Special Report: ফৈজাবাদ জেল থেকে লেখা বিপ্লবীর চিঠি কাঁপিয়ে দেয় বুক

Ashfaqulla Khan

Special Report: ১৯ শে ডিসেম্বর ১৯২৭। ফৈজাবাদ জেল থেকে এক মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামী তার শেষ চিঠিতে লিখলেন, “I take pride in the fact that I will be the first and foremost Muslim to embrace death on the gallows for the freedom of my country”. তিনি আসফাকুল্লা খান (Ashfaqulla Khan)।

২২ অক্টোবর ১৯০০ সালে উত্তরপ্রদেশের শাজাহানপুরের এক সম্ভ্রান্ত মুসলমান পরিবারে জন্ম নেন আসফাক উল্লা খান । জন্মসূত্রে পাঠান এই পরিবারের অনেকেই শিক্ষিত এবং পদস্থ রাজ কর্মচারী ছিলেন । চার ভাইয়ের মধ্যে কনিষ্ঠ এই ভাইটির ছোট থেকেই উর্দু কবিতা রচনা করার শখ , হসরত ছদ্মনামে বেশ কিছু কবিতা এর মধ্যেই লিখে ফেলেছেন। কথায় কথায় দাদার কাছে শুনলো তার সহপাঠী রামপ্রসাদের কথা, সেও বিসমিল ছদ্মনামে উর্দু কবিতা লেখে।

অসহযোগ আন্দোলনের সময় একদিন শাজাহানপুরের এক জনসভায় সে দেখা করে বিসমিলের সাথে । নিজের পরিচয় দেবার পর তাকে শোনালো নিজের লেখা কবিতা । মুগ্ধ বিসমিল তাকে প্রশংসার সাথে সাথে দীক্ষিত করলো স্বাধীনতার মন্ত্রে । তখন সে বাইশ বছরের যুবক । একজন পাক্কা আর্য সমাজীর সাথে আরেকজন কট্টর মুসলমানের এই বন্ধুত্ব, স্বাধীনতার লক্ষে আমৃত্যু ছিল অটুট!

Ashfaqulla Khan

এলো ১৯২২ সাল । উত্তর প্রদেশের চৌরিচৌরায় অসহযোগ আন্দোলনকারীরা থানা জ্বালিয়ে দিয়ে কুড়িজন পুলিশ কে পুড়িয়ে মারলো । প্রতিবাদে গান্ধীজী আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলেন। এতে আরও বহু যুবকের মতন হতাশ হলেন আশফাক । ততদিনে তারা বুঝে গেছেন কাকুতি মিনতি করে বৃটিশদের কাছ থেকে স্বাধীনতা পাওয়া যাবেনা । সশস্ত্র সংগ্রামই হলো একমাত্র পথ, কিন্ত এরজন্য চাই প্রচুর টাকা ! বন্ধু রামপ্রসাদের সাথে পরামর্শ করে পরিকল্পনামতো আরও আট সঙ্গীর সাথে ৯ই আগষ্ট ১৯২৫ সালে কাকোরি স্টেশনে লুটে নিলেন ইংরেজদের প্রাপ্য খাজনা ।

স্তম্ভিত বৃটিশ প্রশাসন ‘Scotland Yard’কে তদন্তের ভার দিল । একে একে সবাই ধরা পড়লেও আসফাক লুকিয়ে পালিয়ে আসেন বিহার । সেখানে একটা কারখানায় দশমাস কাজ করার পর আসেন দিল্লী, উদ্দেশ্য বিদেশে গিয়ে সশস্ত্র সংগ্রামের লক্ষে লালা হর দয়ালের সাহায্য নেওয়া । পাসপোর্টের জন্য পরিচিত এক পাঠান বন্ধুর সাহায্য চাইলেন কিন্ত সেই বিশ্বাসঘাতক পুলিশে খবর দিল ।

বিচারের জন্য তাকে আনা হয় ফৈজাবাদ জেলে । কারা কর্তৃপক্ষ বিসমিলের সাথে তাঁর বন্ধুত্ব ভাঙ্গার জন্য সাম্প্রদায়িক তাস খেললে জবাব দেন, “Jailor saab, if you are right then I am also quite sure that a Hindu India will be much better than your British India to whom you are serving like a servant.” বিচারে বিসমিল সহ তাঁদের চারজনের ফাঁসির আদেশ হয় । জেলের দিন গুলোতে উনি পাঁচবার নমাজ পাঠ সহ সম্পূর্ণ সাত্বিক জীবন যাপন করতেন। ১৯২৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর তাঁর ফাঁসি হয় এবং ঐদিনেই মজঃফরপুর জেলে বিসমিলকেও ফাঁসি দেওয়া হয় ।

নির্জন সেলে বসে লেখা শেষ কবিতাতেও দেশমাতৃকার সাথে সাথে এসেছে বন্ধুও। ‘যাউঙ্গা খালি হাত মগর ইয়ে দর্দ সাথ হি যায়েগা , জানে কিস দিন হিন্দুস্থান আজাদ ওয়াতন কহলায়েগা ? বিসমিল হিন্দু হ্যায় কহতে ফির আউঙ্গা, ফির আউঙ্গা, ফির আকর কে ইয়ে ভারত মা তুঝকো আজাদ করাউঙ্গা । জী কহতা হ্যায় ম্যায় ভি কহ দুঁ পর মজহব সে বঁধ জাতা হুঁ, ম্যায় মুসলমান হুঁ পুনরজনম কি বাত নহি কর পাতা হুঁ । এ খুদা অগর মিল গ্যয়া কঁহি আপনি ঝোলি ফ্যায়লা দুঙ্গা, আওর জন্নত কে বদলে উসসে এক পুনরজনম হি মাগুগাঁ !’
এই জন্যই তিনি দেশপ্রেমিক।

মারাত্মক সব ঘটনা: ৮ লাখ ঘোড়া, শয়ে শয়ে পায়রা, কুকুর এরাও বিশ্বযুদ্ধে নেমেছিল

Celebrating 75 years of animal bravery from heroic horses

নিউজ ডেস্ক: পরিবার, প্রিয়জন, ঘরবাড়ি থাকার সত্বেও বীর সৈনিকরা সীমান্তে প্রাণপাত করেন যাতে দেশবাসীরা রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমোতে যেতে পারেন। তবে দেশের সুরক্ষার জন্য সীমান্তে কেবল সৈন্যরাই প্রাণের আহুতি দেয় না, দেশরক্ষার মতো গুরুতর কাজে যুক্ত থাকা অবলা জীবদের অবদান চাপা পরেই থেকে যায়। অসীম বীরত্বে সীমান্ত পারে প্রাণ দিয়েছে শয়ে শয়ে সারমেয়, ঘোড়া, এমনকি উটও। তবে তাদের কীর্তির কথা মনে রাখেনি কেউই। জেনে নেওয়া যাক গোটা বিশ্বের এমনি কয়েকটি বীর চার-পেয়েদের গল্প:

Celebrating 75 years of animal bravery from heroic horses

১. যোদ্ধা কুকুর
সার্জেন্ট স্টাবি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর হয়ে প্রাণপাত করা ২০০০০ বীর সারমেয়দের একজন। মেসেঞ্জার কুকুর, করুণা কুকুর, পাহারাদার কুকুর এবং মাস্কটরা রাজা এবং দেশের জন্য তাদের কাজ করেছে যুদ্ধের ময়দানে। স্টবি এমনকি আসন্ন গ্যাস আক্রমণের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কুকুর ছিল প্রথম গৃহপালিত প্রাণী এবং গোটা বিশ্বের ইতিহাস জুড়ে যুদ্ধে সর্বোচ্চ ব্যবহৃত মিলিটারি পশু। রোমান সেনাবাহিনীতে কুকুরের একটি পৃথক রেজিমেন্ট ছিল। তাদের গলায় এবং গোড়ালিতে পরানো হতো বিশেষ কাঁটাওয়ালা কলার।

২. যোদ্ধা পায়রা
যুদ্ধের পায়রা ৫০০০ এর ও বেশী সময় ধরে বার্তা আদান প্রদানের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জরুরী বার্তা আদান-প্রদান করার কাজে অসংখ্য পায়রা ব্যবহার করা হয়েছিল। চের আমি নামে একটি পায়রাকে ‘ক্রয়এক্স দে গুররে’ পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুদ্ধক্ষেত্রে বার্তা আদান প্রদানের কাজেই বীরত্ব দেখানোর জন্য যা বহু সৈনিকের জীবন বাঁচিয়ে ছিল।

৩. যোদ্ধা ঘোড়া
মানুষ ৪০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মধ্য এশিয়ায় ঘোড়া গৃহপালিত করতে শুরু করে এবং ইতিহাসের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তারা যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়। তারা শিকারী প্রাণী এবং তাই তাদের হুমকির প্রথম প্রতিক্রিয়া হতবাক হয়ে পালিয়ে যাওয়া। তা সত্ত্বেও, তাদের স্বাভাবিক প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে, তারা তাদের রাইডারদের বহন করে অসংখ্য যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে আট লাখেরও বেশি ঘোড়া তাদের জীবন দিয়েছিল।

৪. যোদ্ধা উট
১৯১৫ সালে উট ব্রিগেড গঠন দেখেছিল গোটা বিশ্ব। রোমান সাম্রাজ্যর সময় থেকেই উট যুদ্ধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। উটের গন্ধ শত্রুদের ঘোড়াগুলিকে ভীত করে। তাই বিশ্বযুদ্ধের সময় উটের বহুল ব্যবহার হয়েছে।

Troutman: ঘৃণ্য নাৎসি থেকে বন্দিত কিংবদন্তির রূপকথা

From Nazi to football hero

বিশেষ প্রতিবেদন: ১৯৪৯ সালের ২৯ নভেম্বর। ম্যাচটা ছিল ম্যানচেস্টার সিটি ও বোল্টন ওয়ান্ডার্সের মধ্যে। ম্যাচ নিয়ে ছিল চরম উত্তেজনা। স্টেডিয়াম জুড়ে নিরাপত্তা দ্বিগুণ করা হয়েছিল। কারণ ম্যাচটা ছিলো ম্যানচেস্টার সিটির গোলকিপার বার্ট ট্রটম্যানের অভিষেক ম্যাচ। ম্যাচজুড়ে যাকে শুনতে হয়েছিল দুয়ো।

কারণটা সেদিনের এক পুলিশের মুখেই শোনা যাক -The number of Police was doubled that day.When the team came down the tunnel there was no cheering. There was just an odd silence.I could hear mutterings behind me. “There he is, the German fella. He flew their fighter plans.”

শুরুতেই বেশ কিছু সেভ করায় এই দুয়োটা কিছুটা বন্ধ হয়।তবে আ্যাওয়ে ম্যাচগুলোতে প্রতিদিনই দুয়ো শুনতে হয়েছিল। কারণটা জানতে হলে আপনাকে কিছুটা পেছনে যেতে হবে। বার্ট ছিলেন একজন নাৎসি। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি হিটলারের ইউথ সংগঠনে যোগ দিয়েছিলেন। যোগ দিয়েছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। সোভিয়েতের সঙ্গে যুদ্ধে বীরত্বের কারণে জিতেছিলেন ৫ টি মেডেল। পরে আটক হলে ইংল্যান্ডের কিছু কারাগারে বন্দি জীবন কাটান। সেখানেও খেলেন ফুটবল। সেই জীবন কাটিয়ে স্থানীয় একটি ক্লাবে খেলার সময় অনেক সুনাম পান যার ফলে যোগ দেন ম্যানচেস্টার সিটিতে। একজন নাৎসিকে নিজেদের দলে মেনে নিতে পারেননি ইংল্যান্ডের এই ক্লাবের ফ্যানরাও। প্রিমিয়ার লিগের অন্যান্য দলের ফ্যানরাও তাঁকে মেনে নেয়নি।কারণ তিনি যে শত্রু দেশের কুখ্যাত হিটলার বাহিনীর যোদ্ধা।

From Nazi to football hero

তাই কোনও ইংলিশ ক্লাব ফ্যানের জন্যই তাকে মেনে নেওয়া সহজ ছিল না। তাই তিনি সিটিতে যোগ দিতেই আছড়ে পড়েছিল প্রবল বিরোধিতা।

শুধু সহায়তা পেয়েছিলেন দলের। সেটাই ছিল অক্সিজেন। যা প্রাণ ভরে নিয়েছিলেন তিনি। প্রথম ম্যাচের আগে সিটি ক্যাপ্টেন ওয়েস্টউড ড্রেসিংরুমে বলেন- “There is no war in the team.We welcome you as any other member of the staff.Just make yourself at home and good luck. ”

সেই যে শুরু তিনি ক্লাবের হয়ে খেলেন ৫৪৫ টি ম্যাচ।অবদান রাখেন দলে আর হয়ে যান ক্লাবের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ গোলকিপার।ইংলিশ ফুটবলে তৎকালীন সময়ে ছিলন সেরা গোলরক্ষক। গোলপোস্টে তিনি ছিলেন এক অভেদ্য দেয়াল।একাই জিতিয়ে দিয়েছেন অনেক ম্যাচ। আর ফ্যানদের ঘৃণা পরিণত হয় ভালোবাসায়।

তাঁর ক্লাবের প্রতি ভালোবাসার উৎকৃষ্ট প্রমাণ হলো ১৯৫৬ সালের এফএ কাপ ফাইনাল। ম্যাচজুড়ে ভালো খেলছিলেন।৭৫ মিনিটে প্রতিপক্ষ বার্মিংহামের মার্পির শট আটকতে গিয়ে ঘটে দুর্ঘটনা। ব্যাথায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মাঠ ছাড়তে হতো। কিন্তু তখন যে বদলির নিয়ম নেই। হয় খেলা ছাড়ো নয়তো এভাবেই খেলে যাও। তিনি খেলে যান। ইনজুরি নিয়েই দলকে জেতান। পরে এক্স-রে রিপোর্টে দেখা যায় তার ঘাড় ভেঙে যায় যা মৃত্যুর কারণও হতে পারত। খেলা ছাড়েন ১৯৬৫ সালে।

যখন এসেছিলেন ফ্যানদের চোখে তিনি খুনি,আর যখন যাচ্ছিলেন তখন একজন মৃত্যুঞ্জয়ী কিংবদন্তি।যখন এসেছিলেন তখন ফ্যানদের হৃদয় ভরে ছিলো ঘৃণায় আর যখন যাচ্ছিলেন তখন তা পূর্ণ হয়েছিল ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতায় তার শেষ ম্যাচে পুরো স্টেডিয়াম পূর্ণ ছিলো তাকে সম্মান জানানোর জন্য।ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সিটি ফ্যানরা তার গোলপোস্ট ভেঙে ফেলে। কারণ তাদের মতে ওখানে দাড়ানোর অধিকার আর কারো নেই।যে মানুষটাকে তারা ক্লাবেই চাননি তাকে তারা এতটাই ভালোবেসেছিলেন।

ঘৃণিত ও নিন্দিত একজন মানুষ থেকে যেভাবে বার্ট নন্দিত ও অমর একজন ব্যাক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন তা ফুটবলেরই এক রুপকথা।

প্রথম গোলকিপার ও বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে ইংলিশ ফুটবলে জেতেন ‘FWA award’। সঙ্গে আছে ‘OBE award’।কতটা অসাধারণ ছিলেন বার্ট? লেভ ইয়াসিনই বলেছিলেন
“There have been only two world-class goalkeepers. One was Lev Yasin and the other was the German boy who played for Manchester City.”

উল্লেখ্য ট্রটম্যানের এই অসাধারণ কাহিনী নিয়ে ‘The Keeper’ ছবিটি তৈরি হয়। ট্রটম্যানকে অনেকেই যতটা না একজন গ্রেট গোলকিপার হিসেবে মনে রেখেছে তার থেকেও বেশি মনে রেখেছে যুদ্ধে নাৎসি বাহিনি যা করেছে তা ভুল ছিল স্বীকার করার জন্য।ট্রটম্যানের প্রথম ১০০০ জনের ব্যাটেলিয়ন এর মাঝে মাত্র ৯০ জন বেঁচে ছিলেন তখন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ অনেকের মতো ট্রটম্যানকেও আনস্টেবল করে দিয়েছিল। প্রায়ই প্রচন্ড রেগে যেতেন ট্রটম্যান। পরে জানা গিয়েছিল যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে থাকা অবস্থায় যত নিষ্ঠুরতা দেখেছেন তা আটকাতে না পারার অনুশোচনা সারাজীবন তাকে তাড়া করেছে। ট্রটম্যানের জেনারেশনের বেশিরভাগ জার্মানই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে কথা এড়িয়ে চলত। যেসব নির্মমতা তারা যুদ্ধে দেখেছে তা ভুলে থাকার চেষ্টা করত। অবশ্য ট্রটম্যান এখানে ব্যাতিক্রম।

ট্রটম্যান এবং তার একজন সহযোদ্ধা গোপনে একটা গনহত্যা দেখেছিলেন। যেখানে একটা গ্রামের সবাইকে একটা জঙ্গলে নিয়ে নির্বিচারে গুলি করে নাৎসি বাহিনী। ট্রটম্যান আর তার সহযোদ্ধা কোনোরকমে পালিয়ে আসেন সেই জঙ্গল থেকে কারন যেকোনো প্রত্যক্ষদর্শীকে হত্যা করার অর্ডার দেওয়া হয়েছিল। তিনি এটাও বলেছিলেন যে আরেকটু বড় হয়ে যদি এই নির্মমতা দেখতেন তাহলে তাঁকে সুইসাইড করতে হত। ট্রটম্যানের জেনারেশনের আর কোনও জার্মান নিজেদের ভুল স্বীকার করেন নি। এতটা সাহসিকতার পরিচয় খুব কম মানুষই দিতে পেরেছে।

একজন নাৎসি হওয়া, ফ্রন্টলাইনে থেকে যুদ্ধের নির্মমতা প্রত্যক্ষ করা, ফুটবল ক্যারিয়ার শেষে শান্তির জন্য কাজ করে যাওয়ার জন্য ট্রটম্যান প্রশংসিত হওয়ার মাঝে তিনি যে একজন গ্রেট কিপার ছিলেন এটা অনেকটাই চাপা পরে যায়। ক্যারিয়ারে ট্রটম্যানের ৬০% সেভ করার রেকর্ড হয়তো যথেষ্ট না ট্রটম্যানের গ্রেটনেস বোঝানোর জন্য। শট স্টপিং ছাড়াও ট্রটম্যান দ্রুত বল ডিস্ট্রিবিউট করে কাউন্টার অ্যাটাক শুরু করতেন। বর্তমান আমলে এটা ডালভাত হলেও ৭০ বছর আগে কিপারদের নিয়মই ছিল শট স্টপ করার পরে বল ক্লিয়ার করা। এই প্রথা ভাঙেন কিংবদন্তি গোলকিপার লেভ ইয়াসিন। ইয়াসিন ছাড়াও হাঙ্গেরির গোলকিপার গ্রোসিকস এবং তাকে দেখে ট্রটম্যান ও কাউন্টার অ্যাটাকে সাহায্য করা শুরু করেন। তখন এটা যথেষ্ট বিষ্ময়কর ছিল।

ট্রটম্যানের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপুর্নতা হল ইন্টারন্যাশনাল ফুটবল না খেলতে পারা। নিজস্ব লীগে না খেললে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া হবে না এই নিয়মের জন্য জার্মানির জার্সি পরার সুযোগ হয়নি ট্রটম্যানের। শালকে একবার ট্রটম্যানের জন্য বিড করলেও সিটি সেই অফার ফিরিয়ে দেয়। জার্মানির হয়ে না খেলার জন্য হোক বা অন্য কারনে জার্মানিতে ট্রটম্যানের তেমন পরিচিতি নেই।

অসাধ্য সাধন করলেন বিজ্ঞানীরা, মানুষের শরীরে বসল শুয়োরের কিডনি

kidneys of pigs have settled in the human body

নিউজ ডেস্ক: এক কথায় বলতে গেলে অসাধ্যসাধন করলেন বিজ্ঞানীরা এই প্রথম কোন পশুর কিডনি মানুষের দেহে বসানো হল। আমেরিকার নিউইয়র্কে ব্রেন ডেথ হওয়া এক রোগীর শরীরে বসানো হয়েছে শুয়োরের কিডনি। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন অস্ত্রোপচার ১০০ শতাংশ সফল। মানুষের শরীর শুয়োরের কিডনি গ্রহণ করেছে। প্রতিস্থাপিত কিডনি তার স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু করেছে।

নিউ ইয়র্কের এনওয়াইইউ ল্যানগন হেলথ ট্রান্সপ্লান্ট ইন্সটিটিউট হাসপাতালে প্রথম মানুষের দেহে পশুর কিডনি প্রতিস্থাপিত হল। ব্রেন ডেথ হওয়া ৫৪ বছরের এক মানুষের শরীরে বসানো হয়েছে শুয়োরের কিডনি। অস্ত্রোপচারের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সদ্য প্রতিস্থাপিত কিডনি তার স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে শুরু করেছে। ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর চিকিৎসক রবার্ট মন্টগোমারি বলেছেন, শুয়োরের শরীরের কিডনি, ফুসফুস, হার্টের মতো বিভিন্ন অঙ্গ নিয়ে তার স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটানো হচ্ছে।

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং প্রক্রিয়ায় এই কাজ করা হচ্ছে। পশুর শরীরের এইসব অঙ্গ মানুষের শরীরেও যাতে ব্যবহার করা যায় তার জন্য দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে গবেষণা চলছিল। প্রাথমিকভাবে শুয়োরের হার্ট ও কিডনি ইতিমধ্যেই মানুষের শরীরে বসানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। আপাতত ব্রেন ডেথ হওয়া ৫৪ বছরের এক মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপিত শুয়োরের কিডনিটি খুব সুন্দর ও স্বাভাবিক ভাবে কাজ শুরু করেছে। মন্টোগোমারি আরও দাবি করেছেন, যদি এই কিডনি প্রতিস্থাপন সম্পূর্ণ সফল হয় তাহলে আগামী দিনে শুয়োরের হার্টও মানুষের শরীরে প্রতিস্থাপন করা হবে।

জন হপকিন্স স্কুল অব মেডিসিনের অধ্যাপক ডক্টর ডোরি সেগেভ বলেছেন, আমেরিকার একটা বড় সংখ্যক মানুষ কিডনির সমস্যায় ভোগেন। কিন্তু প্রতিস্থাপনের জন্য সব সময় উপযুক্ত কিডনি খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই মানুষের শরীরে কিডনি, হার্ট, ফুসফুস যেমন হয় ঠিক সেভাবেই কৃত্রিম পদ্ধতিতে জিনবিদ্যার সাহায্যে এই ধরনের অঙ্গ তৈরি করে শুয়োরের শরীরের সেগুলির বৃদ্ধি ঘটানো হচ্ছে। গবেষণাগারে বিশেষ প্রক্রিয়ায় এ ধরনের শুকর পালন করা হয়। প্রয়োজনে শুয়োরের দেহে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত এই সমস্ত অঙ্গই মানুষের শরীরে ব্যবহার করা হবে।

ভারতের একমাত্র সমাজতত্ত্ববিদের রক্তে বইছে নীল চাষ এবং কুলীন ব্রাহ্মণের রক্ত

Andrea-Bitai-APJ-kalam

বিশেষ প্রতিবেদন: একদিকে ফরাসি নীল চাষী। অ ন্যদিকে কুলীন ব্রাহ্মণ পরিবারের ঐতিহ্য। দুই রক্তই বইছে তার শরীরে। আর তা নিয়েই তিনি এগিয়ে গিয়েছেন। সৃষ্টি করেছেন সাহিত্য তিনি আন্দ্রে বেতেই , বাঙালি পরিবারের দেওয়া নাম সলিল। ভারতের একমাত্র সমাজতত্ত্ববিদ।

চন্দননগরের গঙ্গার ঘাটে এক বৃদ্ধা রোজ ভোরে স্নান করতে যান। কুলীন ব্রাহ্মণ বিধবা। নাম শিবানী মুখোপাধ্যায়। মাথার চুল ছোট করে ছাঁটা, পরনে শুধু সাদা থান। ঘাট থেকেই দেখা যায় ঘড়ির টাওয়ারটা। তার লাগোয়া একটা পুরোনো কলোনিয়াল স্টাইলের বাড়িতে থাকেন এক ফরাসি বৃদ্ধা। বৃদ্ধাকে লোকে ডাকে “মাদাম বেতেই” বলে। তিনি চন্দননগরেই জন্মেছেন। ওই ক্লক টাওয়ারটা তাঁর দাদুর অথবা তার কাকারই তৈরি। তাঁর বাবা মা নীল চাষ করতে এই শহরে এসেছিলেন তারপর এখানেই রয়ে যান। চন্দননগরে জন্মালে কি হবে মাদাম বেতেই বাংলা খুব সামান্যই জানতেন।

Andrea-Bitai

মাদাম বেতেই এর বিয়ে হয়েছিল ফ্রান্স থেকে আসা এক অফিসারের সঙ্গে। কিন্তু এদেশের কলেরায় এক শিশু পুত্র রেখে ম‍‌ঁসিয়ে বেতেই যখন মারা যান তখন মাদাম বেতেই কুড়ির কোঠা পেরোননি। শহরের অন্য ফরাসি নাগরিকরা মাদামের সাহায্যার্থে একটা স্কুল খুলে দেন école de jeunes filles নামে। মাদাম ওই বাড়ির একটা অংশে থাকতেন আর একটা অংশ স্কুল হিসাবে ব্যবহার করতেন। শিবানী দেবী আর মাদাম বেতেই দুজন দুই গ্রহের বাসিন্দা হলেও তাঁদের মধ্যে একটা সম্পর্ক আছে। মাদাম বেতেই এর ছেলের সঙ্গে শিবানী দেবীর মেয়ের বিয়ে হয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল এত কাছাকাছি থেকেও তাঁরা কখনো একে অপরের সাথে দেখা করেননি বা কথা বলেননি। বলবেন কি করে একে দুই পরিবার ছিল এই বিয়ের বিরুদ্ধে এবং শিবানী দেবী আর মাদাম বেতেই একে অপরের ভাষা জানতেন না। এই ছোট শহরে কাছাকাছি থেকেও তাঁরা ছিলেন আগন্তুক।

আজ থেকে নব্বই-একশো বছর আগে এই ছোট শহরে দুটো সম্পূর্ণ আলাদা জগতের, আলাদা ধর্মের দুই পরিবারের ছেলে আর মেয়ের প্রেমই কিভাবে হয়েছিল এবং বিয়েই কিভাবে হয়েছিল সেটাই আশ্চর্যের বিষয়। মাদাম বেতেই এবং শিবানী দেবীর নাতি হলেন আন্দ্রে বেতেই। যিনি ভারতের একজন বিখ্যাত সমাজতত্ত্ববিদ।

মনে হয় তার নিজের জীবনের দুটো সম্পূর্ণ আলাদা পরিবারের মিলনের রহস্যই তাকে সমাজতত্ত্ববিদ হতে প্রভাবিত করেছিল। আন্দ্রে বেতেই এর জীবনের প্রথম ৯ বছর কেটেছিল এই শহরেই। একদম বাঙালি পরিবেশে। তখন তিনি বাংলা ছাড়া আর কোন ভাষাই জানতেন না। বাবা ফরাসি হলেও চোস্ত বাংলা জানতেন। আন্দ্রের দিদা অর্থাৎ শিবানী দেবী মেয়ে জামাইয়ের কাছেই থাকতেন এবং রামায়ণ মহাভারতের গল্প বলে আন্দ্রে কি ঘুম পাড়াতেন। তিনি আন্দ্রের বাঙালি নাম দিয়েছিলেন সলিল। আন্দ্রে বেতেই তাঁর জীবনের কাহিনী নিয়ে বই লিখেছেন। তার নাম Sunlight on the garden। এই বইতেই তাঁর ছোটবেলার কথা আছে।

Bengali Ritual: কৃষক সমাজ থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে এই পার্বণ, ধরে রেখেছে সুন্দরবন

Bengali Ritual

বিশেষ প্রতিবেদন: এ এক বিশেষ প্রাচীন লোকাচার (Bengali Ritual)। প্রাচীন প্রথাটি মূলত বঙ্গের কৃষক সম্প্রদায়ের মধ্যে দেখা যায়৷ একসময় কৃষিজীবী পরিবারগুলি এই প্রথা বেশ জাঁকজমক করে পালন করত, যা আজ অনেকক্ষেত্রেই হারিয়ে গিয়েছে। কোনওরকমে বেঁচে রয়েছে সুন্দরবনে। নাম, নল সংক্রান্তি।

গ্রামীণ লোকাচার নলসংক্রান্তি আর ডাকসংক্রান্তি দুটোই একই প্রথা। অঞ্চলভেদে আলাদা রকম নাম। তবে সুন্দরবন এলাকায় এই প্রথাটিকে নলসংক্রান্তি বলে। আশ্বিন মাসের শেষদিন অর্থাৎ সংক্রান্তির দিনে এই প্রথাটি পালিত হয়৷ আজ সেই আশ্বিনের শেষ দিন। এইসময় হল ধানগাছে ফসল আসার সময়, ধানগাছে ফুল হয়, ধানগাছ গর্ভবতী হয়৷ আর ধানের ভেতরের অংশটি এই সময়ে একেবারে দুধের মতো। যেটি পরবর্তী পর্যায়ে চালে পরিণত হয়।

Bengali Ritual

এই নরম মিষ্টি দুধ অংশটি পোকামাকড়ের খুব প্রিয়। ফলে ধানের উপর পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায়। এরা ধানের দুধ অংশটি শুষে নেয়। ধানের পুষ্টি হয় না। ধান থেকে চাল পাওয়া যায় না, সব আগড়া হয়। ফলে কৃষকের সর্বনাশ। কৃষক পরিবারগুলি দুঃখের সীমা থাকে না। তখন ফসল বাঁচাতে কৃষকরা ফসল এক পদ্ধতি বা টোটকা অবলম্বন করতেন পরে সেটিই প্রথা হিসেবে প্রচলিত। কৃষকরা বলতেন ধান গাছের সাধ ভক্ষন অনুষ্ঠান হল নল সংক্রান্তি।

আশ্বিনের মাস শেষের আগের দিনে নল গাছ কেটে আনা হয়। নিম, কালমেঘ, তুলসী, ওল, আদা, ভেট , বয়েড়া, মানকচু, চাল কুমড়ো খাড়া, নটে খাড়া, কেতকী, বেলপাতা, শশা গাছকে ইত্যাদি দশ বার রকমের ভেষজ খুব ছোটো ছোটো করে কুচি করা হয়। তারপর আতপ চাল ও শুকনো চিংড়ি মাছ মিশিয়ে নেওয়া হয়। এরপর ঐ মিশ্রণটিকে বড় পাতায় দিয়ে মুড়ে নলগাছে পাট দিয়ে তিনি বাঁধা হয়। মুখে কোনো কথা বলা যাবে না। সারা গ্রামের চাষীরা জড়ো হন এক জায়গায়। রাত জেগে নল বাঁধার কাজ চলে। সংক্রান্তির দিন ভোরে সূর্যের আলো ফোটার আগেই এই মিশ্রণবাঁধা নলটি জমিতে ঈশান কোণে পুঁতে দেওয়া হত। আর বলা হয়-
“নল পড়ল ভুঁয়ে ,যা শনি তুই উত্তর মুয়ে।” এখানে শনি অর্থাৎ সব পোকামাকড়কে বোঝানো হয়েছে। কৃষকেরা এটাকেই গর্ভবতী ধান গাছকে ‘সাধ খাওয়ানো’র কথা বলেন৷ নল সংক্রান্তিতে নলপোতা নিয়ে লোকমুখে প্রচলিত

ছড়া-
‘অন সরিষা কাঁকুড় নাড়ি
যা রে পোক ধানকে ছাড়ি ।
এতে আছে শুকতা
ধান ফলবে মুকতা ।
এতে আছে কেঁউ
ধান হবে সাত বেঁউ ।
এতে আছে হলদি
ধান ফলবে জলদি ।
এতে আছে ওল
মহাদেবের ধ্যান করে বল হরিবোল।’

Bengali Ritual

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখলে যেটা দেখা যায় তা হল এই ফসল বাঁচানোর প্রথাটির যখন প্রচলন শুরু হয় তখন আজকের দিনের মত এত কীটনাশক ঔষধ বা রাসায়নিক সারের আবির্ভাব ঘটেনি। কীটপতঙ্গের হাত থেকে ফসল কে রক্ষা করার জন্য এই মিশ্রণটি তৈরি করা হত, এটি তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধ যুক্ত ছিল যে পোকামাকড় সহজেই আর ফসলের এলাকায় আসত না। রক্ষা পেত কৃষকের ফসল৷ শুধু তাই নয়, আবার জমির মাঝে এই যে নলগাছ পুঁতে রাখা হয় সেটিতে পেঁচা প্রভৃতি প্রাণীরা এসে বসে এবং সেখান থেকে তারা খুব সহজেই ফসলের ক্ষতিকারক প্রাণীগুলিকে শিকার করে৷ পুরো ব্যাপারটিতে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষে উপকৃত হয় কৃষক৷ প্রচলিত হয় প্রথাটি।

এই সংক্রান্তির ভোরে একটি ঝুড়িতে রাখা হত ওল, হলদি, নিমপাতা, এক পুঁটলি আতপ চাল মাকে দেখতাম স্নান সেরে ওই ঝুড়ি জলে চুবিয়ে একটা পেতলের ঘটিতে জল নিয়ে ফিরতো , সেই জল দিয়ে নিমপাতা আর হলুদ বেটে খেলেই নাকি শরীরের সকল রোগ থেকে মুক্তি। দুই মেদিনীপুর জেলায় এই দিন সকালে প্রতি বাড়িতে এই নিম পাতা হলুদ আর আতপ চালের বাটা বা আলই খাওয়ার প্রথা চালু রয়েছে। এর সাথে খাওয়া হয় তাল আটির গজাড়। এদিন দুই-তিন রকমের পিঠে হয় তৈরী হয়। মধ্যাহ্ন ভোজনের সময় অন্যান্য তরিতরকারীর সাথে সাত রকমের শাক ভাজা, বিউলির ডাল,ওলের তরকারী, মাছের টক খাওয়ার প্রথা আছে। তাছাড়া এদিন বাড়ির গরুকেও কাঁচা ও নিম পাতা খাওয়ানোর রীতি রয়েছে।

যদিও আজকে এলাকার বেশিরভাগ মানুষের ধানের জমি পরিনত হয়েছে মাছ চাষের ঝিলে। যেটুকু খালি জমি আছে তাতেও বন্যার জল থৈ থৈ করছে। ঘাসের জঙ্গলে ভরে গেছে। বাংলার লোকাচার নিয়ে অনেক গল্পকথা প্রচলিত আছে পল্লীসমাজে যেগুলো সভ্যতার অগ্রগতির চাকায় পিষে যেতে যেতে ক্রমশ হারিয়ে যাবার উপক্রম। বেশিরভাগ প্রথা লোকাচার হারিয়ে গেছে আধুনিকতার দাপটে।

Ila Mitra: দুই বাংলার তেভাগা আন্দোলনের অধিনায়িকা এই বাঙালি

Ila mitra

বিশেষ প্রতিবেদন: তেভাগা আন্দোলন-এর সংগ্রামী কৃষক নেত্রী তিনি। বাংলার শোষিত ও বঞ্চিত কৃষকের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগ্রাম করেছেন তিনি। সহ্য করেছেন অমানুষিক নির্যাতন। তিনি ইলা মিত্র (Ila Mitra)।

বাংলার গ্রামীণ সমাজে বৃটিশ শাসনের আগে পর্যন্ত ভূমির মালিক ছিলেন চাষীরা। মোগল আমল পর্যন্ত তারা এক-তৃতীয়াংশ বা কখনো কখনো তার চেয়েও অধিক ফসল খাজনা হিসাবে জমিদার বা স্থানীয় শাসনকর্তার মাধ্যমে রাষ্ট্রকে প্রদান করতেন। বৃটিশ শাসন আমলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রথা প্রচলনের ফলে চাষীদের জমির মালিকানা চলে যায় জমিদারদের হাতে। জমিদাররা জমির পরিমাণ ও উর্বরতা অনুযায়ী বৃটিশদের খাজনা দিত। জমিদারদের সঙ্গে ফসল উৎপাদনের কোনো সম্পর্ক ছিল না। এ সময় জমিদার ও কৃষকদের মাঝখানে জোতদার নামে মধ্যস্বত্বভোগী এক শ্রেণীর উদ্ভব ঘটে। এরা পত্তনি প্রথার মাধ্যমে জমিদারদের কাছ থেকে জমি পত্তন বা ইজারা নিত।

এই জোতদার শ্রেণী কৃষকের জমি চাষ তদারকি ও খাজনা আদায়ের কাজ করতো। ফসল উৎপাদনের সম্পূর্ণ খরচ কৃষকেরা বহন করলেও যেহেতু তারা জমির মালিক নন সে অপরাধে উৎপাদিত ফসলের অর্ধেক তুলে দিতে হতো জোতদারদের হাতে। এ ব্যবস্থাকে বলা হতো ‘আধিয়ারী’। জোতদারি ও জমিদারি প্রথা ক্ষুদ্র কৃষকদের শোষণের সুযোগ করে দেয়। খাজনা আদায়ের জন্য জোতদাররা এদেরকে দাসের মতো ব্যবহার করে। উৎপন্ন ফসলের পরিবর্তে একসময় কৃষককে বাধ্য করা হয় অর্থ দিয়ে খাজনা পরিশোধ করতে। ফলে কৃষকেরা গ্রামীণ মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিতে বাধ্য হন। সর্বস্বান্ত হয়ে এক সময়ের সমৃদ্ধ বাংলার কৃষক পরিণত হন আধিয়ার আর ক্ষেত মজুরে। জমিদার-জোতদারদের এই শোষণ কৃষকের মনে বিক্ষোভের জন্ম দেয়। এই বিক্ষোভকে সংগঠিত করে ১৯৩৬ সালে গঠিত হয় ‘সর্ব ভারতীয় কৃষক সমিতি’।

১৯৪০ সালে ফজলুল হক মন্ত্রিসভার উদ্যোগে বাংলার ভূমি ব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাব দেয় ‘ফাউন্ড কমিশন’। এই কমিশনের সুপারিশ ছিল জমিদারি প্রথার উচ্ছেদ করে চাষীদের সরাসরি সরকারের প্রজা করা এবং তাদের উৎপাদিত ফসলের তিনভাগের দুইভাগের মালিকানা প্রদান করা। এই সুপারিশ বাস্তবায়নের আন্দোলনের জন্য কৃষক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। এছাড়া জনসাধারণের কাছ থেকে হাটের ‘তোলা’ ও ‘লেখাই’ সহ নানা কর আদায় করা হতো। এসব বন্ধের জন্য আন্দোলন জোরদার হয়। চল্লিশের দশকে এসব আন্দোলনে ইলা মিত্র নেতৃত্ব দেন।

১৯৪২ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে অর্থাৎ বাংলা ১৩৫০ সনে সমগ্র বাংলায় দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ, যা পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে পরিচিত। এ দুর্ভিক্ষের সময় কৃষকের ওপর শোষণের মাত্রা ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। এসময়কার অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে মরিয়া হয়ে ওঠে শোষিত কৃষকেরা। তিনভাগের দুইভাগ ফসল কৃষকের এই দাবি নিয়ে বেগবান হয় তেভাগা আন্দোলন। ১৯৪৬-১৯৪৭ সালে দিনাজপুরে কমরেড হাজী দানেশের প্রচেষ্টায় সূচিত হয় এক যুগান্তকারী তেভাগা আন্দোলন।

কমিউনিস্ট পার্টি ও কৃষক সমিতি প্রান্তিক চাষীদের সংগঠিত করে আন্দোলনকে জোরদার করতে থাকে। পার্টি থেকে রমেন্দ্র মিত্রকে গ্রামের কৃষক সমাজের মধ্যে কাজ করার দায়িত্ব দিয়ে কলকাতা থেকে নিজ গ্রাম রামচন্দ্রপুর হাটে পাঠালে স্বামীর সাথে ইলা মিত্র সরাসরি মাঠ পর্যায়ে কৃষক সংগঠনের সাথে যুক্ত হন। ১৯৪৬ সালে হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা শুরু হলে কমিউনিস্ট পার্টি দাঙ্গা বিধ্বস্ত এলাকায় সেবা ও পুনর্বাসনের কাজ করতে এগিয়ে আসে। এসময় ইলা মিত্র নোয়াখালীর দাঙ্গা বিধ্বস্ত গ্রাম হাসনাবাদে পুনর্বাসনের কাজে চলে যান। তখন নোয়াখালীতে মহাত্মা গান্ধী সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বিরুদ্ধে জনগণকে সংগঠিত করছিলেন। ইলা মিত্রের এই সাহসী পদক্ষেপ সে সময় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ইলা সেন যখন বেথুন কলেজে বাংলা সাহিত্যে বি.এ সম্মানের ছাত্রী তখন থেকেই রাজনীতির সাথে পরিচয় ঘটে। নারী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তাঁর রাজনীতিতে প্রবেশ। সময়টা ছিল ১৯৪৩ সাল, ইলা সেন কলকাতা মহিলা সমিতির সদস্য হলেন। হিন্দু কোড বিলের বিরুদ্ধে ঐ বছরই মহিলা সমিতি আন্দোলন শুরু করে। সমিতির একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে তিনি এই আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। এ সময় তিনি সনাতনপন্থীদের যুক্তির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে অনেক প্রচার আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। মহিলা আত্মরক্ষা সমিতি নামক সংগঠনের মাধ্যমে নারী আন্দোলনের এই কাজ করতে করতে তিনি মাত্র ১৮ বছর বয়সে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য পদ লাভ করেন।

১৯৪৫ সালে ইলা সেনের বিয়ে হয় দেশকর্মী রমেন্দ্র মিত্রের সাথে। রমেন্দ্র মিত্র মালদহের নবাবগঞ্জ থানার রামচন্দ্রপুর হাটের জমিদার মহিমচন্দ্র ও বিশ্বমায়া মিত্রের ছোট ছেলে। বিয়ের পর বেথুনের তুখোর ছাত্রী ইলা সেন হলেন জমিদার পুত্রবধু ইলা মিত্র। কলকাতা ছেড়ে চলে এলেন শ্বশুরবাড়ি রামচন্দ্রপুর হাটে। হিন্দু রক্ষণশীল জমিদার পরিবারের নিয়মানুসারে অন্দরমহলেই থাকতেন ইলা মিত্র। তখনও তিনি মা হননি তাই হাতে অফুরন্ত অবসর। এই বন্দী জীবনে মুক্তির স্বাদ নিয়ে এলো গ্রামবাসীর একটি প্রস্তাব। রমেন্দ্র মিত্রের বন্ধু আলতাফ মিয়ার পৃষ্ঠপোষকতায় বাড়ির কাছেই কৃষ্ণগোবিন্দপুর হাটে মেয়েদের জন্য একটি স্কুল খোলা হলো। গ্রামের সবাই দাবি জানালেন তাঁদের নিরক্ষর মেয়েদের লেখাপড়া শেখাবার দায়িত্ব নিতে হবে বধুমাতা ইলা মিত্রকে। বাড়ি থেকে অনুমতিও মিললো কিন্তু বাড়ির চার’শ গজ দুরের স্কুলে যেতে হয় গরুর গাড়ি চরে।

মাত্র তিনজন ছাত্রী নিয়ে স্কুলটি শুরু হলেও ইলা মিত্রের আন্তরিক পরিচালনায় তিনমাসের মধ্যে ছাত্রীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫০-এ। আর এর মধ্যে তিনি হেঁটে স্কুলে যাওয়ার অনুমতি লাভ করতেও সক্ষম হন। সংগ্রামী নেত্রী এভাবেই অন্দর মহল থেকে বের হয়ে এসে আবার নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন বৃহত্তর সমাজ সেবার কাজে। হয়ে ওঠেন এলাকার রানীমা। এ সময়ে তিনি স্বামী রমেন্দ্র মিত্রের কাছে জমিদার ও জোতদারের হাতে বাংলার চাষীদের নিদারুণ বঞ্চনা শোষণের কাহিনী শোনেন। আরো শোনেন এই শোষণের বিরুদ্ধে তাঁদের আন্দোলনের প্রচেষ্টার কথা।

কমিউনিস্ট রামেন্দ্র মিত্র এর আগেই জমিদারি প্রথার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য ও মোহ ত্যাগ করে কৃষকের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। রমেন্দ্র মিত্র, ইলা মিত্রকে তাঁদের কাজে যোগ দিতে উৎসাহিত করেন। ছাত্রী জীবনেই ইলা মিত্র কমিউনিস্ট আদর্শের সংস্পর্শে এসেছিলেন, তাই স্বামীর আদর্শ ও পথ চলার সাথে সহজেই নিজেকে যুক্ত করতে পেরেছিলেন। ১৯৪৬ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত রাজশাহীর নবাবগঞ্জ অঞ্চলে তেভাগা আন্দোলনে নেতৃত্ব দান করেন ইলা মিত্র।

Cafe de Luxe: প্রেম থেকে রাজনীতির চর্চাকেন্দ্র ক্যাফেটারিয়াকে ঐতিহ্য বজায় রাখার সম্মান

Cafe-de-luxe

বিশেষ প্রতিবেদন: “ক্যাফে ক্যাফে আমার প্রিয়ার ক্যাফে, কাঁপে কাঁপে আমার হিয়া কাঁপে”। মহিনের ঘোড়াগুলির এই গানটি মনে পড়ে? সত্তর আশির দশক থেকে শুরু করে নব্বইয়ের মাঝ পর্যন্ত বহু প্রেমের শুরু হতো এই ক্যাফেগুলি দিয়ে। গৌতম ভট্টাচার্য এমনি তো এমন গান লেখেননি। ওইসব ক্যাফেগুলির সূত্রপাত বেশিরভাগই ইংরেজ জমানার পরে।

পঞ্চাশের দশক থেকে এদের রমরমা বাড়তে থাকে। শহরের ঐতিহ্যের প্রমাণ ওই সব বহু ক্যাফেই হারিয়েছে কালের অতলে। অনেকেই আজও রেখেছে ঐতিহ্য। জায়গা করে নিয়েছে আজকের সিসিডি’রা। এমনই এক ঐতিহ্যবাহী ক্যাফেকে সম্মান জানাল পুরনো কলকাতার গল্প। তাঁদের সম্মান ঐতিহ্যের।

Cafe-de-luxe

কলকাতার হাজরা মোড়ের Cafe de Luxe’কে পিকেজি থেকে সম্মানিত করা হয়। ১৯৫২ সাল, অর্থাৎ স্বাধীনতার প্রায় ৫ বছর পরই শুরু হয়েছিল ওই ক্যাফেটেরিয়ার যাত্রা। ইতিমধ্যেই কলকাতার ক্লাব কালচারের ওপর নেমে এসেছিল বিপর্যয়, দেশ স্বাধীন হতে যাচ্ছে।

বিদেশীদের হাত ধরে স্ন্যাক্স আর আড্ডার ক্ষণিক বিনোদনের স্থান হিসেবে মহানগরীর বিভিন্ন জায়গায় গড়ে উঠেছিল এই ক্যাফেগুলি। কিছু কিছু জায়গায় পানীয়র (বিদেশী মদ) ব্যবস্থাও ছিল। অনেকের ধারণা, শহরে বৃটিশ রাজত্ব সত্ত্বেও পর্তুগিজ ও ফরাসি প্রভাব থেকে কলকাতা কখনোই মুক্ত হতে পারেনি। মূলতঃ তাঁদের খাদ্য ও পানীয়র সাথে নিজেদের বিনোদনের এই জায়গাগুলোকে একটা অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল বৃটিশদের পৃষ্ঠপোষকতায় গড়ে ওঠা এই ক্যাফে কালচার। বিশেষকরে, শহরের ক্লাব ক্যাফে গুলোতে যে শেফ’রা ছিলেন তাঁরা বেশিরভাগই বৃটিশ নন।

কিছু কিছু ক্লাবে ভারতীয় শেফরাও এই স্ন্যাক্স তৈরিতে পারদর্শী হয়ে উঠেছিলেন। এবার, স্বাধীনতার আঁচে বড় ক্লাবগুলো ক্রমশঃ বন্ধ হয়ে যেতে থাকে, ইতিমধ্যে ভারতীয় অর্থাৎ কলকাতার অপেক্ষাকৃত শিক্ষিত ও কিছুটা পয়সাওয়ালা বাবুদের মুখে ক্যাফের খাবারের স্বাদ মুখে লেগেও গিয়েছিল। এই রকম এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্যে বড় ক্লাবগুলোর ক্যাফে একে একে বন্ধ হবার সঙ্গে সঙ্গেই কলকাতার অলিগলি-বড় রাস্তার ধারে গজিয়ে উঠতে থাকে অসংখ্য ক্যাফেটেরিয়া, আয়তনে ছোট, অথচ সেই বিদেশী স্বাদের খাবার নিয়ে। এটা করেছিলেন মূলতঃ ভারতীয় শেফ’রাই। নতুন করে ভারতীয়দের তৈরি ক্যাফে ব্যবসা শুর হ’ল।

শহরের বর্ধিষ্ণু, প্রাণচাঞ্চল, সংস্কৃতির কেন্দ্র গুলিকে কেন্দ্র করেই এই ছোট ছোট ক্যাফের অবস্থান। চা, কফি, ফিসফ্রাই, ফিস ফিঙ্গার, ব্রেইন চপ, ভেজিটেবল ও চিকেন কাটলেট, ফিস ও মটন চপ, ভেজিটেবল চপ, মাংসের সিঙ্গারা, এগ ডেভিল, চিকেন ও মটন স্ট্যু, মোগলাই পরোটা, স্যান্ডউইচ, ফিস ও চিকেন কবিরাজি, পুডিং আরও অন্যান্য খাবারের একটা আস্বাদ শহরবাসীর মধ্যে রয়ে যাওয়ার ফলে, ক্যাফেটেরিয়া গুলিকে স্বাধীনতার ঠিক পরে বিশেষ বেগ পেতে হয়নি ব্যবসায়িক বিষয়ে অর্থ রোজগার করতে।

পিকেজি জানাচ্ছে, “সময়ের সাথে সাথে বনেদীবাড়ি, একান্নবর্তী পরিবার, বনেদীয়ানা এখন খন্ডবিখন্ড। অর্থনৈতিক পরিকাঠামো অনেক পাল্টে গেছে। মানুষের পারস্পরিক মেলামেশার ইচ্ছে গুলিও বস্ত ও আত্মকেন্দ্রিক। ছোট্ট ফ্ল্যাটের ৩-৪ জন প্রাণী, আর শপিং-মলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বৃহৎ জায়গার চাকচিক্য ও হাতছানি থেকে নতুন প্রজন্মকে মানবিক ঐতিহ্য, সভ্যতার ঐতিহ্য, মহানগরীর ঐতিহ্য সম্পর্কে অবহিত করতে না পারার “আপেক্ষিক খেসারত” দিতে হচ্ছে আমাদের মতো সেই সব মানুষদের, যাঁরা একসময় সিনেমা দেখে, কলেজ পালিয়ে, নতুন প্রেমের সাক্ষাতে বা বিরহে, অথবা মনের মধ্যে বিপ্লবী চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে ঘন্টার পর ঘন্টা আলোচনার চিৎকারে সময় নষ্ট করেছিলাম কলকাতার এই ক্যাফে গুলিতে। তাদেরকেই আমরা সম্মান জানালাম”

বিদ্যুৎ বিলে গোঁজামিল রাজ্য সরকারি সংস্থার, অঙ্ক দিয়ে প্রমাণ শিক্ষাবিদের

Prominent educationist Shuvendu Majumder

বিশেষ প্রতিবেদন: একটি বিশিষ্ট দৈনিকে গৃহস্থদের বিদ্যুত খরচের সিংহভাগ পুরুষদের জন্যে আর নারীরা এ ক্ষেত্রেও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। সরাসরি লিঙ্গবৈষম্যের শিকার হচ্ছেন মানুষ এমন দাবী করেছে ওই দৈনিকের সম্পাদকীয় বিভাগের ওই লেখা। এই বিষয়ে প্রতিবাদ জানালেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শুভেন্দু মজুমদার। তাঁর দাবী এসব পশ্চিমবঙ্গে হয় না। যে রাজ্যে সরকারি থেকে বেসরকারি বিদ্যুৎ সংস্থার বিলে রয়েছে বিস্তর গোঁজামিল, যার মাশুল গুনতে হয় আম জনতাকে

তিনি বলেছেন, ওই বহুলপ্রচলিত বাংলা দৈনিক সংবাদপত্রে যে কথা বলা হয়েছে তা অকারণ লিঙ্গ বৈষম্য টেনে আনা হচ্ছে। এমনটা অন্যান্য রাজ্যে ঘটলেও এ রাজ্যে ঘটে না। সাধারণ মানুষ শিকার হচ্ছেন বিদ্যুৎ সংস্থার বঞ্চনার।

শুভেন্দুবাবু বলেছেন, “আপনারা যাঁরা এই সংবাদপত্রটি নিয়মিত পাঠ করেন বা ( অন্য কোন বাংলা সংবাদপত্র) তাঁরা কি কোনদিন দেখেছেন এ রাজ্যের দুটি বিদ্যুত সংস্থা WBSEDCL এবং CESC যেভাবে পালা করে বিদ্যুতের মাশুল বাড়াচ্ছে তা নিয়ে কোন উত্তর সম্পাদকীয় নিবন্ধ বা কোন প্রতিবেদন ? চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি , এমন কোন উত্তর সম্পাদকীয় প্রতিবেদন গত দশ বছরে একবারও বেরোয়নি ।এমনকি , যেখানে পেট্রোল ডিজেলের মূল্য প্রতিদিন লিটার প্রতি দুই পয়সা বাড়লে প্রতিদিনই সংবাদপত্রের প্রথম পাতায় জায়গা পায় ( আজও এই পত্রিকার প্রথম পাতায় রয়েছে) সেখানে বিদ্যুতের মাশুলবৃদ্ধি নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলির এই হিরন্ময় নীরবতা কিসের ইঙ্গিত ? বিদ্যুতের বিলের গোঁজামিল সাধারণ মানুষকে বোঝাতে পারবেন এমন অর্থনীতিবিদ কি সারা রাজ্যে একজনও নেই ?

যার যত বিদ্যুতের ব্যবহার বেশি তাকে তত বেশি হারে বিদ্যুতের মাশুল দিতে হবে। এই নীতি সারা দেশে শুধু বিদ্যুতের ক্ষেত্রেই কেন কার্যকর হবে এই ব্যাপারটা আমার মাথায় ঢোকে না । এটা যদি একটা গরীব-দরদী নীতি হয় তবে তো আমার মনে হয় পেট্রল ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এই নীতি অনুযায়ী তিন বা চার ধরণের রেট থাকা বাঞ্ছনীয় । যে লোকটি দু-চাকার স্কুটার ব্যবহার করেন আর যিনি রোলস রয়েস বা মার্সিডিস চাপেন দুজনেই কেন একই দরে পেট্রল কিনবে ?”

তিনি মূলত আক্রমণ করেছেন WBSEDCLকে। কারণ সিইএসসি’র বিদ্যুৎ মাশুল যে বেশি তা কারও অজানা নয় কিন্তু রাজ্য সরকারী সংস্থা বিলে যে ভালোই গোঁজামিল ধরিয়ে দিচ্ছে তার প্রমাণ অঙ্কের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন শিক্ষাবিদ। তিনি বলেছেন, WBSEDCL এর বিদ্যুতের রেট হল : প্রথম ১০২ ইউনিট ৫ . ২৬ টাকা। তার পরের ৭৮ ইউনিট ৫ . ৮৬ এবং তারপরের ১২০ ইউনিট ৬ . ৭৩ টাকা।”

তিনি বলেছেন, “ধরা যাক , একটি সাধারণ নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের মাসে গড় বিদ্যুতের খরচ ১০০ ইউনিট । সুতরাং এই একশো ইউনিটের জন্যে তাঁর বিদ্যুত মাশুল হওয়া উচিৎ ১০০ x ৫ . ২৬ = ৫২৬ . ০০ টাকা । তিন মাসের জন্য বিদ্যুতের মাশুল হয় ৫২৬ . ০০ x ৩ = ১৫৭৮ টাকা । কিন্তু WBSEDCL কী করছে একবার দেখে নিন । WBSEDCL এর রেট চার্ট অনুযায়ী তিন মাসের জন্য তিনশো ইউনিটের মাশুলের হিসেব হল : প্রথম ১০২ ইউনিট x ৫ . ২৬ = ৫৩৬ . ৫২। পরের ৭৮ইউনিট x ৫ . ৮৬ = ৪৫৭ . ০৮। পরের ১২০ইউনিট x ৬ . ৭৩ = ৮০৭ . ৬০। এমনভাবেই ৩০০ ইউনিট = ১৮০১ . ২০ টাকা। এবারে আপনি দেখুন জনদরদী নীতি অনুযায়ী WBSEDCL আপনার থেকে তিন মাসের বিদ্যুত মাশুল বাবদ কত টাকা বেশি নিচ্ছে দেখুন। ১৮০১ . ২০ — ১৫৭৮ . ০০ = ২২৩ . ২০ টাকা ।” কটাক্ষের সুরে তিনি বলেছেন, “হে প্রভুভক্ত সংবাদমাধ্যম সখা সকল ! আপনারা আর কতদিন যোগনিদ্রায় মগ্ন থাকবেন ও লিঙ্গবৈষম্যের এইসব ফালতু বিশ্লেষণে এভাবে কালাতিপাত করবেন?”

ভুত বাংলোর তকমা নিয়ে দাঁড়িয়ে ভারতীয় উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনকের বাড়ি

Roxburg house became bhoot bunglow

বিশেষ প্রতিবেদন: স্থানীয়দের এমনকি উদ্যানের কর্মীদের কাছে এটি ভূত-বাংলো। অথচ বিশাল ইতিহাসের সাক্ষী বোটানিক্যাল গার্ডেনের ভিতরের এই বাড়ি। গার্ডেনের ভেতর সেন্ট্রাল ন্যাশনাল হার্বেরিয়াম বিল্ডিংয়ের পেছনে গঙ্গার একদম ধারে এটি অবস্থিত। বর্তমানে জরাজীর্ণ অবস্থা।

কে এই রক্সবার্গ (Roxburg)?
উইলিয়াম রক্সবার্গ ছিলেন এক চিকিৎসক, উদ্ভিদবিজ্ঞানী এবং ‘ভারতীয় উদ্ভিদ বিজ্ঞানের জনক’ হিসেবে সমধিক পরিচিত। তিনি পূর্ব স্কটল্যান্ডের আয়ারশায়ারে ১৭৫১ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাশাস্ত্র অধ্যয়ন করেন এবং সেখানে প্রখ্যাত ব্রিটিশ উদ্ভিদ বিজ্ঞানী অধ্যাপক জন হোপ-এর সান্নিধ্যে এসে উদ্ভিদবিজ্ঞানের প্রতি আকৃষ্ট হন। একজন সার্জন-এর সহযোগী হিসেবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির একটি জাহাজে তার চাকরি জীবন শুরু হয়। চাকরি সূত্রে মাদ্রাজ হয়ে তিনি কলকাতায় আসেন।

Roxburg house became bhoot bunglow

কলকাতা বটানিক্যাল গার্ডেনের প্রতিষ্ঠাতা রবার্ট কিড-এর মৃত্যুর পর রক্সবার্গ ১৭৯৩ সালের নভেম্বর মাসে এ উদ্যানের সুপাররিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার অদম্য উৎসাহ এবং নিরলস প্রচেষ্টায় বোটানিক গার্ডেন অল্প দিনের মধ্যেই এক বিশিষ্ট উদ্যানরূপে গড়ে ওঠে। তিনি নিজের থাকার জন্যে এই কুঠীটি নির্মাণ করেন এবং তৎসংলগ্ন সুবিশাল পাঠাগার।

Roxburg house became bhoot bunglow

রক্সবার্গ যখন উদ্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তখন সেখানে প্রায় ৩০০ প্রজাতির গাছপালা ছিল। ১৮১৩ সালে তার অবসর গ্রহণকালীন সময়ে ঐ বাগানে উদ্ভিদের প্রজাতি সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫০০। এছাড়া ২৫৩৩টি বিজ্ঞানসম্মত চিত্র তিনি রেখে যান। এসব চিত্র এবং তার তৈরি অসংখ্য উদ্ভিদের নমুনা পরবর্তীকালে এ উপমহাদেশের অন্যতম এক বিশিষ্ট হার্বেরিয়াম প্রতিষ্ঠার সূচনা করে। রক্সবার্গ ভারত ত্যাগের পরে উইলিয়ম কেরী বোটানিক গার্ডেনের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ১৮১৪ সালে ১৫১০টি উদ্ভিদ প্রজাতির ওপর Hortus Bengalensis নামে এক ক্যাটালগ প্রকাশ করেন। সবগুলি উদ্ভিদই ঐ সময় বাগানে ছিল। এছাড়া রক্সবার্গ Flora Indica নামে এক পাণ্ডুলিপি উইলিয়ম কেরীর হাতে দিয়ে যান। ১৮২০ সালে উইলিয়ম কেরী এটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এই মহান বিজ্ঞানী এডিনবার্গে ১৮১৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

A P J Abdul Kalam: ব্যর্থতাই সাফল্যের মুখ দেখিয়েছিল ভারতের মিসাইলম্যানকে

Dr apj abdul Kalam also faced failure

বিশেষ প্রতিবেদন: ড: এ পি জে আব্দুল কালামের  (A P J Abdul Kalam) জীবন মানেই কি শুধুমাত্র সাফল্যের খতিয়ান? না, ব্যর্থতা তাঁর জীবনেও এসেছিল। তবে সেই সাময়িক ব্যর্থতা তাঁকে থমকে দিতে পারেনি। ওই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে গিয়েছিলেন নিজের পরবর্তী কর্মজীবনের পথে।

সেই দিনটা ছিল, ১৯৭৯ সালের ১০ই আগস্ট। রকেট উৎক্ষেপণ শুরু করার জন্য সেই দিনটা কিন্তু ‘ইসরো’র পক্ষে মোটেই শুভ ছিল না। কারণ, ‘অন্ধ্রপ্রদেশের’ ‘শ্রীহরিকোটা’ থেকে ‘স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিক্যালের’ (এসএলভি-৩) রকেটের পিঠে চেপে রওনা হওয়ার মিনিট দেড়েকের মধ্যেই বঙ্গোপসাগরে ভেঙে পড়েছিল ‘রোহিনী টেকনোলজি ডেমনস্ট্রেটর উপগ্রহ’। কিন্তু না, তার পরেও ‘মিসাইল ম্যান’ প্রয়াত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ডঃ এ পি জে আবদুল কালামকে সে দিন চাকরি থেকে বরখাস্ত করেননি ইসরোর তদানীন্তন চেয়ারম্যান ‘সতীশ ধওয়ন’!

তিনি একবারের জন্য বলেননি যে, “কালামকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হল!” কোনও শাস্তি-টাস্তি তো দূরের কথা, বরং, ওই ঘটনা নিয়ে যখন সমালোচনায় সরব হয়েছিল গোটা দেশ, তখন ‘ইসরোর চেয়ারম্যান’ ‘সতীশ ধওয়ন’ সাংবাদিক সম্মেলন করেছিলেন। আর সেই সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি নিজের পাশে বসিয়েছিলেন কালামকেই। সকলের সামনে তাঁর পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন। বাস্তবে ওই ব্যর্থতা সংক্রান্ত যাঁর ‘সব দোষ’ ছিল, সেই কালামেরই পিঠ চাপড়িয়ে দিয়েছিলেন ধওয়ন!

কিন্তু বাস্তবে কি ঘটেছিল সেদিন? কালামের আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ, ‘উইংস অফ ফায়ার’-এ, রয়েছে সেই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা। সেই অসাফল্যের দিনে ইসরোর ‘রোহিনী’ উপগ্রহ উৎক্ষেপণের মূল দায়িত্বে ছিলেন যে দু’জন, কালাম ছিলেন তাঁদের অন্যতম। বলা ভাল, তিনিই ছিলেন এক নম্বর। অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার লঞ্চপ্যাডে তখন কাউন্টডাউন শুরু হয়েছিল। সেই সময়েই ইসরোর গ্রাউন্ড কন্ট্রোল রুমে কম্পিউটার জানিয়েছিল, “রকেটে কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি (গ্লিচ) রয়েছে। আর সেটা রয়েছে রকেটের দ্বিতীয় পর্যায়ে (সেকেন্ড স্টেজ)। ফলে, উৎক্ষেপণ হলে তা সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।” তবে ঐ স্বয়ংক্রীয় কম্পিউটার শুধুমাত্র এইটুকু জানিয়ে থেমে থাকেনি, কাউন্টডাউনও বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে ইসরোর কন্ট্রোল রুমে শুরু হয়ে গিয়েছিল গুঞ্জন – “কী হবে এ বার? সব কি তাহলে ভেস্তে যাবে?” কেউ কেউ বলতে শুরু করেছিলেন, “কী দরকার এখনই রোহিনীকে উৎক্ষেপণের? কম্পিউটার যখন বলছে তখন উৎক্ষেপণ স্থগিত রাখাই হোক।” কথাটা কালামের কানে পৌঁছেছিল। কিন্তু তিনি সেই সব কথা কানে তোলার পাত্র ছিলেন না।

তাই তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘‘রোহিনীর উৎক্ষেপণ হবে। নির্ধারিত সময়েই। যা-ই বলুক কম্পিউটার, রোহিনীর যাত্রা আটকে থাকবে না।’’ যন্ত্রকে গুরুত্ব না দিয়ে একেবারেই নিজের দায়িত্বে সে দিন যে সিদ্ধান্তটা নিয়েছিলেন কালাম, সেটা যে ভুল ছিল, তা বোঝা গিয়েছিল উৎক্ষেপণের কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে রোহিনী ভেঙে পড়ার পরে। ২০১৯ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর তারিখের ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’র পাতায়, মোহনপুরের ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ (আইসার-কলকাতা)’-এর অধ্যাপক ও ‘সৌরপদার্থবিজ্ঞানী’, ‘দিব্যেন্দু নন্দী’ জানিয়েছিলেন, ‘‘এর পর সবাই সমালোচনা শুরু করে দিল কালামের। আপাতদৃষ্টিতে সেটাই স্বাভাবিক ছিল।

কিন্তু চমকপ্রদ ঘটনা ঘটল তার পর। যখন সকলে চমকে গিয়ে দেখলেন, খোদ সতীশ ধওয়ন ওই ঘটনা নিয়ে ডাকা সাংবাদিক সম্মেলনে তাঁর পাশে বসালেন কালামকে। ব্যর্থতার দায় স্বীকারের পর পিঠ চাপড়ে দিলেন কালামের। বললেন, এই টিমটার উপর যথেষ্ট আস্থা রয়েছে। খুব শীঘ্রই আমরা সফল ভাবে রোহিনী উৎক্ষেপণ করতে পারব। সব ভুল-ত্রুটি শুধরে নিতে পারব। কোনও চিন্তা করবেন না আপনারা।’’ ধওয়নের কথাটা সে দিন শুধুই কথার কথা ছিল না। কারণ, তার পর একটা বছরও গড়াতে পারেনি। পুনরায় ‘রোহিনী’ উপগ্রহের সফল উৎক্ষেপণ করেছিল ‘ইসরো’।

ঠিক পরের বছরেই। ১৯৮০ সালের ১৮ই জুলাই তারিখে। দিব্যেন্দু আরও জানিয়েছিলেন, ‘‘মজাটা কি জানেন? সেই সাফল্যের পর ধওয়ন আবার সাংবাদিক সম্মেলন ডাকলেন। কিন্তু সেই সাংবাদিক সম্মেলনে নিজে থাকলেন না। কালামকে দিয়েই করালেন সেই সাংবাদিক সম্মেলন। এটাই ইসরো। এই ভাবেই চলে ইসরো। বিক্রম সারাভাইয়ের হাতে জন্মের পর থেকে ইসরো এই ভাবেই চলে এসেছে। এখনও চলছে। আমার বিশ্বাস, এই ভাবেই চলবে, আগামী দিনেও।’’ ‘চন্দ্রযান-২’-এর ব্যর্থতার কথা মনে আছে? ওই যে, ল্যান্ডার ‘বিক্রম’ চাঁদের পিঠে অবতরণের পরে প্রথমে কোনও সংবাদ (রেডিয়ো সিগন্যাল) পাঠায়নি, চাঁদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরের কক্ষপথে আবর্তনরত ‘চন্দ্রযান-২’-এর ‘অরবিটার’কে। এরপরেও কিন্তু ইসরো জানিয়েছিল যে, তাদের ওই অভিযান ৯৫ শতাংশ সফল হয়েছে।

কারণ, ‘অরবিটা’র খুব ভাল কাজ করছে। আর জ্বালানি সাশ্রয়ের ফলে সেটার আয়ুও এক বছর থেকে বেড়ে সাত বছর হয়েছে। এটা কি ইসরো আন্দাজে ঢিল মেরেছিল? দিব্যেন্দু জানিয়েছিল, ‘‘না। এটাও কালামেরই উদ্ভাবিত পদ্ধতি। উৎক্ষেপণের কাউন্টডাউন থেকে শুরু করে সেই অভিযানের শেষ পর্যন্ত কয়েকটি ধাপ থাকে। সেই ধাপগুলি কী ভাবে পেরনো সম্ভব হচ্ছে, সেটা কতটা সফল ভাবে হচ্ছে, তার মুল্যায়ন করেই সেই অভিযানের সাকসেস রেট বা সাফল্যের হার মাপার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিলেন কালাম।’’ যে কালাম একদিন কম্পিউটারের সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে ইসরোর কাঁধে ‘ব্যর্থতার বোঝা’ চাপিয়েছিলেন, সেই কালামেরই পদ্ধতির ভিত্তিতে ইসরো বলতে পেরেছিল যে ভারতের ওই দ্বিতীয় চন্দ্রাভিযানের সাফল্য কতটা।

বিসর্জনে নারাজ মথুর পরম শিক্ষায় খুঁজে পেয়েছিলেন বিজয়ার আনন্দবার্তা

Mathura mohan and bijaya dashami

বিশেষ প্রতিবেদন: রামকৃষ্ণের সান্নিধ্যে এতটাই মজেছিলেন তিনি যে ভুলেই গিয়েছিলেন বিজয়ার কথা। তিনি রাসমণি জামাতা মথুরামোহন বিশ্বাস। চেয়েছিলেন ঠাকুরকে বিসর্জন না দিতে। পরম শিক্ষায় মন ভুলিয়েছিলেন পরম পুরুষ।

বাংলা ১২৭৭ সালে রানি রাসমণির অবর্তমানে পরিবারের কর্তা মথুরমোহন বিশ্বাস দুর্গা পুজো আয়োজন করে। সর্বভাবের মূর্ত বিগ্রহ, পরমপুরুষ শ্রী ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণদেব স্বয়ং এসেছেন মথুরবাবুর জানবাজারের বাড়িতে শারদীয়া দুর্গাপুজো উপলক্ষে।

একদিকে দশভুজার মহাপুজোর অনির্বচনীয় আনন্দ, অপরদিকে শ্রীরামকৃষ্ণদেবের কয়েক দিনের উপস্থিতিতে তাঁর সান্নিধ্য লাভ—এই অভাবনীয় আনন্দে বিহ্বল ও আত্মহারা মথুরমোহন সেদিন যে বিজয়ার বিসর্জন সে কথা অবলীলাক্রমে ভুলেই গিয়েছিলেন। পরে যখন বুঝে উঠলেন যে সেদিন বিজয়া দশমী, তখন নিরাশ আর মনোবেদনায় মুহ্যমান মথুরনাথ। তাই তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন মাকে আর বিসর্জন দিয়ে দুঃখ ডেকে আনবেন না। রাজামশাইয়ের দু’চোখ বেয়ে নামে অবিরত অশ্রুর ঢল।

অগত্যা সবাই শরণাগত হলো শ্রী রামকৃষ্ণ দেবের উপর। তখন শ্রীরামকৃষ্ণ মথুরের বুকে হাত বোলাতে বোলাতে বললেন: ‘ও এই তোমার ভয়। একথা কে বলল যে, মাকে ছেড়ে তোমাকে থাকতে হবে? আর বিসর্জন দিলেও তিনি বা যাবেন কোথায়? মা এই তিনদিন ঠাকুর দালানে বসে তোমার পুজো নিয়েছেন। আজ থেকে তোমার আরও কাছে থেকে সর্বদা হৃদয়ে বসে তোমার পুজো নেবেন।’ অবশেষে ঠাকুরের স্পর্শানুভূতি ও মধুমাখা কথায় মথুরবাবু দমিত হলেন। রাজি হলেন তিনি মাকে বিসর্জন দিতে।

১৯৯৮-এর ১৪ অক্টোবরের কাকভোর— বেজে উঠল অমর্ত্য সেনের ফোন

amartya sen

নিউজ ডেস্ক: প্রভাতের প্রথম সূর্য তখনও তার প্রথম কিরণ ভালো ভাবে পৌঁছে দিতে পারেনি পৃথিবীতে৷কাকভোরে ফোন,তিনি ভেবেই বসেছিলেন পরিচিত কেউ নিশ্চয়ই অসুস্থ হয়েছেন,অথবা কিছু একটা খারাপ ঘটনা ঘটেছে বলে এত ভোরে তাঁর কাছে ফোনটা এসেছে৷সম্ভাব্য খারাপ কোনও সংবাদ তাঁর কাছে এসেছে ভেবে তিনি ফোনটা তিনি ধরলেন,ভেঙে গেলো ভুল,জানতে পারলেন অ্যাকাডেমি অর্থনীতিতে অবদানের জন্য অমর্ত্য সেনকে (amartya sen) নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়েছে৷

অর্থনীতির কঠিন সাবজেক্টে নোবেল জয়ী হয়েও তাঁর বিরুদ্ধে স্ত্রী নবনীতা দেবসেনের অভিযোগ ছিল তিনি নাকি নিজের পকেট কোনওদিন ঠিক ভাবে সামলাতে পারেন নি৷ মা অমিতা সেন ছিলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অত্যন্ত স্নেহধন্য।অমর্ত্য সেনের নামকরণ বিশ্ব কবি রবি ঠাকুর স্বয়ং করেছিলেন৷

অমর্ত্য সেন ভারতের ইতিহাসে সম্ভবত সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি যিনি মাত্র ২৩বছর বয়সে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান হওয়ার বিরল সম্মান অর্জন করেছেন৷ অর্থনীতিতে দুর্ভিক্ষ সংক্রান্ত গবেষণার জন্য ১৯৯৮ সালে নোবেল পুরস্কার পান বিশ্ববন্দিত অর্থনীতিবিদ ভারত তথা বাংলার গর্ব অমর্ত্য সেন৷
আঠারো বছর বয়েসে অমর্ত্যর মুখে ক্যানসার ধরা পড়ে, তাকে হেলায় হারিয়ে দিয়ে জীবনের ক্রিজে ব্যাটিং করছেন অপরাজিত ৮৭,আর মাত্র ১৩টি বসন্ত অতিক্রম করলেই পৌঁছে যাবেন জীবনের সেঞ্চুরিতে৷

পূর্বপুরুষদের জন্মস্থান বাংলাদেশের ঢাকা,যদিও অমর্ত্য সেনের পৃথিবীর প্রথম আলো দেখা শান্তিনিকেতনে,বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে, ১৯৩৩ সালের ৩ নভেম্বর অমিতা দেবীর কোলে। দাদু ক্ষিতিমোহন সেন ছিলেন সংস্কৃতের শিক্ষক,অত্যন্ত পন্ডিত ব্যক্তি৷ বাবা আশুতোষ সেন এবং মা অমিতা সেন,উভয়ের জন্মস্থান ঢাকার মানিকগঞ্জ  আশুতোষ সেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন পরে অবশ্য তিনি ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দিল্লিতে চাকরি করেছেন৷ অমর্ত্য সেনের প্রথম স্কুল ছিল ঢাকার সেন্ট গ্রেগরী, তারপর লেখাপড়া শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে।

অমর্ত্য সেন তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘শান্তিনিকেতনে প্রধানত রবীন্দ্রনাথের স্কুলেই শিক্ষার ব্যাপারে আমার দৃষ্টিভঙ্গী প্রথম একটা রূপ লাভ করে। সেখানে ছেলে মেয়ে একসঙ্গে পড়ত, শিক্ষার পরিবেশ ছিল অনেক উদার।’ ‘প্রতিযোগিতার মনোভাব তৈরি করা বা কে কাকে টপকে যাবে সে ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ দেওয়ার বদলে তাদের মনে কৌতূহল জাগিয়ে তোলাটাই ছিল সেখানে শিক্ষাদানের মূল আদর্শ। পরীক্ষায় ভাল করা বা ভাল নম্বর পাওয়ার ব্যাপারে কখনো উৎসাহ দেওয়া হতো নাস’৷

অমর্ত্য সেনের শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল সেইন্ট গ্রেগরী বিদ্যালয়ে৷ রবীন্দ্রনাথের স্কুলে শিক্ষালাভের পর অসম্ভব মেধাবী অমর্ত্য ১৯৫১ থেকে ১৯৫৩ অর্থনীতি পড়েছেন প্রেসিডেন্সি কলেজে। তখনও তাঁর মনে দগদগে স্মৃতি ১৯৪৩-এর বঙ্গীয় দুর্ভিক্ষ ৷ প্রেসিডেন্সি কলেজে তাঁর সহপাঠী ঐতিহাসিক বরুণ দে অমর্ত্য সেন সম্পর্কে বলেছেন, ‘কলেজে যখন এলেন দেখতে লম্বা, সুন্দর চেহারা, লোককে মুগ্ধ করার মতন কথাবার্তা বলার ধরনধারণ। অমর্ত্য যেখানে সবাইকে জয় করলেন, সেটা হচ্ছে সকলের সঙ্গে মিশ খেয়ে যাওয়ার তাঁর বিশেষ ক্ষমতা। মেয়েরা তো একেবারে কুপোকাত ছিল তাকে দেখে’৷

প্রেসিডেন্সির অধ্যয়ন পর্ব সমাপ্ত হলে ইংল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজে পড়তে যান। অর্থনীতি ও রাজনীতির প্রতি বরাবর অমোঘ টান অনুভব করতেন৷ অত্যন্ত আগ্রহ ছিল গণিতের প্রতিও।যদিও সংবাদ মাধ্যমের কাছে সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন কেমব্রিজের অর্থনীতি বিভাগে তখন গণিত বেশি ছিল না। ১৯৫৬ সালে প্রথম শ্রেণীতে বি.এ (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন ট্রিনিট্রি কলেজ থেকে৷মজার বিষয় ১৯৯৮ সালে নোবেল পাওয়ার সময় প্রফেসর অমর্ত্য সেন ইংল্যান্ডে কেমব্রিজের ট্রিনিটি কলেজের ‘মাস্টার’ ছিলেন। অক্সফোর্ড বা কেমব্রিজের কোন কলেজের তিনিই প্রথম এশীয় প্রধান।

‘চয়েস অব টেকনিক্স’ নিয়ে তিন বছরের গবেষণা এক বছরে শেষ করে ফাঁকা হয়ে গিয়েছিলেন। ফেলোশিপ নামে একটা চমৎকার বৃত্তিও পেয়ে যান।তিন বছরের গবেষণা এক বছরে শেষ করে তিনি ফাঁকা হয়েছিলেন৷ফিরলেন কলকাতায়,রত্ন চিনতে ভুল হয়নি তদানীন্তন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ত্রিগুনা সেনের৷ সদ্য প্রতিষ্ঠিত বর্তমান ভারতের গর্ব যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং অর্থনীতি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান হিসেবে অমর্ত্য সেনকে নিয়োগ করলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ত্রিগুনা সেন।

অমর্ত্য সেন ভারতের ইতিহাসে সম্ভবত সর্বকনিষ্ঠ ব্যক্তি যিনি মাত্র ২৩বছর বয়সে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং বিভাগীয় প্রধান হওয়ার বিরল সম্মান অর্জন করেছেন৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক বছর অধ্যাপনা করার পর ১৯৫৯ সালে আবার ফিরলেন ইংল্যান্ডে৷ ট্রিনিট্রিতে ফেলোশিপ অর্জন করায় চার বছরের জন্য নিজের পছন্দসই যে-কোনও বিষয় নিয়ে পড়শুনোর সুযোগ পেলেন। অমর্ত্য সেন পড়ার বিষয় বেছে নিলেন দর্শন। পরবর্তীকালে তাঁর গবেষণার কাজে অনেক সাহায্য করেছে দর্শনশাস্ত্র৷অবশ্য প্রেসিডেন্সিতে পড়ার সময় থেকেই দর্শনের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল৷

সেখানে নিয়মিত দর্শন চর্চা এবং বিতর্কে অংশগ্রহণ করতেন।তর্কে অমর্ত্য সেনের তুখোড় দক্ষতা ছিল। তাঁর প্রথম স্ত্রী নবনীতা দেবসেন বলেছেন তাদের দুজনের প্রথম আলাপের সূত্রপাত ছিল বিতর্ক৷ অমর্ত্য সেন শিক্ষকতা জীবন শুরু করেছিলেন কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিক্সে অধ্যাপনার মধ্যে দিয়ে তিনি আরোহন করেছেন শিক্ষকতার জগতে একটার পর একটা চূড়ায়।শিক্ষকতা করেছেন বিশ্ববিখ্যাত কেমব্রিজ ও অক্সফোর্ড,হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে৷

১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়ে বাঙালির হৃদয় জিতে নিয়েছিলেন৷ পৃথিবীর বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে অসংখ্য সম্মানসূচক ডিগ্রি লাভ করেছেন।১৯৯৯সালে ভারত সরকার অর্মত্য সেনকে ‘ভারতরত্ন’সম্মানে ভূষিত করে৷ প্রথম কোনও বাঙালি তথা ভারতীয় হিসেবে জার্মানির ফ্রাঙ্কফুর্ট বইমেলার ঐতিহ্যবাহী শান্তি পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন৷ অমর্ত্য সেনের লেখা বই প্রায় তিরিশটি ভাষায় অনূদিত হয়েছে ৷

দারিদ্র্যতা এবং দুর্ভিক্ষ নিয়ে গবেষণার জন্যই নোবেল জয়, পৃথিবী জুড়ে অসংখ্য মানুষের অসীম শ্রদ্ধার পাত্র নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন৷আর এক বাঙালি অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় নোবেল জিতেছেন৷ বাঙালি জাতি কিন্তু রসিকতা করে বলতেই পারে অর্থনীতি অনেকের তুলনায় তারা ভাল বোঝেন,তার বড় প্রমান অমর্ত্য সেন এবং অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অর্থনীতিতে নোবেল জয়৷ অনেকে হয়তো জানেন না,নিতান্ত নিরীহ এক বাইসাইকেল অমর্ত্য সেনের অর্থনীতির নোবেল জয়ের অন্যতম বড় চরিত্র হয়ে উঠেছিল৷সুইডেনের নোবেল কমিটির দাবি কিন্তু ঠিক তেমন৷ পন্ডিত এই মানুষটির ছিল বহুমুখী প্রতিভা৷রীতিমত সাহিত্য চর্চা করতেন৷

বাংলায় ১৯৪৩-এর মন্বন্তর প্রত্যক্ষ করেছিলেন অমর্ত্য সেন। ওই দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর গবেষণার সূত্রপাত। জনকল্যাণকর অর্থনীতি এবং গণদারিদ্র্যের অন্তর্নিহিত কার্যকারণ বিষয়ে তাঁর গবেষণার জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ৷ নিজের মুখে তিনি বলেছেন— ‘শান্তিনিকেতনের আশেপাশে বাস করা মানুষের আয় কত ছিল, চালের দাম কত ছিল, এসব তথ্য সাইকেলে চড়ে ঘুরে ঘুরে আমাকে সংগ্রহ করতে হয়েছে, শান্তিনিকেতনে এবং তার আশপাশের অঞ্চলে’৷

সুইডেনের নোবেল মিউজিয়ামে একটা বাই সাইকেল আছে,খোদ নোবেল কমিটির দাবি এই সাইকেলে চড়ে গ্রাম ঘুরতেন অমর্ত্য সেন।আর সেই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিজের গবেষণাপত্রে তুলে এনেছিলেন। যে গবেষণার ভিত্তিতে ১৯৯৮ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অমর্ত্য সেন। ইনস্টাগ্রামে করা এক পোস্টে এমনই দাবি জানিয়েছিল সুইডেনের নোবেল কমিটি।

৩ জুন, বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস পালিত হয়৷ দিনটি উদযাপন করতে গ্যালারিতে রাখা সেই সাইকেলের ছবি কয়েক বছর আগে সোশাল মাধ্যমে পোস্ট করেছিল নোবেল কমিটি। সেই পোস্টে নোবেল কমিটি লিখেছিল, ‘বাইসাইকেল অর্থবিজ্ঞানের চাবিকাঠি নয়। কিন্তু অমর্ত্য সেনের অর্থনীতির গবেষণায় এই বাইসাইকেল বড় ভূমিকা পালন করেছিল।’ লিঙ্গ সমতায় প্রবল বিশ্বাসী মানুষ,সম্মান করেন নারী জাতিকে। যে কোনো অচেনা-অজানা মানুষ সম্পর্কে লিখতে গিয়ে He নয়,তিনি She শব্দ ব্যবহার করেন।অমর্ত্য সেনের মত মানুষকে হয়ত একটা শহর বা একটা দেশের পরিচয়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ রাখতে পারা যায় না,কিন্তু তিনি বাঙালি,আর সেইজন্য অমর্ত্য সেনের যেকোনও কৃতিত্বে নিজেদের গর্বিত মনে করে যেমন বাঙালি,তেমন গর্ব বোধ করেন গোটা ভারত থেকে সারা পৃথিবীর মানুষ৷বোধহয় সেই কারনে তিনি বাঙালি ও ভারতীয় হয়েও বিশ্বনাগরিক,অথচ যিনি কখনও নিজের শেকড়কে অস্বীকার করেন নি৷

কেটেছে বহু যুগ, শহরের বুকে শেষ পর্যন্ত সম্মানিত বিখ্যাত কবি

taru dutta

বিশেষ প্রতিবেদন: শেষ পর্যন্ত মিলল সম্মান। “এমনটা হতে পারতো” – দিদি অরু দত্তের অকাল মৃত্যুতে যন্ত্রণায় কাতর কবি তরু দত্তের উক্তি দিয়েই আজ কবির প্রতি সম্মান জানিয়ে একটি ফলকের উন্মোচন করা হলো কলকাতায়। 

কলকাতার মানিকতলা সিমেট্রিতে বহুদিন ধরে অযত্নে অবহেলায় পরে ছিল আন্তর্জাতিক সাহিত্যের এক ক্ষণজন্মা কবি এবং ঔপনাসিক তরু দত্তের সমাধি। তাঁকে সম্মানে জানিয়ে সোমবার রাজ্য হেরিটেজ কমিশন এবং KMC র পক্ষ থেকে একটি প্লাক বসানো হলো। উপস্থিত ছিলেন রাজ্য হেরিটেজ কমিশনের চেয়ারম্যান সহ হেরিটেজ কমিটির সদস্যরা এবং কবি তরু ও অরু দত্তের পরিবারের এবং আমাদের পুরনো কলকাতার গল্প সোসাইটির সদস্য শ্রী সুবীর দত্ত, শ্রী সলিল দত্ত, শ্রীমতি মধুমিতা দত্ত। বিশেষ উদ্যোগ নেয় পুরনো কলকাতার গল্প।

taru dutta respect

পুরনো কলকাতার গল্পের সদস্যরা জানাচ্ছেন, “সারকুলার রোডের ওপর অবস্থিত মানিকতলা সিমেট্রি সক্রিয় থাকা সত্ত্বেও এতটাই অপরিস্কার যে ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। অনেক খোঁজ করার পর ‘Christ Church’- এর সেক্রেটারি অপর্ণা দত্তের সাথে কথা বলে বোঝা গেল, এই সমাধিক্ষেত্রটি দেখাশোনা করার জন্য একটি নামমাত্র কমিটি আছে। সেইরকম ফান্ড নেই এটিকে রোজকার পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখার। অদ্ভুত এক পরিস্থিতির শিকার হয়ে রয়েছে এই ঐতিহ্য সমাধিক্ষেত্র।”

taru dutta respect

ফেসবুক গ্ৰুপের তরফে স্বর্ণালী চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “ক্ষণজন্মা বিরল প্রতিভার অধিকারী কবি তরু দত্তের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ হয়ত একটি কাজ হলো । তবে কাজটি অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। এটিকে যত্ন করা, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আশা রাখি হয়ত খুব তাড়াতাড়ি আমরা আর একটু কাজ করতে পারবো।”

Offbeat: এ দেশে শিকারির শিকার হিমবাহ

Glacier parts are fired in Greenland

বিশেষ প্রতিবেদন: ওরা নৌকা করে চলেছেন শিকারে। সামনে শিকার আসতেই তাক করলেন বন্দুক, চলল গুলি। শব্দ করে ফেটে পড়ল বিশাল বিশাল বরফের টুকরো। মিশন সাকসেসফুল। অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন শিকারটা করা হল কী ? হিমবাহ।

হ্যাঁ, ওরা পশু পাখি নয়। শিকার করেন হিমবাহ। গ্রিনল্যান্ডের কিছু মানুষ এটাই শিকার করেন। আরও অদ্ভুত বিষয় হল।এটাই ওঁদের পেশা। এমন শিকারের জন্যই স্থানীয় হিমবাহ শিকারিরা পাড়ি দেন প্রায় তিরিশ মাইল পথ।

এমন শিকারের কারণ কী? গ্রিনল্যান্ডে বিশাল বিশাল হিমবাহগুলির আনুমানিক বয়স কমপক্ষে ১০ হাজার বছর। এর মধ্যেই রয়েছে পরিবেশের বিশুদ্ধতম জল, গবেষকরা এমনটাই মনে করেন। পাশাপাশি গুণগত মানের কারণেও এই বরফের চাহিদাও আকাশছোঁয়া বাজারে, কারণ ওয়াইন থেকে শুরু করে প্রসাধনী দ্রব্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয় এই বরফগলা জল। ব্যবহৃত হয় পানীয় জল হিসাবেও। গ্রিনল্যান্ডের স্থানীয় দোকানগুলিতে যার এক একটি বোতলের দাম ধার্য হয় প্রায় ১০ ডলার।

Greenland

হিমবাহ শিকার বেশ শক্ত। সমুদ্রে ভাসমান থাকায়, বরফখণ্ডের উপরের অংশ লবণের সংস্পর্শে আসে। তাই শিকারের পরে ডিঙিতে তুলে অত্যন্ত সতর্কভাবে ব্রাশ করা হয় গোটা বরফখণ্ডটিকে। তারপর হাতুড়ি দিয়ে ছোট ছোট টুকরোয় ভেঙে সংরক্ষিত করা হয় ব্যারেলে। জানা গিয়েছে, এপ্রিল থেকে জুন মাসের মধ্যে প্রায় ৮ লক্ষ লিটার বরফ সংগৃহীত হয় গ্রিনল্যান্ড থেকে। বর্তমানে শুধু গ্রিনল্যান্ডই নয়, হিমবাহ-গলা জল সরবরাহিত হয় থাইল্যান্ড, ইউনাইটেড কিংডমে।

তবে ঘটনা হল অখণ্ড হিমবাহ ‘শিকার’ করে না শিকারিরা। শুধুমাত্র যে উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহ থেকে খসে পড়া খণ্ডগুলিই শিকার করা হয়। ওই বরফখন্ড আর্কটিক অঞ্চলের বাইরে চলে এলে লবণাক্ত জলে মিশে দ্রুত গলে যাওয়ার আগে তা শিকার করে নেন। পরিবেশবিদের বড় অংশই আবার এই কাজকে সমর্থন করেন না।

Indian Airforce: ৮৯ বছরের খতিয়ানে ১০ টি অজানা তথ্য, শিহরিত হবেন নিশ্চিত

Indian Airforce

নিউজ ডেস্ক: বায়ুসেনা (Indian Airforce) দিবস পালিত হয়েছে সাড়ম্বরে। ৮৯ তম বায়ুসেনা দিবসে ফিরে দেখা যাক তাদের বিশেষ কিছু চমকপ্রদ তথ্য৷ ভারতীয় বিমান বাহিনী বা ‘বায়ুসেনা’ বিশ্বের সবচেয়ে কর্মঠ বিমান বাহিনীর মধ্যে চতুর্থ স্থানে রয়েছে।

এর প্রাথমিক লক্ষ্য হল দেশর আকাশসীমা সুরক্ষিত করা। দেশ রক্ষায় আকাশযুদ্ধ পরিচালনা করা। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত অসামরিক নাগরিকদের উদ্ধার করা। বারবার দেশের জাতীয় নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বায়ুসেনা। তেমনই কিছু অজানা ঘটনা।

Indian Airforce

১. ২০১৬ সালে যখন ভারতীয় বিমান বাহিনীতে প্রথম তিনজন মহিলা ফাইটার পাইলট কমিশন পেয়েছিলেন তখন আইএএফ ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন।
২. ১৫০০ টিরও বেশি বিমানের বহরে ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চিনের পরেই বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম বিমান বাহিনী।

৩. এটি বিশ্বের সপ্তম শক্তিশালী বিমান বাহিনী, এমনকি জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া এবং জাপানের চেয়েও কৃতিত্বশালী।
৪. ভারতীয় বিমান বাহিনী রাষ্ট্রসংঘের বেশ কয়েকটি শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছে যা বিমান সহায়তা, গোলাবারুদ পরিবহন, সেনা এবং খাদ্য সরবরাহ করে।

৫. পদ্মাবতী বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রথম মহিলা এয়ার মার্শাল। তিনি ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর দ্বিতীয় মহিলা যিনি তিন তারকা পদে উন্নীত হয়েছেন।
৬. অপারেশন রাহাত ছিল বিশ্বের সবচেয়ে বড় আসামরিক উদ্ধার অভিযান যা কোনো বিমানবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে চালায়। ২০১৩ সালে উত্তরাখণ্ড ও হিমাচল প্রদেশের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য ভারতীয় বিমান বাহিনী উদ্ধার অভিযান চালায়।

৭. সিয়াচেন হিমবাহ এএফএস পৃথিবীর সর্বোচ্চ বিমান বাহিনী স্টেশন ২২,০০০ ফুট।
৮. ২০১৩ সালে আইএএফ ১৬৬১৪ ফুট উচ্চতায় লাদাখের দৌলত বেগ ওল্ডি বিমানবন্দরে একটি সুপার হারকিউলিস বিমানের সর্বোচ্চ অবতরণ করে একটি বিশ্ব রেকর্ড সৃষ্টি করেছিল।

৯. ২০১৪ সালে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার পশ্চিম উপকূলে ধ্বংসাত্মক সুনামি আঘাত হানার এক ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের পূর্ব উপকূলে পৌঁছেছিল বায়ুসেনা।
১০. ২০১৮ সালে বন্যায় বিধ্বস্ত কেরলে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে ভারতীয় বিমান বাহিনী শুধু অনুকরণীয় সহায়তা প্রদান করেনি, মুখ্যমন্ত্রীর তহবিলে ২০ কোটি টাকাও দান করেছে।

Allauddin Khan: সুরের টানে আলাউদ্দিন যেতেন শিব মন্দির, ঘর ছাড়েন সুর সাধনায় শাস্তি পেয়ে

Allauddin Khan

বিশেষ প্রতিবেদন: ধর্ম বোঝে না সুর। তা বাঁধে হিন্দু মুসলিম সবাইকে। গাঁথে একসূত্রে। সেই সূত্র ধরেই ছোট্ট আলাউদ্দিন (Allauddin Khan) স্কুল ফাঁকি দিয়ে চলে যেতেন শিবমন্দিরে। চুপ করে বসে শুনতেন সেতারের সুর। আবার চলে ফকিরদের আস্তানায়। ডুব দিতেন হামদ, নাত, মুর্শিদি, মারফতিসহ বিভিন্ন গান-বাজনার জলসায়। এত স্কুল ফাঁকি দিতে গিয়ে একদিন ধরা পড়ে গেলেন। পেলেন শাস্তি। সুর শেখার জন্য শাস্তি? প্রতিজ্ঞা করেন সুর সাধনাতেই কাটাবেন জীবন। আর ফিরে তাকাননি। বাড়ি থেকে পালিয়েই তিনি হয়ে ওঠেন সঙ্গীত সম্রাট উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ। 

তখন তার বয়স মেরে কেটে আট কী নয়। রাতের অন্ধকার বেরিয়ে পড়েন অজানার উদ্দেশ্যে। এভাবে জারি, সারি, বাউল, ভাটিয়ালী, কীর্তন ও পাঁচালীসহ প্রভৃতি গানের সঙ্গে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভ করেন। বাংলার জনপদে ঘুরে ঘুরে তিনি খুঁজে পান লোক সুরের ভান্ডার। সঙ্গীতে অতুলনীয় অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ব্রিটিশ সরকার তাকে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধিতে ভূষিত করেন। ১৯৩৫ সালে বিশ্বখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয়শঙ্করের সঙ্গে বিশ্ব ভ্রমণে বের হন তিনি। এ সময় তিনি ইংল্যান্ডের রানী কর্তৃক সুরসম্র্রাট খেতাবপ্রাপ্ত হন। ভারত সরকার ১৯৫২ সালে প্রদান করেন সঙ্গীত একাডেমী পুরস্কার। ১৯৫৮ সালে তিনি ‘পদ্মভূষণ’ এবং ১৯৭১ সালে ‘পদ্ম বিভূষণ’ উপাধি প্রাপ্ত হন। ১৯৬১ সালে বিশ্ব ভারতীয় ‘দেশি কোত্তম’ উপাধি লাভ করেন। দিল্লী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত হন ডক্টর অব ল’ ডিগ্রি। ১৯৫২ সালে শান্তিনিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘দিনেন্দ্র অধ্যাপক’ হিসেবে কিছুদিন অধ্যাপনাও করেছিলেন।

বাবা আলাউদ্দিন খান নামেও তিনি পরাচিত ছিলেন। সেতার ও সানাই এবং রাগ সঙ্গীতে বিখ্যাত ঘরানার গুরু হিসাবে সারা বিশ্বে তিনি প্রখ্যাত। মূলত সরোদই তাঁর শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের বাহন হলেও সাক্সোফোন, বেহালা, ট্রাম্পেট সহ আরো অনেক বাদ্যযন্ত্রে তাঁর যোগ্যতা ছিল অপরিসীম। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের দুনিয়ায় তিনি হয়ে উঠেছিলেন প্রবাদ পুরুষ।

উস্তাদজীর জন্ম ত্রিপুরার কুমিল্লা জেলার অন্তর্গত ব্রাহ্মণবাড়িয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামে, যা এখন বাংলাদেশের অন্তর্গত। তার পিতা সবদও হোসেন খাঁ ওরফে সদুখাঁও ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ। আলাউদ্দিনের ডাকনাম আলম। তাঁর শৈশব কাটে মূলত এক সঙ্গীত কাননে। ফলে সঙ্গীতের স্বাভাবিক নেশা তাকে পেয়ে বসে শৈশবে কালেই। তিনি প্রথম তালিম গ্রহণ করেন বড় ভাই সঙ্গীত সাধক ফকির আফতাব উদ্দিন খাঁর কাছে। পরবর্তীতে পণ্ডিত গোপালচন্দ্র চক্রবর্তীর সাগরেদ হন। একাধারে সাত বছর তার কাছে সঙ্গীত শেখেন। হঠাৎ প্লেগ রোগে আক্রান্ত হয়ে পণ্ডিত গোপালচন্দ্র ১৯০৩ সালে মারা যাওয়ার পর তিনি গান-বাজনা ছেড়ে দিয়ে ‘ফোর্ট উইলিয়াম’-এর বিখ্যাত ব্যান্ড মাস্টার লবো সাহেবের কাছে পাশ্চাত্য কায়দায় বেহালা শিখতে শুরু করেন।

এরপর তিনি অমর দাস, নন্দলাল, ‘স্টার থিয়েটার’-এর সঙ্গীত পরিচালক অমৃত লাল দত্ত ওরফে হাবু দত্ত এদের কাছে বাঁশি , পিক্র, সেতার , মেন্ডেলীণ ,ব্যাঞ্জো এবং সানাই , নাকাড়া , টিকাবা সহ সকল বাদ্যযন্ত্রেই দক্ষতা অর্জন করে হয়ে উঠেন একজন সর্ববাদ্য বিশারদ। পরে তিনি কলকাতায় একজন বাঁশীবাদক হিসেবে তাঁর সঙ্গীত জীবন শুরু করেন।

আলাউদ্দিন খাঁ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় জমিদার রাজা জগৎকিশোর-এর বাড়িতে ওস্তাদ আহমদ আলী খাঁর কাছেও সুরের তালিম নেন। পরে উদয়পুরে ওস্তাদ ওয়াজির খা-র কাছে দীর্ঘ ১৪বছর তালিম গ্রহণ করেন। ওয়াজির খাঁর কাছে তিনি সেনী ঘরানার গুরুত্বপূর্ন সঙ্গীত কৌশল চর্চা করেন। এর কিছুকাল পরে ১৯১৮ সালে তিনি মাইহারের মহারাজ ব্রজনাথ সিং-এর দরবারে সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে যোগদান করেন। মহারাজা তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

এরপর তিনি অনাথ, অন্ধ নামগোত্রহীন প্রায় একশো জনকে জড়ো করে, তাদের উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে তৈরি করেছিলেন বিশ্ববিখ্যাত ‘মাইহার ব্যান্ড’। তাঁর উদ্ভাবিত যন্ত্র – মনোহরা, চন্দ্রসারং, কাষ্ঠতরঙ্গ প্রভৃতি ।

তার উদ্ভাবিত ঘরানা এখন সঙ্গীত জগতে ‘আলাউদ্দিন ঘরানা’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। তিনি বেশ কয়েকটি রাগ-রাগিনীরও স্রষ্টা, যেমনঃ- মেঘবাহার, দুর্গেশ্বরী, হেমন্ত, মদন মঞ্জরী, প্রভাত কেলী, ধবল শ্রী, শোভাবতী, রাজেশ্রী, ধনকোষ, আরাধনা ইত্যাদি।

তিনি স্ত্রী মদন মঞ্জরী দেবীর (মদিনা বেগম) নামানুসারে রাগ সঙ্গীত মদন মঞ্জরী ও মাইহারের বাসভবনের নামকরণ করেন মদিনা ভবন। বহু সংখ্যক যোগ্য শিষ্য তৈরি তার অনবদ্য কীর্তি। তার শিষ্যদের মধ্যে পুত্র আলী আকবর খান, কন্যা অন্নপূর্না, জামাতা রবি শঙ্কর, তিমির বরণ, খাদেম হোসেন খান, মীর কাশেম খান, পান্নালাল ঘোষ, নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য প্রমুখের নাম উল্লেখ করা যেতে পারে। মাইহারের মুকুট বিহীন সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ। সেখানে তাঁকে সবাই “বাবা” বলে ডাকতো। তাঁর হাতে মাইহার ঘরানার শাস্ত্রীয় সঙ্গীত পেয়েছিল এক নতুন রূপ।

শত বছরেও অতলে রহস্য, মাঝ সমুদ্রে হারালেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী

Mario empress

বিশেষ প্রতিবেদন: পেরিয়ে গিয়েছে ১০২ বছর। তিনি ফেরেননি। অপেক্ষাও করে না কেউ। তবু তিনি এক রহস্য, যা হারিয়ে গিয়েছে সমুদ্রের অতলে। বিখ্যাত অভিনেত্রীর হারিয়ে যাওয়া ১০২ বছর ধরে রয়ে গিয়েছে এক চির রহস্য হয়ে। তিনি মেরি এম্প্রেস (Mario empress)।

১৯১৯ সাল। শুটিং শেষ। নিজের দেশ ইংল্যান্ডে ফিরবেন বলেই জাহাজে চড়েছিলেন এম্পেস। জাহাজ ফিরেছিল, ফেরেননি সেই সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। নানাভাবে তাঁর খোঁজ করা হয়েছিল। পাওয়া যায়নি। বার্মিংহামের বাসিন্দা ছিলেন এম্পেস। ১৯০০ সালের শুরু থেকেই তিনি ইংল্যান্ডের থিয়েটারের জগতে বেশ পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছিলেন। ১৯১৫ সালে সিনেমা জগতে প্রবেশ করেন এম্পেস। ছবির নাম ছিল ‘ওল্ড ডাচ’। কমেডি সিনেমা ছিল সেটি। প্রথম থেকেই সাফল্যের মুখ দেখেছিলেন তিনি।

Mario empress

সেবার আমেরিকার ওয়েস্ট এন্ড থিয়েটারে কাজ শেষ করে বার্মিংহাম ফিরছিলেন। ১৯১৯ সালের ২৭ অক্টোবর ‘অর্ডুনা’ জাহাজ এসে পৌঁছয় নিউইয়র্কের কানার্ড লাইন জেটিতে। এখানেই প্রথম খবর পাওয়া যায় জাহাজে এম্পেস নেই। স্বাভাবিকভাবেই শোরগোল পড়ে যায়। এত বড় ব্যাক্তিত্ব মাঝ সমুদ্রে কীভাবে উধাও হয়ে যেতে পারে? তদন্ত শুরু করেন গোয়েন্দারা। কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

জাহাজের এক কর্মী সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন ঘটনা যেদিন সামনে আসে তার আগের রাতেই নিখোঁজ হয়েছিলেন এম্পেস। সে খাবার দিতে গিয়ে দেখেছিল কেবিনে তিনি নেই। সে ভেবেছিল কোথাও গিয়েছেন অভিনেত্রী। খাবার রেখে দিয়ে চলে যায় সে। পরের দিন ওই খাবার ওখানেই পড়েছিল, অভিনেত্রী ছিলেন না। মেরির কেবিন থেকে কিছু ছবি মিলেছিল। পাওয়া গিয়েছিল একটি টেলিগ্রাম কপি। তাতে লেখা ছিল, ‘সোমবার আসছি। আমার জন্য একটা ঘর রাখবেন’।

তদন্তে নানা সম্ভাবনার মত জাহাজ থেকে তার ঝাঁপ দেওয়ার তত্ব উঠে এলেও পরে তা খারিজ হয়ে যায়, কারণ এম্প্রেসে আনুমানিক যে সময়ে উধাও হন তখন জাহাজ গমগম করছিল লোকে। সবার চোখ এড়িয়ে ওইরকম একজন বিখ্যাত অভিনেত্রী জলে ঝাঁপ দেবেন অথচ কেউ তা দেখতেই পাবেন না তা হয় না। পরে অনেকে এও দাবী করেছিলেন ওটা অভিনেত্রীর প্রচার পাওয়ার কৌশল ছিল। কিন্তু তা বলে ১০০ বছর!

জাহাজে তাঁর ব্যবহৃত ট্রাঙ্ক প্রায় একমাস নিউইয়র্কে পড়েছিল। কোনও দাবিদার মেলেনি। পরে ব্রিটিশ সরকার এম্পেস উধাও মামলকে ‘ওভারবোর্ডে লাফিয়ে ডুবে যাওয়া’ উল্লেখ করে কেস বন্ধ করে দেয়। রহস্য থেকে যায় রহস্যতেই।

Mohammed Ali: মিলিয়ন ডলারে বিক্রি কিংবদন্তি বক্সারের হাতে আকাঁ ছবি

Mohammed ali

বিশেষ প্রতিবেদন: তাঁর এক পাঞ্চে নক আউট হয়েছে বিপক্ষ। কিন্তু তাঁর হাতে নরম তুলিও সমান ভাবে চলে। তিনি কিংবদন্তী বক্সার মহম্মদ আলি (Mohammed Ali)। তিনি ছবিও আঁকতেন। এটা জানতেন হাতে গুনে।কয়েকজন। এবার জানল বিশ্ব, কারণ তাঁর আঁকা সেই সব ছবি বিক্রি হয়ে গেল চড়া মূল্যে।

আলির মধ্যে একটা শিল্পী সত্বা রয়েছে তা জানত শুধুমাত্র তাঁর ঘনিষ্ঠরাই। এ বার সেই প্রতিভা জানল বিশ্ব। তাঁর আঁকা সেই সব স্কেচ তোলা হয়েছিল নিলামে। যা বিক্রি হল প্রায় ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক নিলাম সংস্থা বোনহামস অকশন হাউসে নিলামে তোলা হয়েছিল বিশ্বের সর্বকালের সেরা বক্সার মহম্মদ আলির আঁকা ২৬টি ছবি। যা প্রায় ১ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়। ছবিগুলির মধ্যে ছিল পেন্সিল-চারকোল এবং রং-তুলিতে আঁকা ড্রইং। ছিল স্কেচ ও পেইন্টিং। আলির আঁকা সমস্ত ছবি মোট ৯ লাখ ৪৫ হাজার ৫২৪ ডলারে বিক্রি হয়। সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে ‘স্টিং লাইক এ বি’ ছবিটি। নিলামে ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারে এই ছবিটি কিনে নিয়েছেন এক ক্রেতা।

Mohammed ali painting

ছবিগুলি নিলামে তুলেছিলেন আর্ট কালেক্টর ও মহম্মদ আলির ঘনিষ্ঠ বন্ধু রডনি হিল্টন। তিনি জানিয়েছেন, “১৯৭৭ সালে মহম্মদ আলি তাঁর প্রথম তিনটি ছবি এঁকেছিলেন বস্টনে বসে। একটি বক্সিং ম্যাচের পর ওই ছবি তিনটি এঁকেছিলেন মহম্মদ আলি।”

বনহ্যাম অকশন সেন্টারের অধিকর্তা জানিয়েছেন, মহম্মদ আলি তাঁর বাবার কাছে আঁকা শিখেছিলেন। স্পোর্টস আর্টিস্ট লিরয় নেইম্যানের কাছেও ছবি আঁকা শিখেছিলেন। সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট মহম্মদ আলিকে অনেকেই চেনে কিন্তু পেন্টার মহম্মদ আলিকে এই প্রথমবার জানল বিশ্ব।

সমতল থেকে পাহাড়: পরিবেশ সুরক্ষায় চলছে প্লাস্টিক অভিযান

starts plastic free program

বিশেষ প্রতিবেদন:  সৈকত শহর দীঘার কে প্লাস্টিক মুক্ত করার অভিযানে নামল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন ও দীঘা উন্নয়ন পর্ষদ। ২০১৯ সালের আগস্ট মাসে দিঘাতে পুরোপুরি প্লাস্টিক মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল এবং বেশ কয়েকজন কর্মীকে নিযুক্ত করা হয়েছিল দীঘা পর্যটক কেন্দ্র এলাকায় যে সমস্ত ব্যবসায়ী এবং পর্যটকরা প্লাস্টিক ব্যবহার করছেন তাদেরকে ধরপাকড় শুরু করার জন্য এবং যারা ব্যাবহার করবেন কিংবা বিক্রি করবেন তাদেরকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হবে , কিন্তু এযাবত প্লাস্টিক মুক্ত করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি তাই আবার পুনরায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দীঘা পর্যটনকেন্দ্রকে প্লাস্টিক মুক্ত করার অভিযানে নামল।

এই অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলা ডেভলপমেন্ট বিভাগের এ ডি এম দিব্যা মুরুগেসান এবং উন্নয়ন পর্ষদের আধিকারিক মানস কুমার মন্ডল এবং রামনগর ১ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বিষ্ণুপদ রায় সহ অন্যান্য কর্তা ব্যক্তিরা দীঘার সৈকত বরাবর যে সমস্ত দোকান এবং বাজারগুলিতে অভিযান চালানো হয় এবং সচেতনামূলক রেলি বের করা হয় কোনভাবেই কেউ যাতে প্লাস্টিকের ব্যবহার না করে তার জন্য জোর দেওয়া হয়

সিকিম থেকে প্লাস্টিক বোতলের নিষিদ্ধ করা হল। অর্থাৎ পর্যটকরা বাড়ি থেকে প্লাস্টিকের জলের বোতল নিয়ে ও যেতে পারবেন না এমন কি সেখানকার কোনো দোকানে ও পাওয়া যাবে না প্লাস্টিকের জলের বোতল।

এই প্রসঙ্গে সিকিম মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিংহ তামাং-এর মন্তব্য পরিষ্কার,পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর জল সেখানে যখন পাওয়া যায় তখন বাইরে থেকে বোতল বন্দি জল আনার কোনো প্রয়োজন নেই। বোতলের জলের চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর জল সেখানে পাওয়া যায়। তাছাড়া পরিবেশ থেকে প্লাস্টিক জাতীয় পদার্থের ব্যবহার বন্ধ করা ও একান্তই প্রয়োজন। তাই এই উদ্যোগে পরিবেশের অনেক উপকার হবে বলে তিনি মনে করেন।

দূষণ প্রতিরোধে সিকিম ভারতের মধ্যে অন্যতম একটি রাজ্য। এর আগে এই রাজ্যকে ১০০ শতাংশ অরগ্যানিক রাজ্য হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই রাজ্যের কোনো জমিতে রাসায়নিক সার ও ব্যবহার করা হয় না। এবার প্লাস্টিক পদার্থ নিষিদ্ধকরণে উদ্যোগী সিকিম সরকার। যদি পূর্বেই সিকিমের করেকটি জায়গায় জলের বোতল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। এ বার গোটা রাজ্যেই এই নিয়ম চালু হতে চলেছে।