরিকার মেক্সিকোতে রেড ইন্ডিয়ান জাতির মানুষেরা । সেখান থেকে স্পানিশ দের হাত ঘুরে ব্রিটিশ ও ডাচ ঔপনিবেশিকদের দ্বারা এই ফল পৌঁছায় কারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ ও মালয়েশিয়ায়। এরাই ১৫৫০ নাগাদ এই সুস্বাদু ফলকে নিয়ে আসে ভারতবর্ষে । ভারত থেকেই পেঁপে চীনে গিয়েছিল এবং ভারতেই বর্তমানে পেঁপের সবচেয়ে বেশি চাষ হয়। প্রাচীন মেক্সিকোর রেড ইন্ডিয়ানরা জেনে ছিলো কাচা বা পাকা পেঁপে দিয়ে মাংস মারিনেট করে রাখলে বা সেদ্ধ করলে মাংস খুব তাড়াতাড়ি সুসিদ্ধ হয়। কয়েক হাজার বছর পর আমাদের রান্নার কড়াইয়ে আজও আমরা একই পদ্ধতি ব্যবহার করি। পেঁপে ভিটামিন সি, এ ও আন্টিওক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ এক পরিচিত সুস্বাদু ফল , গ্রাম বাংলার প্রায় সব বাড়িতে দেখা যায় এই গাছ।

পিয়ারা মতো অতি পরিচিত ফলের উৎস সন্ধান করলেও বিস্ময়ের সীমা থাকে না। এই ফলটি ও এসেছে আমেরিকা ভুখন্ড থেকে। এর আদিম বাসভুমি মেক্সিকো, মধ্য ও দক্ষিন আমেরিকার উত্তর অঞ্চল । পেরুতে ৪৫০০ বছর আগে পিয়ারার ফলন শুরু হয়েছিলো । ১৮শ শতকে পিয়ারার চাষ শুরু হয় উত্তর আমেরিকায়। ভারতে এই ফলটি নিয়ে আসে পর্তুগীজরা ১৭ শ শতকে ।

আমাদের খুব জনপ্রিয় ফল কলা। না, এটাও ভারতের নয়। কলার আদিমতম উৎস স্থল অস্ট্রেলেশিয়া মহাদেশের পাপুয়ানিউগিনি। নিউগিনির কুক সোয়াম্প অঞ্চলে যে ফাইটোলিথ পাওয়া গেছে তার থেকে জানা যায় প্রায় ৮০০০- ১০০০০ বছর আগে পাপুয়ানিউগিনিতে কলা ফলতো। এখান থেকে ফলটি আসে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায়, মালয় উপদ্বীপে এবং মালয় উপসাগরের ও ভারত মহাসাগরের বানিজ্য পথ ধরে অস্ট্রোনেসিয়ান বনিকদের মাধ্যমে কলার প্রসার ঘটে দক্ষিন এশিয়া, ভারত উপমহাদেশ, আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া ও এশিয়ার অনান্য অংশে। পাকিস্তানের কোট দিজিতে খনন করে যে ফাইটোলিথ পাওয়া গেছে তা সিন্ধু সভ্যতায় প্রায় ৫৩০০ বছর আগে কলার উপস্থিতি প্রমান করে। ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান বলছে বিশ্বে কলার সরবাধিক উৎপাদনকারী দুটি দেশ হলো ভারত ও চীন (৪০%)।

ঝিঙে ( Sponge gourd ) সব্জীটির আদি উৎপত্তি দক্ষিন ও মধ্য আমেরিকায় । স্পানিশরা এটাকে নিয়ে যায় আফ্রিকায় । মিশর থেকে ঝিঙ্গে ইয়োরোপে প্রবেশ করে ১৬ শতাব্দীতে এবং খুব সম্ভবত পর্তুগীজ বা ইংরেজ বনিকেরা এটাকে নিয়ে আসে ভারতে।

বাঁধাকপি ( cabbage) আমাদের দেশের সব্জী নয়। প্রায় তিন হাজার বছর আগে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জে ও উত্তর পশ্চিম ইয়োরোপে এক ধরনের বন্য বাধাকপির চাষ শুরু হয়। ইয়োরোপ থেকে এই সব্জী আসে আমেরিকা ও এশিয়া মহাদেশে মুলত বনিক ও ঔপনিবেশিকদের হাত ধরে। ১৫ শ থেকে ১৭ শ শতাব্দীর মধ্যে এই উপনিবেশিকরাই ভারতবর্ষে বাঁধাকপির আবির্ভাব ঘটায় । ১৮শ শতকে বাঁধাকপি ভারত থেকে যায় জাপানে এদের হাত ধরেই।

বাঁধাকপির মতো ব্রাসিকা গ্রুপের আর একটি অতি সুস্বাদু ও বহুল পরিচিত সব্জী ফুলকপি ( cauliflower )। ফুলকপির চাষ ও ভক্ষন প্রথম শুরু করে ভূমধ্যসাগরের এক ছোট্ট দ্বীপ সাইপ্রাসের লোকেরা। ঐতিহাসিক প্লিনির লেখায় এর উল্লেখ আছে – গ্রীকরা এই সব্জী খাদ্য হিসাবে খুব পছন্দ করতো । ১২শ -১৩ শ শতকের আরব উদ্ভিদবিদ ইবন আল আজম ও ইবন আল বাতরের লেখায় পাওয়া তথ্য অনুসারে মধ্যযুগে সাইপ্রাস থেকেই এই আনাজ আরবে প্রচলিত হয়। কিন্তু অবাক করা তথ্য হলো তারপর আরব বনিকরা ও আরব আক্রমনকারীরা কিন্তু একে নিয়ে আসে নি ভারতের রান্নাঘরে। ভারতের মাটিতে ফুলকপির চাষ শুরু হয়েছে নাকি মাত্র ১৫০ বছর আগে। ডাঃ জেমসন ১৮২২ সালে ইংল্যান্ড থেকে ফুলকপি নিয়ে আসেন ভারতের উত্তর প্রদেশে, এবং সাহারানপুরে নাকি প্রথম ভারতীয় ফুলকপির ফলন শুরু হয়।

বর্তমান ইরান ও আফগানিস্তানে প্রথম গাজরের ( carrot) চাষ শুরু হয়েছিল আজ থেকে অন্তত ছয় হাজার বছর আগে। প্রত্নতাত্বিক খননের ফলে সুইজারল্যান্ড ও জার্মানির বেশ কিছু জায়গায় ৪০০০-৫০০০ বছরের পুরানো গাজরের বীজ পাওয়া গেছে। ১ম শতকে রোমানদের লিপিবদ্ধ করা বিবরনে গাজরের উল্লেখ আছে। ৮ ম শতাব্দীতে আরব মুরদের দ্বারা গাজরের প্রবেশ ঘটে আইবেরিয়ান পেনিন্সুলায় – স্পেনে। প্রাচীন গাজরের রঙ ছিল বেগুনী । এখন যে গাজর আমরা খাই এই কমলা বর্ণের গাজরের চাষ শুরু হয়েছিল আফগানিস্তানেই দশম –একাদশ শতাব্দী নাগাদ।, ভারত ও এশিয়ার অনেক স্থানে দশম শতক নাগাদ যে গাজর ফলত তার রঙ ছিলো বেগুনী । ১১ শ -১২ শতকে ইস্রায়েল ও গাজা পালেস্টাইন অঞ্চলে লাল ও কমলা দুই প্রকারের গাজরের কথা পাওয়া যায় । আরব-আন্দালুস অঞ্চলের ইবন আল আজম ও ইবন আল বাতরের লেখায় একই কথা পাওয়া যায়। ১২ শ শতাব্দী নাগাদ চীনের নদী অববাহিকায় ও ১৬শ -১৭শ শতাব্দীর সময়ে জাপানের কৃষিক্ষেত্রে গাজর ফলতে শুরু করেছিল।

আনারস ( pine apple ) আমাদের দেশের ফল নয়। যতদূর জানা যায় ব্রাজিল ও পারাগুয়ের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া পারানা-পারাগুয়ে নদী অববাহিকায় প্রথম আনারসের চাষ শুরু করেছিলো সেখানকার রেড ইন্ডিয়ান জনজাতির মানুষরা । এখান থেকে এই ফল ছড়িয়ে পড়ে সারা দক্ষিন ও মধ্য আমেরিকায়। খ্রিস্টপূর্ব ১২০০-৮০০ অব্দের মধ্যে পেরুতে এবং খ্রিস্টপূর্ব ২০০সাল নাগাদ মেক্সিকোতে এর ফলন শুরু করেছিলো ইনকা ও আজটেক রেড ইন্ডিয়ান সভ্যতার মানুষরা। সভ্য জগতের বা ইয়োরোপের মানুষদের মধ্যে কলম্বাসই প্রথম আনারসের সাথে পরিচিত হন ১৪৯৩এর ৪র্থ নভেম্বর যখন তিনি গুয়াদেলোপ দ্বীপে পৌছন । ১৫৫০ সাল নাগাদ পর্তুগীজ বনিকেরা আমাদের দেশে নিয়ে আসে আনারস। এবং ভারতের পশ্চিম উপকুল অঞ্চলে এর আবাদ শুরু হয়। স্পানিশরা একে বলত pina , পর্তুগীজ ভাষায় abacaxi , ডাচ ও ফরাসিরা ডাকত anas নামে। এই শব্দ গুলোই বিবর্তিত হয়ে আনারস বা pine-apple হয়েছে।

আলুর কথা আগেই বলেছি । এবার রাংগালুর কথা শুনুন। অধিকাংশ বিজ্ঞানীর মতে প্রায় ৫০০০ বছর আগে মধ্য ও দক্ষিন আমেরিকার নিরক্ষীয় অঞ্চলে রাঙ্গালুর চাষ শুরু হয়েছিলো । প্রায় একই সময়ে ইউকাটান উপদ্বীপ ও মেক্সিকোর অনান্য স্থানে রাঙ্গালুর উপস্থিতির প্রমান পাওয়া যায় । এখান থেকেই এই মিষ্টি আলু পৌঁছয় উত্তর ও দক্ষিন আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে , কারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জে ও ইউরোপে । কলম্বাস ইউওরোপীয়দের সাথে নব আবিষ্কৃত ভুভাগ থেকে আনা যে সমস্ত নুতুন বস্তুর পরিচয় করিয়েছিলেন তার মধ্যে ছিলো এই খাদ্যটিও । যদিও আধুনিক গবেষনা বলছে রাঙ্গালুর আদিমতম উৎস ভারতীয় উপমহাদেশ । আড়াই কোটি বছর আগেই গন্ডোয়ানা ভুভাগে মর্নিং গ্লোরি নামক উদ্ভিদ প্রজাতির উদ্ভব হয়। এই মনিং গ্লোরি পরিবারের মধ্যে পড়ে রাঙ্গালু । উত্তরপূর্ব ভারতের মেঘালয়ে ২৫ মিলিয়ন বছরের পুরানো মনিং গ্লোরির ফসিল আবিষ্কৃত হয়েছে।

আপেলের আদি জন্মভুমি মধ্য এশিয়া । তিয়ান সান পর্বতমালায় ৪০০০- ১০০০০ বছর আগে এর চাষ আরম্ভ হয় । তারপর রেশম পথ বেয়ে এই উত্তম উপাদেয় ফল পৌঁছয় পশ্চিম এশিয়ায়, ইয়োরোপে ও আমেরিকায়। স্যামুয়েল ইভান স্টোকস নামে এক আমেরিকান ১৯১৬ সালে হিমাচল প্রদেশের থানেদার নামক এক পাহাড়ি গ্রামে প্রথম ভারতের আপেল গাছটি রোপন করেন। আমেরিকার লুসিয়ানা থেকে রেড ডিলিসিয়াস ও গোল্ডেন ডিলিসিয়াস জাতের আপেল চারা নিয়ে এসে তিনিই প্রথম ভারতীয়দের আপেলের সাথে পরিচয় করান। ১৯২৬ সালে এই বাগানেই ফলে প্রথম ভারতীয় আপেল । ভারতপ্রেমী এই সাহেবের সম্বন্ধে আর একটি তথ্য হলো ইনি ভারতে এসেছিলেন কুষ্ঠ রোগীদের সেবায় জীবন অতিবাহিত করবেন বলে। স্টোকস হিন্দু ধর্ম গ্রহন করে সত্যানন্দ স্টোকস নাম নেন ও ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে যোগ দিয়ে জেল খাটেন।

বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধান খাদ্য শষ্য গম । খৃস্টপূর্ব ৯৬০০ এর কাছাকাছি সিরিয়ায় ও দক্ষিণপূর্ব তুরস্কে প্রথম গমের চাষ আরম্ভ হয়। ৬৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই খাদ্য শষ্যের চাষ শুরু হয় গ্রীস , সাইপ্রাস ও ভারতীয় উপমহাদেশে ।
বিশ্বের তৃতীয় প্রধান খাদ্য শষ্য ভুট্টার প্রথম চাষ করেছিল মেক্সিকোর রেড ইন্ডিয়ানরা ৮০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে বালসাস নদী উপত্যকায় । এই শষ্য ৬০০০- ৫০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের আশে পাশে পৌঁছায় কলম্বিয়ায় । ৬৭০০ আগে পেরু ও ৪৫০০ বছর আগে আমেরিকার প্রায় সমস্ত অঞ্চলে ভুট্টার ফলন শুরু হয়েছিল। এখন ভুট্টা আমেরিকার দ্বিতীয় প্রধান খাদ্য শষ্য, গমের পরেই। ভারতে ভুট্টা নিয়ে আসে পর্তুগীজরা ১৭ শতক নাগাদ।

আজকে দুনিয়ার প্রায় সমস্ত রান্না ঘরে প্রস্তুত হওয়া খাবারে লঙ্কা এক অন্যতম উপাদান। সমগ্র এশিয়া, দক্ষিন ও মধ্য আমেরিকা , আফ্রিকা, দক্ষিন ইওরোপের মানুষ খাবারে ঝাল পছন্দ করে। খাদ্যে ঝাল আমাদের স্বাদ কোরককে উজ্জিবীত করে ও লালাগন্থি থেকে লালা নিঃসরন ঘটিয়ে খাদ্যকে স্বাদযুক্ত ও রুচিকর করে তোলে। ভারতে লঙ্কা আসার আগে রান্না করা খাদ্যে ঝাল স্বাদ আনার জন্য ব্যবহৃত হতো গোলমরিচ । গোলমরিচ প্রচুর উৎপাদিত হতো কেরালায় । প্রায় ৭৫০০ বছর ধরে লঙ্কার ব্যবহার হয়ে আসছে বলে জানা গেছে। মধ্য ও দক্ষিন আমেরিকার মানুষরা এর ব্যবহার শুরু করেছিল ৭৫০০ বছর আগেই। দক্ষিন আমেরিকার পেরু, বলিভিয়ায় বিভিন্ন প্রজাতির লঙ্কার উৎপাদন হতো সেই প্রাচীন কাল থেকেই। কলম্বাসই প্রথম এই বস্তুটিকে নিয়ে আসেন ইউরোপে । স্পেন , পর্তুগাল , দক্ষিন ইউরোপ ঘুরে এই লঙ্কা ভারতে ও এশিয়ার অনান্য স্থানে প্রবেশ করেছিলো ইউরোপীয় বনিকদের মাধমে। পনেরো শতকে ভারতে লঙ্কা নিয়ে আসেন পর্তুগীজ বনিকরা।

আর এক উপকারী মশলা মেথির সাথে ভারতের পরিচয় হয়েছিল বানিজ্যের সুত্রে। সুপ্রাচীন কাল থেকে মধ্য প্রাচ্য ও পশ্চিম এশিয়া ও সুমেরীয়ায় মেথির ব্যবহার হতো। ইরাকের তেল হালাল নামক স্থানে খনন করে ৬০০০ বছরের পুরানো পোড়া মেথি পাওয়া গেছে।

ধনে /ধনেপাতা আর এক অত্যন্ত উপকারি রান্নার উপাদান। ধনে পাতায় আছে প্রভুত পরিমানে ভিটামিন কে , আন্টিওক্সিডেন্ট ও খনিজ পদার্থ । এর আসল উৎপত্তি নিয়ে বিতর্ক আছে। ধনের সব চেয়ে প্রাচীন প্রত্নতাত্বিক নমুনা পাওয়া গেছে ইস্রায়েলের নাহাল হেমার গুহায়, যা ৬০০০-৮০০০ বছরের পুরানো বলে প্রত্নতাত্বিকদের ধারনা। মিশরে তুতেনখামেনের সমাধিতে ধনের অস্তিত্ব প্রমান করে অতি প্রাচীন কালে উত্তর আফ্রিকায় ধনের চাষ ও ব্যবহার হতো । ইবেরাস পাপিরাসে পাওয়া ধনে পাতার উল্লেখও প্রমান করে আজ থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর আগে মিশরে এর ব্যবহার হতো । প্রধানত পশ্চিম এশিয়া আফ্রিকা ও দক্ষিন ইয়োরোপে এর চাষ শুরু হয়েছিলো এবং অই অঞ্চলের সাথে ভারতের সুপ্রাচীন কাল থেকে ব্যবসা বানিজ্যের সম্পর্ক থাকায় প্রাচীন যুগেই এই মশালা আমাদের দেশে আসে।

এই প্রসঙ্গে বলি , আমাদের অতি পরিচিত আরও কয়েকটি সব্জী যেমন বেগুন, কচু, লাউ, কুমড়ো , শুক্তোর উপাদান নিম, করলা, উচ্ছে , নানা জাতের সীম ,বিন এবং ফলের মধ্যে আম – এদের আদি উৎপত্তি স্থল বা বাসভুমি এশিয়া , আফ্রিকা , ভারতীয় উপমহাদেশ । সে অর্থে এরা প্রকৃত ভারতীয় বা বাঙ্গালী খাবার।

এই তালিকা দীর্ঘ ও অজস্র ঐতিহাসিক সুত্রের উপস্থিতি এই নিবন্ধকে দীর্ঘতর করবে। ওপরের তথ্যগুলো থেকে এইটুকু ধারনা করা গেলো যে অধিকাংশ বাঙ্গালী ও ভারতীয় খাদ্যের উপকরন বিদেশ থেকে এসেছে ।

অনেক ফল ও সব্জী , আনাজ সারা মানব জাতিকে চিনিয়েছে মধ্য, দক্ষিন ও উত্তর আমেরিকার অর্ধসভ্য রেড ইন্ডিয়ান গোষ্ঠীর মানুষেরা। যাদের ইউওরোপের শ্বেতাঙ্গরা বলতো অর্ধ সভ্য , অসভ্য , বন্য । এবং যাদের সম্পদ , বাসস্থান , চারন ভুমি , অরন্য, দেশ, প্রান সভ্য ইয়োরোপিয়ানরা কেড়ে নিয়ে এদের অস্তিত্বকে করে তুলেছিলো বিপন্ন , তারাই সমগ্র বিশ্বের মানুষের জন্য রেখে গেছে খাদ্যের সম্ভার। আজকের সভ্য দুনিয়ায় আমাদের খাবারের টেবিলে, ফ্রীজে, বাজার ,রেস্ট্রুরেন্টে বা মলে যে বিপুল বৈচিত্র্যময় খাদ্য সাজানো থাকে তাদের মুল উপাদান এই বুনো লোক গুলোই প্রথম আবিস্কার করেছিল কয়েক সহস্র বছর আগে বিপদসংকুল অরন্য, পাহাড়, তৃণভূমিতে খুঁজে খুঁজে ।

আর একটি কথা না বললেই নয়। সারা পৃথিবীকে এত অজস্র খাদ্যের সাথে পরিচয় করিয়েছে প্রাচীন ও মধ্যযুগের বনিক, জলদস্যু , অভিযাত্রী , আক্রমণকারীরা। আমাদের দেশে অধিকাংশ ফল ও সব্জী এনেছেন পর্তুগীজ বনিকরা। ঔপনিবেশিকতা যেমন মানব সভ্যতার কালো অধ্যায় , তেমনি উপনিবেশিকরাই দুনিয়ার কোনে কোনে মানবজাতির কাছে নিয়ে গেছে নতুন নতুন খাদ্য, নব সংস্কৃতি, ভাষা , সারা পৃথিবীতে হয়ে চলা জ্ঞান, চিন্তা, বিজ্ঞানের নব নব আবিস্কার। মানব সভ্যতার অগ্রগতিতে এদের অবদানও অনস্বীকার্য ।

Norwegian Army: নিলস দ্য নাইট, সেনার উচ্চ পদে পেঙ্গুইন

Penguin Has Become A High-Ranking Officer Of The Norwegian Army

Special Correspondent, Kolkata: মানুষ ও প্রাণীর সখ‍্যতা ও নির্ভরশীলতা আজকের কথা নয়। প্রাণী চিকিৎসার পাশাপাশিই প্রাণী কল্যাণের কথা মাথায় রেখে রচনা করেছে আইন বিষয়ক শাস্ত্র— ‘‌জুরিসপ্রুডেন্স’‌। মানুষ ও প্রাণীর এই নিবিড় বন্ধনের বেশ কিছু ঐতিহাসিক নিদর্শন আবেগতাড়িত করেছে বিশ্বকে। নর‌ওয়ের সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা স‍্যার তৃতীয় নিলস ওলাভ-এর কাহিনী তার মধ্যে অন‍্যতম!

ঘটনাটি স্কটল্যান্ডের এডিনবরা চিড়িয়াখানার। ২০০৮ সালে নরওয়ের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে নাইটহুডে ভূষিত হন তৃতীয় নিলস ওলাভ। নাইট উপাধি পাওয়ার ফলে তাঁকে স্যার ডাকাই নিয়ম। তা এই স‍্যার তৃতীয় নিলস ওলাভ কিন্তু যে-সে ব‍্যক্তি নন, তিনি এক পেঙ্গুইন! ৬ বছর বয়সে নাইটহুড উপাধি পাওয়ার সময় সে ছিল ‘কর্নেল–ইন–চিফ’! ২ ফুট ৮ ইঞ্চির নিলস বিশ্বের সবচেয়ে খর্বাকৃতির ‘নাইট’ও বটে।

তবে সে পেঙ্গুইন বলে তার সম্মাননায় কিন্তু কোনো খামতি ছিল না। যাবতীয় রাজকীয় ও সামরিক নিয়মনীতি মেনেই নিলস ওলাভকে এই সম্মাননা দেন ব্রিটিশ মেজর জেনারেল ইউয়েন লাউডেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নরওয়ের রাজা পঞ্চম হ্যারল্ড। নর‌ওয়েজীয় গার্ডের ৩০ সদস‍্যের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় কাঁধে তলোয়ার ছোঁয়ানোর রেওয়াজ, কুচকাওয়াজ, সংগীত পরিবেশন, আপ্যায়ন ইত‍্যাদি। সাথে পেট পুরে মাছ খেয়েছিল ছোট্ট এই নাইট।

Penguin Has Become A High-Ranking Officer Of The Norwegian Army

তবে তৃতীয় নিলস ওলাভ একমাত্র পেঙ্গুইন নয়, যে এই বিরল সম্মাননার অধিকারী। অ্যান্টার্কটিকার জাতীয় প্রাণীটিকে নরওয়ের সামরিক বাহিনীর সদস্য ও মাসকটের সম্মাননা দেওয়ার অভূতপূর্ব এই রীতিটি শুরু হয়েছিল সত্তর দশকের গোড়ার দিকে। আসলে এই বাহিনীর তরুণ লেফটেন্যান্ট নিলস এগলিয়েন ছিলেন পেঙ্গুইনপ্রেমী। সেই আবেগ থেকেই ১৯৭২ সালে স্কটল্যান্ডের এডিনবরা চিড়িয়াখানার কিং পেঙ্গুইনদের সম্মানিত করার রেওয়াজ তিনি চালু করেন। সেই থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় নিলস-এর পর ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই তৃতীয় নিলস ওলাভ পায় ‘স্যার’ উপাধি।

<

p style=”text-align: justify;”>২০১৬ সালে তৃতীয় নিলস তার অসামান্য সেবা ও ভালো আচরণের জন্য ‘ব্রিগেডিয়ার’ হিসেবে পদোন্নতি পায়। ২০০৫ সালে এই পেঙ্গুইনের সম্মানে এডিনবরা চিড়িয়াখানায় একটি ব্রোঞ্জের তৈরি ভাস্কর্য স্থাপিত হয়। আর‌ও একটি ভাস্কর্য স্থাপিত আছে নরওয়ের অসলো শহরে। ইতিহাসের পাতায় মানুষ ও পেঙ্গুইনের বন্ধুত্বের আরও এক অভূতপূর্ব নিদর্শন রেখেছে সাউথ আমেরিকার ডিনডিম। প্রতি বছর ৮০০০ কিমি সমুদ্রপথ পেরিয়ে তার ব্রাজিলীয় মানুষ-বন্ধু জোয়াও পেরেইরা ডি’সুজার সাথে দেখা করতে আসে সে। পৃথিবীর বুকে যুগে যুগে প্রাণীদের ওপর ঘটা নৃশংস নির্যাতনের কলঙ্ক মানব জাতি মুছে ফেলতে পারবে না কখনই! কিন্তু এই পৃথিবীতেই জন্ম নেন নিলস এগলিয়েনের মত কিছু মানুষ‌, যাঁরা কিছুটা হলেও ভালোবাসার প্রলেপ লাগিয়ে যান সেই ক্ষতে!

মেয়ে-বউদের নামে বাড়ির নামকরণ করে ব্যতিক্রমী হল এই গ্রাম

Haryana village names houses after daughters & ‘bahus’

Special Correspondent: আমাদের দেশে কন্যা সন্তানকে আজও অনেকটা নেকনজরে দেখা হয়। প্রথম সন্তান মেয়ে হলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অধিকাংশ পরিবারেই মাকে শুনতে হয় অনেক গঞ্জনা। যে কারণে কন্যাভ্রূণ হত্যা এখনও আমাদের দেশে এক অভিশাপ হিসেবে রয়ে গিয়েছে।

সম্প্রতি এনসিআরবি বা ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর একটি সমীক্ষা বলছে, দেশের কয়েকটি রাজ্যে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে কন্যাভ্রূণ হত্যা। যার ফলে ওই সমস্ত রাজ্যগুলিতে পুরুষের তুলনায় নারীর অনুপাত অনেকটাই কম। ওই রাজ্যগুলির মধ্যে হরিয়ানা অন্যতম। কিন্তু সেই হরিয়ানাতেই এক ব্যতিক্রমী গ্রামের সন্ধান মিলল।

পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মাঝেই এই এক উদাহরণ তৈরি করল হরিয়ানার হিসার জেলার মায়ার গ্রাম। এই গ্রামে প্রায় হাজার দেড়েক পরিবারের বাস। এই গ্রামের প্রতিটি বাড়ির একটি করে আলাদা নাম বা পরিচয় রয়েছে। বাড়ির নাম ঠিক করা হয় মেয়ে বা বউদের নামে। মেয়ে বা বউদের নামের এক ডাকে চেনা যায় একটি পরিবারকে।

এই গ্রামে এক সময়ে সরপঞ্চ বা পঞ্চায়েত প্রধান ছিলেন সুনীল জগলান। মেয়েদের প্রতি সম্মান জানাতে ২০১৫ সালে তিনি চালু করেছিলেন ‘লাডো স্বাভিমান’ উৎসব। ভোজপুরি ভাষায় ‘লাডো’ কথার অর্থ মেয়ে। মেয়েরা যে সমাজের গর্ব সেই কথা তুলে ধরতেই এই উৎসবের সূচনা করেছিলেন জগলান। মায়ার গ্রামে প্রতিটি বাড়ির নামকরণ করা হয়ে থাকে সেই বাড়ির মেয়ে বা বউয়ের নামে। এই গ্রামের গ্রামবাসীরা এ ব্যাপারে যথেষ্ট খুশি এবং গর্বিত বলে জানিয়েছেন।

জগলান জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত তিনি মায়ার-সহ আরও বেশ কয়েকটি গ্রামের ১৭ হাজার বাড়িতে মেয়েদের নামে নেমপ্লেট তৈরি করতে পেরেছেন। আগামী দিনে আরও অনেক গ্রামে তিনি এই কাজ করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

গগনদীপ সিং নামের মায়ার গ্রামের এক বাসিন্দা জানিয়েছেন, মেয়েরাই বাড়ির প্রকৃত লক্ষ্মী। বাড়ির উন্নয়নের পিছনে মেয়েদের অবদান সবচেয়ে বেশি। মেয়েদের অবদানকে স্বীকৃতি দিতেই তাঁরা বাড়ির নাম মেয়েদের নামে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁদের এই সিদ্ধান্ত প্রথম দিকে হয়তো অনেকেরই পছন্দ হয়নি। কিন্তু পরবর্তী ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত সকলের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ডাকাত কালীর সঙ্গে জড়িয়ে হাড় হিম করা গল্প

The story of singur dakat kali

Special Correspondent, Kolkata: ব্রহ্মযামল তন্ত্রের মতে, বাংলার অধিষ্ঠাত্রী হলেন দেবী কালিকা। এই কারণেই, বহু প্রাচীনকাল থেকে বঙ্গদেশে কালীর সাধনা শুরু হয়। গড়ে ওঠে বিখ্যাত কালী মন্দির গুলি। ডাকাতে কালীর নাম শোনেনি এমন বাঙ্গালী নেই। গল্প পড়ে বাঙালি জেনেছে, ডাকাতরা কালী সাধক হন।

বঙ্গদেশে এমন কোনও ডাকাতের কাহিনী প্রচলিত নেই যিনি কালীপুজো করতেন না। তাঁরা নাকি কালীর খাঁড়া থেকে প্রসাদী সিঁদুর নিয়ে কপালে তিলক কেটে ডাকাতি করতে বের হতেন। সেইসব পুজোয় নরবলি ও নাকি হত।পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সিঙ্গুর নামক স্থানের নিকট পুরুষোত্তমপুর এ অবস্থিত সিঙ্গুরের ডাকাত কালীমন্দির একটি বিখ্যাত কালীমন্দির। সিঙ্গুরে ডাকাত কালীমন্দির এর প্রতিষ্ঠাকাল সম্বন্ধে জানা যায় না।

কিন্তু সিঙ্গুরের কালীপুজোর সঙ্গে কোথায় যেন মিশে রয়েছে হাড় হিম করা ডাকাতদের কাহিনী। সিঙ্গুরের ডাকাত কালীমন্দির সেরকমই একটি মিথ।স্থানীয়রা এই ডাকাত কালী কে এতটাই জাগ্রত বলে মনে করেন যে আশেপাশের তিনটি গ্রামে হয় না কোনও কালীপুজো। মূর্তি তো দূরের কথা গ্রামের কোন বাড়িতে মা কালীর ছবি লাগানো ক্যালেন্ডার ও টাঙ্গানো হয়না।

 

মূলত এই মন্দির ডাকাত সনাতন বাগদী না গগন সদ্দার নির্মাণ করেছিলেন তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। আটচালা মন্দিরের দেওয়ালে বিভিন্ন দেবদেবীর মূর্তি, বিষ্ণুর দশাবতারের মূর্তি ও পোড়ামাটির লতাপাতা খোদিত রয়েছে। মন্দিরের গর্ভগৃহের প্রায় নয় ফুট উচ্চ বিগ্রহ অবস্থিত। গর্ভগৃহে ঢোকার একটিই প্রবেশদ্বার। আগে মন্দিরের সামনের দিকে টেরাকোটা অলংকরণে অলংকৃত ছিল। কিন্তু এখন সেই টেরাকোটার সামান্যই অবশিষ্ট আছে। মন্দিরের সামনে চাঁদনী আকৃতির নাটমন্দির আছে। মন্দির চত্বর পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। এই মন্দিরে কালি সিদ্ধেশ্বরী নামে বিখ্যাত।

কথিত আছে প্রায় ৫০০ থেকে ৫৫০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত হয় সিঙ্গুরের ডাকাত কালী মন্দিরের। এই প্রাচীন কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা নিয়ে বহু গল্প ছড়িয়ে আছে। রঘু অথবা গগন ডাকাত ঘট স্থাপন করে পুজো শুরু করে। তখন ঘট পুজোয় হত, মন্দির ছিল না। অতীতে সেই সময় এখানে এক গভীর জঙ্গল ছিল। অসুস্থ ঠাকুর রামকৃষ্ণ কে দেখতে মা সারদা কামারপুকুর থেকে দক্ষিণেশ্বর যাচ্ছিলেন। সেই সময় রঘু ও গগন ডাকাত মায়ের পথ আটকে দাঁড়ায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে। হঠাৎ করে সেই সময়ে মায়ের মুখ দেখতে পায় ডাকাতরা। ভুল বুঝতে পেরে তারা ক্ষমা চায় মা সারদার কাছে।

এই অলৌকিক ঘটনার ভীত হয়ে রঘু ও গগন ডাকাত এই স্থানে কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করে। বর্ধমানের মহারাজা মা কালীর স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পড়ে প্রতিমা ও মন্দির নির্মিত হয়। অতীতে এখানে নরবলি হত এমনটাই জনশ্রুতি আছে। রাতে মা সারদা কে খেতে দেওয়া হয় চাল ও কড়াই ভাজা। সেই থেকে মায়ের প্রসাদ হিসেবে চাল–কড়াই ভাজাই দেওয়া হয়।মন্দির কমিটির সম্পাদক মদন কোলে বলেন, ডাকাতি কালীমন্দির ছাড়া মল্লিকপুরে, জামিনবেড়িয়া ও পুরুষোত্তমপুর এই তিন গ্রামে হয়না কোন ও কালীপুজো। এমনকি গ্রামের কারোর বাড়িতে নেই কোন কালীর মূর্তি ও। মা কালীর ছবি লাগানো ক্যালেন্ডার লাগানেরেও সাহস পান না স্থানীয়রা। এতটাই জাগ্রত সিঙ্গুরের ডাকাত কালীমন্দির। এই প্রতিমার পুজো ছাড়া অন্য প্রতিমার পুজো করতে সাহস পায় না এলাকার মানুষজন।

<

p style=”text-align: justify;”>ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর স্বপ্নাদৃষ্ট হয়ে সিঙ্গুর থানার চালকেবাটির মোড়ালরা এই মন্দির নির্মাণ করেছেন। তাই কালীপুজোর দিন মোড়লদের পুজো আগে হয়। কোন প্রতিষ্ঠা ফলক না থাকায় মন্দির কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল তা সঠিকভাবে বলা যায় না। সম্ভবত অষ্টাদশ শতাব্দীতে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মন্দিরের বর্তমান সেবায়েত বৃন্দঃ স্বর্গীয় কৃষ্ণধন ব্যানার্জীর দুই পুত্র, স্বর্গীয় কালিপদ চট্টোপাধ্যায়ের দুই পুত্র ও স্বর্গীয় শংকর নাথ সিমলায় এর দুই পুত্র। এরাই পালাক্রমে পূজা কার্য সম্পাদন করেন। এছাড়া মন্দিরের উন্নয়নের জন্য আছে” ডাকাত কালীমন্দির উন্নয়ন কমিটি “।

বাঙালি ভুলে যায় হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ভাষার লড়াই

History of the Purulia language movement

Special Correspondent, Kolkata: পয়লা নভেম্বর। বাঙালি, ভারতবাসী কেউ মনে রাখেনি মাতৃভাষার দাবীতে মানভূঁইয়া গণদেবতার লড়াই। এখন কলকাতায় হিন্দিভাষীদের আগ্রাসন নিয়ে বিরাট হইচই করে এক বাংলা ভাষা আন্দোলনকারীরা দল। তাদেরকেও দেখা যায় না এই পয়লা নিয়ে কোনও কথা বলতে। অথচ বাংলায় হিন্দি আগ্রাসন নিয়েই ছিল সেই আন্দোলন। পরিচিতি মানভূম ভাষা আন্দোলন নামে।

ঘটনা স্বাধীনতার ঠিক পরেরই। ১৯৪৮ সালের।আগ্রাসী হিন্দিভাষীরা তৎকালীন মানভূমের বাঙালিদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিল হিন্দি বোঝা। অহল্যার ভূমিপুত্ররা গর্জে উঠল সেদিন। ‘মুক্তি’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল সেই হিন্দি মুক্তির প্রতিবেদন। বাংলার রাজনীতিতেও তার ছাপ পড়েছিল। জেলা কংগ্রেস ভেঙে গঠিত হয় লোকসেবক সঙ্ঘ। দলে ভারী হয়ে ওঠা বিহারের আগ্রাসীরা চাণ্ডিল, ঝালদায় লুঠ করতে শুরু করে লুঠতরাজ।

১৯৪৯ থেকে ১৯৫১ কার্যত সত্যাগ্রহ আন্দোলনে মুখরিত চারদিক। সাংসদ ভজহরি মাহাতো গান বেঁধেছিলেন, ‘অ বিহারী ভাই, তরা রাইখতে লারবি ডাং দেখাঁই’। ১৯৫৪ সালের ৯ জানুয়ারী থেকে ৮ ফেব্রুয়ারী চলল টুসু সত্যাগ্রহ। স্বাভাবিক নিয়মেই টুসু সত্যাগ্রহীদের উপর নেমে এল রাষ্ট্রীয় অত্যাচার। ৭৩ বছর বয়সী, অসুস্থ নেতা অতুল চন্দ্র ঘোষকে বন্দী করে, খোলা ট্রেনে চাপিয়ে ১৩৫ মাইল দুরে হাজারিবাগ জেলে পাঠানো হয়েছিল। সাংসদ ভজহরি মাহাতোকে হাত কড়া পরিয়ে, কোমরে দড়ি বেঁধে কোর্টে পেশ করা হয়েছিল। বিচারে বিধায়ক সমরেন্দ্র ওঝার ২ বছর, লাবণ্য প্রভা দেবীর এক দফা কারাবাস হয়। বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান রাঘব চর্মকার। বাবুলাল মাহাতো নামের এক জন্মান্ধ বালকেরও সাজা হয়! বান্দোয়ানের মধুপর গ্রামের কুশধ্বজ মাহাতো’র সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। বন্দি করা হয় তাঁর শিশু পুত্রকে। এদের দোষ ছিল এরা বাংলার মাটির ভাষার জন্য দাবী জানিয়েছিলেন।

মানবাজার থানার পিটিদিরি গ্রামে মহিলা সত্যাগ্রহীদের উপর হয়েছিল নগ্ন আক্রমন। বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল পুরুলিয়া। লোকসেবক সাংসদ চৈতন মাঝি জ্বালাময়ী ভাষণ দিয়ে প্রতিবাদ জানালেন লোকসভায়। সুচেতা কৃপালনী, নির্মল চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় (সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বাবা) প্রমুখ সমর্থন জানান এই গণ আন্দোলনকে।
৭ মে ১৯৫৬, মহাকরণ অবরোধ করে গ্রেফতার বরণ করেন ৯৬৫ জন ভাষা সেনানী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেনেট হল থেকে বিজ্ঞাণী মেঘনাদ সাহা, ভাষাচার্য সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায় বিহার সরকারের দমননীতির তীব্র সমালোচনা করে ভাষা আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

ভাষার দাবীতে এই দ্বিতীয় স্বাধীনতা যুদ্ধ শেষে, ১৯৫৬ সালের পয়লা নভেম্বর গঠিত হয় আজকের পুরুলিয়া জেলা। কলকাতাকে ঘিরে অনেক রাজনৈতিক আন্দোলন হলেও, কোনা ভাষা আন্দোলনের নজির নেই। সেই অপরাধ বোধ হোক বা পিছিয়ে পড়ার প্রতি অবজ্ঞাই হোক, কোনো এক অজ্ঞাত কারণে কলকাতার বুদ্ধিজীবিরা মানভূমের ভাষা আন্দোলন নিয়ে আশ্চর্য রকম উদাসীন। শিক্ষিত পুরুলিয়ানরা আরো বেশি উন্নাসিক! জীবণ সায়াহ্ণে উপস্থিত ভাষা সৈনিকদের গলায় এখন সেই আক্ষেপ ঝরে পড়ে। এঁদের নামে কোনও ‘একুশে পদক’ নেই!

ফি বছর ক্যালেন্ডারের নিয়মেই ‘২১শে ফেব্রুয়ারী’ আসে, আর বিস্মৃতির সোপান বেয়ে মানভুমের ভাষা সংগ্রামীরা এক ধাপ করে নীচে নেমে যায়। প্রশাসনের অবহেলা আর জেলাবাসীর অজ্ঞতায় চাপা পড়ে যায়, হিন্দী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখা মাটির মানুষের ১৯৩৫ থেকে ১৯৫৬ পর্যন্ত দীর্ঘ লড়াই এর কাহিনী। আজ আরও এক অমর একুশে। আরও একবার মৃতের দলে মানভূম ভাষা আন্দোলন।

নিজেকে নিজে কেন কাতুকুতু দেওয়া যায় না, কারণ জানেন?

tickle--india

Special Correspondent, Kolkata: কাতুকুতুর কুলপি খায়নি বা অন্যকে খাওয়ায়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু এটা কী কখনও ভেবে দেখেছেন নিজেকে কাতুকুতু দিকে কিন্তু তা অনুভূত হয় না।

নিজেকে কখনও সুড়সুড়ি দিয়ে দেখেছেন? নাহ্‌, কিচ্ছু হওয়ার না। এর কারণ হলো, আমাদের পেছনে সেরেবেলাম আছে, যেটা শরীরের নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। যখন নিজেকে সুড়সুড়ি দেওয়ার চেষ্টা করবেন, সেরেবেলাম মহাশয় আগেই বুঝে যাবেন এবং মস্কিষ্ককে বলে দেবেন, ওই যে আসিতেছে। আর তাতেই মস্কিষ্ক সুড়সুড়ির হুঁশ হারিয়ে চুপ হয়ে যাবে। কিছুই টের পেতে দেবে না। নিশ্চয়ই জানতে ইচ্ছা করছে, মস্তিষ্ক এমন আচরণ করে কেন? আসলে, এটা করে ইন্দ্রিয়জনিত বা সংবেদন অপচয় রোধের জন্য।

আমাদের ব্রেন কিন্তু অপ্রয়োজনীয় তথ্যগুলোকে ফিল্টার করে ফেলে। এতে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো মনোযোগ দিয়ে কাজে লাগানো যায়। নিজের হাতের ছোঁয়া ব্রেন অতটা প্রয়োজনীয় মনে করে না। তাই আমাদের মন এই অনুভূতিতে সচেতন হওয়ার আগেই ব্রেন এই তথ্যকে প্রত্যাখ্যান করে দেয়। তবে, এদিক-ওদিক থেকে সুড়সুড়ি এলে সেরেবেলাম আগে থেকে বুঝতে পারে না, তাই প্রতিরোধও করতে পারে না।

তাহলে শরীরের কোনো নির্দিষ্ট অংশে কাতুকুতু বেশি লাগে কেন? সাধারণত, শরীরের যে অংশগুলিতে হাড় থাকে না বা তুলনামূলক কোমল হয়, সেই অংশগুলিতে কাতুকুতুর অনুভূতি বেশি হয়, যেমন-পেটের পাশে বা নিচে অথবা পায়ের পাতার নিচে। বিজ্ঞানীদের মতে, এর পিছনে কাজ করে *মানুষের আত্মরক্ষার তাগিদ*। পায়ের পাতার নিচ, পেটের পাশ, ঘাড় এসব জায়গা খুব সংবেদনশীল। সামান্য আঘাতে অসামান্য পরিণতি ঘটতে পারে। তাই এ ক্ষেত্রে এসব অংশকে রক্ষা করার জন্য সুড়সুড়ির অনুভূতি সতর্কসংকেত হিসেবে কাজ করে।

তবে সাবধান, কাতুকুতু ডোজ বুঝে ওষুধ খাওয়ানোর মতো বুঝেশুনে প্রয়োগ করতে হবে। ওভারডোজ হয়ে গেলে মহা সমস্যা, দেখা গেলো যার উপর প্রয়োগ করলেন সে রেগেমেগে অবস্থা খারাপ। আর জানেন তো, সব ক্রিয়ারই সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। তাই যেকোনো সময় প্রতিপক্ষ পালানোর চেষ্টা না করে আপনাকেই পাল্টা আক্রমণ করে বসতে পারে। তাই কাতুকুতুর যুদ্ধে আত্মরক্ষার টেকনিক শিখেই মাঠে নামবেন।

বন্যায় ডুবল বাংলা, কালী কৃপায় স্বমহিমায় রইল মাটির মন্দির

kalipuja-howrah

Special Correspondent, Kolkata: গ্রামীণ হাওড়ার বাগনানের হারোপ গ্রামের ঘোষালবাড়ি বর্ধিষ্ণু পরিবার হিসাবেই স্থানীয় এলাকায় পরিচিত। ঘোষাল বাড়ির ঐতিহ্যবাহী কালীপুজো ইতিমধ্যেই দেড়শ বছরের গন্ডী অতিক্রম করেছে। কিন্তু পুজোর আয়োজন বা জৌলুসে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি।

এ পুজোর রন্ধ্রে রন্ধ্রে ইতিহাস। জড়িয়ে আছে কতশত স্মৃতি। হরিপদ ঘোষাল, হৃষিকেশ ঘোষাল, পরেশ ঘোষাল, নরেশ ঘোষালদের হাত ধরে ঘোষাল বাড়িতে শুরু হয়েছিল মাতৃ আরাধনা। তারপর মাঝে কেটে গিয়েছে বহু বছর। কালের নিয়মে এখন পুজোর হাল ধরেছেন অনিল, গোঁরাচাঁদ, তপন, দিলীপরা। কিন্তু রীতিনীতিতে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। ঘোষাল বাড়িতে বসে কথা হচ্ছিল তপন ঘোষালের সাথে। তিনি বললেন, মায়ের কী অপার মহিমা।

kalipuja-howrah

১৯৭৮ সালে বাংলাজুড়ে যখন ভয়াবহ বন্যা দেখা দিল তখন আমাদের মাটির মাতৃমন্দির। হাজার মাটির ঘর বন্যার জলে তলিয়ে গেলেও আমাদের মাটির মন্দির অক্ষত থাকল। যদিও পরবর্তী সময়ে মাটির মন্দিরের জায়গায় তৈরি হয়েছে ইটের তৈরি পাকা মন্দির৷ আজও প্রচলিত রয়েছে বিভিন্ন প্রথা। তিনি আরও জানালেন, একসময় পুজো উপলক্ষ্যে বাড়িতে যাত্রাপালার আসর বসত। দাগানো হত কামানো। সময়ের সাথে সাথে সেসব বন্ধ হলেও আজও নিয়ম মেনে কালীপুজোয় বলি প্রথা চালু রয়েছে ঘোষাল বাড়িতে।

জানা গেছে, কর্মসূত্রে ও বিবাহসূত্রে বাড়ির অনেক ছেলেমেয়েরাই এখন অনেকেই বাইরে থাকেন। তবে কালীপুজো উপলক্ষ্যে সকলেই সব কাজ ফেলে রেখে গ্রামের বাড়িতে ছুটে আসেন। এই ঐতিহ্যবাহী ও সার্ধশতবর্ষ অতিক্রান্ত কালীপুজোকে কেন্দ্র করে সবার উপস্থিতিতে পুজোর ক’টা দিন কার্যত মিলনক্ষেত্রের চেহারা নেয় হারোপ গ্রামের ঘোষাল বাড়ি। এবারও তার অন্যথা হবে না। আর কয়েকটা দিন বাদেই মা’য়ের আরাধনা। তাই ঘোষাল বাড়িজুড়ে এখন সাজো সাজো রব।

গোওওওল…….অন্তঃসত্ত্বা মায়ের চিৎকার, ভূমিষ্ঠ ফুটবল ঈশ্বর

maradona

Special Correspondent, Kolkata: অন্তঃসত্ত্বা মা রেডিয়োর ধারাভাষ্য শুনছিলেন। বড় ফুটবল ম্যাচ চলছে। গোল হতেই বিশাল চিৎকার করে ওঠেন মহিলা। ওই চিৎকারে চাপ পড়ে পেটে। কিছু সময় পর ওই মহিলাই জন্ম দেন ফুটবলের রাজপুত্রের। জন্মদাত্রী মা তোতা, পুত্র দিয়েগো। ফুটবলের সঙ্গে যেন নাড়ির যোগ কিন্তু সে যে বিশ্ব ফুটবলের কিংবদন্তি হয়ে উঠবে কে জানত। 

maradona

পেলের মতোই হতদরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন মারাদোনা। শ্রমিক বাবা চিতোরো আর পরিচারিকা মা তোতার সঙ্গে তিনি থাকতেন ভিসা ফিওরিতার এক বস্তিতে। সেখানকার নালাতে তিনি ডুবে যাচ্ছিলেন দুই বছর বয়সে। কাকা দেখতে পেয়ে তাঁকে তুলে আনেন। শুনেছি, তোতার যে দিন প্রসব বেদনা ওঠে সেদিন বড় ফুটবল ম্যাচ ছিল। রেডিওতে ধারা বিবরণী চলছিল। মারাদোনা যখন পৃথিবীর মুখ দেখবেন সেই সময়ে না কি তোতা প্রচণ্ড চিৎকার করে ওঠেন গোওওওওলল বলে। সেদিন ওই হাসপাতালে জন্ম নেওয়া সব কন্যা সন্তানের মধ্যে একমাত্র মারাদোনাই ছিলেন পুত্র। সবাই তোতাকে বলে ছিলেন, “দেখো তোমার এই ছেলে একদিন নামী ফুটবলার হবে।” শুনে আনন্দে তোতা কেঁদে ফেলেন। আশীর্বাদ বাস্তব হয়েছিল।

maradona

মারাদোনার সারা জীবন জুড়ে ছিলেন তাঁর মা তোতা। পরিবারের প্রতি তাঁর অদ্ভূত টান। বিরাশির বিশ্বকাপের আগে জার্মানির সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ রিভারপ্লেটের মাঠে। লোথার ম‍্যাথেউজ খেলতেই দিলেন না তাঁকে। গ্যালারি থেকে বিদ্রুপ ভেসে আসতে লাগল। সেই সঙ্গে মা বাপ তুলে অকথ্য গালিগালাজ। মারাদোনা সহ্য করতে না পেরে এক দর্শককে মেরে বসলেন। ব্যাস পরদিন তাঁর তুমুল সমালোচনা হল। রেগে মারাদোনা চলে গেলেন তাঁর পৈতৃক ভিটেতে| Buenos Aires থেকে অনেক দূরে এস্কিনো বলে এক জায়গায়। সেবার বিশ্বকাপ টিমের কোচ লুই সিজার মেনোত্তি। বারবার তিনি লোক পাঠানো সত্ত্বেও মারাদোনা বসে রইলেন সেখানে। বলে পাঠালেন, তিনি মাছ ধরায় ব্যস্ত। পাল্টা প্রশ্ন করলেন তিনি, “একটা ম্যাচ বাজে খেললেই কেন লোকে গালি দেবে মা তুলে? আমার মা হলেন পৃথিবীর সেরা মা। ওঁর জন্য আমি সব কিছু ত্যাগ করতে পারি।”

ফুটবলার জীবনের শুরুতেই মারাদোনার একটা বিশ্রী অভিজ্ঞতা হয়েছিল। তখন তাঁর বয়স তেরো চৌদ্দ। দেশের হয়ে উরুগুয়েতে প্রদর্শনী ম্যাচ খেলতে গেছেন। কর্তারা প্লেয়ারদের হোটেলে না রেখে একেক জনকে একেক পরিবারের সঙ্গে রেখে ছিলেন সেখানে। সব প্লেয়ার ভালো ভালো পরিবারের সঙ্গে ছিলেন। কিন্তু মারাদোনা বস্তির ছেলে। তাই ঠাই পান কালো চামড়ার এক বেকার যুবকের ঘরে। মারাদোনা খুব দুঃখ পেয়ে ছিলেন এই অবহেলায়। বাড়ি ফিরে মাকে জিজ্ঞেস করে ছিলেন, “ওরা আমার সঙ্গে এই রকম ব্যবহার করল কেন মা?” তোতা বলেন, “মন খারাপ করিস না। ভাল খেলে তুই উত্তর দিয়ে এসেছিস।” এভাবেই মারাদোনার সারা জীবন জুড়ে ছিলেন তাঁর মা তোতা।

‘আবোল-তাবোল’ না দেখেই চলে যেতে হয়েছিল সুকুমার রায়কে

sukumar roy

Special Correspondent, Kolkata: শিশু সাহিত্যের জন্য কত কিছু করে গিয়েছেন তিনি। অল্প সময়ের বিস্তর কাজ। তাঁর সেরা সৃষ্টি আবোল তাবোল। বাঙালির বাড়িতে এই বই নেই এটা প্রায় অসম্ভব। অথচ দুঃখের বিষয় হল এই বিখ্যাত বই ছাপিয়ে বেরনো দেখে যেতে পারেননি সুকুমার।

ভারতবর্ষের প্রথম দুই মহিলা ডাক্তারের অন্যতম কাদম্বিনী গাঙ্গুলি ছিলেন বিধুমুখীর সৎ মা৷বিধুমুখীর কোল জুড়ে পৃথিবীর প্রথম আলো সুকুমার রায় দেখেছিলেন ১৮৮৭ সালে ৩০অক্টোবর আজকের দিনে৷ সামান্য প্রতিভার শতফুল বিকশিত,তিনি সুকুমার রায়, বাংলা সময়েসাহিত্যের প্রবলতম জনপ্রিয় শিশু সাহিত্যিক,’ননসেন্স রাইমের’ প্রবর্তক৷

নাটক,ছবি,ছড়া সবকিছুতেই সুক্ষ কৌতুক রসের এত অনির্বচণীয় সঞ্চার আর কেউ করতে পেরেছেন কিনা সংশয় থাকবে,অল্প বয়সেই ‘আবোল তাবোল,’ ‘হ-য-ব-র-ল”পাগলা দাশু’,’হেঁসোরাম হুঁশিয়ারের ডায়রি’,এর মত অসাধারণ কয়েকটি বই লিখে সমৃদ্ধ করে গিয়েছেন বাংলা সাহিত্যকে৷ অনেকের হয়ত অজানা সন্দেশ পত্রিকায় সুকুমার রায় ১৩২৯ এর ভাদ্র সংখ্যায় ‘বেতার’ নিয়ে লিখেছিলেন ‘আকাশবাণীর কল’৷

প্রেসিডেন্সি কলেজে পড়ার সময় তিনি গোড়াপত্তন করেছিলেন ‘ননসেন্স ক্লাব’৷মজার মজার গল্প,ছড়া,আর কৌতুক অভিনয়ে যারা পারদর্শী তাদের জন্য ছিল ক্লাবের অবারিত দ্বার,মুখপাত্র ছিল ‘সাড়ে বত্রিশ ভাজা’ নামের একটি পত্রিকা,বত্রিশ রকমের ভাজাভুজি আর তার উপরে আধখানা লঙ্কা বসানো, তাই সাড়ে বত্রিশ।

‘ননসেন্স’ ক্লাবে সুকুমার রায়ের রচিত ‘ঝালাপালা’ও ‘লক্ষণের শক্তিশেল’ ভাঁড়ামিবিহীন কৌতুকরস সমৃদ্ধ অনবদ্য দুটি নাটক বাংলা সাহিত্যের সম্পদ৷১৮৮৭ সালে সুকুমার রায় পৃথিবীর প্রথম আলো দেখেন,মাত্র আট বছর বয়স থেকে আঁকতে আর ছড়া লেখা শুরু করেছিলেন৷ স্নাতক হয়ে ১৯১১সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গুরুপ্রসণ্ন বৃত্তি নিয়ে বিলেত গিয়েছিলেন প্রিন্টিং সম্পর্কে পড়াশোনা করতে,লন্ডনে ‘স্কুল অফ ফটো এনগ্রেভিং এন্ড লিথোগ্রাফি’ও ‘ম্যাঞ্চেস্টার স্কুল অফ টেকনোলজিতে’ প্রিন্টিং টেকনোলজি শিখেছেন,পরে ১৯১৩সালে ‘রয়েল ফটোগ্রাফিক সোসাইটির’ফেলোশিপ নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন৷

আর একটি কথা বলতে হবে সুকুমার রায় বিলেত গেলে ‘ননসেন্স’ক্লাব বন্ধ হয়ে গেলেও তিনি ফিরলে আবার প্রাণ ফিরে পায়৷প্রতি সোমবার ক্লাবের অধিবেশন বসত নামটা বদল হয়ে হল ‘মনডে ক্লাব’৷অনেকে ঠাট্টা করে বলতেন ‘মণ্ডা ক্লাব’৷মাসিক চাঁদা চারআনা৷ ‘হাঁসজারু’, ‘বকচ্ছপ’, ‘হাতিমির’ মতো অদ্ভুত কিম্ভূতকিমাকার কাল্পনিক প্রাণীর জন্ম দিয়েছেন তাঁর ‘খিচুড়ি’ ছড়ায়। তাঁর ‘বাপুরাম সাপুড়ে’ পড়েন নি এমন বাঙালি সম্ভবত খুঁজেও আপনি মিল করতে পারবেন না!

সুকুমার রায় সম্পর্কে কিছু বলার ধৃষ্টতা না দেখিয়েই বলা যায় খুব কম মানুষ আছেন যিনি শৈশবটা শুরু করেনি’আবোলতাবোল’ না পড়ে৷ সুকুমার রায় সরস ও সজীবতার মূর্ত প্রতীক৷সেই মানুষটি তাঁর প্রথম বই ‘আবোল তাবোল’ বই আকারে প্রকাশিত হওয়াকে দেখে যেতে পারেন নি৷যদি পারতেন নিশ্চিতভাবে বলা যায় তিনিই খুশিই হতেন কি অনবদ্য সৃষ্টি তিনি করেছেন৷

বড় ট্র্যাজেডি হল সুকুমার রায় নিজের চোখে দেখে যেতে পারেন নি তাঁর অনবদ্য সৃষ্টি আবোল-তাবোল৷ ইউ রায় এন্ড সন্স থেকে ১৯২৩সালে প্রকাশিত হয়েছিল ‘আবোলতাবোল’,দিনটি ছিল ১৯সেপ্টেম্বর৷ অথচ তার মাত্র ৯ দিন আগে ১০সেপ্টেম্বর পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে আকাশের তারা হয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে৷তখন তিনি মাত্র ৩৬৷ ব্যাধির নাম তখনকার দিনের ভয়ঙ্কর ‘কালাজ্বর’৷

খেলার ছলে অত্যাচারি ম্যাজিস্ট্রেটকে মেরে মৃত্যুবরণ করেছিলেন এই বিপ্লবী

Anathbandhu panja

Special Correspondent, Kolkata: এ যেন এক সিনেমার চিত্রপট। হচ্ছিল ফুটবল খেলা। তার মাধ্যমেই স্পষ্ট হল বিপ্লব। নিকেশ অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেট। প্রাণ দিলেন এই যুবককও। তরুণ বিপ্লবী ইংরেজ অফিসার অত্যাচারী ম্যাজিস্ট্রেট বার্জ হত্যার অন্যতম কারিগর। ম্যাজিস্ট্রেটকে মেরে ঘটনাস্থলেই মৃত্যুকে বরণ করেছিলেন। তিনি অনাথবন্ধু পাঁজা।

অনাথবন্ধু পাঁজার জন্ম হয়েছিল ২৯ অক্টোবর ১৯১১ সালে মেদিনীপুর জেলার জলবিন্দুতে। তার বাবার নাম ছিল সুরেন্দ্রনাথ পাঁজা। মেদিনীপুরের গোপন বিপ্লবী দলের সদস্য ছিলেন অনাথবন্ধু। বেঙ্গল ভলান্টিয়ার্স দলে যুক্ত হয়ে রিভলবার চালানোর শিক্ষা গ্রহণ করেন। রিভলভার চালনা শেখার জন্য তিনি কলকাতায় যান। তার সঙ্গে ছিলেন- মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত, নির্মলজীবন ঘোষ, ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ রায়। অনাথবন্ধু পাঁজা ও তার বাকি সঙ্গীরা রিভলবার চালানো শিক্ষাশেষে মেদিনীপুরে ফিরে যান। সঙ্গে নিয়ে আসেন পাঁচ পাঁচটি রিভলবার।

বিপ্লবীদের হাতে ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট পেডি ও ডগলাস নিহত হবার পর বার্জ নামে এক ইংরেজ মেদিনীপুরের ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে আসেন। বার্জ ম্যাজিস্ট্রেট হয়ে আসার পর বিপ্লবীদের প্রতি অকথ্য অত্যাচার ও নির্যাতন শুরু করেন। এবার বিপ্লবীদের লক্ষ্য যে করেই হোক বার্জকে পৃথিবী থেকে সরাতেই হবে। এই দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, ঠিক হয় অনাথবন্ধু পাঁজা, মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত, নির্মলজীবন ঘোষ, ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ রায়। 

অনাথবন্ধু পাঁজা ও তাঁর বাকি চারজন সঙ্গী মিলে জীবনের নতুন অধ্যায়ের অভিযানে পা রাখেন। দিনটি ছিল ২ সেপ্টেম্বর ১৯৩৩ সাল, মেদিনীপুর কলেজ মাঠের দিকে রওনা দেয় তরুণ যুবক। সেদিন ম্যাজিস্ট্রেট বার্জ মেদিনীপুর কলেজ মাঠে মোহামেডান স্পোর্টিং-এর বিরুদ্ধে মেদিনীপুর ক্লাবের হয়ে ফুটবল খেলতে নামেন। অনাথবন্ধু ও মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত ধীরে ধীরে খেলার ছলে মাঠে প্রবেশ করেন। বল বার্জ সাহেবের দিকে নিয়ে যান দুই তরুণ যুবক। বার্জ সাহেবের কাছে পৌঁছতেই অনাথবন্ধু ও মৃগেন্দ্রনাথ তার উপর আক্রমণ করেন।

অনাথবন্ধু পাঁজা ও মৃগেন্দ্রনাথ দত্তের আক্রমনে বার্জ সাহেব মারা যান ও জোন্স নামে একজন আহত হন। পুলিস প্রহরী দুজনের উপর পাল্টা গুলি চালায়। এতে তারা দুজন নিহত হন। ঘটনাস্থলেই অনাথবন্ধু পাঁজা মারা যান অপর সঙ্গী মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত পরের দিন শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। বাকি সঙ্গীরা পলায়ন করতে সক্ষম হন। এই ঘটনার পর ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ রায়, নির্মলজীবন ঘোষ, নন্দদুলাল সিং, কামাখ্যা ঘোষ, সুকুমার সেন, সনাতন রায়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের মামলা হয়। বিচারে ব্রজকিশোর, রামকৃষ্ণ ও নির্মলজীবনের ফাঁসি হয়। নন্দদুলাল, কামাখ্যা ঘোষ, সুকুমার সেন এবং সনাতন রায়-এর যাবজ্জীবন দ্বীপান্তর দণ্ড হয়।

সাত বছর বয়সেই সিঙ্গালীলার শীর্ষে খড়দহের অরিশ

Arish

News Desk, Kolkata: বয়স সাত বছর। এই বয়সেই সে পৌঁছে গিয়েছে সিঙ্গালীলা টপে। অনেকেই ভেবেছিলেন সাত বছরের ছোট্ট ছেলেটি পারবে না। ভাবনা অস্বাভাবিক কিছু না। ১২হাজার ফুট ওইটুকু বয়সের ছেলে ট্রেক সম্পূর্ণ নাও হতে পারে। কিন্তু সেই কাজটাই করে দেখিয়েছে অরিশ।

খড়দার ছেলে অরিশ। মা বাবার সঙ্গেই গিয়েছিল ট্রেকে। সেখানে গিয়ে সে এই কান্ড করে ফেলেছে। তাঁর মা মৌ সিনহা জানিয়েছেন, “অরিশ সাত বছর বয়সে ২৩শে অক্টোবর ১২২০০ ফুট উচ্চতার পাহারে নিজে হেঁটে উঠেছে| আমরা প্রথম দিন ভাবিনি যে অরিশ ১২২০০ ফিট ওপরে উঠতে পারবে। অরিশ এর ট্রেকিং করতে যাওয়ার জন্য ওখানকার পুলিশও ভাবছিল ও যেতে পারবে না। আমাদের গাইডও ভেবেছিল অরিশ পারবে না উঠতে। শেষ অবধি ও সিঙ্গালীলা টপে একা হেঁটে উঠে আমাদের সবাইকে দেখিয়ে দিল যে ও পেরেছে| যে ট্রেকটা অনেকেই করতে পারেনা,মাঝপথে ফিরে আসে সেটা আমার ছেলের সফলতার সঙ্গে করেছে।”

পূর্ব হিমালয়ের পাদদেশে নেপাল, পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিম সীমান্তে অবস্থিত সিঙ্গালীলা রেঞ্জ। দার্জিলিং জেলার অন্যতম আকর্ষণ এই স্থানের প্রধান মুকুট সান্দাকফু (১১,৯০৯ ফুট) ও ফালুট (১১,৮১১ ফুট)। তাদেরই কোলে রডোডেনড্রনের বন ঘিরে তৈরি হওয়া সিঙ্গালীলা জাতীয় উদ্যান পর্যটকদর মূল আকর্ষণ। যা দুটি ভাগে বিভক্ত। দক্ষিণ অংশের (৭,৯০০ ফুট) শুরুটা হয় মানেভঞ্জন দিয়ে। প্রায় ১২ হাজার ফুট উচ্চতায় ফালুটে শেষ হয় রেঞ্জ। উত্তর অংশটি সংযুক্ত রিমবিকের সঙ্গে।

এখানে যেতে গেলে ট্রেনে বা বাসে শিলিগুড়ি পৌঁছে সেখান থেকে প্রাইভেট গাড়ি নিয়ে পৌঁছতে হয় দার্জিলিং। এক রাত কাটিয়ে সেখান থেকেই সিঙ্গালীলা রেঞ্জের দিকে রওনা হন পর্যটকরা। অনেকে আবার শিলিগুড়ি থেকে সরাসরি মানেভঞ্জন পর্যন্ত গাড়ি বুক করেন। সেখান থেকে ট্রেকিং করে সিঙ্গালীলা রেঞ্জের দিকে রওনা হন। কেউ আবার টামলিং গ্রামে (৯,৬০০ ফুট) এক রাত বিশ্রাম নিয়ে ফের ট্রেকিং শুরু করেন। রিমবিক থেকে চড়াই উতরাই পেরিয়েও জাতীয় উদ্যানে পৌঁছন অনেকে।

১৯৮৬ সালে সিঙ্গালীলা রেঞ্জের এই বনকে বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ১৯৯২ সালে এই জঙ্গলকে জাতীয় উদ্যান হিসেব ঘোষণা করা হয়।

Environment: ডাবের জল হয়ে উঠছে প্লাস্টিকের বিকল্প

Coconut water became substitute of plastic

Special Correspondent, Kolkata: গরমের দিনে ডাবের জল শরীর ঠান্ডা করে৷ ইন্দোনেশিয়ার মতো ক্রান্তীয় অঞ্চলের দেশে নারকেলের অভাব নেই৷ প্রতি বছর সে দেশে ১,৫৫০ কোটি নারকেলের ফলন হয়৷ তবে নারকেলের সব সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো হয়নি৷ যেমন বর্জ্য হিসেবে ডাবের জল ফেলে দেওয়া হয়৷ কিন্তু লিনিয়োসেলুলসিক বিশেষজ্ঞ হিসেবে মির্থা কারিনা সানকোইয়োরিনি ডাবের জল কাজে লাগিয়ে প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর কাজ করছেন৷ 

তিনি বলেন, ‘‘সেলুলোজ ও লিগনিন প্লাস্টিক তৈরির দুই প্রধান উপাদান৷ বর্তমানে আমরা জানি যে প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য বড় সমস্যা হয়ে উঠেছে৷ একবার ব্যবহার করলে প্লাস্টিক সহজে প্রকৃতির মধ্যে ধ্বংস করা যায় না৷” প্রচলিত প্লাস্টিকের তুলনায় ডাবের জল দিয়ে তৈরি বায়োপ্লাস্টিক ছয় মাসের মধ্যে প্রকৃতিতে আবার মিশে যেতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে৷ বায়োপ্লাস্টিকের উপকরণ হিসেবে সেলুলোজ পেতে হলে অ্যাজেটোব্যাকটার সাইলিনিয়াম নামের ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট ব্যবহার করে ডাবের জল সবার আগে ফারমেন্ট বা গাঁজানো হয়৷ ‘নাতা ডি কোকো’ নামের আঠালো স্তর হওয়া পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া চালাতে হয়৷

মির্থা বলেন, ‘‘এই সেলুলোজ, সেটির কাঠিন্য, সেটির ইলাস্টিসিটি বা নমনীয়তা ব্যাকটিরিয়া বেড়ে ওঠার সময়ের উপর নির্ভর করে৷ কাঁচামাল হিসেবে ব্যাকটিরিয়া বেড়ে ওঠার জন্য কতটা কার্বোহাইড্রেট বা প্রোটিন লাগবে, সেটা জানাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রচলিত প্লাস্টিকের মতো গঠনগত বৈশিষ্ট্য পেতে হলে জেল বা আঠালো পদার্থ থেকে জল দূর করতে হবে৷ ভ্যাকুয়াম দিয়ে সেই কাজ করা যায়৷

শুকিয়ে ফেলা ‘নাতা ডি কোকো’ খুবই মজবুত হওয়ায় সেটিকে বায়োপ্লাস্টিক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যায়৷ মির্থা জানালেন, ‘‘এটা সত্যি প্লাস্টিক৷ এটা ভ্যাকুয়াম করা ‘নাতা ডি কোকো’-র একটা স্তর৷ আসলে এভাবে টানলেই সেটা প্লাস্টিক উপাদান হয়ে উঠতে পারে৷ কিন্তু রং এখনো স্বচ্ছ হয় নি৷ গরম ইস্ত্রি দিয়ে আবার শুকনো করলে আরও জল দূর হবে৷ তখন এমন প্লাস্টিক উপাদান পাওয়া যাবে৷ স্বচ্ছ প্লাস্টিক চাইলে আরেকটি বিকল্প উপাদান যোগ করতে হবে৷

অর্থাৎ এটিকে প্লাস্টিক মেটিরিয়াল করে তোলা সম্ভব৷” তবে ডাবের জলের মধ্যে সেলুলোজের মাত্রা কম হওয়ায় উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণও অত্যন্ত কম৷ ফলে বড় আকারে প্লাস্টিক উৎপাদনের জন্য সেটি উপযুক্ত নয়৷ মির্থা বলেন, ‘‘এই ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত সেলুলোজের মাত্রা মাত্র পাঁচ শতাংশ৷ সে কারণে এই প্রক্রিয়ায় থেকে শপিং ব্যাগের মতো পণ্যের জন্য প্লাস্টিক তৈরি করা তেমন লাভজনক নয়৷ তার জন্য বিশাল পরিমাণ সেলুলোজের প্রয়োজন৷ তাই এই বায়োপ্লাস্টিকের অন্য ব্যবহার হয়৷ যেমন অত্যন্ত দামী মোড়ক বা অন্যান্য কাজে সেটি প্রয়োগ করা হয়৷”

সিস্টার নিবেদিতাকে বলে মহাপ্রয়ানের পথে পাড়ি দিয়েছিলেন স্বামীজি

Swamiji sister nivedita

Special Correspondent, Kolkata: তিনি মৃত্যুর দূতকে আসতে দেখেছিলেন। সে আসছিল দূর সাগর পার হতে। তাঁর অসীম ক্ষমতা। চাইলেই পারতেন দূতকে ফেরত পাঠাতে। কিন্তু তিনি তা করলেন না। তাঁর অন্যতম প্রিয় ভক্ত ভগিনী নিবেদিতাকে বলে পাড়ি গিয়েছিলেন মহাপ্রয়াণের পথে। নিবেদিতা সেই মুহূর্তে কিছুই বুঝতে পারেন নি। বুঝেছিলেন স্বামীজির মৃত্যু সংবাদ আসার পর।

ঘটনা ১৯০২ সালের ২ জুলাই। স্বামীজির মৃত্যুর দুই দিন আগের ঘটনা। নিবেদিতাকে নেমন্তন্ন করলেন বিবেকানন্দ। নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে বেলুর মঠে এলেন নিবেদিতা। সেদিন আবার স্বামীজির একাদশী। উপোস তাঁর। নিজে খাবেন না কিন্তু ভগিনীকে নিমন্ত্রণ করেছেন। বেজায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছেন নিবেদিতা। স্বামীজির নিমন্ত্রণ হ্যাঁ না কিছুই বলতে পারেন না।

এরপরের ঘটনা আরও চমকপ্রদ। নিবেদিতাকে খাওয়ালেন ভাত,আলুসিদ্ধ,দুধ,কাঁঠাল। খাওয়ায় মন নেই নিবেদিতার। তিনি বুঝতেই পারছেন না কি করতে চাইছেন স্বামীজি। প্রথমে খানিক না না করেও শেষে খাওয়া শুরু করলেন। খাওয়ার সময় নানারকম কথা বলতে শুরু করলেন স্বামীজি। খাওয়া শেষ হল। এবার নিবেদিতার হাত পা জল দিয়ে ধুয়ে দিলেন। নিবেদিতা এবারেও অস্বস্তিতে। একেবারেই বুঝতে পারছেন না বিবেকানন্দ কি করছেন আর কেনই বা এমন করছেন।

স্বামীজি হাত যখন নিবেদিতার পা যত্ন সহকারে ধুয়ে দিচ্ছে আর থাকতে পারেননি নিবেদিতা। প্রতিবাদ করে বলেন, “এ কী করলেন আপনি, এ তো আমার করা উচিত আপনাকে।” বিবেকানন্দের উত্তর , “তুমি তো যীশুর কথা পড়েছ। তাহলে নিশ্চয় জানো তিনিও শিষ্যদের পা ধুয়ে দিয়েছিলেন।” নিবেদিতা বলে ছিলেন, “সে তো তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে।” বিবেকানন্দের সহস্য উত্তর, “you silly girl”। ভগিনী নিবেদিতা গুরুর কথা পুরো বুঝে উঠতে পারেননি।

৫ জুলাই ১৯০২ সকালবেলা বেলুরমঠেরই এক সাধক এসে একটি চিঠি দেন নিবেদিতাকে। চিঠি পাঠিয়েছেন স্বামী সারদানন্দ। বার্তা? স্বামীজির মহাপ্রয়াণের। ৪ তারিখ রাত ৯.১০ ধরাধাম ছেড়ে চলে গিয়েছে স্বামীজির দেহ। শিষ্যা অবাক। তিনি তখন অন্য কথা ভাবছেন। না দিন দুই স্বামীজির তাঁর পদ সেবা করার কথা নয়। তিনি উত্তর খুঁজছিলেন, ৪ তারিখ ৯.১০মিনিটে কেন তিনি স্বপ্নে দেখলেন শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের শরীর দ্বিতীয়বার চলে যাচ্ছে ধরাধাম ছেড়ে। সেটাই কি তবে স্বামীজির তাঁকে দেওয়া দ্বিতীয় মৃত্যু বার্তা ছিল!

স্বামী অভেদানন্দকে অবশ্য স্বামীজি তাঁর মৃত্যুর বছর পাঁচ ছয়েক আগে এমনই এক বার্তা দিয়েছিলেন। হঠাৎ করেই একদিন স্বামীজি তাঁকে বলেন, “আমি আর বছর পাঁচ ছয়েক বাঁচবো বুঝলে।” অভেদানন্দ স্বামীজির এমন কথায় বেশ বিরক্ত। স্বামীজির উত্তর, “তুমি বুঝবে না হে , তুমি বুঝবে না। আমার আত্মা দিন দিন বড় হয়ে যাচ্ছে। এত বড় হয়ে যাচ্ছে যে তা আর আমার এই শরীরের মধ্যে তাকে ধরে রাখা যাচ্ছে না। খালি ছেড়ে পালাতে চাইছে।

Happy: ৮০ বছরের গবেষণা শেষে মিলল সুখের সূত্র

happy

Special Correspondent: পৃথিবীতে প্রতিটি সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষই সুখপিয়াসী। জীবন‌কে সুখময়তায় যাপন করার চাইতে বড় প্রত্যাশা কি আর কিছু হতে পারে? নিশ্চয়ই না! সুখের নেশায়ই তো মানুষ ছুটে বেড়ায় দিগ্বিদিক! কী আশ্চর্য এক অনুভূতি এই ‘সুখ’! যা সবাই চায়।

তবে মানুষকে যখন সুখের-মানদন্ড খুঁজে বের করতে বলা হয়, তখন সাধারণত দুটি জিনিস ঘটে; অধিকাংশেই বেছে নেন অর্থ-বিত্ত; আর বাকিদের মধ্যে প্রায় সবাই বেছে নেয় যশ-খ্যাতি। হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে।

১৯৩৮ সাল! ইতিহাসের কালোপাতায় রচিত ৪৩ মাসব্যাপী ‘The Great Depression’ পর্ব সবেমাত্র থামে; বিশ্বজুড়ে তখন ভয়াবহ আর্থিকমন্দা। ঠিক সেই সময়ে বিজ্ঞানীরা ৭২৪জন মানুষের স্বাস্থ্যের উপর নজর রাখতে শুরু করেছিলেন, যাদের মধ্যে কেবল ৬০ জন নব্বই বছর বয়সী মানুষ আজ পর্যন্ত বেঁচে আছেন। প্রত্যাশা, এরকম সুদীর্ঘ একটি গবেষণাই উদ্ভাবন করবে সুখী জীবনযাপনের আকাঙ্ক্ষিত সূত্র! যার জন্য সেই সময়কার পরিস্থিতিই ছিল একদম যথাযথ! ৮০ বছর ধরে ‘Havard Study of Adult Development’ এর অংশ হিসেবে চলমান এই পর্যবেক্ষণটি বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘ একটি গবেষণা, যেখানে গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের স্বাস্থ্যজনিত অবস্থা এবং ক্যারিয়ার কিংবা দাম্পত্যজীবনে তাদের সফলতা এবং ব্যর্থতা নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন এবং চমকপ্রদ কিছু বিষয় সামনে নিয়ে এসেছেন। তাতেই মিলেছে সুখের মানদন্ড।

তবে হাভার্ডের-এই রিসার্চ অর্থ-বিত্ত এবং খ্যাতি সুখের মান দণ্ড , এই ধারণাকে উড়িয়ে দিয়েছে। গবেষণাটি বলছে, অর্থ বা খ্যাতি নয়; মানুষের মধ্যকার পারস্পরিক ঘনিষ্ঠ সুন্দর সম্পর্কই কেবল মানুষকে সারাজীবন সুখতৃপ্তি দিতে পারে! এই আত্মিক বন্ধনগুলো মানুষকে জীবনের অতৃপ্তি থেকে রক্ষা করে, মানুষ জীবনের অর্থ ও তৃপ্তি দুটোই খুঁজে পায়, মানসিক এবং শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ে না। মানুষ-মানুষের মধ্যকার এই পারস্পরিক সম্পর্ক গুলো সামাজিক শ্রেণী, আইকিউ, এমনকি জিনগত বৈশিষ্ট্যের চেয়েও সুখী জীবনের জন্য অধিক নিশ্চয়তা দেয়।

গবেষকরা পর্যবেক্ষণের আওতাভুক্ত ৭২৪ জন মানুষের যাবতীয় মেডিক্যাল রেকর্ড ৮০ বছর যাবৎ তৎক্ষণাৎ সংগ্রহ করেছেন, প্রতিনিয়ত ব্লাড‌ সংগ্রহ করা হয়েছে, স্ক্যান করা হয়েছে তাদের ব্রেইন, নিয়মিত ব্যক্তিগত এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এবং বিভিন্ন প্রশ্ন করে করে তথ্য সংগ্রহ করেছেন; যেখানে একজন মানুষের Happiness এবং পরিবার-বন্ধু-স্বজনদের সাথে তাদের relationship-এর একটি শক্তিশালী যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জীবনে সফল কিংবা ব্যর্থ সব ধরনের মানুষই রয়েছে।
গবেষকদের মতে, Marital satisfaction মানুষের Mental Health-এর উপর প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলে। রিসার্চের ফলাফল অনুযায়ী, সুখী দাম্পত্য জীবনের অধিকারী মানুষেরা ৮০ বছর বয়সেও মানসিক ও শারীরিকভাবে স্বাভাবিক থাকেন। অপরদিকে, বৈবাহিক জীবনে অসুখী মানুষেরা দৈহিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে যায়, যার পেছনে সবচেয়ে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে ইমোশনালি সুখী না থাকা।

রিসার্চটির ডিরেক্টর Robert Waldinger বলেন, “আশেপাশের বন্ধু, পরিবার ও সমাজের মানুষের সাথে উষ্ণ সম্পর্কের অধিকারী লোকেরা দীর্ঘায়ু লাভ করেন এবং আজীবন সুখী থাকেন; অন্যদিকে একাকীত্বে ভোগা মানুষেরা ক্ষণজন্মা হয়। ক্ষুদ্র জীবনের বিশাল অংশ জুড়ে থাকে হতাশা, মাঝবয়সেই ভেঙে পড়ে স্বাস্থ্য। Loneliness kills. It’s as powerful as smoking or alcoholism.”

অতএব, জীবনে হ্যাপিনেসকে উপভোগ করতে হলে অর্থবিত্ত কিংবা যশ-খ্যাতির চাইতেও আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কগুলোর ক্ষেত্রে অনেক বেশি যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন। একটি বিজনেস কিংবা ক্যারিয়ার গঠনে সময় এবং প্রচেষ্টা ইনভেস্টের চাইতেও আমাদের পরস্পরের মধ্যে Healthy Relationship গড়ে তোলা এবং সেই সম্পর্ক গুলোর যত্ন নেয়ার পেছনে ইনভেস্টমেন্টে বেশি মনোযোগী হলেই সুখ-কে উপভোগ করা হবে সহজতর!

দুধের প্লাস্টিকের প্যাকেট ফেলে না দিয়ে আবার কী করে ব্যবহার করবেন?

News Desk: প্যাকেট থেকে দুধ আলাদা করে নেওয়ার তার কোন ব্যবহার নেই৷ এবার এই ভুল ধারণা বদলে ফেলতে হবে! ভারতে প্রতিদিন পাঁচ কোটির বেশি দুধ ব্যবহার হয়৷ তারমধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ প্যাকেট রিসাইকেল হয়৷ বাকিটা পরিবেশে ছড়িয়ে দূষণ করছে৷ দুধের প্লাস্টিকের প্যাকেট ফেলে পরিবেশ দূষণ করবেন না৷ বরং তা পাঠিয়ে দিন এদের৷ রক্ষা করুন সুন্দর পরিবেশকে৷

বাংলা ভাষার উৎস সংস্কৃত নয়, দাবি ভাষাবিদের

bengali language

Special Correspondent: সংস্কৃত ভাষা থেকে বাংলা ভাষা এসেছে। এটাই জেনে এসেছে সাধারণ মানুষ। কিন্তু ভাষাবিদ সমীন্দ্র ঘোষের গবেষণা অন্য কথা বলছে। তাঁর দাবী, বাংলা ভাষার উৎস সংস্কৃত নয়।

তিনি বলছেন, ” সংস্কৃত ভাষা অখণ্ড বাংলায় এসেছে গুপ্তযুগে। সংস্কৃত আসার আগে বাংলায় অধিবাসী ছিল; তারা রীতিমতো বিদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতো, যাতায়াত করতো, হিসাব রাখতো ইত্যাদি মিলিয়ে বলা যায় সভ্য ছিল, প্রজ্ঞাবান ছিল। এসবই প্রত্নতাত্ত্বিক, নৃতাত্বিকভাবে প্রমাণিত।”

এরপর তিনি বলেছেন , “তাহলে, প্রশ্ন থাকছে সেইসময়ে বাংলার অধিবাসী কি বোবা কালা ছিল? নাকি অং বং চং হুঃ হাঃ হিঃ ব্রুৎ ব্রাৎ ইত্যাদি শব্দে কথা বলতো? অথবা,আকার ইঙ্গিতে কথা বলতো কি?লিখতে পারতো না ?’ তাঁর কথায়, “

আমরা দেখেছি যে, ভাষাতত্ত্বের ভিত্তিতে : ১) এই অং বং চং হুঃ হাঃ হিঃ ব্রুৎ ব্রাৎ শব্দ তো সংস্কৃতে এখনও আছে।
২) বৈদিকরা লিখতেও পারতো না। ৩) কাজকর্ম, বস্তু সামগ্রী ব্যবহারের দ্বারা ও তাকে চিহ্নিত করতে শব্দ তৈরি হয়।

৪) বৈদিকরা তথা আর্যভাষীরা তথা আর্যভাষা সংস্কার ক’রে সংস্কৃত ভাষা ব্যবহারকারীরা ছিল বর্বর, যাযাবর; তাদের জীবনযাপনের জন্য বস্তু সামগ্রী বেশি ব্যবহার করতো না; তাই তাদের বস্তু চিহ্নিতকরনের শব্দ কম ছিল এবং হিন্দুকুশ পেরোনোর পরে যত শব্দ তাদের ভাষায় যুক্ত হয়েছে, সেসবই এই ভূমির অধিবাসীদের শব্দ। এটাই নিশ্চিৎ প্রমাণ। অশ্ব, লৌহ তারা জানতো; তামা তো জানতো না; আম তো এই সেদিন, প্রায় হাজার বছর আগে জানলাম আমরা; তো, সংস্কৃতে আম্র এল কোত্থেকে? তেমনি, বহু সহস্র শব্দই ওরা নিয়েছে স্থানীয় অধিবাসীদের থেকেই।

৫) সেইসব স্থানীয় শব্দ ওদের ব্যাকরণ রীতি অনুযায়ী ওদের ছাঁচে ঢেলে প্রচার করেছে। আর আমাদের বিশ্বাস করানো হয়েছে, বাংলা ভাষা সংস্কৃত জাত। ৬) চর্যাপদের ভাষায় “বাঙ্গালী” শব্দটি আছে। “বাঙালী”, লাঙল, লিঙ্গ ইত্যাদি অস্ট্রিক জাত শব্দ। বলেছেন ভাষাচার্য ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়। ৭) আরও জানছি যে, বঙ্গা বা বোঙ্গা উচ্চারণ বিপর্যয়ে গঙ্গা। আসল বানান বোঙাঁ। এই বঙ্গা থেকেই বঙ্গালী > বাঙ্গালী > বাঙালী > বাঙালি। বঙ্গালা > বাঙ্গালা > বাঙালা> বাঙলা > বাংলা। ৮) চর্যাপদে যেসব শব্দ আছে তার কিছুই সংস্কৃত জাত নয়। এবং আরবী, ফার্সি, তুর্কি জাত নয়।

কারণ, আরবী ফার্সি তুর্কি ভাষা বাংলা অঞ্চলে ঢুকতে শুরু করেছে ১২০৪ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ। এসবই তথ্যগত। তাই, এটা বলাই যায় যে, বাংলা ভাষা সংস্কৃত জাত নয় এবং বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষার কাছে ঋণী নয়; বরং সংস্কৃত ভাষা বাংলার আদি ভাষার কাছে ঋণী। এবং বাংলা ভাষার সমস্ত বা সিংহভাগ শব্দ আরবী ফার্সি তুর্কি নয়, বরং সেসব থেকে উদ্ভূত এবং স্বকীয়।”