অবসরের পর রাজনীতিতে, বিতর্ক জিইয়ে রাখলেন “টার্বোনেটর”

Sports desk: ভারতীয় ক্রিকেটে ‘টার্বোনেটর’ নামে পরিচিত অভিজ্ঞ অফ-স্পিনার হরভজন সিং ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে। ভাজ্জি তার কেরিয়ারে এমন অনেক ইতিহাস লিখেছেন যা বিশ্ব ক্রিকেটে ক্রিকেটের ময়দানে ভারতের তিরঙ্গা পতাকা তুলেছে। হরভজন ১০৩ টেস্টে ৪১৭ উইকেট নিয়েছেন এবং এই ফর্ম্যাটে সর্বোচ্চ উইকেট নেওয়ার তালিকায় ১৪ তম স্থানে রয়েছেন। অনিল কুম্বলে (৬১৯), কপিল দেব (৪৩৪) এবং রবিচন্দ্রন অশ্বিন (৪২৭) এর চেয়ে বেশি উইকেট নিয়ে তিনি ভারতের চতুর্থ সফল টেস্ট বোলার।

হরভজন সিং ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পরে এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সাক্ষাৎকারে সোনালী কেরিয়ারের স্মৃতি শেয়ার করে বলেন, অবসরের পর রাজনীতিতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। এই বিষয়ে তিনি পরে সিদ্ধান্ত নেবেন।

সাক্ষাৎকারে ভাজ্জি বলেন, অবসরের পর রাজনীতিতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। এই বিষয়ে তিনি পরে সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে ওই সাক্ষাৎকারে পর্বে ভাজ্জি কথোপকথনের সময় রাজনীতিতে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। ভাজ্জি বলেন, রাজনীতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া একটি বড় সিদ্ধান্ত হবে।এই ইস্যুতে তিনি সময় নেবেন এবং চিন্তা ভাবনা করে তবেই এই ইস্যুতে সিদ্ধান্ত নেবেন।অভিজ্ঞ এই অফ স্পিনার বলেন, একবার রাজনীতিতে গেলে পরিবারের জন্য সময় বের করা খুব কঠিন হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে এই বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন না।

অবসরের পর ভাজ্জির আইপিএল দলে যোগ দেওয়া নিয়ে জোর জল্পনা চলছে। এই ইস্যুতে ভাজ্জি আইপিএলে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা প্রসঙ্গে বলেন, আমি এখানে পৌঁছেছি শুধুমাত্র ক্রিকেটের কারণে। আমি অবশ্যই আইপিএলে আরও কাজ করব। আমি কোন দলের সাথে যাবো এখনো কিছুই ঠিক হয়নি, তবে এটা নিশ্চিত যে যখনই এটা হবে, আমি এই বিষয়ে সবাইকে জানাবো। ভাজ্জি বলেন, দুই দলের সাথে আলোচনা চলছে, তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি।

হরভজন সিং’র বর্ণময় ক্রিকেট কেরিয়ারে বিতর্ক কিছু কম হয়নি।
২০০৮ সালের আইপিএল ম্যাচ চলাকালীন হরভজন সিং শ্রীসহ্নকে চড় মেরেছিলেন। যা নিয়ে বিতর্কের জল অনেক দূর পর্যন্ত গড়ায়। ওই সাক্ষাৎকারে ভাজ্জি অনুতাপের সুরে বলেন,
শ্রীসহ্নকে চড় মারার জন্য তিনি অনুতপ্ত। প্রসঙ্গত, ভাজ্জি যখন শ্রীসহ্নকে থাপ্পড় মারেন, শ্রীসহ্ন ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে শুরু করে, ওই ভিডিও মুহুর্তে সোশাল বেশ ভাইরাল হয়েছিল।

মাঙ্কি গেট কেলেঙ্কারি মাঠেই শেষ হওয়া উচিত ছিল এমনই মত ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং’র। “মাঙ্কিগেট” বিতর্ক নিয়ে ভাজ্জি বলেন, ওই বিতর্ক মাঠেই শেষ হলে ভালো হতো। কেউ কেউ আগুনে ঘি মেশাতে পছন্দ করেন। লোকেরা অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসকে অনেকে উস্কে দিয়েছিল। কিন্তু ওই বিবাদের পর আমরা ভালো বন্ধু হয়ে যাই।

বাইশ গজে স্পিনের ভেল্কিতে বিপক্ষ দলকে ধরাশায়ী করে বাজিমাৎ সঙ্গে বিতর্ক; হরভজন সিং’র ক্রিকেট কেরিয়ারে যুগপৎ। দুই’র মিশেলে ভারতীয় ক্রিকেটের “টার্বোনেটর” অবসরের পরেও বিতর্ক জিইয়ে রাখলেন, রাজনীতির উঠোনে অভিষেক ইস্যুতে।

East Bengal Club: বিভাজনের রাজনীতির প্রতিবাদে মশাল জ্বালিয়েছিল লাল-হলুদ তাবু

East Bengal Club

East Bengal Club
Sports desk: হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সকলের আলাদা আলাদা উপাসনা স্থান থাকে। ফুটবলের প্রতিটি ক্লাব প্রতিষ্ঠান হল এক একটি উপাসনা স্থান। এই উপাসনার স্থান ফুটবল ক্লাব৷ প্রতিষ্ঠান সকলকে একত্রিত করে। এখানে কোনো ধর্মের বিভাজন নেই। সবার একটাই লক্ষ্য “মায়ের সম্মান রক্ষা করা”। এমন আবহে রাষ্ট্রসংঘ প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর আন্তজার্তিক ফুটবল দিবস পালন করে থাকে লক্ষ্য একটাই, জীবনের একটি অবলম্বন এবং সুন্দর খেলা উদযাপনের কামনায় বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ ফুটবলকে সম্মান জানাতে এই দিবস পালন করে থাকে।

কিন্তু ফুটবল খেলার মাঠে “বিভাজনের রাজনীতির” অনুপ্রবেশ মহান এই খেলার গরিমাকে কলুষিত করার চেষ্টা করেও মুখ থুবড়ে পড়ে প্রতিবাদের পথে হেঁটে। বিশেষত ব্রিটিশ শাসিত ভারতে বাংলা, বাঙালি এবং ফুটবল যখন মুক্তি আন্দোলনের বহ্নিশিখা প্রজ্জ্বলিত করে তুলছে, ওই সময়ে ফুটবল খেলার বল গড়ানোর মাঠে বিভেদের কাঁটা বিছিয়ে দেওয়া হয় সুচতুর কৌশলে। প্রথমবার কলকাতা ময়দানে ব্রিটিশ ভারতে প্রতিবাদে মশাল হাতে নিয়ে প্রতিরোধের পথে হাটে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব প্রতিষ্ঠান শিরদাঁড়া সোজা রেখে।

চল্লিশের দশকে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের খেলোয়াড় আব্দুল কাদের বক্স এর এই কথাগুলো আজও প্রাসঙ্গিক।শুধু প্রতিষ্ঠান কেনো, পৃথিবীর সমস্ত মাতৃভূমির সম্মান রক্ষার্থে এই চিন্তাধারা যদি কার্যক্ষেত্রে পরিলক্ষিত হয়, তাহলে হয়তো পৃথিবী থেকে এই জাতি বিদ্বেষ, এই সাম্প্রদায়িক হানাহানি দূর হবে, নয়তো নয়।

সালটা ১৯৪০, বাংলা জুড়ে তখন সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে। মুসলিম লীগের সাথে জড়িত কয়েকজন মহামেডান ক্লাবের কর্মকর্তা অভিযোগের ভিত্তিতে ব্রিটিশ শাসিত আই. এফ. এ. কলকাতা লীগে মহামেডান ক্লাবের খেলা স্থগিত করে দিয়েছিল। তার আগের বছরই ব্রিটিশ শাসিত আই. এফ. এ.’র অন্যায়ের প্রতিবাদে ইস্টবেঙ্গল ক্লাব, মহামেডান এবং কালীঘাট জোট বেঁধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল। আই. এফ. এ. তাদের সাসপেন্ড করলে ওই ত্রয়ী ফুটবল ক্লাব প্রতিষ্ঠান দমে না গিয়ে বি. এফ. এ. নামে আলাদা সংস্থা তৈরি করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছিলো ব্রিটিশ শাসিত আই. এফ. এ’কে।

অবশেষে আই. এফ. এ. ক্ষমা চেয়ে তাদের দোষ স্বীকার করতে বাধ্য হয়৷ ১৯৪০ এর এই হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যখন কোনো ক্লাব সামান্য প্রতিবাদটুকু দেখানোর সাহস পায়নি, ওই সময়ে দাঁড়িয়ে গর্জে উঠেছিলো ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। ক্লাব প্রেসিডেন্ট নলিনী রঞ্জন সরকার দীপ্ত কন্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, “খেলার মাঠে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদ তৈরি করার অপচেষ্টা তারা মানবেন না, মহামেডান স্পোর্টিং’কে খেলায় নিতে হবেই, আর যতক্ষণ না সেটা হচ্ছে সর্বাত্মক তারা আন্দোলন গড়ে তুলবেন।”

ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের লাগাতার প্রতিবাদে পিছু শেষ অবধি পিছু হঠল আই. এফ. এ। লিগে সব দলের যখন প্রায় ৮ টা থেকে ১০টি করে খেলা হয়ে গিয়েছে, তখন তারা বাধ্য হল মহামেডান স্পোর্টিং’কে লিগে অন্তর্ভুক্তি করতে। জয় হলো ফুটবলের, জয় হলো মনুষ্যত্বের, জয় হলো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির। মুখ থুবড়ে পড়লো বিভাজনের ঘৃণ্য চক্রান্ত। দেরিতে শুরু করেও সমস্ত খেলা খেলে ওই বছর মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব লীগ চ্যাম্পিয়নের শিরোপা অর্জন করে।

ফুটবল মাঠ হোক বা দেশের ভূমি – সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিই পারে সব কিছুকে রক্ষা করতে, সমস্ত বাঁধা-বিঘ্ন দূর করে বিজয়ীর শিরোপা ছিনিয়ে আনতে৷

Alapan Banerjee: আলাপন মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে রাজনীতির রং পেয়েছে নয়াদিল্লি

Alapan Banerjee

নিউজ ডেস্ক: আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Alapan Banerjee ) বদলির নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যে মামলা চলছে তাতে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হল, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে রয়েছে রাজনৈতিক প্রভাব (political influence)। এদিন কেন্দ্রের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা (Tushar Mehota) এই মন্তব্য করেছেন।

উল্লেখ্য, সেন্ট্রাল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রাইবুনাল আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামলাটি দিল্লির প্রিন্সিপাল বেঞ্চে (principle bench) সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু কলকাতা হাইকোর্ট সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যায় কেন্দ্র। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আগেই শীর্ষ আদালতে কলকাতা হাইকোর্টের এক্তিয়ার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। সেই মামলার শুনানিতে মেহতা এদিন বলেন, আলাপন মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশে রয়েছে রাজনীতির রং ও প্রভাব। এ ধরনের পর্যবেক্ষণ এড়িয়ে চলাই উচিত।

অন্যদিকে, আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে এই মামলায় সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি। যদিও সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ এম খানউইলকর ও বিচারপতি সিটি রবিকুমারের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার এই মামলার রায় দান। স্থগিত রাখে।

উল্লেখ্য, আলাপন মামলা কেন দিল্লির প্রিন্সিপাল বেঞ্চে সরানো হল তা জানতে চেয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্যের বিষয় দিল্লিতে পাঠানোর জন্য আপত্তি জানিয়েছিল হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ। এমনকি হাইকোর্ট এটাও বলেছিল যে, আলাপন প্রকৃত ন্যায় বিচার পাচ্ছেন না। তাই আলাপনের মামলা দিল্লিতে সরানো যাবে না। আলাপন মামলা সরানোর এই নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর পরিপন্থী।

হাইকোর্টের ওই পর্যবেক্ষণের উত্তরে সলিসিটর জেনারেল সর্বোচ্চ আদালতে বলেন, এখানে যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর কথা কোথা থেকে আসছে? ক্যাটের চেয়ারম্যান শুধু মামলাটি এক বেঞ্চ থেকে থেকে অন্য বেঞ্চে স্থানান্তর করেছেন। হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে রয়েছে রাজনীতির রং। অন্যদিকে আলাপনের আইনজীবী সিংভি বলেন, কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ কাউকে আঘাত করেনি। আলাপন পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার। তিনি বরাবরই কলকাতাতেই কাজ করেছেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি কলকাতাতেই থাকছেন। তাই এই মামলা অবশ্যই কলকাতাতেই থাকা উচিত। উভয় পক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর দুই সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ সোমবার আলাপন মামলার রায় দান স্থগিত রাখেন।

রাজনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় Farm Laws প্রত্যাহার করলেন মোদী

Anil-J-Ghanawat

News Desk: কৃষকদের স্বার্থের থেকেও রাজনীতি বিশেষত ভোট রাজনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (narendra modi)। সে কারণেই মোদী কৃষি আইন বাতিল করলেন।

শনিবার এই মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের তৈরি করা চার সদস্যের কমিটির অন্যতম সদস্য তথা শ্বেতকারী আন্দোলনের নেতা অনিল জে ঘানাওয়াত (Anil J Ghanawat)। একই সঙ্গে ঘানাওয়াতের দাবি, কৃষি আইন বাতিল করার ফলে আগামী দিনে কৃষিক্ষেত্রে বড়সড় সংস্কারের বিষয়টি ধাক্কা খেল।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর থেকে মোদী সরকারের কৃষি আইন নিয়ে গোটা দেশজুড়ে প্রবল আন্দোলন শুরু হয়েছিল। বিষয়টি গড়িয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। কৃষি আইন নিয়ে কৃষকদের দাবি, সরকারের পাল্টা দাবি, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শীর্ষ আদালত (supreme Court) চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। সেই কমিটির অন্যতম সদস্য ঘানাওয়াত। ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত এই কমিটি নতুন কৃষি আইন নিয়ে তাদের মতামত কেন্দ্র ও সুপ্রিম কোর্টের কাছে জমা দিয়েছে।

modi farm laws withdrawal announcement

তিন কৃষি আইন বাতিল (cancel) সম্পর্কে ঘানাওয়াত শনিবার বলেন, কৃষকদের স্বার্থকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করলেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবর্তে তিনি ভোটের রাজনীতিকেই প্রাধান্য দিলেন। শ্বেতকারী আন্দোলনের এই নেতা আরও বলেছেন, এখন মনে হচ্ছে সরকার তাঁদের দেওয়া রিপোর্টটি হাত দিয়ে ছুঁয়েও দেখেনি। কৃষকদের কীভাবে ভাল হবে সে বিষয়টিকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে উত্তরপ্রদেশ(utter Pradesh), পাঞ্জাব-সহ (Panjab) বিভিন্ন রাজ্যের কিভাবে ভোটে জেতা যাবে সেই বিষয়টিকে মোদী সর্বাধিক গুরুত্ব দিলেন। এটা মোদী সরকারের সবচেয়ে বড় এক নৈতিক পরাজয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে কৃষিক্ষেত্রে সংস্কারের সব দরজা বন্ধ হয়ে গেল।

ঘানাওয়াত আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মতো তাঁরা তিন মাস ধরে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে তবেই কৃষি আইন নিয়ে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছিলেন। সেই রিপোর্টে মোদী সরকারকে তাঁরা কৃষি আইন নিয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছিলেন। দিয়েছিলেন একাধিক সংশোধনের প্রস্তাবও। ওই পরামর্শ ছিল কৃষকদের উন্নতি সাধনের জন্য। কিন্তু সরকার সেই রিপোর্ট পড়ে না দেখে, একেবারে কৃষি আইন বাতিল করে হাত ধুয়ে ফেললেন।

এ ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ফলে হয়তো কিছু সস্তা হাততালি কুড়ানো যায়, কিন্তু তাতে আখেরে দেশ তথা কৃষকদের ক্ষতি হল। কৃষকদের উন্নতি সাধনের জন্য যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল তা পুরোপুরি বানচাল হয়ে গেল। ঘানাওয়াত এদিন তাঁদের দেওয়া রিপোর্টটি প্রকাশ করার হুমকিও দিয়েছেন।

Revolution: অক্টোবর বিপ্লব নাকি নভেম্বর বিপ্লব, ধন্দ কাটান

November-Revolution

Special Correspondent, Kolkata: এক পক্ষকালের ফারাকে রুশ বিপ্লবের সময়কালটাই যেন বদলে গিয়েছে ৷ যদিও এই বিপ্লবের সময়কালটা বা মাসটা বদলে গেলেও সেই ইতিহাস তো আর বদলাইনি ৷ তবু মানুষের মনে অনেক সময় ধন্দ দেখা যায় রুশ বিপ্লবের সময়টা নিয়ে – সেটা অক্টোবর নাকি নভেম্বর কি বলা যায় ৷

১৯১৭ সালের রাশিয়ায় যে বিপ্লব ঘটে গিয়েছিল তা ইতিমধ্যেই শতবর্ষ পেরিয়ে গিয়েছে ৷ তবে সেই বিপ্লবের প্রভাব তো শুধু রাশিয়া বলে নয় আরও অন্য দেশেও রয়েছে ৷ যদিও আবার তিন দশক আগে সোভিয়েট রাশিয়ার ভেঙে যাওয়ায় রাশিয়ার শক্তি আর তেমন নেই বলা হয়ে থাকে ৷ তা স্বত্তেও বিশ্বে এখনও রুশ বিপ্লবের ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে , এখনও সেই বিপ্লব প্রাসঙ্গিক বলে মনে করা হচ্ছে ৷ অর্থাৎ এই বিপ্লবকে ঘিরে আলাপ আলোচনা বিতর্ক চলছেই ৷ তেমনি আবার প্রশ্ন উঠছে এই বিপ্লবের সময় নিয়ে।

এটা ঘটনা ইতিহাসের পাতায় লেখা রয়েছে অক্টোবর বিপ্লব। কিন্তু গোটা বিশ্ব এখন ওই বিপ্লবকে চেনে নভেম্বর বিপ্লব নামে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্নটা ওঠে – একই ঘটনা তবু দুই নামে চিহ্নিত কেন? এ এক অদ্ভুত ঘটনা যা পৃথিবীর আর কোনও ঐতিহাসিক ঘটনার ক্ষেত্রে ঘটেনি। এমন নজিরও বিরল যেখানে – বিপ্লবের সময়টাই বদলে গিয়েছে ।

এক পক্ষ কালের ব্যবধান- পুরনো ধারণা অনুসারে ২৪ অক্টোবর আর নতুন ধারণায় ৭ নভেম্বর ৷ এরফলে দিনক্ষণ মাস, তারিখ, আমূল পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছে। পুরোটাই ঘটে গিয়েছে ক্যালেন্ডারের কারসাজিতে। আর ধন্দ তৈরি হয়েছে- কেন

যাহা অক্টোবর বিপ্লব তাহাই নভেম্বর বিপ্লব বলা হয় ?
গত শতাব্দীর শুরুতে যখন গোটা ইউরোপ জাতীয়তাবাদী এবং গণতান্ত্রিক ভাবধারায় উত্তাল হয়েছে তখনও রাশিয়ায় রোমানভ বংশীয় জারদের স্বৈরতান্ত্রিক শাসন চলছে ৷ ইশ্বর প্রদত্ত ক্ষমতায় বিশ্বাসী জার ও তাদের অনুগত অভিজাতরাই শাসনের সর্বেসর্বা৷ বিপ্লবের মাধ্যমে শুধু তাদের হাত থেকে ক্ষমতা পরিবর্তন নয় তাদের পদ্ধতির সময় গণনাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল রাশিয়াকে ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে।

সেই সময় দু’ধনের ক্যালেন্ডারের অস্তিত্ব ছিল পৃথিবীতে— গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার এবং জুলিয়ান ক্যালেন্ডার। রুশ বিপ্লব যখন ঘটে, সেই সময় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে দিনক্ষণ মেনে চলা হত রাশিয়ায়। যদিও একই সময়ে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে চালু হয়ে গিয়ে ছিল জুলিয়ান ক্যালেন্ডার। পুরনো রাশিয়ার সময় গণনার পদ্ধতি অর্থাৎ গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার অনুসারে বিপ্লবের সময়কাল ছিল ২৪ অক্টোবর। আর সেটাই আবার জুলিয়ানের ক্যালন্ডরের দৌলতে নানা দেশে হয়ে গেল ৭ নভেম্বর।

ইতিহাসের পাতায় এখনও পুরনো সময় পদ্ধতি মেনে ‘অক্টোবর বিপ্লব’ শব্দবন্ধ আজও লেখা হয়ে চলেছে। কিন্তু রাশিয়া-সহ বেশির ভাগ দেশেই এই বিপ্লবের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় নভেম্বর মাসে। রাশিয়া তো এখন আর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে আটকে নেই উল্টে জুলিয়ানের ক্যালেন্ডারে হাত ধরেই এখন তার সময় এগিয়ে চলেছে। ফলে সারা পৃথিবীই এখন অক্টোবর বিপ্লবকে নভেম্বর বিপ্লব নামে চিনছে।

বিগ ফ্লপ দেব সরকারকে ১০ গোলে হারানোর চ্যালেঞ্জ অভিষেকের

biplab-abhishekh

News Desk: ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবকে ‘বিগ ফ্লপ দেব’ বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ত্রিপুরার আগরতলায় এক সভায় অভিষেক বাছা-বাছা বাক্যবাণ নিক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের বিরুদ্ধে। অভিষেক বলেন, রবিবার হল ছুটির দিন। এ দিনই ছুটি হয়ে গেল বিগ ফ্লপ দেববাবুর। গতকাল আমরা কোর্টে জিতেছি। ২০২৩-এ এই রাজ্যে আমরা ভোটে জিতবে।

অভিষেক এদিন বিপ্লব দেবকে একেবারে তুলোধোনা করে ছাড়েন। অভিষেক বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার একটা ক্লাবের সম্পাদক হওয়ার মত যোগ্যতাও নেই। আইন-আদালত কোনও কিছুই মানেন না মুখ্যমন্ত্রী। লক্ষ লক্ষ লক্ষ যুবক যুবতীকে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কিন্তু কাউকে একটিও চাকরিও দেননি। বরং উনি বহু মানুষের চাকরি খেয়েছেন। ১০ হাজার শিক্ষককে পথে বসিয়েছেন। ওনাকে দেখে ঠিক মহম্মদ বিন তুঘলক বলে মনে হয়। তবে এই মুহূর্তে বিপ্লব দেবকে সরানোর তো কোনও রাস্তা নেই। এজন্য আমাদের আর কয়েকটা মাস অপেক্ষা করতে হবে। ২০২৩-এর ভোটেই ত্রিপুরাবাসী বিপ্লব দেবকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে।

আগরতলার এদিনের সভায় অভিষেক অবশ্য বিজেপি সরকারের তুলনায় প্রাক্তন বাম সরকারকে কিছুটা বাড়তি নম্বর দিয়েছেন। তিনি বলেন, বিজেপি সরকারের চেয়ে সিপিএম সরকার কিছুটা হলেও ভাল ছিল। কারণ সে সময় মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা ছিল। মানুষ শান্তিতে রাস্তায় চলাচল করতে পারতেন। কিন্তু বিজেপি সরকারের আমলে সেটা হচ্ছে না। এখানে কেউ বাইরে থেকে এলে তাকে হোটেলের ঘর দেওয়া হচ্ছে না। খাবার দেওয়া হচ্ছে না। এমনকী, গাড়ি ভাড়া নিতে চাইলে তাও মিলছে না। এটাই ত্রিপুরার বিজেপি সরকারের সংস্কৃতি। বিজেপি আর সিপিএম সরকারের মধ্যে এমন কিছু তফাৎ নেই। তবে আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস এই রাজ্যে ক্ষমতায় এলে মানুষ স্বস্তির শ্বাস নিতে পারবে। আগামী দিনে বিজেপির উন্মাদ আর সিপিএমের হার্মাদের তৃণমূল বরবাদ করে ছাড়বে।

এদিনের সভায় অভিষেক ঘোষণা করেন, ডিসেম্বর মাসেই ত্রিপুরায় আসবেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিবেকানন্দ ময়দানে সভা করবেন নেত্রী। তবে সেই সভার তারিখ এখনও স্থির হয়নি। অভিষেক বলেন, আজ আমি খুঁটিপুজো সারলাম। ২০২৩- এ বিজেপির বিসর্জন হয়ে যাবে। আজ গোটা দেশ জানে, বিজেপি ভাইরাসের একটাই ভ্যাকসিন সেটা হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের আসন্ন পুরভোটে মানুষকে বিজেপির বিরুদ্ধে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ দেওয়ার আহ্বান জানান অভিষেক।

তিনি বলেন এখন পুরভোটে প্রথম ডোজ দিন। দ্বিতীয় ডোজ দেবেন ২০২৩- এর বিধানসভা নির্বাচনে। এদিন সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীকে হুমকি দিয়ে অভিষেক বলেন, ২০২৩-এ আমি এখানে ঘরবাড়ি নিয়ে বসে থাকব। ক্ষমতা থাকলে আমাকে আটকাও। ২০২৩- এর নির্বাচনে বিজেপিকে ১০ গোলে হারাবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অভিষেক।

আগামীদিনে ভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বিজেপি: প্রশান্ত কিশোর

Prashant Kishor

News Desk: কংগ্রেসকে কার্যত আরও হতাশার মধ্যে ফেলে দিলেন ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোর। বৃহস্পতিবার প্রশান্ত স্পষ্ট জানালেন, আগামী আরও কয়েক দশক ভারতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকছে বিজেপি। গেরুয়া দল যদি ক্ষমতায় নাও থাকে তবুও তারা ভারতীয় রাজনীতির ভর কেন্দ্র হিসাবেই থাকবে।

এই দল যদি গোটা দেশে ৩০ শতাংশ ভোট পায় তবে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপির প্রাসঙ্গিকতা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। সম্প্রতি কেন্দ্রের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে বিজেপির বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ অনেক বেড়েছে। মোদির প্রতি মানুষ ক্ষুব্ধ। কিন্তু তাই বলে কেউ যদি ভাবেন, মানুষ মোদিকে ছুঁড়ে ফেলে দেবে তা হবে না। বরং মোদি যদি পরাজিত হন তাতেও বিজেপির প্রাসঙ্গিকতা এতটুকু কমবে না। বৃহস্পতিবার গোয়ায় বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন প্রশান্ত কিশোর।

প্রশান্ত স্পষ্ট বলেছেন ঠিক যেভাবে বিগত ৪০ বছর কংগ্রেস দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ছিল বিজেপি ও তেমনই আগামী কয়েক দশক দেশের রাজনীতির মূল আকর্ষণ হিসাবে থেকে যাবে। অর্থাৎ বিরোধী দলগুলিকে লড়তে হবে বিজেপির সঙ্গেই।

একই সঙ্গে প্রশান্ত এদিন কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধীর সমালোচনাও করেছেন। তিনি স্পষ্ট বলেছেন, রাহুল গান্ধী বিজেপিকে নিয়ে যে মূল্যায়ন করেছিলেন সেটা ছিল ভুলে ভরা। রাহুল মনে করেছিলেন, তাঁকে কিছুই করতে হবে না। সাধারণ মানুষ বিজেপিকে ছুড়ে ফেলে দেবে। এটা যে ভুল ছিল সেটা তো ২০১৯- এর লোকসভা নির্বাচনেই প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। রাহুল বোঝার চেষ্টাই করলেন না, মোদি কেন এত জনপ্রিয়। মোদির শক্তি এবং দুর্বলতা কোথায়। যতদিন না মোদি সম্পর্কে রাহুল সঠিক বিশ্লেষণ করবেন ততদিন তিনি মোদির বিরুদ্ধে লড়াই করার জায়গায় পৌঁছতে পারবেন না।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাজনীতির আঙিনায় প্রশান্ত কিশোর বিজেপির তীব্র বিরোধী। কিন্তু এই মন্তব্যের ক্ষেত্রে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে তাঁর চরম পেশাদারিত্ব। স্বাভাবিকভাবেই দেশের সেরা ভোট কুশলীর এই মন্তব্যে রাজনীতিতে আলোড়ন তৈরি হয়েছে। এই মুহূর্তে গোয়ায় রয়েছেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে কাজ করছেন। এদিনই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গোয়ায় পৌঁছেছেন। ঠিক সেদিনই প্রশান্তর এই মন্তব্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

পিকের এদিনের মন্তব্য নিয়ে যথারীতি বিজেপি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। গেরুয়া নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি সম্পর্কে পিকে যে মন্তব্য করেছেন সেটা একজন পেশাদার মানুষ হিসেবেই তিনি বলেছেন। পিকে যদি এই কথা না বলতেন তাহলও এটাই প্রকৃত বাস্তব। ভারতীয় রাজনীতির গতি-প্রকৃতি আগামী পাঁচ দশক যে বিজেপি দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হবে এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। তাই বিজেপিকে অপ্রাসঙ্গিক করা কোনওভাবেই সম্ভব নয়। এদিন এই বাস্তব চিত্রটাই মেনে নিয়েছেন পিকে।

একই সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছে, গণতন্ত্রে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় কংগ্রেস প্রতিদিনই দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিজেপি চায়, শক্তিশালী গণতন্ত্রিক পরিকাঠামো গঠনের জন্য একটা মজবুত বিরোধীদল থাকুক। কিন্তু দেশে এই মুহূর্তে কোনও শক্তিশালী বিরোধী দল নেই। এটা দেশের পক্ষে আদৌ মঙ্গলের নয়।

বিজেপির এই সাফল্যের অন্যতম কারণ বিরোধী দলের দুর্বলতা বলে জানিয়েছেন প্রশান্ত। তিনি বলেছেন, বিরোধী শিবিরের ভোট ভাগাভাগি কারণেই বিজেপি নির্বাচনী ময়দানে ফায়দা লুটছে। স্পষ্টভাবে বলতে গেলে, এই মুহূর্তে লড়াইটা চলছে দুই-তৃতীয়াংশের সঙ্গে এক-তৃতীয়াংশের। দেশের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট একাধিক দলের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়। কংগ্রেসের প্রভাব কমার কারণেই আঞ্চলিক দলগুলি মাথাচাড়া দিয়েছে। এই আঞ্চলিক দলগুলি জাতীয় রাজনীতিতে তেমন কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না। তাই বিজিপিকে টক্কর দিতে হলে কংগ্রেসকেই শক্তি অর্জন করতে হবে।

মানুষের ভালবাসাই তাঁকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে এনেছে, বললেন লালুপ্রসাদ

lalu prasad

National Desk: শারীরিক সমস্যা ও জেলবন্দি থাকায় শেষ দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেননি আরজেডি নেতা লালু প্রসাদ যাদব। শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘদিন ভর্তি ছিলেন দিল্লির এইমসে। গত সপ্তাহেই তিনি দিল্লি থেকে পাটনায় ফিরেছেন। পাটনায় ফিরেই মঙ্গলবার জানালেন, মানুষের ভালোবাসার কারণেই তিনি ফিরে আসতে পেরেছেন। শুধু ফিরে আসাই নয়, আবার তিনি আগের মত সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেবেন বলেও জানালেন লালু।

এদিন সংবাদ সংস্থা এএনআইকে লালু বলেন, শারীরিক অসুস্থতা এবং জেলের ভিতর থাকায় আমি গত দু’টি বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নিতে পারিনি। এই মুহূর্তে রাজ্যে দুটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন হচ্ছে। উপনির্বাচনের আগেই আমি বিহারের ফিরতে পেরেছি। আমি ওই দুই কেন্দ্রে প্রচারে যাব। মানুষের ভালবাসাই আমাকে বিহারে ফিরিয়ে এনেছে। মানুষের ভালবাসার প্রতিদান তিনি শীঘ্রই ফিরিয়ে দেবেন। লালু আরও বলেন, ২৭ অক্টোবর তিনি কুশেশ্বর আস্থান ও তারাপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখবেন।

সম্প্রতি কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ছিন্ন করার কথা বলেছেন লালু। পাশাপাশি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এদিন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারকে তীব্র কটাক্ষ করেন। লালু বলেন, নীতীশ অত্যন্ত লোভী ও ক্ষমতা পিপাসু। যে কারণে এখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। অন্যদিকে বিজেপিকে আক্রমণ করে বলেন, মোদির আমলে সামান্য ভোজ্যতেলের দামও আকাশছোঁয়া হয়েছে। সরষের তেল ছাড়া মানুষ কী দিয়ে রান্না করবে? ডিজেল তো এখন ঘিয়ের থেকেও দামি হয়ে গিয়েছে। লালু বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। পরিযায়ী শ্রমিকরা নিদারুণ কষ্টে পড়েছেন। কিন্তু মোদি সরকার এসব দেখতেই পাচ্ছে না। তারা প্রতিদিন পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়িয়ে চলেছে। ভোজ্যতেল মানুষের আয়ত্বের বাইরে নিয়ে চলে গেছে। অন্যদিকে হাজার হাজার মানুষ কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছেন। কিন্তু এসব কথা ভাবার মত সময় মোদির নেই। সাধারণ মানুষকে বাঁচতে হলে এই দলকে আগে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।

কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে লালু বলেন, জোট সবসময় সম মানসিকতাসম্পন্ন দলগুলির মধ্যে হয়। রাজ্যস্তরে আমরা কংগ্রেস, বাম-সহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে জোট করেছি। কংগ্রেসকে আমরা যে ধরনের সহযোগিতা করেছি অন্য কোনও দল তা করেনি। কংগ্রেস অত্যন্ত পুরনো দল। জাতীয় স্তরে তাদের স্বীকৃতি রয়েছে, আমরা সেটা মানি। কিন্তু ওরা আমাদের প্রাপ্য সম্মান দেয়নি। তাই কংগ্রেসের সঙ্গে পথ চলার কোনও অর্থ হয় না।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বিহার শাসন করেছে লালুপ্রসাদ যাদবের আরজেডি। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী থেকে কেন্দ্রে রেল মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন আরজেডি সুপ্রিমো। কিন্তু ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন বিহারে পশুখাদ্য কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন লালু। ওই কেলেঙ্কারির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে জেলে ছিলেন তিনি। তবে জেলে থাকলেও বেশিরভাগ সময়ই তিনি কাটিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের রিমসে। চলতি বছরের প্রথম দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় লালুকে দিল্লির এইমসে ভর্তি করা হয়েছিল। এইমসের চিকিৎসকদের সম্মতি মেলায় গত সপ্তাহেই লালু দিল্লি থেকে পাটনা ফিরেছেন।

ফুটবল থেকে রাজনীতি: কলকাতা ময়দানের সেরা বাঙালি স্ট্রাইকার দীপেন্দু বিশ্বাস

Dipendu Biswas

বিশেষ প্রতিবেদন: তিনি একমাত্র ফুটবলার যিনি কলকাতা মাঠে তিন প্রধানের জার্সিতে অধিনায়ক হয়েছেন। ভারতীয় সিনিয়র দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি।স্ট্রাইকারের পা থেকে এসেছে ক্লাব ফুটবলে ২৫০ এর বেশী গোল। তিনি দীপেন্দু বিশ্বাস (Dipendu Biswas)।

দীপেন্দূর বাবা বাঙালী আর মা ছিলেন কেরালার বাসিন্দা। স্বাভাবিকভাবেই তার জিনের মধ্যেই ছিল ফুটবল এবং রাজনীতি। আর দুটোই একসঙ্গে করেছেন তিনি নিজে। ১৯৯৬ সালে জামশেদপুরের টাটা ফুটবল একাডেমি থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষে মোহনবাগানে যোগদান।

Dipendu Biswas in East Bengal

দু’বছর (১৯৯৬, ১৯৯৭) সেখানে খেলে ১৯৯৮য়ে ইস্টবেঙ্গলে চলে যান। ১৯৯৯ সালে আবার মোহনবাগানে ফেরেন। সেখান থেকে দু’ বছরের জন্য (২০০০, ২০০১) ইস্টবেঙ্গলে ফেরা। ২০০২ আর ২০০৩ মহমেডানে কাটিয়ে ২০০৪য়ে তিনি মাহীন্দ্রা ইউনাইটেডে যোগ দেন। ২০০৫ আর ২০০৬য়ে মোহনবাগানে ফিরে আসেন। আর ২০০৭য়ে আবার খেলেন ইস্টবেঙ্গলে। ২০০৮য়ে যান জর্জ টেলিগ্রাফে। ২০০৯য়ে তৃতীয়বারের জন্য যান মহমেডানে এবং ২০১০য়ে সেখানে খেলে ২০১১তে ভবানীপুরে যান।

Dipendu Biswas with pele

২০১২তে আবার ফেরেন মোহনবাগানের হয়ে খেলার জন্য। ২০১৩তে আবার তিনি মহমেডানে যান। ২০১৪ অবসরে থেকে, ২০১৫তে টালিগঞ্জ অগ্রগামীর হয়ে খেলেন, কোচ হবার অফার ফিরিয়ে দিয়ে। প্রায় দুই দশক ভারতীয় ফুটবলে দাপিয়েও তখনো ফুটবলের নেশায় বুঁদ ছিলেন তিনি৷ ২০১৬তে মহমেডানের হয়ে শেষবারের মত খেলেন তিনি। ভারতের হয়ে খেলেছেন প্রাক অলিম্পিক, প্রাক বিশ্বকাপ, এশিয়া কাপ, সাফ গেমস আর আফ্রো-এশিয়ান গেমসে।

২০১৭তে মহমেডানের ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান হন তিনি। ২০১৯য়ে তাদের কোচ হন আর ২০২০তে তিনি ছিলেন একই সঙ্গে মহমেডানের সেক্রেটারী ও টেকনিকাল ডিরেক্টর। তারই অধীনে মহমেডান দল ৮ই অক্টোবর ২০২০ থেকে আইলীগের ২য় ডিভিসনে খেলতে নেমেছিল কলকাতায়।

Dipendu Biswas witm mamata

রাজনীতির ময়দানে প্রবেশ ২০১৪সালে। বসিরহাট থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়ে বিজেপি-র শমীক ভট্টাচার্যর কাছে হেরে যান তিনি। ২০১৬র বিধানসভা ভোটে সেই বিজেপি-র শমীক ভট্টাচার্যকেই ২০০০০ ভোটেরও বেশী ব্যবধানে হারিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে ৫ বছরের জন্য বিধানসভা সদস্য হন তিনি। তারপর বহু পথ পেরিয়ে এখন, এই মুহূর্তে তিনি রাজনীতির পেনাল্টি বক্সের বাইরে।

Dipendu Biswas in BJP

দীপেন্দু জাতীয় লীগ জেতেন মোট ৩ বার, যার মধ্যে ২বার ছিল মোহনবাগানের হয়ে (১৯৯৭ – ১৯৯৮ আর ১৯৯৯ – ২০০০) আর ১বার ইস্টবেঙ্গলের হয়ে (২০০০ – ২০০১)। ২০১৪ সালে তার নিজস্ব ওয়েবসাইট চালু হয়। পি কে ব্যানার্জীর প্রিয় ছাত্র তাকে নিয়ে প্রবল আন্তঃক্লাব টানাটানি প্রমাণ করে ভারতীয় ফুটবলে তার কার্যকারিতা।

Bihar: ‘আব কেয়া বানসুরি বাজয়াগা কানহাইয়া?’ বেগুসরাই উত্তাপহীন

kanhaiya kumar

নিউজ ডেস্ক: সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের ব্রেকিং দেখেও চমকে যাচ্ছেনা বিহার (Bihar) তথা দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক এলাকা বেগুসরাই (Begusarai)। সিপিআই (CIP) জেলা কার্যালয়ে তেমন হেলদোল নেই। যে টেবিলে বসে রাজনৈতিক ঝড় তুলতেন কানহাইয়া কুমার (Kanhaiya Kumar ) সেখানে গুটিকয়েক পুরনো পোড়খাওয়া নেতা বসে, আছে কিছু নতুন যুব কর্মী।

শুধু সিপিআই দলীয় দফতরের বাইরে একের পর এক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা বাইক রেখে এক্সক্লুসিভ বাইট নিতে মরিয়া। এই সবের কেন্দ্রে কানহাইয়া কুমার, যিনি সদ্য কমিউনিস্ট পার্টি (CPI) ত্যাগ করে কংগ্রেসে (INC) যোগ দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: Politics: নেহরু থেকে কানহাইয়া, কংগ্রেসের ‘বাম’ নেতারা বরাবর সুপারহিট

‘জিসকা যানা থা ওহ চলা গেয়া, কোই ফরক নেহি পড়তা। কানহাইয়া সে পহলে সিপিআই থা, উসকে বাদ ভি রহেগা।’ (যার যাওয়ার সে চলে গেছে। কানহাইয়ার আগেও সিপিআই ছিল, ওর পরেও থাকবে)। সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন সিপিআই বিহার রাজ্য পরিষদের নেতা তথা বেগুসরাই জেলা সম্পাদক অবধেশ রায়।

কানহাইয়ার সিপিআই ছেড়ে যাওয়া কেমন দেখছেন? অবধেশ রায় জানান, দু:খজনক ঘটনা। কানহাইয়া মার্কসবাদ থেকে সামন্ততান্ত্রিক পুঁজিবাদের পক্ষে গেলেন। তবে সিপিআই যে সমাজ পরিবর্তনের নীতি নিয়ে চলছে তেমনই চলবে।

বেগুসরাই এমন এক জায়গা, যেটি দীর্ঘ সময় ধরে বাম রাজনীতির কেল্লা বলে পরিচিত। বারবার এই কেন্দ্রে সিপিআই জয়ী হয়েছে। বারবার এখানে সিপিআই পরাজিত হয়েছে। বিহারের জমি ভিত্তিক আন্দোলন, জাতপাত ভিত্তিক রাজনীতির মধ্যে বেগুসরাই বিশেষ চিহ্নিত।

আরও পড়ুন: Explained: পঞ্জাব কংগ্রেস থেকে নভজ্যোৎ সিং সিধুর পদত্যাগের কারণ

সিপিআই জেলা সম্পাদক অবধেশ রায় জানান, কানহাইয়ার মতো নেতার কংগ্রেসে যোগদান সাময়িক ধাক্কা তো লাগছেই। তবে কানহাইয়া প্রথম নন, সিপিআইয়ের তাবড় নেতা চন্দ্রশেখর ছিলেন এই বেগুসরাইয়ের। তাঁর মৃত্যুর পর মনে করা হয়েছিল বেগুসরাই থেকে সিপিআই শেষ। তা আদৌ হয়নি। জবরদস্ত বিধায়ক ভোলা সিং সিপিআই ত্যাগ করেন। তাতেও দলের ক্ষতি হয়নি। কানহাইয়া কুমার আধুনিক সময়ের জ্বলন্ত নেতা হিসেবে উঠে এসেছিলেন সিপিআই থেকেই।
কানহাইয়ার সিপিআই ত্যাগ নিয়ে বেগুসরাই উত্তাপহীন। পথ চলতি অনেকেই সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, কানহাইয়া ঠিকই করেছে। কারণ, সিপিআই বেগুসরাইতে শক্তিশালী, কিন্তু সর্বভারতীয় স্তরে লড়াই করতে কংগ্রেসের মতো দল জরুরি।

কারোর কটাক্ষ, আব কেয়া বানসুরি বাজায়েগা কানহাইয়া ? (এবার কি বাঁশি বাজাবেন কানহাইয়া)। কেউ বলছেন, কমিউনিস্ট পার্টি থেকে কংগ্রেসে গেলেন, এর পর তিনি কোথায় যাবেন?

বেগুসরাই নিরুত্তাপ। তবে কেন্দ্রীয় রাজনীতি সরগরম। কানহাইয়া কুমার দলত্যাগের কথা জানিয়ে ব্যক্তিগতভাবে সিপিআই সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ডি রাজার কাছে চিঠি দেন। ডি রাজা জানিয়েছেন, সে চলে গেছে। দল লড়াইয়ে থাকবে।

বেগুসরাই কেন্দ্রে বামেরা বরাবর সাংগঠনিক শক্তিশালী। বেশ কয়েকবার এই বিধানসভা থেকে সিপিআই(CPI) ও সিপিআইএম (CPIM) জয়ী হয়েছে। এই লোকসভা কেন্দ্রেও দুবার জয়ী সিপিআই।

তবে বেগুসরাই সর্বাধিক আলোচিত হয়েছে জেএনইউ (JNU) বাম ছাত্র নেতা কানহাইয়া কুমারের দুরন্ত ভাষণ, ছাত্র সংসদের সভাপতি হিসেবে তার বিতর্কিত ‘দেশবিরোধী’ মামলায় জড়িয়ে যাওয়া ও জামিন ঘিরে। কানহাইয়া এক ঝটকায় সর্বভারতীয় সিপিআই নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। গত লোকসভা ভোটে বেগুসরাই কেন্দ্রে বিজেপির (BJP) গিরিরাজ সিংয়ের বিরুদ্ধে লড়েন। বিপুল প্রচার হলেও কানহাইয়া পরাজিত হন। এখন তিনি রাহুল গান্ধীর যুব ব্রিগেডের অন্যতম নেতা।

Explained: পঞ্জাব কংগ্রেস থেকে নভজ্যোৎ সিং সিধুর পদত্যাগের কারণ

নিউজ ডেস্ক: পুনর্গঠিত পঞ্জাব কংগ্রেস মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের দু’দিন পরেই পদত্যাগ করলেন নভজ্যোত সিং সিধু। সোনিয়া গান্ধীকে চিঠি দিয়ে টুইট করে জানান যে তিনি রাজ্য কংগ্রেস প্রধানের পদ থেকে সরে যাচ্ছেন। নভজোৎ সিংহ সিধু জানালেন, ‘প্রদেশ সভাপতির পদ ছাড়লেও কংগ্রেসেই আছি। পাঞ্জাবের উন্নয়নের জন্য কোনও সমঝোতা করতে পারব না।’ কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিং -এর পদত্যাগের কয়েক দিন পর কী কারণে তিনি এই পদক্ষেপ নিলেন?

AAP always recognised my vision for Punjab: Navjot Singh Sidhu | India  News,The Indian Express

মন্ত্রিসভা গঠন: নতুন মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে, দোয়াবা অঞ্চলের ছ’জন মন্ত্রী রানা গুরজিৎ সিংয়ের পদোন্নতির বিরুদ্ধে সিধুকে একটি চিঠি দেন। জানা গিয়েছে, সিধুও কপূরথলার বিধায়ক রানা গুরজিৎকে দলে অন্তর্ভুক্ত করার বিরুদ্ধে ছিলেন, কিন্তু কংগ্রেস হাইকমান্ড তাঁর কথায় , সিধুর ঘনিষ্ঠ পিপিসিসির (Punjab Pradesh Congress Committee) কার্যকরী সভাপতি কুলজিৎ সিং নাগরাকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সুখজিন্দর সমস্যা: সিধু পাঞ্জাবের উপ-মুখ্যমন্ত্রী সুখজিন্দর সিং রন্ধাওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ গৃহ পোর্টফোলিও দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নন। সে বিষয়েও দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন তিনি।

নতুন এডমিন: পিপিসিসি প্রধান সিধু পাঞ্জাব পুলিশ প্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে তাঁর পছন্দের কোনো কর্মকর্তা পাননি। তা নিয়েও রাজ্যের কংগ্রেস সরকারের সঙ্গে সমস্যায় জড়িয়েছিলেন সিধু।

আরও পড়ুন Politics: নেহরু থেকে কানহাইয়া, কংগ্রেসের বাম নেতারা বরাবর সুপারহিট

নতুন মুখ্যমন্ত্রী: অমরিন্দর সিংয়ের ইস্তফার পর পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন চরণজিৎ সিংহ চান্নি।এই প্রথম কোনও দলিত মুখ বসেছেন পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে। যদিও অনেকেই একপ্রকার নিশ্চিত ছিলেন, এবার পঞ্জাবের কুর্সিতে বসছেন সিধু। সেই পদ না পাওয়াতেই ইস্তফা দিয়েছেন তিনি, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এছাড়াও রাজ্যের মন্ত্রীদের নাম চূড়ান্ত করার সময় রাহুল গাঁধী চরণজিৎ সিংহ চান্নির সঙ্গেই আলোচনা করেছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন পদে চান্নি যে নামগুলি ঠিক করছেন, তাতেও সিধুর সঙ্গে আলোচনা হয়নি। 

অন্যদিকে জল্পনা ছড়িয়েছে যে, পঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ক্যাপ্টেন অমরিন্দর সিংহ খুব শীঘ্রই দিল্লি যাচ্ছেন। বিভিন্ন সূত্রে জল্পনা চলছে যে, তিনি দিল্লিতে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও বিজেপি সভাপতি জেপি নড্ডার সঙ্গে দেখা করতে পারেন। গত ১৮ সেপ্টেম্বর পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন অমরিন্দর সিংহ। তারপর থেকে এটি হতে চলেছে তাঁর দ্বিতীয়বার দিল্লি সফর।

সর্বভারতীয় কংগ্রেসে যোগ দিলেন লাল-হলুদকে ভরসা জোগানো অ্যালভিটো

স্পোর্টস ডেস্ক: একসময় বিভিন্ন ম্যাচে ভরসা দিয়েছেন ইস্টবেঙ্গলকে। পেশাদার খেলা থেকে অবসর নিলেও খেলা তাঁকে ছাড়েনি। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হল আরেকটি নাম, ‘রাজনীতি’। গোয়ায় সর্বভারতীয় কংগ্রেসে যোগ দিলেন অ্যালভিটো ডি কুনহা। 

আরও পড়ুন বার্সেলোনার নতুন ভরসা আনসু ১০ ফাতি

প্রাক্তন ফুটবলারের রাজনীতিতে আসায় গোয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন (২০১৪-২০১৮) প্রেসিডেন্ট গোমস জানিয়েছেন, ‘অ্যালভিটোর যোগদান কংগ্রেসের শক্তিকে আরও উদ্বুদ্ধ করবে। আমি চাই কংগ্রেসে আরও ক্রীড়াবিদ যোগদান করুক।’

May be an image of 7 people, people standing and text that says "A PRADESH CONGRESS COMMITTEE OPPO F19 Pro+"

দীর্ঘ ১৭ বছরের কেরিয়ারে জাতীয় দলের পাশাপাশি একাধিক ক্লাবের জার্সিতে খেলেছেন অ্যালভিটো। সেলসেটে এফসি ক্লাব থেকে প্রাথমিকভাবে ফুটবলে হাতেখড়ি শুরু করেন। এরপর তিনি ১৯৯৭ সালে সেসা গোয়া ক্লাবে যোগ দেন। এর ২ বছর পর তিনি সালগাওকার এসসি ক্লাবে যোগ দেন। ২০০২ সালে আসেন ইস্টবেঙ্গলে। অ্যালভিটো গোয়ার প্রথম ফুটবলার হিসেবে কলকাতার কোনও ক্লাবে খেলেছিলেন। 

আরও পড়ুন মমতাও হেরেছেন বলেই আবার ভোটে লড়ছেন, এন্টালিতে প্রিয়ঙ্কার হার প্রসঙ্গে তৃণমূলকে কটাক্ষ তথাগতর

অবসর নিলেই ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে তিনি। দল গঠন কিংবা জুনিয়র ফুটবলারদের বাছা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা ছিল অ্যালভিটোর। লাল হলুদের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডরও ছিলেন তিনি। এর আগে ময়দানের বহু ফুটবলার সক্রিয় রাজনীতিতে এসেছেন। প্রসূন ব্যানার্জি, দীপেন্দু বিশ্বাস, বাইচুং ভুটিয়ারা তার বড় উদাহরন। রাজ্যের চলতি বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির হয়ে মানিকতলা কেন্দ্রে ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন প্রাক্তন গোলকিপার কল্যাণ চৌবে। ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন অরিন্দম ভট্টাচার্যও। এবার রাজনীতির সেই তালিকায় যুক্ত হল অ্যালভিটোর নামও।

গোয়া প্রদেশ কংগ্রেসে যোগ দিয়ে অ্যালভিটো জানিয়েছেন, “আমি চেষ্টা করব, খেলাকে আরও উন্নতির দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার। ফুটবল ছাড়াও অন্য খেলাকেও আমি একইভাবে গুরুত্ব দেব। ক্রীড়াক্ষেত্রের সার্বিক উন্নয়নই আমার লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য নিয়েই রাজনীতিতে এসেছি।” পরবর্তী নির্বাচনেও তিনি কংগ্রেসের প্রতীকে অংশগ্রহন করবেন বলে জানিয়েছেন অ্যালভিটো।

অসুস্থতার মধ্যে বিশ্রামের তোয়াক্কা না করে ফিরোজ গান্ধি মৃত্যুকে ডেকে এনেছিলেন

Feroze Gandhi

বিশেষ প্রতিবেদন:  ১৯৬০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর যেদিন ফিরোজের (Feroze Gandhi) তৃতীয়বার হার্ট অ্যাটাক হল সেদিনও ইন্দিরা নেই দিল্লিতে, তিনি সেদিন কেরলে রয়েছেন৷ এর ঠিক বছয় দুয়েক আগে যেদিন ফিরোজের প্রথম হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল সেদিনও ইন্দিরা ছিলেন দিল্লির বাইরে৷

বছর দুয়েক আগের কথা সেটাও ছিল সেপ্টেম্বর মাস৷ আগের দিন রাতে ফিরোজ গান্ধির হার্ট অ্যাটাক হওয়ায় , ১৯৫৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে ওয়েলিংডন হাসপাতালে ভর্তি হতে হল তাঁকে। খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পন্থ এবং শিল্প বাণিজ্যমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী। রাতের দিকে অনেকটাই শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়।খবর পাওযার পর সন্ধ্যেবেলায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় ফিরোজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা ডাক্তারদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং চিকিৎসার বিষয় তাঁর পরামর্শ দেন।দিল্লিতে যখন এই সব ঘটনা‌ ঘটছে তখন প্রধানমন্ত্রী নেহরু রয়েছেন ভুটান সফরে। নেহরুর সঙ্গে ইন্দিরাও গিয়েছেন ওই সফরে৷ সেখানেই ইন্দিরা ফিরোজের অসুস্থতার খবর পান। তবে সেদিন সন্ধেবেলায় অবস্থার উন্নতি হওয়ায় ফিরোজের বিপদ কেটে গিয়েছে তাদের আর তাড়াহুড়ো করে ভুটান থেকে আসার দরকার নেই বলে বার্তা যায় নেহরু ও তাঁর কন্যার কাছে।কারণ খবর পেয়ে প্রথমে তাঁরা সফর কাটছাট করে ফেরার কথা ভাবছিলেন৷ সিকিম ভুটান সফর সেরে তারা কয়েকদিন পরে ফিরলে নেহরু পালাম বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গেলেও, অন্য গাড়িতে করে ইন্দিরা চলে আসেন সরাসরি হাসপাতালে‌ অসুস্থ স্বামীকে দেখতে। সেখানে গিয়ে সেদিন ফিরোজের কাছে ছিলেন আধঘন্টা। ভর্তি হওয়ার পর সাত সপ্তাহের বেশি দিন কাটিয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান ফিরোজ। ছাড়া পেলেও চিকিৎসকদের পরামর্শ ছিল তারপরেও অন্তত দিন ১৫ যেন তিনি বিশ্রাম নেন।

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও বিশ্রামের তোয়াক্কা করেন না ফিরোজ৷ যথারীতি আগের মতোই জীবন৷ বরং তখন যেন একটু বেশিই পরিশ্রম করতে তাঁকে দেখা যাচ্ছিল বলে মনে হয়েছিল তাঁর পরিচিত মহলের একাংশের৷ ইন্দর মালহোত্রার মতে , ফিরোজ যতই তার বন্ধু এবং শুভানুধ্যায়ীদের দ্বারা পরিবৃত হয়ে থাকুন না কেন, তিনি প্রকৃতপক্ষে খুবই একা এবং মানসিক ভাবে দুঃখে ছিলেন। আর তাই অতিরিক্ত কাজের মধ্যে ডুবে থেকে নিজেকে শেষ করে দেন। তাছাড়া ফিরোজের পরিচিত অনেকেই লক্ষ্য করেছিলেন ডাক্তারেরা সিগারেট এবং মদ্য পান করতে নিষেধ করলেও তিনি তা একেবারেই শুনতেন না।

এই অসুস্থতার মধ্যেও গত দুবছর তিনি নিয়মিত সংসদে হাজিরা দিতেন, সময় ভাগ করে নিতেন বিতর্কে অংশ নেওয়া এবং লবিতে থাকার জন্য। তৃতীয়বার হার্ট অ্যাটাকের কয়েকদিন আগে ফিরোজ তাঁর ক্লান্তির কথা বলেছিলেন ঘনিষ্ঠ মহলে৷ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণের নজরে এসেছিল শেষ কয়েক মাস ফিরোজ কী রকম রীতিমতো পরিশ্রম করেছেন। তিনি ফিরোজ সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘‘উনি ডাক্তারের এবং বন্ধু-বান্ধবের পরামর্শ অগ্রাহ্য করেই রীতিমত পরিশ্রম করতেন শুধুমাত্র সাংসদ হিসেবে নয়, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবেও এই সময় যথেষ্ট কাজ করতে দেখা যেত। এই বিশেষ দায়িত্ব থাকার জন্য দুটি তৈল শোধনাগারের কাজের বিষয়ে বুঝতে ১৪ সেপ্টেম্বর তার বম্বে যাওয়ার কথা ছিল।’’ তাছাড়া রাধাকৃষ্ণণকে ফিরোজ জানিয়েছিলেন, তাঁর নিজের লোকসভা কেন্দ্রে তিনি একটি কলেজ গড়তে চান৷ আর সেজন্য তহবিল জোগাড়ের উদ্দেশ্যে ফিরোজ বম্বে এবং অন্যান্য জায়গায় যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।

এদিকে যথারীতি ৭ সেপ্টেম্বরেও ফিরোজ লোকসভায় এলেন এবং বিকেল পর্যন্ত ছিলেন। তারপর তিনি ওয়েলিংডন নার্সিংহোমের সুপারেনটেনডেন্ট ডাক্তার খোসলাকে ফোন করেন শারীরিক কারণে। এই ডাক্তার খোসলা তাঁর ব্যক্তিগত বন্ধু৷ তাছাড়া ১৯৫৮ সালে তার প্রথম হার্ট অ্যাটাকের পর থেকেই ফিরোজের চিকিৎসার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। ফোন পাওয়ার পরেই তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে ফিরোজকে অনুরোধ করেন না বের হতে। কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ শোনার পাত্র তো তিনি নন৷ গত পাঁচদিন ধরে বুকে ব্যথা হচ্ছিল, সেই সব উপেক্ষা করেই তিনি সংসদ ভবন থেকে নার্সিংহোমের দিকে গাড়ি চালিয়ে রওনা দিলেন। এরপর সেখানে গিয়ে ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলার পর চা খাবেন ঠিক করেন। চা দেওয়া হলে তিনি হঠাৎ ঢলে পড়েন। তখন তাকে বিছানায় নিয়ে এসে শুইয়ে দেওয়া হয়। খোসলা এবং আরও পাঁচ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ফিরোজকে ঘিরে রাখেন কিন্তু তিনি চিকিৎসায় ঠিকমতো সাড়া দেন না। ক্রমশ তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তবে যেটুকু জ্ঞান ছিল তাতে বারবার জানতে চাইছিলেন ইন্দিরা কখন আসবে। ইন্দিরা সেই সময় দলীয় কাজে ত্রিবান্দম গিয়েছেন। ইন্দিরা দিল্লি ফিরেই বিমানবন্দর থেকে সরাসরি নার্সিংহোমে চলে আসেন স্বামীকে দেখতে। ইন্দিরা তাকে দেখতে এলেও হাসপাতালের ফিরোজের শয্যার পাশে বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি কারণ সে নিজেও সেদিন ছিল ভীষণ ক্লান্ত। ৮সেপ্টেম্বর ফিরোজের যখন মৃত্যু হয় তখন সে একেবারে একাই ছিল।

মৃত্যুর খবর পেয়ে নার্সিংহোমে সবার আগে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং রাষ্ট্রপতি ডঃ রাজেন্দ্র প্রসাদ। মরদেহ নেহরুর বাসভবনে নিয়ে আসা হয়। ফিরোজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বহু মানুষের ভিড় জমে। শুধু ভিআইপি নয় বহু সাধারন মানুষ সেখানে পৌঁছে যায়। গীতা, রামায়ণ , বাইবেল , কোরান থেকে পাঠ হয় ।পাশাপাশি পার্শী পুরোহিত বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেন। ইন্দিরা বসেছিলেন মৃতদেহের পাশে। নার্সিংহোম থেকে ফিরে শোকে থমথমে মুখ নিয়ে কিছুক্ষণ দোতলা ঘরের চুপ করে বসে থাকেন জওহরলাল। তার কিছুক্ষণ পরে উঠে এসে‌ বোনেদের এবং অন্যান্যদের বলেন অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা করতে।

তিরঙ্গা জড়ানো ফিরোজের দেহ উন্মুক্ত ট্রাকের করে শেষযাত্রার জন্য রওনা দেয়। ওই ট্রাকে তখন দুই ছেলেকে নিয়ে ইন্দিরা, ফিরোজের বোন এবং ফিরোজের দীর্ঘদিনের বন্ধু কেডি মালব্য৷ প্রধানমন্ত্রী ভবন, বিজয় চক, ইন্ডিয়া গেট, রাজঘাট জুম্মা ব্রিজ ধরে এগিয়ে চলে মরদেহবাহী ট্রাক। বহু মানুষের ভিড় শেষযাত্রায়। সূর্যাস্তের সময় যমুনার তীরে নিগমবোধ ঘাটে এসে পৌঁছয়। ট্রাক থেকে নামিয়ে চিতায় তোলার সময় মানুষের ভিড়ে পদপৃষ্ট হয়ে যাবার উপক্রম। সেই ভিড় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। কোনরকমে জওহরলাল এবং দুই ছেলের সঙ্গে চিতায় শায়িত ফিরোজের কাছে এসে পৌঁছন ইন্দিরা। শোকোস্তব্ধ ইন্দিরা ছলছলে চোখে তাঁর স্বামীর পায়ে কয়েকটা লিলি ফুল রাখেন।বৈদিক স্তোত্র পাঠের মধ্যে দিয়ে বড় ছেলে রাজীব দাহ করেন ।ফিরোজের শেষ যাত্রায় মানুষের ভিড় দেখে সেদিন পন্ডিতজি বলেছিলেন, “আমি বুঝতে পারিনি ফিরোজ এত জনপ্রিয়‌।”ফিরোজের মৃত্যুর কথা ছড়িয়ে পড়তে শোকে হতাশায় দিল্লি শহরের দোকান বাজারের শাটার নামিয়ে দেয় মানুষ। বহু জায়গা থেকে শোকবার্তা এসেছিল।

(উপরের অংশটি সম্প্রতি প্রকাশিত সিদ্ধার্থ মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘‘ফিরোজ গান্ধি সংসদের ভিতরে ও বাইরে’’ বইটির অংশ বিশেষ৷ বইটির প্রকাশক সৃষ্টিসুখ। মূল্য ১৮০টাকা৷ )

রাজনীতিতে পা রেখেই পুর-প্রার্থী হচ্ছেন ‘করোনা-হিরো’ সোনু সুদ

Sonu Sood

নিউজ ডেস্ক: করোনাকালের মসিহায় পরিণত হয়েছেন অভিনেতা সোনু সুদ। যে কোনও সমস্যা নিয়ে তাঁর কাছে পৌঁছলেই সাহায্য করেছেন অভিনেতা। আর তাই নেটিজেনদের অনেকেরই দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়া উচিত সোনু সুদের। আর এবার হয়তো সেই জল্পনাই সত্যি হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী না হলেও রাজনীতিতে আসছেন সোনু সুদ। অন্তত মহারাষ্ট্রের কংগ্রেস পার্টি সূত্রে এমনটাই খবর।

আরও পড়ুন: Shweta Tiwari শেয়ার করেছেন লেটেস্ট ফটোশ্যুট, বলিপাড়া বলছে OMG!

কংগ্রেস বৃহন্মুম্বাই পৌর কর্পোরেশন (বিএমসি) নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। জাতীয় এবং মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজেদের হারানো জায়গা ফিরে পেতে বিশেষ কৌশল নিয়েছে কংগ্রেস। দল রাজ্যের হাইকমান্ডকে পরামর্শ দিয়েছে যে নির্বাচনের আগে মেয়র পদে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করতে হবে। শুধু তাই নয়, অভিনেতা রিতেশ দেশমুখ, মিলিন্দ সোমন এবং করোনা সময়কালে মানুষকে সাহায্য করার জন্য মন জয় করা অভিনেতা সোনু সুদের নামও মেয়রের জন্য বিবেচনা করা হবে।

যদিও এই তিনজনের কেউই কংগ্রেসের সদস্য নন। ২৫ পৃষ্ঠার প্রস্তাবটি নগর কংগ্রেস সচিব গণেশ যাদব সামনে আনলেও এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দলের নেতাদের কাছে তা উপস্থাপন করা হয়নি। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রস্তাবপত্রটি অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস পার্টির (AICC) মহারাষ্ট্রের ইনচার্জ এইচ কে পাতিলের কাছে পেশ করা হবে বলে জানা গিয়েছে।

আরও পড়ুন: সিনেমা নয় বাস্তব: আবার ‘বিয়ে’ করলেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ

এর আগেও সোনু সুদের রাজনীতিতে আসার দাবি উঠেছিল বিভিন্ন মহলে। প্রধানমন্ত্রী করার দাবি উঠলেও, সোনু নিজে সাধারণ মানুষ হিসেবেই থাকতে চেয়েছিলেন। নিদের বাড়ির নীচে সোনু মানুষকে গরমে সুস্থ থাকার পানীয় বিতরণ করছিলেন। তখনই পাপারাজ্জিরা তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, “রাখি সাওয়ান্তও আপনাকে প্রধানমন্ত্রী হতে বলছেন। আপনি কী বলবেন?” উত্তরে সোনু জানিয়েছিলেন, “আমি সাধারণ মানুষ হিসেবেই ভালো আছি।” রাজনীতির ময়দান যে তাঁর জায়গা নয়, তাও স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন সোনু। এবার সেই মনোভাব বদলে কংগ্রেসের ডাকে বৃহন্মুম্বাই পৌর কর্পোরেশন (বিএমসি) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করেন কিনা, সেটাই এখন দেখার।

সিপিএম ছাড়ার হুমকি কঠোর বামপন্থী শ্রীলেখা-রাহুলের

Sreelekha Mitra

নিউজ ডেস্ক: বরাবরই সিপিআইএম-এর একনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র। দলের হাজারো প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও দলের পাশে থেকেছেন তাঁরা। এমনকি ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে সিপিআইএম প্রার্থীদের হয়ে প্রচার করতেও দেখা যায় শ্রীলেখাকে। অন্যদিকে যেকোনো আলোচনা অনুষ্ঠান হোক কিংবা জনসমক্ষের আলোচনা, নিজেকে বাম সমর্থক হিসেবে দাবি করেন রাহুল। বরাবরই তাঁকে দেখা যায় বামেদের হয়ে কথা বলতে। তবে এবারে এহেন বাম সমর্থকরা দল ছাড়ার মতো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে জানিয়ে দিলেন।

সম্প্রতি ৫০০ দিন পূর্ণ করলো সিপিএম-এর শ্রমজীবী ক্যান্টিন। বহু প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও একবারের জন্যও বন্ধ হয়নি ক্যান্টিন। এই সুবাদে সোমবার যাদবপুরে একটি বড় অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হয় দলের পক্ষ থেকে। মিছিল, কেক কাটা, নাচ এবং গানে অনুষ্ঠান জমজমাট ছিল। তবে ছন্দপতন ঘটলো যখন সেই অনুষ্ঠানে দেখা পাওয়া গেলো সদ্য বিজেপি ছেড়ে বেড়িয়ে আসা অভিনেতা আনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিনেত্রী রুপা ভট্টাচার্য। শুধু তাই নয় সিপিআইএম নেতা শতরূপ ঘোষের সঙ্গে নেটমাধ্যমে তাঁদের ছবি পোস্ট হওয়া মাত্রই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রীলেখা এবং রাহুল।

ফেসবুকে শ্রীলেখা জানান, আমায় প্রলোভন দেওয়া হয়েছিলো। অন্যদলের থেকে বিধানসভার টিকিটও প্রস্তাব করা হয়েছিলো। গ্রহণ করলে হয়তো জীবনটা আলাদা হতো। তবে তা তিনি করেননি। অভিনেত্রীর মতে তিনি একজন বাম মতাদর্শী। যারা প্রকিত বামপন্থী হন তাঁরা কখনোই সময়ে সময়ে দল পরিবর্তন করেন না। এমনকি শ্রীলেখা জানান, ‘আমি বহু অপমান আর কষ্টের জায়গা থেকে বলছি, আমি সিপিআইএম-এর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করব। এরাই আমাকে গালমন্দ করেছিলেন একদিন। তাঁদের সঙ্গে একই মঞ্চ ভাগ করা কোনোমতেই সম্ভব নয়’। অন্যদিকে রাহুলও টুইট করে নিজের ক্ষোভ উগ্রে দেন। তিনি জানান, সিপিআইএম-এর মঞ্চে যদি টিকিট না পাওয়া হতাশ বিজেপি জায়গা পায়, তবে আমি দলের সঙ্গে সব সম্পর্ক এই মুহূর্তে ছিন্ন করলাম।

বিজেপির বিরুদ্ধে একাই লড়াই করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়: ব্রাত্য বসু

Mamata Banerjee-Bratya Basu

নিউজ ডেস্ক: কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের নানা জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে একা লড়ে যাচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ বাকিরা হই হই করলেও বিজেপির বিরুদ্ধে প্রকৃত লড়াই লড়ছেন মমতা৷ শুক্রবার ত্রিপুরা সফরে গিয়ে এমনটা বললেন বাংলার শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু৷

বিজেপিশাসিত ত্রিপুরায় রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাংলার শাসকদল তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা আগরতলায় ঘাঁটি করেছেন৷ এই তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের সংসদ সদস্য শান্তনু সেন এবং রাজ্যের আইনমন্ত্রী মলয় ঘটক। শুক্রবার সকালে আগরতলায় উড়ে গিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং তৃণমূল সংসদ সদস্য অপরূপা পোদ্দার৷

এদিন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘ত্রিপুরায় বামফ্রন্টের সঙ্গে কোনও জোট হবে না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের বামেদের সঙ্গে এই রাজ্যের বামেদের চরিত্রগত পার্থক্য আছে। তারা মাটির কাছাকাছি থেকে লড়াই করছেন। চাইলে বাম নেতা-কর্মীরা তৃণমূলে আসতে পারেন। তারা জানেন, বিজেপি’র বিরুদ্ধে প্রকৃত লড়াই লড়ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

ব্রাত্য বসু আরও বলেন, ‘প্রয়োজনে বারবার ত্রিপুরায় আসব। স্থানীয় নেতৃত্বের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা ত্রিপুরার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেব৷ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে উন্নয়ন ও লড়াকু নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা আমরা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।’

অন্যদিকে, ত্রিপুরায় বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি মানিক সাহা তৃণমূলের নেতৃত্বের সফর প্রসঙ্গে বলেন, ‘যেকোনও রাজনৈতিক দল কর্মসূচির জন্য আসতেই পারেন। আমরা ওদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করব।’
ত্রিপুরায় সম্প্রতি তৃণমূল নেতাদের উপরে আক্রমণ ও তাদের গ্রেফতারের ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপি’র মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। তৃণমূলের বক্তব্য, গণতন্ত্রের হত্যাকারী বিজেপিকে পরাজিত করে জিতবে ত্রিপুরা।

‘এক ভাঁড় ১৫ লক্ষ টাকা’, মোদীকে ঠুঁকলেন চা-বিক্রেতা মদন

Madan mitra

নিউজ ডেস্ক: মদন মিত্র মানেই আন লিমিটেড বিনোদন! ভোটে জেতার পর প্রথমদিন বিধানসভায় গিয়েছিলেন খোদ দুবাই থেকে আমদানী করা জুতো পা’য়ে দিয়ে। দিনকয়েক আগেই পেট্রোপণ্যের মূল্যবূদ্ধির প্রতিবাদে হাতে টানা রিকশা চালিয়েছিলেন। তারপর পেগাসাস ইস্যুতে পক্ষীরাজের আদলে সাজানো ঘোড়া নিয়ে চোখে কালো কাপড় বেঁধে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে মিছিল করেছেন। চলতি সপ্তাহের রবিবারও তেমনই সবাইকে চমকে দিলেন তিনি।

রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্তমানের তৃণমূল বিধায়ক রবিবাসরীয় দুপুরে নিজের পাড়া ভবানীপুরে চা বিক্রি করলেন। যার এক ভাঁড়ের দাম ১৫ লক্ষ টাকা। চা বানাতে বানাতে দুকলি গানও গাইলেন বাংলার ক্রাশ। তাঁর পিছনে তখন অনুগামীরা সবাই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখোশ পরে দাঁড়িয়ে।

২০১৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে বিদেশ থেকে কালো টাকা এনে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন নরেন্দ্র দামোদরদাশ মোদী। আর তা হলে প্রত্যেক দেশবাসীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পনেরো লক্ষ টাকা করে দেবেন, এমনটাও জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ক্ষমতায় আসার সাত বছর পরের দেশে ফেরেনি কালো টাকা। উল্টে জ্বালানি-রান্নার গ্যাসের দাম বৃদ্ধিতে নাভিশ্বাস আমজনতার। বহুদিন আগেই সেঞ্চুরি করে ফেলেছে পেট্রোলের দাম। সেই সমস্ত কিছুর প্রতিবাদেই অভিনব পন্থা নিলেন মমতার বিশ্বস্ত সঙ্গী।

এদিন মদন মিত্রের গলায় স্লোগান ছিল, “এক কাপ চায়ের দাম ১৫ লক্ষ টাকা। এমন চা আমেরিকার রাষ্ট্রপতিও খাওয়াতে পারেননি। যা নরেন্দ্র মোদী আমাদের খাওয়াচ্ছেন।” অন্যদিকে ভোটে জেতার জন্য নিজের চা-বিক্রেতা ইমেজকেও হাতিয়ার করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই ইমেজকেও ঠুঁকে দিলেন বাংলার এই রসিক রাজনীতিবিদ।

‘বাংলার ইতিহাস বলছে তাঁরা চিরকাল বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে’, মমতার সঙ্গে সাক্ষাতের পর বললেন জাভেদ আখতার

javed-akhtar-meets-mamata-with-shabana-azmi

নিউজ ডেস্ক: লক্ষ্য ২০২৪। সেই লক্ষ্যপুরণে রাজধানীতে পাড়ি দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারের দিল্লী সফরে একের পর এক হেভিওয়েট ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । সেই বৈঠকগুলিতে আলোচ্য বিষয় একই, অ- বিজেপি দল গড়ে তোলা।

এবার সেই লক্ষ্যেই শামিল হলেন বিনোদন জগতের দুই হেভিওয়েট ব্যক্তিত্ব- জাবেদ আখতার এবং শাবানা আজমি।দিদির দিল্লি সফরের শেষ বেলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে আসেন জাভেদ আখতার ও শাবানা আজমি।এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জাভেদ আখতারকে ‘খেলা হবে’ স্লোগান নিয়ে একটি গান লেখার অনুরোধও জানান।

বৈঠক শেষে জাভেদ আখতার ও শাবানা আজমিকে সঙ্গে নিয়ে বাইরে বের হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।।জাভেদ আখতার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “বাংলা চিরকালই পরিবর্তনের কান্ডারী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলায় পরিবর্তন এনেছেন। এবার গোটা দেশেও পরিবর্তন চাই। পরিবর্তনের নেতৃত্ব কে দেবেন সেটা পরের বিষয়, কিন্তু আগে ঠিক করতে হবে কী রকম পরিবর্তন আমরা পেতে চাই।”

জাভেদ বলেন,” গোটা দেশেই খেলা হবে, তা নিয়ে কোনও প্রশ্নের অবকাশ নেই।তিনি আরও বলেন, “সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসেছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছি। তবে, বাংলার ইতিহাস বলছে তাঁরা চিরকাল বিপ্লবে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে। শিল্পীরাও তাতে অবদান রাখবেন, এ নিয়ে আশ্চর্যের কিছু নেই। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বিশ্বাস করি এবার কেন্দ্রেও পরিবর্তন দরকার।” 

নেতৃত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গে জাভেদ বললেন”কে নেতৃত্ব দেবেন সেটি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অগ্রাধিকারের বিষয় নয়। তিনি পরিবর্তনে বিশ্বাস করেন। আসল ব্যাপার হল, আমরা কী ধরনের ভারতবর্ষ দেখতে চাই।”

দিল্লির মসনদ থেকে মোদী উৎখাতে মমতা-অরবিন্দ বৈঠক

After 'tea' with Sonia Gandhi, Mamata Banerjee meets Arvind Kejriwal in Delhi

নিউজ ডেস্ক: বাংলায় ব্যাপক সাফল্যের পর তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবার টার্গেট দিল্লির মসনদ দখল৷ সেই লক্ষ্যে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর দিল্লিতে ঘাঁটি করেছেন মমতা৷ মঙ্গল এবং বুধবার জাতীয় রাজনৈতিকস্তরে একের পর এক বৈঠক করছেন তিনি৷ প্রতিটি বৈঠকের পরেই মমতার চোখেমুখে ছিল দিল্লি দখল নেওয়ার দৃঢ় সংকল্প৷

বুধবার সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী পর অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে বৈঠক করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ এদিন বিকেলে অরবিন্দ কেজরিওয়াল তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে যান। তাঁদের মধ্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, যথেষ্ট ইতিবাচক হয়েছে তাদের বৈঠক৷ আগামিদিনে এই বৈঠকের ভালো ফল আশা করছেন তৃণমূল সুপ্রিমো বলেও জানান সংবাদমাধ্যমকে৷ কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে দেশের সমস্ত বিরোধী দলগুলিকে একত্র করতেই দিল্লি সফরে গিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজনীতিকে সঙ্গে রেখেই অভিনেত্রী সায়নীর ‘বড়’ সিদ্ধান্ত

Saayoni Ghosh likes to experiment with her hair

বায়োস্কোপ ডেস্ক: একজন অভিনেত্রী আর একজন পরিচালক। ছবি তৈরির সময় তাঁদের এটুকু পরিচয়ই যথেষ্ট। একথা একশো শতাংশ সত্য। তবে একুশের নির্বাচনের আগে একসময়ের ‘বামপন্থী’ মনস্ক সায়নী ঘোষ তৃণমূলে যোগদান করে নির্বাচনের টিকিট পান। তখন থেকেই সায়নীকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় নানা মহলে।

পুরনো কাসুন্দি ঘেঁটে লোকে তুলে আনেন অনীক দত্তের ‘ভবিষ্যতের ভূত’ ছবির প্রর্দশন বন্ধ করার পর ছবির টিমের আন্দোলনের কথা। সেই আন্দোলনে বর্তমান রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন সায়নীও। তবে এই মুহূর্তে এসব পুরনো বিতর্ক ভুলে শুধু অভিনয়ের জন্যই অনীক দত্তের ছবিতে কামব্যাক করে ফেললেন অভিনেত্রী সায়নী ঘোষ। এক্ষেত্রে অনীক শুধুই পরিচালক আর সায়নী শুধুই অভিনেত্রী!

পরিচালক অনীক দত্ত তৈরি করছেন ‘অপরাজিত’। ছবির নাম শুনে অনেকেই মনে করেছিলেন অনীক দত্ত সত্যজিৎ রায়ের বায়োপিক বানাচ্ছেন। তবে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর এই ছবি একেবারেই সত্যজিতের বায়োপিক নয়। বরং, ‘পথের পাঁচালী’ ছবিটি করার সময় এবং সত্যজিৎ রায়ের লড়াই থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই তৈরি হয়েছে এই ছবির গল্প। ছবির প্রেক্ষাপট ১৯৫৫ সাল।

অনীকের এই ছবিতেই এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেত্রী সায়নী ঘোষকে। ছবিতে বিমলা রায় নামে এক মহিলা চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। সংবাদমাধ্যমে সায়নী জানিয়েছেন, ‘আমার এই চরিত্র সত্যজিৎ রায়ের স্ত্রী বিজয়া রায়ের ছায়াতেই তৈরি হবে। যেহেতু এই ছবি বায়োপিক নয়, সেহেতু বিমলা রায় আসলে বিজয়া রায়, তা বলা যাবে না। তাই এই চরিত্রে অভিনয় করার সময় অবশ্যই আমার নিজস্বতা থাকবে।’

অনীক দত্তের সঙ্গে আগেও কাজ করেছেন সায়নী। তাই অনীক ঠিক কীরকম কাজ চান, তা অভিনেত্রী জানেন। সায়নীর কথায়, ‘অনীকদা দুর্দান্ত গাইড করেন। তাই এই চরিত্রের ব্যাপারে আমি আত্মবিশ্বাসী।’

সায়নী এখন তৃণমূল কংগ্রেসের এক গুরুত্বপূর্ণ মুখ। তাই রাজনীতির সঙ্গে সিনেমার শুটিং থাকায়, কাজের চাপটা যে একটু বেড়ে যাবে সেটাই স্বাভাবিক। তবে সায়নীর কথায়, ‘দুটো দিককে সামলাতে আমি জানি। কাজ আর রাজনীতি দুই ক্ষেত্রেই সমান মনযোগ থাকবে।’

সায়নীর বিপরীতে দেখা যাবে অভিনেতা আবির চট্টোপাধ্যায়কে। সেপ্টেম্বর থেকেই শুরু হবে ছবির শুটিং। কয়েকদিন আগে অনীক দত্ত তাঁর সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন শিল্পীদের স্ক্রিপ্ট রিডিং সেশনের ছবিও।